অনেক ধরেই অফিস ট্রেনিং এ পাঠাবে পাঠাবে করছিলো। শেষে ৮ মার্চ যাব বলে শুনলাম। ঐদিন বিকেল ৫.৩০ এ ভিসাসহ পাসপোর্ট পেলাম। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স এ যাবো। ফ্লাইট রাত ১. ৪০ এ। সাথে আমার বস আর এক সিনিয়র।
রাত ১১ টায় জিয়াতে পৌছে গেলাম।বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে ইমিগ্রেশনে গেলাম । ইমিগ্রেশন আমাকে ২০ মিনিট আটকে রাখলো। কেন যাচ্ছি, ইনভাইটেশন লেটার, হোটেল বুকিং সব কাগজ পত্তর দেখাতে হলো। পাসপোর্টে ডলার এনড্রোস করা নেই কেনো? কত কিছু। যা হোক পার পেলাম।
আগে কোনো দিন বিমানে উঠিনি তাই একটা অন্যরকম ফিলিং ছিলো।
বোয়িং ৩০৩ এয়ার ক্রাফট। বিমানে উঠলাম। সুন্দরী এক ললনা সিট দেখিয়ে দিলো। উইন্ডো সিট ও পেলাম। হাত মুখ মোছার জন্য গরম টিস্যু দিলো। পানি খেতে দিলো। কিছুক্ষন পর পাইলটের এনাউন্সমেন্ট পেলাম সিট বেল্ট বাধতে বলছে। কিভাবে বাধতে আর খুলতে হয় তাও দেখিয়ে দিচ্ছে। একটু পরই বন্ধ হয়ে গেলো বিমানের ভিতরের আলো, চলতে শুরু করলো বিমান। হালকা একটা ঝাকি দিয়ে উঠে গেলো আকাশে। কেমন জানি লাগতে লাগলো। দুরে সরে যাচ্ছে রাতের আলো, রাতের ঢাকা। উপরে উঠে যাচ্ছি আমরা।
কিছুক্ষন পর আলো ফিরে এলো, বিমানের ক্যাপ্টেন এনাউন্সমেন্ট দিলেন সঠিক ভাবে সম্পন্ম হয়েছে বিমানের উড্ডয়ন। সেই ললনা এসে বাদাম খেতে দিলো। মালেশিয়া এয়ারপোর্টে যে এরাইভেল কার্ড লাগবে সেটা দিলো। পেয়ারার জুস দিলো। তরে তার ব্যবহার কেমন জানি রুক্ষ। আমি একটু ঘুমের ভাব নিলাম। ৩০ মিনিট পর খাবার এলো। নন-ভেজিটেরিয়ান বলতেই মাংস ভাত, সালাদ, পুডিং, দই, চকলেট, পানি সহ একটা ট্রে ধরিয়ে দিয়ে গেলো। খেলাম। সালাদটা ভালোই লাগলো। খাওয়া শেষ হতেই কোক দিয়ে গেলো। ওয়াইন নিয়ে আসলো। ওটা আর চেখে দেখলাম না। ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুম ভাংলো সিনিয়রের ডাকে। হালকা সাদা মেঘের মধ্যে লাল আভায় মালয়েশিয়ার আকাশ। বিমান ল্যান্ডিং এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিট বেল্ট বাধলাম। এর মধ্যেই দেখা গেলো পাম বাগান ঘেরা মালয়েশিয়ার মাটি। আস্তে আস্তে স্পস্ট হতে থাকলো তা। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আমরা স্পর্শ করলাম মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


