আমার প্রিয় পোস্ট
- সকল ব্লগারের ব্লগের লিংক (বিষয় :অনলাইন ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং) - নিলআকাশেরদুঃখ
- ফ্রি ওয়েবসাইট আর অনলাইনে টাকা কামানোর রহস্য - হাসান
- বাঁক বদলের নির্বাচনে একাত্তরের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে- সৈয়দ শামসুল হক - নীলবকুল
- কারা কালী সাধক। (উৎসর্গ: রাঙা মীয়া।) - ইমন জুবায়ের
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - বিবর্তনবাদী
- অরুন্ধতী রায়ের স্বাক্ষাৎকার,ভাষ্কর্য বিবাদ,লালন উৎখাতের মচ্ছব,হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে পিঠা ভাজা,এবং রাজনীতির মারেফত দর্শনের টেলিস্কোপে প্রকৃত শত্রু খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা - মনজুরুল হক
- শ্রীচৈতন্য দেব: যাঁর অন্তরে রাধা, বহিরঙ্গে কৃষ্ণ - ইমন জুবায়ের
- ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল বাংলাদেশী আইন - রাজন সান
- হাদিসের নতুন ভার্সন করতে যাচ্ছে তুরষ্ক - সুশীল সমাজ
চিন্তার ইতিহাসে: ধর্ম কী
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:০৬
চিন্তার ইতিহাসের দুই পর্যায়: ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন
ধর্মকে ভক্তিভরে দেখা যায় আবার একটা চিন্তা হিশাবে দেখা যায়। যারা চিন্তা হিসাবে দেখতে মানসিকভাবে তৈরি নন এই পোষ্ট তাদের জন্য নয়। অনেক সময় কোন পোষ্টের মন্তব্যে আমি যখন ধর্মতত্ত্ব (Theology) শব্দটা ব্যবহার করেছি, টের পেয়েছি পাঠকের অনেকের কাছে বুঝা-না-বুঝার মাঝখানে থেকে গিয়েছে ব্যাপারটা। সেসব চিন্তা করে, ধর্মকে একটা চিন্তা হিশাবে দেখার উপর দাঁড়িয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করব। ধর্ম ও দর্শন নিয়ে আলোচনা সমাজে হয় না বলেই চলে। ব্যাপারগুলো শেষ পর্যন্ত বড় জোড় দ্রুত জামাত রাজাকার পর্যন্ত ঠেকে গালাগালির রাস্তা ধরে শেষ হয়ে যায়। ফলে এখানে একটা চেষ্টা নেব, ছোট ছোট করে হলেও এনিয়ে কোন সিরিয়াস আলোচনা টানতে পারি কী না।
দর্শনের ইতিহাস মানে চিন্তার ইতিহাস। তাহলে দর্শন আর চিন্তা - এই দুইয়ের সম্পর্ক কী? একই জিনিষ? হ্যাঁ, একই জিনিষ; তবে চিন্তা মানে ধর্মতত্ত্ব হতে পারে, আবার দর্শনও হতে পারে। চিন্তার একটা বড় পর্যায় কেটেছে ধর্মতত্ত্বে, ধর্মতত্ত্বের ইতিহাস হয়ে, এরপর কেটেছে দর্শনে, দর্শনের ইতিহাসে যতক্ষণ পর্যন্ত না কার্ল মার্কস এসে দর্শনকে ব্যবহারে চর্চায় একে প্রতিষ্ঠা করার বিষয় ফলে দর্শনচর্চার নতুন নাম রাজনীতি বলে মানে দিয়েছেন। তাহলে, ধর্মতত্ত্ব বলতে কি বুঝাচ্ছি? দর্শনের সাথে তার তফাৎ কোথায়?
বলা হয়ে থাকে জর্মন দার্শনিক ফ্রেডরিক হেগেল দর্শনের ইতিহাস লিখতে গিয়ে একটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন ও মোকাবিলাও করেছেন। তাই হেগেল বরাতেই এপ্রসঙ্গে কিছু কথা শুনি। তাঁর কথাটা এরকম, " ধর্মের দাবি হচ্ছে - ওর মারফত সত্যের যে রূপ আমাদের সামনে নাজিল হয় মানুষের মধ্যে তার আবির্ভাব ঘটে বাইরের আমদানি হিসাবে; এই বরাতে এটাও ধর্মের দাবি যে মানুষ যেন বিনয়ের সঙ্গে তা মেনে নেয় কারণ নিজের মুরোদে মানুষের চিন্তাশক্তি ঐ কামেলিয়াত হাসিল করতে পারে না"। এর মানে হলো, মানুষের চিন্তাশক্তি যখন মুরোদহীন ছিল, নিজেকে নিজে জানতে শেখেনি, চিনে না, তাঁর চিন্তা স্বাধীন নয়, নিজে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে নাই, আছেময়তা (being) এর সত্য বা জ্ঞানকে নিজেই আবিস্কার বা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম নয় - তখন সত্য বা জ্ঞান তাঁর কাছে নবী রসুলের মারফতে নাজিল হয়েছিল, এছাড়া পথ ছিল না। তাঁর চিন্তা তখন অতটুকুই স্বাধীন যে ভাবতে পারে নবী-রসুল বা অবতারের মারফতে সত্য বা জ্ঞান তাঁর কাছে আসে। তাঁর চিন্তার সত্যতা কী? তাঁর চিন্তার সত্যাসত্যের যাচাই কে করবে, কীভাবে করবে তা সে নিজের চিন্তার তৌফিকে হাজির করতে অক্ষম। তাই চিন্তার সত্যতা সে নিজের চিন্তার বাইরে থেকে হাজির করে, বাইরে কোথাও অবস্হিত, গায়েবি - এটা সেই অবস্হা। চিন্তা নিজে তার চিন্তার সত্যতা প্রমাণ করে না, করে চিন্তা যারা করতে পারে তাদের বাইরের বরাতে। চিন্তা যখন তার সত্য বা জ্ঞানের প্রতিষ্ঠা চিন্তার বাইরের উৎসের বরাতে সংগ্রহ করে হাজির এটাই ধর্মতত্ত্ব বা Theology। এখানে যেটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তা হলো, বাইরের উৎসের বরাতে হলেও আসলে তখনও এটা কিন্তু চিন্তাই; চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায়। এপর্যায়ে চিন্তা নিজেকে মানুষের ইন্দ্রিয়পরায়ণ তৎপরতা হিসাবে তো নয়ই নিজের চিন্তাশক্তি দিয়ে নিজের অস্তিস্ত্ব বা আছেময়তাকে টের পেতে শিখেনি।
অনেকে বিতর্ক করতে পারেন এই বলে যে মানুষের চিন্তার উপর ভিত্তি করে চিন্তালব্ধ জ্ঞানের সত্যতার উপর ভরসা করা যায় না। এরচেয়ে গায়েবি বরাতের সত্য বা জ্ঞান ভাল। কথাটার মানে হল যেন একজন বলছে, এই দুনিয়াটা একটা মায়া, এর কিছুই সত্যি না। এর কিছুই জ্ঞেয় বা চিন্তায় জ্ঞানলাভ যোগ্য নয়। এককথায় মানুষের পক্ষে নিজ মুরোদে নিশ্চয়তাজ্ঞান সম্ভব নয়। আসুন, তাহলে এটা কথাটা বিচার করে দেখি।
দুনিয়াতে মানুষই একমাত্র চিন্তা করতে পারে। একজন দাবি করছে, "মানুষ চিন্তা করে দেখেছে তাঁর পক্ষে জ্ঞানের যাচাই বিচার করা সম্ভব নয়"। ফলে চিন্তার বাইরে গায়েবি উৎস ছাড়া তার ভরসা ও নিস্তার নাই। পাঠক লক্ষ্য করবেন, বয়ানটা নিজেই একটা বিচারমূলক বা যাচাইমূলক বয়ান। এবং বয়ানটা নিজে দাবি করছে মানুষের চিন্তার পক্ষে সত্যাসত্য যাচাই বিচার করা সম্ভব নয়। তাহলে দাঁড়াচ্ছে, বয়ানটা নিজেও সত্য নয়। কারণ ওটা মানুষের চিন্তারই একটা বয়ান। যারা বিতর্ক করছিলেন মানুষের চিন্তার পক্ষে সত্য বা জ্ঞানলাভ অসম্ভব তাদের মত করে ভাবতে গিয়ে এএক মহা ফাঁপড়ে পড়লাম দেখা যাচ্ছে।
এখান থেকে তাহলে আমরা কী শিখলাম? বয়ান দাঁড় করাতে চাইলে আগে মেনে নিতে হবে, মানুষের চিন্তার পক্ষে বয়ানের সত্যাসত্য যাচাই বিচার সম্ভব। চিন্তা নিজেই নিজের চিন্তার একমাত্র বিচারক। চিন্তা যাচাইকর্তা না হলে সত্যাসত্যের নিশ্চয়তা, জ্ঞান, বয়ান কিছুই সম্ভব না। চিন্তার সত্যতা চিন্তার বাইরের বরাতে, গায়েবি থাকতে পারে না।
চিন্তা স্বাধীন, স্বাধীনভাবে সে ভাবতে পারে:
চিন্তার সত্য চিন্তার বাইরে থেকে নয়, চিন্তার ভিতর থেকেই যাচাই সম্ভব ফলে বাক্য বয়ান সম্ভব। অতএব চিন্তা স্বাধীন, স্বাধীনভাবে সে ভাবতে পারে - একথা মেনে নেয়া। যতদিন পর্যন্ত চিন্তা এটা বুঝে নাই, চিন্তাশক্তির মুরোদ হয় নাই ততদিন গায়েবি উৎসের বরাতে চিন্তা নিজেকে হাজির করেছে। এটাই সব ধর্মের ধর্মতত্ত্ব। মানুষের চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায়।
বিপরীতে চিন্তাশক্তির মুরোদ হওয়া মানে চিন্তার সত্যাসত্য যাচাইয়ের ক্ষমতা টের পাওয়া মানে চিন্তার টের পাওয়া চিন্তা স্বাধীন, স্বাধীনভাবে সে ভাবতে পারে। এবার তাই দর্শন সম্ভব। চিন্তার সত্যাসত্য জ্ঞান, যাচাই বিচার চিন্তা নিজেই করে বলে জানে মানে - চিন্তা যাচাই বিচারের এক ক্রমাগত প্রক্রিয়ার শুরু, এটাই দর্শনের ইতিহাসের গোড়া। চিন্তার দার্শনিক পর্যায়।
দর্শনের ইতিহাস (History of Philosophy) লিখতে গিয়ে হেগেল কোথা থেকে শুরু করবেন, কেন করবেন - তা ব্যাখ্যা করতে হয়েছিল আগে। ধর্মতত্ত্ব আর দর্শনের সীমারেখা টেনে তিনি বলেছিলেন, দর্শন শুরু হতে গেলে চিন্তার স্বাধীনতা হচ্ছে এর পয়লা নম্বর শর্ত। এছাড়া আরও শর্তের কথা তিনি বলেছিলেন, যেমন পুব বা প্রাচ্যকে (Oriental Consciousness) গোনায় ধরা যাবে না, কারণ ওখানে দর্শনের আবির্ভাব ঘটে নাই, পশ্চিমেই একমাত্র ঘটেছে ইত্যাদি। আমি এখন সেদিকে যাচ্ছি না।
যে বাক্য দিয়ে শুরু করেছিলাম, ধর্মকে ভক্তিভরে দেখা যায় আবার একটা চিন্তা হিশাবে দেখা যায়। ধর্মকে ভক্তিভরে দেখা মানে ধর্মের অর্থ এখানে ধর্মতত্ত্ব (Theology)। ধর্মকে চিন্তা হিশাবে দেখা মানে চিন্তার দার্শনিক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে দেখা। তবে ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে নয়। কারণ এখন তার দৃষ্টি আর ধর্মতাত্ত্বিক হতে পারে না। নিজের পিছনের চিন্তাকে, সত্য ও জ্ঞানকে চিন্তা কীভাবে প্রকাশিত করেছিল (গায়েবি বরাতে হলেও) তাকে বিচার করে দেখা। এখানে ধর্ম মানে চিন্তা, Religion অর্থে, আর বিচারের কাঠিটা দর্শনের (Philosophy)। এই শেষের বাক্যটা গুরুত্ত্বপূর্ণ।
এখানে এই রচনাকে কেউ নাস্তিক হবার উপাদান সংগ্রহে কাজে লাগাতে উৎসাহিত বোধ করলে নিজেকে ঠকাবেন ও আমাকে অবিচার করবেন। কোন লেখায় ধর্মতত্ত্বকে সন্ধান করে নেবেন, সমালোচনা করবেন ঠিক আছে। কিন্তু ধর্মগ্রন্হ বা ধর্মগুলোকে (Religion) চিন্তা হিসাবে বিবেচনা করে ওর থেকে প্রকাশিত সত্য ও জ্ঞান থেকে উপাদান বের করে আনার দায় কর্তব্য আমাদের শেষ হয়ে যায়নি। চিন্তার বা মানুষের যেসব সমস্যাগুলোকে ধর্ম (Religion) সমাধান করতে গিয়েছিল ধর্মতাত্ত্বিকভাবে, তার অনেক কিছুই এখনও অসমাপ্ত। এর দায় আমাদের আছে। এলক্ষ্যে একটা বিচার পর্যালোচনার বিস্তর কাজ পড়ে আছে আমাদের জন্য। এই পর্যলোচনার কাজকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগোনোর কোন সর্টকার্ট রাস্তা নাই। আমরা ধর্ম মানি না বলে চিৎকার করে ঘোষণা করতে পারি; এতে যা বুঝাই তা হতে পারে বড়জোড় ধর্মতাত্ত্বিক অর্থে ধর্ম মানি না। কিন্তু চিন্তা অর্থে ধর্ম (Religion) এর পর্যালোচনার কাজ তাতে সম্পন্ন হয়ে যায় না।
প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে আমরা যা বুঝি, বুঝাতে চাই তা আসলে ধর্মতত্ত্ব। চিন্তা অর্থে ধর্ম (Religion) কী এটা যদি আমরা বুঝতে পারি তবে এই আলোচনার একটা গতি হবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্ম ও দর্শন ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মনির হাসান বলেছেন:
মন্তব্য করতে সাহস পাচ্ছিনা ...
লেখক বলেছেন: সাহস না পাবার কোন কারণ নাই।
আর, সাহস না পেয়েও তো করে ফেলেছেন দেখা যাচ্ছে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
খুব প্রাঞ্জল আর সহসবোধ্য করে অনেক গভীর কথাকে তুলে আনতে পেরেছেন। আপনি সত্যি প্রশংসা পাবার যোগ্য। আমাদের এখানে এতটা অভিনিবেশ সহকারে এই অতি গুরত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে খুব একটা কাউকে দেখা যায় না। চিন্তার নানান ধরণ, ঐতিহাসিক রূপ, দার্শনিক বিচার ও সত্যাসত্যের বিচারে নামার আগেই আমরা 'আধুনিক' হয়ে যাই। কল্পকথা আর গল্প-বিজ্ঞানের বিশ্বাসে আমরা এতই অভস্ত যে একটু সুস্থির হয়ে আগাম সিদ্ধান্ত মুক্ত হয়ে ভাবতে বসার ফুরসত পাইনা।
আপনি এগিয়ে যান। আন্তরিকভাবে সবাই অংশগ্রহন করলে একটা পর্যায় আমরা অতিক্রম করতে পারবো।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য আমাকে সাহস জোগাবে সন্দেহ নাই।
অনেক ধন্যবাদ।
জাতেমাতাল বলেছেন:
হুমম, বুঝা যাচ্ছে আধুনিক হওয়ার জন্য নাস্তিক না হলেও চলবে...কিন্ত সমস্যা হচ্ছে প্রগতিশীল(?)দের নিয়ে-- যারা মনে করে ধর্মের উপস্থিতি যাবতীয় সমস্যার উৎস। তাদের প্রতি আপনার কর্তব্য কি?
লেখক বলেছেন: ধর্ম ততদিন থেকে যাবে যতদিন এই দুনিয়াতেই পরলোক প্রতিষ্ঠা করা না যাবে। বিচার ইনসাফ এই দুনিয়াতে নিশ্চিত করা সম্ভব হলে ফরিয়াদ জানানোর দরকার পড়বে না। এই দুনিয়ায় ইনসাফ না পাওয়া থেকেই অপর দুনিয়ায় বিচারের প্রত্যাশা। "মানবাধিকারের" দুনিয়ায় খাবি খাওয়া মানুষকে বিচার ইনসাফ এর সমাজে নিয়ে যাওয়া এর প্রথম কাজ।
কেউ সত্যিই প্রগতিশীল হলে আমার এই কথা বুঝতে না পারার কথা না। প্রগতিশীলেরা যার যার নিজের কর্তব্য বুঝা এবং তার সাধন ও করণ করতে পারলেই এর সমাধান।
সমীরণ বলেছেন:
আমি আসলে এত শত বুঝি না, তবে বিখ্যাত সব লেখক সাহিত্যিকরা ইসলাম ধর্মের কথা উঠলে যখন অসস্ত্বি বোধ করেন- এটা আমাকে বেশ পীড়া দেয়। আমার ঘরে তো সন্তান আছে, তার সামনে আমি ধর্মের কোন শিক্ষা তুলে ধরবো? ইসলাম মানেই বিভেদ সৃষ্টি? ধর্মই সব অশান্তির মুলে?
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: তাঁরা সমাজের বিখ্যাত লেখক সাহিত্যিক হতে পারেন কিন্তু ধর্ম কী তা তাদের ইহজীবনে যে বুঝা সম্ভব হয়নি, অক্ষম তাতো এই ছোট্ট পোষ্ট পড়েই কিছু আন্দাজ করতে পারছেন। "ইসলাম ধর্মের কথা উঠলে যখন অসস্ত্বি বোধ" এর কথা যা আপনি বলেছেন তা এই অজ্ঞতার একটা প্রতিক্রিয়া। চিন্তাশক্তির মুরোদে না কুলালে এদের অস্বস্তি, উপেক্ষা বা গায়ের জোড়ই ভরসা। চাই কী প্রত্যক্ষ বলপ্রয়োগে স্বৈরাচারী ভুমিকায় এদের অবতীর্ণ হতে দেখলে অবাক হবার কিছু নেই।
আপনার সন্তানদের কথা বলে আমাকে বেশ বিপদে ও লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন। বুড়োদের নির্বোধ ছেলেমানুষীপনা দেখতে দেখতে সত্যিই ভুলে গিয়েছিলাম ছোটদের মাসুম নিস্পাপ মনের কথা।
ধর্ম কী - প্রথমত সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। পারলে এরপর সন্তানকে সে ধারণা দেন। যতদিন মনে হয় বুঝতে পারেননি জ্ঞানের গুরু ধরুন, আর ততদিন সাধারণ মানুষের মত মানবিক মনে ঈমানে ধর্মপালন করুন, সন্তানকে শিখান।
আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি, ইসলামের কারণে বিভেদ সৃষ্টি হয় নাই; তবে ইসলামের নামে যা প্রকাশিত হতে দেখছেন এটা আড়াল বা পর্দা মাত্র। এই পর্দার আড়াল দিয়ে পশ্চিমের চিন্তার সঙ্কটটা প্রকাশিত হচ্ছে। সঙ্কটটাই দাঙ্গা বিভেদের আসল কারণ। সব সঙ্কটে একই সঙ্গে সমাধানের ইঙ্গিত থাকে। সমস্যা হলো ঐ ইঙ্গিতটা বুঝতে পারা। আল্লাহ তৌফিক দিলে চিন্তার মুরোদ হলে ঐ ইঙ্গিত ধরতে পারা সম্ভব। প্রাচ্যের সে সম্ভবনা আছে; শুধু নিজের জন্য নয়, শুধু পশ্চিমের জন্য নয় - আগামি সারা দুনিয়ার জন্য। আগেই বলেছি তৌফিক দিলে চিন্তার মুরোদ অর্জন করতে পারবে ও হবে, নিজের কাজ কর্তব্য করণ জানতে ও করতে হবে। বয়ানটা ধর্মতাত্ত্বিক মনে হলেও, ধর্মতাত্ত্বিক বয়ান আমি দেইনি, আমার কাজ নয়।
ধর্মই কী সব অশান্তির মূলে?
যে ধর্ম কী তাই জানল না সে যদি বলে "ধর্মই সব অশান্তির মুলে" - তো এ'থেকে কী বা বুঝার আছে অথবা বুঝব!
মুনশিয়ানা বলেছেন:
আমি যদি ঠিকঠাক আপনার কথা বুঝে থাকি, দর্শনের ইতিহাস হল চিন্তার ইতিহাস, দুটো একই জিনিষ, আর ধর্মতত্ত্বের (ইসলাম, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্ম নয়, ধর্ম একটা মতবাদ সে হিসাবে-অর্থাত Theology) ইতিহাস হয়ে দাড়ালো যাকে বলে প্রাক-দর্শনের ইতিহাস। কারন চিন্তা তখনও নিজকে অর্থাত চিন্তা হিসাবের সে সঠিক না ভিল তা বিচার করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে নাই। ফলে চিন্তার উদ্ভব হয়ে যাচ্ছে তখন গায়েবি-যার উতপত্তির উতস হচ্ছে চিন্তার বাইরে—মানুষের (একমাত্র মানুষই তো চিন্তা করতে পারে) সমাজের বাইরে-ঐশরিক।দর্শনের ইতিহাস শুরু হচ্ছে-যখন থেকে চিন্তা নিজকে বিচার করার জন্য আর গায়েবি বা বাইরের কোন কিছুর ওপর নির্ভর না করা শুরু করলো, নিজেই যখন নিজকে বিচার করার সক্ষমতা অর্জন করলো
তবে কি চিন্তা হিসাবে ধর্মতত্ত্ব নিন্মবর্গের চৈতন্য বলে আপনি মনে করেন?
লেখক বলেছেন: ১. যতদিন পর্যন্ত চিন্তা স্বরূপে হাজির নয়, নিজের স্বরূপ বুঝার মত তৌফিক হয় নাই, চিন্তাশক্তির মুরোদ হয় নাই ফলে কামেলিয়াতও হাসিল করতে পারে নাই, ততদিন গায়েবি উৎসের বরাতে (reference) চিন্তা নিজেকে হাজির করেছে - এটাই ধর্মতত্ত্ব (Theology)। ধর্মতত্ত্ব তখনও চিন্তা হলেও ঐ চিন্তা জানেনা সে চিন্তা - তাই সে চিন্তা হিসাবে না ধর্ম নাম নিয়ে ধর্মতত্ত্ব হিসাবে হাজির। ওটা যে চিন্তা তা এখন দাঁড়িয়ে বলা যাচ্ছে, বুঝা সম্ভব হচ্ছে তখন হয়নি বা যায়নি। এটাই সব ধর্মের ধর্মতত্ত্ব। মানুষের চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায়। এখনও বয়ানে অনেক মানুষ ধর্মতত্ত্বে বয়ান খাড়া করে, ভাবেও - এটাকেই শুরুতে বলেছিলাম, ধর্মকে ভক্তিভরে দেখা যায়" গায়েবি বরাতে। আবার "একটা চিন্তা হিশাবে দেখা যায়", চিন্তা স্বাধীন আগাম মেনে নিয়ে, চিন্তার স্বরূপ জেনে মেনে প্রকাশ অর্থে দর্শনে।
"মোকাবিলা" বইটা সংগ্রহ করে বিশেষত "ধর্ম ও আধুনিকতা" চ্যাপ্টারটা দেখুন।
ধর্ম: গায়েবি উৎসের বরাতে (reference) চিন্তা নিজে হাজির হয়েছে। ধর্মের পর্যালোচনা করে চিন্তার এই খোলস ভেঙ্গে চিন্তাকে বের করে আনতে হবে ও সম্ভব।
ধর্মতত্ত্ব: গায়েবি উৎসের বরাতে (reference) চিন্তা নিজে হাজির হয়েছে এবং তা মেনে নেয়া হয়েছে ফলে চিন্তার স্বাধীন স্বীকৃতি নাই। তাই ধর্মতত্ত্বে ধর্মের পর্যালোচনার কোন সুযোগ নাই।
২. আপনি বলেছেন, "ইসলাম, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্ম নয়, ধর্ম একটা মতবাদ সে হিসাবে-অর্থাৎ Theology এর ইতিহাস হয়ে দাড়ালো যাকে বলে প্রাক-দর্শনের ইতিহাস"।
"ইসলাম, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্ম নয়, ধর্ম একটা মতবাদ" - এভাবে বাক্য গুছানোতে একটা গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছেন। ইসলাম, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্ম নয় কেন? অবশ্যই ধর্ম। চিন্তার অস্পষ্টতা ধর্ম বলার মধ্যে নয়। তাছাড়া, ইসলাম, হিন্দু বা বৌদ্ধ - এগুলোতো ডাকনাম। ঠিক যেমন আপনার ডাকনাম মুনশিয়ানা। অস্পষ্টতা হলো, ইসলাম, হিন্দু বা বৌদ্ধ ইত্যাদি ধর্মগুলোকে ধর্মতাত্ত্বিক চিন্তা দিয়ে বিচারে বয়ান খাড়া করছি, ভাবছি না কী দার্শনিক চিন্তা দিয়ে বিচারে বয়ান খাড়া করছি ভাবছি? লক্ষ্য করবেন, আমার বাক্যে আগাম ধরে নেয়া আছে, চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায়ে ধর্ম হাজির হয়েছে বলে ক) ধর্মকে নাকচ বা বাতিল বলে ফেলে দেওয়া পরামর্শ ইঙ্গিত পাঠককে আমি কোথাও দেইনি। খ) না দেবার কারণ, ওটা আজকের মত তখনও রক্তমাংসের মানুষের চিন্তা কিন্তু প্রকাশ আবির্ভাব ঘটেছে চিন্তার বাইরের বরাতে। ফলে ওকে বাতিল করার দৃষ্টিভঙ্গি ভুল ও অনৈতিহাসিকও বটে। গ) আমি কেবল সাবধান করে বলেছি, চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায়ের চিন্তাগুলোকে ওর ধর্মতাত্ত্বিক খোলস ভাঙ্গার জন্য চিন্তার দার্শনিক জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখতে হবে। ঘ) চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায়ের আবির্ভূত হয়েছে বলে ঐ অজুহাতে চিন্তাগুলোকে পর্যালোচনার (বলা বাহুল্য দার্শনিক পর্যালোচনা বিচার ) কাজের দায় অস্বীকার করতে পারি না, দায় নেই ভেবে বসতে পারি না। ওটা চিন্তার ধর্মতাত্ত্বিক পর্যায় ছিল বলে এখন বুঝে গেছি বা আমি ধর্মতাত্ত্বিকতা পরিহার করার পক্ষে কথা বলছি তাই, ওটা বাতিল, পশ্চাদপদ, আমাদের দায় নেই ইত্যাদি ভাবা বেকুবি।
তাহলে দায়টা কেন? দায়টাই বা কী?
ক. চিন্তা ধর্মতাত্ত্বিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু তা তো আসলে চিন্তাই। ফলে চিন্তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা দাঁড় করানোটা জরুরী। এটা না বুঝলে আমরা সামনে আগাতে পারব না। চিন্তার বিচার, দর্শন ও রাজনীতি দাঁড় করাতে পারব না। আমাদের দেশকালপাত্রে গুণসম্পন্ন হয়ে আমাদের কর্তব্য বিচার নির্ধারণে ভুল করব।
খ. চিন্তার দার্শনিক রাজনৈতিক জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রাক-দর্শন পর্যায়ের চিন্তাগুলোকে বিনির্মাণ ও পুনর্গঠন করতে পারলে চিন্তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা পাবে। এটাই ধর্মের পর্যালোচনা (সমালোচনা বা বাতিল নয়), সামনে আগানোর পথ। চিন্তার শৈশব, বর্তমান ও আগামির ছবিটা স্পষ্ট করার পথ। অগ্রগামি পশ্চিমের ভুলগুলো চিহ্নিত ও শিক্ষা নেবার পথ। এই পথে পশ্চিমের চিন্তা, পদ্ধতি, খামতি ও সঙ্কট আমাদের সামনে উদোম হতে পারে।
৩. "চিন্তা হিসাবে ধর্মতত্ত্ব নিন্মবর্গের চৈতন্য" কী না?
চিন্তার শৈশবকাল কেটেছে ধর্মতত্ত্বে। তবে এটা নিন্মবর্গ উচ্চবর্গের মামলা নয়। আর আপনার "চৈতন্য" শব্দের ব্যবহার দেখে - বস্তু ও চিন্তা অথবা দেহ ও মন (চিন্তা) - বলে দ্বিবিভাজনের পশ্চিমের আদিপাপের ফেরে পড়ার বিপদের আলামত পাচ্ছি। মনে রাখতে হবে, এই রচনায় "চিন্তা" বলে যা কিছুকে আমি ব্যাখ্যা করেছি ওখানে দ্বিবিভাজন ভাব মনে রেখে "চিন্তা" শব্দ ব্যবহার করি নাই। ধরে নিয়েছি, "চিন্তা" বলতে পাঠক পড়বেন, দেশকালপাত্রে রক্তমাংসের মানুষের চিন্তা, চিন্তা দেহ বা বস্তুর বাইরে স্বাধীন অস্তিষ্ত্বে দোকান খুলে বসে নাই। বস্তু ও চৈতন্যে বিভাজনের শেরেকি গুণাহ করা যাবে না। আপাতত এর চেয়ে বেশি এখানে বলতে চাচ্ছি না, অন্য কোথাও বলব।
জাতেমাতাল বলেছেন:
ধর্ম সম্পর্কে চালু একটা বির্তক হচ্ছে-ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়, নিজস্ব চর্চার মধ্যেই তা রাখা উচিত। এটা কিভাবে ব্যাখা করবেন?
লেখক বলেছেন: সব ধর্মেরই একটা প্রকল্প হলো, পারলৌকিক জগৎ নির্মাণ। এই দুনিয়ার সমস্ত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতার কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় একে প্রশমিত করার একটা তাগিদ মানুষের সমাজে তৈরি থাকে। পারলৌকিক জগৎ তৈরি হবার শর্ত এখানেই। জগতে মানুষ যা হতে চায় কিন্তু হতে পারে না অথচ হওয়ার তীব্র আকুতি বোধ করে এটাই পরলোকে পাবে বলে আকাঙ্খা করে। এটাই ধর্মতাত্ত্বিক জগতের মধ্যে বিচরণরত তার পারলৌকিক জীবন। এটা তাঁর বাস্তব জীবনের সাথে রেল লাইনের মত পাশপাশি হেঁটে চলা আর এক জীবন, পারলৌকিক জীবন। বাস্তব ইহলৌকিক এই দুনিয়ার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক জীবনকে না বদলিয়ে ধর্ম পারলৌকিক জীবনের প্রতিশ্রুতি দেয়। সারকথায় এটাই ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্প।
আসলে যেটা দরকার সেটা হলো, ইহলোকেই পরলোক প্রতিষ্ঠা করা। না এ'পর্যন্ত দেখা কমিউনিষ্ট কায়দায় আমরা যা বলতে বা দেখতে অভ্যস্ত কেবল সেই বৈষয়িক ভাত-কাপড়ের মুক্তির কথা আমি বলছি না; একইসাথে সাংস্কৃতিক মানসিক বা স্পিরিচুয়াল মুক্তির কাজটা এই দুনিয়াতেই হতে হবে, এই দুনিয়াতেই পরলোক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
"ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়, নিজস্ব চর্চার মধ্যেই তা রাখা উচিত"- একথার নিট মানেটা হলো আধুনিক রাষ্ট্র কায়েমের আগে ধর্মের যে ধর্মতত্ত্ব-ভিত্তিক পারলৌকিক প্রকল্পটা ছিল তাকেই যেমন ছিল তেমনই রেললাইনের মত পাশাপাশি বয়ে বেড়াতে বলা। এই অর্থে আধুনিক বুর্জোয়া রাষ্ট্র পুরানো দায় বয়ে বেড়ানো ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্রও বটে। ধর্মের আদি=অকৃত্রিম পারলৌকিক প্রকল্পটাকে কোন হাল না করে কান্ধে নিয়ে হাঁটা। বাস্তব দুনিয়ায় পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরির কারণে দুনিয়ার সমস্ত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা - একে বহাল-তবিয়তে রেখে "আমি"র অধিকারের গান শুনানো। এর ফলাফল হলো - বিচ্ছিন্ন বিভক্ত "আমি"গুলো "আমরা" হবার আকুতি মার খেয়ে আর বেশি করে ধর্মতাত্ত্বিক প্রকল্পে মুখগুজে দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে দিশাহারা হয়, মুক্তি আর ঘটে না। পার হয়না, অপর হয়ে বসে থাকে।
আপাতত শেষ করার আগে একটা বিষয় পরিস্কার রাখতে চাই। "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" একথাটাকে রাষ্ট্রের ভিত্তি অর্থে, ধর্ম বর্ণ গোত্র ইত্যাদি নির্বিশেষে এসবের কারণে রাষ্ট্র কোন বৈষম্যমূলক শর্ত না সৃষ্টি করে বসে, এ'থেকে রক্ষাকবচ দরকার- এই ধারণার সাথে শঠতা অথবা বেকুবির দোষে একাকার করে মাখিয়ে ফেলে অনেকে, বিপ্লবী ভাব ধরে। অথচ দুটো আলাদা বিযয়। ফলে রাষ্ট্রের বৈষম্য ঠেকানো রক্ষাকবচের পক্ষে কথা বলছে এই ভান করে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই ধর্মতাত্ত্বিক প্রকল্পটাকে চালিয়ে দেবার পক্ষে ঢেঁড়া পিটিয়ে বিপ্লবীপনা দেখায়। এ'থেকে সাবধান থাকতে হবে।
এই দুনিয়াতেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সমাজ, পরলোক প্রতিষ্ঠার কর্তব্য জারি কীভাবে করা সম্ভব তা নিয়ে ভাবনা চিন্তায় হোমওয়ার্ক না করা থাকলে আধুনিক বুর্জোয়া রাষ্ট্র চিন্তার ব্যর্থতা তো বটেই, সোভিয়েত বা চীন রাষ্ট্রের পরিণতি, বা অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলাই বাহুল্য।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
ধর্মতত্ত্ব নিয়ে আপনার আলোচনায় আমারও উৎসাহ আছে। কিন্ত একটা কথা আমি আগেই পরিস্কার করে নিতে চাই-- আমার আল্লাহ সংক্রান্ত চিন্তার উৎস কিন্ত গায়েবি, অর্থাৎ যে পর্যায়ে চিন্তা নিজকে নিজে যাচাই করতে পারে না, তার সত্যাসত্য নিয়ে-- সোজা কথায় আমার আল্লাহর চিন্তা (Theology) আপনার ভাষায় প্রাক-দর্শনের ইতিহাসের। আর এখানেই আমি বড় শঙ্কায় আছি। আমি আপনার সাথে ( Religion) ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় আগাইতে রাজি আছি, কিন্ত আমি আমার আল্লাহরে মোহব্বত করি, আমি নাস্তিক হইতে পারুম না।
লেখক বলেছেন: ১. ধর্মতত্ত্ব নিয়ে আলোচনায় আমার উৎসাহ নাই।
২. ধর্মতত্ত্বের পাটাতনে দাঁড়িয়ে আমি কোন আলোচনা করিনি, করছি না।
৩. আপনি কী আলোচনায় রাজি আছেন - এটা আপনার ব্যাপার। আমি এই পোষ্টের শুরুতে বলেছিলাম, "ধর্মকে ভক্তিভরে দেখা যায় আবার একটা চিন্তা হিশাবে দেখা যায়। যারা চিন্তা হিসাবে দেখতে মানসিকভাবে তৈরি নন এই পোষ্ট তাদের জন্য নয়"।
৪. আমি কোথাও কাউকে তাঁর আল্লাহরে মোহব্বত করতে নিষেধ করিনি, এমনকি ইঙ্গিতও করিনি।
৫. আমি নাস্তিক নই, নাস্তিকতা আমার পজিশন নয়, কাউকে নাস্তিক হতেও প্ররোচিত করিনি, করার প্রশ্ন আসে না। বরং আমার কথাকে নাস্তিকরা ব্যবহার করতে চাইলে নিজেকে ঠকাবেন বলেছি।
৬. আপনাকে নাস্তিক হতে বলার আমার কোনই কারণ নাই।
আপনার কথা থেকে বুঝলাম সব বৃথা গেছে। সময় ব্যয় করে এত কথা লিখে কোন লাভ হয় নাই। কারণ, আপনি নাস্তিকতা-আস্তিকতার বাজে জগতে দাঁড়িয়েই লেখাটাকে বিচার করেছেন। এখন শেষ মন্তব্য লিখে আমাকেও নাস্তিকতা-আস্তিকতার বাজে কুতর্কে সামিল করতে চাইছেন। আমি সত্যিই বুঝতে অক্ষম কেন আপনার এই আকাঙ্খা হল।
বকুল০৮ বলেছেন:
ধর্মই কী সব অশান্তির মূলে? "যে ধর্ম কী তাই জানল না সে যদি বলে "ধর্মই সব অশান্তির মুলে" - তো এ'থেকে কী বা বুঝার আছে অথবা বুঝব!"
................................................।
আপনার উপরোক্ত উত্তরেই বুঝলাম এই ব্লগে অবশেষে সম্ভবতএকজন সমমনার দেখা মিললো...
ধর্মপাপী ও ধর্মহীনের নষ্ট ভীড়ে এমন একজন আছেন যিনি গড্ডালিকায় ভেসে যান নি।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের (বিশেষ করে আমার )জন্য অতীব প্রয়োজনীয় এমন একটি পোস্ট দেয়ার জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বকুল০৮।
আপনাকে ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল।
আওয়াজ বা উচ্চারণ বলেছেন:
প্রসংশার কোন ভাষা এই মুর্হূতে পাচ্ছি না । দারুন লেখেছেন । অনেক বড় লেখকের লক্ষন নিন্দেহে ।
' চিন্তা নিজেই নিজের চিন্তার একমাত্র বিচারক। চিন্তা যাচাইকর্তা না হলে সত্যাসত্যের নিশ্চয়তা, জ্ঞান, বয়ান কিছুই সম্ভব না। চিন্তার সত্যতা চিন্তার বাইরের বরাতে, গায়েবি থাকতে পারে না।'
'ধর্মকে চিন্তা হিশাবে দেখা মানে চিন্তার দার্শনিক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে দেখা। তবে ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে নয়। কারণ এখন তার দৃষ্টি আর ধর্মতাত্ত্বিক হতে পারে না। নিজের পিছনের চিন্তাকে, সত্য ও জ্ঞানকে চিন্তা কীভাবে প্রকাশিত করেছিল (গায়েবি বরাতে হলেও) তাকে বিচার করে দেখা। এখানে ধর্ম মানে চিন্তা, Religion অর্থে, আর বিচারের কাঠিটা দর্শনের (Philosophy)।'
'ধর্মগ্রন্হ বা ধর্মগুলোকে (Religion) চিন্তা হিসাবে বিবেচনা করে ওর থেকে প্রকাশিত সত্য ও জ্ঞান থেকে উপাদান বের করে আনার দায় কর্তব্য আমাদের শেষ হয়ে যায়নি। চিন্তার বা মানুষের যেসব সমস্যাগুলোকে ধর্ম (Religion) সমাধান করতে গিয়েছিল ধর্মতাত্ত্বিকভাবে, তার অনেক কিছুই এখনও অসমাপ্ত। এর দায় আমাদের আছে। এলক্ষ্যে একটা বিচার পর্যালোচনার বিস্তর কাজ পড়ে আছে আমাদের জন্য। এই পর্যলোচনার কাজকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগোনোর কোন সর্টকার্ট রাস্তা নাই। '
আশা করি নিচের বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন-----
"ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" একথাটাকে রাষ্ট্রের ভিত্তি অর্থে, ধর্ম বর্ণ গোত্র ইত্যাদি নির্বিশেষে এসবের কারণে রাষ্ট্র কোন বৈষম্যমূলক শর্ত না সৃষ্টি করে বসে, এ'থেকে রক্ষাকবচ দরকার- এই ধারণার সাথে শঠতা অথবা বেকুবির দোষে একাকার করে মাখিয়ে ফেলে অনেকে, বিপ্লবী ভাব ধরে। অথচ দুটো আলাদা বিযয়।'
এই বিষয়ে একটু বিস্তারিত বলবেন আশা রাখি । আমাদের তথাকথিত সেক্যুলাররা "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই তাবিছ বেইচা এখনও পর্যন্ত জনগনরে ঘোরের মধ্যে রাখছে ।
ভাল থাকবেন । চিন্তার জয় হবেই ।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রসঙ্গের গুরুত্ত্ব বিবেচনা করে জবাবটা আলাদা পোষ্টে দিলাম। নীচের পোষ্টে দেখুন।
Click This Link
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
নাস্তিকতা-আস্তিকতার জগতকে বাজে বলছেন।ধর্ম কিভাবে নাস্তিকাতা আস্তিকতার বাইরে?
লেখক বলেছেন: ধর্মে আছে বা আছেময়তা অথবা (being or Being) এর ধারণা আর বস্তু আছে বলতে আমরা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ধারণায় যা বুঝি এই দুই "আছে" এক না। বস্তুর আছে দিয়ে নাস্তিকতা এবং আস্তিকতাও - দুটোই, এনিয়ে তর্কটা কুতর্ক। ব্যাপারটা নিউটনিয়ান বিজ্ঞান দিয়ে আছেময়তা-জ্ঞান (Ontology) ব্যাখ্যা করার মত। নিউটনিয়ান গতিসূত্র দিয়ে মানুষের গতি ব্যাখ্যা করা যাবে কী? মানুষ কী বস্তু? এসব প্রশ্ন উঠে আসবে। এজন্য বাজে বলেছি। তাই, নাস্তিকতা - আস্তিকতা, ভাব বা দর্শনের অর্থে ধর্মের বিচার বা আলোচনার বাইরে, আলোচনাটা বেকুবিও বটে। বাইরেই বা কেন (আমি কোথাও বাইরে বলছি কীনা এখনও খুজে দেখা হয়নি), যে আলোচনার বিষয় বুঝে নাই তার সাথে তর্ক করার মত, ফলে এটা কুতর্কে পর্যবসিত। তবে, আপনি চাইলে নাস্তিকতা-আস্তিকতা ব্যাপারটা কী তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আন্দালিব পান্থ বলেছেন:
আপনার সাথে একমত সম্পূর্ণরুপে........ভালো লাগলো.....এই কথাগুলো আমি আমি কাউকে বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু ভাষাগত কারণে ব্যার্থ হচ্ছিলাম.....এখন এই লেখাটা পড়তে বলবো..................আপনি খুব সুন্দরভাবে লেখেন, আমি বিমোহিত....আর মনে হচ্ছে ছাপার অক্ষরে আপনার লেখা আগেও আমি পড়েছি, কিন্তু ধরতে পারছি না.........স্টাইলটা পরিচিত..
লেখক বলেছেন: আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














