somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দরদ ভরা আনিসুল হকের মুখ

২৫ শে জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সন্ধ্যার চ্যানেল আই এর খবরে কালো আইন বানানোতে পাকা হাত, এ্যাডভোকেট আনিসুল হকের এক দরদ ভরা মুখ দেখলাম। আদিষ্ট হয়ে চ্যানেল আই এই ছোট সাক্ষাৎকার ভিত্তিক রিপোর্ট করছিল। বিষয়: জরুরী আইনের কিছু সংশোধন, বিশেষ করে 'জামিন দেওয়া দূরে থাক কোর্টের জামিন বিবেচনার এক্তিয়ার নাই' - এ প্রসঙ্গে। সংবিধান প্রদত্ত কোর্টের জামিন বিবেচনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার বিষয়টা সংশোধন করা দরকার বলে মত রাখছিলেন। বলার ভঙ্গি দেখে বুঝার উপায় ছিল না একাজের জন্যই তিনি, আনিসুল হক আইন মন্ত্রণালয় থেকে কাজে নিয়োগ পেয়েছেন। সরকার তার মক্কেল। তিনি বলে গেলেন, জামিন বিষয়টা নিয়ে হাইকোর্ট নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতায় এক্তিয়ারের পক্ষে রায় দিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিয়েছে; তবে পরে ব্যাখ্যায় এত শক্ত জরুরী আইনের পরেও অসুস্হ ইত্যাদি কিছু বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় জামিন দিতে বলেছে। এরপর আনিসুল হক বললেন আসল কথা। "'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"কে যায়গা করে দিতেই এখন জরুরী আইনের এই ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন।
পাঠক 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খার" এই খেদমতগারের কথার মারপ্যাচ লক্ষ্য করুন। সংবিধান দূরে রাখলাম। তিনি বা তাঁর মক্কেল যদি এমনই বুঝে থাকেন যে 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা" হলো, কোর্টের জামিনের এক্তিয়ার থাকতে হবে - তবে এর বিরুদ্ধে জরুরী আইনে এরকম কালো ধারা রেখে তার মক্কেল জনগণ ও দেশের দ্রোহী কাজ করেছেন। আনিসুল হকের একই যুক্তি অনুযায়ী, এমনকি যে যে কোর্ট 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"র বিরোধী এই কাজকে সমর্থন করে গেছেন তারাও একই অপরাধে দোষী - 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"র বিরুদ্ধাচারণ, ক্ষতিসাধন- এতো সর্ব্বোচ্চ অপরাধ। এই অপরাধ আনিসুল হকের মক্কেল অর্থাৎ সরকার করেছে। তাহলেএর বিচার কী হবে? শাস্তি হওয়া উচিত কী না? এর উত্তর কী?
'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা" রূপ নেয় সংবিধানে, অবশ্যই। আর যা খুশি নয়, কেবল সেই সাংবিধানিক সীমা মেনেই জাতীয় সংসদ আইন বানাতে পারে, কোর্ট বিচার করতে পারে। সংসদ বা কোর্ট ঐ সীমার বাইরে কোন অসীম ক্ষমতার অধিকারীও নয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদের অনুপস্হিতিতে অধ্যাদেশ বলে আইন জারি করতে পারলেও তা কেবল পরবর্তী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গৃহীত হওয়া ও সংবিধানের সীমা মানা সাপেক্ষে আইন বলে গণ্য হবে, হতে পারে। অর্থাৎ নাও হতে পারে।

আচ্ছা, আনিসুল হক বা তাঁর মক্কেল বা ফকরুদ্দিন সরকার কী করে জানলেন 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"টা কী?
এতক্ষণে পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে শুরু করেছে নিশ্চয়। ভাবছেন, হাতে বন্দুক আর জানের মায়ায় থাকা অর্থব প্রেসিডেন্ট সঙ্গে থাকলে কত অধ্যাদেশ আইন বানানো আরও কত কী করা যায় - জানেন না না কী? কাজেই আপাতত এখানেই রাখি।

তবে, আমার কেবল মনে পড়ছে দরদ ভরা আনিসুল হকের মুখ ।

একই সাথে এখন মনে পড়ছে আর এক ব্যরিষ্টারের মুখ। অনেকদিন দেখিনি। নামটা মনে এসেছে, মওদুদ আহমেদ। অনেকের জন্য কালো আইন বানিয়ে দিয়ে হাত পাকিয়েছেন, এখন জেলে আছেন। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে একটা কথা আছে। উর্দু গজলের লিরিকেও প্রায়ই এমন দেখতে পাওয়া যায়। "লোকজনের সাথে বেশী দেখাসাক্ষাৎ করো না মনের কথা চেহারায় ছাপ রাখবে, মানুষ বুঝে ফেলবে সব কিছু" - এধরণের। তো মওদুদ আহমেদের হলো সেই দশা, দূর্ভাগ্য। উনি কী ভাবেন, চিন্তা করেন, "'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"র বিরুদ্ধে কী কী করেছেন - টিভির সামনে আসলে উনার সব মনে পড়ে যায় ফলে চেহারাও সব ফুটে উঠে।

ভাবছিলাম যার চেহারায় মন ফুটে উঠে আর যার মুখটা অবলীলায় একদম দরদ মাখা দেখায় এদুয়ের মধ্যে কোনটা নিষ্ঠুর?

আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সমর্থক পাঠকের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, সমর্থক মনটা কিছুক্ষণের জন্য মোবাইলের মত অফ রেখে তারপর পড়বেন। কিছু না, তেমন কোন কারণ নাই। কেবল উত্তর জানতে একটু বাড়তি সুবিধা, সহজ হবে হয়তো, এই আর কী! আপনাদের সকলের উত্তর মিলিয়ে নিতে চাই, জানাবেন আশা করি।
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×