somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

০৬ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: " কখন আসবে কবি?'

এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,
এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,
এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না।
তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?
তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে
ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হদৃয় মাঠখানি?

জানি, সেদিনের সব স্মৃতি ,মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত
কালো হাত। তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ
কবির বিরুদ্ধে কবি,
মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,
বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,
উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,
মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ ... ।

হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,
শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি
একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে
লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প।
সেই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর।
না পার্ক না ফুলের বাগান, -- এসবের কিছুই ছিল না,
শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত
ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়।
আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল
এই ধু ধু মাঠের সবুজে।

কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,
পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক।
হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে
আর তোমাদের মত শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে।
একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্যে কী ব্যাকুল
প্রতীক্ষা মানুষের: "কখন আসবে কবি?' "কখন আসবে কবি?'

শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।

- নির্মলেন্দু গুণ ( চাষাভুষার কাব্য, ১৯৮১ )

- কৃতজ্ঞতা - !@@!549419
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথা রাখিও বন্ধু

লিখেছেন অরুনি মায়া অনু, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:০৬



"তুমি আবার কবে আসিবে ফিরিয়া?"
- জানিনে আমি, যেদিন কাজ ফুরাইবে সেইদিন হয়ত আসিব, নয়ত আর ফেরা হইবেনা |

"আর আমার ভালবাসার কি পরিণতি হইবে? আমারই বা কি উপায় হইবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সহ অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী এলাকায় পাহাড়ের নীচে জিনুলান গিরি গুহায় দু:সাহসিক এডভেঞ্চার ( Caving adventure )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:৩৫


আপনি কি দু: সাহসিক অভিযান খুঁজছেন - এমন কিছু যেখানে রোমাঞ্চ উপচে পড়বে - হামাগুড়ি ঘুরপথ বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মির্জা ফখরুল কাঁদলেন, বিএনপি'র রাজ কুমারেরা আজ রিকসা চালাচ্ছে!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৭:৩৪



পিন্টু নিজের মামার রিকসা গ্যারেজ থেকে জীবন শুরু করে এমপি হয়েছিলেন বিএনপি'র; মির্জা আব্বাস গাড়ীর গ্যারেজ থেকে বিএনপি'তে গিয়ে পুর্ত ও ভুমি মন্ত্রী হয়েছিলেন, এখন ব্যাংকের মালিক;... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু প্রচীন মুদ্রা ছবি ব্লগ

লিখেছেন মামুন ইসলাম, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:০০

এক সময়ের তামার মুদ্রা

দিল্লির টাকশালে প্রস্তুতকৃত রূপার মুদ্রা

আনুমানিক ১২৪৬ সালে থেকে ১২৬৬ সালের ভিতরে প্রস্ত্তুত করা হয়েছিল নাসিরউদ্দিন মাহমুদের মুদ্রা
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ, নাসিরউদ্দিন ফিরোজ শাহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্রেইজি বিচ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫২


(১)
উৎকণ্ঠিত মুখে ফোনের বাটন গুলো চাপছে জয়া। আসিফের সাথে তার কথা বলা দরকার। ফোন ধরছে না কেন? সর্বনাশ হয়ে যাবে তো!
-এতক্ষণে ফোন ধরলে? তোমার সাথে খুব জরুরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×