ধনে ধান্যে পুষ্পে ভরা এই সোনার বাংলার প্রতি আসক্তি নেই এমন মানুষ আসমানের নীচে খুঁজে পাওয়া ভার। বাংলার ধন চুরি করে আজ যে ইংল্যান্ড খেয়ে-পড়ে বেঁচে আছে, সে-ই কিনা বড়লোকির ভাব দেখায় আমাদের সাথে! অবশ্য চোর-বাটপারদের নির্মম অত্যাচার আর নিদারুণ হঠকারিতায় আজ আর সোনার বাংলার সেই রূপ লাবণ্য নেই। নেই শায়েস্তা খাঁর আমলের টসটসে যৌবন! তার পরও অনেকে ঢাকার উন্নতি দেখে জিহ্বার পানি ধরে রাখতে পারেন না। চোখ টাটিয়ে উঠে। মনে মনে ভাবে এত গিট্টু মারি তারপরও শালারা না খেয়ে মরে না কেন?
সর্বনাশা আইলার ভংয়কর আঘাতে রূপবতী বাংলা যখন মুখ থুপড়ে পড়ে আছে; বেআব্রু বাংলার অদম্য দূরন্ত সাহসী সন্তানেরা যখন শোকতাপ পিছনে ফেলে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখন আমাদের প্রতিবেশী অকৃত্রিম (??) বন্ধু রাষ্ট্র আমাদের মহব্বতে বিগলিত হয়ে চাউলের দাম বাড়িয়ে দিলেন! আমদানীকারকদের কেনা দামে চাউল দিচ্ছেন না। তারা বললেন, চাউল নিলে বাড়তি দামেই নিতে হবে। কেন? যে দামে এলসি করা আছে সে দামেই দেন? না বাবা আমরা পারবো না, রাষ্ট্রের স্পষ্ট ফরমান আছে। এবার বুঝুন প্রেমের ঠেলা! অবশ্য উনারা আমাদের কষ্ট সইতে না পেরে দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে খাদ্য সাহায্যের ঘোষনা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষনাও বেমালুম ভুলে গেলেন। এ নিয়ে আরো কত কথা শুনালেন বন্ধু বাবাজিরা! প্রেম পাগল মজনু কাহাকে বলে?
সেই সময়ে বাণিজ্যিক সফরে এলেন বন্ধু প্রতিম দেশের শাখা রাষ্ট্র পশ্চিম বঙ্গের একটি ব্যাংকের উচ্চ পদস্ত এক কর্মকর্তা। তিনি যশোরে একটি প্রাইভেট ব্যাংকের ম্যানেজারকে বললেন, আমি আপনার ব্যাংকের ডিএমডি পর্যায়ের কারো সাথে আলোচনা করতে চাই। অনেক দেনদরবার করে জনাব ম্যানেজার তাঁর ব্যাংকের একজন ডিএমডি স্যারকে ম্যানেজ করলেন। হোটেল সোনার গাঁয়ে তারা আলোচনায় বসলেন। কথা হলো বিস্তর। এক পর্যায়ে পশ্চিম বঙ্গের কর্তা বাবু বাংলাদেশী ডিএমডি স্যারকে বললেন, আমরা যদি আবার এক হতে পারতাম! ইস্ দুই বাংলা এক হলে কতই না ভাল হতো! বাবুর আবদার বটে! আরো কত স্বপ্ন দেখালেন কর্তা মশায়। সোনার বাংলাকে নিয়ে বাবুদের স্বপ্নের শেষ নেই!
শুনতে ভাল শুনায় না তারপরও বলতে হচ্ছে, এক মহিলার ছিল দয়ার দিল। তিনি কারো আবদার ফেলতে পারতেন না। তাই তিনি সবসময় বগলের নীচে মাদুর নিয়ে ঘুরতেন। কেউ আবদার করলেই মাদুর বিছিয়ে শুয়ে পড়তেন! বাবুরা হয়তো আমাদের দয়ার দিলের খবর জেনে গেছেন। চাইলেই পাওয়া যায়। চাইতে দেরী এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করতে দেরী নেই। তাই হয়তো দিন দিন তাদের চাওয়ার স্পর্ধা বেড়ে যাচ্ছে। বাবুর আবদারের উত্তরে আমাদের ডিএমডি স্যার বললেন, দেখুন আপনি আমার মনের কথাটাই বলেছেন। আমিও মনে প্রাণে চাই, দুই বাংলা এক হউক। হৃদয়ের তাগাদা থেকেই আপনাকে বলছি, দয়া করে আপনারা ইন্ডিয়ার শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে আমাদের সাথে চলে আসুন। জোকের মুখে নূন দেয়া আর কাকে বলে? বাবুর চেহারা দেখে মনে হলো তাঁর মুখে কুইনাইন ঢেলে দেয়া হয়েছে! সাব্বাস ডিএমডি স্যার!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


