আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
মিডিয়া, ব্লগ ও সামহয়ারইন
২২ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৩
সামহয়ারইন ব্লগের উদ্যোক্তা বা মডারেটর কাউকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কেবল ব্লগারদের কারও কারও টুকরা মন্তব্যের ভিতর অসমর্থিত যেসব তথ্য দেখতে পাই তা থেকে তৈরী একটা ধারণা অবশ্য রাখি। এছাড়া ব্লগ চালাতে গিয়ে উদ্যোক্তা বা মডারেটররা যেসব নীতি বা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তা খুব মনোযোগের সাথে অনুসরণ করি। এটা অবশ্য অন্যান্য ব্লগের উত্থান পতনের বেলাতেও করি। এসব কিছুতে আমার আগ্রহের মূল বিষয় হলো, বাংলাদেশে ব্লগ দাঁড় করানোর সমস্যা ও সম্ভবনা সম্পর্কে একটা পরিস্কার ধারণা রাখা।
সাধারণভাবে বললে প্রকাশ প্রকাশনার জগতে যোগাযোগের একটা বাহন বা মাধ্যম মিডিয়া হিসাবে ব্লগ এক নতুন ধরণ, সংযোজন। এই মিডিয়া, নতুন হোক আর পুরনো মিডিয়ার প্রায় সব ধরণের সমস্যাই একে মুখোমুখি হতে হয়, হবে এটাই স্বাভাবিক। আবার এটা এমন এক মিডিয়া যার উদ্যোক্তাদের ভারকেন্দ্র এবং ব্যাকগ্রাউন্ড কমপিউটার-টেকনিক্যাল হতেই হয়। সম্ভবত এই অপরিহার্য শর্তের কারণে অপর গুরুত্ত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল শর্ত মিডিয়াকে পেশাদারীভাবে বুঝা ও পরিচালনা করার মত যে পেশাদারি মিডিয়া-অভিজ্ঞতার দরকার হয় তাতে অনেক সময়ই ঘাটতি দেখা যায়। আবার সাধারণভাবে মিডিয়া মাত্রই এমনই এক ট্রেড যা নির্দিষ্ট দেশ বা রাষ্ট্রের মিডিয়া কালচার ও প্রাকটিসের সাথে সম্পর্কিত যেটা, মিডিয়া সম্পর্কে ইউনিভার্সাল ধারণা অভিজ্ঞতা দিয়ে সবটা পূরণযোগ্য নয়। কারণ রাষ্ট্র ও তাঁর নাগরিক জনগণের রাজনৈতিকতার (polity) মাত্রার ভিতর দিয়ে ক্রমউত্থিত ও নির্ধারিত হয় স্হানীয় দেশে মিডিয়া কালচার ও প্রাকটিসটা ঐ সমাজে কেমন হবে, কোন পর্যায়ে থাকবে। এটা এমনকি দেশের বাইরের স্বার্থে আর্দিষ্ট হয়ে চাপিয়ে দেয়া ইনপুট - "তথ্য অধিকার আইনের" মত ব্যাপার নয় যে এতে আমাদের স্হানীয় মিডিয়া কালচার ও প্রাকটিসটার কোন লাভ হবে বা সুবিধা পাবে। কারণ আগ্রহটা এখানে বাইরের, আরোপিত। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, মিডিয়া কর্মী ও তার খাতক জনগণ মিডিয়ার কী স্বাধীনতা ও ধরণ চায় এটা তাদের চাহিদা আকাঙ্খার মাত্রা এবং একইসঙ্গে লড়াই করে তা আদায় করে নেবার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। এটা কারও দেবার বিষয় নয়। এরপর সে ক্ষমতা চর্চার ভিতর দিয়ে স্হানীয় মিডিয়া কালচার ও প্রাকটিস একটা সুনির্দিষ্ট রূপ লাভ করে। আবার এটা স্হির কোন অবস্হা নয়। প্রতি মুহুর্তের লড়াই সেখানে জারি থাকে ও ফলাফলে ক্রমাগত নতুন নতুন রূপ-বৈশিষ্ট লাভ করে। কথাটাকে গুছিয়ে বললে দাঁড়ায়, দেশকালের আকাঙ্খা ও আগ্রহ এবং সমাজের রাজনৈতিক সত্ত্বার (polity) মাত্রাটাই স্হানীয় মিডিয়া কালচার ও প্রাকটিসের মূল নির্ধারক চালিকা শক্তি। ফলে বাইরের কোন স্বার্থ-উদ্যোগে আমাদের কাজে আসবে না বরং ক্ষতিগ্রস্হ হব নিঃসন্দেহে । একটা তুলনামূলক উদাহরণ পেশ করে কথাটা পরিস্কার করব। অনেকেই হয়তো খেয়াল করেননি আমাদের সমাজ মিডিয়া কেমন চায় তা একটা গণআকাঙ্খায় রাস্তায় সরব জানান দেবার ও আদায় করার প্রথম ঘটনাটা ঘটেছিল ১৯৯০ সালে। এরশাদের নয় বছর শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ভিতর দিয়ে সমাজের গণতন্ত্রায়নে পথে বলা যেতে পারে এটাই ছিল নীট অর্জন। যদি হিসাব করতে বসি ঐ আন্দোলনে সামাজিকভাবে আমরা কতটুকু আগিয়েছি তবে বলতে হয়, একটা গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশন কনষ্টিটিউট বা গঠন করার দিক থেকে আমরা উল্লেখযোগ্য খুব বড় ধরণের কিছু আগিয়েছি বা অর্জন করতে পেরেছি বা নাগরিক জনগণের চেতনার রাজনৈতিকতার মাত্রায় বড় ধরণের উল্লফন ঘটাতে পেরেছি তা বলা যাবে না। তবুও এতে সবচেয়ে বড় অর্জনটা ঘটেছিল, মিডিয়ায়। অর্থাৎ এর ফসল বা মাখনটা বাংলাদেশের মিডিয়া জগৎ ঘরে তুলে নিতে পেরেছিল। আর নাগরিক হিসাবে এর একটা সুফল অবশ্যই আমরা ভোগ করছি। বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের হাতে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হবার পর প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন একটা কমিশন (এর হুবহু নাম আমি এখন বলতে পারছি না, পাঠকদের কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারেন) গঠন করেন। মূলত পত্রিকা মালিক ও পেশাদার সাংবাদিকদের চাপে তাঁরা গণআকাঙ্খাকে ইতিবাচক ব্যবহার করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও মিডিয়ার সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ কেমন হবে তা কনষ্টিটিউশনের অঙ্গ করে ফেলতে পেরেছিল। ঐ কমিশনের কাজ ছিল রাষ্ট্রের কোন কোন আইন মিডিয়া ব্যবসা ও পেশাদারী মিডিয়ার অস্তিত্ত্ব ও বিকাশের অন্তরায় তা চিহ্নিত করে সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের অপব্যবহার করে ক্ষমতাশীনদের মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে ছেঁটে দেওয়া। এরশাদ আমলে কোন রিপোর্টের জন্য সাংবাদিক-মালিকের বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহিতার ৫০১ ধারায় সরকারের মামলা ছিল খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। সামরিক গোয়েন্দা সংস্হা থেকে মিডিয়াকে টেলিফোন ব্রিফিং কালচার তখনই ব্যাপকতা পায়। আতাউস সামাদ, মিনার মাহমুদসহ বহু সাংবাদিককে এরশাদ জেলে পুরেছিলেন। এছাড়া, পত্রিকার ডিক্লারেশনের বাতিলের খড়্গ ইত্যাদি মিলিয়ে ব্যবসা হিসাবে মিডিয়া চালানোর হুমকির মুখে পড়ছিল। সামগ্রিক এই চরম পরিস্হিতিই শাহাবুদ্দিনকে দিয়ে কমিশন গঠন ও এর সুপারিশ আইনে পরিবর্তন করার পটভুমি তৈরি করতে পেরেছিল। তবে লক্ষণীয়, এটা ঘটানো হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের অধ্যাদেশ জারি করে। সংসদের মাধ্যমে নয়। কারণ ভয় ছিল নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলে কোন পরিবর্তনই হয়ত আর হবে না। কিন্তু তবু ওটাই ছিল পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত রাজত্ত্বকালে প্রথম গণআন্দোলনের প্রকাশিত গণআকাঙ্খা বাস্তবে রূপলাভের একটা সীমিত প্রচেষ্টা। তবে, মিডিয়া আইনে সংস্কার হয়ে গেলেও সব আশঙ্কা দূর হয়ে যায়নি।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে তথ্যমন্ত্রী হন আজকের "বিখ্যাত" অথবা কুখ্যাত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। সে আমলে প্রকাশনা প্রায় শতভাগ নির্ভরশীল ছিল খুলনা সরকারি নিউজপ্রিন্ট মিলের কাগজের উপর। হুদা কাগজ বরাদ্দ বা না-বরাদ্দের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বানিয়েছিলেন। মিডিয়া আইনের বদলটা হুদাকে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায়ের উদ্ভাবক বানিয়েছিল। আমাদের দূর্ভাগ্য হলো ব্যারিষ্টারি পেশা প্রায় সবসময় কালো আইনের মুসাবিদা ও হাত পাকানোতে এবং রাষ্ট্রকে নিপীড়নমূলক করতেই ব্যবহার হয়েছে। সমাজের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খাকে তুলে ধরার কাজে এর ভুমিকা নেতিবাচক। এই ধারাবাহিকতায়, বিটিভি প্রসঙ্গে হুদার বক্তব্য ছিল আরও মারাত্মক। তিনি এক নতুন তত্ত্ব খাঁড়া করেছিলেন। বিটিভিকে বিবি-গোলামের বাক্স বানানোর সমালোচনার উত্তরে তিনি দুকান কাটা হয়ে গেলেন। জনসমক্ষে যুক্তি খাঁড়া করে বললেন, বিটিভি সরকারের পয়সায় চলে, তাই বিটিভি সরকারের অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে তাঁর দলের কথাই কেবল বলে যাবে। এটাই নাকি স্বাভাবিক। হুদার এই নতুন তত্ত্ব দলে বাহবা পেয়েছিল নিঃসন্দেহে কিন্তু, কেউই একবার সাহস করে চিন্তা করতে পারে নাই কাল অন্য দল ক্ষমতায় আসলে একই যুক্তিতে বিএনপি নিজেই নিজেকে ক্ষতিগ্রস্হ করার রাস্তা খুড়েছে এতে। মিডিয়ায় দলবাজিরও একটা কালচার শুরু হয়েছিল এতে।
যাই হোক এভাবেই মিডিয়া জগতের একটা পর্যায় শেষ হয়ে নতুন পর্যায় শুরু হয়। এই পর্যায় হোল মিডিয়াকে স্রেফ দলবাজির হাতিয়ারে পরিণত করা। যেন মিডিয়া মানেই দলের পক্ষে সত্যমিথ্যার প্রচারণা চালানো। টিভি প্রিন্ট মিডিয়া মালিক রিপোর্টার কিনে ফেলে একাজে যার যার দল ঝাপিয়ে পড়ে। সমাজের স্বার্থ দেখার মত কেউ আর থাকল না, দলবাজির স্বার্থ ওখানে সব কিছুর নির্ধারক। সমাজের বিভিন্ন চিন্তাকে সংগঠিত করা সামাজিক তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে কোন গণস্বার্থকে এক জায়গায় নিয়ে আনার কোন ভুমিকা যেন মিডিয়ার নাই। মিডিয়া মালিকের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও মিডিয়া কর্মীর পেশাগত কাজের প্রতি জনগণের গণআকাঙ্খা যে সমর্থন যুগিয়েছিল তা এইভাবেই পায়ে দলা হয়েছিল এবং এখনও চলছে। ভুমিদস্যু, কালো ব্যবসার মালিক ও সংকীর্ণ দলবাজির রাজনীতি এখন পরস্পরের পৃষ্ঠপোষক। আর এক নতুন ফেনোমেনা হলো, পরাশক্তির মিডিয়া সার্ভিস হয়ে খাঁড়া হয়ে দিন বদলের কথা বলা।
মিডিয়া নিয়ে সমাজের এই বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত লড়াই চলছে। দেশকালের আকাঙ্খা ও আগ্রহ এবং সমাজের রাজনৈতিক সত্ত্বার (polity) মাত্রাটা ক্রমাগত বিনির্মাণ করে চলছে এর ডায়নামিক্স। "তথ্য অধিকার আইন" এখনও এই ডায়নামিক্সের বাইরের বিষয় হয়ে আছে। মূল চালিকা শক্তি স্হানীয় মিডিয়া কালচার ও প্রাকটিসের কাছে "তথ্য অধিকার আইন" এজন্য এখনও বিষয় নয়।
মিডিয়া নিয়ে সমাজের এই বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত লড়াইয়ের মাঝে নতুন উপায় হিসাবে ব্লগের আবির্ভাব। ব্লগের বিশেষত্ত্ব হলো এটা এখনও বাণিজ্যিক বিষয় নয়। বাণিজ্যিক সম্ভাবনা হিসাবে উঠে দাঁড়ানোর আগের লম্বা পর্যায় পার হচ্ছে সে। নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাই স্বভাবতই এর অনুষঙ্গ।
আবার ব্লগের কনষ্টিটিউয়েন্সি অর্থাৎ যারা এর খাতক বা সমাজের যে চাহিদা সে পূরণ করতে পারে সেটাও ইউনিক। ব্লগ হয়ে উঠতে পারে সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যম, যদিও কোন ব্লগ তা হতে চায় কিনা সে অন্য কথা। এটা ইন্টারএকটিভ ও তা সহজ। টিভি বা ছাপা প্রকাশ মিডিয়ার মত একমুখি প্রচার নয়। ফলে যে কাউকে সহজেই অংশগ্রহণকারী বানানো যায়, অবদান, ভুমিকা রাখার জায়গা করে দেয়া যায়। যেই ইন্টারনেট একসেস যোগ্য তাকেই সম্ভাব্য খাতক মনে করা সম্ভব। ফলে সীমিত হলেও বর্তমান বাংলাদেশে এই উপস্হিত খাতক সুবিধা নিয়ে সমাজে যেসব ইস্যুতে ট্যাবু (taboo) বা সামাজিক সাংস্কৃতিক বাধা আছে তা কোন ধরণের বাধা এড়িয়ে, কোন ধরণের অহেতুক সামাজিক ঝড় না তুলে আলোচনার বিষয় বানানো সহজ। যদিও এর অপব্যবহারও আছে। যেমন, একজন ব্লগার ইসলাম ত্যাগ করে সকলকে অন্য যে কোন ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে, কেউবা ইসলামের নবী-রসুলের বিরুদ্ধে কুৎসা গেয়ে খ্রীচান ধর্মের সেসব ধারা যারা ক্রসেডের লড়াই বাধাবার আকাঙ্খায় ওয়েবসাইট খুলেছে এবং ক্রসেডের লড়াইয়েই ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ত্বের সমাধান চাইছে - সেখান থেকে উদ্ধৃতি টানছে। অবশ্য বাংলাদেশের যারা উদ্ধৃতি টানছেন তাঁদের র্যাশন্যালিটিটা ঠিক ক্রসেডের লড়াই নয়। নিজের বদ্ধ সমাজের বিরুদ্ধে একটা ক্ষোভ, "অবাধ মুক্তবুদ্ধি চর্চার" একটা সুযোগ নেবার ধারণা এখানে কাজ করছে। যদিও এরা একাজের মাধ্যমে ক্রসেড লড়াইকে উস্কে দিল বা দাওয়াত দিবার বিপদ সম্পর্কে ওয়াকেবহাল কীনা তা আমরা নিশ্চিত নই। আমার বিশ্বাস ওয়াকেবহাল থাকলে তাঁরা তা করতো না। কারণ সচেতনে ক্রসেডের লড়াই বা ধর্মযুদ্ধ এঁদের কাছে ধর্মেই মতনই পরিত্যাজ্য।
আবার, যাদের চিন্তা গুছানো না বা সুনির্দিষ্ট আকার নেবার পর্যায়ে আছে সে ধরণের পাঠককেও ব্লগ নিজের সাথে লিপ্ত বা লেপটে ফেলতে পারে। এদের কাছে ব্লগ এডুকেটিভ হতে পারে, ক্রমশ সে সাড়া, প্রত্যুত্তর বা সওয়াল-জবাবের মত যোগ্য করে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।
ব্লগ যেমন কেবল ভালো লেখকের জায়গা ঠিক তেমনি ব্যাপক পাঠকের জায়গাও। পাঠক না থাকলে লেখক মূল্যহীন, ঐ লেখার কোন মানে হয় না। এই দূরত্ত্ব কমানোর মধ্যেই লেখকের সফলতা লুকিয়ে আছে। সামহয়ার সম্পর্কে মাহবুব মোর্শেদ একটা অবজারভেটিভ মন্তব্য ছিল, সামহয়ারে প্লাস-মাইনাস রেটিং দেবার সুযোগ উঠিয়ে দিলে এই ব্লগের ৫০% নিক বেকার হয়ে যেত, তাঁরা আছে কীনা খোঁজ পাওয়া যেত না। মাহবুবের কথার মধ্যে একপেশে একটা সত্যতা আছে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটা শ্লেষও আছে। তবু বলবো একজন ভাল মডারেটর হিসাবে এটা মাহবুবের আধেক-দর্শন বা উপলব্দি। বুদ্ধিমান মডারেটরের কাছে পাঠকের প্রয়োজনটা খাটো করে দেখাটা বোকামি। কেবল রেটিং করতে হলেও তাকে ব্লগে আসতে হয়। এতে কোন না কোন বিষয়ে পোষ্টে সে আকৃষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবাইকে ভারী ভারী কঠিন প্রসঙ্গে আকৃষ্ট হতেই হবে - এমনটা না হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আর মানুষের জীবনে এমন কিছু জায়গা নিশ্চয় থাকা দরকার যে জগতে আসলে কোন কিছুই তাকে বাধ্য হয়ে পড়তে বা মনোযোগ দিতে হয় না, পেশা নির্মাণের তাগিদ যেখানে তাকে তাড়া করবে না। যেকোন ভাবে তাকে প্রকাশিত হতে দিলে, লিপ্ত হতে সুযোগ দিলে তাঁর আরাম, সহজ বোধ করার কথা। আমাদের সামাজিক আড্ডায় রাজনৈতিক প্রসঙ্গ একটা অতি পরিচিত অনুসঙ্গ। আবার তার মানে এটাও নয় যে হাসি, তামাশা, ইয়ার্কি, খুনসুটি, পিছনে লাগা ওখানে চলে না। একটা হাল্কা পরিবেশ তৈরি করে নিয়ে আমরা সবই করি। হাল্কা আড্ডা মারতে মারতে আলোচনা সিরিয়াস জায়গায় চলে গেলে আমরাই আবার সিরিয়াসলি ওখানে অংশগ্রহণ করি। আমাদের ব্লগ কালচারের মধ্যে এই ধরণের আড্ডার ছাপই দেখা যায়। আমার অনুমান বাংলা ব্লগের কালচার এরকমই একটা রূপ লাভ করবে হয়তো। সামহয়ারের সাফল্যের সাথে অন্য ব্লগ উদ্যোগের তুলনায় এটাই আমার কাছে একটা অন্যতম কারণ মনে হয়। অন্যেরা সবকিছুকে সিরিয়াস বানিয়ে ফেলেছে। ফলে ব্লগারের ওখানে বেছে নেবার সুযোগ কমে গেছে। নিজের কোন এক মুডে কোন ধরণের ব্লগ পোষ্ট বেছে নিতে ব্লগারের সুযোগ যত কম থাকবে ঐ ব্লগে আসতে তাঁর আকর্ষণ ততই কমবে। কোন আড্ডায় যদি আড্ডার প্রসঙ্গ ঠিক করে দেয়া হয় তাহলে ওটা আর আড্ডা থাকে না, আলোচনা সভা হয়ে যায়। আমার ধারণা ব্লগে আড্ডার ভাব ধরে রাখাটা গুরুত্ত্বপূর্ণ।
এবার সুনির্দিষ্টভাবে সামহয়ারইন ব্লগ সম্পর্কে কিছু কথা বলব।
বিগত নির্বাচন ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজ একটা নতুন রূপ নিতে যাচ্ছে। এর একটা প্রভাব মিডিয়া হিসাবে ব্লগে সা.ইনে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি সত্যি সত্যি শকড, বলতে বাধ্য হচ্ছি সামহয়ারইন এর ধাক্কা সামলাতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার গত প্রায় দেড় বছর ইস্যু হিসাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছিল। এর প্রভাব কমবেশি সা.ইনে পড়ছিল। তবে নির্বাচনের সামনে এসে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে চাপ বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে সা.ইন ব্যানার করতে রাজি হয়। নির্বাচন শেষ হয়। তখনও পর্যন্ত সা.ইনের সিদ্ধান্তগুলোকে আমি অগোছাল অপ্রস্তুতের চাপ সামলানো হিসাবে দেখেছিলাম। সা.ইন ব্লগ কিন্তু তা প্রচার মাধ্যমও বটে। অথচ এর এডিটোরিয়াল পলিসি ততটাই দূর্বল যতটা সে ব্লগ চালানোর কমপিউটার টেকনোলজিতে সবল। দূর্বল বলতে বুঝাচ্ছি, সমাজের রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের ঝড়-ঝাপটা সে তো আসবেই। এসে পড়লে কী করবে এটা আগে ভেবে রাখার বিষয় যেটা, তার নীতিতে প্রতিফলিত হয়ে থাকার কথা। ফলে তা মোকাবিলাও সহজ। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ কী সে সম্পর্কে সচেতন ও হোম-ওয়ার্ক করে তৈরি না থাকার মানে নিজের ভাবনা অন্যকে ভাবতে দেয়া, তাঁর স্বার্থে নিজেকে পরিচালিত হতে দেয়া। যদিও ওখানে অনেকের মনে হবে আমি তো প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছি। এবং সত্যি সত্যি তা এক অর্থে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থও বটে, তবে তা সাময়িক ধরণের, ছোট লাভে বড় ক্ষতি, চাই কি এতে প্রতিষ্ঠানের আগামী অস্তিত্ত্বকে কখন হুমকির মুখে দাঁড় করানো হয়ে গেছে তা খেয়াল না করে ঘটে।
সামহয়ারইন দুটো ইস্যুতে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ ক্ষুন্ন করেছে। প্রথমটা অমি রহমান পিয়ালের পর্ণসাইটে যুদ্ধাপরাধের ব্যানার টাঙানোকে সমর্থন করে শওকত হোসেন মাসুমের সমর্থন সূচক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্লগ পোষ্ট আসতে শুরু করলে ব্লক করার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত।
কখনও কখনও এমন পরিস্হিতি আসে যখন ব্যক্তির স্বার্থ আর ব্যক্তির নিজেরই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায়। তবে বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনই একে মুখোমুখি হতে দেয় না। যাই হোক, এমন পরিস্হিতিতে কোন লোক পেশাদার হতে পেরেছে কীনা বা কতটুকু পেশাদার হয়েছে তা এক পরীক্ষার মধ্যে পড়ে যায়। পেশাদারিত্ত্বের প্রমাণ দেখাতে গেলে ব্যক্তি স্বার্থ, বন্ধুকে বাঁচানোর স্বার্থকে পিছনে ফেলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। সামহয়ারইন এখানে পেশাদারিত্ত্ব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্লগ এখনও কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় এই বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকলেও এই সিদ্ধান্তও ভুল ও আত্মঘাতি।
প্রথমত যে ক্ষীণদৃষ্টির সমাধান ভাবা হয়েছে এটা ফলাফলে কাউকেই বা কারও ইমেজই রক্ষা করেনি, না বন্ধুকে না প্রতিষ্ঠানকে। ক্ষীণদৃষ্টির সমাধানে ভাবা হয়েছে এই দুই স্বার্থ বুঝিবা মুখোমুখি। মোটেও না। মাসুম যদি মনে করে পালটা জবাব দেওয়ার চেয়ে তাঁর ইমেজ রক্ষা করা গুরুত্ত্বপূর্ণ তো সে পুনর্ভাবনামূলক একটা বক্তব্য দিয়েই বিষয়টার ইতি টানা যেত। আমরা একটা ভুল চিন্তা করতেই পারি বা লিখে ফেলতেই পারি। আমি যদি বুঝতে পারি ওটা ভুল তো সেই পুনর্ভাবনা বা সেকেন্ড থট প্রকাশ করতে পারাটাই তো সবচেয়ে সাহসের ও গঠনমূলক সমাধান। এটাকে যে আবার প্রশংসা জানাতে পারবে না তাকেই তো আমরা তখন দোষী ও দায়ীত্ত্বজ্ঞানহীন মনে করব। এরকম পুনর্ভাবনা বা সেকেন্ড থট প্রকাশের ঘটনা ব্লগে বহুবার ঘটেছে। এমনকি এই প্রসঙ্গে আমাদের পিয়ালের নেয়া পথের প্রশংসা করা যায়। পিয়ালের সারকথা আমার জবানিতে বলি। ওর পোষ্টের প্রথম অংশ হলো ও কি পরিস্হিতিতে পড়ে কী কাজ করেছে। আর শেষ কথা হলো, ওর জীবনসঙ্গী যে সবচেয়ে কাছে থেকে তাঁর সবকিছু দেখেছে জানে ফলে তাঁর বিচার হলো সবচেয়ে বিবেচনা সম্পন্ন; তাঁর সম্মতি পিয়ালের পাথেয়। অর্থাৎ পিয়ালের বক্তব্য হলো নৈতিক বিচারই ঘটনার একমাত্র বিবেচনা বা বিচার্য বিষয় নয়, এর আরও বিবেচনার দিক, বিষয় আছে। লক্ষ্যণীয় পিয়াল নৈতিক বিচারটা ভুল তা সে বলছে না। এই পরিস্হিতিতে আমি মনে করি আমরা পাঠকদের এরপর আর তর্ক তোলা ঠিক নয়। পিয়ালের জীবনসঙ্গীর উপর আমাদের ভরসা করতেই হবে। মাসুমের সাথে পিয়ালের এই এ্যাপ্রোচ তুলনায় শতগুণে বুদ্ধিমানের। পিয়াল নিজেকে সফলভাবে ব্যাখ্যা করতে পেরেছে। আমরাও মানবিকভাবে পিয়ালকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
সামহয়ারইন দ্বিতীয় যে ইস্যুতে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ ক্ষুন্ন করেছে তা হলো গাজা ইস্যুতে ব্লগারদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা, ব্লগ মুছে দেওয়ার ইত্যাদি।
ঘটনাটা হলো, গাজায় নির্মম বোমাবাজি, নৃশংসতার প্রতিক্রিয়া সারা দুনিয়ায় সবদেশে কমবেশি হয়েছে। বিশ্ববাসী এই নির্মমতা প্রত্যক্ষ করে কোন বিশ্বজনমত তৈরি করে ফেললে তার প্রথম শিকার হবে আমেরিকান নীতি ও বৈশ্বয়িক স্বার্থ। আর সেই সাথে আমেরিকান নীতি সমর্থনকারী কোন স্হানীয় রাষ্ট্র ও সরকার। এটাই ছিল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আদি কারণ। ইউরোপকে প্রথম তিনদিন সময় নিতে হয়েছিল তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবে কীনা। মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্বিচারে বোমাবাজি, নিষিদ্ধ ফসফরাস ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করবে কীনা। কারণ, ইউরোপের স্বার্থ চিন্তাভাবনার দিক থেকে দেখলে, র্যাডিক্যাল ইসলামের সমস্যায় তার দিন কাটছে। এর মধ্যে হামাসের প্রতিরোধ কী "ইসলামি জঙ্গীবাদের" কাজকারবার? এই নিয়ে বিতর্কে ইউরোপ তিন দিন পার করেছে। এরপর দেরি হলেও তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে।
আমরা পারিনি। আমেরিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোন প্রতিক্রিয়া যেন জনবিক্ষোভে সংগঠিত না হয় এজন্য প্রচার মাধ্যমকে সংযত নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের যে ব্রিফিং ছিল তা পালনের একমাত্র ও বেশিবেশি খেদমতগার হওয়ার দায়িত্ত্ব নিয়ে ফেলেছে সামহয়ারইন। অথচ সীমিত হলেও কোন টিভি বা প্রিন্ট মিডিয়া গাজার নৃশংসতা প্রচার বন্ধ করে নাই। কারণ, ব্রিফিং সত্ত্বেও সব মিডিয়া পরিচালকই জানে ও মানে, মিডিয়ার একটা নিজস্ব স্বার্থ আছে। যা ক্ষুন্ন করা আত্মঘাতি। আবার এরকম একটা ব্রিফিং চালু আছে যে গাজার প্রতিক্রিয়া ও জনবিক্ষোভে নিয়ন্ত্রণ না করলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আবহ নষ্ট হয়ে যাবে। এর মানে কী? যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়ার সাথে আমেরিকার ওয়ার অন টেররের সম্পর্ক কী? তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা তুলে আমরা কী আসলে সরকারিভাবে বাংলাদেশকে আমেরিকা ইসরায়েলের যুদ্ধের পক্ষভূক্ত করছি, আমেরিকার 'ওয়ার অন টেরর' এর যুদ্ধের পক্ষভুক্ত হচ্ছি, যুদ্ধের দায়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলছি?
আমরা আসলেই যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই তাহলে তো আমাদেরকে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে এর সাথে আমেরিকার ওয়ার অন টেররের সম্পর্ক কী? আমাদের নিশ্চিত হতে হবে আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাচ্ছি না আমেরিকার ওয়ার অন টেররের যুদ্ধে সামিল হতে চাচ্ছি।
সেসব রাজনৈতিক বিষয় থাক। সামহয়ারইন কী এসব জেনে শুনে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হতে চাচ্ছে। এটা জেনে শুনে না না জেনে - আমরা স্পষ্ট জানি না। ১. যদি জেনে শুনে হয়: এর মানে প্রতিষ্ঠান হিসাবে সামহয়ারইনের ভবিষ্যত এখানে আর গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়। এছাড়া সামহয়ারইন প্রথম নিজেকে বিক্রিযোগ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় হয়েছে বুঝতে হবে। ২. সিদ্ধান্ত যদি সুচিন্তিত না হয়: তবে সামহয়ারইনকে তার আগে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করতে, ভেবে দেখতে বলব। সেক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালার উপর পেশাদারিত্ত্ব নিয়ে সামহয়ারইনকে দাঁড়াতে হবে।
প্রাসঙ্গিক একটা কথা বলে কথা শেষ করব।
পেশাদারী ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন প্রতিষ্ঠানের কোন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্হানের দিকে ঝুঁকে পড়াটা বুদ্ধিমানের কাজ না। বরং রাজনৈতিক অবস্হানগুলোকে একপাত্রে নীতিমালার অধীনে দক্ষ হাতে বেঁধে রাখার ব্যবস্হা করাই তার কাজ। কোন রাজনৈতিক অবস্হানই তার নিজের হতে পারে না, বরং প্রত্যেকটা রাজনৈতিক অবস্হানই তার সম্ভাব্য ক্রেতা, গ্রাহক বা খাতক। এটা আবার বাণিজ্য-লক্ষীরও স্বার্থ।
সামহয়ারইন নিয়ে আমি শঙ্কিত। আমার ধারণা বদলে যাচ্ছে। তবু কামনা করছি আমার ধারণা মিথ্যা হোক।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মিডিয়া ;
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৪০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: কেন ভাল লাগল জানতে পারলে আমার আরও ভালো লাগত।
রাজর্ষী বলেছেন:
বেশী বোঝা ভালো না।
লেখক বলেছেন: আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
একেবারে মনের কথাগুলো বলেছেন। আমিও এমন একটা পোস্ট করব ভাবছিলাম। আপনি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে এনেছেন। +
লেখক বলেছেন: ভালো।
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন:
গাজা ইস্যুতে ব্লগারদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আমার চোখে পড়ে নি। অধিকাংশ ব্লগার ইসরাইলি আগ্রাসনকে ধিক্কার জানালেও হিব্রু নামক এক ব্লগারের ইসরাইলকে সমর্থন করা এক পোস্ট ব্লগারদের অনেক প্রতিবাদের পরও ঝুলতে দেখা গেছে। আবার ব্লগার সৌম্যের নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাও প্রথম পাতায় দু'দিন থেকেছে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে বর্তমানে আর কোন রাজনৈতিক অবস্হান হওয়া উচিত বলে মনে করি না। এমনকি বিএনপির কোন সমর্থকও যুদ্ধাপরাধীর বিচার কামনা করতে পারেন। এটি এখন নৈতিকতার আর সচেতনতার প্রশ্ন।
লেখক বলেছেন: মোহম্মদ আরজুর এই পোষ্টটা কি দেখেছেন?http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28894296#comments
Click This Link
আপনার মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশের সাথে আমি একমত যে, বিএনপির কোন সমর্থকও যুদ্ধাপরাধীর বিচার কামনা করতে পারেন।
এছাড়া "এটি এখন নৈতিকতার আর সচেতনতার প্রশ্ন" - এই সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে আপনার চেয়ে আমি কম না হলেও বোধহয় বেশি খুশি হতাম। কিন্তু আমি নিশ্চিত না আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়াটার মানে আমেরিকার ওয়ার অন টেররের যুদ্ধে সামিল করানো হবে কী না।
এছাড়া আরও অনেক ব্যবহারিক প্রশ্ন আছে। আলাদা পোষ্টে আনব। আশা করি তখন দেখা হবে।
হাসিব বলেছেন:
এগ্দল ব্লগারের একটা নন ইস্যুরে ইস্যু বানানির চেষ্টা বড়ই আমোদ দিতেছে ।
পি মুন্সি ভাইসাহেব, আমি তো শ'খানেকের বেশী ইসরায়েল বিরোধী পোস্ট দেখলাম । ইজরায়েল ইস্যুতে পোস্ট মোছা বা ব্যান খাওয়া কোন ব্লগারের উদাহরন থাক্লে দেন । আর ঐ উদাহরন (যদি থাকে) থিকা সামহয়ার ইজরায়েল ইস্যুতে কোন একটা রাজনৈতিক পক্ষ নিতেছে (বা আপনার ভাষায় "গাজা ইস্যুতে ব্লগারদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা" করতেছে) এইরকম জেনারালাইজড ডিসিশনে কিভাবে আসলেন সেইটাও বলেন ।
লেখক বলেছেন: আগের বার বলেননি। তবে এবার আপনার ভালো লাগার কারণগুলো বোধহয় বুঝতে পারব।
আপনার প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে, মোহাম্মদ আরজু, সুমন রহমান, রিফাত হাসান বা মারুফ আল্লাম ইত্যাদি এর অভিযোগগুলো বিরুদ্ধে আপনার বক্তব্য তৈরি আছে। আমি কোন জেনারালাইজড ডিসিশনে যেতে চাই না। সামহয়ারের বিরুদ্ধে এদের অভিযোগগুলো আমাকে বিচলিত করে। এদের অভিযোগগুলোর সদুত্তর দিয়ে সুরাহা করে সামহয়ার আবার দাঁড়িয়ে যাক -এই কামনা করি।
কৌশিক বলেছেন:
আমরা আসলেই যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই তাহলে তো আমাদেরকে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে এর সাথে আমেরিকার ওয়ার অন টেররের সম্পর্ক কী? বাংলাদেশে এমন মানুষ হাজার কয়েক লাখে লাখ যারা ওয়অন অন টেরর উচ্চারণই করতে পারে না, জানা তো দূরের কথা, কিন্তু একাত্তুরে ঘরের পাশের একজনও স্বাধীণতার দাবীতে সোচ্চার একজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদদে নির্যাতন করেছে। তারা কি "আমাদের" অন্তুর্ভূক্ত?
আমি সেই আমাদের জন্য কাজ করি - কারণ আমিও জানি না ওয়ার অন টেরর কি? আমার দরকার নেই জানা। আমি সিম্পলী ফাক দেম।
এবার বলুন কেন আমাকে প্রশ্ন করতে হবে? আর কেন প্রশ্ন করতে হবে না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেন হয়নি? জাস্টিস কেন হয়নি? কেন প্রশ্ন করবো না?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
শেরজা তপন বলেছেন:
অনেকক্ষেত্রেই একমত-
লেখক বলেছেন: আপত্তির জায়গাগুলো জানালে ভালো লাগত।
কৌশিক বলেছেন:
হাসিব, মনে রাখতে হবে পিমুন্সী সর্বদা অনলাইনে থাকেন না। সুতরাং পর্যবেক্ষণ জনিত লিমিটেশন তার ছত্রে ছত্রে।
লেখক বলেছেন: এ তো দেখছি আপনারই পর্যবেক্ষণ জনিত লিমিটেশন।
শামীম দ্যা রক্ বলেছেন:
এতলম্বা ব্লগ পড়ার টাইম নাই।
লেখক বলেছেন: সত্যিই তাই। চেষ্টা করেও পারি না। মাফ করবেন।
হাসিব বলেছেন:
আরেকটা প্রশ্ন পি মুন্সি ভাইসাহেব,
বর্তমান অবস্থায় বা ধরেন বিএনপি যদ্দিন ধরে জামাতের সাথে জোটবদ্ধ অবস্থায় আছে তদ্দিন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীর বিচার হৈলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে আম্লীগের মতো প্রতিক্রিয়াশীল দল ।
এখন কন, আম্লীগের মতো একটা প্রতিক্রিয়াশীলের সুবিধা হয়ে যাবে এই যুক্তিতে আমি বা অন্যরা যারা এই নিয়া চিল্লাবিল্লা করে তাগো যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়াটা হারাম হবে কিনা ।
লেখক বলেছেন: জী হাসিব ভাই সাহেব।
আপনার লেখা আগে পড়েছি। বিশেষ করে মানস চৌধুরির কোন একটা লেখার উত্তরে আপনার আলাদা পোষ্ট। আপনার বিচার ক্ষমতা সম্পর্কে যতটা সম্ভ্রম জেগেছিল আজ উপরে আপনার মন্তব্য দেখে ততটাই দমে গেলাম।
আপনার মত করে যারা "যুদ্ধাপরাধীর বিচার" না বুঝে তাদেরকে এভাবে এতদ্রুত শত্রু শিবিরে ঠেলে দেন তো একসময় আবিস্কার করবেন বন্ধুর চেয়ে শত্রু বেশি বানিয়েছেন। আর যাদেরকে বন্ধু ভেবেছেন ওমন বন্ধু থাকলে কারও আর শত্রুর দরকার হবে না।
যুদ্ধাপরাধের বিচার চাওয়াটা সবসময়ই হালাল শুধু না, ফরজ কাজ। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার বলতে যুদ্ধাপরাধের বিচারই যেন করে আসতে পারেন, অন্য কিছু না - এই দোয়া করি।
আর দয়া করে এটাকে আওয়ামি লীগ-বিএনপির ইস্যু - এভাবে হাল্কা যুক্তি আনবেন না। আপনার ক্ষমতাকে খাটো করবেন না।
যারা আমরা যুদ্ধাপরাধের আসলেই বিচার চাই তাদের আরও অনেক দায়িত্ত্বশীল চিন্তা-তৎপরতার পথ পারি দিতে হবে।
লেখক বলেছেন: নীচে কৌশিকের মন্তব্যে একটা জবাব সংযোজন করেছি। আশা করি দেখবেন।
লেখক বলেছেন: কোন কিছুই বেকার যায় না।
লেখক বলেছেন: বুদ্ধিজীবী বলে গালিটা কাকে দিলেন?
বিডি আইডল বলেছেন:
পি মানে কি?
লেখক বলেছেন: নিচে কৌশিকের উত্তর দেখুন।
লেখক বলেছেন: হাসিব বলেছে কোন পোষ্ট মুছা হয় নাই।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমিও বেকার হতে চাই নাই।
জোহান বলেছেন:
এত বেশী বুইঝা কাম নাই
লেখক বলেছেন: এটা কি কিছু না বুঝতে চাইবার অবোধের আব্দারের মত।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
কিছু কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত থাকলেও লেখাটা ভালো হয়েছে। প্লাস।
লেখক বলেছেন: আপনি প্লাস দিয়ে ঝামেলায় ফেলে দিলেন। ব্লগাররা নির্ঘাত কনফিউজড হবে।
আপনার দ্বিমতগুলো শোনার জন্য অস্হির হচ্ছি।
কৌশিক বলেছেন:
জেবতিক ভাই, আপনার স্রেফ মাইনাচ দেয়াটা মনপুত হইলো না আমার। মনে হয় আরেকটু ভিতরে গিয়ে কিছু লেখার ছিল আপনার। এ্যাজ এ ভক্ত আমি সেটা প্রত্যাশা করছিলাম। বিডিআইডল, পি নিয়ে গবেষণা বাদ দিয়ে আপনি মনে হয় পোস্ট সম্পর্কিত অন্য বিষয় নিয়ে কথার বলার মত মেধা রাখেন। আই বিলিভ দ্যাট।
আরিফ, কেন প্রশ্ন করছেন ভায়া। আপনি জানেন যে কিছু পোস্ট মোছা হয়েছে, কিছু পোস্ট মোছা হয়নি, যদি না জেনে থাকেন তবে আমার পর্যবেক্ষণে আস্থা রাখতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হইলো কেন আপনি গাজা বিষয়ে পোস্ট মোছা এবং না মোছার ক্ষেত্রে মডারেটরদের আদর্শিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন? ইউ নো দেয়ার ফলোয়িং এ রুল যা তারা এত এফিসিয়েন্সীর সাথে ফলো করতে পারে না, এবং যে রুলটা নট ফর্মড বাই কনসিডারিং অল লজিক। বেশীরভাগই আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে।
জোহান, বেশী বুঝতে অসুবিধা কি? আমার তো মনে হয় আপনার অনেক কিছু বোঝার ক্ষমতা আছে।
(পিমুন্সীর উত্তর দিলাম, তার লেখার একজন ভক্ত হিসাবে)
লেখক বলেছেন: আপনি সত্যিই আমার ভক্ত।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
কৌশিক , মাইনাস দিলাম মানে জানালাম যে লেখাটি আমার ভাল লাগেনি , এর বেশি আলোচনার যোগ্য মনে করলাম না । এই লেখাটির ভিতরে গিয়ে একে নাড়াচাড়া করার উপায় নেই কারন এই ধরনের লেখা পূর্বসিদ্ধান্তজাত । এগুলোতে যোগ দেয়া নিছক সময় নষ্ট । উগ্র ও মৌলবাদী অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে তর্ক আগায় না । একই কারনে ব্লগে নাস্তিক আস্তিক তর্কে আমার কোন কমেন্ট আপনি দেখবেন না ।
মিডিয়া পাঠের দৃষ্টিকোন আমার এবং পিমুন্সীর ভিন্ন , সেটাই স্বাভাবিক । কিন্তু এই দৃষ্টিপাত যদি তর্কের মাধ্যমে আগাবে এমন সম্ভাবনা দেখতাম তাহলে অংশ নিতাম ।
এই লেখাটি অনেকটাই" এককালের বাম , বর্তমানের ডান" এই ধরনের লোকদের স্বাভাবিক লেখা হিসেবে এড়িয়ে গিয়ে শুধু অসমর্থন জানানোর মাধ্যমেই আমার অবস্থান প্রকাশ করলাম ।
আপনাকে ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: " এককালের বাম , বর্তমানের ডান"
আপনার বিচার বিবেচনার মাপকাঠি অকেজো, পুরানা। ধারালো করুন। পুরানা বিচার কাঠি দিয়ে নতুন ঘটনা মাপা যায় না।
বোলারস ব্যাকড্রাইভ বলেছেন:
পি.মুন্সী তে কী হয়? প্রণব মুন্সী? পুমুকেশ মুন্সী?...এইটা একটা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদী কমেন্ট কারণ প দিয়া কোন আরবী কথা মনে পড়ে না। সুতরাং প দিয়া যা নাম মনে পড়ে, তারা হয় হিন্দু নয় নাসারা নয় নাস্তিক।
আমি হিন্দুদের পক্ষে এবং ছাগু পুন্দানোর পক্ষে। যারাই ছাগু পুন্দানোর পথরুদ্ধ কইরা ছাগুদের মুখে ক্ষেতের ধান আউগাইয়া দিবে তাদের সবাইরে গ্যাংব্যাং করার পক্ষে।
যে ব্লগ ছাগুপ্রেমি হবে তারে তার মাশুল দিতেই হবে। কিছু করার নাই। পার্ট অফ দ্য গেম।
লেখক বলেছেন: আপনার কাছে আমি হিন্দু থাকতে চাই।
স্টিংরে বলেছেন:
ধুর। মাইনাস। যাইগা।
লেখক বলেছেন: যান
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
ওপরে ভালোলাগার কথা জানিয়েছিলাম। এটাও জানাতে চাই, পি মুন্সী আমি আপনাকে সাফল্যের সঙ্গে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আপনি জানেন, আপনার সঙ্গে আমার মোটামুটি প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক আছে।
লেখক বলেছেন: তাহলে তো ভালোই। তবে আমি নিশ্চিত না। নিশ্চিত হওয়াটা জরুরীও নয় অবশ্য।
সিনেমায় যাকে দেখেন তাকে সাক্ষাতে দেখলেও কিন্তু এমন মনে হয়। তবু আমি আপনার ধারণা ভাঙতে চাই না।
আপনার দ্বিমতের কথা আমি শুনতে আগ্রহী।
আসিফ রহমান বলেছেন:
পি = পোদপাকা
আসিফ রহমান বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কথা বললেই কিছু লোকের পোদে প্রদাহ শুরু হয়। এই প্রদাহ মুন্সীদের কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন জনাব রহমান?
লেখক বলেছেন: আপনি কি নিশ্চিত যে আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বলছি?
আপনি সঙ্গম নিয়ে থাকলেই ভাল হয় না?
বিডি আইডল বলেছেন:
কৌশিক বলেছেন: বিডিআইডল, পি নিয়ে গবেষণা বাদ দিয়ে আপনি মনে হয় পোস্ট সম্পর্কিত অন্য বিষয় নিয়ে কথার বলার মত মেধা রাখেন। আই বিলিভ দ্যাট। কৌশিক দা আমি ফাউল টাইপের ব্লগার এত যাতে উঠাইয়েন না
লাল মিয়া বলেছেন:
আরিফ জেবতিক বলেছেন: এই লেখাটি অনেকটাই" এককালের বাম , বর্তমানের ডান" এই ধরনের লোকদের স্বাভাবিক লেখা হিসেবে এড়িয়ে গিয়ে শুধু অসমর্থন জানানোর মাধ্যমেই আমার অবস্থান প্রকাশ করলাম ।আপনাকে ধন্যবাদ ।
পুরা বস্ একটা মন্তব্য।
লাল মিয়া বলেছেন:
লেখক বলেছেন:আপনার বিচার বিবেচনার মাপকাঠি অকেজো, পুরানা। ধারালো করুন। পুরানা বিচার কাঠি দিয়ে নতুন ঘটনা মাপা যায় না।তুমার লেজ দেখা যায় ছাগুরাম!
লেখক বলেছেন: আমার কথা বাদ দেন। সবাইরে ছাগুরাম বানাবো সহজ, নিজে কখন ছাগুরাম হয়ে গেছেন তা টের পাওয়া কিন্তু সহজ না।
কৌশিক বলেছেন:
নিশ্চিত যে দুইজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে পর্যবেক্ষণজণিত লিমিটিশনের অভিযোগ এনেছে। তবে আমি স্বীকার করছি - আমার লিমিটিশেন আছে। কিন্তু আপনার লিমিটিশনের বিষয়ে আপনি কি সচেতন?প্রশ্ন হচ্ছে লিমিটেশনগুলোর চিহ্নায়ন, বা আপনাকে তো জানাতে হবে.....মানে জানতে চাইবেন...আপনার গুলো....
উত্তর সহজ। আপনার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল মন্তব্যগুলো কেন? এর কারণ অন্বেষনেই উত্তরটা পাওয়া যেতে পারে। যদিও একটা সংখ্যাগরিষ্ট শক্তি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেই কোন কিছু প্রমাণ করা যায় না।
এসবই ফালতু লজিক। মানে আমি যা দিলাম। আমি যেটা বলতে চাই....তা হলো...
১. প্রথমটা অমি রহমান পিয়ালের পর্ণসাইটে যুদ্ধাপরাধের ব্যানার টাঙানোকে সমর্থন করে শওকত হোসেন মাসুমের সমর্থন সূচক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্লগ পোষ্ট আসতে শুরু করলে ব্লক করার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত।
২. গাজা ইস্যুতে ব্লগারদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা, ব্লগ মুছে দেওয়ার ইত্যাদি।
এই দুটো সিদ্ধান্ত সামহোয়ারইন নিয়েছে বলে আপনার পর্যবেক্ষণজনিত লিমিটেশনের কথা বলেছি। মা-বাপ তুলে আক্রমনকারী পোস্টগুলো কেবল মোছা হয় দেখেছি, কোন আদর্শ-বিষয়ক সংকট/আভিজাত্য মডারেটরদের দেখি নাই - একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ অবসেশন ছাড়া। মনে হয় আপনার একটু ইন্ট্যারএ্যাকটিভতা এই বিষয়টাকে আপনার সামনে রিভিল করাতো।
তবে প্রিন্ট, মিডিয়া থেকে ব্লগের চরিত্র চিত্রায়নের প্রথমদিকের কয়েক অনুচ্ছেদের জন্য প্রশংসা করছি।
লেখক বলেছেন: কৌশিক, এটা আপনার চতুর্থ মন্তব্য। এবার আপনার অনেকগুলো কথাই আমি সঠিক মানি। আমি অনেকবারই আপনার সাথে আলোচনা করতে চেয়েও থেমে গেছি। রাগের বশে বা কোন গালাগালি শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য দেখলে আমি দমে যাই। মন হয় এই অবস্হায় কারও সাথে আলোচনা চলে না। তাঁকে স্হির হতে সময় দেয়া উচিত। হয়তো এতে কোন ভাল ফল পাবো এই আশায়। আপনি ফিরেছেন দেখে ভাল লাগছে, খুশি হয়েছি। আপনাকে স্বাগত জানাই।
এবার সোজা প্রসঙ্গে আসি।
আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে অবশ্যই সোচ্চার হব। আওয়ামি লীগ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকারের উপর চাপ জারি রাখতে হবে। কিন্তু একইসাথে স্পষ্ট মনে রাখতে হবে এর সাথে বিশ্বব্যাপী "র্যাডিক্যাল ইসলাম", "সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ" বলে যে তৎপরতা চলছে তা মোকাবিলার কোন সম্পর্ক নাই। সম্পর্ক নাই মানে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে পারলে এই তৎপরতা মোকাবিলা হয়ে যাবে না। কালকে গোলাম আজম বা নিজামীর ফাঁসি হয়ে গেলে বাংলাদেশে "র্যাডিক্যাল ইসলাম", "সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ" বলে যে রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎপরতা আছে তা মোকাবিলা বা বন্ধ হয়ে যাবে না। কোন ঘোরের মধ্যে না থেকে বাস্তবতা বিচারবোধ আমাদের হারানো চলবে না। এর মানে আমি অবশ্যই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবী ছেড়ে দিতে বলছি না, বুঝতেই পারছেন।
বিশ্বব্যাপী ইসলামের পরিচয় তৈরি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ফেনোমেনন দেখা যাচ্ছে - আল কায়েদা লাইন, কুতুবের লাইন, হিজবুত তাহরীর, কারযাভি লাইন, দেশীয় জেএমবি ইত্যাদি - এগুলোকে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ বলে যুদ্ধে মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এটা এখন নয় বছরে পড়েছে। নতুন ওবামা সরকার এই যুদ্ধ থেকে বের হবার পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অন্তত পরিস্কার করেই বলছে, কমপক্ষে এটা ব্রিদিং স্পেস বা কিছুদিন শ্বাস নেবার মত জায়গা বের করা তার লক্ষ্য। ফলে বুশের পররাষ্ট্রনীতির "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ" বা ওয়ার অন টেরর ওবামার হাতে পরে সোজাসাপ্টা বদল হবে না, ওবামা বদলাতে পারবে না জানি। ফলে এমনটা আশা না করলেও সত্যিই কিন্তু একটা শ্বাস নেবার মত জায়গা বের করে আনতে পারবে কীনা এটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশে আমাদের মধ্যে যারা ইসলামের এই রাজনৈতিক উপস্হাপনকে পছন্দ করেন না, বিরোধিতা করতে চান তাদেরকে সরাসরি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির ছলে কোন আড়াল না নিয়ে প্রকাশ্যে বের হয়ে বিরোধীতা করাই উচিত হবে। কারণ, আগেই বলেছি ধরা যাক, যুদ্ধাপরাধের বিচারে যদি জামাতে ইসলামির সমস্ত নেতা কর্মীর ফাঁসি দিয়ে ফেলা যায় তবু বাংলাদেশে ইসলামের এই রাজনৈতিক উপস্হাপন বন্ধ হবে না। কারণ ইসলামের এধরণের আত্মপ্রকাশের কারণ বাংলাদেশ নয়, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধও নয় - বরং বিশ্বব্যাপী বাইরে কোথাও, বাইরের কোন কারণে।
এর সোজা কথাটা হলো, বাংলাদেশের আমাদের মধ্যে যারা ইসলামের এই রাজনৈতিক উপস্হাপনকে মোকাবিলা করতে চান তাদেরকে আলাদা রাজনৈতিক চিন্তা তৎপরতা নিয়ে খোলাখুলি এগিয়ে আসতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি সেই রাজনৈতিক চিন্তা তৎপরতা নয়।
আবার আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা ভাবেন, আমরা তো পরিস্কার জানি "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ" আর যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি - দুটো আলাদা জিনিষ। "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ" এর আমেরিকান পররাষ্ট্র নীতিকে সমর্থন দিয়ে কাঁধে নেবার বিনিময়ে আমরা যদি গোলাম আজমের বিচারটা সেরে নিতে পারি তো খারাপ কী? এতে তো ক্ষমতাও আসা এবং থাকা যাচ্ছে।
এর মানে হলো,
১. ইসলাম নিয়ে যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ফেনোমেননের উত্থান ঘটছে একে বাংলাদেশের মত করে রাজনৈতিক চিন্তা তৎপরতা দিয়ে মোকাবিলার কাজটা করতে চাই না, ফেলে রাখলাম।
২. ফেলে রাখলাম মানে তো খালি পড়ে থাকবে না। ওর মানে হবে, পশ্চিম যেভাবে এটাকে সন্ত্রাসবাদ বলে নিজ স্বার্থ বিচারে যুদ্ধে মোকাবিলা করছে সেটাকেই আমাদের রাজনৈতিক ভাবনা বলে গ্রহণ করে নিলাম।
৩. বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রের জন্য জেএমবি ধরণের ইসলামি রাজনীতি কতটা হুমকি সেই বিবেচনায় নয়, বরং অন্যান্য রাষ্ট্র বিশেষ করে ভারত ও আমেরিকান রাষ্ট্রের জন্য আল কায়েদা ধরণের রাজনীতি কেমন হুমকি তার মাত্রা ও ভিত্তিতে, তাদের স্বার্থে, ঐ রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শত্রু নির্ধারণ করলাম।
৪. অন্য রাষ্ট্রের স্বার্থে বা আমেরিকান রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে পাকিস্তানের কী দশা, নাকানি চুবানি, নিত্যদিন বোমাবাজির স্বীকার, বেনজিরের মৃত্যু, দেশ টুকরো টুকরো হয়ে যাবার হুমকিতে পড়াসহ আরও কত কী আমাদের দেখার জন্য অপেক্ষা করছে কে জানে। চোখের সামনে এই উদাহরণ তো আছেই। ভৌগলিকভাবে আফগানিস্তানের পড়শী হওয়াতে আমেরিকান রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করতে কতটা সে বাধ্য হয়েছে সেটাও অবশ্য বিবেচনায় নিতে হবে, যে সমস্যাটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নাই। বিশ্বব্যাপী ইসলামী রাজনৈতিক উত্থান ও বহু পুরানো কাশ্মির সমস্যা মোকাবিলায় ভারত সমস্যায় আছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় তার আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি যে যথেষ্ট নয় ও সঠিক জায়গায় নাই, হিমশিম খাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। আমরা সবাই তা দেখতে পাচ্ছি। পারমাণবিক শক্তিধর ভারত কেন তিনদিন তার বাণিজ্যিক রাজধানীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলো না? কেন সে র্যাডিক্যাল ইসলামি রাজনীতির শিকার? এসব সমস্যা ভারতের আছে যা ভারতীয় সমাজকে নিজেই রাজনৈতিকভাবে ও যুদ্ধে মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বাইরের র্যাডিক্যাল ইসলামি রাজনীতির শাখা হিসাবে তৎপর হয়েছে বা আমেরিকা, ভারত বা পশ্চিমা কোন স্হাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে - পরিস্হিতি এখনও এমন জায়গায় নয় বা পৌছেনি। যারা বাংলাদেশে তৎপর তারা বাংলাদেশেরই। বাংলাদেশে বসে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করা তাদের উদ্দেশ্য, রাজনৈতিকভাবে তারা আমেরিকা ও ভারত বিরোধী কিন্তু আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্ত্ব তাঁরা এপর্যন্ত নেয়নি। এই ইউনিক পরিস্হিতিটার বেশ কিছু সুবিধা আছে। এই সুবিধা আমরা নিতে পারব কী না নির্ভর করছে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বা সরকারি আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে কী অবস্হান নেই এর উপর। আমরা যদি আমাদের ক্ষমতার লোভে অন্য দেশের হয়ে ভাড়া খাটতে না চাই, পাকিস্তানের মত আমেরিকা বা ভারতের হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ লড়তে না চাই তবে আমরা শত্রুতা দাওয়াত দেবার মত কাজ এড়িয়ে আমরা সেই সুবিধাটা নিতে পারি। নইলে, এখনও যে ভারসাম্যটা আছে এটা নষ্ট ও অস্হিতিশীল করে অন্যের যুদ্ধ ও শত্রুকে নিজের যুদ্ধ ও শত্রু বরণ করে নেয়া হবে। প্রতিদিন বোমাবাজির শিকার হব, অর্থনীতি লাটে উঠবে। আজকের অস্হিতিশীল দুনিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্বঅর্থনীতির মন্দা যখন শিয়রে, ওবামা যাথেকে একটু শ্বাস নেবার সময় বার করার পথ খুজছেন তখন বাংলাদেশের ইউনিক তুলনামূলক সুবিধাগুলো সদব্যবহার না করে আমরা শত্রু বাড়ানোর ও তাকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনার পথ কেন খুজব তা ভেবে দেখতে হবে।
৫. এসব কিছুর বিনিময়ে, যুদ্ধ বোমাবাজিতে বিধ্বস্ত একটা পাকিস্তান বা ভারতের মত দেশ হওয়ার বিনিময়ে, এতসব মুল্য দিয়েও শেষ পর্যন্ত আমরা গোলাম আজমের বিচার পর্যন্ত পৌছাতে পারব তো? সে প্রশ্ন আছে। এমন এক শর্তে আমরা গোলাম আজম বা জামাতের বিচার পথে যাচ্ছি যাতে আমাদের রাষ্ট্র নিজেই ইরাক বা পাকিস্তানের মত অস্তিত্ত্বের সঙ্কটে পড়ে যাবে।
৬. আমার এতসব কথার মানে কী গোলাম আজমকে বাঁচিয়ে দেয়া? একদম না। আমাদের দাবি জানতে হবে, চাপ সৃষ্টি করে বলে যেতে হবে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। কিন্তু দক্ষিণ এশীয় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী টাক্সফোর্স গড়া আমাদের কাজ না। আমরা এতে নাই। ভারতের সমস্যা ভারতেরই। আমরা ঐ সমস্যা বাড়ার কারণ হতে চাই না, আবার ভারতের যুদ্ধ ও শত্রুকে নিজের যুদ্ধ ও শত্রু বলে দাওয়াত পাঠাতে চাই না। আমাদের রাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতি এই পদক্ষেপ আমরা নিতে পারি না। আবার, আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে, "সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অনন্ত যুদ্ধের" আমরা সমর্থক বা অংশীদার হতে পারি না, চাই না। এছাড়া, ওবামা নিজেই যখন এটাকে কম ধারালো করে, নিঃশ্বাস নেবার জায়গা বের করতে চাচ্ছে তখন ওখানে আগ বাড়িয়ে আমাদের অবস্হান নেবার কী আছে?
এই হলো আমার যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে আপাত কিছু কথা। এই প্রসঙ্গে আবেগহীনভাবে আরো প্রচুর কথা বলার আছে। আলাডা পোষ্টে বলব।
এছারা সামহয়ার প্রসঙ্গে আমি আগেও বলেছি, সামহয়ার একটা ব্লগ মানে একটা মিডিয়াও। ফলে এর নীতিমালা লাগবে, ভাবনা চিন্তা লাগবে। মিডিয়া পরিচয়ে সামহয়ার নিজেকে এখনও ট্রিট করতে শিখে নাই। এটাই মূল সমস্যা।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
আপনার পোস্ট অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। বিশেষত বাংলাদেশে মিড়িয়ার চরিত্র বিকাশের ধাপগুলো সম্পর্কে। আলোচনা চলবে, অংশগহণও করা যাবে।আগে @আরিফ জেবতিকের কাছে একটা জিজ্ঞাসা, আপনি একটু দয়া করে বলেন কোন লেখক এমন কোনো লেখা লেখেন যা অপূর্ব সিদ্ধান্তের ফল? আপনি কিভাবে লেখেন? যখন কোনো বিষয়ে মতামত দেন, তাতে কি আপনার কোনো সিদ্ধান্ত থাকে না? আপনা অভিযোগ বড়ই আজিব, বিষয়টা জানতে চাই।
লেখক বলেছেন: উপরে কৌশিকের মন্তব্যে আমার জবাবটা দেখবেন, আশা করি। অংশগ্রহণ করবেন।
লেখক বলেছেন: আসলেই তাই, আপনাকে টায়ার্ড করার মতই জ্ঞানগর্ভ হয়ে গেছে, সরি। তবু আপনি পড়েছেন, তাই আমার ভালো লেগেছে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
''আমরা আসলেই যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই তাহলে তো আমাদেরকে অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে এর সাথে আমেরিকার ওয়ার অন টেররের সম্পর্ক কী? আমাদের নিশ্চিত হতে হবে আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাচ্ছি না আমেরিকার ওয়ার অন টেররের যুদ্ধে সামিল হতে চাচ্ছি।''--- এই আশংকা ও প্রশ্ন আমারও। সেই সতর্কতার সাথে কিভাবে বিষয়টির মোকাবেলা হতে পারে অর্থাৎ জাতীয় সংকট বা সমস্যার সুযোগটা যেন বাইরের কেউ নিজেদের স্বার্থে তার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। এই দিকটা বল্লে একদিকে অনেকে সন্দেহ করে অন্যদিকে কেউ কেউ বিপদটাই আমলে আনতে চান না।
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন। তবু কেউ সন্দেহ করলেও বিপদের দিকটা নিয়ে কথা বলতে হবে। উপরে কৌশিকের মন্তব্যে আমার জবাবটা দেখবেন। সন্দেহ কাটিয়ে বিপদের দিকটা নিয়ে কথা তোলার চেষ্টা করেছি, ওখানে।
রিফাত হাসান বলেছেন:
গতকালকে প্রথম সুযোগেই এই পোষ্টটির চুম্বক অংশে চোখ বুলিয়ে বুঝেছিলাম, আপনি বেশ স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে হাত দিয়েছেন। স্পর্শকাতর এজন্যই বলছি যে, আমি নিজে এবং আমার একটি পোষ্টও এই স্পর্শকাতরতার শিকার হয়েছে, ইতিমধ্যেই যদি সুমন রহমান, তরিকুল হুদা, আরজু এবং মুসতাঈন জহিরের এ সংক্রান্ত পোষ্ট খেয়াল করে থাকেন। জেনে হয়তো আশ্চর্য হবেন না, আমি এখনো সামইন কর্তৃপক্ষের খড়গে বন্দী, গাজা ইস্যু এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রাজনীতি নিয়ে কথা বলার দায়ে।দ্বিতীয়ত ব্লগ এবং মিডিয়া হিশেবে সামহয়ারের যে পর্যালোচনাটি আপনি করেছেন আপনার পুরো পর্যবেক্ষণটি খুবই গুরুত্বের দাবী রাখে। বিশেষত আপনি এ প্রশ্নগুলি যখন করেন, তখন আমাদের সবারই এর উত্তর পাওয়াটা জরুরী মনে হয়:
সামহয়ারইন কী এসব জেনে শুনে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হতে চাচ্ছে। এটা জেনে শুনে না না জেনে - আমরা স্পষ্ট জানি না।
১. যদি জেনে শুনে হয়: এর মানে প্রতিষ্ঠান হিসাবে সামহয়ারইনের ভবিষ্যত এখানে আর গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়। এছাড়া সামহয়ারইন প্রথম নিজেকে বিক্রিযোগ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় হয়েছে বুঝতে হবে।
২. সিদ্ধান্ত যদি সুচিন্তিত না হয়: তবে সামহয়ারইনকে তার আগে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করতে, ভেবে দেখতে বলব। সেক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালার উপর পেশাদারিত্ত্ব নিয়ে সামহয়ারইনকে দাঁড়াতে হবে।
লেখক বলেছেন: আমি এখনও বিশ্বাস হারাই নাই যে সামহয়ার নিজের সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করার সুযোগ নিবে না। এধরণের প্রতিষ্ঠান যারা গায়েগতরে খেটে, গেটের পয়সা খরচ করে যে মুল্যবান সময় দিয়ে এই ব্লগ দাঁড় করাতে পেরেছে তারা এর বিকাশ রুদ্ধ করে এমন সিদ্ধান্ত সহজেই বদলে নিতে সক্ষম হবে। সন্তানের সাথে সওদাবাজি, গাফিলতি - আমার হিসাবে মিলে না।
আমি আপনাকে ধৈর্য রাখতে পরামর্শ দিব। মানুষ সব পারে।
আগেই কাউকে শত্রু হতে পারে এমন ভেবে নেয়াটা ঠিক মনে করি না। এই এ্যাপ্রোচটা সত্যি সত্যিই সম্পর্কটাকে শত্রুতামূলক করে দেয়। এমনকি যতটা সত্যিই বিরোধাত্মাক তার চেয়ে বেশি, খামোখা। সবাই দায়িত্ত্বশীল হলে বিরোধ সত্ত্বেও আমরা এক পাত্রে জড়ো হতে পারি -সবাইকে একথাটা মনে রাখতে বলব।
ব্লগ একটা সামাজিক মিডিয়া। এখানে সামাজিক আইন (যা কোথাও লেখা থাকে না), নিয়ম-কানুন রপ্ত ও চর্চা করতে পারলে সবচেয়ে উত্তম হতো। লিখিত আইনের চেয়ে ব্লগ-সমাজের আইন খাঁড়া করতে পারলে তা ব্লগের জন্য সবচেয়ে কাজের কাজ হবে।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
লেখাটি আমার ভালো না খারাপ লাগলো সেইটা এখনো বুঝতাছিনা।গতকালকে প্রিয় পোস্টে রাখছিলাম। আইজ এখন পইড়া শ্যাষ করলাম।
পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। তাই আরিফ ভাই এইটারে আলোচনার যোগ্য মনে করতাছেন না। ''এই ধরনের লেখা পূর্বসিদ্ধান্তজাত । এগুলোতে যোগ দেয়া নিছক সময় নষ্ট । উগ্র ও মৌলবাদী অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে তর্ক আগায় না ''
আরিফ ভাইয়ের কথা। প্রথমটা কথার কথা। আরিফ ভাইয়ের ক্যান সবার সব লেখাই পূর্বসিদ্ধান্তজাত, সুতরাং ওইটা বাদ দিলাম। এখন আমি পোস্টের মধ্যে 'উগ্র ও মৌলবাদী' অবস্থান খুজতাছি।
আমিও নিজের পোস্টের মধ্যে খুঁজতাছিলাম, আমি আবার কখন 'উগ্র ও মৌলবাদী' হয়ে গেলাম। তবে একটা কথা। ভাবছিলাম, জ্ঞান-গম্যি থাকলে, অর্থাৎ জানা ও গম্যতা বা প্রবেশ করতে জানলে 'উগ্র ও মৌলবাদীর' সাথে তর্ক আগাতে পারব না কেন?
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
নাহ। এইখানে উগ্রতা কোথায়? আমার মনে হয় আরিফ ভাই এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন। আমিতো উগ্রতা খুইজা পাইলাম না। বরং আরিফ ভাইয়ের মন্তব্যের ''এর বেশি আলোচনার যোগ্য মনে করলাম না । '' অংশটুকুরেই জানি জানি কেমন লাগতাছে!আর মৌলবাদ খুজতে গিয়ে আরও আপদ দেখতাছি। মৌলবাদটা কিসের? আরিফ ভাই ঠিক কোন জায়গাগুলোতে মৌলবাদ দেখলেন সেইটা যদি বলতেন!
লেখক বলেছেন: আরিফ জেবতিক পক্ষে যা ব্যাখ্যার অতীত তাই মৌলবাদ।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
ঘোর কলিযুগ ও মোহাম্মদ আরজুর কমেন্টের কারনে একটা কমেন্ট দিতে গিয়ে এতো লম্বা হলো যে একটা পোস্টই হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত ।
লেখক বলেছেন: ভাল করেছেন। অন্তত একটা মাইনাস দিয়ে নীরবে চলে যাবার চেয়ে ভাল।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
সেই পোস্টে গিয়া দেখি আরিফ ভাই পি মুন্সির পোস্টের মধ্যে রীতিমতো 'ধান্দাবাজি' আবিস্কার করে ফেলেছেন!কিন্তু ধান্দাবাজি কইয়াই খালাস। আরিফ ভাই যদি কইতেন যে এই অবস্থান থেকে কি 'ধান্দা' অর্জন করা সম্ভব?
লেখক বলেছেন: তবে কৌশিকের কথায় বিশাল গুরু গম্ভীর কিছু একটা বলতে চেয়েছিল। এটা সত্যি।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
"যুদ্ধাপরাধের বিচারে যদি জামাতে ইসলামির সমস্ত নেতা কর্মীর ফাঁসি দিয়ে ফেলা যায় তবু বাংলাদেশে ইসলামের এই রাজনৈতিক উপস্হাপন বন্ধ হবে না। "মানে কি ? আপনি কি মনে করেন জামাতের সবাই যুদ্ধাপরাধী ?
বিচারের দাবি উঠেছে যুদ্ধাপরাধীদের -হতে পারে সে পাকবাহিনী, রাজাকার-আল শাম্স-আল বদর -শান্তি কমিটির নেতা -কর্মী , চীনপন্থী কম্যুনিস্ট, মুসলিম লীগার ইত্যাদি ।
কেউ যদি যুদ্ধাপরাধী বলে চিহ্নি্ত হন তাকে বিচারে দাড় করানো হবে এবং প্রমানিত হলে তার বিচার করে শাস্তি দেয়া হবে এই দাবি ।
জামাতের সকল নেতা -কর্মী যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের বিচার চাই -এমন দাবি কি তুলেছে কেউ ?
আপনি কি নিশ্চিত "বাংলাদেশে ইসলামের রাজনৈতিক উপস্থাপন বন্ধ করার জন্যই এই দাবি তোলা হয়েছে ?আর যারা তুলছেন তারা সবাই " ইসলাম " বিরোধীদের দলে ?
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি '৭২ সালেই তুলেছিলেন নাফিসা কবির -তখন কি মার্কিন""সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অনন্ত যুদ্ধ" বলবত্ ছিল ?
লেখক বলেছেন: আপনার লেখা থেকে উদ্ধৃতি, "মানে কি ? আপনি কি মনে করেন জামাতের সবাই যুদ্ধাপরাধী ?"
না, আমার তাই মনে করার কোন কারণ নাই।
প্রথম কথা, আমার কথাতে আপনার ভুল রিডিং হচ্ছে। যদিও ভুল রিডিংয়ের সুযোগ নাই।
আমরা তো কেবল যুদ্ধাপরাধীদেরই বিচার চাইছি। এটা আপনার সাথে আমার অমতের জায়গা নয়। তবে আরও একধাপ আগিয়ে কল্পনা করে ধরা যাক জামাতে ইসলামির সমস্ত নেতা কর্মীর ফাঁসি দিয়ে ফেলা গেলো - এতে "র্যাডিক্যাল ইসলাম" বা "জঙ্গিবাদ" যা আমরা অনেককে ডাকতে দেখছি, এই ইসলামি রাজনীতির উপস্হাপন তাতে বন্ধ হবে না। এটাই আমি বলেছি। ওইজন্য "যদি" .... ফাঁসি দিয়ে ফেলা যায় - বলেছি। এটা একটা ধরে নেয়া পরিস্হিতির ওপর দাঁড়িয়ে বলা কথা। এতে "জামাতের সকল নেতা-কর্মী যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের বিচার চাই" - একথা আমি বলছি বলে মানে করার সুযোগ নাই । আপনি যদি একটু আমার মূল লেখাটা আবার পড়েন - আমি নিশ্চিত আপনার এমন ভুল ধারণা আবার হবে না।
পরের প্রসঙ্গ:
আপনার প্রশ্ন --
আপনি কি নিশ্চিত "বাংলাদেশে ইসলামের রাজনৈতিক উপস্থাপন বন্ধ করার জন্যই এই দাবি তোলা হয়েছে ?আর যারা তুলছেন তারা সবাই " ইসলাম " বিরোধীদের দলে ?
উত্তর: এখানে "দাবি তোলা হয়েছে" কথাটার দুটো দিক আছে। এক, জনগণের দিক থেকে, দুই আওয়ামি লীগের নীতি নির্ধারক দিক থেকে। জনগণের মানে এখানে আওয়ামি লীগার, নন-আওয়ামি লীগার সবাই আছে। কোন দল সংশ্লিষ্ট বা কোন দল সংশ্লিষ্ট না -এমন সবাই আছে এখানে। এদের সবার দাবির সাধারণ দিকটা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে এরা সবাই একমত। কিন্তু এর মানে কে কিভাবে করছে, কি বুঝছে, বুঝাতে চাইছে, কি আশা করে এখানে ভিন্নতা আছে। যেমন নীচে কৌশিকের মন্তব্য দেখুন, উনি পরিস্কার করেই বলছেন, " আমাদের দেশীয় অস্ত্র “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই” এজন্য জংগিবাদ নির্মূলে কার্যকরী হবে বলেই মনে করি"। যদিও কৌশিকের কথায় পরিস্কার নয় "জংগিবাদ নির্মূলে" উনি একা রাষ্ট্রের ভিতরে থেকে করবেন না কোন আঞ্চলিক রাষ্ট্রীয় (দক্ষিণ এশীয় টাক্সফোর্স) বা আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতির স্হানীয় চ্যাপ্টার (ওয়ার অন টেরর) হিসাবে করবেন। তবে আমি মনে করি এটা পরিস্কার অপরিস্কারের মামলা নয়। ওনার চাওয়ার মানে যে কতদূর পর্যন্ত গড়াবে, কনশিকোয়েন্সে কোথায় গিয়ে পড়ব, আমরা আবার সেটা চাই কীনা - এত দূর উনি ভেবেছেন, তা কিন্তু না। কনশিকোয়েন্স আছে, আমরা ভারত বা আমেরিকানদের যুদ্ধের খপ্পরে গিয়ে পড়ব সেজন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সত্যি সত্যিই যে অমীমাংসিত ইস্যু আমাদের রাজনীতিতে আছে তা নিয়ে ভাবা যাবে না বা কেউ ভাবলে তাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে - এটা আমার অবস্হান নয়। আমি সবসময়ই চেষ্টা করছি তা হলো, যুদ্ধাপরাধীদেরই বিচার আমরা কিভাবে করব ভাবছি তার একটা পুরো চিত্র যেন আগে আমাদের মাথায় অবশ্যই আঁকা থাকে।
আমি বরং উৎসাহিত করি এই ভেবে যে আমরা রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা চর্চা কম করি বলে আমাদের সমাজের সামরিক শাসন আসে, পরাশক্তি সহজেই একএগার চালিয়ে যেতে পারে। তো যুদ্ধাপরাধ নিয়ে এবার যে নাড়া পরেছে তা থেকে সিরিয়াস চিন্তাভাবনা, সামাজিক বিতর্ক শুরু হবার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এভাবেই তো সমাজ শক্ত রাজনৈতিক সত্ত্বা হয়ে উঠে। এসব আগাম ভাবনা ভাবা না থাকার কারণে পথে যেন আবিস্কার না করি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথেই আর আমরা নাই, অথচ আমেরিকা বা ভারতের যুদ্ধের ফেরে পড়ে দেশকে এমন এক গৃহযুদ্ধের ভিতরে পড়ে গেছি যেখান থেকে ফেরার পথ নাই, আগাবারও পথ নাই। কৌশিকের মতন করে যারা ভাবেন, এই চিন্তার সবচেয়ে বড় বিপদের দিকটা হলো এটা। এরা হঠাৎ হয়ত আবিস্কার করবে আগে থেকে সবদিক না ভাবার কারণে আমরা তো ব্যবহৃত হয়ে গেছি।
এবার আওয়ামি লীগের নীতি নির্ধারক দিক থেকে বলি। কমিটমেন্ট করেই একমাত্র ক্ষমতায় যাবার পরিবেশ ভারতসহ পরাশক্তিগুলো যা করে রেখেছিল - এর বাইরে ক্ষমতায় যাবার আর কোন সম্ভাব্য রাস্তা এরা দেখেনি। কমিটমেন্ট যাই থাক, বাস্তবে এটা যেখানে গিয়ে দাড়িয়েছে টু-থার্ড মেজরিটিতে হাসিনা এখন ক্ষমতায়। আবার জনগণের দিক থেকে একটা ভাল শাসনের, ভাল নেতার জন্য যে প্রচন্ড আকাঙ্খা তৈরি হয়ে আছে, সেই জনগণকে সাথে নিয়ে চাইলে সবকিছু অস্বীকার করতে পারেন হাসিনা, নিজের মত করে কমিটমেন্টকে ব্যাখ্যা করতে পারেন। এক কথায় সবকিছুই করতে পারেন। সে ক্ষমতা পরিস্হিতি আছে। শেষ পর্যন্ত তিনি কী করবেন তার অভিমুখ এখনই সব ঠিক হয়ে গেছে, স্পষ্ট হয়ে গেছে এমন নয়। তবে ইঙ্গিতগুলো আছে ও দানা বাধছে। তবে, সবচেয়ে ভাললানারেবল দুস্হ জায়গাটা হলো কি করলে কী হবে, কোন দিকে চলে যাব এসব নিয়ে কোন ষ্টাডি নাই, আগাম ভাবা হয়নি, হোমওয়ার্ক নাই। ফলে হাসিনার আওয়ামি লীগ যেমন চায় নাই, আশা করেন নাই এমন ঘটনার জালে জড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। কিছুটা কৌশিকের মত এদেরও ভরপুর আবেগ আছে, কেবল বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের স্পষ্ট ছবিটা নাই। ফলে লেজেগোবরে করে ছিটকে পড়ার এমনকি পচাত্তরের চেয়েও ভয়াবহ সঙ্কটে পড়তে পারে। এতে আমরা সবাইও নিশ্চয় ভালো থাকব না। সেই ভেবে আমাদের ভাবনা চিন্তার অস্পষ্টতা কাটাতে, সমস্যা বিপদগুলো সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরিতে, সতর্ক করতে সামান্য কিছু ভুমিকা রাখতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব। আমরা কেউ কারও চেয়ে দেশকে কম ভালবাসি না। কিন্তু দেশকে ভালবাসা এক জিনিষ আর কী করলে, কীভাবে করলে, চিন্তাভাবনায় স্বচ্ছতা আনতে পারলে দেশকে ভালবাসার মত বিজ্ঞোচিত কাজ হয় সেটা বুঝতে পারা অন্য আর এক জিনিষ, অন্য আর এক কাজ।
একটা কারেকশন: চীনপন্থী কম্যুনিস্টদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ? এটা বেশি হয়ে গেল। কোন যুদ্ধের বিরোধিতা করা, যুদ্ধটাকে অন্যভাবে করতে চাওয়া বা অন্যভাবে হোক তা চাওয়া, যুদ্ধটাকে ঠিক মনে না করা, ইত্যাদি মানে যুদ্ধাপরাধ নয়। যুদ্ধাপরাধ একটা আইনি শব্দ। যুদ্ধ মানে শত্রু মিত্রের ব্যাপার, ওখানে কোন আইনের বিষয়, বালাই নাই, থাকতে পারে না। তবে এই দুনিয়া যুদ্ধ দেখতে দেখতে শত্রু আর মিত্রের যুদ্ধ হবেই এটা ধরে নিয়ে এরপর কিছু নিয়ম রীতি কনভেনশন মানুষে তৈরি করেছে, রাষ্ট্রগুলো চুক্তি করেছে। ওসব কনভেনশন থেকে আইন টেনে যুদ্ধাপরাধ বের হয়েছে। তবু মনে রাখতে হবে ওটা আইনি ক্রিমিনাল বিচার, কোন রাজনৈতিক বিচার বিবেচনা, কোন রাজনীতিক ভাবনাটা ভালো বা ন্যায্য ছিল এটা বিবেচনা তার কাজ বা এক্তিয়ার নয়।
আমাদের রাষ্ট্র শায়েখ আব্দুর রহমানের যে ফাঁসি দিল অথবা সর্বহারা পার্টি কারো গলা কাটলে তাঁর ফাঁসির ক্ষেত্রে জজ যে বিচারটা করে সেটা ওসব দলের রাজনৈতিক চিন্তাটা ভাল না মন্দ, ন্যায্য না অন্যায্য সেটা সে বিচার করে করে নাই। এটা জজের কাজই নয়। রাষ্ট্র ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী এনেছিল সেটা খেয়াল করলে দেখবেন; ওটা স্রেফ একজন নাগরিক খুন হয়ে গেলে এটাকে যেভাবে অপরাধ বা ক্রাইম (Crime) গণ্য করা হয়, ক্রিমিনাল প্রশিডিওর কোড (CrPC) এর ৩০২ ধারায় যেভাবে খুনের মামলা ও বিচার হয় -এটা একদম তাই। হ্ত্যা - একটা ক্রাইমের ক্রিমিনাল বিচার। রাজনৈতিক কারণে হত্যা বলে জজের কাছে কিছু নাই।
প্রসঙ্গের বাইরে চলে যাচ্ছি তাই আপাতত: শেষ করব। যুদ্ধাপরাধের এই দিকটা নিয়ে আলাদা একটা পোষ্টে দিচ্ছি ওখানে আরও বিস্তারিত লিখব।
আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পোষ্ট পড়ে, বড় করে সিরিয়াস কথা তোলার জন্য। ভাল থাকবেন।
অনেক বেশী কল্প কাহিনী করার চেষ্টা মনে হইলো আমার। যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দাবী তুললে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার অন টেরর এর যুদ্ধের পক্ষভূক্ত হইয়া যাইতে হইবো দেইখা একটু ভয়ও পাইতেছি। লেখক মনে করতেছেন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ চারণের লগে আমেরিকা পক্ষাবলম্বনের যোগসূত্র আছে। কিন্তু তিনি কি আসলে ইন্টেনশনালি স্মৃতিভ্রষ্ট হইছেন...যে আমেরিকা আর ইসলাম পন্থার নামে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্যরা ৭১'এ গাটছড়া বাইন্ধাই যুদ্ধাপরাধ করছিলো!
আমারতো মনে হয় আমাগো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই বিদ্যমান সকল টেররিজমের বিরোধীতা করনের বীজ রোপিত আছে...ইসলাম পন্থী সুবিধাবাদীগো মিত্র করনের তাগীদ আসলে আরো প্রকাশ্যেই বলা উচিত বইলা আমি মনে করি। নাইলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন প্রশ্নের সম্মুখিন হইয়া পরে।
আমি নিজে বাস্তবিকই যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দাবীর লগে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধের পুরানা দাবীর সম্পর্ক খুঁইজা পাই। পি মুনশী সাহেব এই জায়গাটা ঠিক কইছেন বইলাই মনে হয়। কিন্তু এর সূত্র ধইরা তিনি নিজের জায়গাটারে উল্টা লুকাইছেন সেইটা বুঝছি পোস্টের মাজেজা থেইকা।
লেখক বলেছেন: আপনাকে একটা বিশাল এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকে সিরিয়াসলি নিয়ে আবার একটা মোড় দেবার জন্য।
আমি আসলে সহসা "স্মৃতিভ্রষ্ট" হইনা; "ইন্টেনশনালি" তো কখনই না। আপনি ঠিকই মনে করেছেন, ...যে আমেরিকা আর ইসলাম পন্থার নামে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্যরা ৭১'এ গাটছড়া বাইন্ধাই যুদ্ধাপরাধ করছিলো! কিন্তু আপনি নজর করতে পারেন নাই - ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পর একবার আর, ৯/১১ টুইন টাওয়ার হামলার পর আর একবার - বিশ্বজুড়ে আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতিতে দুবার বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছিল। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ধরা হয় আমেরিকা-রাশিয়ার কোল্ড ওয়ার বা ঠান্ডা যুদ্ধের কাল। যেটাকে দুনিয়া ব্লকে, আমেরিকান ও সোভিয়েত ব্লকে বিভক্ত থাকার কালপর্ব ধরা হয়ে থাকে। ব্লকে দুই মেরুর দুনিয়া বলে যেমন সমালোচনা আছে, তেমনি ১৯৮৯ এর পর আমেরিকানদের কর্তৃতে ইউনিপোলার দুনিয়া হয়ে গেল বলে আর এক সমালোচনাও আছে। কোল্ড ওয়ারের যুগের লক্ষণ ছিল জামাতের সাথে ওর সার্বক্ষণিক দোস্তালী (ColdWar Allay)। সোভিয়েতের বিরুদ্ধে যে সবসময় আমেরিকার নির্ভরযোগ্য সাথী সমর্থক হয়ে থেকেছে। কমিউনিজমের বিরুদ্ধে মোক্ষমভাব এই আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিই কমিউনিষ্টদের নাস্তিক বলে অভিযুক্ত করার দরকারে প্রচার চালিয়েছিল, ধর্মের পক্ষে থাকার ছলে ইসলামকে ব্যবহার করে গিয়েছিল। আর একটা বিশ্বঐতিহাসিক ঘটনা ১৯৭৯ সালে ইরান বিপ্লব। যেটার ভয়ে সৌদি-আমেরিকান গাটছাঁড়া আরও শক্ত হয়, আর এর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বৈশিষ্টকে আড়াল করার জন্য একে শিয়া বিপ্লব বলে পরিচয়ের ট্যাগ লাগিয়ে প্রচার চালানো হয়। এখানে বিস্তারে যাব না।তবে এখনকার ইরানের বিষয় আমি কথা বললাম বা আমি ইরানি ঢংয়ে বিপ্লবের তারিফদারি করলাম - এত সরল মনে না করলে ভালো হবে। কেবল বলব, এটা সোভিয়েতের আফগান দখলে উৎসাহিত করে আর এরই বিরুদ্ধে আমেরিকানদের মুজাহিদিন সংগঠিত করার কাজ একই কারণে ঘটতে পেরেছিল। যেটা আমেরিকানদের তালেবান গঠন পর্যন্ত একতালে একই সখ্যতা, মিত্রশক্তি বলে চলতে পেরেছিল। কিন্তু আবার ৯/১১ একটা টার্নিং পয়েন্ট। এরপর সেই আমেরিকাই ইসলামের নাম শুনতে পারে না, রাতারাতি সেকুলারের ভক্ত হয়ে গেল। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের নামে এমনই এক পররাষ্ট্রনীতি চালু করলো যে দলের নাম সাইনবোর্ডে ইসলাম থাকলে, ইসলাম শব্দ দলের নামের মধ্যে রেখে এমনকি সংসদীয় রাজনীতির ভেজা বিড়াল হয়ে থাকতে চাইলেও আমেরিকা সন্দেহের চোখে তাতে আড়াল হচ্ছে না। ইসলামের নামে যে কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক, দাতব্য কাজ কেউ করতে চাইলে এর মধ্যে আল কায়েদা প্রভাবের ভয়ে আমেরিকা তটস্হ।
কাজেই এখনকার পরিবর্তিত পরিস্হিতিতে আমেরিকান নীতির বিচার করতে হবে। পুরানা কোন নানা আমলে ঘি খেয়েছিলাম বলে এখন তুড়ি বাজবে না, এটা ঠিক না। এভাবে ভাবলে ভুল হবে।
এছাড়া আল-কায়েদা ধরণের রাজনীতির প্রভাবে ও আমেরিকান চাপে জামাতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী পরিবর্তন এসে আছে - এর খবর আমরা খুবই কম রাখি। সে কথা সুযোগ হলে বলা যাবে। যাই হোক সারকথা হলো, শুধু ১৯৭১ সালের সখ্যতার ধরণ দেখে আমরা আজকের পরিস্হিতি ব্যাখ্যা করা বা বুঝা যাবে না। ১৯৭১ সালে ভারত আমেরিকার সম্পর্ক স্বার্থের কথাই ধরেন না, আজ তা পরিপূর্ণ উল্টা। সুশীল সমাজের ঘেটো প্রথম আলো বা মতি্উর রহমানকে দেখুন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিপিবির মুখপাত্র একতা পত্রিকার সম্পাদক মতি্উর রহমান আর এই লোক একরকম নাই। আজকের আমেরিকান নীতির সাথে মতিউর রহমান ঐক্যের গোড়াটা শুধু বাণিজ্যিক নয়, আদর্শগতও। খোদ আওয়ামি লীগের সাথে আমেরিকার সম্পর্কের বদলের কথাটাও মিলিয়ে নেন। তবু শেখ মুজিবের হত্যার দায় কী আমেরিকা হাত ধুয়ে ফেলতে পেরে গিয়েছে। কাজেই কেবল ১৯৭১ সালে সখ্যতা দিয়ে আমরা কিছুই বুঝতে বা ব্যাখ্যা করতে পারব না। আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতায় ঘাটতি আছে, আর স্টকে আপটুডেট তথ্যের ঘাটতির কারণে আমাকে "ইন্টেনশনালি স্মৃতিভ্রষ্ট" মনে হচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রসঙ্গ: আপনার লেখা থেকে উদ্ধৃতি,
"আমাগো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই বিদ্যমান সকল টেররিজমের বিরোধীতা করনের বীজ রোপিত আছে" -
একটা মারাত্মক বিপদজনক কথা। আপনি বলার সময় একদমই সতর্ক নন। কথা বলার সময় একেবারেই চিন্তা করে বলেন না। আপনি কী বলছেন আপনি জানেন না বা নিজে খেয়াল করেননি। আপনার কাছে "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা" যদি "সকল টেররিজমের বিরোধীতা করনের বীজ রোপিত " বলে মনে হয় তাহলে আপনি কী বলছেন জানেন? সেসময়ের আমাদের মুক্তি সংগ্রামকে জামাত, পাকিস্তান রাষ্ট্র দেখত টেররিষ্ট কার্যকলাপ বলে। এভাবেই মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাত। আপনি কী আমাদের মুক্তি সংগ্রামকে টেররিষ্ট কার্যকলাপ বা সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম বলতে চান? আমাদের কাছে যা মুক্তি সংগ্রাম (নিশ্চয় টের পাচ্ছেন নিজের মুক্তি সংগ্রাম মানে কী), জামাতে ইসলামি ও পাকিস্তান তাকেই তো টেররিষ্ট কার্যকলাপ মনে করেছে, দেখেছে। আর জামাতে ইসলামি ও পাকিস্তানের দিক থেকে ও সেই ওদের টেররিষ্ট কার্যকলাপ হিসাবে দেখাকেই আপনি "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা" বলে দাবি করছেন? মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে নিয়েছে, বোমা গ্রেনেড ছুড়েছে এগুলোকে আপনি জামাতে ইসলামি ও পাকিস্তানের মত টেররিষ্ট কার্যকলাপ বলে মানছেন? আপনার ভাবনার মানে আপনাকে কোথায় নিয়ে গেছে টের পাচ্ছেন?
আমি জানি আপনার বলার লজিকের ছিদ্রটা কোথায়।
ইসলাম মানে সন্ত্রাস বা টেররিজম এটা যদি আপনি আগাম মনের ভিতরে রাখেন, আগাম ধরে নেন তাহলে লজিকটা মিলাতে পারবেন। ধরতে পারবেন। আপনি সম্ভবত নিজের ভিতরেই কী লজিক কাজ করছে তাকে ধরার চেষ্টা করেননি কখনও।
তবে আর একটা কথা ধরা লাগবে।
"১৯৭১ সালে আমরা ইসলামের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম"। একথাটাও সত্যি ধরে নিতে হবে। মনে করিয়ে দেই, এটাও কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জামাতে ইসলামি ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল। ওরা তাই মনে করত। আমরা ইসলামি পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাঙ্গতে চাচ্ছি মানে ইসলামের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।
এখন আপনার লজিকটা দেখুন।
টেররিজম=ইসলাম
টেররিজমের বিরোধীতা=ইসলামের বিরোধীতা
আর,
মুক্তিযুদ্ধ=ইসলামের বিরোধীতা, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
তাহলে সিদ্ধান্ত,
মুক্তিযুদ্ধ=ইসলামের বিরোধীতা=টেররিজমের বিরোধীতা
আপনার মাথায় সম্ভবত এই লজিকটা কাজ করছে।
এজন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা="সকল টেররিজমের বিরোধীতা করনের বীজ রোপিত আছে" - বলে মনে হচ্ছে আপনার।
আমি নিশ্চয় গণক নই যে, আপনার মনের কথা বলব। আসলে আপনার লেখা পড়তে পড়তে আপনাকে বুঝার চেষ্টা করছিলাম, ভাবছিলাম কেন আপনি এভাবে ভাবছেন। তখন মনে পড়ে গেল, আপনি আমার "জামাতের রাজনৈতিক বিচার" পোষ্টে এসে বাহাসের সময় যুক্তি দিচ্ছিলেন, বলছিলেন মুক্তিযুদ্ধে আমরা ইসলামের বিরোধীতা করেছিলাম, ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। আমি বুঝাবার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম এটা ভাবলে আমরা জামাতে ইসলামি ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভিযোগ ও দৃষ্টিভঙ্গিটাকেই গ্রহণ করে নিব। এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে শত্রুর অভিযোগকে মাথায় মুকুট হিসাবে পড়ে নিব। আর এটা এখন আমরা কেউ কেউ না জেনে মানে দিতে চাইছি। আমাদের সামাজিক চৈতন্যও তখন এমন ছিল না। আমরা ন্যায্য হিস্সা চাচ্ছিলাম। জনগোষ্ঠি হিসাবে নিজেদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ত্ব চাইছিলাম।
এখন দেখা যাচ্ছে, আমি আসলে পন্ডশ্রম করেছি। আপনার ক্ষতিকারক চিন্তার কিছুই বদলাতে পারিনি।
আসলে ধর্ম বা ইসলাম মানে টেররিজম - এই ইঙ্গিতটা পশ্চিমা, আমেরিকান কাজকর্ম প্রচারের ফল। আপনাকে এটা ভালই প্রভাবিত করে ফেলতে পেরেছে দেখা যাচ্ছে। ধর্ম কী। আত্মপরিচয়ের সাথে ধর্মের সম্পর্ক কোথায় - এনিয়ে এই ব্লগের নিক নাম ভূপর্যটক, এর ফাহমিদুলের সাথে একটা আলোচনা দেখেছিলাম, ভাল লেগেছিল। আগ্রহী হলে আপনি পড়ে দেখতে পারেন।
তৃতীয় প্রসঙ্গ: আপনার লেখা থেকে উদ্ধৃতি,
"নাইলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন প্রশ্নের সম্মুখিন হইয়া পরে।"
আপনার আর একটা বাক্য। তার মানে আপনি "সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন"ও করেন। এইবার আমি এক্কেবারে ধন্দে পড়ে গেলাম।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে আপনার কাছে সকল টেররিজমের বিরোধীতা করা। আবার,
আমেরিকা নিজেকে "সন্ত্রাসের" বিরুদ্ধে লড়ছে বলে মনে করে। আপনিও সন্ত্রাসের বিরোধীতা করছেন।
তাহলে আপনার "সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন" কাকে নিয়ে? আমেরিকা? তাহলে শত্রুটা কে?
আপনি আমাকে মহা ফ্যাসাদে ফেললেন দেখি। মাথা আউলায়ে যাচ্ছে। থাক আজকের মত। তবে, যাবার আগে একটা কথা মনে পড়ে গেল। আপনি কী "মার্কসবাদ বিজ্ঞান কী না" - এই বিতর্ক নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছিলেন? যাকগা। কথা হবে।
কৌশিক বলেছেন:
“যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে পারলে এই তৎপরতা মোকাবিলা হয়ে যাবে না। কালকে গোলাম আজম বা নিজামীর ফাঁসি হয়ে গেলে বাংলাদেশে "রেডিক্যাল ইসলাম", "সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ" বলে যে রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎপরতা আছে তা মোকাবিলা বা বন্ধ হয়ে যাবে না।’’এর সাথে আমি একমত। এই একমতওয়ালারা দুইভাগে বিভক্ত হইতে পারে উপরোক্ত প্রসংগে। এক: যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, কিন্তু জঙ্গিবাদ মোকাবেলা বিষয়ে সচেতন নয়। দুই: যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে সাথে সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলায়ও সচেতন।
যৌক্তিকভাবেই এই দুই গোষ্ঠী উপরোক্ত ইস্যুতে দৃশ্যমান। এবং ফেলাসি এড়ানোর জন্য উভয় পক্ষকে আধাআধা ধরে নিলাম। যদিও আমার অভিমত, জঙ্গিবাদসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী ভার্সেস কেবলমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সচেতনতার অনুপাত হবে ১:৩।
সুতরাং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সম্পন্ন হওয়ার পরে ঐ প্রতিচারজনের তিনজন জঙ্গিবাদকে প্রভেদ করতে শেখবে। সম্ভবত তখন স্পষ্ট হবে রেডিকাল ইসলাম, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ কোনটা কোনটার থেকে আলাদ, এগুলোকে কোনভাবে যৌথ বা বিচ্ছি্ন্ন চরিত্রে জাহির করা হয় এবং এদের সংগঠন ও অবজেক্টিভিটিগুলো। আপাতত, রাজাকার গোষ্ঠী বা যুদ্ধাপরাধী চক্র এর সাথে সন্নিবেশিত বলে আলাদা চরিত্র চিত্রণের ব্রান্ডিং জটিল। এছাড়াও রেডিক্যাল ইসলামের সাতে যুদ্ধাপরাধ সংগঠনের হিস্টরিক এফিনিটির প্রশ্নে এই গোষ্ঠীর মধ্যে মতদ্বৈততা, ভিন্নমত থাকতে পারে, আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আছে।
ইত্যকার বিষয়গুলো খুব স্পষ্টভাবে সামনে আসে যুদ্ধাপরাধ নামক একটা ইস্যুর মাপকাঠিতে, যা অন্তর্গত ও বহিস্ত খোলসে প্রায় অবিচ্ছেদ্য অথবা মৌলিকভাবে ভিন্ন দৃষ্টিভংগির জন্ম দিতে পারে। আবারও বলি আমার কাছে অবিচ্ছেদ্য, যেমন কেউ কেউ মনে করতে পারে ভিন্ন আঙ্গিকে, কিন্তু ঘটনার পরস্পরা যে নতুন ইকুয়েশন ও অভিজ্ঞতা বিস্তার করে সেটা কেবল অতিক্রান্ত সময়ের নিরিখেই চূড়ান্ত করা সম্ভব। সেজন্য যুদ্ধপরাধকে সামনে নিয়ে এসে জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করা যাবে কিনা সেটা এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেবার বিষয়ই নয়। সুতরাং প্রাথমিকভাবে আপনার সাথে একমত হবার পরে এই সব ভাবনারড্রাইভগুলো সঞ্চালিত হয়..এবং এরপরে একমত হওয়া না গেলেও পরস্পরবিরোধী মনে হয় না দৃষ্টিভংগিগুলোকে, বরঞ্চ পারস্পরিক যুক্তি বিনির্মাণের সহায়ক হয়ে পড়ে।
যেমন আমার মনে হয় জামাতে ইসলামী এমন একটি দল যারা সবসময় প্রতিকূলতার সাথে কমব্যাট করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, এবং সেই সাথে তাদের রয়েছে প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতার বলিষ্ঠ ও সুষ্পষ্ট ধারণা। তাদের প্রাজ্ঞ ও বয়স্ক নেতাদের রয়েছে পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়নের দীর্ঘ প্রেক্ষিত ও ব্যবস্থাপনা। রেডিক্যাল ইসলাম ও জঙ্গিবাদের আন্ডারগ্রাউন্ড ও বুদ্ধিবৃত্তিক কমব্যাটেরও প্রচুর দৃষ্টান্ত তাদের ঝুলিতে। এই নেতৃত্ব তাদের যেকোন সমধর্মী রেডিক্যালিস্টদের মধ্যে পায়োনিয়ার করে রাখে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই প্রতিষ্ঠিত ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের মৌলিক ও গুনগত অবস্থানে কিছু পরিবর্তন সাধন করবে। সেই ভবিষ্যত একটা সময়ে রেডিক্যাল ইসলাম ও জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের আলাদা বিভাজন সম্পন্ন হবে, স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হবে নির্ণয়হীন প্লাটফর্ম গুলো। এবং এটা সংগতভাবেই হবে ইসলামের ডিফারেন্ট স্কুল অব থটের মধ্যকার ক্রমবর্ধিত পার্থক্যের কারণেই। ফলে যেহেতু ইসলামের এধরণের আত্মপ্রকাশের কারণ বাংলাদেশ নয়, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধও নয় - বরং বিশ্বব্যাপী বাইরে কোথাও, বাইরের কোন কারণে সেহেতু আমি মনে করি আমাদের ভূমিতে এই ইসলামের আত্মপ্রকাশের পরিনতিতে জঙ্গীবাদ এবং প্রিসাইসলী যুদ্ধপরাধ সংগঠনের প্ররোচণা কাজ করেছে – যা ইসলামের এই গ্লোবাল জঙ্গি হিসাবে আবির্ভাবের ও প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা এই দেশে সম্ভব হবে না।
যারা ইসলামের এই রাজনৈতিক উপস্হাপনকে মোকাবিলা করতে চান তাদেরকে আলাদা নয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে সাথে সহায়ক রাজনৈতিক চিন্তা ও তৎপরতা নিয়ে খোলাখুলি এগিয়ে আসতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি সেই রাজনৈতিক চিন্তা তৎপরতার প্রাথমিক সোপান হতে পারে। এবং তা অবশ্যই আওয়ামী লীগের স্টাইলে যা হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী অথবা হতে পারে স্রেফ কাগুজি এমন নয়।
এ পর্যন্ত লেখার পরে আমি আপনার "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ” ও “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের” আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার নানা খুটিনাটি বিষয় পড়লাম। আপনি যে আলাদা রাজনৈতিক চিন্তা ও তৎপরতার কথা বলেছেন তার রূপরেখা কিভাবে এ থেকে সংগঠিত হবে তা আমি বুঝে উঠতে পারি নাই। আমার কাছে যা মনে হয়েছে তা হলো আপনার আলাদা রাজনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষিত রয়েছে কিন্তু আসল জিনিসটাই নাই। তবে হয়তো সে সম্বন্ধে আপনি নিশ্চিত নন, অথবা ইচ্ছা করে এখানে অস্পষ্ট রেখেছেন। এর সাথে দক্ষিণ এশিয় টাস্কফোর্স একদমই সরলীকৃত একটা যোগাযোগ মনে হলো। কারণ আলাদা রাজনৈতিক চিন্তার যে কথা বলেছেন সেক্ষেত্রে ঐ টাস্কফোর্সকে ঠেকানো কোন তৎপরতার অংশ নয়, কিন্তু আপনার ঐ আলাদা চিন্তা যাকে আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীর সহায়ক হিসাবে ভাবতে আগ্রহী হচ্ছিলাম তার মূলভাবটা আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া উদ্ভুত মনে হচ্ছে। কেউ যদি ইসলামিক আইডিওলজিতে অবিশ্বস্ত থাকে তার ইসলামোফোবিয়া মোকাবেলায় ইসলামের ভেতর থেকে আন্দোলন সংগঠনের যেকোন প্রচেষ্টাকে আত্মঘাতি ও নিস্ফল মনে করি। ব্যক্তিগতভাবে আমার এই বিষয়টা একদমই অকার্যকর ও অহেতুক ভীতি ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অতিমনযোগপ্রসূত একটা বিষয় মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতার আলোকে পরিপক্ক স্টেটমেন্ট মনে হলেও সেইসাথে পুরাতন, সাহসলুপ্ত, ভীত দৃষ্টিভংগির বার্তাবাহী মনে হয়েছে। আমার সামনে অলরেডি যাপিত অভিজ্ঞতার বিরক্তি নেই, কিন্তু আগত সম্ভাবনার নানা উইন্ডো খোলা আছে। সেখানে আমি ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা দেখি না, জটিলতর প্রকৌশল, অভিনব সময়ের দিকভ্রান্তি, পৌনপুনিক পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক আকাশ ইসলামের একটা স্টাটিক অবস্থানের সিরাতুল মোস্তাকিমকে অমসৃন করে তুলেছে। সেই সুবিধাটা সহজেই নেয়া যায়। আমরা কেন সুযোগটা কাজে লাগাবো না?
আমাদের দেশীয় অস্ত্র “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই” এজন্য জংগিবাদ নির্মূলে কার্যকরী হবে বলেই মনে করি। কারণ এই আন্দোলন সর্বস্তরে রেডিক্যাল ইসলামের পরিণতিকে পুনর্জাগরণ করবে, স্বাধীণতার এতদিন পরে একটা বলিষ্ঠ প্রজন্মকে নিজেদের স্বাধীণতার ইতিহাস ও আবেগকে নাড়িয়ে দেবে, গণবিপ্লবের মতই সে ঢেউ আলোড়িত করবে সকল স্তরকে, সেকাল, একাল আর ভবিষ্যতকালকে।
এর উদ্ভুত পরিস্থিতে নতুন দিকনির্দেশনা বা রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরী করবে অভিজ্ঞরা, তারা এটা ভালই পারবে, যুক্ত হবে এ সময়ের নবীনেরাও। কি হবে পরে এই যুদ্ধে, তার সবকিছু পূর্বনির্ধারিত করে নিয়ে অগ্রসর হয় না সৈনিকেরা। একজন বুদ্ধিবৃত্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিও সৈনিক বৈকি অন্য কিছু নয়।
লেখক বলেছেন: সরি, আপনার কাছে ফিরতে দেরি করে ফেলেছি।
আপনি যে সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা ব্যয় করে এত বড় একটা জবাব লিখেছেন সে জন্য আপনাকে স্বাগত জানাই। বিশেষ করে যেমন, আপনি বলতে পারতেন আমি একটা বদ লোক, পয়সা পাওয়ার ধান্ধায় লোভে আমি এসব কথা লিখছি, বা আমি কত টাকা পাইছি ইত্যকার কথা - অনেকেই যেমন করেছে নিজের চিন্তার অসারত্ত্ব, চিন্তা করার অযোগ্যতা ঢাকার জন্য গালাগালির পথ ধরেছে। আপনি তা করেন নাই - সেজন্য সত্যি আন্তরিকভাবেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।
আপনার চিন্তা, অবস্হানগুলো জানিয়েছেন -এতে আমি যারপরনাই খুশি। আমরা একমত না হতে পারি কিন্তু একটা সুস্হ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার জন্য সব পক্ষেরই দায়িত্ত্ব আছে। আপনি আপনার সেই দায় বোধ করেছেন।
আমার ভাল লেগেছে আপনাকে অন্তত মানাতে পেরেছি যে, যুদ্ধাপরাধের বিচার একটা স্হানীয় রাজনীতিতে অমীমাংসিত ইস্যু। আর "রেডিক্যাল ইসলাম", "সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ" বলে যে রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎপরতা আছে সেটা আলাদা রাজনৈতিক ইস্যু, পরিসর আন্তর্জাতিক। যদিও আপনার সাথে তফাতের জায়গা হলো, আপনি ১. রেডিক্যাল ইসলামকে "সন্ত্রাসবাদ" মনে করেন, ২. "রেডিক্যাল ইসলাম" বা "সন্ত্রাসবাদ" আলাদা ইস্যু হওয়া সত্ত্বেও একে যুদ্ধাপরাধের বিচার যেটা স্হানীয় রাজনীতিতে অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে আছে -এরই আড়ালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের শ্লোগান তুলে একে লড়তে চান।
আমার আশঙ্কাটা ঠিক এখানেই। যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুকে আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সাথে মিলানো মানে হবে বাংলাদেশ আল-কায়েদার সাথে আমেরিকানদের যুদ্ধক্ষেত্র। ঠিক যেমন পাকিস্তান ভৌগলিক ও অন্যান্য কারণে আমেরিকান রাষ্ট্রের স্বার্থের এই যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন হতে বাধ্য হয়েছে তেমনই আমেরিকান রাষ্ট্রের স্বার্থের যুদ্ধের একটা বাংলাদেশ ভার্সন হতে যাচ্ছি। এতে নীট ক্ষতিটা হবে, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুটা সন্ত্রাসবাদের তলে চাপা পড়ে যাবে, যুদ্ধাপরাধের বিচার আর ফোকাসেই থাকবে না।
আমার অবস্হানটা হলো, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুটা স্হানীয় -একে স্হানীয় রেখে সত্যি সত্যি মিন করে বিচারের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে যা যা করা সম্ভব সব করতে চাইলে করতে পারে। এভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুটা দেখতে হবে। আর, আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখার দরকার আছে কী কী করা সম্ভব। কারণ, করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়া যাবে না। করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে উল্টা সমাজ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হবে। আবেগের সমর্থন দরকার আছে, কিন্তু আবেগ নয়, বুদ্ধি-বিবেচনা ব্যবহার করতে লাগবে। আর সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ একটা কথা হলো, আমরা কিন্তু বিচার চাচ্ছি, কোন প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়- এই বিচার কথাটাতে সৎ হতে হবে। যেমন, আমাদের অনেকের ভয়াবহ সব ধারণা আছে। একজন লিখেই বলছেন, জামাত শিবিরের "এথনিক ক্লিনজিং" চালানো আমাদের ফরজ কাজ, অথবা "নিঃশর্ত বিচারহীন জবেহ চাই" ইত্যাদি। একথা প্রতিহিংসার তো বটেই; কিন্তু ভয়াবহ বলছি আরও গুঢ় কারণে। আমরা যদি "এথনিক ক্লিনজিং" বা এর ধারে কাছেও যাই তবে তার মানে হলো আমরাও প্রতিহিংসায় আর একটা যুদ্ধাপরাধ করতে চাচ্ছি। এমনকি এটা না করলেও এর প্ররোচনা দেওয়াও যুদ্ধাপরাধ। তাহলে আগামি প্রজন্ম, সমাজ আরও একটা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইবার কারণ তৈরি করতে চাচ্ছি, উস্কানি দিচ্ছি আমরা।
এখন তাই সবাইকে একমিনিট নিজের নিজের সঙ্গে নিজে চিন্তা করতে বলব আমরা আসলে কী বলছি, কী চাচ্ছি - একবার ভেবে বলছি তো? এপ্রসঙ্গ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে একটা আলাদা পোষ্ট দিব। আপাতত এটুকু বলছি, বিচার বলতে সৎভাবে বিচারই যেন বুঝি, দাবী বা আকাঙ্খা করি, প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়। এর আরও ব্যাখ্যা করে বলতে হবে।
তবু আমার মনে হয় আমাদের সমাজে এই পর্যন্ত পৌছানোও খুবই কঠিন কাজ। কেন?
একবার আমরা নিজেই চিন্তা করে বুঝার চেষ্টা করি। আমি বলছি বটে যুদ্ধাপরাধ ও আমেরিকান "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের" রাজনীতি দুটা আলাদা জিনিষ। আপনি একমতও হতে পেরেছেন। একটা স্হানীয় ইস্যু অন্যটা আন্তর্জাতিক বৈশিষ্টের; এটাও হয়ত আপনি মানতে পারবেন। কিন্তু তবু কেন আপনার কাছে মনে হতে পারছে যে দুটোর ভিতরে কোথায় যেন একটা মিল আছে, এক দড়িতে ফাঁসানো বা ফাঁসি দেওয়া সম্ভব বা দরকারও - এমন একটা ভাবনা কেন আসছে?
এর মিলের জায়গা ও কারণটা হলো, ধর্ম। বা সুনির্দিষ্ট করে ইসলাম। যুদ্ধাপরাধের বিচার বলে ভাবতে গিয়ে যদি মনে ধর্মেরও নিকুচি করার একটা ভাব এসে থাকে, ওটাই এর কারণ। একটা সুক্ষ ধর্মবিদ্বেষ বা ইসলামবিদ্বেষ আছে এখানে। এটাকেই আপনি বলেছেন "ইসলামফোবিয়া" - ইসলাম দেখলেই, নাম শুনলেই গা জ্বালা করে, প্রতিক্রিয়া হয় - সেই জিনিষ। এটা উদ্রেক করার সহায়ক ঘটনাও অবশ্য চারপাশে উপস্হিত আছে। বুশ যেমন বর্তমান যুদ্ধকে খ্রীচান ইভানজেলিক ক্রসেড হিসাবে দেখে, লড়তে চায় তেমনি বিপরীতে এতে আল কায়েদার রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়ায় দুনিয়াব্যাপী ইসলামের জাগরণ, জয়জয়কার হচ্ছে - একটা ইসলামি ক্রসেড লড়ে দুনিয়াব্যাপী ইসলাম কায়েমের দিকে যাচ্ছে বলে ভাববার লোকও আছে। এভাবে দেখার দুই পক্ষই দুনিয়ার জন্য, আমাদের জন্য বিপদজনক। কিন্তু যারা ঘটনাকে ইসলামি ক্রসেড দেখছে, পুলকিত হচ্ছে এদের দেখে আবার আমাদের যদি গা জ্বালা করে, এদের ইসলামকে এভাবে দেখা ও দাপাদাপি শুনলেই যদি প্রতিক্রিয়া হয় তবে বুঝতে হবে আমরাও "ইসলামফোবিয়া"য় আক্রান্ত হয়েছি। ওদের দাপাদাপি দেখে আমাদের "ইসলামফোবিয়া"য় আক্রান্ত হওয়া মানে হলো - আমরা চাই বা না চাই, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় আমরা খ্রীচান ক্রসেডের দলে পড়ব বা আমাদের আশ্রয় নিতে হবে। অথচ দুটোই আমাদের জন্য বিপদজনক।
যাই হোক, আপনি অবশ্য আমাকেই "আন্তর্জাতিক ইসলামফোবিয়া" আক্রান্ত বলে আমার অতিমনযোগ অর্থে বুঝাতেই কথাটা তুলেছেন। বলেছেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমার এই বিষয়টা একদমই অকার্যকর ও অহেতুক ভীতি ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অতিমনযোগপ্রসূত একটা বিষয় মনে হচ্ছে"। আবার বলেছেন, "আমি (মানে আপনি) ইসলামফোবিয়ায় আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা দেখি না"।
এখন আমরা কী ইসলামবিদ্বেষী না হয়ে, বিচার অর্থাৎ প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়, বিচার বলতে বিচার বুঝতে পারব? আমাদের চিন্তাভাবনার যা দশা তাতে কাজটা সহজ নয় -আমি আগেই বলেছি। আমি যারপরনাই শঙ্কিত। তবু তো একথাগুলো বলছি এটা ধরে নিয়ে যে যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুকে স্হানীয় ইস্যু বলে আলাদা মানি, আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সাথে একে মিলানো হবে না।
কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে মিলিয়ে বসে আছি।
না মিলিয়ে দেখার পক্ষে আর একটা যুক্তি দেই। আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রায় আট বছর হতে চলছে। বাংলাদেশে ইসলামি র্যাডিকাল রাজনীতির প্রভাব আছে। কিন্তু তা সাংগঠনিক চর্চায়, প্রচারমূলক কাজে। এমনকি কেউ কেউ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হয়েও লড়তে গিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যণীয় যে ওটা স্হানীয় রাজনীতি। কেউই আন্তর্জাতিকভাবে শাখা হয়ে সশস্ত্রভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, বা পশ্চিমা কোন স্হাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে -এখনও এমন দেখা যায় নাই। আমি এটা বলছি না যে নাই বলে আগামিতে দেখা যাবে না। কিন্তু আমাদের এমন কোন পথে যাওয়া কী ঠিক যেটা উস্কানি হবে, বিপদ ডেকে আনা হবে। আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রায় আট বছর হতে চলছে। যা নাই তাকে ডেকে আনার কারণ হবে। সরকার অনেক সময়ই বিক্ষিপ্তভাবে বলেছে। সন্ত্রাসে যতটুকু সন্ত্রস্ত হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ তার রুটিরুজি ব্যহত হয়েছে বলে অপছন্দ ও বিরক্ত হয়েছে বড় জোড়। আবার যারা ইরাক আফগানিস্তান কব্জা করেছে, যুদ্ধ করছে বোমা ফেলছে - এটাও ভালভাবে নেয়নি। বরং সময়ে নৃসংশতা দেখে খারাপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এভাবেই তো আমরা আট বছর চলতে পেরেছি। এখন কেন আমাদের জোটভুক্ত হয়ে পক্ষ নিতে হবে? কী স্বার্থে? কেন আমরা অন্য রাষ্ট্রের যুদ্ধ ও শত্রুকে নিজেদের যুদ্ধ ও শত্রু বলে বরণ করব, দাওয়াত দিয়ে আনব?
বুঝায় যাচ্ছে আমেরিকা বা ভারতের বাংলাদেশকে তাদের যুদ্ধ ও শত্রু উপহার দিতে চায়।
আমরা আফগানিস্তান, ইরাক বা মধ্যপ্রাচ্যের পড়শী দেশ নই। তবু আমাদেরকে নিয়ে আমেরিকার ভয় শঙ্কা বা স্বার্থ অন্য কারণে। আমাদের জনসংখ্যার ৮৫ ভাগই মুসলমান। বাংলাদেশ সম্পর্কে ওদের ভয় শঙ্কা ও সবাই যেন একএকজন পটেনশিয়াল আল কায়েদা, শত্রু জ্ঞান কারণ ওখানে। ইসলামের নানান ব্যাখ্যার নানান সংগঠন আছে। অথচ এমন কোন একটা ইসলাম ব্যাখ্যার ফ্যাকরা নাই যার রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা সাংস্কৃতিক, দাতব্য, বা এনজিও কোন বহিঃপ্রকাশ হিসাবে কোন প্রতিষ্ঠান আছে যাকে আমেরিকা বা ভারত নিজের জন্য শত্রু মনে না করে, বিশ্বাস করতে পারে, আস্হা রাখতে পারে, ক্ষতিকর না মনে করে। এই অবস্হা তৈরির পিছনে আমেরিকা বা ভারতের রাষ্ট্রনীতির কী কোন অবদান নাই? কেন এই অবস্হা তৈরি হয়ে গেল? ইসলাম নামের সবকিছুই এখন বৈরি হয়ে গেল কেন?
এই পরিস্হিতিতে আমরা তাদের রাষ্ট্রের সাথে কোন ধরণের জোটবদ্ধ হওয়ার মানে হবে তাদের রাষ্ট্রের নীতির কারণে যেসব শত্রুতা তৈরি করেছে খামোখা এদের সবার শত্রু হওয়া। তাদের যুদ্ধ ও শত্রু তৈরির কৃতকর্মের দায় কান্ধে নেয়া। এক্ষেত্রে আমাদের যা দায় আছে আমরা তো তা বইছিই! আমরাই আমাদের মত মোকাবিলা করছি।
অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গ দিয়ে শেষ করব।
আপনি বলছেন, "দক্ষিণ এশিয় টাস্কফোর্স একদমই সরলীকৃত একটা যোগাযোগ মনে হলো"।
আচ্ছা ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রজ্ঞনের একটা কথা দেখুন। গত ২৭ তারিখে পিটিআই কে বলছেন, "এ অঞ্চলে শান্তি ও স্হিতিশীলটার জন্য অন্যতম বড় হুমকি হলো সন্ত্রাসবাদ। মুম্বাই হামলার মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয়েছে যে এ ধরণের অপচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখানের সময় এসেছে। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই"। মুম্বাই হামলার সাথে পাকিস্তান ও ভারতের কাশ্মীর সমস্যা ও তাদের দীর্ঘ দিনের বৈরীতা জড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে আমরা কেন কোন একটা পক্ষভুক্ত হয়ে, আঞ্চলিক জোট করে এই বিবাদে জড়াবো? কে ঠিক, কে বেঠিক এই ক্যাচালে আমরা কে? এটা এমনকী আলকায়েদা সমস্যা শুরু হবারও আগেকার "সন্ত্রাসবাদ" সমস্যা। আমরা তো বরং পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বেঁচে গেছি। নইলে তো কাশ্মীর সমস্যা আজ আমাদেরও বলে ভুগতে হতো।
আপনি যে "আলাদা রাজনৈতিক চিন্তা ও তৎপরতার কথা বলেছেন তার রূপরেখা কিভাবে এ থেকে সংগঠিত হবে তা আমি বুঝে উঠতে পারি নাই। আমার কাছে যা মনে হয়েছে তা হলো আপনার আলাদা রাজনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষিত রয়েছে কিন্তু আসল জিনিসটাই নাই। তবে হয়তো সে সম্বন্ধে আপনি নিশ্চিত নন, অথবা ইচ্ছা করে এখানে অস্পষ্ট রেখেছেন" - এটা আপনার ঠিক অবজারভেশন। তবে ইচ্ছা করে করি নাই। সব কথা সব প্রসঙ্গ এক পোষ্টে আনতে পারা যাই না, তাই। ভালো থাকবেন।
তরিকুল হুদা বলেছেন:
পোস্টটায় আলাপের অনেক কিছুই ছিল, সে জন্য পি মুন্সীকে ধন্যবাদ।কিন্তু যা হয় আরকি! তা যাই হোক, নুরুজ্জামান মানিক, জামাল ভাস্কর এবং কৌশিককে আরও এককাঠি বেশী ধন্যবাদ আলোচনাকে ঠিক আবার লাইনে নেয়ার জন্য।
@কৌশিক:
"কেউ যদি ইসলামিক আইডিওলজিতে অবিশ্বস্ত থাকে তার ইসলামোফোবিয়া মোকাবেলায় ইসলামের ভেতর থেকে আন্দোলন সংগঠনের যেকোন প্রচেষ্টাকে আত্মঘাতি ও নিস্ফল মনে করি।"
যদি পারেন সময়/সাধ্য মত এব্যাপারটা আরেকটু বিস্তার করেন।
@পি মুন্সী: তবে আমার মনে হয়, ওয়ার অন টেররের সাথে যুদ্ধপরাধের বিচারের দাবির সম্পর্কের ব্যাপারটা আলোচনার স্বার্থে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেন। এটা আমার অনুরোধও বটে। আলোচনা/বিতর্ক চলুক যার যার অবস্হান থেকে। আপনি কি একবার দুটো ব্যাপারকে সম্পর্কিত করেছেন আরেকবার আলাদা করেছেন? যদি আসলেই ব্যাপারটা আপনার কাছে এইরকম ভেদ আর অভেদের হয় তাহলে আরেকটু খোলামেলা করলে ভালো হত।
আরও কথা হবে।
লেখক বলেছেন: উপরে কৌশিকের আলোচনায় করলাম। যথেষ্ট হয় নাই যদিও।
আসলে এই পোষ্ট টা ছিল মিডিয়া নিয়ে। আমরা তার অনেক বাইরে এসে যুদ্ধাপরাধে ঢুকে পড়েছি। আলাদা পোষ্টে যেতে হবে।
আপাতত কৌশিকেরটা দেখবেন আশা করি।
কিন্তু নজর করনের চেষ্টা কইরাও আমার চিন্তার পরিবর্তন আইলো না। কারন ইতিহাসের পরিবর্তনীলতা আর শত্রু-মিত্র নির্ধারনের ক্রুসেড যুদ্ধ এখনো চলে কি না সেইটা আমার বুঝনের অতীত। স্নায়ুযুদ্ধ আমলের মিত্র যখন অব্যবহিত পরেই শত্রু হয় তখন ফিকিরটা আসলে কি সেইটা অনুমান করনটা গুরুত্বপূর্ণ হয় আমার কাছে। আমেরিকানরা পুঁজির বিকাশের লেইগা যা-ইচ্ছা-তা করনের প্রক্রিয়াতেই থাকে চিরকাল। তারা পুঁজিবাজারের লেইগাই মধ্যপ্রাচ্যের লগে সম্পর্ক গড়ে আবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যেই কারনে আফঘানিস্তান আর পাকিস্তান এখন তাগো চোখে মডারেট ইসলামী রাষ্ট্র...পুঁজির স্বার্থটাই বড় আমেরিকার চোখে...ভারত এখন আমেরিকার মিত্র কারন প্রতিযোগিতামূলকতায় চীনের লগে যুদ্ধে ভারত তাগো নিরাপত্তা বেষ্টনি হিসাবে সামনে আসবো। পাকিস্তানের গুরুত্ব সেই হেতু কমতাছে আমেরিকার কাছে...সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতারে কেবল ধর্মের লেবাস পরাইলে খোদ আমেরিকাই লাভবান হয়...দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিরোধ তাতে লোকচক্ষুর আড়ালে যায়...
১৯৭১'এ যদি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতামূলক অবস্থানে থাকতো ভারত আর বর্তমানে আমেরিকা বিরোধী, তাইলে কি এখন আমরা ভারতের পক্ষে যামু? এই সম্পর্কের মান তো নির্ভর করে শোষণমূলকতার নিরীখে...আমরা কি কেবল আমেরিকার বিরোধীতার নামে তখন ভারতীয় আগ্রাসনের পক্ষে যামু? পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার ঘাটতি নিয়াও আমি কোন আগ্রাসী শক্তিরে কেবল শত্রুর শত্রু আমার মিত্র এই ফর্মুলাতে যাইতে রাজী না...যখন বিচারের প্রশ্ন আসে, যখন প্রচারের প্রশ্ন আসে...আপনের বিশাল পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা নিয়া কেবল শত্রুর আপাতঃ শত্রু বইলা জামায়াত বা অন্য যে কোন ইসলাম পন্থী রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন গোকূলে কারে বাড়ায় সেইটা ভাইবা দেখনের বিষয় বইলাই মনে করি আমি। এই দেশের ইসলাম পন্থীরা ক্ষমতার প্রয়োজনে কি করে তা কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে কম দেখি নাই...
আপনে ইসলাম মানে সন্ত্রাস ধইরা নেওনের যেই সরল সমীকরনরে আমার মনস্তত্ত্বে চাপাইয়া দিলেন...তার কোন মর্তবা খুঁইজা পাইলাম না। টেররিস্ট আর অ্যানার্কিস্ট এই দুই অঙ্করে আমি কখনোই এক কইরা দেখি না।
মুক্তিযুদ্ধরে পাকিস্তানিরা কি ট্যাগিং করছে সেইটা তো আমার যুক্তির বিবেচ্য হইতে পারে না! আপনেগো মতোন বৃহদাকার পর্যবেক্ষণ ধারীরা টেররিজম শুনলেই ইসলাম শুনতে পান...কারন আমেরিকারে শত্রু বিবেচনা করনের নামে নিজের মনস্তত্ত্ব তৈরী করেন আমেরিকান জার্গনে জার্গনে। তাগো অভীধা গুলিরেই নিজের অভীধা ভাবেন...তাগো টেক্সটরেই নিজের পাথেয় হিসাবে ব্রত করেন...
আপনের মাস্টারীমূলকতায় আসলে সত্য পরিবর্তন করতে পারবেন না মুনশী(?) সাহেব। আমারে পরিবর্তন করনের লেইগা একটা ভ্রান্ত যুক্তি, যা দাঁড়াইছে ভুল বচনের উপর, তারে প্রতিষ্ঠিত করনের চেষ্টায় আসলে কি চান? জামাতী বা পাকিস্তানীরা মুক্তিযুদ্ধরে ধর্মবিষয়ক যুদ্ধ কইছে বইলা আমরা সেইটা সত্য হইলেও কইতে পারুম না!? আমি এই প্রশ্ন করনের পর আপনে ঐখানেও কোন উত্তর করেন নাই...কারন হইলো আমেরিকান মনোবৃত্তি...তারাও এই বিশ্বের মোড়লগীরি করতে চায়...আপনেও চাইলেন...
সবশেষে আমি যেমনে ভাবি সেইটাই কই প্রেসক্রিপশনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা আপনেগো আসলেই ভোগাইবো বইলা মনে করি আমি। সন্ত্রাস শব্দের মাজেজাতে আমেরিকার মোড়লীপনা মাইনা নেওনের তরীকা ছাইড়া মানুষের লগে মিশেন...মানুষ কইতে আমি ছাপোষা মানুষ বুঝি...স্পিভাক-দেরিদাগো না...
লেখক বলেছেন: আপনার দুঃখ প্রকাশ আন্তরিকভাবে গ্রহণ করলাম। আপনি নজর করেন -এটাই আমি চেয়েছি।
ধন্যবাদ।
আওয়াজ বা উচ্চারণ বলেছেন:
ধন্যবাদ পি মুন্সীকে অনেক গুরুত্বরপূর্ণ প্রসঙ্গ উত্থাপনের জন্য । সময় নিয়ে মতামত জানাব আশা রাখি ।
লেখক বলেছেন: আরও অনেক কিছু যোগ হয়েছে, পড়বেন আশা করি।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনার জবাবের জন্য । মাফ করবেন কিন্তু আমারও জামাল ভাস্করের মত মনে হচ্ছে আপনে মাস্টারী করছেন । আপনার "যদি " শব্দ সম্বলিত বাক্য ধরে আমার প্রশ্ন করা যদি ভুল রিডিং হয় তবে আমার" হতে পারে" শব্দদ্বয় সম্বলিত বাক্য ধরে আপনার "চীনপন্থী কম্যু্নিস্ট আর যুদ্ধাপরাধ আইন" নিয়ে বিশাল মন্তব্যকে কি বলা যায় ?আপনি কেন ধরেই নিলেন যুদ্ধাপরাধ আর তার আইন কানুন সম্পর্কে এই অধম অবগত নয় ?
যা হোক , যুদ্ধাপরাধের নিয়ে আপনার আলাদা পোষ্টে আলোচনার আগ্রহ থাকল ।
লেখক বলেছেন: আপনাদের সাথ আমার চিন্তার গ্যাপটা বিশাল। এই গ্যাপটা পূরণ করতে অনেক কথা বলে নিতে হয়। এটাই মাষ্টারি মাষ্টারি লাগে। যে কারণে এই "মাষ্টারি" করি তাতেও ভুল রিডিং থেকে হয়, থেকে যায়। আমারও এটা ভালো লাগে না।
তবে আমি নিশ্চিত দূরত্ত্ব কমাতে পারলে "মাষ্টারি"র দরকার হবে না। তবু কমানোর চেষ্টা করব।
যুদ্ধাপরাধ নিয়ে পোষ্ট দিব বলে কবুল করেছিলাম। ওটা পোষ্ট দিয়েছি। দেখবেন আশা করি। ধন্যবাদ আপনাকে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















আমার সবচেয়ে ভাল্লাগছে এই লাইনগুলো -
১.
তবু বলবো একজন ভাল মডারেটর হিসাবে এটা মাহবুবের আধেক-দর্শন বা উপলব্দি।
২.
বিগত নির্বাচন ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাজ একটা নতুন রূপ নিতে যাচ্ছে। এর একটা প্রভাব মিডিয়া হিসাবে ব্লগে সা.ইনে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি সত্যি সত্যি শকড, বলতে বাধ্য হচ্ছি সামহয়ারইন এর ধাক্কা সামলাতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার গত প্রায় দেড় বছর ইস্যু হিসাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছিল। এর প্রভাব কমবেশি সা.ইনে পড়ছিল।
৩.
সামহয়ারইন দ্বিতীয় যে ইস্যুতে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ ক্ষুন্ন করেছে তা হলো গাজা ইস্যুতে ব্লগারদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা, ব্লগ মুছে দেওয়ার ইত্যাদি।
৪.
পেশাদারী ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন প্রতিষ্ঠানের কোন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্হানের দিকে ঝুঁকে পড়াটা বুদ্ধিমানের কাজ না।