আমার প্রিয় পোস্ট

নুতন পুরাতন সব লেখাতেই আপনার মন্তব্য প্রত্যাশিত।

আধুনিক গবেষনায় দেশের সায়েন্স ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলির দীর্ঘ ব্যর্থতা।মূল কারনটা কোথায়?যোগ্যতা-প্রতিভার অভাব না অন্যকিছু? কিস্তি-৩

২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:১২

শেয়ারঃ
0 1 0

দীর্ঘ বিরতির পর ফেরা, সংক্ষেপে তাই একটু রিভিউ করে নেই। পোস্টের পটভূমি রয়েছে প্রথম পর্বে। বিষয়বস্তু পোস্টের শিরোনামে এসেছে। আর এই ধারাবাহিক পোস্টগুলির উদ্দেশ্য প্রচলিত অভিযোগকে আমলে নিয়ে একে একে উত্তর খুঁজে ফেরা, হুট করে কোন চটজলদি চিন্তায় না আটকানো। প্রথম পর্বে মূলতঃ শিক্ষক আর শিক্ষার মানকে আকাশ ছোঁয়া আবেগি মাপকাঠিতে নয় বরং বিমূর্তহীন ভাবে আমাদের দৈনন্দিন ধরা ছোঁয়ার মাঝে নিয়ে এসে বোঝার চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয় পর্বে একজিস্টিং অবকাঠামো ও ল্যাবরেটরী গুলির হাল হকিকত মানে সেগুলি দিয়ে গ্রাজুয়েট তৈরী করা যায় কিনা আর গেলেও সেই গ্রাজুয়েটের কতিপয়ের ভেতর ভবিষ্যৎ গবেষকের ন্যাক টা গড়ে উঠছে কিনা সেটা মূল পোস্টে ও সংশ্লিষ্ট কমেন্টের মধ্যে একধিকবার আলোচনায় এসেছে। সেখানে আমি আশাবাদী। এরসাথে গবেষনা মাত্রই সর্বদা এলাহী যন্ত্রপাতির সমারোহ , এই ধরনের অতি প্রান্তিক চিন্তা থেকে পাঠক কে বের হয়ে আসার সিগন্যাল দেবার চেষ্টা করেছি গত পর্বে। তবে কিঞ্চিত রং-সিগন্যাল পাঠকের মধ্যে অনিচ্ছাসত্ত্বেও চলে গেছে, কতিপয় মন্ত্বব্যে যার বহিঃপ্রকাশ । পাঠক আশা করি আগের দুটি পর্বে একটু সতর্ক চোখ রাখবেন,পরিপ্রেক্ষিতটা বোঝা সহজ হবে।

এবার পরের ধাপে এগোই। সিলেবাস, অবকাঠামো আর ল্যাবরেটরীর পর যে মূল উপাদানটা নিয়ে আলোচনার বাকি থেকে গেছে সেটা হচ্ছে শিক্ষক। আজকে এই উপাদানটা একটু ফিরে দেখবো। ভাল শিক্ষক কে? শিক্ষকের মাপকাঠি তো ওভাবে বেঁধে দেয়া যায়না। এটা অনেকটা আদর্শিক অবস্থান। উপলব্ধির জায়গা। তবে কাগজে কলমে বা অফিশিয়ালি মাপতে গেলে ডিগ্রী, প্যাটেন্ট, পাবলিকেশন, অভিজ্ঞতা এগুলিই মাপকাঠি। সেই প্রচলিত মাপকাঠিতে দেশের অবস্থাটা একটু ফিরে দেখি। দেখা গেছে বেশ সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে যারা অনেক পূর্বে ডক্টরেট করেছেন তাদের একটা বৃহৎ অংশ ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন ভারত থেকে।এর সাথে আছে রাশিয়া, ব্রিটেন, ব্যাংকক(এ,আই,টি), উত্তর-আমেরিকা। আবার অনেকে হায়ার ডিগ্রী সম্পন্ন না করে চাকুরীর অভিজ্ঞতার বলে একসময় প্রফেসর হয়েছেন, ইনারা অবশ্য অনেকেই রিটায়ার করেছেন বা কর্মজীবনের শেষের দিকে রয়েছেন। এর কিছু পরে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা ডিগ্রির সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে, সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমান জাপানি ডিগ্রীও ।কারণ ইন্টারনেট আর ইমেইলের প্রভাব পড়ছে।যোগাযোগ সহজ হচ্ছে। বিদেশী প্রফেসরের দোরগোড়ায় সরাসরি নক করা সম্ভব হয়েছে দেশে বসে। আর বর্তমান বা নিকট অতীতে যারা ডিগ্রী করেছেন বা করছেন সেখানে আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান আর অস্ট্রেলিয়ার প্রকোপটা চোখে পড়ার মত। এই হোল একটা এভারেজ চিত্র, নিঃখুত পরিসংখ্যানের প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা। এগুলি উল্লেখ করার কারণ এই নয় যে আমরা এখন বসে পড়বো কোন দেশের ডিগ্রী কত বড় আর কোন দেশেরটা গোনার মধ্যে পড়েনা এই হিসাব করতে। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা বলা যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে দেশ-বিদেশ থেকে ফেরা, উন্নত ল্যাবে রিসার্চ করা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজব্যাবস্থার সাথে পরিচিত ব্যাক্তিদের আগমন ঘটেছে বা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘটছে হাইব্রিডাইজেশন। এটা আশার কথা, খুব ভাল একটা দিক।

তবে হতাশারও কিছু কথা আছে। বড় একটা ডিগ্রী অর্জন করার পর তিনি শিক্ষক হিসাবে সুযোগ্য হয়েছেন কিংবা এই অবক্ষয়ের যুগে সকলেই দেশে ফিরে নিজ নিজ মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহারে আত্মোনিয়োগ করেছেন এরকমটা সবসময় দেখা যায়নি। দেখা গেছে কেউ উচ্চশিক্ষা শেষে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছকমিটি, মাছ কমিটি, টেন্ডার কমিটি, বাসা বরাদ্দ কমিটি, বিউটিফিকেশন কমিটি ইত্যাদি সব নানান কিসিমের নন-একাডেমিক কর্মকান্ডে বাকি জীবনটা আনন্দে কাটিয়ে দিচ্ছেন। কারো কারো মৌমাছি চাষে বুৎপত্তি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে মৌমাছি দেখেই বলে দিতে পারেন কোন মৌমাছিটা বেয়াদব আর কোনটা আদবকায়দা জানে, মানে পোষ মানবে।কেউ কেউ আবার এই দুনিয়ায় বসবাস করেননা, দুই দুনিয়ার মাঝে সেতু বাঁধার কাজে মশগুল। সময় অল্প। এই দুনিয়া তো কিছুনা। মায়া আর মায়া। তাই এই দুনিয়ায় মশগুলদের কিভাবে দুনিয়ার কাজে উদাসীণ করা যায় সেই মহান কর্মের কৌশল নির্ধারণে তাঁদের দিন এগোয়। তবে কিভাবে তাঁরা এরই ফাঁকে উত্তরা-পূর্বাচলের প্লটের আবেদনটা সময় মত করে ফেলেন অনেকের মত আমার কাছেও সে এক অধরা রহস্য। ক্লাসে আসেন দুই যুগের পুরোনো হলুদ হয়ে যাওয়া চোথা নিয়ে। ব্লাকবোর্ডে ৫০-৫৫ মিনিট হুবহু তুলে দিয়ে জীবিকা হালাল করেন। আরেকটা শ্রেণী আছে যারা রাজনৈতিক দলের কাছে বিক্রী হয়ে যান। বিশেষ বিশেষ দিবসে মুখটা তাঁদের ভাবগম্ভীর হয়ে উঠে। নজরানা হিসাবে একসময়ে ভিসি, প্রোভিসি, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ছাত্রকল্যান উপদেষ্টা হবার সৌভাগ্য জোটে। তবে এ লাইনেও আজকাল প্রতিযোগিতা অনেক, থাক সে কথা।

মনে রাখতে হবে জীবনযাত্রা জটিল হয়েছে, চারিদিকে শুধু অবৈধ পুঁজির প্রতাপ। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এখন নৈতিকতা আর প্রতীকি দেশপ্রেমের বিপনণে মত্ত। এখন এরা একটা প্রজন্মের কেবলা ।তরুন সমাজের মুখ-মন-মগজ সবই সেই কেবলামুখি। ঠান্ডা মাথায় কিছু ভেবে দেখার সময় তার নাই। আত্মসুখ আর আত্মচিন্তায় সে মগ্ন। যে ভেবে দেখে সে তো বোকা, ফাস্ট লাইফ লিড করতে শেখেনি। একটা প্রজন্ম তো ইতোমধ্যেই তৈরী হয়েছে যারা দেশ বলতে ঢাকা শহরের কিছু চৌহদ্দিকেই বুঝে। ঢাকার বাইরে যারা, তারা তার কাছে অচ্ছুৎ, যথেষ্ট স্মার্ট না। এই অবক্ষয় আর বিভক্তি সমাজের সব লেভেলকে স্পর্শ করবে।বিশাল পুঁজির সুচিন্তিত ও লক্ষ্যভেদী কারবার। শিক্ষক, সন্যাসী, পীর,ফকির, ব্রহ্মচারী কেউ তার নাগালের বাইরে থাকবেনা।বিশ্ববিদ্যালয় তো এ সমাজের বাইরে নয়। আর বাইরে নয় বলেই সেখানেও তার দেখা মেলে।

উপরে যেটা বললাম সেটা একটা দিক।আরেকটা দিক বা আশার কথা হল এত কিছুর পরেও আত্মনিবেদিত, প্রচারবিমুখ, স্বমহিমায় উজ্জ্বল ব্যাক্তিদের সংখ্যা কিন্তু নেহাত কম না। মোটেই কম না। তবে তাঁদের পরিচয়ের গন্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমা ছাড়িয়ে পত্রিকার পাতায় উঠে আসেনা। সম্ভাব্য কারন, উনাদের কাজের কোন রাজনৈতিক বা মিডিয়া ভ্যালু নাই অথবা মিডিয়ায় উঠে আসতে হলে যে পরিমান বেহায়া হতে হয় ,নীচে নামতে হয় সেটা তারা পারেননা। নিভৃতে থেকে কাজ করেন। নজরুল ইসলাম কে স্মরণ করে বলতে হয় ইনারা আছেন ফুলের মাঝে মাটির মমতা রসের মত অলক্ষ্যে, যে চাঁদ সাগরে জোয়ার জাগায় সে তার শক্তি সম্বন্ধে আজো না ওয়াকিফ। আর তাঁদের হাত ধরেই অনেক প্রতিকূলতার পর প্রতিবছর উঠে আসছে অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুনী। প্রসঙ্গক্রমে একটা কথা বলে রাখি। দেশের আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে শেষ বর্ষে ছাত্রদের একটা থিসিস করতে হয়। গতানুগতিক কপিপেস্ট মার্কা অনেক কাজের মাঝেও মৌলিক বেশ কিছু কাজ এই আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলেও হয়ে থাকে। তবে যে থিসিসগুলি তারা করে থাকে সেগুলি যথাযথ সংরক্ষন, রিভিউ ,সঠিক ফোরামে উপস্থাপন বা পরবর্তিতে সেই কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যাবস্থা না থাকায় অনেক মূল্যবান কাজ কিন্তু আমারা হারিয়ে ফেলেছি এবং ফেলছি।

শিক্ষক প্রসঙ্গে কথা শেষ করার আগে একটা উক্তি স্মরণে নেই। “What does your teacher teach? He teaches nothing, only points the way.” অনুবাদ করলে এরকম দাঁড়ায়- “শিক্ষক তোমায় কি শেখান? মোটেই কিছুনা। কেবল কিভাবে শিখতে হয় সেটাই দিকনির্দেশ করেন।” উচ্চশিক্ষার প্রকৃতিটা এরকমই হওয়া উচিত। তাই এই দূর্যোগের দিনে সঠিক দিকের নির্দেশণাটুকুও যিনি দেন তিনিও তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন বলেই আমরা ধরে নেব।

এবার থামি, তা না হলে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে।এই তিনপর্বে মূলতঃ রিসার্চ পূর্ব ম্যানপাওয়ার তৈরীর পরিবেশ আর তার নিয়ামকগুলি নেড়েচেড়ে দেখার চেষ্টা করলাম। পরের পর্বে একটা ছোট্ট সামারি টেনে রিসার্চ প্রসঙ্গে কথা শুরু করব। আশা করি সঙ্গে থাকবেন। চলবে-

 

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:৫৩
মৌ-মাছি বলেছেন: আপনার লেখার মুল সুরটি আমারও সুর। কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম আমি এর উপরে একটা লেখা লিখব। তবে ভাবনা গুছাতে সময় নিচ্ছিলাম। যাইহোক নিচের এইকথাগুলো ঠিকঠিক একই ভাষায় আমিও বলতে চাই।

"তাঁরা এরই ফাঁকে উত্তরা-পূর্বাচলের প্লটের আবেদনটা সময় মত করে ফেলেন অনেকের মত আমার কাছেও সে এক অধরা রহস্য। ক্লাসে আসেন দুই যুগের পুরোনো হলুদ হয়ে যাওয়া চোথা নিয়ে। ব্লাকবোর্ডে ৫০-৫৫ মিনিট হুবহু তুলে দিয়ে জীবিকা হালাল করেন।"

আপনি লিখে যান (আবার ৬ মাসের ডুব না দিয়ে), আমি পাশে থাকার চেষ্টা করব।

২০ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:২০

লেখক বলেছেন: ভাল লেগেছে শুনে ভাল লাগলো। তবে একটু কথা বলে নেয়া দরকার এই ফাঁকে। তা না হলে এই পোস্টের মূল সুরের ব্যাপারে হালকা চোখ বুলিয়ে যাওয়া পাঠকের বিভ্রান্তি আসতে পারে এই কোটেশনটি থেকে।

পোস্টের বিষয় বস্তু কোন বিশেষ মতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন না। উপরে দেওয়া কোটেশনটি বিদেশ ফেরত শিক্ষকের যে সকল কর্মকান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক কাজকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠছে সেগুলো বোঝাতে গিয়ে ব্যবহার করেছি।এটি নানা কিসিমের কর্মকান্ডের মধ্যে একটি যেটা উপরে আলোচনায় এসেছে।

আপনার উৎসাহ পেয়ে ভাল লাগছে। ভাল থাকবেন।

২. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:২১
রাগিব বলেছেন: এই পর্বটি ভালো লাগলো।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষকই আজকাল আমেরিকা বা কানাডার পিএইচডি করেছেন। কিন্তু সমস্যাটা হলো দেশে গিয়ে সেই উচ্চশিক্ষার ধারাটি ওভাবে সবাই বজায় রাখতে পারেন না।

একটা বড় কারণ অবশ্য অর্থকষ্ট। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনের স্কেল পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। পাকিস্তানে একজন সহকারী অধ্যাপক যেখানে লাখ খানেকের মতো বেতন পান, সেখানে বাংলাদেশে সেটা শুরু হয় হাজার ১৫ থেকে। (৭ বছর আগে আমি শুরু করেছিলাম ৬ হাজারে)। কাজেই অবধারিতভাবে একজন প্রফেসরকে বাইরের কোনো না কোনো কাজে লেগে থাকতে হয়, প্রাইভেট ইউনিতে খ্যাপ থেকে শুরু করে গাছ/মাছ কমিটি বা কনসাল্টেন্সিতে। এসবের ফলে রিসার্চের সময় আদৌ থাকাটাই আশ্চর্য ব্যাপার হবে।

তবে এর মাঝেও ব্যতিক্রম আছে। সেটাই আশার আলো দেখায়।

--

আন্ডারগ্র্যাড থিসিস থেকে রিসার্চ পেপার আকারে বেরুচ্ছে বটে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুপারভাইজর সুকৌশলে নিজেকে ফার্স্ট অথর হিসাবে লাগিয়ে দেয়ার ঘটনাও আছে।

--

এই ক্ষেত্রে সমাধানটা কোথায়? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে হবে। রিসার্চের উপরে সরকারী অনুদান বাড়াতে হবে। পাকিস্তানে যেখানে রিসার্চ করে এমন প্রফেসরেরা সরকারী ইউনিতেই বেতন পায় সাড়ে ৩ লাখ রুপী, সেখানে বাংলাদেশে হাজার ২৫ টাকা বেতনে একই ফল আশা করা অবাস্তব। ভারতেও আইআইটির প্রফেসরদের বেতন অনেক বেশি।

আর তার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগেও সচেতন হতে হবে। এখন পিএইচডি ধারী শিক্ষকের সাপ্লাই কম না, কাজেই পিএইচডি ছাড়াই লেকচারারদের সহকারী অধ্যাপকে নিয়োগ দেয়ার প্রবণতা বাদ দিতে হবে। ক'দিন আগে দেখলাম, বোম্বে আইআইটি থেকে আমেরিকাতে টিম এসেছে, ওদের ওখানে প্রফেসর রিক্রুট করার জন্য। সব টপ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে ঘুরে পাস করতে যাওয়া পিএইচডি ছাত্রদের আকৃষ্ট করছে। সেরকম না হলেও অন্তত পিএইচডি ডিগ্রি না থাকলে শিক্ষক নিয়োগ না করার নিয়ম করা উচিৎ, অন্তত প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিষয়ে।
২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ২:০২

লেখক বলেছেন: সন্দেহ নাই শিক্ষকদের বেতন স্বল্প।এই বেতনে স্বচ্ছলতা আসলেও প্রাচুর্য আসেনা। স্বচ্ছলতার খোঁজে তাই এখানে ওখানে তার খেপ মারা ।একমত। এবার বিপরীত দিকটা দেখি। একজন স্বচ্ছল শিক্ষকের কথা ধরি। প্রাইভেট ভার্সিটিতে খেপ দেবার অফার পেলে তিনি কি ইগনোর করবেন? না ,স্বভাবতই করবেন না। উপরি দুটো পয়সা আসলে স্বচ্ছল অসচ্ছল সকলেই কমবেশি সুযোগ গ্রহণ করবে।

ধরেন শিক্ষকের বেতন বাড়িয়ে দুইলাখ টাকা করে দিলাম। আমি কি নিশ্চয়তা দিতে পারব যে এরপর এইসকল শিক্ষকগন তাদের পুরো সময়টা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজে ব্যয় করবেন কিংবা অতিরিক্ত কোন অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ ঘটলে সেটা হেলায় দূরে সরিয়ে দিবেন। গাছ কমিটি পুকুর কমিটি নিয়ে যারা ব্যস্ত তারা সেগুলো ছেড়ে গবেষনায় মন দিবে। দুই দুনিয়ার সেতু বাঁধার কাজে যারা মশগুল তারা নিয়মিত স্টাডি করে ক্লাসে যাবেন, অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধিকে আসমান থেকে আশা নেয়ামত বলে শুধু শোকরিয়া আদায় করবেননা। কিংবা রাজনৈতিক লেবাসধারী সভা সেমিনার আর বদমতলবী ছেড়ে তোবা পড়ে একাডেমিক কাজে মন দিবেন। না এরকম নিশ্চয়তা দেবার প্রশ্ন আসেনা। আসলে চাইলে ঘোড়া পেলে ভিক্ষুকেরা ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা করতো। ভুল বোঝেন না ।কাউকে ভিক্ষুক বলে সম্বোধন করছিনা।এটা রূপকার্থে।

যাই হোক এর মানে এই নয় যে আমি শিক্ষকের বর্তমান বেতন কাঠামোয় সন্তষ্ট। বেতন বাড়লে তার স্বচ্ছলতা বাড়বে ,এই দূর্দিনে সেটা বাড়া দরকার । তবে এই বৃদ্ধির সঙ্গে তার একাডেমিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা আশানুরূপ বাড়বে এরকম আশা করাটা আমি সঠিক মনে করিনা ।

এবার আসি আপনার শেষ প্যারায় নিয়োগ প্রসঙ্গে। আপনি জানেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলি কাগজে অটোনোমাস হলেও তার বাজেটের সিংহ ভাগ আসে সরকারী তহবিল থেকে ইউ, জি, সি হয়ে। নিজের আয়ে নিজে চলার শক্তি তার নাই। সরকার থেকে যেটুকু পায় তার সঙ্গে নিজের যৎসামান্যটুকু যোগ করে সারা বছরের বাজেট সামলাতে হয়। আর তাই অরগানোগ্রামের বাইরে গিয়ে স্থায়ী পদে কাউকে নিয়োগ দেবার হিম্মত সহজে কেউ করেনা। আর দেশের বাইরে টিম নিয়ে গিয়ে উপযুক্ত কাউকে চাকুরির লোভনীয় প্রস্তাব দেয়া অনেক দুরের স্বপ্ন। সখ আমাদের যদিও আছে কিন্তু সেই ধক বা সামর্থটা আমাদের নেই। থাকলে অনেক ভাল হতো।

আর পিএইচডি ডিগ্রী ধারী দিয়ে একেবারে সহকারী অধ্যাপক থেকে পোস্ট শুরু করার চিন্তা ভাবনা অনেকদিন থেকেই চলছে। যেখানে লেকচারার পোস্টটির বিলুপ্তি ঘটার সম্ভাবনা আছে বলে জানি। তবে এটা কবে কিভাবে হবে বা আদৌ হবে কিনা কারো জানা নেই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যে। আলোচনার সূত্র ধরে আরও কিছু কথা এগিয়ে গেল। সঙ্গে থাকবেন।

৩. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:১০
শাফ্‌ক্বাত বলেছেন: খানিকটা অপ্রাসংগিক হলেও বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। আমার ছয় বছরের হায়ারিং অভিজ্ঞতায় একটা ব্যাপার খুব হতাশার সাথে খেয়াল করতাম ইঞ্জিনিয়ারদের বেলায়-তা হচ্ছে সিলেবাসের সাথে ডিম্যান্ডের মিল না থাকা। মানে যে বিষয়ে দক্ষতা বাজারে প্রয়োজন সে বিষয়ে পাশ করা ছাত্রদের জ্ঞান না থাকা। পরে দেখেছি ক্রমে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো নিজেদের উদ্যোগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ নিয়ে টাইম টু টাইম তাদের সিলেবাস উন্নত করেছে। কিন্তু সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের এটিচ্যিউড নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে তাদের পরপম্পরা ধরে চলে আসা পুরোনো সিলেবাসে এক ফোঁটা আঁচড় ফেলতে দেননি।

জানিনা আমি চাকরি ছাড়ার পরে এই দৃশ্য বদলেছে কী না। তবে আমার মনে হয় সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বেস্ট বাচ্চারা পড়তে যায়, সেখানকার পড়াশুনা দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। আর সেখানকার টিচারদের দেখেছি নিজেদের ইচ্ছাকে বাচ্চাদের স্বার্থের চেয়ে বেশি দাম দিতে। খুব হতাশ হতাম ওনাদের এই মানসিকতা দেখে।
২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১:১৯

লেখক বলেছেন: না মোটেই অপ্রাসঙ্গিক নয়। খুব ভাল একটা দিক আপনি নিয়ে এসেছেন।আলোচনাটা সামনে এগিয়ে যাবে অনেকখানি।

বিশ্ববিদ্যালয় মানে মোটা মোটা পুঁথি আর মোটা মোটা চশমার ফ্রেমে বাঁধা এক ভাবগম্ভীর পরিবেশ যা বাজারের চাহিদা আর দৈনন্দিন জীবনের চাওয়া পাওয়া কে থোড়ায় কেয়ার করে, এরকম উন্নাসিক দৃষ্টি আমি সমর্থন করিনা। মোটেই না। আমার কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় যে প্রতিষ্ঠান চলবে তাকে আমার সমাজের সমসাময়িক চাহিদা আর সমস্যাকে মোকাবেলা করার বুদ্ধিবৃত্তিক হিম্মত নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

যে ছাত্র পাশ করে বের হবে তাকে বাজারের চাহিদা মেটানোর উপযোগী হতে হবে। এবার ফিরে দেখি বাজারের চাহিদা মেটানোর উপযোগী ছাত্র বলতে কি বুঝায়। এইখানে আমাদের একটা চিন্তার গলদ থেকে গেছে। যার সু্যোগে ভিন্ন দেশের কিছু ট্রেনিং সেন্টার এসে এদেশে মায়াজাল তৈরী করে, আমাদের চিন্তার ফাঁকের সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য করে লাপাত্তা হয়

বাজারের চাহিদা মেটানোর উপযোগী বলতে তাকেই বুঝানো হচ্ছে যে ছাত্র নুতন বিষয়বস্তু রপ্ত করার ক্ষেত্রে তার শিখে আসা একই ঘারানার( মানে ঠিক একই না, তবে একই শ্রেণীর) কোর্সের নির্যাসটুকু ব্যবহার করে অল্প সময়ে পদ্ধতিগতভাবে নূতন বিদ্যাটা আয়ত্ত করবে। পদ্ধতিগতভাবে আয়ত্ত মানে কি? এর মানে হচ্ছে ”কি ভাবে শিখতে হয়” সেই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিদ্যাটা, যেটা সে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ জীবনে ধীরে ধীরে আয়ত্ত করেছে। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় কোনদিন একজ্যাক্ট মাপের স্ক্রু বাজারে সরবরাহ করেনা। কোন দেশেই না। যে প্রডাক্ট সে দিবে সে যেন পূর্ববর্তী বিদ্যা কাজে লাগিয়ে নূতন কিছু শিখে নেবার যোগ্যতা রাখে, এটাই তার স্কুলিং এর মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য যে প্রতিষ্ঠানের থাকেনা সেটা বিশ্ববিদ্যালয় গোত্রের মধ্যে পড়েনা।

একটা উদাহরণ দেই।সাবজেক্ট হিসাবে সেটাই বেছে নিলাম যেটার খুব দ্রুত লয়ে পরিবর্তন ঘটছে এবং অনেকের কাছে পরিচিত। এতে আমার পক্ষে বোঝানোটা সহজ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বলে আইটি স্টুডেন্টদের একটা কোর্স করতে হয় যেখানে সে একটা কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে থাকে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কোন ল্যাঙ্গুয়েজ সে শিখবে? ১৯৫০ সালের পর থেকে বাজারে এসেছে প্রায় ১০,০০০ ল্যাঙ্গুয়েজ (-বেয়ারনে স্ট্রাউস্ট্রাপ)।এর মধ্যে থেকে বাজারের চাহিদা দেখে যদি কমপক্ষে ১০টা শিক্ষা দেবার ব্যবস্থা করা হয় তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আর গ্রাজুয়েট তৈরী করতে হবেনা।তাহলে সমাধান কি? ট্রেড অফ। এমন একটি ল্যাঙ্গুয়েজ কে নির্বাচন করতে হবে যার মাধ্যমে ছাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ব্যাপারটা আসলে কি সেটা শেখার সঙ্গে সঙ্গে প্রোগ্রামিং এর ন্যাক টা আয়ত্ত করতে পারে। আসলে যে ছাত্র একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ মনেপ্রানে রপ্ত করেছে তার জন্য নুতন একটা শিখে ফেলা কোন সমস্যা নয়। কিন্তু এই কথাটা কে কাকে বুঝাবে। এটা শুধু আইটির ক্ষেত্রে না, যে কোন সাবজেক্ট এর ক্ষেত্রে সমান ভাবে সত্য।

আসলে আমাদের দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যবসায় পুঁজির বিনিয়োগ সেই পর্যায়ে হয়নি।এগুলি এখনো অনেকটা ট্রেনিং সেন্টার লেভেলের পর্যায়ে থেকে গেছে। তাই চাকুরীর যোগ্যতার সার্কুলারে নিয়োগকর্তা আসলে কি চান তিনি নিজেই সুনির্দিষ্ট ভাবে জানেন না। সেই সার্কুলার দেখে তরুন সমাজ আজ বিভ্রান্ত। একবার সিসকো তে ঢুকে তো পরের মাসে ওরাকল, পরের মাসে আবার পিএইচপি, তিন মাস পর আবার রেডহ্যাট সার্টিফেকেশন কোর্স।

যাক কমেন্ট অনেক লম্বা হয়ে গেল। সারমর্মে যেটা বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়কে বাজারের উপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে রুটিনমাফিক তার সিলেবাস গুলিকে রিভিউ করতে হবে। শুধু জ্ঞানের জন্য জ্ঞান এইরকম চিন্তাটা আত্মঘাতি। আর চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানকে একটা জিনিস ভালভাবে বুঝতে হবে। সেটা হচ্ছে যে শুধু তার প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার শর্ত পূরনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট তৈরী করেনা। ইন্টারভিউ বোর্ডে সে বিচার করবে ”কিভাবে নুতন কিছু শিখতে হয়” এই বিদ্যাটা চাকুরী প্রার্থীর ভেতর কতখানি মজবুত। কারন রিক্রুটিং এর পর গ্রাজুয়েটকে তার ট্রেনিং দিয়ে তৈরী করে নিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো একজ্যাক্ট মাপের স্ক্রু বাজারে সরবরাহ করেনা। জ্ঞানভিত্তিক শিল্পোন্নত বিশ্বে এটাই নিয়ম।

সঙ্গে থাকবেন। অনেক ধন্যবাদ।

৪. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:১৭
রাগিব বলেছেন: @শাফ্‌ক্বাত,

সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রচন্ড বেশি। সিলেবাস পাল্টাতে হলে সিন্ডিকেট পর্যন্ত দৌড়াতে হয়। আমি যে কোর্সটা পড়াতাম, তাতে প্রায় ১২ বছর আগের সিলেবাসে প্রাচীন আমলের সব মাইক্রোপ্রসেসর ছিলো। ্নিজের উদ্যোগে আধুনিকতম প্রসেসরের উপরে পড়াতে গিয়ে ঝাড়ি খেয়েছিলাম উপরের মহল থেকে।

তবে বাজার চাহিদার উপরে নির্ভর করলে একটা সমস্যা আসে, তা হলো ক্রমশ মৌলিক শিক্ষার বদলে হুজুগে শিক্ষায় গা ভাসানো। মৌলিক শিক্ষার সুবিধাটা হলো, সেটা কাউকে ভালো করে বোঝালে যখন যা বাজারে চালু, তা নিজেই শিখে নিতে পারবে, কিন্তু উল্টোটা করলে, মানে ভিত্তি শক্ত না করে বাজারে চালু জিনিষই কেবল শেখালে সিস্টেম পালটানো মাত্র সেই ছাত্রের কপালে দুর্ভোগ নেমে আসবে।

এজন্য দুটোর মাঝামাঝি কিছু দরকার। আর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ করে প্রকৌশলের সিলেবার প্রতি ২ বছরে হালনাগাদ করাটা দরকার।
২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। উপরে ৩ নং এই ব্যাপারে কিছু বলার চেষ্টা করেছি।

৫. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:১৯
মৌ-মাছি বলেছেন: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষনা, ইত্যাদির কথা আসলে আর্থিক বিষয় নিয়ে কথা আসবেই। আমি একটা আর্থিক হিসাব দেই। যাইহোক এটি সর্বশেষ সরকারী বেতন কাঠামো ঘোষনার আগের।

ধরা যাক একজন প্রভাষক হিসাবে চার বছর আগে বিদেশে গেল। চার বছর শেষে ফিরে এসে সে চার বছরের বেতন বাবদ পায় মোটামুটি ৮ লাখ টাকা। আর বিদেশে যায় সবাই কোন না কোন আর্থিক সংস্থান পেয়েই। যা থেকে সঞ্চয় বাবদ নিয়ে আসে গড়পড়তা ১৫ লাখ টাকা। কাজেই একজন কেউ বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরলে তার হাতে থাকে ২০-- ২৫ লাখটাকা। আমার জানা অনুযায়ী বুয়েটে মোটামুটি ভাবে সবাই বাসা পেয়ে যায় কয়েক মাসের মধ্যে (আগে অবশ্য দেরী হত বলে শুনেছি)। মাসিক বেতন সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা, বাসার ভাড়া মোটামুটি ৭ হাজার টাকা সব মিলিয়ে। বাসা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হওয়ার অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে -- যোগাযোগ, পরিবেশ, স্কুল, ইত্যাদি। ১৮ হাজার টাকায় বাবা মা সহ দুটি ছোট বাচ্চা নিয়ে মাস পার করা সম্ভব।

বিদেশ ফেরৎ শিক্ষকরা অনেকেই গাড়ি কিনে ফেলে, যদিও তা বেশীর ভাগ ব্যবহৃত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের হাঁটা দুরত্বে। যাই হোক অধিকাংশ শিক্ষক প্রায় ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন মেয়াদে সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখে, যা ৬-৭ বছর পরে ৩৫ লাখ বা ১২-১৪ বছর পরে ৭০-৮০ লাখ হয়ে যায়। এখানে বিআরটিসি জাতীয় বিষয় বাদ দিলাম -- আর এটি বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী কমবেশী হয়।

উপরোক্ত হিসাবের প্রেক্ষিতে এটা মোটামুটি স্পষ্ট যে একটা শিক্ষক সুলভ জীবন যাপনের জন্য অার্থিক ব্যবস্থা ও সুযোগ সুবিধা নহায়েৎ কম নয়। একটা কথা মনে রাখুন না হলে এত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এত বছর ধরে জীবন যাপন করছে কি ভাবে।

রাগিব সাহেব যে বেতনের কথা বলেছে, তা মুলত নতুন প্রভাষকদের জন্য প্রযোজ্য। এখানে বিদেশে যাওয়ার আগে আর পরের ভিতরে একটা বিশাল তফাৎ রয়েছে। আর্থিক সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের মুলত গবেষনার জন্য বরাদ্দ বাজেট নিয়ে কথা বলতে হবে। আমি এখানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সাপেক্ষে বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে চিন্তা করছি। অবশ্য গবেষনা করার সদিচ্ছার কথাও চিন্তা করতে হবে।

২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২২

লেখক বলেছেন: হুমম। বেশ সংসারী লোক বুঝা যায়।

৬. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:৪৬
মু আ হাকিম নিউটন বলেছেন: চমৎকার বিষয়বস্তু নিয়ে চমৎকার উদ্যেগ। আমি আগের পর্বদুটোও মোটামুটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম।

আমি জানিনা লেখক কে, তবে তিনি অনেক বাস্তব বিষয় তুলে আনার চেষ্টা করেছেন। যাইহোক অন্যান্য বিষয় নিয়ে পরে কথা বলব।

আপাতত সিলেবাস বিষয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা বলছি।

কারখানার চাহিদার সাথে পাঠ্যসূচীর বিরোধ একটি ভালো বিতর্ক। উদাহরন হিসাবে, কারখানায় ওরাকলের চাহিদা থাকলে, তারা ওরাকল শিখাতে বলে। কিন্তু পাঠ্যসুচীতে রাখতে হয় ডাটাবেস আর তার মৌলিক বিষয়গুলোর। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি তাদের উৎপাদিত জনশক্তির বানিজ্য কাটতি বাড়ানোর জন্য সমসাময়িক চাহিদা বিষয়ক বিষয়গুলো পড়িয়ে থাকে। এখানে দায়িত্ববোধের একটি বিষয় রয়েছে। একজন ছাত্রকে তার স্নাতক পর্যায়ে ভিত্তি গড়ে দিতে হয়, যা তার সারা জীবনের পাথেয়। তার জীবনে তাকে বিভিন্ন সময়ে কিছুটা এদিক সেদিক করতে হতে পারে, ডাটাবেসের মুল বিষয় না জেনে শুধু ওরাকল বিশেষজ্ঞ হলে তা করা কঠিন হবে। কাজেই সিলেবাসে ভিত্তিমুলক বিষয় রাখা চাহিদা মুলক বিষয়ের চেয়ে অধিকতর গুরুত্ব পূর্ণ। আর কারখানার উচিৎ, কর্মশালার মাধ্যমে বর্তমান চাহিদামুলক বিষয়গুলোতে চাকুরেদেরকে পরিচিত ও অভিজ্ঞ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ মোটা দাগে অভিজ্ঞতা দেয়া নয়।

বুয়েট সিএসই তে আমার নয় বছরে অন্তত তিন বার পাঠ্যসূচী পাল্টাতে দেখেছি। আর সেগুলি মোটামুটি শুরু হওয়ার এক টার্মের ভিতরেরই সম্ভব হয়েছে। আর শিক্ষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে সবসময়ই পরিমার্জিত পরিবর্ধিত পাঠ্যসূচী অনুসরন করেন। আগে পাঠ্যসূচী নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল খুব সম্ভবত বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের অভাবের কারনে। ইদানিং বেশ কিছু শিক্ষক বিদেশ থেকে ফিরে আসায় এগুলোর দিকে নজর দেয়া সহজ হয়েছে। যাইহোক মনে রাখতে হবে স্নাতক পর্যায় অ আ ক খ শিখার জায়গা। প্রথম ব্যাচ অ আ ক খ শিখবে, পরের ব্যাচ তা আগেই শিখা হয়েছে ধরে নিয়ে শব্দ গঠন শিখা শুরু করবে তা হওয়া যাবে না।






২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৬

লেখক বলেছেন: এই ব্যাপারে ৩নং কমেন্টে কিছু বলার চেষ্টা করেছি। আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করি আরও মতামত রাখবেন।

৭. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৮:৫৬
মেহেদী_হাসান বলেছেন: @রাগিব ভাই, আপনার বক্তব্যের সাথে একমত।
@মৌ-মাছি, আপনি যেভাবে হিসাব দেখালেন, ব্যাপার আমার কাছে তেমন মনে হয় না। কারণ ইউনিভার্সিটির টিচাররা কিছু সুবিধা পায় কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। এই অপ্রতুলতার কারণে তাদেরকে নানা মুখী কাজ করতে হয়।
আর রিসার্চের কথা বলতে গেলে, ফান্ডিং এর অভাব, টাকা না থাকলে রিসার্চ হবে কি করে?
২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য।ফান্ডিং একটা প্রাইমারী ফ্যাক্টর নিঃসন্দেহে।

৮. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৯:৩৫
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: চার বছর শেষে ফিরে এসে সে চার বছরের বেতন বাবদ পায় মোটামুটি ৮ লাখ টাকা। আর বিদেশে যায় সবাই কোন না কোন আর্থিক সংস্থান পেয়েই। যা থেকে সঞ্চয় বাবদ নিয়ে আসে গড়পড়তা ১৫ লাখ টাকা। কাজেই একজন কেউ বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরলে তার হাতে থাকে ২০-- ২৫ লাখটাকা।


----------


আপনার হিসেব ঠিক নয়। শিক্ষাছুটির বেতন নিয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই, তবে হিসাবটা মোটামুটি এরকমঃ

বুয়েটে আমার সময়ে লেকচারারের স্কেল ছিল ৮৪০০ টাকা (বেসিক পে) সে হিসাবে ৪ বছরে জমা হয় ৪ লক্ষ টাকার মত। সর্বোচ্চ কত বছরের পেইড ছুটি পাওয়া যায় তা আমার জানা নেই।

বিদেশে যে আর্থিক সংস্থান দেয় তা শুধু খেয়ে পড়ে ভালভাবে বেচেঁ থাকার জন্যই। ছাত্রকালীন সময়ে কেউ যদি ৪ বছরে ১৫ লক্ষ টাকা জমাতে পারে তবে তাকে আমার স্যালুট।

------------

আমার নিজের প্রশ্নটা টাকার পরিমান নিয়ে নয়। প্রশ্নটা মনে আসবে, যখন আপনি দেখবেন ৫ বছর পরে আপনি বেতন পান ২৫ হাজার টাকা, আর আপনার সহপাঠি বন্ধু বেসরকারী খাতে কাজ করে বেতন পান এক লক্ষ টাকার বেশী। অথচ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় সর্বোচ্চ মেধা দেখেই। পন্ডিত মশাইয়ের গল্পের কুকুরের কয় ঠেঙ্গের সমান - সেই প্রশ্ন আর না করি।

------------

তারপরেও একটা কথা বলে রাখি। যতদিন শিক্ষক ছিলাম, আমার কাজ আমি উপভোগ করেছি। বিশেষ করে, শিক্ষকের অবস্থান থেকে আমার স্টুডেন্টদের দেখে একসময় তাদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করার আনন্দ হয়ত আর কিছুতে পাওয়া যেত না। আর আমার সহকর্মীরা প্রায় সবাই আমার শিক্ষক ছিলেন, তাদের সাথে কাজ করার আনন্দও মনে রাখার মতই।
২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আপনারা হিসাব নিকেশ করেন।দেখি শেষে কি দাঁড়ায়।

৯. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৪২
মৌ-মাছি বলেছেন: @হাসান শহীদ ফেরদৌস, আপনি কিছু দিন আগে আপনার বিভাগে ফিরে যাওয়া শিক্ষক (আপনি যেই দেশে আছেন সেখান থেকে ফেরৎ যাওয়া কাউকেও করতে পারেন) সাহেবদেরকে মেইল করুন, ৪ বছরের প্রভাষক হিসাবে পাওয়া বেতনের পরিমানটি জানতে পারবেন। আর সহকারী অধ্যাপক হিসাবে পাওয়া বেতন তো আরো বেশী। আর চার বছরে কতটাকা জমানো সম্ভব, তা জানতে আপনার বিভাগেই আরো উপরের দিকে কানাডা, জাপান, যুক্তরাজ্য, বা অস্ট্রলিয়া থেকে ফেরৎ কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমি সঠিক পরিমান জেনে কথা বলছি। আর আপনি বাসা ভাড়া ৪৫% যোগ করছেন না। আমি অনুমতি সাপেক্ষে নাম ও টাকার অংক উল্লেখ করে দিতে পারব। বুয়েট সম্পর্কে ভাল মন্দ অনেক কিছু জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

আপনার শেষ প্যারায় যে "ভাল লাগা" জাতীয় বিষয়ের কথা বলেছেন, আমাদের দেশে দরকার সেই রকম "ভাল লাগা" বোধ। আমার ধারনা লেখক সেই রকম কিছু একটার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।

@মেহেদী হাসান, আপনি প্রয়োজনের তালিকাটা যদি দেন তাহলে হয়ত প্রতুলতা নিয়ে কথা বলা যাবে। আমি যে অর্থের হিসাব দিয়েছি, সময়মত পড়াশোনা শেষ করে দেশ ফিরে যাওয়া ৯০-৯৫% বুয়েট শিক্ষকদের জন্য তা প্রযোজ্য। কে কত পেলে খুশি সেটা অবশ্য আমি বিচার করছি না এখানে।
১০. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৪০
আতিকুল হক বলেছেন: @মৌমাছি- খুব হিসাব দিলেন একজন শিক্ষক পাচ বছর পরে ২৫ লাখ টাকা নিয়া ফিরে (বেতন সহ)। ৮৪০০ টাকার স্কেলে (নতুন পেস্কেল না তার আগের টা) ৪ বছরে ৮ লক্ষ টাকা কেমনে মিলাইলেন বুঝলাম না। গল্পের গরু মনে হয় এমনেই গাছে উঠে। আর ৫ বছরে ১৫ লাখ টাকা জমানো অসম্ভব না। তবে এর জন্য যা করতে হবে তা হলো - বৌ-বাচ্চা থাকা যাবে না, ভুলেও এর মাঝখানে দেশে আসার নাম নেওয়া যাবে না, একলা বাসা নেওয়া যাবে না, গাড়ি বা কখনো সখ হইলেও কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না, প্রতি বেলায় চিকেনের ঠ্যাঙ খাইতে হবে, কাপড়-চোপড় বা সখ বইলা কিছু থাকতে পারবে না। এমন ভাবে চলতে পারলে অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু দেশের সবচেয়ে সেরা মেধার ছাত্রটার কি এমন ঠেকা পড়ছে যারে তারে এমনে টাকা জমাইতে হবে। যেখানে ফেরত আইসা সে বেতন পাবে ১৫-২০ হাজার টাকা।

এইবার একটু কমপেয়ার করি। দেশে আমরা থাকতে আমাদের স্টার্টিং স্যালারি ছিল ৩০ হাজার টাকা। বছরে ২০% ইনক্রিমেন্ট ধরলে বেতন হয় যথাক্রমে ৩০, ৩৬, ৪৩, ৫২, ৬২ হাজার টাকা। আর ৫ বছর পরে ৭৫ হাজার টাকা। গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টরে যেমন কিপটার মত চলতে বললেন তাতে তার মাসে খরচ হবে এভারেজ ৫-৭ হাজার টাকা। মোট খরচ ৪ লাখ টাকা। মোট আয় প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা। সেভিংস ২৩ লক্ষ টাকা।

এরপরে, ৫ বছর পরে একজনের বেতন হবে ১৫ হাজার, আর একজনের ৭৫। চরম মোটিভেটিং প্যাকেজ। একটা কথা কই। জ্ঞানার্জন যতই মূল্যবান কাজ হোক, আমেরিকায় রিসার্চ হয় টাকার জন্যই। প্রফেসরদের কাজ করতে হইলে পয়সা সেই রকম দিতে হবে। নাইলে মাছ/গাছের কনসালটেন্সি থামবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের জন্য আলাদা পে স্কেল দরকার এইটা বুঝেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যারা দেশের সবচেয়ে মেধাবি তাদের দরকার নাই এমনটা ভাবেন কেমনে।
২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: ৫ বছর পর দেশে ফিরে কেউ যখন দেখে তার বন্ধু প্রাইভেট ফার্মে তার চেয়ে ৩ গুন স্যালারি পাচ্ছে, সেটা মেনে নেয়া কষ্টকর হয়। বেতন বাড়ালে শিক্ষকের এই মনের কষ্ট কমবে।স্বচ্ছলতা আসবে। তবে যে সমস্যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি সেটার আশানুরূপ সমাধান হবে কিনা আমি সন্দিহান। এই ব্যাপারে ২নং কমেন্টে কিছু বলার চেষ্টা করেছি। একটু যদি ঘুরে আসতেন।

১১. ২০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৯:১৩
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: @মৌমাছিঃ আপনি কিছু দিন আগে আপনার বিভাগে ফিরে যাওয়া শিক্ষক (আপনি যেই দেশে আছেন সেখান থেকে ফেরৎ যাওয়া কাউকেও করতে পারেন) সাহেবদেরকে মেইল করুন, ৪ বছরের প্রভাষক হিসাবে পাওয়া বেতনের পরিমানটি জানতে পারবেন।

আমার সাথে এখানে অধ্যয়নরত প্রভাষক আছেন, তাদেরকে আমি জিজ্ঞেস করব।

আর চার বছরে কতটাকা জমানো সম্ভব, তা জানতে আপনার বিভাগেই আরো উপরের দিকে কানাডা, জাপান, যুক্তরাজ্য, বা অস্ট্রলিয়া থেকে ফেরৎ কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

এ ব্যাপারে আমার নিজের অভিজ্ঞতাই কি যথেষ্ট নয়। অস্ট্রেলিয়াতে ফুল ফান্ডিং নিয়ে এসেও আপনি যদি মোটামুটি ডিসেন্ট একটা লাইফ কাটান (বাংলাদেশী হিসেবে, অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে নয়), তবে বছর শেষে খুব বেশী সেভিংস থাকে না - এটা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই আপনাকে বলতে পারি। আসলে কোন দেশেই স্কলারশিপ এমনভাবে দেয়া হয় না যে আপনি টাকা জমাবেন। বরং এমনভাবে দেয়া হয় যেন খাওয়া-পড়া নিয়ে ভাবতে না হয়।

আমার মূল পয়েন্টটাই আপনি এড়িয়ে গেছেন। আমি বলতে চেয়েছি, যোগ্যতার তুলনায় যখন পারিশ্রমিক কম, তখন আপনি ভাল সার্ভিস আশা করতে পারেন না। তারপরেও অনেকে আছেন যারা খেটেখুটে পড়ান, তাদেরকে সাধুবাদ দেই।
১২. ২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৩:৩৪
মৌ-মাছি বলেছেন: @আতিকুল হক, @হাসান শহীদ ফেরদৌস

একজন দুইবছরের অভিজ্ঞ প্রভাষকের জন্য মোটামুটি নীচের হিসাব দেখুন। দুইবছরের আগে শিক্ষাছুটি নিম্নরূপঃ

প্রভাষক হিসাবে শুরুর মুল বেতনঃ ৮৪০০
বার্ষিক বৃদ্ধিঃ ৪০০ (প্রতিবছর ২০০)
মাসিক মুল বেতন ৮৮০০ (শুরুর বেতন ও বৃদ্ধি)
বাড়ি ভাড়াঃ ৩৯৬০ (মুল বেতন ৮৮০০ এর ৪৫%)
চিকিৎসা ভাতাঃ ১০০০
মাসিক মোট বেতনঃ ১৩৭৬০ (মুলবেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা)
৪৮ মাসের বেতন = ৬৬০৪৮০
বোনাস =
১৩. ২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৩:৫৬
মৌ-মাছি বলেছেন: দুঃখিত উপরের অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোষ্ট হয়ে যাওয়ায়।

বোনাস = ৭০৪০০ (প্রতিবছর দুটি করে ঈদে একমাসের করে মোট ৮ মাসের মুল বেতন)

ছুটির ২য় বছরের মুল বেতন বৃদ্ধি ২০০ টাকা। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ২০০ এর ৪৫% = ৯০ টাকা। বোনাস বৃদ্ধি ২০০ টাকা। সুতরাং ২য়, ৩য়, ৪র্থ বছরের মোট প্রাপ্তি ১ম বছরের চেয়ে যথাক্রমে ২৮৯০, ৫৭৮০, ৮৬৭০। মোট= ১৭৩৪০।

কাজেই ৪ বছরের মোট প্রাপ্তিঃ ৭৪৮২২০ (৪৮মাসের এক ভাবে বেতন, বোনাস, ছুটিকালীন প্রতিবছর বৃদ্ধি ধরে)।

আমি যার কথা মাথায় রেখে হিসাব দিয়ে ছিলাম সে তিন কি চার প্রভাষক হিসাবে থাকার পরে বিদেশ গিয়ে ছিলঃ কাজেই শুরু থেকে আরো ১ বা ২ টি বার্ষিক বৃদ্ধি যোগ করুন। অংকটা ৮ লাখের কাছে যাবে।

পরিশেষে বলি আপনাদের এই হিসাব মেনে না নেয়ার কথা শুনে আমি আবার নতুন করে খোঁজ নিয়েছি, হাসান শহীদ সাহেব আপনার বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ২০০৯ এর শুরুতে কেউ একজন প্রভাষক ফিরে গেছেন, তিনি পেয়েছেন ৮লাখ টাকা। এর পরেও সন্দেহ থাকলে যোগাযোগ করে জেনে নিন।

হল জীবনে আমার যেখানে খরচ হত ১২০০-১৫০০ টাকা আমি দেখতাম অনেকের ৩০০০ টাকার কম দিয়ে চলত না। আমাদেরকে ধরতে হবে একটি গ্রহনযোগ্য হিসাব। কতটাকা জমানো যায় বিদেশে পড়া কালীন সময়ে তার নজির দিতে (আমি আবারও খোঁজ নিলাম) আমি বলব আমি ৭ জনের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েছিঃ ১ জনের ১২লাখ, ১ জনের ১৮ লাখ বাঁকীদের ১৫ লাখের এপাশ ওপাশে। আমার পক্ষে সংগত কারনেই নাম দেয়া সম্ভব না। তবে আপনি বুয়েটে গিয়ে বিভিন্ন বিভাগের (কম্পিউটার বিভাগেও, যেহেতু আপনারা ঐবিভাগের মনে হচ্ছে) ফিরে আসা শিক্ষকদের খবর নিন।






১৪. ২১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৩:৫৯
মৌ-মাছি বলেছেন: @লেখক, আপনি রাগিব সাহেবের মন্তব্যের জবাবে যা বলেছেন। আমি এর চেয়ে ভাল করে বলতে পারতাম না। আমি শুধু ভাবছি আপনি কি আমার ক্লোন নাকি। আমি যা যা বলতে চাই, যেখানে যেখানে আঘাত করতে চাই, আপনি ঠিক তাই করছেন। চালিয়ে যান। সাথে আছি।
২৪ শে মার্চ, ২০১০ রাত ২:০৭

লেখক বলেছেন: আসলে ব্লগ মানে সকলের অংশগ্রহন ও মতামতের মধ্য দিয়ে বন্ধুসুলভ পরিবেশে আলোচনা এগিয়ে যাবে এভাবে ভাবতেই আমি অভ্যস্ত। আপনিও নিশ্চয় এরকমটিই ভাবেন। সঙ্গে থাকবেন।

১৫. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:০৮
রাগিব বলেছেন: @মৌ-মাছি,

শিক্ষা ছুটির সময়ে কি বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়? আমি কৌতুহলী এই ব্যাপারে।

আর ইনকাম ট্যাক্স বাদ দিতে ভুলে গেছেন। কত শতাংশ তা জানি না, তবে সেটা তো বাদ যাবে হিসাব থেকে।

আপনার এই হিসাবে এই বিষয়গুলোও যোগ করুন,

- বছরে ১ বার দেশে যাবার প্লেন ভাড়া (-১ লাখ টাকা/মাথাপিছু) = -২ লাখ (বিয়ে করে থাকলে)

- দেশে থেকে যাওয়া পোষ্যদের খরচ। অনেক পরিচিত শিক্ষককে দেখেছি, দেশের পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন, কারণ তারাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পরিবারে।

- বিদেশে থাকা কালীন খরচ। কারণ গ্র্যাড স্টুডেন্টের একার বেতনে কারো ১৫ হাজার ডলার ৪ বছরে সেভিংস হয়েছে আমেরিকাতে বৌ/পরিবার সহ থেকে, দেখাতে পারলে প্রচন্ড অবাক হবো, কারণ এখানে গ্র্যাড স্টুডেন্টের যা বেতন, তাতে মাস শেষে হাতে কিছু থাকার কথা না। তার উপরে চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ। ফলে অন্তত আমেরিকাতে যারা আসে, তাদের কারো কয়েক হাজার ডলারও সঞ্চয় আজ পর্যন্ত দেখিনি, যেমনটা দাবী করছেন। বছর চারেক ধরে দিনে ১ বেলা গাজর খেয়ে থাকলে অবশ্য অন্য কথা (চীনারা অনেকে এমন করে বলে গুজব আছে)। কিন্তু ন্যুনতম বেঁচে থাকার টাকা ছাড়া গ্র্যাড স্টুডেন্টদের বেতনে এই পরিমাণ টাকা জমানো অসম্ভব।

কাজেই সরল অংকের হিসাব করতে গেলে অনেক ফাঁক বেরুবেই।
১৬. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:১৩
রাগিব বলেছেন: @লেখক

#২ মন্তব্যে আপনার জবাবটা মানছি। আসলে বেতন এমনি এমনি বাড়ানোর কথা বলছি না, পরিমাপযোগ্য গবেষনা ফলাফলের ভিত্তিতে বাড়াবার কথা বলছি। পাকিস্তানে যেটা করেছে, হাইয়ার এডুকেশনের রিসার্চ ট্র্যাক একটা করা হয়েছে, যাতে কেবল রিসার্চের ফলাফল ভালো থাকলেই তবেই ভালো বেতন দেয়া হয়।

স্বভাবতই ঐ ট্র্যাকে যেতে হলে খ্যাপ মেরে সময় ব্যয় করে কাজ হবে না। পুরা ব্যাপারটাকে কার্যক্ষমতা = বেতন, এরকম করে দেখা দরকার।

২৪ শে মার্চ, ২০১০ রাত ২:১৮

লেখক বলেছেন: পাকিস্তানে আমাদের মতই ইউ,জি,সি বর্তমান ছিল। পারভেজ মোশাররফ আসার পর সেটাকে হায়ার এডুকেশন কমিশন(এইচ,ই,সি) নাম দিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন সাধন করেন। উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে রিসার্চমুখী করে তোলা। পরিবর্তনের অংশ হিসাবে হার্ভাড, অক্সফোর্ড থেকে উচ্চ বেতনে পি,এইচ,ডি এনে এডুকেশন কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়।তাদের কাজ হয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে নানামুখি রিসার্চ কর্মকান্ডে কিভাবে সুম্পৃক্ত করা যায় তা নিয়ে পলিসি তৈরী ও সেগুলি বাস্তবায়ন।এরা দেশের বাইরে বিভিন্ন ভার্সিটির সঙ্গে লিঙ্কেজ প্রোগাম চালু করে।যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেশের বাইরে হায়ার-এডুকেশনও অনেকটা সহজ হয়ে আসে। উদ্দেশ্য বিদেশী ডিগ্রী ঘরে নিয়ে আসা।ধরে নেয়া হয় বিদেশ ফেরত ব্যক্তি গবেষনা ছাড়া স্থির থাকতে পারবেননা।। শিক্ষকদের বেতন বাড়ে যাতে সে তার পূর্ন মানসিক শক্তি গবেষনায় দিতে পারে।রিসার্চ এক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য এইচ,ই,সি থেকে বছর বছর রিসার্চ প্রজেক্টের জন্য দরখাস্ত আহব্বান করা হয়। এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ন ব্যপার, শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে তার চলতি রিসার্চ কর্মকান্ডের ছোঁয়া লাগে।

কিন্তু শেষমেষ যত গর্জন তত বর্ষন হয়নি। উচ্চবেতন শিক্ষকের স্বচ্ছলতা আর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এতটুকুই। এতো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য যেখানে, মানে রিসার্চের উত্তোরোত্তর উন্নতি, সেখানে আশানুরূপ কিছু পাওয়া যায়নি। বাঁধা চাকরী আর ভালো বেতন, কি হবে ওইসব গবেষনা করে। হ্যাঁ বেতন গ্রেডে একটা প্রভাব আছে বটে। যার রিসার্চের আমলনামা ভাল তার স্যালারিটাও কিছুটা স্বাস্থ্যবান। কিন্তু সে আর কতটুকু। প্রাইভেট ভার্সিটিতে দুইটা ক্লাস নিলে সেই গ্যাপটুকু টপকায় যাওয়া যায়। এমনকি লিঙ্কেজ প্রোগ্রামে বিনা স্ট্রাগলে ডিগ্রী লাভের বিরল সৌভাগ্য যাদের হয়েছে তারাও তাদের অতীতটা গোপন করেন।

একটু বাকি থেকে গেল।যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ করবেন তিনি অন্য আর সকল ব্যক্তি,মানে যারা গবেষনার লাইনে হাঁটেবেননা তাদের থেকে ঠিক কি পরিমান অর্থ বেশী পাবেন? সরকারী নীতিমালার আলোকে যদি এটা নির্ধারিত হয় তবে এটা সুনিশ্চিত খুব বড় মাপের কোন তফাৎ হবেনা। এখানে একটা জিনিস ভেবে দেখতে হবে, সরকার যে রিসার্চের জন্য বড়ো মাপের অর্থ খরচ করবে সেখানে তার একটা উদ্দেশ্য কিংবা একটা লাভ থাকতে হবে।সরকার মানে দাতব্য চিকিৎসালয়ের মতো কোন অর্গানাইজেশন না এটা আমরা সকলেই বুঝি। শুধু রিসার্চের জন্য রিসার্চ হতে পারেনা। রিসার্চের ফলাফলটা কাজে লাগিয়ে কোন বৈষয়িক প্রাপ্তির বন্দোবস্ত থাকতে হবে কিংবা সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার একটা ব্যাপার থাকতে হবে।তা না হলে উদ্দেশ্যবিহীন গবেষনার পিছনে সরকারের বড় অর্থলগ্নির প্রশ্ন আসেনা। আর তাই বাংলাদেশের ইউ,জি,সি বলেন আর পাকিস্তানের এইচ,ই,সি বলেন সঙ্গত কারনেই এদের রিসার্চ প্রোজেক্টগুলি প্রোনোদনা টাইপের প্যাকেজ ছাড়া আর কিছু হবার কথা না।

সঙ্গে থাকবেন।অনেক ধন্যবাদ।

১৭. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৪:৩৫
মৌ-মাছি বলেছেন: @রাগিব সাহেব, বাড়িভাড়া পাওয়া যায়। শিক্ষাছুটি পূর্নবেতনের ছুটি।

সরকারী কাঠামোর বেতনের এই পর্যায়ে আয়কর দিতে হয় না। এটা আয়কর সীমার নীচে থাকে। উপরের দিকে আরো বেশী বেতনে দিতে হয় কিনা আমি নিশ্চিত না। তবে অনেক ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দিতে হয়, যাতে প্রায়শঃই বলা হয় সরকারী বেতনের আয়কর সরকার নিজেরই দিয়ে দিয়েছে -- এই জাতীয় কথা।

আপনি যাদের কথা বলছেন তাদের অনেকেই এই কারনে দেশে ফিরে না। প্রত্যেকের জীবনের হিসাব একরকম নয়। যারা ফিরে তাদের অনেকের হিসাব আলাদা। যারা ফিরে এসেছে তাদের কাছে থেকে পাওয়া বাস্তব হিসাব কি আপনি উপেক্ষা করতে চাইছেন? আপনি বুয়েটে আপনার বিভাগে ফিরে যাওয়া জাপান, কানাডা, ও যুক্তরাজ্য ফেরৎ দের জিজ্ঞেস করুন। তারা সপরিবারেই বিদেশে ছিলেন। আর যাদের পোষ্য আছে তারা যে বিলাসী জীবন যাপন করেন না। আর এসব বিষয়ে আমার নিজেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে (পোষ্য সহ একবার দেশে যাওয়া সহ)। কিন্তু আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতা বিচার করতে চাই না।

যত হিসাবই ধরুন না কেন বুয়েটে *সময় মত* উচ্চ শিক্ষা শেষে ফিরে আসা ৮০% এর হাতে বেতনের ৮--১০লাখ টাকা আর জমানো ১২--১৫ লাখ টাকা থাকে। কাজেই তারা শুরু করে ২০--২৫ লাখ টাকা সঞ্চয় নিয়ে। অংকটা আরো কিছু কম ধরলেও এটা ১৫ লাখের কম নয়। আর এটা বর্তমান বেতন বৃদ্ধির আগের হিসাব। আমি এই তথ্যের ভুল করার জন্য

উপরে উপরের ধারনা আর বাস্তবের হিসাব সবসময় একরকম যায় না।
১৮. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:৫৯
মৌ-মাছি বলেছেন: @হাসান শহীদ ফেরদৌসঃ

"আমার মূল পয়েন্টটাই আপনি এড়িয়ে গেছেন। আমি বলতে চেয়েছি, যোগ্যতার তুলনায় যখন পারিশ্রমিক কম, তখন আপনি ভাল সার্ভিস আশা করতে পারেন না। তারপরেও অনেকে আছেন যারা খেটেখুটে পড়ান, তাদেরকে সাধুবাদ দেই।"

আপনার মুল পয়েন্টে আমি একমত। বেতন বাড়ানো দরকার। অন্যান্য পেশা সাপেক্ষেও বাড়ানো দরকার। অন্যান্য দেশ সাপেক্ষেও বাড়ানো দরকার। বুয়েটের জন্যও আলাদা করে সম্ভবত বেশী বেতন রাখা দরকার।

আমার বক্তব্যের মুল বিষয় হলঃ কাজ করার জন্য এগুলি অজুহাত নয়। লোকে শুধু টিকে থাকার জন্য অন্য কাজ করছে তা না। গবেষনা করার জন্য মানসিকতা দরকার। কেউ আছে কর্মী গবেষক, যারা বেতন দিলে কাজ করে। গবেষনা নয় এরা আসলে চাকুরী করে। আমাদের দেশে বর্তমান অবস্থায় বা বুয়েটে চাকুরে গবেষক নয় দরকার সত্যিকারের গবেষক যারা মন থেকে ভাল বেসে কাজ করবে। বুয়েটের মত জায়গায় এত মেধাবীদের ভীড়ে এটি বেশী হওয়া উচিৎ ছিল কিন্তু তা নেই। সবাই চায় চাকুরী করতে, উত্তরায় প্লট পেতে, হলুদ চোথা দিয়ে প্রস্তুতি ছাড়া ক্লাস নিতে, টি-ক্লাবে আড্ডা দিতে, বাইরে ক্লাস নিয়ে টাকা কামাতে (যেটি টিকে থাকার চেয়েও বড় দরকার সঞ্চয় বাড়ানোর জন্য)। "গবেষক নয় চাকুরে" -- এটি হল এখানে মুল বিষয়।
১৯. ২১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:৫৩
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: আমার মনে হয় ইদানিং সরকারী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়লোতে অহরহই পরিবর্তন হয় সিলেবাসের। ধরা যাক আমাদের ৪র্থ বর্ষে কোনো একটা সাবজেক্ট পড়বার সময় স্যার ক্লাসে এসে অনেক কিছু ছেটে অনেক ঢুকিয়ে দিতো। তবে আমরা সিলেবাস নিয়ে খুব একটা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি নাই, কারন আমাদের প্রথম থেকে ১০ পর্যন্ত কেউ হায়ার স্টাডিজ নিয়ে বাইরে পড়তে যায়নি। সবাই দেশে বেশ ভালো ভালো পজিশনে আছে। আমাদের ক্লাসের হাতে গোনা চার পাচ জন বাইরে পড়তে এসেছি আর বাকি ১০-১৫ জন জবে আছে, আর বেকার জানা মতে এখন যারা দুএক জন আছে তারা ভালো পজিশেনর অপেক্ষায় আছে তবে হাতে গোনা খুব কম। আর নতুন ব্যাচগুলোর অবস্হা তেমন বলতে না পারলেও একটা কথা খুব ভালোভাবেই বলা যায় যেখানে নর্থসাউথের একজন লেকচারার হাজার পচিশের উপরে পায় সাথে আরো সুযোগ সুবিধা সেখানে সরকারিতে কত পায়? তবে এটা ঠিক সরকারিগুলোতে থাকা খাওয়া বাবদ বেশ সুযোগ সুবিদঃা সেখানে তারই ক্লাস মেট যখন টেলিকম বা অন্যকোনো মাল্টিন্যাশনালে ঢুকে গাড়ি হাকায় তখন মনে হয় অন্যরকম চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক।
তবে ইদানিং স্কলারশীপের ব্যাপারটা কেউ খুব একটা গরজ দেয় না মনে হয় তা নইলে আমাদের ব্যাচের সব গুলো হাই গ্রেডের পুলাপান এই জিনিসটার পিছনে না ছুটে .........

তবে হতাশার তেমন কিছু দেখি না, শুধু সরকারের ই যা করার করতে হবে। নতুন কিছু করতে হলেই বাইরে থেকে আনতে হবে এই মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে বিশ্বাবিদ্যালয়গুলোতে রিসার্চবাবদ কিছু ব্যায় করলে আর ভালো গ্রেডের পুলাপান যাতে করে অন্যকোনো চাহিদার কাছে মাথা নত না হয় সে ব্যাবস্হা করা আর যেসব কোম্পানী গবেষনায় অর্থায়ন করবে তাদের জন্য প্যাকেজ সুবিধা দেয়া কারন বাংলাদেশে গবেষনা পর্যায়ে সরকারি বা বেসরকারী অর্থায়ন খুব অল্প!
২৮ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আলোচনায় অংশগ্রহনের জন্য। উপরে ২,৩ ও ১৬ নং কমেন্ট এ কিছু বলার চেষ্টা করেছি, যেটা আপনার এই কমেন্ট এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। যদি একটু ঘুরে আসতেন।

২০. ২১ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ৭:২৫
পারভেজ আলম বলেছেন: খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা। প্রিয়তে নিলাম।
২৮ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৯:০৬

লেখক বলেছেন: ভাল লাগল। সাথে আপনার কিছু মতামত পেলে আরও ভাল লাগত।

২১. ২১ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৪৩
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: কাজ করার জন্য এগুলি অজুহাত নয়। লোকে শুধু টিকে থাকার জন্য অন্য কাজ করছে তা না। গবেষনা করার জন্য মানসিকতা দরকার। কেউ আছে কর্মী গবেষক, যারা বেতন দিলে কাজ করে। গবেষনা নয় এরা আসলে চাকুরী করে। আমাদের দেশে বর্তমান অবস্থায় বা বুয়েটে চাকুরে গবেষক নয় দরকার সত্যিকারের গবেষক যারা মন থেকে ভাল বেসে কাজ করবে

------------

কেন জানি একটু হাসি পেল। গবেষনা করা আনন্দের কাজ, কিন্তু অর্থনৈতিক দিকটি কি এড়ানো যায়?? একটু ভাল মত দেখেন তো, গত ৫০ বছরে যে কয়টা বিজ্ঞানে যে কয়টা নোবেল প্রাইজ এসেছে তা কোথাকার গবেষকরা পেয়েছেন? দেখবেন প্রায় সবগুলো এসেছে বিখ্যাত সব ইউনিভার্সিটি আর গবেষনাগার থেকে। সেখানে যে পারিশ্রমিক দেয়া হয়, সেটা কি অনুপ্রেরনা যোগায় না?

সবাই টাকা চায়, গবেষকরা ব্যাতিক্রম হবে কেন? আর সেটা দোষনীয়ই হবে কেন?
২২. ২১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৬
মৌ-মাছি বলেছেন: @হাসান শহীদ ফেরদৌসঃ

হাসি পাওয়ারই কথা। টাকা দিলে গবেষনা হতে পারে, আবার গবেষনা করলে টাকা আসতে পারে। ঠিক যেমন খাওয়ার জন্য জীবন আবার জীবনের জন্য খাওয়া। কে কোনটাকে ১ আর কোনটাকে ২ ভাবছে সেটাই বিষয়। নোবেল আলাদেরকে এখানে টেনে এনে লাভ নেই। গবেষনা করার জিনিসটা ভিতর থেকে আসতে হবে। যারা টাকাকে ১ ভাবে তাদের অজুহাতের অভাব নেই। আগে টাকা দিন তাহলে কাজ করবে তারা। আর যারা গবেষনা কে ১ ভাবে তারা কাজটা নিজে থেকে ঠিকই করে, আর শেষকালে অর্থটা পেয়েই যায় বোনাস হিসাবে।

পড়াশোনা শেষ করুন দেখা যাক আপনি কোনটাকে ১ ভাবেন। উপরের সুর তো বলে টাকাকেই ১ ভাববেন। বুয়েটের কতজন এমনকি যারা বাইরে আছে তাদের শতকরা কতজন গবেষনার সাথে শেষ পর্যন্ত লেগে আছে? একটু খেয়াল করে দেখুন সংখ্যাটা হতাশাব্যঞ্জক।

২৩. ২১ শে মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩২
আতিকুল হক বলেছেন: @মৌমাছি - এখন টেকনোলজির গবেষনা কেমনে হয়, সেই ব্যপারে কোন আইডিয়া কি আপনার আছে? আমার মনে হয় না। গবেষনা করতে টাকা লাগেই। গবেষনাকে প্রফেশন হিসেবে নেওয়ার সুযোগ না থাকলে গবেষনায় ভালো ফল আসবে না। বাংলাদেশে সরকারি ভার্সিটির যা বেতন, তাতে গবেষনাকে প্রফেশন হিসেবে নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।

রিসার্চের কিছু মিনিমাম খরচ আছে। একজন প্রফেসর একলা রিসার্চ করতে পারেন না। বুয়েটের আন্ডারগ্র্যাডের ছাত্রদের কোয়ালিটি খুব ভালো সেজন্য তারাও কিছু পেপার করে, কিন্তু সত্যিকার কাজের রিসার্চ করতে ফুলটাইম গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট দরকার। রিসার্চে পয়সা না দিলে এইটা পাওয়া সম্ভব না। বিশেষত কম্পিউটার সায়েন্সের জন্য ভালো কনফারেন্সগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা কনফারেন্সে পেপার রেজিস্ট্রেশন করতে কয়েকশ ডলার লাগে, যেটা বাংলাদেশে প্রফেসরের মাসিক বেতনের চেয়ে বেশি। বুয়েট টাকা দেয় তিন বছরে একবার। প্রফেসর কি পকেটের পয়সা দিয়ে পেপার পাবলিশ করবে।

তার চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে রিসার্চ কইরা পয়সা কামানোর সুযোগ না থাকা। সরকার কোন রিসার্চ লেভেল প্রবলেম নিয়া ভার্সিটির কাছে যায় না বা সরকার ঐ ধরনের রিসার্চ ফান্ডিংয়ের কোন স্কিমই নাই। প্রাইভেট কোম্পানিগুলা তো রিসার্চই করে না। সব গবেষনা বিদেশ থেইকা হইয়া আসবে। এমন অবস্হা চলতে থাকলে, রিসার্চ কইরা পয়সা কামানোর ব্যবস্হা তৈরী না হইলে কোন ভবিষ্যত নাই।

এখন দেশে সর্বোচ্চ যেই পর্যায়ের রিসার্চ সম্ভব তা হইলো, প্রমোশনের জন্য যেইটুকু রিসার্চ লাগে, আন্ডারগ্র্যাডের পোলাপাইনের ভালো এডমিশনের জন্য যা লাগে সেইটুকুই। সেইটা দেশের কোন কাজে লাগবে না।
২৪. ২২ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৩০
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: টাকা দিলে গবেষনা হতে পারে, আবার গবেষনা করলে টাকা আসতে পারে। ঠিক যেমন খাওয়ার জন্য জীবন আবার জীবনের জন্য খাওয়া

------------

বাংলাদেশে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা নিয়ে আপনার যদি এই ধারনা হয়ে থাকে, তবে আমার শুধু এটাই বলার আছে, আমি আপনার সাথে একমত নই।

শিক্ষকদের শুধু সমালোচনা না করে বরং তাদের সীমাবদ্ধতাগুলো দেখুন। শিক্ষকরা এ সমাজের বাইরের কেউ নয়।
২৫. ২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১:০১
মনির হাসান বলেছেন: দুর্দান্ত লিখেছেন ...
২৮ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৯:১১

লেখক বলেছেন: ফাঁকি দিলেন ।সাথে আপনার মতামত বা বিষয়বস্তুর ব্যবচ্ছেদ থাকলে ভালো জমতো। সঙ্গে থাকবেন।

২৬. ২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৩:০১
মৌ-মাছি বলেছেন: একটা জিনিস খেয়াল করছি, যা অন্য একশ জন বলতে পারে সেই কথা বলছি না বলে উপরে অনেকেই আমাকে এক হাত নেয়ার চেষ্টা করছেন। টাকা দিলে রাঁধা নাচবে, একথা তো রাস্তার লোকও বলতে পারে -- গরীব দেশে এই পরামর্শ শোনার জন্য আমি রাস্তার লোকের কাছেই যাব। হুবহু সেই কথা আমি গবেষনা সম্পর্কে ধারনা আছে এই রকম লোকদের কাছে থেকে শুনতে চাই না। আপনারা বাস্তব চিত্র অনুযায়ী কারন অনুসন্ধান করুন, আর তার সমাধান কল্পে কি করা দরকার সেটা নিয়ে ভাবুন। আমরা বিভিন্ন আঙ্গিকে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করছি, আর সে সবের সুবিধা অসুবিধা, ভাল মন্দ নিয়ে কথা বলছি। এখানে একে অন্যকে এক হাত নেয়ার তো কিছু নেই, ব্যক্তিগত হারজিতের কোন ব্যাপার নেই, ব্যক্তিগত অহমিকা দেখানোর বিষয়ও নেই। আমাদের তাই নিজের ভিতরের উত্তেজনা কমানো দরকার। শেখ সাদীর পোশাক (পরিচয়, ডিগ্রী, পেশা) আমি গায়ে দিয়ে এখানে কথা বলছি না বলে আমার ধারনা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতাকে নীচে নামিয়ে দিয়ে কথা বললে উত্তেজনার প্রকাশ ঘটতে পারে, কিন্তু বিজয়ী হওয়াও কঠিন হবে, আর আসল সমস্যার স্বরূপ বিশ্লেষন বা সমাধান খোঁজারও কিছু হবে না। তাই চলুন, আবেগ, হারজিত বাদ থাক, সৌহার্দ্য সম্মান বোধ বজায় রেখে মুল বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।
২৭. ২৩ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৩:২৮
মৌ-মাছি বলেছেন: কিছু সম্পুরক তথ্যঃ
১। বুয়েটের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে গাজীপুরের দিকে জায়গা কেনা হয়েছে। অনেকেরই রাজউকের মাধ্যমে উত্তরায় প্লট আছে। আর একটা জরিপে দেখা যাচ্ছে রাজউকের গত উত্তরা পূর্বাচলে বুয়েটের মোট বিদেশ ফেরৎ শিক্ষকদের প্রায় ৪০-৫০% প্লটের জন্য আবেদন করেছেন। তাছাড়া একটু উপরের দিকের বুয়েট শিক্ষকদের কেনা গাড়ি গুলোর দাম লক্ষ করলে আমরা দেখব এগুলো ১৪-২৫ লাখ পর্যন্ত।

২। আমরা যদি রাজউকের প্লটের আবেদনের সেই সময়টাকে দেখি। ২০০৮ এর শেষ থেকে ২০০৯ এর শুরুর দিকে। ঐসময় প্রায় তিন মাস বুয়েটে ক্লাস ছিল না। শিক্ষকরা কি করত সেই সময়, বেতন তো পেতোই? বিভিন্নকাজে আমার সেই সময় বুয়েটে বিচরন করা হয়েছিল। অনেকের কাছে বাড়িয়ে বলা মনে হতে পারে, বুয়েটের শিক্ষকদের মধ্যে তখন রাজউকের প্লটের আবেদনের উৎসব চলছিল। দুজন শিক্ষক দেখা হলেই কথা বার্তা হত কোন ব্যাংক কোন পোষ্ট অফিসে পে অর্ডার পাওয়া যাবে, কোথায় কত বড় লাইন, কোন লাইনে দাঁড়িয়ে কে কত ঘন্টা নষ্ট করেছেন, কেন তারিখ আবার পিছানো হল, আবেদন করে ১ লাখ টাকা আটকিয়ে রাখা ঠিক হবে নাকি ব্যাংকে একবছর জমা রাখলেই বেশী লাভ হবে, কয় কাঠার জন্য আবেদন করলে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী, বুয়েট শিক্ষক হিসাবে আবেদনও কোন ক্ষেত্রে বেশী কার্যকর হবে -- ইত্যাদি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষনা। বুয়েটের শিক্ষকদের অধিকাংশ সেই সময় এই বিষয়ে গবেষনাই করছিল। তাদের আর কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল বলে বুয়েট অঙ্গনে গেলে আমার মনে হয়নি।

আরও কিছু বিষয় আনতে হবে কি ভাবে আমাদের শিক্ষক সমাজের সময় কাটে, তাদের চিন্তাধারায় কোন ধরনের বিষয় বেশী আনাগোনা করে। পরে কোন এক সময়। তাছাড়া আতিকুল হক সাহেব কিছু বিষয় বলেছেন। সে বিষয়েও পরে বলব।
২৮. ২৪ শে মার্চ, ২০১০ রাত ২:২৫
সিউল রায়হান বলেছেন: @ আতিকুল হক:

আমি এখানে পাবলিকেশনে স্টুডেন্ট পার্টিসিপেশন নিয়ে বলব...... "বুয়েট টাকা দেয় তিন বছরে একবার" কথাটা পুরো ঠিক না, শিক্ষকরা প্রতিবছরই একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা পান

তবে স্টুডেন্টরা কোনই আর্থিক সাহায্য পায় না....... বাইরের দেশে কোন কনফারেন্স হলে অলমোস্ট ৪০০ ডলার লাগে রেজিস্ট্রেশন করতেই, এরসাথে যাওয়া-আসা-থাকা-খাওয়া আছেই......

খুব কম স্টুডেন্টের ক্ষমতা আছে এত টাকা নিজেই ম্যানেজ করতে পারে..... বুয়েট আমাদের সাহায্য করলেও কয়জনকে আর সাহায্য করবে........ আমরা এটা বুঝি কিন্তু নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতাকেও কাঁটানোর ক্ষমতা নাই, তাইনা ???


আমাদের জন্যে তাই আই.সি.সি.আই.টি খুব ভাল একটা অপশন..... এবার বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থেকে একটা কনফারেন্স হল করার টাকা দেয়া হয়েছে...... ওটা হয়ে গেলে আশা করি রেগুলার বেসিসে কনফারেন্স হতে থাকবে আমাদের বুয়েটে এবং তখন স্টুডেন্ট পার্টিসিপেশন অনেক অনেক বাড়বে
২৯. ২৯ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:৩৩
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ভাই সবাই সবার কথা কইলো কিন্তু ঘটনার মূলে কেউ না গিয়া শা খা প্রশাখা উপশাখায় গিয়া কথা কইলো। আমি একয়ু অন্যভাবে ট্রাই কইরা আসি দেখেন আপনের লেখা আসলেই কতটা যৌক্তিক ভাবে পুরোপুরি ধরে নিতে পারি।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলা দেশে বনব্য বাংলাদেশ সরকার হাতে গোনা কয়েকটা পাটকল, পেপারমিল চিনিরকল স হ আরও কিছউ কোম্পানী পায়। যেগুলোর বেশিরভাগ আজকে এমন লাভ দিছে যে হয় কিছু লে আউট হইছে, কিছউ হইছে হ্যান্ড শেক আর কিছু নিয়া গেছে বেসরকারিতে। ধরেন এগুলা যদি গ্রামীন ফোনের মতো লাভ জনক হইতো তাইলে কি হইতো? সরকার এখান থিকা মেলা টাকা পাইতো। এইসব প্রতিষ্ঠানে মেলা ইন্জ্ঞিনিয়ার লাগতো বছর শেষ হইলে দেখা যাইটো টেকনোলজীর ডেভেলপমেন্ট লাগতো। তখন দেখা যাইতো এসব ইন্জ্ঞিনিয়ার দিয়া ট্রাই করতো না পারলে এরা রেফার করতো বিভিন্ন ভার্সিটির স্যারদের। তখন সরকার থিকা বলা হইতো সরকারিবিশ্বাবিদ্যালয়গুলাতে যে ব্যাপারটা সমাধান করো। তখন দেখা যাইটো এইসব নিয়া ভালো রিসার্চ হইতো। আজকাল ইউরোপ চীন, জাপানে কি হয়? এসব দেশে বেসরকারি পর্যায় ছাড়া সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রিসার্চের কাজ হয়। এসব দেশে একটা পলিসি আছে যেটা হলো পোস্ট এ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশান। তার মানে বিল্ডিং ভাইঙ্গা মানউষ মরনের আগে বিল্ডিং সারাই করো ত্রুটি খুইজা। সরকার এটা ভা´্সিটি অলাদের টাকা দিয়া করানোর সাহস পায় কারন সরকারের সেরম হ্যাডম আছে কারন তার প্রতিটা টাকার হিসাব তার কাছে আছে আর তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সরকারি প্রৈষ্ঠান অথবাট্যাক্স সবকিছুই সৎভাবে ব্যাব হার করা হয়।

আমাদের দেশে সেই সুযোগ নাই, আজকা যে চিনির কলের শ্রমিক হইয়া ঢুকে সে প্রথমে ধান্ধা করে একটার জায়গায় দুইটা কোয়ার্টার কেমনে লওন যায়? তারপর ধান্ধা থাকে কুসুরের চালান থিকা কেমনে চুরি করন যায়, তারপর যখন আরেকটু সিনিয়র হয় সরাসরি হাত দেয় গোডাউনে, তারপর শ্রমিক সংগঠনের সভাবপতি হিসাবে খাড়ানের লিগা লোকাল এমপি র পা চাটে। আর আমাদের দেশের রাজনীতিক এতই স্বার্থকেন্দ্রিক যে তারা নিজেদের মেজাজ মর্জি বা নিজের পকেট ঠিক রাখনের জন্য তার অনুসারীদের রূপকথা শুনায় দিলেও সেইটা নিয়া তার অনুসারীরা পথে নামতে প্রস্তুত। এভাবেই একটা পুরা একটা জাতীকে নৈতিক অবক্ষয়েরনামানোর ঘোর প্রেচেস্টা স্বাধীনতার পরের থিকাই চলে আসছে।

তাও কপাল ভালোা পাবলিক গুলান এখন স্বায়ত্তশাসিত, নইলে তার আগে দেখা যাইটো অমুক সিন্ডিকেট, তমুক মন্ত্রনালয়ের কাছে ফাইল আটকা। আমাগো ভার্সিটিতে খনি বিষয়ক একটা অনুষদ খুলবো সেই ফাইল খালি মন্তর্নালয়েই আটকা ছিলো ৪ বছরের মতো। যদি বিআইটি সিন্ডিকেট থাকতো তাইলে আল্লায় দিলে আরও ২ দুই বছর। এখন একটা উত্তর দেন যেই প্রåফেসর বা শিক্ষক বাইরে থিকা বা দেশের ঠিকা ডিগ্রি নিয়া স্যার হয় তার কি বয়স বাড়ে না? তার এত সময় আইডল বইসা থাকনের কি মানে আছে? মাথা এমুন এখটা জিনিস যেটা খাটাইতে হয় নাইলে এর উৎকর্ষ হয় না অনেকটা মুক্তবাজারের টাকার মতো। আইডল বসায় রাখলেই লস।
এর পর আসুক গবেষনা। সরকারের ট্যাকশালে টাকা যখন মń্ত্রীদের পাজেরো আরআরাম আয়েষের পিছনে ব্যায় হয় তখন দেখা যায় হাজার লোক কাঝীন হইয়া ঘুরে। আমাদের দেশে প্রাইভেট কারের হিউজ চাহিদা, আিটি ইকুইপমেন্ট, সেন্সর, সেমিকন্ডাক্টর এর হিউজ ব্যাব হার হয়। সেটা বাদ দেন, যদি ইন্ডিয়া বা অন্যান্য দেশের মতো সারা দেশে দ্রূত রেলওয়ে সিস্টেম করে ভাড়া খুবই মিনিমাম পর্যায়ে রাখা হইতো তাইলে কি হইতো?

আজকা সকাল বেলা যেই কৃষক তার ক্ষেত থিকা বেগুন উঠাইলো এক বস্তা সে কোনো আড়টদারের কাছে না যাইয়া সরাসরি ঢাকায় আসলো চট্টগ্রাম থিকা বা রংপুর থিকা ধরেন কৃষকের জন্য টিকিট ফি হইতো ১২০ টাকা। সে ঐ বেগুন সারা দিন বিক্ষি কইরা রাতে যখন বাসায় যাইতো তখন তার লাভ কতো থাকতো? এই জিনিসটা বিশ্ব ব্যাংকও কখনো কয় নাই, নেতারাও করেনাই। অথচ এই রেলওয়ে ঠিক করনের মতো টাকা বিভিন্ন জায়গায় আকামে কুকামে ফেলানো হয়।ধরেন এই রেলওয়ে যদি ঠিক হইটো তাইলে দেখা যাইটো এইখানে ডাব্লিউ এসন ইমপ্লিমেন্ট করনের জন্য ইলেক্ট্রনিক্ষ ইন্জ্ঞিনিয়ারদের ডাকা হইতো, ট্রাকিং সিস্টেম আর ভনেট এর জন্য আইটি আর সিকিউরিটি আর রিস্ক এ্যাসেসমেন্ট এনালাইসিস আর রেললাইনের আঢুনিকীরকরনের জন্য সিভিল আর ম্যাকা। রিসার্চ এক জায়গা দিয়াই উপচায় পড়তো।

সরকারের রোল গেলো এখন বলি বেসরকারি রোল। আমাদের দেশে অনেক দঃনকুবের আছে কারন বাজে পুজিবাদ দেশে বর্তমান। ঢাকার রাস্তায় আমি যেই কয়টা মাসল কার দেখছই তাতে বলার অপেক্ষা রাখে নাআমাদের দেশে ধনী ব্যাক্তির সংখ্যা কম! কিন্তু আমাদের দেশে টাটার মতো কোনো বেসরকারি ল্যাব নাই। টাটা একখান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এরা কত বিশ্ব বিদ্যালয়রের যে রিসার্চের নামে টাকা দিয়া হেল্প করে আল্লা মালুম। সাইফুর রহমান গতবার একখান কথা কিছইলো বিদেশ সফরে মনে হয়। বেসরকারি উদ্যোগে কেউ যদই ল্যাব কইরা দেয় তাইলে সে দিতে পারবে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু মন্ত্রিজী কথা কইলেও কাজ হয় নাই। কাজ হবে নাই বা কেন, এককালে পিডিবির সাপ্লাইতে নয়েজ পাওয়া যাইটো তখন দেখা যাইটো পার্শ্ববর্তী কোনো টেকনিকাল ভারসিটিরে ইকুইপম্যান্ট দিয়া কইতো সমস্যা কি বুঝা্য দাও। লাভের মধ্যে ভার্সিটি কিছউ ইকুইপ পাইটো, ফোর্থ ইয়ার অথবা মাস্টার্সের পুলাপান ঐটা নিয়া থিসিস করতো, আর প্রফ এ জার্নাল করতো। কিন্তু এখহন ট্রান্সফর্মারে সমস্যা তাইলে এনার্জীপ্যাকরে জানাও, জেনারেটরে সমস্যা তাইলে ম্যাকাল্টি যার কাছ থিকা কিন্ছে টরাে জানাও নাইলে নতুন এখটা কিননের ব্যাবস্হা করো কারন কিন্তে গেলে বা সারাই করতে গেলেই টাকা। সরকারও দেখা যা্য সিস্টেমের মধ্যে পফেলাইয়া কিননের ব্যাবস্হা করে। কারন মন্তি্র এমপির চ্যালা চামুন্ডারা সেটার অংশও পায়!

এখন বলেন এত কিছউ দেখনের পর এইসব প্রফ বা লেকচারার যারা হয় তাদের তো শ্রেåপফ চুরি করা উচিত, নাইলে গড্ডালিকায় গা না ভাসানো মানে বোকামী? কেনইবা হবে না, যখন দেখা যাবে তারই ক্লাসমেট যে লাস্টের সীটে বসে রাজনীতি বা হাবিজাবি করতো আর পরীক্ষা এলেই হয় ফেল নাইলে ডি পাইতো সে দেখা গেলো এসব সরকারি জায়গায় ঘুষ খেয়ে গুলশানে ফ্লাট আর সে এখনো বই খাতা নিয়া ছাগল পিটাইয়া মানউষ। যেখানে ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগানো যায় শুধু ঐ গাচ কমিটি নাইলে মাছ কমিটি।

তবুও আমি ক্রেডিট দেই এদের কারন আামর দেখা আমাদের ভার্সিটটর এমনকইছু স্যার দেখছই যারা একমাত্র নীতির কাছে মাথাটা নুইয়ে ডেডিকেটেড লি পড়ায়। কেউ যদি নতুন আইডিয়া নয়া আসে তাহলে তার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তা সে করে। এই যে অনিলরে আমরা ওর চৌদ্দ গুষ্ঠী তুইলা গালাগালি করতাম সেই অনিলের দেয়া জ্ঙান যখন এই ভীন দেশেও কাজে লাগে তখন মনে হয় এদডেরকে স্যালুট করি। এরা যে সময় ইন্জ্ঞীনিয়ার হইছে সেসময় এরা যদি কোনো সরকারীতে ঢুকতো আজকে এদের সাথে দেখা করতে গেলেও ১০ মিনিট বইসা থাকতে হিতো। এখনই তো তো আমরাই যেমন ছিলাম খোদ এক মামুলি জিপির চাকরি করে কাউরে দেখা করনের এ্যাপয়ন্ট ম্যান্ট দিতাম নাা। ভাব থাকতো এমুন যে উই আর দ্যা ক্রীম!


তাইলে কন আপনি কি এতো ডীপলি চিন্তা কইরা স্যারদের কটাক্ষ করার সাহস পাইলেন কেমতে? >এদের ডেডিকেশন চিন্তা করলে ভাই এসব কথা তো মাথায়ই আসে না, অন্তত আমি যদি তার জায়গায় থাকতাম তাইলে ভাই আরও আগে নীচে নামতাম!

মাইনাস!
২৯ শে মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:২৫

লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্যে একধরনের হঠকারিতা আর অতি উত্তেজনার প্রকাশ ঘটছে। ফলে পোস্টের মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে আপনার নিজেস্ব বুঝ বা বক্তব্যের কোন সামঞ্জস্য থাকছেনা। প্রচলিত কোন ঢালাও চিন্তার চোরাবালিতে মন বারে বারে আটকে যাচ্ছে। মাইনাস দেয়ার পর নিশ্চয় আপনার উত্তেজনা বা ক্ষোভ যৎকিঞ্চিত প্রশমিত হয়েছে। হলে ভাল আর না হলে আরেকটু সময় নেন। তারপর ঠান্ডা মাথায় পোস্টির পরিপ্রেক্ষিত বা কনটেক্সটা বোঝার চেষ্টা করুন। কেন সকলের চিন্তা আপনার লাইনে আসছেনা সেটাও ভেবে দেখুন। প্রশ্ন করুন, আমি আমার স্বল্প জ্ঞান বা সাধ্যের মধ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

৩০. ৩১ শে মার্চ, ২০১০ ভোর ৫:০২
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: হ ভাই, আমি একটু উত্তেজিত। কি করুম ভাই কন, যখন একজন পাবলিকে লেকচারার পদে জয়েন করে তখন বেতন কত পায়, মনে হয় ১৩-১৪ হাজার। আর এইসব দেশে দেখি ওগো বেতন স্কেল শুরু হয় ২-৩ হাজারে যেইটা বাংলাদেশের টাকায় ২-৩ লাখ। আরও বেশিও হইবার পারে। আরেক খান প্রজেক্ট উঠায় দিলে তো কথাই নাই, ৬-৭ লাখ টাকা ন গদে তাও এরা নিজেরা করে না, স্টুডেন্ট দিয়া করায়। সরকার থিকা আসলে টাকা পায় ভার্সিটি আর বেসরকারি থিকা আসলে দেখা যায় স্যার ভার্সিটি দুইজনেই। আর আমাগো
চোরে ভরা সরকার চুরি কইরা কুল পায় না গবেষনার কি বুঝে!


ঠান্ডা মাথায় কিছু ভেবে দেখার সময় তার নাই। আত্মসুখ আর আত্মচিন্তায় সে মগ্ন। যে ভেবে দেখে সে তো বোকা, ফাস্ট লাইফ লিড করতে শেখেনি।

দেখা গেছে কেউ উচ্চশিক্ষা শেষে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছকমিটি, মাছ কমিটি, টেন্ডার কমিটি, বাসা বরাদ্দ কমিটি, বিউটিফিকেশন কমিটি ইত্যাদি সব নানান কিসিমের নন-একাডেমিক কর্মকান্ডে বাকি জীবনটা আনন্দে কাটিয়ে দিচ্ছেন। কারো কারো মৌমাছি চাষে বুৎপত্তি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে মৌমাছি দেখেই বলে দিতে পারেন কোন মৌমাছিটা বেয়াদব আর কোনটা আদবকায়দা জানে, মানে পোষ মানবে।কেউ কেউ আবার এই দুনিয়ায় বসবাস করেননা, দুই দুনিয়ার মাঝে সেতু বাঁধার কাজে মশগুল। সময় অল্প। এই দুনিয়া তো কিছুনা। মায়া আর মায়া। তাই এই দুনিয়ায় মশগুলদের কিভাবে দুনিয়ার কাজে উদাসীণ করা যায় সেই মহান কর্মের কৌশল নির্ধারণে তাঁদের দিন এগোয়। তবে কিভাবে তাঁরা এরই ফাঁকে উত্তরা-পূর্বাচলের প্লটের আবেদনটা সময় মত করে ফেলেন অনেকের মত আমার কাছেও সে এক অধরা রহস্য।

এই লাইন গুলাই মাথা ব্যাথার কারন ভাই!
৩১ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১০:০৮

লেখক বলেছেন: পুরো পোস্ট থেকে পছন্দমাফিক দুটো অংশবিশেষ ছেঁটে এনেছেন। এবং সেই কেটেছেঁটে আনা অংশের একটা মানে আপনি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন । আম থেকে আঁঠিটা আলাদা করে এনে বলতে চাচ্ছেন এই আঁঠিটাই আসলে আম, খেতে তিক্ত ও শক্ত। এই কমেন্টে আপনার ছেঁটে আনা প্রথম অংশের ব্যাপারে কিছু বলে একটা প্রশ্ন রাখব উত্তর পেলে দ্বিতীয় অংশে যাব।

আপনার ছেঁটে আনা প্রথম অংশ হচ্ছে
"ঠান্ডা মাথায় কিছু ভেবে দেখার সময় তার নাই। আত্মসুখ আর আত্মচিন্তায় সে মগ্ন। যে ভেবে দেখে সে তো বোকা, ফাস্ট লাইফ লিড করতে শেখেনি। "

এটা পড়ে আপনার মনে হলো যে এই ব্যাকাংশে শিক্ষক সমাজের মান সম্মান সব ধুলায় লুটিয়ে পড়েছে। আর সেই কারনেই স্বভাবতঃ আপনি উত্তেজিত ও অত্যন্ত মনক্ষুন্ন। আচ্ছা।

এবার যেখান থেকে ছেঁটে এনেছেন সেই প্যারাগ্রাফটা পুরো নীচে তুলে দিলাম, মাঝে আপনার কেটে আনা অংশটাও আছে। পড়ুন-

"মনে রাখতে হবে জীবনযাত্রা জটিল হয়েছে, চারিদিকে শুধু অবৈধ পুঁজির প্রতাপ। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এখন নৈতিকতা আর প্রতীকি দেশপ্রেমের বিপনণে মত্ত। এখন এরা একটা প্রজন্মের কেবলা ।তরুন সমাজের মুখ-মন-মগজ সবই সেই কেবলামুখি। ঠান্ডা মাথায় কিছু ভেবে দেখার সময় তার নাই। আত্মসুখ আর আত্মচিন্তায় সে মগ্ন। যে ভেবে দেখে সে তো বোকা, ফাস্ট লাইফ লিড করতে শেখেনি। একটা প্রজন্ম তো ইতোমধ্যেই তৈরী হয়েছে যারা দেশ বলতে ঢাকা শহরের কিছু চৌহদ্দিকেই বুঝে। ঢাকার বাইরে যারা, তারা তার কাছে অচ্ছুৎ, যথেষ্ট স্মার্ট না। এই অবক্ষয় আর বিভক্তি সমাজের সব লেভেলকে স্পর্শ করবে।বিশাল পুঁজির সুচিন্তিত ও লক্ষ্যভেদী কারবার। শিক্ষক, সন্যাসী, পীর,ফকির, ব্রহ্মচারী কেউ তার নাগালের বাইরে থাকবেনা।বিশ্ববিদ্যালয় তো এ সমাজের বাইরে নয়। আর বাইরে নয় বলেই সেখানেও তার দেখা মেলে।"

এবার বলেন পুরো প্যারাগ্রাফটা পড়ার পর আপনি কি বুঝলেন? এটা কি শিক্ষকের প্রতি ব্যাংগোক্তি না বর্তমান তরুন সমাজের কিয়দংশের চালচিত্র? কোনটা?

আমি খুব অবাক হচ্ছি আপনি পোস্টটি আদৌ পুরোটা পড়েছেন কিনা।
যাইহোক,আপনি যে তরিকায় বুঝছেন, আলোচ্য প্যারাগ্রাফের কতিপয় তরুন সেই একই তরিকায় বোঝে বা চিন্তা করে বলে কিন্তু আমি মনে করিনা। ধন্যবাদ। সঙ্গে থাকবেন।

৩১. ০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:২৫
সাদাচোখ বলেছেন: লেখক কে ধন্যবাদ দেরিতে হলেও লেখাটির ৩য় পর্ব পোস্ট করার জন্য।
আপনার লেখার মূল কথাটি আমি সম্ভবত ধরতে পেরেছি। আপনি যা বলতে চেয়েছেন, তাহল সদিচ্ছা থাকলে দেশে এসে শিক্ষকরা অনেক ভাল কিছুই করেতে পারেন। এ ব্যাপারে দ্বিমতের কিছু নেই। কিন্তু উপরের মন্তব্যগুলোতে শিক্ষকদের মধ্যে যে প্রবনতা লক্ষ্য করলাম তাহল আর্থিক স্বচ্ছলতা ছাড়া ঠিকমত রিসার্চ একদমই সম্ভব নয়।
“মৌ-মাছি” অনেক চেষ্টা করলেন একথা বোঝাতে যে, শিক্ষকদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অকর্মন্য প্রতিষ্ঠান করে রাখার পেছনে দায়ী তাদের সদিচ্ছার অভাব।
আচ্ছা এখন বলুনতো ছাত্রাবস্থায় এবং পাশ করার পরে অন্যান্য আন্ডারগ্রাড ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিশ্চিন্তে দিনকাটায় কারা? উত্তরে অবশ্যই দিতে হবে সরকারী পাবলিক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং মেডিকেলের ছাত্রগুলো (লেখাপড়ার চাপের কথা বলছিনা কিন্তু, বলছি ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা।)। তাদের পেছনে সরকার অন্য নন-টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের চেয়ে বহুগুণ বেশিটাকা খরচ করে। শুধু তা-ই নয়, লেখাপড়া শেষে তাদের রয়েছে নিশ্চিত চাকরির নিশ্চয়তা (সরকারী-বেসরকারী যে প্রতিষ্ঠানেই হোক না কেন, কারন দেশে প্রকৌশলী এবং ডাক্তারের অভাব রয়েছে)।
এত সুযোগসুবিধা ভোগ করার পরেও নিজের “বেটার ফিউচার” আর কম বেতনের জুজুর ভয়ে যারা কাতর, তারা আর যা-ই হোক শিক্ষক হবার জন্য জন্মায়নি। টাকার হিসেব যখন এতই বড় হয়ে দাড়ায়, তবে গ্রাজুয়েশন শেষ করতে আপনার খরচ আর একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ এবং পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের তুলনা করুন। দেখুন, আপনি বলতে গেলে লেখাপড়ার জন্য কোন খরচই করেন নি।
পুরো ব্যাপারটা টাকা পয়সা দিয়ে মাপা খুব বড় ধরনের নোংরামী এবং বোকামি হবে। মানবিকতা বোধ বলে তো একটা ব্যাপার আছে, তাই না? যে রিকশাওয়ালা আপনাকে রিকশায় টেনে নিয়ে আপনার কাছে থেকে কিছুটাকা পায়, সেই টাকারই একটা অংশ আপনার লেখাপড়ার জন্য দিচ্ছে (রিকশারও কিন্তু লাইসেন্স করতে হয়)। সে এসব কেন করে? আপনার কাছে থেকে “দেশে গবেষণার পরিবেশ নেই”, “পোড়া দেশের কিছুই হবে না” এই কথা শোনার জন্য?
এভাবে চলছে দেখেই আজ “প্রকৌশল” একটি পেশার নাম থেকে গালিতে পরিনত হয়েছে (যে লজ্জায় আমিও লজ্জিত হতে যাচ্ছি...)। সেকারনেই প্রতিষ্ঠার আজ প্রায় অর্ধ শতাব্দী পার করার পরেও আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের অভাবে কোন কোন ডিপার্টমেন্টের ক্লাস দেরিতে শুরু করতে হয়।
যে চোর রাতের আঁধারে চুরি করতে যায়, সে-ও নিজের মনকে বুঝ দেবার জন্য ওছিলা তৈরি করে রাখে (সেটা সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হোক বা নাহোক)। সুতরাং নিজের কাজকে জায়েজ করার জন্য ওছিলার অভাব হবে না। আচ্ছা ঠিক আছে , বুঝলাম যে গবেষণা করতে টাকা লাগে, ঠিক আছে গবেষণার দরকার নাই। বিদেশ থেকে যে বিদ্যা পেট বোঝাই করে আনলেন, তা তো অন্তত ছাত্রদের জানান। লালচে উইধরা চোথা পড়ানোর জন্য বিদেশী ডিগ্রীর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
যাই হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাষন এবং শিক্ষকদের অনিয়ম নিয়ে বলতে গেলে নিজের মধ্যে বিতৃষ্ঞা বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই হয় না। সেজন্য এ নিয়ে লিখতে বা আলোচনা করতে ইচ্ছে করে না। তবুও পাকা ব্যবসায়ীর মত টাকার জন্য শিক্ষকদের গলাবাজি শুনলে মেজাজ ঠিক থাকে না। তাই এত কথা লিখলাম। দয়া করে কেউ আমার মন্তব্যকে ব্যক্তিগত ভাবে নেবেন না।

সবশেষে লেখক কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন আলোচনা শুরু করার জন্য এবং অনুরোধ করছি পরের পর্বগুলো তাড়াতাড়ি দেবার (৬ মাস অনেক বড় সময় )।
০৬ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:২৩

লেখক বলেছেন: আপনি এই পর্বের মূল সুরের ব্যাপারে বলছিলেন।আসলে এই পর্বের উদ্দেশ্য দুটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে উত্তর খুঁজে ফেরা। আর উত্তর খুঁজে ফেরা মানেই লেখকের মাথায় কোন আগাম বা রেডিমেড সমাধান নাই। যুক্তি তর্ক আর গ্রহন বর্জনের চিন্তা এগিয়ে যাবে এটাই উদ্দেশ্য। প্রশ্ন দুটি-

১) দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবার মতো শিক্ষক আমাদের আছে কিনা?
২) যদি থাকে তবে কেনো এই দুরাবস্থা বা মূল বাধাটা কোথায়?

ভালো খবর যে অন্তত একটা জায়গায় আমরা একমত হতে পেরেছি যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে গবেষনার উপযুক্ত ম্যানপাওয়ার কমবেশী বিদ্যমান।আর একমত বলেই ২নং প্রশ্নে আমাদের উত্তর খোঁজার চেষ্টা জারি রয়েছে। কারন ১ নং এর উত্তর হ্যাঁ না হলে ২নং প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ঝামেলা আর থাকতোনা।যাইহোক,এই উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাঠক বিভিন্ন কারণ কে সামনে নিয়ে এসেছেন, যার সবগুলিই গুরুত্বপূর্ণ। পাঠকের এই কারন গুলোকে আবার উলটে পালটে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রশ্ন করা হয়েছে । কারণ সমাজে তৈরী করে রাখা কিছু চটজলদি সমাধান সবসময়ই বিদ্যমান থাকে। অনেকটা রেড়িমেড পোষাকের মত। সতর্ক না হলে আমরা এই সমাধান গুলিকে শেষচিন্তা বলে অনেকসময় গ্রহণ করে ফেলি। সুখবর এইযে, এখন পর্যন্ত কোন প্রান্তিক চিন্তায় গিয়ে আমাদের সমাধান আটকে যায়নি, আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। দেখি কোথায় গিয়ে থামে। সংক্ষেপে এই হলো পোস্টের এই পর্বের উদ্দেশ্য।

পরে এসে বাকি কথাটা বলবো। সঙ্গে থাকবেন।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫০

লেখক বলেছেন: মনে হয় শিক্ষকদের ব্যপারে আপনার কিছু ক্ষোভ জমা হয়ে আছে। ক্ষোভেরও আবার অনেক রকমফের থাকে।তবে যেহেতু আমাদের আলোচনার প্রসঙ্গ গবেষনা তাই আপনার ক্ষোভটা যদি ঠিক সুনির্দিষ্ট এই প্রসঙ্গেই হয়ে থাকে তবে কিছু কথা বলার আছে।

প্রথমে একটা উদাহরন দেই। আমি যদি আমার উঠোনের সামনের সরকারি রাস্তাটুকু প্রতি সকালে উঠে পরিস্কার করি সেটা অতি উত্তম, কিন্তু না করলে আমাকে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত করা যায়না। আর রাস্ট্র যদি মনে করে প্রতিসকালে আমার মত সব নাগরিকের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনে দেশের রাস্তাঘাট সব এমনিভাবেই পরিস্কার রাখা সম্ভব, রাস্ট্রের আর বিশেষ করার কিছু নাই, তবে ওটা ব্যর্থ রাস্ট্র হওয়ার পথে হাঁটা ধরেছে এটা বুঝে নিতে কষ্ট হয়না। যেমন কিছু মহতী ভাবনার মতলববাজ এই বলে প্রচার করে থাকে যে আমরা সকলে যেদিন ভাল হয়ে যাব সেদিন দেশ এমনিতেই ভাল হয়ে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

উপরের উদাহরণটা দিলাম এই কারনে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকারী কর্মচারী হিসাবেই কাজে যোগদান করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তার মূল দায়িত্বের মধ্যে যেটা পড়ে সেটা হচ্ছে শ্রেনীতে পাঠদান, পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত কাজ।এর বাইরে কিছু প্রশাসনিক কাজ কমবেশী সকলকেই করতে হয়।কিন্তু গবেষনা কর্মের জন্য কোন বাধ্যবাধকতা সার্ভিস রুল অনুযায়ী জন্মায় না। এটা খুব সাধারণ দৃশ্য যে প্রোকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষককে সপ্তাহে কয়েকটি প্রাক্টিক্যাল ক্লাস সহ দুই থেকে তিনটা কোর্সওয়ার্ক নিতে হয়। এই যদি হয় অবস্থা তবে আর গবেষনার জন্য সে ভাববে কখন?

বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ”কেন আপনি রিসার্চ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত না” এই বলে কাউকে কারন দর্শানোর কোন সূযোগ আইনত থাকেনা,বা সেটা সঙ্গত কারনেই রাখা সম্ভব নয়।আপনি কারন দর্শাতে পারেন অর্পিত মূল কর্তব্য কর্মে অবহেলা ঘটলে।প্রমোশনের জন্য কিছু রিসার্চ পেপার দরকার হয়। পেপার থাকলে প্রমোশন হবে, না থাকলে না।কিন্তু কেন আপনার পেপার হচ্ছেনা এই বলে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়না বা তার সূযোগ নেই। এরপরেও যারা গবেষনা করে থাকেন সেটা তাদের নিজের ইচ্ছায় ও ব্যক্তিগতউদ্যোগে। অনেকের অফুরন্ত অবসর, তারপরেও গবেষনায় আগ্রহ নাই আবার অনেকে শত ব্যস্ততার মাঝেও সীমিত রিসোর্স কাজে লাগিয়ে গবেষনা করে যাচ্ছেন।

সুতরাং সারমর্ম দাঁড়ালো শিক্ষক কেন গবেষনা করেননা, এই কথা বলে দোষারোপের কোন অবকাশ নাই, কারন সেটা করতে তিনি বাধ্য নন যদিনা তিনি গবেষনা কর্মের জন্য আলাদা স্যালারি ড্র করেন। যেমন আমি বাধ্য নয় আমার বাসার সামনের পাব্লিক প্লেসটা প্রতি সকালে পরিস্কার করতে। বরং আমাদের ভাবনার বিষয় হবে ঠিক কি পলিসি অবলম্বন করে দক্ষ ম্যানপাওয়ার কে গবেষনা কাজে সম্পৃক্ত করা যায় সেইটা। এই ধরনের কিছু ভাবনা নিয়ে উপরের কিছু কমেন্টে আলোচনা হয়েছে, আবার একটু রিভিউ করে নিতে অনুরোধ করবো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৮৭৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই