আমার প্রিয় পোস্ট
- সকল ব্লগারের ব্লগের লিংক (বিষয় :অনলাইন ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং) - নিলআকাশেরদুঃখ
- ফ্রি ওয়েবসাইট আর অনলাইনে টাকা কামানোর রহস্য - হাসান
- বাঁক বদলের নির্বাচনে একাত্তরের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে- সৈয়দ শামসুল হক - নীলবকুল
- কারা কালী সাধক। (উৎসর্গ: রাঙা মীয়া।) - ইমন জুবায়ের
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - বিবর্তনবাদী
- অরুন্ধতী রায়ের স্বাক্ষাৎকার,ভাষ্কর্য বিবাদ,লালন উৎখাতের মচ্ছব,হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে পিঠা ভাজা,এবং রাজনীতির মারেফত দর্শনের টেলিস্কোপে প্রকৃত শত্রু খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা - মনজুরুল হক
- শ্রীচৈতন্য দেব: যাঁর অন্তরে রাধা, বহিরঙ্গে কৃষ্ণ - ইমন জুবায়ের
- ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল বাংলাদেশী আইন - রাজন সান
- হাদিসের নতুন ভার্সন করতে যাচ্ছে তুরষ্ক - সুশীল সমাজ
ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট আর "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে আধুনিক রাষ্ট্র পক্ষে দাঁড়ানো - একই কথা।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৫
এর আগে "চিন্তার ইতিহাসে: ধর্ম কী" শিরোনামে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। অনেকে দাবি করে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়"। এ'ব্যাপারে আমার মন্তব্য কী - অনেকে জানতে চেয়েছেন। বিষয়টার গুরুত্ত্ব বিবেচনা করে এটাকে আলাদা পোষ্টে দিলাম।
ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্প:
ধর্মের প্রজেক্ট হলো, একটা পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করা। বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না - এই পরিস্হিতিতে এই দুনিয়ায় নয় অন্য এমন এক জগতের ধারণা তৈরি করা যেখানে একজন বিচারক আছেন, বাস্তব দুনিয়ার সব অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতার যিনি বিচার করবেন এবং বেহস্ত - দোজখের মাধ্যমে শাস্তি অথবা সুখের ইনাম ব্যবস্হা করবেন - এই হলো সেই ধর্মতাত্ত্বিক পারলৌকিক প্রজেক্ট। বাস্তব দুনিয়ার অসহায় মানুষের মত ধর্মও ওখানে অসহায়।
এখন এই পরিস্হিতিতে "নাস্তিক-কমিউনিষ্ট" বা নাস্তিক হিসাবে আপনি ধর্মের এই গায়েবিপনা ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা উদোম করে দিয়ে নিজেকে মহা বাহাদুর ভেবে নিজের দায় শেষ ভাবতে পারেন। ধর্মকে পরাস্ত করে খুব একচোট নিয়েছেন বলে মনে প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। এমনকি ধর্মের এই বয়ানকে কাজে লাগিয়ে কোন মানুষ বা শ্রেণী নিজের স্বার্থে কিভাবে একে ব্যবহার করছে তার ভুরিভুরি উদাহরণ তুলে ধরে পারেন। কমিউনিষ্ট বা নাস্তিক হিসাবে এসব মুখোশ উন্মোচনের কর্তব্য শেষ করে একেকজন আরুজ আলী মাতুব্বরও হতে পারেন। এমনকি আপনি নারীবাদী বা নারী হলে ভাবতে পারেন ধর্মের এই বুজরকি মুখোশ উন্মোচনের কর্তব্য না করতে পারলে নারীবাদের আর কাজ কী!
আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি ধর্মকে এই সংকীর্ণ পরিসরে দেখে ধর্ম কোনদিন পরাস্ত । হবে না কখনও। ধর্মের প্রয়োজন তাতে ফুরিয়ে যাবে না, মিটে যাবে না। ধর্ম যদি আপনার যথেচ্ছাচারে বাধা মনে হয় তবে এতে হয়ত আপনার কাজ চলবে। তবু ধর্ম আপনাকে ছাড়বে না।
কেন?
ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানে ধর্মের পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করার কাজটা ফলাফল আনে নাই, উদ্দেশ্য সফল করতে পারে নাই একথা সত্য , উল্টা বুজরুকি অপব্যবহার বা সময়ে ব্যবসা হিসাবে হাজির হয়েছে - এটা জানা জানানোটাই ধর্মের (পশ্চাদপদ !) চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই বলে মনে করা হলেও এটা বড় জোড় ধর্মের বিরুদ্ধে এক ক্ষ্যাপাটে প্রতিক্রিয়া মাত্র, ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানা হয় না তাতে, ধর্মের গুমোরও খুলে না।
তাহলে, ধর্ম মানে এখানে কী বুঝব, ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্পের তাৎপর্য কী - সেদিকে পাঠকদের নজর ফেরাব, দুটো পয়েন্টে:
১. মানুষের যে প্রয়োজনের তাগিদ থেকে ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট সেই প্রয়োজনের তাগিদ কী ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের সাথে সাথে মিটে যায় বা মিথ্যা হয়ে যায়? অথবা ঐ প্রয়োজন তাগিদ কী পূরণ হয়ে মিটে যায়?
মানুষের প্রয়োজনের তাগিদটা কী? তাগিদটা হলো, বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না - এর একটা হাল করা। এটাই সেই বৈষয়িক ভিত্তি যেটার কারণে ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট জেগে উঠতে পাচ্ছে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদটারই আর এক নামপ্রকাশ হলো ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট। ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের সাথে ধর্ম একটা ভুয়া জিনিষ প্রমাণ হতে পারে কিন্তু পরলোকের আকাঙ্খার উৎস, সেই বৈষয়িক শর্ত পরিস্হিতির কোন হেরফের হয়না তাতে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদ মেটার সাথে এর কোন সম্পর্কই নাই।
অতএব দেখা যাচ্ছে, বাস্তব দুনিয়ার দুনিয়াদারিতে যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার সে পায় না, দুঃখ কষ্টের ভিতরে তাঁর দিনানিপাত - এর হাল না হওয়া পর্যন্ত ধর্ম থেকে যাবার শর্ত থেকে যাচ্ছে। "এটা অন্যায় বে-ইনসাফি , আল্লায় এর বিচার করবে" - অসহায় মানুষ এই ফরিয়াদটুকুও যদি জানাতে প্রকাশ করতে না পারত, তাহলে সম্ভবত আত্মহত্যা করা ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় থাকত না। বাস্তব দুনিয়ার দুনিয়াদারিতে দুঃখ কষ্টের অবিচারের ঘটনায় ধর্ম এর কোন সুরাহা করতে পারে না সন্দেহ নাই। কিন্তু ক্ষোভ জ্বালায় সাময়িক উপষমের একটু আরাম দেবার শান্তনা - এখানে ধর্ম এই ভুমিকাটাই পালন করে। আবার, এটা ভাবাও ভুল হবে, এটা যে শান্তনা মাত্র সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারে না। ঠান্ডা মাথায় সে জানে এটা সান্তনা। কিন্তু বিপদের মাথায় এই সান্তনাটুকু তাঁর দরকার, কারণ নইলে অনিরসিত ক্ষোভ জ্বালা সইতে না পেরে সে মারা যাবে অথবা পাগল হতে হবে।
ধর্মের আফিম:
ডাক্তারি অপারেশনে মানুষকে শরীর কাটাছেঁড়া সহ্য করতে হয়। প্যাথিডিন ইনজেকশন দিয়ে ব্যাথা ভুলানোর চেষ্টা ডাক্তারেরা করে, এতে ব্যাথা বেদনা সাময়িক ভুলে যাওয়া যায় হয়ত, কিন্তু বেদনা বেদনাই থেকে যায়। ওষুধের প্রভাব যতই কমে বেদনা ততই প্রবল হয়ে জানান দেয় সে আছে মরে নাই। আগের দিনে যখন আজকের এ্যানেসথিসিয়ার মত সাময়িক চেতনানাশক আবিস্কার দূরে থাক ইনজেকশনের যুগ ছিল না, তখনও কিন্তু শল্য চিকিৎসা, কাটাছেঁড়া হতো। একাজে জনপ্রিয়ভাবে তখন ব্যবহার হত আফিম, আফিম গুলে খাওয়ান হত। প্যাথডিন যেমন চিকিৎসায় বেদনানাশক ওষুধ তেমনি অনেকে বেপথে এটা নেশা করার ড্রাগ হিসাবেও ব্যবহার করে ফেলে। আফিমের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা, একই ঘটনা চালু ছিল। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে আফিম খাওয়ার ঘটনার বর্ণনা অহরহ। আফিম সম্পর্কে এই বিস্তারি দিক আমাদের অনেকের জানা নাই। আমাদের পপুলার ধারণা হলো, আফিম নেশার বস্তু, বেদনানাশক নয়। আপনি যদি নাস্তিক-কমিউনিষ্ট হন তবে মার্কস সাহেব ধর্মকে আফিম বলার মানে আপনার কাছে হবে আফিম মানে নেশা, নেশায় বুঁদ হবার বষ্তু বা উপায়। আর যদি কমিউনিষ্ট বা অ-কমিউনিষ্ট যাই হন তবে নাস্তিক না হন, তবে আফিম মানে বেদনানাশক বুঝবেন। মানুষের কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করলে, অনুভব করতে পারলে, এত মুখোশ উন্মোচনের পরেও ধর্ম কেন টিকে আছে এটা বুঝা কোন সমস্যাই না।
২. ধর্ম অমানবিক সমাজের বিরুদ্ধে মানবিক সমাজের আকুতি:
ধর্ম যে পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করে বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা দুঃখ কষ্টের নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেয় এটা একজামিন করলে দেখা যাবে ওটার সারকথা হলো, একটা মানবিক দুনিয়া পাবার আকুতি। কিন্তু এই মানবিক দুনিয়ার আকুতি পরলোকে কেন? কারণ এই বাস্তব দুনিয়ায় সে পরিস্কার দেখতে পায় এটা অসম্ভব, এটা কায়েমের কোন শর্ত সে দেখে না। মানবিক দুনিয়ার স্বপ্ন যার ভেতর দিয়ে দেখছে আর যে দেখছে উভয়েই পরোক্ষে চাচ্ছে এরকমটাই হোক তাদের এই দুনিয়াদারিতে, কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতায় মনে পড়ছে এটা সম্ভব না।
অতএব মানুষ যদি এই জগতেই অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা দুঃখ কষ্টের দূর করে এক ইনসাফের ন্যয়বিচারের জগত প্রতিষ্ঠা করতে পারে তবেই তার আকাঙ্খার সুরাহা হবে। এই হলো মূল কথা। এর খাস মানে হলো, ধর্মের পরলোকের প্রজেক্টটা ইহলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই বিপ্লবীর কাছে পরলোকের মানে। যতটুকু আমরা সেই মানবিক ইনসাফের ন্যয়বিচারের জগত এই দুনিয়ায় কায়েমের পথে অগ্রসর হব ততটুকু আমরা সত্যিকারের অর্থেই ধর্মের প্রয়োজন থেকে মুক্ত হতে পারব। বা বলা যায় ইহলোকে পরলোক কায়েম হবে। দুনিয়ায় মানুষের ধর্ম কায়েম।
বুঝা যাচ্ছে, একটা লম্বা জার্নি। প্রস্তুতিও। এবং ততদিন ধর্মের প্রয়োজন থেকে যাচ্ছে। না এ'পর্যন্ত দেখা কমিউনিষ্ট কায়দায় আমরা যা বলতে বা দেখতে অভ্যস্ত কেবল সেই বৈষয়িক ভাত-কাপড়ের মুক্তির কথা আমি বলছি না; একইসাথে সাংস্কৃতিক মানসিক বা স্পিরিচুয়াল মুক্তির কাজটা এই দুনিয়াতেই হতে হবে, এই দুনিয়াতেই পরলোক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তাহলে এর আগে অন্তবর্তীকালীন পর্যায়ে আমরা কোন রাষ্ট্র গড়ব না বা সমর্থন করবো না?
অবশ্যই করব। কেবল "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই মিথ্যা বয়ানে ঘোর আপত্তি করব। আধুনিক রাষ্ট্র যদি "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে ঘোষণা করে, একথাটার নীট মানে হোল ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্টটা অক্ষত যেমন ছিল তেমন রেখে দিতে চাওয়া। বাস্তব জীবনের সাথে রেল লাইনের মত পাশপাশি হেঁটে চলা আর এক জীবন, পারলৌকিক জীবন রেখে দেওয়া। বাস্তব জীবনে সমস্ত আকাম-কুকাম, অন্যায় অবিচারের যে সৌধ সে গড়বে - এর গ্লানি থেকে মুক্ত হবার জন্য পারলৌকিক জীবন তার দরকার। পারলৌকিক জীবনকর্ম হিসাবে আলাদাভাবে ওটা করে যাবে। অথবা, তখনও যে মানুষ অন্যায় অবিচারের বলি হতে থাকবে এর বিরুদ্ধে ঐ পারলৌকিক জগতে কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করে ফিরবে। এর আর এক মানে হলো, এগুলো চলতে দিয়ে বহাল-তবিয়তে রেখে "আমি"র অধিকারের গান শুনানো।
তাই, পারলৌকিক জগত তৈরির ধর্মের প্রজেক্ট আর "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে আধুনিক রাষ্ট্র পক্ষে দাঁড়ানো - একই কথা।
এবার সারকথায় বলি,
ক. "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই ধর্মতাত্ত্বিক প্রকল্পটাকে চালিয়ে দেবার পক্ষে ঢেঁড়া পিটানো বিপ্লবীপনা নয়।
খ. "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" একথাটা রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না। এটা ধর্মতাত্ত্বিক ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট।
গ. রাষ্ট্র যেন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি নির্বিশেষে নাগরিকের উপর কোন বৈষম্যমূলক আচরণ বা শর্ত না সৃষ্টি করে এই অর্থে এ'থেকে রক্ষাকবচ দরকারে তা গঠনতন্ত্রে উল্লেখ ও চিন্তায় স্পষ্ট রাখার দরকার অবশ্যই। কিন্তু এর মানে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়"কে ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠন নয়। এই ফারাক বজায় রাখতে হবে, গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
গুরুচরণ ভরসা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্ম পরলোক ও আধুনিক রাষ্ট্র ;
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য। কোন প্রসঙ্গ অপরিস্কার লাগলে বললে আবার চেষ্টা করব লিখতে।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
ভালো একটা তর্ক তুলসেন।
লেখক বলেছেন: তাইলে আর কি যুক্ত হয়ে পড়েন। আখেরাতে ফল দিবে।
হামোম প্রমোদ বলেছেন:
কঠিন বিষয়। লেখাটাকে কঠিন বলছি না। অপেক্ষায় আছি, আগামীতে মন্তব্য প্রতি মন্তব্যে বিষয়টা আরও খোলসা হয়ে আসার আগ পর্যন্ত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কারও জন্য অপেক্ষা কেন? আপনি নিজেই মন্তব্য শুরু -কারি হতে পারেন। কোন প্রশ্ন বা মন্তব্যে প্রচ্ছন্ন থাকা প্রশ্ন হাল্কা বা অগুরুত্ত্বপূর্ণ নয়। বরং উল্টা এর মাধ্যমেই প্রসঙ্গ আরও স্পষ্ট, খোলসা হতে পারে। লেখকও লেখায় কোন দূর্বলতা বা অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলো কাটানোর সুযোগ নিতে পারেন।
নিশ্চয় একমত হবেন,একাডেমিক দ্বিগগজ হওয়ার লোভ এই কষ্টটা করার কোন মানে হয় না।
প্রাচীন বলেছেন:
কঠিন বিষয়
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, এটা একটা সিরিয়াস প্রসঙ্গ।
ধন্যবাদ
আন্দালিব পান্থ বলেছেন:
ধন্যবাদ.....আপনি আবার আমাকে মুগ্ধ করেছেন.......এই কথাটা যদি সবাইকে বুঝানো যেতো.....!!!
লেখক বলেছেন: এখন তো নিজেই বুঝে ফেলেছেন। ফলে বুঝানোর চেষ্টা করতে সমস্যা কী?
সিংহ বলেছেন:
++
লেখক বলেছেন: সিংহ,
অনেক দেরিতে আপনার মনোযোগ পেলাম। তবু, ধন্যবাদ।
শয়তান বলেছেন:
চলমান বিতর্কগুলোর সময় আপনাকে এখন দেখা যায় না কেন ?
লেখক বলেছেন: প্রায় মান খানেক ব্যস্ত ছিলাম ফলে সময় দিতে পারি নাই ঠিকই। কেবল মন্তব্য যোগ করে চলেছি গত দুই মাস। তবে কোন বিশেষ বিতর্কগুলোর কথা বলছেন?
আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক নাকি অন্য কোন কিছু?
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
বাস্তব জীবনে সমস্ত আকাম-কুকাম, অন্যায় অবিচারের যে.......................
এই অংশটায় একটু প্রশ্ন জাগলো ভিতরে (হয়তো আমার অক্ষমতা)।
ধর্মের পারলৌকিক অংশ কি তাহলে একজন কে পরোক্ষভাবে হলেও অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করছে?
কারণ একজনের জানা রয়েছে যে তথাকথিত ঈশ্বর ক্ষমাশীল ও দয়াময়, অতএব অপরাধ করার পর যখন মনে অনুশোচনা আসে তখন তার কাছে খাস মনে ক্ষমা চাইলে তিনি তো ক্ষমা করবেন, নয় কি?
লেখক বলেছেন: একটু মনে হয় পড়তে ভুল হয়েছে। আমি বলেছি,
"বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না" - অর্থাৎ সমাজে যে দুঃখ কষ্ট অবিচার পেয়ে আসছে (sufferer) তাঁর কথা, তাঁর দিক থেকে তোলা কথা।
আমি বলি নাই, "বাস্তব জীবনে সমস্ত আকাম-কুকাম, অন্যায় অবিচারের যে......................." - যে করছে সমাজে যে দুঃখ কষ্ট অবিচার সকলকে দিয়ে আসছে, (perpetrator) তারঁ দিক থেকে বলি নাই।
ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট মূলত (sufferer) এর জন্য হলেও perpetrator) জন্যও বটে। কারণ (perpetrator) কে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ত্বও ধর্ম বোধ করে। তাকে ফেলা দেয়া নয়। ফেলে তাকে কোথায় দেবে। ফেলে দেবার মানেই বা কী? দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিবে? আমাদের সমাজে রাষ্ট্রীয় বিচার ব্যবস্হায় বিচার করে তাকে জেলে রেখে দেবার ব্যবস্হা আছে। অবশ্য কখনও ফাঁসিও দিয়ে দেই। ধর্ম অনুশোচনা, কৃত অপরাধের উপলব্দির উপর জোড় দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনাটাকে ভাল সমাধান মনে করে। কাজেই (perpetrator) এর অনুশোচনা, কৃত অপরাধের উপলব্দির পর আল্লার "ক্ষমাশীল ও দয়াময়" হওয়া অপশন ছাড়া আর পথ কৈ?
যদিও এখানে আপনার, "ধর্মের পারলৌকিক অংশ কি তাহলে একজন কে পরোক্ষভাবে হলেও অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করছে?" -- বলে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থেকে যাচ্ছে।
এগুলো আমার কথা নয়। ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্টকে ব্যাখ্যা করলাম মাত্র। আর আমার মুল পোষ্টের বক্তব্য হলো, ধর্ম ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে আধুনিক রাষ্ট্র খাড়া করার চেষ্টা মানে ধর্মের এই পারলৌকিক প্রজেক্টটাকেই পরোক্ষে রাষ্ট্রের কাঁধে সওয়ার করানো।
ফলে এটা পরিস্কার আমি, ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্টের পক্ষের লোক নই, বরং এর বিরোধী; তা সে আধুনিক রাষ্ট্র পরোক্ষে এই প্রজেক্ট নিজের কাঁধে তোলে নিলেও।
আমি বরং ইহলোকেই পরলোক কায়েম করতে চাই। বিচার, দেনাপাওনা এইধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্টের দুনিয়াতেই মিটিয়ে ফেলতে চাই।
একটা ফুটনোট: ধর্ম যখন পারলৌকিক প্রজেক্ট দেয় তখন ওখানে ধর্ম মানে ধর্মতত্ত্ব।
শয়তান বলেছেন:
আমি অতি আস্তিক পোস্টগুলোর কথা বলছি।
লেখক বলেছেন: অতি আস্তিক বা নাস্তিক নিয়ে আসলে অনেক কথা বলবার আছে। আবার প্রচলিত তর্কগুলো একঘেয়েমি এবং সবচেয়ে বড় কথা আস্তিকদের 'বিশ্বাসের" জায়গায় নাস্তিকরা "বিজ্ঞান" বসিয়ে নিয়ে তর্কগুলো ডালপালা মেলে। অথচ আমি দুটোর কোন জায়গাতেই নই।
ফলে নিজের জায়গা বের করে আনতে, দাড়িয়ে কথা বলতে হলে অনেক কথা বলতে হবে। আমার বলা কথা বুঝতে পাঠককে প্রস্তুত করে নেবার একটা পর্যায় আছে। আমারও সহজ, পাঠকের বোধগম্য করে নিজেকে উপস্হাপনের একটা প্রস্তুতির কাজ রয়ে গেছে। অল্প অল্প করে হলেও সে কাজ করতেই আমার এই নিক।
আর, পাঠকের সাথে আমার এই দূরত্ত্বের সুযোগে মাঝখানে কুড়েমি আছে। আপাতত সেই রাজ করছে।
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
ঠিকই আছে। আমার পড়াতে একটু বিচ্যুতি হয়েছিলো। যার জন্য প্রশ্নটা উঠিয়েছিলাম।ইহলোকে কি পরলোক কখনো কায়েম হবে? যতদিন পর্যন্ত না ব্যক্তিগত চিন্তাধারা গুলো একসাথে মিলে মিশে নতুন চেতনার নদী তৈরী করে?
লেখক বলেছেন: ইহলোকে কি পরলোক কখনো কায়েম হবে? যতদিন পর্যন্ত না ব্যক্তিগত চিন্তাধারা গুলো একসাথে মিলে মিশে নতুন চেতনার নদী তৈরী করে?
পরলোক একটা ভারচুয়াল এক্সপেক্টশন এর নাম। কার বিরুদ্ধে? কার বিরুদ্ধে এই এক্সপেক্টশন বা আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে? এই বাস্তব রক্ত মাংসের দুনিয়ার যত নিপীড়ন, নির্যাতন, অবিচার বে-ইনসাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দুঃখ বেদনা থেকে বের হয়ে কী চাই কেমন সমাজ চাই তারই জন্য হাহাকারের আকাঙ্খা। ফলে বাস্তব রক্ত মাংসের ইহলৌকিক দুনিয়ার মত আকাঙ্খার পরলোকেও আসলে রক্ত মানুষের ইহলৌকিক ধারণা, গায়েবি তো নয়ই।
আপনার বাক্য গঠন ও উপস্হাপন দেখে মনে হচ্ছে আপনার "পরলোক" এখনও অপর বাইরের গায়েবি বিষয় ও ভাবনা হয়ে থেকে যাচ্ছে। ইহলোকে না পাওয়া তবে ইহলোকেই পেতে চাওয়া, আকাঙ্খা করা ফরিয়াদের নাম পরলোক।
সাদা চোখে উপস্হিত ইহলোকে এটা পাবার সম্ভবনা না দেখে আপাতত ওটা অপর ভারচুয়াল দুনিয়ায় পাওয়া যাবে বলে শান্ত্বনা হয়ে বিরাজ করছে।
আমাদের কাজ হবে বাস্তব দুনিয়ায় ওর বাস্তবায়ন করে দেখাতে এক মানবিক সমাজ কায়েমের পক্ষে লড়াই করা।
শয়তান বলেছেন:
@ বৃত্ত বিভিন্ন পোস্টে করা লেখকের মন্তব্য গুলা পইড়েন সময় করে । ভাল লাগবে আশা করি ।
লেখক বলেছেন: হ্যা ভাল ও সঠিক পরামর্শ।
আমার অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ বক্তব্য ও আমার আরও বিস্তারি কথা অন্যের পোষ্টে মন্তব্য আকারে রয়ে গেছে।
ওগুলোতে আমাকে আরও স্পষ্ট ধরা যাবে।
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
আসলে আমি নিজের কথা অন্যকে বোঝাতে সমস্যায় পরি। আমি বলি একভাবে, সেটার মানে দেখা যায় অন্যভাবে অনুদিত হচ্ছে।আমি আপনার লেখার সাথে সহমত জ্ঞাপন করেই আগের কমেন্টটা করেছিলাম।
আমি আসলে বলতে চাচ্ছিলাম যে, এইযে আপনি এভাবে ভাবছেন, অন্য আরেকজনও হয়তো একইভাবে ভাবছে। একই ভাবধারার সবাই যখন মিলিত হয়ে ইনিশিয়েটিভ নেবে তখনই কেবল এই প্রজেক্টটা সাফল্যের মুখ দেখবে।
আমি আরো আগে থেকেই আপনার লেখা পড়ি, কমেন্টে আপনাদের আলোচনা উপভোগ করি। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় আমার যে প্রশ্নগুলো জাগে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়ে গেছে, তাই আর আলোচনায় অংশগ্রহন করা হয় না।
লেখক বলেছেন: এবার কিন্তু আপনি ঠিক যেভাবে বুঝাতে চেয়ে আমি মনে হয় তাই বুঝেছি। আর আমি অনুবাদের সমস্যা করি নাই।
ভাল লাগল আপনার কথা শুনে। দেখা যাক আমাদের "প্রজেক্টটা সাফল্য" আমরা কতটুকু সফল করতে পারি।
ভাল থাকবেন।
ফারুক৫৫ বলেছেন:
"আমি বরং ইহলোকেই পরলোক কায়েম করতে চাই। "মানব সভ্যতার শুরু থেকে কেউ যখন পারলো না , তখন আপনি কিভাবে আশা করেন ইহলোকেই পরলোক কায়েম করা সম্ভব? এটা ইউটোপিয়ান চিন্তা।
সামাজিক অন্যায় , অবিচার ও দারিদ্রতা আমাদের তুলনায় আমেরিকাতে অনেক কম , তবু ওখানে ধর্মের চাহিদা কমেনি। আপনার মন্তব্য ?
লেখক বলেছেন: ভূপর্যটক বলেছেন: আগে যখন হয় নাই বা শুরু থেকে কেউ যখন পারে নাই - তখন এখন করতে চাওয়া বা আশা করা "ইউটোপিয়ান চিন্তা" - এই লজিকে তো দুনিয়ায় নতুন কোন কিছুই করা সম্ভব নয়; আশা করা ইউটোপিয়ান।
এভাবে বললে ইউটোপিয়ান শব্দের অপব্যবহার হবে। আমরাও কিছু বুঝব না।
"সামাজিক অন্যায় , অবিচার ও দারিদ্রতা" কমে গেলে "ধর্মের চাহিদা" কমে যাবে - এমন কোন ধারণা আমি ধারণ করি না আমার লেখাতেই দেই নাই। এরকম কোন corelation টানা, বা corelarary দেখানো আমি করি নাই।
তবে বুঝা যাচ্ছে এমন একটা ধারণা আপনার তৈরি হয়েছে। বা আপনি পেয়েছেন।
লেখার কোন অংশ পড়ে এটা মনে হলো এটা কষ্ট করে একটু খুঁজে বের করে আমাকে বললে আলোচনার পরের ধাপে যাবার চেষ্টা করতে পারি।
আর জীবনকে ইহলোক আর পরলোকে - এভাবে ভাগ করে যাপন করার ভাবনাটাই সবচেয়ে গোড়ার গলদ। পারলৌকিক জগত তৈরির ধর্মের প্রজেক্টে অংশ নেয়ার ধর্মবোধ। এর সাথে ধর্মতত্বের সম্পর্ক থাকতে পারে ধর্মের নাই। এই ভাবনাকে আপাত ধর্মভীরু মনে হলেও অগোচরে এরাই "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে সেকুলার আধুনিকদের বসে জায়গা বাগিয়ে নিয়ে বসবার কুশন হিসাবে কাজ করে।
আমার মন্তব্য আপাতত এটুকু।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ধন্যবাদ।