পুনরায় রৌদ্রহীন রৌদ্রে আমি, পথহীন পথে

বাঙ্গালীর দেশ-বিদেশঃ ভালো থাকা, মন্দ থাকা

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৬:৩০

শেয়ার করুন:                   Facebook

বিদেশ পর্ব
====================


যারা দেশে আছেন তাদের যদি এখন প্রশ্ন করা হয়, ‘কেমন আছেন?’- মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছাড়া সবাই হয়তো একবাক্যে বলে উঠবেন, ‘ভালো নেই’। আর যেসব বাংলাদেশী বিদেশে আছেন তাদের এ প্রশ্ন করা হলে অনেকেই হয়ত বলবেন, ‘ভালো আছি’। কিন্তু কান পাতলেই একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস শোনা যাবে। প্রবাসী অনেকেই আছেন যারা ভিনদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ী হয়ে গেছেন, দেশে আর ফিরবেন না। কিন্তু যে দেশের নাগরিক হয়েছেন মনে-প্রাণে সে দেশকে আপন করে নিতে পারেন নি। অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিলেও তাই এরা ফেলে আসা দেশ নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকেন। প্রবাসীদের এ দীর্ঘশ্বাসের অনেক কারণ আছে—

প্রথমত, বেশীরভাগ প্রবাসীরই নিকট আত্মীয়-পরিজন দেশে আছেন। কাগজ-পত্রের জটিলতা বা বিভিন্ন কারণে আনতে পারছেন না। তাই, দু’দিকের টানা-পোড়ন।

দ্বিতীয়ত, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার কারণে বাঙ্গালী কখনো মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে মিশতে পারে না। আপনি একটা আমেরিকানের সাথে বন্ধুত্ব করবেন, দেখা যাবে আপনার হাজারো সমস্যা- আপনি বারে যেতে পারেন না, ড্রিঙ্ক করেন না, পোর্ক খান না, হালাল মাংস খোঁজেন। এত বাধ্যবাধকতা নিয়ে এদের সঙ্গে মিশতে আপনি নিজেই সংকোচ বোধ করবেন। ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন সংস্কৃতির কারণে বিদেশে বাঙ্গালী নিজস্ব পরিমন্ডলে আবদ্ধ। মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী কখনো মানসিক শান্তিতে থাকে না। বাঙ্গালীও নেই।

তৃতীয়ত, বিদেশে যখন আপনি থাকবেন, তখন আপনি মোটামুটি একটা ‘আননোওন এনটিটি’। এখানে আপনি যত কিছুই হোন না কেন, কেউ সেটা পাত্বা দেবে না। অবশ্য আপনি যদি সিনেটর, গভর্ণর বা পাবলিক সেলিব্রিটি হোন সে অন্য কথা। তবে সে পর্যন্ত যেতে বাঙ্গালীর দেরী আছে।

অথচ দেশে কত অল্পতেই কত স্বীকৃতি! আপনি একটা সরকারী বা নামকরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হন, সবাই বলবে অমুকের তমুক। আপনি একটা প্রমোশন পেলেন, চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে সে কথা। এ আত্মপ্রসাদ আপনি বিদেশে পাবেন না। রবিঠাকুর বলেছেন, ‘বাঙ্গালীকে আত্মপ্রসাদের স্তুতি ঢোঁকে ঢোঁকে গিলাইতে হয়, পরিমাণে কম হইলে তাহার অসুখ বোধ হয়’। বিদেশে বাঙ্গালীর মনের অসুখ তো হবেই। স্তাবকরা যে সব দেশে। কে এখানে আপনার খোঁজ রাখবে? তাই দেখা যায়, নিউইয়র্ক, ডালাস ইত্যাদি যেসব শহরে বাঙ্গালী বেশি, সেখানে তারা দেশী সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন- এসব নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি করেন। যতটা না দেশপ্রেম, তার চেয়ে বেশি স্তুতি অর্জনের চেষ্টা। মূলধারায় তো সুযোগ নেই; তাই অন্তত নিজস্ব পরিমন্ডলে।

এতসব নিয়ে প্রবাসী বাঙ্গালীর তাই ‘ভালো আছি’ বলতে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়!

(চলবে)
(আগামী পর্বে সমাপ্য – স্বদেশ পর্ব)

 

 

  • ৫৫ টি মন্তব্য
  • ৪১১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৬:৩৩
comment by: বিহংগ বলেছেন: বাঙ্গালীকে আত্মপ্রসাদের স্তুতি ঢোঁকে ঢোঁকে গিলাইতে হয়, পরিমাণে কম হইলে তাহার অসুখ বোধ হয়’। বিদেশে বাঙ্গালীর মনের অসুখ তো হবেই। স্তাবকরা যে সব দেশে। কে এখানে আপনার খোঁজ রাখবে?
ভালো বলেছেন।
২. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৬:৩৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: হুমম...দীর্ঘশ্বাস।


আমাদের ডিপার্টমেন্টের সোসাইটির বলে যাইতে পারি নাই ডিনার সুট বা টাক্স নাই দেইখা! আসলে সাহসে কুলায় নাই এতো ফর্মাল হইতে।
৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৭:০০
comment by: রাগিব বলেছেন: ৫+

তানভীর ভাই, এই ব্যাপারে বেশ কিছু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীর সাথে কথা বলেছি। বেশ কয়েকজনই বেজায় সুখী। দেশে থাকতে গাড়ি ছিলোনা, এখানে নতুন গাড়ি আছে, দেশে হাবিজাবি কাপড় বিক্রি হয়, এদেশে ঝকঝকে নতুন ব্র্যান্ডের কাপড় আছে, দেশে থাকতে দুইতলা টাউনহোম ধাঁচের বাড়ি পাওয়া যেতোনা, এখানে যাচ্ছে - এসব কথা তাঁরা বলেন। চরম বাংলাদেশ বিদ্বেষী এদের অনেকেই বাংলাদেশে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার জোরে এখানে আমদানী হয়েছেন। বিশেষত এখানে মেয়েরা এই সব ব্যাপারে গর্ব বোধ করতে পছন্দ করে।

এদের মধ্যে বসে কথা বার্তা বলতেও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। দেশের গরীব মানুষের টাকায় পড়ে যখন কেউ গাড়ির গল্প করে, কত ডলার যাকাৎ দিলো তার গল্প করে, তখন মাথায় আগুন ধরে যায়। এদেশে ৩য় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকতেও এদের আনন্দ। জানিনা, এই আনন্দটাও অভিনয় কি না।
৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৭:০২
comment by: রাশেদ বলেছেন: আমার কপাল ভালো এই টাইপের লোক কারোর সাথে পরিচয় নাই।
৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৭:০৪
comment by: ইরতেজা বলেছেন: দারুন কথা বলেছেন রাগিব ভাই। আমিও প্রবাসে এসে এই বিষয়গুল দেখেছি। খুবি লজ্জার কথা ৩য় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে রাস্তা সাফ করতেও এদের সংকোচ নেই।
৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৭:৫৮
comment by: রুধীণ বলেছেন: চমৎকার িবষয় ৫। @রাগিব ভাই ধিক তাদের ঐ গরব বোধ কে।
৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:০২
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: রাগিবের কথার সাথে পুরোপুরি একমত।
অর্থই যদি সব সুখ এনে দিতো তবে শান্তি অধরাই রয়ে যেতো।
তবে যে যেটাতে সুখি হয় সে সেটাতেই সুখ খুঁজে পাক।
রাগীব আমার বিশ্বাষ আপনি একদিন অনেক বড় একজন শিক্ষক হবেন , সেটা এমআইটি ও হতে পারে, তবে কোনোদিনই স্কুল হেড বা ডিন হতে পারবেন না হাজার যোগ্যতা থাকা সত্বেও। এই অস্ট্রেলিয়াই তো দেখলাম।
৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:০৭
comment by: জোনাকি বলেছেন: রাগিব ভাই
আপনার সাথে আমি একমত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিশেষ করে মেয়েরা তাদের ভাব দেখলে মনে হয় তারা কোন জনমে বাঙালি ছিল না। তাদের কথা শুনলে মেজাজ কেনো কলিজাও জ্বলে উঠে। আর পোশাকের কথা তো না হয় বাদই দিলাম।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েদের থেকে তারাই মনে হয় আরো বেশী নগ্ন ভাবে চলে। তাদের কে ধিক ধিক ধিক!!!!
৯. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:০৯
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: পথিক ভাই খুব ভালো হয়েছে।৫৫৫৫৫
১০. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৩০
comment by: মানবী বলেছেন: তানভীর, যদিও পোস্টের সকল বক্তব্যের সাথে একমত নই তবু অনেক ভালো লিখেছেন, ধন্যবাদ।

রাগিবের সাথে দ্বিমত করছি, শুধু কিছু বাংলাদেশি নারী নন, পুরুষ ও আছেন এমন। এক জন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আছেন, নিজের সন্তানদের বাংলাদেশি বাচ্চাদের সাথে মিশতে দেননা! টাকা পয়সা, গাড়ি, বাড়ি বা বিদেশে থাকা নিয়ে অহংকার করেন, বা কখনও বাংলাদেশে থাকেননি টাইপ ভাব করেন...এধরনের মানুষদের ব্যাপারে আমার একটি অবজারভেশন আছে! যাঁরা দেশে খুব একটা সন্মানজনক অবস্থায় ছিলেননা, গ্রাম অথবা শহর যেখানেই ছিলেন বন্চনা বা অপমানের মধ্যে ছিলেন তাঁরা সাধারনত হীণমন্যতা থেকে এমনটি করেন। হয়তো অপ্রিয় অতীতকে ভুলে থাকার চেষ্টা।

রাগিব বাংলাদেশি নারীদের সম্পর্কে আর জোনাকি রীতিমতো 'আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি নারী'দের এভাবে ক্যাটেগরাইজ করেছেন :(
১১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৩১
comment by: তানভীর বলেছেন: বাহ। এখানে দেখি এক দফা ভালই আলোচনা হয়েছে!

ঠিকই বলেছ রাগিব। আমি যেখানে ছিলাম, সেখানে অবস্থা ছিল আরো এক কাঠি সরেস। বাংলাদেশী ফ্যাকাল্টিরা, চাকরীজীবিরা দেশী স্টুডেন্টদের দাওয়াত দিত না মূলত ভাবীদের ভয়ে। স্টুডেন্টরা গরীব, তার ওপর বেশীরভাগ ব্যাচেলর। নিজেরাই খাইতে পায় না, ভাবীদের কি দাওয়াত দিবে। তা মহিলাদের ওইখানে ঠাট-বাটই আলাদা। কি আর বলব!
যারা মন্তব্য করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ।

রাশেদ, আহহারে চুক চুক
১২. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৩২
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: অনেকে ছেলে-মেয়ে বাংলায় কথা বলতে পারে না এটা ভেবে গর্ব বোধ করে। নিজেরাও ইংলিশ শেখানোর জন্য বাসায় ইংলিশ বলেন।
নিজের সংস্কৃতি, ভাষা , ধর্ম ইত্যাদি ভুলে এসব ছেলে-মেয়েরা না হয় বাঙালী, না হয় আম্রিকান।
১৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: বিয়ে করার আগে আমারো সেইসব স্টুডেন্টদের অবস্থা ছিলো :-(
মনে হয় সব দেশেই একি অবস্থা ।
১৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪
comment by: তানভীর বলেছেন: মানবী, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি পোস্টের কোন বিষয়ে একমত নন, জানালে ভাল লাগত
১৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৮
comment by: তানভীর বলেছেন: মাহবুব সুমন, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। বিদেশী বাচচাদের ইংরেজী তাও হাল্কা-পাতলা বুঝি, আমাদের সেকেন্ড জেনারেশন ছেলে-মেয়েগুলা এমুন ঢং কইরা ইংরেজী কয়, ইচ্ছা করে গালে চড় দেই।
১৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৪০
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: চড় দিলে পুলিশ ডাকবে :)
তবে অবস্থা সব জায়গাতেই একই রকম।
১৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৪১
comment by: তানভীর বলেছেন: সব দেশে ব্যাচেলর স্টুডেন্টদের অবস্থা মনে হয় একই। তবে আমি ডালাসে যখন প্রথম এসেছিলাম, ওইখানে এমনটা দেখি নি @ মাহবুব সুমন
১৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৪৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: আবার বিয়ের বাজারে ( স্যরি এ শব্দ ব্যবহার করার জন্য ) দামও আছে বিশেষ করে ভালো সাবজেক্টে পড়া, ভালো স্টুডেন্ট বা ভবিষ্যত ভালো এরকম ছাত্র-ছাত্রীর জন্য। প্রচুর দাওয়াত ও পাওয়া যায়........
১৯. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৫২
comment by: প্রাগৈতিহাসিক বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন, চালিয়ে যান।
২০. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৫৭
comment by: মানবী বলেছেন: প্রথমত: "দ্বিতীয়ত, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার কারণে বাঙ্গালী কখনো মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে মিশতে পারে না। আপনি একটা আমেরিকানের সাথে বন্ধুত্ব করবেন, দেখা যাবে আপনার হাজারো সমস্যা- আপনি বারে যেতে পারেন না, ডিঙ্ক করেন না, পোর্ক খান না, হালাল মাংস খোঁজেন। এত বাধ্যবাধকতা নিয়ে এদের সঙ্গে মিশতে আপনি নিজেই সংকোচ বোধ করবেন। "

আমেরিকান কালচারের সব চেয়ে বড় বৈশিষ্ট এর ডাইভার্সিটি। এদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও প্রায়ই বলতে শোনা যায় 'আমেরিকান কালচার বলে তেমন নির্দিষ্ট কিছু নেই। প্রচুর সাব কালচারের সমন্বয়ে আমেরিকান কালচারের সৃষ্টি'। কথাগুলো আসলেই সত্য। আমি আমার কালচার যথাসম্ভব বজিয়ে রেখে চলি, আমেরিকান বা ভীনদেশিদের সাথে মিশতে কখনও সংকোচ বোধ করিনি। তাঁরাও কখনও এমন আচরন করেননি যা আমার অস্বস্তির কারন হয়। তাঁদের মধ্যে অবশ্যই অন্যান্য সাব কালচারের মানুষও নিজেদের স্বকীয়তা বজিয়ে রেখে চলেন।


দ্বিতীয়ত: "বিদেশে যখন আপনি থাকবেন, তখন আপনি মোটামুটি একটা ‘আননোওন এনটিটি’। এখানে আপনি যত কিছুই হোন না কেন, কেউ সেটা পাত্বা দেবে না। অবশ্য আপনি যদি সিনেটর, গভর্ণর বা পাবলিক সেলিব্রিটি হোন সে অন্য কথা। তবে সে পর্যন্ত যেতে বাঙ্গালীর দেরী আছে। " - এই বকতব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই। আমাদের দক্ষিন এশিয়.. আসলে থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশগুলোর সাথে এদের একটি বড় পার্থক্য, আমাদের দেশে আর্মি'র জেনারেল, বড় সরকারী কর্মকর্তা অথবা মোটামুটি ধনাঢ্য ব্যক্তিদের যেভাবে একটি পরিচিত বা বিশেষ খাতির করা হয়, এদেশে তেমন চোখে পড়েনা। যে পেশা বা সামাজিক অবস্থানগুলো উল্লেখ করেছি, সে অবস্থানের কয়েকজন আমেরিকান পরিবারকে ঘনিষ্ঠভাবে চেনার সুযোগ হয়েছে বলেই অমিল চোখে পড়েছে।

তবে আমার অভিজ্ঞতা আর আপনার অভিজ্ঞতা এক হবে এমন নয়! 'আপনার বক্তব্য ভুল' এমন বলতে চাইছিনা, আপনি জানতে চেয়েছেন বলে আমার দ্বিমত টুকু জানালম :) ধন্যবাদ।
২১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৫৮
comment by: তানভীর বলেছেন: হুম, বিয়ের বাজারের আবার অন্য পলিটিক্স ;) ছেলে যখন নতুন আসে তখন খুবই খাতির, দুই দিন পর যখন জানে ছেলের দেশে ইয়ে আছে, তখন আর চিনে না ;)

প্রাগৈতিহাসিক ধন্যবাদ।
২২. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:১৮
comment by: জোনাকি বলেছেন: মানবী
আমার বলাই একটু ভুল রয়ে গেছে। আমি বলতে চেয়েছিলাম কিছু কিছু মেয়েরা বিশেষ করে যারা টিন এজের।
২৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:১৮
comment by: ম স রানা বলেছেন: তানভির ভাই ,খুব ভাল লিখেছেন। আমরা প্রবাসিরা দেশে নেই কিন্তু মন পড়ে আছে দেশে।৫ দিলাম।
@রাগিব ~~ভাই আপনি তো একটা হিট কমেন্ট কইরা বইসা আছেন।সবাই তানভির ভাইলে বাদ দিয়া আপনার টা নিয়া ব্যস্ত।৫আপনাকেও।
আপননি যাদের কথা বলছেন এগুলা ভাই বাংগালী নামের কলংক।ভাবখানা এইরকম,কোন কালে বাংলামূলোকে ছিলেন না।আমি ছোটবেলা থেকে আমার পরিবারে মুরুব্বিদের কাছে একটা প্রবাদ শুনতাম-ছোট লোকের টাকা হইলে আগে কিনে কুত্তার(কুকুর)ছাও।তা এদের দশাও তাই।এরা হচ্ছে নব্য রাজকার! নিজের স্বর্থের জন্য এরা সব কিছু করতে পারে।
জোনাকি বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৮:০৭:০২
আর পোশাকের কথা তো না হয় বাদই দিলাম।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েদের থেকে তারাই মনে হয় আরো বেশী নগ্ন ভাবে চলে।

@জোনাকি~~ছোট লোকের টাকা হইলে আগে কিনে কুত্তার(কুকুর)ছাও।আশা করি আপনি এনসার পেয়ে গেছেন।
মানবী বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩০:২৫
এধরনের মানুষদের ব্যাপারে আমার একটি অবজারভেশন আছে! যাঁরা দেশে খুব একটা সন্মানজনক অবস্থায় ছিলেননা, গ্রাম অথবা শহর যেখানেই ছিলেন বন্চনা বা অপমানের মধ্যে ছিলেন তাঁরা সাধারনত হীণমন্যতা থেকে এমনটি করেন। হয়তো অপ্রিয় অতীতকে ভুলে থাকার চেষ্টা।
@মানবী~~হ্যা ,কিছু আছে তাদেরকে আমরা বলি ছাইকো।এরা কিছু একটা হয়ে ভাবে হায় !হায়! মুই না জানি কি হনুরে। এরা নিজের পাছায় হাত দিয়া নিজেরাই লাগুর পায়না।
আপনার সাথে আমি একবিষয়ে পুরোপুরি একমত না।সেটা হল, মানুষ সবাই ছোট থেকেই বড় হয়। সবাই সোনার চামচ নিয়া জন্মায় না।নিজেই সোনার চামচ জোগাড় করে নেয় যোগ্যতা বলে।
আর যে ব্যাপারে একমত তা হলো-মানুষ কেনো নিজের ঢোল নিজে পিটাবে?আরে ভাই আপনি স্পেশাল কিছু হলে অন্যরাই তা বলবে।খালি কলসী বেশি বাজে আর কি।আপনি সামহোয়ারইনেও কিছু খালি কলসি হয়তো খুজে পাবেন।

২৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:২৪
comment by: মানবী বলেছেন: ম স রানা, ভুল বুঝেছেন। সন্মানজনক ভাবে থাকা মানে 'লাট বাহাদুর' হওয়া নয়। এক জন হত দরিদ্র মানুষও নিজের আত্মসন্মান বজিয়ে রেখে অন্যের কাছে সন্মানিত হতে পারেন। "ছোট থেকে বড় হওয়া"র অর্থ মানুষ হিসেবে ছোট থাকা নয় মনে হয়।
২৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৩২
comment by: রাগিব বলেছেন: @মানবী - দুঃখিত, আমার কমেন্টটাতে একটু জেনারেলাইজেশন হয়ে গেছে, যা হয়তো বাস্তবের অতিরিক্ত। আসলে এখানে নিজে যা দেখি, তাই বলছিলাম। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, এবং ভালোভাবেই আছে, কাজেই blanket generalization করাটা ঠিক হয়নি, দুঃখিত তার জন্য।


মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আমার এক বন্ধু ইমেইল করেছিলো, দেশে ফিরে যাওয়ার মটিভেশন সম্পর্কে জানতে চেয়ে। উনি ১০টার মতো কারণ বলেছিলেন, তার মধ্যে ছিলো, উনার স্ত্রী আমেরিকাতে থাকার জন্য চাপাচাপি করেননি, আর উনার মা-ভাই-বোনেরা উনার মাধ্যমে আমেরিকাতে আসার চেষ্টা করেননি, উনার বাচ্চারা ছোট ছিলো, ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি ও আমার স্ত্রী সব সময় এটাই প্রার্থনা করি, মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতো সুযোগ যেন আমাদের হয়।
২৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৪২
comment by: ম স রানা বলেছেন: সন্মানজনকভাবে বেচে থাকাটা যে কি সেটা ১০০% সঠিক বলেছেন।
আর আমি আসলে ছোট থেকে বড় হওয়া বলতে যা বুঝাতে চেয়েছিলাম তা হলো-মানুষ গরীব ঘরে জন্মাতে পারে, কুলি-মজুর,রিক্সাওয়ালার ছেলে বা মেয়ে হতে পারে।গ্রাম থেকেও হয়তো আসতে পারে।এটা অন্যায় কিছু না।কিন্তু সে যদি নিজের মেধা দিয়ে নিজের জায়গা সমাজে করে নেয় ক্ষতি কি?এর উদাহরন নিতে খুব বেশি অতীতে যেতে হবে না ,বর্তমান সমাজেই আপনি খুজে পাবেন।
২৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৪৫
comment by: মানবী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রাগিব :)

তানভীর, আমি ইউরোপিয়ান দের কাছে শুনেছি.. যখন কোন কিছু করতে আগ্রহী নয় তখন অনেকেই 'ফরবিডেন বাই রিলিজিয়ন' বলে এড়িয়ে যান। শুধু আমাদের ধর্মতো নয়, অন্যান্য ধর্মে যেমন ইহুদী(যদিও তুলনামুলক ভাবে অনেক কম মেনে চলেন), হিন্দু.....তাঁদেরও অনেক কিছু মেনে চলতে হয়। এসব ক্ষেত্রে এই বাক্যটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন, হয়তো অন্য কোন এক্সপ্লানেশনের প্রয়োজন পরবেনা :)
২৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৪৭
comment by: ম স রানা বলেছেন: সরি আমার আগের পোস্ট টা মানবীর জন্য। মেনশন করতে ভুলে গেছি।
২৯. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৪৯
comment by: তানভীর বলেছেন: জোনাকি ধন্যবাদ। ম স রানা বিরাট মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মানবী, আপনি ২য় দ্বিমতটুকু যেখানে করছেন সেটার ব্যাপারে পরবর্তী পুরো প্যারাটুকু নিয়ে পড়তে হবে। আমি আসলে এখানে স্তাবকদের কথা বলতে চেয়েছি। দেশে যেমন অল্পতেই স্তাবকের দল চারপাশে ভীড় করে থাকে, বিদেশে আপনি যত হোমড়া-চোমড়াই হন, একমাত্র মিডিয়ার চোখে আপনি না পড়লে কেউ আপনার দিকে ফিরেও তাকাবে না।
৩০. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৫০
comment by: মানবী বলেছেন: আর আমি আসলে ছোট থেকে বড় হওয়া বলতে যা বুঝাতে চেয়েছিলাম তা হলো-মানুষ গরীব ঘরে জন্মাতে পারে, কুলি-মজুর,রিক্সাওয়ালার ছেলে বা মেয়ে হতে পারে।গ্রাম থেকেও হয়তো আসতে পারে।এটা অন্যায় কিছু না।' - - অবশ্যই অন্যায় নয়। তবে গরীব ঘরে জন্মালে, কুলি মজুরের ছেলে হলে হীণমণ্যতা হতে হবে এমন নয়। আমি আর্থিক সচ্ছল মানুষদের মাঝেও হীণমন্যতা বোধ দেখেছি, আবার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানের মাঝে এই বোধ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত..এমন প্রচুর উদাহরন আছে। ধন্যবাদ ম স রানা।
৩১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৫৮
comment by: তানভীর বলেছেন: ম স রানা বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১০:১৮:৪৩
@রাগিব ~~ভাই আপনি তো একটা হিট কমেন্ট কইরা বইসা আছেন।সবাই তানভির ভাইরে বাদ দিয়া আপনার টা নিয়া ব্যস্ত।
>>
৩২. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:০০
comment by: রাগিব বলেছেন: এখানে প্রবাসী ব্যাচেলর ছেলেপেলেদের যেভাবে বিবাহিত/চাকুরিজীবীদের দাওয়াতে অবহেলা করা হয়, তা বেশ দুঃখজনক। হয়তো দাওয়াতের যোগ বিয়োগের অংকে এদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাবে না, সেটাই অনেকে ধরে।

আর গাড়ি/বাড়ি নিয়ে গল্প ও গর্ব দেখতে দেখতে অসহ্য লাগে। বুয়েটে পাবলিকের ১০ লাখ টাকা খসিয়ে প্রকৌশলী হয়ে যখন এরা প্রবাসী জীবনের জয়গান গায়, গাড়ির গল্প করে, তখন আর বলার কিছু পাইনা।
৩৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:০৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: আর গাড়ি/বাড়ি নিয়ে গল্প ও গর্ব দেখতে দেখতে অসহ্য লাগে। বুয়েটে পাবলিকের ১০ লাখ টাকা খসিয়ে প্রকৌশলী হয়ে যখন এরা প্রবাসী জীবনের জয়গান গায়, গাড়ির গল্প করে, তখন আর বলার কিছু পাইনা।"
দারুন ও একমত
৩৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:০৪
comment by: তানভীর বলেছেন: মানবী, 'ফরবিডেন বাই রিলিজিয়ন' আইডিয়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে 'ফরবিডেন বাই ডক্টর' আমার উদ্ভাবিত এই আইডিয়াটা আমার বেশী পছন্দ
৩৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:০৯
comment by: রাগিব বলেছেন: এই ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যাপার লক্ষ্যণীয়। যেমন, ডঃ ইউনুস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে থেকে গেলে কী হতেন? বড়জোর প্রফেসর, বা ডীন। ব্যাস। বড়জোর একাডেমিক কমিউনিটি, আর দাওয়াতে শরীক হওয়া বাংলাদেশীরা, এরাই চিনতো উনাকে, গাড়ি/বাড়ির সংখ্যা কম হলে সেখানেও পাত্তা পেতেন কম। কিন্তু নিজ দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন বলেই আজ ব্যাপারটা অন্যরকম হয়েছে।

জাফর ইকবাল স্যার লিখেছিলেন, নিজের দেশের জন্য কিছু কাজ করার ব্যাপারটাই আলাদা। দুঃখজনক হলো, অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীর এই রকম চিন্তা ভাবনা থাকেনা।
৩৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:১১
comment by: তানভীর বলেছেন: "হয়তো দাওয়াতের যোগ বিয়োগের অংকে এদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাবে না, সেটাই অনেকে ধরে।" হুমম ঠিক। এবার ঈদে আগের জায়গায় ফোন দিয়েছিলাম। স্টুডেন্টরা এবার নিজেরা পটলাক করছে। কোন ফ্যাকাল্টি/চাকুরীজীবিকে দাওয়াত দেয় নাই। পাল্টাপাল্টি।
৩৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:১৪
comment by: তানভীর বলেছেন: "ডঃ ইউনুস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে থেকে গেলে কী হতেন? বড়জোর প্রফেসর, বা ডীন। ব্যাস। বড়জোর একাডেমিক কমিউনিটি, আর দাওয়াতে শরীক হওয়া বাংলাদেশীরা, এরাই চিনতো উনাকে, গাড়ি/বাড়ির সংখ্যা কম হলে সেখানেও পাত্তা পেতেন কম। কিন্তু নিজ দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন বলেই আজ ব্যাপারটা অন্যরকম হয়েছে।" এগজাক্টলি @রাগিব। এটাই তো এখানকার ফুটানি করা লোকজনদের বলি। কেউ গায়ে মাখে না।
৩৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:২৮
comment by: মানবী বলেছেন: প্রথমে, ইন্টারেস্টিং এই পোস্টের জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন তানভীরকে :)

আলোচনা এখন পুরোপুরি দাওয়াত, আর ছাত্রদের ডিসক্রমিণেট করার দিকে মোড় নিয়েছে! :-) মাহবুব সুমন অবশ্য ব্যাচেলরদের যন্ত্রনা আর বিয়ের বাজার নিয়ে কিছু সময় কাটিয়েছেন! খুব মজার পোস্ট এবং মন্তব্যগুলো :-)

তানভীর, আমার দ্বিতীয় দ্বিমতে এটাই বলতে চেয়েছি যে, যেহেতু আমাদের দেশের মতো এদেশে এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়না বা আলাদা খাতির করা হয়না। আমরা ভীন দেশি বলে নিজেদের বন্চিত মনে করিনা, কারন এই আচরন সবার প্রতিই সমান। আপনার 'স্তাবক' সম্পর্কিত বক্তব্য বুঝতে পেরেছি। আর ফরবিডেন বাই ডক্টরের কিছু সমস্যা আছে, "আপনাকে শারীরিক ভাবে অসুস্থ বা আনফিট ভেবে নিবে :-)"


ছাত্রদের আন্ডার এস্টিমেট করার বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনা। যাঁরা আজ মিলিয়ন ডলার বাড়ি কিনেছেন, দামী গাড়ি চড়ছেন, তাঁরা সবাই কিছু দিন আগে ছাত্র ছিলেন। আজ যাঁরা ছাত্র কাল তাঁদের অবস্থান পাল্টে যাবে; সময়ের ব্যাপার মাত্র...এমন একটি ইনএভিটেবল স্ট্যাটাসের প্রতি অবজ্ঞার কি আছে বুঝতে পারিনা!
৩৯. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৩১
comment by: তানভীর বলেছেন: মানবী বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩০:২৫
এধরনের মানুষদের ব্যাপারে আমার একটি অবজারভেশন আছে! যাঁরা দেশে খুব একটা সন্মানজনক অবস্থায় ছিলেননা, গ্রাম অথবা শহর যেখানেই ছিলেন বন্চনা বা অপমানের মধ্যে ছিলেন তাঁরা সাধারনত হীণমন্যতা থেকে এমনটি করেন।
@মানবী ঠিক বলেছেন। এমন উদাহরণ দেশেও পাবেন। চট্টগ্রামে একজন নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আছেন, যিনি দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলেন। তিনি এখন দরিদ্রদের দিকে ফিরেও তাকান না। একবার এক দরিদ্র ব্যক্তি তার ফি মওকুফ করার কথাতে তিনি বলেছিলেন, 'আমি যখন মেডিকেলে পড়ার খরচ দিতে পারছিলাম না, তখন তুমি কই ছিলা?'
৪০. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৪৬
comment by: তানভীর বলেছেন: মানবী আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ অভিমত ব্যক্ত করার জন্য। সেই সাথে সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যারা এখানে মন্তব্য করেছেন। পোস্টের চাইতে মন্তব্যগুলোই বেশী আকর্ষণীয় হচ্ছে ;)

ফরবিডেন বাই ডক্টরের কিছু সমস্যা আছে, "আপনাকে শারীরিক ভাবে অসুস্থ বা আনফিট ভেবে নিবে :-)" এটা অবশ্য চিন্তা করি নাই। তবে আমি অনেক সুস্থ বিদেশীকেও দেখেছি যারা এলকোহল টলারেট করতে পারেন না। কাজেই ব্যাপারটা মনে হয় অস্বাভাবিক কিছু না। আপনি অবশ্য আমার চেয়ে বেশী জানবেন। তবে আমার নাম এমনই মার্কা মারা ইসলামিক 'ফরবিডেন বাই ডক্টর' বল্লেও সবাই বুঝে নেয় আসল কারণ কি । ধর্মের একটা উপকারিতা এতদিনে খুঁজে পাইলাম
৪১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:০৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: মজার পোস্ট অনেকদিন পর আসলেই।
প্রবাস জীবনের অনেক কিছুই শেয়ার করা যাচ্ছে।

ড্রিংক না করলে ও সেটা ভদ্র ভাবে বল্লে এই খানে কেউ মাইন্ড করে না, এটা দেখেছি। কি কি অজুহাত দেবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যপার।

আর মুসলিম পরিচয় পেলে ভ্রু কুঁচি তেমন দেখতে হয় নি তবে ভেতরে সামান্য পরিবর্তনটুকু অনেকের মাঝেই খুঁজে পেয়েছি , এটা নরমালি নিয়েছি। অনেকেই না বুঝে এটা করে মিডিয়া দ্বারা আতংকিত আর কি। তবে অনেকর বুঝেই!
৪২. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৩
comment by: ম স রানা বলেছেন: তানভীর বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১০:৫৮:৪৬
ম স রানা বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১০:১৮:৪৩
@রাগিব ~~ভাই আপনি তো একটা হিট কমেন্ট কইরা বইসা আছেন।সবাই তানভির ভাইরে বাদ দিয়া আপনার টা নিয়া ব্যস্ত।
@তানভির~~হ্যা ,আমি মনে করি ,সবাই যে আলোচনটা এখন করছে সেটা কিন্তু রাগীব ভাইর মন্তব্যর সূ্ত্র ধরেই।মোড়টা কিন্তু ওখান থেকেই ঘুরেছিলো।

৪৩. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৩
comment by: ম স রানা বলেছেন: মানবী বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১০:৫০:১৭
- - অবশ্যই অন্যায় নয়। তবে গরীব ঘরে জন্মালে, কুলি মজুরের ছেলে হলে হীণমণ্যতা হতে হবে এমন নয়। আমি আর্থিক সচ্ছল মানুষদের মাঝেও হীণমন্যতা বোধ দেখেছি, আবার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানের মাঝে এই বোধ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত..এমন প্রচুর উদাহরন আছে। ধন্যবাদ ম স রানা।
@মানবী~~ আপনার এইবারে লেখার সাথে আমি একমত। প্রত্যেক মানুষ ই আলাদা ।আলাদা স্বত্বা ।তবে দেখুন আপনার লেখা তানভীর ভাই কিভাবে কোট করছে---তানভীর বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১১:৩১:৫০
মানবী বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩০:২৫
এধরনের মানুষদের ব্যাপারে আমার একটি অবজারভেশন আছে! যাঁরা দেশে খুব একটা সন্মানজনক অবস্থায় ছিলেননা, গ্রাম অথবা শহর যেখানেই ছিলেন বন্চনা বা অপমানের মধ্যে ছিলেন তাঁরা সাধারনত হীণমন্যতা থেকে এমনটি করেন।
@মানবী ঠিক বলেছেন। এমন উদাহরণ দেশেও পাবেন। চট্টগ্রামে একজন নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আছেন, যিনি দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলেন। তিনি এখন দরিদ্রদের দিকে ফিরেও তাকান না। একবার এক দরিদ্র ব্যক্তি তার ফি মওকুফ করার কথাতে তিনি বলেছিলেন, 'আমি যখন মেডিকেলে পড়ার খরচ দিতে পারছিলাম না, তখন তুমি কই ছিলা?'





৪৪. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৮
comment by: ম স রানা বলেছেন: তানভীর বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩১:৩৬
আমি যেখানে ছিলাম, সেখানে অবস্থা ছিল আরো এক কাঠি সরেস। বাংলাদেশী ফ্যাকাল্টিরা, চাকরীজীবিরা দেশী স্টুডেন্টদের দাওয়াত দিত না মূলত ভাবীদের ভয়ে।
@তানভীর ~~কেনো ভাবিদের ভয়ে দাওয়াত দিত না?
তানভীর বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩১:৩৬

স্টুডেন্টরা গরীব, তার ওপর বেশীরভাগ ব্যাচেলর। নিজেরাই খাইতে পায় না, ভাবীদের কি দাওয়াত দিবে।
*******ঠিক বুঝলাম না ? একটু খোলাশা কইরা বলবেন?
৪৫. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১
comment by: ম স রানা বলেছেন: মাহবুব সুমন বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩২:৫৯
অনেকে ছেলে-মেয়ে বাংলায় কথা বলতে পারে না এটা ভেবে গর্ব বোধ করে। নিজেরাও ইংলিশ শেখানোর জন্য বাসায় ইংলিশ বলেন।
নিজের সংস্কৃতি, ভাষা , ধর্ম ইত্যাদি ভুলে এসব ছেলে-মেয়েরা না হয় বাঙালী, না হয় আম্রিকান~~
~~~এ ক্ষেত্রে মা-বাবার দোষটাই বেশি।এইসব মা-বাবার জন্য আমার করুনা হ্য়।দেখুন,অস্ট্রেলিয়াতে লেবনিজরা আর যাই হোক নিজেদের ভাষা ,কালচার কিন্তু এরা ভুলে নাই।কারন তাদের বাপ-মা এগুলো শিখাইছে।
এখানে ২য় জেনারশনের দোষ দিয়া লাভ নাই।ওদের জন্ম এই দেশে,এটাই ওদের ভাষা।ওরা এটা বলতে ইজি ফিল করে যেমন আমরা যতই ইংলিশে ভাল হই না কেন আমরা কিন্তু আড্ডা বাংলায়ই মারব।বাংলায় যেভাবে আড্ডা মেরে শান্তি পাব ,কোন কিছু বুঝাইতে পারব ততটা ইংলিশে পারব না।সুতরাং দিয়ত্বটা বাপ-মার নিতে হবে।


৪৬. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:০৮
comment by: ম স রানা বলেছেন: @ আপনাকে লেখা ১ম লেখায় আমি বোধ হয়, উদাহনরগুলোর ভাষা একটু খারাপ ভাবেই লিখে ফেলেছিলাম।দুঃখিত।কি করব বলুন ,না লিখে তো পারলাম না।
৪৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:১১
comment by: রাগিব বলেছেন: বিদেশে জন্ম নেয়া বাচ্চাদের বাংলা বলতে শেখানো বাবা -মা'র উচিৎ। চীনা বাচ্চাদের এটা সবসময় করতে দেখি ... আমার দেখা সব মার্কিনী চীনা (মানে এখানে জন্মানো) বাবা মায়ের সাথে কথা বলার সময়ে অন্তত অনর্গল চীনা ভাষায় কথা বলে। অবশ্য চীনারাও বাচ্চাদের সাথে কখনোই ইংরেজি বলেনা।

যাহোক, খারাপ লাগে যখন বাংলাদেশে আজীবন কাটিয়ে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ্যে বাঙালিদের অনুষ্ঠানের মধ্যে (কোনো বিদেশী না থাকলেও) ঢং করে ইংরেজি বলে। ইংলিশ মিডিয়ামেরও না, এরা অনেকে বাংলা মিডিয়ামে আজীবন পড়েও এই দশা। "বাংলাদেশের জমিরুদ্দিন, আমেরিকায় সাজে মিস্টার জনি" গানটা আছে না ... ঐরকম।
৪৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:২২
comment by: রাগিব বলেছেন: @মানবী

দুঃখজনক হলেও ছাত্রদের আর চাকুরিজীবীদের মধ্যে এই ব্যাপারটা থেকেই যায় ... এই চাকুরিজীবীরা মাত্র বছর খানেক আগে ছাত্রত্ব শেষ করলেও এরকম হয়। বেশ কিছু বাঙালিপাড়ার সব খানেই একই অবস্থা , আমি এই গ্রীষ্মে ক্যালিফোর্নিয়াতেও এটা খুব স্পষ্ট ভাবে দেখেছি।

ছাত্রাবস্থায় অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার জীবনধারার সাথে এসব চাকুরিজীবীদের বাড়ি-গাড়ির গল্পে, কতো শ-ডলার যাকাত দেয়া হলো - এসবের মধ্যে একটা সুক্ষ্ণ পার্থক্য থেকেই যায়।
৪৯. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:০৫
comment by: ম স রানা বলেছেন: রাগিব বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১৩:১১:৩৩
খারাপ লাগে যখন বাংলাদেশে আজীবন কাটিয়ে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছেলেমেয়েরা নিজেদের মধ্যে বাঙালিদের অনুষ্ঠানের মধ্যে (কোনো বিদেশী না থাকলেও) ঢং করে ইংরেজি বলে। ইংলিশ মিডিয়ামেরও না, এরা অনেকে বাংলা মিডিয়ামে আজীবন পড়েও এই দশা। "বাংলাদেশের জমিরুদ্দিন, আমেরিকায় সাজে মিস্টার জনি" গানটা আছে না ... ঐরকম।
~~~~~~হা ভাই এই রকম ফটকা কিছু অস্ট্রেলিয়াতেও আছে।তাদের দশা হলো তেলাপোকা পাখি হইয়া আকাশের চান ধরতে চায়।তারা দেশে ফোন করে মা-বাবা,ভাই-বোন কিংবা বন্ধুদের সাথে ইংলিশ কপচায়।কিন্তু দেখা যায় বাপ-মা ইংলিশের ই ও জানেনা ,ছেলে সমানে ইংলিশ বলে যাচ্ছে।হায়রে বাংগাল!


৫০. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৪৩
comment by: তানভীর বলেছেন: ম স রানা বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ১২:২৩:৫৭
@তানভির~~হ্যা ,আমি মনে করি ,সবাই যে আলোচনটা এখন করছে সেটা কিন্তু রাগীব ভাইর মন্তব্যর সূ্ত্র ধরেই।মোড়টা কিন্তু ওখান থেকেই ঘুরেছিলো।

@ ম স রানা, আমিও একমত। রাগিব বস লোক, পোস্ট করলেও হিট, কমেন্ট করলেও । রাগিবকে ধন্যবাদ, সেই সাথে আপনাকেও।

ম স রানা বলেছেন :
@তানভীর ~~কেনো ভাবিদের ভয়ে দাওয়াত দিত না?
রাগিবের কমেন্টটাই আবার পড়ে দেখুন-- "দাওয়াতের যোগ বিয়োগের অংকে এদের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাবে না" এটাই মনে হয় প্রধান কারণ
তানভীর বলেছেন :
২০০৭-১০-১৮ ০৯:৩১:৩৬
স্টুডেন্টরা গরীব, তার ওপর বেশীরভাগ ব্যাচেলর। নিজেরাই খাইতে পায় না, ভাবীদের কি দাওয়াত দিবে।
*******ঠিক বুঝলাম না ? একটু খোলাশা কইরা বলবেন?
যোগ-বিয়োগের অংকে আপনাকে দাওয়াত দিলে, আপনারও তো দাওয়াত দিতে হবে। ব্যাচেলর-রা তো অনেকে রান্না-বান্নাই করে না, করলেও কষ্টে-সৃষ্টে। দাওয়াত দেয়া তো অনেক পরের কথা। @ ম স রানা

যারা মন্তব্য এবং আলোচনা করেছেন, তাদের সবাইকে আবারো ধন্যবাদ। আশা করি, পরের পর্ব শীঘ্রই দিতে পারব।


৫১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৫৭
comment by: ম স রানা বলেছেন: @ তানভীর-হুমম্ বুঝলাম।
৫২. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:১২
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: তানভীরের অবজারভেশন ভালো। আর এখানে আলোচনাও বেশ ভালো হয়েছে। উপভোগ করলাম।
৫৩. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪০
comment by: তানভীর বলেছেন: ধন্যবাদ, ফাহমিদুল হক।
৫৪. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৭
comment by: মদন বলেছেন: চমতকার পোষ্ট এবং আলোচনা।
সবাইকে ৫+
৫৫. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:২২
comment by: তানভীর বলেছেন: মদন, ধন্যবাদ। সবার পক্ষ থেকেও

 



 


ফুরায় বেলা, ফুরায় খেলা, সন্ধ্যা হয়ে আসে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১১৯৭৫