আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
প্রণব মুখার্জির কাছে শেখা: কীভাবে বাণিজ্যিক ইস্যুকে রাজনৈতিক বানাতে হয়
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০৬
বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের নীতি নিয়ে কোন কথা বলা সমালোচনার তর্কবিতর্ক তোলা খুবই বিপদজনক। অথচ ভারতের সাথে আমাদের যেসব অমীমাংসিত ইস্যু আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলা খুবই জরুরী। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা একদিকে বিএনপি দিক থেকে হলে আমাদের স্বার্থের প্রসঙ্গের চেয়ে সস্তা ভারত বিরোধীতর প্রচারণা এত বেশি ভর করে বসে যে তাতে আমাদের আসল উদ্দেশ্য ব্যহত হয়ে যায়। জামাতের দিক থেকে হলে আরও এককাঠি সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে উপস্হাপন করা হয়। ফলে সেখানেও আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। আর এই সুযোগে আওয়ামি লীগ পুরা ইস্যুতে - এটা নেহায়েতই এক সাম্প্রদায়িক প্রচারণা - বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের দিকটা উপেক্ষা করে বা চুপ থাকে। এই পরিস্হিতিতে আমরা যদি আমাদের স্বার্থের দিক নিয়ে কথা তুলতে চাই, রাষ্ট্রের স্বার্থে জনমত তৈরি করতে চাই তাহলে "দাদা আসছেন" বলে ভেঙ্গানো বা কোন ইঙ্গিত করা যা আপাত খুবই নির্দোষ মনে হলেও আমাদের এড়ানো উচিত। কারণ এভাবেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বার্থের দিকটা সিরিয়াস কথাবার্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা সম্ভব। কোন ইঙ্গিত দিয়ে কথা তুললে কথার গুরুত্ত্ব ও এর ফোকাস সরে যাবে, আর আমরাও কিছুই অর্জন করতে পারব না।
এরকম এক পরিস্হিতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তাঁর লক্ষ্য মূলত ট্রানজিট নিশ্চিত করা ও দক্ষিণ এশিয় টাক্সফোর্স নিয়ে কথা আগানো। গেল মাসের মাঝামাঝি ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রজ্ঞন নতুন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে প্রথম সাক্ষাতের দিন থেকে ট্রানজিট নিয়ে তিনি নতুন এক তত্ত্ব হাজির করেছেন। তিনি দাবি করছেন, ট্রানজিট একটা বাণিজ্যিক ইস্যু। স্বভাবতই ভারতের মন্ত্রীদেরও একই কথা। কিন্তু আজব হোল আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রীও তোতা পাখির মত বলছেন, ট্রানজিট একটা বাণিজ্যিক ইস্যু। বাংলাদেশের তথাকথিত থিঙ্কট্যাঙ্ক ও সুশীল সমাজ খ্যাত মুরুব্বী রেহমান সোবহানের সিপিডি, সমুন্নয় ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন - সবাই উঠে পড়ে লেগেছে ট্রানজিটকে বাণিজ্যিক ইস্যু প্রমাণে। আমাদের সিঙ্গাপুর বানানোর স্বপ্নে বিভোর করতে চেষ্টার ত্রুটি করছেন না তাঁরা।
রেহমান সোবহান একজন মুরুব্বী মানুষ। বলতে খারাপ লাগে, কিন্তু বিএডিএস ছেড়ে সিপিডি নামে দোকান খোলার পর থেকেই পরাশক্তির থিঙ্কট্যাঙ্ক ও সুশীল সমাজ হয়ে ইদানিং এক অসহ্য চরিত্রে পরিণত হয়েছেন তিনি। সে নিয়ে আর দিন বিস্তারে কথা তোলা যাবে।
ভারতের সঙ্গে সব রাজনৈতিক বিষয়কে বাণিজ্যিক দিক থেকে দেখে সমাধা করতে পারলে আমাদের খুশি না হবার কোন কারণ নাই। আমাদের জন্য তা ভালোই হোত। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ রাজনৈতিক, এভাবে দেখার সমস্যা ভারতের, আমাদের নয় । ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থও এখানে আছে। কিন্তু সেটাকে অর্থনৈতিক থাকতে না দিয়ে রাজনৈতিক বানিয়ে, রাজনৈতিক স্বার্থে ভারত একে ব্যবহার করে এসেছে এবং এখনও করছে। ইদানিং আমেরিকান ক্ষমতার যাতা (leverage) ব্যবহার করে আমাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা কেমন হবে, কে ক্ষমতায় বসবে, ভারতকে কী কী সুবিধা দিবে - এর মধ্যে কোনটা রাজনৈতিক, কোনটা অর্থনৈতিক, আর কোনটা সিকিউরিটি এর কোন সীমারেখা না রেখে সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ভারত। আর মুখে বুলি আওড়াচ্ছে, ট্রানজিটকে বাণিজ্যিক ইস্যু, একে বাণিজ্যিকভাবে দেখা উচিত। ফলে এখন ট্রানজিটকে বাণিজ্যিক ইস্যু বলে খাড়া করানোর আওয়াজের মানে একটাই - ভারতের সাথে যে সমস্ত অমীমাংসিত ইস্যু আছে সেগুলো যেমন আছে তেমন ফেলে রেখে উপেক্ষা করে কেবল নিজের ট্রানজিটের স্বার্থ নিশ্চিত ও উদ্ধার করে কেটে পড়া।
ভারত ট্রানজিটকে বাণিজ্যিক ইস্যু হিসাবে দেখতে পারলে বাংলাদেশের জনগণ অন্তত একটা দিক দিয়ে বাঁচত। তা হলো নিজের রাজনৈতিকতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা বিনির্মাণ, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বার্থ নিজে নির্ধারক নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। এরপর বাণিজ্যিক বিবেচনায় শুধু ট্রানজিট কেন আরও বহুবিধ বাণিজ্যিক বিষয়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক পাতানো যেত, বাণিজ্যিক সম্পর্ক না হবার কোন কারণ থাকত না। একথা পানির মত পরিস্কার কেবল বাণিজ্যিক দিক থেকে বিবেচনায় বাংলাদেশ ট্রানজিট দিলে এবং নেপালে যাওয়ার ট্রানজিট নিলে সিঙ্গাপুর হবার মিথ্যা প্রলোভন নয়, সত্যি সত্যিই নিজের অর্থনীতিকে বহুদূর আগে নিতে পারত। আরও আগিয়ে বলা যায় কেবল অর্থনৈতিক বিবেচনায় কোন ডিপ সী পোর্ট নির্মাণ বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে, যদি না একে কেন্দ্র করে আমেরিকা মেরিন এনে ঘাটি গেড়ে বসে অথবা ভারত তার নিরাপত্তার অজুহাতে একে বাগড়া না দেয়। তবু বাস্তবতা হলো এগুলো অলীক। বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক স্বার্থগুলো কখনই দুনিয়ায় বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক থাকতে দেয়া হয়নি। রাজনৈতিক, সামরিক ক্ষমতার যাতা (leverage) দিয়ে বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে, নিজের সংকীর্ণ স্বার্থের সুবিধাজনক জায়গা বের করে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
একথা সত্যি যে ভারত আগামিতে যদি বড় কোন অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে দাঁড়ায় পড়শী হিশাবে কেবল অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি নাই। এই ভাবনাটার সাথে বাস্তবের কোন মিল নাই। কারণ ভারতের পররাষ্ট্র নীতির অভিমুখ এটা সমর্থন করে না। বাণিজ্য মানে দেয়ানেয়া। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যের সংজ্ঞা ভিন্ন, কেবল নেয়া। চাপ দিয়ে স্বার্থ আদায় করে নেয়া। মস্তানি করে কন্ট্রাকটরির কাজ নেয়া, আর কাজ না তুলে দিয়ে বিল আদায় করা। কন্ট্রাকটরি অবশ্যই একটা সুন্দর ব্যবসা হতে পারে, বাণিজ্যের মর্যাদা তার আছে। কিন্তু মস্তানি করে কন্ট্রাকটরি - এটা আর ব্যবসা, বাণিজ্যের সংজ্ঞার মধ্যে থাকল না। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে মস্তানি আর কন্ট্রাকটরির মধ্যে একটা বেছে নিতে হবে। ভারত অর্থনৈতিক পরাশক্তি হবার খায়েস পূরণ হবে কী না সেটা এই বেছে নেবার উপর নির্ভর করছে। সম্প্রতিকালের ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতিতে যেটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এটা আগের চেয়ে ভয়াবহ। আগে ছিল ঐ একই বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে দেয়ানেয়া নয় কেবল নিজের মস্তানির জোড়ে কন্ট্রাকটরির ধান্ধা। আর এখন হয়েছে এরকম বড় মস্তানকে ডেকে নিয়ে এসেছে। এবার বড় মস্তানের যাতা (leverage) ব্যবহার করে সেই একই - মস্তানি করে কন্ট্রাকটরির নীতি। যদিও আবার বড় মস্তানকে মিথ্যা করে বলে এনেছে কেবল আমার নিরাপত্তা দিকটাতেই আমি তোমার যাতা (leverage) ব্যবহার করব। অথচ ব্যবহার করছে নিরাপত্তার স্বার্থসীমা ছাড়িয়ে সবখানে, সব স্বার্থে। এই ধরণের পররাষ্ট্রনীতির বেকুবির দিকটা হলো সোনার ডিম দেয়া হাঁসের পেট কেটে সব ডিম একসাথে হাসিল করার বুদ্ধির মত। বাংলাদেশ যদি একটা ফাংশনাল রাষ্ট্র হিসাবে কাজ করতে না দেয়া হয়, চালু না থাকতে পারে, নিজের জনগণকে প্রতিনিধিত্ত্ব, স্বার্থে কাজ না করতে পারে - আমেরিকার যাতা (leverage) ব্যবহার করে একটা হাত-পা বাধা হাসিনা বা খালেদাকে দিয়ে নিজের জনগণকে প্রতিনিধিত্ত্ব, স্বার্থে কাজ না করতে দেয়া হয় - তো নিঃসন্দেহে বলা যায় এই রাষ্ট্র নিজগুণে ভেঙ্গে পড়বে, বিদ্রোহ বিক্ষোভ হবে। বাংলাদেশে বিদ্রোহ বিক্ষোভ ভারতের অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার খায়েসে কোন সহায়ক ঘটনা না। বাণিজ্যের জন্য সুখকর হলো ভোক্তা জনগণ, বিদ্রোহী বিক্ষুব্ধ জনগণ বাণিজ্যে ক্ষতি ছাড়া কোন কাজে লাগে না। বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় সবদিক থেকে পিছিয়ে থাকা পড়শী নেপালের পরিবর্তনের দিকে নজর করলেই অনেক কিছু আগাম বুঝতে পারা সম্ভব। ভারতকে বাণিজ্য বলতে বাণিজ্য মিন করতে হবে, মস্তানির-কন্টাকটরি আর বাণিজ্য এক জিনিষ নয়। এই তফাৎ না শিখলে ভারত অর্থনৈতিক পরাশক্তি হবার খায়েস খায়েসই রয়ে যাবে। তাতে আমরাও ভাল থাকব না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ঢাকা আসার প্রাক্কালে তাঁর আগের সফরের কিছু ঘটনা পরিচয় পাঠকের কাছে তুলে ধরে কথা শুরু করব।
২০০৭ সালে দুইবার বন্যা ও সিডিওর দুর্যোগের পর এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি সমবেদনা জানাতে ছুটে এসেছিলেন। এবার তিনি আবার আসছেন। সেবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি হেলিকপ্টার থেকে নেমে ঐ মাঠেই প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিয়ে গেছিলেন পাঁচ লাখ টন চাল আমাদের কাছে বিক্রি করবেন। ঘটনা সেখান থেকে শুরু। ঐ পাঁচ লাখ টন চাল বিক্রির প্রতিশ্রুতি ছিল একটা বাণিজ্যিক বা বড়জোড় এর সাথে জড়িয়ে থাকা কিছুটা মানবিক। কিন্তু ওটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয় প্রতিশ্রুতি চাল বিক্রির চাল আমরা পেয়েছি এক বছর পর। ওদিকে চাল বিক্রির কথা বলে তা সময়মত না দিয়ে কৌশলে আমাদের চালের বাজারের দাম ফাটকা উঠানামা সম্পূর্ণ নিজের কব্জায় নিয়ে ২০ টাকার চাল ৪৫ টাকা উঠিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের চাল প্রাপ্তিকে পুঁজি করে দূর্ভিক্ষ অবস্হা সৃষ্টি করার হুমকি তৈরি করে সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসাবে একে ব্যব হার করা হয়েছে। এই বাণিজ্যিক-মানবিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এককথায় যেটা ছিল সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক বিষয় সেটাকে রাজনৈতিক করা হয়েছে, এটা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করা হয়েছে।
প্রণব মুখার্জির সেই বিখ্যাত সফর আমরা ভুলতে পারি না। এবার এসে আবার তিনিই আমাদের শিখাতে চাইছেন ট্রানজিট একটা বাণিজ্যিক ইস্যু, আমরা যেন এর মধ্যে রাজনীতি টেনে না আনি।
এর আগে ২০০৭ সালের সফরের সময় আমাদের জন্য কী শিক্ষা রেখে গিয়েছিলেন তা একটু পটভূমিসহ কিছু কথা পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেই।
২০০৭ সালের প্রথমবার বন্যার পর আমাদের সরকারি গুদামে চালের মজুদ ছিল চার লাখ টন। আমাদের ফকুরুদ্দিন সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা ছিলেন তপন চৌধুরি, মালিক ও ব্যবসায়ী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের এমডি। চালের সরকারি মজুদের এই দশা সত্ত্বেও তিনি চাল আমদানি দূরে থাকুক, চালের সম্ভাব্য ঘাটতি অনুমান করে সরকার চাল আমদানি করুক না করুক আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই, দামদর কী চলছে, সোর্স কোথায়, কোন দেশের কে ভালো দাম, মান ও ভালো শর্ত কে দিতে পারে এসব নিয়ে কোন খোঁজ খবরও করলেন না, নির্দেশও দিলেন না। তপন চৌধুরি একজন সফল ব্যবসায়ী। খাদ্য মন্ত্রণালয় চালানোকে একটা ব্যবসায়ীর দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি তো উপরে চালের সম্ভাব্য ঘাটতি অনুমান করা থেকে শুরু করে যা যা বলেছি তা করার কথা মাথায় আসাই একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে সবচেয়ে স্বাভাবিক ঘটনা। পণ্য (কাঁচামাল ও প্রোডাক্ট) সরবরাহের ম্যানেজমেন্ট জানা বুঝা ব্যবসার অ-আ-ক-খ। মন্ত্রণালয় চালানোর কাজটা কী এটা না বুজলেও ব্যবসায়ীর কাজ কী এই বুঝ খাটালেও চাল আমদানির আগের এসব প্রক্রিয়াগত কাজকর্ম সেরে রাখার লম্বা সময় সাপেক্ষ কাজটা তিনি করে রাখতেন, উদ্যোগী হতেন। তপন চৌধুরি এটা করেন নাই। এতোমধ্যে দ্বিতীয়বার বন্যা ও সিডওরে আক্রান্ত হয়েছিল দেশ। তাৎক্ষণিক দূর্যোগ খাদ্য, আশ্রয় লন্ডভন্ড হওয়া ছাড়াও ব্যাপক ফসনহানি ঘটে এতে। দেশের খাদ্য ব্যবস্হাপনা পরিস্হিতি আরও নাজুক অবস্হার মধ্যে পড়ে যায়। এবার এটা টের পেয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা। কিন্তু তিনি কী পদক্ষেপ নিলেন? সরাসরি মিডিয়ায় টিভি-ক্যামেরার সামনে গিয়ে বলে বসলেন, খাদ্য পরিস্হিতি বা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কিছুই করার নাই। সেই সাথে জানিয়ে দিলেন, সরকারের চালের মজুদ কত কম। নিজে মিডিয়ায় দেয়া এই তথ্য চাল ব্যবসায়ীরা কীভাবে ব্যবহার করবেন, বাজারে এর প্রতিক্রিয়া কী হবে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে তপন চৌধুরি নিশ্চয় জানতেন। আগেই বলেছি তপন চৌধুরি একজন ওষুধ প্রস্তুতকারী সফল ব্যবসায়ী। ওষুধ শিল্পে একনম্বর না হলেও দুই নম্বরে তাঁর কোম্পানীর অবস্হান। এই সফল ব্যবসা থেকে টয়লেটরিজ, টিভি মিডিয়া প্রযোজনা, রিয়েল এষ্টেট, কমপিউটার, হাসপাতাল, চানাচুর মশলার প্যাকেট ইত্যাদি নানান ব্যবসা তিনি ও তাঁর পরিবার করে যাচ্ছেন। তিনি অদক্ষ - ব্যবসা, ম্যানেজমেন্ট কিছুই বুঝেন না - এটা তিনি নিজেও নিশ্চয় মানবেন না। তাহলে নিজেকে জীবনে এভাবে পাবলিক ব্যর্থতার কালো দাগে কেন বরণ করে নিলেন? এই পেশাগত আত্মার হত্যা তিনি কেন মেনে নিলেন? সে প্রশ্ন তুলে রেখে পরের প্রসঙ্গে যাব।
যেঁচে চাল প্রতিজ্ঞাকারী প্রণব মুখার্জি যখন সফরে এসেছিলেন তখন বেসরকারি খাতে ভারত থেকে চাল আমদানি হচ্ছিল ৩৮০ ডলার টন হিসাবে। প্রণব মুখার্জির প্রতিজ্ঞার পরে তপন চৌধুরির মন্তব্যের কারণে চালের বাজারে একটা ফাটকা দামের পরিস্হিতির দিকে যাচ্ছিল, এটাই স্বাভাবিক। চালের এই ফাটকা বাজার তৈরিতে ভারত সরকারের প্রথম অবদান হলো, ভারতীয় কাষ্টমসকে নির্দেশ দিয়ে বলা, ৪০০ ডলারের নিচে কোন চাল রপ্তানি নিষিদ্ধ - এই নির্দেশ কার্যকর করতে। চালের নূন্যতম রপ্তানি দামের এই বিধি নিষেধ পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ৪৫০, ৫৫০, ৬৫০ এরপর একলাফে ১০০০ ডলার টনে আরোপ করা হয়। ভারতীয় রপ্তানিকারকরা কোর্ট কাচারি করেও এর কুলকিনারা করতে পারেননি। বহন ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচ ছাড়া ৪০০ ডলার টন, মানে ২৮ টাকা কেজি দরে চাল আমদানি করে কোন সৎ ব্যবসায়ীর পক্ষেও ৩২ টাকার নীচে বাজারে খুচরা বিক্রি করা অসম্ভব। ফলে বাজার লাফাচ্ছে, অস্হির। ভারতের প্রতিশ্রুত চাল এখানে মূল নিয়ন্ত্রক। এই চাল যদি বাংলাদেশে আসতে শুরু করে তবে বাজারে হস্তক্ষেপ করার একটা হাতিয়ার সরকারের হাতে এসে যায়। সরকার কম দামে চাল বিক্রি করা শুরু করে বাজার নামিয়ে ফেলতে পারে এই ভয়ে আছে স্হানীয় ব্যবসায়ীর। ফলে ভারতের চাল দেবার ব্যাপারে কোন অগ্রগতি, দামদর ঠিক, কবে আসতে পারে ইত্যাদি খবর নিতে চাল আমদানিকারকরা সবার চেয়ে আপডেটেড। ওদিকে চাল আসা নিয়ে কোন কথাবার্তার নামগন্ধ নাই, অন্যদিকে দেশের বাজারের অবস্হা দেখে দেশে চাল আমদানির হুজুগ উঠে যায় বা বলা যায় হুজুগ ইতিবাচকভাবে তোলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক সব বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ককে সিদ্ধান্ত দেয় চাল আমদানির এলসি খুলতে কোন লিমিট নাই, কেউ যেন লিমিট না করে। যেই এলসি খুলতে চায় তাকেই যেন দেওয়া হয়। সরকার হাতে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে এমন চাল নাই ঠিকই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে রক্তঘাম পানি করে পাঠানো পর্যাপ্ত রেমিট্যান্সের ডলারের রিজার্ভ ছিল। ফলে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক সাহস করে বলতে পেরেছিল, চাল আমদানির এলসি খুলতে কোন লিমিট নাই। (তুলনা করুন, ১৯৭৪ সালে দূর্ভিক্ষের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভের এই ক্ষমতাটাই ছিল না। ফলে বন্যার পর যে ঝাপ্টাটা এসেছিল তাকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা দেশের অর্থনীতির ছিল না। আমাদের তাজউদ্দিন, রেহমান সোবহানদের পেটিবুর্জোয়া সমাজতণ্ত্রের দেউলিয়া চিন্তা, দেউলিয়া পরিকল্পনা আমাদের অর্থনীতিকে যে দেউলিয়া করে ফেলেছিল এর হাত থেকে জনগণকে দুভির্ক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্রের হাতে কোন হাতিয়ার মেকানিজমই ছিল না।)। এই পরিস্হিতিতে সরকার আমদানি ব্যবস্হা খোলা রেখে, শুল্কমুক্ত করে বাজারের উপর সীমিত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
এবার রাজনৈতিক পরিস্হিতির দিক থেকে ঐসময়কে বর্ণনা করা যাক। আমাদের নিশ্চয় মনে আছে উপদেষ্টা মইনুল হোসেনের দাবড়ে বেড়ানো সারা ২০০৭ সাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের প্রথম বছরের কথা। মাইনাস টু ফর্মুলার তখন জয়জয়কার যাচ্ছে চারিদিকে। ধরছে মারছে জেলে পুরছে, আবার নতুন দল করছে, আওয়ামি লীগ, বিএনপি ভেঙ্গে সব সংস্কারবাদী মিলে একটা জাতীয় সরকারের বানানো লক্ষ্যে সবই এগিয়ে চলছিল - যার ড্রাইভিং সীটে বসেছিল মুখপাত্র মইনুল হোসেন। মইনুল হোসেনের এই পথের বিরুদ্ধে নিজের মত করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে আকার দেবার জন্য ভারত মরিয়া হয়ে চাল হাতিয়ার ব্যবহার করেছিল।
প্রকাশ্য দেখানো হচ্ছিল চালের দরই যেন প্রতিশ্রুত চাল দেবার চুক্তি হতে বনিবনা না হবার কারণ। আবার ভারত থেকে হাইকমিশনার পিনাক রজ্ঞন এরকমও একটা ইঙ্গিত দেবার চেষ্টা হচ্ছিল যে মাত্র পাঁচ লাখ টন চাল কীভাবে যোগাড় করবে এটাই সমস্যা।
প্রথম কথা হলো, প্রতিশ্রুত চাল দেবার ক্ষেত্রে অর্থনীতি নয় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবেই ভারত ব্যবহার করেছে। অর্থনীতির বিবেচনায় ৪০০ ডলার টনে চাল দিলে ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষতির কোন কারণ নাই। কারণ বাড়তি দামটা বাজারের ফাটকা দাম। ওটা আদায় না করলেও, এটা ঠিক অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ই নয়। আবার ভারতের বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের মধ্যে তুলনায় এই বাড়তি সম্ভাব্য মূল্যটা শতকরা হিসাবে দশমিকে প্রকাশ করতে হবে - এটা এতই নস্যি। ফলে দামের ব্যাপারে বনিবনাটা আসলে ছিল সময় ক্ষেপনের ছুতা। যাতে চালের জন্য বেচাইন সরকারকে দুর্ভিক্ষ, জনবিক্ষোভের মুখে ঠেলে দিয়ে চাপে ফেলে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, চালের প্রাপ্যতাও কোন অজুহাত হতে পারে না। প্রথমত এটা ছিল পিনাক রজ্ঞনেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির প্রতিশ্রুতি। তিনি নিশ্চয় ভেবে চিন্তে দায়িত্ত্ব নিয়েই চাল বিক্রির প্রতিশ্রুতি করেছিলেন। তাও আবার দোকানদার আর ক্রেতার মধ্যকার মত বেচার প্রতিশ্রুতি, যেঁচে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। অথচ পিনাক রজ্ঞন একটা অসভ্য, অকূটনৈতিক শব্দে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুতভাবে মন্তব্য করেছিলেন, "আমরা না খেয়ে তো আপনাদের খাওয়াতে পারব না"। খাওয়ানো - এই কথার মধ্যে আমাদেরকে ভিক্ষুক হিসাবে ট্রিট করার একটা খায়েস আছে। অথচ ওটা ছিল ক্র্বেতাকে দেয়া চাল বিক্রেতার প্রতিশ্রুতি মাত্র। ঐসময় রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য যাতা হিসাবে চাল ব্যবহার করতে প্রতিদিনই সচিবালয়ের বারান্দায় তাঁকে সাংবাদিকরা পেতেন। আর উল্টা ভাবতেন বোধহয় চালের দরদামের সুরাহা করতে তিনি এখানে এসেছেন, কাজ করছেন। চাল কবে নাগাদ আসবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই অযাচিত, জাতির জন্য অসম্মানজনক মণ্তব্য করেছিলেন । উচিত ছিল জনগণকে অপমান করার অভিযোগে তখনই "পারসন নন গ্রাটা" করে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা। কিন্তু আমাদের ক্ষমতার লোভকে কাজে লাগিয়ে পিনাক রজ্ঞন এখনও সদর্পে বাংলাদেশের রাজনীতি দাবড়ে বেড়াচ্ছেন।
প্রতিশ্রুত সেই পাঁচ লাখ টন চালের মধ্যে মাত্র এক লাখ টন ৪০০ ডলার দরে দেয়ার চুক্তি হয়েছিল দুই মাস পর, আর ঐ চাল এসেছিল আমাদের বোরো ধান উঠে চালের সঙ্কট সামলে উঠার পর। তাও সে চুক্তি হয়েছিল আমাদের সেনা প্রধানের ঘোড়া সংক্রান্ত ভারত সফরকে সৌজন্য দেখানোর নামে। আর বাকি চার লাখ টন চাল? এই চাল আসে একবছর পর। বর্তমান সরকারি খাদ্য মজুদ ১৪ লাখ টনের ৪ লাখ টন হলো ঐ ভারতীয় চাল। যাই হোক, বাংলাদেশ ব্যাঙ্ককে দিয়ে খোলা আমদানির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার প্রাকটিক্যাল মানেটা হলো, ভারত সরকারি পর্যায়ে যে চালটা না দিয়ে খেলছিল, সরকার ঐ চালের কিছু অংশ (সব মিলিয়ে ১-১.৫ লাখ টন হবে) ভারত থেকে বেসরকারিভাবে বেশি দামে আমদানির ব্যবস্হা করে নেয়। এতো গেল বাণিজ্যিক লড়াই এর দিক।
আওয়ামি লীগ, বিএনপি ভেঙ্গে সব সংস্কারবাদী মিলে একটা জাতীয় সরকারের বানানো লক্ষ্যে মুখপাত্র মইনুল হোসেনর লাইনের বিপক্ষে ভারতের লাইন ছিল এরকম- অনেক সংস্কার হয়েছে - এবার আওয়ামি লীগের সাথে একটা রফা করে ক্ষমতা দিবার ব্যবস্হা করে ভাগো - এরকম একটা ভাবনা নিয়ে আগাচ্ছিল ভারত। তবে একটু সংশোধন করে নেই। এখানে আওয়ামি লীগ বলেছি বটে তবে এটা হাসিনা বাদে র্যাটদের আওয়ামি লীগ পড়তে হবে। এখানেই ভারতের হাতে মইনুল হোসেনদের বিরুদ্ধে যাতা (leverage) দেবার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল চাল হাতিয়ার। এই দুই ধারার মধ্যে আবার কমন ছিল মাইনাস টু ফর্মুলা, তবে দুজনের কারণ দুরকম। মইনুল হোসেন মানে আমেরিকান মুল ধারার লাইন হলো - হাসিনা, খালেদা বাদ না হলে সব সংস্কারবাদী মিলে একটা জাতীয় সরকারের বানানো লক্ষ্য পূরণ হবে না। ইসলামি নামগন্ধ বাদে বাকিদের নিয়ে জাতীয় সরকার গড়াই আল-কায়েদা ধরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর রক্ষাকবচ - এটাই আমেরিকান মূল যুদ্ধকৌশল। বিপরীতে, ভারতের লাইন মানে আমেরিকান যাতা (leverage) ব্যবহার করে ভারতের লাইন হলো - খালেদার সাথে কোন ডিল নাই, গোনায় বাইরে ওটা। হাসিনার উপর সম্ভবত বিগত না হওয়া নির্বাচনে ISI এর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও নাখোশ ছিল ভারত। ফলে হাসিনা বাদে একটা আওয়ামি লীগ খাড়া করে দেখানো। এর মাঝখানে বন্যা সিডওরে ক্ষতিগ্রস্হ ক্ষুধার্ত মানুষ, শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষও নিজের আয়ে চাল কেনার সামর্থ হারিয়ে দিশাহারা। অথচ মানুষের চাল পাওয়াকে পুঁজি করে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত ভারতীয় কূটনীতি।
আমেরিকার এই দুই লাইনের ঝগড়ায় বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে পণবন্দী হিসাবে ভারত বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হার স্বীকার করে মইনুল হোসেন, তপন চৌধুরি সহ পাঁচজন পদত্যাগ করেন। সরকার নতুন রূপে সমঝোতার লাইনে হাজির হয়। আর আরও পরে, হাসিনা জেল থেকে বাইরে এসে র্যাটের ডিলটাকেই ভারতের কাছে বাউচারের মধ্যস্হতায় তাঁর ডিল হিসাবে গ্রহণ করাতে সক্ষম হয়। হাসিনা দলের গাদ্দারদের উপর প্রতিশোধ নেবার সুযোগ পায়।
চাল এই বাণিজ্যক-মানবিক বিষয়টাকে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসাবে কত সফলভাবে ব্যবহার করা যায় - এটা প্রণব মুখার্জি তাঁর গেল সফরে আমাদের শিখিয়ে গেছেন। পরিহাস হলো, এবার তিনিই ট্রানজিটকে রাজনৈতিক নয় বাণিজ্যিক ইস্যু হিসাবে দেখার আবদার নিয়ে হাজির হচ্ছেন।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের নীতি ;
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: একদম ঠিক জায়গাটা ধরেছেন।
আমার সম্ভবত বাংলাদেশকে রাষ্ট্র ভাবতে না পারার সমস্যা থেকে কথা শুরু করা উচিত ছিল। তবে, রাষ্ট্রের শত্রুমিত্র নিয়ে আমার লেখা পোষ্টে এই কথাটাই বলেছিলাম।
ভালো লাগলে পয়েন্টটার প্রাসঙ্গিকতা দেখিয়ে দেবার জন্য।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
''বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা একদিকে বিএনপি দিক থেকে হলে আমাদের স্বার্থের প্রসঙ্গের চেয়ে সস্তা ভারত বিরোধীতর প্রচারণা এত বেশি ভর করে বসে যে তাতে আমাদের আসল উদ্দেশ্য ব্যহত হয়ে যায়।''আমার মনে হয় যে, বিএনপি'র অধিকাংশ নেতা এই বিষয়ে যাসব বলে তা ভোটের সুবিধা আদায়ের জন্যই বলে। কেউ কেউ হয়তো সত্যিই বাংলাদেশের স্বার্থের ব্যাপারে সচেতন কিন্তু স্বার্থগুলান খতিয়ে দেখে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দরকষাকষিতে যাওয়ার মতো অবস্থা এবং সময় নেতাদের নাই।
''জামাতের দিক থেকে হলে আরও এককাঠি সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে উপস্হাপন করা হয়।''
জামায়াত তো ভারতরে কয় 'ব্রাহ্মন্যবাদী ভারত', তো এই চিন্তা মাথায় রাইখা এরপর আর আধুনিক ভারতরে, সুপার পাওয়ার হবার বাসনায় আগ্রাসী ভারতরে বুঝন জামায়াতের পক্ষে সম্ভব না। তাছাড়া চোখের সামনে যাসব ঘটতাছে তা বুঝার চেষ্টা না কইরা জামায়াত শুধুই 'ষড়যন্ত্র' দেখে।
''ফলে সেখানেও আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।''
কিন্তু এরপর আপনি যা বলেন নাই সেইটা হইলো- বামপন্থী দলগুলানের কথা। এইটা একটু বলেন পোস্টে।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ আমি বলি নাই। সত্যি কথা কী, এখন আমি ফিরে চিন্তা করে দেখলাম আসলে আমার মাথাতেই আসেনি যে বামপন্থী বলে আলাদা উল্লেখ করার মত কোন সক্রিয় রাজনৈতিক চিন্তা আছে।
আপনার পরামর্শ অনুসারে, কমিউনিষ্টদের সম্পর্কে এবার বলি:
প্রথমত নিজ জনগোষ্ঠির রাষ্ট্র কেমন হবে, নিজ রাষ্ট্র স্বার্থ বলে কিছু থাকবে কী না এটা তাদের চিন্তার সবচেয়ে গ্রে এড়িয়া বা আবছা জায়গা। যেকোন আন্তর্জাতিকতা (ইসলামিষ্ট বা কমিউনিষ্ট যেই হোক) বাদের চিন্তা যারাই বহন করে রাষ্ট্র সংক্রান্ত মৌলিক ধ্যানধারণা তারা তত কম ধারণ করে। এটা তাদের কাছে ভাববার বিষয়ই নয়। রাষ্ট্র সংক্রান্ত মৌলিক ধ্যানধারণা বলতে আমি নিজ জনগোষ্ঠির রাষ্ট্র রূপের কথা বলছি।
রাষ্ট্র মানেই রাষ্ট্রের বাইরে সবাই তার শত্রু। এই মৌলিক প্রেমিজ বা আগাম ভিত্তিমূলক কথাটার সাথে আন্তর্জাতিকতাবাদী চিন্তা একসাথে ঘর করবে কেমন করে এর উত্তর এখনও কারও কাছে নাই। এনিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষাও খুব কিছু হয়নি। কারণ সমস্যাটাই উপলব্দি করা হয়নি ঠিকমত। "দুনিয়ার মজদুর এক হও" শ্লোগান বাস্তবায়ন করছি একথা ভেবে আমরা যে সোভিয়েত বা চীন - এসব অপর রাষ্ট্রের খেদমতে ব্যবহার হয়ে গেছি এটা কেউ কেউ টের পেলেও সমস্যার গোড়াটা কোথায় জানা হয়নি। আমি "দুনিয়ার মজদুর এক হও" শ্লোগানটা বাদ দেবার কথা বলছি না, বিপদটার কথা বলছি। রাষ্ট্র সম্পর্কে যে মৌলিক প্রেমিজ বা আগাম ভিত্তিমূলক কথাটা বললাম - একে কমিউনিষ্টরা বুর্জোয়া রাষ্ট্রের সমস্যা বলে এখনও পাশ কাটিয়ে আছে। রাষ্ট্র ভাবনা: চীন প্রসঙ্গে বলে আমার পোষ্টে একথাটাই ছিল আমার মূল বিষয়।
ফলে বাংলাদেশের কমিউনিষ্টরা ভারত-বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে চায় না। নিজ জনগোষ্ঠির রাষ্ট্রের স্বার্থ নিয়ে এটা যে ভারত রাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে মুখোমুখি বসার ব্যাপার, দুটো রাষ্ট্র-স্বার্থ নিজের অংশ বুঝে নিতে পারলে তবেই কথা আগাবে - এভাবে কখনও ভাবেনি। বরং এভাবে নিজের স্বার্থ নিয়ে নিজে ভারতের মুখোমুখি দাড়ালে কথা বললে ইসলামিষ্টদের সস্তা সাম্প্রদায়িক ভারত বিরোধীতা সুযোগ নিয়ে নিবে - এই ভয়টাকে নিজেদের রাষ্ট্র চিন্তার অকর্মন্নতা ও খামতি ঢাকার অজুহাত হিসাবে রেখে দিয়েছে। আবার ভয়টা সত্যি তো বটেই। তবে আমার কাছে ভয়টা ইসলামিষ্টদের সুযোগ নিয়ে নেবার চেয়েও আমাদের রাষ্ট্র স্বার্থবোধ উঠে দাড়াচ্ছে না - এটাই মুখ্য। ভয়ের বিষয়টা খেয়াল রেখে আমাদের রাষ্ট্র-স্বার্থের কথা অবশ্যই বলতে শিখতে হবে। এজন্য সতর্ক করতে এই পোষ্টে প্রথম প্যারাটা খরচ করেছি, যেটাতে আপনি পরামর্শ রেখেছেন বাদ দেবার জন্য। বলেছি এমনকি "দাদা" বলে খোঁচা দেয়া বা ইঙ্গিত করা এড়াতে।
অবশ্য নিক অনিশ্চিতের মন্তব্য দেখে হয়েছে আমার সতর্কতা কোন কাজে লাগলো না।
সাধারণভাবে বললে, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র স্বার্থের প্রতিনিধিত্ত্ব করে তাকে কথা বলতে হবে, সে রাষ্ট্র স্বার্থের প্রতিনিধি - এই বোধটা দূর্বল। আসলে, ন্যাশনিলিষ্ট অর্থে দল তারা কেউই হয়ে উঠতে পারেনি।
আশা করি এবার আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি।
অকাটমুর্খ বলেছেন:
লেকাগুলো একটু ছোট করন যায়না...মনে হয় যায়। পেচাইয়া কতা না বললে যায় কিন্তু।
লেখক বলেছেন: হয়তো যায়, আমি পারি নাই।
আমি আওয়ামি লীগের পক্ষে বললাম না, বিএনপির পক্ষে বললাম - এইভাবে "ছোট করনের" কথা আপনি নিশ্চয় বলছেন না। আমি ধরে নিয়েছি।
খািল িপডাইেত ইচ্ছা করে বলেছেন:
৭৪ সম্পর্কে আপনার কতা পুরাডা ঠিক না।
লেখক বলেছেন: কোন কোন জায়গায় ঠিক না জানতে পারলাম না। আমি শুনতে আগ্রহী।
পুরুষ বলেছেন:
ছাগলের বাল ছাল। একেই বলে নেমক হারামি।
লেখক বলেছেন: গতকাল আপনার জবাব দেইনি ইচ্ছা করেই, গালাগালির মাথা ঠান্ডা হতে সময় দিতে চাই বলে। নইলে আমি এখন যা বলব বুঝতেন না।
আপনার সমস্যা হলো, আইনত হয়ত আপনি বাংলাদেশের নাগরিক কিন্তু, বাংলাদেশ রাষ্ট্র আপনার ইচ্ছা আকাঙ্খাকে প্রতিনিধিত্ত্ব করতে পারে এমন আস্হা বিশ্বাস আপনার নাই। হতে পারে তারও আপনি কোন সম্ভাবনা দেখেন না। চেষ্টাও করতে চান না। ফলে কার্যত আপনি বাংলাদেশের কেউ না; বাংলাদেশ রাষ্ট্রও আপনার জন্য কিছু না ।
এই দ্বৈত অবস্হা থেকে মুক্তি পাবার একটা পথ হতে পারে। ভারতের একটা রেশন কার্ড যোগাড় করে ভারতে চলে যান। কেন খামোখা বসে বসে আমাদের "নেমক হারামি" দেখবেন!
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন:
পইড়া ভালো লাগল। লেখা ছোট করার দরকার নাই।
লেখক বলেছেন: আপনি আমার লেখা পড়েন জানতাম না। সম্ভবত এটাই আপনার প্রথম মন্তব্য। শেষপর্যন্ত জুতাকেই মুকুট বানিয়ে নিয়েছেন! ভালো প্রতিবাদ।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
না। ছোট করার দরকার আছে।
লেখক বলেছেন: দেইখেন আবার লড়ালড়ি শুরু কইরেন না। আমার কিন্তু দুজনরেই দরকার। আমি মাঝামাঝিতে থাকব।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
পরে পড়ুম।এতো বড় লেখা কম্পিউটার স্ক্রিনে পোষায় না।
লেখক বলেছেন: তবু পড়েন কিন্তু।
ইয়ামিন বলেছেন:
পড়ে ভালো লাগলেও চিন্তামুক্ত হতে পাড়ছি না। কারন আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের নীতি বলতে কিছু নাই। যেকোন কিছুই ঘটাতে পারে তারা তোষামোদি করার জন্য।
লেখক বলেছেন: আমরা যেমন আমাদের রাজনীতিবিদরাও তাই। ভাববার বা সক্রিয় হবার সব দায়দায়িত্ত্ব রাজনীতিবিদদের উপর ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে তো এমনই হবার কথা - তাই না?
সমাজে অগ্রসর ভাবনা আছে অথচ রাজনীতিতে তার উপস্হাপন নাই - এটা কখনও ঘটতে দেখা যায় না।
অনিশ্চিত বলেছেন:
ভারত সবসময়ই তার সুবিধা নিতে চাইবে- এটা খুবই স্বাভাবিক। আর আমরা নিজেদের সুবিধা আদায় করতে পারবো না- এটা দিন দিন আরও স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে যখন কেউ বিএনপি-জামাতকে সুবিধা দিতে যায়. সেটাকেই অস্বাভাবিক মনে হয়।মনে পড়ে, তালিবানদের বিরুদ্ধে মার্কিনিরা যে আগ্রাসন চালিয়েছিলো, সেটিকে কেউ কেউ 'ক্রুসেড' বলে আখ্যায়িত করেছিলো। যদিও আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে মার্কিনি বাহিনী যেমন আতঙ্কজনক, তালিবানরাও তেমনি। কিন্তু একজনকে শত্রু বানাতে গিয়ে আরেক শত্রুকে মহান করার দায়িত্ব যারা পালন করে, তাদের ব্যাখ্যা সবসময় একদেশদর্শী হয়। এই লেখাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। লেখাটি বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে বা মাথায় রেখে লেখা হয় নি; বরং আওয়ামী বিরোধীতা, কিংবা আরও স্পষ্ট করে বরলে বিএনপি-জামাতের মুখপত্র হিসেবেই মানায় ভালো।
সহজ কথাকে যতোদূর সম্ভব পেচানোর অভ্যাসটা আমাদের অনেকেরই জন্মগত। এর উপর প্রথমে বাম পরে ইসলামপন্থী মনমানসিকতা ভর করলে তা যে কোথায় গিয়ে দাড়ায়, তা সহজেই অনুমেয়।
ফলে সময় কাটানোর জন্য বা মজা পাওয়া জন্য সমাজে এসব লেখার গুরুত্ব আছে বৈকি।
লেখক বলেছেন: "এটা দিন দিন আরও স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে" - এই স্বাভাবিক রীতিকে অস্বাভাবিক করার আকাঙ্খার প্রকাশ এই পোষ্ট। মনে হচ্ছে, এটাকে আবার আওয়ামি বা বিএনপির খাপে ফেলার চেষ্টা করছেন আপনি। কোন খাপে না, আমি আমাদের জনগোষ্টির স্বার্থ, রাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি মাত্র।
"তালিবানদের বিরুদ্ধে মার্কিনি আগ্রাসনে" কেউ কেউ নয় খোদ বুশই প্রথম 'ক্রুসেড' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ৯/১১ হামলার তাৎক্ষণিক ধাক্কা সামলে উঠার পর ঐদিনই প্রথম টেলিভিশনের সামনে উপস্হিত হয়ে এদের বিরুদ্ধে "ক্রসেড লড়ার" জন্য সকলকে আহ্বান তিনি প্রথম জানিয়ে বলেছিলেন, "হয় তোমরা আমার পক্ষে নতুবা আমার শত্রু"। এর বিপরীতে, আল কায়েদা বা ওরকম রাজনৈতিক ধারা নিজেরা এই বিশ্বরাজনৈতিক সংঘাতকে খৃষ্টানের বিরুদ্ধে মুসলমানের জাগরণ ও সংগ্রাম হিসাবে ব্যাখ্যা করে। খৃষ্টানের বিরুদ্ধে মুসলমানের সংগ্রাম হিসাবে দেখার মানে কিন্তু বুশের মতই "ক্রসেড" মুদ্রার অপর পিঠ। খৃষ্টীয় "ক্রসেড" এর বিরুদ্ধে ইসলামি "ক্রসেড"। আপনি কোন পক্ষের "ক্রসেড" এর কথা বলছেন জানি না। তো আমার "একদেশদর্শীতা" কোথায় ঘটল, আমার লেখাতেও কোথায় "তার ব্যতিক্রম ঘটে নি" - এটা আপনি দেখান নি।
আমার মনে হয়, স্বাধীন চিন্তাশীল সত্ত্বা নয়, কেউ যদি মনটাকে আওয়ামি লীগে আচ্ছন্ন করে আমার লেখা পড়তে বসে তাহলেও একমাত্র আমার লেখাকে মনে হবে "বিএনপি-জামাতের মুখপত্র"। আমি কিন্তু ভুলি নাই ২০০১ সালে নির্বাচনের পর অর্থমন্ত্রী হিসাবে সাইফুর রহমান প্রথম নীতিনির্ধারণী মন্তব্যে ভারতকে গ্যাস রপ্তানিতে উদগ্রিব হয়ে কত কী বলেছিলেন।
আমি চেষ্টা করেছি আওয়ামি লীগ না বিএনপি - এইসব নয়, রাষ্ট্রের স্বার্থের, জনগোষ্ঠির স্বার্থের দিক থেকে পাঠককের কাছে প্রসঙ্গটা তুলে ধরা। এতে পুরানো দেখার অভ্যাসের কারণে কেউ কেউ এটা আওয়ামি লীগের পক্ষে বললাম না বিএনপির পক্ষে বললাম - এই সংকীর্ণ ও ভুল রিডিং এর পথে দেখার চেষ্টা করতে পারে। সব কী আমি এড়াতে পারব - আমি মনে করি না। এরপরেও আমি আপনার বুদ্ধির উপর আস্হা রাখি। লেখাটা আর একবার কী একটু পড়ে দেখবেন -অনুরোধ রাখলাম।
আপনি আমাকে "বাম" বলে চিনলেন কী করে আমি জানি না। আবার "পরে ইসলামপন্থী"ও বানালেন। আমার লেখা থেকে নয়, বাইরের কোন একটা কারণে (আমি জানি না সেটা কী।) আপনি প্রিযুডিস এই ধারণা আমার উপর আরোপ করছেন। আমি নিশ্চিত ব্যক্তিগতভাবেও আপনি আমাকে চেনেন না।
আমি "ইসলামপন্থী" নই, তবে আপনার ভিতরে যদি একটা "ইসলামফোবিয়া" থাকে তো আমাকে ইসলামপন্থী মনে হতেও পারে।
অনিশ্চিত বলেছেন:
তবে দিন দিন ভারত যেভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আগ্রাসীভাবে তাকাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের 'চিন্তা' করার যথেষ্ট কারণ আছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব আরেকটু সাহসী হলে হয়তো অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, সম্ভব আরেকটু উদার প্রকৃতির হলেও। আওয়ামী লীগের সমস্যা হলো লোকে দলটিকে ভারতবান্ধব মনে করে, ফলে সে ভারতসম্পর্কিত আলোচনা থেকে দূরে দূরে থাকতে চায়। বিএনপির ক্ষেত্রে উল্টোটা। কোথাও কোনো মুনশি মাঠে হাগলেও বিএনপি এতে ভারতের যোগসূত্র খুঁজে পায়, ফলে তাদের নেতা-নেত্রীরা তখন হঠাৎ করেই আপোষহীন হয়ে পড়ে, যদিও কিছু শরবত-তরিকত মিললেই তাদের আপোষ তাসের ঘরের মতো ঝরঝর করে ভেঙে পড়ে।ভারতবিরোধিতার নাম করে বাংলাদেশে সবচেয়ে উপকৃত দলটি হলো বিএনপি, ক্ষতিগ্রস্থ দলটির নাম আওয়ামী লীগ। তার চাইতে বড় কথা, বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে এই দুটো দলের নেতৃবৃন্দ দেশের স্বার্থটাকে কখনোই ভারতের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারে নি।
লেখক বলেছেন: "বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে এই দুটো দলের নেতৃবৃন্দ দেশের স্বার্থটাকে কখনোই ভারতের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারে নি" - আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। একথাটা যেন পাঠক ভাবতে পারেন আমার পোষ্টের উদ্দেশ্য এটাই।
আপনার আগের মন্তব্য পড়ে আমি যতটাই হতাশ হয়েছিলাম এবারেরটাই ততটাই আশাবাদি।
শস্তা ভারতবিরোধিতা করে আসলেই কী বিএনপির লাভ হয়েছে? আমার মনে হয় না। ট্রানজিট, টাক্সফোর্স নিয়ে আওয়ামি লীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো বিএনপি এখন আনছে সত্যি হলেও এর বিশ্বাসযোগ্যতার মাত্রা জনগণের কাছে ততটাই কম যতটা সে এতদিন শস্তা ভারতবিরোধিতা করে কামিয়েছে। অন্তত জনগণের একটা অংশ এখন ধন্ধে থাকবে আসলেই কী বিএনপি এটা ঠিক বলছে না, ক্ষমতা হারিয়ে এমন করছে, এটা আগের শস্তা ভারতবিরোধিতাই ।
এর শিক্ষাটা হলো, সরাসরি পয়েন্টে আসা।শস্তা ভারত বিরোধিতা এড়িয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে দাড়িয়ে জনগোষ্ঠির স্বার্থ কী তা নিয়ে কথা বলা।
জ্যাক দ্য রিপার বলেছেন:
ভাই হাপায়া উঠলাম
লেখক বলেছেন: সত্যিই তাই রে ভাই। সরি!
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
তারপর আপনি লিখছেন-''আর এই সুযোগে আওয়ামি লীগ পুরা ইস্যুতে - এটা নেহায়েতই এক সাম্প্রদায়িক প্রচারণা - বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের দিকটা উপেক্ষা করে বা চুপ থাকে।''
সুতরাং নিজ রাষ্ট্রের স্বার্থ না দেইখা বাংলাদেশ-ভারতের অমীমাংসিত ইসুগুলানরে ভোটবাজারের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার যে স্বভাব বিএনপি এবং জামায়াতের, আওয়ামী লীগ ও তাতে যুক্ত হয়।
বিএনপি আওয়ামী লীগরে এই ইসুতে কয় ভারতের তাবেদার, জামায়াত কয় ব্রাহ্মন্যবাদী শক্তির দালাল আর আওয়ামী লীগ বিএনপি ও জামায়াতরে কয় যথাক্রমে উগ্র জাতীয়তাবাদী এবং সাম্প্রদায়িক।
এইসবের বাইরে গিয়া রাষ্ট্র স্বার্থ দেখনের তাগিদ আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াতের নাই। যে বিকল্প ছিলো বাম পন্থার রাজনীতি। তারা ইতোমধ্যে কার্যত মরহুম হয়ে গেছেন রাজনৈতিকভাবে।
আর এইসবের বাইরে দাড়ায় আপনে লিখতাছেন।
ভালো কথা। কিন্তু এই প্রথম প্যারাটার কোনোই দরকার ছিলো না।
আপনের ধইরা নেয়া উচিত যে আপনার পাঠক এই কথা মাথায় রাইখাই পরবো। তাতে লেখাটা ছোটো হইতে পারতো। এমন আরো কিছু বিষয় আছে যা ছোট করলে মূল বক্তব্যের হেরফের হতো না।
লেখা এইভাবে বড় করলে যেসব মুশকিলে আমরা পড়ি তার একটাতে লেখক নিজেও পরেন।
সেইটা হইলো- মূল বিষয়ের বাইরে কথাবার্তা বেশি হয়। এমনকি একসময় পোস্টের ফোকাসের বাইরেও।
লেখক বলেছেন: চিন্তা করছি - এরপরে পোষ্ট দেবার আগে আপনার কাছে এডিটিং জন্য পাঠাব। যাতে লেখা ছোট হবার এডিটিং।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আরো একটু প্রায়োগিক উদাহরন দেই-এই পোস্টের উদাহরন। শুরুর যে লাইনগুলান নিয়া আমি এতক্ষন কথা কইলাম সেইগুলান থেকে আপনে তিনরকম প্রতিক্রিয়া পাইবেন। আপনে যেহেতু তিনটা দলেরই সমালোচনা করছেন তাতে করে দেখবেন অনেকেই স্ব স্ব দলের পক্ষে এসে এইখানে মূল বিষয়ের বাইরে আলাপ জুড়বে।
লেখক বলেছেন: ঠিক তাই ঘটছে। মূল বিষয়ের বাইরে আলাপ সামলাতে আমি হিমশিম। আপনি যে আমার লেখার স্টাইল নিয়ে এত ভেবেছেন - ভালো লাগছে। ধন্যবাদ জানাই।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
বেশ বড় পোস্ট , প্রিন্ট করলাম মাত্র , পুরোটা পড়ে প্রতিক্রিয়া জানাব । মনে পড়ে গেল ১৯৯৪ সালে এমনই এক কলাম লিখেছিলাম ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে ।
লেখক বলেছেন: প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে কথা দিয়েছেন।
মিস করবেব না। আমি অপেক্ষায় থাকব।
থার্ড নয়ন বলেছেন:
ট্রানজিটের নামে ভারত করিডোর চাচ্ছে, সেভেন সিস্টারের বিদ্রোহ দমনের জন্য। এটা বাংলাদেশের জন্য হুমকি। কারন বাংলাদেশ ঐসব বিদ্রোহীদের আক্রমনের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশ। ভারতের সাথে বাংলাদেশের অনেক ইস্যু অমীমাংসিত। যেমন, তারা পানি দিচ্ছে না ঠিকমত, বাংলাদেশের সীমান্তে কাটাতারের বেড়া, বানিজ্য ঘাটতি, বাংলাদেশে ভারতের সব পন্য ঢুকতে পারলেও ভারতে পন্য রপ্তানীতে পদে পদে বাধা, সমুদ্রসীমা নিয়ে সমস্যা, ছিটমহল , তালপট্টি ইত্যাদি সমস্যা। এই সব সমস্যাই জিইয়ে রেখেছে ভারত দাদাগিরি করে। আগে এই সব সমস্যা সমাধান করতে হবে। তারপর ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে সার্ক ভিত্তিক সমাধান হওয়া উচিত।
নেপালের সাথে বাংলাদেশ ট্রানজিট চেয়েছিল , কিন্তু সেটা ১ সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয় নিরাপত্তার অজুহাত তুলে। অথচ তারাই এখন ট্রাঞ্জিটের নামে করিডোর নেবার পায়তারা করছে। এখন যদি বিনা বাধায় আমরা ট্রাঞ্জিট দিয়ে দিই ভবিষ্যতে ভারতের সাথে দর কষাকষির কোন কার্ড থাকবেনা ।
আওয়ামীলীগ এটা করলে জনতার আদালতে তাদের একদিন বিচার হবে।
লেখক বলেছেন: "ট্রানজিটের নামে ভারত করিডোর চাচ্ছে" না আরও কী চাচ্ছে আমরা জানি না।
"আওয়ামীলীগ এটা করলে জনতার আদালতে তাদের একদিন বিচার" হবে হয়ত। কিন্তু এটা নগদ দাবি হলো না। গঠনমূলকও হলো না। আওয়ামি লীগ একটা চুক্তি করুক এরপর আমরা "জনতার আদালতে বিচার" করব। এভাবে মহাসুখ পাবার কিছু নাই।
ভারতের মতে এটা বাণিজ্যিক প্রস্তাব। তো সেটা জনসমক্ষে তর্ক বিতর্ক আলোচনা, পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তের জন্য উন্মোচিত করার দাবিই হবে সবচেয়ে ইতিবাচক। আওয়ামি লীগও নিজেকে অস্বচ্ছ রাখতে না চাইলে একমত হবে।
ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিস্হিতি ভয়াবহ।
আমাদের সাবান, ব্যাটারী, সিমেন্টের মত পণ্যের সাথে পেরে না উঠে শর্ত লাগিয়েছে পণ্য ভারতীয় ISI (আমাদের BSTI এর মত পণ্যমান স্টান্ডার্ড যাচাই প্রতিষ্ঠান) এর সার্টিফিকেট লাগবে। আমরা কেবল ভারতের পণ্যের আমদানিকারক হয়ে ভারতের সাথে এক বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে আছি। আর আমাদের রপ্তানি করতে বিভিন্ন আইনি বাধা তৈরি করে ঠেকিয়ে রাকা হয়েছে। সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টাকে নেহায়েতই "মনমানসিকতা" সমস্যা হিসাবে দেখে বলছেন , "দুই দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্হার মনমানসিকতায় পরিবর্তন না এলে দুই দেশের বাণিজ্য উন্নয়ন সম্ভব না"। এখন এই বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে দাবি করা হচ্ছে ভারতীয় রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে ভারতীয় বিনিয়োগের একটা EPZ করতে দিতে হবে। এতেই নাকি বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ হবে। আমরা কিছুই যাতে রপ্তানি করতে না পারি তার জন্য সত্যিই অভিনব প্রস্তাব।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রাজিব খের বলছেন, প্রতিবেশী দেশটিকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভারতীয় বিনিয়োগ সে দেশে সহজেই জায়গা করে নিতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের উচিত আরও উন্নত ট্রানজিট সুবিধার ব্যবস্হা করা। তিনি বলেন, "এই পরিস্হিতি বেশিদিন চলতে পারে না যে ভারত বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নিবে অথছ অন্য পক্ষ থেকে উপযুক্ত সাড়া পাওয়া যাবে না"। পাঠক ভাষা লক্ষণীয়।
তবে, একটা মূল কথা রয়ে গেছে। আমরা বিচ্ছিন্নভাবে শুধু ট্রানজিট বা বাণিজ্য নিয়েই কেন কথা বলতে বসব?
প্রথম নীতিগত প্রশ্নগুলো একমত হলেই বাণিজ্যিকভাবে সব আলোচনা হতে পারে।
যেমন, আমেরিকান ক্ষমতার যাতা (leverage) ব্যবহার করে ভারত আমাদের সাথে বাণিজ্য আলোচনায় বসতে পারে না। ঐ যাতা লাঠি বাইরে রেখে আসতে হবে।
যেকোন সিদ্ধান্ত সম-মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধা করতে হবে।
ভারতের কোন বিদ্রোহীর সাথে সংঘাতে পড়তে হয় এমন কাজে আমরা জড়িত হব না..... ইত্যাদি।
এভাবে নীতিগত দিকগুলোয় একমত হতে পারলে এরপর সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে।
লেখক বলেছেন: "চিন্তাশীল কমেন্ট" যেহেতু একটু জিরায়ে লইয়া আবার শুরু করেন।
ফ্রুডো বলেছেন:
আফসোস, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় ইস্যু নিয়ে কখনো একমত হইতে পারবে না। খালি নিজেদের মাঝে কাদা ছোড়াছুড়ি। তার চেয়ে এক কাজ করা যাক, যারা ট্রানজিট এর পক্ষে তারা একটা তালিকা করুন- কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লাভ এবং লাভের পরিমান কি রকম, এবং যারা বিপক্ষে তারা একটা তালিকা করুন, কোথায় বাংলাদেশের ক্ষতি। তাহলে একটা মোটামুটি ধারনা পাওয়া যেতে পারে।
লেখক বলেছেন: বন্ধু ফ্রুডো, আপনি বোধহয় আগেই আগেই ঠিক করে নিয়েছেন যেটাকে আপনার "কাদা ছোড়ছুড়ি" দেখতেছেন - ওটা দূরে দাঁড়ায়ে দেখবেন শুধু।
আপনি এখনও কোনগুলো "তালিকা" তাই ধরতে পারেননি। ফলে "মোটামুটি ধারণা" পর্যন্ত পৌছাতে পারবেন কিনা জানি না।
সবুজ সাথী বলেছেন:
বুকমার্কে রাখলাম। সময় করে পড়বো।
লেখক বলেছেন: দোয়া করি সময় যেন হয়।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
আপনার সব কিছু বুঝলাম এবং মানলাম, নীচেরটুকু ছাড়া:"তুলনা করুন, ১৯৭৪ সালে দূর্ভিক্ষের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভের এই ক্ষমতাটাই ছিল না। ফলে বন্যার পর যে ঝাপ্টাটা এসেছিল তাকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা দেশের অর্থনীতির ছিল না। আমাদের তাজউদ্দিন, রেহমান সোবহানদের পেটিবুর্জোয়া সমাজতণ্ত্রের দেউলিয়া চিন্তা, দেউলিয়া পরিকল্পনা আমাদের অর্থনীতিকে যে দেউলিয়া করে ফেলেছিল এর হাত থেকে জনগণকে দুভির্ক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্রের হাতে কোন হাতিয়ার মেকানিজমই ছিল না"
নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনবেন কি?
১। ১ কোটি লোক যখন দেশ ছাড়া হয়, যার বেশীরভাগই চাষী ছিল, যারা সম্পূর্ন দেউলিয়া হয়ে পরিত্যাক্ত ভূমিতে ফিরে আসে।
২। ৭২-৭৩ এ চাষের উপকরনের যোগান দেয়াটা চাট্টিখানি কথা ছিলনা।
৩। পিএল ৪৮০র জাহাজ ভরা গম ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ব উপকূল থেকে না পাঠিয়ে পশ্চিম উপকূল থেকে মার্কিনীরা পাঠিয়েছিল যাতে পৌছুতে অনেক দেরি হয়।
৪। তখন ১০০% মার্জিনেও এলসি খোলা যেত না।
৫। ৭৪ এর অনেক আগে থেকেই তাজুদ্দিনকে সম্পূর্ন নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। আমার নিজের চোখে দেখা: শেখ মুজিবের পাশে খোন্ন্দকার মোস্তাক বসা আর উল্টোদিকের দেয়াল ঘেঁসে তাজুদ্দিন দাঁড়িয়ে..
________________________________________
তাজুদ্দিনের মূল্যায়ন অত্যন্ত নিরপেক্ষ না হ'লে এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত না হলে এক অসম্ভব ব্যাপার।
লেখক বলেছেন: এটা আপনার মন্তব্যের জবাব নয়।
জবাব লিখছি, এখনও শেষ করতে পারি নাই। তবে বড় হয়ে যাচ্ছে। কি করি দেখা যাক।
আপনার সাথে কথা বলে মজা পাব মনে হচ্ছে। অনেক কিছু শেয়ার করা যাবে। একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি।
১৭৫৭,১৮৫৭,১৯৪৭,১৯৫২,১৯৭১ আমি দেখিনি।
আমি দেখিছি ১৯৯০।
...২০১০,২০১১,.............................................২০২১,............................... ইনশাল্লাহ দেশ জন্জাল মুক্ত হবে।
লেখক বলেছেন: আপনার সাল-বছর নির্বাচনটা খুবই মজার। বিশেষত
১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ - একসাথে দেখে।
এরকমটা সাধারণত দেখি না।
ধন্যবাদ
প্রগতিশীল বলেছেন:
লেখককে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ভালো।
ধীবর বলেছেন:
স্টিকি করার মত পোস্ট। প্লাস।
লেখক বলেছেন: স্টিকি করে কাউকে জবরদস্তি পড়ানোর দরকার নাই।
থাক সেটা। বরং পাঠকের এখানে পড়তে আসার একটা নিজ আগ্রহ নিয়ে আসুক - এটাই আমি চাই।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
নন-স্টিকি ই থাক না!
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ঠিক তাই আমি চাই।
যাই বলেছেন:
অসাধারণ লেখা।তবে আমাদের দরকার কার্যকরী প্রতিরোধের Manual............
লেখক বলেছেন: তো যার যার কাজে নেমে পড়ুন।
মার্ক জুবাবের বলেছেন:
পুরুষ বলেছেন: ছাগলের বাল ছাল। একেই বলে নেমক হারামি। আমরা সবাই জানি, এই পুরুষ নিকটি আমাদের ভারতীয় বন্ধু মৈথুনানন্দ ভাইজানের। আমি জানি না পি মুন্সী সাহেব এটা জানেন কিনা যে উনি কিন্তু অলরেডী ভারতেই থাকেন। ফলে উনাকে রেশন কার্ড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়াটা একদম অপাত্রে গেছে।
আর এটা বিচিত্র কি-- আমরা বাংলাদেশীরা তো উনার কাছে অবশ্যই নেমক হারাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মার্ক জুবায়ের। আমি জানতাম না, মানে আমি ঐ সবাইয়ের মধ্য নই। তবে মন্তব্যের ঢং দেখে কিছু একটা আন্দাজ করে "হয়ত" শব্দ যোগ করেছিলাম।
যাই হোক জানা থাকল এখন থেকে। আবারও ধন্যবাদ।
কিন্তু লেখা নিয়ে কিছু বলেন নি দেখলাম।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
ট্রানজিট বা করিডোর না, এখন প্রণব বাবু বলতাছেন বিষয়টা কানেকটিভিটির জন্য দরকার। তাগোরে আমরা কোন জায়গায় ডিসকানেকট রাখলাম তাই খুঁজতাছি.....কাটাতারের বেড়াটা ডিঙ্গাইতে পারলে অবশ্য খোজাখুজি এট্টু সহজ হইতো।
লেখক বলেছেন: আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে প্ররোচিত হচ্ছি। মহারথীদের ভিজিটের পর কী দাড়াল তা নিয়ে কথা বলতে হবে। আলাদা পোষ্টে লিখছি।
কেবল ভাষার দিক থেকে যদি বিবেচনা করে বলা যায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক অবস্হান ও সরকার বা মন্ত্রীদের পারফরমেন্স যাচ্ছে তাই, পরাজিত হয়েছেন তারা।
গতকালকে সরকারের দিক থেকে যা যা কিছু করা হয়েছে তাতো করছেই। কিন্তু সেগুলো ভারতের ভাষার সাথে গা না এলিয়ে বলেও করা যেত। যেমন, "ট্রানজিট একটা বাণিজ্যিক ইস্যু" অথবা "আমরা কানেকটিভিটি নিয়ে কথা বলছি" - এটা ভারতের পররাষ্ট্র নীতির ভাষা। তাদের স্বার্থে তারা এটা বলবে। কিন্তু এই ভাষার সাথে আমাদের পররাষ্ট্র নীতিকে গলা মিলাতে হবে কেন? ভারতের "কানেকটিভিটি" দেখার জন্য আমাদের সরকার, মন্ত্রণালয় খোলা হয়নি, বা তারা ক্ষমতায় বসেনি। এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রস্বার্থের বিষয়। বাংলাদেশের স্বার্থে ভাষা নির্মাণ ও কথা বলা তার কাজ।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
আসল জায়গায় হাত দিছেন আপনে। কল্লা থাকবো কিনা বলতে পারি না! 'আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ' বা 'আমাদের সরকার বলে অঅর আদৌ কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা বলা মুশকিল। এমন সব মন্ত্রী এমপি তারা নাকি ভারতীয় সাংবাদিকে কথার গুরুই বুঝতে পারে না। হায় খোদা! দিন কি বদলায়া গেল নাকি বদলায়া ফালানো হইলো?
চমকের মন্ত্রীসভা এইসব চমক দিতাছে আর তাদের উপদেষ্টা পিনাক বাবু আমাদের ধমকায়া যাইতেছে যে আমরা নাকি সব ''আউল-ফাউল'' কথা কইতেছি।
লেখক বলেছেন: আমার কল্লা নিয়ে ডরাই না বা চিন্তা করি না। চিন্তা করি আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ নিয়ে।
পিনাক রজ্ঞনের পারসন নন গ্রটা করে বহিস্কার করার কথা আমি আগেই দাবি করেছি চাল প্রসঙ্গে।
পিনাক রজ্ঞন বোধহয় নিজেকে সৈয়দ আশরাফের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন।
এখানে পথ আছে সোজা। হয় পিনাককে তাঁর খায়েস মত আওয়ামি লীগের সেক্রেটারি বানিয়ে দেয়া হোক। আর নাহলে সোজা ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হোক। এছাড়া এই সমস্যার হাল হবে না।
সুবিদ্ বলেছেন:
ব্যক্তি পিনাক কিছু না, তার ঔদ্ধত্য ভারতীয়রা বাংলাদেশের মানুষকে কিভাবে দেখে তারই স্পষ্ট প্রকাশ......
লেখক বলেছেন: আসলেই তাই, একদম ঠিক বলেছেন।
আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন কোন জনগোষ্ঠি এটা মেনে নিতে পারে না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















এর কারন হইলো- বাংলাদেশের সরকারগুলান মনে করে ভারত হইলো বাংলাদেশের 'চিরস্থায়ি বন্ধু' (!?)। রাষ্ট্র নাকি রাষ্ট্রের চিরস্থায়ি বন্ধু হয়! এরা এখনো বাংলাদেশরে রাষ্ট্র ভাবতেই পারে না।