somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোদ,পাথর......আমাদের দ্রোহ.....আমাদের ভুল......

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রোদ,পাথর,মোস্ট ওয়ান্টেড আর আমাদের সর্দি-জ্বর.......

রোদ,পাথর......আমার জানালা.............জমে উঠা নস্টালজিয়া........







নবম দিনের সূর্যাস্ত.............


ঘুম ঘুম চোখে ক্লাস,ঝিমিয়ে ঘুমিয়ে স্যারের লেকচার,নাকে মুখে ক্যান্টিনের দুপুরের ভাত,পড়িমড়ি দৌড়ে বিকেলের সেসনালে অ্যাটেন্ড্যান্সের ফাঁকতালে আমাদের কেটে গেলো এক সেমিষ্টার।ক্যাম্পাসের বড় ভাই দের সাথে কথা হয়,সিগারেটের অফার লজ্জায় ফিরিয়ে দিয়ে আমরা নিত্যদিন তাদের হাসির উপসর্গ হয়ে উঠি।এক্সটেনশানের উঠোন ছেড়ে আমরা আড্ডা দিচ্ছি গোল চত্ত্বরে,পুকুরের পাড়ে,কাশেম মামার দোকানে,নাপিত মামার সেলুনে।দল বেঁধে চলে যাচ্ছি এরিয়ার পরের পাহাড়ে,পাহাড়ের মাঝে বালুময় চড়া যার নাম দিয়েছি আমরা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন,মাঝে মাঝে ভি.সি. স্যারের বাসা থেকে আম ,কাঁঠাল ,লিচু চুরি,সেসব খেয়ে কারো কারো ডায়রিয়া,ভালোই কাটছিলো সব।
আমাদের সব উড়নচন্ডিতা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চোখের সামনে ঝুলতে লাগলো কুইজ-ভাইভা'র নোটিশ।শুকিয়ে যাওয়া চোখ মুখ নিয়ে স্যারদের মুখোমুখি বসে অর্থহীন প্রশ্নের উত্তর দেয়া আর অহেতুক ঝাড়ি খাওয়ার সে সব ভয়াল ব্যপার ইদানিং মজার ঘটনা বটে!
তারপর পিএল,ডিএল,পরীক্ষা।ভার্সিটি জীবনের প্রথম পরীক্ষা।ভয়ে নাওয়া খাওয়া বন্ধ!আড্ডাবাজ ছেলেটি ও সেঁধিয়ে গেলো টেবিলে।
প্রথম পরীক্ষাতেই বারো বছরের শিক্ষাজীবনের অহংকার কে মাটি করে আমরা সবাই কোন রকমে পাশ করার ব্যবস্থা করে এলাম।
গোল চত্ত্বরে বসা বৃত্তাকার ছেলে গুলোর মুখ দেখলে যে কারো মায়া হতে পারত।
কিন্তু মায়া হলো না স্যারদের।
পরপর আমাদের আরো দুটো পরীক্ষা খারাপ হলো।
তারপর শান্তির বারতা আর উত্তেজনার উষ্ণতা নিয়ে ঘোষিত হলো......
ঢাবি তে ছাত্র পিটিয়েছে সেনাবাহিনী।সকল ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ।সারাদেশে কারফিউ।চারটার মধ্যে হল ছাড়তে হবে।

আমাদের কে শহরে পৌঁছে দেবার জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা হলো।দুরের জেলার বন্ধুদের থাকার ব্যবস্থা করা হলো শহরে যাদের বাসা আছে সেখানে।
সন্ধ্যা ফুরিয়ে সেনাবাহিনীর টহল এড়িয়ে আমরা একসময় পৌছুলাম শহরে।কারফিউ শুরু হয়ে গেছে।অলি গলি ডাস্টবিন মাড়িয়ে ছয় সাত জন দাঁড়ালাম বন্ধুর বাসায়।মায়ের যত্নে গাদাগাদি করে থাকার ব্যবস্থা ও হলো।
কিন্তু ঘুম নেই কোন চোখে।আমরা এরকম একটা উত্তেজনা ঘুমিয়ে শেষ করতে চাই নি।






আমাদের গোলচত্ত্বর








দশ দিকে বাস তার...আমি অসহায়...



ক্যাম্পাস খুলেছে,আরো দুটো বাজে পরীক্ষা দেয়া হয়েছে,আরো এক সেমিষ্টার ও গেছে,এক্সটেনশান হতে আমাদের আবাস মেইন হলেও চলে এসেছে।
আমাদের বড় গ্রুপ টি ভেঙে ছোট ছোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় আড্ডা ও কমেছে।
বড়ভাই দের সাথে আড্ডা হচ্ছে।
জুনিয়র হবার অপরাধে যিনি কান ধরে উঠবস করিয়ে র‌্যাগ দিয়েছিলেন,হাতে সিগারেট ধরিয়ে যিনি আদেশ অমান্য করে না টানার অপরাধে শার্ট খুলিয়েছিলেন,আবার যিনি বড় ভাই দের সামনে সিগারেটে আগুন দেয়ার অপরাধে ব্যাঙের লাফ দিতে বাধ্য করেছিলেন আমরা তাদের সাথে আড্ডা মারছি।
একসময় যাদের কে মনে হত,সাক্ষাত যমদূত,আসলে স্নেহপ্রবণ,ছায়ার মত।

তারপর একদিন ডাক এলো।মিছিল হবে।জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিঙে আমরা থাকি আঁধারে।আর স্যারদের ক্লাবে কৃত্তিম আলোয় চলে টিভি দেখা,তাস,লুডু,ক্যারাম।
সুন্দর আবৃত্তি করা বড় ভাইয়ের লীডিঙ্বে গরম হয়ে উঠে মিছিল।কেঁপে উঠে ক্যাম্পাস।অবিলম্বে জেনারেটরের ব্যবস্থা করতে হবে দাবী তোলা বিতার্কিক ভাইয়ার সাথে আমরা একমত হয়ে উঠি নিমেষেই।

হঠাৎ গ্রীষ্মের ছুটি দিয়ে আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা কে আমরা রুখে দেই।চারদিন পরে আলোকিত হয়ে উঠে আমাদের রুম গুলো ও।





রাতে আমাদের ক্যাম্পাস....


এগারো বছর পরে....হারিয়ে যাওয়া রা ফেরে ঘরে


জেনারেটর আন্দোলনের ভেতর জন্ম নেয় আরেক টি বিভাজন।আমরা জানতে পারি,দুটো গ্রুপ আছে।মামু এবং অ্যান্টি-মামু।

আমাদের প্রথম বর্ষপূর্তি আসে।একমাস ধরে পরিশ্রম করে দাঁড় করানো হয় বিশাল আয়োজন।আমরা অবাক হয়ে দেখি,যে বন্ধুরা মিলে একসাথে আড্ডা মেরেছি অনেক রাত,তারা কেমন পাল্টে যাচ্ছে।কবিতা লেখা ছেড়ে মেয়েদের টীজ করছে কেউ ।গিটারে দিনমান ঘুরতে থাকা আঙুল গুলো শাসাচ্ছে চুপচাপ বড়ভাইদের।সুর ভেজা ঠোটের ফাঁক হতে সিগারেটের ধোঁয়া বেরিয়ে আছড়ে পড়ছে জুনিয়র বোন গুলোর মুখে।

আমরা আরো অবাক হয়ে দেখি,কিছু বড়ভাই গ্রুপিং সৃষ্টি করছে।সাহস আর প্রশ্রয় দিচ্ছে ওদের।
বর্ষপূর্তির ম্যাগাজিনে সেই গ্রুপের আড্ডা আর প্রেমকাহিনী ছাপা হলো আর ফেলে দেয়া হলো অন্যদের গল্প-কবিতা,আমাদের কে বের করে বর্ষপুর্তির অনুষ্ঠানে মাতাল নাচ হলো শিরোনামহীন-আর্টসেলের গানের সাথে।

আমরা মানতে পারছিলাম না এসব।সমর্থন করতে পারছিলাম না মেয়েদের টীজ করা কে।
আমাদের ক্ষোভ গুলো দানা বেঁধে উঠতে লাগলো।পাশে এসে দাঁড়ালো সমমনা সিনিয়র-জুনিয়র রা।

নিজেদের অজান্তে আমরা জড়িয়ে গেলাম বিশ্রীরকম গ্রুপিঙে।




সবুজ.....প্রাণের সবুজ.....


বারংবার.................



সেখানে কোন সমুদ্র ছিলো না।
আমরা সৃষ্টি করেছিলাম।
সেখানে কোন বৃষ্টি ছিলো না।
আমরা সৃষ্টি করেছিলাম।
সেখানে কোন খরা ছিলো না।
আমরা সৃষ্টি করেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×