
বাংলাদেশ। কমবেশী ১৬ কোটি মানুষের গাদাগাদী বসত বাড়ী। আয়তন ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গ কিমি। এর মধ্যে স্থলভাগ বা জমি ১ লাখ ৩০ হাজার আর জলভাগ ১৪ হাজার। তবে আবাদী জমির পরিমান আরো অনেক কম। ৮৪ হাজার বর্গ কিমি। বা, ৮৪ লাখ হেক্টর (১০০ হে = ১ বকিমি)। এর মধ্যে জমির মানের ফারাক আছে, ১, ২, ৩ ফসলী আছে। অকৃষি খাতে প্রতিদিনই কৃষি জমি চলে যাচ্ছে। যাহোক, মাথাপিছু আবাদী জমির পরিমান ০.০৫২৫ হেক্টর (= ৫৬৫০ বর্গফুট), আর মাথাপিছু স্থলভূমি ৮৭৪০ বর্গফুট। এর মধ্যে আমাদেরকে থাকতে হয়, গাছপালা লাগাতে হয়, ধান, পাট, সব্জি, পুকুর, গরু চড়ানো সব করতে হয়। মারা গেলে কবর দিতে হয়। দু:খ ছিলনা এ এভারেজটা যদি আসলেই এভারেজ হত। তা হয় নি। জমির মালিকানায় আকাশ পাতাল ফারাক। কারো শত শত কাঠা/বিঘা। আর কারো বসতিও পরের ভিটায়! আর ৫০০ বছরের বৈষম্যমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনার অনিবার্য কুফল হিসেবে এ 'তথাকথিত গড়' দিনকে দিন আরো 'স্কিউড' হচ্ছে। লক্ষ্য করে দেখা যাচ্ছে, হাতে গোনা কয়েক হাজার ধনপতি লোকের হাতে ধীরে ধীরে দেশের সমস্ত মহামূল্যবান জমি চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৈধ/আধা-বৈধ/অবৈধ নানান কারবার করে এদের হাতে কিছু টাকা আসা মাত্রই চড়া দামে তারা চিলের মত ছোঁ মেরে জমি কিনে ফেলছে। আর কোটি কোটি শ্রমজীবি, কৃষিজীবি, সৎ সরকারী চাকুরে, বেসরকারী চাকুরে ঘাড় গুঁজে ভাড়া বাসায় দিনাতিপাত করে, সরকারী রাস্তায় হেঁটে গোটা ইহকাল লান্ছনা গন্ছনা সহ্য করে শেষতক সামাজিক কবরাস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন। অনেকের ভাগ্যে শেষ নিদ্রাও বেশীদিন জুটছে না। বুলডোজার দিয়ে দাফনের ৪০/৫০ দিন পর পুন: উৎখাত করা হচ্ছে! হায়রে মানব জীবন!!
আমাদের মাথাপিছু ৮৭৪০ ব:ফু: স্থলভাগের তুলনায় অন্য ক'টি দেশের মাথাপিছু জমি (ব:ফু:/জন):
বার্মা ১,৩০,০০০
চীন ৭৭,৫০০
ভারত ২৬,৯০৯
পাকিস্তান ৪৬,২০০
থাইল্যান্ড ৮২,৮০০
ভিয়েতনাম ৩৬,৫৯৭
কানাডা, রাশিয়া, সৌদি আরবের মত বিরাট দেশের হিসেব না হয় বাদই দিলাম। মোদ্দাকথা সিঙ্গাপুর বা এ ধরনের ১/২ টি এক শহর এক দেশ ব্যতীত সাধারন বিবেচনায় বাংলাদেশেই পৃথিবীর এক নম্বর রাস্ট্র - যেখানে জমি দুর্লভতম প্রাকৃতিক সম্পদ। এবং কোনোরকম নীতি বা আইনহীনভাবে যেভাবে চলছে তাতে অচিরেই-
>কৃষির জন্য কোনো জমি থাকবে না।
>মোটামুটি ১০% মানুষের হাতে ৯০% জমি চলে যাবে
> বাকী ৯০% মানুষ ভাড়াটিয়া/বস্তিবাসী/উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে
>দেশের দেওয়ানী মামলা মোকদ্দমার বর্তমান ৮০% ই জমি নিয়ে, আর ফৌজদারী মাথা ফাটা কেসেরও অন্তর্নিহীত বেশীরভাগ কারণ জমি। তা আরও ভয়ংকর রূপ ধারন করবে।
সীমিত এ জমি কতিপয়ের হাতে যেসব অর্থনৈতিক কারণে চলে যাচ্ছে
১. রানিং ব্যবসার নামে সহজে লোন নিয়ে জমি ক্রয়, ব্যবসার টাকা থেকে কিস্তি পরিশোধ। ব্যাংকের দুর্বল ক্রেডিট এসেসমেন্ট।
২. রেমিট্যান্স
৩. সরকারী কর্মচারীর ঘুষ, চুরির টাকার হিমায়ীতকরন
৪. ব্যবসার আড়ালে আগাগোড়া স্মাগলিং জনিত বিরাট মুনাফা
৫. পলিটিক্যাল টেন্ডারবাজির বখরার বিরাট আয়
৬। অন্যান্য দু' নম্বরী আয়কে দ্রুত 'সেফ' করা
পরিস্থিতি যা তাতে, জমিজমার মালিকানা সরকারের হাতে নিয়ে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই। নচেৎ জাতির বৃহত্তম অংশই উদ্বাস্তু হবে।