somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রলাপ!
মাথার ভেতর জংধরা যন্ত্রণা। সব স---ব এলোমেলো। এখানে ওখানে ছড়ানো ছিটানো স্মৃতির টুকরো। সেগুলো নেড়েচেড়েই দিন পার....।অজগরের মত মন্থর আলসেমীর কার্ণিশে পা ঝুলিয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করি।স্মৃতিগুলো তখন আকাশের সমস্ত গা জুড়ে মেঘ হয়ে যায়।আমার বাড়িটা তখন একটা নদীর পাড়ের বন। নদীর জলে ছায়া দেখতে দেখতে হঠাৎ ঢেউ। মুখ তুলে দেখি , "এসেছে গোধূলী গোলাপী বরণ, এ তবু গোধুলী নয়।"
মাথার ভেতর হঠাৎ আগ্নেয়গিরি। সমস্ত কিছু তোলপাড়। নদীও ফুঁসে ওঠে অকারণ আক্রোশে। বাণে ভেসে যায় দু'কূল। বাণ নেমে গেলে তলিয়ে দেখতে যাই ক্ষয়ক্ষতি। দেখি সব স---ব এলোমেলো। এখানে ওখানে ছড়ানো ছিটানো স্মৃতির টুকরো। পলি পড়েনি মাটিতে, পড়েনা। বুকের ভারটা আরেকটু ভারী হয়ে চেপে বসে কেবল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/panthojon/29106646 http://www.somewhereinblog.net/blog/panthojon/29106646 2010-02-27 15:31:48
ভালোবাসার গল্প রিমনের হাজারটা প্রশ্ন। কেমন আছিস? কোথায় ছিলি ? কোনো খোঁজ খবর নেই, একেবারে উধাও? তৃণার ক্লান্ত লাগে। আজকাল একটুতেই ক্লান্ত লাগে খুব।
রিমন ওকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় একটা ক্যাফেতে। মুখোমুখি বসে প্রশ্ন করে 'এখানে কোথায় এসেছিলি?'
ম্লাণ হাসে তৃণা , 'ডাক্তারের কাছে।'
এবার রিমন ভাল করে ওর মুখের দিকে তাকায়, সত্যিই ওকে অসুস্থ দেখাচ্ছে। উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিঙ্গেস করে , 'কি হয়েছে তোর?'
তৃনা হাসে। একটু দ্বিধাগ্রস্ত হাসি। ভেবে পায়না সত্যি বলবে নাকি বানিয়ে যাহয় একটা কিছু বলে দেবে।
ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু। চমৎকার বোঝাপড়া ছিল দুজনের।পাস করার পর তৃণাই আর যোগাযোগ রাখেনি। কারণ তার আগেই মানুষটা ওর জীবনে আসে। ওর জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত কানায় কানায় ভরে দিয়েছিল সেই মানুষটা। স্বার্থপরের মত তৃণা ভুলে গিয়েছিল তারা দুজন ছাড়াও পৃথিবীতে অন্য মানুষ ও আছে।
রিমনের সামনে সেই মানুষটাকে ছোট করতে ইচ্ছে করেনা।বলে , 'এমনি জ্বর জ্বর লাগছিল। উঠি রে, ভাল লাগছে না।'
রিমনের প্রশ্নবোধক চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে আসে তৃণা। সত্যি ক্লান্ত লাগছে। হাত বাড়িয়ে একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়ে।
বাসায় ফিরতে ইচ্ছে করেনা, তবু রিকশাওয়ালাকে বাসার দিকেই নির্দেশ দেয়। শরীরটা বিশ্রাম চাইছে। মাথায় আবার ভাবনারা উঁকি ঝুঁকি মারতে শুরু করে। রাস্তায় বেরোলেই ওর এটা হয়, তৃণা আগেও খেয়াল করেছে। এক গন্তব্য থেকে আরেক গন্তব্যে যাওয়ার সময়টুকু যখন কিছুই করার থাকেনা, তখন রাজ্যের ভাবনা ওর মাথায় ঘুরপাক খায়। একারণে রাস্তায় পরিচিত মানুষদেরও ও খেয়াল করেনা। কত মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কারো মুখই ও ভালো করে দেখতে পায়না।
কিন্তু যেদিন মানুষটাকে প্রথম দেখে , টিপটিপ বৃষ্টির মাঝে, ঘন নীল একটা ফুলহাতা শার্ট গায়ে। চিনতে কষ্ট হয়নি একটুও। অবাক হয়েছিল ওর বাচ্চাদের মত মুখ আর হাসি দেখে। তারপর একের পর এক আরো কতভাবে যে আবিষ্কার করেছে ওকে! হঠাৎ চোখ উপচে কান্না এলো ওর। কি করছে এখন মানুষটা ?
