আমার প্রিয় পোস্ট

নুতন পুরাতন সব লেখাতেই আপনার মন্তব্য প্রত্যাশিত।

আধুনিক গবেষনায় দেশের সায়েন্স ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলির দীর্ঘ ব্যর্থতা।মূল কারনটা কোথায়?যোগ্যতা-প্রতিভার অভাব না অন্যকিছু? কিস্তি-২

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৮

শেয়ারঃ
0 6 0

কিস্তি-১

ছোট একটা গল্প বলি। আইনস্টাইন তখন খ্যাতির শীর্ষে। প্রায়ই দেশে-বিদেশে যেতে হয়। থিওরি অব রিলেটিভিটি হাতেগোনা কয় ডজন বিজ্ঞানি ছাড়া কারো মাথায় ঢোকেনা। তারপরেও উনাকে একপলক দেখতে, বক্তৃতা শুনতে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই বেচাইন। বিশ্ব জুড়ে আইনস্টাইন ক্রেজ। এমনি এক সভায় সংবাদিক প্রশ্ন করলেন, আপনার মতো স্বনামধন্য বিজ্ঞানীর গবেষনাগার বা ল্যাবরেটরী সম্পর্কে আমরা দুটো কথা শুনতে চাই। উত্তরে তিনি বললেন, আমার গবেষনাগারে গুরুত্বপূর্ন দুটি যন্ত্র আছে। এ দুটি আমার নিত্য সঙ্গী। সভায় পিনপতন নীরবতা… । একটি হচ্ছে আমার এই কলম, আরেকটি হচ্ছে এই কাগজ । এরপর নিজের মাথায় টোকা দিয়ে বলেছিলেন, আর এইটি হচ্ছে আমার সেই ল্যাবরেটরী যেটা আমি সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াই। গল্পের মোজেযাটা পরে বলি, তার আগে সংক্ষেপে একটু পেছনে ফিরে দেখি।

দেশে এখন পর্যন্ত সর্বমোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩১ । অনেকগুলি ৫০ থেকে ৯০ বৎসরের পুরনো আবার অনেকগুলির যাত্রা সবেমাত্র শুরু। ১৯২১ সালে অনেক প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। ১৯৫৩ তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬১ এ ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৬ তে চিটাগাং, ১৯৭০ এ জাহাঙ্গিরনগর এরপর একে একে বাকিগুলি।বর্তমানের মূলধারার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্তনটা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নাম নিয়ে শুরু হয়নি। যেমন ১৯৪৮ তে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসাবে বুয়েট আর ১৯৬৪ তে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসাবে রুয়েট এর যাত্রা শুরু। কেন্দ্রে অবস্থানের কারনে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কোনটি একটু আগে, আবার কোনটি বেশ দেরিতে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ট কমিশনের তালিকাভুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে নুতন নাম ধারণ করেছে । তবে যাইহোক, আর্কিটেকচারাল বিউটি, স্থানের প্রাচূর্য, অবকাঠামো, আবাসিক সুবিধা,পাঠ্যক্রম, কিংবা অরগানোগ্রাম কোনো দিক দিয়েই এই সব প্রাচীন প্রতিষ্ঠানগুলি বিশ্বের সমসায়িক অন্যসকল প্রতিষ্ঠানের থেকে পিছিয়ে ছিলোনা।

বেসিক সায়েন্স অর্থাৎ ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি কিংবা জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলি আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল ও আছে।একটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। জানামতে সেই পঞ্চাশ,ষাট এমনকি সত্তর এর দশকেও মেধাবী ছাত্রদের একটা বিরাট অংশের স্বপ্ন থাকতো ফিজিক্স পড়ার। লক্ষ্য একটাই, ভবিষ্যতে নাসাতে(NASA)গবেষক হিসাবে কাজে যোগদান করা। নাসাতে সত্যই তখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এদেশীয় গবেষক কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য যে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর আব্দুস সালামেরও সম্পৃক্ততা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগের সঙ্গে। আর সত্যন্দ্রনাথ বোস এর নাম কে না জানে। যে নামটি জড়িয়ে আছে স্বয়ং আইন্সটাইনের সঙ্গে, বোস-আইন্সটাইন থিওরী নামে। ১৯২১ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

একটু ফিরে যাই প্রকৌশল শিক্ষায়।ষাট এর দশক থেকে এইচ,এস,সি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল শিক্ষার জন্য মূলতঃ যে চারটি প্রতিষ্ঠানে ভর্ত্তি হতে হয় সেই বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েট এর যাত্রা যথাক্রমে ৪৮,৬৪,৬৮ এবং ৬৯ তে । প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যথাক্রমে দেশের মধ্য, উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিন অংশের সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসাবে ভূমিকা রাখবে। মানে স্বস্ব অঞ্চলের ভারী শিল্পকারখানার বিকাশ, তার জন্য প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি সরবরাহ, তদ্‌সংক্রান্ত গবেষণা ও দিক্‌নির্দেশনা প্রদান করে তারা চালকের ভূমিকা পালন করবে।

কেন সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি সেই প্রশ্নটা আপাততঃ শিকেয় তুলে রাখি, নয়তো কোন মূর্খ -‘কোথায় আদমজী, প্লাটিনাম-জুবলী? কোথায় সেই কর্নফুলি আর দর্শণা চিনিকল?’ বলে উলটো প্রশ্ন করে বসতে পারে। খুব বাজে প্রশ্ন এটি। তারচেয়ে বরং দেখি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শত বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে এখনও আধুনিক গবেষনায় অবদান রাখার মতো অবস্থায় আছে কিনা। যেটা আমাদের এই আলোচনার বিষয়বস্তু।

ল্যাবরেটরীগুলি কি প্রকৌশলী-বিজ্ঞানী তৈরীর জন্য যথেষ্ঠ?

অনেক প্রকার অভাব অভিযোগের পরেও বলবো যে হ্যাঁ যথেষ্ঠ। আসলে নিজের দেশ সম্পর্কে এক ধরনের হীনমন্যতাবোধ আমাদের ভেতরে এমনভাবে প্রবেশ করানো হয়েছে যে আমাদের যেটুকু ভাল সেটাও মেরুদন্ড শক্ত করে বলার মতো নৈতিক সাহস আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বলা তো অনেক দুরের কথা, মর্মটুকু বুঝার মানসিক শক্তি আর সময়টা আমাদের কোথায়? আমাদের ধারনা বিদেশের ল্যাবগুলি শুধু জেমসবন্ড-০০৭ মার্কা আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ঠাসা। সেখানের ছাত্রগুলি এই সকল যন্ত্রপাতি নিয়ে করে নিত্য নাড়াচাড়া, আর বানায় আয়রনম্যান মার্কা হলিউড মুভির আদলে সব তাকলাগানো কলকব্জা। আসলে কি তাই?

ছিলিমে টান না দিয়ে কিংবা সস্তা কোন আবেগের ধার না ধরেও বলা যায়- এটম ভাঙ্গার মত জটিল সব প্রযুক্তি আমাদের না থাকলেও পাঠ্যবিষয়ের বেসিকটা হৃদয়ঙ্গম করার জন্য ল্যাবগুলি যথেষ্ঠই বলা চলে। ল্যাবগুলি শুধু শিক্ষার্থির শিক্ষার কাজেই নয়, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিভিন্ন কারিগরী টেস্টিং এর প্রয়োজনে হামেশাই ব্যাবহৃত হচ্ছে বহু পূর্ব থেকেই। শুধু প্রয়োজন আন্তরিকতা ও সতর্কতার সংগে এর সর্বত্তম ব্যবহার আর সঠিক রক্ষনাবেক্ষণ।

যাবতীয় গবেষনার জন্যই যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দামের জটিল সব যন্ত্রপাতি অপরিহার্য, এই চিন্তাটা থেকেও বের হয়ে আসা খুব জরুরী। ফেলে দেয়া চা-চামচের উলটো দিকটাও যে স্ক্রু ড্রাইভারের বিকল্প হতে পারে সেটা আবিষ্কারের জন্যে নিজের মতো করে ভাববার স্পর্ধা দরকার প্রথমে। আর দরকার চিন্তার শক্তিমত্তা। ওই যে উপরের অংশে বললাম, গবেষনার যন্ত্র যাঁর সাকুল্যে দুটি, একটা কলম আর একটা কাগজ, সেরকম। বর্তমানে আধুনিক গবেষনার একটা বিশাল অংশ শুধু এই দুটি মূল যন্ত্রকে ব্যবহার করেই উত্তরোত্তর এগিয়ে চলছে। উন্নত বিশ্ব বলতে আমরা যাদের বুঝি, মানে সেই সাদাদের দেশ, সেখানেও গবেষককের টেবিলে দেখা যায় হার্বাটশিল্ডের একটা সি++ বই, আইনস্টাইনের সেই অঙ্ক কষার খাতাকলম আর একটা লিনাক্স টারমিনাল। ব্যাস। এই তিনটা বস্তুকে সম্বল করেই তারা জগতকে উপহার দিয়ে চলছেন আগামীদিনের প্রযুক্তি, নিত্য নুতন চিন্তা ।

চলবে-


 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১০ দুপুর ২:৩২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪০
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: একটু বিরোধিতা করছি একটি বিষয়ের উপর "এটম ভাঙ্গার মত জটিল সব প্রযুক্তি আমাদের না থাকলেও পাঠ্যবিষয়ের বেসিকটা হৃদয়ঙ্গম করার জন্য ল্যাবগুলি যথেষ্ঠই বলা চলে"-
আমার শিক্ষাজীবনে কিছু বেসিক বিষয় যেমন-বেসিক ইলেকট্রিক্যাল/ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা যন্ত্র অপ্রতুলতার কারণে একটা গ্রুপে ৭/৮ জন করেছি। যতদূর মনে পড়ে ওসিলেটরের সংখ্যার উপর নির্ভর করে স্যার সর্বমোট ছাত্র সংখ্যাকে ঐ ওসিলেটরকে ভাগ করে নাম্বার অফ গ্রুপ বাহির করত। ৭/৮ জনের একটা গ্রুপে সবাই যে একইরকম ভাবে শিখতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তারপরে ধরুন, ডিপিডিটি এবং এই রকম বিষয়ক সাবজেক্টে পাচজনের গ্রুপ। একজন স্টুডেন্ট যদি মাইক্রোপ্রসেসর টাইপ বিষয়ের উপর সম্যক জ্বান না থাকে তবে তার জন্য সিস্টেম লেভেলের প্রোগ্রামার হওয়া দূরহ। আবার এই সব বড় গ্রুপে একজন মহাআতেল থাকলেতো কথাই নাই, সব আমি করব অন্য কাউকে করতে দিবনা।
আজ থেকে যদি আপনি ১২~১৫ বছরের আগে বুয়েটের কথাই ধরুন (আমি তখনো বুয়েটের ছাত্র না, বড় ভাই/স্যারদের মুখে শুনা) তখন ল্যাবে কম্পিউটারের অপ্রতুলতা ছিল। আর ব্যাক্তিগত উদ্যাগো কিছু কিছু ছেলের দেখা যেত লেভেল-১ টার্ম-১ এর ক্লাশ শুরুর অনেক পরে কম্পিউটার কিনছে। তাই শুরুতেই তারা পিছিয়ে যেত সি তে, পরবর্তীতে অন্য বিষয় এবং ইত্যাদির সাথে তাল মিলাতে গিয়ে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ জুজুর ভয়ের ন্যায় কাজ করত। আমার নিজের স্পস্ট মনে আছে, ল্যাবের অপ্রতুলতার কারণে আমরা ইন্টারনেটে বসতে পারতাম না ২০০৩ পর্যন্ত।তবে আমরা গরীব দেশ, আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে আমাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
আপনার লেখা চলতে থাকুক। ভাল থাকুন।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৬

লেখক বলেছেন:
আমরাও এইসকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছি। সে সময় খুব রাগ হতো। তবে কি জানেন, পরে দেখলাম দেশ বিদেশ যেখানেই বলেন শিক্ষাপদ্ধতির(schooling) গড়পড়তা নেচারটাই ওরকমই। ঘরে বসে শৈশবে আমরা কমবেশি যেমন মন দিয়ে, সময় নিয়ে দিনের পর দিন সচল রেডিওটার বারটা বাজিয়ে গবেষক হয়ে উঠি, ঠিক সেই রকম সুবিধা একটা ২।৩০ ঘন্টার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে ৩০ জন ছাত্রকে একসঙ্গে দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনা।

তারপরেও বলব ছাত্রের শেখার আগ্রহওটাও একটা বিশাল ফ্যাক্টর, আগ্রহ থাকলে এই বাধাবিঘ্নের মাঝেও ভাল শেখা যায়। আসলে এ নিয়ে লিখলে পক্ষেবিপক্ষে অনেক কিছুই লেখা যায়। তার পরেও দেখেন এই সকল প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাই প্রাকটিক্যাল ফিল্ডে গিয়ে খুব ভাল করছে। পাশ করার পরে অনেককিছু সে ভুলে গেছে ঠিকই ,কিন্তু যে তলানিটুকু ভেতরে থেকে গেছে সেটাই তাকে পথ দেখাচ্ছে। শিক্ষা মানেই নুতন কিছু শেখা নিঃসন্দেহে, কিন্তু তারসঙ্গে কিভাবে শিখতে হবে সেই বিদ্যা রপ্তকরাটা খুবজরুরী ব্যাপার, আর এটাই হচ্ছে মূল শিক্ষা।

২. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০১
আতিকুল হক বলেছেন: ভাইরে একটু রিয়েলিস্টিক হন।

আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলা রিসার্চ করার সুযোগ নাই বললেই চলে। প্রথমে আপনাকে একটা সহজ কথা বুঝতে হবে। দুনিয়ার কোন দেশেই আন্ডারগ্র্যাড(বিএসসি বা অনার্স) পড়ুয়ারা রিসার্চ করে না। রিসার্চ করে মাস্টার্স বা মূলত পিএইচডি স্টুডেন্টরা।

আমি বিশ্বাস করি, বুয়েটের আন্ডারগ্র্যাড ছাত্রদের যে এভারেজ কোয়ালিটি সেটা দুনিয়ার কোন ইউনিভার্সিটির আন্ডারগ্র্যাড স্টুডেন্টদের নাই। কিন্তু আন্ডারগ্র্যাড পর্যায় হচ্ছে বেসিক গড়ার সময়। আমার কথাই বলি বুয়েটে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিলাম। ফুল টাইম অফিস করার পরে আর কোর্সওয়ার্কেরই সামর্থ্য থাকে না, রিসার্চ দুরের কথা। ফুল টাইম ছাত্র থাকা সম্ভব ছিল না আর্থিক কারনে। বুয়েটেরও সামর্থ্য ছিল না গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের টাকা দেওয়ার। ইউ এস এ তে রিসার্চের সবচেয়ে বেশী ফান্ড দেয় গর্ভমেন্ট আর মিলিটারি। আর সবাই কাগজে কলমে রিসার্চ করে, ল্যাব লাগে না এই ধারনাও কোথাও পাইলেন বুঝলাম না। বরং অনেক ভালো কাজেই মিলিটারি বা প্রাইভেট সেক্টরের সাথে কোলাবরেশনে ল্যাব সাপোর্ট লাগে। আর আমি প্রফেসরের টেবিলে হার্ব শিল্ডের বই পইড়া থাকতেও দেখি নাই। বরং সবসময় প্রচুর রিসার্চ পেপার আর নিজস্ব ফিল্ডের বই দেখসি।

আমাদের লিমিটেশন আছে, যথেষ্ট ল্যাব নাই এইটা অস্বীকার করা বোকামি। রিসোর্স ছাড়া রিসার্চ হবে এইটাও অবাস্তব কল্পনা। কেন এগুলা নাই সেটাই ভাবার বিষয়।

আমার একটা লেখা ছিল কিছুটা রিলেভেন্ট - পন্ডিত মশাই, কুকুরের ঠ্যাং এবং অন্যান্য

কিন্তু এই সমস্যা নিয়ে ভাবার জন্য প্লাস।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১২

লেখক বলেছেন: আমার নীচের নয় নম্বর কমেন্টের কিয়দংশ আবার কপি করলাম-----একটু খেয়াল করলে দেখবেন মূলতঃ এই দুই পর্বে চুড়ান্ত রিসার্চলেভেলের বাধা-বিঘ্নগুলো নিয়ে নয়, বরং যারা রিসার্চ করবে বা সেই রিসার্চপূর্ব ম্যানপাওয়ারটি তৈরীর আবস্থাটা আমাদের জন্য আসলেই হতাশাজনক কিনা সেটাই সংক্ষেপে রিভিউ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে যাবার আগে এই কাজটা সেরে রাখা দরকার।

ধন্যবাদ আপনাকে। পরের অংশগুলিতে আপনাদের সঙ্গে পাবো আশা রাখি ।

৩. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৭
নতুন রাজা বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম ও +++

এখনই কমেন্ট করছিনা। আগে পুরোটা পড়ে নেই। তারপর...। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

ভালো থাকবেন...
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৫

লেখক বলেছেন: সর্বশেষে না, জাঁহাপানার কমেন্ট প্রতি কিস্তিতেই বান্দা আশা করছে।

৪. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: এটম ভাঙ্গার মত জটিল সব প্রযুক্তি আমাদের না থাকলেও পাঠ্যবিষয়ের বেসিকটা হৃদয়ঙ্গম করার জন্য ল্যাবগুলি যথেষ্ঠই বলা চলে।

যাবতীয় গবেষনার জন্যই যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দামের জটিল সব যন্ত্রপাতি অপরিহার্য, এই চিন্তাটা থেকেও বের হয়ে আসা খুব জরুরী।


এই দুইটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বুঝতে হবে উন্নত গবেষণা বলতে আমরা কি বুঝব। যে গবেষনার প্রোডাক্ট এই মূহুর্তে আমাদের কাজে আসবে নাকি যেটা এই মূহুর্তে বিশ্বমানের। যতবড় জার্নালে পাবলিশ হোক না কেন, যদি দেশে সেই গবেষণার ব্যবহারিক গুরুত্ব না থাকে তবে সেই গবেষণার কোন গুরুত্ব আছে কি না সন্দেহ।

গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় পয়েন্ট আউট করবার জন্য ধন্যবাদ।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য। গবেষনা দেশের প্রাণ, প্রকৃতি মাটি ,মানুষ ,তার সমস্যা ও তার স্বার্থকে ধারণ করলে সেটা হবে সর্বোত্তম।

৫. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৯
ইন্ঞ্জিনিয়ার বলেছেন: ফান্ডিংটা একটা বড় সমস্যা। বুয়েট দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানকার ল্যাব নিয়েও অসন্তুষ্টির কথা শুনলাম। তাহলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা চিন্তা করুন, সেখানে কি অবস্থা। প্রাইভেটগুলোর কথা বাদ দেই, সেগুলোতে গবেষণার মত অবস্থা আসতে বহুদিন লাগবে। পোস্টগ্রাজুয়েট বা পিএইচডি লেভেলের স্টুডেন্টদেরকে যদি ভাল ফান্ড না দেয়া হয়, নিজের টাকা দিয়ে দরিদ্র দেশের কয়জন রিসার্চ করবে? দেশের পোস্টগ্রাজুয়েট লেভেল তো মোটামুটি কপি-পেস্টের উপরই চলছে। ইদানিং এর ছোঁয়া পিএইচডি লেভেলেও লেগেছে। এর পেছনে কারণ অনেক। গবেষণা হয় না কারণ সুযোগ নেই এবং কদর নেই। ডিগ্রী যদি হয় প্রমোশনের উপলক্ষ্য তাহলে গবেষণায় নষ্ট করার মত সময় অনেকেরই নেই। এরপরেও যারা কিছু করতে চায় তারা আটকা পড়ে ফান্ডিং আর ইক্যুইপমেন্টের গ্যাঁড়াকলে। কিছুদিন আগে একজনের পোস্টে পড়লাম, এমএস এর গাইড স্টুডেন্টকে বলে এত কষ্ট করার কি দরকার। সিনিয়রদের থিসিস থেকে ম্যানেজ করলেই তো হয়! আমি দেশের একটি প্রাচীন টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতে পারি যেখানে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টদের কাছে পুরাতন থিসিস কিনতে পাওয়া যায়। সমস্যাটা সবদিকেই। উপকরণ নেই, ফান্ড নেই, ইচ্ছা নেই, উৎসাহ নেই!

আইনস্টাইনের যুগে কলম-কাগজ দিয়ে গবেষণা চলতে পারে, এখন সম্ভব না। আরেকটু আগে যদি যান তাহলে দেখবেন কাগজ কলমও লাগবে না। শুধু মাথা খাটিয়েই অ্যারিস্টটল কতগুলো বিষয়ের "জনক"এর সন্মান পেয়ে গেছেন। সেই দিন তো আর নেই। স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে গবেষণার স্তর এ পৃথিবী ৫০ বছর আগেই পার করে এসেছে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন: ফান্ডিং একটা বড় সমস্যা রিসার্চারদের জন্য ,আমিও একমত। আশারাখি আপনার প্রথম প্যারার বিষয়বস্তু পরবর্তী কিস্তিগুলিতে আলোচনায় আসবে । অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

আর আপনার শেষ প্যারার প্রসঙ্গে বলব যে আইন্সটাইনের যুগ বলে কোন যুগ কে, কোন জ্ঞানকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে? বিংশ শতাব্দির প্রথম ভাগে যে মৌলিক তত্ত্বগুলি বিজ্ঞানের সনাতন চিন্তার গতিপ্রকৃতিকেই চেঞ্জ করেদিয়েছে তাকে? ফ্রন্টএন্ডে ভিসুয়াল ইন্টারফেস আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু সিকুয়েল ডাটাবেজ, এরই অহংকারে একবিংশ শতাব্দির সৈনিকেরা দিশেহারা? জ্ঞান অনুসন্ধানের চিরন্তন পথটিই তাদের কাছে এখন বাতিল বলে মনে হয় ! আইন্সটাইন যুগ আর প্রস্তর যুগ একই অর্থ বহন করে? যাইহোক মনে হয় আপনি এটা বলতে চাননি। আর আমার আলোচনায় চামচ ও স্ক্রুড্রাইভারের উদাহরণটা এসেছে রূপক অর্থে। যেখানে নিজের মত করে, ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে কোন সম্যসাকে দেখবার কথাটা আমি বুঝাতে চেয়েছি। মনে হয় আপনি এ ব্যাপারটা ওভারলুক করেছেন তাড়াহুড়োর কারনে। আশা করি পরবর্তী কিস্তিগুলিতে আপনাকে সঙ্গে পাব।

৬. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫১
দ্বিধা বলেছেন: "আমাদের বুঝতে হবে উন্নত গবেষণা বলতে আমরা কি বুঝব। যে গবেষনার প্রোডাক্ট এই মূহুর্তে আমাদের কাজে আসবে নাকি যেটা এই মূহুর্তে বিশ্বমানের। যতবড় জার্নালে পাবলিশ হোক না কেন, যদি দেশে সেই গবেষণার ব্যবহারিক গুরুত্ব না থাকে তবে সেই গবেষণার কোন গুরুত্ব আছে কি না সন্দেহ। "

তবে যেই দেশে মানীর মান নাই, সেই দেশে সে থাকে না!!...

চলুক...
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪১

লেখক বলেছেন: আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় যার অর্থ আছে তার মান আছে, এটাই তো শত সহস্র বছরের প্রচলিত নিয়ম। জ্ঞান আর মান কবে একসাথে ছিল এখানে? ক্যাপিটালিস্ট সমাজ ব্যবস্থাতেও সেই একি কথা, তবে সেটা একটু রাখ ঢাক করে।

৯. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৫
প্লাটো বলেছেন: প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করছি। রুটি রুজির জন্য নিয়মিত কামলা দিতে হয়, তাই সব কমেন্টের উত্তর সময়মত লিখতে পারিনা। তবে আপনাদের সব কমেন্টে আমার চোখ থাকে সদাসর্বদা, মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।

একটু খেয়াল করলে দেখবেন মূলতঃ এই দুই পর্বে চুড়ান্ত রিসার্চলেভেলের বাধা-বিঘ্নগুলো নিয়ে নয়, বরং যারা রিসার্চ করবে বা সেই রিসার্চপূর্ব ম্যানপাওয়ারটি তৈরীর আবস্থাটা আমাদের জন্য আসলেই হতাশাজনক কিনা সেটাই সংক্ষেপে রিভিউ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে যাবার আগে এই কাজটা সেরে রাখা দরকার।

আরও সুচিন্তিত মতামত আশা করি। আপনাদের অংশগ্রহণ আমাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনারাও একই চিন্তার পথে আমার সহযাত্রী। নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে আরো ভাল হয়। ধন্যবাদ।
১০. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৫
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: ধন্যবাদ -- এই বিষয়ে আলোচনার সুত্রপাত করার জন্য ।

জ্ঞানী গুনীরা বলুক কিছু -- তারপর আমরা জয়েন করবো ।

++
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: জ্ঞানী-গুনী বলতে কবি এখানে কি বোঝাতে চেয়েছেন?

১১. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৮
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন: +

ল্যাবরেটরির অভাবটা হয়ত বড় কিছু না- তবে পরিবেশ একটা ব্যাপার- গবেষনা করার জন্য কয়জন আর পড়াশোনা করে এইদেশে-

আইনষ্টাইন কেরানী হয়ে এত কিছু করছেন- হকিন্স এক আংগুল দিয়ে যা করছেন সেগুলো হিসাব করলে আসলে এইগুলা অজুহাতই মনে হয়-

আমার জন্য এইটা মন খারাপ করা পোষ্ট- আমার গবেষনার ব্যাপরে অনেক উৎসাহ ছিল- কিন্তু পেটের ধান্দা করতে গিয়ে আর সামর্থের (আর্থিক নয়- মানষিক) অভাবে আগাতে পারি নাই- :(

ম্যাকগাইভারের একটা ডায়লগ আমার খুব পছন্দ -

There always seems to be a way to fix things
১৩. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪২
সাদাকালোরঙিন বলেছেন: চমৎকার এই পোষ্ট টাতে কমেন্ট না করলে নিজেকে অপরাধী মনে হবে। ই ইউ শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময় স্কলারশীপ প্রোগ্রামের কল্যানে নিজেকে আবিষ্কার করেছি তিনটি দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির বেদুইন ছাত্র হিসাবে। তাই নিজের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যই এমন পোষ্টে কিছু যোগ করতে চাই।

এখানে এসে আমি একটা জিনিস অনুভব করতে পেরেছি যে, উচ্চশিক্ষা শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, আবার শুধু গবেষনাই নয়। বরং পুঁথিগত শিক্ষাকে কিভাবে বাস্তবে রুপ দেয়া যায় তার ক্রমাগত প্রচেষ্টা। কোন সন্দেহ নেই আন্ডারগ্রাড লেভেল এ পুঁথির দাপট বেশি থাকবে সে অর্থে বুয়েটে আমি এমন খুব কিছু কমতি পাইনি ( অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে জানি না বলে মন্তব্য থেকে দূরে থাকলাম )।

তবে পার্থক্যটা যোজন যোজন দূরে যখন আরো উচ্চতর শিক্ষা ও তার প্রয়োগের দিকে তাকাই । আজ আমি ফ্রান্সের ইকোল পলিটেকনিকের ( পলিটেকনিক বলে এটা আমাদের দেশের পলিটেকনিকের রিভার্স অথবা শুধু ব্যবহারিক ইন্জিয়ারিং এর মত নয়, বরং ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থায় পলিটেকনিকের অবস্থান গ্রান্ড ইকোল বা ইউনিভার্সিটির সমপর্যায়ের, কোন কোন ক্ষেত্রে গবেষনায় ইউনিভার্সিটির চেয়েও সেরা) সেরা কিছু ল্যাব ভিজিট করতে গিয়েছিলাম। তাই অনুভূতিও এই ব্যাপারে এখনও বেশ তাজা। একথা সত্য যে একসময় খাতা কলমেই অনেক যুগান্তকারী আবিষ্কার হয়েছে । কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা অনেকখানিই দূর পরাহত।

ইউরোপের সুদূর প্রসারী দৃষ্টিই হলো মেধাকে পুঁজি করে অর্থনীতির হালটা নিজেদের হাতে ধরে রাখা। সেখানে এক হয়ে গেছে দেশের সীমানা, আন্ত: বিভাগীয় (inter disciplinary) সীমানা । আজ আমি নিজের চোখে দেখে এসেছি কিভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করছে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, ব্যবহারিক পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যার সেরা সেরা মাথা ও গবেষনাগারগুলো । শুধু একটু মাত্র উদাহরন দেই, বিখ্যাত কসমেটিকস প্রতিষ্ঠান ল'রিয়েল এর এক প্রজেক্টেই ইউরোপের প্রায় ১২টা বিভিন্ন গবেষনাগার একযোগে কাজ করছে। এসব সুদূর প্রসারী গবেষনায় অর্থ ও কারিগরি সহায়তার ব্যাপকতা সহজেই অনুমেয়।

আমার নিজের প্রোগ্রামটাও অনেকখানি একই ধরনের প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভাবিত যার মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের একটা সমন্বিত গবেষনাবিদ প্রস্তুত করা।

তারপরেও আমি এই পোষ্টের মূল সুরের সাথে একমত। আসলে আমাদেরকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও সংস্কৃতির চেতনায় ফিরে আসতে হবে। যত দ্রুত আমরা আমাদের বিপুল জনশক্তি ও মেধাকে সমন্বয় করতে পারব ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।
০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬

লেখক বলেছেন: ভাল লাগল আপনার মতামত। আগেই বলেছি মূলতঃ এই দুই পর্বে চুড়ান্ত রিসার্চলেভেলের বাধা-বিঘ্নগুলো নিয়ে নয়, বরং যারা রিসার্চ করবে বা সেই রিসার্চপূর্ব ম্যানপাওয়ারটি তৈরীর আবস্থাটা আমাদের জন্য আসলেই হতাশাজনক কিনা সেটাই সংক্ষেপে রিভিউ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে যাবার আগে এই কাজটা সেরে রাখা দরকার।

আরেকটি ব্যাপার যেটা আপনার মন্তব্যে এসেছে। সেটা হচ্ছে রিসার্চের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বা আয়োজন। আসলে ওভাবে ঢালাও বলা ঠিক হবেনা যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে রিসার্চের জন্য এইধরণের আয়োজন লাগে বা ওইটা এখন না হলেই নয়। বরং ব্যাপারটা কেস স্পেসিফিক। অনেকাংশে নির্ভর করছে ঠিক কি বিষয়ের উপর কাজটা হচ্ছে তার উপর।

১৪. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪৮
বিডি আইডল বলেছেন: সিরিজ টা আগে চোখে পড়েনি...আগেরটা সহ পড়ে নেই...পরে কমেন্ট করবো...

অট: আপনার পেশা কি? পোষ্টের কন্টেন্টের কারণে কৌতুহল হচ্ছে...
০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭

লেখক বলেছেন: ওকে। আপনার মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম। বেশ বড়শড় একটা ওপিনিয়ন পাবো বলে মনে হচ্ছে।

১৫. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২০
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: ১. ভাল একটা কনফারেন্সে পেপার/পোস্টার দিতে গেলে ৩০০/৪০০ ডলার লাগে, খরচটা অনেক শিক্ষকই শেয়ার করতে নারাজ, যদিও সেকেন্ড অথার হিসেবে শিক্ষকরা তাদের নাম দেখতে চান। টাকাটা ছাত্রের পকেট থেকেই যায়। এটা অন্যায়।

২. এ এস এম ই, এ সি এম, আই ট্রিপলই বিভিন্ন ধারার পেপার পেতে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষকের তরফ থেকে কোন প্রকার সহায়তা মিলে না। ছাত্রদেরই উচ্চমূল্যে নিবন্ধন করে এসব স্থান থেকে পেপার নামিয়ে কাজ করতে হয়। এ মূল্য পরিশোধের ব্যাপারটিও দেশ থেকে ভীষণ ঝামেলা পূর্ণ।

৩. ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে মোটিভেশনের অভাবও লক্ষণীয়। "এক্সপেরিমেন্টাল রিসার্চের" জন্য যন্ত্রপাতি কেনার টাকাটা জোগাড় করাটা দুসাধ্য। যন্ত্রপাতি যোগাড় হলেও কাজে মাঝ খানে বাধা এলে ধৈর্য ধরে মোটিভেশন নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা সমস্যা হয়ে দাড়ায়। খুব নগন্য সংখ্যক শিক্ষক এ বিষয়ে ছাত্রদের সুপরামর্শ বা যথাযথ দিক নির্দেশনা দিতে আগ্রহী।

৪. "সিমুলেশন" ভিত্তিক গবেষণার জন্য ছাত্ররা গুটি কয়েক পাইরেটেড সফটওয়ারের উপর নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে শক্তিশালী কম্পিউটার ও সফটওয়ার থাকলেই জার্নাল পেপারের কাজ গুলো পরিমার্জন, পরিবর্ধন করে ধুপ ধাপ গুণে গুণে পাব্লিকেশন বের করে ফেলছে দেশের চৌকষ ছাত্ররা। দেশে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বেশির ভাগই কাজ এভাবে হচ্ছে।

৫. দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব গুলোর অথরিটি কোন বিশেষ অধ্যাপকদের থাকেনা। ডিন, হেড ঘুরে আসতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ক্ষতির কথা চিন্তা করে কোন ছাত্রকে দামি স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতির উপর কাজ করতে দিতে চাইবেনা। দুটো কম্পিউটার বসিয়ে হলেও প্রতি অধ্যাপকের একটি ল্যাব থাকা চাই, যাতে তাদের ছাত্ররা সেখানে বসে কিছু কাজ করতে পারে।

৬. প্রাইভেট ভার্সিটিতে রাত দিন ক্ষ্যাপ, শিক্ষক নেতা ও ভিসি হবার স্বপ্ন, নাটক-গল্প-উপন্যাস রচনা -এগুলো নিয়ে বসবাস করলে চিন্তা ও গবেষণা মনষ্ক শিক্ষককূল পাওয়া সম্ভব নয়। একজন ডক্টরেটধারী শিক্ষক যদি তার অভিজ্ঞতা, দূরদর্শীতা দিয়ে ছাত্রদের মোটিভেট, দিকনির্দেশনা না দেন, দায় সারা ভাবে উপাত্ত সংগ্রহ করে থিসিস জমা দিয়ে দিতে বলেন, তাহলে সে শিক্ষক দেশ ও জাতিকে প্রতারিত ও বঞ্চিত করলেন।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৩

লেখক বলেছেন: প্রয়োজনীও কিছু পয়েন্ট সামনে নিয়ে এসেছেন। ধন্যবাদ। আপনার ১ থেকে ৩ নং পয়েন্টগুলিকে আলাদা করে দেখার উপায় নাই। ঘুরে ফিরে আসলে একই সমস্যা, ফান্ড বা অর্থ। এদেশে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার জোগাড় করা, শিক্ষক থেকে ছাত্র সকলের জন্যেই সমস্যা। অনেক শিক্ষকের মাসিক বেতন তো ৩০০ ডলারই নয়। কাকে দোষ দিবেন।

আর পেপার এর জন্য আইট্রিপলই বা এই ধরনের অরগানাইজেশনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ডিল করলে কাজটা সোজা হয়ে যায়।পারশোনালি গ্রাহক হওয়ার সমস্যা আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যে উদ্যোগ নিবে সেখানে সেই একই প্রশ্ন, বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা বাধবে কে।উদ্যোগটা কিভাবে নেয়া হবে।কার এতো সময় আর দায়।এগুলির সঙ্গে তো বৈষয়িক আয় উন্নতির কোন সম্পর্ক নাই। সুতরাং খুবজোর হলে একটা কমিটি করে সিকেয় তুলে রাখ। ব্যাস।

৬ নং পয়েন্ট এ যা বললেন সেটা সমস্যার একটা দিক। ঢাকা কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষমতাকেন্দ্রের নিকটে থাকার কারনে সেখানে এর প্রকোপটাও বেশি। আসল কথা হলো আপনার এই সমস্যা কে সমাজের সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখবার উপায় নেই। পচন শুরু হয়েছে সিস্টেমের আরও আরও অনেক উপরে।কালক্রমে এগুলি তার বাইপ্রডাক্ট। আমরা যারা পেপার পত্রিকায় নিয়মিত চোখ রাখি তারা সকলেই অবগত।

মাথায় তেল সহযোগে একপাশে পরিপাটি সিঁথি করে সাইকেলে প্যাডেল মারতে মারতে আদর্শ শিক্ষক শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করছেন, আর রাস্তায় বিচরণরত ছাত্রছাত্রী ত্রস্ত হয়ে পড়ছে, এইরকমটি আর এখন আশা করিনা। জীবনযাত্রা জটিল হয়েছে। পুঁথির নয়, চলছে অবৈধ পুঁজির প্রতাপ। এথেকে আপনি আমি শিক্ষক ধার্মিক প্রগতিশীল কারও রেহাই নেই। “যখন নেমেছ পাপের স্রোতে হে কুরুপুত্রগণ, তখন ধর্মের সঙ্গে সন্ধি করা মিছে।…” যাই হোক ভাল থাকবেন।

১৬. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৫
মৃত৬৬৬ বলেছেন: একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, কেন জানি মনে হয় আমাদের গবেষণার কোন ক্রেজ নেই বলে অনেকেরই স্বপ্ন থাকেনা গবেষক হবার। ইয়াং জেনারেশনের আমরা বেশির ভাগই ভাবি বড় একটা চাকুরী করার, লাখ বা নিদেনপক্ষে আধা লাখ টাকার একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকুরীই আমাদের কাম্য। আমাদের পারিবারিক বা সামাজিক একটা স্রোত আমাদের চাকুরীর দিকে পাঠায়, গবেষণার দিকে যেতে দেয়না। ব্যাপারটা নিয়ে একটু বলবেন।
+
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪৯

লেখক বলেছেন: ঐ যে বললেন, আমাদের পারিবারিক বা সামাজিক একটা স্রোত আমাদের চাকুরীর দিকে পাঠায়, গবেষণার দিকে যেতে দেয়না। এটাও একটা কারন। এখানে শিক্ষা অর্জন করে সন্তান তার শ্রেনীউত্তরণ ঘটাতে ব্যস্ত। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রেনীর উত্তরণ কিংবা নিদেনপক্ষে তিনবেলা অন্নের গ্যারান্টি। ক্ষেত্র বিশেষে যেসকল ভোগ্য বস্তুর সমাহার তাকে উন্নত শ্রেনীর ব্যক্তি বলে পরিচিত মহলে ভাবতে বাধ্য করবে সেটা অর্জনের বংশ-পরম্পরায় আজন্ম চেপে রাখা আকুলতা।কিন্তু তারা যে ভুল পথে একথা আমি বলছিনা। জীবন সংগ্রাম এখানে এতো জটিল এবং কুটিল যে ওপথে সজ্ঞানে পা বাড়াতে হয়না, জীবনের একপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় আমিও আর সকলের মতো হয়ে গেছি।

তবে এই সামাজিক স্রোতের কারন বা উৎস মুখটা ঠিক কোথায় কিংবা কোন সাগরে মেলার আকাঙ্খা নিয়ে এই স্রোতের মহাযাত্রা সেটা নিয়ে এই স্বল্প পরিসরে বোধহয় আর লেখার জায়গা হবেনা। সে এক আলাদা মহাকাব্য।

১৭. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৯
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: মৃত৬৬৬ বলেছেন: একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, কেন জানি মনে হয় আমাদের গবেষণার কোন ক্রেজ নেই বলে অনেকেরই স্বপ্ন থাকেনা গবেষক হবার। ইয়াং জেনারেশনের আমরা বেশির ভাগই ভাবি বড় একটা চাকুরী করার, লাখ বা নিদেনপক্ষে আধা লাখ টাকার একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকুরীই আমাদের কাম্য। আমাদের পারিবারিক বা সামাজিক একটা স্রোত আমাদের চাকুরীর দিকে পাঠায়, গবেষণার দিকে যেতে দেয়না। ব্যাপারটা নিয়ে একটু বলবেন।
+

আর শিক্ষকদের ভূমিকাই এইখানে সবচেয়ে বেশী বলে আমি মনে করি। আমার একজন শিক্ষকের ল্যাবে উনি কি করায় তা উনিই জানে। সময়ের আগেই ল্যাব করা শেষ। আরেকজন আছেন উনার ল্যাব নির্ধারিত সময়ের পরেও এক ঘন্টা বেশী লাগে শেষ হতে। একেবারে ধরে ধরে বুঝান সব কিছু। ল্যাব ক্লাসে উনি শুধু ল্যাব করান নাকি থিওরিও পড়ান তা ঠিক বুঝে উঠা যায় না।

মৌলিক বিজ্ঞানের প্রতি মেধাবীদের আগ্রহ এখন কম। কারণ তাতে নগদ লাভ নাই। বিজ্ঞানকে ভালবেসে এখন খুব কম ছাত্রই বিজ্ঞান পড়ে বলে আমার মনে হয়। বেশীরভাগেরই মূল লক্ষ্য জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ। গবেষক হওয়া এত সহজ নয়। এর জন্য নিজের বিষয়ের প্রতি ( তা পদার্থবিজ্ঞান বা তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব যাই হোক না কেন ) ভালবাসা আর একাগ্রতা থাকতে হয়। আমার বাবার মুখে শোনা অমিয় ভূষণ চৌধুরীর কথা মনে পড়ে গেল।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫

লেখক বলেছেন: আমিও একমত।এ বিষয়ে শিক্ষকদের একটা ভূমিকা তো নিশ্চয় আছে। এখনো অনেকে আছেন যারা নগদ লাভের বা বৈষয়িক দিকটার তোয়াক্কা করেননা, রাজনীতির দাসত্বে বন্দি হয়ে জাতির বিবেক হওয়ার স্বপ্ন দেখেননা, সস্তা মিডিয়া ইমেজের ধার ধারেননা।

নজরুলের ভাষায় বলতে হয় তাঁরা আছেন অনেকটা যেন " ফুলের মাঝে মাটির মমতা রসের মতো অলক্ষ্যে। যে চাঁদ সাগরে জোয়ার জাগায় সে আজও হয়তো নিজের শক্তি সম্পর্কে না-ওয়াকিফ।"

১৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪২
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: এখানে অনেক তথ্যের ঘাটতি আছে তাই আমি একটু বেশী করেই বিরোধিতা করবো। প্রথমে আসি একটা উদাহরন দিয়ে আমি তখন পাশ করে সবে কেবল বেরিয়েছি এবং তখনও পিচ্চ- ব্যাচগুলোর সাথে আমার তেমন সম্পৃক্ততা ছিলো না...যাই হোক একবার অনুষ্ঠানে এক পি্চিচি পোলার সাথে দেখা হলো যাকে দেখলেই মনে হয় স্যারদের কাছ থেকে এফ নিতে নিতে কোমড় ভেঙ্গে গেছে...পরে মাগার কাছে জানতে পারলাম ব্যাটা নাকি আমেরিকায় একটা প্রজেক্ট সাবমিটের জন্য ডাক পেয়েছে ঢাকায় এসেছে কাগজ পত্র এ্যাম্বাসীতে জমা দিতে...ঘটনা শুনি এই পোলা নাকি এক ক্যালকুলেশন করে দেখিয়েছে অতি অল্প পাওয়ার কনজাম্পশন অথবা প্রচলিত ফুয়েলকনজাম্পশন দিয়ে জ্যামে আটকে থাকা একটা গাড়ী উড়াল দিতে পারবে...তবে এর জন্য হোভার ক্রাফটের মতো ভারী টেকনোলজীর দরকার নেই...পরে জানতে পারলাম ছেলেটার নাকি ন্যুনতম ৩ গ্রেডিং নেই...।

আরেকটা উদাহরন দেই আমাদের যখন ডিএসপি পড়ানো হচ্ছিলো তখন সিম্যুলেশন দিয়ে কাজ সাড়া হচ্ছিলো....তখন এক স্যার আমাদেরকে বলে ছিলো ডিএসপির ল্যাব নাকি এই উপমহাদেশে মাদ্রাজের কোন আইটিতে বলে আছে যার থেস র‌্যান্কিং ছিলো প্রথম ৫০ এর মধ্যে মনে হয় ৪৪। বুয়েটও নাকি তখনও এ্যাফোর্ড করতে পারে নাই...আরেকটা উদাহরন দেই ২০০১ এর দিকে মাস্টার্সের এক বড় ভাই পড়াশুনা করতেন যিনি কেপিএম এ চাকরি করতেন...তার ঐ কারখানায় একটা সমস্যা ছিলো যে বিশাল রিম টানার সময় মোটরটায় কিছু নয়েস সিগন্যালের কারনে রীমে কিছু অংশ কাগজ যাওয়ার পর ব্যাকাত্যাড়া হয়ে যায়..তখন সে ঐ মাস্টার্স করার সময় একটা সিম্পল কমপ্যারাটর সার্কিট ডিজাইন করে কিন্তু সমস্যা ছিলো ইম্পডেন্স ম্যাচিং..সেটা তখন টানা ১ মাস কাজ করে যখন কারখানায় বসায় তখন ওটা সুন্দর কাজ করে... এরকম আরো হাজারো উদাহরন আছে এই সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলো পিডিবি আরইবি এল জিইডির সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে..যার বেশ কিছু উদাহরন যখন স্যারদের কাছে শুনতাম তখন এসব ভুল ভাংতো...আমার খুব মনে পড়ে এলপিইজি দিয়ে নির্দিস্ট ডিজাইনের জেনারটরে কেনো পাওয়ার স্টেশন নির্মানে কেনো এফিসিয়েন্সি ভালো পাওয়া যায় যখন এটার সমাধান নিয়ে এস আলম স্যার সেমিনার করেন...তার দুতিনবছর জোট সরকার সেই টেকনোলজী জার্মানী থেকে আমদানী করে...তখন আর কিছু বলার থাকে না....হয়তো এসব উদাহরন নিজে চোখে দেখেছি বলেই আপনার এই পোস্টকে আমি মাইনাস দাগাতের চাই!

আরো অনেক কিছু বলার ছিলো কারন আমাদের দেশে যেহেতু ল্যাবের খরচের কারনে যন্ত্রপাতীর স্বল্পতা সেহেতু কোন পড়ালেখার উপর জোড় দেয়া হয় সাবেক বিআইটি গুলোতে আর বুয়েটে এখন ল্যাব কতটা সমৃদ্ধ আর তাদের কিছু গবেষনায় বর্তমান সফলতার কথা বলতে গেলে হয়তো এই ব্লগ পেজ ফুড়িয়ে যাবে!


হয়তো আমাদের কিছু মানুষের সব সময়ই এমন মানষিকতা কেনো হয় যে আমার দেশে আসলে কিছুই হয় না অথবা আমরা আসলেই গরীব....এই ধারনা থেকে না বেররিয়ে আসলে হয়তো এমন উদ্ভট লেখা লেখবেই!
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন: আমার বড়ই সন্দেহ হচ্ছে যে আদৌ আপনি আমার পোস্ট দুইটি পড়েছেন কিনা। কিংবা জায়গায় জায়গায় চোখ রাখলেও পোস্টের মূল সুর বা কন্টেক্সট আদৌ ধরতে পেরেছেন কিনা।

আরকেবার একটু মন দিয়ে পড়ে দেখেনতো ঠিক কোন জায়গাতে আমাদের শক্তি আর সম্ভাবনা কে খাটো করে দেখা হয়েছে। বরং আমি আমাদের সম্ভাবনা আর শক্তি নিয়ে একটু বেশি মাত্রায় আশাবাদী বলেই তো এই পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। বড়ই অবাক হয়েছি আপনার বোঝার কায়দায়! প্রকৌশলী যদি কন্টটেস্ট না ধরতে পারে তবে তা দেশের জন্য কিন্তু সুখবর নয় মোটেও।

তবে যাই হোক আপনার আশাবাদ আমার অত্যন্ত ভাল লেগেছে। ভাল থাকবেন।

১৯. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০০
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ফ্রন্টএন্ডে ভিসুয়াল ইন্টারফেস আর ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু সিকুয়েল ডাটাবেজ, এরই অহংকারে একবিংশ শতাব্দির সৈনিকেরা দিশেহারা? জ্ঞান অনুসন্ধানের চিরন্তন পথটিই তাদের কাছে এখন বাতিল বলে মনে হয় ! আইন্সটাইন যুগ আর প্রস্তর যুগ একই অর্থ বহন করে? যাইহোক মনে হয় আপনি এটা বলতে চাননি। আর আমার আলোচনায় চামচ ও স্ক্রুড্রাইভারের উদাহরণটা এসেছে রূপক অর্থে। যেখানে নিজের মত করে, ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে কোন সম্যসাকে দেখবার কথাটা আমি বুঝাতে চেয়েছি। মনে হয় আপনি এ ব্যাপারটা ওভারলুক করেছেন তাড়াহুড়োর কারনে। আশা করি পরবর্তী কিস্তিগুলিতে আপনাকে সঙ্গে পাব।

আরেকটু কথা বাকি ছিলো...আমি এখন একটা মোটামোটি মানের ইউনিতেই পড়ালেখা বা যাই হোক কিছু একটা করছি...এরা যখন আমাকে এনালগের এউপর কাজ করতে দিলো তখন একটা ইন্টারফেস দিলো ডেস্কটপ পিসির জন্য...আমি জানতাম না বিধায় নেট এ প্র[হকে না জানিয়ে খোজ নিলাম ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্ট এর কাছে এই কনভার্টার ইন্টারফেসটার দাম কত...যখন ৩০০০ ইউরো বললো পুরো লাইসেন্স ফি স হ...তখন মনে হলো এ টাকা সম্ভব না আমার নিজের পক্ষেই এ্যাফোর্ড করা...কিন্তু এক্সপেরিমেন্টের দইন যখন ঐ প্রফ আসলেন তখন তার হাতে এরকম আরো ১০টা...এছাড়া ফাইবার অপটিক্স রিসার্চ সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন ল্যাব দেখে মনে হলো এই ইনস্ট্রুমেন্ট কিনবার ক্ষমতা আমার ভার্সিটিরে কবে হবে! আমাদের ভার্সিটিতে বেশ কয়েক বছর দঃরেই খনিবিদ্যা প্রকৌশল আর পেট্রোলিয়াম ইন্জ্ঞিনিয়ারিং খুলতে চাচ্ছে...ধরেন বছর ২/৩...কিন্তু আজও লালফিতার সিগন্যাচার শেষ হয় নাই..সরকার বদলায় আবারও প্রথম থেকে রিভিউ শুরু হয়!
তবে ইদানিংকার যদি আইট্রিপল ই বা আরক্সিভ অথবা থেস ইউনির প্রথম ১০০ টার নিজস্ব অনলাইন পাবলিকেশন দেখেন তখন দেখবেন এদের মৌলিক গবেষনায় কি কি ব্যাব হার করছে...এতো আইনস্টাইন বলে মুখে তুলছেন কিন্তু এটা কি জানেন আইনস্টাইন তখন যে গননার কাজে ব্যাব হ্রত যন্ত্রটি ব্যাব হার করতেন সেটা ছিলো তখনকার বেশ শক্তিশালী গননার যন্ত্র!!!!!যদিও এটার সত্যতার রেফারেন্স আমি দিতে পারছি না...তবে আরেকটা বেসিক ইনফো দেই...তার আটোমিক গবেষনার জন্য তাকে যেসব আমেরিকায় যেসব ল্যাব স হায়তা প্রদান করেছিলো সেগুলোর অবস্হান তখন কি ছিলো আর এখন কি আছে.. আর ওদের সাথে তুলনা করে লাভ নেই....আমরা জাতী হিসেবে কোথায় কতজন কি করতে পারছি সেটাই এখন মূখ্য..অথবা আপনি নিজে বা আমি নিজে কি করতে পারছি.. সেটার প্রশ্নটা আরো বেশী জানা দরকার!
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার কথার ঢঙ্গে একধরনের ক্ষোভ আর অতি উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ কেন ঘটছে তা আমার বোধোগম্য নয়। আমার ৫নং কমেণ্টের টোটাল বক্তব্যকে এভাবে খন্ডিত খন্ডিত করে নিয়ে এসে তার নীচে আপনার ঢালাও মন্তব্যগুলি কতখানি সামঞ্জ্যস্যপূর্ন হচ্ছে সেটা একটু খেয়াল করবেন । এর সঙ্গে উপরে আপনার ১৮ নং কমেন্টে আমার উত্তরটি দেখবেন।

আপনি হাবেভাবে মনে হয় কুয়েটের কথা বলতে চাচ্ছেন। যদিও সেখানের ছাত্র ,শিক্ষক বা কর্মচারী আমি নই তবে সেখানের কিংবা বাকি ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটির ল্যাবগুলি কি ভাবে ইভলভ করেছে বা সেখানে বর্তমানে কি আছে সে সমন্ধে যে একেবারেই ধারনা আমার নাই তা কিন্তু না। আর শুধু চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি মাথায় নিয়ে কিন্তু এই লেখা নয়। দেশের বাকি বিশ্ববিদ্যালয় গুলির সায়েন্স ফ্যাকাল্টি এই পোস্টের বিষয়বস্তুর অর্ন্তভুক্ত। কোন একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কোন বিশেষ বিষয়ে উন্নতি কিন্তু দেশের সকল প্রথিষ্ঠানের সব বিষয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে রিপ্রেজেন্ট করেনা, যেমন সব রক্ত মুখে এসে জমা হলে কিন্তু তাকে স্বাস্থ্য বলেনা। একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থাই আমদের কাম্য।আর আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

২০. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১২
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: বর্তমানে আধুনিক গবেষনার একটা বিশাল অংশ শুধু এই দুটি মূল যন্ত্রকে ব্যবহার করেই উত্তরোত্তর এগিয়ে চলছে। উন্নত বিশ্ব বলতে আমরা যাদের বুঝি, মানে সেই সাদাদের দেশ, সেখানেও গবেষককের টেবিলে দেখা যায় হার্বাটশিল্ডের একটা সি++ বই, আইনস্টাইনের সেই অঙ্ক কষার খাতাকলম আর একটা লিনাক্স টারমিনাল। ব্যাস। এই তিনটা বস্তুকে সম্বল করেই তারা জগতকে উপহার দিয়ে চলছেন আগামীদিনের প্রযুক্তি, নিত্য নুতন চিন্তা


যতদূর মনে হয় আপনি কম্পুর ছাত্র তাই আপনার জানার পরিধি খুবই সীমিত...হারুনুর রশীদ স্যারের নাম শুনেছেন অথবা শেখ ওয়াজেদ মিয়ার ইলেক্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের বই টাকি পড়েছেন? এরকম আরো অনেক বাংলাদেশের লেখকের বই এবং জার্নাল আছে যেগুলো পড়ার সৌভাগ্য আমার মতো লাস্ট বেন্ঞ্চের ছেলের না হলেও যারা ভালো ছাত্র তারা নিশ্চয়ই পড়েছেন...যতদূর জানী তাজ স্যারের আরেকটা বই আছে সুপার ইন্টালিজেন্স ম্যাটেরিয়াল না কি যেনো সিভিল ইন্জ্ঞিনিয়ারদের লেখা মাস্টার্স বা গবেষনার জন্য বই...এরকম খুজলে অনেক পাওয়া যাবে! এটা তো বললাম শুধু টেকনিক্যাল সাইডের...এরকম খুজলে বহু বইয়ের টাইটেল পাওয়া যাবে যারা বিভিন্ন বিষয়ে লিখে চলেছেন এবং ক্লাসে সেই চাপরাশীর মতো পান চাবাতে চাবাতে বোর্ডে লিখে শুরু করেন তাদের ক্লাশ! হয়তো আমি যেই বুদ্ধিজীবির সাথে কথা বলেছিলেন যিনি মূলত বাংলাদেশের দরিদ্র চেহারা বিক্রী করতে ভিনদেশীদের কাছে পছন্দ করেন!
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:২৮

লেখক বলেছেন: জ্বি আপনি ঠিকই বলেছেন,আমার জানার পরিধি যৎসামান্য । এ ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে সম্পূর্ন একমত।

যাই হোক,আমাদের আলোচ্য পোস্টের প্রসঙ্গ কিন্তু বই লেখা নিয়ে নয়। সায়েন্সের বই লেখা আর গবেষনা বা ইনোভেশন কিন্তু মোটেও এক জিনিস নয় ।এ দুটিকে মিশিয়ে ফেলেন না যেন। ডঃ শেখ ওয়াজেদ মিয়া কে আপনি হয়তো এক বই এর লেখক হিসাবে জানেন, কিন্তু আমি বা আর দশজন উনাকে বেশি মাত্রায় চিনি একজন বিশ্বমানের গবেষক হিসাবে। এটাই উনার আসল পরিচয়। আপনাকে একটা তথ্য দেই, ৭০ এর সমসাময়িক সময়ে যে কয়জন সম্ভনাময় পরমাণু বিজ্ঞানীর হাতে এই ভুখন্ড দ্রুত আনবিক বোমার অধিকারী হতে যাচ্ছে বলে ভাবা হতো ,তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। আব্দুস সালাম এর সঙ্গে এখানের প্রথম সারির পদার্থ বিজ্ঞানীদের ছিল সরাসরি সম্পৃক্ততা । সঠিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা থাকলে তিনি হয়তো হতেন এ ভূখন্ডের একজন আব্দুল কাদের কিংবা আবুল কালাম আজাদ।

উপরে ১৮ ও ১৯ নং কমেন্টে এ আমার মতামতটা এর সঙ্গে দেখবেন বলে আশা রাখি। ভাল থাকবেন।

২১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৩
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ডঃ শেখ ওয়াজেদ মিয়া জার্মানীর কার্লসরুহী তে গবেষনার সময় একটি জার্নাল প্রকাশ করেন ১৯৬৩ সালের দিকে...উনি দেশে আসার পর পরমানূ শক্তি কমিশনে যোগ দেন....১৯৬৫ সালে দক্ষিন এশিয়ার একমাত্র কম্পিউটারটি এই শক্তি কমিশনে ছিলো। উনি দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্টজন হিসাবে দেশের আপামর বিজ্ঞানীদের যারা সরকারী চাকুরে গবেষক হিসাবে বিশেষ করে শক্তি কমিোশনে তাদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধার সৃস্টি করেন...উনার মৃত্্যুর আগে বেশ কিছু প্রশ্নের মধ্যে একটি কথা ছিলো, দেশ তাহলে পরমানু শক্্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন...এছাড়া তার আরো অনেক কাজ আছে যেগুলো ব্যাক্তিগত ভাবে আমি জানার চেস্টা করেছি তবে একটা কথা স্বাধীনতা উত্তর উনি বিজ্ঞানের চাইতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছেন....উনি আব্দুল্লাহ আল মুতীর স হযোগীতায় দেশে বিুজ্ঞান শিক্ষাকে আরো স হজ লভ্য করার জন্য এবং মাতৃভাষায় এর ব্যাব হারের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন...এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো উনি নিজে উদ্যোগী হয়ে শক্তি কমিশন আজ পর্যন্ত যেকটি আইসোটোপ নিয়ে ধান গবেষনায় কাজ লাগিয়েছে তার অবদান অপরিসীম..


আপনার লেখায় এক জায়গায় আছে বাংলস দেশী এমন কেউ কি আছেন যারা গুরুত্বপূর্ন কোনো সফটওয়্যার বা টেকনোলজী বানিয়েছে কিনা...আমি সেসম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য দেই....৯০ দশকের শেষের দিকে চেরোনোবিল বা সিআইএইচ ভাইরাসের জন্য ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় তখন জার-মানীর এক হাসপাতালকে একটা সফটওয়্যার দিয়ে সর্বপ্রথম কার্যকরী যেই এন্টিভাইরাসটি তৈরী করেছিলো সে ছিলো আমাদের দেশেরই ভার্সিটি পড়ুয়া এক ছাত্র...এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিউট এবং কৃষি ইউনিভারিসিটি মিলে আজ পর্যন্ত যতগুলো উন্নত ধানের গবেষনা করেছে সেগুলো আসলেই প্রশংসার অংশীদার এবং বাংলাদেশ হয়তো এ কারনেই এত কম চাষযোগ্য জমি দিয়েও বিশ্বের ৪ র্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদন কারী দেশ..চাকুরী জীবনে কৃষি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাব হার নিয়ে আমি নিজে কিছু কাজ করেছিলাম গ্রামীন ফোনের হয়ে ইউএনডিপির সাথে...সেখানে কাজ করতে গিয়ে দেখতে পাই বাংলাদেশের কৃষি গবেষকদের যতই গালাগাল করুক না কেন এরা যে কি পরিমান টিস্যু কালচারে সেটা চিন্তা করা যায় না..খামার বাড়ির কৃষি অধিদপ্তরের ৬ তলাু সম্ভবত খুব ছোট্ট একটা এরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সবকিছু আরও ডাইনামিক আর স হজলভ্য করছে...তখন এদের লাইব্রেরী আর ডাটাবেজ সম্বন্ধে কিছুটা দেখেছিলাম..অভূতপূর্ব...একেক দেশের একেক রকম আইন বা জীবনধারা...।তার সাথেই খাপ খাইয়ে কিন্তু সে দেশের উন্নয়ন এবং যাবতীয় অগ্রগতী সম্পন্ন...হতে পারে আমাদের পদ্ধতী গুলো বেশ আনকোরা অথবা প্রচারবিমুখতা প্রবন তবে এটা ঠিক যতটুকু সম্ভব তা নিয়ে কিন্তু কাজ চলছে..সেটা যেকোনো জায়গায় হোক না কেন....তবে ভার্সিটি গুলোকে এসব গবেষনায় রিসোর্স ফুল না করতে পারার ব্যার্থতা সরকারের আগে আমি বলতে চাই এদেশীয় পুজিপতীদের..ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখেন টাটা বিড়লা কতগুলো ল্যাব তৈরী করছে বিশ্বামনের..।অথবা ওদের পরমানু গবেষনা অথবা নিউট্রিনো ধরার যে ল্যাব এগুলো কারা বানিয়ে দিয়েছে...আর সেখানে সেদিনকার এক চায়নিজ কোম্পোনী বুয়েটকে একটা উন্নতমানের ল্যাব তৈরী করে দিয়েছেন জার্মানীর একটা ইুনি নাম মনে পড়ছে না সেই ইউনি নাকি কয়েক শ কোম্পানীর সাথে কাজ করে শুধু তাদের গবেষনা আর পার্ট টাইম কাজের জন্য..


ভালো কথা আমি কুয়েটের কথা বলি নাই আমি চুয়েটের কথা বলছি...কুয়েট যতদূর জানি ওরা আরো বেশী ডাইনমািক কারন ওদের মধ্যে জার্নাল লেখার প্রবনতা একটু বেশী এটা অবশ্য এজন্য বলছি কারন ওখানকার এক স্যার যিনি এই জার্নাল পাবলিকেশনের সাথে জড়িত তিনি আমাকে ২-৩ বছর আগে বেশ কিছু জার্নালের কপি দেখিয়েছিলেন...আমাদের দেশে বিশ্বামানের গবেষনার স্ট্যান্ডার্ড নাই তার জন্য দায়ী আমরাই...।তবে মৌলিক গবেষনা বলে যে কিছু হচ্ছে না সেটা আরো ভুল কথা...কিছুটা হচ্ছে হয়তো পদ্ধতীগত অথবা নান প[্রতিবন্ধকতায় বেশীর ভাগই সফলতার মুখ দেখে না অথবা ফাইল বন্দী হয়ে যায়!

তবে আমার লেখায় ক্ষোভ প্রকাহস পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত...তবে আমি কমেন্টগুলো করবার সময় আমি দুঃখ পাই এ জন্য যে এত শত উদাহরন থাকা সত্বেও কিছু কিছু ধালাও মন্তব্য আঠবা কথাবার্তা গায়ে খুব লাগে...আমরা ইদানিং জাতীয় অনেক স্পরশকাতর ইস্যু ঢালাও মন্তব্য করে নিজেদেরকেই ছোট করে ফেলি.....তখন মাঝে মাঝে খুবই দুঃখ লাগে...


তবে আমআদের দেশে যে কত প্রকারের গবেষনা বা কাজ হচ্ছে ব্যাক্তিগত অথবা ভার্সিটি অথবা সরকারী উদ্যোগে সেগুলো নিয়ে আসলে আলোচনা করবো বলে একটা পোস্ট দেবার ইচ্ছে ছিলো....ভুলটা আমারই ততঃ্য থাকা সত্বেও আমি সেই পোস্ট দিতে পারিনি..ভুলটা আমারই

ভালো থাকুন!
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৪১

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যর কয়েকটা লাইন একটু পরিস্কার করা দরকার বলে মনে হচ্ছে তা না হলে এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিত উদ্দেশ্য বা গন্তব্য নিয়ে পাঠকের মনে বিভ্রান্তি আসতে পারে।আপনি লিখেছেন -“ আপনার লেখায় এক জায়গায় আছে বাংলাদেশী এমন কেউ কি আছেন যারা গুরুত্বপূর্ন কোনো সফটওয়্যার বা টেকনোলজী বানিয়েছে কিনা..” ।" ব্লগে বিচরণশীল পাঠক আপনার পূর্ববর্তী ১৮,১৯,২০ কমেন্টের উপসংহার সহ এই লাইনটা পড়লে স্বভাবতই বিভ্রান্ত হবে। মনে করবে যে এটি আমার উক্তি বা আলোচ্য পোস্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিজ্ঞান বিষয়ে দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মীদের কটাক্ষ করা । বা তাদের দিয়ে যে আর কিছু হবেনা এটা লেখক বিভিন্ন ভাবে আকারে ইঙ্গিতে এই পোস্টে বলতে চান।আপনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও সেরকম নয়, বরং উলটো। আমি বলব তথ্যের এই ধরনের উপস্থাপন কখনই প্রশংসনীয় নয়। কিস্তি-১ এ আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। আসলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পক্ষের বক্তব্য কোটেশন দেবার সময় আমাদের সকলকে সাবধানী হওয়া প্রয়োজন যেন সঠিকতথ্য ,পরিপ্রেক্ষিত ও তার আবেগটা সেখানে উঠে আসে।

আপনার নিজের অভিজ্ঞতা ও চিন্তা আমাদের শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। সঙ্গে থাকবেন। শীঘ্রই পরের কিস্তি দেবার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিনা অনেকদিন থেকে।পরবর্তী কোন কিস্তিতে আপনার কমেন্টের বাকি বক্তব্য গুলির উপর আলোকপাত করবো।একটা জায়গায় আমাদের ফাঁক থেকে যাচ্ছে।

২২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আপনাকে একটা তথ্য দেই, ৭০ এর সমসাময়িক সময়ে যে কয়জন সম্ভনাময় পরমাণু বিজ্ঞানীর হাতে এই ভুখন্ড দ্রুত আনবিক বোমার অধিকারী হতে যাচ্ছে বলে ভাবা হতো ,তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম।
ষলে এ থ্যটা দিয়েছিলো টাইমসের এক সমীক্ষায়..।ওখানে বলা ছিলো আঘামী এক ধসককে কারা পারমানূ শক্তিধর রাস্ট্রে পরিনত হতে পারবে....আমার মনে হয় এখন যদি খোলা মনে চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন বর্তমান প্রক্ষাপটে এ লিস্টের খুব একটা ভ্যালু নেই...।যদিও আমাদের অনেক সম্ভবনা ছিলো...তবে এখনো বলছি কিছুই দেরী হয় নাই...।ইউরোপে এসে একটা জিনিস খুব ভালো করে দেখলাম ভারত এখন মেধা সা্লাই দেয় আর আমরা আমআদের মেধা গুলো পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় চুপে চাপে বসিয়ে রেখেছি....এদেরকে জড়ো করতে পারলে হয়তো আমরা সবই করতে পারবো!
০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: "যদিও আমাদের অনেক সম্ভবনা ছিলো...তবে এখনো বলছি কিছুই দেরী হয় নাই...।"--একমত। তবে সমস্যার সমাধান চাইলে সর্বপ্রথম সমস্যাকে স্বীকার করতে হবে। তবেইতো সমাধানের প্রশ্ন আসবে।
আগুনের অস্তিত্ব স্বীকার করলেই নেভানোর প্রশ্ন আসবে, তা না হলে নয়।
সমস্যাকে স্বীকার করতে পারলেই আসবে তার স্বরূপটাকে বোঝা- পড়ার ধাপ, গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে শর্ট লিস্টেড করতে হবে। এরপরে আসতে পারে সমাধান খোঁজার ধাপ। আবেগের ভিত্তিতে চটজলদি কোন চিকিৎসাপত্র না খোঁজাই উত্তম।

২৩. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭
কোর আই সেভেন বলেছেন: কম্পিউটার দিয়ে কি সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন সম্ভব? কিছু সিমুলেশন ছাড়া নতুন কিছু কম্পিউটার দিয়া করা সম্ভব নয়। অথচ সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি এখন রিসার্চের ক্ষেত্রে একটা হট টপিক। সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন নিয়ে রিসার্চ করার মতো ল্যাব বাংলাদেশের কোথাও আছে আমার জানা নেই। আমার জানামতে এটমিক এনার্জি কমিশনে একটা ল্যাবের কাজ চলছে, কিন্তু তা নিশ্চয়ই তারা নিজেরা ব্যবহার করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে সেমিকন্টাক্টর নিয়ে কাজ করার কিছু সুযোগ সুবিধা আছে কেবল আইইউটি তে। আপনি যদি কি এখানেও কাগজ কলম ব্যবহার করার কথা বলতে চান? সেক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়ে আছি। বাইরের অনেক কনফারেন্স বা জার্নালে আমাদের ছাত্রদের পেপার পাবলিশ হচ্ছে। কিন্তু পেপার মানে কি? কিছু একটা প্রস্তাব করা। পয়সা খরচ না করে ল্যাব বা রিসার্চ ফ্যাসিলিট না বাড়ালে আধুনিক গবেষনায় কোন অবদান রাখা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। বাইরের বিশ্বের নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে আছে এ কারনেই। এদেশের একজন গবেষক যখন মাসখানেক খাটাখাটনি করে একটা পেপার পাবলিশ করে তৃপ্তির ঢেকুড় তোলে, ল্যাব ফ্যাসিলিটি আছে এমন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তখন সেটাই হাতে কলমে দেখে নিতে পারে। কার্যকর কিছু করতে হলে ভালো ল্যাব ফ্যাসিলিটির কোন বিকল্প নেই, অন্তত গবেষনা পর্যায়ে।
২৮ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:১২

লেখক বলেছেন: প্রসঙ্গটা আনার জন্য ধন্যবাদ। আসলে এই পর্বের মূল উদ্দেশ্য ছিলো ল্যাবগুলি গ্রাজুয়েট তৈরীর উপযুক্ত কিনা বা যারা গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে তাদের কতকাংশের মধ্যে রিসার্চের ন্যাক টা আমরা গড়ে তুলতে পারছি কিনা সেইটা। আমি এই জায়গায় আশাবাদী।

আপনি চিপ ফ্যাব্রিকেশন ল্যাবের উদাহরণ টেনেছেন,যেখানে এন্ডপ্রোডাক্ট হিসাবে আইসি বের হয়ে আসবে। আসলে চিপ ফ্যাব্রিকেশন অনেক দুরের ব্যাপার, বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজের অর্থে এই ল্যাবগুলি প্রতিষ্ঠা করেনা। কোথাও না। এমনকি একটা জাংশন তৈরীর কথাও বাদ দিলাম, শুধু কয়েক মিলিয়ন জার্মেনিয়াম বা সিলিকনের অনুর মধ্য একেবারে সুনির্দিষ্ট পরিমান কয়েকটি ইম্পিওরিটিজ ম্যাটিরিয়ালের অনু যোগ করে পি বা এন টাইপ ম্যাটেরিয়াল তৈরীর ক্ষমতা বিশ্বের কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে?এগুলি হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্পে লগ্নী পুঁজির ক্যারিশমা।আমি যদি বুঝতে ভুল না করি তবে আপনি যেটা বলতে চাচ্ছেন যে এই ধরনের আধুনিকতম ল্যাবের অভাবের কারনেই মূলতঃ ইচ্ছা থাকলেও আমরা গবেষনা করতে পারছিনা বা আমাদের গবেষনা এগোবেনা।

এক্ষেত্রে আমি যেটা বলব হ্যাঁ এটা অনেকগুলো কারনের মধ্যে একটা কারন বটে, তবে মূল কারন নয় নিঃসন্দেহে। কেন এটা আমি মূল কারন বলে মনে করিনা সে ব্যাপারে পরের পর্ব গুলিতে আলোচনার ইচ্ছা আছে। পেপার বা সিমুলেশন সম্পর্কে আপনার নিজেস্ব কিছু মতামত আছে বলে মনে হয়। সে ব্যাপারেও আলোচনা হবে আশা রাখি। একটু সময় করে সঙ্গে থাকবেন।

২৫. ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৭
ম,ন,রেজা বলেছেন: পুরা পড়ে নিই আগে।তারপর মন্তব্য।
২৮ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:১৬

লেখক বলেছেন: দুই মাসের বেশী সময় নিয়ে নিলেন কিন্তু পড়তে। অনেকেই আপনার মতামতের অপেক্ষায়।

২৬. ২৮ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৩২
কে এম তানভীর আহম্মেদ বলেছেন: আলোচনার বিয়য়বস্তু চমৎকার তবে একটু তথ্যগত ভুল আছে। শুধরে দিলাম।

বর্তমানের মূলধারার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্তনটা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নাম নিয়ে শুরু হয়নি। যেমন ১৯৬২ তে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসাবে বুয়েট

১৮৭৬ সালে ঢাকা সার্ভে স্কুল হিসাবে, ১৯৪৮ সাল থেকে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসাবে এবং ১৯৬২ সালে EPUET (East Pakistan University of Engineering and Technology) হিসাবে এবং অবশেষে ১৯৭১ সাল থেকে বুয়েট হিসাবে চলছে। ১৯৪৮ সাল থেকেই বি.এস.সি.(চার বছর মেয়াদী) ইন ইলেক্ট্রিকাল, মেকানিক্যাল, সিভিল ও কেমিক্যাল এ ডিগ্রি দেওয়া শুরু হয়।

অনেক ধন্যাবাদ আপনাকে, এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য।
২৮ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:০০

লেখক বলেছেন: আপনার মনযোগী পাঠের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ১৯৬২ এর পরিবর্তে ১৯৪৮ হবে। সন টা চেঞ্জ করে দিলাম। পরবর্তী পর্বগুলিতে সঙ্গে থাকবেন।

২৭. ২৭ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:৫৭
স্বাধীনচেতা৭১ বলেছেন: প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখস্ত বিদ্যা চর্চা বন্ধ করতে হবে আগে।
২৮ শে জুন, ২০১০ রাত ১২:৪৩

লেখক বলেছেন: ভালো একটা প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন। সেই উসিলায় দুটো কথা বলে নেই। এই মুখস্থবিদ্যা নিয়ে ইদানিং অনেক কথা শোনা যাচ্ছে।এই মুখস্থবিদ্যার ব্যাপারটা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলাতে কমবেশী আছে এটা ঠিক। তবে এটা সেখানে খুবই প্রকট বা মহামারী আকার ধারণ করেছে এরকমটা আমি এখনো মনে করিনা। তবে যেটুকু আছে সেটা দূর করতে ছাত্রের থেকে শিক্ষকের ভূমিকাটাই আসল। যদি কোথাও এই প্রবণতা দেখা যায় তবে স্টেরিওটাইপ প্রশ্নের ধাঁচ থেকে বের হয়ে আসা যায়। আর বের হয়ে আসলে ছাত্রও নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করে তুলতে বাধ্য হবে।

তবে যে কথাটা বলতে চাই, মুখস্থ করার অভ্যাস, যেটা এখনও একটা সার্টেন পরিমান স্টুডেন্টের মধ্যে থেকে যাচ্ছে, সেটা ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাংখিত হলেও আমাদের আলোচ্য সমস্যায় মূল বাধা নয় মোটেও। আবার বলব, মূল বাধা নয় মোটেও। তাই মুখস্থ বিদ্যা দুরীকরণ সবার আগে তারপরে অন্য কিছু অথবা আমরা আলোচ্য সমস্যার সমাধান খুঁজে দেখার আগেই পেয়ে গেছি, এখন শুধু মুখস্থকে কষে না বলার মধ্যেই সমস্যার সমাধান, এই রকম ঢালাও ভাবনাটা আমাদের জন্য মোটেও যুক্তিযুক্ত হবেনা।ধন্যবাদ সঙ্গে থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৩০৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই