somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ববস প্রতিযোগিতায় বাংলা ব্লগ: আলী মাহমেদ শুভর সাক্ষাৎকার ডয়েশে ভেলের ২০১০ ব্লগ প্রতিযোগিতা বাংলাভাষী ব্লগারদের জন্যে এক উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন দুটি কারণে - প্রথমত এই প্রথম বাংলা ব্লগ একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রতিযোগীতায় অন্তর্ভুক্ত হল এবং দ্বিতীয়ত: এর আগে বাংলা ব্লগ নিয়ে বিরাট পরিসরে কোন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় নি।

মোট ১১টি ব্লগ মনোনয়ন পেয়েছে যাদের অনেকগুলোই সামহোয়ারইনের নিয়মিত ব্লগারদের লেখা এবং তাদের আপনারা হয়ত চেনেন। আগামী ১৪ই এপ্রিল ভোটদান শেষ হচ্ছে। কাজেই আপনার প্রিয় ব্লগারটিকে ভোট দিতে ভুলবেন না

আজ আপনার সামনে উপস্থাপন করব আলী মাহমেদ শুভর সাক্ষাৎকার , যিনি পাঠকদের ভোটে এগিয়ে আছেন। প্রচন্ড অভিমানী এই লেখক - যার প্রথম বছর সামহোয়ারইনে লেখালেখির উপর একটি বইও বেড়িয়েছে - অভিমান করে সামহোয়ারইন থেকে তার পোস্টগুলো মুছে দিয়েছেন । তবে তার নিজের ব্লগসাইটে তার লেখাগুলো পাবেন।



এই ইমেইল সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছিল গ্লোবাল ভয়েসেসের জন্যে এবং সেখানে সংক্ষেপিত একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। সামহোয়ারইনের পাঠকদের জন্যে এখানে সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হল:

প্রশ্ন:  আপনি কি আপনার ব্লগকে পরিচয় করিয়ে দেবেন আর আপনি কি ধরনের বিষয়ে লেখেন তা জানাবেন?

উত্তরটা আমার জন্য বড়ো কঠিন। প্রশ্নটা অনেকটা 'আপনি কি ভাবেন' এই ধরনের। ভাবনা কি আর আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, নাকি সব মনে করে বসে থাকা যায়? এক্ষণ মাথায় এলো মাথায় বড়ো খুশকি হয়েছে মাথাটা কামিয়ে ফেলব? এই ভাবনার রেশ পুরোটা শেষ না হতেই এটা নিয়ে ভাবা ভাবি শুরু হয়ে গেল, আচ্ছা, মঙ্গলে পানি পাওয়া গেলে আমার কী!
আমি যেটা করার চেষ্টা করি, আমার বিক্ষিপ্ত ভাবনাগুলো একত্রিত করে লেখার প্রচেষ্টা, সবিরাম। আর এখানে লেখা মানেই তো ব্লগিং।

অবশ্য আমার লেখাগুলো আদৌ প্রচলিত ব্লগিং-এর পর্যায়ে পড়ে কিনা আমি জানি না। এবং প্রচলিত কোন ধারা আমি মেনে চলি না। যেমন আজ মশা নিয়ে লিখলাম- মশার প্রতি মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা, তো কাল মা হাতি - যে হাতিটা আগে মা পরে হাতি, একটু পরই বুশকে নিয়ে - তিনি কেমন করে রক্তের সঙ্গে তেল মিশিয়ে নতুন একটা জ্বালানী আবিষ্কার করার চেষ্টা করছিলেন। পরশু হয়ত কোন একটা ধর্ম নিয়ে, এর পরের দিন হয়ত বা বিজ্ঞান বিষয়ক কোন একটা লেখা। এই জন্যই শুরুতে বলেছিলাম, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা আমার জন্য মুশকিল। বিনীত ভঙ্গিতে বলি, কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কে? এটা যেমন আমি জানি না তেমনি আপনার ব্লগে কি লেখেন এর উত্তরেও সবিনয়ে বলি, আমি জানি না।  

প্রশ্ন: আপনি তো মূলত একজন লেখক। কবে ব্লগিং শুরু করলেন এবং কেন?

আমি নিজেকে লেখক বলে স্বীকার করি না। বলি লেখার রাজমিস্ত্রি। একজন রাজমিস্ত্রি যেমন একের পর এক শব্দের ইট বসিয়ে একটা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তেমনি আমিও একের পর এক শব্দের ইট বসিয়ে একটা কাঠামো গড়ার চেষ্টা করি। কোন পাঠক যখন আমার সেই নিষ্প্রাণ বাড়ি নামের কাঠামোটা ছুঁয়ে দেন তখন সেটা হয়ে উঠে ঝলমলে একটা প্রাসাদ।

আমি লেখালেখির নামে ব্লগিং শুরু করি ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কোন এক দৈনিকে ‘সামহোয়্যার ইন ব্লগ ডট নেট’ এই সাইটটার খোঁজ পাই। ওখানেই শুরু। সে এক সোনালী সময়- এখনও পুরনো বন্ধুদের মিস করি! ওই সাইটটার প্রতি ব্লগিং নিয়ে আমার বই শুভ'র ব্লগিং-এর ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি, আজও করি। যদিও এদের অনেক মতের সঙ্গে আমার মিল নাই। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

এঁরা এক অভাবনীয় কাণ্ড করে ফেলেছিলেন। এঁরাই প্রথমে এই দেশে বাংলায় লেখালেখি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এই দেশের পক্ষ থেকে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমরা যারা দেশে থাকি তাদের চেয়ে এটা অতি জরুরী ছিল প্রবাসীদের জন্য। খানিকটা অক্সিজেন, প্রবাসীরা এখানে তাদের দমবন্ধ শ্বাস ফেলার সুযোগ পেতেন- একমুঠো দেশের সোঁদা মাটির গন্ধ! এর ফল যে কী অকল্পনীয় তার পুরোটা আঁচ করা মুশকিল।

কেন ব্লগিং শুরু করলাম এটা অল্প কথায় বলি, আমি তো আগেও লেখালেখি করতাম। ওখানে ব্লগিং শুরু করার পূর্বেই বিভিন্ন পত্রিকায় লিখেছি, তখন পর্যন্ত আমার বেশ ক-টা বইও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ওখানে এসে লেখার শক্তি দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। ফারাকটা টিভি নাটক এবং মঞ্চনাটকের যে তফাত, এমন! একেবারে লাইভ, জীবন্ত!

একটা লেখা দিয়ে আপনি পার পাবেন না, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভাললাগা-মন্দলাগা জেনে যাবেন, ভুল লিখলে জালে আটকা পড়বেন। প্রাসঙ্গিক বিধায় প্রসঙ্গটা এখানে উল্লেখ করি, 'কনক পুরুষ' নামের আমার একটা উপন্যাস কাজী আনোয়ার হোসেন বের করেছিলেন ৯৫ সালে। লেখাটা যে পাঠকের ভাল লেগেছিল এটা আমি জানতে পারি ২০০৬ সালে ওয়েব সাইটে লেখালেখির কল্যাণে। ভাবা যায়?

অনেকেই এখানে লেখার শক্তিটা বুঝে উঠতে পারতেন না বা বুঝতে চাইতেন না, আমি খানিকটা আঁচ করতে পারতাম।          

প্রশ্ন: ২০০৭ সালে ব্লগিং এর উপর আপনার প্রথম বই শুভর ব্লগিং বের হয়। এটি বাংলা ভাষায় ব্লগিং এর উপর প্রথম বই। এটির পেছনে কোন প্রনোদনা কাজ করছিল?



হ্যাঁ, শুভ'র ব্লগিংকে বলা যেতে ব্লগিং-এর উপর বাংলা ভাষায় প্রথম বই। এটা বের করার পেছনে ঠিক সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছিল না। এক বছর আমি সামহোয়্যারে চুটিয়ে লেখালেখি করেছিলাম। ওখানে বেশ কিছু আমার পছন্দের লেখা ছিল, তাছাড়া অনেকের সঙ্গে অজস্র মন্তব্য চালাচালি হয়েছিল। ইচ্ছা ছিল মন্তব্যসহ পোস্টগুলো নিয়ে আসা কিন্তু তাহলে বইটা গিয়ে দাঁড়াত প্রায় হাজার পৃষ্ঠার, এই বিপুল আকারের বই বের করতে প্রকাশক আগ্রহ বোধ করতেন না। আরও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে কেবল পোস্টগুলো নিয়েই বই বের হল।

প্রশ্ন: আপনি কমিউনিটি প্লাটফর্মের ব্লগিং দিয়ে শুরু করেছিলেন- এখন স্বতন্ত্র সাইটে লিখছেন। এর সুবিধা- অসুবিধা সম্পর্কে আমাদের জানাবেন।

কমিউনিটি ব্লগিং-এর বিপুল শক্তি হচ্ছে এর পাঠক। সামহোয়্যারে বা অন্যত্র লেখার সময় এমনও দাঁড়িয়েছে আমার কিছু পোস্টে হাজারেরও উপর হিট ছাড়িয়ে গেছে, যেটা আমার নিজের সাইটে অকল্পনীয়। কিন্তু কেবল হিটটাই বড়ো কথা না, বড়ো কথা না প্লাসাইলাম, মাইনাইসিলাম, পড়লাম। অনেকের মন্তব্য পড়ে বোঝা যেত আদৌ তিনি লেখাটা পড়েননি!
মোটা দাগের একটা উদাহরণ দেই, কমিউনিটি প্লাটফর্ম টাইপের আরেকটা প্ল্যাটফর্মের প্রসঙ্গ এখানে টেনে আনি, ফেসবুকে আপনি স্ট্যাটাসে লিখলেন, 'জানেন, আমার না এখন চুল কাটাবার পয়সা নাই'। অনেকগুলো মন্তব্য পাবেন, 'লাইক ইট'। তার মানে একটা মানুষের বেদনা আমাদের স্পর্শ করতে পারছে না, আমরা একটা ছকে আটকা পড়ছি। এর কোন মানে হয় না, অর্থহীন!  

কমিউনিটি ব্লগিং-এ যে সমস্যা আমাকে ভারী বিব্রত করত, তা হচ্ছে দলাদলি। বুশ স্টাইল, হয় তুমি আমার দলে নইলে খেলা থেকে বাদ। এতে আমার প্রবল আপত্তি ছিল, এখনো আছে। আসলে এটা হচ্ছে আমাদের দেশের কালচার। এখানে জন্মের পরই আলাদা করে ফেলা হয় একটা প্রাণ পশুর, না মানুষের বাচ্চার? এরপর ছেলে, না মেয়ে? কোন ধর্মের? বাড়ি কোন এলাকায়? পরিশেষে কোন দল করে? কালে কালে এটা আমাদের শেখানো হয়েছে!

আমার ভাবতেও গা গুলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও নাকি দলবাজি করতে হয়, লাল দল, নীল দল, গোলাপী দল, সাদা দলের নামে! শিক্ষক হচ্ছেন পিতাসম, কেন তাঁকে এটা করতে হবে- ছাত্ররা শিখবে কি? এই দেশে আমরা একটা দলছুট মানুষের কথা কেন ভাবতে পারি না?

কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে যিনি লেখালেখি করেন তিনি কিন্তু থাকেন পুরোপুরি অরক্ষিত- আঘাতটা আসতে পারে যে কোন দিক থেকে এটা জেনেশুনেই একজন এখানে লেখালেখি করেন; কিন্তু একটা কথা মনে রাখলে আমাদের সবার জন্যই মঙ্গল, যুদ্ধেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়, একজন বেশ্যারও কিছু অধিকার থাকে। কমিউনিটি প্লাটফর্মে আমাদের সহনশীলতারও বড়ো অভাব, আমরা একে অন্যকে সহ্য করতে পারি না।
আইনস্টাইনের মতবাদের বিরুদ্ধে যখন একশত বিজ্ঞানী বিবৃতি দিলেন তখন আইনস্টাইন ছোট্ট করে বললেন, 'এতো মানুষের কি প্রয়োজন, একজন আমাকে ভুলটা ধরিয়ে দিক না, তাহলেই তো হয়'!

কমিউনিটি ব্লগিং-এ কেউ কোথাও কেউ ভুল করলে তার ভুল ধরিয়ে দিলেই চলে, ব্যাক্তিগত আক্রমণ করার প্রয়োজন পড়ে না। আমরা কেন ভুলে যাই কলমের উত্তর আমরা দেব কলম দিয়ে, জিহ্বা দিয়ে না; কারও বাপান্ত করে, মাকে টেনে এনে না! কেন আমরা ভুলে যাই ভলতেয়ারের সেই কথা, ‘আমি তোমার সাথে একমত না কিন্তু তোমার মত প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু লড়ব’।

আর এটাই বা কেমন অনাচার? ওখানে লিখে জনে জনে ব্যাখ্যা দাও, কেন আপনি এমনটা লিখলেন, কেন অমনটা লিখলেন না? লিখে কেন উত্তর দেয়ার জন্য ২৪ ঘন্টা অনলাইনে বসে থাকলেন না, আপনি কি সিআইএর এজেন্ট, নাকি মোসাদ?

আমি এটা বলতে চাচ্ছি না যে, কোন পাঠক ব্যাখ্যা চাইতে পারবেন না। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের আছে পাঠকদের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, একেকজন পাঠক মানে একেকটা চলমান বুদ্ধির ক্ষুর- এরা হয়ত লিখতে আলস্য বোধ করেন, বা গুছিয়ে তাঁদের লেখা হয়ে উঠে না।

অনলাইনে লেখার সময় আমি ভয়ে কাঠ হয়ে থাকি, এই রে কোথাও ভুল লিখে বসলাম না তো আবার- প্রচুর পড়তে হয়, হাতের নাগালে তথ্য-উপাত্ত রাখতে হয়। এখানকার পাঠক কিন্তু আমার উপন্যাসের টিনএজ পাঠক না, দুর্ধর্ষ সব মানুষ, যারা প্রবাসে গেছেন উচ্চশিক্ষার জন্য। এঁদের রয়েছে চিন্তা করার বিপুল ক্ষমতা!
      
অন্যদের কথা জানি না কিন্তু এই সব আমার উপর চাপ পড়ত। তারচেয়ে আমার নিজের সাইটে যখন লিখি, লিখে বড়ো আরাম পাই। বাড়তি চাপ নাই। যে অল্প পাঠক সাইটটা ভিজিট করেন তারা মুলত: পড়ার জন্যই আসেন। তাঁদের সঙ্গে আমি আমার ভাবনা শেয়ার করতে পারি, 'বাঁশে ভিউ মিরর ' লাগাবার আইডিয়া। আমার অদেখা স্বপ্ন , আমার স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে দিতে পারি, আমার ভুলগুলো শোধরাতে পারি। আমার লুকানো যন্ত্রণা প্রশমিত হওয়ার একটা সুযোগ হয়, আটকে থাকা শ্বাস ছাড়তে পারি। কারণ আমি যখন লিখতে বসি, এই গ্রহের কোন জাগতিক সমস্যা আমাকে কাবু করতে পারে না, আমি ভুলে যাই আগামীকাল ভোরটা আমি দেখতে পাব কি না...।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ব্লগিং এর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আপনার ধারণা জানাবেন।

আমি প্রচন্ড মুগ্ধ! এক কথায় দুর্ধর্ষ, এখানে ব্লগিং-এর নামে যেসব লেখালেখি হয়, অনেকের লেখা পড়ে, তাঁদের ভাবনার প্রসারতা দেখে আমি থ হয়ে যাই। পারলে এদের হাত সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিতাম। আমাদের দেশের যেসব বিখ্যাত লেখকগণ রয়েছেন এঁরা কল্পনাও করতে পারবেন না, এখানে এমন অনেকে লেখালেখি করেন তাদের লেখার-ভাবনার কী গভীরতা!

বিব্রতকর উদাহরণ, একজন অতি জনপ্রিয় লেখক, নাম বলে নির্লজ্জ মানুষটাকে লজ্জা দেই না। চালবাজ এই মানুষটার মিডিয়া-লেখা সংক্রান্ত প্রায় সব জগতে তার পদচারণা, পত্রিকায় চাকরির সুবাদে হাতের সবগুলো আঙ্গুল ঘিয়ে ডুবিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু ওয়েব সাইটে চিত্রটা ভিন্ন। তাঁর একটা ওয়েব সাইট আছে। সেখানে তাঁর নিজের সম্বন্ধে হা বিতং করে লম্বা লম্বা কাহিনী লেখা।  একবার পত্রিকায় এই সাইটটা নিয়ে কী উচ্ছাস! কেবল উল্লাস দেখলাম না এলেক্সার, এলেক্সা এই সাইটটাকে কাউন্ট করতেও নারাজ! আমি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি ওই মানুষটা যদি কোন কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে আসেন দুর্ধর্ষ সব ব্লগার নামের লেখকের হাতে নাকাল হবেন, টিকিটিরও দেখা মিলবে না।

প্রশ্ন: যে দেশে ৪০% লোক অশিক্ষিত সে দেশের জন্যে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাক স্বাধীনতাকে আপনি কিভাবে দেখেন এবং ব্লগিং কি কোন ভুমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?    

এই প্রশ্নের উত্তর চট করে দেয়াটা মুশকিল। যদি বলা হয় হ্যাঁ তাহলে অতিশয়োক্তি হবে। যেখানে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ অশিক্ষিত, এখানে খুব অল্প মানুষই নেট ব্যবহার করেন। তাছাড়া যারা দেশ চালান তাঁরাই বা কতটুকু শিক্ষিত? নেটে ঘাঁটাঘাঁটি করে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করা দূরের কথা, ক-জন বা কম্পিউটার চালাতে জানেন এটা একটা গবেষণার বিষয়! আমাদের তো আর একজন মাহাথির মোহাম্মদ নাই যিনি অফিসে ঢুকেই প্রয়োজনীয় মেইলগুলো পড়বেন, উত্তর দেবেন, দরকারী তথ্য-উপাত্ত নেট থেকে নিমিষেই বের করে ফেলবেন।

যেমন ধরা যাক, আমি একটা লেখা দিয়েছিলাম, 'কেন আমি এই পাপের বোঝা টানব '? বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় ঋণ আনুমানিক ১০ হাজার টাকা। আমি কেন এই আবর্জনার ভার নিয়ে মারা যাব? টাকাটা দিয়ে ঋণমুক্ত হতে চাই। পদ্ধতিটা সিম্পল, কোন একটা ব্যাংকে এই টাকাটা জমা করলে আমাকে ‘জাতীয় ঋণমুক্ত ব্যক্তি’ এই মর্মে একটা সনদ প্রদান করা হবে। লোকজনকেও এটার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। আমার ধারণা, অনেকেই হয়ত আগ্রহী হবেন। 

এখন কথা হচ্ছে আমাদের দেশ যারা চালাচ্ছেন তাঁদের এইসব পড়ার সময়, যোগ্যতা কই? এমতাবস্থায় ব্লগিং করে চট করে কিছু করে ফেলা যাবে এটা বলা মুশকিল। তবে ভূমিকা রাখা যেতে পারে পরোক্ষভাবে।
অন্য একটা উদাহরণ, যেমন ধরুন, অশিক্ষিতের কথা বলা হচ্ছে। কে যে শিক্ষিত কে অশিক্ষিত এটা প্রায়ই আমি গুলিয়ে ফেলি। কয়েক লক্ষ সার্কুলেশনের জাতীয় দৈনিকগুলো আমাদের ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করে, রাইট? ‘কালের কণ্ঠ’ নামের এমন একটা দৈনিক যখন ‘প্রথম আলো’র মালিকের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ঘটা করে প্রথম পাতায় ছাপিয়ে দেয় তখন আমি কাকে শিক্ষিত বলব, কাকে অশিক্ষিত? কিন্তু এখানেই আসছে ব্লগিং-এর শক্তির কথা। এই পত্রিকার বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না কিন্তু এদের এই সন্ত্রাসের কথা (Click This Link) ব্লগিং-এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।        

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে ও মানুষের অশিক্ষা ও দরিদ্রতার সুযোগে জনগণকে দাবিয়ে রাখতে পারবে শিক্ষিত ও ক্ষমতাশালীরা?

না বলতে পারলে সুখী হতাম। বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষিত তাও আবার ক্ষমতাশালী, এদের রোখার শক্তি কই!

প্রশ্ন: আপনার কেমন লাগছে এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মনোনীত হতে পেরে?

