আমার প্রিয় পোস্ট

বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (৮)

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৭

শেয়ারঃ
0 0 0

পর্ব ৭ Click This Link পর্ব ৬ Click This Link পর্ব ৫ Click This Link পর্ব ৪ Click This Link পর্ব ৩ Click This Link পর্ব ২ Click This Link পর্ব ১ Click This Link

অষ্টম পর্ব:
একজন পাঠক 'প্লাটো'র প্রশ্ন ছিল, "আচ্ছা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত শক্তি জাপান,ইটালী,জার্মানী ইত্যাদিকে শিল্পোন্নত রফতানীমুখি দেশে পরিণত হবার সুযোগ কেন দেয়া হলো? আলোকপাতটা একটু বিস্তারিত করবেন আশা রাখি" - এই প্রশ্নকে মাথায় রেখে এবারের পর্ব শুরু করছি।
প্রথমে "শিল্পোন্নত রফতানীমুখি দেশে পরিণত হবার সুযোগ" কেন দেয়া হলো? - এই অংশটাকে ঘিরে কিছু আলোকপাতের চেষ্টা করতে করতে বাদবাকি প্রসঙ্গে যাব।
কোন যুদ্ধে যে দেশকে হারানো হয় বা যে হেরে যায় তাকে আবার শিল্পোন্নত দেশে পরিণত বা পুনর্গঠিত (reconstructed) হবার সুযোগ দেয়াটা নিশ্চয় বেমানান - সাধারণ দৃষ্টিতে কোন পাঠকের এমন একটা ধারণা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আসলে এমন ধারণা করাটা কখন কখনও ভিত্তিহীন; তবে কোন পরিস্হিতিতে কখন থেকে এটা ভিত্তিহীন হয়ে গেছে সেটা জানা জরুরী। মোটা দাগে বললে, দাগটা টানা যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে আর পরে এভাবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে অর্থাৎ, কলোনী নিয়ে লড়াইয়ের যুগে - এর অর্থনীতির বিশেয বৈশিষ্ট ছিল - কলোনী মালিক , যেমন বৃটিশ বা ফরাসী, এমন কলোনি-মাষ্টার দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে শুরুর দিকে আন্তঃ-লেনদেন ব্যবসা বিনিময় উল্লেখযোগ্য নয়। বরং সে পরিস্হিতিতে কলোনি মাষ্টার ও কলোনিকৃত দেশের (যেমন বৃটেন ও তার কলোনি বৃটিশ-ভারত) মধ্যে আন্তঃ-লেনদেন ব্যবসা বিনিময়ই ছিল মুখ্য, ডোমিনেটিং; নৌ-বাণিজ্য বলতে এটাকেই বুঝানো হত। প্রত্যেক কলোনি মাষ্টার দেশে এই অর্থে একটা ন্যাশনাল ইকোনমি খাড়া করতে পেরেছিল যেখানে, এ্যন্টি-ন্যাশনাল বলতে অন্য কলোনি মাষ্টার দেশ বুঝানো হত। এই পরিস্হিতিতে কোন দেশ যুদ্ধে হেরে গেলে তাকে আবার শিল্পোন্নত দেশে পরিণত বা পুনর্গঠিত (reconstructed) হবার সুযোগ দেয়াটা অবশ্যই বেমানান; এবং তাই ছিল। কলোনি দখল পাল্টাদখলের যুদ্ধে হেরে যাওয়া দেশকে আবার অর্থনৈতিক শক্তি ফলে সামরিক শক্তিও - আকারে পুনর্গঠিত (reconstructed) হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ফিরে আসার সুযোগ দেয়া, সাহায্য করার প্রশ্নই আসে না।
কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে এই অসম্ভব ভাবা ঘটনাই সম্ভব হয়েছিল; অবশ্যই সেটা নতুন পরিস্হিতি, ঘটনায় নতুন সংযুক্ত উপাদানে। কী সেই নতুন সংযুক্ত উপাদানে বা Newly added Factor?
কলোনি মাষ্টারের ন্যাশনাল ইকোনমির ভিতরেই সেই উপাদান সুপ্ত ছিল ও লালিত হচ্ছিল। ন্যাশনাল ইকোনমি বা জাতীয় অর্থনীতি মানে এর অনুষঙ্গ হিশাবে একটা জাতি-রাষ্ট্র সেখানে আগাম আছে আর সেই জাতি-রাষ্ট্রের অর্থনীতির কথা বলছি আমরা। সেই জাতি-রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উৎপাদন, বিনিময়, বাণিজ্যে পুঁজির চলাচল (Circulation) আত্মস্ফীতিকে জাতি-রাষ্ট্রের সীমানায় একে বেঁধে সবসময় একটা জাতীয় পুঁজি (National Capital) বলে নাম দিবার কোশিশ জারি রাখতে চায় জাতি-রাষ্ট্র। অথচ এটাই স্ববিরোধাত্মক, সুপ্ত স্ববিরোধ, পুঁজির স্বভাবের স্ববিরোধ। উপরে জাতীয় পুঁজি (National Capital) বলে একটা কথা ব্যবহার করেছি। কিন্তু পাঠক লক্ষ্য করবেন, জাতীয় পুঁজি (National Capital) বলে কোন কিছু কল্পনা করা বা চেনা সম্ভব কী না? ক্রমান্বয়ে আত্মস্ফীতি ঘটানো ও চলাচলে বেড়ে চলা পুঁজি বা Capital এর সবচেয়ে স্বাভাবিক স্বভাব হলো কোন ন্যশনাল বাউন্ডারি, দেশ সীমানা না মানা; এটাই তার স্বভাব, কারণ তার স্বভাব বিকাশরুদ্ধ হয় তাতে। এজন্য স্বভাবগুণে বা দোষে যাই বলেন, পুঁজি আদতে আন্তর্জাতিক; পুঁজি মানেই আন্তর্জাতিক। বড় জোড় বলা যায় শুরুর দিকে অবিকশিত অবস্হায় স্বভাবের মধ্যে এর সুপ্ত আন্তর্জাতিক দিকটা সবার নজরে পড়ে না; পুঁজি আন্তর্জাতিক হয়ে উঠে নাই, ফলে স্বভাবটা চোখে ধরা পড়ে নাই। পুঁজির, পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের স্বভাব হলো ছড়িয়ে পড়া, মুনাফা হয়ে আত্মস্ফীতি ঘটানো - এতে সেই ছড়িয়ে পড়া জাতি-রাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে গেল কীনা, না কী ভিতরে থাকলো এটা পুঁজির বিবেচ্য নয়, বিবেচনা করাও সম্ভব নয়। এই অর্থে জাতি-রাষ্ট্র বলে কোন ভাবনা দাঁড় করানো, বাস্তবায়ন ও ধরে রাখা সম্ভব কীনা - সেই প্রশ্নে একাডেমিশিয়ান, বিদ্যানরা নির্বাক, নিরুত্তর আজও অসহায়। মহাশয় লেনিনের আমল পর্যন্ত (১৯১৫) দেখা পুঁজির বিকাশের এই রূপটা তিনি ধরে ফেলেছিলেন; লগ্নি-পুঁজির ধারণা ও সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তাঁর তত্ত্বের উপস্হাপন আমরা তখনই দেখেছিলাম। লেনিন ১৯৪৪ সাল দেখে যেতে পারেননি। পুঁজি নিজেকে সামলানো, নিজের আন্তর্জাতিক স্বভাব ও জাতি-রাষ্ট্র ধারণার বিরোধ মিটাতে দুদুটো বিশ্বযুদ্ধের ঘটানোর পর প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশে থিতু হবার কোশিশের নাম আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্ক এবং একটু দূর অর্থে জাতিসংঘ - এক কথায় পুঁজির গ্লোবাল স্বভাবের স্বীকৃতি নিয়ে ১৯৪৪ সাল থেকে এক নতুন World Economic Order এ প্রবেশ ঘটেছিল; একে আন্তর্জাতিক পুঁজির অর্থনীতি বলতে পারি। গ্লোবাল অর্থনীতি কথাটার অর্থ সহজে বুঝা এখানেই সম্ভব। জাতি-রাষ্ট্রের জয়জয়কার আমলের তথাকথিত জাতীয় পুঁজি (আসলে আমাদের বলা উচিত "কলোনি পুঁজি") বা জাতীয় অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখান থেকেই আদত-নামে গ্লোবাল অর্থনীতি বলে স্বীকার করে নেয়া হয়। পুঁজির আদত স্বভাব আন্তর্জাতিক (গ্লোবাল), যাকে জাতীয় পুঁজি বলে মিথ্যা ঠাহর করা হয়েছিল, এর স্বরূপ স্বীকার করে ১৯৪৪ সাল থেকে বলা হলো গ্লোবাল পুঁজির অর্থনীতি বা গ্লোবাল অর্থনীতি। আর এতে জাতি-রাষ্ট্র ধারণার সমস্যার কোন হাল হলো না বটে; তবে ডাঙ্গার কৈ মাছের মত জাতি-রাষ্ট্র ধারণা ক্রমশই আয়ু হারাচ্ছে সন্দেহ নাই। 'গ্লোবাল অর্থনীতি' বলে পুঁজির এই নতুন স্বীকৃতি মাত্র কয়েক লাইনে এখানে লিখে দিলাম বটে কিন্তু নতুন কী শর্তে, উপাদানে, পরিস্হিতিতে এটা ঘটা সম্ভব হলো - যেটাকে "এক্সপোর্ট অফ ক্যাপিটাল" বলা যেতে পারে, যেটা লেনিনের দেখা লগ্নি-পুঁজির ধারণারও পরের শর্ত, উপাদান, পরিস্হিতি - তা নিয়ে পরে সময়ে প্রসঙ্গ পেলে উপস্হাপন করব।
তাহলে সারকথায় দাঁড়াল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৮) আগে যেটাকে আমরা কলোনি-পুঁজির শেষ আমল বলতে পারি - আগের সেই সময় পরিস্হিতিতে কোন দেশ যুদ্ধে হেরে গেলে তাকে আবার শিল্পোন্নত দেশে পরিণত বা পুনর্গঠিত (reconstructed) হবার সুযোগ দেয়াটা অবশ্যই বেমানান - একথাটা সঠিক; কিন্তু গ্লোবাল পুঁজির অর্থনীতি বা গ্লোবাল অর্থনীতি বলে পুঁজির গ্লোবাল বা আন্তর্জাতিক স্বভাব স্বীকার করে নিয়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক ও জাতিসংঘে এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ খাড়া করে দেবার পর, কোন যুদ্ধে হেরে যাওয়া দেশকে আবার শিল্পোন্নত দেশে পরিণত বা পুনর্গঠিত (reconstructed) হবার সুযোগ দেয়াটা অবশ্যই আর বেমানান নয়, থাকেনি।

বেমানান মনে হবার পিছনে বড় যে ভাবনা কারণ হিসাবে আমাদের মনে কাজ করে তা হলো, জাপান, ইটালী বা জার্মানী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়া এই দেশগুলোকে পুরনো যে কোন জাতি-রাষ্ট্রের মত তখনও জাতি-রাষ্ট্র মনে হয়; জাতি-রাষ্ট্র - মানে একটা তথাকথিত জাতীয় পুঁজি বা জাতীয় অর্থনীতির ধারনা তখনও মাথায় চেপে বসে আছে। আরও পরিস্কার করে বলি, জাপান, ইটালী বা জার্মানী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়া দেশ বলে আর জাতি-রাষ্ট্র নয় তা বলছি না, জেতা যে কোন জাতি-রাষ্ট্রও আর জাতি-রাষ্ট্র নাই। বিষয়টা জাতি-রাষ্ট্র ধারণার, যুদ্ধে হারা বা জিতা রাষ্ট্রের নয়। আসলে গ্লোবাল পুঁজির অর্থনীতি বা গ্লোবাল অর্থনীতি বলে পুঁজির গ্লোবাল বা আন্তর্জাতিক স্বভাব স্বীকার করে নিয়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক ও জাতিসংঘে এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ খাড়া করার পর জাতি-রাষ্ট্রের ধারণার মৃত্যু ঘটে গেছে। সীমানা, রাষ্ট্র কনষ্টিটিউশন ইত্যাদির কারণে বাইরে থেকে দেখতে সবই যেন আগের মতই জাতি-রাষ্ট্র মনে হলেও কেউই আর জাতি-রাষ্ট্র নয়। বরং সবাই "গ্লোবাল পুঁজির অর্থনীতি"র অধীন; সীমানা, রাষ্ট্র বা কনষ্টিটিউশন দিয়ে গ্লোবাল পুঁজি আটকানো বা বিভক্ত নয়। জাতি-রাষ্ট্রের অধীনে পুঁজি আর গ্লোবাল পুঁজির স্বার্থের অধীনে, প্রাতিষ্ঠানিকতার (আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক ও জাতিসংঘে) অধীনে রাষ্ট্র - এককথা নয়। বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নৈতিক, রাজনৈতিক শক্তিহীন কমিউনিটি জাপান, ইটালী বা জার্মানী - গ্লোবাল পুঁজির স্বার্থ বিকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার দিক থেকে স্বর্গ বলে বিবেচিত হয়েছিল।
আবার কেবল জাপান, ইটালী বা জার্মানীর কথা মাথায় রেখে এই কথাটা বুঝলেও অর্থ সংকীর্ণ থেকে যাবে, অর্থ সবটা জানা যাবে না। পুঁজির গ্লোবাল হয়ে উঠার পথে পুরনো কলোনি সম্পর্কই ছিল সবচেয়ে বড় বাঁধা; কলোনি সম্পর্ক অর্থাৎ কলোনি মাষ্টার ও কলোনিকৃত দেশের (যেমন বৃটেন ও তার কলোনি বৃটিশ-ভারত) মধ্যে সীমাবদ্ধ আন্তঃ-লেনদেন ব্যবসা বিনিময় বাণিজ্যের মধ্য পুঁজির চলাচল (Circulation) আত্মস্ফীতি। দুদুটো বিশ্বযুদ্ধ ছিল এই সীমাবদ্ধ কলোনি সম্পর্কের মধ্যে পূঁজির বিচরণের অর্গল মুক্ত হবার যুদ্ধ। যুদ্ধের ফলাফলে পুঁজি তাই শুধু গ্লোবাল হয়েই উঠেনি বরং আগের মত আর যে কোন জাতি-রাষ্ট্রের অধীনে না থেকে উল্টা জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে পুঁজি নিজের গ্লোবাল স্বার্থের অধীনে নিয়ে আসে। এতে পুঁজির চলাচল (Circulation) আত্মস্ফীতি আগের কেবল কলোনি সম্পর্কের মধ্যে নয় বরং কলোনি মাষ্টার-মাষ্টার, মাষ্টার-দাস এমনকি, কলোনি নন-কলোনি নির্বিশেষে দুনিয়ার সকল অর্থনীতিকে এক গ্লোবাল অর্থনীতির অধীনে নিয়ে পূঁজি সর্বত্র নিজেকে বিচরণশীল ও গম্য করে নেয়।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখলে কলোনি সম্পর্ক মোড় ফিরে আলগা হয়ে পড়ার কারণে আমরা এটাকে এ্যন্টি-কলোনিয়াল আন্দোলন হিসাবে চিনি, ১৯৪৭ সালের বৃটিশের কলোনি-ইন্ডিয়া ত্যাগ, দেশভাগ, পাকিস্তান - আমরা স্বাধীনতা হিসাবে দেখি। কিন্তু আমরা যে কলোনি সম্পর্ক ছেড়ে গ্লোবাল পুঁজির অধীনে রাষ্ট্র গড়ার (বৃথা) চেষ্টা করেছি তা খুব কমই টের পাওয়া যায়।
এখানে বারবার গ্লোবাল পুঁজির স্বার্থ কথাটা বলেছি বটে তাতে, বলাটা অনেক বিমুর্ত থেকে গেছে, কর্তা দেখা পাওয়া যায় না। গ্লোবাল পুঁজির স্বার্থ কার ভিতর দিয়ে সবচেয়ে নির্ধারকভাবে প্রতিনিধিত্ত্ব ও হাজির হয়েছিল এইভাবে উত্তর খুজলে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দুবার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন (১৯১৩-১৯২১) ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনবার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ফ্রান্কলিন রুজভেল্ট (১৯৩৩-৪৫) ছিলেন সেই কর্তা। না, তাঁরা দুজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফলে স্বতঃসিদ্ধে এরা সেই কর্তাস্বত্ত্বা - এই সহজ অঙ্কে কথাটা বুঝলে ভুল হবে বা কিছুই জানা যাবে না।
"লীগ অফ নেশন" ১৯২০ - আজকের জাতিসংঘ ধারণার আগের ভার্সনের নাম। "লীগ অফ নেশন" এই আইডিয়ার জনক হলেন উইলসন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তিতে ইউরোপ যখন হারুপার্টি জার্মানির কাছ থেকে নগদ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ কীভাবে আদায় করা যায় তা নিয়ে ব্যস্ত উইলসন তখন ক্ষতিপূরণের দাবির সাথে ঐক্যমতের বিনিময়ে ইউরোপকে "লীগ অফ নেশন"এর আইডিয়া গিলানোতে ব্যস্ত। এজন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles) বিসদৃশ্যভাবে দুটো ভাগে বিভক্ত; প্রথম ভাগই "লীগ অফ নেশন" গঠন সংক্রান্ত আর দ্বিতীয় ভাগ জার্মানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত।
ব্যর্থ লীগ অফ নেশনকে জাতিসংঘ নামে নতুন করে হাজির ও বাস্তবায়ন এবং ব্রেটনউড ইন্সটিটিউশন আকারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাঙ্কের জন্মদানের রাজনৈতিক উদ্যোক্তা ফ্রান্কলিন রুজভেল্ট।
গ্লোবাল পুঁজির স্বার্থ এই দুই ব্যক্তির মাধ্যমে যতটা প্রকাশিত ও প্রতিনিধিত্ত্ব হয়েছে ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে তাঁরা অদ্বিতীয়; সেসময় থেকে আগামিদিনের বিশ্ব-ইতিহাস এদের হাতেই আকার পেয়েছে। বৃটিশ কলোনি শাসনের অধীনে থাকার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের সম্পর্কে ভারতীয় উপমহাদেশে আমরা যতটা খবর রাখি জানি, রুজভেল্টের কথা আমরা ততটাই কম জানি বা খবর রাখি। আমাদের ফর্মাল পাঠ্যপুস্তকে কেবল চার্চিলের জয়জয়কার। অথচ ঘটনা হলো, যুদ্ধে বৃটেনসহ সারা ইউরোপ আমেরিকার কাছে দেউলিয়া হয়ে ছিল, হাটু গেড়ে ভিক্ষা চেয়েছিল। আর সেইসময় রুজভেল্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তি বিশ্বের চেহারা আকার বুঝা নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন, তাতে ইউরোপের কমিটমেন্ট আদায়ের চেষ্টা করছেন। চার্চিল তখন যেকোন ওয়াদার বিনিময়ে রুজভেল্টের অর্থ সাহায্য, সমর্থন ও আমেরিকাকে তার পক্ষে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টায় দিনযাপন করেছেন। ইউরোপের সাথে আমেরিকার এই ডিলিংগুলো ষ্টাডি গুরুত্ত্বপূর্ণ।
তবু ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নয়, ১৯১৬ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত আমেরিকান সমাজের যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রেসিডেন্টদের আইন পরিষদে উত্থাপিত কয়েকটি আইন পর্যালোচনা বিশেষত, যুদ্ধে না জড়িয়ে ব্যবসা করার পরপর তিনটা আইন, Neutrality Act ১৯৩৭, ১৯৩৯ ও Lend-Lease Act ১৯৪১ খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। এখান থেকে আমরা উত্তর পেতে পারি সারা জীবন কলোনি সম্পদ লুটেও পরিশেষে, ইউরোপের কলোনি-মাষ্টাররা সবাই কেন আমেরিকার কাছে দেউলিয়া হয়ে গেল, এই পালাবদলে আমেরিকা কেন যুদ্ধোত্তর নতুন World Economic Order এর কেন্দ্র হয়ে গিয়েছিল; গ্লোবাল পুঁজির স্বার্থ কেন আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের বক্তব্য হয়ে গিয়েছিল - আগামি দিনের নতুন emperor হবার তাবত শর্ত কেন আমেরিকা পূরণ করতে পেরেছিল। এসব নিয়ে আগামি কোন পর্বে কথা হতে পারে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (৮)বিশ্বব্যাঙ্ক ও আইএমএফ - গ্লোবাল অর্থনীতি (৮) ;
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
পি মুন্সী বলেছেন: আয়াত@
আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি খুবই লজ্জিত এখানে আপনার মন্তব্য দুটো গায়েব হয়ে গেছে।

ভোর রাতে এই পোষ্টটা দেবার পর ঘুম থেকে উঠে দেখি ফার্স্ট পেজে পোষ্ট টা উঠে নাই। এবার আবার ফার্স্ট পেজে আনতে পারলাম দেখি কিন্তু আপনার মন্তব্য দুটো হাওয়া হয়ে গেছে।

আপনি যে লিঙ্কটা দিয়েছিলেন ওটার জন্য বেশি আপসোস হচ্ছে। সম্ভব হলে একটু আবার কষ্ট করে দিবেন?
২. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৩
আয়াত বলেছেন: কি আর করা দিতাসি...
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: অনেক ভাল লাগল আয়াত। আপনি কষ্ট করতে রাজি হয়েছেন।

৩. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৩৯
আয়াত বলেছেন:
কহিতে বাসনা ছিল,
(জাতী)রাষ্ট্র নাই হয়া গেছে...!
এই দবি কলিযুগে কেহ কেহ কইতে আছে
আ মরি, সত্যযুগ আসিছে দ্বারে
এত বিলম্ব করে এত রাজচক্রবর্তীর লহু ব্যবসা সেরে

নাই হলে তথাস্তু, নাই কিছু? বটে!
নিখিল নাস্তির মাঝে তবু কিছু রটে...
না থাকারও 'থাকা' আছে, আছে বিস্তার
নতুন নিয়মে পুরাতন সংহার

কে মরিয়া কি বাচিল? কে খাইল মৃতদেহ!
সেই ঠাহর হইল না। শুধু শকুনের দিন
নিয়ে গেল বাজপাখি, আকাশ ঢাকিয়া গেল চিলে
অর্থনীতির তত্ত্ব গড়িয়া গেল, প্রান্তদেশে...

বড় বিচিত্র, বড় অদ্ভূত, অর্ন্তযামী অট্টহাসে

দ্রষ্টব্য(Click This Link)
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০২

লেখক বলেছেন: আমি অভিভুত।
আমি কবিতা লিখতে পারলে উপরের পোষ্ট টা না লিখে এই কবিতাটাই লিখতাম বোধহয়। কবিতায় আমার চেয়ে ভাল লিখেছেন; "(জাতি)রাষ্ট্র নাই হয়া গেছে...!" অথবা "প্রান্তদেশে..." - এই ব্যবহারগুলো দেখে মজা পেয়েছি।



লিঙ্কটা বেশ কাজে লাগবে। ধন্যবাদ।

৪. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩৩
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: ব্যাপক কবিতা জন্মাইতেছে দেখি আপনার পোস্টে!
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৯

লেখক বলেছেন: হ তাই তো দেখত্যাছি।
এটা কি আমার না পোষ্টের হাতযশ এ নিয়ে ধন্ধে আছি।

৫. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৭
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: এবার আসল কথায় আসি।

আপনার আলোচনায় যে দিকটাকে ভারকেন্দ্রে রেখে যুক্তি সাজিয়েছেন তাতে তাত্ত্বিকভাবে এইরকম একটা সিদ্ধান্ত টানা যায়। ঠিক আছে। পুজিঁর আন্তর্জাতিকতার উন্মেষ একইসাথে কার্যত বিশেষ বিশেষ সীমানা ও মানচিত্র নির্ধারিত স্বার্থের বর্ম ভেদ করে যাবার প্রয়াসে তৎপর সাংগঠনিক পরিবর্তনও জন্ম দিবে। তার কিছুটা মহাশয় লেলিন ধরেছেন; বাকিটা বাকি পড়ে আছে। সেটাও গ্রাহ্য।

কিন্তু আপনি যে র্যাডিকাল পরিবর্তনের কথা বলতে চাইছেন সেখানে বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দুনিয়াদারির হালচালই শুধু নয় আরো অনেক কিছু বর্তমান ছিল। বাজার বা বিনিময় সম্পর্কের পরিবর্তন কি করে পুঁজির বিস্তার তৈরি করে আর পুজিঁ নিচে কখন নিজেকে রপ্তানী যোগ্য করে তুলে সেট দুটা বিষয় কিন্তু এক নয়।

আবার রপ্তানী করার বেলায় এমন একটা ক্ষেত্র বেছে নিতে হয়েছে যার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার ছিল না। সে অর্থে ওগুলো আলাদা(স্বধীন) রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করার জায়গায়ই ছিল না। সে সবদেশে বিনিয়োগ বা পুঁজি রাপ্তানী করার মানে ''রপ্তানীর'' না বলে নিরাপদ ও সুবিদা জনক জায়গায় স্থানান্তর করা বলা যেতে পারে। সেটা করা আর যাবতীয় প্রতিকুল শর্ত ও সমস্যা মোকাবেলা করে আন্তর্জাতিক চরিত্রের মূর্তিধারণ করা কি এক হবে?
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৮

লেখক বলেছেন: আশা করি কিছু মনে করবেন না, আপনার প্রশ্ন, বক্তব্যগুলোকে আবার একটু স্পষ্ট করবেন?

অনুমানের উপর আগাতে চাচ্ছি না। প্লিজ।

৬. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৩
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন: কিছু বুঝলাম না- আগের পর্বগুলো পড়তে হবে- প্রিয়তে নিলাম-
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩১

লেখক বলেছেন: ওরে বাবা, এটাকে আমি বড় অভিযোগ হিসাবেই নিচ্ছি।

কী বুঝলেন না সেটা জানিয়ে আমাকে সাহায্য করতে পারেন। আমি খুশি হব।

৭. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৬
মনজুরুল হক বলেছেন:

একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখতে পারছি না। ব্যক্তিগত আর সমষ্টিগত এতবেশি ঝামেলায় আছি যে চিন্তার স্থিরতা পাচ্ছিনা। উপমা মেয়েটিকে নিয়েও নতুন করে চিন্তা বাড়ছে। তবে এটা সহ সবগুলো পর্বই নিয়ে রাখলাম, যা আমার আয়ূর্বেদীয় মহৌষধের মত কাজে দেবে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে কাগজের কলামে ইনপুট দিয়েছি। বলা বাহুল্য এখানকার সাহায্য নিয়েই।

আর একটা তথ্য দিতে চাইছিঃ- আপনার এই লেখাগুলি কম্পাইল করে আনু ভাইয়ের সাথে বসতে চাই। আপনি চেতনে হোক বা অবচেতনে হোক আনু ভাইয়ের বেশ কিছু ট্রাডিশনাল ফুট নোটস খারিজ করেছেন। ভাল লেগেছে। প্রথার বাইরে নতুন প্রথার জন্মচিৎকার শুনতে পাচ্ছি। ব্রাভো! এর পরেও যদি আরো পর্ব থাকে তো সেটা আর একটু তাড়াতাড়ি দেবেন আশা করি। অনেকটা আব্দারের মত শোনালেও কিছু করার নেই মুন্সী।
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪

লেখক বলেছেন: আপনি মাঝে মাঝে কোথায় যে হারিয়ে যান - বড়ই অস্বস্তিতে পড়ি। আপনার উপর ভরসা করতে চাই (ইংরেজিতে যাকে বলে count on, এর একটা সুন্দর ইনফরমাল বাংলা আছে "গোনায় ধরা") আর আপনি ধরা দিতে চান না।
যাই হোক কী আর করা পোষ্ট নজর করার জন্য স্বাগত জানাই; সত্যি সত্যিই ধন্য করেছেন আমাকে।
এখন বলেন "আয়ূর্বেদীয়" কেন? "মহৌষধের" কথা সবটা না হলেও কিছুটা ধরতে পারি বোধহয়। "আয়ূর্বেদীয়" না হয়ে এলোপ্যাথি নয় কেন? কাগজের কলামেই বা কী ইনপুট দিয়েছেন? ভোরের কাগজ দেখা হয় না বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া। সম্ভব হলে পেজ লিঙ্ক দিয়েন, দেখতে চাই।

আনু ভাই বলতে কাকে বুঝিয়েছেন, আনু মুহম্মদ কী?

আমি যা কিছু করি খারিজ বা গ্রহণ, চেতনেই করি। তবে কারও নাম নেবার চেয়ে চিন্তাটাকে গ্রেফতার করাটা জরুরী; ওকে যাচাই, বাতিল বা গ্রহণ, বর্ধনের কাজের দিকে আমার চোখ। এটা ঠিকই ধরেছেন আমার ধারণা বাজারে আনার আগে আমাদের সমাজের যে ধারণাগুলোর উপরে তা আনছি তার সম্যক ধারণা রাখার চেষ্টা করি। করি এজন্য যে আমি যা বলতে চাই তা কিভাবে বললে আমার লক্ষ্য হাসিল হবে সফল হব, পাঠক বুঝবে, সেটা আগাম জানা আমার কাছে খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিশেষত, উপস্হিত চিন্তার সমস্যা বা জট কোথায়, কিভাবে চিন্তা করে - তা না জানলে নতুন চিন্তার ভাত নাই; আমি এটা বিশ্বাস করি। "প্রথার বাইরে" নতুন কথা আনার এটা চিরন্তন সমস্যা। পাঠককে চিন্তা করতে শিখিয়ে অভ্যস্ত করে তবেই এরপর এখানে নতুন কথা শোনানোর সুযোগ মেলে। এভাবেই হামাগুড়ি দিয়ে চলছি। এখন হামাগুড়ি থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারি আপনার মত কয়েকজনের সাহায্য পেলে, সেই লোভেই আপনাদের কয়েকজনকে গোনায় ধরা।

আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্ক নিয়ে আমার যা বলবার আছে তা এভাবে পর্বে বললে ছয়-আট মাস চলবে বলে আমার ধারণা; একএকটা পোষ্টে ১৫০০ শব্দের বেশি দেওয়া যায় না। এছাড়া আমি যা বলতে চাই সেটাকে মুখ্য করে নয় বরং আমার পরিকল্পনার ভিতরে পাঠকের আগ্রহের প্রসঙ্গকে স্পর্শ করে করে এর ভিতর দিয়ে আগাতে চাই; ব্লগ ইন্টারএকটিভ বলে সে সুযোগের পূর্ণ সদব্যবহার করতে চাই। উল্টা করে বললে, পাঠক আগ্রহ অংশগ্রহণ কম হলে পর্ব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। আমি এভাবেই দেখি।

৮. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০২
প্লাটো বলেছেন: ধন্যবাদ, আজকেই চোখে পড়লো আপনার পোস্ট। পু্রোটা পড়লাম। ব্যাপারটা আরও পরিস্কার করার জন্য একটা প্রশ্ন নিয়ে হাজির হলাম। ব্যাস্ততা অনেক তাই কখনও-সখনও দেরী হতে পারে, তবে সঙ্গে আছি নিশ্চিত।

জাপানের টয়োটা, জার্মানির মার্সিডিজ কিংবা ইটালির ফিয়াট যদি আমেরিকান জিপ, ক্যাডিলাক বা ফোর্ডের বিকল্প হয়ে উঠে তবে সেটা আমেরিকা ভুখন্ডের পুঁজিপতির স্বার্থ কিভাবে রক্ষা করে? ফিনল্যান্ডের পুঁজিপতির নোকিয়া কিভাবে আমেরিকান পুঁজিপতির এইচ,টি,সি মোবাইলের স্বার্থ রক্ষা করছে? জার্মান পুঁজিপতির কারখানায় তৈরী নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর যদি আমেরিকাকে কিনে ব্যবহার করতে হয় তবে সেটা একই ব্যবসায় জড়িত আমেরিকান পুঁজিপতির জন্য কেন শুভ হবে? কিংবা ফ্রান্সের অস্ত্র রফতানীর সক্ষমতা কিভাবে আমেরিকার অস্ত্র ব্যাবসায়ীর জন্য কল্যানকর হচ্ছে?
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪

লেখক বলেছেন: এবার পোষ্ট দিতে দেরি হলো বলে চেষ্টা করেছিলাম পোষ্ট দেবার পর আপনাকে নোটিফাই করতে; কিন্তু কোন মেইল এড্রেস খুঁজে পাইনি।

প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়েছেন দেখে খুশি হয়েছি। আপনার প্রশ্ন আমাকে আমার কথা স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে। সঙ্গে থাকবেন।

আপনার প্রশ্নটা আপাত চোখে শক্ত যুক্তির উপরে দাঁড়ানো মনে হলেও আসলে তা খুবই ঠুনকো, দূর্বল কিছু ধরে নেয়া ভাবনার উপর দাঁড়ানো। সাধারণভাবে বলি,
১. পুঁজি বিভিন্ন উৎপাদন ট্রেডে আলাদা বা বিভিন্ন মালিকানা দখলে আলাদা - বাইরে থেকে দেখে এভাবে এদের আলাদা মনে হলেও এদের পারস্পরিক স্বার্থ, অস্তিত্ত্ব এক বেনুনিতে গাথা, নির্ভরশীল - interwoven বলতে আমরা যা বুঝি তাই। এতে একজনে যে ভুমিকা পালন করে তা অপরের জন্য ঘোরতরভাবে যায়-আসে ম্যাটার করে; বাঁচামরার প্রশ্ন হয়ে। ফলে তা, দেখতে আলাদা আলাদা সব পুঁজি হলেও এদের সবার জন্য সামগ্রিকভাবে একটা সাধারণ স্বার্থ হিসাবে হাজির হয়ে থাকে। পুঁজির এই সাধারণ স্বার্থ সবকিছুর উপরে এতই ডোমিনেটিং ও নির্ধারক যে সামগ্রিকভাবে সব পুঁজির কারবার বেঁচে চালু থাকবে, না লোপাট হবে সেই ভাগ্য-নির্ধারকও বটে। এই মৌলিক স্বার্থ স্বভাবের দিকে তাকিয়ে আমি বলছি পুঁজি গ্লোবাল, আন্তর্জাতিক। এর দেশ কাল, রাষ্ট্র সীমানা, বিশেষ ট্রেড বলতে কিছু নাই।
২. এর মানে এই নয় যে যখন সে সুনির্দিষ্ট উৎপাদন ট্রেডে যেমন ওষুধ বা গাড়ী উৎপাদনে, আমরা যখন একে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে চোখ ফেরাই তখন আবার ঐ উৎপাদক-পুঁজিগুলোর মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন প্রতিযোগিতা নাই; অথবা এগুলো অস্বীকার বা অপসৃত হয়ে যায়। পুঁজি গ্লোবাল স্বভাব স্বার্থ আছে বলে একই ট্রেডে (যেমন ওষুধ উৎপাদনের) ম্যানুফ্যাকচারদের মধ্যে কঠিন প্রতিযোগিতা নাই বা বন্ধ বা অস্বীকৃত হয়ে যায় নাই। একই ম্যানুফ্যাকচারিং ট্রেডে (যেমন ওষুধে) একই দেশে যেমন ম্যানুফ্যাকচারারদের মাঝে যেমন কঠিন প্রতিযোগিতা আছে তেমনি দেশের সীমা ছাড়িয়ে একই ট্রেডের মধ্যে কঠিন প্রতিযোগিতাও চিরবর্তমান জারি আছে।

১৯৪৪ সালে আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিকতায় নতুন যে ফ্যাক্টর যোগ হয়েছিল তা হলো, পুঁজি যে গ্লোবাল, আন্তর্জাতিক - এর সাধারণ স্বার্থ স্বভাব যাকে আমি গ্লোবাল, আন্তর্জাতিক বলে বুঝতে বলছি সেই সাধারণ স্বার্থ স্বভাবকে জায়গা করে দেবার, রক্ষা করার জন্য ইনডিপেন্ডেন্ট ও পরিকল্পিতভাবে এই প্রথম কিছু প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব আমরা দেখেছিলাম।
পুঁজির গ্লোবাল বা সাধারণ স্বার্থ বলে আমার কথাটা বিমুর্তভাবে থেকে যাচ্ছে; একটু মুর্ত চেহারায় প্রকাশের চেষ্টা করি। পুঁজির সাধারণ স্বার্থ হলো - বাজার অন্তহীনভাবে বেড়ে চলতে হবে, তার জন্য অন্তহীনভাবে প্রয়োজনীয় শর্ত তৈরি করে চলতে হবে। অন্তহীনভাবে বাজার সৃষ্টিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন সমস্ত অর্গলের বিরুদ্ধে আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা বা অন্য কোন কারণ যেন সামনে পথ আটকে না দাঁড়ায় - সেই কাজে নির্মম হস্ত হতে হবে। বাজার নিরন্তর বাড়া মানে মুনাফায় আত্মস্ফীত পুঁজিকে পুনঃ পু্‌নঃ বিনিয়োগে বসার জায়গা করে দেওয়া। একাজে দেশ, রাষ্ট্র, কনষ্টিটিউশন, বাউন্ডারী ইত্যাদি সব বাঁধা হটিয়ে একাকার করে সামনে এগিয়ে বাজারকে, ভোক্তা সৃষ্টিতে নিরন্তর কাজ করে যেতে হবে। বাজার বাড়লে যে কোন ম্যানুফ্যাকচারিং ট্রেড, উৎপাদনে আগে বাড়তে পারবে। এবং বলা বাহুল্য একাজ আবার বেনুনিতে গাথা, পরস্পর নির্ভরশীল - interwoven হয়েই ঘটবে।

এখন আমি বারবার গ্লোবাল পুঁজির গ্লোবাল স্বার্থের দিকে আঙ্গুল তুলে চেনানোর চেষ্টা করছি। প্লাটো আপনার প্রশ্নগুলো ততই প্রত্যেক উৎপাদক ট্রেডের আভ্যন্তরীণ চিরবর্তমান প্রতিযোগিতা দিকে কেবল মনোযোগী হবার কারণে আমার ধারণায় আপনাকে আসতে দিচ্ছে না। আমি কথা বলছি মূল স্রোতের (mainstream) কথা হাইলাইট করে, সেদিকে দৃষ্টি ফেরাতে। আর আপনি, সব মূল স্রোতের ভিতরে যেমন কিছু বিপরীত স্রোত (undercurrent) থাকে তেমন কিছু আন্ডার কারেন্টের কথা তুলছেন বলে আমার কথা আর আপনার প্রশ্নকে বিপরীত মনে হচ্ছে।
প্রথমত বলি, লক্ষ্য করুন আপনার কথাগুলো প্রচ্ছন্নভাবে জাতি-রাষ্ট্রের পুঁজি, স্বার্থ, "ভুখন্ডগত পুঁজিপতির স্বার্থের", অস্তিত্ত্বের দিক থেকে তোলা। আমার মূল পোষ্টে জাতি-রাষ্ট্র ধারণাকেই প্রশ্ন করে বলেছিলাম এটা পুঁজির গ্লোবাল স্বার্থের বিরোধী, সংঘাতপূর্ণ। ১৯৪৪ সালে আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিকতার পর থেকে পুঁজির গ্লোবাল স্বার্থই মূল স্রোতের (mainstream) হয়ে অধীপতির আসন নিয়ে নিয়েছে। এরপর বাকি সবকিছুই তার অধীন, বিপরীত স্রোত (undercurrent) হয়ে জীবনের শেষ সময় কাটাচ্ছে; ফলে একালে জাতি-রাষ্ট্রকে অপসৃয়মান দেখছি।
কিন্তু তবু আপনার প্রশ্ন প্রতিযোগিতার, "ভুখন্ডগত পুঁজিপতির স্বার্থের" প্রতিযোগিতার। তাই আপাতত একটা নতুন ধারণার খবর দেই যা জারি আছে - "প্রতিযোগিতা ম্যানেজমেন্ট" বলে। আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কেরও উপরে World Capital স্বার্থ সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণীগত গবেষণা নিয়ে কাজকর্ম করে চলেছে এমন বহু প্রতিষ্ঠান আছে। তেমনই একটা হলো, Organization for Economic Cooperation and Development (OECD)। "প্রতিযোগিতা ম্যানেজমেন্ট" বিষয়ক তাদের গবেষণালব্ধ পরামর্শ, খেলার নিয়ম আইন-কানুন তৈরি আইএমএফ-বিশ্বব্যাঙ্কের পাথেয়। এই প্রতিষ্ঠান গরীব দেশের বিপক্ষে শিল্পায়িত দেশের স্বার্থ ঠিকঠাক বুঝে নেবার ক্ষেত্রে একজন নিগোশিয়েটরও বটে।

এরপরও আপনার প্রশ্নের সবটা উত্তর এখনও হয় নাই। আপনার প্রশ্নের ভিতর জাপানের টয়োটা, জার্মানির মার্সিডিজ কিংবা ইটালির ফিয়াট ইত্যাদিকে একটা সরাসরি উৎপাদক-পুঁজির স্বার্থের বিষয় বলে ধরে নেয়া আছে। উৎপাদক-পুঁজি - যে নিজেকে সরাসরি উৎপাদনে জড়িয়ে, বাজারজাত করে নিজের মুনাফা-আত্মস্ফীতিতে পূঁজির চক্র পরিপূরণ করে। পুঁজি এখন এত সাধাসিধা জায়গায় আর নাই। বিনিয়োগ পুঁজি (ওয়াল ষ্ট্রিট) বলে আলাদা কিছু এখন উৎপাদক-পুঁজিকে অধীনে নিয়ে রেখেছে। আবার বিনিয়োগ পুঁজির সাথে উৎপাদক-পুঁজির ঘর করার সম্পর্কও আছে। সিনেমা তৈরির ব্যবসায় যেমন প্রযোজক (বিনিয়োগ- পুঁজি) ও পরিচালকের (উৎপাদক-পুঁজির) সম্পর্ক দেখতে পাওয়া যায় - সাদা চোখে খুব সহজ দেখা উদাহরণ হলো ওটা। এনিয়ে আরও কথা বলতে হবে। কালকে আলাদা পোষ্টে পাবেন।

৯. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
মনজুরুল হক বলেছেন:

ঠিক আছে, পর্ব আকারে না হয়ে পাঠকের প্রশ্ন বা আগ্রহ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোকপাত করে একটা আলোচনার সুতো তুলে ধরা.... এটা যদি চিন্তক হয় তাহলে বলতে পারি আপনি পুরোপুরি সফল। সেই সফলতা এই সমাজে ইনক্যাশ করা গেল কি গেলনা তা নিয়ে ভাববার কিছু নাই।

হ্যাঁ, আনু মুহম্মদ(আমাদের গুণিজনদের আবার শুধু নাম বললে উষ্মা দেখা যায়)। তার কিছু বিষয়ে আমার দ্বিমত ছিল, কিন্তু হাতের কাছে মনের সেই কথাটি সূত্রবদ্ধ ভাবে পাচ্ছিলাম না। আপনি সেই অভাব দূর করেছেন।

আজ আর নয়। এর পরের বার সত্যিই আলোচনায় থাকব। মাঝে মাঝে হারিয়ে যাই না, হারাতে হয়।

"আয়ূর্বেদীয়" এ কারণে যে প্রাচ্য এখনো তার ভেষজের গুণাগুণ যথাযথ ভাবে জানেনি বলে এলোপ্যাথিকে ওয়াকওভার দিয়েছে। চিন্তা করুন, হ্যানিম্যানের জন্ম মাকর্সের আগে না হয়ে পরে হলে হোমিওপ্যাথিকে আমরা বস্তুবাদসহ পেতাম।
২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

লেখক বলেছেন: উপরে প্লাটোর প্রশ্নটাকে যেভাবে মোকাবিলা করেছি লক্ষ্য করবেন।

কথা দিয়েছেন হারিয়ে যাবেন না।

আর ভোরের কাগজে আপনার কলামের লিঙ্ক দেন নাই। লিঙ্ক না পেলে আমার মেইলে পোষ্টও করতে পারেন।

১০. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১০
পি মুন্সী বলেছেন: সাধারণভাবে সব পাঠকের কাছে একটা আবেদন রাখতে চাই।

বোকার মত প্রশ্ন - বলে কিছু নাই। আমার লেখায় যে কোন শব্দ, বাক্য অস্পষ্ট এমনকি অসর্তকে ভুলও থেকে যেতে পারে, উপস্হাপনের ভুলও হতে পারে, যা কোন বিরাট জানাশুনা পাঠক নয় বরং সাধারণ পাঠকের ভাবনা বিচারবুদ্ধিতে ধরা পড়তে পারে। ফলে আমি বিশ্বাস করি কোন প্রশ্ন বা মন্তব্যই অগুরুত্ত্বপূর্ণ নয়, বোকার মত প্রশ্ন - বলে তো কিছু নয়ই। বরং যে কোন মৌলিক বা সাধারণ প্রশ্ন বা মন্তব্য আমার কাছে নিজেকে সংশোধন করে নেবার সুযোগ, বক্তব্যের ডিরেকশন ঠিক করে নেবার সুযোগ।
অতএব "বোকার মত হয়ে যায় কিনা" এই খামোখা দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে একাজে সকলের অংশগ্রহণই একমাত্র সমাধান। আশা করি পাঠক আমাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবেন না।
১১. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৮
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন: লেখক বলেছেন: ওরে বাবা, এটাকে আমি বড় অভিযোগ হিসাবেই নিচ্ছি।

না না- সেইরকম কিছু না- আমি আগের সব পর্ব পড়ে শেষ করি- আপনি যে বিষয় অলরেডি লিখে দিয়েছেন সেটা না পড়ে প্রশ্ন করাটা তো সময়ের অপচয়- সেটাই বলতে চেয়েছিলাম=
২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯

লেখক বলেছেন: ওকে বুঝতে পেরেছি। থ্যাঙ্কু।

১২. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪২
প্লাটো বলেছেন: কমেন্ট ৮ এর ধারাবাহিকতায় বলছি। পূঁজির স্বার্থ মানেই এর পিছনে মুষ্ঠিমেয় পূঁজিপতির স্বার্থ বা মুষ্ঠিমেয় পরিবারের স্বার্থ।সেই অর্থে আপনার গ্লোবাল পূঁজির স্বার্থকে শেষ অবধি বিশ্বজুড়ে কতিপয় মুষ্ঠিমেয় পরিবারের স্বার্থ ভাবাটা কেন ভূল বলে আপনার মন হচ্ছে?
২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭

লেখক বলেছেন: ওরা "কতিপয় মুষ্ঠিমেয় পরিবারের" একথাটা ভুল না শুদ্ধ এমন কথা আমি বলি নাই। এটা আমার প্রসঙ্গও নয়। সংখ্যার বিচার তুলে আমরা কয় কদম আগাব - এটা আমাদের কাছে নি:সন্দেহে ভোটের গণতন্ত্রের মামলা নয়। তবে আপনি অবশ্যই কথা এভাবে তুলতে পারেন।

ওরা "কতিপয় মুষ্ঠিমেয় পরিবারের" হোক আর না হোক প্রশ্ন হচ্ছে এটাই পুঁজির অধিপতি ট্রেন্ড, সকলের উপরে যা ছেয়ে বসে আছে; ফলে এই ট্রেন্ডে কোনটা আমাদের দূর্বল জায়গা কোনটা সবল এটা খুঁজে বের করা এই পরিস্হিতিকে বদলাবার জন্য আমরা কী কৌশল নিতে পারি তার জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ। তাই গ্লোবাল পুঁজির সর্বশেষ গতি প্রকৃতি, অভিমুখ হালহকিকত জানার চেষ্টা আমার চলতি পর্ব অবতারণার কারণ।

১৩. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৭
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: ঠিক আছে সবিস্তারে এক এক করে বলার কোশেশ করি। আল্লাহ ভরসা।

''বাজার বা বিনিময় সম্পর্কের পরিবর্তন কি করে পুঁজির বিস্তার তৈরি করে আর পুজিঁ নিজে কখন নিজেকে রপ্তানী যোগ্য করে তুলে সেই দুইটা বিষয় কিন্তু এক নয়। ''--এই দিকটা নিয়ে অলরেডি আপনি আরেকটা পোস্ট দিয়ে ফেলেছেন। বিশেষত পুজিঁর নিজেকে রপ্তানী বা বাইরে বিনিয়োগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার চরিত্র ও প্রয়োজনের দিকটা।

এখানে আর যে বিষয়টা পরিষ্কার করা দরকার সেটা হলো, কলোনি বনাম বৈশ্বিক বাজার বা বিনিময় সম্পর্ক। অর্থাৎ কলোনি মাস্টারের যুগে বিনিময় রূপের সাথে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া 'বিনিময়' এবং বাজারের মৌলিক তফাগুলো কি। সেখানটাতে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাজার তৈরির প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাঙ্ক বা আইএমএফ বাজারের ভাবনাটা কিভাবে ভাবল? এগুলো খুব একটা স্পষ্ট হয়নি।

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৮

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। পরের পর্বে ইতোমধ্যেই নিজেকে অনেকটা স্পষ্ট করে নেবার সুযোগ নিয়ে ফেলেছি।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গ যেটা তুলেছেন - এটা ঠিক যে ১৯৪৪ পর নতুন 'বিনিময়' সম্পর্ক এবং বাজার বিকাশের প্রসঙ্গে আমি বিস্তারে যাইনি, যেতে পারিনি। কারণ, বিনিয়োগ-পুঁজি রূপের ভিতর দিয়ে পুঁজির গ্লোবাল আত্মপ্রকাশের নতুন World Economic Order এর দিকে ফোকাস রাখতে চেয়েছি বলে।
আপনার কথা মনে রাখব, পরে কোন পর্বে আনার চেষ্টা করব।

১৪. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০০
জিপিএস বলেছেন: ''পুঁজির গ্লোবাল হয়ে উঠার পথে পুরনো কলোনি সম্পর্কই ছিল সবচেয়ে বড় বাঁধা'' --বিগ স্টেটম্যান্ট। এখানে গ্লোবাল কথাটা কি অর্থে ব্যবহার করছেন তা আরেক প্রস্ত ক্লিয়ার করতে পারেন?
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৫

লেখক বলেছেন: বিগ স্টেটম্যান্ট মানে কী বুঝালেন? বক্তব্যে মালমশলার চেয়ে সিদ্ধান্ত বড়; নাকি মালমশলা, সিদ্ধান্ত দুটোই ফলে কালামও বড়?

গ্লোবাল কথাটার একটা অর্থ যেখান থেকে আপনি কোট করেছেন ওর সাথেই দুলাইন পরে আছে। বলেছি, "এতে পুঁজির চলাচল (Circulation) আত্মস্ফীতি আগের কেবল কলোনি সম্পর্কের মধ্যে নয় বরং কলোনি মাষ্টার-মাষ্টার, মাষ্টার-দাস এমনকি, কলোনি নন-কলোনি নির্বিশেষে দুনিয়ার সকল অর্থনীতিকে এক গ্লোবাল অর্থনীতির অধীনে নিয়ে পূঁজি সর্বত্র নিজেকে বিচরণশীল ও গম্য করে নেয়"।

আবার পরের নবম পর্বে, গ্লোবাল কথাটা আর এক দিক থেকে অর্থ উল্লেখ করেছি, এভাবে: "পুঁজি গ্লোবাল, ওর সুপ্ত গ্লোবাল স্বভাবকে দৃশ্যমান করে হাজির হয়েছে বিনিয়োগ-পুঁজি রূপ আবির্ভাবে; আর তা সম্ভব হয়েছে, ভুখন্ড ছেড়ে ছড়িয়ে পড়া স্বভাব বা ভুখন্ডের উর্ধে থেকে বিরাজ করার কারণে। ফলে পুঁজির বিনিয়োগ-পুঁজি রূপ একালে গ্লোবাল পুঁজির লিডিং বা চরিত্র নির্ধারক রূপ"।

অর্থাৎ প্রথমটায় পুঁজির জগৎময় বিচরণশীল হয়ে উঠার দিক থেকে সে গ্লোবাল, এদিকটাই ফোকাস। ওখানে পুঁজি তা কোন রূপের কারণে হয়েছে সেটা মুখ্য করিনি, সাধারণভাবে পুঁজি বলেছি।
আর পরের পর্বে রূপের দিকটায় ফোকাস। পুঁজির কোন রূপ আবির্ভাবে তা ঘটেছে বা ঘটতে পেরেছে সেটাই বিষয়। পুঁজি বিনিয়োগ-পুঁজি রূপে লিড দিয়ে সাধারণভাবে পুঁজিকে গ্লোবাল করেছে। এটা ঘটিয়েছে। পরে অন্য সকল রূপ এর অনুগামি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ দিতে চেয়েছিলাম ওখানে লেখা বড় হয়ে যাবার ভয়ে দেইনি। এবার এখানে যুক্ত করে দেই।

পণ্য উৎপাদনে ব্রান্ড বলে একটা জিনিষ চালু আছে। অনেক আগের কথা বলছি, সত্তরের দশক। সাবান তৈরিতে আমাদের দেশে তা স্হানীয়ভাবে তৈরি ও এর একটা ছোটখাট বাজার ছিল। আর ব্রান্ড বলে একটা পশ ভাব নিয়ে বাজারে একচেটিয়া মাখন খেত লিভার ব্রাদার্সের লাক্স। ও আমলে ব্রান্ড ছাড়া সাবানের বাজারে প্রবেশ অসম্ভব ছিল। কেউ যদি অপর কোন ব্রান্ডের সাথে আন্ডার লাইসেন্স চুক্তি করে ঐ ব্রান্ড দেশে তৈরি করতে চাইতো তবে ঐ লাইসেন্সের মুল্য একটা থোক দাম, এর উপরে ব্রান্ডের মালিকের ইচ্ছামত দামে মেশিনারিজের মুল্য আর প্রতিটা উৎপাদিত সাবানের মুল্য থেকে একটা পারসেন্টেজ কমিশন মিলিয়ে ব্রান্ড মালিককে দিতে হত। এক খামোখা ব্রান্ডের অজুহাতে বিরাট এক ওভারহেড গুনতে হত। ফলে এই বোঝা মাথায় নিয়ে বাজারে প্রবেশের চিন্তা একটা ফ্লপ আইডিয়া ছিল।
এখন ঘটনা হলো, ব্রান্ড হলো মূলত পণ্যের উপর ভোক্তার একটা আস্হা বিশ্বাসের ব্যাপার, বাকিটা প্রচারের কৌশল। বাজার যদি তৈরি হাজির থাকে পণ্যের মান ঠিক রেখে স্হানীয়ভাবে নতুন ব্রান্ডের জন্ম দেয়া কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু সমস্যা হলো মেশিনারিজে আর এছাড়া কিছুটা টেকনিক্যাল নো-হাও এর ব্যাপার আছে ওতে। ব্রান্ড কিনব না, কেবল মেশিনারিজ কিনব - এভাবে আলাদা যদি কিনতে পাওয়া যায় তবে স্হানীয় উৎপাদনে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কিন্তু ব্রান্ডের নামসহ ছাড়া যদি মেশিনারিজ কিনতে না পাওয়া যায় তাহলে কিছুই উদ্ভাবন সম্ভব নয়।
ওদিকে ব্রান্ড কোম্পানীকে মেশিনারিজ যে বানিয়ে দিয়েছে সে হতে পারে আলাদা কোন কোম্পানী অথবা ব্রান্ড কোম্পানীরই অন্য উইং বা অধীনস্হ আলাদা কোন কোম্পানী। মেশিনারিজ কোম্পানীর স্বার্থের দিক থেকে দেখলে তার আরও মেশিন বানিয়ে নিজ পণ্যের প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রে ঐ ব্রান্ড নামটাই বাধা। কারণ ব্রান্ড নাম ছাড়া মেশিনারিজ বিক্রি যায় না, নিষেধ। এই অসুবিধা নিয়ে ধুকতে ধুকতে এক সময় বিনিয়োগ-পুঁজি নিজের দিক থেকে দেখলে ওর কাছে ব্রান্ডই বা কী আর মেশিনারিজই বা কী! যাতে টাকা লাগালে মুনাফা আসে, তুলনায় বেশি মুনাফা আসার সম্ভবনা সে তাতেই ঝাপিয়ে পড়বে। মাথায় করে গু বিক্রি করলে যদি মুনাফা বেশি পাওয়া যায় সে তাতেই রাজি। এর ফলে মেশিনারিজ কোম্পানী আলাদা স্বাধীন হয়ে ক্রেতা খুঁজার পথ ধরার পথ পেয়েছিল।
আমাদেরকেও সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এখন লাক্সের চেয়ে মার্কেট শেয়ার স্হানীয় কোম্পানীগুলোর বেশি; হালাল সাবানের কথা আর কী বলব।

তাহলে মুল কথা হলো, বিনিয়োগ পুঁজির ভুমিকা ও স্বার্থে, পণ্য বাজারে মেশিনারিজ তৈরির কোম্পানীর আলাদা স্বাধীন হওয়া একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটা এতদূর গিয়েছে যে ওষুধ তৈরির মত জটিল টেকনোলজির এবং শক্ত ব্রান্ড ও প্রপার্টি রাইটের পণ্য থার্ড ওয়ার্ল্ডে তৈরি করা কোন ব্যাপার নয়। এইড রোগের ওষুধ বানানো নিয়ে কী তুলকালাম ঘটে গেছে তা নিশ্চয় অনেকেই জানেন।

১৫. ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৮
জিপিএস বলেছেন: Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) নিয়ে আপনার আরো আগেই লেকার কথাছিল। সে যাই হোক।

সাধারণ অবস্থার মধ্যে বিশেষ স্বার্থ কিভাবে তৈরি হয়, তার রকমফের বোঝার জন্য এটা সহায়ক হবে সন্দেহ নাই। কিন্তু তারো চয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ খোদ পুজিঁ নামক বিমূর্ত বিক্রমের মূর্ত ক্রম বা সকর্ম কর্তার স্বরূপ খুজেঁ নেওয়া।
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪৮

লেখক বলেছেন: ভাল সামআপ করেছেন।

OECD প্রসঙ্গ ভুলিনি। এর পরের পরেরটা অর্থাৎ এগারো পর্ব তুলব আশা রাখি।

১৬. ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮
মুসতাইন জহির বলেছেন: @ প্লাটোর ১২ নম্বর প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতায় একটা কথা বলতে চাইছি। এখানে যে থারণা থেকে প্রশ্নটা আসছে সেটা হলো ''পুজিঁ'' কে(বড় হরফের সি) ''সামষ্টিক পুঁজি''র (ছোট হরফের সি) সাথে এক করে দেখা বা এক করে ফেলা।

পুজিঁ'র নিজস্ব এবং নৈর্ব্যাক্তিক একটা চলন আছে যা কোনো ব্যক্তি-বিশেষের এমন কি গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করে না। সেখানে পুজিঁর নির্বিশেষ স্বর্থ বা চরিত্রই প্রধান্য বিস্তার করে। সেটা প্রধান প্রবণতা বা সার্বিকভাবে নেচার অব ক্যাপিটাল দ্বারা নির্ধারিত। সেই নেচার বা প্রকৃতি বিভিন্ন রূপের মধ্যে আপন স্বভাব বজায় রাখার কাজে নিরত থাকে। কিন্তু ঐতিহাসিক যে রূপটা পুজিঁর প্রকৃতিকে আরো ব্যাপক আকারে হাজির করতে পারে, বিস্তার ঘটাতে পারে সেটাই অন্য সকল রূপকে পিছনে ঠেলে প্রাধান্য বিস্তার করে বা করবে। আর সকল খন্ড খন্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুজিঁ সমূহ সেই প্রাধান্যের অধীন হতে থাকবে। করে নিবে।

এখন ধরা যাক দুই ধরণের পুজিঁ--১. উৎপাদক পুজিঁ ২. বিনিয়োগ পুজিঁ পাশাপাশি সক্রিয় আছে। এই দুই পুজিঁ একে অপরে সাথে স্বভাবতই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। সেখানে পুজিঁর স্বভাবে আপন আত্মস্ফীতি ঘটানোর তাড়না উভয়ের মধ্যে আছে। সেই দিক থেকে কেউই আলাদা নয়, যাকে আমরা স্বার্থ বলি। কিন্তু সেই স্বার্থ বিশেষ বিশেষ।

এখন কোন পুজিঁ বা কোন ক্ষেত্রটা প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে সেটা বিশেষ স্বার্থের মামলা নয়। সেটা একেবারে বিশুদ্ধভাবে অন্তর্গত স্বভাবকে বাধাহীনভাবে প্রসারিত করতে পারার কর্তাসত্তার উপর নির্ভর করে। এখান থেকেই আসে নৈর্ব্যক্তিকতার প্রশ্ন। কারণ অন্য সব কিছুর উপর এটা প্রাধান্য লাভ করতে থাকবে। এটাই লজিক অব ক্যাপিটাল।

ফলে এই ক্ষেত্রে 'পূঁজির স্বার্থ মানেই এর পিছনে মুষ্ঠিমেয় পূঁজিপতির স্বার্থ বা মুষ্ঠিমেয় পরিবারের স্বার্থ।' এভাবে বললে আসলে বিশেষ ও নির্বিশেষ স্বার্থের ফারাকটা আর বুঝা যাবে না। তাই কেন একটা পুজিঁ আরেকটা পুজিঁর উপর ঐতিহাসিকভাবে প্রাধান্য লাভ করল সেটাও আর ধরা যাবে না। পুজিঁর ঐতিহাসিক রূপের পরিবর্তনের প্রকাশ সহ খোদ পুজিঁ ব্যপারটাই লুপ্ত হয়ে যায়। সেখানে অবশিষ্ট থাকে কিছু মুষ্টিমেয় লোক। তাই মনে হয়, সবসময়ই যারা কোনো না কোনোভাবে লোভাতুর ফিকিরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুরো ব্যাপারটা ছাপিয়ে থাকে প্রিঅকুপাইড় একটা মোরাল জাজমেন্ট। এবং বুঝা যায় না কেন মালিকানা বা সম্পত্তি রূপেরও পরিবর্তন ঘটে বা ঘটছে; কেন পুজিঁ আজ এ জায়গায় এসে দাঁড়াল কিংবা আগামীতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২১

লেখক বলেছেন: বাহ, আমার থেকে ভাল গুছিয়ে লিখেছেন। ভাল হয়েছে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৭৮৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই