আজ সন্ধ্যার চ্যানেল আই এর খবরে কালো আইন বানানোতে পাকা হাত, এ্যাডভোকেট আনিসুল হকের এক দরদ ভরা মুখ দেখলাম। আদিষ্ট হয়ে চ্যানেল আই এই ছোট সাক্ষাৎকার ভিত্তিক রিপোর্ট করছিল। বিষয়: জরুরী আইনের কিছু সংশোধন, বিশেষ করে 'জামিন দেওয়া দূরে থাক কোর্টের জামিন বিবেচনার এক্তিয়ার নাই' - এ প্রসঙ্গে। সংবিধান প্রদত্ত কোর্টের জামিন বিবেচনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার বিষয়টা সংশোধন করা দরকার বলে মত রাখছিলেন। বলার ভঙ্গি দেখে বুঝার উপায় ছিল না একাজের জন্যই তিনি, আনিসুল হক আইন মন্ত্রণালয় থেকে কাজে নিয়োগ পেয়েছেন। সরকার তার মক্কেল। তিনি বলে গেলেন, জামিন বিষয়টা নিয়ে হাইকোর্ট নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতায় এক্তিয়ারের পক্ষে রায় দিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিয়েছে; তবে পরে ব্যাখ্যায় এত শক্ত জরুরী আইনের পরেও অসুস্হ ইত্যাদি কিছু বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনায় জামিন দিতে বলেছে। এরপর আনিসুল হক বললেন আসল কথা। "'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"কে যায়গা করে দিতেই এখন জরুরী আইনের এই ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন।
পাঠক 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খার" এই খেদমতগারের কথার মারপ্যাচ লক্ষ্য করুন। সংবিধান দূরে রাখলাম। তিনি বা তাঁর মক্কেল যদি এমনই বুঝে থাকেন যে 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা" হলো, কোর্টের জামিনের এক্তিয়ার থাকতে হবে - তবে এর বিরুদ্ধে জরুরী আইনে এরকম কালো ধারা রেখে তার মক্কেল জনগণ ও দেশের দ্রোহী কাজ করেছেন। আনিসুল হকের একই যুক্তি অনুযায়ী, এমনকি যে যে কোর্ট 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"র বিরোধী এই কাজকে সমর্থন করে গেছেন তারাও একই অপরাধে দোষী - 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"র বিরুদ্ধাচারণ, ক্ষতিসাধন- এতো সর্ব্বোচ্চ অপরাধ। এই অপরাধ আনিসুল হকের মক্কেল অর্থাৎ সরকার করেছে। তাহলেএর বিচার কী হবে? শাস্তি হওয়া উচিত কী না? এর উত্তর কী?
'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা" রূপ নেয় সংবিধানে, অবশ্যই। আর যা খুশি নয়, কেবল সেই সাংবিধানিক সীমা মেনেই জাতীয় সংসদ আইন বানাতে পারে, কোর্ট বিচার করতে পারে। সংসদ বা কোর্ট ঐ সীমার বাইরে কোন অসীম ক্ষমতার অধিকারীও নয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদের অনুপস্হিতিতে অধ্যাদেশ বলে আইন জারি করতে পারলেও তা কেবল পরবর্তী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গৃহীত হওয়া ও সংবিধানের সীমা মানা সাপেক্ষে আইন বলে গণ্য হবে, হতে পারে। অর্থাৎ নাও হতে পারে।
আচ্ছা, আনিসুল হক বা তাঁর মক্কেল বা ফকরুদ্দিন সরকার কী করে জানলেন 'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"টা কী?
এতক্ষণে পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে শুরু করেছে নিশ্চয়। ভাবছেন, হাতে বন্দুক আর জানের মায়ায় থাকা অর্থব প্রেসিডেন্ট সঙ্গে থাকলে কত অধ্যাদেশ আইন বানানো আরও কত কী করা যায় - জানেন না না কী? কাজেই আপাতত এখানেই রাখি।
তবে, আমার কেবল মনে পড়ছে দরদ ভরা আনিসুল হকের মুখ ।
একই সাথে এখন মনে পড়ছে আর এক ব্যরিষ্টারের মুখ। অনেকদিন দেখিনি। নামটা মনে এসেছে, মওদুদ আহমেদ। অনেকের জন্য কালো আইন বানিয়ে দিয়ে হাত পাকিয়েছেন, এখন জেলে আছেন। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে একটা কথা আছে। উর্দু গজলের লিরিকেও প্রায়ই এমন দেখতে পাওয়া যায়। "লোকজনের সাথে বেশী দেখাসাক্ষাৎ করো না মনের কথা চেহারায় ছাপ রাখবে, মানুষ বুঝে ফেলবে সব কিছু" - এধরণের। তো মওদুদ আহমেদের হলো সেই দশা, দূর্ভাগ্য। উনি কী ভাবেন, চিন্তা করেন, "'জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা"র বিরুদ্ধে কী কী করেছেন - টিভির সামনে আসলে উনার সব মনে পড়ে যায় ফলে চেহারাও সব ফুটে উঠে।
ভাবছিলাম যার চেহারায় মন ফুটে উঠে আর যার মুখটা অবলীলায় একদম দরদ মাখা দেখায় এদুয়ের মধ্যে কোনটা নিষ্ঠুর?
আওয়ামী লীগ বা বিএনপি সমর্থক পাঠকের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, সমর্থক মনটা কিছুক্ষণের জন্য মোবাইলের মত অফ রেখে তারপর পড়বেন। কিছু না, তেমন কোন কারণ নাই। কেবল উত্তর জানতে একটু বাড়তি সুবিধা, সহজ হবে হয়তো, এই আর কী! আপনাদের সকলের উত্তর মিলিয়ে নিতে চাই, জানাবেন আশা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