বাসায় ফিরে নেতিয়ে পড়ে বিছানায়। হু হু করে কান্না আসে। ডাক্তারের কাছ থেকে পাওয়া স্বস্তি উধাও। সেখানে জায়গা করে নিতে থাকে শূণ্যতা আর হাহাকার।
আগে যখনই এমন হত, দৌড়ে যেত মানুষটার কাছে। মানুষটা ওকে শক্ত করে ধরে রাখত। ওর মাথায় হাত রেখে বলতো , 'সব ঠিক হয়ে যাবে।'
তৃণা বিশ্বাস করত।কখনো এক মুহূর্তের জন্যও অবিশ্বাস হয়নি ওর মানুষটাকে।কখনো না। যেদিন মানুষটা প্রথম ওকে বুকে নিল, থরথর করে কাঁপছিল তৃণা। তবু একবারের জন্যও কোন প্রশ্ন আসেনি মনে। একবিন্দু দ্বিধাও না।
মনে হচ্ছিল যেন ওর বুকের সাথে এভাবে লেপ্টে থাকার জন্যই তৃণা জন্মেছে , অপেক্ষা করেছে এত গুলো বছর।
ভাবতে ভাবতে আজও থরথর করেই কাঁপে তৃণা। নখের আঘাতে বিছানার চাদর ফালি ফালি। হঠাৎই হুঁশ ফেরে ওর । নিজের একটা হাত নিয়ে মাথায় রাখে। আরেকটা হাত পেটের উপর রাখে ওর বাবুসোনাটার অস্তিত্ব টের পেতে।
ফিস্ ফিস্ করে বলে, 'ভয় নেই তোর ,ভয় নেই।'
ওর ভেতরটা আকুলিবিকুলি করে বাবুসোনাটার মাথায় হাত রাখতে।কিন্তু সেজন্য ওকে অপেক্ষা করতে হবে আরো চার মাস।
আজ ডাক্তার জানিয়েছে ওর গর্ভের সন্তান কে স্পর্শ করবেনা ওর শরীরের মরণব্যাধি। পাঁচ মাস ধরে যে সন্তানকে ও পৃথিবীর আলো দেখানোর স্বপ্ন দেখছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে সেখানে গর্ত খুঁড়তে থাকা ভয় আজ আর নেই।কিন্তু সময়ও যে নেই।
তবু ভয় করেনা তৃণার । ও জানে ওর সন্তানকে ও দেখে যেতে পারবে।হয়তো খুব বেশিদিন থাকতে পারবেনা বাবুসোনাটার পাশে।তবু ওর সমস্ত টুকু দিয়ে ওর জন্য জীবনের পথ খুলে দিয়ে যাবে।
বড় আত্মবিশ্বাসী দেখায় তৃণাকে। মানুষটা ওকে বলেছিল সব ঠিক হয়ে যাবে। বলেছিল সারাজীবন ওর পাশে থাকবে। দুই হাতে ওকে ধরে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না হৃদস্পনদন থেমে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত না সময় শেষ হয়।
তৃণা মানুষটাকে বিশ্বাস করে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/panthojon/29098429 http://www.somewhereinblog.net/blog/panthojon/29098429 2010-02-15 18:33:44
অশ্রুজলে লেখা -হ্যালো!
-কোথায় তুমি?
-এইতো মগবাজার।
-এখনো মগবাজার!ওখানে কি করতে গেছ?
-পাপিয়া কে নামাতে হল তাই।একটু দেরি হয়ে গেছ।স্যরি।
-আমি তো তোমার ভার্সিটির এখানে।
-পৌঁছে গেছ? একটু ওয়েট কর প্লিজ।আমার আসতে যতক্ষণ লাগে।বৃষ্টিতে ভিজ না আবার।
-অলরেডি ভিজে গেছি।
- কী যে করনা!ভিতরে গিয়ে দাঁড়াও প্লিজ।
-তুমি তাড়াতাড়ি আস।কতদূর?
-এইতো। সিগন্যাল ছাড়লো।
-মাত্র!!
-স্যরি।
-ধুর...লোকজন এর মাঝখানে এভাবে শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থাকা যায় নাকি?
-শুধু শুধু কই?তুমি তো আমার সাথে কথা বলছ।
-হুঁ।
-এইতো আর একটু পরেই চল আসব।এসে কথা বলি?
-আচ্ছা।
বাইরে তাকিয়ে মন খারাপ হয়ে যায় নিমার। ওদের আজ প্রথম দেখা। আজই দেরি হতে হবে?এতদিন ছবি দেখেছে, কথা বলেছে, সরাসরিও দেখেছে ওয়েব ক্যামে। আজ সামনা সামনি দেখা হবে।নিমা জানেনা কেন মনটা আজ একটু চঞ্চল ওর।
পাঁচমিনিটও যায়না। আবার ফোন।
-হ্যালো।
-কতদূর আসলে?
-এইতো আর বেশিক্ষণ লাগবে না।তুমি ভিজছ না তো?
-জানিনা।মেজাজটা খারাপ হচ্ছে।
-আসছি তো বাবা।
-কতক্ষণ আর?
-বেশি হলে ১০ মিনিট।
-আচ্ছা।
-কথা বল ততক্ষণ আমার সাথে?
-না থাক। আস।
নিমা ফোন রেখে নিজের মনেই হেসে ফেলে। কী যে অস্থির! পাগল! ওরা দুইজনই অপেক্ষা করেছে এই দিনটার জন্য। দউইজনই দুইজনকে চেনে, তবু নিমা জিঙ্গেস করেছিল , 'কি রং পরব?' শ্রাবণ উত্তর দিয়েছিল,
-' তোমার যা পছন্দ।'
-আমার পছন্দ তো সাদা।
-ওকে। মেক ইট হোয়াইট। সাদা পরী।
আবার ফোন...............................
-হ্যালো।
-কই তুমি?১০ মিনিট হয়ে গেল তো!
-এই যে শেষ সিগন্যাল পার হচ্ছি।আর পাঁচ মিনিট। স্যরি।
-শোন আমি বরং চলে যাই।
-কেন??? আমি চলে আসছি তো বাবা।
-আমি যাই।আরেকদিন নাহয় দেখা হবে।এই রিকশা।
-কি অদ্ভুত!! আমি মাত্র রোডে ঢুকলাম।
-দেখিনা তো।
-দুইটা মিনিট আর ওয়েট করতে পারছনা?
-আমার খুব আনইজি লাগছিল।
-কি আশ্চর্য্য! আমি কি ইচ্ছে করে দেরি করেছি?
-তোমার গাড়ির মডেল কি বলতো?
-মানে? কেন?
-বল না?
-আমি জানিনা এইসব।কিছু একটা হবে আরকি। তুমি কি সত্যি চলে যাচ্ছ?আমি চলে আসছি।
-তোমার গাড়ি কি সাদা?
-হুঁ।কেন?
-আমি মাত্র তোমাকে পাস্ করলাম রিকশায়।
-মানে? চলে যাচ্ছ? আর কিভাবে বুঝলে যে আমাকে পাস্ করেছ?গাড়ির কাঁচ তো বৃষ্টিতে ঝাপসা।
-তুমি গাড়ির বাম দিকে বসে আছ না?
-শ্রাবণ! কোথায় তুমি?
-চলে আসছি অনেক দূর।
-ব্যাক করো।এখনি।আমি পৌঁছে গেছি।গাড়ী থেকে নামছি। খবরদার যদি গেছ!!
- আমি আসতে পারবনা।মোড়ে দাঁড়াচ্ছি।তুমি আস।দেরী করে আসার শাস্তি।
-আচ্ছা আসছি।
মোড়ে এসে এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখেনা নিমা। বৃষ্টিটা একটু কমে আবার টিপ টিপ করে শুরু হচ্ছে।এবার নিমার ফোন করার পালা।
-হ্যালো।
- কি? কোথায় তুমি?
-চলে আসছ নাকি?
-মানে কি? তুমি কোথায়?
- এইতো দোকানে সিগারেট কিনতে আসছিলাম।
-আমি দাঁড়িয়ে ভিজছি।
-দোকানের দিকে আসলেই তো হয়।
-এখন তো শোনার পর হাঁটা শুরু করলাম। না জানলে কোথায় আসব?
-ইস্ । আমি এখনো তোমাকে দেখতে পাচ্ছিনা।কোনদিকে আসছ?
-আমি দেখতে পাচ্ছি।
নিমা ফোন কটে দেয়।রাস্তার বিপরীত প্রান্ত থেকে ওর দিকে হেঁটে আসছে শ্রাবণ।এখন শ্রাবনও দেখেছে।হাসছে ওর দিকে চেয়ে।নিমার ইচ্ছে হয় ছুটে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরতে।ইচ্ছেটা চেপে সেও হাসে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/panthojon/29093806 http://www.somewhereinblog.net/blog/panthojon/29093806 2010-02-09 03:20:57