- সান্টী সীউ গোত্রের ওয়ামডিতানকা (বিগ ঈগল)
আধুনিক আমেরিকা রাষ্ট্রের উত্তর-মধ্য অন্ঞল ও তৎসংলগ্ন কানাডার দক্ষিণান্ঞলে একদা বিচরণ করত এক মহাপরাক্রমশালী জাতি। বহু গোত্র উপগোত্রে বিভক্ত সীউ নামের এই মহাজাতিটি ঐ অন্ঞলে বাস করত হাজার হাজার বছর যাবৎ। তারা ডাকোটা নামে বহুল পরিচিত। সীউ জাতি তিনটি গোত্র, যথা- সান্টী সীউ, ইয়াঙ্কটন সীউ ও টেটন সীউ। তারা নিজেদের সম্মান করে যথাক্রমে ডাকোটা, নাকোটা ও লাকোটা নামে পরিচয় দেয়। তারা বিস্তৃত ছিল আধুনিক আমেরিকান মানচিত্রে মিনোসেটা, উত্তর ও দক্ষিণ ডাকোটা, উইসকনসিন, আইওয়া, মিসৌরী, ওয়াওয়েমিং; কানাডার নেব্রাস্কা, ম্যানিটোবা ও সাস্কাচোয়ান অঙ্গরাজ্যে। কি বিশাল ছিল তাদের দেশ!
সান্টী সীউরা চারটি উপগোত্রে বিভক্ত- মিডিইকানতান, ওয়াপেতন, ওয়াহপেক্যু ও সিসেতান। সান্টীরা এই বিশাল সাম্রাজ্যের সীমান্ত অন্ঞলে বাস করত এবং তারা ছিল অরন্যচারী। উনবিংশ শতাব্দীর পন্ঞাশের দশকে সান্টীরা শ্বেতাঙ্গদের সাথে দুটো প্রতারণামূলক চুক্তির মাধ্যমে তাদের মোট ভুমির নয় দশমাংশ এলাকা হারিয়ে ঢুকে যেতে হয় বাধ্য হয় মিনোসেটা নদীর পাড় ঘেষা সংকীর্ণ এক ভুখন্ডে। সেই চুক্তি দুটো ছিল ভুমির প্রকৃত মালিক আদিবাসীদের প্রতি সুপরিকল্পিত প্রতারণা। শ্বেতাঙ্গদের অন্তরে একটি চুক্তিই ছিল তা হল ভুমি দখল করা, এবং সে চুক্তি তারা পালন করতে যে কোন উপায় অবলম্বন করতে পিছ পা নয়।
ঐই বিশাল ভুমির বিনিময়ে আমেরিকান সরকার সান্টীদের প্রতিবছর একটি ‘নির্দিষ্ট’ হারে টাকা দিত। ডাচরা আদিবাসীদের কাছে থেকে নিউ ইয়র্ক দ্বীপটি কিনেছিল কয়েকটি ছিপ ও চকমকি পাথরের বিনিময়ে। এথেকেই ভুমির মূল্য ও কেনাবেচার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এবং এই ধরনের বিক্রয়ে আদিবাসীরা বাধ্য হত। এই বিশাল ভুমি হারানোর কারনে বনচারী সান্টীরা হারাল তাদের বুনো চাল সংগ্রহের, মহিষ শিকারের অন্ঞল। তাদের জীবিকা অর্জনের পথ অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। তাই প্রায়ই তাদের ট্রেডারদের কাছে তেথেকে ধারে খাবার ও দরকারী পণ্য কিনতে হত। যখন টাকা আসত ট্রেডাররা সরকারের কাছে থেকে আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে নিত। আর ট্রেডারদের হিসাবে টাকা সবসময়ই আদিবাসীদের হিসাবের চেয়ে বেশি হত। এক্ষেত্রে আদিবাসীদের কথা সরকার মানত না, তারা মানত শ্বেতাঙ্গ ট্রেডারদের কথা। এভাবেই সান্টীরা প্রতিবছর প্রতারিত হতে লাগল। ১৯৬২ সালে যখন আমেরিকার গৃহযুদ্ধ চলছিল তখন তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ আসতে দেরী হচ্ছিল। আর সান্টীরা ছিল উপবাসী এবং ক্ষুধার্থ। সান্টীদের মহানেতা লিটল ক্রো তার লোকজন নিয়ে গেলেন ইন্ডিয়ান এজেন্সীতে। সেখানে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হল। ট্রেডার এন্ড্রু মাইরিক বলল, “তারা যদি এতই ক্ষুধার্থ হয় তবে হয় তারা খড়কুটো খাক অথবা নিজেদের মলমুত্রই খাক।” এটা ছিল সান্টীদের প্রতি চরম অপমান। সান্টীরা সর্বদা চুক্তি মেনে চলত। কিন্তু শ্বেতাঙ্গরা প্রায়ই চুক্তি ভংগ করছিল। লিটল ক্রো অনুভব করলেন তিনি যেন সব হারাচ্ছেন। এর মাঝে একদিন একটি দূর্ঘটনা ঘটে যায়। চারজন ক্ষুধার্থ সান্টী যুবক ডিম সংক্রান্ত ঘটনায় অহেতুক পাচঁজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে। এই হত্যাকান্ডের পর কোন সান্টী আর অনিরাপদ নয়, কারন তারা জানে শ্বেতাঙ্গরা দু একজনের অপরাধে সবাইকে পাইকারী ভাবে শাস্তি দেয়। তাই এখন যুদ্ধ অপরিহার্য। তারা যদি আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেয় তবে শ্বেতাঙ্গরা সবাইকে খুন করবে। সবাই লিটল ক্রোকে যুদ্ধ করতে বাধ্য করে।
লিটল ক্রো, যার সীউয়ান নাম তা-ওয়া-তে-দুতা (Ta-oya-te-duta)-
১৮৬২ সালের ১৮ই আগস্ট তারা এজেন্সী আক্রমাণের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করে। তারা সেই বণিক মাইরিককে হত্যা করে তার মুখে ঘাস গুজে দিয়ে প্রতিশোধ নেয়।
ফোর্ট রিজলি-
২২ আগস্ট মিনেসোটার ফেয়ারফ্যাক্স-এর ফোর্ট রিজলি আক্রমণের করে। তারা দূর্গ দখল করতে ব্যার্থ হয়। এর কয়েক দিন পর লং ট্রেডার হেনরী শিবলীর রেজিমেন্ট এসে দূর্গে যোগ দেয়। সান্টীদের সাথে শিবলীর পূর্বেই পরিচিতি ছিল একজন প্রতারক হিসেবে। সান্টীদের টাকা মেরে দেয়ার পেছনে এই লোকটির ভূমিকা ছিল সবচে’ বেশি।
জেনারেল হেনরী এইচ. শিবলী-
এর পর সান্টীদের আর শান্তিতে ফিরে যাবার পথ ছিল না। বিজয়ী ইতিহাস এই যুদ্ধকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে দাড় করিয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধটি ছিল দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটি জাতির আত্মরক্ষার সর্বশেষ প্রচেষ্টা। সান্টীরা কেন এই যুদ্ধ শুরু করেছিল তার প্রকৃত কারনটি জানা যায় লিটল ক্রো শিবলী কে দেয়া ৭ সেপ্টেম্বরের চিঠিটি পড়লে।
“কি কারনে আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি তা আপনাকে বলব। মেজর গলব্রেথই এর কারন। সরকারের সঙ্গে আমরা একটা চুক্তি করেছিলাম এবং আমরা আমাদের যা প্রাপ্য তা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সন্তানরা না খেয়ে মারা যাওয়া পর্যন্ত আমরা তা পাই না।এসবের জন্য দায়ী ট্রোডাররা। মিঃ এ. জে. মাইরিক ইন্ডিয়ানদের বলেছে খিদের জ্বালায় তারা আর কিছু না পাক ঘাস ও মলমূত্র খাক। এরপর মিঃ ফর্বিস লোয়ার লোয়ার এজেন্সীর সীউদের বলেছে তারা মানুষ না। উপরন্তু রবার্টস তার বন্ধু বান্ধবের সহায়তায় একত্রে আমাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বন্ঞিত করার ফন্দি ফিকির চালিয়েছে। আমাদের তরুন যুবকরা শ্বেতাঙ্গদের যা কিছু করেছে আমি নিজেও তাই করেছি। সুতরাং আমি চাই গভর্নর রামোসকে আপনি সমগ্র বিষয়টি জানান। আমার কাছে বহু শ্বেতাঙ্গ নারী ও শিশু বন্দী আছে। পত্র বাহকের কাছে আপনি এ চিঠির উত্তর পাঠবেন আমি তা কামনা করি।”
এরপর বিচ্ছিন্ন যুদ্ধ চলতে থাকে। এই যুদ্ধে ওয়াবাসা নামে এক সান্টী নেতা শিবলীল সাথে আপোষ করে। ওয়াবাসা বীর ও গুরুব্তপূর্ণ যোদ্ধা ছিলেন। পরাজয় মেনে নিয়ে সান্টীরা আত্মসমর্পণ করে এবং বন্দীদের ফিরিয়ে দেয়। লিটল ক্রো বুঝতে পারেন কারো বিশ্বাস ঘাতকাতা এই যুদ্ধে পরাজয় অসম্ভব। ২০০০ হাজার সান্টীকে বন্দী করা হয়। তারাপর শুরু হয় বিচার, সোজা বাংলায় যাকে বলা যায় প্রহসন। তাদের পক্ষে কোন কৌসুলি নিয়োগ দেয়া হয় নি। প্রথম ব্যক্তিটির বিচারের মাধ্যমে বোঝা যায় প্রহসনের মাত্রা। গডফ্রে নামক একজনকে শুধু এই কারনে মৃত্যূদন্ড দেয়া হয় যে কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ মহিলা নাকি তাকে বলতে শুনেছে যে সে নাকি সাতজন শ্বোতঙ্গকে হত্যা করেছে। কোন প্রমাণের ধার ধারা হয় নি। ৫ নভেম্বর বিচার শেষ হয়। বিচারে ৩০৩ জনের মৃত্যূদন্ড হয়। আর বাকী ১৭০০ মানুষকে আটাকে রাখা হল শুধু এই অপরাধে যে তারা জন্মেছে আদিবাসী হয়ে, যাদেরকে তারা নাম দিয়েছে রেড ইন্ডিয়ান। এরা যদি মানুষ না হয়ে শয়তানও হয় তবু তাদের জীবননাশেরে দ্বায়িত্ব শিবলী একা বহন করতে রাজী নয়। তাই সে নথিপত্র চালান করে দিল নর্থ ওয়েস্ট মিলিটারী ডিপার্টমেন্টের কমান্ডার জেনারেল জন পোপের ঘাড়ে। জন পোপ সেটা চালান করে দিলেন খোদ রাষ্ট্রপতি লিংকনের কাছে। এখানে প্রেসিডেন্ট তার উন্নত বিচার বিবেকের পরিচয় দিলেন। তিনি বিচারের সকল নথি-পত্র চেয়ে দুজন আইনজীবি নিয়োগ করলেন। ৬ ডিসেম্বর চুড়ান্ত রায় এল। ৩০৩ জন হতে মৃত্যূদন্ডাদেশ প্রাপ্তের সংখ্যা কমে এল ৩৯ জনে। পরবতীতে আরও একজনের মৃত্যূদন্ডাদেশ রহিত হয়।
শিবলীকে পাঠানে প্রেসিডেন্ট লিংকনের আদেশ,
"Ordered that of the Indians and Half-breeds sentenced to be hanged by the military commission, composed of Colonel Crooks, Lt. Colonel Marshall, Captain Grant, Captain Bailey, and Lieutenant Olin, and lately sitting in Minnesota, you cause to be executed on Friday the nineteenth day of December, instant, the following names, to wit ...
The other condemned prisoners you will hold subject to further orders, taking care that they neither escape, nor are subjected to any unlawful violence.
Abraham Lincoln,
President of the United States"
যিশু খ্রীস্টের জন্মদিনের অর্থাৎ বড়দিনের ঠিক পরদিন ২৬ ডিসেম্বর ধার্য কার হয় ফাঁশি দিন। ফাঁশির স্থান ছিল মানকাতা শহড়ে। প্রতিহিংসা পরায়ন, বিকৃতমনা বিনোদনপিয়াসী শ্বেতাঙ্গরা হাজির হল প্রকাশ্য ফাঁশি দেখতে। গলায় ফাঁশ পরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত সীউদের কন্ঠে ছিল মরণ সঙ্গীত। সৌভাগ্যবশত আব্রাহাম লিংকনের হস্তক্ষেপ না পরলে ঝুলে থাকা সান্টী সীউদের সংখ্যা হত আরও প্রায় ৩০০ বেশি। এটা আমেরিকার ইতিহাসে সবচে’ বড় গণফাঁশি। ফাঁশি কয়েক ঘন্টা পর আবিষ্কার কারা হল যে যাদের ফাঁশি দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে দুজনের নাম লিংকনের পাঠানো তালিকায় ছিল না। আজ পৃথিবীর ইতিহাসের এই কলঙ্কিত ঘটনার ১৪৬তম বার্ষিকী। কিন্তু বেমালুম চেপে গেছে পৃথিবী তার এই কলঙ্কিত ইতিহাস। কো পত্রিকায়, কোন টিভিতে ‘এই দিনে’ যেন এই ঘটনা ঘটেই নি। এই দিনটি শুধু কয়েকজন যোদ্ধা আর কয়েকজন নিরপরাধ লোকের হত্যা দিবস নয়। একটি রাষ্ট্রের পতন, একটি জাতির স্বাধীনতা হারানোর দিন। দিনে দিনে সংকুচিত হয়ে আসা একটি রাষ্ট্রের চুড়ান্ত মৃত্যু দিবস। কিন্তু পৃথিবীবাসীর চোখে কিছুই নয়। একসময় যেসব আমেরিকান আদিবাসী জাতি অনুভব করে যে বিধাতা তাদের ভুলে গেছেন, সেই জাতিকে স্মরণ করার কি দায় পড়েছে পৃথিবীর, কি দায় গণমাধ্যমগুলোর!
চিত্রশিল্পীর আঁকা সেই ফাঁশির দৃশ্য-
সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিফলক-
এই যুদ্ধটি আমেরিকাকে দারুন একটি সুযোগ এনে দেয় বিনা পয়সায় আরেকটি বিশাল ভূমি ‘কিনে’ নেয়ার। যারা বেচে গেল তারা কি আসলেই বেচে গেল? তারা বেচে রইল শুধু অনুশোচনা করার জন্য আর ধুকে ধুকে মরার জন্য। বেচে যাওয়া বেশির ভাগকে দীর্ঘমেয়াদী কারদন্ড দেয়া হল। আমেরিকার আদিবাসীদের ইতিহাস যার সমাপ্তি ঘটেছিল ১৮৯০ সালে সেই দীর্ঘ বেদনাময় ইতিহাস পড়লে আমরা পরিচিত হব সমগ্র পৃথিবীর ইতিহাসের আরও বেশ কয়েকজন শ্রেষ্ট মানুষের সাথে যাদের শ্বেতাঙ্গরা মানুষ বলে বিবেচনা করে নি। আমরা জানব যে তারা মানবতায়, প্রজ্ঞায়, শিক্ষয়, ন্যায় পরায়নতায়, মহানুভবতায় ছিলেন শ্রেষ্ঠজন, স্বজাতির প্রতি দ্বায়িত্ব ও মমতায় অতুলনী, তারা সত্যিকারের নেতা। যে বিশাল ভূখন্ড একাদা পরমেশ্বর তাদের দিয়েছিলেন অকাতরে তাদের হৃদয় ছিল তার চেয়ে বড়! কি পরম মমতায় তারা নিজ জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছেন! আমরা তাদের ভুলে গেছি। ভুলে গেছি তাদের সংগ্রামের কথা। তাদের মৃত্যূদিবসেও তাদের স্মরণ করতে আমরা কৃপণ।
আদিবাসী ইতিহাসের অন্যতম মহান নেতা লিটল ক্রো (জন্ম: ১৮১০খ্রীঃ) ১৯৬৩ সালের ৩রা জুলাই এক পুরুষ্কার লোভী শ্বেতাঙ্গ অভিবাসনকারী গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় প্রতিটি সান্টীর মাথার খুলির জন্য পুরুষ্কার ঘোষনা করা হয়েছিল পচিশ ডলার। আর লিটল ক্রো’র জন্য পাচশত ডলার।
প্রবন্ধের শুরুতে যে সীউ নেতার উদ্বৃতি দেয়া হয়েছে সেই বিগ ঈগল ওরফে ওয়ামডিতানকা’র (১৮২৭-১৯০৬) ছবি-
আরও দুই সান্টী নেতা স্যাকোপি ও মেডিসিন বোতল’কে কানাডা হতে প্রাতরণা করে ধরে এনে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে ফাঁশি দেয়া হয়। এই প্রহসনের ধারা আমেরিকা আজও অব্যাহত রেখেছে। তার সর্বগ্রাসী ক্ষুধার অতল গহ্ববরে হারিয়ে গেছে শতাধিক জাতি। পৃথিবী কি শিক্ষা নেবে না?
রিজার্ভেশনে বন্দী সান্টী, এর মধ্যে লিটল ক্রো'র ষোল বছর বয়সী ছেলেও আছে, ডান হতে দ্বিতীয়-
সীউদের এলাকার আংশিক মানচিত্র (কমলা অংশটুকো বর্তমান রিজার্ভেশন)-
ছবি ও তথ্যসূত্র: ‘আমারে কবর দিও হাটুভাঙ্গার বাঁকে’, লেখক ডি ব্রাউন, দাউদ হোসেন অনুদিত সংঘ প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত;
উইকিপিডিয়া; এনসাইক্লপিডিয়া বৃটানিকা; ও আমেরিকান আদিবাসী বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

