somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিডিআর ঘটনা: ইনটেলিজেন্স ও রাষ্ট্র (শেষ পর্ব)

০৯ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্বের জন্য: Click This Link

দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব:
এখন সেনাবাহিনী এ্যকশনে যাবার যে প্রস্তাব রেখেছিল সেই প্রস্তাব কোন কোন ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের উপরে দাঁড়িয়ে তৈরি করা হয়েছিল? আদৌ কী ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টস ঐ প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল? না কী - আমাদের সহযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে, বন্দি করে রাখা হয়েছে, পরিবারকে জিম্মি করা হয়েছে, উদ্ধারের জন্য আমাদের অনেকে ফোন পেয়েছে - কাজেই বিদ্রোহ দমন ও সহযোদ্ধাদের পরিবারসহ উদ্ধারে একশনে যাবার জন্য আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের কাছে প্রস্তাব রাখছি - এজাতীয় প্রস্তাব রাখা হয়েছিল? এরকম হলে এটা প্রস্তাব ঠিকই হয়ত কিন্তু কোন ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের উপরে এই প্রস্তাব দাঁড়ানো নয় - ফলে অন্ধকারে ঘরে সাপের মত অবস্হা বলা যায়। আর ইমোশনেও ভরপুর। আবার, রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের "রাজনৈতিক সমাধানের পথে" যাবার পক্ষে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছিল এখানেও কোন সবল ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের সমাহার ছিল তা দেখা যায় নি। ফলে ওটাও একই দোষে দুষ্ট বলা যায়। যেমন যদি প্রশ্ন করা হয় রাজনৈতিক নেতৃত্ত্ব যেদিকেই সিদ্ধান্ত নেক তা নিতে কোন কোন ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের উপর ভিত্তি করে নেয়া? সামরিক, বেসামরিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটগুলো কর্মতৎপরতার কী তথ্য তাদেরকে দিতে পেরেছিল? অথবা মঈন সাহেব কী ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টস দিয়ে "রাজনৈতিক সমাধানের পথে" সিদ্ধান্তের অসারত্ত্ব দেখিয়ে আগানোর বিপদগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন কী না? অস্ত্র হাতে বলপ্রয়োগ যার পেশা, রাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা নিয়ে যার কায়কারবার, আবেগের বশে কোন সিদ্ধান্ত সেই সৈনিকের জন্য মানানসই নয়। আমাদের সহকর্মী মারা যাচ্ছে বা জিম্মি হয়ে আছে শুধু এই আবেগে নয়, মঈন সাহেব কী কোন ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের উপর দাড়িয়ে "রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের" বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন? সোজাসাপ্টা এর উত্তর হলো না। এমন কোন দাবি আমরা শুনিনি। তার মানে ব্যাপারটা হলো: তখন আমাদের কাছে কী তথ্য ছিল এর কোন গুরুত্ত্বই নাই। বরং সিদ্ধান্ত নিতে বা প্রভাবিত কর‌তে রাজনীতিকদের ক্ষমতা বেশি না সমর নায়কদের ক্ষমতা বেশি এরই একটা ফালতু মহড়া দেখেছি আমরা। অথচ বিষয়টা ছিল রাষ্ট্রের বিপদ ও নিরাপত্তার। ফলে এটা হওয়ার কথা রাষ্ট্রের বিপদ ও নিরাপত্তা সূত্রে সামরিক, যেটা একই সঙ্গে রাজনৈতিকও বটে। কারণ রাষ্ট্রের কাছে সামরিক বা রাজনৈতিক এরকম কোন দ্বিবিভাগ নাই। ক্যন্টানমেন্টের মুখ চেয়ে না প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মুখ চেয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে - এই ভাবনাটাই আত্মঘাতি, রাষ্ট্র স্বার্থ বিরোধী।
যাই হোক, ঐ সময় এ্যকশনে যাওয়া অথবা "রাজনৈতিক সমাধানের পথে" যাওয়া - কোনটাই ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের উপর দাঁড়িয়ে নেয়া হয় নাই। ইনটেলিজেন্স তথ্য বা ফ্যাক্টসের উপর দাঁড়ানো সিদ্ধান্ত বলতে যা বুঝায় তা আমরা দেখিনি।
এটাই হলো মূল কথা। কারণ, পর্যাপ্ত ইনটেলিজেন্স তখনও যোগাড় নাই। কারা ওরা, কী তাদের মোটিভ, আসলেই কতজন মূল সংগঠক, বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের আলোচনার আগেই কী বেশির ভাগ অফিসারকে মেরে ফেলা হয়েছে, আলোচনাটা কালক্ষেপণ, লাশ সামলানোর সময় দেয়া - বাইরের সামরিক, বেসামরিক ইনটেলিজেন্স তখনও কেউ জানে না। এই হলো পরিস্হিতি।

একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবার প্রসঙ্গে ফিরব। ইনটেলিজেন্স ইউনিট আগেই বলেছি কাঠামোর দিক থেকে স্বাধীন। এ্যকশন ইউনিটের প্রস্তুতি হওয়া না হওয়ার সাথে ওর নড়াচড়া আটকিয়ে নাই। রাজনৈতিক নেতৃত্তে এ্যকশনের অনুমতি দেয়া না দেয়ার সাথেও ওর নড়াচড়ার সম্পর্ক নাই। ইনটেলিজেন্স তথ্য সংগ্রহ, একে তো একটা রুটিন কাজ এর উপর এর কাজ এ্যকশন নয়। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্তে এ্যকশনের অনুমতি দেয়া না দেয়ার সাথে এর কাজে বন্ধ রাখার কিছু নাই। ২৪ ঘন্টাই সে সচল। তাহলে আমরা ধরে নিচ্ছি ইনটেলিজেন্স ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ ক্ষমতায় সচল হয়েছিল, সকালে ঘটনার পর থেকেই । বেসামরিক ইউনিটগুলো (এসবি, ডিবি, সিআইডি, র‌্যাব ইত্যাদি) কেও সর্বোচ্চ ক্ষমতায় সচল হতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কারণ, একের সাথে অন্যের ইনটেলিজেন্স তথ্য ক্রসচেক করে সলিড করার ব্যাপার আছে। কিন্তু সেনা -প্রস্তাব বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে এসবের অবদান কী? নির্ধিদ্ধায় বলা যায় সামরিক এ্যকশন বা "রাজনৈতিক সমাধানের পথে" কোনটার পক্ষেই কোন সলিড ইনটেলিজেন্স তথ্য ছিল না। এটা ইনটেলিজেন্সের দোষের কথা নয়, ফ্যাক্টস অর্থে। বাস্তব হলো, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘটনার আগে প্রথমবার ইনটেলিজেন্স সেই যে ঘটনার পিছনে পড়েছিল তা আর উতরিয়ে ঘটনার সামনে পর্যন্ত আর সে আসতে পারেনি। বলা যায় এটাই দ্বিতীয়বার ইনটেলিজেন্স বিকল ও বিপর্যয়।

এই পরিস্হিতিতে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব যেমন আবেগ, ক্ষোভ প্রতিশোধের দিকে ঝুকে নেওয়ার চেষ্টা থাকে, ঠিক তেমনি এই তথ্য-অন্ধকারের মধ্যে হাসিনা আলোচক খুঁজতে প্রতিমন্ত্রী নানককে পাঠিয়ে বিডিআরের ডিএডিসহ (কোথাও কোথাও রিপোর্ট হতে দেখেছি তিনি ডিএডি নানকের পূর্বপরিচিত, সহপাঠি বা আত্মীয়) ১৪ জন প্রতিনিধি যোগাড় করে এনেছিলেন। যাই বুঝে নানক সাদা পতাকা তুলে থাকুন না কেন সজ্ঞানে বা বোকার মত তিনি যে প্রতারিত হয়েছিলেন ঘটনা পরবর্তীতে তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে তা বুঝা যায়। তিনি দাবী করেছেন লাখ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। সংসদের বক্তৃতাতেও তিনি অজ্ঞাত ষড়যন্ত্রকারীদের কথা বলেছেন। তবে সাদা পতাকা তুলে আপোষ আলোচনার সময়ে নয়, এটা যে তাঁর পরবর্তিকালের উপলব্দি - তা বলাই বাহুল্য।
১৪ জন প্রতিনিধি যোগাড় করে আনা হলো ঠিকই কিন্তু নিজেদের কী অবস্হানে দাড়িয়ে আমরা ওদের সাথে কথা বলছিলাম - আমাদের জানা নাই। হাসিনার কাছে কোন তথ্য নাই। সামরিক বেসামরিক কোন ইনটেলিজেন্স ইউনিট তাকে তথ্য যুগিয়ে সবল করেছিলেন - এমন দাবি আমরা এখনও শুনি নি। সবচেয়ে দূর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, আগেই বলেছি, পর্যাপ্ত ইনটেলিজেন্স তখনও যোগাড় নাই। কোন কোন পরিস্হিতি এমন হতেই পারে। কিন্তু ইনটেলিজেন্স বিকল ও বিপর্যয়ের ঐ পরিস্হিতি থেকে বেরোতে হবে তো! এটাই তো হবে প্রাথমিক লক্ষ্য। যাতে বাস্তব ঘটনার উপর দাঁড়িয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত, অবস্হান, কোন পথে আগাবো তা বুঝে নিতে পারি। দিশা ঠিক করতে পারি। ১৪ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল ওদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, ভিতরের অবস্হা জানা। খেয়াল করবেন, এই তথ্য সবার; সামরিক, রাজনৈতিক বলে বেকুবি ভাগের কোন সুযোগ নাই এখানে। তথ্য জোগাড়ে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। কেবল মঈন সাহেব না, আইজি নূর মোহাম্মদও তার এক হালি ইনটেলিজেন্স সংগঠন থেকে ভিতরের কোন সলিড তথ্য হাজির করতে পারেন নাই। কিন্তু উনি মেয়ে-জামাই শোকে অস্হির ছিলেন। যাই হোক, আমাদের দূর্ভাগ্য ১৪ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার প্রাথমিক লক্ষ্য তথ্যের ঘাটতি পূরণ - এমন ছিল না।

ওদিকে গতকাল প্রধানমণ্ত্রী সেনাকুঞ্জে ক্ষুব্ধ সেনাদের বক্তব্য শুনেছেন ঠান্ডা মাথায়। ওখানে নানকের উপর অনেক সেনা অফিসারই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রথম আলো দেখুন। অফিসারেরা হাসিনাকে বলেছেন, "আপনি জানেন না আপনার কাছের লোকজন আপনার সাথে ছলনা করেছে। বিভ্রান্ত করেছে। ওদের বিশ্বাস করবেন না"। "সমঝোতার নামে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা ও লাশ গুম করা এবং জওয়ানদের পালানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে"।
সাধারণ মানুষ, সেনা সদস্য নয়, হিসাবে নিকটজন সহযোদ্ধা হারানোর বেদনা, কষ্টের ক্ষোভ এরকমই হবার কথা। কোন অস্বাভাবিকত্ত্ব নাই এতে। কিন্তু সেনা অফিসার হিসাবে এটা বড়ই বেমানান। কারণ এই তথ্যগুলো ঘটনার দিন দুপুরের দিকে চলা সমঝোতা আলোচনার সময়ও সেনাবাহিনী বা রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বকে বেসামরিক অথবা সামরিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটগুলো দিতে পারেনি। বলতে পারেনি, নানক বা সরকারী উদ্যোক্তারা প্রতারক। অথবা প্রতারকদের সাথে তাদের আলোচনায় কালক্ষেপণ লাশ সামলানোর কাল ক্ষেপণ।
আসলে ঘটনা হলো ভিতরে কী চলছে - কোন ইনটেলিজেন্স তথ্য কারও কাছেই ছিল না। অথচ একজন সেনা অফিসারও সেনা ইনটেলিজেন্স ইউনিটের এই ব্যর্থতার দায়ের দিকে চোখ ফেরাতে অপারগ। এখন পর্যন্ত কোন ইনটেলিজেন্স ইউনিট বা এর প্রধান এই ব্যর্থতার দায় অনুভব করেছেন - আমরা দেখিনি। শেষ বিচারে এই দায় সেনাপ্রধানেরও। আমরা এখনও এর কোন অনুভব, প্রতিক্রিয়া দেখিনি।

আরও অনেকের মত সংসদে হাসিনা একটা অভিযোগ করেছেন। বলছেন, পাঁচ নম্বর গেট দিয়ে বাইরের লোক অবাধে ভিতরে ঢুকেছে, বের হয়েছে। বাইরের লোকের একাজে উস্কানি দিয়েছে বা করেছে। তিনি কারও নাম বলার চেয়ে ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই কিছু বলতে চেয়েছেন, বুঝা যায়। হাসিনার কথা থেকে আবার ইনটেলিজেন্সের কথা মনে এলো। আমি এবার ইনটেলিজেন্স বলতে পুরা ঘটনার উদ্ঘাটন বলছি না, যা এখনও করা যায় নাই। অন্তত ঘটনার শুরু হবার পর পিলখানা বিডিআরের ভিতরের অবস্হা কী, কারা করেছে তাও নয়, কী করেছে সেই ইনটেলিজেন্সও আমাদের কারও কাছে ছিল না। যোগাড় করা যায়নি। সামরিক ইনটেলিজেন্সের ব্যর্থতার কথা অনেক বলেছি। আইজি যার জামাই ভিতরে মরে পরে আছে, তাঁর এসবি, ডিবি, সিআইডি র‌্যাব কেউই ভিতরের কোন তথ্য যোগাড় করতে পারলো না কেন? ধরা যাক, হাসিনার রাজনৈতিক কথার মধ্যে একআনার সত্যতা আছে তাহলে "বাইরের লোক অবাধে ভিতরে ঢুকেছে, বের হয়েছে" - এর মাঝে একজন সামরিক/বেসামরিক ইনটেলিজেন্সের লোক ঢুকতে ও তথ্য সংগ্রহ করে আসতে পারলো না কেন? এমনকি হাসিনার কথাটা রাজনৈতিক-গিমিক হিসাবে পুরাটাই অসত্য হলেও তো একটা ইনটেলিজেন্স সদস্যের অনুপ্রবেশও কী স্বাভাবিক ছিল না? এটাই দ্বিতীয়বারের ইনটেলিজেন্সের ব্যর্থতা, ঘটনার পিছনে পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতেই বাংলাদেশের সব ইনটেলিজেন্স শেষ হয়ে গেছে।
হাসিনার কথা যাই হোক, বাস্তব সত্য হলো, প্রায় সাত-আত হাজার ২৬ তারিখ বিকেলে পিলখানা ছেড়ে ভেগে যেতে পেরেছে। বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনীকে তিন কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আবারও বলছি সাদা পোষাকে সামরিক, বেসামরিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটের কাজ করতে সমস্যা কোথায়? এটা কী করে সম্ভব যে মাত্র দুই তিনশ জন ভিতরে রইল আর প্রায় সাত-আত হাজার জওয়ান বের হয়ে পালিয়ে যাবার পর আমার টের পাচ্ছি তারা পালিয়েছে - আর ইনটেলিজেন্স কিছুই জানতে পারল না? বাইরের লোক গাড়ি অস্ত্রসহ ঢুকেছে, অনেক অফিসারই বাইরের গাড়ি নিজের চোখে দেখেছেন বলছেন। ঢুকতে না দেখা তো একটা ব্যর্থতা, আচ্ছা নাই দেখুন, বাইরের লোক, গাড়ি - এগুলো বের হয়ে গেল কী করে? কোন সাদা পোষাকের সামরিক, বেসামরিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটের সদস্য এটা দেখতে বা হদিস করতে পারলেন না কেন? এটা কী পর্যায়ের ব্যর্থতা? আমার ব্যাখ্যার অতীত!

আসলে, সেনাপ্রধানের এ্যকশনে যাবার আগ্রহ যত বেশি দেখা গেছে, ইনটেলিজেন্সের সংগ্রহের উপর আগ্রহ তার যেন ততটাই কম। খুব সম্ভব, সেনা অফিসারদের ক্ষোভ, প্রতিশোধের আগুন সামলানোর দিকে মূল নজরের কারণেই এই দূর্দশা। একজন সৈনিক বা তার সৈনিকতার কাজের চেয়ে আবেগ বেশি ভারি হয়ে গেলে তাতে সেনাপ্রধানও নিজেকে কী দূর্দশায় ফেলতে পারেন - আমরা সেই নমুনাই যেন দেখলাম। ক্রিটিক্যাল সময়ে জেনারেলদের যদি বাকী সহযোদ্ধাদের আবেগ সামলাতেই দিন যায় তো পুরা বাহিনীর পেশাদারিত্ত্ব মান নিয়ে সন্দেহ করার অবকাশ আছে - এই প্রশ্ন মনে উঁকি দেয়।

শেষ কথা বলি।
কথাটা বলার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখতে বসি নাই। নিজের যুক্তি সাজিয়ে লিখতে গিয়ে দেখলাম, শেষে কথাটা এসে পরেছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে একক কিছু একজিস্ট বোধহয় করে না। নাই। আছে কেবল বাহিনী আর "নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি'। আলাদা আলাদা করে যার কেউই রাষ্ট্র নয়। ফলে এখন মনে হচ্ছে - রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, ইনটেলিজেন্স ইউনিট নিয়ে খামাখাই এতক্ষণ কিছু তত্ত্বীয় হাতমকশ করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×