ওয়েব অ্যাপস বানাতে হলে আগে বেশ কটা জিনিস জানা আর বোঝার বিষয় আছে । সেগুলো হলঃ
১. এইটিটিপি প্রোটোকল
২. ওয়েব সার্ভার
৩. ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ইন্জিন
৪. জাভাস্ক্রীপ্ট
খুব সংক্ষেপে এইটিটিপি প্রোটোকল বলতে সেই ভাষাকেই বোঝায় যাতে ব্রাউজার আর ওয়েব সার্ভার কথা বলে। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফায়ারফক্স এরা ব্রাউজার আর অ্যাপাচি হল ওয়েব সার্ভার। আমরা যখন লিখি http://www.google.com, তখন আমরা গুগল.কমের www নামের ওয়েবসার্ভারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি।
এখন দেখা যাক এইটিটিপি প্রোটোকলের ভাষাটা কেমন । ধরুন আপনি নীচের ওয়েবসাইটে যেতে চান।
http://www.google.com/MyFriends.html
আপনার ব্রাউজার তখন গুগুল.কমে কানেক্ট করবে। তারপর বলবে তার MyFriends.html নামের ফাইলটা চাই। ব্যাস, গুগুলের ওয়েবসাভার ফাইলটা পাঠিয়ে দেবে। এই জাতীয় যোগাযোগকে বলে গেট রিকোয়েস্ট, পরে আমরা বিশদে জানব। আরেক ধরেনের রিকোয়েস্ট আছে, তাকে বলে পোস্ট রিকোয়েস্ট। আপনি যখন ইয়াহু মেইলে লগিন করেন তখন আপনি কিছু তথ্য ওয়েবসার্ভারকে জানিয়ে দেন যার বিনিময়ে সেও আপনাকে কিছু তথ্য পাঠায় । হালকা জ্ঞান হিসেবে এ পর্যন্ত জানাই যথেষ্ট । পরে তো আরো কথা হবেই।
এবার আসা যাক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ইন্জিনের কথায় । ওয়েবসার্ভার সাধারন ফাইল দেওয়া নেওয়া করে । এর বেশী তার মাথায় ঢোকে না। তাহলে ইচ্ছে মতো কাজ করাবেন কিভাবে? মাথা খাটিয়ে বের করা হল সার্ভার যে ফাইল দেওয়া নেওয়া করবে তাতে বিশেষ কায়দায় কোড লিখে দেওয়া হবে। ফাইল গুলো লেনাদেনার আগে আরেকটা অ্যাপ্লিকেশন সেই কোড প্রসেস করে ফাইলটা দরকার মতো বদলে দেবে। এই যে অ্যাপ্লিকেশনটা কোড প্রসেস করে দেবার দায়িত্বটা নেয় তাকে বলে হাইপার টেক্সট প্রিপ্রসেসর কিংবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ইন্জিন । এএসপি, পিএইচপি, পার্ল, এসবই কোন না কোন প্রকার ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ইন্জিন।
পরিশেষে আসি জাভা স্ক্রীপ্টের কথায়। আগে ব্রাউজার ফাইল লেনাদেনা করেই খালাস ছিল। নেটস্কেপ এর লোকজন ভাবলো ব্রাউজারে প্রোগ্রামিং এর সুবিধা দিলে কেমন হয়, তাহলে সার্ভারের উপর চাপ কমিয়ে ব্রাউজার দিয়েও কাজের কাজ করা যাবে কিছু কিছু। তখন জাভা নিয়ে ভীষন মাতামাতি । সেই জোশে তারা জাভাস্ক্রীপ্ট বলে একটা ভাষা তৈরি করে জুড়ে দিল তাদের নেটস্কেপ ব্রাউজারে।
(আমি সেই সময়ের মানুষ, বড় নস্টালজিক হয়ে গেলাম!) । তাদের দেখাদেখি এখন সবাই জাভা স্ক্রীপ্টকে বুকে টেনেছে। জাভা স্ক্রীপ্ট শুরুতে ছাগু টাইপ ল্যাংগুয়েজ থাকলেও এখন সে দাপুটে ষাড়ের মতো শক্তিশালী । এই বিদ্যাটা থাকলে অসাধারন ওয়েব অ্যপস বানানো যাবে তাতে সন্দেহ নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