অবশ্যই এটা অতি আনন্দের। তবে আমি পেছনের কাতারের মানুষ। হুট করে সামনে চলে এলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি।

প্রশ্ন: বিশ্বের পাঠকদের জন্যে বাংলাদেশের ব্লগ সম্পর্কে কিছু বলুন।

এটা আমি একটু ঘুরিয়ে বলব। কোন দেশ কতটা সভ্য এটা তার স্বর্ণের মজুত বা মিসাইলের সংখ্যা দিয়ে হয় না। আমি মনে করি ওই দেশের মানুষদের ভাবনা, যার আরেক নাম ব্লগিং নামের লেখালেখি দিয়ে হয়। অস্ট্রেলিয়ার মত যে দেশ সাড়ে ছয় লক্ষ উট গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় (Click This Link) সেই দেশকে আর যাই হোক সভ্য বলতে আমি নারাজ। আজ এরা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কাল ১০ লক্ষ মানুষকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। এটা একটা চেইন- একটার পেছনে অন্য একটা আংটা লাগানো।

এখন আমরা কোন দেশের লোকজনের ভাবনা জানব কেমন করে? পত্রিকা-মিডিয়ার মাধ্যমে, উঁহু। ওখানে আমরা কেবল জানতে পারব মেদবহুল ভাবনা। নির্মেদ ভাবনা জানার জন্য ব্লগিং নামের শক্তিশালী এই মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোন উপায় নাই। দেশটা বাংলাদেশ নাকি কঙ্গো সেটা দেখার বিষয় না, দেখার বিষয় হচ্ছে ওখানকার মানুষদের ভাব প্রকাশ-ব্লগিং।

যেমন আমরা এই গ্রহের সাহিত্য বলতে বুঝি ইংরেজি সাহিত্য প্রকারান্তরে আমেরিকা-বৃটেনের সাহিত্য। মুভি বলতে বুঝি আমেরিকার মুভি। ব্লগিংটাও যেন সে পর্যায়ে না যায় সেজন্য আমাদের যেটা অতি সত্বর করা প্রয়োজন পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার ব্লগারদের লেখা অন্য ভাষায় অনুবাদ করার ব্যবস্থা করা।  

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ব্লগিং এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমার মতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোন একটা উপায়ে ব্লগিং থেকে আর্থিক সাপোর্টের ব্যবস্থার কিছু উপায় বের করার চেষ্টা করা। অন্তত এটা নিয়ে ভাবতে দোষ কী! হয়ত এটা আমরা শুরু করব, পরবর্তী প্রজন্ম এর ফলভোগ করবে। একসময় ব্লগিং নামের দুর্ধর্ষ লেখালেখি আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

ব্লগিং-এ আমরা কি করি, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াই, এভাবে কত দিন? কিন্তু এমনটা যদি হয় একজন ব্লগারের বেঁচে থাকার জন্য অফিস নামের একটা কারাগারে আটকে থেকে মেধা নষ্ট করতে হবে না, তাহলে কী চমৎকারই না হয়! তার কাজ হবে কেবল ব্লগিং করা, রাজ্যের ভাবনা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দেয়া। এমনিতে একজন লেখকের চেয়ে একজন ব্লগারের উপর চাপ পড়ে বেশি। তাকে অনবরত লিখে যেতে হয়, মাথায় কেবল ঘুরপাক খায় অজস্র ভাবনা-আইডিয়া। অফিস নামের কারাগারে আটকে থাকা বা জীবনযুদ্ধে লড়তে থাকা একজন মানুষ এক সময় হাল ছেড়ে দেবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নাই।

প্রশ্ন: আপনার ৬ বছরের ছেলেও ব্লগিং শুরু করেছে। আপনার কি অনুভূতি তা নিয়ে?

অনুভূতিটা অন্য রকম। আমি আমার সন্তানকে ব্লগিং করা দেখিয়ে দিয়েছি। আর সে আমাকে দেখিয়েছে এটা, সে ৬ বছর বয়সে ব্লগিং করে আর আমি ২৭ বছর বয়সে প্রথম কম্পিউটার ছুঁয়ে দেখেছিলাম!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29133225 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29133225 2010-04-12 03:18:11
শারজাহ পুলিশ এবার লুঙ্গি ধরে দিল টান "মানুষকে তার কাজ দিয়ে বিবেচনা কর তার পোষাক দিয়ে নয়" - আল কোরান

ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রমিকদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ঋণ আছে। তাদের যতসব উন্নয়ন কর্মসূচী, পরিচ্ছন্নতার কাজ ইত্যাদি সবকিছুতে এই সব শ্রমিকদের ঘাম ও রক্ত জড়িয়ে আছে। বিনিময়ে তাদের ন্যায্য মজুরী তো দেয়া হয়ই না বরঞ্চ তাদের প্রতিনিয়ত নীচু করে দেখা হয় এবং নিত্য নতুন সমস্যা সৃষ্টি করা হয়।

এক সাম্প্রতিক উদাহরণ সম্পর্কে পড়লে আপনিও চমকে যাবেন। শারজাহ পুলিশ জনসমক্ষে লুঙ্গি পড়া নিষিদ্ধ করেছে



আচ্ছা আপনারাই বলুন উপরের পোশাকগুলির মধ্যে কোনটি শিষ্টাচারবিরুদ্ধ এবং অশোভন? হ্যা লুঙ্গি হতে পারে গরীবদের পোশাক (আরবদের দৃষ্টিতে) এবং একে অনানুষ্ঠানিক পোশাক বলা যেতে পারে। এমনতো বাংলাদেশেও আছে লুঙ্গি পড়ে কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেয়া হয় না। কিন্তু তাই বলে লুঙ্গিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা?

শারজাহ পুলিশ কি টাকা দেবে এইসব গরীব শ্রমিককে তাদের দামী থোব বা কান্দুরা পোষাক কিনে পড়বার জন্যে?

কিছুই না - এগুলো হচ্ছে গরীব মানুষের প্রতি বর্ণবাদের আরেক রুপ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29130785 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29130785 2010-04-07 21:34:52
এইসব পত্রিকাকে কিভাবে বিশ্বাস করবেন?
এই রিপোর্টে বয়ান করা হয়েছে থার্টি ফার্স্ট নাইটে তরুণ তরুণীরা কিভাবে মদ্যপান করে উল্লাস করেছে তার বর্ণনা। দুদিন আগে তারা ফু ওয়াং ক্লাব যুবসমাজকে কিভাবে বিপদগামী করেছে তা নিয়ে একটি রিপোর্ট লিখেছে। রিপোর্টটি পড়লেই বুঝবেন যে এতে নিষ্ঠাবান সাংবাদিকতার নজীর নেই অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয় নি। মনে হচ্ছে কোন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যে এই রিপোর্ট।

উপরের দুটি রিপোর্ট পড়লে আমাদের মনে নিশ্চয়ই বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে যে ঢাকার তরুণ-তরুণীরা রসাতলে যাচ্ছে। গ্রামের লোকজন এগুলো পড়ে ভাববে শহুরে যুবারা পাড় মাতাল।

কিন্তু দাঁড়ান, আজকাল সেই দিন নাই যে মিডিয়া যা বলবে জনগণ তাই চোখ বন্ধ করে শুনবে। ব্লগার আকাশলাল রায় এর চোখ উপরের ছবিটির দিকে পরতেই তিনি জেনে যান যে এই ছবিটি তিনি ফেসবুকে দেখেছেন। হ্যা বিয়ার হাতে এই তরুণীর ছবিটি ডিসেম্বরের ২ তারিখে ফেসবুকের ঢাকা পার্টি এন্ড নাইট লাইফ গ্রুপে যোগ করা হয়েছিল। আপনারা মিলিয়ে দেখুন।

এখন যুগান্তর দুটি অপরাধ করেছে। প্রথমে তারা ফেসবুকের ছবিটি চুরি করেছে এবং এটিকে থার্টি ফার্স্ট নাইটের বলে চালিয়েছে। দ্বিতীয়ত: আকাশলাল যুগান্তরে ফোন করে জিজ্ঞেস করলে বড় গলা করে তারা বলে যে ছবিটি নাকি থার্টি ফার্স্ট নাইটে তারাই তুলেছে এবং তারা কোন চৌর্যবৃত্তি করে নি।

এখন আপনারাই বলেন এইসব পত্রিকার কোন রিপোর্ট কি বিশ্বাস করা যায়? এরা যাতে মানুষকে আর না ঠকাতে পারে তার জন্যে কোন ব্যবস্থা কি নেয়া দরকার নয়?

সবার জন্যে রইল নববর্ষের শুভেচ্ছা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29070162 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29070162 2010-01-02 02:46:37
পাট রপ্তানী বন্ধ করা হল কেন? এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাট রপ্তানী নিষিদ্ধ করেন। রপ্তানী প্রক্রিয়ায় আছে এমন চালানকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে বাদ রাখা হয়েছে । সরকার বলেছে দেশীয় ইন্ডাস্ট্রীর বাড়ন্ত চাহিদা মেটাতে এটি করা হয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা

স্থানীয় পাট দ্রব্য প্রস্তুতকারীরা এর পেছনে তদবির করেছে দেখা যাচ্ছে।

এর ফলে ৩৫ কোটি ডলারের রপ্তানী আয় বন্ধ হয়ে যাবে। উৎপাদন না বাড়িয়ে হঠাৎ করে রপ্তানি বন্ধ করার কারণ কি? একদা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান যোগানদাতা খাতের এই পরিণতির জন্যে দায়ী কে? কার স্বার্থে এমন করা হল? সরকারের কাছে জবাব চাই।

বিস্তারিত এখানেএখানে

এ নিয়ে আরও তথ্য কারো জানা থাকলে জানাবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29067851 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29067851 2009-12-29 19:58:46
বাংলাদেশের বাক স্বাধীনতায় চীনের হস্তক্ষেপ

দৃক বাংলাদেশ এবং স্টুডেন্টস ফর এ ফ্রি তিবেত সংস্থার বাংলাদেশ শাখা সম্প্রতি তিব্বতের উপর এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এই প্রদর্শনীটি গতকাল শুরু হয়ে নভেম্বরের ৭ তারিখ পর্যন্ত হবার কথা ছিল।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার চীন দুতাবাসের সাংস্কৃতিক এটাশে এবং কাউন্সেলর দৃক গ্যালারীতে এসে এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড: শহীদুল আলমের সাথে দেখা করেন এবং প্রদর্শনীটি বন্ধ করতে বলেন। তারা কিছু উপঢৌকনও নিয়ে এসেছিলেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে তিব্বৎ চীনের অন্তর্গত এবং এই প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। ড: আলম বলেন যে দৃক একটি স্বাধীন গ্যালারী এবং চীনা দুতাবাস চাইলে তাদের বক্তব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনে পেশ করতে পারেন। এমনকি চীন চাইলে তাদের প্রদর্শনীও এখানে করতে পারবে। তারা গ্যালারী দেখে প্রস্থান করে।

কিন্তু এরপর নানা হুমকি আসতে থাকে দৃক এর উপর। ওদিকে স্টুডেন্টস ফর এ ফ্রি তিবেত এর সদস্যদের বাড়ীর আসে পাশে গোয়েন্দা হানা দেয়া শুরু করে। ফোন আসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে: "চায়না আমাদের বন্ধু। দালাই লামার ছবি দেখিও না।" "না না, আমরা সেন্সরশীপের কথা বলছি না। তবে জানেনই তো..." এর পর এক নামকরা তারকার কাছ থেকে ফোন আসে। জাসদের এমপি হাসানুল হক ইনু ফোন করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন বাংলাদেশের এক চীন নীতির কথা এবং এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের জনগণের জন্যে কি প্রভাব বয়ে আনবে তা। চারিদিক থেকেই চাপ আসতে থাকে এবং শেষে তা পুলিশী ধমকিতে পরিণত হয়।

এসবির লোক আসে শহিদুল আলমের সাথে দেখা করতে। তারা উদ্যোক্তাদের সবার পরিচয় জানতে চান। শহিদুল অফিসিয়াল অর্ডারের কথা জানতে চান। উত্তর আসে "আপনি খামাখা জটিল করে ফেলছেন।" এবং তাকে শুনিয়েই উপরওয়ালার সাথে কথাবার্তা চলতে থাকে। " উনি সহযোগিতা করছেন না.. আমরা বুঝিয়েছি ওনাকে ব্যাপারটা.. না না এখনও কিছু করি নি। এর পরে তারা আবার আসে এবং ধমক দেয় সরকারকে সহযোগিতা না করলে ভবিষ্যতে দৃকের কপালে খারাবি আছে।

গতকাল (পহেলা নভেম্বর) বিকেলে পুলিশের ফোন আসে, "প্রদর্শনী বন্ধ করুণ না হলে ফোর্স পাঠাবো।" ফোর্স পাঠাতে হল তাদের এবং তালা মেরে দেয়া হলো প্রদর্শনী হল। কাউকে ঢুকতে দেয়া হলো না দৃকে। প্রধান অতিথি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ (ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল) দু ঘন্টা পর প্রতীকী উদ্বোধন করলেন। তখনও প্রদর্শনী বন্ধ ছিল - পুলিশ নাকি চাবি হারিয়ে ফেলেছে।

চীন সরকারের অন্যান্য দেশের উপর খবরদারীর এই লক্ষণ খুবই খারাপ। আর তাদের এই আন্তর্জাতিক সেন্সরশীপ অবশ্য বাংলাদেশ, নেপালের মত দুর্বল দেশের উপর শুধু ভালভাবে প্রয়োগ করতে পারে।

দৃক নিউজ সাইটটি এখন একটি রিপোর্টেড অ্যাটাক সাইট । এই কাজটি চীনের নেট সৈনিকদেরই কাজ হতে পারে। তাদের সেন্সরশীপের পরিধি তারা যত দুর সম্ভব বাড়াতে চেষ্টা করে এভাবে - যেমন তারা গত জুলাইতে মেলবোর্ণ ফিল্ম ফেস্টিভালে উইঘুর দের নিয়ে রাবেয়া কাদিরের চলচ্চিত্রটি দেখানো রোধ করতে ফেস্টিভ্যালের সাইট হ্যাক করে চাইনিজ পতাকা ঝুলিয়ে দেয়।

এর কারণ আমাদের রাজনীতিবিদগন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্যে চীনের পা চাটে। আমরা কোন দেশে বাস করছি? চীন না বাংলাদেশ? একটি প্রদর্শনী করার জন্যে কেন চীনের অনুমতি নেয়া লাগবে?

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীনের অবস্থান সবাই জানে। তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে। নব্বুই এর দশক পর্যন্ত বাংলাদেশীরা তাইওয়ান যেতে পারত না। কারণ পাসপোর্টে লেখা থাকতে ইজরায়েল ও তাইওয়ান ব্যাতিত সকল দেশে ভ্রমণ করা যাবে। এর পেছনেও ছিল চীন তোষণ নীতি। অথচ তাইওয়ানের সাথে ব্যবসা কি থেমে থেকেছে? বর্তমানে কি চীনের চাপে আবার বাংলাদেশ এরূপ ব্যান আরোপ করার ক্ষমতা রাখে (যখন কম্পিউটারের অনেক যন্ত্রাংশ আসে তাইওয়ান থেকে)?

চীন আমাদের তাদের ঠুনকো সস্তা জিনিষ বিক্রি করা ছাড়া কি দেয়? তারা সেতু নির্মাণ ইত্যাদিতে যেসব সহায়তা দেয় তা উসুল করে নেয় নিজস্ব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও নিজস্ব লোকবল লাগিয়ে। কেন কারণ ছাড়া চীনকে তোষণ করতে হবে?

চীন একটি একনায়কতন্ত্র আর বাংলাদেশ একটি গণতন্ত্র। এদেশে চীনের নীতি ফলানো গণতন্ত্রের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। কি হতো প্রদর্শনীটি হতে দিলে? কয়েকশ লোক হয়ত তা দেখত, ব্যাস। এখন এটি বন্ধ করে বাংলাদেশ যে পরিমাণ প্রচার পেল তাতে বরঞ্চ দেশের ইমেজের ক্ষতি হল। আমাদের তোষণ ও মোসাহেবী স্বভাব যে কবে পাল্টাবে এবং আমরা ভিক্ষার থালা ফেলে দিয়ে মেরুদন্ড সোজা করে কোনদিন বাঁচতে পারব সে বলা মুস্কিল।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের সাংবিধানিক অধিকার - বাক স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখা - চীনের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে জিইয়ে রাখার জন্যে তাদের মদদ করা নয়। এই ব্যাপারটি তারা যত দ্রুত অনুধাবন করবেন ততই মঙ্গল।

এ নিয়ে আরও পড়ুন:

* শহিদুল আলমের ব্লগটুইটার

* গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইন

* মাশুকুর রহমান

* সাদা কালো

* রব গডেন

* মিডিয়া হেল্পিং মিডিয়া ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29036240 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/29036240 2009-11-02 10:01:47
বাহরাইন ও ওমানে বিদেশী শ্রমিকদের জীবন বিশাল এক অংশ হচ্ছে মূলত: দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত অভিবাসী শ্রমিকরা। এই পোস্টে আমরা তেমন দুই ব্যক্তির কথা শুনব যারা দক্ষিন এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করার জন্য এসেছেন।

মোহাম্মদ ইকবাল হচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার একজন নাগরিক যিনি বাহরাইনে থাকেন। তিনি বাংলাদেশী একজন শ্রমিকের গল্প বলেছেন (মূল ইংরেজী থেকে অনুবাদ):

আমি সম্প্রতি একজন বাঙ্গালীকে (বাংলাদেশী) দেখেছি যে একটা হোটেলে সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। সে আসলে হোটেলের পাবলিক এলাকাতে কাজ করে, যেমন কাচের জানালা পরিষ্কার করা, বা লবির মেঝে পরিষ্কার করা। সে অতিথি কক্ষের দায়িত্বে নেই বা কামরা ঠিক করে না। এখানে কোন বিষয়টি ঠিক না? তাকে ১৫০০ বাহরাইনি ডিনার (৩৯৮০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ টাকা) ব্যয় করতে হয়েছে বাহরাইনে কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য। তার ২ বছর কাজ করার অনুমতি আছে। প্রতিদিন ১০ বাহরাইনি ডিনার (২৬ আমেরিকান ডলার) বেতন দেয়া হয় তাকে, তার মানে সে প্রতিমাসে ২৪০ বাহরাইনি ডিনার (৬৩৬ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ৪৫ হাজার টাকা) আয় করে। এটা কি বেশ ভালো বেতন? দাড়ান...! তাকে তার ফ্লাট, পানি, বিদ্যুত, খাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয় আর এরপর অবশ্যই দেশে টাকা পাঠাতে হয়।

আমরা হিসাব করি। বাড়ির জন্য সে অনেকের সাথে একটা ফ্লাটে থাকে যেটার জন্যে ব্যয় মাসে ধরা যাক ৫০ বাহরাইনি ডিনার (১৩২ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ১০ হাজার টাকা)। এরপরে পানি আর বিদ্যুত আরো ১০ বাহরাইনি ডিনার (২৬ আমেরিকান ডলার), আর এরপরে খাওয়া ৪০ বাহরাইনি ডিনার (৬৬ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ৫ হাজার টাকা)। তাহলে বাড়ীতে নেওয়ার জন্যে পুরো অর্থ বাঁচবে বাংলাদেশী টাকায় ১১৫ (৩০৫ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ২১ হাজার টাকা) প্রতি মাসে। এক বছরে (১২ মাসে) সে বাঁচাতে পারবে ১৩৮০ বাহরাইনি ডিনার (৩৬৬০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় আড়াই লাখ টাকা)। এই অর্থ ভিসা বা ঢোকার ফি হিসাবে দেয়া ১৫০০ বাহরাইনি ডিনার (৩৯৮০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ টাকা) শোধ করার জন্যে যথেষ্ট না। আমার কোন ধারণা নেই এই অর্থ সরকার নির্ধারিত কিনা, কিন্তু একটা জিনিষ আমার কাছে পরিষ্কার না যে ২ বছরে সে মাত্র ১২৬০ বাহরাইনি ডিনার (৩৩৪০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা) বাঁচাতে পারে। পরিশেষে সে তার ১৫০০ বাহরাইনি ডিনার (৩৯৮০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ টাকা) বিসর্জন দিয়ে আর দুই বছর কঠোর পরিশ্রম করেছে কেবলমাত্র ১২৬০ বাহরাইনি ডিনার (৩৩৪০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা) এর জন্য। আরো দুই বছরের কাজের ভিসা বাড়াতে তাকে আবার ১০০০ বাহরাইনি ডিনার (২৬৫২ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ) বিনিয়োগ করতে হবে। তার মানে দুই বছর পরে, সে পারবে বাঁচাতে ২৬০ বাহরাইনি ডিনার (৬৯০ আমেরিকান ডলার, বাংলাদেশী টাকায় ৪৮ হাজার টাকা) মাত্র আর আমি এখনও জানিনা সে কিভাবে এরপর তার বিমান ভাড়া দেয়। আমি আসলেই বুঝতে পারি না যেহেতু এটা যুক্তিযুক্ত না!


বাহরাইনে অবস্থিত একজন ফরাসী লেখক ফ্রান্সিন বারলেট গত মে মাসে ওমানের মাস্কাট থেকে বাহরাইনে আসার সময়ে ইয়াসমিনা নামে ভারতীয় একজন মহিলার সাথে কথা বলেছেন। এটা ইয়াসমিনার গল্প (মূল ফরাসী থেকে অনুবাদ):

আমার চেন্নাইয়ের (ভারতে) জীবন খুব সহজ ছিল না, জানেন। কলেজে আমার দুই মেয়ে আছে। একদিন তারা ডাক্তার হবে। কিন্তু প্রথমে আমাকে তার ব্যয়ভার বহন করতে হবে, আরো অনেক কিছুর জন্যে টাকার যোগাড় করতে হবে। আপনি জানেন, আমি কেবলমাত্র ওমানের সালালাহতে দুই মাস কাটিয়ে আসলাম। আমি গতকাল সেখানে আমার কাজ ছেড়েছি। আমি একটা ওমানি পরিবারের সাথে ছিলাম। ম্যাডামের দশটা বাচ্চা ছিল- আটটা মেয়ে আর দুইটা ছেলে- আর মে মাসের শেষে তিনি এগারোতম সন্তানের জন্ম দেবেন। আপনি বুঝতে পারছেন? এগারোটা বাচ্চা...সেটা চমৎকার। কিন্তু আমি সেখানে থাকবো না দেখার জন্য যে সেটা ছেলে না মেয়ে। আমাকে যেতে হবে। এটা কঠিন তাকে একা রেখে আসা, জন্মের এতো কাছে কোন সাহায্য ছাড়া রেখে আসা, কিন্তু আমি থাকতে পারবো না।

প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায়, তার স্বামী আমার শোয়ার ঘরে আসত। প্রত্যেক সন্ধ্যায় আমি তাকে বলতাম, “আমি আপনার কর্মী, স্ত্রী নই। ফিরে যান, আপনার স্ত্রীর আপনাকে প্রয়োজন। নিজের বিছানায় ফিরে যান। আপনার অধিকার নেই আমার সাথে এমন করার। আমাকে বিশ্রাম নিতে দেন, আমি ক্লান্ত...”। আপনি কল্পনা করতে পারেন? দশটা বাচ্চা, বাড়ির কাজ, রান্না, কাপড় ধোয়া আর কয়েক টন ডিশডাশা আর আবায়া পোশাক ইস্ত্রী করা প্রত্যেক দিন যার সাথে ছিল চাদর, ডায়াপার আর তোয়ালে। কিন্তু আপনি জানেন, আমার কাজ করতে আপত্তি নেই। আমি অন্য কিছু কিভাবে করতে হয় জানিনা। আমি নিবেদিত। আমি কঠিন কাজকে ভয় পাইনা। কিন্তু রাত্রে আমার সাথে এমন করার অধিকার তার ছিল না। আমাকে ছোঁয়া, বিরক্ত করা। আমি তাকে থামাতে পারতাম না। জোর ছিল না... আমাকে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। দ্রুত।

বুঝেছেন, আমাদের মতো কাজের লোক যারা ভারত, শ্রীলঙ্কা, সোমালিয়া বা ফিলিপাইন্স থেকে আসে, তাদের দুই মাসের অর্ন্তবতীকালীন সময় থাকে, আর তার পরে তারা চুক্তি বাতিল করে ফিরে যেতে পারেনা। আমাদের পাসপোর্ট মালিকের হাতে আটক থাকে, আর তারা না চাইলে আমরা যেতে পারি না। আপনাকে আপনার দুই বছরের চুক্তি শেষ করতে হবে, বাড়িতে যেতে পারার আগে। এটাই আইন। আমি তাদেরকে বলেছিলাম আমি আমার অর্ন্তবতীকালীন সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যেতে চাই, এটা আমার অধিকার। তা সত্ত্বেও ওই গৃহস্বামী চায়নি যে আমি যাই।

এর পরে আমি খাওয়া বন্ধ করে দেই। পাঁচ দিন আমি আমার কামরা থেকে বের হইনি, আমি কিছু খাইনি, আমি স্নান করিনি। তারা ডাক্তার ডেকেছিল, আর সে পুলিশ ডেকেছিল। ওই! তারা আমাকে বিমানবন্দরে নিয়ে গেল। স্বামীকে আমার বাড়ী ফেরার প্লেনের টিকিট কিনে দিতে হলো, আর আমার পাসপোর্ট ফেরত দিল। এটা আইন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে খারাপ ছিল, জানেন। আমি পড়তে পারিনা। আমি বুঝতে পারিনি আমার প্লেনের টিকিটে কি লেখা আছে। বোর্ডিং এর সময়ে গালফ এয়ারের এটেন্ডেন্ট বলল যে আমার টিকিট রামানাথাপুরামের , আমার বাড়ী চেন্নাইএর না। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন? আমি প্লেনে উঠতে অস্বীকৃতি জানাই। কোথায় যাবো? রামানাথাপুরাম এমন একটা শহর যেটা আমি চিনি না। সাথে কোন টাকাকড়ি নেই, কোনো সাহায্য ছাড়া, আমার বাড়ি থেকে ৬০০ কিমি দুরে কি করব? ভাগ্যক্রমে, রামানাথাপুরাম থেকে চেন্নাই পর্যন্ত পুলিশ আমার টিকিটের টাকা দিয়েছে। সেই স্বামীটা তাদেরকে ফিরত দেবে। পুলিশরা ঠিক কাজ করেছে, জানেন। এটার খরচ পরেছে ৬০ রিয়াল (আমেরিকান ডলার ১৫৫)... আমার জন্য এক মাসের বেতন!

আমি দুবাইতে এর আগে পাঁচ বছর ছিলাম যেখানে আমি ‘লাফ’ দিয়েছিলাম (লাফ দেয়া মানে: মালিককে ছেড়ে দিয়ে, পাসপোর্ট ছেড়ে দিয়ে, অন্য কোথাও ভালো বেতনের একটা কাজ নেয়া, কিন্তু আইনসঙ্গতভাবে নয়)। আগে সৌদি আরবে আমি দুই বছর কাজ করেছি, দুই বছর ওমানে। আমি আবার আসব। এই দেশকে আমার আসলেই ভালো লেগেছে। কিন্তু এখনই না। প্রথমে আমি আমার মেয়েদেরকে দেখতে চাই আর একটু বিশ্রাম নিতে চাই।

প্রথম প্রকাশ: গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলায়আয়েশা সালদানহার রচনা থেকে অনুবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28981963 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28981963 2009-07-22 11:37:07
সেইসব বীরঙ্গণা এবং যুদ্ধশিশুর কথা


সুজান ব্রাউন মিলার তার Against Our Will: Men, Women and Rape বইটিতে লিখেছেন যে ধর্ষণকৃত নারীদের সৌন্দর্য দেখে বাছা হত এমন নয়। আট বছর বয়সী মেয়েশিশু থেকে ৭৫ বছরের বুড়ী পর্যন্ত পাক বর্বর হায়েনা থেকে রেহাই পায়নি। কোন কোন নারীকে সারা রাত ধরে গণ ধর্ষণ করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কন্টিজেন্টের চীফ জে. একে নিয়াজী দম্ভ নিয়ে বলেছিলেন "আপনারা কি ভাবে আশা করেন একজন সৈন্য পূর্ব পাকিস্তানে থাকবে যুদ্ধ করবে আর মারা যাবে এবং সেক্স করবে ঝিলমে গিয়ে?" (ইস্ট পাকিস্তান, দ্য এন্ড গেম - ব্রীগেডিয়ার এ আর সিদ্দিক )। এসব সেনাদের হাতে নারীদের তুলে দিত রাজাকার আলবদরেরা।

যুদ্ধ শেষ হবার পরে এই সব ধর্ষিতা নারী এবং তাদের গর্ভের অগণিত যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু তাদের সম্মান দিয়ে বলেন তারা আমার মেয়ে। তাদের বীরঙ্গণা ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। কিন্তু তাদের অবস্থা ছিল অবর্ণনীয়। অনেকে সামাজিক গন্জনা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে।

এনবিসি নিউজ আর্কাইভে সেই সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট আছে।


আমেরিকা থেকে ডাক্তাররা আসে গর্ভপাত করাতে।



এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৫০০০০ থেকে ১৭০০০০ বীরঙ্গনাকে গর্ভপাত করানো হয়েছে সরকারী মাতৃসদনে ও সনাতনী দাই ইত্যাদি দ্বারা।

এর পরেও অনেক যুদ্ধশিশু জন্মেছে। মাদার তেরেসা ১৯৭২ সালে এসে বেশ কিছু শিশুকে দত্তকের মাধ্যমে কানাডা, ফ্রান্স, সুইডেন ইত্যাদি দেশে পাঠান। এর পেছনে সরকারী চাপও ছিল। বঙ্গবন্ধু নাকি বলেছিলেন পাকিস্তানী হায়েনাদের রক্ত আছে এমন শিশুদের আমরা দেশে থাকতে দেব না।

১৯৭২ সালের ২৯শে মে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে:

Bangladesh government, at instigation of US social workers, is setting up a legal machinery for international adoption of child victims of occupation and war, including unwanted offspring of women raped by Pakistani soldiers;

কত শিশু বাইরে গেছে এভাবে তার হিসেব নেই। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের দিকে এই যুদ্ধশিশুর ব্যাপারটি ধামাচাপা পড়ে যায়।

মাসুদা ভাট্টি ইউরোপে অবস্থানরত এক বীরঙ্গণার কথা লিখেছেন। সেটি পড়ে অনেক মন খারাপ হয়ে রয়েছে তাই এখানে কিয়দংশ তুলে দিচ্ছি :

কথা শুরু হয়েছিল ২৫শে মার্চের রাত নিয়ে, ২৬ মার্চের সকালে চলে গেলেন আনা।ট্রাকে করে আমাদের নিয়ে এলো ওরা। আমরা কয়েকজন, দু’একজন মুখ চেনা। কেউ কারো দিকে তাকাতে পারছিলাম না। কোথায় এলাম বুঝিনি, ঢাকার শহরতো ভালো করে চিনি না। একটা মেয়েকে দেখলাম হাতে করে কোরআন শরীফ নিয়ে এসেছে।থর থর করে কাঁপছে। কাঁদছে অঝোরে, শব্দহীন। আসলে আমরা সবাই কাঁদছিলাম, অথচ কেউই শব্দ করে নয়, আমরা মনে হয় শব্দ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।

তারপর যেখানে এলাম, সেখানে লাইন ধরে অনেকগুলো রুম।আমাদের একই রুমে রাখা হলো। তখন দুপুর হবে মনে হয়, তখন ওরা এলো, একের পর এক। কিছু বলার সুযোগ দেয়নি, একের পর এক, আমরা মাত্র ছয় কি সাতজন। আর ওরা সংখ্যায় কতো ছিল এখন আর মনে করতে পারি না, তবে চাইও না।

“জানেন, আমরা প্রতিদিন কোরআন পড়তাম। ওরা তাও মানতো না। ছুঁড়ে ফেলে দিতো। পরে শুনেছি যে, ওরা নাকি মসজিদে ঢুকেও মানুষ হত্যা করেছে। জানেন, আমার আর কোনও আনুষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি বিশ্বাস নেই। এরপর নিজেকে আমি ধর্ম থেকে সরিয়ে নিয়েছি”।

মাসুদা ভাট্টি লিখেছেন:

১৯৭১ সালে যেসব পাকিস্তানী সৈন্য বাংলাদেশে লুটতরাজ, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে তারা তো কেউই ধর্মে অবিশ্বাসী ছিল না, বরং তারা সকলেই ছিল ধর্মপ্রান মুসলিম। ১৯৭১ সালের নয়মাস ধরে চলা যুদ্ধে একটি মাস ছিল রমজান মাস। সেই মাসেও কিন্তু পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী ধর্ষণের মতো গর্হিত কাজ করেছে, কি করেনি? তখন কিন্তু ধর্ম তাদের এই অনাচার থেকে রুখতে পারেনি। তার মানে তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল যে, তারা যা করছে তা আসলে ইসলামকে রক্ষায়। সেদিক দিয়ে বিচার করতে গেলে, ১৯৭১ আসলে আর কিছুই নয়, ধর্মের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা আর নারী ধর্ষণের চূড়ান্ত উদাহরণ।

আনার মতো এরকম অনেক মেয়ে, একাত্তরে যাদেরকে পাকিস্তানীরা “গণিমতের মাল” হিসেবে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে, স্বাধীন দেশে আমরা তাদেরকে নিয়ে বিব্রত বোধ করেছি। আমি নিশ্চিত ১৯৭১ যদি তখন না হয়ে এই ২০০৯ সালেও হতো আর একই ঘটনার শিকার হতো বাঙালি নারী, আমাদের মানসিকতার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আমরা দেখতে পেতাম না। আনার মতো বাংলার শেফালি, রত্না, চম্পা বা অন্য যে কাউকেই এরকম বিদেশে এসে নাম পরিবর্তন করতে হতো, নয়তো দেশেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হতো।

এইসব বীরদের এবং এই সব যুদ্ধশিশুদের সম্পর্কে কি আমাদের সচেতন হওয়া উচিৎ না?

আরও পড়ুন:
* একাত্তরে নারীরা
* বীরঙ্গণার গল্প
*বীরঙ্গণাদের কষ্ট
* তারা বীর, বীরঙ্গণা নয় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28936419 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28936419 2009-04-11 00:40:50
সুনিতা পালের সুলুক সন্ধানে সাংবাদিকরাও বলছেন যে কোন সূত্র না উল্লেখ করেই যে উনি যেসব মনগড়া কথা লিখছেন তা কোনমতেই সাংবাদিকতার আওতায় পড়ে না।

সুপ্রিয় পাঠক, এখন আমরা জানার চেষ্টা করব আসলে তিনি কে? অ্যামেরিকান ক্রনিকল নামক অনলাইন ম্যাগাজিনে তিনি নিয়মিত লিখে থাকেন। সেই ওয়েবসাইটে দেয়া তার প্রোফাইল অনুযায়ী ১৯৫২ সালে ভারতের কোচিনে তার জন্ম।

কিন্তু একটি যায়গায় এসেই খটকা লাগে:

"Born as a deaf and dumb, Sunita Paul decided to use pen in expressing herself. "

কেমন যেন উপন্যাসের মত শোনায় না? আমাদের উপমহাদেশে একজন নারী বোবা কালা হয়ে জন্মালেন আর কলমের সাথে তার মত প্রকাশে ব্রতী হলেন। তিনি প্রতিবন্ধী হয়ে সমস্ত পলিটিকাল সায়েন্স আর সাংবাদিকতায় তার দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন আর দু:খের বিষয় হচ্ছে এই বিরল কৃতিত্বের সংবাদটি আমরা কোথাও খুঁজে পাইনা। তার লেখা বিশটিরও অধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত ছাপা হচ্ছে, অথচ তার নিজের সম্বন্ধে একটিও লেখা নেই।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল ২০০৫/২০০৬ এর আগে সুনিতা পালের খবর কেউ শোনেনি।

আব্দুল বাতেন লিখেছেন:

"তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় বিশেষজ্ঞ বলা যায়। বাংলাদেশ নিয়ে লিখেছেন অনেক। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশ বিষয়ে এহেন একজন বিশেষজ্ঞের কথা কেন আমরা এতদিন জানতাম না। হোন তিনি বাংলাদেশ বিরোধী একজন লেখক কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ নিয়ে এত ধারণা যার তার বিষয়ে কিছু খোঁজখবর তো আমাদের কাছে থাকার কথা ছিল। "

বাংলাদেশ বিষয়ে এমন জানাশোনা যে ব্যক্তির বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তার কিছু না কিছু যোগাযোগ তো থাকতেই হয়। স্বাভাবিক এই প্রশ্ন থেকেই আবার অনুসন্ধান চলে। যোগাযোগের সূত্রটি কিছুটা বের হয়ে আসে। বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। ইংরেজি পত্রিকাটির নাম উইকলি ব্লিটজ।http://www.weeklyblitz.net/ ব্লিটজ পত্রিকাটির সম্পাদক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী।

সুনীতা পাল এই শোয়েব চৌধুরীরর পত্রিকার নিয়মিত লেখেন। আরও মজার বিষয় শোয়েব চৌধুরীকে নিয়ে তিনি একাধিক লেখা লিখেছেন। আরও মজার বিষয় হলো, সুনীতা পাল যেসব পত্রিকায় লেখেন যেমন আমেরিকান ক্রনিকল বা গ্লোবাল পলিটিশিয়ান সেসব পত্রিকার নিয়মিত লেখকদের মধ্যে সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী অন্যতম। সুনীতা পাল ও সালউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর লেখার বিষয়, আগ্রহ প্রায় একই। সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী যেখানে বাংলাদেশ বিষয়ে নরম, সেখানেই সুনীতা পাল কঠোর। সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ও সুনীতা পাল দুজনেই চান বাংলাদেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিক এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করুক।

সুনিতা পাল এও বলেছেন যে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিৎ

এখন দেখা যাক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী লোকটি কে।

তার বায়োডাটায় দেখা যায় ১৯৯৫-১৯৯৯ পর্যন্ত তিনি এ-২১ টিভি চ্যানেলের এমডি ছিলেন। সেই টিভিটি ছিল বর্তমানে পলাতক মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের। তিনি ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন ২০০১-২০০২ সালে। তিনি শাহরিয়ার কবিরকে মোসাদ এজেন্ট বলে গালিগালাজ করেন তখন। তার তখনকার আর্টিকেল গুলো পরলেই তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বোঝা যায়। উনি তারপর ইনকিলাব টেলিভিশনের শেয়ার কিনে তার ডাইরেক্টর হন। কিন্তু তার পর টাকা পয়সা নিয়ে অন্যান্য ডাইরেক্টর, যারা তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন, তাদের সাথে গোলমাল লাগে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় ও গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী হয়।

এর পর ২০০৩ সালের নভেম্বরে তাকে বিমান বন্দরে গ্রেফতার করা হয় ইজরায়েলে যাওয়ার প্রাক্কালে । তার কাছে কাগজপত্র ছিল যে তিনি ওখানে একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আপনার যদি বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকে তাহলে দেখবেন যে সীল মারা আছে যে একটি দেশে শুধু আপনি যেতে পারবেন না তা হলো ইজরায়েল। অর্থাৎ তাকে ওই ক্লজে গ্রেফতার করা হয়। যদিও আগেই প্রভাবশালী একটি মহল উপরোক্ত কারনে তার উপর ক্ষেপে ছিল। তাকে এরপর জরুরী ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয় ও রাষ্টদ্রোহীতার মামলা করা হয়।

এরপর আন্তর্জাতিক এক চক্র তার মু্ক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় যার অগ্রভাগে ছিলেন ড: রিচার্ড বেনকিন । এই আমেরিকান ইহুদী লবিইস্ট শোয়েবের মুক্তির ই্স্যুতে বিভিন্ন খানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেখা শুরু করেন। মজার ব্যাপার হলো ২০০৬ সালে তাকে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার লবিইস্ট হিসেবে নিয়োগ দান করে

সালাউদ্দিন শোয়েব বর্তমানে বিচারাধীন তবে মুক্ত। তার বিচারের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে বাংলাদেশী সংবাদপত্রগুলো মৌণ থাকলেও ইজরায়েলী সংবাদপত্রগুলোকে সরব দেখা যায়।

সাজ্জাদ জহির যুক্তি দেখিয়েছেন যে সুনিতা পাল সালাউদ্দিন শোয়েবেরই ছদ্মনাম । আবার অন্যেরা বলেন যে তিনি বেনকিনেরই একটি সৃষ্টি এবং সুনীল নামের এক ভারতীয় নিউইয়র্ক থেকে এই ছদ্মনামে লিখে যাচ্ছেন।

এখন আমরা আবার আসি সুনিতা পালের লেখা প্রসঙ্গে। তিনি তার লেখায় যুক্তি ছাড়াই অনেক মতামত (কোন উৎস উল্লেখপূর্বক) দিয়ে থাকেন যা সবাইকে বিস্মিত করে। একজন বোবা কালা মহিলা কিভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে এত তথ্য পাচ্ছেন দেশের বাইরে থেকে এবং নিয়মিত (প্রায় প্রতিদিন) তা নিয়ে লিখেছেন সেটি বিস্ময়ের ব্যাপার। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশী আমেরিকান ব্লগার ম্যাশ প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন যে সুনিতা পাল তার ব্লগের লেখা থেকে কিছু অংশ বেমালুম মেরে তার আর্টিকেলে তুলে দিয়েছেন ম্যাশের কোন উল্লেখ ছাড়া। এরকম কত যায়গা থেকে তার চৌর্যবৃত্তি চলেছে তা এখন গবেষণার বিষয়। ম্যাশ জানিয়েছেন যে এই নকল লেখা প্রায় ডজনখানেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সুনিতা পাল আরাফাত রহমানের অসুস্থাবস্থা নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছেন, তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সম্পর্কে অনেক মন গড়া কথা বলেছেন, জেনারেল মইনকে ছেড়ে কথা বলেননি এবং হাসিনা পূত্র জয়ের বিরুদ্ধে কোনরুপ প্রমাণ না দেখিয়ে মনগড়া সব অভিযোগ করে যাচ্ছেন

তার লেখায় রয়েছে সেনাবাহিনীকে উসকে দেয়া যাতে তারা সাম্প্রতিক সরকারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট করা ও কাল্পনিক সব গল্প বানানো তার বৈশিষ্ট।

সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই (২৯ ডিসেম্বর ২০০৮) তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পেছনে লাগেন এবং এখনও তার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

একটি বিষয় নিশ্চিত যে তার সব কর্মকান্ড প্রমাণ করে যে সে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা ও শান্তির বিপক্ষে।

একজন বোবা কালা মহিলার পক্ষে এতটুকু করা মনে হয়না সম্ভব। কাজেই তিনি সত্যিকারের হলেও তার নাম ভাঙ্গিয়ে একটি মহল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে আর তাকে তুলে ধরছে বাংলাদেশের এক শ্রেণীর ট্যাবলয়েড পত্রিকা। সাধু সাবধান।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28934553 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28934553 2009-04-06 23:15:40
ইতিমধ্যে দন্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের এখনও বিচারের আওতায় আনা সম্ভব
১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম তার মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে এক বৈঠকে গনহত্যা তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময়ে ৩৭০০০ যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

২৪ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ দালাল আইন ১৯৭২’ নামে (রাষ্ট্রপতি আদেশ নং ৮) একটি অধ্যাদেশ জারি হয়। শেখ মুজিবর রহমান সাক্ষরিত সেই অধ্যাদেশে যুদ্ধপরাধী এবং দালালের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে - "কোনো ব্যক্তি যদি একক বা দলগতভাবে বা কোনো সংস্থার হয়ে প্রত্যক্ষ্ বা পরোভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা, লুটপাট, ধর্ষনে সহযোগিতা করে থাকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িত থাকে।" কমপক্ষে ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ডের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছিল এই আইনে। অনেক ফাঁকফোকড় ছিল এ আইনে, যার ৭ম ধারায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সর্বময় কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওসি যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনেন তাহলে সেটা গ্রহন করা হবে না, অন্য কোনো আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে না- এমন অনেক গলদে ভর্তি ছিল আইনটি। - -অমি রহমান পিয়াল

১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধপরাধীদের সাজা দেওয়ার জন্য নতুন একটি আইন পাস হয়। ‘অ্যাক্ট নং-১৯, ১৯৭৩’ (লিংক-৩) নামের এই আইনে গনহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধে অপরাধীদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং সাজা দেওয়ার অধিকার রাখা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানী ১৯৫ জন উচু পদমর্যাদার সেনা অফিসারের বিচার বাংলাদেশেই যাতে করা যায় এমন। কিন্তু আন্তুর্জাতিক চাপে ও পাকিস্তানের স্বীকৃতির আশায় ১৯৭৪ সালে ত্রিদেশীয় একটি চু্ক্তির আওতায় ওই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছাড়া পাকিস্তানে ফেরত নেয়া হয়।

বলা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান (দেশে অবস্থিত) যুদ্ধাপরাধী দালাল ও রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। কথাটা পুরো সত্যি নয়। ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় প্রান্তিক পর্যায়ের দালাল ও রাজাকারদের ক্ষমা করা হয়েছে। হত্যা, লুটপাট, ধর্ষন এবং স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং নেতৃস্থানীয় কোনো দালাল ও ঘাতককে এই ক্ষমা ঘোষণার আওতায় নেওয়া হয়নি। অধ্যাপক গোলাম আযম থেকে শুরু করে নুরুল আমিন, হামিদুল হক চৌধুরী, খান এ সবুর, মাহমুদ আলী, খাজা খয়েরুদ্দিন, রাজা ত্রিদিব রায়ের মতো নেতৃস্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তাদের ফেরার ঘোষণা করা হয় (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২, দৈনিক বাংলা)। ক্ষমার আওতায় পড়েননি রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর কোনো নেতা। তালিকা দেখলে দেখা যাবে ঠিক কারা এসব নেতৃত্বে ছিলেন। -অমি রহমান পিয়াল

১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বরের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণায় মুক্তি পায় প্রায় ২৬০০০ অভিযুক্ত। কিন্তু ৭৫২ অভিযুক্ত ও বিচারাধীন ১১০০০ অভিযুক্ত তখনও জেলে ছিল। ৩১শে ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত সায়েম এবং চিফ মার্শাল ল এডমিনিষ্ট্রেটর জেনারেল জিয়াউর রহমান সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ দালাল আইন ১৯৭২’ (রাষ্ট্রপতি আদেশ নং ৮) বাতিল করেন। এর ফলে ৭৫২ জন অভিযুক্ত ও বিচারাধীন সকলে ছাড়া পেয়ে যায়।

আজ প্রথম আলোতে মিজানুর রহমান খান বলেছেন :

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নে যখন ট্রাইব্যুনাল গঠিত হতে যাচ্ছে, তখন একটি মিথ বা কল্পকথা ভেঙে দেওয়া দরকার। মিথটি হলো, বিচারপতি সায়েম ও জেনারেল জিয়াউর রহমান দালাল আইন বাতিল করার মাধ্যমে কারাগারে আটক ও দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু কথাটি এভাবে সত্য নয়। এর আড়ালে মস্ত একটি সত্য চাপা পড়ে আছে।

সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ও ১৯৭২ সালের দালাল আইন রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর চেয়ে বেশি কিছু।

দালাল আইন বাতিল অধ্যাদেশ পরবর্তীকালে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বৈধতা’ পেলেও তা ছিল একটি এখতিয়ারবহির্ভুত পদক্ষেপ। আইনের সরল পাঠে এটা বলা যায় যে ৪৭ অনুচ্ছেদের ৩ উপদফায় ‘কখনো বাতিল বা বেআইনি হয়েছে বলে গণ্য হবে না’ কথাটির অর্থ এই যে, ওই আইনটি আজও বহাল রয়েছে। বিচারপতি সায়েমের অধ্যাদেশটি ভয়েড অ্যাবিনিশিও বা গোড়া থেকে বাতিল। এখন হয়তো কেবল একটি রিট দায়ের করলেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংবিধানের অভিভাবকের দায়িত্ব পালনকারী উচ্চ আদালতের কাছ থেকে এ মর্মে একটি ঘোষণা আসা স্বাভাবিক প্রত্যাশা হতে পারে যে দালাল আইন বাতিল আইনের কখনো অস্তিত্ব ছিল না।

পঁচাত্তরের পরে কার্যত দুটি ইনডেমনিটি আইন পাস করা হয়েছিল। এর একটি দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড এবং দ্বিতীয়টি দিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা খুন, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল; তাদের ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়। প্রথম ইনডেমনিটির বিরোধিতায় যাঁরা সোচ্চার হয়েছেন, সেভাবে তাঁরা দ্বিতীয় ইনডেমনিটির বিরুদ্ধাচরণ করেননি। এমনকি আজ যখন চারদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি উঠেছে, সংসদে প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, আমরা ভাবছি এই বুঝি ১৯৭৩ সালের আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হতে যাচ্ছে; তখনও যাদের বিচার করা হয়েছিল তাদের কী হলো সেদিকে খেয়াল দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনালকে তো বিচার করতে হবে। একটি বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কোনো অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁরা দন্ড বা খালাস দেবেন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাদের দন্ড ইতিমধ্যে হয়ে গেছে তাদের কী হবে? এই দন্ডিত ব্যক্তিরা কোন জাদুমন্ত্রবলে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিল তা আমাদের জানতে হবে।


বিস্তারিত পড়ুন প্রথম আলোয় ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28931460 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28931460 2009-03-30 22:54:07
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোধে আন্তর্জাতিক চাপ
২৪শে ডিসেম্বর ১৯৭১, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান বলেন, "কোন যুদ্ধাপরাধী আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবেনা। এমনকি গনহত্যা এবং অত্যাচারে জড়িত পাকিস্তানী সেনাসদস্যরাও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।" শেখ মুজিবর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর এক সভা শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে ভারত সকল সহয়তা প্রদান করবে। - (সূত্র)

তবে টু্করো টুকরো কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় যে ভারতের তত্বাবধানে থাকা যুদ্ধবন্দীদের কেন তৎকালীন সরকার বিচার করতে পারেন নি। প্রথমত:

এর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ একটা বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা স্টেডিয়ামের খোলা ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে ৫ জন অপরাধীর মৃত্যুদন্ড বাস্তবায়ন টিভি ও পত্রিকার কল্যাণে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। এই ঘটনাকে নিজেদের অনুকুলে কাজে লাগায় পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ঘটনার হোতা কাদের সিদ্দিকী স্পষ্টই বলেছেন, যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছিলো দুজন অবাঙালী কিশোরীকে অপহরণ করার সময়। এবং মৃত্যুদন্ড পাওয়ারা কেউই অবাঙালী নয়।

এসব যুদ্ধাপরাধীকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তড়িত উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিয়াজী ও রাও ফরমান আলীর মতো মাথাগুলোকে ২১ ডিসেম্বর উড়িয়ে নেওয়া হয় কলকাতা। তিন সপ্তাহের এক বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৮০টি ট্রেন করে সমস্ত যুদ্ধবন্দীদের সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়।
- অমি রহমান পিয়াল

১৯৭২ সালের ২ জুলাই স্বাক্ষরিত সিমলা চুক্তিতে যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে একটি লাইনও নেই। কোথাও বলা নেই যে যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হবে বা বিচার হবে না।

সে সময় ভারতের কাছে বন্দী ছিল ৯৩ হাজার যুদ্ধাপরাধী। এর মধ্যে ৮০ হাজার সামরিক এবং বাকিরা বেসামরিক ব্যক্তি।
সবাইকে পাকিস্তান নিজ দেশে নিয়ে যায়। কোনো চুক্তির আওতায় না বরং ভারত তাদের ছেড়ে দিয়েছিল সৌহার্দের নিদর্শন হিসাবে। ভারত যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক চায় তারই নিদর্শন হিসাবে ভারত এই সৌহার্দ দেখায়।
- শওকত হোসেন মাসুম

"১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির সাথে বাংলাদেশের একটি যোগাযোগ স্থাপিত হয়। .... মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের নেতৃত্বে সৌদি আরবের রাজা ফয়সাল, আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেডিয়েন এর সহযোগিতায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যার মুলে ছিল ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী যাদের বিচারে বাংলাদেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলো এবং এজন্য তখনো পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে নাই । আর পাকিস্তানের মিত্র হিসাবে চীন বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য হিসাবে যোগদানে ভেটো প্রদান করছে । এর মধ্যে চীন পুনরায় জানিয়ে দেয় "After resolution of the war trials issue, Peking will recognise Dacca, and the way will be open for Bangladesh to be admitted to the United Nations" (১৮) ।

(১৫ ই ডিসেম্বর ১৯৭৩) আন্তর্জাতিক আদালত থেকে পাকিস্তানের মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আরব লীগ নেতৃবৃন্দের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলে বিবেচিত হয়। এবার আরব লীগ নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করেন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান করার জন্য । এর জবাবে জুলফিকার আলী ভূট্টো জানান যে বাংলাদেশ ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করলেই কেবলমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, সৌদি রাজা ফয়সাল এবং জর্ডানের রাজা হুসেইন এর উদ্যোগে সাতটি মুসলিম দেশের প্রতিনিধি ঢাকা সফর করেন ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের উদ্যোগ থেকে সরে আসার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজী করাতে । কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিকভাবে কোন শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তানের স্বীকৃতি গ্রহণে অস্বীকার করেন এবং এই বিষয়ে আরো আলোচনা প্রয়োজন বলে অভিমত দেন। - মিরাজ

এর পরে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের ১৯৪৪ সালের পর দ্বিতীয় প্রাণহারী দুর্ভিক্ষের কবলে পরে। ১৯৭৪ সালের জুলাই থেকে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত এই দুর্ভিক্ষের কারন হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (সাইক্লোন, খরা ও বন্যা) এর কথা বলা হলেও আসলে এর পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সাহায্যের রাজনীতি। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার সমাজতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পাকিস্তানের থেকে আমেরিকার উপর চাপ ছিল যুদ্ধপরাধী ইস্যু ধামাচাপা দেয়ার জন্যে। তাই বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়ার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য সাহায্যের জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়ে লাখ লাখ লোক খাদ্যের অভাবে মারা যায়।

তৎকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২৬০০০ লোক মৃত্যুবরন করলেও আসলে মারা গেছেন লাখ লাখ।অস্ট্রেলিয়ান (ধন্যবাদ ফাহমিদুল শুধরে দেবার জন্যে) সাংবাদিক জন পিলগার একটি ডকুমেন্টারীতে দেখিয়েছেন কিভাবে নিক্সনের পলিটিক্স লাখ লাখ বাঙালীর মৃত্যুর কারন হয়।





গ্লোবাল হাঙ্গার এলায়েন্সের দ্বেবিন্দর শর্মা বলেছেন :

নবীন বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের দুর্গতির সময় যুক্তরাষ্ট্র ২.২ মিলিয়ন টন খাদ্য সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয় পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেয়ার জন্যে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28930553 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28930553 2009-03-28 18:05:36
মসজিদে নামাজ পড়ারতদের বোমা দিয়ে উড়িয়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার বাসনা পাকিস্তানে আজ আত্মঘাতী বোমা পড়েছে মসজিদে নামাজ পড়ারত অবস্থায় প্রায় ২৫০ লোকের উপর। প্রাথমিক ভাবে ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, হতাহত অগণিত। খাইবার প্রদেশের নমরুদ শহরে এই হামলা চালানো হয়। (বিবিসি সংবাদে বিস্তারিত )

পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমে তালিবানরা ইসলামী শাসন ও শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার দাবী করে আসছে। তার সাথে রয়েছে শিয়া-সুন্নী বিরোধ। সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চড়াও হয়েছে। সে জন্যেই সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানে বিভিন্ন জঙ্গীবাদী আক্রমণ বেড়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষই তাদের শিকার।

যে কোন আত্মঘাতী আক্রমণই নিন্দনীয়। তবে মসজিদে নামাজ পড়া লোকদের উপর আক্রমণ কোন শত্রুও করবে না। তাই এই আক্রমণের নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

ইসলামী জঙ্গীবাদ কোন মনুষ্যত্ব বিহীন। তাদের দ্বারা যে কোন যুক্তিই খাড়া করা সম্ভব। তার হয়ত বলবে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্যে যে কোন কিছু যায়েজ।

বর্তামানে বাংলাদেশেও জঙ্গীবাদের শেকড় আছে। এদের মূলোৎপাটন না করতে পারলে অচিরেই বাংলাদেশে পাকিস্তানের মত অরাজকতা সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষেরা তার মূল্য দেবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28930262 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28930262 2009-03-27 22:11:33
একাত্তরের গণহত্যার ভিডিও এবিসি নিউজ (৩০শে নভেম্বর ১৯৭১)

নীচের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কিভাবে পাকিস্তানী সৈন্যরা ঢাকার কাছের এক গ্রামের ৭৫ জন নারী পুরুষ ও শিশুকে বীভৎস ভাবে ধর্ষণ ও হত্যার পর বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়েছে এবং সমস্ত গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের অপরাধ তারা নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিল।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদক বলছিলেন, এরা যদি মুক্তিবাহিনীর লোক নাও হয়ে থাকে তবে এই বীভৎসতা সচক্ষে দেখার পর তারা অবশ্যই মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করবে এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে।



এখানে সরাসরি দেখুন

হাই রেজল্যুশন ভিডিও দেখুন এখানে

আজকের বিডিআর দ্বারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকান্ডের ঘটনাতেও আমরা দেখি যে একই ধরনের বীভৎসতা ঘটানো হয়েছে। কাজেই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হাত এখানে আছে তা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

ই বাংলাদেশের সৌজন্যে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28927545 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28927545 2009-03-21 20:23:48
ফায়ারফক্সেই পড়ুন বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা
আনঅফিসিয়াল পদ্মা এক্সপি-আই ফাইলটি পাবেন এখানে:

Click This Link

ইন্সটল করতে প্রথমে ফাইলটি ডাউনলোড করে নিন। তার পর মেনু থেকে ফাইল--<ওপেন ফাইল সিলেক্ট করে ডাউনলোড করা ফাইলটি সিলেক্ট করে ক্লিক করুন। এরপর ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করলেই এক্সটেনশনটি ইন্সটল হয়ে যাবে এবং পত্রিকাগুলো কোন ফন্ট ডাউনলোড ছাড়াই পড়তে পাবেন।

নীচে এর অন্তর্ভুক্ত পত্রিকাগুলোর তালিকা দেয়া হলো:

বাংলাদেশী পত্রিকা:

* প্রথম আলো ( http://www.prothom-alo.com )
* আমার দেশ ( http://www.amardeshbd.com )
* দৈনিক দেশ বাংলা ( http://www.dailydeshbangla.com )
* আমাদের সময় ( http://www.amadershomoy.com )
* ভোরের কাগজ ( http://www.bhorerkagoj.net )
* দৈনিক ইত্তেফাক ( http://www.ittefaq.com )
* যায় যায় দিন ( http://www.jaijaidin.com )
* নয়া দিগন্ত ( http://www.dailynayadiganta.com )
* যুগান্তর ( http://www.jugantor.com )
* মানব জমিন ( http://www.manabzamin.net )
* দৈনিক দিনকাল ( http://www.daily-dinkal.com )
* দৈনিক ডেস্টিনি (http://www.dainikdestiny.com )
* সমকাল ( http://www.shamokal.com )
* দৈনিক সংবাদ ( http://www.thedailysangbad.com )
* দৈনিক সংগ্রাম ( http://www.dailysangram.com )

ভারতীয় পত্রিকা:

* আনন্দবাজার ( http://www.anandabazar.com )
* বর্তমান ( http://www.bartamanpatrika.com )
* আজকাল ( http://www.aajkaal.net )
* উত্তরবঙ্গ সংবাদ ( http://www.uttarbangasambad.com )

আরও কিছু প্রয়োজনীয় লিন্ক:

* ফায়ারফক্সে বাংলা কনফিগারেশন

* সম্পূর্ণ বাংলায় ফায়ারফক্স

***Note: If you have Padma already installed, you might need to clean up your old preferences for auto transform to work for new websites. Try "about:config" in Firefox location bar then remove the old line "Padma.autoTransformWhiteList".

গোলাম মুর্তজা হোসেইনের সৌজন্যে প্রাপ্ত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28912039 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28912039 2009-02-16 15:51:08
ভালোবাসা দিবসে আপনার ভালবাসার ব্যাক্তিটিকে ব্লগিং শেখান

ভ্যালেন্টাইনস দিবস (১৪ই ফেব্রুয়ারী) ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও যোগাযোগের দিবস। এই দিবস পালনের একটি ভাল উপায় হতে পারে আপনার ভালবাসার ব্যাক্তিটিকে ব্লগিং (অথবা মাইক্রোব্লগিং ) শেখানো।

আপনারা জানেন যে ব্লগিং আনন্দ, সুখ এবং নতুন এনে দিতে পারে লাখো কোটি মানুষকে। আমাদের ব্লগারদের কমিউনিটির অনেকে ইতিমধ্যেই পণ করেছে যে তারা তাদের বন্ধু এবং কাছের মানুষদেরকে ব্লগিং শেখাবে এবং ভ্যালেন্টাইনস দিবসে তাদের নিজস্ব ব্লগে এ নিয়ে লিখবে। আপনারাও যোগ দিতে পারেন।

আপনারাও এই ইন্টারনেট মীমে যোগদান করুন।

যোগাযোগই ভালবাসা:

এখানে চারটি পদক্ষেপের কথা বলা আছে যার মাধ্যমে ভ্যালেন্টাইনস দিবসে আমাদের সাথে যোগদান করতে পারবেন:

প্রথমত: আপনি ব্লগের মাধ্যমে কখনই একলা নয়। আপনার পাঠকদের জানান যে আপনি তাদের ভালবাসেন এবং তারাও আপনাকে কেন ভালবাসবে।
দ্বিতীয়ত: আপনার ভালবাসার ব্যাক্তিটিকে ব্লগিং (অথবা মাইক্রোব্লগিং) শেখান।
তৃতীয়ত: তাদের প্রথম ব্লগ পোস্টটিতে লিন্ক করুন। আপনাদের পাঠককে অনুরোধ করুন এই সব নতুন ব্লগ পড়ে দেখতে। এই ট্যাগ ব্যবহার করতে পারেন #SMK [social media kisses]
চতুর্থত: আপনার ব্লগবন্ধুদেরও এই মীমে অংশগ্রহণ করতে বলুন।

আপনার পোস্টটিকে সাজানোর জন্যে এখানে কিছু চিত্র রয়েছে: ছোট | মাঝারি | বড়

আপনার ভালবাসা প্রকাশ করুন:

আমরা আপনাদেরকে ভালবাসা প্রকাশে আন্তরিক। গ্লোবাল ভয়েসেসে আমরা বিশ্বের চারকোন থেকে বিভিন্ন ব্লগারদের কন্ঠকে তুলে ধরি। আপনি শুধু এই সাইটের পাতাগুলোতে চোখ বোলান, দেখবেন সাধারণ মানুষ কিভাবে বিশ্বের বিভিন্ন (গুরুত্বপূর্ণ বা স্বল্প পরিচিত) ঘটনা সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করছে তাদের ব্লগে লেখার মাধ্যমে অথবা অন্য ভাষার মতামতগুলোকে অনুবাদ করে প্রকাশ করছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আমরা বেশ কিছু নতুন ব্লগিং ওয়ার্কশপে অর্থ সাহায্য দিয়েছি আমাদের রাইজিং ভয়েসেস প্রকল্পের মাধ্যমে। আমরা অচিরেই আরও কিছু প্রকল্পের নাম ঘোষণা করব বিশেষ করে যারা এইচআইভি/এইডস নিয়ে ব্লগিং করে। গ্লোবাল ভয়েসেস অ্যাডভোকেসী প্রকল্পে আমরা সেই সমস্ত ব্লগারদের নিয়ে কাজ করি যারা সেন্সরশীপ এড়াতে কাজ করে। এছাড়াও তারা অন্যান্য অঞ্চলের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে মিলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে।

আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে পারি প্রযুক্তিগত বাধাগুলো দুর করে আরও অনেক মানুষকে অনলাইন মিডিয়ার (ব্লগিং) এই বিপ্লবে সামিল করতে। আপনারা আপনাদের সমাজ বা কাছের লোকদের মাঝে ডিজিটাইল ডিভাইড কমাতে সচেষ্ট হতে পারেন।

ব্লগিং এবং মাইক্রো-ব্লগিং এর উপর গাইড:


আপনাদের যদি কাউকে ব্লগিং সম্পর্কে জানাতে সাহায্যের দরকার হয় তাহলে রাইজিং ভয়েসেস প্রকাশিত ‘সিটিজেন মিডিয়ার পরিচিতি গাইডটি' (ইংরেজী , বাংলা ) ডাউনলোড করে পড়তে পারেন।

আপনারা সেগুলো পড়ে কিছুটা ধারণা পাবার পর আমাদের গ্লোবাল ভয়েসেস অ্যাডভোকেসী গাইড ‘ব্লগ ফর এ কজ ‘ পড়তে পারেন। আপনারা কি এই সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সাহায্য করতে চান?

এই ভিডিওগুলো আপনাদেরকে জানাবে:

কিভাবে ব্লগিং করতে হয়: (লিংক )

কিভাবে টুইটার করতে হয়: (লিংক )

মূল: সোলানা লারসেন
অনুবাদ: গ্লোবাল ভয়েসেস বাংলা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28911231 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28911231 2009-02-14 21:07:08
এইবার কোকোকে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস বাংলাদেশের কয়েক রাজনীতিবিদ ও সরকারী আমলাকে দেয়া ৩ মিলিয়ন ডলার ঘুষের টাকা বাজেয়াপ্ত করার জন্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমেরিকান সরকারের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী জার্মান সিমেন্স আক্টিয়েন গেজেলশাফ্ট এবং চীনের হারবার ইন্জিনীয়ারিং কোম্পানীকে কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেয়ার জন্যে এই টাকার অধিকাংশ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র কোকোকে দেয়া হয়। এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ব্রান্চ এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পায়।

"Siemens Aktiengesellschaft (Siemens AG), a German corporation, and three of its subsidiaries pleaded guilty on Dec. 15, 2008, to violations of and charges related to the Foreign Corrupt Practices Act (FCPA). Specifically, Siemens Bangladesh admitted that from May 2001 to August 2006, it caused corrupt payments of at least $5,319,839 to be made through purported business consultants to various Bangladeshi officials in exchange for favorable treatment during the bidding process on a mobile telephone project. At least one payment to each of these purported consultants was paid from a U.S. bank account. "

দেখা যাক এখন আর বাকী ২.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলারের হদিশ মেলে কি না এবং সেগুলো কার পেটে গিয়েছে।

বিস্তারিত ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস ওয়েবসাইট ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28895573 http://www.somewhereinblog.net/blog/pata/28895573 2009-01-10 18:22:18