somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ঘূর্নিঝড় সিডরঃ ভোর ৬ টার আপডেট (স্যাটেলাইট ছবি) ====================
আপডেট সময়ঃ ভোর ৬ টা (বাংলাদেশ সময়)


রাত ৩ টার আপডেট অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রটি রাত ১২ টার সময় বরিশাল উপকূল অতিক্রম করছিল। এটি এখনো ক্যাটাগরি তিন শক্তিসম্পন্ন (১৯৪ কিমি/ঘন্টা বা ১০৫ নট)। আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে এটি ক্যাটাগরি এক এ পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিলেট হয়ে এটির বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করা কথা।

জলোচ্ছ্বাস কত উচুঁ হয়েছে এই আপডেটে আসে নি। এখনো পর্যন্ত একজন নিহত ও ১৬ জন নিখোঁজ (বিডিনিউজ)

লিঙ্কঃ

ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ডে ঘূর্নিঝড় সিডর ব্লগ

এই লিঙ্ক-এ ঘূর্নিঝড়ের এনিমেশন দেখুন

তথ্যসূত্রঃ
==============
জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ
বিডিনিউজ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745815 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745815 2007-11-16 03:30:15
আপডেটঃ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে বাংলাদেশ!!- পূর্বাভাস ০৫ ====================
আপডেট সময়ঃ ১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টা (বাংলাদেশ সময়)

(দেরী হওয়ার জন্য দুঃখিত যারা অপেক্ষায় ছিলেন)

বিকাল ৩ টার আপডেট অনুযায়ী, অবস্থা ভয়াবহ। এটি এখন ক্যাটাগরি ‘পাঁচ’ হারিকেনে পরিণত হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১৩৫ নট বা ২৫০ কিমি। ঝড় আরো দ্রুতবেগে ঘন্টায় ২৮ কি মি গতিতে খুলনা উপকূলের দিকে আসছিল। গতিপথ দেখে মনে হচ্ছে এটা এখন সুন্দরবনের ওপর দিয়ে যাবে। আসুন, সবাই প্রার্থনা করি

বিকাল ৩ টায় হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ‘SIDR’ যার সাংকেতিক নাম ০৬ বি বাংলাদেশ উপকূল থেকে দক্ষিণ ভারতের কলকাতা শহর থেকে ৩৭০ কিমি (২০০ নটিক্যাল মাইল) দক্ষিণে বংগোপসাগরে অবস্থান করছিল।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আজ রাত ১২ টার আগেই খুলনা উপকূল অতিক্রম করার কথা।

ঘূর্নিঝড় কেন্দ্রের আশেপাশে জলোছ্বসের উচচতা এখনো ৪০ ফুট।

পরবর্তী আপডেট আর ২ ঘন্টা পরে দেব আশা করছি রাত ৯ টায় (বাংলাদেশ সময়)


এই লিঙ্ক-এ ঘূর্নিঝড়ের এনিমেশন দেখুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ জনস্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রদান করা হইল। পুর্বাভাসের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার এবং ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ-এর।


তথ্যসূত্রঃ
==============

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745746 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745746 2007-11-15 18:43:54
আপডেটঃ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে বাংলাদেশ উপকূলে!!- পূর্বাভাস ০৪ ====================
আপডেট সময়ঃ ১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা (বাংলাদেশ সময়)

নতুন আপডেট অনুযায়ী, অবস্থা আরেকটু খারাপ হয়েছে। ঝড় আরো দ্রুতবেগে ঘন্টায় ২২ কি মি গতিতে উপকূলের দিকে আসছে। এরকম চললে ১৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১৬ নভেম্বর ভোর ৬ টার মধ্যবর্তী সময়ে ঘূর্নিঝড়টি বাংলাদেশ তথা খুলনা উপকূল অতিক্রম করবে।

হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ‘SIDR’ যার সাংকেতিক নাম ০৬ বি বর্তমানে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯ টায়) বাংলাদেশ উপকূল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারতের কলকাতা শহর থেকে ৫৩৭ কিমি (৩৩৪ মাইল বা ২৯০ নটিক্যাল মাইল) দক্ষিণে বংগোপসাগরে অবস্থান করছে।

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ দেখা গেছে বর্তমানে এর বাতাসের গতিবেগ আগের পূর্বাভাসের মতই আছে অর্থাত ঘন্টায় ২৪০ কিমি বা ১৫০ মাইল (১৩০ নট)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী এটি এখনো ক্যাটাগরি ‘চার’ মাত্রার হারিকেন। এটি বর্তমানে ঘণ্টায় ১৭ কিমি গতিতে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অর্থাত এটি আগের চেয়ে আরো দ্রুত বেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। (আগে ছিল গতিবেগ ঘন্টায় ১৩ কিমি)

বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১৫০ কিমি থেকে ২০৩ কিমি থাকতে পরে অর্থাত এটি ক্যাটাগরি দুই বা তিন মাত্রার শক্তিশালী হারিকেন হিসেবে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে, যা বেশ ভয়ংকর। উল্লেখ্য, হারিকেন ক্যাট্রিনা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সময় ক্যাটাগরি তিন মাত্রার ছিল।

মূল পূর্বাভাসের কিছু অংশ এখানে দিলাম---

150300Z POSITION NEAR 18.4N 89.2E.
TROPICAL CYCLONE (TC) 06B (SIDR) LOCATED APPROXIMATELY 290 NM SOUTH OF CALCUTTA, INDIA, HAS TRACKED NORTHWARD AT 12 KNOTS OVER THE PAST 06 HOURS.

THE TRACK AND INTENSITY REASONING HAS NOT CHANGED SINCE THE LAST FORECAST. THE STORM IS EXPECTED TO CONTINUE TRACKING NORTHWARD UNTIL MAKING LANDFALL IN WESTERN BANGLADESH.

MAXIMUM SIGNIFICANT WAVE HEIGHT AT 150000Z IS 40 FEET.

এই লিঙ্ক-এ ঘূর্নিঝড়ের এনিমেশন দেখুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ জনস্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রদান করা হইল। পুর্বাভাসের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার এবং ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ-এর।


তথ্যসূত্রঃ
==============

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745629 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745629 2007-11-15 10:17:31
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে বাংলাদেশ উপকূলে!!- পূর্বাভাস ০৩ ====================
আপডেট সময়ঃ ১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩ টা (বাংলাদেশ সময়)


হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ‘SIDR’ যার সাংকেতিক নাম ০৬ বি বর্তমানে বাংলাদেশ উপকূল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারতের কলকাতা শহর থেকে ৩৫৫ নটিক্যাল মাইল অর্থাত ৬৫৭ কিমি দক্ষিণে বংগোপসাগরে অবস্থান করছে।

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ দেখা গেছে বর্তমানে এর বাতাসের গতিবেগ আগের পূর্বাভাসের মতই আছে অর্থাত ঘন্টায় ২৪০ কিমি বা ১৫০ মাইল (১৩০ নট)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী এটি এখনো ক্যাটাগরি ‘চার’ মাত্রার হারিকেন। এটি বর্তমানে ঘণ্টায় ১৭ কিমি গতিতে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অর্থাত এটি আগের চেয়ে আরো দ্রুত বেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। (আগে ছিল গতিবেগ ঘন্টায় ১৩ কিমি)

গুয়ামে অবস্থিত আমেরিকার জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টারের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি এখন বাংলাদেশ সময় ১৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ১২ টা (আগামীকাল রাত) থেকে ১৬ নভেম্বর শুক্রবার বেলা ১২ টার মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশ তথা খুলনা উপকূল অতিক্রম করবে। বর্তমান পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে এটির গতিপথ আবার পশ্চিম দিকে কিছুটা সরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১৫০ কিমি থেকে ২০৩ কিমি থাকতে পরে অর্থাত এটি ক্যাটাগরি দুই বা তিন মাত্রার শক্তিশালী হারিকেন হিসেবে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে, যা বেশ ভয়ংকর। উল্লেখ্য, হারিকেন ক্যাট্রিনা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সময় ক্যাটাগরি তিন মাত্রার ছিল।

আজকে রাত ১২ টার সময় সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের উচচতা ছিল ৪০ ফুট!!! এই ঘূর্নিঝড়টি ১৯৭০ সালের ১২ ই নভেম্বর-এর মত ভয়াবহও হতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।

মূল পূর্বাভাস থেকে এখানে কিছুটা উল্লেখ করলাম- THE STORM IS EXPECTED TO CONTINUE TRACKING NORTHWARD UNTIL MAKING LANDFALL IN WESTERN BANG-
LADESH. MAXIMUM SIGNIFICANT WAVE HEIGHT AT 141800Z IS 40 FEET.


[wjsK= Click This Link লিঙ্ক-এ ঘূর্নিঝড়ের এনিমেশন দেখুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ জনস্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রদান করা হইল। পুর্বাভাসের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার এবং ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ-এর।


তথ্যসূত্রঃ
==============

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745610 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745610 2007-11-15 05:19:15
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে বাংলাদেশ উপকূলে!!- পূর্বাভাস ০২ ====================
আপডেট সময়ঃ ১৪ নভেম্বর, বুধবার রাত ৯ টা (বাংলাদেশ সময়)

হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ‘SIDR’ যার সাংকেতিক নাম ০৬ বি বর্তমানে বাংলাদেশ উপকূল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারতের কলকাতা শহর থেকে ৪০৫ নটিক্যাল মাইল অর্থাত ৭৫০ কিমি দক্ষিণে বংগোপসাগরে অবস্থান করছে।

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বর্তমানে এর বাতাসের গতিবেগ নির্ণয় করা হয়েছে ঘন্টায় ২৪০ কিমি বা ১৫০ মাইল (১৩০ নট)। অর্থাত যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী এটি এখনো ক্যাটাগরি ‘চার’ মাত্রার হারিকেন এবং আগের চেয়ে এর বাতাসের গতিবেগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বর্তমানে ঘণ্টায় ১৩ কিমি গতিতে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

গুয়ামে অবস্থিত আমেরিকার জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টারের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী (প্রথম চিত্র) এটি এখন বাংলাদেশ সময় ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৬ টার মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশ তথা খুলনা উপকূল অতিক্রম করবে। আগের পূর্বাভাসের ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অবস্থান থেকে কিছুটা পূর্বদিকে সরে গিয়ে বর্তমান পূর্বাভাসে পুরোপুরি বাংলাদেশ উপকূল দেখানো হচ্ছে।

আগের পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়টি খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে বলা হলেও বর্তমান পূর্বাভাসে আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এটি তেমন দুর্বল হবে বলে বলা হচ্ছে না, যা আশংকাজনক। আমি পূর্বাভাস থেকে এখানে হুবহু উল্লেখ করছি - THE CURRENT FORECAST CALLS FOR A LESS-PRONOUNCED WEAKENING PRIOR TO LANDFALL THAN THE PREVIOUS FORECAST.

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রমের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১৫০ কিমি থেকে ২০৩ কিমি থাকতে পরে অর্থাত এটি ক্যাটাগরি দুই বা তিন মাত্রার শক্তিশালী হারিকেন হিসেবে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে, যা বেশ ভয়ংকর। উল্লেখ্য, হারিকেন ক্যাট্রিনা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার সময় ক্যাটাগরি তিন মাত্রার ছিল।

উপকূলীয় অঞ্চলে জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর জন্য সরকার এবং জনসাধারণের তড়িত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করছি।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ জনস্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রদান করা হইল। পুর্বাভাসের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার এবং ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ-এর। পরবর্তী আপডেট
বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টা, বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫।


তথ্যসূত্রঃ
==============

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745521 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745521 2007-11-14 22:03:11
বাংলাদেশের জন্য ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ পূর্বাভাস ====================
(সাময়িক পোস্ট)

হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ‘SIDR’ যার সাংকেতিক নাম ০৬ বি বর্তমানে (বাংলাদেশ সময় ১৪ই নভেম্বর, বুধবার সকাল ৯ টায়) বাংলাদেশ উপকূল থেকে কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারতের কলকাতা শহর থেকে ৫০০ নটিক্যাল মাইল অর্থাত ৯২৬ কিমি দক্ষিণে বংগোপসাগরে অবস্থান করছে।

স্যাটেলাইট চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বর্তমানে এর বাতাসের গতিবেগ নির্ণয় করা হয়েছে ঘন্টায় ২১২ কিমি বা ১৩২ মাইল (১১৫ নট)। অর্থাত যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্কেল অনুযায়ী এটি একটি ক্যাটাগরি ‘চার’ মাত্রার হারিকেন যা অতি ভয়ংকর। এটি বর্তমানে ঘণ্টায় ১২ কিমি গতিতে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

গুয়ামে অবস্থিত আমেরিকার জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টারের মডেল অনুযায়ী (প্রথম চিত্র) এটি ১৬ নভেম্বর ০০ জুলু টাইম অর্থাত বাংলাদেশ সময় ১৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৬ টার কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ তথা খুলনা অঞ্চল অতিক্রম করতে পারে।

আশার কথা, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টির প্রকৃতি ভয়ংকর হলেও মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী বিরাজমান আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে; বিশেষ করে 18N (১৮ ডিগ্রী নর্থ) এর পরে এটি খুবই দুর্বল হয়ে পড়ার কথা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৬ টার দিকে এর গতিবেগ ঘন্টায় ১৩০ কিমি বা ৮০ মাইল (৭০ নট) –এর কাছাকাছি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাত তখন ঘূর্ণিঝড়টি ক্যাটাগরি এক মাত্রার মোটামুটি দুর্বল ঝড়ে পরিণত হবে এবং সুন্দরবন এলাকা দিয়ে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারে।

আশা করছি, সরকার জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর জন্য তড়িত পদক্ষেপ নেবেন।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ জনস্বার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রদান করা হইল। পুর্বাভাসের দায়দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার এবং ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ-এর।

তথ্যসূত্রঃ
==============

জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্ণিং সেন্টার
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745344 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745344 2007-11-14 10:27:41
ইউনিভার্সাল স্টুডিও- রূপালী পর্দার অন্তরালে একদিন ০১
স্টুডিওতে ঢোকার আগেই মন খারাপ। মেলা টাকা টিকেটের পেছনেই বের হয়ে গেল। কে যেন একবার বলেছিল, আমেরিকার সিস্টেমটা এমনই এখানে টাকা যতই ইনকাম কর না কেন, সেটা আবার এখানেই খরচ হয়ে যাবে। পকেট খসানোর সব ধান্ধাবাজিই এখানে করা হয়েছে। গেটের সামনে বিশাল গ্লোবটা পার হয়ে কমপ্লেক্সের ভিতরে ঢুকতেই দেখি মেরিলিন মনরো আপা (নকল) তার বিখ্যাত বাতাসে উড়া ফ্রক (ওই যেটা নীচে দিয়ে বাতাস দেয়) পড়ে সবার সাথে পোজ দিয়ে ছবি তুলছেন। আমার গ্রুপের সবাই মেরিলিন মনরোর সাথে ছবি তোলার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ল। আমারো ছবি তোলার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু ছবি তোলার সময় আফা যেভাবে আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছেন তাতে ভয় পেয়ে আর তুললাম না।

ছবি তোলা শেষ হলে আমরা প্রথম গেলাম টারমিনেটর-টু ছবির স্টুডিওতে। এক সময় শোয়ার্জনেগারের এই ছবিটা আমার খুব প্রিয় ছিল। শো এর আগে একটা ফাটাফাটি ডেমো দিল। ডেমো দেখেই ভড়কায়ে গেলাম, না জানি শো কেমন হবে। কিন্তু শো গতানুগতিক, টারমিনেটর মুভি থ্রি-ডিতে দেখালো কিছুক্ষণ, তারপর হঠাৎ স্ক্রীণের ভিতর থেকে নকল শোয়ার্জনেগার মোটর সাইকেল নিয়ে বের হয়ে এসে সোহেল রানা স্টাইলে মারামারি করল। মারামারি শেষে আবার স্ক্রিণে ঢুকে গেল।

এরপর গেলাম ‘শ্রেক’ দেখতে। স্টুডিওর বাইরেই শ্রেক আর ডাঙ্কি সবার সাথে পোজ দিয়ে ছবি তুলছে। পিচচি-পাচ্চাদের ওইখানে বেজায় ভিড়। কাছেই যাওয়া যায় না। এইখানেও ডেমোটা ভাল লাগল। শোটাও ভাল। শ্রেকের গল্পটা এখানে শ্রেক মুভিগুলোর চেয়ে অন্যরকম। দেখানো হল আবার ফোরডি-তে। ফোরডি মানে হল থ্রি-ডি মুভির সাথে কিছু কিছু অনুভূতির বাস্তব এফেক্ট দেয়। যেমন পায়ের নীচে দিয়ে ইঁদুরের পাল যাচ্ছে, তখন সীটের নীচে বাতাস দেয়, মনে হবে সত্যি সত্যি আপনার পায়ের উপর দিয়ে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে। সিনেমায় পানি ছিটকে পড়ার দৃশ্য আছে, আপনার গায়েও সামনের সিট থেকে তখন পানি এসে পড়বে, যেন আপনিই সিনেমার ভেতরেই আছেন। ফোরডি মুভি আমি আগেও দেখেছি স্যান এন্টোনিওর সি-ওয়ার্ল্ডে। আমার খুবই গা ঘিনঘিন লাগে এইসব এফেক্ট যখন দেয়। ‘আছিলাম বোকা, হইলাম বুদ্ধিমান’-এবার আর ভুল করলাম না। আগেই সিটের ওপর পা তুলে বসলাম যেন নীচে কিছু করতে না পারে, আর সিটের সামনে ফুটা খুঁজে কাগজ দিয়ে বন্ধ করে দিলাম, যেন পানি বের না হয়। কিন্তু বেশী লাভ হল না। এইবার পানির ছিটা দিল ছাদ থেকে। মুভিতে একটা দৃশ্য আছে শ্রেক আর ডাঙ্কিকে রাজার লোক তাড়া করছে, আর বেচারারা একটা ভাঙ্গা গাড়িতে চড়ে পালাচ্ছে। আমরা দর্শকরাও শ্রেকের সাথে গাড়ীতে দৌড়াতে লাগলাম। আমাদের চেয়ারগুলো বিকট শব্দে নড়াচড়া করে আর ঝাঁকি দিয়ে দৌড়ানোর এফেক্ট দিল। ঝাঁকি খাইতে খাইতে মনে মনে কইলাম, এত বুদ্ধি কইরা এমনি ধরাটা খাইলাম!

শ্রেক দেখা শেষ করে গেলাম ‘আর্থকোয়েক’ নামের একটা স্টুডিওতে। এইটাও খুব ভাল লাগল। এইখানে কাহিনী হচ্ছে আমরা একটা সাবওয়ে বা পাতাল রেলের যাত্রী। একদম সত্যি সত্যি, কোন মুভি না। টার্মিনাল দিয়ে ঢুকে আমরা একটা সাবওয়েতে উঠলাম। ট্রেন চলার পর ওইখানে নাকি একটা বিশাল ভূমিকম্প হবে। ট্রেনে উঠে আমি আল্লাহ-আল্লাহ শুরু করলাম কি হয় না হয়। ট্রেন প্রথমে ভালই চলছিল। একটু পরে বিশাল কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেল। বিদ্যুত চলে গেল। আশেপাশের সব কিছু ভেঙ্গে পড়তে লাগল। কোত্থেকে ফাটল দিয়ে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের মত বন্যার পানিও চলে আসল। আমি ভয়ে চোখ ছোট করে আশে পাশে দেখছি আর দাঁতে দাঁত চেপে ট্রেনের ঝাঁকুনি সহ্য করছি- ‘ব্যাটারা তাড়াতাড়ি তামাশা বন্ধ কর, আর সহ্য হইতাছে না’। অবশেষে একসময় ভূমিকম্প থামল। আমরা সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। তবে আলো আসার পর যা দেখলাম তাতে খুবই হাসি পেল। বড় বড় যেসব পাথর ভেঙ্গে পড়ছিল দেখেছিলাম, ওইগুলা আসলে শোলার তৈরী। আর বন্যার পানি যেটাকে মনে করেছিলাম, ওইটা দেখলাম বাগানে পানি দেয়ার পাইপ দিয়ে ফাটলের মাঝখান থেকে পানি দিয়েছে। ভালই স্পেশাল এফেক্ট!

(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745255 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28745255 2007-11-13 22:09:55
লায়ন...!
বাপ-মায়ের দেয়া নাম ওর কেউ মনে রাখে নি। সিংহের মত নির্ভীক ছেলেটা নিজেই পছন্দ করে নিজের নাম রেখেছিল লায়ন। সেটাই ছড়িয়ে গেল দিগ্বিদিক। পার্বতীপুরের অজ পাড়া গাঁ থেকে এসে ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’- এর মত রুপকথার গল্পকেও হার মানিয়ে সে নিমেষে বুয়েট জয় করে নিল।

লায়নের সাথে প্রথম দেখা হওয়ার দিনটা এখনো মনে আছে! হল থেকে আমরা অনেকেই গিয়েছিলাম নিউমার্কেটে বইয়ের দোকানের সামনে আড্ডা দিতে। তখন সবাই নতুন, অনেককেই চিনি না। লায়ন নিজে এসেই পরিচিত হল... ‘বন্ধু, তোর নাম কি?’ প্রথম কথাতেই এমন ‘তুই’ করে বলতে আমি আর কাউকে দেখি নি! নজরুল হলে ঘন ঘন যেতাম, লায়নের সাথেও তাই প্রায়ই দেখা হত, আড্ডা হত। যদিও আমাদের আড্ডা কিছুক্ষণ পরেই গানের আসর হয়ে যেত। আর তার মধ্যমণি লায়ন। জেমস-এর গান এত ভাল জেমসও গাইতে পারে কি না আমার সন্দেহ (আজকে না হয় একটু বাড়িয়েই বল্লাম)। বিশেষ করে হলে বিদ্যুত চলে গেলে লায়ন যখন উদাত্ত কন্ঠে গান ধরত, সে মূহুর্তগুলো এখনো স্বপ্নের মত মনে হয়।

আমাদের ব্যাচ ঢোকার কিছুদিন পরেই ইউকসু ইলেকশন হল। হাসিব ভাইয়ের প্যানেল থেকে লায়ন দাঁড়াল আপ্যায়ন সম্পাদক হিসেবে। প্রথম বর্ষের কেউ এসে সরাসরি ইউকসু ইলেকশন করতে বুকের পাটা লাগে। লায়নের তাতে কমতি ছিল না। ইলেকশনে এক সিনিয়র ভাইকে হারিয়ে দিল তো বটেই, সবচাইতে বেশী ভোটের ব্যবধানেও জিতল! আমার এখনো ভাবতে মজাই লাগে, ওই সিনিয়র ভাইয়ের কাছ থেকে মেলা টাকা খেয়ে , আমরা সবাই ভোটটা লায়নকেই দিয়েছিলাম।

লায়নের সেই হল উত্থান। ইলেকশনে জেতার পরে অনেককেই বদলে যেতে দেখেছি। লায়নকে দেখি নি। ক্যাম্পাসে কিছুটা ফরমাল থাকলেও হলে সেইরকম আন্তরিক। কিন্তু, এই এত জনপ্রিয়তাই লায়নের কাল হল! ’৯৮-এ বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর হল। আমাদের সাধের ক্যাম্পাস কারা যেন গুঁড়ো গুঁড়ো করে পিষে ফেলল। এটাও একটা হতভম্ব হওয়ার মত দিন। একটা কাঁচও মনে হয় সেদিন ক্যাম্পাসে আস্ত ছিল না! কর্তপৃক্ষ আরো অনেকের সাথেই লায়নকে দোষী সাব্যস্ত করল। লায়ন ঐ ঘটনায় আসলে জড়িত ছিল নাকি পরিস্থিতির শিকার এটা আমি জানি না। তবে স্যারদের একবার রোষানলে পড়লে যে আর রেহাই নেই, সেটা লায়ন হাড়ে হাড়ে টের পেল। ওকে মনে হয় দু’-এক টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। আরো শুনলাম, লায়ন পরীক্ষা দিলে ইচ্ছে করেই স্যাররা ফেল করিয়ে দিত। আমাদের যখন ফোর্থ ইয়ার শেষের পথে, লায়নের তখনো আরো ১০০ ক্রেডিট শেষ করা বাকী! যতটুকু জানি, লায়ন মোটেও সচ্ছ্বল পরিবারের সন্তান নয়। পরিবার থেকেও পড়াশুনা তাড়াতাড়ি শেষ করে সংসারের হাল ধরার একটা চাপ ছিল। এসব চাপে, রাজনীতি ইত্যাদির নানামুখি চাপে লায়ন হঠাৎ করেই অপ্রকৃতিস্থ হয়ে গেল। যারা বলে লায়ন কোন এক অভিনেত্রীর জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে- এটা মিথ্যা কথা। অভিনেত্রীকে জড়িয়ে যে সমস্যা- এটা লায়নের অপ্রকৃতিস্থ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল। এটা নিয়ে যারা মজা লুটতে চায়, আমি তাদের ধিক্কার জানাই।

সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল অপ্রকৃতিস্থ লায়নকে যখন জোর করে ইউকসু ভিপি ইলেকশনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হল। বুয়েটে ছাত্রদল তখন অন্তসারশুণ্য। ইলেকশনে জিততে হলে লায়নের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানো ছাড়া কোন গতি নেই। লায়নের তখন বোধ-বুদ্ধি নেই। কিছুদিন আগেই এক মানসিক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। যে ছেলেটা একসময় রাজনীতির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিল, তার দুঃসময়ে তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে, পার্টি তাকে নিয়ে রাজনীতির খেলা খেলল। এরা কি মানুষ! আজও স্পষ্ট মনে পড়ে, ভিপি-জিএস বিতর্কের সময় আমরা কয়জন স্তম্ভিত আর উতকন্ঠিত হয়ে দেখছিলাম লায়ন কি সব গত বাঁধা বুলি আউড়ে গেল, আর পার্টির লোকজন চারপাশে সারাক্ষণ তটস্থ হয়েছিল এই বুঝি লায়ন বেফাঁস কিছু বলে ফেলে। না, লায়ন বেফাঁস কিছু বলে নি। লায়ন যখন সুস্থ ছিল তখন তার ধারে কাছেও কেউ কখনো আসতে পারে নি, অসুস্থ লায়নও ভিপি পদে ইলেকশনে জিতে আসল! লায়ন ইউকসু ভিপি! কিন্তু, ভিপি পোস্ট তখন তার পতনকে আরো তরান্বিত করল মাত্র। আরও চাপে সে আবার অপ্রকৃতিস্থ হয়ে গেল।

আমি জানি না লায়ন এখন সুস্থ আছে কি না (কেউ কোন খবর জানলে দয়া করে জানাবেন)। আমার মনে হয় না সে বুয়েট থেকে পাশ করে বের হতে পেরেছে। তবে আমরা যারা লায়নকে চিনতাম তারা চিরদিন লায়নকে মনে রাখব একজন অকুতোভয়, উদার, অসীম বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ হিসেবে, আমরা তাকে মনে রাখব আমাদের মাঝে জ্বলে ওঠা ক্ষণকালের তারা হিসেবে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েও যে হারিয়ে গেল, আমরা তাকে মনে রাখব তার উদাত্ত কন্ঠ আর গানের জন্য...যুগ থেকে যুগান্তরে আমরা তারায় তারায় রটিয়ে দেব...এক সিংহের গল্প।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28741678 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28741678 2007-11-01 01:47:46
ঝড়ের খোঁজে, স্রষ্টার খোঁজে...! ০১
এগনস্টিক-এর বাংলা কি, নিশ্চিত জানি না, সংশয়বাদী? বাংলা চেয়ার, টেবিল-এর মত ইংরেজীর সাথে মিলিয়ে আমি এদের বাংলায় ডাকি অগনাস্তিক । আমার তো ধারণা বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষই এই ক্যাটাগরির (অন্য অর্থে-আস্তিকও না, নাস্তিকও না টাইপের)। স্রষ্টা আছে বলে সত্যিই যদি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করত, তবে কি দেশে এত দুর্নীতি হত! স্রষ্টা থাকলেও থাকতে পারে এইভেবে বেহেশতটা যেন ফস্কে না যায়, সেজন্যই মনে হয় দুর্নীতির পাশাপাশি জোর-কদমে নামাজ-রোজাও চলে।

তা যাই হোক, বিগত চার বছর আমার অফিসমেট যে ছিল, সেই জেফ-ও একজন অগনাস্তিক। জেফের মা ইহুদি, বাপ প্রটেস্টট্যান্ট। আর সে কোন কিছুর ধার না ধেরে সবকিছু যুক্তি আর প্রমাণের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে। তার কথা হল- আমি একজন বিজ্ঞানী, প্রমাণ ছাড়া আমি কিছু বিশ্বাস করতে পারি না, বিজ্ঞান আমাকে এটাই শিখিয়েছে। তুমি ঈশ্বর নাই প্রমাণ দাও, আমি নাস্তিক হব; তুমি ঈশ্বর আছে, প্রমাণ দাও, আস্তিক হব। যে পর্যন্ত না দিতে পারছ, আমি এর কোনটাই বিশ্বাস করব না।

জেফের সাথে আমার বন্ধুত্ব এবং এসব খেজুড়ে টাইপ আলাপ জমে ওঠে। এমনিতে আমেরিকার দক্ষিণের এই অংশ ‘বাইবেল বেল্ট’ নামে পরিচিত। তার ওপর আমি যে এলাকায় থাকতাম সেটা পরিচিত ছিল ‘বাকল অব দ্য বাইবেল বেল্ট’ নামে। এই বেল্ট-বাকলের মধ্যে বসে স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে আলাপ করা রীতিমত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব আলাপের সময় তাই আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে দিতাম।

জেফ আবহাওয়া বিজ্ঞানের ছাত্র। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে উঁচু ভবনের ১২ তলার এই পুরো ফ্লোরটাই আবহাওয়া বিজ্ঞান গ্রুপের। আমি অন্য ডিপার্টমেন্ট-এর হলেও আমাকে এই গ্রুপের সাথে অফিস দেয়া হয়েছে, যেহেতু ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কাজ করব এবং আমার এডভাইজার এই গ্রুপের বস। এখানে কাজ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম এদের মধ্যে দুটো গ্রুপ রয়েছে। একটা আস্তিক এবং রক্ষণশীল- এদের বাইবেল স্টাডি হয়, এরা ক্যাম্পাস মিনিস্ট্রর সদস্য এবং নাস্তিক বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের এরা তেমন পছন্দ করে না। আর বাকীদের নিয়ে অন্য গ্রুপ- এরা খোলামেলা, ধর্ম নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নাই এবং বেশীরভাগই অগনাস্তিক । আমি একে বাদামী চামড়া (আমি ছাড়া আর কোন বাদামী নাই , তার ওপর মুসলিম, তারও ওপর অন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা- আমাকে প্রথম গ্রুপটা ভাল চোখে নিল না। তাই স্বাভাবিকভাবে আমি দ্বিতীয় গ্রুপে ভিড়ে গেলাম।

আসার দু’এক সপ্তাহ পরেই আমাদের অফিস সেক্রেটারী, যে আবার প্রথম গ্রুপের চ্যালা, আমাকে কিছু খ্রীস্টান ধর্মীয় বই পড়তে দিল। তার ধারণা, আমি যেহেতু বাংলাদেশ নামক একটি গরীব দেশ থেকে এসেছি, তাই আমার ধর্মও (ইসলাম ধর্ম) গরীব। আমেরিকা যেহেতু পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ, তাই এর ধর্মও (খ্রীস্টান ধর্ম) উন্নত ও আধুনিক এবং এর চাইতে ভাল কোন ধর্ম পৃথিবীর আর কোথাও হতে পারে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বাইবেল বেল্টের এসব ডাম্ব আমেরিকান এই রকমই বিশ্বাস করে। বুড়ি (সেক্রেটারী) অবশ্য দুইদিন পরেই বুঝতে পারল, ওর চাইতে আমি ওর ধর্ম সম্পর্কে বেশী জ্ঞান রাখি, তাই আর কখনো ঘাঁটাতে চেষ্টা করে নি। বরং, ২য় গ্রুপের কারো সাথে বুড়ির ভালো সম্পর্ক না থাকলেও আমার সাথে একটা ভালো রিলেশন গড়ে উঠল।

এইসব আভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলো বাদ দিলে আবহাওয়া বিজ্ঞান গ্রুপের বাকী কর্মকান্ডগুলো খুব মজার। সকাল থেকেই সবাই রাডার খুলে বসে থাকে কখন কোন ঝড় বা টর্নেডো দেখা যায়। রাডারে কিছু ধরা পড়লেই সবাই দল বেঁধে চেজ করতে বেরিয়ে পড়ে। সে এক দারুন উত্বেজনা- ঝড়ের পিছে ছুটে চলা। সবার মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে কে কত ভালো ঝড়ের ছবি/ভিডিও তুলতে পারে। এদের আবার নিয়ম হল ঝড় দেখা গেলে চেজ করার জন্য অটোমেটিক সব ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমার সব ক্লাস তো আর এদের সাথে না। তাই যখন আমার কোন কাজ থাকে না, তখন এদের সাথে আমিও যাই। যদিও দুর্গম রাস্তায় বেশীরভাগ সময় ভয়ে ভয়েই থাকি, পাগলদের পাল্লায় পড়ে কোন সময় ঝড়ের মধ্যে বেঘোরে প্রাণ হারাই। একবার তো শিলা-ঝড়ের কবলে পড়ে কোন রকমে বেঁচে গিয়েছিলাম।

জেফ একজন দারুণ স্টর্ম চেজার। ঝড় কোথায়, কোন দিক দিয়ে যাবে, সে ঠিক ঠিক অনুমান করতে পারে। তার খুব শখ বাংলাদেশে একদিন স্টর্ম চেইজ করবে। সে আমাকে একদিন হিসাব করে দেখাল, ঝড়ের সময় আমেরিকার আবহাওয়ায় যে পটেনশিয়াল এনার্জি (কেপ বলি আমরা- Convective Available Potential Energy (CAPE) থাকে, তারচেয়ে বাংলাদেশে ঝড়ের সময় আবহাওয়ার পটেনশিয়াল এনার্জি অনেক বেশি থাকে। বলতে গেলে বিস্ফোরণমুখ আবহাওয়া! এই এত এনার্জির ঝড়গুলো চেইজ করতে নিশ্চয়ই দারুণ এক্সাইটিং। জেফের চোখে-মুখে উত্বেজনা খেলা করে। তার খুব কৌতুহল- তোমাদের দেশে কি এখানকার মত গাড়ী নিয়ে ঝড় চেইজ করা যাবে? রাস্তাঘাট আছে? আমি বল্লাম, ভাল এসইউভি (জিপ গাড়ী) নিয়ে তো যে কোনখানেই যেত পার। তবে অনেক ধান ক্ষেত পাবা। ধান ক্ষেত দিয়ে গেলে পাবলিক ঠেঙ্গানি দেবে । সে বলল, ওকে। তুমি যখন তোমার দেশে হোমড়া-চোমড়া কেউ হয়ে যাবা, তখন আমাকে দাওয়াত দিও, আমি চেইজ করতে আসব বাংলাদেশে। তোমাদের ঝড়গুলা এখান থেকে দেখে মনে হচ্ছে অন্যরকম, আরো ভয়ংকর। আমি বল্লাম, হোমড়া-চোমড়া হব কি না জানি না, তবে একদিন তোমাকে নিয়ে যাব। আনমনা হয়ে বলি, ঝড় গুলো আসলেই অন্যরকম। অজান্তে একটা দীর্ঘশ্বাসও বের হয়ে আসে।

চিত্র-
ডানে টর্নেডো-র ছবি ক্রেস নামক একটা জায়গায়।
বামে- অত্যাধুনিক SMART-R মোবাইল রাডার। জেফ উপরে (নীল টি-শার্ট) রাডার এডজাস্ট করছে।
চিত্র সৌজন্য- ইয়ান জুমানকো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28739834 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28739834 2007-10-25 23:25:16
বাঙ্গালীর দেশ-বিদেশঃ ভালো থাকা, মন্দ থাকা (২)
স্বদেশ পর্ব
============================


অনেক সময় পরিস্থিতি কিছু কিছু শব্দের অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। ‘নির্জন জনারণ্যে’ কথাটার মানে আগে বুঝতাম না। এখন বুঝি। আপনার চারপাশে অনেক মানুষ, তবু মনে হবে আপনি একা। কারণ, প্রবাসে আপনি যাদের পাশে চান, সেই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, স্তাবককূল- কেউ আপনার পাশে নেই। ‘বিদেশে থাকা’ মানে তাই একপ্রকার ‘নির্জন জনারণ্যে’ থাকা। এ অরণ্য থেকে বাঙ্গালী তাহলে দেশে ফিরে যায় না কেন?

শুরুতে (আগের পোস্টে) বলেছিলাম, যারা দেশে আছেন তাদের যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছাড়া প্রায় সবাই বলবেন, দেশে কেউ ভাল নেই। দেশে আমরা অনেক দিন থেকেই ভাল নেই। কবে ভাল ছিলাম, সেটাও আমার মনে পড়ে না। যখন দেশে ছিলাম, শুধু মনে হত কবে এখান থেকে বেরিয়ে যাব। যারা এখন ছাত্র, তাদের হয়ত এখন এটা আরো বেশী করে মনে হয়।

এখানে অনেককে জিজ্ঞেস করি, কেন দেশে ফিরে যান না? তারা উত্তরে বলেন, দেশে কোন কিছুর নিরাপত্তা নেই- জীবনের নিরাপত্তা, আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা। আপনি ঘর থেকে বের হবেন, জীবিত ফিরতে পারবেন কি না, কোন গ্যারান্টি নেই। বাসে চড়ে যদি যান, জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন। দরগায় জিয়ারত করতে যান, পহেলা বৈশাখে আনন্দ করতে যান- বোমায় উড়ে যেতে পারেন। এছাড়া চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ক্যাম্পাসে গোলাগুলি- এসব তো আছেই। আর আপনি যদি কারো শত্রু হোন, তবে খুন হয়ে যাওয়া কোন ব্যাপারই না। খুন হয়েও রেহাই নেই। বিচারের বাণী এখানে নিরবে-নিভৃতে কাঁদে।

আর্থিক নিরাপত্তার কথা বলতে গেলে বলা যায়, যারা দেশে ছিল দরিদ্র, কোন কাজ পেত না, বিদেশে গিয়ে শ্রম দিয়ে আজ তারা অর্থের মুখ দেখছে। প্রবাসী অনেক বাংলাদেশী নির্মাণ কাজে, গ্যাস স্টেশনে অমানুষিক পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। মাঝে মাঝে ভাবি, এ শ্রমটুকু তারা দেশে দিলে অনেক উন্নতি করতে পারতেন। কিন্তু দেশে সে সুযোগটুকুও তো তারা পান নি। আর দেশে চাকরি-বাকরি তো মামা-চাচা, অসৎ পথ ছাড়া সাধারণত হয় না। বিদেশে কোন মামার প্রয়োজন নেই (প্রফেশনাল জবে রেফারেন্স অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ)। আপনার যোগ্যতাই সব কিছু।

সামাজিক নিরাপত্তার অবস্থাও করূণ। শ্রমের কোন মর্যাদা নেই। নিম্ন আয় ও নিম্ন পেশার লোকদের প্রতি কোন সম্মান নেই। বিদেশে সব পেশাই মর্যাদার, সব মানুষই সম্মানের যোগ্য। যিনি আজ প্রবাসে নির্মাণ শ্রমিক, তিনি কেন দেশে ফিরে যাবেন- যেখানে তার কোন মর্যাদা নেই।

অন্যদিকে আপনি যদি দেশে ওপরতলার মানুষ হন, মান- মর্যাদা কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবেন, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আপনার মাস্তান ছাত্রের হাতে যে কোনদিন অপমানিত হতে পারেন, জীবনও বিপন্ন হতে পারে (কিংবা জলপাই এসে ধরে নিয়ে যেতে পারে )। আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ইউনিয়নের নেতা মালীর হাতে যে কোনদিন চড় খেয়ে যেতে পারেন। আপনি সরকারের মাননীয় সচিব, যে কোনদিন আপনাকে ঘুষখোর, চোর বানানো হতে পারে। যে মর্যাদা আপনি তিলতিল করে গড়ে তুলেছিলেন, একদিনেই তা সব শেষ হয়ে যেতে পারে। আপনার-আমার চরিত্র এখানে অন্যের হাতে ভাঙ্গে-গড়ে; আমরা দর্শকমাত্র।

তবে, এ কোন দেশে আমরা থাকি? এ কোন দেশে আমরা ফিরে যাব? তাই হয়ত অনেকে ইচ্ছে থাকা সত্বেও দেশে ফিরে যান না। বেছে নেন প্রবাসের এই ‘নির্জন জনারণ্য’। দেশ যখন দুর্বৃত্বের কবলে, তখন অরণ্যবাসই তো শ্রেয়।

(শেষ)

বিঃদ্রঃ- দেশের কোন এক অস্থির সময়ে লেখা। এখনও অবস্থা তার চেয়ে খুব বেশী পরিবর্তন হয় নি। কিছুটা সংশোধিত আকারে ব্লগে তুলে দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28738303 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28738303 2007-10-18 22:13:59
বাঙ্গালীর দেশ-বিদেশঃ ভালো থাকা, মন্দ থাকা ====================


যারা দেশে আছেন তাদের যদি এখন প্রশ্ন করা হয়, ‘কেমন আছেন?’- মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছাড়া সবাই হয়তো একবাক্যে বলে উঠবেন, ‘ভালো নেই’। আর যেসব বাংলাদেশী বিদেশে আছেন তাদের এ প্রশ্ন করা হলে অনেকেই হয়ত বলবেন, ‘ভালো আছি’। কিন্তু কান পাতলেই একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস শোনা যাবে। প্রবাসী অনেকেই আছেন যারা ভিনদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ী হয়ে গেছেন, দেশে আর ফিরবেন না। কিন্তু যে দেশের নাগরিক হয়েছেন মনে-প্রাণে সে দেশকে আপন করে নিতে পারেন নি। অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিলেও তাই এরা ফেলে আসা দেশ নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকেন। প্রবাসীদের এ দীর্ঘশ্বাসের অনেক কারণ আছে—

প্রথমত, বেশীরভাগ প্রবাসীরই নিকট আত্মীয়-পরিজন দেশে আছেন। কাগজ-পত্রের জটিলতা বা বিভিন্ন কারণে আনতে পারছেন না। তাই, দু’দিকের টানা-পোড়ন।

দ্বিতীয়ত, ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার কারণে বাঙ্গালী কখনো মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে মিশতে পারে না। আপনি একটা আমেরিকানের সাথে বন্ধুত্ব করবেন, দেখা যাবে আপনার হাজারো সমস্যা- আপনি বারে যেতে পারেন না, ড্রিঙ্ক করেন না, পোর্ক খান না, হালাল মাংস খোঁজেন। এত বাধ্যবাধকতা নিয়ে এদের সঙ্গে মিশতে আপনি নিজেই সংকোচ বোধ করবেন। ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন সংস্কৃতির কারণে বিদেশে বাঙ্গালী নিজস্ব পরিমন্ডলে আবদ্ধ। মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী কখনো মানসিক শান্তিতে থাকে না। বাঙ্গালীও নেই।

তৃতীয়ত, বিদেশে যখন আপনি থাকবেন, তখন আপনি মোটামুটি একটা ‘আননোওন এনটিটি’। এখানে আপনি যত কিছুই হোন না কেন, কেউ সেটা পাত্বা দেবে না। অবশ্য আপনি যদি সিনেটর, গভর্ণর বা পাবলিক সেলিব্রিটি হোন সে অন্য কথা। তবে সে পর্যন্ত যেতে বাঙ্গালীর দেরী আছে।

অথচ দেশে কত অল্পতেই কত স্বীকৃতি! আপনি একটা সরকারী বা নামকরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হন, সবাই বলবে অমুকের তমুক। আপনি একটা প্রমোশন পেলেন, চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে সে কথা। এ আত্মপ্রসাদ আপনি বিদেশে পাবেন না। রবিঠাকুর বলেছেন, ‘বাঙ্গালীকে আত্মপ্রসাদের স্তুতি ঢোঁকে ঢোঁকে গিলাইতে হয়, পরিমাণে কম হইলে তাহার অসুখ বোধ হয়’। বিদেশে বাঙ্গালীর মনের অসুখ তো হবেই। স্তাবকরা যে সব দেশে। কে এখানে আপনার খোঁজ রাখবে? তাই দেখা যায়, নিউইয়র্ক, ডালাস ইত্যাদি যেসব শহরে বাঙ্গালী বেশি, সেখানে তারা দেশী সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন- এসব নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি করেন। যতটা না দেশপ্রেম, তার চেয়ে বেশি স্তুতি অর্জনের চেষ্টা। মূলধারায় তো সুযোগ নেই; তাই অন্তত নিজস্ব পরিমন্ডলে।

এতসব নিয়ে প্রবাসী বাঙ্গালীর তাই ‘ভালো আছি’ বলতে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়!

(চলবে)
(আগামী পর্বে সমাপ্য – স্বদেশ পর্ব)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28738131 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28738131 2007-10-18 06:30:19
বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের নীতিমালা কেমন?
ব্লগে কিছুদিন আগেগ্রামীন ফোনঃ এক ছদ্মবেশী বহিরাগত লুটেরা শিরোনামের পোস্টে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল। দেশী নাম নিয়ে যে সব মোবাইল ফোন কোম্পানী বাংলাদেশে ব্যবসা করছে তার প্রায় সবই বিদেশী মালিকানাধীন (অন্তত সিংভাগ শেয়ারের মালিক)। আমি জানতে চাই, বাংলাদেশে বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ কি দেশেই পুনর্বিনিয়োগ করতে হয় (হলে কত ভাগ?), নাকি মুনাফার পুরো টাকাই এই কোম্পানীগুলো বিদেশে পাচার করে?

আরও অবাক ব্যাপার এই রকম একটি দেশের স্বার্থবিরোধী নীতিমালা (আমি ধরে নিচ্ছি মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ বিষয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই যেহেতু কখনো শুনিনি) যেখানে আপনি পুরো মুনাফাই দেশের বাইরে নিয়ে যেতে পারেন- থাকা সত্বেও বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের হার হতাশাব্যঞ্জক। এর মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্বল অবকাঠামো ইত্যাদিকে আমরা সাধারণভাবে দায়ী করলেও এরকম একটি বিনিয়োগ নীতিমালা থাকাই প্রমাণ করে এর পেছনে বিশাল দুর্নীতিও জড়িত যেখানে পদে পদে রয়েছে ঘুষের দৌরাত্ব। ওয়ারিদ টেলিকমের লাইসেন্স পাবার পেছনে কোকো, লবী প্রমুখের বিশাল টাকা আত্বসাতের ঘটনা কিছুদিন আগেই পত্রিকায় এসেছে। চিন্তা করে দেখুন গ্রামীণফোন (ওরফে টেলিনর), ওয়ারিদ এসব বড় বড় কোম্পানীর কাছে এসব ঘুষের টাকা দেয়া কোন ব্যাপারই না। এসব দিয়ে দেশের মানুষকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে তারা বিদেশে দেশের টাকা পাচার করছে। পক্ষান্তরে প্রবাসী ছা-পোষা বাংলাদেশীরা যারা দেশে বিনিয়োগ করতে যান তারা বেশীরভাগই ঘুষের দৌরাত্বে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঘুরপাক খেয়ে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে আসেন। মুনাফার শতভাগ হস্তান্তর তাদের কাছে ‘নাকের সামনে ঝুলানো একটি মূলা’ ছাড়া আর কিছুই না।

তবু আহবান জানাই, দেশকে ভালবেসে দেশে বিনিয়োগ করুন। বাংলাদেশের খ্যাতিমান জিন বিজ্ঞানী ডঃ আবেদ চৌধুরী বাংলাদেশে ‘কৃষাণ’ নামে একটি বায়োটেকনোলজী নির্ভর কোম্পানী স্থাপন করতে যাচ্ছেন। এটা প্রবাসীদের বিনিয়োগে মূলত একটি বাংলাদেশী কোম্পানীই হবে। বাংলাদেশ প্রতি বছর ৩ বিলিয়ন ডলারের চাল, ডাল, ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানী করে। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব পণ্য দেশেই উতপন্ন করে বিদেশী আমদানী নির্ভরশীলতা হ্রাস করাই এ কোম্পানীর উদ্দেশ্য। পাশাপাশি এটি আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করে বাংলাদেশী ছাত্র-শিক্ষকদের এ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ করে দেবে। কোম্পানীটি আশা করছে আনুমানিক ৪০০ বাংলাদেশী নূন্যতম ৫০০০ ইউএস ডলার বা সমপরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার হবে।

এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সেই সাথে নিন্দা জানাই যারা বিদেশী লুটেরাদের দেশে অবাধে লুট-পাটের সুযোগ করে দিচ্ছে। আশা করছি, অচিরেই দেশের স্বার্থবিরোধী এসব নীতিমালার পরিবর্তন হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28737870 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28737870 2007-10-16 23:52:35
হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (৩) ======================

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

যুদ্ধের পর একটা শহর যেমন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়, ২৯ শে এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের পর চট্টগ্রাম শহর ঠিক তাই ছিল। পথের পাশে পড়েছিল ইতস্তত বিক্ষিপ্ত লাশ, রাস্তা জুড়ে ছিল উপড়ে পড়া গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, ঘর-বাড়িগুলো দুমড়ানো-মুচরানো, আর লাশের পচা গন্ধ থেকে থেকে বাতাসটাকে ভারী করে তুলছিল। মানুষ যত না ঝড়ে মারা গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশী মরেছিল জলোচ্ছ্বাসে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে ৪-৫ মাইল অভ্যন্তরের প্রায় সব মানুষই বোধহয় নিহত হয়েছিল ২৫-২৬ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে। মানুষ তিনতলায় আশ্রয় নিয়েও পানির হাত থেকে বাঁচতে পারে নি।

প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার লোক এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল উপকূলবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলগুলো। কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী এসব এলাকায় অনেক জনবসতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। বাঁশখালীতে আমাদের দূর-সম্পর্কের এক আত্মীয় পরিবারের সবাই নিহত হয়েছিলেন।

ঝড়ের পর অনেক দিন চট্টগ্রাম শহরে কোন বিদ্যুত ছিল না। রাত নামলে শহরটা হয়ে যেত এক ভূতের নগরী। অন্ধকারে হেঁটে বেড়াতাম এ-গলি, ও-গলি। শহরটাকে মনে হত শয্যাশায়ী, মূমুর্ষ কোন আপনজন প্রচন্ড ব্যথায় ছটফট করছে। মানুষের লাশগুলো দু’একদিনের মধ্যেই সৎকার করা হয়েছিল। কিন্তু গরু-ছাগলের মত অবলা জীবগুলোর সৎকারের ভার কেউ নেয় নি। লাশগুলো পথের পাশেই ফুলে-ফেঁপে উঠছিল। কে করবে ওদের জন্য, মানুষ বাঁচানোই তখন দায় হয়ে পড়েছে। স্বজনহারা গৃহহীন, খাদ্যহীন, বস্ত্রহীন নর-নারী তখন পিলপিল করে আসছে ফুটপাতে, রেলস্টেশনে। কাঁদো মানুষ কাঁদো। একদিকে দেখছি নির্লজ্জ কিছু সাংবাদিক আব্রুহীন নারীর ছবি তুলছে তাদের চমৎকার রিপোর্টের সাবজেক্ট হিসেবে, অন্যদিকে কিছু মানুষ অবলীলায় গায়ের জামা, মানিব্যাগ তুলে দিচ্ছে মায়ের সম্মান রক্ষার্থে। পতেংগায় শুনলাম ঢাকা থেকে তামাশা দেখতে আসা কিছু মানুষকে স্থানীয় লোকেরা তাড়া করেছিল। ছবি চাই না, ত্রাণ চাই।

মাঝে মাঝে কর্ণফুলী ব্রীজের পিলারের নীচে গিয়ে বসে থাকতাম। কর্ণফুলীর ঢেউ তখনও প্রমত্তা সমুদ্রের মত। ঝড়ের সময় কোটি টাকা দামের ক্রেন ‘শক্তিমান’ নোংগর ছিঁড়ে ব্রীজটাকে আঘাত করে দুই ভাগ করে ফেলেছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ। ক্রেনটাও একপাশে অনেকদিন ডুবে ছিল। দুঃখের মধ্যেও সবচেয়ে মজার ঘটনা ছিল ঝড়ের সময় বিমান বাহিনীর কিছু দামী ফাইটার প্লেন বাইরে রাখা ছিল, ঝড়ের পর ওগুলোকে খেলনা প্নেনের মত দুমরানো-মুচড়ানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। হায় রে বিমান বাহিনী! এইটুকু কমন সেন্সও নাই।

এত দুর্যোগের মাঝেও যাদের কথা না বললেই নয়, তারা ছিল ভিনদেশী। গালফ ওয়ার থেকে দেশে ফেরার জন্য উন্মুখ ৭ হাজার সৈন্যের বিশাল একটা মার্কিন বাহিনীকে আমেরিকার বদলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হল দুর্গতদের সাহায্যের জন্য। ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ হয়ে গেল ‘অপারেশন সী এঞ্জেল’। এটা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ একটি ত্রাণ কার্যক্রম। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেনরী স্ট্যাকপোল জাপানের ওকিনাওয়া থেকে এসে যোগ দিলেন অপারেশন কমান্ডার হিসেবে। আসলেই দেবদূত ছিল ঐ সেনাগুলো। আমাদের মত স্কুল ছাত্রদের যাদের পড়াশোনা কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাদের কাজ ছিল মন্ত্রমুগ্ধের মত প্রায় প্রতিদিন ঐ সেনাদের কাজ-কর্ম দেখা। তখন বিশুদ্ধ পানির খুব অভাব ছিল। সাগরের পানি এসে পুকুর, জলাশয়ের সব পানি দূষিত করে ফেলেছিল। আমরা অবাক হয়ে দেখতাম, সেনারা পুকুরের ময়লা পানি একটা বিশাল যন্ত্র দিয়ে সাকশন করে আবার কিছুক্ষণ পরেই পরিষ্কার পানি পুকুরে ফেলত। মানুষ খালি তাজ্জব হয়েই দেবদূত-দের কাজ-কর্ম দেখত। আমার এখনো মনে হয়, ঐ সময় মার্কিন সৈন্যরা না আসলে এত তাড়াতাড়ি দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ২৯ শে এপ্রিলের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জেনারেল স্ট্যাকপোল ২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

ঝড়ে যে গাছের পাতাগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, আমার জানালা দিয়ে সে গাছ গুলো দেখতাম, আর ভাবতাম এ শহর কি আবার আগের মত সেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে? একদিন বিস্মিত হয়ে দেখলাম মরা গাছে আবার সবুজ, কচি পাতা ধরেছে। তিন মাসের মধ্যেই গাছগুলো সতেজ হওয়া শুরু করল, প্রকৃতি তার ক্ষতে নিপুণ হাতে প্রলেপ লাগিয়ে দিল। ছয় মাস পর এ শহরকে দেখে আর বোঝার উপায় রইল না এর উপর দিয়ে কি ঘটে গিয়েছে। আমরাও স্বজন হারানোর বেদনা, দুর্যোগ সব কিছু ভুলে আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলাম। প্রকৃতি এক বিশাল বিস্ময়, তার চেয়েও বোধহয় বেশী বিস্ময়কর আমাদের জীবন!

(দ্বিতীয় পর্ব শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28735391 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28735391 2007-10-04 12:59:30
হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (২) ======================

১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল ঘূর্ণিঝড় তান্ডবের একদিন পর প্রথম পাতা জুড়ে দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোণাম ছিল- ‘কাঁদো বাংলাদেশ কাঁদো’। আমরা তখন চট্টগ্রামে থাকি। হাই স্কুলে উঁচু ক্লাসে যাই। এখনো আমাকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করে আমার স্মরণীয় দিন/রাত কোনটা, এক মূহুর্ত দ্বিধা না করেই বলি ২৯শে এপ্রিলের কথা। আমি জানি, এমন একটা অভিজ্ঞতা আমার জীবনে আর কখনো আসবে না, মৃত্যুকে অমন কাছ থেকেও এত দীর্ঘক্ষণ হয়ত আর কখনো দেখব না।

আমার মনে আছে, ২৯শে এপ্রিলের আগেও চট্টগ্রামে একবার ‘দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত’ দেয়া হয়েছিল। ওটা ছিল ‘ফলস এলার্ম’। তাই ২৯শে এপ্রিল যখন আবার দশ নম্বর সংকেত দেয়া হল, আমি আম্মাকে বল্লাম, ‘দেখো, এবারো কিছুই হবে না’। তখন কি আর জানতাম কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য! রাত আটটা/নয়টার দিকে বিটিভি-র নিয়মিত অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে হামদ-নাত পড়া শুরু হয়ে গেল। আম্মা একটু অস্থির হয়ে গেলেন। বাসায় তখন শুধু আমি আর আম্মা। ভাইয়া ফৌজদারহাটে, আব্বা দেশের বাইরে। আমি আম্মার অস্থিরতা দেখে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগলাম। তারপর রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম। বাইরে তখন ঝড়ো বাতাস এবং বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

কিছুক্ষণ পর আমরা কেউই আর রুমে থাকতে পারলাম না। দোতালায় আমাদের বেডরুমগুলোর জানালা ছিল বাইরের দিকে। বাতাসে প্রথম জানালার ছিটকিনি খুলে গেল, তারপর ঝনঝন করে সব কাঁচ ভেঙ্গে পড়ল। রুমের মধ্যেই তখন শুরু হয়েছে তান্ডব। বাতাসে আমার বই-খাতা, জিনিষ-পত্র সব উড়ছে। বেডরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমরা ড্রইং রুমে এসে জড়ো হলাম। একমাত্র এই ঘরটার বাইরের দিকেই কোন জানালা-দরজা নাই। বাইরে তখন প্রকৃতি প্রচন্ড আক্রোশে গর্জে চলেছে। দরজা-জানালা, বাড়ীটা এমনভাবে কাঁপছে, মনে হচ্ছে উড়ে চলে যাবে যে কোন সময়। আমি আর আম্মা শক্ত করে হাত ধরে বসে আছি। মনে মনে আল্লাহকে ডাকছি, এই ঝড় কখন শেষ হবে, আগামী দিনটা কি দেখব?

ঘরের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। হঠাৎ খুব ইচ্ছে হল বাইরেটাকে দেখার। আম্মার নিষেধ অগ্রাহ্য করে দরজাটা খুলে বাইরে যা দেখলাম তাতে আমার রক্ত হিম হয়ে গেল। আমি দেখলাম ওই প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে একটা আগুনের কুন্ডলী সাপের মত হিস হিস শব্দ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি এটার ব্যাখা আজও পাই নি। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, পরদিন ঝড় থামার পর আমি অবাক হয়ে দেখলাম, শহরে যে সব গাছ অক্ষত আছে তার প্রায় সবই পুড়ে কালো হয়ে গেছে! এটা নিয়ে আমি অনেক হারিকেন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলেছি। তারা কেউ এমন কিছু কখনো শুনে নি। হারিকেন হওয়ার সময় কোন এলাকায় গাছ পুড়ে গেছে এমনটা কোন রেকর্ডেও নেই। একজন আমাকে ব্যাখা দিয়েছে বাতাসের ঘর্ষণে হয়ত গাছে আগুন ধরে গিয়েছিল। কিন্তু পুরো শহরের সব গাছ আগুনে পুড়ে গেল, অথচ একটা বাড়ীতেও আগুন লাগল না, এটা কিভাবে সম্ভব! আর ঝড়ের মধ্যে এত বৃষ্টি হল, সেখানে আগুন-ই বা ধরল কিভাবে। দুঃখের বিষয়, আমার কাছে ওই সময় গাছ পুড়ে যাওয়ার কোন ছবি নেই, তাই এ দাবীটা এখনও অপ্রমাণিত। আসলে মানুষের দুর্দশা তখন এত বেশী হয়েছিল, কেউ আর এটাতে নজর দেয় নি। যদিও অনেক প্রত্যক্ষদর্শী পরে আমার সাথে একমত হয়েছে, তারাও দেখেছে শহরের সব গাছ পুড়ে যেতে।

একসময় ভোর হল। চট্টগ্রাম তখন এক মৃত নগরী...

(চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28735321 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28735321 2007-10-03 22:44:44
হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (১)
পর্ব এক – কামিকাজি
===============

(আমেরিকায় যা হারিকেন, জাপানে তা-ই টাইফুন এবং আমাদের দেশে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত। এই নামকরণ নিয়ে পরের একটি পর্বে আলোচনা করার ইচ্ছে আছে)

এক সময় ইতিহাসখ্যাত দুটো টাইফুন জাপানকে চীন তথা মোংগলদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। অন্যথায় আজ জাপান হয়ত চীনের একটি অংশ হয়ে যেত।

১২৩০ সালে মোংগল-রা উত্তর চীন দখল করে নেয় এবং ১২৩১ থেকে ১২৩৮ সালের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপ আয়ত্বে আনে। কোরিয়া থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরত্বে অবস্থিত জাপান এ সময় মোংগল-দের আক্রমণের ভয়ে আতংকিত ছিল। ১২৫৯ সালে কুবলাই খান সিংহাসনে আরোহণের পর অনেকবারই জাপানের সম্রাটের কাছে দূত পাঠিয়েছিলেন বশ্যতা স্বীকার করার জন্য। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দূতগুলো নিহত হয়েছিল সম্রাটের কাছে পৌঁছানোর আগেই।

অতঃপর ১২৭৪ সালের ২৯ শে অক্টোবর জাপান দখলের অভিপ্রায়ে কুবলাই খান তার প্রথম অভিযান শুরু করেন। মোংগলরা সমুদ্রযাত্রায় মোটেও পারদর্শী ছিল না। এজন্য অনেক কোরীয় ও চীনা নাবিককে এ অভিযানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং প্রায় ৪০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী ৯০০ টি জাহাজে করে পাঠানো হয়। ১৯ শে নভেম্বর জাপানের কিয়োশু উপকূলে মোংগল বাহিনী অবতরণ করে। মোংগলদের ব্যাপক আক্রমণে জাপানীরা উপকূল থেকে অভ্যন্তরে পশ্চাদপসরণ করে। রাতের বেলা অভিজ্ঞ কোরীয় নাবিকরা টের পায় বিশাল এক সামুদ্রিক ঝড় ধেয়ে আসছে তাদের দিকে। জাহাজ সরিয়ে নেবার জন্য মোংগল সেনাপতিদের কাছে কাকুতি-মিনতি করলেও অনভিজ্ঞ মোংগলরা এতে অস্বীকৃতি জানায়। পরদিন সকালে প্রলয়ংকরী এক টাইফুন প্রায় পুরো নৌবহর ধ্বংস করে দেয়। প্রায় ১৩ হাজার সৈন্য বেঘোরে মারা পড়ে।

১২৭৯ সালে দক্ষিণ চীন কুবলাই খানের দখলে আসে এবং তিনশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত সমগ্র চীন কোন একটি একক সম্রাটের অধীনস্থ হয়। কুবলাই খান তার সাম্রাজ্য আরো সম্প্রসারণের জন্য জাপান দখল করতে বদ্ধ পরিকর হন।

১২৮১ সালের জুন মাসে কুবলাই খানের বিশাল নৌবহর আবার জাপান অভিমুখে রওনা হয়। এবার জাপানী সামুরাই-রা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। প্রায় ছয় সপ্তাহ তারা মোংগলীয় বাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখার পর অগাস্টের ১৫ ও ১৬ তারিখ আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। আরেকটি ভয়ঙ্কর টাইফুন কুবলাই খানের নৌবহর-কে ধ্বংস করে দেয়। কুবলাই খান কোনমতে একটি অক্ষত জাহাজে চড়ে পালিয়ে বাঁচেন। এরপর তিনি আর কখনো জাপান অভিমুখে অগ্রসর হন নি।

জাপানীরা বিশ্বাস করত স্বর্গ থেকে দেবতারা-ই এ ঝড়দুটো পাঠিয়ে ছিলেন হানাদারের কবল থেকে জাপানকে রক্ষা করতে। এজন্য তারা টাইফুন দুটোর নাম দিয়েছিল ‘কামিকাজি’ বা ‘স্বর্গীয় বাতাস’ (ডিভাইন উইন্ড)।

নিয়তির কি পরিহাস, কুবলাই খান জাপানে পরাজিত হবার ছয়শ’ তেষট্টি বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযূদ্ধের সময় মার্কিন সেনাপতি এডমিরাল হ্যালসির বিশাল নৌবহর পর পর দুটো টাইফুনের আঘাতে আবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়! কামিকাজি!!!


(এ পর্বের সূত্রঃ ডিভাইন উইন্ড- কেরি ইমানুয়েল)

(পরের পর্ব- বাংলাদেশে সাইক্লোন)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28734375 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28734375 2007-09-29 12:10:43
রেকর্ডস
আমার ঘাড়ে ইংরেজী গানের ভূত চাপাটা ছিল একটু অস্বাভাবিক। আব্বা চট্টগ্রাম বেতারে একসময় নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন। আর সব রবীন্দ্রপ্রেমীর মত তাঁরও ছিল রবীন্দ্রসংগীতের বিশাল কালেকশন। ওনার কাছ থেকেই দেখেছি কি যত্ন করে উনি রেকর্ডিং করতেন। বাজারে যে সব রবীন্দ্রসংগীতের এলবাম পাওয়া যেত সেগুলোতে নিম্নমানের ক্যাসেট ব্যবহার করা হত বলে কখনো কিনতেন না; সবসময় নামকরা রেকর্ডিং স্টুডিও থেকে ভাল মানের ক্যাসেটে গান সংগ্রহ করতেন। বাসায় এমন রাবীন্দ্রিক আবহ, তাও এহেন আলেম-এর ঘরে আমি জালেম হয়ে গেলাম। রবীন্দ্র সংগীতের পথে আর পা মাড়ালাম না।

আমার প্রথম শোনা ইংরেজী গান সুইডিশ পপ গ্রুপ ‘এবা’-র একটা মিক্সড এলবাম। এটাও আব্বার রেকর্ডিং করা। ওই একটা ইংরেজী ক্যাসেট-ই বাসায় ছিল তখন। কি মনে করে যে তিনি এটা রেকর্ডিং করেছিলেন, তা জানি না। অবশ্য ‘এবা’, ‘বনি এম’- এই টাইপের ব্যান্ডগুলো তখন বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় ছিল। বিটিভি-তে ‘সলিড গোল্ড’ নামের একটা ইংরেজী গানের অনুষ্ঠানে এসব ব্যান্ডের গান মাঝে মাঝে দেখতাম। যদিও ‘বনি এম’-এর ওই বানর সদৃশ লোকটার লম্ফ-ঝম্প দেখতে খুবই বিরক্ত লাগত।

ইংরেজী গান আমার প্রথম ভাল লাগা শুরু হল মনে হয় ক্লাস সেভেনে। এক বন্ধুর হাত ঘুরে তার মামার রেকর্ডিং করা একটা ক্যাসেট এল আমার কাছে। অনেক নতুন নতুন শিল্পী আর ব্যান্ডের গান শুনলাম তখন- রিচার্ড মার্ক্স, এলান পারসন্স প্রজেক্ট, কুল এন্ড দ্য গ্যাং, ফরেনার ইত্যাদি। এতদিন যে সব ইংরেজি গান শুনতাম বা বিটিভিতে দেখতাম তার চাইতে এগুলো ছিল একদম অন্যরকম। বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, তোর মামা এটা কোথেকে রেকর্ডিং করেছে? সে খোঁজ করে জানাল- ‘রেকর্ডস’। সেই থেকে আমার রেকর্ডসে আনাগোনা শুরু হল।

তখন চট্টগ্রামে ওই একটাই ইংরেজী গানের রেকর্ডিং স্টুডিও ছিল। চট্টগ্রাম মেডিকেল ফেলে সামনে যেতে আলমাস সিনেমা হলের কাছাকাছি মেহেদিবাগ এলাকায় দোকানটা ছিল (মনে হয় এখনো আছে)। ড্রাগ এডিক্টদের মত আমারও নেশা হয়ে গেল ‘রেকর্ডস’-এ যাওয়া আর গান রেকর্ডিং করা। কিন্তু বাধ সাধল টাকা। একটা ৬০ মিনিটের ক্যাসেট রেকর্ডিং করতে ৯০ টাকা লাগে, আর ৯০ মিনিটের জন্য ১২০ টাকা। এত টাকা কোথায় পাব? বাসায় যদি বলি ইংরেজী গান রেকর্ডিং করব, টাকা দাও; ভাববে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বখে যাওয়ার রাস্তা খুঁজছি। বুদ্ধি একটা পেয়ে গেলাম। তখন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। বাসা থেকে অনেক দূর, দশ টাকা রিক্সা ভাড়া লাগে, আসা-যাওয়া বিশ টাকা। সে সময় দশ টাকা দিয়ে পুরো চিটাগাং শহর ঘুরে আসা যেত। ঠিক করলাম, বাসা থেকে রিক্সার টাকা নিয়ে বাস বা টেম্পোতে যাতায়াত করব। অনেক টাকা বাঁচানো যাবে। শখের জন্য না হয় একটু ত্যাগই স্বীকার করলাম!

টেম্পোর কথা প্রসঙ্গে একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেল। তখন সকালে স্যারের কাছে ব্যাচে পড়ি। ব্যাচে গার্লস স্কুলের মেয়েরাও একসাথে পড়ত। স্যারের কাছে পড়ার চেয়ে আমাদের ওই আকর্ষণই বেশী। একতরফা প্রেমে পড়ে মাঝে মাঝে কার কি করূণ দশা হচ্ছে এটা নিয়েও আমরা মজা করতাম। একদিন এক বন্ধু তার টেম্পোতে চড়ার করুণ কাহিনী বর্ণণা করল। ব্যাচেরই এক মেয়েকে সে পছন্দ করত মনে মনে। একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় টেম্পোর ভিতরে জায়গা না পেয়ে সে বাইরে হেলপার-এর সাথে ঝুলে ঝুলে আসছিল। হঠাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে পেল পেছনের যে দামী গাড়ীটা এতক্ষণ টেম্পোর পেছন পেছন আসছিল, তাতে তার পছন্দের মেয়ে বসে আছে। সারাদিন সে খুবই মন খারাপ করে রইল। আর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার মত এরপর থেকে আমরা এটা নিয়ে তার সাথে মজা করতে লাগলাম!

রেকর্ডসের কথায় ফিরে আসি। বিশ টাকা থেকে একটু একটু করে ক্যাসেট রেকর্ডিং-এর জন্য সেইভ করতে আমার মোটামুটি অনেক দিন লাগত। যখনই টাকাটা জমত দিতাম দৌড়। কিন্ত রেকর্ডসের সিরিয়াল এত লম্বা থাকত, আমার ক্যাসেট হাতে পেতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হত। প্রায়ই দেখা যেত, অর্ডার দেয়ার পর কাকুতি-মিনতি করছি, ভাইয়া আমার ডেট-টা একটু আগে দেন, আমি তো সবসময় আসি। মাঝে মাঝে দয়া-পরবশ হয়ে সিরিয়াল আগে করে দিত আর আমি বিশ্বজয়ের ভাব নিয়ে ফিরতাম। তখন গান-বাছাই করাটা ছিল এক বিরাট প্রব্লেম। এখন যেমন নতুন গান শুনে তারপর রেকর্ডিং করতে দেয়া যায়, তখন তো এমন ছিল না। মাঝে মাঝে বিচিত্রা বা ম্যাগাজিনগুলাতে বিলবোর্ড/ইউ কে/ইউএস টপ চার্ট দিত। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ম্যাগাজিন উল্টিয়ে গানের টাইটেলগুলো মুখস্থ করে আসতাম আর অন্ধের মত সেগুলোই দিতাম। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যাদের গান পছন্দ করি, তাদের কেউ যদি চার্টে আসত তখন শুধু দিতাম। গানের লিরিক যোগাড় করা ছিল আরেক ঝক্কি। বাংলা গানই লিরিক ছাড়া বোঝা যায় না, তায় আবার ইংরেজী গান। মাঝে মাঝে ইংরেজী লিরিকের ম্যগাজিন বের হত। বইয়ের দোকানে, ফুটপাতে খুঁজে ওগুলোই কিনতাম। এলপি/সিডি-র সাথে অনেক সময় গানের লিরিক দেয়া থাকত। রেকর্ডসে দিয়ে কান্নাকাটি করতাম, ভাইয়া লিরিকসের কাভারটা একটু দেন, ফটোকপি করে দিয়ে যাচ্ছি। তা চিটাগাং-এ যেহেতু একটাই দোকান ছিল, রেকর্ডস-এর লোকগুলা সে জন্যেই মনে হয় হেভী মুডে থাকত। ইচ্ছা হলে দিত, না হলে দিত না। আজ যখন গুগলে টিপ দিলেই লিরিক চলে আসে, তখন আমার সেই কান্না-কাটির দিনগুলোর কথা মনে হলে হাসিই পায়।

রেকর্ডস নিয়ে একটা দুঃখের স্মৃতিও আছে। রেকর্ডসে প্রায়ই একটা ফর্সামত ছেলেকে দেখতাম একমনে রেকর্ডিং করছে বা ক্যাসেটের কাভারে গানের টাইটেল গুলো লিখছে। মুক্তোর মত তার হাতের লেখা। আমার রেকর্ডিং করা অনেকগুলো ক্যাসেটেই তার হাতের লেখা আছে। চট্টগ্রাম কলেজে ক্লাস শুরু করার পর একদিন দেখি সে আমার পাশেই বসে আছে। ‘আরে, তুমি রেকর্ডস-এর না!’ সেও গলায় খুবই ভাব ফুটিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি যাই ওখানে মাঝে মাঝে, ওখানকার ম্যাক্সিমাম টাইটেল আমার লেখা’। পরে তার কাছে জানলাম সে আসলে রেকর্ডসের মালিকদের কেউ না, একসময় সে ওখানে আমার মতই পয়সা দিয়ে গান রেকর্ডিং করতে যেত। তার হাতের লেখা দেখে ওরা তাকে টাইটেল গুলা লিখে দিতে বলেছে, বিনিময়ে ইচ্ছেমতো রেকর্ডিং ফ্রি! ছেলেটার নাম শ্রীকান্ত। শ্রীকান্ত রক্ষিত। আমেরিকায় আসার পর একদিন বিস্মিত হয়ে পত্রিকার ফ্রন্ট পেইজে আমি শ্রীকান্তের ছবি দেখলাম। আরে শ্রীকান্ত, এক্কেবারে ফ্রন্ট পেইজে! প্রথম বিস্ময়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই হতভম্ব হয়ে হেডিং পড়লাম- ‘সন্ত্রাসীদের হাতে শ্রীকান্ত রক্ষিত নিহত’। শ্রীকান্তের বাবা মারা গিয়েছিল আগেই। জমি-জমা নিয়ে বোধহয় কিছু বিরোধ চলছিল, তার জের ধরেই এই খুন। এমন একটা গান-পাগল ছেলে যে শুধু গান শোনার লোভেই রেকর্ডিং স্টুডিওতে স্বেচ্ছাশ্রম দিত, তাকেও মানুষ খুন করে ফেলতে পারে- এটা কিভাবে সম্ভব হয়, আমি বুঝতে পারি না!

একসময় আমার রেকর্ডিং করা ক্যাসেটের সংগ্রহকেই মনে হত আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ! কত মায়া-মমতা, কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে ক্ষুদ্র এক একটা ক্যাসেটের পেছনে। এখানে আসার সময় সবার হাসি-ঠাট্টা উপেক্ষা করে অল্প কিছু ক্যাসেটও নিয়ে এসেছিলাম। এখন তো সিডি-ও শোনা হয় না। যা কিছু সব ইন্টারনেটেই শুনি। মাঝে মাঝে ক্যাসেটগুলোর ধুলো ঝেড়ে পরিষ্কার করি, শ্রীকান্তের হাতে লেখা টাইটেলগুলো নেড়েচেড়ে দেখি; আর স্মৃতির কোন এক অতল গহবর থেকে ফিরে ফিরে আসে আমার কৈশোর, আমার স্বর্ণালী দিনগুলো।
Those were such happy times
And not so long ago
How I wondered where they'd gone
But they're back again
Just like a long lost friend
All the songs I loved so well.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28733215 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28733215 2007-09-24 10:25:47
লুই কান এবং বাংলাদেশ
লুই কানের জন্ম এস্তোনিয়ার এক দরিদ্র ইহুদী পরিবারে ১৯০১ অথবা ১৯০২ সালে, যেটা তিনি নিজেও কখনো জানতে পারেন নি। ভাগ্যের অন্বেষণে তাঁর পরিবার আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া শহরে এসে আস্তানা গাড়ে। ছবি আঁকাতে লুই কানের ছিল সহজাত প্রতিভা। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি করে রোজগার করতেন। দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত পরিবারে পেন্সিল কেনার সামর্থ্যও তাঁর ছিল না। কিন্তু তাতে তিনি থেমে থাকেন নি। চারকোল কয়লা আর খড়িমাটি দিয়ে চলত তাঁর আঁকাআঁকির কাজ। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অসাধারণ প্রতিভার জোরে ১৯২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া থেকে লুই কান স্থাপত্যবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে লুই কানের ছিল দ্বৈতজীবন। বিবাহিত স্ত্রী এবং সন্তানের পাশাপাশি তার জীবনে আরো দুইজন নারী এবং তাদের গর্ভের সন্তানরা ছিল, যাদের কথা তাঁর মৃত্যুর পরই মূলত প্রকাশ পায়। ছবির কাহিনী আসলে এখান থেকেই শুরু। নাথানিয়েল কান- যিনি এ ছবির নির্মাতা, তার মা আদৌ লুই কানের স্ত্রী ছিলেন না। অজানা এবং প্রায় অদেখা পিতাকে জানার জন্য এ এক সন্তানের যাত্রা। পিতাকে জানতে পিতার রেখে যাওয়া কর্মের সাথে পরিচিত হতে চেয়েছেন নাথানিয়েল কান। তাই তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রান্তে যেখানে তার পিতার কর্ম কীর্তিকে বহন করে চলেছে। নাথানিয়েল কান ছবিতে তার এই মর্মস্পর্শী যাত্রার চিত্র তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশ ছিল ছবির শেষ অংশে। লুই কানের সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি বাংলাদেশের সংসদ ভবন ও শেরে বাংলা নগর। এ কীর্তি তিনি দেখে যেতে পারেন নি। তাঁর মৃত্যুর ৯ বছর পরে সংসদ ভবনের কাজ শেষ হয়। ১৯৭৪ সালে পেনসিলভেনিয়া স্টেশনে নিসংগ অবস্থায় বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লুই কান মৃত্যুবরণ করেন। ছবিতে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংসদ ভবনের অসম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ দেখে পাকিস্তানী সৈন্যরা কোন ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ মনে করেছিল। তাই, তারা সেখানে হামলা করে নি। নাথানিয়েল কান বলেছেন, তার পিতা আছেন এ বাংলাদেশের মাটিতেই। যে পিতার সন্ধানে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন তাকে তিনি সম্পূর্ণরূপে পেয়েছেন এই দেশে এসে। তার এই যাত্রা তাই সার্থক।

ছবিতে বাংলাদেশের খ্যাতিমান স্থপতি শামসুল ওয়ারেস নাথানিয়েল কানকে বলেছেন, লুই কান কোন রাজনৈতিক নেতা নন। তবু তিনি বাংলাদেশকে গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়ে এ দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছেন। তার এ অবদান অসামান্য। তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল প্রজেক্ট পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশে করার সাহস দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ লুই কান এবং তার কীর্তির জন্য গর্বিত।

লুই কানের কথা বলতে গিয়ে শামসুল ওয়ারেস কেঁদেছেন। ছবি শেষ হওয়ার পর হল ভর্তি অনেকের চোখেই আমি পানি দেখেছি। ছবিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে, সংসদ ভবন, বুড়িগঙ্গা, ঢাকার রাস্তার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে- হল ভর্তি বিদেশীদের মাঝে বসে এসব দৃশ্য দেখে আমার চোখেও পানি এসে পড়েছে। হয়তো আমার কান্নার সাথে ওই বিদেশীদের কান্নার কোন মিল নেই। লুই কান, নাথানিয়েল কানের দুঃখকে ছাপিয়ে আমার দেশকে নিয়ে গর্ব, দেশকে নিয়ে দুঃখ-ই আমাকে কাঁদাল। হায়, এমন কান্না যদি প্রতিদিনই কাঁদতে পারতাম! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28730228 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28730228 2007-09-09 13:43:23
প্রসংগ- হিন্দু ধর্ম
‘হিন্দু’ শব্দটা এসেছে Indus বা সিন্ধু নদ থেকে- অর্থাৎ সিন্ধু নদ অববাহিকার লোকজন যে ধর্ম পালন করে তা বোঝাতেই ‘হিন্দু ধর্ম’ শব্দের উৎপত্তি। ভারতবর্ষ একটি বিশাল ভূ-খন্ড। আজ থেকে তিন-চার হাজার বছর আগে যে আচার-অনুষ্ঠান উপমহাদেশে এসেছিল কালের বিবর্তনে, বিভিন্ন মুনি-ঋষি এবং সেই সাথে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের প্রভাবে তা এক এক এলাকায় এক এক রকম রূপ লাভ করেছে। বাঙ্গালী হিন্দুর প্রধান উৎসব দূর্গা পূজা কিন্তু উত্তর ভারতে বা অন্যান্য জায়গায় পালন করা হয় না। সেখানে প্রধান উৎসব হল গণেশ পূজা। কিন্তু জিনিষটা একই- হিন্দু ধর্ম। অপরদিকে ব্রাক্ষ্য ধর্ম একেশ্বরবাদী এবং নিরাকার স্রষ্টায় বিশ্বাসী হলেও ব্রাক্ষ্যরা নিজেদের সংস্কারপন্থী হিন্দু ধর্মাবলম্বী মনে করে। এখানে পার্থক্যটা গড়ে উঠেছে মূলত ধর্মগ্রন্থকে কেন্দ্র করে যেটার উৎস উপনিষদ। এখানে ইসলামের সাথেও হিন্দু ধর্মের যোগসূত্র রয়েছে। বাংলাদেশের কবি গোলাম মোস্তফা উপনিষদ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করেছেন এবং তিনি দেখিয়েছেন উপনিষদে ‘আল্লাপনিষদ’ নামে একটি অংশ রয়েছে যেখানে সরাসরি আল্লাহর কথা বলা হয়েছে। বইটা এখনো পাওয়া যায়, নাম ভুলে গেছি- দেশে থাকতে অনেক আগে পড়েছিলাম। আপনারাও পড়ে নিতে পারেন।

মাহিরাহির পোস্টে কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, যে ওরা নিরাকার স্রস্টাকেই বিভিন্ন রুপে উপাসনা করে। কথাটা ঠিকই। কারণটাও আরেকজন বলে দিয়েছেন নিরাকারের চাইতে সাকার রূপেই স্রষ্টাকে বেশী অনুভব করা যায়। কিন্তু এভাবেই আসলে পৌত্তলিকতার উৎপত্তি। মানুষ কিন্তু কখনোই এত বেকুব ছিল না যে নিজ হাতে মাটির তৈরী পুতুলের প্রাণ আছে বলে বিশ্বাস করত। বরং স্রষ্টার বিভিন্ন রুপ মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পনা করতে গিয়েই মূর্তিপূজার জন্ম হয়েছে। কিন্তু যেখানে স্রষ্টা নিজেই বলছেন (বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে) তিনি নিরাকার, সেখানে তাকে একটা কল্পিত রূপে উপাসনা করা, স্রষ্টাকেই অপমানিত করা, নয় কি?

যাই হোক সাকাররুপে নিরাকার স্রষ্টার উপাসনা হলেও, হিন্দু ধর্মে প্রধান যে সব দেব-দেবী এবং তাদের ভূমিকা রয়েছে তা নিম্নরূপ-

প্রচলিত ধর্মানুসারে তিনজন প্রধান দেবতা পৃথিবীকে শাসন করেন। এরা হলেন, ব্রক্ষা (creator), বিষ্ণু (preserver), শিব (destroyer)। তিন দেবতারই সঙ্গিনী বা দেবী রয়েছে। ব্রক্ষার সঙ্গিনী হলেন স্বরসতী (বিদ্যার দেবী), বিষ্ণুর সঙ্গিনী লক্ষী (বাণিজ্য দেবী) এবং শিবের সঙ্গিনী পার্বতী যাকে কালী বা দূর্গা নামেও পূজা করা হয়।

হিন্দু ধর্মে জাতিভেদ র‌যেছে এবং হিন্দু ধর্মানুযায়ী সব মানুষ সমান নয় (All men are not equal). এবং এটি একটি জাত ধর্ম অর্থাৎ আপনি জন্মের সময় যে অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন আপনার বর্ন পরিচয়ও তাই হবে অর্থাৎ ব্রাক্ষণের পুত্রই ব্রাক্ষণ হবে, শুদ্রের পূত্র কখনো ব্রাক্ষণ হবে না। সে জন্য অন্য ধর্মাবলম্বীরাও কখনো আগে হিন্দু হতে পারত না। বর্তমানে এ প্রথা সংস্কার করা হয়েছে, যদিও কনভার্টদেরকে নিম্ন বর্ণের হিন্দু হিসেবেই দেখা হয়। এ বিষয়ে একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেল। বেশ আগের কথা, তবে আধুনিক সময়েরই। তখনো হিন্দু ধর্মে কনভার্ট নিষিদ্ধ ছিল। হিন্দু ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এক ঋষির কাছে ধর্ণা দিলেন, যে হিন্দু ধর্মে লোক সংখ্যা কমে আসছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের কনভার্টের সুযোগ দেয়া হোক। ঋষি প্রথমে রাজী ছিলেন না, অনেক গাই-গুই করে রাজি হলেন, কিন্তু ফতোয়া দিলেন, কনভার্টদের গোবর-জল খাইয়ে শুদ্ধ করতে হবে। আমার খুব জানার ইচ্ছা যারা কনভার্ট হন, তাদের আসলেই গোবর-জল খাওয়ানো হয় কি না।

জাতের প্রসঙ্গে বলছিলাম, এটার একটা স্তরবিন্যাস বা hierarchy আছে। এটা মূলত কর্মভিত্তিক। প্রথম বা উচু স্তরে আছে ব্রাক্ষনরা। এরা হচ্ছে পুরোহিত। পূজা-অর্চনা করে যেহেতু স্রষ্টার প্রত্যক্ষ সেবা করে, এদের অবস্থান তাই সবচেয়ে উচুতে। দ্বিতীয় স্তরে আছে- ক্ষত্রিয়-রা। এরা মূলত যোদ্ধা। প্রাচীণকালে এদের কাজ ছিল যুদ্ধ করে ব্রাক্ষণদের রক্ষা করা, যাতে পূজা-অর্চনায় কোন বিঘ্ন না হয়। এরপর ছিল বৈশ্য, শূদ্র- এরা কর্মজীবি মনে হয় তাঁতী, জেলে এই সব। এদের কাজ হল ব্রাক্ষন ও ক্ষত্রিয়দের সেবা করা- তার মাধ্যমেই এদের পূণ্য লাভ হত। এছাড়া পরবর্তীতে চাকুরীজিবী এক শ্রেণীর উদ্ভব হয়- এরা হল কায়স্থ। এর বাইরে আছে গোত্রহীন (casteless) নিম্নবর্ণের হিন্দু যাদের বলা হয় অস্পৃশ্য (untouchables)। মুসলমান বা বিধর্মীদেরকেও হিন্দু ধর্মে এ চোখে দেখা হয়। নিশ্চয়ই আগের যুগের গল্পে পড়েছেন, মুসলমানের বাসায় বর্ণ হিন্দু পা দিত না বা ছোঁয়া লাগাত না। যুগে যুগে বর্ন হিন্দুরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে এবং এখনো করছে (কিছুদিন আগেও বর্ণ হিন্দুদের অত্যাচারে, অনেক নিম্ন বর্ণের হিন্দু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছে)। মহাত্মা গান্ধী ভালবেসে অস্পৃশ্যদের ডাকতেন, ‘হরিজন’- অর্থাৎ 'যারা হরি বা স্রষ্টার লোক' এবং তিনিই প্রথম অস্পৃশ্যদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেন এবং আজীবন করে গেছেন।

আধুনিক ও উচচ-শিক্ষিত হিন্দুরা যদিও এখন এসব জাত-পাত মানেন না, কিন্তু মধ্যবিত্ত ও মধ্য-শিক্ষিত সমাজে এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। ’৪৭ এর দেশভাগের পর মূলত বর্নহিন্দুরাই ওপারে পাড়ি জমিয়েছিলেন। যারা এপারে রয়ে গিয়েছিলেন তারা ছিলেন মূলত নিম্ন বর্ণের হিন্দু। পশ্চিমবংগের হিন্দুরা শুনেছি এ জন্য বাংলাদেশী হিন্দুদের খাটো চোখে দেখেন। তবে বাংলাদেশী নিম্ন বর্ণের হিন্দুরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আখেরে লাভবান হয়েছেন। মুসলিম অধ্যুষিত সমাজে জাত-পাতের বালাই না থাকায় সামাজিক অবস্থানে তারা উপরে চলে আসতে পেরেছেন। পক্ষান্তরে, পশ্চিমবঙ্গে শুনেছি চাটুয্যে-বাড়ুয্যে-দের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ব্লগের পশ্চিমবঙ্গের বন্ধুরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় কিন্তু বাংলাদেশের মুসলমানদেরও লাভ হয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ফারসী-উর্দুর প্রভাবাধীন যে আশরাফ-আতরাফ দ্বন্দ্ব মুসলমানদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল তা পাকিস্তান আমলেও জিইয়ে ছিল। কিন্ত বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় এদেশে সেই দ্বন্দ্ব হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেছে। কাজেই, আসুন হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলি।

শেষ করছি, হিন্দু ধর্মের পুনর্জন্ম মতবাদ দিয়ে। সাধারণ বিশ্বাস হল, মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় তার কর্ম (deeds) দ্বারা, যেটাকে পশ্চিমে এখন ঢং করে karma বলা হয়। মানুষের দেহ ভস্ম হলেও আত্মার মৃত্যু হয় না। যে আত্মা এ জন্মে ভাল কাজ করে, পরের জন্মে সে আরো ভাল জীবন লাভ করে। যে আত্মা এ জন্মে পাপ করে, পাপের শাস্তিস্বরুপ পরের জন্মে নিম্ন শ্রেণীর জীবন লাভ করে এবং একের পর এক খারাপ জীবন নিয়ে সে জন্মাতেই থাকে। এটাকেই বলে জন্ম-চক্র (circle of rebirth). ভাল আত্মাগুলো এক সময় এই চক্র থেকে মুক্তিপায় যাকে বলে ‘মোক্ষলাভ’ এবং এটাই একজন ধার্মিক হিন্দুর জীবনের মূল উদ্দেশ্য। ‘মোক্ষ’ শব্দের অর্থ হল freedom.

(আমি পৃথিবীর সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। কাজেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোন ধর্মকে হেয় করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। যদি কেউ তা মনে করেন, তবে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28725216 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28725216 2007-08-12 03:24:37
বাঙ্গালের নাসা ভ্রমণ-২
আমি থাকি হিউস্টনের নাসা সেন্টারের পাশেই। কিন্তু জনসন স্পেস সেন্টারে কন্ট্রোল টাওয়ার ছাড়া শুনেছি কিছু নেই। নাসার নভোযানগুলো মূলতঃ ফ্লো্রিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকেই উৎক্ষেপণ করা হয়। তাই ভেবেছিলাম এই স্পেস সেন্টারটা অন্যগুলোর চেয়ে আকর্ষণীয় হবে।

কেনেডি স্পেস সেন্টার ফ্লোরিডার টিটাসভিল শহরের পাশে একটা ছোট্ট দ্বীপে অবস্থিত। অরল্যান্ডো থেকে টিটাসভিল উওর-পূব দিকে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট গাড়ী দুরত্বে অবস্থিত। আমরা যখন টিটাসভিলে পৌঁছালাম, তখন রাত বাজে প্রায় বারটা। ছোট শহর, রাতের অন্ধকারে কেমন যেন ভূতুড়ে মনে হচ্ছিল। যাই হোক, শহরে ঢোকার মুখেই একটা ডে'জ ইনে থাকার জায়গা পাওয়া গেল।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাশতা সেরে হাঁচর-পাচর করে বেরোতে বেরোতেই এগারোটা বেজে গেল। রিসেপশনের কাউলা আপাকে ডিসকাউন্ট টিকেটের কথা বলতেই পাশের মোটেলে খোঁজ নিতে বলল। গিয়ে দেখি এক বুড়ি রিসেপশনের পাশে টেবিল পেতে টিকেট বেচছে। ফারাক বেশী না, গেটে হয়ত জনপ্রতি ৪৫, বুড়ির কাছে ৩৮ করে কর সহ। টিকেট নিয়েই ছুটলাম।

আমরা ফ্লোরিডা আসার পর থেকে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এখানেও দেখলাম সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। স্পেস সেন্টারের গেটে পৌঁছাতেই ঝুম বৃষ্টি নামল। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই পার্কিং লট থেকেই ভিজিটর কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকলাম। গেটে টিকেট দেখানোর পর যে সূচী ধরিয়ে দিল তাতে দেখলাম সাড়ে বারটা থেকে একটা আই ম্যাক্স মুভি শুরু হবে। অগত্যা তাই সই। এখানে বলে রাখি আই ম্যাক্স-এর ওই দুটি ত্রিমাত্রিক ছবি ছাড়া স্পেস সেন্টারের আর কোন কিছুই আমার ভাল লাগে নি। কিন্তু, নাসায় এসে যদি কেবল আই ম্যাক্স দেখতে হয়, তবে আর এখানে আসা কেন?

যাই হোক, প্রথম ছবিটি ছিল মহাশূণ্য বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র নিয়ে। ধারা বর্ণনায় টম ক্রুজ। দুই ছবিতে দুই টম ধারাভাষ্যে- ক্রুজ আর হ্যাংকস। একটা নতুন তথ্য জানলাম। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের সাথে বিশ্বের ১৬ টি দেশ জড়িত। এতগুলো দেশ মহাকাশ গবেষণা করে আগে জানতাম না। রাশিয়ার ব্যাপারে আমেরিকান বিজ্ঞানীদের বেশ গদ্গদ দেখলাম। আসলে মহাকাশ বিজ্ঞানটা তো ওরা রাশানদের কাছ থেকেই শিখেছে। ত্রিমাত্রিক ছবি বেশ মজার। মনে হল, আমিই মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। একটা নভোযান উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখানো হল। পাথরগুলো যেন পর্দা ফেঁড়ে আমার মুখে এসে পড়ল।

প্রথম আইম্যাক্স মুভি দেখার পর গেলাম 'শাটল লঞ্চ এক্সপেরিয়েন্সে'। ভাবলাম এবার বোধহয় একটু মহাশূণ্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা হবে। আমাদের সবাইকে বলল আলগা জিনিষপত্র পকেটে না রাখার জন্য, শুণ্যে ভেসে বেড়াতে পারে। কিসের কি। একটা রোলার কোস্টারের মত যন্ত্রে তোলা হল। ওইটাই আমাদের নভোযান। রোলার কোস্টার এমনি ভয় পাই। একদিন আগে ভুল করে ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে উঠে পড়েছিলাম 'রিভেঞ্জ অফ দ্য মামি' দেখতে গিয়ে। ওটা যে রোলার কোস্টার সেটা তখন বুঝিনি। এখানে আবার দেখি একই মামলা। কিন্তু বাঁচলাম। যন্ত্রটা আমাদের নিয়ে শুধু উপরেই উঠল, নভোযান উৎক্ষেপণের অভিজ্ঞতা দিতে, নীচে আর নামল না। নাসার চৌদ্দ গুষ্ঠি গালি দিতে দিতে ওই খান থেকে বের হলাম।

এরপর গেলাম দ্বিতীয় ছবি দেখতে। এবারের বিষয় চাঁদে অভিযান। মজা পেলাম, যখন নীল আর্মস্ট্রং-এর চাঁদে পা রাখার দৃশ্যটা বিভিন্নভাবে শ্যুটিং করে দেখানো হল। কারণ, মানুষ চাঁদে গেছে এটা অনেকেই এখনো বিশ্বাস করে না। তাই নানাভাবে চিত্রায়ণ করে দেখানো হল এবং বলা হল কেউ যদি চাঁদে যাওয়াটাকে এরকম সিনেমার দৃশ্য মনে করে, তাতে আমাদের কিছু আসে-যায় না। এখানেও একটা নতুন তথ্য জানলাম। চাঁদে যে খাদ্গুলো রয়েছে তার গভীরতা অনেক বেশী- দশ-বারটা হিমালয় তাতে ঢুকে যেতে পারে। কিন্তু খালি চোখে এই গভীরতা বোঝা যায় না, মনে হয় সামান্য গর্ত। তাই চাঁদে নভোচারীদের খুব সাবধানে পা ফেলতে হয়। গর্ত মনে করে একবার খাদে পা দিলেই আর ফিরে আসতে হবে না।

এরপর গেলাম 'ম্যাডনেস ইন মার্স' নামে একটা শো তে। ওহ, এটা ছিল একটা পুরা যন্ত্রণা। দুটো মহিলা নেচে-কুঁদে আমাদের মহাকাশ নিয়ে জ্ঞান দিল। অন্ধকারে বসে ছিলাম। শো শেষ হওয়ার পর আলোতে দেখি আমাদের চারপাশে সব কাচচা-বাচচা আর তাদের অভিভাবকরা। বুঝলাম এটা একটা বাচচাদের শো ছিল। আমরা অতি উৎসাহে আগেই জায়গা নিয়ে বসে পড়ায় কিছু বুঝতে পারি নি।

এছাড়া আয়োজন বলতে ওখানে আর যা ছিল তা হল- একজন নভোচারীর সাথে সাক্ষাৎ। একটা লোককে দেখলাম স্পেস স্যুট পরে একটা হলের দিকে যেতে। তা স্যুটের নীচে যে আসল নভোচারী আছে তার গ্যারান্টি কি? ব্যাটা তো নাসার জেনিটরও হতে পারে। ওই দিকে আর পা বাড়ালাম না। এছাড়া আছে রকেট গার্ডেন- একটা জায়গায় কিছু রকেটের কংকাল ছড়ানো আছে আর আছে স্পেস শপ- স্যুভেনির কিনে আরো কিছু পয়সা ফেলবেন। কিনব না কিনব না করেও নাসার লোগো দেয়া একটা কলম দানী কিনে ফেললাম। বেকুব হলে যা হয়!

এর মধ্যে পাঁচটা বেজে গেল। ছুটলাম বাস ট্যুর দিতে। বাসে করে নাসার বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখাবে। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি, একটা বাসও এসে থামল। কিন্তু ড্রাইভার ব্যাটা প্যাঁচার মত মুখ করে বলল বাস ট্যুরের সময় শেষ হয়ে গেছে, আর কোন বাস যাবে না। আবার ধাপ্পাবাজি! সূচীতে পরিষ্কার লেখা আছে সাতটায় নাসা বন্ধ, পাঁচটায় বাস ট্যুর বন্ধ এটা তো কোথাও লেখা নেই। ব্যাটার সাথে তর্ক করে তো কোন লাভ নেই। কমপ্লেক্সের বাইরে একটা 'হল অফ ফেম' মিউজিয়াম ছিল। ওটা দেখারো আর রুচি হল না।

আরো দু'তিন ঘণ্টা আলো থাকার কথা। এখান থেকে ডেয়টোনা বিচ যেতে এক ঘন্টা লাগে। ঠিক হল এখন ডেয়টোনা গিয়ে সমুদ্র দেখব। মহাশুণ্য নিপাত যাক।

বিঃ দ্রঃ - কেনেডি স্পেস সেন্টার নিয়ে বাংলা উইকিপিডিয়ায় আমি একটি প্রবন্ধ শুরু করেছি। আপনি চাইলে এটি সম্পূর্ণ করতে পারেন। এইখানে লিঙ্কঃ
http://tinyurl.com/2wgz7f
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28723005 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28723005 2007-07-28 03:05:07
বাঙ্গালের নাসা ভ্রমণ-১
নাসা গিয়ে বেশ হতাশই হলাম। ভেবেছিলাম, স্পেস স্যুট পরে শূণ্য ত্বরণে একটু হাঁটাহাঁটি করব। তেমন কিছুর আয়োজন সেখানে দেখলাম না। খালি নভোযান অভিজ্ঞতার নামে রোলার কোস্টারের মত একটা জিনিষে ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ ঝাঁকি দিল। সব টাকা খাওয়ার ফন্দি। বাঙ্গালকে এইভাবে হাইকোর্ট, থুক্কু মহাশূণ্য দেখিয়ে দিল! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28722080 http://www.somewhereinblog.net/blog/pathik/28722080 2007-07-23 01:42:44