আমার প্রিয় পোস্ট

বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (১)

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৭

শেয়ারঃ
0 14 0

বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ নিয়ে লেখার ইচ্ছা অনেক দিনের। কিন্তু প্রসঙ্গের ব্যাপ্তি আর ব্লগের সীমিত পরিসর - এই দুই ভাবনায় সবসময় পিছু হটেছি। দেখা যাক এবার সফল হতে পারি কী না! এই লেখা স্বভাবতই পর্বে ভাগ করে আগাতে হবে। সেই সাথে পাঠকের মন্তব্যের সঙ্গে একটা ইন্টারএকটিভ জবাবের সুযোগে আরও অনেক কথা বলার সুযোগ নিব। এখানে প্রথম পর্বটা প্রসঙ্গের পরিচয়মূলক, যাতে পাঠককে প্রসঙ্গে টেনে আনতে পারি, সে উদ্দেশ্যে। দ্বিতীয় পর্বটা হবে, ১৯৪৪ সালে কী পটভূমিতে প্রতিষ্ঠান দুটো জন্ম নিচ্ছে তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব। জন্ম উদ্দ্যেশের ধারণা পাওয়া যাবে তাতে। এর ফাঁকে কোথাও বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ প্রতিষ্ঠান দুটোর আন্তর্সম্পর্ক বলে নিব। তৃতীয় পর্বে থাকবে আইএমএফ গঠন ও বিস্তার প্রসঙ্গ। চতুর্থ পর্বে আসবে বিশ্বব্যাঙ্ক, তার ক্রম পরিবর্তন .... এভাবে। কমপক্ষে সপ্তাহে যেন একএক নতুন পর্ব হাজির করতে পারি সে পরিকল্পনা আছে, চেষ্টা করব।

প্রথম পর্ব:
প্রসঙ্গটা বিশাল। বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ নিয়ে সব মিডিয়ায় যেমন ব্লগেও প্রায়ই একে বিষয় হতে দেখা যায়। মূলত বিভিন্ন মিডিয়ায় যারা অর্থনৈতিক রিপোর্টের কাজের সঙ্গে জড়িত আবার, এই ব্লগেরও সদস্য তাদেরকেই সময়ে সময়ে এই জটিল প্রসঙ্গে কিছু লিখতে দেখি। প্রসঙ্গের ব্যাপ্তির কারণে সবসময় ওগুলো কঠিন ও স্বভাবতই ভাসাভাসাভাবে কিছু লিখতে আমরা দেখি। ব্লগসহ অন্যান্য মিডিয়ায় যখনই ওগুলো পড়েছি - অপ্রতুল তথ্য, অপ্রতুল ধারণা-জনিত সমস্যা বিশেষত গ্লোবাল পরিসরে প্রতিষ্ঠান দুটোর উপস্হিতি, তৎপরতা ও এর তাৎপর্য নিয়ে নূন্যতম প্রাথমিক ধারণার অভাব-জনিত সমস্যা টের পেয়ে খুবই অস্বস্তি বোধ করেছি। বারবারই তখন মনে হয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ প্রসঙ্গটা যতই বিশাল, জটিল ও নিরস হোক একে লেখার প্রসঙ্গ করা উচিত।
কিন্তু ব্লগ মিডিয়ায় কত বড় আর লেখা যায়। এছাড়া পাঠক। সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় কিন্তু স্পষ্ট করে জটিল বিষয়টা তুলে ধরতে হবে। সেদিকটাও আছে।
এছাড়াও সমস্যা অনেক। এর মধ্যে আরও বড় একটা হলো, কোথায় দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠান দুটোকে দেখব ও লিখা শুরু করব। মনে হয়েছে, যেখানেই দাঁড়াই, দেখি লিখি, একটা সামগ্রিক চিত্র অবশ্যই দরকার। পাঠক যেন সেটা ভিজুয়ালাইজ করতে পারে - তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এর কতদূর পূরণ করতে পারব জানি না। তবে আপনাদের আগ্রহ সহযোগিতা অংশগ্রহণ এ পথে আমার সহায় হবে - এটা আমি নিশ্চিত।

আমাদের দুনিয়া আজ কেন, কী আকার নিচ্ছে ও আগামিতে নিবে তার জন্য ভাবনা চিন্তা, নীতিনির্ধারণ নির্ধারকভাবে করার দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান কর্তা নিশ্চয় অনেক আছে, আমরা অনুমান করতে পারি। এরা আবার নিজেদের মধ্যে ষাট-করে মানে যাকে বলে কনসেনসাস (consensus) ডেভলপ করে কাজ করে। বাইরে থেকে এটা ভাল দেখা যায় বা যায় না। অথবা এর কোন এক ঝলককে দেখে এই ঘটনার ব্যাপকতা ঠাহর আন্দাজ করাও মুশ্কিল। কিন্তু যেসব দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুনিয়াব্যাপী এর প্রয়োগ (implementation) হয় এরকম প্রথম তিনটা প্রতিষ্ঠানের নাম করতে বললে এর উত্তর হবে আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক, ও জাতিসংঘ। (ইদানীং WTO নামে চতুর্থটা তোলপাড় করে আসছিল। কিন্তু বিশ্বমন্দা এর গতি স্তব্দ করে রেখেছে আপাতত।)
পাঠক নাম তিনটা শুনে বহু দূরের কোন ঘটনা বলে ভাববেন না। কারণ, মনে রাখতে হবে দৃশ্যমান গোলকজুড়া এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় অনেকের মত আমাদের মানে, বাংলাদেশের ম্যাক্রোনমিকস (macroeconomics)। এই ভারী শব্দটা আমার না; বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ এর ফরমাল কেতাবি শব্দ। ধারণাটা হলো এরকম: গোলকজুড়া একসুতায়-গাঁথা অর্থনীতির (Global Economics) বাংলাদেশ অংশ হলো এর ম্যাক্রোনমিকস। ধারণাটাতে মনে হতে পারে একে আমাদের ঘরের (Domestic Economy) বা স্হানীয় (local) অর্থনীতি জাতীয় কিছু একটা বললেই তো হত। হয়ত বুঝতে কিছু সুবিধাও হত তাতে। কিন্তু এর অসুবিধা হল, ম্যাক্রোনমিকসের কোন কিছুই ঘরের (Domestic) বা স্হানীয় (local) ভাবে নির্ধারিত নয়, হয় না; আমরা ঠিক করি নাই। বড়জোড় কারও নির্ধারণে উপাদান হয়ে আছি, নির্ধারক নই। কাজেই নির্ধারণ ক্ষমতার ধারণা বাদে, এই বিশেষণ লাগিয়ে ঘরের (Domestic) বা স্হানীয় (local) অর্থনীতি বলার কোন মানে হয় না, এখানেই Domestic বা local শব্দদুটো অকেজো; কোন কাজে লাগে না বরং ধারণা বিভ্রাট ঘটাতে পারে। তাই Global Economics এর বাংলাদেশ অংশ বা বাংলাদেশের ম্যাক্রোনমিকস -এভাবে বুঝা ছাড়া পথ দেখি না। আপাতত এটা এখানেই থাক, এর সহজ একটা বাংলা নিশ্চয় হতে পারে। তবে এখানে এখন ধারণাটাই গুরুত্ত্বপূর্ণ। একইভাবে মনে হতে পারে, 'জাতীয় অর্থনীতি' ধরণের কিছু একটা ধারণা দিয়ে কাজ চলে কী না? না চলে না। 'জাতীয় অর্থনীতি' কথাটাও অর্থ হারিয়েছে; দাঁত পড়ে গেছে, বৃদ্ধ। জাতীয়ভাবে অর্থনীতির কোন কিছুই আর নির্ধারিত হয় না। করি না বা করতে পারি না। তবে হিসাব-কিতাব রাখার অর্থে, দরকারে জাতীয় আয়, ব্যয়, বাজেট, ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট - এসবের পরিসরে 'জাতীয় অর্থনীতি' কথাটার একটা মানে এখনও হয়।

প্রসঙ্গের অনুসঙ্গ হিসাবে একটা কথা এসে উঁকি দিচ্ছে; জাতীয় (National), Domestic বা local অর্থনীতি - এসব শব্দগুলো যদি অর্থহীন হয়ে গিয়ে থাকে তবে জাতি-রাষ্ট্র (Nation-State) বা সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্র (Sovereign Nation-State) ধারণার হাল কী? রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ত্ব - বলে কোন ধারণার অবশিষ্ট আছে কী? প্রসঙ্গচ্যুতির ভয়ে এখন উত্তরে যাব না, পরে আসব। কেবল টীকামূলক একটা কথা বলে প্রসঙ্গে ফিরব। কথাটা হল, একটা সাবধানবাণী; উপরে আলোচনায় আমি ইকোনমিকস নিয়ে কথা বলছি ভাবলে ভুল হবে। তবে অর্থনীতির দিক থেকে রাজনৈতিক প্রসঙ্গে বলা কথা - এভাবে পড়লে আমার লেখার প্রতি সুবিচার হবে বলে আমার ধারণা।
যে প্রসঙ্গে ছিলাম; পাঠককে আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক, ও জাতিসংঘ নাম তিনটা শুনে বহু দূরের কোন ঘটনা বলে ভাবতে না করে ছিলাম; এরপর "বাংলাদেশের ম্যাক্রোনমিকস" ধারণা পর্যন্ত এসেছিলাম। তবু এখনও "ম্যাক্রোনমিকস জাতীয় পর্যায়ের ঘটনা" - ব্যক্তির নয় বলে পাঠকের এখনও দূরেরই মনে হতে পারে। কিন্তু কথা সত্যি নয়। আসলে এই প্রতিষ্ঠান তিনটার ভুমিকা, প্রভাব (বিশেষত বিশ্বব্যাঙ্কেরটা স্পষ্ট দৃশ্যমান) আরও নীচে - আমাদের একদম রুট লেবেল পর্যন্ত। যতদূর ভাবা যায় এমন প্রত্যন্ত মফস্বলে। যেমন দেখুন - কী ধরণের ও পরিমাণে ঋণ বা আদৌও ঋণ বলে কোন তৎপরতা সেখানে থাকবে কী না; কী ধরণের হাসপাতাল না স্বাস্হ্যসেবা সেখানে পাওয়া যাবে, সবুজ ছাতা মার্কা 'ক্লিনিক' হবে না স্বাস্হ্যের নামে কেবল লাইগেশনের একটা ছাপড়া হবে, সেবা পাই না পাই ওখানে কিছু পয়সা দেয়া লাগবে না উল্টা লাইগেশনের পয়সা দিবে; বয়স্কভাতা, মুক্তিযোদ্ধা-ভাতা বলে যতকিঞ্চিত (মাসে এক-দেড়শ টাকা) কোন দানের বিলিব্যবস্হা থাকবে না কাজের বিনিময়ে খাদ্য, গম না নগদ টাকাপয়সা বিলাবে - এইসব আমাদের মফস্বলের চিত্র, সামাজিক-অর্থনৈতিক তৎপরতা। অথচ জনজীবনের এসব কিছুই আসলে বিশ্বব্যাঙ্কের প্রজেক্ট অথবা প্রোগ্রাম, প্রত্যন্ত মফস্বল পর্যন্ত বিস্তৃত তৎপরতা। আবার অন্যদিকে, শহরেও প্রতিষ্ঠান তিনটির ভুমিকা ও প্রভাব সর্বত্র। যেমন অকস্মাৎ রপ্তানীমূখী নারীমেশিন জাগবে না পাটকল থাকবে বা বন্ধ হয়ে যাবে, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ইউনিট পুরনো ২১ জেলার মহুকুমা হিসাবে বহাল থাকবে না ৬৪ জেলা ও তস্য উপজেলা হবে, আবার রাষ্ট্রের এই প্রশাসনিক সংস্কার নির্বাচিত সরকার না সামরিক সরকার কায়েম করে বাস্তবায়ন করা হবে, পুরনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থাকবে না পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে ইআরডি বিভাগ খুলে প্রতিবছর প্যারিস ক্লাবে যাব অথবা দেশেই এপ্রিল ডোনার মিটিং এর আয়োজন করবে, কী ধরণের ব্যবসা করা যাবে - অকস্মাৎ মোজাফফর আহমেদ আইবিএ খুলে বসবেন না ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ম্যানেজার বা এমবিএ বের হয়ে ওগুলো সামলাবে, সামরিক বাহিনী শান্তি মিশনে গিয়ে সার্ভিস দিয়ে টাকা আয় করবে না, দেশেই ক্ষমতা দখল করে সার্ভিসও দিবে টাকাও কামাবে; - এভাবে সর্বত্র। এমন কী যমুনা ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে তা নিয়ে কী করা তা জানতেও বিশ্বব্যাঙ্কের নজর আছে। বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কোটি খানেক টাকার বন্দোবস্তের একটা প্রজেক্ট আছে সেখানে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে Global Economics বা এর বাংলাদেশ অংশ বাংলাদেশের ম্যাক্রোনমিকস বলে যেটাকে অনেক দূরের মনে হচ্ছিল সেটা আসলে দূরে তো নয়ই বরং বলা যায় আমাদের সবার মধ্যে বা আমাদের জীবনযাপন ওর মধ্যে, আমাদের লাইফ-ষ্টাইলের মধ্যে বিশ্বব্যাঙ্ক জীবিত - প্রত্যন্ত মফস্বল থেকে শুরু করে রাজধানী শহর নির্বিশেষে সবখানে বিস্তৃত। উপরে সংক্ষেপে একএক লাইনে যা উদাহরণে বলেছি, সবখানেই তা এক একটা "উন্নয়ন" প্রজেক্ট হয়ে বিরাজ করছে। এমন কী পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র চালানোটাও একটা প্রজেক্ট। বিচার বিভাগের তথাকথিত সেপারেশনও একটা প্রজেক্ট। সর্বশেষ ১/১১ এর জরুরী সরকার নাজিল করাও ছিল ওদের কেতাব-খাতাপত্রে একটা "উন্নয়ন" প্রজেক্ট। এটা বিশ্বব্যাঙ্কের Corrupt Mitigation Strategies এর অধীনে একটা প্রজেক্ট। তবে এর বাস্তবায়ন ADB এর Governance and Anticorruption Policy হিসাবে - বাংলাদেশে ADB এর Good Governance প্রোগ্রাম। হাসান মসউদের দূর্নীতি দমন অভিযানও (ACC) ছিল এর প্রজেক্টের একটা অংশ। বিশ্বব্যাঙ্কের যেকোন প্রজেক্টের অনুসঙ্গ যেমন ফেজ-ওয়াইজ বা একটা বাৎসরিক রিপোর্ট দিতে হয় হাসান মসউদকেও ঠিক তাই করতে হয়েছে। রিপোর্ট জমা দিয়ে নতুন ফেজের টাকা ছাড় করে পেতে হয়েছে। সরকার চালানো নয়, বীরবিক্রমে আবার প্রজেক্টের পরের ফেজ বাস্তবায়নে লেগে পড়তে হয়েছে তাকে। অক্টোবর ২০০৮ এর তৃতীয় ফেজ শুরু হয়, যেটা এখনও চলছে। বিচার বিভাগকেও একটা বার্ষিক রিপোর্ট দিতে হবে, স্হায়ী এটর্নী স্টাফ সার্ভিস (পিপি ইত্যাদি) দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি শর্তের বিনিময়ে চলতি ফেজের টাকা ছাড় করা হয়েছে।
তাহলে আমাদের আবার জাতীয় নির্বাচনের মানে কী? নির্বাচিত প্রতিনিধি মানে কী? আমাদের কী প্রতিনিধিত্ত্ব করতে এই নির্বাচন? আমরাও আওয়ামী লীগ না বিএনপি, বাঙ্গালী না বাংলাদেশী নাকি মুসলিম - এসব নিয়ে মাথা ফাটাফাটি করি, কেন - এসবের মানে কী? আমরা! এই আমরা মানে কারা? কেন? বিশ্বব্যাঙ্কের 'উন্নয়ন প্রজেক্ট" এর একএকজন মামুলি বেনিফিসিয়ারি ছাড়া আর কিছু কী? প্রজেক্ট ডকুমেন্টে প্রজেক্টের ন্যায্যতা হাজির করতে (সত্যি হোক মিথ্যা হোক) দেখাতে হয় এই প্রজেক্ট হলে কারা কারা এর সুবিধা, লাভ পাবে (বেনিফিসিয়ারি হবে), কাদের কতটুকু লাভ হবে - এই অর্থে বিশ্বব্যাঙ্কের চোখে আমরা একএকজন "বেনিফিসিয়ারি" বৈ আর কিছু কী? আমরা প্রত্যেকে বিশ্বব্যাঙ্ক প্রজেক্টের একএকজন object মাত্র, তাই কী? ক্ষুধা তৃষ্ণায় আমরা আহার পান করি, ঘুমিয়ে বিশ্রাম নেই, কেউ চিমটি কাটলে টের পাই এরকম সংবেদে ইন্দ্রিয়শীলে গ্রাহ্য হই - object হবার মত সবগুণই আমাদের আছে। কিন্তু আমরা কী পলিটিক্যাল, কোন পলিটিক্যাল কমিউনিটি কী আমরা? পলিটিক্যাল আইডেনটিটি? যা দিয়ে ভুখন্ড বা কোন সীমার বাইরের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে আমাদের চেনা যায়? যার জন্য একটা রাষ্ট্র দরকার? বিশ্বব্যাঙ্ক প্রজেক্টের একএকজন object মাত্র হওয়ার জন্য অবশ্য এসবের দরকার নাই। কিন্তু যদি নিজের মধ্যে একটা রাজনৈতিক সত্ত্বা অনুভব করি তবেই কেবল বিশ্বব্যাঙ্ক প্রজেক্টে বা স্রেফ কোন গ্লোবাল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একএকজন object মাত্র নই। তবেই ঐ প্রত্যেক রাজনৈতিক সত্ত্বার একটা কমিউনিটি বা জনগোষ্ঠিগত রূপের প্রকাশের ন্যায্যতা, একটা পলিটিক্যাল কমিউনিটি রাষ্ট্রে সংগঠিত হয়ে থাকার ন্যায্যতা থাকতে পারে। আপাতত সেটা নাই, দেখা যাচ্ছে না। হয়ে আছি কেবল বিশ্বব্যাঙ্ক প্রজেক্টে একএকজন object মাত্র।
দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাঙ্ক, Global Economy কোথায় আছে খুঁজতে, বুঝতে বাইরে যাবার দরকার নাই। আমাদের জীবনযাপন, জীবন প্রকাশের ধরণ, লাইফ স্টাইল এর উপস্হিতির প্রকাশ হয়ে আছে।

তাহলে আমাদের প্রত্যন্ত মফস্বল থেকে জগৎজুড়ে Global Economy হয়ে যে বিশ্বব্যাঙ্ক সবখানে বিস্তৃত হয়ে বসে আছে - এটাই এর পুরো শরীর। কিন্তু একে কীভাবে, এর কোথায় দাঁড়িয়ে একে বুঝব, ব্যাখ্যা শুরু করব?
আমার ধারণা এর পুরো শরীরের যে কোন খানে দাঁড়িয়েই কথা শুরু করা যেতে পারে। কেবল মনে রাখতে হবে মাথা থেকে অর্থাৎ Global Economy বা তারও উপরে বা বাইরে থেকে শুরু করলেও যেন পায়ের নখ পর্যন্ত দেখার খেয়াল থাকে, দেখা যায়। আবার পায়ের নখ বা প্রত্যন্ত মফস্বল কোন ঘটনা দেখে শুরু করলেও Global Economy এর পারস্পেকটিভটাও যেন ভুলে না যাই, দেখা যায়।

এখানে যে বিষয় নিয়ে কথা শুরু করতে যাচ্ছি এর প্রকাশ্য উপস্হিতিগুলোর ভিতর দিয়ে এই পর্বে একে পরিচয় করিয়ে দেবার সুযোগ নিলাম। এটাই প্রথম পর্ব।

তবে যেভাবেই দেখি, যেখান থেকে দেখি - কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের মৌলিক ধারণা একদম স্পষ্ট রাখতে হবে। যেমন, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে পত্রিকা প্রিন্ট মিডিয়ায় বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ সম্পর্কে রিপোর্টে "বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ" শব্দটা লেখার আগে একটা বিশেষণ জুড়ে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে, "আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান" বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ...... এভাবে। এটা একেবারেই ভুল একটা ধারণা এবং একটা বড় ধরণের ভুল। বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ এর সম্পর্কে পপুলার বা পাঠক ধারণা স্বভাবতই খুবই নেতিবাচক। সত্যি সত্যিই সে তাইও। এর মানে এই নয় যে আমরা যা সত্যি নয় তা বলে আমাদের নেতি ধারণাকে পোক্ত করতে হবে।
"অর্থলগ্নী" - কথাটা অর্থ লাগানো বা টাকা খাটানো বলতে আমরা যা বুঝি তাই। টাকা খাটিয়ে মুনাফা কামানোই বা সুদী ব্যবসা এর লক্ষ্য। কিন্তু মুনাফা কামানো বা সুদের ব্যবসা বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ এর ঘোষিত বা অঘোষিত লক্ষ্য একেবারেই নয়।
অনেকভাবে এই দাবী আরও নাকচ করা যায়। তবে বিশ্বব্যাঙ্ককে "অর্থলগ্নীকারক" বা "সুদের ব্যবসায়ী" বলে দাবী নাকচ হয়ে যায় এমন ভাল প্রমাণ হলো বিশ্বব্যাঙ্ক যে ধার দেয় - এর সুদের হার কত - সে সম্পর্কে ধারণা থেকে। এর সুদের হার ১% এর নীচে, বেশীর ভাগ চুক্তিতে দেখা যায় তা ০.৭৫%। চুক্তিতে আবার, ধারের আসল পরিশোধের সময়ও থাকে বেশ লম্বা, কমপক্ষে ২০ থেকে ৩৫ বছর। পাঠকের ধারণার সুবিধার জন্য বিভিন্ন ধরণের ব্যাঙ্ক কারবারি কী সুদে কারবার করে - এখানে তার কিছু তুলনামূলক তথ্য দেই।
প্রত্যেক রাষ্ট্রের একটা কেন্দ্রীয় (বা অনেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা ষ্ট্রেট ব্যাঙ্ক বলে) ব্যাঙ্ক থাকে। আভ্যন্তরীণভাবে দেশের অর্থ ব্যবস্হাপনা, দেশের আর সব ব্যাঙ্ক, ব্যবসার অর্থ-বিষয়ক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মকানুন, তদারকি করা আর বাইরে দেশের হয়ে আইএমএফের সাথে স্হানীয় অর্থ ব্যবস্হাপনা সমন্বয়, প্রতিনিধিত্ত্ব, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্হাপনা, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সবকিছু দেখা এর কাজ। এই কাজে মুনাফা তার হয় অবশ্যই তবে মুনাফা অবশ্যই এর পরিচালন লক্ষ্য নয়। কী করলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মুনাফা বেশি হবে সেই ভেবে সে পরিচালিত নয়। আবার এটা বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কও নয়, বাণিজ্য তার কাজও নয়। বরং বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ককে কোন বিশেষ প্রোগ্রামে স্বল্প সুদে সে টাকা ধার দেয়। সুদের হিসাবে তা সাধারণত ৬% এর নীচে থাকে। ধারে নেয়া অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক কমপক্ষে ১২-১৩% সুদের ব্যবসা করে।
তুলনা করে বুঝার জন্য আরও একটা তথ্য দেই। আজকের দিনে (ধরা যাক গেল দশ বছরের ট্রেন্ড) কোন বিদেশী প্রাইভেট বিনিয়োগকারী কোম্পানী যদি হিসাব করে দেখে তিন বছরের মধ্যে তার বিনিয়োগ তুলে ফেরত পাবার সম্ভাবনা নাই - তবে ঐ বিনিয়োগকে সে অনাকর্ষণীয় মনে করে। তার মানে সে আশা করে প্রতি বছর বিনিয়োগের রিটার্ণ হতে হবে ৩৩%।

অপর দিকে, বিশ্বব্যাঙ্ক, বিশ্বব্যাঙ্ক গ্রুপের এখনকার সংক্ষিপ্ত নাম; ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এমন পাঁচটা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিশ্বব্যাঙ্ক গ্রুপ গঠিত। এই পাঁচটার মধ্যে যার তৎপরতা সবচেয়ে ব্যাপক, সবচেয়ে প্রাচীন এর নাম হলো IBRD (International Bank Reconstruction & Development)। অথবা The Bank ও বলে অনেকে। বিশ্বব্যাঙ্কের লোন বলতে আমরা যা বুঝে থাকি তা মূলত IBRD এর লোন। IBRD এর জন্ম সবার আগে, তখন বিশ্বব্যাঙ্ক বলতে এটাকেই বুঝা হত। বাকি চার সহযোগীর জন্ম পরে ধাপে ধাপে। একসাথে এখন তা বিশ্বব্যাঙ্ক গ্রুপ। এই IBRD এর গঠন প্রকৃতি শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানাধীন জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানীরই [এই প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত পরে আসব।] মতন। তবে গুরুত্ত্বপূর্ণ তফাৎ হলো, এটা কোনকালেই কোন বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক নয়।
ব্যাঙ্ক কনসেপ্টের দিক থেকে অপারেশনাল কষ্ট ও বাণিজ্যিক সুদ চার্জ করার মধ্যে একটা বড় তফাৎ করা হয়ে থাকে। বিশ্বব্যাঙ্ক বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের যেটা ০-৬% এর মধ্যে সুদ চার্জ করে, এটা অপারেশনাল কষ্ট গোত্রের। বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের সুদ যেটা কোথাও ১৩% নীচে নয় (গ্রামীণ বা সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে যা ২২-৩৫%) এটাই অর্থলগ্নী ব্যবসা, সুদী ব্যবসায়ের কারবার।
তাহলে ১% এর নীচে সুদে ধার দিয়ে কেন বিশ্বব্যাঙ্ক বা IBRD কাজ করে? কেন এই তৎপরতা? মুনাফা কামানো বা সুদের ব্যবসা বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ এর ঘোষিত বা অঘোষিত লক্ষ্য একেবারেই যদি না হয় তবে এর আসল লক্ষ্য কী? - এর উত্তর আমাদের জানতে হবে। পরের পর্বগুলোতে জানব।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ: গ্লোবাল অর্থনীতিবিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ: গ্লোবাল অর্থনীতি ;
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:১৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩১
মনজুরুল হক বলেছেন:

আজ কেবল পড়ে গেলাম। পরের পর্ব আসুক। আশা করছি সংযুক্ত থাকতে পারব। টানা পড়ে গেলাম শুধু। এখানে একটি লাইন বেশ দাগ কেটে থাকল-----------------------

"এই আমরা মানে কারা? কেন? বিশ্বব্যাঙ্কের 'উন্নয়ন প্রজেক্ট" এর একএকজন মামুলি বেনিফিসিয়ারি ছাড়া আর কিছু কী?"
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মনজু। রাতভোরই আপনার নজর পড়েছে দেখছি।

নিজে লেখার পর নিজেই টের পাচ্ছি প্রসঙ্গ বেশ ভারী। কতটা তরল করে হাজির করতে পারব জানি না। তবে আরও তরল করতে হবে।

হ্যা, বেনিফিসিয়ারি নয়, রাজনৈতিক সাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াতে হবে আমাদের।

২. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৪
মুনশিয়ানা বলেছেন: উৎসাহ নিয়ে পড়ে গেলাম, আবার মন্তব্যের জন্য ফিরে আসবো এই আশা নিয়ে।

অনবদ্য এক বিষয়ের অবতারনা করেছেন, আমাদের অনেক প্রশ্নের জবাব মিলবে আশা করছি। পোষ্টের সাথে আছি।

একটা কথা না বললেই নয়... বহুদিন পর পি মুন্সীর পোষ্ট পড়ছি, তবে এবারের ভাষা খুবই প্রাঞ্জল, সাবলীল, আরামদায়ক। সচরাচর যে দুর্বোধ্যতায় আক্রান্ত থাকে এবারে তা একদমই নেই।

পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনার কমপ্লিমেন্ট পেয়ে ভাল লাগল।

৩. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৮
চানমেয়া বলেছেন: মুন্সীজী, লেখা পছন্দ হৈসে।


আবার পইড়া খোচাখুচি শুরু করুমনে।
২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১১

লেখক বলেছেন: ওয়েলকাম চানমেয়া।
চানমেয়ার লেখা পছন্দ হয়েছে শুনে ভাল লাগল।

দেরি কেন খোচাখুচি শুরু করেন।

৪. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৪
রিফাত হাসান বলেছেন: চলুক। আপাততঃ পরের পর্বের অপেক্ষায়। এইভাবে, ছোট ছোট খণ্ডে দেওয়াই ভাল। আপনার পোস্টের দৈর্ঘ্য বেশ বড় হয় সাধারণত এবং অনেকটা পাঠচক্রের সঞ্চালকের ভাষার কারণে অনেকেই খোঁচাই দেখতে আলস্য বোধ করেন। আর আমি সেইসব দুর্ভাগা, জাত-কুঁড়োদের দলে।

পি মুনসির দেখা পেলাম বহুদিন পর। বেশি ব্যস্ত? আমাদের মত অলস হয়ে যান নাই তো?
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রিফাত।
লেখা চালাব কীনা ভাবছি।সম্ভবত লেখা ভাল হয় নাই অথবা প্রসঙ্গ ভারি। ভিজিটরের তুলনায় মন্তব্য কম।

৫. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮
রিফাত হাসান বলেছেন: প্রসঙ্গ ভারি, কথাটি সত্য। তবে, লেখা ভাল খারাপের প্রশ্নের চেয়েও, লেখাতে জনপ্রিয় হৈহুল্লোড় অলা ভাষা নেই। যা ব্লগের জন্য অনাকর্ষনীয় এবং ইন্টারএকটিভ হতে ব্লগারদেরকে উৎসাহ দেয় না।

কিন্তু, লেখা অবশ্যই চালাবেন। এই লেখাটি চালিয়ে যাওয়া খুবই দরকারী মনে করি। অন্তত আমি এবং আরো অনেকেই কিছু শেখার আশা করি এখানে। বিশ্বব্যাংক - আইএমএফ বিষয়ে জনপ্রিয় ধারণাগুলোর একটু ধোয়া মুছার এবং সতর্ক হওয়ারও দরকার আছে; আমাদের আত্মপরিচয়, রাজনৈতিক সত্ত্বা ও আকাঙ্ক্ষার জরুরী উত্থানের স্বার্থে।

আর, ভাল কথা: ঈদ মুবারক। একটু দেরী হয়ে গেল, মাফ করবেন।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩২

লেখক বলেছেন: ঈদ মুবারক! রিফাত।

ধন্যবাদ রিফাত আপনার সাথে কথোপকথন না করলে অনেক ধারণাই মনে হচ্ছে ভুল থেকে যেত। যেকোন কারণেই হোক আপনার মন্তব্যের পর দখছি মন্তব্যের সংখ্যা ডবল হয়ে গেছে। আমি তো ভেবেছিলাম পাঠকের আগ্রহ জাগাতে পারি নাই।

আমি লেখা কনটিনিউ করব।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৮

লেখক বলেছেন: চালাব।
কেবল আপনারা অন্তত যে আগ্রহী এটা একটু আওয়াজ দিবেন।
আর সবচেয়ে খুশি হব যদি মন্তব্যসহ অংশগ্রহণ করেন।
আমিও বুঝতে চাই কোথায় আমি দূর্বোধ্য থেকে গেলাম। ফলে লেখার অভিমুখ নির্ধারণে আমি আপনাদের মুখ চেয়ে আছি - এটা যদি একটু মনে রাখেন।
ধন্যবাদ।

৭. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩
ননাই বলেছেন:
‘আলোচনায় আমি ইকোনমিকস নিয়ে কথা বলছি ভাবলে ভুল হবে। তবে অর্থনীতির দিক থেকে রাজনৈতিক প্রসঙ্গে বলা কথা - এভাবে পড়লে আমার লেখার প্রতি সুবিচার হবে বলে আমার ধারণা।’

আপনার প্রতি অবিচারও হইবেকনা মনে লই যদি কই, ‍অর্থনীতির দিক হইতেই বলিছেন যখন, তখন এবিষয়ক (খাঁটি অর্তনিতি) কথাবার্তা গুলান পরিচ্ছন্ন করে রাখলে আমাদের মতন সাধারণ পাঠক হগলতের জন্য মঙ্গল।

সেই দিক থেইক্যা একটা বিষয় এইখানটায় একটু পরিষ্কার করনের কাম আছে মনে লয়; নাকি আমিই অধম বুঝিতাম পারি নাই। সেটা হইতেছে গিয়া, আপনি যে বাংলাদেশের মাইক্রোইকোনোমিক্স এর কথা কৈলেন এই বয়ানের মালিক কে? এম্নিতে পৈত্যেক দেশেরই একখান মাইক্রোকোনোমিক্স থাকে এইডা আমার মোটা মাথায়ও লয়। কিন্তু এখানকার বাংলাদেশের মাইক্রোইকোনোমিক্স বয়ান-ডা গ্লোবাল ইকোনোমিক্স এর অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ mean করে কিনা হেইডাই খোলাসা করনের দরকার।

যদি তাই হয় তই লে তাহদের সম্মানিত গ্লোবাল অবস্থান হৈতে একখান মাধুর্য্য নাম তাহারা দিতেই পারেন। দোষ খোঁজার বাতিকে লটকানোর কাম কি। তাই বলি, ‘রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কথা বলা’- নিয়া ‍আমার অনাগ্রহ নাই। তয় আপনি যে বলিলেন, ‘ম্যাক্রোনমিকসের কোন কিছুই ঘরের (Domestic) বা স্হানীয় (local) ভাবে নির্ধারিত নয়, হয় না; আমরা ঠিক করি নাই। বড়জোড় কারও নির্ধারণে উপাদান হয়ে আছি, নির্ধারক নই।’ তাইলে তাহারা কোন নীতিমালায় এসকল নির্ধারণের দায়িত্ব নেন তাহা পরথম হৈতে বুঝনের কাম আছে। যতদূর জানি তাহারা ভদ্দরনোক, সিসটেমের বাইরে কাজ করেরননা। পারটিসিপেটোরি প্লানিং বা অংশগ্রহণমূলক কাজ করণের কথা যে তাদের মুখেই শুনি- এইডার কি হৈবো?

আহা! নাকি নাবুঝি বিষয়টা আমিই অহেতুক গুলাইলাম।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: অনেক খুশি হয়েছি, উৎসাহ পেয়েছি ননাই আপনার লম্বা মন্তব্যে। "বাংলাদেশের মাইক্রোইকোনোমিক্স" নয়-- আপনি বোধহয় বলতে চেয়েছেন "বাংলাদেশের ম্যাক্রোনোমিক্স"। আমিও ম্যাক্রোনমিকস বলতে চেয়েছি, বলেছি।

শব্দটা WB এর কেতাবি, ওদের ডকুমেন্টের ভাষা। কেন এই শব্দটাই WB বেছে নিল তা বলার ভিতর দিয়ে আমি আমার অনেক লম্বা কথা ছোট্ট করে বলার সুযোগ নিতে গিয়েছি। কারণ খেয়াল করলে দেখবেন, একমাত্র গ্লোবাল ইকোনমি - ধারণার পটভূমিতে দাঁড়ালে তবেই WB এর ম্যাক্রোনমিকস শব্দটার অর্থ হয়, বুঝা সম্ভব। ১৯৪৪ সালে জন্মের শুরু থেকেই একটা গ্লোবাল ইকোনমি দাঁড় করানোর লক্ষ্য নিয়ে WB এর অগ্রযাত্রার শুরু - একথা পাঠককে আপাতত মেনে নিয়ে আগাতে বলব। বিস্তর প্রমাণ পরে আরও দিব, পরের পর্বে তো অবশ্যই হাজির পাবেন।
গ্লোবাল ইকোনমি - ক্থাটা আরও একটু স্পষ্ট করে বুঝার জন্য কথাটা বলতে "গ্লোবাল ক্যাপিটিলিজম" বুঝতে আমি পাঠককে পরামর্শ দিব। "গ্লোবাল ক্যাপিটিলিজম" - WB এর বা প্রধানধারার (mainstream) অর্থনীতির বয়ান (vocabulary) নয়, ওদের বয়ানে এটা পাবেন না। ওখানে যেটা গ্লোবাল ইকোনমি নামে বয়ান ওটাই আসলে গ্লোবাল ক্যাপিটিলিজম।
WB এর বয়ান, ওর ডকুমেন্ট যারা ক্রিটিক্যালি বা পর্যালোচনা চোখে পড়তে চান তাঁরা যেন গ্লোবাল ক্যাপিটিলিজম অর্থে কথাটা বুঝেন। এটা আমার কথা মানা না মানার জন্যের চেয়েও আমার কথা বুঝার জন্য এখানে জরুরী। সেই সাথে একটা নোট বা নোতকা দিয়ে রাখি: ক্যাপিটিলিজম শব্দটার সাথে যত ময়লা কাদা, নোংরা, নেতিবাচক ধারণা লেগে আছে সেগুলো আপাতত একটু দূরে রাখুন। আগেই একটা নেতি ধারণা নিয়ে পড়ার দরকার নাই। তারচেয়ে নিজের বিচারবোধ, পদ্ধতি - বিচারকাঠি আগে তৈরি করার চেষ্টা করুন। এরপর বিচারে যা আসে তাই নিয়ে আগান, আর প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতি মুহুর্তে আপনার সাময়িক বিচারলব্ধ ধারণাটাকে বারবার পরীক্ষায় ফেলেন, পাশ করে কী না দেখেন- এভাবে একটা ক্রমপরিশুদ্ধ শক্তিশালী একটা ধারণা তৈরি করুন। আমার ধারণা কমিউনিষ্ট বা অন্য কারও ক্যাপিটিলিজম ধারণাকে "আমি বুঝি" এভাবে আগেই খোলা চেকে একে গ্রহণ করে নেয়াটা জরুরী নয় বা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

উপরে যা বলেছি তা আরও বেশী বিস্তারিত করব পরের পর্বে। এখানে কেবল একটা জরুরী পয়েন্ট বলে শেষ করব।
WB এর নিজের ডকুমেন্টে নিজের জন্মের প্রয়োজন কেন - এ প্রসঙ্গে অনেক কারণের সাথে একটা কারণ বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯-৩০ এর অর্থনৈতিক বিশ্বমন্দা যার পরিণাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও আরও ক্ষতি এবং পরিসমাপ্তি - তা যাতে দ্বিতীয়বার না ঘটে এর জন্য ব্যবস্হা নিতে কাজ করাই এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। [১৯২৯-৩০ এর অর্থনৈতিক বিশ্বমন্দা - যা এবারের ২০০৭-৮ সালের চলতি বিশ্বমন্দার কথা বলার সময় বারবার রেফারেন্স হিসাবে আসছে, বলা হচ্ছে এবারেরটা আগেরটার চেয়ে ভয়াবহ।] তো বুঝার জন্য এই লক্ষ্যবস্তুর মানে করতে হবে এভাবে , নীচের এই আগাম ধারণার প্রেক্ষিত:
১। অনবরত আত্মস্ফীতির মধ্যে দিয়েই একমাত্র পুঁজি বেঁচে থাকতে পারে। টাকা খাটিয়ে টাকাকে আত্মস্ফীত হতে হবে, বাড়াতে হবে নইলে তা শুধু অর্থহীন কান্ডই নয়, নিজের বিনাশ।
২। ফলে দুনিয়াজুড়ে যত কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়া যায় এর ভিতরেই তার প্রাণভোমড়া জীবন্ত, আয়ু।
৩। এই ছড়িয়ে পড়ার কাজে যেখানে যত বাধা আছে - দেশ, বর্ডার, রাষ্ট্র, বাজার নিয়ে যুদ্ধ, প্রতিযোগিতা, কেনার ক্ষমতার সামর্থ ইত্যাদিসহ যা কিছু সব - অপসারণ করতে হবে।
৪। এসব না করতে পারার জন্যই বিশ্বমন্দা, যুদ্ধ আরও ক্ষতি ডেকে এনেছে।

কাজেই এলক্ষ্যে গ্লোবাল ক্যাপিট্যালিজম বা গ্লোবাল একসুতোয় গাথা অর্থনীতি খাড়া করাই একমাত্র সমাধান - একযোগে এলক্ষ্যে কাজ করতেই একটা নতুন বিশ্বব্যাবস্হা (world order) গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফের জন্ম। সেইসাথে একাজের রাজনৈতিক দিক সামলানোর জন্য লীগ অফ নেশন থেকে জাতিসংঘের জন্ম।

পরের পর্ব এই প্রসঙ্গ নিয়ে শুরু হবে।

ম্যাক্রোনমিকসের কোন কিছুই ঘরের (Domestic) বা স্হানীয় (local) ভাবে নির্ধারিত নয় - কেন বলেছি তা পরে আসবে।


আপনার "পারটিসিপেটোরি প্লানিং বা অংশগ্রহণমূলক কাজ" - প্রসঙ্গে

গরুর গাড়ির চালক বা গাড়োয়ান চায় গরু তাঁর "প্লানিং" এ "পারটিসিপেটোরি" হোক। তবেই ইপ্সিত গন্তব্য সহজ হয়। এটা গাড়োয়ানের প্লানিং গরুর নয়। গাড়োয়ান চাচ্ছে গরু "পারটিসিপেটোরি" হোক, তাঁকে সহযোগিতা করুক। গাড়োয়ান চায় তাঁর কাঠামো সংস্কারে গরু নাক-কান-বুজে অংশগ্রহণ করুক।

কথা কমানোর জন্য একটা হাতের কাছের তুলনা দেই। উদাগরণ দুটো তুলনা করবেন।

উপজেলা ইত্যাদি স্হানীয় সরকার ব্যবস্হা সংস্কারের জন্য "সুশাসন" (Good Goverance) নিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বা ড: মোজাফফর আহমেদ জান কোরবান করে ফেলছেন প্রতিদিন। [ তাদের এনজিওর নামও সুশাসন। বিশ্বব্যাঙ্কের এই সুশাসন আইডিয়া ও প্রজেক্টের প্রধান ডোনার বৃটিশ সরকারি DFID]।

অন্যদিকে, চাপাই নবাবগঞ্জের অখ্যাত রাজনৈতিক পরিচয়বিহীন গোলাম রব্বানীর কনসাট আন্দোলনের কথা নিশ্চয় মন আছে। মাঠের জনগণের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা সত্যিকারের Good Goverance গড়ার আন্দোলন ছিল ওটা। অথচ বদিউল আলম মজুমদার বা ড: মোজাফফর আহমেদ ওটা দেখতে পাননি। ওটা কোন মডেল হিসাবে তাদের কনসালটেনসিতে রেফারেন্স হতে পারেনি। অথচ এরা নাকি "পারটিসিপেটরি প্রশাসন" চান; সারাদিন এজন্য টিভি টকশোর পর্দা ভারী করে ফেলেছেন। কোন ডোনার বা তার কাছে চিন্তাবন্ধক দেয়া ভাড়াটের পক্ষে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের রাজনৈতিক সংগঠনও সেই একই রকম। কারও কাছে এটা তাৎপর্যময় হয়ে উঠেনি। রব্বানী শেষে কোথায় এর পরিসমাপ্তি ঘটাতে চেয়েছিল - এটা এখন অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন।

সবশেষে আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি, "নাবুঝি বিষয়টা আমিই অহেতুক" গুলান নাই।

৮. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৮
ননাই বলেছেন:
পরবর্তী পর্ব গুলোর অপেক্ষায় আছি। কথাটা বৈলতে ভুলিলাম কেন?
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৭

লেখক বলেছেন: কোন অসুবিধা নাই। অনুমানে বুঝেছি।

৯. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৬
খোমেনী ইহসান বলেছেন: এ পোস্টে যে বিষয় নিয়ে মুকাদ্দিমা করা হয়েছে নিশ্চয় পরের কিস্তিতে তা আরো পষ্ট হতে থাকবে।
তবে এই পোস্টে যখন বলা হচ্ছে-'আমাদের দুনিয়া আজ কেন, কী আকার নিচ্ছে ও আগামিতে নিবে তার জন্য ভাবনা চিন্তা, নীতিনির্ধারণ নির্ধারকভাবে করার দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান কর্তা নিশ্চয় অনেক আছে, আমরা অনুমান করতে পারি। এরা আবার নিজেদের মধ্যে ষাট-করে মানে যাকে বলে কনসেনসাস (consensus) ডেভলপ করে কাজ করে। বাইরে থেকে এটা ভাল দেখা যায় বা যায় না। অথবা এর কোন এক ঝলককে দেখে এই ঘটনার ব্যাপকতা ঠাহর আন্দাজ করাও মুশ্কিল। কিন্তু যেসব দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুনিয়াব্যাপী এর প্রয়োগ (implementation) হয় এরকম প্রথম তিনটা প্রতিষ্ঠানের নাম করতে বললে এর উত্তর হবে আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক, ও জাতিসংঘ'
তখন আমরা নড়েচড়ে বসি। কারণ বর্তমান আমাদের দুনিয়া আজ কেন, কী আকার নিচ্ছে ও আগামিতে নিবে তার জন্য ভাবনা চিন্তা, নীতিনির্ধারণ নির্ধারকভাবে করার দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান কর্তাকে চিনতে পারাই প্রধান কাজ হয়ে দাড়ায় কারণ লড়াই তো নাকের ডগাতেই ঝুলোনো থাকে।!!
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৯

লেখক বলেছেন: হ্যা তাই। আসুন চেনার এক্সারসাইজ করি।

১০. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৩
জাতেমাতাল বলেছেন: ১/১১ এর তত্বাবধায়ক সরকারের ভুমিকাকে আপনি ওয়ার্ল্ডব্যাঙ্ক এর একটা "উন্নয়ন" প্রজেক্ট হিসাবে দাবী করেছেন। তার মানে এ সময় যা যা ঘটেছে... রাজনৈতিক সংস্কার থেকে শুরু করে তৃতীয় রাজনৈতিক ধারার উত্থানের শর্ত সৃষ্টি... সবই ছিল এই প্রকল্পের অংশ...?

খুবই কঠিন এই অভিযোগ, একই সাথে কৌতুহলোদ্দীপক। নিশ্চয় আপনি এর স্বপক্ষে প্রমান হাজির করবেন...

জানতে পারলে ভাল হতো, বিশ্বব্যাংকের এই তৎপরতা কবে নাগাদ শুরু হয়েছে... ?

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৭

লেখক বলেছেন: আপনার জবাব কালকে।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১০

লেখক বলেছেন: "১/১১ এর তত্বাবধায়ক সরকারের ভুমিকাকে আপনি ওয়ার্ল্ডব্যাঙ্ক এর একটা "উন্নয়ন" প্রজেক্ট" - অবশ্যই। বাংলাদেশ ADB এর গভর্নেস ইউনিটের হেড ফিরোজ আহমেদকে জিজ্ঞাসা করে দেখেন, ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ADB’s Governance and Anti-corruption interventions in Bangladesh প্রজেক্ট টা কী?

তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এসব ইনটারভেনশন করতে গেলে যে সরকার বদলের খুনিখুনি, রক্তপাত, ক্যু পাল্টা ক্যু এর সম্ভবনা রিক্স থাকে - কাজের সেসব রাজনৈতিক অংশে WB বা ADB কখনই নিজেকে সামিল করে না। এ কাজ লোকাল ক্ষমতাধর এ্যমবেসিগুলোর ভাগে। [আনোয়ার ভাই ও বিউটি আপার কাজ।]
অথবা বলা যায় WB বা ADB এর "প্রজেক্টের" জন্য প্রয়োজনীয় সরকার বদল পর্যন্ত অংশটা করতে লোকাল ক্ষমতাধর এ্যমবেসিগুলোকে যাতা দিবার (leverage) কাজে ব্যবহার করে। সরাসরি রাজনৈতিক খুনোখুনিতে জড়ানো WB বা ADB এর প্রতিষ্ঠানগতভাবে করতে কঠোরভাবে মানা এবং প্রাকটিসও করে না। মানা এজন্য নয় যে কাজটা খারাপ। প্রাকটিসও করে না ও মানা এজন্য যে নিজের প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি রক্তের দাগ লাগিয়ে ভালনারাবেল করা যাবে না, মূল লক্ষ্যকে পন্ড করা যাবে না।

তবে পছন্দসই ক্ষমতাদখল হয়ে গেলে সেই সরকারকে চালানোর দায়িত্ত্ব, খুটিনাটি সবকিছু পরিক্ল্পনা তাদের করা থাকে, দায়দায়িত্ত্বে নিতে রেডি থাকে। Governance and Anti-corruption interventions প্রজেক্টটা সেই কাজের অংশ।

১১. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৮
পান্থজন বলেছেন: খুব ভারী একটা বিষয়কে বেশ সরল ভাবেই উপস্থাপন করেছেন, ভাল লেগেছে। এখনকার তরুনদের জন্য এটা একটা ভাল সুযোগ, এরকম একটা বিষয় নিয়ে ধারনা নেবার।

ভিজিটরের তুলনায় মন্তব্য কম। এটা হতেই পারে... বিষয়টাই হয়তো অনেকের কাছে একটু দুরের বিষয়। আপনি বলেছেন যদিও বিশ্বব্যাংকএর তৎপরতা কোন দুরের বিষয় নয়... "আমাদের লাইফ-ষ্টাইলের মধ্যে বিশ্বব্যাঙ্ক জীবিত"...

খুব আগ্রহ নিয়ে আপনার লেখা পড়ছি, লেখা বাদ দেবার চিন্তাও করবেন না।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৪

লেখক বলেছেন: হ্যা শুধু "আমাদের লাইফ-ষ্টাইলের মধ্যে বিশ্বব্যাঙ্ক জীবিত"... এতটুকুই নয় আরও বলেছি আমরা সবাই একএকজন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রজেক্টের প্রাণহীন OBJECT মাত্র। রক্তমাংসের সংবেদে গ্রাহ্য হই এমন সক্রিয় রাজনৈতিক সত্ত্বা নই। স্রেফ প্রজেক্টের খাতার বেনিফিশিয়ারি।

১২. ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২০
অ্যামাটার বলেছেন: জানি, এই লেখা কোনওদিন স্টিকি হবে না, কঠিন সত্য চাক্ষুস তুলেধরাটাও একটা সাহসি কাজ, আপাতত আমার প্রিয় পোষ্টের তালিকায় আরও একটা লেখা যুক্ত হল।

পি মুন্সী-কে অনেক ধন্যবাদ।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৬

লেখক বলেছেন: না স্টিকি করার দাবী আমারও নয়।
আপনারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করলেই আমি সার্থক।

১৩. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৫
অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন: চলুক... পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়... লেখা প্রান্জল ও সহজবোধ্য... প্রিয়তে রাখলাম...
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৯

লেখক বলেছেন: লেখা প্রান্জল ও সহজবোধ্য না হলেও প্রশ্ন তুলে বলবেন এই আশা করি। ধন্যবাদ। চোখ রাখুন।

১৪. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: পড়লাম। আবারো পড়তে হইবো। তারপর আলাপ সালাপ
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: থ্যঙ্কু আরজু। পড়তে থাকুন।

১৫. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: বিজয়ে কনভার্ট কইরা প্রিন্ট নিলাম। বাসায় গিয়া পড়মু । এখনু একটু বলি-

''অথচ জনজীবনের এসব কিছুই আসলে বিশ্বব্যাঙ্কের প্রজেক্ট অথবা প্রোগ্রাম, প্রত্যন্ত মফস্বল পর্যন্ত বিস্তৃত তৎপরতা। আবার অন্যদিকে, শহরেও প্রতিষ্ঠান তিনটির ভুমিকা ও প্রভাব সর্বত্র। যেমন অকস্মাৎ রপ্তানীমূখী নারীমেশিন জাগবে না পাটকল থাকবে বা বন্ধ হয়ে যাবে, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ইউনিট পুরনো ২১ জেলার মহুকুমা হিসাবে বহাল থাকবে না ৬৪ জেলা ও তস্য উপজেলা হবে, আবার রাষ্ট্রের এই প্রশাসনিক সংস্কার নির্বাচিত সরকার না সামরিক সরকার কায়েম করে বাস্তবায়ন করা হবে, পুরনো পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থাকবে না পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে ইআরডি বিভাগ খুলে প্রতিবছর প্যারিস ক্লাবে যাব অথবা দেশেই এপ্রিল ডোনার মিটিং এর আয়োজন করবে, কী ধরণের ব্যবসা করা যাবে - অকস্মাৎ মোজাফফর আহমেদ আইবিএ খুলে বসবেন না ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ম্যানেজার বা এমবিএ বের হয়ে ওগুলো সামলাবে, সামরিক বাহিনী শান্তি মিশনে গিয়ে সার্ভিস দিয়ে টাকা আয় করবে না, দেশেই ক্ষমতা দখল করে সার্ভিসও দিবে টাকাও কামাবে; - এভাবে সর্বত্র।''
---------------

শুধু তা-ই না, সেই সাথে যোগ করি-
দেশে আইনি সংস্কারের নামে মুক্ত-বাজার অর্থনীতির জন্য সুবিধাজনক আইনি কাঠামো তৈয়ার করতে 'আইন কমিশন' নামে কোনো কমিশন হবে কি না, বিচার বিভাগ পৃথকীকরনের নামে ম্যাজিস্ট্রেসি আলাদা হবে কি না ইত্যাদিও এনারাই ঠিক করেন।''
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন: "এনারাই ঠিক করেন'' বা না করেন তারচেয়ে বড় ব্যাপার হল,
১। এটা ঠিক হয় কী না। অর্থাৎ বিচার বিভাগ পৃথকীকরনের নামে ম্যাজিস্ট্রেসি কী আলাদা হয়েছে? পুলিশ কোর্টের কাছে রিমান্ডের আবেদন করলেই কোন বাছবিচার ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসদের রিমান্ডের অনুমোদন দেয়া কী বন্ধ হয়েছে? না কী নির্বাহী বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হুকুমে মাথা নাড়ায়?
২। কেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রোগ্রামগুলোকে আমাদের ক্ষমতাসীন সবদলেরা নিজেদের চিন্তাভাবনা বলে দাবী করে?

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের নামে যে জগাখিচুরি অবস্হায় পড়েছে [বিচার বিভাগ নিজেই নির্বাহী ক্ষমতা দাবী করছে] এতে বিশ্বব্যাঙ্কের কোন "গুড গভর্নেস" কায়েম হয়েছে?

১৬. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০১
মুসতাইন জহির বলেছেন: একটু দেরিতে এসে পোস্টটা পড়া হল।

অনেক গুলো বিষয় একসাথে এসেছে। কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি, কোনটা নিয়া পড়ি ...

বুঝতে পারছি, জল অনেকদূর গড়াবে। অনেক কিছুই ধোয়ামোছা হবে।

নিজেও একটু প্রস্তুত হয়ে নেই। জানার জরুরত আছে, জিজ্ঞাসাও কম নয়।

চালিয়ে যান,...
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৩

লেখক বলেছেন: দেরিতে হলেও যে পড়ছেন সেজন্য ধন্যবাদ মুসতাইন জহির।
তো এখন দুএকটা জিজ্ঞাসা ছাড়ুন যাতে পোষ্টটা সমৃদ্ধ হয়।

১৭. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: প্রতিদিনের জীবনে যে আমরা এগোর নানা প্রকল্পের বেনেফিসিয়ারি সেইটা আপনে আবার মনে করাইয়া দিলেন।- ''উদাহরণে বলেছি, সবখানেই তা এক একটা "উন্নয়ন" প্রজেক্ট হয়ে বিরাজ করছে। এমন কী পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র চালানোটাও একটা প্রজেক্ট।''
এবং এইসব প্রজেক্ট চালানো হয় প্রধান আর্থিক লাভালাভের দিকে বেশি নজর না দিয়াই।- ''তাহলে ১% এর নীচে সুদে ধার দিয়ে কেন বিশ্বব্যাঙ্ক বা IBRD কাজ করে? কেন এই তৎপরতা? মুনাফা কামানো বা সুদের ব্যবসা বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ এর ঘোষিত বা অঘোষিত লক্ষ্য একেবারেই যদি না হয় তবে এর আসল লক্ষ্য কী? - এর উত্তর আমাদের জানতে হবে। পরের পর্বগুলোতে জানব।''

মানে হইলো- এইসব প্রকল্প স্পষ্টতই নিছক আর্থিক বিষয় না। তাইলে এইসব আসলে কি? সেই জবাব আমদের চোখের সামনেই আছে। যা কিছু আধুনিক বা উন্নত দুনিয়ার বা পশ্চিমের, তা-ই সাধু; সেইটা না ভাইবা একটু খেয়াল কইরা তাকাইলেই ধরা সম্ভব। আপনে নিশ্চয় আপনের মত কইরা ধরছেন।
আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরজু সাথে থাকার জন্য।
আপনি ঠিক জায়গাটাকেই হাইলাইট করেছেন।
পরের পর্বে আমাকে অনেক কিছু পরিস্কার করতে হবে।

১৮. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: ঘোর-কলিযুগের কাছ থেইকা ধারে পাওয়া একখানা বই এ মুহুর্তে আমার সামনে আছে। ফরমেশন অফ সেকুলার। প্রায় ৬ বছর আগে প্রকাশিত। তালাল আসাদের। সেইখানে এক জায়গায় তিনি ’’দুনিয়াজুড়ে একটি একক সামাজিক আদল চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা’’ (ইউ.এস অ্যাটেম্পটস টু প্রমোট আ সিংগল সোশ্যাল মডেল ওভার দি গ্লোব)-এর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এক স্টিফেন হোমস নামে এক রাজনীতি বিজ্ঞানীর সমালোচনা করেছেন। হোমস নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে আইন পড়ান।

তারপর ফ্রান্সের দৈনিক লা মদঁ এর অন্যতম সম্পাদক সার্জ হালিমিরে উদ্ধৃত কইরা কিছু কথা বার্তা বলেছেন। সেইটা হইলো- ''স্পেশিয়ালি ওভার দি পাস্ট ফিফটিন ইয়ারস, দি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড প্রেসক্রিপশন বাই ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিস ডমিনেটেড বাই দি ইউনাইটেড স্টেটস (ওইসিডি, আইএমএফ, দি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) হ্যাভ বিন রিমার্কেবলি সিমিলার রিগার্ডলেস অফ দি কান্টৃ বিয়িং কনসিডারড। ’’সেলডম’’, অবজার্ভস সার্জ হালিমি, ’’হ্যাজ দি ডেভেলপমেন্ট অফ দি হোল হিউম্যানিটি বিন কনসিভড ইন টার্মস সো ক্লোজলি আইডেন্টিকাল অ্যান্ড সো লার্জলি ইনস্পায়ারড বাই দি আমেরিকান মডেল।’’ অ্যাজ হালিমি নোটস, দ্যাট মডেল ইজ নট কনফাইড টু ম্যাটারস অফ ফ্রি ট্রেড অ্যান্ড প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ বাট ইনক্লুডজ মোরাল অ্যান্ড পলিটিকাল ডাইমেনসন্স- প্রমিনেন্ট অ্যামাং দেম বিয়িং দি ডকট্রিন অফ সেকুলারিজম। (লিবারাল ডগমা শিপরেকড, সার্জ হালিমি, লা মদেঁ ডিপ্লম্যাতিক, সাপ্লিমেন্ট টু দি গার্ডিয়ান উইকলি, অক্টোবর ১৯৯৮)।''

সোজা বাংলায় মোটামুটি এরম হয়- ''বিশেষত, গত পনের বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মুরব্বিয়ানায় চালিত আর্ন্তজাতিক সংস্থাসমূহ (ওইসিডি, আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) বিভিন্ন দেশ নির্বিশেষে একই ধরনের বিশ্লেষণ করে আসছে ও একই ধরনের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছে। সার্জ হালিমি’র পর্যবেক্ষণ মতে, ‘‘সমগ্র মানবতার উন্নয়ন প্রক্রিয়া এর আগে খুব কম সময়ই আমেরিকান আদল-এর এতটা কাছাকাছি ছিল কিংবা ওই আদলের দ্বারা এতটা অনুপ্রাণিত ছিল।’’ হালিমি যেমনটি বলছেন, এই আদল কেবল মুক্ত বানিজ্য ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এর মধ্যে নৈতিক ও রাজনৈতিক অনেক মাত্রাও আছেÑ যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে ইহজাগতিকতার মতবাদ (ডকট্রিন অফ সেকুলারিজম)।''

আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইত্যাদিরা কি ও কেন সেই বিষয়ে এইসব সংক্ষিপ্ত আলাপ আমার কাছে অনেক পরিস্কার লাগছে। আর সেপ্টেম্বর এগারোর ঘটনার পর তাগোর দায়িত্ব কেমন সেই বিষয়ে তালাল আসাদ নিজে পরিস্কার বলছেন ওইখানে- '' ইন দি আফটারম্যাথ অফ সেপ্টেম্বর ইলেভেন ট্রাজেডি- দ্যাট মাই পয়েন্ট ইজ হেয়ার নট টু 'ব্লেইম আমেরিকা' অ্যান্ড 'জাস্টিফাই ইটস এনিমিস', বাট টু ইন্ডিকেট দ্যাট অ্যাজ দি ওয়ার্ল্ড'স অনলি সুপারপাওয়ার, দি প্রটেকশন অফ ইটস ইন্টারেস্টস অ্যান্ড কমিটমেন্ট টু 'ফ্রিডম' রিকোয়ার আমেরিকা টু ইন্টারভেন গ্লোবালি অ্যান্ড টু হেল্প রিফর্ম লোকাল কন্ডিশনস অ্যাকোর্ডিং টু হোয়াট অ্যাপিয়ার টু বি ইউনিভার্সাল ভ্যালুজ। দি রিফর্মড লোকাল কন্ডিশনস ইনক্লুড নিউ স্টাইলস অফ কনজাম্পশন অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। হোয়েদার দিজ আর বেস্ট ডেসক্রাইবড অ্যাজ 'ফ্রিলি চুজেন' অর 'ইমপোজড' ইজ অ্যানাদার কোয়েশ্চেন।''

বাংলায় যা এরম হইতারে- ''যাইহোক, এখানে আমার উদ্দেশ্য ‘আমেরিকাকে দোষ দেয়া’ ও ‘তার শত্র“দের কাজের ন্যায্যতা দেয়া’ নয়, বরং এই ইঙ্গিত দেয়ার জন্য বলছি যেÑ সেপ্টেম্বর এগারোর ট্রাজেডির পরিনামে, দুনিয়ার একমাত্র পরাশক্তি হিশাবে নিজের স্বার্থের ও স্বাধীনতার ওয়াদার সুরক্ষার জন্য দুনিয়াজুড়ে হস্তক্ষেপ করা এবং তার কাছে যা বিশ্বজনীন মূল্যবোধ বলে মনে হয় সে অনুযায়ি স্থানীয় পরিস্থিতির সংস্কারে সাহায্য করায় জোর দেয়া আমেরিকার দরকার হয়ে পড়েছে। সংস্কারকৃত স্থানীয় অবস্থাসমূহের মধ্যে রয়েছে ভোগ (কনজাম্পশন) ও প্রকাশ (এক্সপ্রেশন)-এর নয়া ধরন। এগুলোকে ‘‘স্বাধীনভাবে পসন্দকৃত’’ নাকি ‘‘আরোপিত’’ বললে ভালোভাবে বলা হয় সে প্রশ্ন আলাদা।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৪

লেখক বলেছেন: খুবই ভাল লাগছে আরজু আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণ। এটা নিশ্চয় পোষ্টের সম্ভাব্য ডাইমেনশনগুলোকে জেনে মিলিয়ে পড়তে পাঠককে সাহায্য করবে।
আমি এখানে একটা সাবধানবাণী যোগ করতে চাই।
আমরা যেন এই ইস্যুটাকে বা আমার পোষ্টটাকে কোন কারও ষড়যন্ত্র মনে না করি বা কোন ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব খাড়া করে আকার দেই, পড়ি। পাঠকের পাঠেও যেন ষড়যন্ত্র ভাবনা উদ্রেক না করে সে চেষ্টা পোষ্টে আমি জারি রেখেছি।আমাদের প্রচেষ্টা যেন হয় সঠিকভাবে ১. এই ফেনোমেনা-প্রক্রিয়াটাকে বুঝতে পারি। ২. সঠিক ধরতে বুঝতে পারলে আমাদের করণীয়, এক্ট করার রাস্তা পরিস্কার বুঝতে পারি।
আমার এই উদ্দেশ্য পাঠকের কাছে পরিস্কার রাখতে চাই।

১৯. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: হ। এই সাবধানতা জরুরি।
যারা শুধু ষড়যন্ত্র তালাশ করে তারা ঘটমান বাস্তবতার দেখা পায়না।
যা কিছু আমার নিত্যজীবনে বিদ্যমান সেইখানে ষড়যন্ত্র আবার কি জিনিস? কাজ হইলো সম্ভাব্য সব রাস্তায় তত্ত্ব-তালাশ নেয়া এবং করনীয় ঠিক কইরা।

এই সাফসাফ তত্ত্ব তালাশ আপনের লেখায় চরম আকারে হাজির থাকে সবসময়।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯

লেখক বলেছেন: থ্যঙ্কু আরজু।
পরের পর্বের প্রস্তুতি চলছে। চাপ অনুভব করছি, কি করে সহজে উপস্হাপন করা যায় তা নিয়ে।

আপনার পেশাদার সাংবাদিকসুলভ অংশগ্রহণ আমার অনেক ভরসার জায়গা, উপভোগও করি। আমাকে অনেক সুবিধা দেয়, বিশেষ করে অস্পষ্ট জায়গা স্পষ্ট করতে, নিজের লেখার খামতি পূরণ করতে আবার সুযোগ পাই - এজন্য। সাথে থাকবেন।

আপনার আগেরবারের মন্তব্যের জবাবে বলতে ভুলে গেছি - ইংরাজি কোটেসন গুলো ইংরাজিতে হুবহু তুলে দিলে বোধহয় ভালো হত, কারণ আপনি তো বাংলা ভাবানুবাদ সাথে দিচ্ছেনই। বাংলা ফোনেটিকের ইংরাজি পড়া, সরাসরি ইংরাজি পড়ে বুঝার চেয়ে বেশি কষ্ট বলে আমার মনে হয়। ভেবে দেখবেন।

২০. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৩
শাহাদাৎ তৈয়ব বলেছেন: প্রথমেই আপনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। তারপর বলবো আপনি অবশ্যই এই সিরিজটা শেষ করবেন। আপনার জন্য অশেষ দোয়া থাকলো।তবে মুন্সী ভাই শেষ একটা পর্ব লিখবেন প্রাইভেট স্ট্যাট নিয়ে। কারণ এই লেখা পড়ার মধ্য দিয়ে প্রাইভেট বা রিমোট কন্ট্রোলড স্ট্যাটের বিষয়ি অনুধাবন করা যায়। এটা আপনি আশা করি পরিস্কার করলে সবার জন্য উপকার হবে নিশ্চয়ই। ভালো থাকুন।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪১

লেখক বলেছেন: তৈয়ব, লজ্জা না করে জিজ্ঞাসা করছি, শেষ পর্ব হিসাবে আপনি ঠিক কী চেয়েছেন আমি ঠিক বুঝিনি। আবার বলবেন?

২১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৮
হায়দার কািরগর বলেছেন: অনেক দরকারী এবং সহজ এই পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ।
আশাকরছি প্রতি পর্ব্ই দেখা হবে।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৯

লেখক বলেছেন: অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। স্বাগতম।

২২. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৪
শাহাদাৎ তৈয়ব বলেছেন: আমার কথা তো পরিস্কারই। প্রাইভেট স্টেটের কথা বলছিলাম? এ যেমন আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কথা আপনি এ লেখায় বলেছেন তাতে কি মনে হয় না এই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সবকিছুরই পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা তারাই। সে দিক থেকেই প্রাইভেট স্টেট কথাটি বলছিলাম। ফলে যেকারণে আপনার লেখার পর্বগুলোর সাথে এই বিষয়ের আভাস মোটামুটি পাওয়া যাবে বলে মনে হয়। আর শেষ পর্বে প্রাইভেট স্টেটের কনেসপ্টসহ এর রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরলে আপনার এই সিরিজ লেখার একটা পরিপূর্ণতা আসবে বলে মনে করি। আমার মনে হয় আমি আমার বক্তব্য পরিস্কার করতে পেরেছি।
০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:১৩

লেখক বলেছেন: এবার বুঝেছি। থ্যাঙ্কইউ।

২৩. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৪:২২
বৈকুনঠ বলেছেন: পরবর্তি পর্বের অপেক্ষায় রৈলাম। ধন্যবাদ
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: দুইটা দিন অপেক্ষা করেন।

২৪. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩৫
ফিনিক্সম্যান বলেছেন: পরের পর্ব কখন আসছে মুনসিজি?
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৭

লেখক বলেছেন: দুইদিনের আগে না।

২৫. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৫
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন: ভাই ভালো লাগছে....

অপেক্ষায় থাকলাম।।
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৮

লেখক বলেছেন: দ্বিতীয় পর্ব দেখুন। ভাল লাগে কী না।

২৬. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৫২
প্লাটো বলেছেন:
রথযাত্রা লোকারণ্য, মহাধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে, করিছে প্রণাম।
রথভাবে আমি দেব, পথ ভাবে আমি,
মূর্তিভাবে আমি দেব, হাসে অন্তর্যামী।

হাল জামানার এই অন্তর্যামী বিশ্বব্যাঙ্কের স্বরূপটা পরের পর্বে আরও আরও বেশি স্পেশিফিক হবে নিশ্চয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে, এদেশের মানুষ, প্রাণ, প্রকৃতি তার সমস্যা কিংবা সেই সমস্যাকে দীর্ঘমেয়াদি অথবা জটিলতর করে তোলায় এই অন্তর্যামী কি ভাবে সম্পৃক্ত ,তার লাভটা ঠিক কোথায়, সেটা বেশকিছু উদাহরণসহ আলোচনা করলে লেখার মূল যে আবেদন, যেটা আমাদের আলোড়িত করেছে, সেটা আরও সুতীব্র হয়। আর সেই রথযাত্রার নাটকে এদেশীয় মূর্তিগুলোর স্বরূপটা আরও পরিস্কার হওয়া জরুরী। বেশ কিছু কেসস্টাডি আশা করছি ভবিষ্যত পর্বগুলিতে।

সেই সঙ্গে ১/১১ এর যে প্রসঙ্গটা এসেছে সেটার উপর খুব ভালো করে সার্চলাইট ফেলবেন বলে আশা রাখি আলোচিত কনটেক্সটে। অপেক্ষায় থাকলাম।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯

লেখক বলেছেন: অন্তর্যামীর শ্লোকটা ভাল লেগেছে। কার্যকর।
তবে বিশ্বব্যাঙ্কের অন্তর্যামীটা কে তা জানতে হবে,

এই বিশ্বব্যাঙ্কের অন্তর্যামীটা আমাদের এসব আলোচনা দেখে নিশ্চয় মুচকি হাসছে।

১/১১ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ UNDP এর প্রধান, রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেসালিনের ভূমিকাটা মনে করে দেখুন।
উনার বেচার মত একটাই product বা প্রজেক্ট হলো তথাকথিত "Good Governess" এর অধীনে পার্লামেন্টের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্হায়ী কমিটিতে টাকা ঢালা। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে চাপসৃষ্টির সম্পর্ক গড়ে তোলা। (এই প্রজেক্ট চলতি সরকারের আমলেও চলছে।) এই উছিলায় তিনি ১/১১ ঘটনের একজন কুশিলবদের একজন হয়ে বসেছিলেন। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি নকল করে শান্তিমিশন থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের মিথ্যা হুমকি দিয়ে ১/১১ ঘটাতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের বাধ্য করেছিলেন। মঈনও এই হুমকি কাজে লাগিয়ে নিজের পক্ষে সেনা সদস্যদের নিজের দাসত্ত্ব-অপকর্মের সাগরেদ বানিয়েছিলেন। মঈন তার নিজের প্রকাশিত বইয়ে এসবের উল্লেখও করে রেখেছেন। তবে ডেসালিনের বদলে নি্উইয়র্কের অন্য একজনের নাম করেছেন।

অথচ সত্য হচ্ছে, জাতিসংঘের পরিচালনার নিজস্ব কোন আইনেই কোন সদস্য দেশের আভ্যন্তরীণ কোন রাজনৈতিক সংঘাতের উছিলায় বান কী মুন সহ কেউই শান্তিমিশন থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের হুমকি দেয়ার অধিকার রাখেন না। এই অযাচিত কাজ প্রমাণিত হলে বান কী মুন সহ যে কেউই চাকুরি হারাবেন।


২৭. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৩
আশিক হাসান বলেছেন: আপনার লেখাটি বেশ সময় নিয়ে পড়লাম ।যদিও আমি অর্থনীতি বিষয়ে তেমন অভিজ্ঞ নই কিন্ত তারপরও বিষয়টি যখন আইএমএফ ,জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যান্ককে নিয়ে তখন একটু নড়েচড়ে বসতে হয় বইকি।

আর আরেকটি বিষয় দেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে এই সংস্থাগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে আশা করি একটি তুলনামূলক চিত্র আপনার বিশ্লেষন থেকে পাওয়া যাবে। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে আফ্রিকায় এক বছর ইউ এনের বিভিন্ন প্রজেক্টে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তারা কিভাবে কাজ করে ।এবং বিভিন্ন ঘরোয়া মিটিং তাদের স্থানীয় জনগন সম্পর্কে তাদের (মূলত পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের) ধারনা কি এবং মূলত প্রজেক্টগুলোর প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য ধারনা গুলোর মাঝে আকাশপাতাল তফাৎ।আমাদের দেশেও আমি মনে করিনা কোন তফাৎ আছে তাদের কাজকর্মে।যাই হোক থাকলাম সাথে আর প্রিয়তে রেখে দিলাম ।ধন্যবাদ এমন একটি বিষয় ব্লগে তুলে ধরার জন্য।
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন: আপনার আগ্রহের জন্য সত্যিই ভাল লাগছে।
আমরা কেউই অর্থনীতির দিগগজ নাই। না হওয়াতেই বরং ভাল হয়েছে। নইলে দেবপ্রিয়, রেহমান সোবহানদের মত সিপিডি দোকান খুলে হয়ত দেশ বেচার বুদ্ধি করতাম, অর্থনীতি বুঝি না বুঝি, গোলাম হয়ে প্রভুর চরণে সেবা দিতাম। কাজেই দুঃখ করার কিছু নাই। আমাদের সমস্যা, স্বার্থ আমাদেরই বুঝে নিতে শিখতে হবে।

উপরে ২৬ নম্ব র মন্তব্যের জবাবটা দেখবেন। ১/১১ প্রসঙ্গটা দেখে আপনার জানাজানির সাথে মিলিয়ে নিবেন আশা করি।

২৮. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৯
পি মুন্সী বলেছেন: পরের পর্ব অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্বে আজ পোষ্ট করেছি। দেখুন Click This Link
২৯. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৬
সাপ্নিক বলেছেন: আপাতত প্রিয়তে, পরে সময় নিয়ে পড়ব।
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১

লেখক বলেছেন: অবশ্যই সময় নিয়ে পড়বেন। পড়ে ফিরে আসবেন আশা রাখি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৫৫৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই