আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
যুদ্ধাপরাধের বিচার: রাষ্ট্র কার বিচার করে
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬
এই আলোচনাটার অবতারণা করছি এটা ধরে নিয়ে যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই বলতে যুদ্ধাপরাধের বিচারই বুঝেন, অন্য কিছু মিন করেন না, তাদের একটা আভ্যন্তরীণ আলোচনা হিসাবে। যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার বলতে র্যাডিক্যাল ইসলাম বা "সন্ত্রাসবাদ" মোকাবিলাও বুঝেন, সেই লক্ষ্যে একধাপ আগানো বা এক দড়িত ফাঁসিতে দেবার মত বুঝেন - এমন বুঝ আছে আমাদের সমাজে। কিন্তু সেদিক থেকে এই আলোচনাটা তোলা হয়নি। "যুদ্ধাপরাধের বিচার" - এই বিচার বলতে আমরা কী বুঝছি তাই এর আলোচনার বিষয়। পাঠক আশা করি এই বিবেচনা মাথায় রেখে সেদিক থেকেই পড়বেন ও অংশগ্রহণ করবেন।
"যুদ্ধাপরাধের বিচার" - এই বিচার বলতে আমরা কী আসলে বিচার বুঝছি না বলতে চাচ্ছি জামাতের সাথে রাষ্ট্রে থাকতে চাই না। জামাত চিন্তা, জামাত ব্যক্তি -এই দুই অর্থে জামাত রাষ্ট্রে না থাক, এমন একটা ধারণা আমাদের অনেকের মধ্যে থাকতে দেখেছি। কোন রাজনৈতিক চিন্তা যে মাথা করছে ঐ মাথাকে তলোয়ার দিয়ে কুচি কুচি করে কাটলেও ঐ চিন্তাকে বিনাশ করা যাবে না এটা আমরা বুঝি। চিন্তাকে একমাত্র চিন্তা দিয়েই মোকাবিলা পরাস্ত করা সম্ভব। তবু এক ধরণের জামাত খতমের (elimination) এর ধারণা আমাদের মধ্যে কাজ করে। আবার "বিচার"বলতে বিচার যতক্ষণ মানে করছি ততক্ষণ কিন্তু এর মানে ১৯৭১ সালে জামাতের নেতাদের আইনের দৃষ্টিতে (রাজনৈতিক নয়) যা ক্রিমিনাল অপরাধ (তা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে, কোলাবরেশন হতে পারে, হতে পারে মানুষ খুনের ৩০২ ধারার মামলা) তা আদালতে প্রমাণ করে শাস্তি বিধান। তাহলে মানে দাঁড়াল, কোন রাজনৈতিক কারণে জামাতের কোন নেতা ঐ ক্রিমিনাল অপরাধ করেছে, ঐ রাজনীতিটা ভাল না মন্দ, ন্যায্য কি অন্যায্য এগুলো আদালতের বিচার্য বিষয় নয়। যে কারণেই করুক ঐ ক্রিমিনাল অপরাধ ঘটেছে কিনা, অপরাধী কীনা - সেটাই আদালতের বিচার্য বিষয় হবে। তার মানে এই বিচার প্রক্রিয়ায় জামাত সদস্যের রাষ্ট্রের আইনে একটা ক্রিমিনাল অপরাধ হয়েছে কীনা তার বিচার হবে, রাজনৈতিক দল হিসাবে জামাতের বা তার রাজনীতির কোন বিচার এখানে হবে না। বিচার্যও নয়। দেখা যাচ্ছে বিচার বলতে আমাদের অনেকের মনে জামাত খতমের (elimination) এক ধরণের যে ধারণা পুষে রাখতে দেখছি তা সবচেয়ে অনুকুল পরিস্হিতিতেও পূরণ হবে না। কারণ বিচার মানে খতমের (elimination) নয়।
অনেকের ধারণা খতমের (elimination) এর চেয়েও আরও একধাপ এগিয়ে। লিখে মনের আকাঙ্খা প্রকাশ করে বলছেন, "জামায়াত শিবিরকে চিরতরে মুছে দিতে হবে, রাজাকার এবং তাদের উত্তরসূরীদের বিরুদ্ধে "এথনিক ক্লিনজিং" চালানো আমাদের ফরজ কাজ", "নিঃশর্ত বিচারহীন জবেহ চাই" ইত্যাদি। এই লেখক "এথনিক ক্লিনজিং" কথাটা যেখান থেকে শুনেছেন বা শিখেছেন আমি নিশ্চিত ওর আশপাশে কথাটা নিজেই যে একটা ওয়ারক্রাইম বা যুদ্ধাপরাধ এধারণা সেখানে ছিল। এই বাঙালি জাত্যাভিমানী (recist) শব্দ ও ধারণা ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করছে এমন ভাবনাও তাহলে সমাজে আছে। অথচ খোদ নিজেই যে নতুন একটা ওয়ারক্রাইম বা যুদ্ধাপরাধ করছে, এর স্বপক্ষে বিচারের নামে প্রতিশোধ, ঘৃণা, প্রতিহিংসা ছড়াচ্ছে সে খবর নাই। চিন্তাভাবনাহীন এক উন্মাদ অবস্হা। বিচার মানে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা নয়। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সাইকি কারও থাকতে পারে সেক্ষেত্রে এটা একটা জিঘাংসাই বিচারের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই।
আমার ভয় আশঙ্কা এখান থেকে। বিচার মানে কী? কী চাচ্ছি, কী পেলে সন্তুষ্ট হব, জানি না।
অন্য দিকে, আরও এক আশঙ্কা। এটা একটা বিচার প্রক্রিয়া। হতেও তো পারে সর্ব্বোচ্চ আদর্শ পরিস্হিতি থাকা সত্ত্বেও কোন আইনি টেকনিক্যাল কারণে যদি অপরাধ প্রমাণিত না করা যায়, ফেল করে - তাহলে কী হবে? বিচার চেয়ে যে আবেগী জনমত তৈরি হচ্ছে বিচারের বলতে যে প্রতিশোধ, ঘৃণা, প্রতিহিংসা বুঝে, খতমের (elimination) বুঝে, এমনকি "এথনিক ক্লিনজিং"ও বুঝছে - এর কী হবে? বিচার মানে কী? কী চাচ্ছি, কী পেলে সন্তুষ্ট হবে, যার স্পষ্ট ধারণা নাই - বিচারে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তি না ঘটলে তাদের আবেগের উপর যে শক পড়বে তা তাঁরা কিভাবে সামলাবেন? না কী নিজেকে এই শোক থেকে বাঁচাতে, জীবিত রাখতে নিজেই বিচার হাতে তুলে নিবেন? রাস্তায় রাস্তায় যাকে জামাত বা দোষী বা দায়ি মনে হবে নির্বিচারে খুনোখুনিতে মত্ত হবে, পিটিয়ে লাশ বানাবে, লাশের উপর নেচে জিঘাংসা প্রকাশ করবেন? একটা দাঙ্গা গৃহযুদ্ধময় পরিস্হতি কী আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে - জানি না। এক '৪৭ এর দাঙ্গার ক্ষতের স্মৃতি আজও আমরা সবাইকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এতে সমাজের গাঠনিক তন্তুতে যে ক্ষত সৃষ্টি তা আজও সারে নাই। আজও আমাদের পরস্পরের মধ্যে অনেক সন্দেহ অবিশ্বাসের কারণ এটা। সে দেওয়াল আমরা আজও ভাঙতে পারিনি। আমি জানি না এই অউন্মোচিত দিকটা নিয়ে ব্লগাররা ভেবেছেন কীনা। অন্তত আলোচনায় নিলে আমাদের আবেগের ভিতরে প্রতিহিংসার বদলে বাস্তবতার ছাপ লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। এজন্য বিচার মানে কী? আমরা কাকে বিচার বলি এনিয়ে একটা আলোচনা তুললাম।
রাষ্ট্র বিচার ব্যবস্হা রাখে কেন?
আমার পোস্টে বিভিন্ন সময় আমি একটা কথা বারে বারে বলে আসছি রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র ভাগ আছে। শত্রু-মিত্রের ভাগ ছাড়া রাষ্ট্র জন্মলাভ করে না। বা ঘুরিয়ে বলা যায় রাষ্ট্র জন্মলাভ বা গঠনের সাথে সাথে এর শত্রুমিত্রের ভেদাভেদের সীমারেখা টানা হয়ে যায়। যে জনগোষ্ঠির সদস্যরা পরস্পর নিজেদের মিত্র ভাবে তাঁরাই নিজেদের আত্মপ্রকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রতিনিধিত্ত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমবেত হয়ে বলপ্রয়োগে একটা রাষ্ট্র গঠন করতে উদ্যোগী হয়, রাষ্ট্র গঠন করে ফেলতে পারলে, জয়লাভ করলে এরাই রাষ্ট্রের গাঠনিক উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। জনগোষ্ঠির বলপ্রয়োগের সক্ষমতা রাষ্ট্র কায়েমে সফল হবার ভিত্তি। কোন আইনি উৎসে, বা নৈতিকতার জোরে রাষ্ট্র কায়েম হয় না। তার মানে জনগোষ্ঠির সদস্য নতুন নামে নাগরিক বলে হাজির হতে পারে রাষ্ট্র গঠনে জয়লাভ করে ফেলতে পারলে তবেই। নাগরিক রাষ্ট্র কায়েমের মাধ্যমে নিজেদের আত্মপ্রকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রত্যেকের প্রতিনিধিত্ত্ব নিশ্চিত করাই এখানে তাঁর লক্ষ্য। এখন একাজে যাদের নিয়ে সমবেত হয়ে রাষ্ট্র গঠন করলো আর যারা এর বাইরে থেকে গেল - অন্য রাষ্ট্র, তার সদস্য, অন্য জনগোষ্ঠি সবাই - এরা সবাই নবগঠিত রাষ্ট্রের শত্রু। এটাই রাষ্ট্রের সেই শত্রুমিত্রের ভেদাভেদ সীমারেখা। এটা স্রেফ ভৌগলিক সীমারেখার মামলা নয়।
যাদের নিয়ে সবাই নাগরিক হয়ে রাষ্ট্র গঠন করলো - by default এরা সবাই রাষ্ট্রের ও পরস্পরের মিত্র, আর যাদের নিল না by default মৌলিকভাবে এরা রাষ্ট্রের শত্রু। by default মানে, রাষ্ট্র জন্মানোতে সহজাতভাবে যে মৌলিক ভিত্তি, পূর্বানুমান (premise) তৈরি হয়ে যাই তাই। এই পূর্বানুমান (premise) এর উপর রাষ্ট্র খাঁড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার এই শত্রুকে নবগঠিত রাষ্ট্র কিভাবে দেখে, মুখোমুখি হয় সেই বিযয়ে আমার আগের পোষ্ট "রাষ্ট্র ভাবনা: একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই" - ওখানে আলাপ করেছি তাই সে দিকে এখন আলাপ বিস্তারে নিব না। এখানে জোড় দিব রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে যাদেরকে নাগরিক মিত্রতায় দেখছি সে ব্যাপারটায়।
একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানে তুলব।
জনগোষ্ঠির সদস্য নতুন নামে নাগরিক বলে রাষ্ট্রে হাজির হলো যাদের আমি রাষ্ট্রের দিক থেকে মিত্র বলছি - এদের নিজেদের মধ্যে কী কোন পার্থক্য, ঝগড়া বিবাদ, স্বার্থ সঙ্ঘাত নাই? উত্তর হলো, অবশ্যই আছে। একই জনগোষ্ঠির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তা আছে এবং থাকবে সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবেই।
এখন মিত্রদের নিয়ে রাষ্ট্রের সমস্যা হলো দুটো। এক. নিজেদের মধ্যে পার্থক্য, ঝগড়া বিবাদ, স্বার্থ সঙ্ঘাত সত্ত্বেও নাগরিকরা সমবেত হয়ে একই রাষ্ট্রের সদস্য হওয়া মেনে নেওয়ার কারণে নিজেদের মধ্যেকার পার্থক্য, বিবাদগুলোকে আর সঙ্ঘাত করে নয়, শান্তিপূর্ণভাবে আপোষে সহনশীলতায় ধারণ করার একটা ব্যবস্হার প্রয়োজন সে অনুভব করে। দুই. নাগরিক নিজেরা কীভাবে পরিচালিত হবে এর একটা শাসন কাঠামো (কাঠামো অর্থে রাষ্ট্র) লাগবে। কিন্তু শাসন মানে কী? কে আবার কাকে শাসন করবে?
মানে হলো, প্রত্যেক নাগরিক নিজেই নিজেকে ও নিজেদেরকে পরিচালনার জন্য একটা রাষ্ট্র কাঠামো করার দরকার অনুভব করে। কিন্তু এর আবার বিপদ আছে। রাষ্ট্র কাঠামো যাকে চালাতে দিবে, কাউকে না কাউকে তো পরিচালক (রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট) হতে হবে এবং সে তো কেবল নিজের সংকীর্ণ স্বার্থে রাষ্ট্র কাঠামো পরিচালনা, ব্যবহার করে বসতে পারে। এরই সমাধানও করতে, প্রধান নির্বাহী কী কী করতে পারবে না এবং তার কাজ কী কী এর একটা আগাম তালিকা তৈরি করে রাখার ব্যবস্হা করতে চিন্তা করা হয়েছে। এই তালিকাটার আনুষ্ঠানিক নাম কনষ্টিটিউশন।
কথা আরও বাড়ানোর আগে দুইটা ছোট্ট নোতকা দিয়ে রাখি। প্রথমটা: বলছিলাম, প্রধান নির্বাহী কী কী করতে পারবে না এবং তার কাজ কী কী এর একটা তালিকা আগে তৈরি করে রাখার ব্যবস্হা করা হয়। এই তালিকাটার আনুষ্ঠানিক নাম কনষ্টিটিউশন। প্রধান নির্বাহী কী কী করতে পারবে না - তালিকা বা কনষ্টিটিউশনের এই অংশটাই মৌলিক অধিকার বা নাগরিক অধিকার নামে প্রচলিত। নাগরিকের মৌলিক অধিকারের উপর হাত দেয়া, খর্ব করা বা এর বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষমতা রাষ্ট্র কাঠমোর নির্বাহী পরিচালককে দেওয়া হয়নি, নাগরিকেরা দেয়নি। বরং সকল নাগরিককে রাষ্ট্র রক্ষা করবে এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়েই তাকে রাষ্ট্র কাঠামোর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়টা: কনষ্টিটিউশনকে একটা তালিকা বলেছি বটে তবে, এটা কামাল হোসেনের মত বিদ্বান কাউকে দিয়ে লিখিয়ে প্রস্তুত করে নেবার মত কাজ নয়। কেন? কারণ, কনষ্টিটিউশনে কী লেখা হচ্ছে, এর মানে কী, কেন এটা লেখা হচ্ছে - এসব কিছু সামাজিক চেতনা আকারে সবার মাঝে প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে একা রাষ্ট্র বা এর প্রধান নির্বাহী এটা রক্ষা করতে পারবে না। অথবা ভবিষ্যতে প্রধান নির্বাহীর নিজেরই কনষ্টিটিউশন লঙ্ঘনও ঠেকানো যাবে না। সামাজিকভাবে নাগরিকবোধই এর সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। ফলে নাগরিকদের মধ্যে বিস্তর তর্কবিতর্ক আলাপ আলোচনার ভিতর দিয়ে রীতিমত কানে ঢুকিয়ে, সামাজিক চেতনা আকাঙ্খা আকারে ধারণাগুলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সামাজিক তোলপাড় লাগবে, কোন এক ব্যক্তির বিদ্বান ক্ষমতা দিয়ে কেবল কনষ্টিটিউশন লিখে রাষ্ট্র কনষ্টিটিউট বা গঠন করা যায় না। আমাদের রাষ্ট্র গঠনের সময় এসব বিষয়ে নিয়ে তোলপাড় আলোচনা তোলার সুযোগ পায়নি। পাকিস্তান থেকে আলাদা হবার যুক্তি, লড়াইয়ে আমদের এতবেশি মনযোগী হতে হয়েছিল এবং ওটাই মুখ্য ইস্যু ছিল বলে - রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে একে সামাজিক আলোচনা, তর্কবিতর্কের ইস্যু করতে পারিনি। আমাদের রাষ্ট্রের এই জন্ম দূর্বলতা রয়ে গেছে বলে সামরিক ক্ষমতা দখল ঘটেছে বারেবার। কনষ্টিটিউশনে মৌলিক অধিকারের ধারাগুলো গায়ের জোরে স্হগিতও রাখা হয়েছে। অথচ কনষ্টিটিউশনে মৌলিক অধিকারের ধারাগুলো স্হগিতের খাস মানে হলো কনষ্টিটিউশনই আর নাই মৃত। রাষ্ট্র নাগরিকের কাছে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ। ফলে প্রাকটিক্যালি রাষ্ট্রের আর অস্তিত্ত্ব থাকে না, একজিষ্ট করে না।
মূলপ্রসঙ্গে যাই আবার। আর একবার স্মরণ করিয়ে দেই, কেন এতসব নিয়ম কানুন কনষ্টিটিউশন করছি? কারণ, রাষ্ট্র মানে নাগরিকদের রাষ্ট্র। নাগরিকদের কমিউনিটি বা সাধারণ স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ত্ব পেয়েছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের দিক থেকে নাগরিকেরা তার মিত্র। এই মিত্র নাগরিকদের পরস্পরের মাঝে আবার যে স্বার্থ সঙ্ঘাত আছে একে আপোষে রাষ্ট্রে ধারণ করতে না পারলে রাষ্ট্র থাকে না। তাই স্বার্থ সঙ্ঘাতকে আপোষে রাষ্ট্রে ধারণ করতেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর নাম বিচার ব্যবস্হা।অর্থাৎ পরস্পরকে রাষ্ট্রের মিত্র জ্ঞান কারেছি বলে নাগরিকেরা পরস্পর বিচার সম্পর্কে সম্পর্কিত হচ্ছে।
তাহলে রাষ্ট্রের দিক থেকে নাগরিকেরা তার মিত্র - ফলে শত্রুর মত পরস্পরকে বলপ্রয়োগের মোকাবিলা নয়, নাগরিকদের স্বার্থ সঙ্ঘাত বিচার ব্যবস্হায় নিরসনের চেষ্টা করতে হয়।
কেন বিচার? কারণ, বিচার মানে ধরে নিয়েছি যার সাথে একই ঘর, সংসার সমাজে ও রাষ্ট্রে থাকব, যাকে নিয়ে আমার বসবাস, রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে আছি - তার সাথে আমার কোন বিরোধ দেখা দিলেও সম্পর্ক থাকবে বিচারের।
বিপরীতে একই রাষ্ট্রের কাউকে যদি শত্রু মনে করি, গণ্য করি তাহলে কী হবে? ঐ শত্রুর সঙ্গে একই রাষ্ট্রে সমান নাগরিক হিসাবে বসবাস করতে না চাই এমন যদি হয় তাহলে, সে আকাঙ্খা পূরণ বিচার করে হবে না। তাকে শত্রু ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে ও সশস্ত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা অর্জন করতে হবে। সেক্ষেত্রে আবার উপস্হিত রাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয় হয়ে হবে। আর ঐ বলপ্রয়োগের ক্ষমতায় নতুন রাষ্ট্র কায়েম হতে পারে যেখানে যে শত্রু সে আর নাগরিক নয়। তার মানে আবার সেই পুরানো জায়গায় ফিরে আসলাম, যে আমার সম-নাগরিক সে শত্রু হতে পারে না। তার সাথে আমার বিরোধ মীমাংসার জায়গা কোর্ট, বিচার। আর আমি যাকে শত্রু মনে করি সম-নাগরিক হয়ত সে তখনও অথবা নয়; তার সাথে আমার বিরোধ মীমাংসার জায়গা আর কোর্ট বা বিচার নয় - যুদ্ধের ময়দানে, বলপ্রয়োগের ক্ষমতায় ।
রাষ্ট্রের শত্রুমিত্রের দিক থেকে রাষ্ট্র মিত্রের বিচার করে; শত্রুর বিচার করে না, যুদ্ধ ঘোষণা করে।
উপরের এই আলোচনাটা রাষ্ট্র, তার নাগরিক ও তার বিচার ব্যবস্হা কেন থাকে -সেদিক থেকে। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত বিচার ব্যবস্হা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায় কোন বড় ঘটনায় বিচার করলে জনগোষ্ঠির এক বিরাট অংশের সাথে বাকীদের ভিতর একধরণের শত্রুতার মনোভাব তৈরি হবে, সমাজ বিভক্ত হয়ে থাকবে। এতে বিচার হবে ঠিকই কিন্তু একই সাথে সমাজের গাঠনিক তন্তুতে সে একটা দীর্ঘস্হায়ী ক্ষতও সৃষ্টি করবে, রাষ্ট্র ভেঙ্গে যাবে বা দূর্বল হবে -এচিন্তা থেকে সাউথ আফ্রিকায় ট্রুথ কমিশন গঠন করা হয়েছিল। নাশনাল রিকনশিলেশন, জনগোষ্ঠির ক্ষোভ, বিচার আকাঙ্খা উপশমের একটা উদ্যোগ। ওখানে অপরাধীকে স্বউদ্যোগে খোলাখুলি অপরাধ স্বীকার করতে হয়। সে তা করতেও পারে কারণ এই স্বীকারের ফলে কোন আইনি বিচার ব্যবস্হা প্রযোজ্য হবে না এই নিশ্চয়তা থাকে। ফলে যে বিচার সমাজকে সরাসরি ভাগ করে ফেলে তা করার চেয়ে, একটা মানবিক সংবেদনশীল সমাজ গড়ার লক্ষ্যে অপরাধী খোলাখুলি তার অপরাধ স্বীকার করে, তার সৎ অনুশোচনা জানায়। এটা ক্ষতিগ্রস্হ ব্যক্তিকে মানবিকভাবে স্পর্শ করে ফলে সে ক্ষমা করে দেয়। পুরো ব্যাপারটাই মানবিকভাবে ঘটে, কোন বাধ্যবাধকতা নাই। বলা ভালো বাধ্যবাধকতা আছে তবে একটাই, মানবিক মানুষ হতে চান কীনা। সাধারণত দেখা গেছে, ক্ষমার কথাটা বলার পরই অপরাধী ও ক্ষতিগ্রস্হ ব্যক্তি উভয়েই কাঁদছে, চাইকি ঐ সামাজিক আসরের সকলে কান্নার রোল তুলে ফেলে। পরিস্হিতিটা যেন এরকম, এমন কী ঘটনা আছে যে আমরা মানুষেরা পরস্পরের কাছে যেতে পারছি না। কেন আমি এমন অপরাধ করতে গেলাম আর তুমিও ক্ষতিগ্রস্হ হলে, কেন এটা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করলো, আমার আপশোস, অনুশোচনা বোধ করছি, আমি তোমার সাথে মানবিক ঐক্যে মিলিত হবার আকুতি বোধ করছি। কিন্তু আমাদের বৈষয়িক বা অন্য কোন স্বার্থ আমাদের মানুষের ঐক্য গড়তে দিচ্ছে না। মানুষ হিসাবে এই অক্ষমতা আমরা উভয়েই অনুভব করছি, বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করছি। উভয়ে কেঁদে অন্তত সেই মানুষের ঐক্য প্রকাশ করছি।
মানুষের ঐক্য, মানবিকবোধ জাগানো, অক্ষমতার জন্য অনুশোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে একটা মানবিক সমাজের আকুতি প্রকাশ ঐ ট্রুথ কমিশনের উদ্দেশ্য।
১৯৭১ সালে আমাদের সমাজে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে আইনি বিচার করতে যেয়ে সে ক্ষত আবার না বাড়িয়ে উপশমের কথা ভেবে বাংলাদেশে কেউ ট্রুথ কমিশনের কথা ভাবলেও এরজন্য আমাদের সমাজ এখনও প্রস্তুত নয়।
আমার কামনা একটাই, মীমাংসার জায়গা কোর্ট, বিচার হোক আর যুদ্ধের ময়দানে, বলপ্রয়োগের ক্ষমতায় হোক, কী সামাজিক ক্ষত উপশমের ট্রুথ কমিশন হোক - আমরা যা চাই তা যেন ভেবেচিন্তে জেনে শুনে আমাদের আকাঙ্খা পুষে রাখি। নতুন কোন দাঙ্গার কারণ হওয়া হবে আমাদের সমাজের জন্য আত্মঘাতি।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): যুদ্ধাপরাধ, আইন ও রাষ্ট্র ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আমার কথাটা না
"অনিশ্চিত", হাসিব, "কৌশিক", "সুদীপ্ত" বুঝেছেন
না
"থার্ড নয়ন", "সততার আলো" ইত্যাদিরা বুঝেছেন।
অথচ আমি চেষ্টা করেছি ইস্যুটা নিয়ে সবাইকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনতে।
আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াই নাই। তবু আপনাকে ধন্যবাদ, অন্তত আমি যে "সরাসরি যুদ্ধাপরাধী" নই এমন একটা খেতাব আমার লেখা পড়ে আপনি আমাকে দিতে পেরেছেন।
আপনি যেখানে লিখেছেন, "বিচার হয় আদর্শকে (সেটা যে আদর্শই হোক না কেন) রক্ষা করতে গিয়ে অপরাধ করলে"। ওটা আদর্শই রক্ষা না করতে গেলেও সত্যি বটে।
অপরাধ করলেই বিচার হবে - এই হোল সোজাসাপ্টা কথা। কী জন্য অপরাধ করেছেন, বা করতে হয়েছে এটা আদালত শুনতে চাইবে না, শুনার বিষয় নয়। এজন্য ওটা আদালত। এটা বুঝাতেই সাইড প্রসঙ্গে ব্যাপারটা এসেছে। কিন্তু আমার মূলকথার দিকে আপনার নজর পাইনি।
আমরা মুখে চাইছি বিচার আর মনটা তৈরি করে বসেছি নির্মুলের (elimination) আকাঙ্খার। অথচ যে নির্মুল চায় তাঁর বিচার চাওয়ার কিছু নাই, শত্রু বলে ওকে সশস্ত্র যুদ্ধে পরাস্ত করাই এর একমাত্র ফয়সালা - এটাই আমার পোষ্টর সারকথা। নির্মুলের আকাঙ্খা নিয়ে বিচার চাইলে এটা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধে গিয়ে ঠেকবে। তাতেও আমার আপত্তি নাই। কেবল কামনা করেছি, ভেবেচিন্তে জেনে শুনে যেন আমাদের আকাঙ্খা পোষণ করি।
আমার এই কথা আপনারা দুই পক্ষের কেউই আমল করতে পারেননি।
এটাই ইঙ্গিত দেয় সমাজ কিভাবে ভাগ হয়ে আছে।
মিঠাই বলেছেন:
পি মুন্সির মাজায় ঘুন্সি আছেতো? চাবি খুয়া গেলে মহা বিপদ।
লেখক বলেছেন: মহা বিপদ হলে মিঠাই খেয়ে নিব।
হাসিব বলেছেন:
- পড়তে পড়তে আমার কেন জানি মনে হৈতেছিলো আপনে শেষের পেরাগ্রাফে যা কৈলেন সেই উপসংহারেই যাইবেন । শেষ পেরাগ্রাফ পৈড়া বুঝলাম নিরাশ করেন নাই আপনে। যেইটা ভাবছিলাম সেইটাতেই আইছেন শেষ পন্ত ।
- ধরেন সবকিছু মাইনা বিচারের কাঠগড়ায় কয়েক রাজাকাররে কাঠগড়ায় তোলা হৈলো ও কোন একটা আইনে তাদের সেরকম সাজাও হৈলো ।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলে এইটার ফলে জামাতিরা একটা বড় ধরনের ক্যাচালের (আপনার ভাষায় দাঙ্গা) চেষ্টা করবে । এখন ভবিষ্যতের এই দাঙ্গার ঠেকাইতে অর্থাত আপনার ভাষায় সমাজরে হত্যা ঠেকাইতে আমরা যুদ্ধাপরাধীগো বিচার করা থিকা বিরত থাকবো ?
লেখক বলেছেন: আপনি এত অস্থির কেন, আমি বুঝে পাই না। "শেষ পেরাগ্রাফ" আপনি পড়েননি অথবা মনযোগ ছিল না। প্রিযুডিস হয়ে ছিলেন।
কষ্ট করে একটু আবার পড়বেন? মানতে বলছি না, পড়তে বলছি। আমি কী বলছি সেটা বুঝতে অবিচার করবেন না এই ভরসায় বলছি।
আমরা মুখে চাইছি বিচার আর মনটা তৈরি করে বসেছি নির্মুলের (elimination) আকাঙ্খার। অথচ যে নির্মুল চায় তাঁর বিচার চাওয়ার কিছু নাই, শত্রু বলে ওকে সশস্ত্র যুদ্ধে পরাস্ত করাই এর একমাত্র ফয়সালা - এটাই আমার পোষ্টর সারকথা। নির্মুলের আকাঙ্খা নিয়ে বিচার চাইলে এটা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধে গিয়ে ঠেকবে। তাতেও আমার আপত্তি নাই। কেবল কামনা করেছি, ভেবেচিন্তে জেনে শুনে যেন আমাদের আকাঙ্খা পোষণ করি।
কৌশিক বলেছেন:
বড় উইকনেস - ১. যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই বলতে যুদ্ধাপরাধের বিচারই বুঝেন
২. যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার বলতে র্যাডিক্যাল ইসলাম বা "সন্ত্রাসবাদ" মোকাবিলাও বুঝেন, সেই লক্ষ্যে একধাপ আগানো বা এক দড়িত ফাঁসিতে দেবার মত বুঝেন
এই দুইবুঝবানদের মধ্যে থেকে দ্বিতীয়দের দিক থেকে আলোচনা তোলা হয় নাই বলেছেন, কিন্তু পুরা লেখাটাতে ঐ বিষয়টি এসেছে বেশী। সূচনায় খারিজীয় পন্থা থাকলেও দুই বুঝনের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক আছে তা লেখাতে স্পষ্ট হয়েছে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, উইকনেসের দিক থেকে দেখেছেন বলে। কিন্তু লিখে জানাননি। আপনি ২. এর ধারায় ভাবেন বলেই হয়ত এমন মনে হয়েছে।
আমি খারিজীয় পথ নেইনি। মনে করিয়ে দিয়েছি কেবল এটা "র্যাডিক্যাল ইসলাম বা "সন্ত্রাসবাদ" মোকাবিলাও বুঝেন" - সেই ইস্যু নয়। ফলে এখানে ঐ আলোচনা না আসুক এটা চেয়েছি। আর এটা অত সহজে খারিজ হবে না, তো। আপনার মত ভাবনার লোক অনেকে আছে। বিশেষ করে যারা প্রসঙ্গটা এনেছে, নীতি নির্ধারকেরা। ফলে আমি জানি এনিয়ে অনেক অনেক কথা বলতে হবে।
যাই হোক, এই পোষ্টের বক্তব্য মানাতে না বুঝাতে পেরেছি কীনা জানতে পারলাম না। কিছু লেখেননি। এখন পর্যন্ত আট টা মন্তব্য দেখলাম। মনে হলোনা কাউকে আমার পয়েন্টটাতে কেউ পৌছাতে চাচ্ছে বা পেরেছে। সারাংশটা আর একবার লিখেছি। নীচে যোগ করলাম।
আমরা মুখে চাইছি বিচার আর মনটা তৈরি করে বসেছি নির্মুলের (elimination) আকাঙ্খার। অথচ যে নির্মুল চায় তাঁর বিচার চাওয়ার কিছু নাই, শত্রু বলে ওকে সশস্ত্র যুদ্ধে পরাস্ত করাই এর একমাত্র ফয়সালা - এটাই আমার পোষ্টর সারকথা। ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানি শত্রুদের বিচার চাইনি বা বিচার নিয়ে বসিনি। যুদ্ধে ফয়সালা করেছি। শত্রুর সাথে যুদ্ধে ফয়সালা হয়, বিচারে বসি না।
ফলে নির্মুলের আকাঙ্খা নিয়ে বিচার চাইলে এটা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধে গিয়ে ঠেকবে। তাতেও আমার আপত্তি নাই। কেবল কামনা করেছি, ভেবেচিন্তে জেনে শুনে যেন আমাদের আকাঙ্খা পোষণ করি।
থার্ড নয়ন বলেছেন:
সুন্দর বিশ্লেষন। বিচার প্রক্রিয়ার নামে মানবাধিকার লংঘনের এক মহা যজ্ঞের আয়োজন চলছে। মৌলিক অধিকার হরনের চেস্টা চালানো হচ্ছে। যার পরিনতিতে পুরোদেশকেই সঙ্ঘাত ও নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেয়ার একটা প্রচেস্টা দেখা যাচ্ছে। যার লাভের গুড় আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীরা নিবে। জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষন এর জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: না ভাই থার্ড নয়ন, ভুল রিডিং হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়ার নামে জামাতের "মানবাধিকার লংঘনের এক মহা যজ্ঞের আয়োজন চলছে" কিনা অথবা তাদের "মৌলিক অধিকার হরনের চেস্টা চালানো হচ্ছে" কী না এটা আমার দাবি বা বক্তব্য নয়।
আমার কথার সার অংশ হলো,
আমরা মুখে চাইছি বিচার আর মনটা তৈরি করে বসেছি নির্মুলের (elimination) আকাঙ্খার। অথচ যে নির্মুল চায় তাঁর বিচার চাওয়ার কিছু নাই, শত্রু বলে ওকে সশস্ত্র যুদ্ধে পরাস্ত করাই এর একমাত্র ফয়সালা - এটাই আমার পোষ্টর সারকথা। ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানি শত্রুদের বিচার চাইনি বা বিচার নিয়ে বসিনি। যুদ্ধে ফয়সালা করেছি। শত্রুর সাথে যুদ্ধে ফয়সালা হয়, বিচারে বসি না।
ফলে নির্মুলের আকাঙ্খা নিয়ে বিচার চাইলে এটা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধে গিয়ে ঠেকবে। তাতেও আমার আপত্তি নাই। কেবল কামনা করেছি, ভেবেচিন্তে জেনে শুনে যেন আমাদের আকাঙ্খা পোষণ করি।
সততার আলো বলেছেন:
সংগঠন কোন প্রানী নয় যে, একে গলা টিপে মেরে ফেললে তার মৃত্যু ঘটবে। সংগঠন হলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি অনুসরনকারী মানুষের একটি দল, যারা তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নে অটল। সরকার যদি গত সংসদ নির্বাচনের আগের কিছু মূর্খ লোকের দেয়া সংজ্ঞায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেষ্টা করে দেশে বিরাজমান ইসলামী আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে তবে আমার মতে এটা তাদের দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই হবেনা। হয়তো "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী" নামে একটা দল নিবন্ধন হারাবে, কিন্তু ইসলামী সমাজ কায়েমের নেশা কি থেমে যাবে এ আন্দোলনের কর্মীদের হৃদয় থেকে? হত্যা খুন আর জেল একটা শরীরকে আটকে রাখে কিন্তু অবাধে বিচরনশীল আত্নাকে থামিয়ে রাখতে পারেনা। শারীরিক অত্যাচারের শরীরকে পঙ্গু করা যায় আত্নাকে নয়। ৭১ এর গনহত্যার প্রতি যদি কারো কোনরূপ সামান্য অবদানও থাকে তবে তার বিচার হওয়া উচিত, ৭১ এ পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে বিভক্তিকে কেউ যদি অসমর্থন জানায় তা যুদ্ধাপরাধ হতে পারেনা। আদালত যখন স্বচ্ছভাবে বিচার করতে যাবে তখন প্রকৃত অপরাধীরই বিচার হবে, কিন্তু মূর্খ মিডিয়াগুলো যেভাবে নিরীহ জনগনের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায় তার জন্যে তাদেরও বিচার করা উচিত।
লেখক বলেছেন: "সরকার যদি গত সংসদ নির্বাচনের আগের কিছু মূর্খ লোকের দেয়া সংজ্ঞায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেষ্টা কর দেশে বিরাজমান ইসলামী আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে" - আপনার এই কথায় আমার দুটো আপত্তি আছে।
সরকার চেষ্টা করতে পারছে ও করছে এজন্য যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার একটা অমীমাংসিত ইস্যু তো বটেই। এটা অমীমাংসিত রাখার পিছনে জামাতের অবদানও কম নয়। আল কায়েদা ইস্যুটা দুনিয়াতে জাহির হওয়ার আগে পর্যন্ত তো জামাত প্রকাশ্য বা আভ্যন্তরীণভাবে ১৯৭১ সালের কোন মূল্যায়নে নিজেদের ভুল (ভুল না বলে আমার আত্মহত্যা বলা উচিত) বুঝতে চায়নি, স্বীকার করেনি। বরং চেষ্টা করে গেছে গোলাম আযমসহ বড় নেতাদের গায়ে যে ক্রিমিনাল দাগ লেগে আছে তাকে ন্যায্যতা দিতে। এই দাগগুলোকে ন্যায্য বানিয়ে বীরদর্পে মুকুট হিসাবে পরার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রসঙ্গেই দেখুন। সেই বেকুবি মুল্যায়ন, নিজেদের কৃতকর্ম ঢাকতে ভেবে বসে আছেন এটা ভারতের সৃষ্টি। ভারতে তো অবশ্যই তার স্বার্থ দেখবে, যেমন আমরা আমাদেরটা দেখি। কিন্তু এর মানে বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলন, লড়াই সংগ্রাম আকাঙ্খা বলতে কিছু ছিল না তা তো নয়। আওয়ামি লীগসহ রাজনৈতিক দলের কথা না হয় বাদ দিলাম - সাধারণ মানুষের বিচার বিবেচনা ও আকাঙ্খাটা কী? এটাও কী দেখার দরকার নাই? জনগণের কাছে এটা কী? কী মনে করে ভারতের সৃষ্টি না নিজেদের রাষ্ট্র? জনগণ যেখানে মনে করছে এখানে তার মুক্তি ঘটেছে, তার নিজের রাষ্ট্র - এই বিবেচনাতেও তো জামাতের হুশ আশার কথা। জনগণের এই মনোভাবটার খবর নেয় নাই, সম্মান করেনি জামাত। নিজেদের রাজনৈতিক আত্মহত্যামূলক সিদ্ধান্ত, নেতাদের গায়ে দাগ, গণহত্যার অভিযোগ - এগুলো মোছাই লক্ষ্যে যে রাজনৈতিক দল পুনর্গঠিত হয়েছে বলেই জনগনের আকাঙ্খা বুঝার কাজে সে বেখবর।
আমি মনে করি, গোলাম আযম নিজামীসহ বড় ও দাগী নেতাদের ব্যক্তি রাজনৈতিক জীবন কলুষমুক্ত করতেই পুরা দল, নিচের কর্মীদের রক্তঘাম এখানে ব্যয় হয়ে গেছে, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা ধারণ করার কাজ জামাত এখনও শুরুই করতে পারে নাই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটাকে অমীমাংসিত রাখার পিছনে এটাই জামাতের সবচেয়ে বড় অবদান।
আমার দ্বিতীয় আপত্তি: ইসলামী আন্দোলন
৯/১১ এর পর দুনিয়া জুড়ে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, পশ্চিম চিন্তায় রাজনীতিতে ও অর্থনীতি যে সঙ্কটে পড়েছে একে আমি ইসলামী আন্দোলন বলে দেখি না। তবে আন্দোলন হিসাবে দেখি। ইসলামী আন্দোলন হিসাবে দেখে ক্রসেড লড়বার ভুল পথে আমি হাঁটতে পারি না। এটাও আর এক আত্মহত্যা। আর একে ইসলামী আন্দোলন বলে আপনি যদি দেখেনও তাতে জামাতের অবদান কোথায়? জামাতের রাজনীতি এগুলোর কোন র্যাডিক্যাল ধারার ভিতর পড়ে না।
১৯৭৯ সালে ইরান বিপ্লবের পরে এর প্রভাবে সৌদি বাদশা নিজের জন্য যে বিপদ দেখতে পেলেন, তাতে এটাকে শিয়া বিপ্লব বলে খাটো করে বললেন সুন্নীদের জন্য এটা নয় - এই বলে যে প্রচার, টাকা পয়সা উজার করে ঢালা শুরু করলো, এই কাজে গোলাম আযম নিজেকে সৌদিদের উপযুক্ত সঙ্গী খেদমতগার হিসাবে উপস্হাপনে সক্ষম হয়। এটা না হলে হয়ত ক্লিনিক্যালি ডেড গোলাম আযম তাঁর নিজের ব্যক্তি রাজনৈতিক জীবন ফিরে পাবার কোন কারণ ছিল না। এতে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ হয় নাই। আমেরিকান রাজনীতিতে যতটুকু সৌদি ভাগের (steak) টুকরা আছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জামাত সেই অংশের অনুসারী। ফলে কোন ইসলামি র্যাডিক্যাল আন্দোলনে জামাতের ভাগ দাবি করার সুযোগ নাই। এটা জামাতের কর্মীদের আপন ভাবনা বুঝ হতে পারে, তারা নিজে এটা ভেবে নিজেকে প্রবোধ দিতে পারে। কিন্তু এর সাথে ঐ কর্মীদের নিজের দল জামাতের কোন সম্পর্ক নাই। বরং জামাতের রাজনীতি এর বিরোধী। আমি জানি না আপনি ইদানিংকালের জামাত রাজনীতির মোড় বদলের খবর রাখেন কীনা। আমার ধারণা যুদ্ধাপরাধের ইস্যুর মুখোমুখি না হলে এতদিন এই মোড় বদলের প্রকাশ্য ঘোষণা এসে যেত। না, নিজামি বঙ্গবন্ধু বললো কী না আমি তা মিন করছি না। এটা কারযাভি লাইনে বদলের কথা বলছি আমি। তুরস্কের এরদোগানের এ কে পার্টি যেটার ফলোয়ার। আমেরিকানদের নীতি বা পুঁজিতন্ত্রের সাথে এই ইসলামি ধারা নিজের কোন সঙ্ঘাত দেখেনা। খালি হিজাব পড়ে আমেরিকানদের সাথে ব্যবসায় ভিরতে চায়। পশ্চিমের সাথে একধরণের সাংস্কৃতিক বিরোধ আছে বলে দেখে।
যাই হোক, আমি জানি না জামাতের কর্মীরা দাগ লাগা নেতাদের ব্যক্তি রাজনৈতিক জীবন প্রতিষ্ঠার রাজনীতিতে কতদিন খুটি হয়ে সমর্থন যুগিয়ে যেতে পারবে, আর ভিতরে ভিতরে নিজেকে মিথ্যা প্রবোধ দিবে ইসলামি আন্দোলনের জোয়ার আসতেছে।
আর একটা কথা বলে শেষ করব, আমি ভুলতে রাজি নই, জামাত আমেরিকার কোল্ডওয়ারের বা ঠান্ডাযুদ্ধের আমলে কমিউনিষ্ট হত্যা নীতির সহযোগী শক্তি বা ally। আমেরিকান নীতি হলো, এমন দীর্ঘ বন্ধুত্ত্বের সাথীদের সহসা ত্যাগ না করা। ফলে আমেরিকা এখনকার সাধারণ নীতি, ইসলামের নামগন্ধ আছে এমন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দলকে একবিন্দু বিশ্বাস করা যাবে না, এটা যেমন সত্য একই সঙ্গে, কোল্ডওয়ারের পরিক্ষিত বন্ধুদের সহজে ফেলে যাওয়া যায় না - একথাও সত্য। ফলে বাংলাদেশকে আমেরিকান "সন্ত্রাসবাদ" বিরোধী নীতির জোটে ঢুকিয়ে ফেলার পর যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতে আমেরিকা বিরোধিতার অবস্হান যদি নেয় - তো আমি অবাক হব না।
আপনি শেষ প্যারায়, "৭১ এ পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের" লিখেছেন। অসর্তকভাবে লিখলেও ঠিক করেননি। আশা করি সংশোধন করবেন। ব্লগ আইনে ব্যন্ড হয়েও যেতে পারেন।
মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
বন্ধনহীন বলেছেন:
সততার আলো বলেছেন: ... কিন্তু ইসলামী সমাজ কায়েমের নেশা কি থেমে যাবে .....?
@সততার আলো:
নেশা ভালো না। নেশা ইসলামে হারাম। আদর্শ হলেই ভালো হতো। আর উত্তম আদর্শ মানুষকে টানবে।
জামাতির আদর্শ রগ কাটা, মহিলাদের গনিমতের মাল বানানো। জামাতির আদর্শ এদেশে কেউ কিনবে না।
সুদীপ্ত বলেছেন:
জামাতিদের বিচার করলে দেশে দাঙ্গা লাগবে... কই পান এই সব কথা? আর যদি দাঙ্গা লাগেও, তাতেই বা কি? বিচারপ্রক্রিয়া থেমে যাবে? জীবনে শুনি নাই দাঙ্গা ভয়ে কেউ বিচার থামায়া রাখছে।মাইনাস।
লেখক বলেছেন: জামাতের বিচার প্রক্রিয়া আমি থামাতে বলি নাই। আবার একটু যদি কষ্ট করে পড়েন।
সত্যেন্দ্র ছাতু বলেছেন:
নূর ভাইয়ের চাকরি করে আপনি অনেক কিছু শিখছেন।
লেখক বলেছেন: আমি কোন নূর ভাইয়ের চাকরি করে নাইরে ভাই। আপনি বৃথাই চেষ্টা করছেন।
জাতেমাতাল বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পি মুন্সির কিছু আশঙ্কা আর দুশ্চিন্তার কথা শুনলাম। এ ক্ষেত্রে আমার খোলাখুলি বক্তব্য হলঃ আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইছি তাদের-৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি নরহত্যা, নির্যাতন কাউকে আটকে রাখা আর সর্বোপরি নারীর বিরুদ্ধে অমানবিকতা- এ সব ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভি্যোগ আছে। আমরা এই যুদ্ধপরাধের বিচার চাই এক গনতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্য নিয়ে। আমাদের সহ-নাগরিক আমি আপনি সহ যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ইন্সাফ দিতে। এই অপরাধের বিচার না করলে আমরা জাতি হিসাবে নিজদের সভ্য বলে দাবি করতে পারি না, কোন গনতান্ত্রিক সমাজব্যাবস্থার স্বপ্ন পর্যন্ত দেখতে পারি না। আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত এত বছর ধরে এই প্রয়োজনীয় কাজটা আমরা করতে পারি নাই- এবার আমাদের অবশ্যই এই কলঙ্কমোচনের উদ্দ্যোগ নেওয়া উচিত।
আমরা খুশি বর্তমান সরকার এই বিচার এর প্রক্রিয়া শুরু করেছে, আমরা এই প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি দেখতে চাই।
আমরা যারা এই বিচারের পক্ষে—আমরা সবাই পরিস্কার আমরা কি চাই, আমাদের লক্ষ্য কি। প্রচলিত আইনের আধীনে এই বিচার হবে এবং গনতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আমাদের বিচার ব্যবস্থা তথা পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই এই বিচারের কার্য্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই বিচার চাওয়ার সঙ্গে র্যাডিকাল ইসলাম বা ধর্মীয় রাজনীতিকে নির্মুল ঘোষনা করার কোন সর্ম্পক নাই।
আমাদের সংবিধানের আওতায় থেকে, মানবাধিকার বিরোধী সন্ত্রাস বা জঙ্গীপনা থেকে মুক্ত হয়ে যে কেউ রাজনীতি করতে পারবে।
আমরা সুবিচার পাওয়ার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যাব, এবং আদালতের যা রায় হবে তাই আমরা মেনে নেব।
আমরা কিছুতেই আইনকে নিজের হাতে তুলে নেব না, এবং এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবো। সমাজে কোন বিশৃংখলা হতে দেবনা।
পুনরায় বলি-আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সংঘটিত যুদ্ধ অপরাধের বিচার চাই। আমরা জামাতের রাজনীতির বিচার চাই না।
আপনি আপনার পোষ্টে ......"জামায়াত শিবিরকে চিরতরে মুছে দিতে হবে, রাজাকার এবং তাদের উত্তরসূরীদের বিরুদ্ধে "এথনিক ক্লিনজিং" চালানো আমাদের ফরজ কাজ", "নিঃশর্ত বিচারহীন জবেহ চাই" ইত্যাদি।...... ধরনের যে দাবী দাওয়া আর শ্লোগানের কথা তুলেছেন আমরা নিশ্চিত এটা গুটিকয়েক লোকের দাবী-যা হয়ত অনেকাংশে সঠিক শব্দচয়ন সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা থেকে আসে। এটা কখনোই ব্যাপক জনমত নয়। ব্যাপক জনগোষ্ঠি যুদ্ধাপরাধের বিচারই চায়, কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে চায় না, লাশের উপর দাড়িয়ে জিঘাংসায় নৃত্য করতেও চায় না।
আমরা যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবী জানাই- একই সাথে আমরা যে কোন বিশৃংখলা, দাঙ্গা বাধানো, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইত্যাদির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার দাবিও জানাই।
এখন জনাব মুন্সী আমাদের বলেন- যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরা চাইতে পারি কিনা??
লেখক বলেছেন: যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরা অবশ্যই চাইতে পারি, আগেও পারতাম এখনও পারি। আমিও চাইতেই বলছি। চাই। কেবল সতর্কতাগুলো নিয়ে কথা তুলেছি। ক্রিটিক্যালি দেখতে চেয়েছি। ব্লগের পরিস্হিতি এমনই যে সবখানে বিচার বিরোধীতার ভুত দেখছে।
ভালো সারসংক্ষপ করছেন। আপনার কথা সত্যি হলে আমার শঙ্কার কিছু নাই।
েপচাইললা বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী একটা লেখা।কিন্তু আপনার লেখায় অনেক বিশ্লেষণেই আপনার রাখা অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যেমন আপনি বলার চেষ্টা করেছেন, 'রাষ্ট্র বিচার ব্যবস্হা রাখে কেন?' এর উত্তরে আপনি যে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে কোনখানে পাওয়া গেল না যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আপনার দ্বিমতের যুক্তিটি।
দু'একজন ব্লগার ইতোমধ্যেই প্রশ্নটি ইতোমধ্যেই তুলেছেনঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে এদেশের ইসলামী আন্দোলনকে রুখে দেয়ার চেষ্টা করা হবে- এটি আপানার মনে হল কেন? তাহলে আপনি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে আমাদের দেশে এখন যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করছেন তাদের অধিকাংশই '৭১-এ মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন? এখানে যুদ্ধাপরাধী বলতে আমরা বুঝেছি যারা যুদ্ধকালীন সময়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপক্ষ অবলম্বনের নাম করে ধর্ষণ, লুট, অগ্নি-সংযোগ ইত্যাদি কাজে লিপ্ত ছিল।
এখানে একটি প্রশ্ন আপনার প্রতি থাকছে। আপনি যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা যুদ্ধাপরাধমুক্তদের সংজ্ঞায়নের যে চেষ্টা করেছেন তার কিন্তু কোন সদুত্তর মেলেনি শেষ পর্যন্ত। আপনি বলার চেষ্টা করেছেন (সরল ভাষায় বলা যেত, কিন্তু আপনি তা না করে অনেক পেঁচিয়ে বলতে গিয়ে ঘুলিয়ে ফেলেেছন) আমরা কিংবা যারা যুদ্ধপরাধীদের বিচার চাইছে তারা আসলে ভূল বঝিয়ে দেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চাই কি_না? আপনাদের যুক্তিগুলো অদ্ভুত। আপনি রাষ্ট্রের মিত্র-শত্রু বিষয়ক যে ঘোলাটে একটা বয়ান দিলেন তার মর্মার্থ আপনার নিজের কাছেই সম্ভবত পরিষ্কার না, তাই না? খেয়াল করলে দেখবেন, আপনি বলার চেষ্ট করেছেন যে "আর আমি যাকে শত্রু মনে করি সম-নাগরিক হয়ত সে তখনও অথবা নয়; তার সাথে আমার বিরোধ মীমাংসার জায়গা আর কোর্ট বা বিচার নয় - যুদ্ধের ময়দানে, বলপ্রয়োগের ক্ষমতায়"। আপনার কেন মনে হয়েছে যে মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি রাষ্ট্রে অবস্থান করে আপনার(মতাদর্শিক) সাথে মীমাংসা করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে? আপনাদের বিচার করা যাবে না, যুদ্ধ করতে হবে-এমন কথা দিয়ে আপনি কি এই বিচারপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আহ্বান করছেন? এটা বলছি এই কারণে যে আপনারা (স্যরি, আপনারা বলতে বলতে এরপর আপনাদের মতাদর্শীদের বোঝাব) একটা সময়ে অপরিসীম অপরাধ করেছেন, এবং এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সেখানে আপনাদের বিচার করা দায়িত্ব নিতান্তই এই রাষ্ট্রের। অথবা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে এই বিচার আন্তর্জাতিক আইনেও হতে পারে। কিন্তু বিচার হতে পারে না যুদ্বধ করতে হবে এর মানেটা একটু খোলাসা করা দরকার ছিল। এক্ষেত্রে আমি সম্ভবত ভুল বুঝিনি।
আসলে আপনার সাথে আরো খোলামেলা আলাচনা দরকার।
লেখক বলেছেন: ১. যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আমার "দ্বিমতের যুক্তিটি" খুজে না পাবারই কথা। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আমি কোন দ্বিমত করিনি।
আপনি বলেছেন,
২. "দু'একজন ব্লগার ইতোমধ্যেই প্রশ্নটি ইতোমধ্যেই তুলেছেনঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে এদেশের ইসলামী আন্দোলনকে রুখে দেয়ার চেষ্টা করা হবে- এটি আপানার মনে হল কেন?"।
একথাটা আমার নয়। আপনি ভুল করেছেন। উপরে দেখুন আর একবার, মিলিয়ে নিন। এটা "সততার আলোর" কথা, আমার নয়। আর "সততার আলো" কথার প্রেক্ষিতে আমার জবাবটা অবশ্যই পড়ে নেবেন। আপনার জন্য অবশ্য পাঠ্য।
৩. আমাকে "যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা যুদ্ধাপরাধমুক্তদের সংজ্ঞায়নের" চেষ্টা করতে কোথায় দেখলেন? আপনি আবার কারও সাথে আমাকে মিলিয়ে ফেলেছেন।
৪. আপনি বলছেন, আমি নাকি বলার চেষ্টা করেছি "আমরা কিংবা যারা যুদ্ধপরাধীদের বিচার চাইছে তারা আসলে ভূল বুঝিয়ে দেশে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চাই কি_না?"।
আমার কথার সার অংশ হলো,
আমরা মুখে চাইছি বিচার আর মনটা তৈরি করে বসেছি নির্মুলের (elimination) আকাঙ্খার। অথচ যে নির্মুল চায় তাঁর বিচার চাওয়ার কিছু নাই, শত্রু বলে ওকে সশস্ত্র যুদ্ধে পরাস্ত করাই এর একমাত্র ফয়সালা - এটাই আমার পোষ্টর সারকথা। ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানি শত্রুদের বিচার চাইনি বা বিচার নিয়ে বসিনি। যুদ্ধে ফয়সালা করেছি। শত্রুর সাথে যুদ্ধে ফয়সালা হয়, বিচারে বসি না।
ফলে নির্মুলের আকাঙ্খা নিয়ে বিচার চাইলে এটা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধে গিয়ে ঠেকবে। তাতেও আমার আপত্তি নাই। কেবল কামনা করেছি, ভেবেচিন্তে জেনে শুনে যেন আমাদের আকাঙ্খা পোষণ করি।
অর্থাৎ সোজা কথায় মুখে বিচার বলে মাথায় নির্মুলের (elimination) ভাবনা পুষে রাখা যাবে না। বিচার আর নির্মুল - একসাথে করা যাবে না। যায় না। বিচার বলে বিচার বুঝতে হবে। আর নির্মুল বুঝলে কোর্টে যাবার দরকার নাই, অস্ত্র ধরতে হবে। কোর্টে গিয়ে নির্মুলের (elimination) আশা করা যাবে না, তবে বিচার অবশ্যই হবে।
আমি বিচারের কথা বলে যারা মাথায় নির্মুলের (elimination) ভাবনা রাখছেন তাদের আবেগকে সতর্ক করতে চাই। কারণ, শেষ পর্যন্ত এই নির্মুলের ভাবনা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। দাঙ্গার কারণ হতে পারে। বিচার বলে নির্মুলের (elimination) ভাবনা আমাদের মাথায় কেমন গেড়ে বসেছে তার কিছু নজির দিয়েছি। কেউ কেউ স্পষ্ট করে বংশই রাখব না বা "এথিনিক ক্লিনজিং" বুঝেছে ও প্রচার চালাচ্ছে। "এথিনিক ক্লিনজিং" করব বা লিখে চাই বলাটাই একটা যুদ্ধাপরাধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শাস্তির কথা থাক, এভাবে প্রচার চালানোটাই তো বিপদজনক, দাঙ্গার শর্ত তৈরি করা। এমনকি, অসতর্কভাবে কিনা জানি না, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি নামটা দেখুন।
আমি জানি না কেন তবে আমি দেখছি আপনি আগাম ধরে নিয়েছেন,
১. আমি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে
২. বলছেন, "এটা বলছি এই কারণে যে আপনারা (স্যরি, আপনারা বলতে বলতে এরপর আপনাদের মতাদর্শীদের বোঝাব) একটা সময়ে অপরিসীম অপরাধ করেছেন, এবং এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
আবার বলছেন, "আমি সম্ভবত ভুল বুঝিনি"। আমি হাসব না কাঁদব বুঝে পাই না।
আপনার চিন্তা এত দূর্বল কেন? একটা কথাকে পরখ করে দেখার ক্ষমতার তবেই না সিদ্ধান্তে যাবেন। আমার এই পোষ্টের প্রথম বাক্যটা দেখেননি কেন আমি এটা বুঝার চেষ্টা করছি। ওখানে বলেছি, "যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই বলতে যুদ্ধাপরাধের বিচারই বুঝেন, অন্য কিছু মিন করেন না, তাদের একটা আভ্যন্তরীণ আলোচনা হিসাবে"।
আসলে আপনার এই মন্তব্য দেখে আমি আরও নিশ্চিত হচ্ছি, শকড হলেও আমাকে এনিয়ে আরও কথা বলতে হবে।
থার্ড নয়ন বলেছেন:
আমি আপনার পোস্টের একটা মেসেজ বুঝতে পেরেছি যে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইছে তারা একধরনের নির্মুলের বা এলিমিনেশনের একটা আকাঙ্ক্ষা মনের ভিতরে পোষন করে। আর যখন এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা মনে থাকে তখন ই কিন্তু মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুন্ন হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন, ধরুন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবার আগেই কিন্তু বলা হচ্ছে অমুক যুদ্ধাপরাধী তমুক যুদ্ধাপরাধী। সে বিদেশে যেতে পারবেনা ইত্যাদি। যার বিচার ই হয় নি সে কিভাবে যুদ্ধাপরাধী হয়। এটা কি তার প্রতি অবিচার নয় ?
আবার বলা হচ্ছে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার হবে। যেখানে নাকি সাক্ষ্য প্রমান ছাড়াই (যেভাবে যেকোন ক্রিমিনাল অফেন্স প্রুফ করতে হয়) ফাসির কাস্টে ঝুলিয়ে দেয়া যায়। এটা কি ধরনের বিচার ? এটা তো প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই ব্যাপারটাই আমি বলতে চাচ্ছিলাম। আর এসব ই করা হচ্ছে এলিমিনেশন বা নির্মুলের আকাঙ্খা থেকে।
লেখক বলেছেন: ভাই থার্ড নয়ন, আপনিই বলছেন, "মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুন্ন হবার সম্ভাবনা থাকে", মানে সম্ভাবনা। তো ঘটনাটা সম্ভাবনার পেট চিড়ে ঘটুক, তখন আমরা "মৌলিক মানবাধিকার" নিয়ে কথা বলি।
নির্মুলের চিন্তা আমরা যে মাথায় বয়ে বেড়াচ্ছি তা নিয়ে কাউকে অভিযুক্ত করার চেয়ে তাকে বুঝিয়ে ধরিয়ে দেওয়াটাই বেশি কাজের। আমি তাই করার চেষ্টা করছি।
"বিদেশে যেতে পারবেনা" বলে যা বলা হয়েছে তাতে কারা বিদেশে যেতে পারবেনা সেই ব্যক্তির নাম কী আমরা জানি? জানি না। কাজেই এটা এখনও আইনি বিষয় হয়নি। রাজনৈতিক বিষয় হয়ে আছে। আগেই এনিয়ে কথা বলার আমি কিছু দেখিনা।
আপনাকে একটা কথা পরিস্কার করে বলি, বিশেষ ট্রাইবুনালে কিন্তু প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়ায়, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড মেনে, প্রচলিত সাক্ষ্য আইনে যুদ্ধাপরাধের যদি বিচার হয় ও দোষী প্রমাণ হয় - তাহলে আপনার আপত্তির কী আছে। ১৯৭৩ এর বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার হলে আপনি কী সমস্যা দেখছেন?
সরকার কীভাবে বিচারটা করতে চায় এখনো সে নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে এখনই "এটা কি ধরনের বিচার" বা "প্রহসন" বলাটার কোন কারণ দেখছি না। বরং বলাটা অন্যায়।
আগেই বলেছি, নির্মুলের চিন্তা আমরা যে মাথায় বয়ে বেড়াচ্ছি তা নিয়ে কাউকে অভিযুক্ত করার চেয়ে এখন তাকে বুঝিয়ে ধরিয়ে দেওয়াটাই বেশি কাজের। "এলিমিনেশন বা নির্মুলের আকাঙ্খা থেকে এসব ই করা হচ্ছে" কীনা এসব প্রচার চালানো আমার কাজ না। ব্লগ আমার কাছে চিন্তাভাবনা প্রসারের উপায়, প্রচার চালানোর কাজ একে আমি ব্যবহার করতে চাই না। ভালো থাকবেন।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
অনেক বড় পোষ্ট।আপনার কিছু কিছু পয়েন্টে একমত।বেশি আলোচনা করলাম না।মোটের উপর জাতে মাতালের মন্তব্যই আমার বক্তব্য।
লেখক বলেছেন: বলেন কি? আপনার পোষ্ট হিসাবে তো এবারেরটা ৬০ ভাগ।
বেশি আলোচনা করলে খুশি হতাম। তবু, ধন্যবাদ।
জাতেমাতাল বলেছেন:
পি মুন্সী সাহেব, আমার দুইটা বিষয় জানার ছিলঃ১। ৯/১১ এর পর দুনিয়া জুড়ে ইসলামের নামে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, পশ্চিম চিন্তায় রাজনীতিতে ও অর্থনীতি যে সঙ্কটে পড়েছে তাকে আপনি ইসলামী আন্দোলন বলে দেখেন না। আমার প্রশ্ন এই আন্দোলনকে আপনি কি ধরনের আন্দোলন হিসাবে দেখেন?
২।এই মুহুর্তে ইসলামের নামে দুনিয়া জোড়া যে আন্দোলন চলছে তাদের মধ্যে এমন কোন ইসলামি ধারার কথা আপনি বলতে পারেন যার সাথে আমেরিকান নীতি বা পুঁজিতন্ত্রের সরাসরি বিরোধ আছে?
লেখক বলেছেন: আপনার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু আমার ধারণা প্রসঙ্গের এত বাইরে চলে যাওয়া এই পোষ্টের প্রতি অবিচার হবে। আপাতত, রিফাত হাসানের একটা ব্লগ পোষ্ট "ভাস্কর্য বিতর্ক: আরো কিছু নোট" - ওখানে শেষের দিকে সুমন রহমানের সাথে আলোচনায় প্রসঙ্গটা এসেছিল ওটা দেখতে পারেন।
তবে আমেরিকান নীতি বা পুঁজিতন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ কাদের আছে বুঝতে আপাতত আপনাকে একটা থাম্বস রুল আকারে কথাটা বলি। যাদেরকে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদী বলছে -এরা সবাই। এর মানে এই নয় ঐসব রাজনৈতিক ধারাগুলো নিজের সম্পর্কে তাই ভাবে।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
শুরুতেই আপনি বলতাছেন-''এই আলোচনাটার অবতারণা করছি এটা ধরে নিয়ে যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই বলতে যুদ্ধাপরাধের বিচারই বুঝেন, অন্য কিছু মিন করেন না, তাদের একটা আভ্যন্তরীণ আলোচনা হিসাবে।'' এইটার তাৎপর্য কি ? এই কথা বলা হলে 'তার পর যা' থাকে তা হইলো; আমরা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া 'যুদ্ধাপরাধ'-এর বিচার চাই। 'যুদ্ধাপরাধ'-এর আইনি প্রতিকার চাই। ১৯৭১-এ এই দেশে পাকিস্থানী সশস্ত্রবাহীনির নেতৃত্বে এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীদের সহযোগিতায় সংঘটিত 'যুদ্ধাপরাধ'-এর আইনি প্রতিকার চাই। এইটাইতো?
যারা এইটা মনে করেন তাদের 'আভ্যন্তরীন আলোচনা' আপনি এই পোস্টে চালাইতে চান। এইতো?
লেখক বলেছেন: একদম ঠিক ধরেছেন।
তবে, আমার বলে নেবার তাগিদ বোধ করেছিলাম দুটা কারণে,
১. দ্বিতীয় যে ক্যাটাগরি, যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার বলতে র্যাডিক্যাল ইসলাম বা "সন্ত্রাসবাদ" মোকাবিলাও বুঝেন, সেই লক্ষ্যে একধাপ আগানো বা এক দড়িত ফাঁসিতে দেবার মত বুঝেন - এদের সাথে তর্কের বিষয় এটা নয় তা বুঝাতে। বিশেষ করে কৌশিকের কথা জানি।ওর সাথে আগামিতে আরও কথা বলতে হবে জানি। কিন্তু এখানে না।
২. 'আভ্যন্তরীন আলোচনা' বলেছিলাম এই ভেবে যেন আমি বিচার না চাওয়ার পক্ষে তর্ক তুলছি এটা ধরে নিয়ে কেই মন্তব্যের অবতারণা না করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাই ঘটেছে। ব্লগের যা শোচনীয় অবস্হা। সত্যি বলতে কি প্রথম আট টা মন্তব্য পড়ে হতাশ হয়ে গেছিলাম। মনে হচ্ছিল আমরা চিন্তা করতে ভুলে যাচ্ছি, কেবল তেলা মাথায় তেল। ক্রিটিক্যাল কোন কিছু দেখলে আর মাথা কাজ করে না।
যাই হোক, আপনার নজরে পরার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
থার্ড নয়ন বলেছেন:
জনাব পি মুন্সি ধন্যবাদ। আপনি বলেছেন -
বিশেষ ট্রাইবুনালে কিন্তু প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়ায়, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড মেনে, প্রচলিত সাক্ষ্য আইনে যুদ্ধাপরাধের যদি বিচার হয় ও দোষী প্রমাণ হয় - তাহলে আপনার আপত্তির কী আছে। ১৯৭৩ এর বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার হলে আপনি কী সমস্যা দেখছেন?
যদি আপনার কথামত প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়া , ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড মেনে প্রচলিত সাক্ষ্য আইনে বিশেষ ট্রাইবুনালে যদি বিচার হয়। তাহলে আমি খুব ই খুশী হবো।
খুশী হব একারনে যে , এই ইস্যুটির শেষ হয়ে যাব এবং জাতি অন্তত একটা বিভক্তি থেকে মুক্তি পাবে।
কিন্তু আমার আশংকার স্থান হচ্ছে যে, বিভিন্ন পেপারে বা টকশোতে কয়েক জনকে ( কেউ কেউ আইন পেশায় জড়িত) বলতে শুনলাম। বিশেষ ট্রাইবুনালে নাকি প্রচলিত ক্রিমিনাল প্রসিডিউর মেনে চলতে হয় না। কোন আসামীর অপরাধ নাকি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করতে হয় না। বিভিন্ন পেপার পত্রিকার নিউজ কে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়। ( আপনি কি এই ব্যাপারে সিওর ?)
সেখানেই আমার সন্দেহ প্রহসনের বিচার হবার। আর প্রহসন মুলক কিছু করা হলে দেশে একটা সংঘাত মুলক পরিস্থিতি হবে এব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।
লেখক বলেছেন: আমার একটা পর্যবেক্ষণ হলো, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে যারা পেপারে বা টকশোতে কথা বলছেন এরা কী নিয়ে কথা বলছেন, নাড়াচাড়া করছেন এর ব্যপ্তি নিয়ে কোন ধারণা রাখেন না। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কোন আইনি পেশাদারি বা রাজনৈতিক বিচারবোধের চেয়ে দগদগে আবেগ দিয়েই তারা সবকিছু করতে পারবেন বলে মনে করেন। ব্লগের পপুলার আমেজে আমরা এটারই ছাপ দেখি।
সে যাই হোক, আমি মনে করি না বাংলাদেশের সাক্ষ্য আইন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশের নড়বড়ে বিচার ব্যবস্হা এখন পর্যন্ত বৈশিষ্ট হলো, বিচারের ম্যনিপুলেশনে শাস্তি না হবার বা এড়ানোর উদাহরণ আছে কিন্তু ম্যনিপুলেশনে শাস্তি দেয়া হয়েছে এমন রেকর্ড আমি শুনিনি। আর আওয়ামি লীগ বিচারের বিষয়টাকে আভ্যন্তরীণ না রেখে আন্তর্জাতিকভাবে জানিয়ে ফেলেছে বলে বিচারের মান নামিয়ে আনতে চাইলেও সমস্যায় পড়বে। জাতিসংঘেও অনেক ম্যনিপুলেশন হয়, কিন্তু এসব ক্ষেত্রে নয়। পশ্চিমের সমস্যা আছে, কিন্তু এত দেউলিয়া হয়ে পড়েনি যে ম্যনিপুলেশনে সহায়তা করবে। মরিয়র্টির মত এটা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ইউরোপ চুপ থাকবে না। উৎসাহী লোকজন থাকবে, কিন্তু আমি মন করি না আওয়ামী লীগ পেপার কাটিংকে সাক্ষ্য বানাবে বা বাংলাদেশের কোর্ট এটা মেনে নেবে।
আমি বরং উদ্বিগ্ন হচ্ছি এই ভেবে যে তার মানে কী গোলাম আজমের নাগরিকত্ত্ব মামলার পর এপর্যন্ত পেপার কাটিং ছাড়া অন্য কোন প্রমাণ জোগাড় হয়নি।
তবে এটা ঠিক বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংঘাতমুলক পরিস্থিতির দিকে আমরা যাব।
মনজুরুল হক বলেছেন:
মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ধর্মাশ্রয়ী ভেদরেখা টেনে সাম্যবাদকে বিরোধীতা, প্রতিহত, এবং কমিউনিজমের কুৎসার রটানোর জন্য আর স্বাধীকার আদায়ের সংগ্রামে প্রত্যক্ষ বিরোধীতার জন্য জামাত সহ ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোর ব্যান চাই।
লেখক বলেছেন: ভাই মনজুরুল, এটা আপনি কোন দিকে গেলেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে গালমন্দ কথাবার্তা চলছে এর ভিতরে আপনি জামাত সহ ধর্মাশ্রয়ী দলগুলোর ব্যান চেয়ে বসলেন! ব্যন নিয়ে আপনি একটা পোষ্ট দেন আলোচনা করব।
মিঠাই বলেছেন:
আরে এইটাতো আমাগো খুমেনী ইহসান। তো নইয়া নিকে ক্যা? পুরানা নিকের কি অবস্তা? আর বাংলার ফিনিক্স পাখি খালিদা জিয়ার খবর কি, খুমেনী?
লেখক বলেছেন: জনাব আমি খোমানী না। রং নাম্বার।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আমার মন্তব্যের জবাবে ১. -এ যে কথা শুরু করলেন সেইসবে যাবার আগে আর একটা বিষয়ে আপনার মত-অমত জানা দরকার।'যুদ্ধাপরাধের' বিচার আর যুদ্ধাপরাধীদের' বিচার-এর মাঝখানে কোনো ফারাক আপনার খেয়ালে আছে? থাকলে কিভাবে?
লেখক বলেছেন: আপনি কী ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক তিনপার্টির বা ত্রিদেশীয় চুক্তির কথা বলছেন?
আমি মিরাজের ফ্যাক্টসের সংকলন কাজের মনে করি। ব্যাখ্যা নয়। আওয়ামি-বিএনপির মাঠের ঝগড়ায় হয়ত এর মূল্য আছে, জামাতের কাছেও আছে। কিন্তু শেখ মুজিবকে দায়ী করে খাটো করা সমর্থন করি না। বিচার করতে পারিনি বলে মিরাজের মাফ চাওয়াকেও ঠিক মনে করি না। এতে শেখ মুজিবকে অবিচার করা হয়েছে। এনিয়ে আলাদা পোষ্ট আমাকে অবশ্যই করতে হবে।
১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী শেখ মুজিবকে মাফ করতে হয়েছে ফলে আর যুদ্ধাপরাধীর বিচার বলে কিছু নাই -জামাতের একথার কোন আইনি মূল্য নাই। এটা মিথ্যা কথা। কোর্টেও জামাতের একথা টিকবে না। তবে একথা দিয়ে জামাত যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সত্ত্বার সাথে কোন রাজনৈতিক মীমাংসার ইঙ্গিত করে থাকে সেটা আলাদা।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
না। আমি এইটা বলি নাই।যে কারনেই হোক 'প্রিন্সিপাল অফেন্স' যারা করছে তাদের শাস্তি দেয়া যায়নাই। তাই বইলা 'অ্যাবেটমেন্ট' যারা করছে তাদের শাস্তি দেয়া যাবেনা, এই কথা আইন মানে না। আমিও মানিনা তাই এইটা আমি বুঝাইতে চাইনাই।
যুদ্ধাপরাধের' বিচার আর যুদ্ধাপরাধীদের' বিচার-এর মাঝখানে কোনো ফারাক আপনার খেয়ালে নাই বুঝলাম।
দেখবেন সামহোয়ার হোক বা অন্যকোথাও হোক, যে ব্যানারের পেছনেই আমরা দাড়াইনা কেন 'যুদ্ধাপরাধের' আইনি প্রতিকার দাবি করে, দেখবেন 'দাবি' থাকে 'যুদ্ধাপরাধীদের' বিচার। এখন আবার এইটা হইছে 'চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের'। এইটারেই কি আপনার গুরত্বপুর্ন মনে হয়? হইলে কিভাবে?
যদি এইটা আপনে খেয়াল না কইরা থাকেন এর আগে তাইলে বাদ দেন।
লেখক বলেছেন: আপনার কথা শুনে বুঝতে পারছি, না আমি দেখি নাই।
'চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের' বলার পিছনে একটা অসহায়ত্ত্বই দেখলাম আমি।
আপনার পরামর্শ মেনে নিলাম। বাদ।
থার্ড নয়ন বলেছেন:
ধন্যবাদ। আপনার ব্যাখ্যার পরে আমারো ধারনা এই বিচার ম্যানিপুলেট করা খুব কঠিন হবে। কারন দেশী বিদেশী অনেকের চোখ থাকবে বিচার প্রক্রিয়ার উপর। তবে আপনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিচার প্রক্রিয়াকে ম্যানিপুলেট করে কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। এই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারলাম না। এই তত্তাবধায়ক সরকারের আমলেই জরুরী অবস্থার মধ্যে যে বিচার গুলি হয়েছিল সেই গুলি কে ফেয়ার ট্রায়াল হয়েছিল ?
লেখক বলেছেন: আমি জরুরী অবস্হার বিচারগুলোকে গোনায় ধরি নাই।
ওটা সামরিক শাসনের আমলে মার্শাল কোর্টে বিচারের চেয়েও জঘন্য; এই অর্থে যে, মার্শাল কোর্টে রাজনৈতিক ম্যনিপুলেশন ছিল না, এখানে এটা আবার পরাশক্তির রাজনীতিক স্বার্থে ম্যনিপুলেশন। খোদ চিফ জাষ্টিসকে হাবিলদার বানিয়ে নিয়ে।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে আপনার কথা আরও ভালো ভাবে বুঝা যাবে। যদি বিচারে শাস্তি না হয়, তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আরও আন্দোলন হবে এবং বিচারকার্যকেই অভিযুক্ত করা হবে। আবার বিচারে দন্ড হলে উল্টা পক্ষ ঠিক একই কাজ করবে। কাজেই ব্যাপারটা একটা রাজনৈতিক দাবী আকারে উভয় পক্ষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। যদিও শুধু বিচারটাই এখানে মুখ্য হওয়া উচিৎ। কিন্তু কোন বিচারকার্য নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ইতিহাসে কোন অভাবনীয় বা অস্বাভাবিক ব্যাপার না। তবে তার সাথে ফায়দা হাসিলের কায়েমী স্বার্থ যদি জড়িয়ে থাকে তাহলে রাজনৈতিক দাবী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে এই ন্যায্য দাবী থেকে কায়েমী স্বার্থ আলাদা করাটা খুব দরকার। তাই যুদ্ধাপরাধের পক্ষ বিপক্ষের যারা অবস্হান করছে তাদের সাব্জেকটিভ পজিশনটার ব্যাখ্যাটা দরকার। শুধু দাবীর পক্ষ/ বিপক্ষ নয়, এই দাবীর পক্ষেও দুটো অবস্হান আছে। ১.যারা ন্যায্যতার ভিত্তিতে এই দাবীকে প্রতিষ্ঠিত করবে, ২. যারা নানা ফন্দিফিকিরে এই দাবীকে ব্যবহার করবে। ১ নং উদ্দ্যেশ্যর জন্যই ২ নং সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার।তবে ইতিহাস সামনে যায় না কি পিছায়, তা বুঝার জন্য এই অবস্হার একটা সুষ্ঠু পরিনতি অবশ্যই দরকার।
লেখক বলেছেন: শেষবেলায় এসে আমার চেয়ে অল্প কথায় ভালই সেরে দিলেন।
তবু আসছেন, এজন্য ধন্যবাদ।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
রিচার্ড বাউচার কইচে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা ঠিক হবে না....আপনার একটা অনুমান কিছুটা জোরালো হচ্ছে...
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, তাই মনে হচ্ছে।
আমেরিকা কারো পক্ষে দাঁড়ালে বা কাউকে ঘায়েল করতে চাইলে এরকম মানবাধিকার টাইপের কথাই বলে।
রাগ ইমন বলেছেন:
খুবই খুবই খুবই ভালো একটি লেখা যার সকল বাংলাদেশী নাগরিকের পড়া উচিত । এত সহজ ও সংক্ষিপ্ত ভাবে একটা রাষ্ট্রের জন্ম , নির্বাহী ও বিচার বিভাগের গঠন ও প্রয়োজনীয়তা , বাংলাদেশ ও তার সংবিধানের সৃষ্টির দুর্বল দিক , বর্তমান যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইবার প্রেক্ষিত , পরিশেষে যে কোন পথে এই দাবীর বাস্তবায়নের পরিণতি নিয়ে এত সুন্দর আলোচনা করেছেন - সকল প্রশংসা আপনার প্রাপ্য ।
মন্তব্য পরে খুব দুঃখ পেলাম। ব্লগের বেশির ভাগ পাঠকের মতই এখানেও অনেকে "দল " ও "কোন্দল" ( কোন্দলকে 'কোন দল' থেকে উৎপন্ন এই জন্যই মনে হয়) খুঁজতে লেগে গেছেন। এতে অন্তর্নিহিত পাঠ টুকু মাঠে মারাই গেলো মনে হয় ।
আমাদের দেখার চক্ষু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভীষণ ভাবে সংকীর্ণ ।
১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকে শুধুই হত্যা হিসেবে নিয়ে সকলেই খালি নৃশংসতার গল্পটাই বার বার করে। এর পিছনের সুদুরপ্রসারী নীল নক্সাটাকে বার বার তুলে ধরার কাজটা একেবারেই অনুপস্থিত হয়ে গেছে ।
একই সাথে বুদ্ধিজীবী হত্যা , জেলের ভিতর চার নেতার হত্যা, আর ইদানিং কালের কিবরিয়া হত্যা কেন একই সূত্রে গাঁথা এইটা অনেকেই বুঝে না ।
বাংলাদেশ নামক একটা শিহসু রাষ্ট্রের নির্বাহী কাঠামো আর বিচার কাঠামো যাতে কিছুতেই গড়ে উঠতে না পারে এবং যা হয়েছে তাও যাতে টিকতে না পারে , সেই জন্যই যে এত এত হত্যার প্রয়োজন, সেইটা এখনো কাউকে বুঝাতে গেলে মারামারি লেগে যায়।
১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মনে হয় এইটাই যে এই যুদ্ধের " এলিমিনেশন" পর্বটি সকলের কাছেই খুব বেশি মাত্রায় স্পষ্ট ছিলো , কিন্তু এর পরের রাষ্ট্র কাঠামোটি কি ভাবে নাগরিকের রক্ষক ও মিত্র হিসেবে নাগরিকের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবে , সেইটি স্পষ্ট ছিলো না মোটেই।
আর মুজিবও শেষ পর্যন্ত নাগরিকের হাতে ক্ষমতা ছাড়তে পারলেন না । আমরা পাকিস্তানী এলিটকে এলিমিনেশন করে একটি বাঙ্গালী এলিটকে শাসক ( ও শোষক) হিসেবে পেলাম । রক্ষক ও পরিচালক হিসেবে নয় ।
এর করুণ পরিণতি মুজিব ভোগ করেছেন , আমরা করেই চলেছি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে যেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ( আসলে পুঁজিবাদী) খেলাটা চলছে , সেইটার উপজাত হিসেবে আমরা নাগরিক হিসেবে কি যে পেতে যাচ্ছি , এই আশংকা আমাকে আতংকে নীল করে রাখে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রাগ ইমন।
প্রায় এক বছরের কিছু বেশি আগে লেকা এই পোষ্ট। ওটা ছিল এই ব্লগের এক দমবন্ধ সময়। কোন ক্রিটিক্যাল কিছু লেখা যেত না। শুধু গালাগালিই নয়, স্বঘোষিত কিছু মডারেটরের কল্যাণে নিকই বাতিল হয়ে যেত। হাসিনা সদ্য সরকার গঠনের পর ওর প্রভাব সওয়ার হয়েছিল সামহয়ারের কাঁধে। বহু লড়াইয়ের পর আজকের স্বাস নেবার অবস্হায় নিয়ে আসা গেছে সামহয়ারকে। ফলে লক্ষ্য করলে দেখবেন, অনেক সাবধানে, হেঁয়ালির আশ্রয়ে লিখতে হয়েছে, সব কথা পরিস্কার করতে পারিনি। আক্রমণগুলো খেয়াল করলঈ বুঝতে পারবেন।
আপনি যখন বলছেন, সকল "বাংলাদেশী নাগরিকের পড়া উচিত" এটা পড়ে প্রতিক্রিয়ায় ঐ দুঃসহ সময়ের কথা মনে পড়ে গেল।
কিন্তু একটা বিষয় এখনও বদলায় নি। এখনও আমরা মুখে যুদ্ধাপরাধের বিচার বলছি বটে কিন্তু আকাঙ্খা করছি জামাত খতম বা এলিমিনেট হয়ে যাক।
আমাদেরকে মনস্হির করতে হবে আমরা কী চাচ্ছি। কোন অপরাধীর অপরাধের বিচার নাকি একটা রাজনীতির উৎখাত।
অপরাধের বিচার আইন কোর্ট কাচারিতে হয়, হতে পারে। কিন্তু একটা রাজনীতির উৎখাত ওর চেয়েও প্রভাবশালী, চিন্তার ক্ষমতা দিয়ে মোকাবিলা করেই একমাত্র করা সম্ভব। অন্য কোন ভাবেই নয়। এমন কি জামাত বা ছাত্র শিবিরের রাজনীতি আইন দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিলেও ওর কিছুই তাতে আটকাবে না।
পুরা পাকিস্তান আমলে কমিউনিষ্ট পার্টি আইনি নিষেধাজ্ঞায় বাতিল করে রাখা হয়েছিল। সেজন্য যারা কমিউনিষ্ট পার্টি করতে চায় তাদের ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। ওদের আইনি প্রকাশ্য দল ছিল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) আর গোপনে ঐ একই লোকগুলো সবাই নানান কমিউনিষ্ট পার্টি করে গেছে। এমনকি তোয়াহাকে ৬৯ এর গণআন্দোলন, অভ্যুত্থানের একছত্র শ্রমিক নেতা হতেও কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।
ইসলামী রাজনৈতিক উত্থান একমাত্র ওর চেয়েও প্রভাবশালী, চিন্তার ক্ষমতা দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব। ইসলাম শুনলেই ওকে জামাত, রাজাকার বলে ঘৃণা ছড়িয়ে ঐ রাজনীতিকে পরাস্ত করা যাবে না।
সবচেয়ে সাধারণ নতুন সদস্য থেকে শুরু করে গোলাম আজম পর্যন্ত সবাইকে পিটিয়ে মেরে একটা লোমহর্ষক এথিনিক ক্লিনজিং করতে সক্ষম হলেও জামাতে ইসলামীর রাজনৈতিক চিন্তা আমাদের সমাজে থেকে যাবে। কারণ চিন্তাকে খুন বা এলিমিনেট করা যায় না, মানুষকে করা যায়। এই খতমের চিন্তার সাথে নকশালের খতমের রাজনীতির কোন তফাৎ নাই, হোক তা সে আওয়ামী লীগ বা প্রগতির নামে।
রাগ ইমন বলেছেন:
৭১ এর গনহত্যার প্রতি যদি কারো কোনরূপ সামান্য অবদানও থাকে তবে তার বিচার হওয়া উচিত, ৭১ এ পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে বিভক্তিকে কেউ যদি অসমর্থন জানায় তা যুদ্ধাপরাধ হতে পারেনা। আদালত যখন স্বচ্ছভাবে বিচার করতে যাবে তখন প্রকৃত অপরাধীরই বিচার হবে, কিন্তু মূর্খ মিডিয়াগুলো যেভাবে নিরীহ জনগনের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায় তার জন্যে তাদেরও বিচার করা উচিত--------------- সততার আলো পার পাইলো কি ভাবে এই ঘৃণ্য মন্তব্য করে?
লেখক বলেছেন: না পার পাইনি তো। একটু সোজা করে দিয়েছি আর পরিণতি মনে করিয়ে দিয়েছি। আপনি নিশ্চয় খতমের কথা বলছেন না।
যতদূর মনে করে আমারই অন্য কোন পোষ্টে ওকে জামাতের রাজনীতির মর্ম বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ওকে এনিয়ে কথা বলতে দেখিনি কখনও।
ও.জামান বলেছেন:
অন্য একটি পোস্টে করা মন্তব্যটা আপনার এখানে আবার করলাম।''সরকারের ইচ্ছা থাকলে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা ঠিকই চালাতে পারে। দুই দশকের চাপা পড়া হারিয়ে যাওয়া ১৫ই আগষ্ট হত্যা মামলার বিচার কিন্তু ঠিকই হয়েছে। কারণ সরকারের ইচ্ছা ছিল।''
আসুন আমরা সরকারকে ছাই দিয়ে চেপে ধরি যেন পিছলে যেতে বা বিচারের নামে প্রহসন করতে না পারে।
লেখক বলেছেন: ভাই জামান। আপনার চাই দিয়ে ধরার আকাঙ্খা দেখে ভয় পাচ্ছি। এই আকাঙ্খা যত তীব্র হবে রাস্তায় রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করা লাশ দেখার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।
মানুষকে হত্যা করে ওর বাহিত চিন্তা নির্মুল করা যায় না।
আগে মনস্হির করেন কোনটা চাচ্ছেন - অপরাধীর অপরাধের বিচার নাকি জামাত রাজনীতি বা ইসলামের রাজনৈতিক উত্থানকে ঠেকাতে চান।
নইলে হঠাৎ এক সময় আবিস্কার করবেন, এথিনিক ক্লিনজিং এর রক্ত আমাদের হাতে লেগে আছে। শত ধুয়েও এই দাগ আর যাচ্ছে না।
উপরে ২৪ নম্বরের আমার জবাবটাও দেখতে পারেন।
অলস ছেলে বলেছেন:
রাগইমন কে ধন্যবাদ এ পোষ্টে খোঁজ দেবার জন্য। পড়ে পুরনো একটা চিন্তা মনে পড়লো আবার । একবার এক টিভি টকশোতে ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধকে 'সিভিল ওয়ার' নামে অভিহিত করাতে আবদুল হান্নান নামের এক জামাত সমর্থক সাবেক আমলাকে নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিলো। ঐসময় বিশাল এক ইয়াহু গ্রুপের চেইনমেইল থেকে লিংক পেয়ে ইউটিউবে ভিডিওটা দেখেছিলাম, তারপর বিষয়টা নিয়ে কয়েকদিন মেইলে বাদ প্রতিবাদের পর দেখলাম আর আলোচনা এগোয়নি, থিতিয়ে যায় অন্য অনেক প্রসঙ্গের মতোই। আওয়ামী লীগও কিছু করেনি পরে আর।গতবছর বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু বই পড়তে গিয়ে দেখি অনেক লেখকই মুক্তিযুদ্ধকে সিভিল ওয়ার নামে অভিহিত করেছেন, ৩ ডিসেম্বরে শুরু হওয়া ভারতীয় মিত্রবাহিনীর অভিযানের আগ পর্যন্ত। অনেকদিন হয়ে গেলো, দরকার হলে বইগুলো খুঁজে বের করে রেফারেন্স সঠিকভাবে দিতে পারবো। যদ্দুর মনে পড়ছে এখন, ভারতীয় একজন শিব লাল এর লেখা একটা বই, আর রিচার্ড ওডোনিল এবং আরেকজনের নাম ভুলে গেছি, আমেরিকান লেখক এর লিখা এবং নামকরা কোন এক পাবলিকেশন্স থেকে বের হওয়া দুইটা বইতে এমন উল্লেখ ছিলো, আমার তখন একটু খটকা লাগলেও মুল প্রসঙ্গ ছিলোনা, তাই নোট রাখিনাই। তখন তৎকালীন সরকার সমর্থক বাঙ্গালী এবং পাকিস্তানি উভয় দিকেরই প্রো-পাকিস্তানী কিছু লেখকের লিখা্ও পড়েছিলাম, যারা মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি বিচ্ছিন্নতাবাদি নামে আখ্যা দিয়েছিলো, কিন্তু বিশ্লেষণে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হলেও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলো পুর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যের কথা। ঐগুলোকে অথেনটিক মনে না করলেও অন্যদিকে বিদেশী লেখকদের এই 'সিভিল ওয়ার' নামে আখ্যায়িত করার কমন ট্রেন্ড টা নিয়ে খটকাই লেগেছিলো। নিরপেক্ষভাবে এবং জ্ঞানগত দিক থেকে সৎ হয়ে এ বিষয়ে আপনার কিছু জানা থাকলে বলবেন? প্রকৃত বিষয়টা কি হবে?
লেখক বলেছেন: এককথায় বললে, ৭১ এ পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের একথা বলার কোন সুযোগ এখন কারও নাই।
এই "এখন" এর মানে হলো: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সারেন্ডারের পর থেকে আজ পর্যন্ত।
এই "কারওদের" মধ্যে: ১৬ ডিসেম্বরের পর বিদেশী কোন একাডেমিক ডকুমেন্টে, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবার পর নতুন করে সংজ্ঞায়িত ছোট হয়ে যাওয়া পাকিস্তানের সরকারি, বেসরকারি একাডেমিক ডকুমেন্ট, দলিল ইত্যাদিতে, এমনকি বাংলাদেশের কেউ যে যুদ্ধে কোন পক্ষই নেয়নি, পক্ষ নিয়েছে কিন্তু অস্ত্র ধরেনি, অস্ত্রও ধরেছে, মানবাধকার লঙ্ঘনমূলক কাজও করেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে নাগরিকত্ত্ব নিয়ে এই রাষ্ট্রের আনুগত্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে - এমন সবাই।
গৃহযুদ্ধ অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই:
কনষ্টিটিউশন ও আইনের দৃষ্টিতে বিচারে, বাংলাদেশের কেউ যে যুদ্ধে কোন পক্ষই নেয়নি, পক্ষ নিয়েছে কিন্তু অস্ত্র ধরেনি, অস্ত্রও ধরেছে, মানবাধকার লঙ্ঘনমূলক কাজও করেছে - এরা যেই হোক - স্বাধীন বাংলাদেশে নাগরিকত্ত্ব নিয়ে এই রাষ্ট্রের আনুগত্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ঐ নয় মাসকে আর "গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী" বলার সুযোগ নাই।
এই শব্দগুলো একমাত্র ব্যবহার হতে পারে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে (২৫মার্চ থেকে ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১) যখন কেউ কোন একাডেমিক ডকুমেন্টে লিখছিল সেসময়ের জন্য কেবল। ওখানে প্রয়োজনটা হতে পারে একটা নিরপেক্ষতার দরকারে; অথবা যথেষ্ট তথ্য জানা নাই ফলে কোন পজিসন নেয়া কঠিন। এঅবস্হায় হতে পারে এমন, কেউ ঐ সময়েই ঘটনা নিয়ে একাডেমিক নাড়াচাড়া করছে, লিখতে বসেছিল। কিন্তু ঐ যুদ্ধ তখন কীভাবে, কোন পক্ষে শেষ হয় - নাকি আবার কাগজ কলমে জোড়া থেকে গিয়ে দীর্ঘস্হায়ী কোন যুদ্ধের ভিতরে চলে যায় - কারও জানার কথা না। তাই লেখক বিবদমান কোন পক্ষ নিতে চাইছেন না - এসব সময়ে গৃহযুদ্ধ অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই বলার একটা চল একাডেমিক দুনিয়ায় আছে - এটা মেনে নেয়া যেতে পারে। কারণ ঐ অমীমাংসিত সময়ে, এক ধরণের নিরপেক্ষতা প্রকাশ করাই ওর মুল উদ্দেশ্য।
কিন্তু মনে রাখতে হবে "গৃহযুদ্ধ অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই" যদি মীমাংসিত হয়ে যায়, বিশেষ করে পাকিস্তান পক্ষের ঘোষিত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যেটা হয়েছিল - ফলে এরপরের সময়কালীন কোন একাডেমিক রচনায় আর "গৃহযুদ্ধ অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই" বলে নিরপেক্ষতার ভাব নেয়া, একাডেমিক সাজার আর কোন সুযোগ নাই। এমনকি কেউ যদি বলে আমি মানি না, এটা আমার একান্ত মতামত - এটা বলারও সুযোগ নাই। আসলে সেখানে তাঁকে একটাই বলার থাকে - হু আর ইউ? ইউ আর নো বডি ইন দিজ বিজনেস।
এটা গেল সাধারণভাবে বিদেশী একাদেমিসিয়ানের ক্ষেত্রে।
তবে, ছোট হয়ে যাওয়া নতুন পাকিস্তানের ক্ষেত্রে - এই অঙ্গহানিকে সে কীভাবে তার কনষ্টিটিউশন ও আইনে রিডিফাইন করছে এটা একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ ব্যাপার। হতে পারে সে এগুলো না করে ফেলে রাখল, যা সে করেছিল। সেক্ষেত্রে রিয়েলিটিতে নাই কিন্তু তার সরকারি আইনি কাগুজে দলিলে আছে - ফলে প্রতি পদে এক কুটনৈতিক সঙ্ঘাত সঙ্গ করে হাঁটার রাস্তা সে গ্রহণ করেছিল এটা আমরা দেখেছি।
তবে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবার পর এসবের কোন সুযোগও আর নাই। এমনকি এরপর পাকিস্তান নিজের কনষ্টিটিউশন ও আইনে রিডিফাইন না করে নিলেও ওটা করা হয়ে গেছে মানতে সবাই বাধ্য। ফলে কোন পাকিস্তানী একাদেমিসিয়ানেরও সে সুযোগ এরপর আর নাই।
জাতিসংঘের সদস্যপদ:
পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয়নি এবং সদস্যপদ লাভের প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদে চীনকে দিয়ে ভেটো দিয়ে রেখেছিল। আমরা সদস্যপদ পেতে পারি নাই। প্রতি সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদেশের ভোটে পাশ হওয়া নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাওয়ালা যে কোন একদেশ বাতিল করে দিতে পারে। ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ঐ একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ পায়।
জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্টের গণতন্ত্রে চলে না। যদিও বলতে পারেন, জাতিসংঘের সদস্য না হলেই বা কি? মাওয়ের চীন বিপ্লব ১৯৪৯ সালে ঘটলেও ১৯৭১ সালের আগে জাতিসংঘ সদস্যপদ পায়নি বা নেয়নি।
কিন্তু এখানে একটা মূল কথা আছে। নতুন রাষ্ট্র জন্মানো ও গঠনের পর জাতিসংঘের সদস্যপদ না নেয়া পর্যন্ত ঐ রাষ্ট্রের স্হিতিশীলতার দিক থেকে, উচা-নিচা জায়গায় চেয়ার পেতে বসার মত একটা অস্বস্তি সবখানে থেকেই যায়।
আপনার মনে প্রশ্নের উদ্রেক মনে হচ্ছে একাদেমিকদের বইপুস্তক ডকুমেন্ট বয়ান থেকে উৎসারিত।
যদিও "সিভিল ওয়ার" বলার ভিতর দিয়ে লেখক যেন বিতর্ক এড়াতে চাইছেন - এমন একটা রেওয়াজ একাদেমিক দুনিয়ায় চালু আছে। তবু আমি মনে করি, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর কোন লেখক তাঁর লেখায় নিরপেক্ষতার উছিলায় গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী শব্দ ব্যবহার করলে বুঝবেন তিনি একাডেমিক অসততা করছেন এবং বদ-মতলবী তো বটেই। তবে কোন কোন পাকিস্তানী লেখকের বেলায় ১৯৭৪ যতদিন পাকিস্তান স্বীকৃতি দেয়নি ততদিন মনের শোক ভুলার জন্য ছাড় দেয়া পারে, কিন্তু এরপরে আর নয়।
এমনকি আজকে কোন বিদেশী একাডেমিক তার লেখায় কোন কারণে ঐ নয় মাসের ঘটনা যদি তাঁর প্রসঙ্গ হয়ে যায় তবে তা নয়মাসের যুদ্ধকালীন ঘটনা হলেও সে আর গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী শব্দ ব্যবহার করতে পারে না। কারণ সে লিখছে এখন বসে, এখন আর সেটা "গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী" ছিল কী না সেটা আর অমীমাংসিত নয়। অর্থাৎ সোজা কথায় এখন দাড়িয়ে দেখে ঐ নয় মাসকেও আর অমীমাংসিত বাংলাদেশ মনে করার সুযোগ নাই। বড়জোর বলতে পারে উড বি বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন, কিংবা পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধ। গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী বলার কোন সযোগ নাই।
গৃহযুদ্ধ:
civil war - war within country: a war between opposing groups within a country
উপরের ডিকসনারী মানেটা তুলে দিলাম।
অর্থাৎ এই শব্দের উপযুক্ত প্রয়োগ হবে যেমন ধরেন, এক শহর বা রিজিয়নে এক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে, জনগোষ্ঠি বড় দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে, এর প্রভাব বাকি শহর রিজিয়নে পড়া শুরু করেছে। এতে সরকার বা রাষ্ট্র সরাসরি কোনটারই প্রতিপক্ষ নয়, তবে কেউ সরকারের কথা শুনছে না, সরকারেরও নিয়ন্ত্রণ নাই।
ড়কাত্তর সালে বাংলাদেশের পরিস্হিতি এটা নয়। সেক্ষেত্রে এটা বলার তো কোন সুযোগই নাই; না রাজনৈতিক অর্থে না আইনী অর্থে। প্রথমত খোদ পাকিস্তান রাষ্ট্রই প্রতিপক্ষ; একজন নির্বাচিত আইনী প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবকে শপথ নিতে ডাকা হয় নাই; সারা পূর্ব পাকিস্তান রেসিয়াল লাইনে ভাগ হয়ে আলাদা এককাট্টা; মাঝে হাজার মাইল দূরে পশ্চিম পাকিস্তান; আমরা রাস্তায় রাস্তায় পশ্চিম পাকিস্তানী জনগণের সাথে কোন দাঙ্গায় লিপ্ত নই। বরং আমাদেরকেই পাকিস্তান খোদ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বাঙালী বলে মেরে ধরে ঘর ছাড়া করেছিল যাতে দেশ ত্যাগ করি; আর সবচেয়ে বড় কথা - পিলখানা, রাজারবাগ, বেঙ্গল রেজিমেন্ট কেউ আগে আক্রমণ করেনি, বরং পাকিস্তান রাষ্ট্রই এরা সব বাঙালী বলে প্রিএমটিভ (কোন অপরাধ করার আগেই যাকে শত্রু বিবেচনা করে আক্রমণ করা হয় ) অতর্কিতে, প্ল্যান করে আক্রমণ করা হয়েছিল। এর মানে, পাকিস্তান রাষ্ট্র আগে আমাদেরকে কার্যত শত্রু ঘোষণা করেছিল। রাষ্ট্রের শত্রু ঘোষণা মানে বুঝেছেন নিশ্চয়; অর্থাৎ যার সাথে মিলে আর রাষ্ট্র করব না।
এজন্য কোন একাডেমিক পরিবেশে ঘাপটি মারা কেউ "গৃহযুদ্ধ" বলতে চাইলে ঠান্ডা মাথায় জিজ্ঞাসা করবেন ২৫ শে মার্চকে তিনি কিভাবে দেখেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রিএমটিভ এ্যকশনে কেন গিয়েছিল? কোন রাষ্ট্র রাষ্ট্র থাকতে চাইলে আদৌও এটা করতে পারে কী না, আর করলে সে রাষ্ট্র আর আমাদের রাষ্ট্র থাকে কী না, কী মানে দাঁড়ায়।
বিচ্ছিন্নতাবাদী:
এখানে কথা খুব ছোট। বিচ্ছিন্ন করতে না পারা পর্যন্ত টেনে টুনে কাউকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলার একটা সুযোগ দূরে দাড়িয়ে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু একবার বিচ্ছিন্ন করে দেখাতে পারলে এরপর আর পিছনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই বলবার সুযোগ নাই। যারা এটাকে আগে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ বলে আসছিল তাদের কথাই মেনে নিতেই হবে। পুরা লড়াইয়ের সময়টাই তখন মুক্তিযুদ্ধ বলে মানতে হবে।
কাউকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বললাম মানে ওদের আলাদা হবার একটা রাজনৈতিক ঝোঁক আছে - এতটুকু স্বীকার করা। কিন্তু আলাদা রাষ্ট্রে সফল হয়ে যেতে পারলে ওটাই সত্য; তখন আর পিছন ফিরে ঐ নয় মাস আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদের লড়াই লড়ছিলাম এটা বলার বা কোন একাডেমিক তর্ক করারও সুযোগ নাই। কারণ ঐ একাডেমিক মহাশয় যেটাকে কেবল একটা ঝোঁক - এর বেশি দেখতে পাচ্ছিলেন না ওটাই তো তাঁর দেখার ভুল, খামতি। ওটা আসলে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধই ছিল। উনি বুঝতে অপারগ ছিলেন। চিন্তার সে অকর্মন্নতার দায় উনার আমাদের নয়। ইচ্ছে হলে এখন উনি তোওবা পড়তে পারেন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রে যারা নাগরিক হতে চান:
আইনী দৃষ্টিতে বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তান) কেউ যে যুদ্ধে কোন পক্ষই নেয়নি, পক্ষ নিয়েছে কিন্তু অস্ত্র ধরেনি, অস্ত্রও ধরেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজও করেছে - এমন সবাই স্বাধীন বাংলাদেশে নাগরিকত্ত্ব নিয়ে এই রাষ্ট্রের আনুগত্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে গৃহযুদ্ধ বা বিচ্ছিন্নতাবাদের লড়াই বলবার সুযোগ ওদের আর নাই। এর কোন নৈতিক ভিত্তিও নাই। একইভাবে তাদেরকেও ২৫ মার্চ নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে যে ২৫ শে মার্চকে তিনি কিভাবে দেখেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রিএমটিভ এ্যকশনে কেন গিয়েছিল? কোন রাষ্ট্র রাষ্ট্র থাকতে চাইলে আদৌও এটা করতে পারে কী না, আর করলে সে রাষ্ট্র আর আমাদের রাষ্ট্র থাকে কী না, কী মানে দাড়ায়।
আর রাজনৈতিক তর্কের দিক থেকে এরা সে তর্ক যে তুলতে পারে না তা উপরে গৃহযুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে আলাদা আলাদা করে দেখিয়েছি।
এই হলো, আমার ভাবনা। জানি না, আপনার প্রয়োজন মিটাতে পারলাম কী না। জানাবেন আশা করি।
স্তব্ধতা' বলেছেন:
অল্প পরিসরে ব্যাপক একটা বিষয়ের চমৎকার সিনথেসিস।ত্রিশোনকুর ১২নং পর্বের পোষ্টে রাগ ইমনের দেয়া লিঙ্ক থেকে আগেই পড়েছিলাম কিন্তু তখন মন্তব্য করতে পারিনি রাগ ইমনের পোষ্টটিতে মন্তব্য করার জন্য।ভালো লাগলো কেউ একজন অন্তত শুধু হুজুগে লাফাচ্ছেনা বরং এর পূর্ব ও পরবর্তী সম্ভাব্য (আশঙ্কাজনক) পরিণতিগুলো নিয়ে ভাবছে।লেখাটির ভীষণ গুরুত্বপূর্ন এবং সময়োপযোগী বিশেষ করে যখন কি না একটা হুজুগে বিভক্ত গোটা দেশ।উপরের মন্তব্যগুলো দেখে মনে হলো খুব কম সংখ্যক পাঠকই বক্তব্যের মূল জায়গাটা ধরতে পেরেছেন।এমনকি অভিজ্ঞ ব্লগার মনজুরুল হককেও দেখলাম সার এর বাহিরে থেকে মর্ম উদঘাটনে সচেষ্ট।পোষ্টটি ৭৭১ বার এ পর্যন্ত পঠিত হয়েছে কিন্তু সেই তুলনায় আলোচনায় অংশগ্রহন এর মাত্রা কম। সত্যি কথা বলতে কি লেখাটির ভাষা আর একটু সহজপাঠ্য হলে ভালো হতো, দূর্বোধ্য বলছিনা, আর একটু সহজ ভাষায় যাতে ম্যাংগো পাবলিক বুঝতে পারে।সম্ভব হলে সময় নিয়ে এটাকে গরু রচনার মতো সহজ ভাষায় লিখে যদি রিপোষ্ট করতে পারতেন, আম জনতা উপকৃত হতো বলেই আমার ধারনা।আমার মন্তব্য অনেক সময়েই বড় হবারে দোষে দুষ্ট, তাই বড় হলে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন মিত্রদের কলহ নিরসনে রাষ্ট্রের দায় এবং দায়িত্ব পালনের মেকানিজম আপনি বাতলেছেন সুন্দর করে।যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে সামাজিক ভেদরেখাটি (আভ্যন্তরীন মিত্র ও শত্রুদের ভেদ রেখা) স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।এখন এই ভেদরেখার দুই দিকে অবস্থানকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য দাঙ্গার যে আশঙ্কা আপনি করেছেন তা অমূলক নয়।কিন্তু কোন এক পক্ষকে দাগা না দিয়ে এই ভেদরেখা নিশ্চিহ্ন করা কি সম্ভব? আবার এই ভেদরেখা নিশ্চিহ্ন করাটা খুব জরুরী? রাষ্ট্রের মিত্রদের কলহ থাকবে তাই মিত্রদের মাঝে ভেদরেখা থাকবে এটাই কি স্বাভাবিক নয়? এই ভেদরেখা নিরসনে ট্রুথ কমিশনের যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা আপনি বলেছেন (আপনার নীরব সমর্থন আমার চোখ এড়ায়নি) তাতে কি সমাধান হবে? যে পক্ষ বিচার চাচ্ছে তারা কি মেনে নেবে পাদ্রীর সামনে কনফেশনের ন্যায় এই কপটাচার? অবশ্য আপনি শেষে বলেছেন যে সমাজ এইরকম একটি ট্রুথ কমিশনের জন্য প্রস্তুত নয়।তাহলে সমাজ কিসের জন্য প্রস্তুত? বিচারের দাবীর নামে নির্মূলের আকাঙ্খার জন্যই কি সমাজ প্রস্তুত? আসেন আরেকটু সিনথেসিস করি:
সামাজিক ভেদরেখার কথা যেটা বললাম তার দুই দিকে কয়টি পক্ষ? এক দিকে একটি পক্ষ সেটা ধরি তারা যারা আসামীদের (আসামী বলতে যুদ্ধাপরাধী) দোসর-তারা বিচার চায়না, আর এক দিকে তারা যারা বিচার চায়।শেষের ভাগটি আবার বহুবিধ রাজনৈতিক দোলাচালে ধোঁয়াশাচ্ছান্ন।তারা শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় নাকি বিচারের সাথে সাথে আসামীদের পৃষ্ঠপোষক সংগঠনের রাজনৈতিক সাংগঠনিক ক্ষমতা নির্মূল করতে চায় এ দু'টোর মেরুকরণ করতে না পেরে দু'টো ব্যাপার তাদের কাছে এক হয়ে গেছে। ধরি, এখানে শেষের ভাগটিতে দু'টি দল: এক-যারা শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাচ্ছে আর দুই-যারা বিচারের সাথে সাথে আসামী পক্ষের সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারের বিলুপ্তি চাইছে।তাহলে আপনা রাষ্ট্রে মিত্রের মধ্যে কয়টি দল হলো?:
এক: যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায়না (আসামীদের দোসর)।
দুই: যারা শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।
তিন: যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় এবং তাদের সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারের বিলুপ্তি চায়।
চার: নিরপেক্ষ।(এদের নিয়ে আলোচনা করছিনা, এরা হাওয়া বুঝে পাল তুলবেন সময় মতো)।
এখন রাষ্ট্রের দায় যদি হয় তার মিত্রদের কলহ নিরসনে সচেষ্ট হওয়া, বর্তমানে আমাদের রাষ্ট্র এই প্রধান তিন দলের কলহ নিরসনে কি করছে একটু দেখা যাক।
বর্তমান সরকারের ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে তিন নম্বর দলটির চাওয়া পূরণ করতে চাওয়ার মধ্যেই তার সকল দৃষ্টি নিহিত (৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে চাওয়াটা তাই প্রমান করে)।কারন এতে সরকারের সাপ ও মরে লাঠিও ভাঙেনা।অর্থ্যাত, ওয়ার অন টেররে অ্যালাইড হয়ে যাওয়ায় (আমি ত্রিশোনকুর পোষ্টে আগেই বলেছি, সরকার এই ওয়ারে আগেই অ্যালাইড হয়ে গেছে) সরকারের যে সমস্ত দায় বদ্ধতা আছে তারও একটা সমীকরণ হয়ে যায় আবার ম্যাংগো পাবলিকের চোখেও দায়বদ্ধতা মুক্তির একটা রঙীন চশমা পড়িয়ে দেয়া যায়। কিন্তু এটা হবে একটা চরম ভুল এবং এতে আপনার রক্তাক্ষয়ী সংঘর্ষের (এথনিক ক্লিন্জিং) দিকেই আমরা ধাবিত হবো।আর একটা পাকিস্তান এর সৃষ্টি হবে।রাজনৈতিক অধিকার হরন করলেই কি এদের প্রোপাগান্ডা বন্ধ থাকবে? অন্যদিকে এদের রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বন্ধ করাটা কতটুকু যৌক্তিক? ডান/বাম দলগুলি যদি একটা আদর্শ (আইডলজি)নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, আর ধর্ম যদি একটা আদর্শ (আইডলজি) হয় আর সে আদর্শ নিয়ে যদি কেউ রাজনীতি করতে চায় তাকে আপনি কি দিয়ে, কোন যুক্তিতে ঠেকাবেন? অর্থ্যা্ৎ রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে তাদের অধিকার ডান/বাম দলগুলির চেয়ে কোন অংশে কম নয়।গায়ের জোরে তাদের বন্ধ করে দিলে আরেকটি 'বাল কায়েদা'র ই উথ্থানে সহায়তা করা হবে।
আর তাই সরকার যদি শুধু দ্বিতীয় দলটির দিকে মনোযোগী হতো (হোক সে জেল, ফাঁসী, যাবজ্জীবন ... অন্তত: আইন এর মাধ্যমে তাদের বিচার হোক, তাদের বিচারের কথা লিখা হোক এই দূর্ভাগা জাতির ভবিষ্যত ইতিহাসে ) তাহলে যারা এই সংগঠনের কর্মী (এক নম্বর দলটি) তারাও এই বিচারের বিরুদ্ধে কথা বলতোনা।আপনার রাষ্ট্রের মিত্রদের মাঝে সামাজিক ভেদরেখাটাও থাকতোনা।গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা যদি বলেন ছেড়ে দিননা জনগনের হাতে.. কে কি চায়, বেছে নিক।জামাতীদের সীট কোন কালেই ছিলোনা, থাকবেওনা যদি বিএনপির পেটিকোটের নীচে না ঢোকে (তাও হাতে গোনা)।কিন্তু জোর করে ওদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একটা আন্ডারগ্রাউন্ড ধর্মীয় সর্বহারা তৈরী করার কোন কারন দেখিনা।যে আমেরিকা ওয়ার অন টেররের লীড দিচ্ছে সেই আমেররিকার রাজনীতিও ধর্মভিত্তিক।তাই আমাদের রাষ্ট্রের এই ব্যাপারে আর একটু সুদূর প্রসারী বলিষ্ঠ বক্তব্য থাকা উচিত।
ধন্যবাদ আপনার সুন্দর লেখাটির জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনার এত কথা বলার ছিল জানতাম না। অনেক ধন্যবাদ স্তব্দ্ধতা।
অনেক কথা বলার জন্য উস্কানি আপনার লেখায় আছে। কিন্তু আপনার মন্তব্যের জবাব দিতে আমার অস্বস্তি এখনও কাটে নাই। আপনি সেনসেটিভ এটা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু কোথায় সেনসেটিভ হয়ে যেতে পারেন এর সূত্রটা এখনো ধরতে পারি নাই। তাই, কতটুকু আপনি গ্রহণ করবেন সেটা না বুঝে বলা মনে হচ্ছে ঠিক হবে না। তাই শিরোনামে অল্প কিছু কথা বলব।
লেখাটা ভাব ঠিক রেখে আবার নতুন করে "গরুর রচনা বানিয়ে" পোষ্ট দিতে বলার আপনার প্রস্তাব ভাল লেগেছে। আমি তত্ত্বজ্ঞানীদের লেখক হতে চাই না "গরুর রচনার" মত সহজ লিখতে চাই। আমি মনে করি সেটা আমার না পারার মানে হবে আমারই চিন্তায় অস্বচ্ছতা আছে। তবে লিখায়, শিখা ও রপ্ত করার একটা ব্যাপার আছে মানি। সেক্ষেত্রে যেমন আপনি যদি বলে দিতেন কোন কোন যায়গাটা নিয়ে আমার কাজ করা উচিত তাহলে আমার কাজ সহজ হতে পারত। কিন্তু আপনি অতটা সাহায্য করতে পারবেন বা রাজি হবেন কি না আমি জানি না।
তবে এই লেখাটার একটা বড় ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। গত বছর এই লেখাটা লেখার সময় অনেক ছল করে লিখতে হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা তখন একমাসও হয়নি। সেসময় আপনাকে ব্লগে দেখিছি কিনা মনে করতে পারছি না। ফলে আপনার সে অভিজ্ঞতা আছে কিনা জানি না। ব্লগ কিছু স্বঘোষিত মডারেটরের হাতে পড়েছিল। ফলে নিক বাতিল, লেখা গায়েব, জেনারেল নয়ত ছাগু বলে আক্রমণ হত। ব্লগ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়বার দলিল হয়ে আছে এর নয় দিন আগের লেখা এই পোষ্ট। Click This Link
সেটাও লেখা আড়ষ্ঠ মনে করার একটা কারণ হতে পারে। আমি আপনার অভিযোগ এড়াচ্ছি না। এদিকে সে সময়ই শুধু নয়, আরও আগে ২০০৭ সালে বছর শেষে যেদিন শেখ হাসিনা জামিন নয়, নির্বাহী আদেশে মুক্ত হয়ে ওয়াসিংটন পররাষ্ট্র দপ্তরে মিটিং করলেন সেদিন থেকেই পরিস্কার হতে শুরু করেছিল সে আজকের পরিস্হিতির দিকে আমরা যাচ্ছি। ফলে এই লেখাটা লেখা জরুরী হয়ে পড়েছিল বা বলতে পারেন আমি পিছনে পরে গিয়েছিলাম।
এবার ত্রিশোনকুর মনের সেই হতাশা আমি টের পেয়েছিলাম। তখনই মনে পড়ে গিয়ে লেখাটার লিঙ্ক জুড়ে দিয়েছিলাম। সত্যি বলতে কী এই ধরণের হতাশাকে আমি মারাত্মক ভয় পাই। আমি জানি এর চেন রিয়াকশনে কোথায় গিয়ে পৌছাবে।
ত্রিশোনকু এই চলতি পর্ব লেখার কয়েক পর্বের পরপরই একথাগুলো লিখে আমি একটা মেল পাঠিয়েছিলাম, উনাকে সতর্ক করার জন্য। ওটাই প্রথম ওনার সাথে আমার যোগাযোগ। কিন্তু ভাবিনি যে উনি এত দ্রুত হতাশা প্রকাশে পৌছে যাবেন। তাই আমার সর্বশেষ মন্তব্যে অনেক দীর্ঘ আর সাথে এই লিঙ্কটা জুড়ে দিয়েছিলাম।
হতাশা কে আমি দেখি একটা ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়াশীলতা হিসাবে, ময়দানে হাল ছেড়ে দিয়ে আগেই হারের বন্দোবস্ত করে ফেলা। তাই, ত্রিশোনকুর ঐ পর্ব আমার জন্য ছিল সবচেয়ে অস্বস্তিকর একটা দিন। আশা করি আপনি আমাকে বুঝবেন এই ভরসাই আমার কথা বিস্তার হয়ে গেল।
সামগ্রিকভাবে আপনার বক্তব্য আমার কাছে ভাল লেগেছে। কষ্ট করেছেন, চিন্তা করেছেন অনেক। কিন্তু যেসব বিষয় আপনি ধরে নিয়েছেন, পরে এর উপর দাড়িয়ে আপনার কথা সাজিয়েছেন সেই ধরে নেয়া ব্লাঙ্ক চেকে দেয়াটা যাডেরকে দিয়েছেন ওরা এর যোগ্য নয়।
যেমন, আপনার কী মনে হয়, এবারের সরকার যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটা সমাজে অমীমাংসিত হয়ে পড়ে আছে তাই এর সমাধানের উদ্যোগ নিতে এসেছে? ফলে একটা সত্যিকারভাবে কেবল এটারই, একদম মিন করে একটা ভাল সামাজিক সমাধান বের করা ওদের লক্ষ্য?
আপনি এর উত্তর ইতিবাচক মনে করে এটাকে সৎভাবে দেখে ব্লাঙ্ক চেকে এটা ধরে নিয়েছেন। আমি মনে করি এটা আপনার ভুল হচ্ছে। কোন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে নয়, সরকারের ষ্টেপ দেখে আপনি আমি এটা বুঝতে পারি। আপনি কারও বিচার চাইলে নিজেই সামাজিক টেনশন তৈরি করবেন কেন? সরকারের একের পর এক স্টেপ বলছে বিচারের চেয়ে সামাজিক সংঘাত, টেনশন একটা দাঙ্গা পরিস্হিতি তৈরি করা, একটা সামাজিক ঘৃণা তৈরিতে তা দিয়ে এমন একটা স্ফুলিঙ্গ খুঁজছে যা দাবানল হতে পারে।
ফলে এটা আপনার তিন নম্বর ক্যাটাগরিতেও যায় না। আপনার তিন নম্বর ক্যাটাগরি হলো, "তিন: যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় এবং তাদের সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকারের বিলুপ্তি চায়।" এর প্রথম অংশ বাদ পরে যা থাকে তা নিয়ে একটা উপ-ক্যাটাগরি থাকলে সেখানে জায়গা দিতে পারতেন।
আসলে আপনি ধরে নিয়েছেন রাষ্ট্র ক্ষমতা আপনার আমার হাতে আছে, আমরা একটা ভাল সামাজিক সমাধান খুঁজছি।
কিন্তু আসলে তো আমরা ক্ষমতায় নাই। ফলে যাদের হাতে ক্ষমতা ওদের চাওয়া, দেখার মতই "সমাধান" বা পরিণতি তাঁরা বেছে নিবে। আজকে রাগ ইমনের পোষ্টে এনিয়ে আরও বিস্তর কথা বলেছি নিক নাজনীন১ এর সাথে। ইমন নিশ্চয় আমাকে ক্ষমা করবে ওর মূল পোষ্টের চেয়েও বড় জায়গা আমি নিয়ে ফেলেছি ওখানে। ওটা দেখতে পারেন।
"সামাজিক ভেদরেখাটি (আভ্যন্তরীন মিত্র ও শত্রুদের ভেদ রেখা)" - প্রসঙ্গে
আমার মনে হচ্ছে এখানে কিছুটা গন্ডগোল আছে। আমার লেখার কোথাও গন্ডগোলটা আছে হয়ত যেটা আপনার গায়ে চড়ে বসেছে।
যেমন আমাদের সামাজিক ভেদ থাকলেও ওর মানে তা অবশ্যই অভ্যন্তরীণ এবং অভ্যন্তরীণ মানেই তা মিত্র, রাষ্ট্রের মিত্র হতে বাধ্য। ওখানে আর শত্রুর জায়গা নাই। সমাজে ভেদ, কলহ বা কমিউনিষ্টদের ভাষায় শ্রেণী সংগ্রাম থাকলেও তা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এবং একই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থে মিত্রদের।
এখন ভেদ শব্দটা এখানে ব্যবহার করেছি বটে এটা সামাজিক, সামাজিক ভেদ, কলহ। আবার সামাজিক মানেই অভ্যন্তরীণ।
কিন্তু রাষ্ট্রের শত্রুমিত্রের ভেদাভেদ বলে যে ভেদ শব্দ ব্যবহার করছি - এই ভেদ শত্রু ও মিত্রের ভেদাভেদ, শত্রুতার। এটা আগের মত সামাজিক ভেদ নয়।
ভেদ দু জায়গায় দুভাবে ব্যবহার হয়েছে; এবং দুটোকে গুলোয়ে ফেলা যাবে না। ফলে
"সামাজিক ভেদরেখাটি (আভ্যন্তরীন মিত্র ও শত্রুদের ভেদ রেখা)" _ এটাতে একটা গুরু-চন্ডালী দোষ হয়ে আছে।
গরুর রচনার মত করে বলতে পারলাম কী না দেখেন। না হলে আবার অবশ্যই আমাকে তুলোধুনা করে বলবেন।
কিন্তু আর এক জায়গায় দেখুন,
"রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন মিত্রদের কলহ নিরসনে রাষ্ট্রের দায় এবং দায়িত্ব পালনের মেকানিজম" - এটা আপনার একটা বাক্যগঠন, আমার বিচারে খুবই ভাল গেথেছেন; ভাবনাটা সম্ভবত আমার চেয়েও ভাল ফুটে ধরা পরেছে।
এখানে লক্ষ্য করবেন, মিত্র আবার কলহ বলেছেন। হ্যাঁ ঠিকই তাই একই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বলে ওরা মিত্র, আবার তাইবলে ওদের স্বার্থ কলহ নাই এমন হয়।
এই কলহ আপোষে মিটানোর উপায়েরই নাম হলো "বিচার"; ন্যায়বিচার, সামাজিক ন্যায়বিচার অথবা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে - আমরা বলে থাকি।
কলহ মিটানোর ব্যবস্হা সবলভাবে জারি ও বালু না রাখতে পারলে রাষ্ট্র আর নিজেকে রাষ্ট্র বলে দাবি করতে পারে না। এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ত্ব; এর অবহেলার পরিণতি মারাত্মক। রাষ্ট্র নাই হয়ে যাবে।
নাই হয়ে যাবে মানে?
ওর জবাব পাব আগের বাক্যে দেখেন একটা শব্দ আছে "আপোষে"। আপোষে মানে নিজেরা নিজেরা নাগরিকেরা মারামারি দাঙ্গা করে লাঠির জোরে কলহ বা স্বার্থের সংঘাতের সমাধান করে ফেললে হবে না, চলবেনা - আপোষে "বিচার" এর মধ্য দিয়ে করতে হবে। করলে আমরা বলি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। এবং যে করেছে, এই পথে গিয়েছে তার আলাদা বিচার, শাস্তির ব্যবস্হা রাখা আছে।
সামাজিক কলহ, স্বার্থের বিবাদ "আপোষে", "বিচার" এর মধ্য দিয়ে সমাধা করার ব্যবস্হা থাকলে তবেই ঐ বিবদমানদের, বাদি-বিবাদির মধ্যে মিত্রতা থাকবে, একই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থে মিত্রতা।
সামাজিক কলহ, স্বার্থের বিবাদ "আপোষে", "বিচার" হতে না দিলে ঐ রাষ্ট্র ভেঙ্গে পড়বে, নাই হতে বাধ্য।
সেজন্যই বারবার বলছি, রাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধাপরাধের "বিচার" চাইলে আশা করলে সম্ভাব্য অপরাধীর (যার বিরুদ্ধে চার্জ বা অভিযোগ আনা হবে) বিরুদ্ধে লাঠি সড়কি, অস্ত্র ধরা যাবে না দূরে রাখতে হবে, পিটিয়ে মারার কথা চিন্তাও করা যাবে না, সামাজিক উত্তেজনা, দগদগে ঘৃণা জাগানো যাবে না।
সরকারের ষ্টেপ পদক্ষেপ বহু কিছু বলে দিচ্ছে ওখানে লক্ষ্য রাখতে হবে। ও বিচার চায় না, চায় উল্টোটা দাঙ্গা। রাষ্ট্র ভেঙ্গে পড়ার রিস্ক কেয়ার না করেও সে পথে হাটতে যাচ্ছে, চাচ্ছে।
এজন্য শিরোনাম রাষ্ট্র কার বিচার করে?
যে অভ্যন্তরীণ, রাষ্ট্রের ভিতরে মিত্র গণ্য করা হয়েছে যাকে একমাত্র তার প্রসঙ্গেই বিচার কথাটা আসতে পারে।
রাষ্ট্রের বাইরের হলে "বিচারের" সম্পর্ক নাই, সে শত্রু। গুলি ওর সমাধান। যদিও বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলো আবার বিভিন্ন কনভেনশনে স্বাক্ষর বা চুক্তি করে ঐ শত্রুতাকে, গোলাগুলি এড়িয়ে কীভাবে শত্রুতা জারি রাখা যায় তার নানান ব্যবস্হা খুজে রেখেছে।
এখনকার মত শেষ কথা:
লক্ষ্য করলে দেখবেন আমার বেশিরভাগ ব্লগ পোষ্টের মুল বিষয় হলো রাষ্ট্র, রাষ্ট্র ভাবনা, রাষ্ট্র তত্ত্ব। এখানেও যুদ্ধাপরাধ বা জামাত নয় আসলে রাষ্ট্র আমার লেখার মুল বিষয়।
আমাদের সামাজিক ভাবনায় সামাজিক মনে রাষ্ট্র ভাবনা সীমাহীনভাবে দূর্বল। অথচ এর আগেই আমরা একটা রাষ্ট্র পেয়ে গেছি। কী পেয়েছি জানি না, বুঝে উঠার আগেই পেয়ে গেছি। জন্মের এই দূর্বলতার কারণে আমরা চিন্তা না করেই বলে দেই ভারত বন্ধুরাষ্ট্র, চীন বন্ধুরাষ্ট্র।
ভাল থাকবেন।
স্তব্ধতা' বলেছেন:
কোন রকমে একটা রিডিং দিলাম।কিন্তু ভালো ভাবে পড়ি নাই।আগামী দুইদিন ব্যস্ত থাকবো।কোন রকম ভাবে হয়তো ব্লগে ঢোকা হবে।কিন্তু সময় কাটানো হবেনা।এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার আশা রাখি।তবে সংক্ষেপে বলে রাখছি, আপনার বক্তব্য কিন্তু আমি ধরতে পেরেছি।আমার ব্লাংক চেক দেয়াটা হয়তো আমার অপটিমিজম এর কারনে এবং আমি ভুল করছি এটাও বুঝতে পারছি কারন বাস্তবতা ভিন্ন।হয়তো কোন দিক নির্দেশনা না পেয়েই ব্লাংক চেকের আশ্রয় নিতে হয়েছে।ফিরে আসি কথা হবে।আর নির্দিধায় বলতে পারেন যেটা মনে হয়।আমি সেনসিটিভ (ব্লগার ত্রিভূজ এর পেটেন্ট শব্দ 'প্রতিক্রিয়াশীল' এর সম্মানজনক একটা উপাধি আমায় দিয়ে দিলেন) কি না জানিনা তবে চোখ বন্ধ করে কিছু নিতে বা ফেলতে আমি রাজী নই।হাতে যা ইচ্ছে ধরিয়ে দিন, নিজে যাচাই করে তার মান বিচারে আগ্রহী আমি।সুতরাং আমার গ্রহণ করার মানসিকতা আছে এ নির্ভরতা আপনি পেতে পারেন, তবে কতটুকু রাখবো সে দায়িত্ব আমার।ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।এখন একটা দৌড় মারতে হবে।লেখক বলেছেন: থ্যঙ্কু।
আমার কথা মানা না মানার দায় বা ইচ্ছা আপনার; আমি কেবল নিশ্চিত হতে চাইব আমি যা বলছি তা বুঝাতে, আপনার কাছ পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছি কিনা।
পরে কথা হবে।
অলস ছেলে বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ লেখককে। উত্তর টা দুবার পড়লাম, খুবই ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, অলস ছেলে। আপনার উসিলায় কিছু কথা বলে নিতে পারলাম।
প্লাটো বলেছেন:
আপনার লেখাটা পড়লাম। লেখাজোঁকার আমার সুযোগ হয়না। ব্লগে গেলেই সেটা বুঝবেন। তাই ব্যাপারটা এমন দেখায় যে মাঝে মাঝে কফিন থেকে যেন উঠে আসি আর কমেন্ট করে যাই। এটা আমার বড় দুর্বলতা। যাই হোক , পড়ার পর মনে হলো বান্দার যেন কিছু লেখা বা জানার আছে তাই অনভ্যাসের একটু চর্চা শুরু করলাম। যাহোক,উপরের বিষয়বস্তু অনেক যুক্তি-তর্কের পর একটা বিশেষ বুঝ বা উপলব্ধির জায়গায় এসে থিতু হয়েছে এটা স্বীকার করতেই হবে।যারা নিরাসক্ত দৃষ্টি নিয়ে দেখছেন ও ভাবছেন তাদের দিকে খেয়াল করেই কথাটা বললাম।
এই বুঝ বা উপলব্ধির জায়গায় দাঁড়িয়ে কিছু জিনিস আপনাকে এখন পরিস্কার করতে হবে বলে আমার মনে হচ্ছে। যেটা আপনার বক্তব্যকে সাধারণের আরও ধরাছোঁয়ার মধ্যে আনতে সাহায্য করবে। শুধু এখন না, ভবিষ্যতেও। একটা কথা প্রায়শই বলতে চাচ্ছেন যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার অনন্তর যুদ্ধে সে বাংলাদেশ কে সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছে। সুংক্ষেপে, এই চাওয়া বা চাহাত থেকেই অনেক সমস্যা বা ইস্যুর আগমন ও তার লিংগারিং। সমস্যার লাটাই-সুতো অন্যকোনখানে, ক্ষেত্রবিশেষে দেশের বাইরে। ওকে।
এবার আপনার আগের জায়গায় আসি।একটা জিনিষ এখন পরিস্কার করবেন আশা রাখি। আচ্ছা ইউরো-আমেরিকার কাছে হাঁটুমুড়ে বসা এই দেশের আর কি কি কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের পর পশ্চিমের মনে হবে যে ,হ্যাঁ, বাংলাদেশটা এতক্ষনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্তর যুদ্ধে সামিল হলো। আনুগত্যের ঘাটতিটা এখনও ঠিক কোথায় কোথায়? সামিল হওয়া বলতে আপনি ঠিক কি বলতে চাচ্ছেন? কিংবা সদাঅবনত এই দেশের সামিল হওয়া বলতে আমেরিকা কি বুঝে।
লেখক বলেছেন: আপনি আমার অন্য পোষ্ট বিশেষ করে গেল এক বছরের গুলো ফলো করেন কিনা জানি না।
এগুলো নিয়ে অনেক কথা বলেছি। এখন এখানে সেগুলোকে আবার মন্তব্যের জবাব আকারে সারৎসার করে লিখা মুশকিল। এজন্য আপনি আপনার প্রশ্নটা অর্থাৎ যার জবাব আপনি তালাশ করছেন কেবল সেটা মাথায় পড়ে যাবার পরামর্শ দিচ্ছি।
প্রথমত দেখবেন, Click This Link
এখানে আমেরিকার চাওয়ার অভিমুখ এবং কেন কীভাবে চাচ্ছে, কোথায় যাবার স্বপ্ন দেখছে তা বুঝতে পারবেন।
এরপর, দেখবেন এবারের হাসিনার ভারত সফরের যৌথ ঘোষণা দলিলের ব্যবচ্ছেদ করে অনেক কিস্তিতে লিখেছে ওর মধ্যে বিশেষত নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে যেটা লেখা এটা সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক। এখানে সবগুলোর লিঙ্ক দিলাম না, আমার যে কোন পোষ্টের থেকেই অন্য পোষ্ট তালিকা দেখে নিতে পারেন।
এছাড়া পোরানো পোষ্টের মধ্যে হাসিনার ক্ষমতায় আসার পরপর কখনও ভারতের সাথে নিরাপত্তা জোট কখনও সার্ক দেশের জোট মিলিয়ে নিরাপত্তা জোট ধারণার বিতর্ক গুরুত্ত্বপূর্ণ। প্রথমটা ভারতের ইচ্ছা যেটা আমেরিকার পছন্দ নয়। সে চায় পরেরটা। কারণ পাকিস্তানের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আছে। এজন্য প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ সফরের একদিন আগে বাউচারকে আসতে হয়েছিল। প্রণবের সফরের শেষে Click This Link এই লিঙ্কে নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গীর বর্ণনা করেছি।
আগামি দিনে নয় দিন বরং শুরু হয়ে গেছে, এশিয়া দুনিয়ার অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সামরিক ঘটনাবলীর কেন্দ্র। চীন বাদে ওর বিরোধী করে সবাইকে একটা জোটের মধ্যে জড়ো করার উদ্যোগ শুরু হয়ে গেছে যেখানে ভারত আমেরিকার স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গীর এশিয়ার এক্সিকিউটর বিনিময়ে আমেরিকান সমস্ত ক্ষমতা ভারতের হাতে যা সে যাতা বা লিভার হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। কিসে ওদের নিরাপত্তা হবে বলে ওরা মনে করে এটা বুঝার চেষ্টা করবেন।
আমার একটা আন্তরিক অনুরোধ "মাঝে মাঝে কফিন থেকে যেন উঠে আসি"র মত না হয়ে একটু ভাল মত সময় দিয়ে এগুলো বুঝার চেষ্টা করা - এটা পরিস্হিতির দাবী। আমি আশা করব সে দাবি পূরণে আপনি সদয় মনোযোগ দিবেন।
ওগুলো পড়ার পর কোন মন্তব্য থাকলে ঐ পোষ্টেই করতে পারেন আমি সাড়া দিব।
কৌশিক বলেছেন:
আবার পড়তে হবে
লেখক বলেছেন: এতদিন পরে!
পড়েন কিন্তু ফিরে আসা চাই।
জিপিএস বলেছেন:
আলোচনায় নতুন বেগ সঞ্চারিত হইছে। কারণ ইদানিং , আবেগ আবার বাড়তেছে। এই উত্থান-পতনের মধ্যে খাবি খাইতে খাইতে আরো কতদূর কি হয় পরওয়ারদিগার ভালো জানেন...। আপনার লেখার শিরোনাম এবং ভিতরের আলোচ্য অংশে যে ভারকেন্দ্র নির্দিষ্ট করার ইঙ্গিত রাখতে চেষ্টা পাইছেন সেটা নিয়াই কথা বলা দুরস্ত বোধ করতেছি। যদি মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রের বিচার না কইরা ''রাষ্ট্র'' কার বিচার করবে সেই সওয়াল তোলা যায়? অথবা অন্যভাবে বললে ''রাষ্ট্রীয়ভাবে'' কারো বিচার করা কথাটার মানে আসলে কি? ধরেন আ. লীগ নির্বাচনী ওয়াদা করে একটা ইস্যু হাতে নিয়েছে, তারা সেটা তাদের রাজনীতিক অবস্থান থেকে বাস্তবায়ন করবে। এখন এই দলীয় কর্মসূচীর জায়গাটা রাষ্ট্র-ক্ষমতা ব্যবহার করার ফলেই কি ''রাষ্ট্রীয়'' হয়ে উঠবে? অর্থাৎ বিচার যে কেউ করুন না কেন, সেটা যদি আওয়ামী লীগও হয়, তা কীভাবে জাতীয় অবস্থানের ঐক্যবদ্ধ পাটাতনে একটা নীতিগত মিমাংসার প্রতিফলন হবে বা তাকে ধারণ করছে তা স্পষ্ট রাখা যাবে? যাকে বলা যাবে না যে এটা দলীয় এজন্ডা। সেটা কি আমরা আলোচনা করছি! আমরা কি আসলেই চাইছি একটা জাতীয় অবস্থান, সত্যিকার অর্থে একটা রাষ্ট্রীয় বিচার?
প্রশ্নটা এ কারণেই যে ''রাষ্ট্র'' একে কিভাবে বিচার করছে সেটা পরিষ্কার থাকা, অর্থাৎ এ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে রাষ্ট্র নিজে কি অর্জন করছে সেটা, নিজেকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাচ্ছে তার একটা বোঝাপড়া সেরে নেওয়া।
আর দশটা ফৌজদারি অপরাধের মামলা যদি এটা না হয়, যদি এটা রাষ্ট্রের নিজের সত্তার সাথে যাদের বিরোধ-সংঘাত ছিল তাদের সাথে ফয়সালা/ মোকাবেলা হয়, তাহলে এই রাজনীতিক বিষয়টা নিছক আদালতের নয়। আদালতে মোকদ্দমায় পুরাটা সারবেনা। কিন্তু সারানোর জন্য প্রয়োজন কী ''রাষ্ট্র'' আমরা গড়ে তুলতে চাইছি সেটা নির্ধারণ করা। কিভাবে রাষ্ট্র-সত্তাকে আকার-আকৃতি ও প্রকৃতি দিতে চাচ্ছি তার বিচার করা।
এখানে কোথাও কি আমরা সেই বিচার করছি??
আমি মনে করি অনেকেই প্রতিক্রিয়া, প্রভাব, পরিণতি জেনেই চাচ্ছেন। কিন্তু সচেতনভাবে বুঝেশুনে কয়জন চাচ্ছেন সেটা বলতে পারবোনা। খুব সংগোপনে, ভেতরে ভেতরে পুষে পুষে... যারা কদম ফেলছে, একে উত্থান পতনের মধ্যে নাড়াচাড়া করছে তারা একটি জনগোষ্ঠীর ঐক্য ও সংহতি নির্মানের জন্য এটা করছে না। বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবার জন্য করছেনা। এটা বুঝতে পারি। জনগণের আকাঙ্খা এ যাত্রার মূল প্রযোজক নয়।
বিপরীতে, আমরা বিপদ মোকাবেলার জন্য সবদিক থেকে গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় সমঝোতায় উপণিত হবার মতো মতামত সৃষ্টি করে পরিকল্পনা গোছাবার মতো জায়গায় আর আছি বলে মনে হয় না। দিনকে দিন সেটা সদূর পরাহত হয়ে যাচ্ছে, ....
লেখক বলেছেন: উপরে ২৮ নম্বরে এ প্রসঙ্গে বলেছিলাম, "সরকারের ষ্টেপ বা পদক্ষেপ বহু কিছু বলে দিচ্ছে ওখানে লক্ষ্য রাখতে হবে। ওরা বিচার চায় না, চায় উল্টোটা দাঙ্গা। রাষ্ট্র ভেঙ্গে পড়ার রিস্ক কেয়ার না করেও সে পথে হাটতে যাচ্ছে, চাচ্ছে"।
আপনার কথা পরে মনে হচ্ছে রাষ্ট্র ভেঙ্গে পড়ার রিস্ক তো আছেই তার আগে এথনিক ক্লিনজিংয়ের রক্ত গায়ে মাখার জন্য আমরা উদগ্রীব হয়ে গেছি।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















যাই হোক, মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার জন্য কারও শাস্তি হতে পারে না, কেউ বোধহয় সেই বিচার তোলেও না। কিন্তু যারা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, খুন-লুটতরাজ-রাহাজানি-ধর্ষণ ইত্যাদি করেছে ও করিয়েছে, তাদের বিচার তো দরকার অবশ্যই। সেটা জামাত হোক, বা জামাত না হোক। যে-ই এই কাজ করেছে, তারই বিচার হতে হবে।
আদর্শকে সাপোর্ট করার জন্য কারোর বিচার হয় না, বিচার হয় আদর্শকে (সেটা যে আদর্শই হোক না কেন) রক্ষা করতে গিয়ে অপরাধ করলে। আর জয়ী ব্যক্তির কাছে পরাজিত ব্যক্তির আদর্শ ক্ষেত্রবিশেষে অপরাধ তো বটেই, গর্হিত অপরাধও হতে পারে।
তবে ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে দাড়ায়, সরাসরি যুদ্ধাপরাধী না হলেও তাদের জন্য ঘৃণা।