আমার প্রিয় পোস্ট

পর্যটক

আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট এর "জাফর ইকবাল বাঙালি জাতিকে কি দিয়াছেন?" - প্রসঙ্গে

৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৩

শেয়ারঃ
1 0

আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট এর "জাফর ইকবাল বাঙালি জাতিকে কি দিয়াছেন?" –
Click This Link এই ব্লগ এত দীর্ঘ হয়ে গেছে যে তা খুলতেই আমার তিন মিনিট লেগেছে। আবার আমি যা বলতে চাই তাও যথেষ্ট বড় হয়ে যাওয়ায় তা আমার ব্লগে এখানে পোষ্ট করছি। আশা করি পাঠক লেখক আমাকে ক্ষমা করবেন, ভুল বুঝবেন না।

প্রথমে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ:

১। কোন মানুষের অবদান বিচার খুব ছোট বা হাল্কা কাজ না, হাল্কা করে দেখাও সুবিবেচনা নয়; এর উপর তাঁর একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে কথা তুলা। আলেকজান্ডার ডেনড্রাইটের রাগ বা ক্ষোভের কারণ বুঝা যায়। তবু রাগ ক্ষোভ তো নয়ই অবদান বিচারে সবার আগে নির্মোহ নৈর্ব্যক্তিক হয়ে বসতে হয়। যার অভাব আমি বোধ করেছি।
২। আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট জাফর ইকবালের অবদান নিয়ে নাড়াচাড়া করতে নেমে জোড় দিয়েছেন দুইটা প্রসঙ্গে, জাফর ইকবালের একাডেমিক যোগ্যতা আর ইসলামফোবিয়া। ফলে প্রতিউত্তর বা জবাব দিতে গিয়ে সবাই এর সুবিধা নিয়েছেন, অসুবিধায়ও পড়েছেন। একাডেমিক যোগ্যতার পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইসলামফোবিয়া আড়ালে ফেলেছেন আবার ইসলামফোবিয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে একাডেমিক দিকটা আড়াল ফেলেছেন।
৩। ব্লগে এপর্যন্ত ৫৮৯ জন মন্তব্যকারীর মধ্যে (মূল লেখক বাদে) মাত্র ২২ জনকে পাওয়া গেছে যারা আলোচনাটাকে সিরিয়াসলি নিয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে লিখেছেন। আর বাকীরা? মাইনাসের চক্করে পড়ে আছেন। ভোটের রাজনীতি করছেন। ভাবছেন জ্ঞান বা যুক্তি দিয়ে যেটা মগজের কাজ ওটা মাইনাস ভোট দিয়ে মোকাবোলা করবেন। সত্যি ব্লগারদের দূর্দশা দেখার মত! গালাগালি আর রাজাকার বলতে পারার বাইরে এদের জ্ঞান-বুদ্ধি বিকশিত হয় নাই। মাত্র ২২ জন অর্থাৎ শতকরা ৪ ভাগ ব্লগারের যুক্তি তর্ক করে কথা বলার সক্ষমতা আছে বলে এখানে দেখা গেছে।

এবার আমার কথা:
যে ইসলামফোবিয়া বা ধর্মফোবিয়ার কথা বলছিলাম, বাংলাদেশে এর গোড়াটা ধরা যায় কীনা এখন একটু চেষ্টা করবো।

প্রথম কথা হলো, ধর্ম বা ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানী সামরিক নিপীড়ক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিলাম। জয়ী হয়েছিলাম। আমাদের শত্রু ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র। আমরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি নাই, করেছিলাম ঐ নিপীড়ক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ফলে আমরা ঐ নিপীড়ক রাষ্ট্র ভাঙতে চেয়েছিলাম ও পেরেছিলাম।
এটা ঠিক, পাকিস্তান রাষ্ট্র ও তার নিপীড়ক ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে ইসলামের দোহাই দেয়া হয়েছিল। আমরা ঐ দোহাই এর ছলনা এমনকি উস্কানিতেও ভুলি নাই। অত্যন্ত সর্তকতার সাথে আমরা ঐ পাতা ফাঁদে পা দেইনি। আমাদের নেতা শেখ মুজিব তা সফলভাবে এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমাদের বাঁচিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। সেজন্য, আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে আমরা কখনও ইসলামের বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলেছি -এমন নজীর নাই। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিলপত্রেও এর পক্ষে স্বাক্ষ্য দেয়।

তবে আমাদের অনেক অতি উৎসাহী বন্ধু বুঝে হোক না বুঝে হোক শেখ মুজিবের এই সর্তকতার মর্ম ধরতে পারে নাই। নিপীড়ক রাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়ানো জামাতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো ইসলামের দোহাই দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্রের নামের সাথে ছিল 'ইসলামী' প্রজাতন্ত্র। এই 'ইসলামী' নিপীড়ক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ, ইসলামকে ধ্বংস করাই ছিল আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের লক্ষ্য - আমাদের খামোশ করতে, বেকায়দায় ফেলতে এটাই বলা হতো ইসলামের দোহাই দিয়ে, ইসলামের নামে। পাঠক লক্ষ্য করবেন, আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিরোধে টিকতে না পেড়ে এর প্রতিক্রিয়া হলো ইসলামের দোহাই। আমাদের দাবীর কারণে শত্রুমিত্রের নতুন বিভাজনে মেরুকরণে যারা পাকিস্তান সামরিক নিপীড়ক রাষ্ট্রের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্হান নিয়েছিল ইসলামের দোহাই ছিল তাদেরই প্রতিক্রিয়া। আমরা নিজেরা ইসলামকে শত্রু জ্ঞান করিনি। খোদ আমাদের দাবী উপস্হাপনের মধ্যে ইসলাম আমাদের শত্রু বা মিত্রের নতুন বিভাজনে মেরুকরণে কেউ না। আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম ইসলাম আমাদের কোন ইস্যুই নয়। আরও স্পষ্ট করে বললে, যেমন, এই রাষ্ট্র ইসলামী, আমরা ইসলামী রাষ্ট্র চাই না - এরকম কোন দাবী আমাদের ছিল না। আবার ধরুন, মূল জায়গা, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা। ঐ সময়ের আমাদের রাজনৈতিক সমস্যা যে মূল্যায়নের উপর দাঁড়িয়ে ছয় দফা হাজির করেছিল তার মুলকথা হলো - পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্য ও বঞ্চনা। আমাদের আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক গণআন্দোলনের ঢংয়ের রাস্তায় বেড়ে উঠছিল বলে সঠিক কৌশল হিশাবে সরাসরি পাকিস্তান নিপীড়ক রাষ্ট্রের উৎখাত না বলে ঘুরিয়ে ঐ রাষ্ট্রের পরিণতি বা ফলাফল - বৈষম্য ও বঞ্চনাকে - হাইলাইট করেছিলাম যেটা ছিল দিবালোকের মত সবার কাছে সত্যি। এরই সমাধান হিসাবে দাবী করে বলেছিলাম পাকিস্তানের দুই অংশের আয়ব্যয়ের হিসাব, রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা এমনকি কারেন্সি আলাদা করতে হবে। কেবল পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের হাতে থাকবে। অর্থাৎ মূলকথা হলো, বৈষম্য ও তার সমাধান; যার কোনটার কারণ হিসাবে ধর্ম বা ইসলামকে টানিনি, আকার ইঙ্গিতেও না। কিন্তু এতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের পুরানো ক্ষমতা কাঠামো টিকিয়ে রাখতে শত্রু পক্ষ বলে যারা রাজনৈতিক অবস্হান নিল তাদের মূল্যায়ন দেখুন। আমাদের আন্দোলন ইসলামের বিরুদ্ধে, ইসলামী পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাঙ্গা, ইসলামকে ধ্বংশ করাই হলো এর লক্ষ্য - ইসলামকে টেনে আনা, দোহাই দেওয়ার কাজটা ও এভাবে মূল্যায়ন ব্যাখ্যা খাঁড়া করাটা করেছিল জামাতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো। অর্থাৎ ইসলাম বিরোধীতার প্রসঙ্গ এখানে আসছে আমাদের শত্রুর প্রতিক্রিয়ায়। আমরা নয়, শত্রু বলছে আমরা নাকি ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমাদের দাবীর ন্যায্যাতা হাল্কা বা খামোশ করার জন্য এই হচ্ছে জামাতে ইসলামীসহ তার বন্ধুদের মূল্যায়ন।

এবার পাঠকের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম
"মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" জানছে না। বাচ্চা বয়স থেকেই যেন তাঁরা "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" জানা নতুন প্রজন্ম হয় সে লক্ষ্যে ঈশপের নীতিকথা গল্পের ছলে বাচ্চাদের জন্য বই লিখতে জাফর ইকবাল তাঁর গুরুত্ত্বপূর্ণ সময় ও জীবনের অংশ একাজে ব্যয় করার ব্রত নিয়েছেন।

সব নষ্টের গোড়া হলো ধর্ম। ধর্ম ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। কী করে আমরা তা বুঝলাম ? এই ধারণার রেফারেন্স কী? না, ধর্মের কারণে জামাতে ইসলামী ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল। এই ধারণার উপর ভিত্তি করে জাফর ইকবাল আমাদের তরুণদের "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" শিখাতে বসেছেন। কিন্তু উপরে আমরা দেখলাম এটাতো জামাতে ইসলামীর ব্যাখ্যা ও মুল্যায়ন। ১৯৭১ এর আন্দোলনকে ঘিরে সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থান, আমাদের জাতীয় মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রাম সম্পর্কে এটাই তো পাকিস্তান সামরিক নিপীড়ক রাষ্ট্রের পক্ষে যারা রাজনৈতিক অবস্হান নিয়েছিল - ইসলামের দোহাই এটা ছিল তাদেরই প্রতিক্রিয়া। দেখুন, যেটা ছিল শেখ মুজিবের সর্তক বিচক্ষণতা তাকে পায়ে দলে কখন জামাতে ইসলামীর মূল্যায়ন ব্যাখ্যা কাঁন্ধে নিয়ে ফেলেছেন জাফর ইকবাল তার হুশ নাই। ধর্ম-বিদ্বেষে বেহুশ জাফর ইকবালদের লোভ ১৯৭১ নিয়ে জামাতে ইসলামের ব্যাখ্যায়। হায় হায় শেখ মুজিব আজ কোথায়! ইতিহাসবোধশুণ্য এই নির্বোধদের কে বাঁচাবে?
বৈষম্যের ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সামরিক নিপীড়ক রাষ্ট্র ভেঙ্গে ফেলার পক্ষে আমাদের দাবীর ন্যায্যতা, শেখ মুজিবের বিচক্ষণতা সঠিক, না কী, এটা আসলে ইসলামের বিরুদ্ধে, ইসলামী পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাঙ্গা, ইসলামকে ধ্বংশ লক্ষ্যে ঘটেছিল - জামাতে এই মুল্যায়ন সঠিক: ইতিহাস তার রায় দিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ রিয়েলিটি। মুখে যাই বলুক, পার্টির আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন দলিল বদল হোক না হোক, দলের নাম বদলে 'জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ' রেখে জামাতকে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে। এতে নিজের রাজনীতি, মুল্যায়নের ভুল নিজেই প্রমাণ করেছে। অথচ আমাদের জাফর ইকবালরা জামাতের মূল্যায়নই সঠিক বলে কাঁন্ধে নিয়ে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে। ধর্মের বিরুদ্ধে কামান দেগে জামাতের মৃত ব্যাখ্যা আশঙ্কাকে জীবিত করার চেষ্টা করছে; বহু আগেই বাস্তবে জামাত যা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। জাফর ইকবালদের ধর্ম বিদ্বেষী মন হুশ জ্ঞান হারিয়ে জামাতের মূল্যায়ন ফেরি করছে আর ভান করছে এরা নতুন প্রজন্মকে "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" শিখাচ্ছে। রাজাকার রাজাকার বলে চিৎকার গালাগালি করছে। সত্যিই অদ্ভুত!

জাফর ইকবালের যে ইসলামফোবিয়া বা ধর্মফোবিয়ার কথা শুরু করেছিলাম বাংলাদেশে এর গোড়াটা কতটুকু ধরতে পারলাম পাঠক বিচার করবেন। তবে সবটা পারিনি তা নিশ্চিত। কারণ, গোড়াটা এখানকার আলো বাতাস পেয়ে ইতোমধ্যে মহীরূহ হয়ে উঠেছে। সে কথা আর একদিন।

তবে যাবার আগে একটা প্রশ্ন তুলে রাখতে চাই। জাফর ইকবালেরা বেহুশে জামাতে ব্যাখ্যাতেই আশ্রয় নিলেন কেন? এর উত্তর আমাদের অবশ্যই বের করতে হবে। নইলে আজ যা জানছি সেই জানায় অসম্পূর্ণতা থেকে যাবে। পাঠকের আগ্রহ হলে তা নিয়ে আরও কথা বলা যাবে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ডঃ জাফর ইকবাল ও ইসলামফোবিয়া ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০

লেখক বলেছেন: চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।

২. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৯
হাসিব মাহমুদ বলেছেন: ছাগেন্ডাইটের পর এইটা নেক্সট প্রজেক্ট ।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১

লেখক বলেছেন: কার নেক্সট প্রজেক্ট?

৩. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
চোরকাঁটা বলেছেন: এতো আজাইরা প্যচালের কামে নাই!! ডেনড্রাইটরে কি মাইনাচ দিছেন? নাকি দেন নাই? ... কন?!!
:D
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: এইটা আপনি না বুঝতে পারলে আমি সত্যি অসহায়।

৪. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৮
নাফিস ইফতেখার বলেছেন: আপনি কি আলেকজান্ডার সাহেবের প্রেতাত্মা নাকি? ;)


* পোস্ট করেছেন: ২টি
* মন্তব্য করেছেন: ৫টি
* মন্তব্য পেয়েছেন: ১৪টি
* ব্লগ লিখছেন: ৪ দিন ৪ ঘন্টা
* ব্লগটি মোট ২৫৬ বার দেখা হয়েছে

তাহলে আপনাকে অভিনন্দন আপনার অভূতপূর্ব সাফল্যে..........
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: আমরা সবাই কারও না কারও প্রেতাত্মা।

ব্লগ পরিসংখ্যান দেখিয়ে কিছুই প্রমাণ হয়নি।

৫. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫০
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
সব নষ্টের গোড়া হলো ধর্ম। ধর্ম ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। - শ্রদ্ধ্যেয় জাফর স্যার ঠিক এ ধরনের অন্তঃকরন ধারন করেন সে বিষয়ে আপনি কিভাবে নিশ্চিত । রেফারেন্স কি? উনার তথাকথিত ইসলাম ফোবিয়ার প্রমাণ দিন ।

আর একটা কথা , "বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম
"মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস" জানছে না।" - এ ধরনের হতাশাব্যাঞ্জক কথা বলার কারন কি? আমার তো মনে হয় ঠিকই জানছে । জাফর ইকবালের ইশপের গপ্পে ইতিহাস বিচ্যুতি বা বিকৃতি টা ঠিক কোন জায়গায় ? আপ্নার লেখা পড়ে যতটুকু বুঝতে পারলাম, আপনি রাজাকারদের অমার্জণীয় পাপকে অনুল্ল্যেখ্যভাবে "রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত" বলার মাধ্যমে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন । আপ্নার প্রকৃত ইতিহাস জানানোর আকুতির ধরনটা ভালো লাগলো না ।
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: আমার পয়েন্ট অর্থাৎ ফোকাস অফ আর্গুমেন্ট টা আপনাকে মানাতে পারলো কী না তা নয়, ওটা আপনাকে বুঝাতে পেরেছি কী না সেটাই গুরুত্ত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিক্রিয়া পড়ে আমি তা নিশ্চিত হতে পারিনি।

আচ্ছা, ধর্ম বা ইসলামের কারণে জামাতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল, হত্যা ও ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছিল - একথা কী ঠিক? আপনার কী মনে হয়?

৬. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০৫
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ডঃ জাফর ইকবাল যেহেতু পরিশ্রমী তাই উনাকে আমার ভাল লাগে। তবে সরকারী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত হয়ে তিনি রাজনীতিতে জড়ান - এটা ভাল লাগে না। শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির উর্দ্ধে থাকা উচিত। যুদ্ধাপরাধী নিয়ে কথা বললে ঠিক আছে কিন্তু শিবিরের কোন ছেলে কবে বি এন পির ছেলেকে স্ট্যাব করেছে - এইসব কথা শিক্ষকদের কাছ থেকে এলে বিরক্ত লাগে। যেখানে ক্যাম্পাসে প্রতিটি ছাত্র সংগঠনই সন্ত্রাসের দায় এড়াতে পারে না।

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯

লেখক বলেছেন: শিক্ষকরা রাজনৈতিক চিন্তা ধারণ লালন চর্চা করবেন, এমনকি চাইলে দলীয় রাজনীতির সাথে সদস্য, সংসর্গ থাকবে - এতেও কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না। তবে ওটাই ওর শেষ সীমা। এরপর সমস্যা শুরু হবে যখন তিনি দলবাজি শুরু করবেন। তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগির সাথে মেলে না, ভিন্ন এমন ছাত্রছাত্রী, কলিগ শিক্ষক কর্মচারীর সাথে তিনি কেমনভাবে ডিল আচরণ করবেন? সাধারণত, এর ভিতরে তা প্রকাশ পেতে শুরু করে। একটা নীতিগত অবস্হানের উপর দাঁড়িয়ে এটা সহজেই সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। কোন একটা ঘটনা যদি ওমুকে করে তাহলে ঠিক আছে আর তমুকে করে তাহলে ঠিক নাই - এর মানে হলো, এখানে চিন্তায় কোন নীতিগত অবস্হান কাজ করছে না। নিজ পছন্দের রাজনীতি লোক করলো কী না - এই ভিত্তিতে ন্যায় নির্ণয় এর মানে হলো দলবাজি।

অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগি কী তার কর্মক্ষেত্রকে প্রভাবিত করবে না?
মনের কাজ হলো প্রভাবিত করা বা হওয়া। আর মানুষের কাজ হলো ওকে কাবু রেখে কতটুকু প্রভাবিত হবে না হবে অথবা হওয়া ঠিক কী না সে বিবেচনা বিচারবোধে আরোপ করা। এটা যে না পারে সে আর মানুষ কেন?


৭. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১০
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
কেন বলতে পারেন না? বিরক্তি আপ্নার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগির কারনে হতে পারে ।
আর তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগি তার কর্মক্ষেত্রকে প্রভাবিত করবে না এটা ভাবলেন কিভাবে?
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৩

লেখক বলেছেন: সিহাব চৌধুরীর কাছে জানতে পারলাম না, "ধর্ম বা ইসলামের কারণে জামাতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল, হত্যা ও ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছিল - একথা কী ঠিক? আপনার কী মনে হয়?" - এই প্রশ্নে তার অবস্হান কী? অপেক্ষা করছি।

আপনার ধারণা হয়েছে, আমি "রাজাকারদের অমার্জণীয় পাপকে অনুল্ল্যেখ্যভাবে "রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত" বলার মাধ্যমে পাশ কাটিয়ে" যাচ্ছি। না যাচ্ছি না। একেবারেই না। বরং লক্ষ্য করছি আপনার চিন্তার স্তর এখনও বিষয়টাকে ভোটের বাক্স ভরার ক্যাম্পেন মেটারিয়াল হিসাবে "হত্যা ও গণধর্ষণ" বলে সেনসিটাইজ করার বাইরে ভাবতে অভ্যস্ত হয়নি।
তবু আমি "রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত" বলা না বলার তফাৎটা বলবো - এই বিশ্বাসে যে আজ না হোক কাল আপনি বুঝতে পারতেও পারেন!

কথাটা হলো, একটা দল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয় রাষ্ট্রের হত্যাযজ্ঞে সামিল হয় আর যখন একই কাজ কোন সচেতন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঘটে থাকে - এই দুয়ের তফাৎ কী? দুটোই কিন্তু শেষ বিচারে গণহত্যা। প্রথমটার ক্ষেত্রে "রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত" হত্যার ঘটনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে এবং তা ভয়ংকরও বটে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে হত্যাটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, অসচেতন। এটা সংখ্যারও ব্যাপার নয় যে কোন ক্ষেত্রে তা বেশী।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এটা বড়জোড় একটা কোন কোর্ট কাচারির আইনে আইনী অপরাধ। প্রথম ক্ষেত্রে অপরাধটা রাজনৈতিক। মনে রাখতে হবে, কোন চিন্তাকে কোর্টে বিচার করে পরাস্ত করা যায় না। সমাজকে ওটা একমাত্র রাজনৈতিকভাবেই মোকাবোলা ও পরাস্ত করতে হয় এবং এটাই তার একমাত্র জায়গা।
হাতের কাছের একটা উদাহরণ দেই। জেএমবিকে এখনও আমরা কেবল আইনীভাবে পর্যদুস্ত করতে পেরেছি, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে পারি নাই। এমনকি এই কাজকে রাজনৈতিক কাজ হিসাবে নেবার উপলব্দি এখনও সমাজে অনুপস্হিত।
যদি বুঝে থাকেন তাহলে এখন নিজেই বিচার করতে পারবেন কোনটা "অমার্জণীয় পাপ"।


৮. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:১৫
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: না, বিরক্তি আমার নীতিগত অবস্থানের কারনে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগি যদি পেশাগত দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ায় তবে তা খুবই দুঃখজনক। তবে ডঃ ইকবালকে আমার সেরকম মনে হয় নি। আমার পরিচিত কেউই তার বিরুদ্ধে এরকম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন নি।

@সিহাব চৌধুরী।
৯. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:২৩
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
মানুষ বদলায় । যখন শিবিরের গুন্ডারা শাবিতে স্যারকে হত্যার হুমকি দিত, স্যার করিডর দিয়ে হাটতে থাকলে "সকাল বিকাল জাফর ধর, সকাল বিকাল নাস্তা কর" - চুটকি আওড়াতে থাকতো, যখন সিলেটের ধর্ম্ববুদ্ধু সাধারন জনগনের চাপে সেইসব হুমকীর বিরুদ্ধে প্রশাষণ নীরব, তখন জাফর স্যারের আপ্নার উল্লেখিত পক্ষায়ণ অনেক্টা জাস্টিফাইড । কোথাও না কোথাও তো আশ্রয় নিতেই হবে । প্রয়োজনের কারনেই মানুষ বদলায় ।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: একবাক্যে গ্রহণ করা হলো।
তবে বিপদ ডেকে নিজে বদলাতে বাধ্য হওয়ার পরিস্হিতি এড়াতে পারলে আরও ভালো হতো।

১০. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:২৬
অচেনা সৈকত বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ@ শিক্ষক তো সমাজেরই অংশ। নাকি চোখ-কান বন্ধ করে শুধু পড়িয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ? বুয়েটে পড়েছেন, জানার কথা,আপনাদের DSW পোষ্টটা রাখার দরকার হয় কেন? কেনই বা রাজনৈতিক দলগুলোর তান্ডবে ডাকতে হয় শিক্ষকেদের জরুরী সভা? DSW স্যারের সেল ফোনে কেন ছাত্রদলের পাতি নেতাদের নম্বর সেভ করা থাকে? জাফর ইকবাল স্যারের প্রতিটি কলামে যে কথাগুলো উঠে এসেছে তা আমজনতার মনের কথা। নিজেও শিক্ষক ছিলাম, এর মানে কিন্তু এই না যে, অন্ধ হয়ে থাকতে হবে আমাকে।
০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১০

লেখক বলেছেন: আজকের পরিস্হিতি অন্যরকম হয়ে গেছে।
এরশাদের ক্ষমতা দখলের শুরুর দিকের কথা। আমাদেরকে শেখানোর চেষ্টা করা হতো - ইনজিনিয়ার হিসাবে আমাদের কাজ হলো সমাজ বা সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নই আমাদের ব্রত। দেশে রাজনীতি কোন চূলায় যাচ্ছে, এরশাদ জোর করে ক্ষমতা নিল কী না - এগুলা রাজনীতিকদের ব্যাপার। এনিয়ে DSW, ভিসির সাথে হেদায়েতের মিটিংয়ে বহুবার উতপ্ত বাকবিনিময়, বহিষ্কারের হুমকি মোকাবোলা করতে হয়েছে - এমন নজীরও কম নয়।

১১. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩১
মুসতাইন জহির বলেছেন:
জ্বি আমি বিশেষ আগ্রহ নিয়ে এই বিষয়ে আপনার তোলা শেষ সওয়ালের উত্তর জানতে চাই।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক আবির্ভাব সম্পর্কে জামাত ও বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদীদের প্রেমাইজ যে অদ্ভূত রকমভাবে একই সেটা ভালা কইরা বুঝন দরকার। এই ক্ষেত্রে আমার মনে লয়, যতীন সরকার মহাশয় ভালা উদাহরণ। উনারে এদের গুরু বলা যায়। তাঁর প্রথম আলো পুরষ্কার প্রাপ্ত বই ' পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু দর্শন' উল্টালেই অন্দাজ পাওয়া যাবে।

আলোচনা আগায়া যাক। আরো শুনতে চাই ভূ-পর্যটক আপা(ভাইও হবার পারেন)র কাছে।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮

লেখক বলেছেন: "জামাত ও বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদীদের প্রেমাইজ যে অদ্ভূত রকমভাবে একই সেটা ভালা কইরা বুঝন দরকার" - হ্যা ঠিকই ধরেছেন। এটাই ধরতে চেয়েছি। তবে কেন এটা এমন হলো সেই কেন এর উত্তর জানা অনেক বেশী গুরুত্ত্বপূর্ণ। এই পাটাতনে দাঁড়িয়ে যতীন সরকার, প্রথম আলো,তার পুরষ্কার, আর বই ' পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু দর্শন' বুঝার চেষ্টা করছি। ফিরে আসছি আবার।

১২. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৪
পান্থজন বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট, আপনার যুক্তির ধার মনে ধরেছে............

তবে কয়েকটা জরুরী প্রশ্ন এ প্রসঙ্গে তুলতে চাই। জাফর স্যার আমার অসম্ভব ফেবারিট, কপোট্রনিক সুখ দুঃখ আজও আমি সমান মুগ্ধতা নিয়ে পড়ি, এই বয়সেও।তাকে আমার খোলামনের মানুষ বলেই মনে হয়। অন্ততঃ চিন্তা চেতনার দিক থেকে জাফর স্যারের কোন ধরনের পশ্চাদপদতার কথা আমি ভাবতেও পারি না।

আপনার একটা কথার সাথে আমি ভীষন রকম একমত, কাউকে মাইনাস দিয়ে আসলে মোকাবেলা করা যায় না, যুক্তির মোকাবেলা পালটা যুক্তি দিয়েই করা উচিত। ক্রোধ প্রকাশ করে তো নয়ই।

তো কথা সেটা নয়...... যুক্তিপূর্ন সমালোচনা নিশ্চয় আমাদের সাহায্য করবে, আমাদের নিজ নিজ ধারনা আর অবস্থানকে যাচাই করার ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে ইসলামফোবিয়া বা ধর্মফোবিয়ার বিষয়টা শুধু জাফর স্যারের ক্ষেত্রে নয়, অনেক বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবির বেলাতেও দেখা গেছে, সাধারনতঃ আমরা তাদের আওয়ামী বা সিপিবি ঘরানার লোক হিসাবে দেখেছি। আমাদের জাফর স্যার তো আওয়ামী বা সিপিবি ঘরানার লোক নন্‌, কিন্ত ধর্ম নিয়ে তার চিন্তার উৎস কোথায়?

আসলে আমাদের খুজে দেখতে হবে, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবিরা কেন তাদের চিন্তায় ধর্মকে একোমোডেট করতে পারছেন না।
১৪. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫১
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: "জাফর ইকবালেরা বেহুশে জামাতে ব্যাখ্যাতেই আশ্রয় নিলেন কেন? এর উত্তর আমাদের অবশ্যই বের করতে হবে"


এটা জাফর ইকবালের মেধার সমস্যা বলে মনে হয় আমার কাছে।
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন: না এটা বলা অতিরিক্ত সরলীকরণ হবে। সমস্যাকে হাল্কা করে দেখে, গোলে হরিবোল বলার মত আর কি!

১৫. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৮
ভূপর্যটক বলেছেন: এই জবাবটা পান্থজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে:


আপনার মত কপোট্রনিক সুখ দুঃখ পড়ে বড় হবার স্মৃতি আমারও। ছোটভাইকে কিনে দিয়েছিলাম এই শর্ত যে আগে নিজে পড়বো। এখনও সযত্নে লালন করি সেই স্মৃতি। আমার বাল্যস্মৃতির অংশ জাফর ইকবাল।
এজন্যই একবার ভেবেছিলাম তাঁর একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে যে কথা আলেকজান্ডার ডেনড্রাইট (আডে) উঠিয়েছেন তা নিয়েও লিখবো। কারণ ওটা আমার ভালো লাগেনি, বাড়াবাড়ি মনে হয়েছিল। আবার ভাবলাম, এতে আমার প্রসঙ্গ ফোকাস হারাবে ফলে থামতে হয়েছে। তবে আডে কে পরামর্শে বলেছিলাম, নির্মোহ নৈর্ব্যক্তিক হয়ে বসতে। এছাড়া, বাড়াবাড়ি মনে হওয়ার আরও বড় কারণ আছে। নতুন প্রযুক্তি কমপিউটারের বিশেষ বৈশিষ্ট, ও বাংলাদেশের মত গরীব দেশে এর প্রবেশ সংক্রান্ত সমস্যা ও সম্ভাবনা - এই দিকটা (আডে) বিবেচনায় নিয়ে কথা বলেছেন বলে আমার মনে হয়নি।

টেকনিক্যাল বা অ্যাপ্লায়েড জ্ঞানের জগতে কমপিউটার - চাকা অথবা বাস্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কারের সাথে তুলনায় একেবারে কমবয়সী একটা প্রযুক্তি । আবার ইতোমধ্যে বয়স্ক (মেকানিক্যাল বা সিভিল এর মত )বিশালভাবে ব্যাপ্তি নিয়ে বসে থাকা প্রত্যেকটা ইনজিনিয়ারিং বা প্রযুক্তিবিদ্যার শাখার সাথে এই একেবারেই নবীন প্রযুক্তি কমপিউটারের সম্পর্কটাও ভারী মজার। কমপিউটার প্রযুক্তির বিশেষ বৈশিষ্টটা হলো, এ আগের সব প্রযুক্তির শাখায় (মেকানিক্যাল বা সিভিল এর মত ) যা কিছু চলছিল এমন সবকিছুকে কমপিউটার প্রযুক্তি এখন আরও বেশী দক্ষ, সুচারু হয়ে বিকাশের সম্ভাবনাকে আকাশচুম্বী করে দিল। এতে ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্হাপনাকে যদি অ-প্রযুক্তিগত খাত ধরি তো তবু সেও বাদ যায়নি। এখন এই বিশ্বঐতিহাসিক প্রযুক্তিগত তোলপাড়ের মধ্যে বাংলাদেশের মত অবিকশিত ছোট অর্থনীতির দেশ এই প্রযুক্তিগত তোলপাড়ের যজ্ঞে আদৌ প্রবেশ করতে পারবে কী না (আজ হয়তো তা টের পাওয়া যাবে না), ছোট হলেও কোন শেয়ার নিতে পারবে কী না এএক বিশাল প্রশ্ন ছিল। এর নির্ধারক উত্তর এক জায়গাতেই লুকানো ছিল। প্রযুক্তিটার বিকাশের জন্য প্রচুর সংখ্যক জনশক্তির প্রয়োজন পড়বে। ফলে যেসব দেশ ছোট বড় যে কেউ, ইতোমধ্যে কোন না কোন কারণে উদ্বৃত্ত গ্রাজুয়েট মানের জনশক্তি (হি্উম্যান রিসোর্স) অব্যবহৃত আছে অথবা কমসময়ে এবং সস্তায় সবার আগে আরও হাজির করবার শিক্ষা-প্রাতিষ্ঠানিক ষ্ট্রাকচার আছে - তাদের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী । কারণ অন্যদের চেয়ে সে জনশক্তি সমাবেশ ঘটাতে আগিয়ে আছে। এই ঘটনাটাই ঘটিয়েছে সাউথ ইন্ডিয়া (দক্ষিণ ভারত)। তবে অন্য একটা অনুঘটক উপাদান থেকে চোখ ফেরালে অবিচার হবে। আমেরিকা, কমপিউটার প্রযুক্তির কেন্দ্র দেশ; শুরু থেকেই বা যতদ্রুত সম্ভব ছোট আকারে হলেও ওখানে প্রবেশাধিকার নিয়ে সম্ভাব্য জনশক্তি দেশকে থাকতে হবে। এই অনুঘটকের আসল ভূমিকাটা হলো, প্রযুক্তির সাথে নিজ দেশের জনশক্তির পরিচয়, মুলাকাত ঘটিয়ে দেওয়া, চাহিদা মোতাবেক জনশক্তি তৈরি ও সরবরাহের বিষয়টা গাইড করা।
এখন এই অনুঘটক পাবো তা নিশ্চিত হবে কী করে? ঘটনাগুলোর সময়কাল '৮০ দশকের শুরুতে। আর ঐ একই সময়ে, ব্রেন ড্রেন বলে একটা শ্লোগান ও অভিযোগ পশ্চিমের বিরুদ্ধে জারি ছিল। এই শ্লোগান অন্তত কমপিউটার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের মত দেশের জন্য উল্টা ফল বয়ে এনেছে। কারণ, আমাদের মেধাবী তরুণ প্রযুক্তি- গ্রাজুয়েটকে আগে প্রবেশাধিকার যোগ্যতায় জায়গা নিতে হবে, প্রযুক্তিটা রপ্ত, দখল ও এর বাজারটা কেমন জানতে হবে। তবেই দেশে প্রযুক্তি ফিরে আনার অনুঘটকের যোগ্য হবে। তবে দেশে ফিরার মত সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কী না, সে আবার অন্য হিসাব। ইন্ডিয়ায় ব্রেন ড্রেনের শ্লোগান এখনও যথেষ্ট সবল। ডিডি-ভারতী, যেটা সরকারের নিজের প্রপাগান্ডামূলক কাজের চ্যানেল, এর অন্যতম নীতি হলো ব্রেন ড্রেনের বিপক্ষে জনমত চাঙ্গা রাখা। কিন্তু বাস্তব পরিস্হিতি উল্টা। যারা অনুঘটকের কাজের ফয়দা বুঝতে পেরেছে তারা তাদের কাজ চালিয়ে গেছে। এতো গেল ইনডিয়ার কথা। আমাদের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে? এটা আজ পরিষ্কার এই জগতে আমাদের প্রবেশ অভিষেক ঘটে গেছে। কতটা সবল সে অন্য প্রশ্ন। ১৯৮৫ সালে বুয়েট প্রথম কমপিউটার সাইন্স বিভাগ চালু করে। এর পেশাদার প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাজুয়েট ১৯৯২ এর আগে পাওয়া সম্ভব ছিল না, তবে পোষ্ট গ্রাজুয়েট থাকলেও তার সংখ্যা অনুমান করতে পারি। আর সর্বোপরি বুয়েটের গ্রাজুয়েট, পোষ্ট গ্রাজুয়েট নির্বিশষে উপরের ৫০ ভাগের কেরিয়ার দর্শন ছিলো বিদেশ যাওয়া। অতএব সব মেধাবীদের জড়ো করা প্রতিষ্ঠানের দশাই যদি এই হয় তবে বাকিদের অবস্হা আন্দাজ করা যায়। এই পরিস্হিতিতে তাহলে কী ১৯৯২-৯৫ এর আগে কী আমাদের কমপিউটার দর্শন, পরিচিতি ঘটে নাই? অবশ্যই ঘটেছে। কিন্তু কাদের হাতে? যাদের কমপিউটারে কোন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। তারাই এর হাল ধরেছিলেন। এদের মধ্যে ১৯৮৫ সালে যারা বুয়েট গ্রাজুয়েট মূলত ইলেকট্রনিক্স আর অল্প কিছু সিভিল বা অন্যান্য। অর্থাৎ মূলকথা হলো, আমরা শুরু করেছিলাম কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া, অদম্য সাহস উৎসাহ, নিজ উদ্যোগে পড়ালেখা শেখা দিয়ে, একদম আদিম কারুশিল্পে ওস্তাদ-সাগরেদ সম্পর্কের মত করে। সাধারণ গ্রাজুয়েট, লাইব্রেরী সাইন্স পাশ এরাই ছিল মধ্যম লেভেলের প্রোগ্রামার। আবার, বুয়েটের কথাই ধরুন, ১৯৯৮ সালেও কমপিউটার সাইন্স বাদে বাকি প্রায় ৪০০ গ্রাজুয়েট পাশ করে বের হয়েছে অথচ কমপিউটার কী জিনিষ ছুয়েও দেখেনি। সিভিল বা মেকানিক্যাল এর ছাত্র ডিজাইন বা ড্রয়িং শিখেছে অটোক্যাড ছাড়া। ১৯৮৫ সালের দিকে ঢাকায় কমপিউটার হার্ডওয়ার প্রথম বেচাকেনা শুরু হয়। এই তো মাত্র ১৯৯৮ সালে হাসিনার আমলে বহু তদবিরের পর অর্থমন্ত্রাণালয়ের আমলাদের বেড়াজাল ভেঙ্গে প্রথম কমপিউটার আমদানির শুল্ক ৩০% থেকে শুণ্যে নামিয়ে আনা হয়। তার মানে এর আগে শিখবার যন্ত্রটাও সহজলভ্য ছিল না। এরপর আস্তে ধীরে বিদেশ ফেরৎ অনেকেই এসে হাত লাগিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মান বাড়িয়ে প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে - আজকের অবস্হায় এসেছে।
এখন আমরা কার অবদান খাটো করে দেখবো? যার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, ছিল অদম্য সাহস, শিখবার আকাঙ্খা অথবা বিদেশে থেকে শিখে দেশে ফিরে যে হাত লাগিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো যারা দাঁড় হতে সাহায্য করেছে? আমরা কী কার কী একাডেমিক যোগ্যতা তার বিচারে আমাদের এই ট্রেডকে বিচার করবো। এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা কাজগুলো যারা করেছে তাদের গ্রাজুয়েশন লেবেলের ব্যাকগ্রাউন্ড হলো- সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স এমনকি এমবিবিএস ডাক্তার অথবা অন্য আর কিছু। যদিও এরা সবাই পরে কোন না কোন কমপিউটার সম্পর্কিত ডিগ্রী নিয়েছেন। জামিলুর রহমান চৌধুরীর গ্রাজুয়েশন ব্যাকগ্রাউন্ড সিভিল ইনজিনি্যার, ১৯৮৫ সালে বুয়েট প্রথম কমপিউটার সাইন্স বিভাগ চালু হবার আগে ও পরেও তিনি বুয়েট (মেইনফ্রেম) কমপিউটার সেন্টারের প্রধান পরিচালক ছিলেন। আমরা কী তার গ্রাজুয়েশন ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে তাঁর কাজ বিচার করবো? কমপিউটার প্রযুক্তিটাই তো এমন যা আগের সব প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ, সুচারু করতে এটা ব্যবহার জানতেই হবে নইলে বেকডেটেড হতে হবে। ফলে একটা ইনটেরিয়াম ফেজ থাকাটাই স্বাভাবিক যখন এই আপডেটটা ঘটাতে হবে। এমনকি আমাদের টিচিং স্টাফও এরকমই হবে, এর ছাপ থাকবে তাতে। বরং কমপিউটারের সাথে অন্য ট্রেডের কমবিনেশনই হবে এর বিউটি। এমনকি তা কোন মৌলিক বিজ্ঞান হলেই বা কী! ইনজিনিয়ারিং গ্রাজুয়েশনের পর কেউ এমবিএ শেষ করলে আমরা কী বিবিএ করা এমবিএ এর সাথে তুলনা করতে বসবো - কার একাডেমিক যোগ্যতা ভালো? এই অহেতুক বিতর্ক আমাদের কোন কাজে লাগবে না।

আর নগদ লাভের দিকটা আমরা ভুলি কী করে? কমপিউটার সম্পর্কিত পেশার আমেরিকা ফেরত যেকোন বাংলাদেশী দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, এর সাথে নেতিবাচক কিছু থাকলেও। এই টেকনোলজি ট্রান্সফারের আর কোন সহজ রাস্তা নাই। আর দেশে ফিরে উনি কেমন হবেন কী করবেন এর সবটা উনার একার উপর নির্ভর করে না। আমরা কেমন প্রস্তুত, চিন্তা ভাবনা কেমন এসব অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে।

ফলে সারকথা হচ্ছে, একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবস্হায় আমরা এখনও আসিনি। বরং কাউকে তাঁর অবদান রাখার সুযোগ আমরা কতটুকু করে দিতে পারছি সেটা জরুরী।

তবে যতটুকু বুঝতে পারি, একটা সামাজিক ভূমিকাও তিনি রাখতে চান। প্রযুক্তিবিদেরা এটা হতে চান না - সেই দিক থেকে খুব ভালো। তবে এক্ষেত্রে বিপদটা হচ্ছে তাঁকে আরও সতর্ক হতে হবে, চিন্তা ভাবনা করে এগোতে হবে। নইলে হিতে বিপরীত হবে। যেমন ধরুন, তরুণ বা কিশোরদের বিজ্ঞান বা গণিত মুখী করতে তিনি কিছু করতে চান। গণিত অলিম্পিয়ার্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ত্ব দেখতে চান। খুবই ভাল কথা সন্দেহ নাই। আমাদের অনেককেই বিজ্ঞানক্লাব জাতীয় কিছু করার আগ্রহী হতে দেখি। এখন বিজ্ঞান কেন? এটা বেছে নেবার ক্ষেত্রে নিজের মটিভেশনটা কী? মটিভেশন যদি হয় এমন যে বিজ্ঞানমনস্ক হলে নতুন প্রজন্ম ধর্মের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবে - তবে তাঁর এই পূর্বানুমান সবার জন্য বিপদজনক। একইভাবে, বাচ্চাদের জন্য যে বই লিখছেন তার সাবজেক্ট ম্যাটার ধর্ম কেন? এসব লক্ষ্য কোন কাজে হাত দেবার আগে তাঁকে আরও গভীর ভাবতে হবে, নিজের মানসিক প্রস্তুতি লাগবে। তবে এটাও সত্যি যে আমরাও সামাজিকভাবে প্রস্তুত নই এখনও।
পান্থজন, আপনার এই প্রশ্ন, "আমাদের জাফর স্যার তো আওয়ামী বা সিপিবি ঘরানার লোক নন্‌, কিন্ত ধর্ম নিয়ে তার চিন্তার উৎস কোথায়?" এর উত্তর দিয়ে আজকের কথা শেষ করবো।
কোন চিন্তায় প্রভাবিত হবার জন্য ঐ ঘরানার সদস্য হওয়াটা জরুরী নয়। "ধর্ম নিয়ে তার চিন্তার উৎস কোথায়' এই সমস্যা কী উনার একার? না এটা সমাজেরই শহরের একটা ডোমিনেটিং ধারা? এর জন্ম পাকাপোক্ত হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক কী - এই বিষয়ক জটিলতা থেকে? এর খুবই সামান্য অংশ এই মূল পোষ্টে আনতে পেরেছি। তবে এর আদি উৎস আরও অনেক পিছনে ভার‌তীয়-উপমহাদেশের উপনিবেশ মুক্তির জাতীয়তাবাদে।

১৬. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪১
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন: ছাগলের পোস্টে এত বিতর্কের প্রয়োজন বোধ করিনাই। তাই মাইনাস দিছি এবং অন্যদেরকে দিতে বলছি।
১৭. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৬
ভূপর্যটক বলেছেন: যতখুশি মাইনাস দেন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু বিতর্কের প্রয়োজন বোধ করুন।
১৮. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: প্লাস দিলাম।
আমি জামাত বিদ্বেষী।তারপরও প্লাস দিলাম এই জন্য যে আপনি যুক্তি নির্ভর কিছু জিনিসের অবতারণা করেছেন।
জাফর সাহেবের লেখা আমার ভালো লাগে।
তার গনিত অলিম্পিয়াডের উদ্যোগ টাকে স্বাগত না জানিয়ে পারি না আমাদের বর্তমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে।বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তার জ্ঞান গর্ভ কলাম ও পড়ি নিয়মিতই।তার জামাত বিরোধী মনোভাবও ভালো লাগে।
আমর যেটা খারাপ লাগে সেটা হলো ওনার মধ্যকার হিপোক্রেসি এবং উনাকে নিয়ে আমাদের তরুণ সমাজের অতিরিক্ত ফালাফালি।
লক্ষ্য করুন ডেনড্রাইট যে হউক তার চেয়ে বহু ঘৃন্য জামাতিদের পক্ষের পোস্টেও এত মাইনাস পড়ে না।এর কারন কি?এর কারণ জাফর সাহেবের ভয়ঙ্কর জনপ্রিয়তা।
এই জনপ্রিয়তা মানুষকে অন্ধ করে দেয় (যদিও আমদের জাফর সাহেব তএমন কোন লক্ষন প্রকাশ করেন নি)।আর তার মধ্যকার ভন্ডামিকে আমি অপছন্দ করি।তাই তরুণ সমাজের মত আমি তাকে মাথায় তুলতে রাজি নই।কারণ তিনি নিরপেক্ষতার মোড়কে চরম পক্ষপাত দুষ্ট রাজনৈতিক কলাম লিখেন।

****এ ব্যাপারে পক্ষে বিপক্ষে মত আহবান করছি।তবে কোন জামাতি ছাগু এই ব্যাপারে কিছু বলতে আসবেন না।আসলে কী করব বললে রোজা ভেঙে যাবে তাই লিখলাম না।
১৯. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৫
ভূপর্যটক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আপনি মাইনাস দিলেও এর যোগ্য।

আপনি জামাত বিরোধী হলেই মনে হ্য় চলতো, বিদ্বেষী না হলে হয় না। ভেবে দেখতে অনুরোধ রইলো।

যাক সে সব, আমি খুশি আপনি "যুক্তি নির্ভর" দৃষ্টিতে দেখতে চেয়েছেন ও পেরেছেন বলে।
২০. ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪২
অরণ্যচারী বলেছেন: হুমম। আপনার কথায় যুক্তি আছে। আমি ঐ পোস্টে বিতর্কে যাই নি তবে মাইনাস দিয়েছি তার প্রধান কারণ - লেখক ঐ ব্লগে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। আমি এই পোস্ট সম্পর্কে জেনেছি অনেক পরে।
২১. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৩৮
ভূপর্যটক বলেছেন: ধন্যবাদ অরণ্যচারী। দেরিতে হলেও এই পোষ্ট আপনার নজরে পড়েছে, খুব ভালো কথা। মাইনাস প্লাস নিয়ে আমি চিন্তিত নই, একেবারে। এসব নিয়ে মেতে যেটা আসল কাজ - যুক্তি বুঝতে চেষ্টা করা, ভুল হলে সেকথা বলা, পাল্টাযুক্তি তুলে ধরা মোটকথা সক্রিয় সিরিয়াস অংশগ্রহণ আমি কামনা করি সবার কাছ থেকে।

আমার দ্বিতীয় উদ্যোগ হবে, কেন আমরা মুক্তিযুদ্ধের সাথে ধর্মকে মেলালাম? মুক্তিযুদ্ধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক কী? কখন থেকে "স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি" জামাতের ব্যাখ্যা দৃষ্টিভঙ্গীকে নিজেদের বলে আপন করে নিল? কেন নিল? - এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে নাড়াচাড়া করা। আশা করি, একাজে আপনাদের সহযোগিতা পাবো। ভালো থাকবেন।
২২. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৪৫
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: অবশ্যই স্বাগত জানাই আপনার উদ্যোগকে।যুক্তি নির্ভর আলোচনা চলুক।
তবে জামাতিদের ক্লিশ টাইপ আজাইরা যুক্তি শুনলে আমার মেজাজ চড়ে যায় তার জন্য আগে থেকে সরি জানাইয়া রাখলাম।
আলোচনার অবতারণা করুন।আগ্রহের সাথেই আছি আমি।
২৩. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০১
মুসতাইন জহির বলেছেন: অমিও ইন্তেজার করতাছি...

কম্পিটার বিষয়ে আপনি তো আচ্ছা একটা আলোচনার অবতারণা করলেন।

এইটা আলাদা পোস্ট দিয়া করেন তাতে আরো ভালো ফিডব্যক পাওয়া যাবে।
২৪. ২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:০৭
বাঙ্গাল বলেছেন: চমেতকার... লেখককে মাথা ঠান্ডা বিশ্লেষনের জন্য ধন্যবাদ
৩০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৫

লেখক বলেছেন: হ্যা তাই। ধন্যবাদ নিলাম।
কিন্তু কথা হলো আপনি প্রায় এক বছর পরে কেন?

২৫. ০৯ ই জুন, ২০১০ সকাল ১১:২৮
নাজনীন১ বলেছেন: এ পোস্টটা আমিও পড়লাম। প্রায় আর একবছর পরে।
০২ রা আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:২৭

লেখক বলেছেন: তবুও তো পড়েছেন, তাতেই চলবে।
অনেকই তো এখনও পড়েই নাই।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯১০৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই