নতুন প্রেমিকা আমার সব শর্ত মেনে নিলে আমি প্রবলভাবে বিপন্নবোধ করি। শর্ততালিকায় নিয়ন আলোর সাপেক্ষে আকাশ দেখার সন্ধিচুক্তির প্রাক-নিয়মাবলি যেমন ছিলো তেমনি ছিলো মরা পাঙাসের প্রশ্বাসের ত্রিমাত্রিক অনুবাদসংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতার সবুজনকশা।
আমি তাকে আমার যাবতীয় উন্নাসিকতা, সংঘাত, সংকোচ ও সীমাবদ্ধতার কথা বলেছি। ফ্রয়েডের কথা স্মরেছি কয়েকবার, উড়ে যাওয়া পাখির দেহের ছায়ার সম্ভাব্য ক্যানভাস ও চিত্রায়নজনিত তুলির প্রক্ষেপণ বর্ণনা করে গেছি বিষদ, ধৈর্যযোগে।
প্রকৃতার্থে এসবের অন্তরালে আমার মৌলিক ইচ্ছা ছিলো দেহগামী অভিলাষের সুগম্য পথ নির্মাণ, তার নির্মিতব্য দেহদালানে যত্রতত্র রঙকেলির প্রতিশ্রুতি ও চিরমুক্তির প্রতিজ্ঞা। মূলত আমরা পরস্পর পরস্পরকে চিনে নিতে চাইলাম ঈশ্বর ও সমাজের অনুপস্থিতিতে- মৌলিক অভিধায়।
সে আমার সকল শর্ত শর্তহীন মেনে নিলে আমি শব্দহীনতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ি। বুঝি, মেয়ে প্রেম জানে। প্রকৃতই সে প্রেমিকা। আমি তারপর পালিয়ে আসলাম। ফেলে আসা পথে পড়ে রইলো আদিগন্ত রোদ ও একখন্ড হাস্যমেঘ।
সেই বিকেলে আকাশ হলুদ হয়ে হয়ে ঝরে পড়ে মাঠে মাঠে। অচেনা শকুন দু'য়েকবার উড়েও যায়। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামে পাতাদের পালকি চড়ে।
আমাদের চিলেকোঠায় তখন আলুভাজার দোকান বসে, চানাচুরের উৎসব জমে আর হুইস্কির সুবাসে পুড়ে পুড়ে যায় নিকোটিন।
এইসব বিভ্রান্তির ভেতর আমি আবিষ্কার করি, আমার নতুন প্রেমিকার নিঃশ্বাস মিশে গেছে হলুদবিকেলে; হুইস্কির গেলাসে!
আহ! প্রিয়তমা!
কতদিন কেউ জানতে চায়নি, এই দুপুরে আমি খেয়েছি কীনা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



