আমার প্রিয় পোস্ট

কয়লা নীতি, টেকনিক্যাল জ্ঞানের রাজনীতি - আমরা কেমন বুয়েট চাইতে পারি?

০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:১৬

শেয়ারঃ
0 0 0

নিক "পড়ুয়া_পড়ুয়া" একটা পোষ্ট দিয়েছেন আজকে যার শিরোনাম হলো, কয়লা নীতি নিয়ে কিছু কথা : প্রফেসর নুরুল ইসলামের একটি বিবৃতি।
Click This Link

পোষ্ট টা গুরুত্ত্বপূর্ণ সন্দেহ নাই। মনযোগ দিয়ে পড়তে পড়তে ভাবছিলাম। কয়লা নীতি, টিপাইমুখ বাঁধ, তেল গ্যাসের প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (PSC) ইত্যাদি ইস্যুগুলো নিয়ে আমাদের দূর্বল রাজনৈতিক সংহতির ক্ষমতা, সরকারগুলো দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে,জনগণকে প্রতিনিধিত্ত্ব করতে ব্যর্থ হয়। এসব ইস্যুগুলোতে গভীর টেকনলজিক্যাল বিষয়ও জড়িত থাকে। সেখানে বুয়েটের অবদান ও ভুমিকা কী?
এক তরুণ প্রফেসর তামিমই বুয়েটকে কুখ্যাত বানিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট হলেও কয়লা নীতিতে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, টিপাইমুখ ইস্যুতে প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক আইনুন নিশাত এর অবস্হান আবার আশার আলো জাগায়।
এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে মন্তব্য লিখতে গিয়ে টের পাই লেখার ভারকেন্দ্র বুয়েটের দিকে ভারি হয়ে যায়। আসলে ঠিক বুয়েট না একটা পুরানো তর্ক: টেকনোলজির কী কোন শ্রেণীস্বার্থ, রাজনীতি, দেশের স্বার্থজ্ঞান আছে? নাকি টেকনোলজির জ্ঞান রাজনীতি নিরপেক্ষ? কার রাজনীতি, কার স্বার্থ, দেশ বা জাতীয় স্বার্থ - টেকনোলজি কী এসব কিছুর নিরপেক্ষ?

তর্কটা নিয়ে সরাসরি বিস্তারে যাই নাই। বুয়েটের প্রেক্ষিতে তর্কটা নিয়ে কিছু কথা বলরছি মাত্র।
এপর্যন্ত পোষ্ট টা খুব বেশি নজর কেড়েছে মনে হয়নি, কেবল দুইটা মন্তব্য দেখলাম। এসবকিছু বিবেচনায় আমার মন্তব্য এই আলাদা পোষ্টে দিলাম। প্রসঙ্গের খেই ধরতে পাঠক কষ্ট করে উপরে দেওয়া লিঙ্ক, নিক "পড়ুয়া_পড়ুয়া"র পোষ্টটা পড়ে নিবেন। আশা করি, নিক "পড়ুয়া_পড়ুয়া"ও আমার উপর নাখোশ হবেন না।

Click This Link পড়ার পর, এবার আমার মন্তব্য নিচে পড়ুন।
_____________
লেখাটার শেষে লেখক পরিচিতি কী এরকম হবে:

"অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, সদস্য, আব্দুল মতিন পাটোয়ারী খসড়া কয়লা নীতি প্রণয়ন কমিটি, অধ্যাপক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়"।

হলে এরকম স্পষ্ট ভাবে, কোন দ্ব্যার্থক অর্থ বের করার সুযোগ না রেখে বললে ভালো হতো। এখনও একটা মন্তব্য আকারে সংযোজন করতে পারেন।
আমি পড়তে গিয়ে বারবার নিক "পড়ুয়া_পড়ুয়া" ও অধ্যাপক নুরুল ইসলাম - এই দুইয়ের মধ্যে গোলমাল লেগে যাচ্ছিল।

আমি অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি আশির দশকের শুরু থেকে। আমার চোখে, সততা, সাধারণ জীবনযাপন, ডায়নামিক, ব্যবস্হাপনা বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা - সব মিলিয়ে দুর্লভ কিছু গুনের মানুষ তিনি। আমার জানা মতে, তিনি বুয়েটের একমাত্র শিক্ষক যার সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে, খোঁজখবর রাখেন। সামাজিক চোখ নিয়ে টেকনিক্যাল পেশাদার। অনেকেই হয়ত জানেন, "টেকনিক্যাল জ্ঞানের বা ট্রেডের কোন ক্লাস পজিশন নাই, রাজনীতিকরা (অর্থাৎ শাসক শ্রেণী রাজনীতি) যা সিদ্ধান্ত নিবেন তা চোখ বুজে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করাই বুয়েটের শিক্ষককুল ও ইন্জিনিয়ারদের কাজ" - এই নীতি দীর্ঘদিন ধরে বুয়েট প্রশাসন ও শিক্ষকদের ফেরি করতে দেখেছেন। এভাবে ছাত্রদের রাজনৈতিক সচেতনাকে সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
এই নীতির ফলে বুয়েট ও তার প্রডাক্ট দেশের বিরুদ্ধে তাঁর জ্ঞান বিদেশীদের ভাড়া খেটে জীবন কাবার করতে ব্যয় করে দিল কী না তা কখনই তলিয়ে দেখা হয় নাই। অন্ধ করে রাখা হয়েছে। এভাবেই চলছিল। এই পরিস্হিতি জিইয়ে রাখার কারণে, আজকে প্রফেসর তামিমের মত লোকজনের সংখ্যা বুয়েটে ক্রমশ বাড়ছে। খোলাখুলি স্পষ্ট হচ্ছে, লুকিয়ে থাকা বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানীর দালালরা প্রকাশ্যেই অবস্হান নিচ্ছে।
প্রফেসর তামিম প্রফেসর নুরুল ইসলামের তুলনায় অন্তত ১৫ বছরের জুনিয়র। একই কেমিক্যাল ডিপার্টমেন্টে তামিম প্রফেসর নুরুল ইসলামের ছাত্র ছিল।
তামিমের আজকের পজিশন নেবার পিছনে বুয়েটের নিরুৎসাহিত এ্যন্টি-রাজনীতি সচেতন পরিবেশ বজায় রাখার কী কোন ভুমিকা নাই? এটা বুয়েট, বুয়েটের বাইরে সকল টেকনোলজি পেশার সবাইকে ভেবে দেখতে বলব।
আসুন কল্পনা করি, কয়লা নীতি ইস্যুতে বুয়েট জুড়ে ছাত্র-শিক্ষকরা টেকনিক্যাল, সোসিও-ইকোনমিক বিভিন্ন সভা, সেমিনার, জর্নাল আলোচনা তর্ক-বিতর্কে মেতে উঠেছে। সেখান থেকে গণস্বার্থে, দেশের স্বার্থে অনুকুলে সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ও বাধ্য হচ্ছে। কারণ কোন নীতি তখন আর গোপনে গুটিকতক স্বার্থবাজের বিষয় নয়। সামাজিক তর্ক-বিতর্কের অংশ বলে, আবার টেকনিক্যাল ও সিরিয়াস আলোচনা বলে এর নিজস্ব একটা ওজন আছে, যে ওজনে যে কোন জাতীয় নীতিতে সে প্রভাব রাখে, সিদ্ধান্তে একটা বড় স্টেকহোল্ডার। ছাত্র-শিক্ষকদের এই ধরণের চর্চা একই সঙ্গে জীবন্ত-একাডেমিক, পেশায় কাজে লাগে এমন সোসাল পার্সপেক্টিভে টেকনোলজিকে শিখা। একই সঙ্গে তা আর কোন গণবিচ্ছিন্ন শিক্ষা নয়, পেশায় প্রবেশের আগেই টেকনোলজির প্রাকটিক্যাল প্রয়োগ সম্পর্কে জেনে যাওয়া।

গোপনে কাজ সমাধা করতে পারা তামিমদের শক্তির একটা বড় উৎস। এটাকে যতই জনগণের সামনে উন্মোচন করে দেয়া যাবে ততই পাল্টা মোকাবিলার শক্তি সংগঠিত হয়ে উঠবে। তামিমদের একমাত্র এভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশের স্বার্থ নিয়ে এককাট্টা খাড়া হতে, এভাবে এশিয়া এনার্জিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে গড়া সম্ভব।

আমার এই স্বপ্ন কল্পনাকে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলবাজির লাল নীল দল বা দলবাজি বুঝবেন না আশা করি। ইদানিং বুয়েটেও ভাইস চ্যান্সেলর হবার দৌড় শুরু হয়েছে, দলবাজি ওখানে আস্তে আস্তে আসন গাড়ছে। ছাত্রদের রাজনীতি সচেতনতা নিয়ে নাক শিটকানো শিক্ষকেরা নিজেই বুড়া বয়সে কাচা খুলে দলবাজির দৌড়ে অংশ নিচ্ছে, আর ভাব করছে তারা রাজনীতি করছে। রগড় হিসাবে এটা খুবই ভাল সন্দেহ নাই। তবে, আমরা নিশ্চয় যে কোন দলবাজিকে ধিক্কার জানাই।

আমার কল্পনার বুয়েট নিয়ে কী আমরা এভাবে ভাবতে পারি? না কী এ আমার শুধু কল্পনা?

"পড়ুয়া_পড়ুয়া" - আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): টেকনিক্যাল জ্ঞান ও রাজনীতি ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৩৮
সমীরণ বলেছেন: বুয়েটের পুলাপাইনের তো অনেক সুখ্যাতি শুনতে পাই... তাদের বিশাল মেধার কারনেই তো তারা উজ্জ্বলতর। ফলে আশা করি রাজনীতির এই বিষয় গুলোও তাদের মাথায় খেলবে...

নিজেদের সুপিরিয়র প্রমাণ করতে চাইলে, বুয়েট ছাত্র-ছাত্রীদের উচিত রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রেও তারা এক ধাপ এগিয়ে এটা প্রমাণ করা। একমাত্র রাজনীতিকে সঠিক ভাবে বুঝলেই কারও ভাবে বোঝা সম্ভব কোনটা দেশের আর জনগনের স্বার্থের পক্ষে...

রাজনীতিবিদদের হুকুম বরদার প্রকৌশলী আমাদের কোন কাজে লাগবে?
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: শেষ বিচারে রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত আমাদের প্রকৌশলীদের অবশ্যই শুনতে হবে। তবে তা তামিমের মত না। আর সে তো দেশেও সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর কোন টেকনিক্যাল বা রাজনৈতিক অবস্হান গণমানুষের স্বার্থ, দেশের জাতীয় স্বার্থের কোথায় আঘাত লাগে নিশ্চয় তিনি তা বুঝেন।
মূল ব্যাপারটা হলো, আমি ইন্জিনিয়ার হয়ে গেছি, সমাজের মাখন আমি, আমি সব জানি বুঝি তা নয়, বরং একই সঙ্গে একজন সচেতন সামাজিক মানুষ হিসাবেও নিজেকে তৈরি করা। যেখানে ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্বার্থের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব-সঙঘাত নাই। আগামি দিনে কেবল জ্বালানি সঙ্কটকে কেন্দ্র করেই স্বদেশী প্রকৌশলী, আমাদের টেকনোলজি জ্ঞান, বাস্তব পরিস্হিতি জানাশুনা বা না জানাশুনা নির্ধারক ভুমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

২. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৪৩
রিফাত হাসান বলেছেন: এই নীতির ফলে বুয়েট ও তার প্রডাক্ট দেশের বিরুদ্ধে তাঁর জ্ঞান বিদেশীদের ভাড়া খেটে জীবন কাবার করতে ব্যয় করে দিল কী না তা কখনই তলিয়ে দেখা হয় নাই। অন্ধ করে রাখা হয়েছে।..

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ।

আসুন কল্পনা করি, কয়লা নীতি ইস্যুতে বুয়েট জুড়ে ছাত্র-শিক্ষকরা টেকনিক্যাল, সোসিও-ইকোনমিক বিভিন্ন সভা, সেমিনার, জর্নাল আলোচনা তর্ক-বিতর্কে মেতে উঠেছে। সেখান থেকে গণস্বার্থে, দেশের স্বার্থে অনুকুলে সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ও বাধ্য হচ্ছে। কারণ কোন নীতি তখন আর গোপনে গুটিকতক স্বার্থবাজের বিষয় নয়। সামাজিক তর্ক-বিতর্কের অংশ বলে, আবার টেকনিক্যাল ও সিরিয়াস আলোচনা বলে এর নিজস্ব একটা ওজন আছে, যে ওজনে যে কোন জাতীয় নীতিতে সে প্রভাব রাখে, সিদ্ধান্তে একটা বড় স্টেকহোল্ডার। ছাত্র-শিক্ষকদের এই ধরণের চর্চা একই সঙ্গে জীবন্ত-একাডেমিক, পেশায় কাজে লাগে এমন সোসাল পার্সপেক্টিভে টেকনোলজিকে শিখা।

এই পর্যবেক্ষণ এবং কল্পনাটার মূল্যও অপরিসীম।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রিফাত। আমার স্বপ্নের কথা বলার সুযোগ পেয়ে লোভ সামলাতে পারিনি। অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে নত মস্তকে সালাম জানাই। বুয়েটের শিক্ষকদের যে ট্রেডিশন তাতে কোন জাতীয় ইস্যুতে মহা-টেকনোলজিষ্ট, বিশেষজ্ঞের ভান ধরার আড়ালে বসে এরা কোন অবস্হান নিতে চান না। অথবা ইদানিং দেখা যাচ্ছে তামিম হচ্ছেন। সেখানে পেশাজীবনের এই বয়স্ক বয়সে তিনি যে সাহস ও কর্তব্য জ্ঞানে অবস্হান নিয়েছেন তা শুধু প্রশংসনীয়ই নয়; তিনি এই খোঁড়া ট্রেডিশন সফলভাবে ভেঙ্গে এগিয়ে বহুদূরে। তিনি প্রকৌশল পেশাকে নতুন মাত্রা দিয়ে পেশার সঠিক অর্থ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

৩. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৪৬
রিফাত হাসান বলেছেন: অফটপিক, পি মুন্সিরে অনেকদিন পরে দেখছি। কেমন আছেন? খুব বেশী ব্যস্ত, নাকি অসুস্থ বা এরকম কিছু? ব্লগে একদম দেখাই যায় না ইদানীং।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১:২২

লেখক বলেছেন: হ্যা আসলেই, অনেক দিন পরে। প্রথমে অসুস্হ তারপর একটু সুস্হ হবার পর ব্যস্ত।
ব্লগে একদমই সময় দিতে পারি নাই। মাফ করে দিয়েন। চেষ্টা করছি একটু একটু করে ফিরে আসতে।

৪. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৪৭
পারভেজ বলেছেন: বুয়েটে বর্তমানের কলুষিত নোংরা রাজনীতি বিস্তারের পক্ষ নেয়ার কোন কারণ নেই। আমার ৭ বছরের বুয়েট রাজনীতির সময়ে দেখেছি- একমাত্র সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট্রের কর্মীরাই ছিল নিবেদিতপ্রাণ। আমি যদিও ফ্রন্ট্রের সাথে জড়িত ছিলাম না।
তামিম ব্যক্তিবিশেষ, সে বুয়েটকে কলুষিত করার কেউ না। এরকম হাজারও পাস করা গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে প্রতিবছর। তামিম কয়টা?
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৫৮

লেখক বলেছেন: আমি রাজনীতি বলতে কী বুঝিয়েছি তা বোধহয় আপনাকে ঠিক বুঝাতে পারিনি। আপনি যেটাকে "বর্তমানের কলুষিত নোংরা রাজনীতি" বলেছেন এটাকে আমি দলবাজি বা অন্যভাষায় partisan বা দল-ভক্ত বায়াসড সাপোর্টারের কাজ বলি ও বুঝি। এরা নিজেদের বিদ্যাবুদ্ধি বিবেক বন্ধক রেখে কেবল দলের নামে জিকির করে আর বিনিময়ে নিজের পেটি স্বার্থ আদায় করে।

আমি রাজনৈতিক অবস্হান নেবার কথা বলেছি, দলীয় নয়। আবার বলছি কোন দল বা বিশেষ দলীয় নয়। প্রফেসর নুরুল ইসলাম যেটা বলেছেন এটাকে আমি বলব, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক অবস্হান। ওনার কনসার্নটা খেয়াল করুন,
১। আমাদের সীমিত জ্বালানী সম্পদের মধ্যে ৫০ বছরের জন্য জাতীয় জ্বালানী চাহিদা
২। কয়লা তুলতে গিয়ে যে বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্হ হবে, ধানী জমি নষ্ট হবে ইত্যাদি বিষয়কে কয়লা নীতিতে বিবেচনার বিষয় বানানো, সিদ্ধান্তের নির্ধারক বলে অন্তর্ভুক্ত করা।
৩। রয়ালিটি কত হওয়া উচিত সে প্রসঙ্গ তোলা।
৪। খনন পদ্ধতি কী হবে সে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পথে সমাধান খুঁজা।

এগুলো প্রতিটাই আসলে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, স্রেফ পুজির ভাড়া খাটতে কী করলে প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন হবে কেবল তাই এর বিবেচ্য নয়। এরপর আবার সেই প্রফিট কে নিয়ে যাবে, কী ভাগ হবে, রয়ালিটির প্রসঙ্গ তো আছেই।
রাজনৈতিক প্রশ্ন আরও একারণে যে, এটা একটা জাতীয় নীতি। নাগরিকের সব অংশের এতে যায় আসে, জীবন মরণের ব্যাপার। সমাজের এক অংশকে ক্ষতিগ্রস্হ করে সমাজের অপর সুবিধাভোগী অংশকে - রাষ্ট্রক্ষমতা ঐ শ্রেণীর দখলে থাকার কারণে আরো সম্পদ লাভের শর্ত তৈরির কাজ করলে সেটা নিশ্চয় "জাতীয় নীতি" হতে পারে না। ফলে টেকনোলজি একটা শ্রেণীর প্রশ্ন অবশ্যই।
আসলে মূল স্বার্থের জায়গাটা হলো, বিদেশী বিনিয়োগকৃত পূজি সবচেয়ে কম সময়ে প্রফিট, ম্যাক্সিমাইজড প্রফিটসহ তা বিনিয়োগ তুলে নিয়ে পালাতে চাইবে। এটাই পূজির খাসিলত। এজন্য সে বারবার উৎপাদন রপ্তানী কথা বলবে, এলাকার বাসিন্দার কী হবে, প্রকৃতি পরিবেশের ক্ষতি কোন পথে গেলে কম হবে, ফসলী জমির ক্ষতি নিয়ে কী করা যায় এগুলো সব বাদ। এগুলোতে তার স্বার্থ নাই কেবল তার কয়লা তোলার খরচ কম কী পথে হবে, কম বিনিয়োগে বেশি প্রফিট কীসে হবে এটাই তার একমাত্র বিবেচ্য। এজন্য সে টেকনোলজিষ্ট, বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিক নির্দ্বিধায় সবাই কিনে নিতে ঘুষ দিয়ে তা পক্ষে কথা বলাতে, চাই কী সরকার বদলাতে ভুমিকা রাখতেও সে এক পায়ে রাজি হবে। এর সবগুলোই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সাথে সংঘাতপূর্ণ, বিরোধী। আমাদের স্বার্থের সাথে বিবদমান এই স্বার্থকে সঠিকভাবে বুঝা একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজ। কেবল শ্লোগান তুলা নয়। একটা লম্বা হোম ওয়ার্ক। এটা ঘোরতর রাজনৈতিক স্বার্থের ব্যাপার। এই রাজনীতি মানে দলবাজি করে নিজের পেটিস্বার্থ আদায় নয়। এভাবে বুঝলে তবেই আমাদের জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে যে কোন জাতীয় নীতি প্রণয়ন সম্ভব করতে পারব।
এটা আওয়ামি লীগ ভাল না বিএনপি ভালো এমন সহজ দলবাজির প্রশ্ন নয়। জাতি হিসাবে আমাদের আসল রাজনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন।

ব্যবহারিকভাবে তর্ক-বিতর্ক আলোচনার আয়োজক শিক্ষকেরা আলোচনার নীতি, প্রাকটিসের ধরণ, আর সর্বোপরি আলোচনার একাডেমিক আবহে ও ভাষায় প্রসঙ্গ তুললে সহজেই দলবাজিকে এর বাইরে রাখা সম্ভব। বুয়েটে এই আবহ এখনও আছে।

সবশেষ, আমার প্রশ্নটা তামিম কেন গজালো তা নয়। জাতীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলোতে বুয়েটকে কীভাবে ইতিবাচক ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। আর, শিক্ষা বিশেষত টেকনিক্যাল শিক্ষাকে কীভাবে জনস্বার্থমুখী করা যায়।

কাজেই শব্দ এক হলেও রাজনীতি বা রাজনৈতিক অবস্হান বলতে আমরা একই কথা বলছি না।

৫. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:২৮
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: জনাব, আপনি অনেকদিন পর এই অঞ্চলে মুখ দেখাইলেন। শুকরিয়া। যথাযথ একটি জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার বাইরে পড়ে যাওয়া একটি পোস্টের বিষয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ধন্যবাদ।

বাকি কথায় আসি। আমাদের জাতীয় রাজনীতি বা সামগ্রিক স্বার্থের বিবেচনায় বেশ কয়েকটা ইস্যু সামনে চলে এসেছে এখন। দুঃখের মধ্যে এইসব বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত এর অভাবই শুধু নয় সাথে সাথে বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্লেষণ ও বোঝাপড়ার মতো সক্ষমতা তৈরিতেও আমাদের ঘাটতির কূল-কিনারা নাই। উল্লেখ করার মতো গবেষণা বা দরকষাকষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পেপার ওর্য়াকও আমাদের হাতে খুব একটা নাই।

এইগুলা তো প্রতিষ্ঠান বা এই বিষয়ের টেকনিক্যাল জ্ঞান যারা চর্চা করেন তাদেরই জোগান দিতে হবে। তাঁরা সেটা হাজির রাখতে পারলেই সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে ইতি-আদি, ভালো-মন্দ বিচার করা সম্ভব।

আপনি যে কথাটা তুললেন তার মধ্যে যেটা সুপ্ত আছে বলে আমার মনে হয় এবং অতিশয় জরুরি, সেটা হলো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রপক্ষ মানে সরকাররী মন্ত্রী-আমলা নয়-- সেখানে জনগণও অন্তর্ভূক্ত। ফলে এই বিশেষজ্ঞদের চর্চার মধ্যে টেকনিক্যাল চাহিদা মিটানোর দায়ই একমাত্র কাজ হতে পারে না। সাথে সামাজিক মতামত তৈরিতে সহায়ক তর্ক বা আলোচনার দায়িত্বও তাঁদের উপর নিশ্চয় বর্তায়। সেটা তাঁরা খুব একটা করেন না।

করেন না বলেই উভয়বিধ বিপদের মধ্যে থাকতে হচ্ছে আমাদের। একদিকে জনগণের স্বার্থ ক্ষমতায় থেকে কে কিভাবে খেলাফ করছে, বিকিয়ে দিচ্ছে তা আমাদের চিহ্নিত করতে তারা কাজে আসছেন না। অন্যদিকে বিদেশি রাষ্ট্রদূতের জারিজুরি-হুমকিধামকি শুনতে হচ্ছে যে আমাদের কাছে কোনো তথ্য-উপাত্ত নাই। এমকি তাদেরকেও কটাক্ষ করছেন যে আদৌ তাঁরা বিশেষজ্ঞ নন।

আমরাও গোলে পড়েছি। আসলেই কি তারা যথাযথ জ্ঞান রাখেন! কিসের ভিত্তিতে তাঁদের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেবে দেশের জনগণ? শুধু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বুয়েটে পড়ান এই পরিচয়ের জোরে? আমরা কি করে জানবো তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগটা কি তৈরি হয়েছে?
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১০

লেখক বলেছেন: আপনি ঠিকই ধরেছেন। সেই আশির দশক থেকে লক্ষ্য করেছি বুয়েটের শিক্ষকরা যে এ-পলিটিক্যাল সামাজিক এলিমেন্ট হয়ে কুলীন ভাব ধরে থাকেন এটাই সব সমস্যার গোড়া। যেন টেকনোলজি ও রাজনীতি দুটো দুই গ্রহের বাসিন্দা। টেকনোলজির কোন শ্রেণী বৈশিষ্ট নাই। এটা কী কঠিন সত্যি নয় যে, আজকের টেকনোলজি, বিজ্ঞান পুজির ভাড়া খেটেই টিকে আছে।
এজন্যই প্রফেসর নুরুল ইসলামকে সশ্রদ্ধ সালাম জানিয়ে তাঁর উদাহরণটাকে সামনে নিয়ে এসেছি।

০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১১

লেখক বলেছেন: ভালো।

৭. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৩
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
চমৎকার একখানা লেখা।
আসলে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি মানুষের সহজাত। কিন্তু যেকোন ভালো কিছু অভ্যাস, শিক্ষনের মধ্যে দিয়েই সহী হয়ে উঠে। আমাদের শিক্ষাতে এই ধরনের সচেতনতা লক্ষনীয় নয়। রাজনৈতিক হয়ে উঠার মর্ম বুঝার কোন টেক্স আমরা বুঝে উঠতে ব্যর্থ। কেন? যা একই সাথে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়। এই তো সেদিন পিনাকরন্জন বিশেষজ্ঞদের বিষদগার করলেন, আমাদের জ্ঞানী শিক্ষক'রা একই সভায় নিশ্চুপ।
কয়লা নীতি, টিপাইমুখ বাঁধ, তেল গ্যাস, ট্রানজিট প্রভৃতি ক্ষেত্রে রাজনীতি থেকে অর্থনীতি, অধিকার বিভিন্ন বিষয়কে যেভাবে আলাদা করে বলার, ভাবার কথা বলে মনে হয় জনগোষ্টি হিসেবে আমরা ইতরবিশেষও নয়।


০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১৮

লেখক বলেছেন: হ্যা, ঠিক বলেছেন।
নিজের অস্তিস্ত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া মানেই নিজেকে রাজনৈতিকভাবে চেনা, উপস্হাপন করা। নিজের রাজনৈতিক সত্ত্বা (polity) টের পাওয়া। রাজনীতি তাই বাইরের কিছু নয়, দলবাজি তো নয়ই।
সামনে আরও কঠিন দিন আসছে। তাই যত দ্রুত এটা বুঝি ততই জন গোষ্ঠি হিসাবে টিকার সম্ভাবনা।

৮. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৪
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: পি মুন্সিরে ধন্যবাদ জানাই। এবং তাঁর ধিক্কারের সাথে গলা মিলাই।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১৯

লেখক বলেছেন: ভালো। অনেক ধন্যবাদ।

৯. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:২৯
অলস ছেলে বলেছেন: ভালো লেগেছে। চিন্তার বিষয়।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২০

লেখক বলেছেন: তাহলে, অলস ছেলেরেও চিন্তায় ফেলতে পারছি!

১০. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৩৭
পড়ুয়া_পড়ুয়া বলেছেন: আপনি প্রসংগ থেকে একটু সরে এসে বুয়েটের চলমান অরাজনীতিকরন কে ভরকেন্দ্রে রেখে এখানে আলোচনা করেছেন । বিষয়টি গুরুত্ত্বপূর্ন । বুয়েটের প্রতি , বিশেষত টেকনিকাল বিষয়গুলো যখন সামনে চলে আসে , মানুষের প্রত্যাশা অনেক ।

কিন্তু পরিহাস এটাই যে সরাসরি বুয়েট কতৃপক্ষ এখন ইসলামিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করলেও টিপাইমুখ নিয়ে , অথবা কয়লা নীতি নিয়ে নিজেরা তো কিছু করেই নি , যারা করতে চেয়েছে তাদেরকেও করতে দেয়া হয় নি । নিরুৎসাহিত করা হয়েছে । বুয়েট কতৃপক্ষ খুব সযতনে তামিমের মত শিক্ষকদের কর্মকান্ডকে রক্ষা করে, লালন করে । এখানেও ভরসা সেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট । তারা তাদের সীমিত শক্তি নিয়ে এখনও মিছিল করে তামিমের বিচার চাইছে , গনমুখী কয়লা নীতির দাবিতে চেঁচিয়ে যাচ্ছে । গত সপ্তাহেও টিপাইমুখ ও কয়লা নীতি নিয়ে ছাত্রদের সাথে আলোচনা সভা করেছে শুনলাম ।


তামিমের আজকের পজিশন নেবার পিছনে বুয়েটের নিরুৎসাহিত এ্যন্টি-রাজনীতি সচেতন পরিবেশ বজায় রাখার কী কোন ভুমিকা নাই? এটা বুয়েট, বুয়েটের বাইরে সকল টেকনোলজি পেশার সবাইকে ভেবে দেখতে বলব।


ধন্যবাদ পি মুন্সী । আমি আসলে কয়লা নীতির বর্তমান হাল হকিকত নিয়ে আলোচনার জন্য আমার পোস্টটা দিয়েছি ।
যে কয়লা সম্পদ রক্ষার জন্য ফুলবাড়ির জনগণ রক্ত দিলো
তা নিয়ে সরকারের ভাবনা কী , কর্মকান্ডই বা কী , অন্যান্য বিষয়ের ভীড়ে বিষয়টি হারিয়ে যাচ্ছে কি না - এগুলোই আমার কনসার্ন। সবাই দয়া করে আলোচনা করবেন ।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪০

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যই খুজছিলাম। একটু চিন্তায় ছিলাম। আপনার পোষ্টের ফোকাস সরিয়ে নতুন ফোকাস দেওয়াকে আপনি কীভাবে নিবেন - তা জানতে আগ্রহ ছিল। আমি খুবই খুশি হয়েছে আপনি এখানে অংশগ্রহণ করেছেন ও একটা লম্বা মন্তব্য সংযোজন করেছেন।

আপনার মন্তব্য ভালো লেগেছে। তবে শুধু বুয়েট নয় সামাজিকভাবে সবখানেই আমাদের ভাবনাচিন্তায় একটা সমস্যা আছে। জাতীয় রাজনৈতিক অবস্হান তৈরি করতে গেলে প্রতিষ্ঠান লাগে। অথচ এধরণের প্রতিষ্ঠান বলতে আমরা কেবল রাজনৈতিক পার্টি বুঝি।
আজকে দেখেন, টিপাইমুখ ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থের কথা বলতে আজ সব দল বিশেষজ্ঞ খুজে ফিরছে। আস্হা ও বিশ্বাসযোগ্য একটা সামাজিক টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান অভাব আমরা বোধ করছি। এটা প্রমাণ করে সমাজে রাজনৈতিক দল থাকলেই চলবে না। নিজেদের জাতীয় স্বার্থগুলো কী তা গুছিয়ে বলবার মত সিরিয়াস, হোম ওয়ার্ক করা প্রতিষ্ঠান আমাদের লাগবে। এটা স্রেফ শ্লোগান দিয়ে বাজিমাত করা যাবে না।
একথা ভেবেই উপস্হিত সম্ভাবনা হিসাবে বুয়েটের সমস্যা সম্ভবনা কথা তুলেছি, আমার কল্পনার বাক্য রচনা করেছি।


লাতে

১১. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৪৪
জুমানজি১১ বলেছেন: একটা ছোট্ট সংশোধন (যদিও প্রাসঙ্গিক নয়) আছে, ড: তামীম ME Grad, not Chem. Confirmation এর জন্য নিচের লিঙ্ক এ খুচা দিয়া দেখেন,

http://www.buet.ac.bd/pmre/fac/faculty.htm

মূল টপিক: আপনার আশাগুলো সাফল্যের মুখ দেখুক সেটি আমারো প্রত্যাশা, কিন্তু তা খুব ই সুদূর প্রসারী মনে হচ্ছে আমার কাছে। রাজনীতি এর সঠিক চর্চা আমাদের দেশে যে কোনো স্তরে একেবারেই অনুপস্থিত বলতে দ্বিধা নেই, কাজেই BUET এর একটা মেধাবী ছাত্র যার অনেক ধরনের স্বপ্ন থাকে ভবিষ্যত নিএ, তার এই ধরনের নোংরা রাজনীতি চর্চা করতে আসার রুচি বোধ হয় হবে না। সে বরং এই সময়টা টিউশনি করবে, হলে বসে TV দেখবে, না হয় GRE পড়বে অথবা US Unieversity website গুলোতে surfing করবে। এবং এটাই বাস্তবতা। তাই আমার মনে হয় এই রাজনীতিতে অরুচী দূর করতে হলে আগে Promising কিছু দেখাতে হবে তাদেরকে যাতে তারা এ বেপারে interest পাই, আর আমাদের দেশের বড় বড় নেতারাই বড় বড় বুলি না আউড়াই কাজ দেখালে ছাত্ররা আগ্রহী হবে।

আপনার লিখাটা চমতকার হয়েছে বরাবরের মতই, অনেক ধন্যবাদ।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:১০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জুমানজি কারেকশনের জন্য।
পেট্রোলিয়াম ও মিনারেল রিসোর্স বিভাগ যখন খুলা হয় (কেবল মাস্টার্স) সম্ভবত ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে তামিমকে সামনে রেখে তখন কেমিক্যালের শিক্ষকদেরকেই (বিশেষত ড: নুরুদ্দিন) প্রাধান্যে ও সহযোগিতায় থাকতে দেখেছিলাম - সম্ভবত তাই থেকে আমার এই ভুল ধারণা হয়েছে। আমাকে কারেক্ট করে দেবার জন্য আমি আপনার কাছে ঋণী থাকলাম।

মূল টপিক নিয়ে আপনি যেসব দিক তুলে ধরেছেন তা আমি মানি। কিন্তু রাজনীতি বা রাজনৈতিক অবস্হান বলতে আমি কী বুঝিয়েছি তা "নোংরা রাজনীতি চর্চা" নয়। উপরে পারভেজের মন্তব্যের উত্তরে এপ্রসঙ্গে অনেক বলেছি - একটু কষ্ট করে দেখবেন, আর, পড়ুয়ার মন্তব্যের জবাবে প্রতিষ্ঠানের কতা বলেছি। পুনরুল্লেখ করছি না।

শব্দটা দেখে এক মনে হলেও একই প্রচলিত অর্থে আমি ব্যবহার করিনি। আমার ধারণা, আমার এই অর্থ ধরে এগোলে (এটাই রাজনীতি বা রাজনৈতিক অবস্হানের মূল মানে) আপনি যেসব সমস্যার কথা তুলেছেন তার বেশিটাই কাটানো সম্ভব। এটাই আপনার আকাঙ্খিত "Promising কিছু দেখানো" সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের দরকার একটা ব্রেক থ্রুর।
তবু আপনি যে আমার কল্পনার ভাবনাটা নিয়ে অনেকদূর ভেবেছেন তাতে আমি সত্যিই আনন্দিত।

ভালো থাকবেন। আবার আলাপের প্রত্যাশায়।

০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:১২

লেখক বলেছেন: ভালো।

একে চক্র মাথায় বুদ্ধ, তাতে সিদ্ধার্থ, আবার আনন্দও আছে - সাংঘাতিক।

১৩. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৩৭
মনজুরুল হক বলেছেন:

"তামিমের আজকের পজিশন নেবার পিছনে বুয়েটের নিরুৎসাহিত এ্যন্টি-রাজনীতি সচেতন পরিবেশ বজায় রাখার কী কোন ভুমিকা নাই? এটা বুয়েট, বুয়েটের বাইরে সকল টেকনোলজি পেশার সবাইকে ভেবে দেখতে বলব।
আসুন কল্পনা করি, কয়লা নীতি ইস্যুতে বুয়েট জুড়ে ছাত্র-শিক্ষকরা টেকনিক্যাল, সোসিও-ইকোনমিক বিভিন্ন সভা, সেমিনার, জর্নাল আলোচনা তর্ক-বিতর্কে মেতে উঠেছে। সেখান থেকে গণস্বার্থে, দেশের স্বার্থে অনুকুলে সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ও বাধ্য হচ্ছে। কারণ কোন নীতি তখন আর গোপনে গুটিকতক স্বার্থবাজের বিষয় নয়। সামাজিক তর্ক-বিতর্কের অংশ বলে, আবার টেকনিক্যাল ও সিরিয়াস আলোচনা বলে এর নিজস্ব একটা ওজন আছে, যে ওজনে যে কোন জাতীয় নীতিতে সে প্রভাব রাখে, সিদ্ধান্তে একটা বড় স্টেকহোল্ডার। ছাত্র-শিক্ষকদের এই ধরণের চর্চা একই সঙ্গে জীবন্ত-একাডেমিক, পেশায় কাজে লাগে এমন সোসাল পার্সপেক্টিভে টেকনোলজিকে শিখা। একই সঙ্গে তা আর কোন গণবিচ্ছিন্ন শিক্ষা নয়, পেশায় প্রবেশের আগেই টেকনোলজির প্রাকটিক্যাল প্রয়োগ সম্পর্কে জেনে যাওয়া।"

এই যে আপনি বললেন: "আসুন কল্পনা করি" আমরা আসলেই বুয়েট কে নিয়ে কেবল মাত্র কল্পনাই করতে পারি।

রাজনীতিকে যখন কর্পোরেট দোকানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, যখন মেধা আর টেকনোলজি সেই কর্পোরেট দোকানের শো-কেসে থরে থরে সাজানো থাকে, এবং সয়ং মেধা কায়মনবাক্যে আশা করতে থাকে কেউ তাকে কিনে নিক, তখন আর রাজনৈতিক বাস্তবতা ডোমিনেটিং পজিশনে থাকে না। থাকেনিও। আমি তামিম নয় শুধু, বলব: এর পছেনের মূল রবকুশ হচ্ছেন-শমশের। তিনি তার টেকনোলজি দিয়ে উদ্ভট ডুয়েট বিস্ট "বোরাক"কে এ্যাটমোস্ফিয়ারে নিয়ে" সাত আসমান" পাড়ি দেওয়াতে পারেন! তাদের কে নিয়ে বিশেষত দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংকটময় মুহূর্তে আর কি আশা করতে পারি? ঠেঙ্গিয়ে ছাত্র "মানুষ" করার প্রাইমারী লেভেলের সাথে কোন পার্থক্য পাইনা।

এ বিষয়ে সমীরণ যথার্থ বলেছেন। "নিজেদের সুপিরিয়র প্রমাণ করতে চাইলে, বুয়েট ছাত্র-ছাত্রীদের উচিত রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রেও তারা এক ধাপ এগিয়ে এটা প্রমাণ করা। একমাত্র রাজনীতিকে সঠিক ভাবে বুঝলেই কারও ভাবে বোঝা সম্ভব কোনটা দেশের আর জনগনের স্বার্থের পক্ষে..."।

আপাতত এটুকুই।
ধন্যবাদ মুন্সী।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪০

লেখক বলেছেন: আমি বলি কী, মনজু রাগ করে ক্ষোভ হলেও কী করবেন।
কিছু আশা করতে হলে, শুরু করতে হলেও তো এই বাংলাদেশ নিয়েই করতে হবে। আপনি আমি তো এর বাইরে যেতে পারব না, ছেড়েই বা যাব কোথায়। গালমন্দ যা করি, আবার একে ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন কল্পনাগুলোকে সাজাতে বসতে হবে। তাই না!
আপনার দুঃখের সাথে আমি একমত। আপনার কথা আমি বুঝতে পারেছি। তবু কর্পোরেশন ও পূজির রাজত্ব ও দাসত্ব আমাদের ভাঙ্গার চেষ্টা করতেই হবে।

আর সবজান্তা শমসেরকে বোধহয় আপনি একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেললেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংকটময় মুহূর্তেই দেখেন না, যখন টিপাইমুখ নিয়ে সবাই বিশেষজ্ঞ খুজে মরছে তখন সমাজের কোন কোনা থেকে তো শমশেরের নাম আসেনি! কেন? বাস্তব সমস্যার মাটিতে পা না থাকলে তাঁর সামাজিক গুরুত্ব বিচার এই পরিণতিই তো হওয়ার কথা।

ভদ্রলোক একটা সাদা কথা বুঝে না যে, প্রকৃতি বিজ্ঞানের জাষ্টিফিকেশন পেলে বা না পেলে ইসলামের কিছুই যায় আসে না। এই যুগে থিওলজি বা ধর্মতত্ত্ব হিসাবে গণ্য করে ইসলামের নতুন কী শমশের সাহেব দেখাবেন। কলি যুগে মানুষ গুরু - ক্ষমতায় কুলালে তার কিছু কেরামতি দেখাক।

আপনার মন্তব্য পেয়ে ভাল লেগেছে।


১৪. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৪৯
অচেনা সৈকত বলেছেন: বুয়েট নৈতিকতা কতটুকু শিক্ষা দেয়া হয় সেটা নিয়ে আর নাই বা বললাম। বেশী বললে ব্লগের বুয়েটিয়ানরা তেড়ে মারতে আসবেন। গত পন্চাশ বছরে জাতীয় কল্যাণে বুয়েটের অবদানটা আসলে কি কেউ বলতে পারবেন? গণমানুষ বিচ্ছিন্ন প্রকৌশল শিক্ষাই এ প্রতি্ষ্ঠানের মূলনীতি। যে অল্প কয়েকজন সাহসী সজ্জন শিক্ষক বুয়েটের ভাবমূর্তিকে কল্যানকর হিসেবে রুপ দেবার ব্রত নিয়েছেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম তাদের একজন। আমার সৌভাগ্য যে আমি তার একজন নগন্য ছাত্র।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০৮

লেখক বলেছেন: "গত পন্চাশ বছরে জাতীয় কল্যাণে বুয়েটের অবদানটা আসলে কি কেউ বলতে পারবেন? গণমানুষ বিচ্ছিন্ন প্রকৌশল শিক্ষাই এ প্রতি্ষ্ঠানের মূলনীতি"।

লাখ কথার এক কথা। অনেকের কাছে এই প্রশ্ন তুললেও এখানে বলিনি। বললে থুথু নিজের দিকে আসে। এছাড়া, আশার কথা পারতে গিয়ে একথা বলতে চাইনি।
পঞ্চাশ বছর অনেক বেশি। আমি প্রায়ই একটা প্রশ্ন করি, বাংলাদেশের সমাজকে কমপিউটারের সাথে পরিচিত করে তোলার পিছনে (আজকে চাইলেই আপনি পিএইচপি প্রোগামার পেতে পারেন) বুয়েটের অবদান কী? আমি অনেক বুয়েট শিক্ষককে এই প্রশ্ন করার পর তাদের বিব্রত হতে দেখেছি। এর থেকে বরং বাপ খেদানো মায়ে তাড়ান, সোকল্ড স্টাকচার শিক্ষা পদ্ধতির যে গোলাম হতে পারে নাই ঝড়ে গেছে, অথবা লাইব্রেরী সাইন্সে পাশ করা ছেলেটার অবদান অনেক বেশি। কারণ এরাই প্রচুর সময় ব্যয় করে, নিজে গায়ে গতরে অমানুষিক খেটে কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া সমাজের হয়ে প্রোগ্রামিংয়ে হাতে খড়ি ঘটিয়েছিল। এই হলো প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্হার বিপদের দিক।

গুরুর অযোগ্যতা, দূর্বলতা খামতির দিকগুলো শিষ্যকেও বয়ে বেড়াতে হয়। কাটে তবে বহু বছর কাঠখড় পোড়ানোর পর। গুরু নিন্দা পাপ। তাই এর অবদানের কথাগুলোই কেবল স্মরণ করে বিরত রইলাম। কেবল, গণমানুষ বিচ্ছিন্ন প্রকৌশল শিক্ষাই এ প্রতি্ষ্ঠানের মূলনীতি - এটাকে কঠোরভাবে নিন্দা না জানিয়ে পারলাম না।

আপনি অধ্যাপক নুরুল ইসলামের একজন ছাত্র জেনে ভাল লাগল। ।

১৫. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০০
মনজুরুল হক বলেছেন:

অচেনা সৈকত কে স্যালুট।
ঋজু সত্য বলবার সাহস সবার হয়না। আপনি পথিকৃত।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:০৯

লেখক বলেছেন: মনজু আপনাকে অনুসরণ করেছি।

১৬. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৩৬
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: এ বিষয়ে কিংবদন্তী প্রফেসর এমেরিটাস ড. ইকবাল মাহমুদকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:০৭

লেখক বলেছেন: হ্যা, ড. ইকবাল মাহমুদের কথা মনে ছিল, কিন্তু তুলিনি। আমার বিচারে তাঁর ভুমিকাটা গণস্বার্থ রক্ষার দিক থেকে কিছু নয়। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার (১৯৭৯ এর সংসদীয় সরকার) একজন প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন, পরে পদত্যাগ করে বুয়েটে ফিরে চলে আসেন।

তাঁর সম্পর্কটা দাতাগোষ্ঠী দেশীয় জগতের বাংলাদেশের পলিসি নির্মাতাদের সাথেও ঘনিষ্ঠ, সেই সূত্রে মন্ত্রী। ফলে কোন গণভূমিকা চরিত্রে তাকে দেখা যায় নি বা নামতে হয়নি। এটা অনেকটা ঢা. বি. আইবিএর প্রফেসর মোজাফ্ফর আহমেদের মত। ঠিক টাকা পয়সার কারণে নয়, উনি বিশ্বাস করেন দাতাদের উন্নয়নের মডেলে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটছে, ঘটবে। মোজাফ্ফর আহমেদের সাথে ড. ইকবাল মাহমুদের এখানে ভীষণ মিল আছে। যদিও মোজাফ্ফর আহমেদ আরও এককাঠি সরেস, এগিয়ে আছেন। ১৯৮২ এর ক্যু ও ৯/১১ এর আড়ালি ক্যু - এই দুইটারই সরকার বদলের সাথে তিনি জড়িত বা সহযোগী ভুমিকা রেখেছেন। অর্থাৎ তিনি শুধু দাতাগোষ্ঠী বা সুনির্দিষ্ট করে বিশ্বব্যাংকের পলিসির সফল বাস্তবায়কই নন, সরকার বদল ঘটাবার কারবারী হতেও দ্বিধা নাই, হাত কাঁপে না। ড. ইকবাল মাহমুদের ক্যালিবার এতদূর নয়।

শেষে ডঃ তামিমের সাথে উপরের দুজনের যদি তুলনা করি তবে বলতে হয়, এক অর্থে তামিম এদের দুজনের চেয়ে নিকৃষ্ট। কারণ, তামিমের সম্পর্ক সরাসরি তেল গ্যাস বহুজাতিক কোম্পানীরও।

১৭. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:০০
জুমানজি১১ বলেছেন: আমার পূর্ব মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আপনার মন্তব্যের প্রতিউত্তরে বলছি, আমি কিন্তু আপনার concept of Politics এর বিরোধিতা করছিনা বা আপনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তাও বুঝতে পারছি। আমি বলতে চাচ্ছি যে ছাত্র রাজনীতি এর সুষ্ঠ চর্চা শুরু করার পূর্ব শর্ত নেতাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন, যেটাকে আমি বলেছি সুদূর পরাহত। কিন্তু যাই হোক আশা করতে দোষ কিসের, যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।

এখানে অনেকের মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে আমি ইতিহাস এর একটা গুরুত্বপূর্ন অংশ সম্পর্কে অজ্ঞ। তবে আমি ড: তামীম সম্পর্কে particularly জানতে আগ্রহী । উনার কর্মকান্ড। আপনার কখন সময় হলে kindly আমাকে একটু idea দেবেন email এ.

ধন্যবাদ।
০৩ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: হ্যা, ঠিক তাই যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।

তবে, নেতাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন হবে - এ'বিশ্বাস আমার কম। আসলে ফ্রেশ ব্লাড লাগবে। দেখা যাক, যে সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি তা একাজে ইতিবাচক কোন ভুমিকা রাখতে পারে কী না।

ড: তামীম সম্পর্কে এক কথায় বলব, যারা বুয়েটকে পেট্রোলিয়াম ও মিনারেল রিসোর্স বিভাগ খুলতে দূরদর্শী হিসাব করে টাকা দিয়েছিল - এখন চলছে তাদের বিনিয়োগ এবার সার্থক করে তোলার প্রচেষ্টা। চয়েস হিসাবে তামিমও সঠিক ছিল এটাই প্রমাণ হচ্ছে।

তবে সব কিছুর মত পুজিরও একটা ইনার লজিক ডিনামিজম আছে। এটাই শেষ বিচারে পূজির সব হিসাব উল্টে দেয়। কিন্তু কথা আছে, নিজেদের আক্কেল জ্ঞানবুদ্ধি মুরোদ থাকলে তবেই এথেকে সুবিধা নেয়া সম্ভব।

সত্তরের দশকে হুজুগ উঠেছিল ঢা. বি. তে ফার্মেসী, বায়োকেমিষ্ট্র পড়ার। কারণ, দেশের ওষুধ ব্যবসার অপার সম্ভাবনার দিকে ওষুধের বহুজাতিক কোম্পানীর নজর পড়েছিল। ওদের দরকার পড়েছিল বাজারে দেশের স্হানীয় সস্তা জনশক্তির প্রচুর পাওয়া যায় এ অবস্হা তৈরি করা। স্বাধীনের পরেও তাই ওষুধের রমরমা ব্যবসা, মুনাফা পাচার চলতে পেরেছিল। কিন্তু ইনার লজিক ও ডিনামিক্স সব হিসাব উল্টে যায়। একদিকে কারখানা চালাবার মত দক্ষ স্হানীয় জনশক্তি বাজারে হাজির অন্যদিকে একটু সচেতন রাজনৈতিক সমর্থন - পুরা হিসাব উল্টে দিয়েছিল। এক ওষুধ নীতির কারণে ওষুধের বহুজাতিক কোম্পানীর আজ বিতারিত হয়েছে অথবা মারজিনালাইজড। হাই টেকনোলজির পণ্য ওষুধে বাংলাদেশী কোম্পানী দেশীয় বাজার দখল করেছে শুধু তাই নয়। প্রায় একশের উপরে দেশী ওষুধ পণ্য আজ রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের বাজারে সক্ষম যোগ্যতায় প্রবেশ করতে পেরেছে। মানের দিক থেকেও মর্যাদাপূর্ণ দেশী ওষুধ পণ্য আজ ভারতীয়র চেয়ে উন্নত। অথচ আজকের ভারত তো আমাদের কলোনিয়াল কাজিন, অবিভক্ত ভারতের মাখন অংশ আর, আমরা তো অনেক পরে শুরু করা; নামা, নিচু অংশের পরিত্যক্ত দেশের লোক।
আমি কী বলতে চাইছি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন। আমাদের মুরোদ যোগাড় করতে হবে। তবেই গ্লোবাল পুজির এই ফেনোমেননের ইনার লজিক ও ডিনামিক্স সুবিধাকে ওরই বিরুদ্ধে বের করে কাজে লাগাতে পারব।

সময় করে আপনার মেল ঠিকানায় যোগাযোগ করব। আপনিও করতে পারেন। উপরে আমার ঠিকানা আছে। ভাল থাকবেন।

১৮. ০২ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৮:২২
জাতেমাতাল বলেছেন: অনেকদিন পরে পি মুন্সীকে দেখে ভালো লাগলো... আশা করি সামনের দিনগুলোতে আপনার আরো সক্রিয় অংশগ্রহন দেখতে পাবো।

বিগত দুই দশক ধরে সামগ্রিক ভাবে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে যে অরাজনীতিকরন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, আমার ধারনা তার সুদুরপ্রসারী ফলাফল হিসাবে আজকের এই পরিস্থিতি। যেটা শুরু হয়েছে ৯০ এ জান্তার ক্ষমতা থেকে বিদায়ের পরবর্তী বাস্তব পরিস্থিতি থেকে। এতদিন যা ছিল মিলিটারি জান্তার বিরুদ্ধে লড়ে গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, একটা নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসা মাত্রই দেশটা যেন রাতারাতি হয়ে উঠলো সব পেয়েছির দেশ হিসাবে।

এরশাদের পরে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোর আমলে ছাত্র রাজনীতি সেই মেধা দেখাতে পারে নাই, যাতে করে তারা সমাজের র‌্যাডিকেল অংশের প্রতিনিধি বলে নিজেদের দাবী করতে পারে। আমরা খেয়াল করলে দেখবো এ সময় দেশ কাঁপিয়ে দেওয়া বেশ কয়েকটা ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে (ডঃ হুমায়ুন আজাদের উপর সাম্প্রদায়ীক গোষ্ঠির নারকীয় হামলার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন বা জাহাঙ্গীর নগরে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন) ছাত্র সমাজ ফুঁসে উঠেছিল, কিন্ত সকল ক্ষেত্রেই এই আন্দোলনগুলোর নেতৃত্বে ছিল সাধারন ছাত্র পরিষদ বা এ জাতীয় পরিস্থিতির তাগিদে গড়ে ওঠা ছাত্রদের মোর্চা। প্রথম সারির কোন ছাত্র সংগঠন বা তাদের জোট, কারও পক্ষেই সম্ভব হয় নাই ছাত্রদের এই র‌্যাডিকেল অবস্থানকে ধারন করার, তাদের নেতৃত্ব দেবার।

ফলে স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলন ছাত্রদের মাঝে আমরা মাঝে মধ্যেই হয়তো দেখবো, কিন্ত তাতে যদি রাজনৈতিক সচেতনতা আরোপ না করা যায়, তাদের এই আন্দোলন দেশের সমস্যা নিরসনে কোন নির্ণায়ক ভুমিকা রাখবে না।
০৩ রা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন। তাই ই।
তবে, এটাকে পুরানো অভিজ্ঞতায় ছাত্র রাজনীতির সীমায় বাধলে আজকের দিনে পার পাব না। বিশেষত দলবাজি যেভাবে রাজনৈতিক হওয়ার মানে হটিয়ে জায়গা দখল করে বসে গেছে। এজন্য সতর্কতার সাথে একাডেমিক ও সিরিয়াস ভাব বজায় যেন বজায় থাকে তা শুরু থেকেই নিশ্চিত করা ভাল। এমনকি ছাত্র সংগঠন বা দলের ব্যানার পরিহার করাই সঠিক। কোনভাবেই দলবাজির খপ্পরে পরা যাবে না। সতর্ক থাকতেই হবে। নইলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভবনা আছে।

১৯. ০৩ রা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:২৬
পারভেজ বলেছেন: আপনার জবাবটা অনেক বক্তব্যকে স্বচ্ছ করে তুললো; ধন্যবাদ।
না, বুয়েটে এই দেশনীতি বা দেশের স্বার্থ (রাজনীতি শব্দটা এখনো কেন যেন ব্যবহার করতে পারলাম না।) সংশ্লিষ্ঠ কিছু শেখানো হয় না। এই ধরণের চর্চা নিয়ে শিক্ষকদের কখনো কোন সেমিনারে আগ্রহী দেখিনি। তবে, আগেও যেটা বলেছি; ধামা ধরা ছাত্র রাজনীতি সেখানে আছে, যদিও খুব বেশী ছাত্র এতে ইনভলব তা বলা যাবে না। এই ধারার বাইরে আসাটা আপাত দৃষ্টিতে ছাত্রদের পক্ষে সম্ভব না, শিক্ষকরা পারেন; কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:১৪

লেখক বলেছেন: কী ভাবে আগানো যেতে পারে এআলোচনায় তার কিছু তো বুঝা গেল।

আর, ঘন্টা কেউ বেঁধে দিবে না, নিজেদেরই বাঁধতে হবে।

দ্বিতিয়বার জবাব দেবার সুযোগ নিয়ে বক্তব্যকে স্বচ্ছ করতে পারেছি জেনে ভাল লাগছে।

২০. ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২৩
সিউল রায়হান বলেছেন: অনেক কথা বলার আছে........ কাল মন্তব্য করে যাব...... আপাতত প্লাস....
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১২

লেখক বলেছেন: ভাল।
প্লাস গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়, মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম।

২১. ০৫ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৫৯
সিউল রায়হান বলেছেন: কমেন্টে যে পয়েন্টগুলো ওগুলো নতুন করে না বলি....... আমি শিক্ষকদের এই দৈন্য দশার কারণ বিশ্লেষণ করি:

বুয়েটের অথরিটি লেভেলে যেই শিক্ষকরা রয়েছেন তারা মোটেও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নন বলেই মনে করি.......... যদি হতেন তাহলে দেখতেন বুয়েটে "বুয়েট লাইসেন্স" নামে একটা কিছু প্রচলিত থাকত যার অধীনে সকল ডিপার্টমেন্টের সকলা প্রোজেক্ট জমা হত এবং তা থেকে সারা দেশ উপকৃত হত..... ( অনেকটা এমআইটি লাইসেন্সের আদলে).........

তাদের দূরদৃষ্টি নেই এর সাথে এই পোস্টের লিংক করব এভাবে যে:
এর ফলে বুয়েটে থেকে দেশপ্রেমকে বাস্তবে রূপ দেয়ার মত ইচ্ছা আমাদের তৈরী হচ্ছে না....... আমি সিএসই তে পড়ি, আমার ডিপার্টমেন্ট দিয়েই বলি: ধরেন , আজকে বুয়েট অথরিটি চাইল সিএসই ডিপার্টমেন্টের সবাই মিলে একটা সুপার কম্পিউটার তৈরী করুক যা বাকি সব ডিপার্টমেন্ট তাদের কাজে ব্যবহার করবে...... আমরা কিন্তু মেকানিক্যাল / সিভিল ডিপার্টমেন্টের মত থেমে যাব না কারণ একটা রোবোট বানাতে অথবা টুইন টাওয়ারের মত স্থাপনা তৈরীর জন্যে প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিস এদেশে পাওয়া যায় না জন্যে একটা পর্যায়ে যেয়ে মেকা কিংবা সিভিলের ওরা জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে আটকে যাবেন বড় কিছু করা থেকে......


আমাদের ডিপার্টমেন্টে কিন্তু এই সমস্যাটা নাই..... তবুও বুয়েট থেকে সহসাই কোন সুপার কম্পিউটার বের হবে না কারণ অথরিটি জানেও না এটা সম্ভব যে বুয়েটও সুপার কম্পিউটার তৈরীর ক্ষমতা রাখে.....


এর খারাপ ইমপ্যাক্টটা পড়ছে স্টুডেন্টদের উপর...... আমাদের কাছে চাকুরীটা যতটা প্রাধান্য পাচ্ছে, দেশের জন্যেও এগিয়ে আসাটা অতটা পাচ্ছে না...... ফলে শিক্ষকরা অন্যত্র শিক্ষকতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, আমরা স্টুডেন্টরা পাস করাকে মূল উদ্দেশ্য করছি........
ফাঁকতালে শিক্ষক, ছাত্র সবাই মিলে একসাথে কাজ করে কিভাবে নিজেদের জ্ঞানকে ডিপার্টমেন্টের বাইরে , দেশের জন্যে ছড়িয়ে দিতে পারি সেটা নিয়ে কোন মুভমেন্ট হচ্ছে না.......(সুপার কম্পিউটার একটি উদাহরণ হতে পারত).... কোন ডিবেট হচ্ছে না বিভিন্ন সিদ্ধান্তের উপর..... ফলশ্রুতিতে সকল দক্ষতা শুধু এক্সারসাইজের প্রবলেম সলভেই চলে যাচ্ছে.......


কমেন্ট বড় হয়ে গেল, কিছুটা অপ্রাসঙ্কিকও বটে....... আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় থাকলাম....... বাকি কথা আপনার কমেন্টের পরে বলছি........
০৬ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনার কারণ বিশ্লেষণের সাথে আমি একমত। যদিও উদাহরণটা আরও শক্ত হতে পারত। তবু যা বলতে চেয়েছেন আমি বুঝেছি। আপনি বুয়েটের অথরিটি লেভেলে যে দূরদৃষ্টির সমস্যা সেদিকে আঙুল তুলেছেন - এটাই মোদ্দা কথা।

রাজনীতি শব্দটার বহুল অপব্যবহারের কারণে আমার কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। উপরে বহু কথা খরচ করেছি শব্দটাকে নিজের আসল মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। এই আসল অর্থে ধরে আবার কিছু কথা বলি।
আমরা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা নিয়ে প্রায়ই কথা বলি। অথচ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা মানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটা রাজনীতি বা রাজনৈতিক অবস্হান দাঁড় করানোর কাজ। কাজটা রাজনৈতিক। তবে অবশ্যই দলবাজি বা দলকরা নয়।
ধরা যাক আগামিতে আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম, মুরোদ আছে, রাজনৈতিক বড় পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে এমন কোন সরকার কায়েম হয়েছে। তো এখন,সত্যসত্যই জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সে করতে পারবে এটা নিশ্চিত হয়ে যাবে না। কারণ কী পদক্ষেপ নিলে সেটা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পক্ষে যাবে সেই হোম ওয়ার্ক তার হাতে নাই। ক্ষমতায় যাবার পর সে এই হোম ওয়ার্কে হাত দিবে, বুয়েটকে ফরমাইশ দিবে এরপর সুফল জনগণের সামনে হাজির করবে ততদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ তার না পাবার সম্ভাবনাই বেশি।

আসলে উপরের হাইপথিটিক্যাল কথাটা আমি পেড়েছি উল্টা করে। হোম ওয়ার্কের কাজটা শুরু ও হয়ে থাকতে হয় আগে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতিটা খাড়া হয়ে যায় এতে। সমাজে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার মৌলিক রাজনৈতিক দিকগুলো আমাদের হোম ওর্য়াকের মধ্য দিয়ে যদি স্বচ্ছ করে তুলতে পারি তবে এর মানে হবে আমদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সমাধানগুলো কী তা ডিটেইল ও স্পষ্ট করে আমরা জেনে গেছি। এটা জেনে গেলে তা বসে থাকবে না। এর স্বপক্ষে জনগণও সংগঠিত হতে থাকবে; এটাই সেই পাল্টা রাজনৈতিক ক্ষমতা। ক্ষমতা দখল করে এর বাস্তবায়নে যাওয়াটা তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার মৌলিক রাজনৈতিক দিকগুলো স্বচ্ছ করার যে হোম ওয়ার্কের কথা বললাম এটা তত্বীয় রাজনীতিও নয় আবার স্রেফ টেকনিক্যালও নয়; বলা যেতে পারে টেকনো-পলিটিক্যাল। এই কাজের একটা পর্যায়ে স্পষ্ট হবে, বুয়েটের অথরিটি লেভেলে যে দূরদৃষ্টির সমস্যার কথা আপনি তুলেছেন - সেই দূরদৃষ্টিটা কোথা থাকে আসতে পারে। রাজনৈতিক গাইডেন্সটা কোথা থেকে আসবে। সমাজকে দেখার রাজনৈতিক চোখটা তৈরি হলে রাজনীতির সাথে টেকনোলজির সম্পর্কটা ধরতে পারবে।
এখন বাস্তবে হয়ে আছে এর ঠিক উল্টা। রাজনীতি বলতে বুয়েট শিক্ষককুলের নিশ্চিত ধারণা রাজনীতি মানে দলবাজি। আবার ওদিকে, সমাজে সুবিধাভোগী সুবিধাজনক জায়গায় শিক্ষককুল ও বুয়েটের প্রডাক্টের অবস্হান বলে ঢাকা বি. এর মত রাজনীতি বলতে দলবাজি বুঝেই হাত কালো করে তার আর সামাজিক সুবিধাজনক জায়গায় যারার দরকার পরছে না। এজন্য তাঁর ছদ্ম রাজনীতি-বিমুখতার তত্ত্ব; দেশের নীতিনির্ধারণী(তা জাতীয় স্বার্থ বিরোধী হলেও) কাজটা রাজনীতিকের, আমরা ইন্জিনিয়াররা কেবল তা অনুসরণ ও বাস্তবায়নের অংশীদার। অথচ সে করছে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী বিদেশিদের তাবেদারি। এই তত্ত্বের ভিতরেই লুকিয়ে আছে কেন তামিমরাই জন্ম নিবে। এরা প্রতি বছর, ঐ বছর পাওয়া যায় সমাজের এমন সবচেয়ে ভাল মেধাগুলো, প্রথম পাঁচশ জনকে নিয়ে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ পথে পরিচালিত করছে। এদের কাছে উচ্চ শিক্ষায় দেশের স্বার্থে দক্ষ জনশক্তির পরিকল্পনা আশা করা নিশ্চয়ই বোকামী। কারণ সামাজিক রাজনৈতিক চোখে টেকনোলজিকে দেখার বিদ্যা রপ্ত করার আগেই ঐ তত্ত্ব তরুণদের সমাজ বিচ্ছিন্ন করছে এবং সহজেই সামাজিক সুবিধাজনক জায়গায় যাবার লোভ তাদের পেয়ে বসছে। দুনিয়া কী করে চলছে, আমাদের উপর সিদ্ধান্ত ও স্বার্থ চেপে বসছে এরা তা বেখবর। ।

বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানী তার বিনিয়োগকৃত পূজি সবচেয়ে কম সময়ে প্রফিট, ম্যাক্সিমাইজড প্রফিটসহ তা বিনিয়োগ তুলে নিয়ে পালাতে চাইবে। এটাই পূজির খাসিলত। এজন্য সে বারবার উৎপাদন রপ্তানী কথা বলবে, এলাকার বাসিন্দার কী হবে, প্রকৃতি পরিবেশের ক্ষতি কোন পথে গেলে কম হবে, ফসলী জমির ক্ষতি নিয়ে কী করা যায় এগুলো সব বিবেচনা বাদ দিতে বলবে।। এগুলোতে তার স্বার্থ নাই কেবল তার কয়লা তোলার খরচ কম কী পথে হবে, কম বিনিয়োগে বেশি প্রফিট কীসে হবে এটাই তার একমাত্র বিবেচ্য। এই পরিস্হিতিতে, আমি টেকনোলজিষ্ট, প্রকৌশলী - আমার রাজনীতির বিষয় বুঝার দায়িত্ব নয় - একথা বলার মানে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ভাড়া খাটা তাবেদার গোলাম। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানী এই স্বার্থ নিজের সামাজিক রাজনৈতিক চোখ থাকলেই একমাত্র টের পাওয়া সম্ভব।
আমরা এটা কবে বুঝব!

সি্উল রায়হান আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। কষ্ট করে চিন্তা করে লিখেছেন। আপনার বাকি কথা শুনার অপেক্ষায়।

২২. ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:১৯
আমআঁটিরভেঁপু বলেছেন:
আজ প্রথম কোথাও মন্তব্য করার সুযোগ হল। আপনার লেখা আমার বেশ ভাল লাগে। লেখা বিষয়ে পরে মন্তব্যিয়ে যাব।
০৬ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭

লেখক বলেছেন: ভালো।
তবে মন্তব্য পরে কেন?

২৩. ১৬ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:০৭
কে এম তানভীর আহম্মেদ বলেছেন: ধন্যবাদ, এধরণের পোষ্টের জন্য। লেখাটি আগে চোখে পড়েনি।

অফটপিকঃ আপনি কি ChE গ্রাজুয়েট?
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৪৩

লেখক বলেছেন: না ভাই আমি ChE গ্রাজুয়েট নই।

আপনি কোথায় খবর পেয়ে এখন এলেন?
যাই হোক, আমি খুশি হয়েছি, আপনি পড়েছেন।

২৪. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩১
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: আপনি তো অনেক কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে লেখেন!
বুয়েট ছিল বলে লেখাটা পড়লাম ।
+++
আমার অত বিশ্লেষণ ধর্মী কমেন্ট করার ক্ষমতা নাই বলে করা হল না :(
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৯

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ বিষয় কঠিন তবে আমার ব্রত কঠিন বিষয় সহজে লেখার চেষ্টা করা। আপনিও আমাকে এ'বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন; সরল নির্দোষ মনের প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে। আমি খুশি মনে সেটাকে সহজ করে উত্তর দেবার সুযোগ হিসাবে নিব। অনেকে দ্বিধান্বিত হয়। কিন্তু আসলে আমার লেখায় কোথাও অস্পষ্ট থাকলে, বিস্তারিত করা না থাকলে তা স্পষ্ট, বিস্তারিত করার সুযোগ এভাবেই হতে পারে। আমার স্বার্থে এটা আপনাকে বলছি।

তবে ব্যক্তি হিসাবে আমি এত কঠিন নই; বলেই আপনার সহজ গল্প পড়ি। মজা পাই।

২৫. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৩
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: আপনার মত গুণী মানুষ আমার লেখা পড়েন ভেবে তো গর্বে বুক ফুলে যাচ্ছে ।

আপনার করা কমেণ্ট গুলো দেখে আমি মুগ্ধ (পড়ি নি,এত টা সময় ও নেই :( ) . আপনি অন্যদের কথা চিন্তা করেই যে উত্তর দেন সে বিষয়ে আমার সন্দেহ নেই ।

আমার মাথায় প্রশ্ন এলে অবশ্য ই করব ।

ধন্যবাদ ভাইয়া,
ভাল থাকুন

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৯৩০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই