আমার প্রিয় পোস্ট

কোপেনহেগেন: দুনিয়া যখন ধ্বংসের পথে সম্মেলনে তখন বাঁশি বাজাতে দেখছি

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫৪

শেয়ারঃ
0 7 0

জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্হিতির মোকাবিলা নিয়ে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে বিশ্বসম্মেলন ৭-১৮ ডিসেম্বর ২০০৯ চলার পর বলা চলে গতকাল তা শুন্য হাতে নিষ্ফলা হয়ে শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের সদস্য ১৯২টি সব দেশ এই সম্মেলনে গ্রীণহাউস গ্যাস বা মূলত কার্বন নিঃসরণ (carbon emissions) উদ্গীরণে দুষণের ভয়াবহতার মধ্যে দুনিয়াকে রক্ষা করার পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিল; যদিও সম্মেলনের কার্যকর কোন সিদ্ধান্তে তা পরিণত হতে পারেনি। ওদিকে, উন্নত দেশগুলোর "শিল্পে" অগ্রসরতার বড়াই আমরা শুনে আসছি বহুদিন থেকে যার আসল মানে, কার্বন দুষণের বড়াই। কিন্তু "শিল্পে" অগ্রসরতার বড়াই ও এর সুবিধা নিতে এতদিন তাদের আমরা যতটা আগ্রহী দেখেছি আজ বিপরীতক্রমে ঠিক ততটাই কার্বন দুষণের বড়াই ও দুনিয়া ধ্বংসের দায়দায়িত্ত্ব নিতে তারা দায়িত্ত্বহীনভাবে অনাগ্রহী ও পিছু হটে পালানোর অজুহাত খুঁজছে; শুধু তাই নয় একই ষ্টাইলে "শিল্পে"র নামে দুনিয়া ধংসের কারবার চলুক এটাই চাইছে।

প্রকৃতিতে সাময়িক আবহাওয়ায় পরিবর্তন নয়, জলবায়ু পর্যায়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি জনিত দুষণ বিষয়টা এমন যে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর গড় গ্লোবাল তাপমাত্রা যদি দুই ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বেড়ে যায় তবে সম্ভবত দুনিয়ায় আমাদের জানা প্রজাতিকুলের ৩০-৪০ পার্সেন্ট এর বিলুপ্তি ঘটবে। গত পনেরই ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এক কনফিডেন্সিয়াল ডকুমেন্টের একটা মন্তব্যে জানা যাচ্ছে, সম্মেলনের এপর্যন্ত কার্বন নিঃসরণ কাট করা সম্পর্কে ১.৫-২.০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড গড় তাপমাত্রা কমানো নিয়ে যে সব প্রস্তাব খুচরা আলোচনা চলছে তা আসলে প্রায় ৩.০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড গ্লোবাল তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে রোধ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
দুনিয়ার সব পশু পাখি গাছপালা মানুষ জীব পানি আর জড় - এসব মিলিয়ে দুনিয়ায় একটা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে বলেই দুনিয়া টিকে আছে; দুনিয়ায় এই জড় ও প্রাণের বৈচিত্রে এক ভারসাম্যে আছে বলেই একে আমাদের মত করে বা মানুষের দিক থেকে এটাকে ঠাউরে বলি - দুনিয়া মানুষের বসবাসের যোগ্য জায়গা। অথচ এখন গ্লোবাল তাপমাত্রা বাড়ার কারণে কেবল শুধু প্রজাতিকুল নয় ভয়ঙ্কর রকমের সব তাপদহ হল্কা, খরা, বন্যা, সাইক্লোন, সমুদ্রের উচ্চতা - ঘর, পেশা চ্যুত মানুষ - ক্ষতির এসবই আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে; কোথাও কোথাও সেসব ভয়ংকর ক্ষতির আলামতও দেখা দিতে শুরু করেছে।

এতদিন মনে করা হত, এখনও অনেকেই তা ভাবেন, মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক হলো যেন জবরদস্তি করে প্রকৃতির জানু চেপে নিজের আহার সংস্হান বের করাই মানুষের কাজ; আর যথেষ্ট উদার নয় এমন প্রকৃতির বিরুদ্ধে নিজের শ্রেষ্ঠত্ত্ব কায়েম করাই হচ্ছে মানুষের ধর্ম। এটাকেই আমরা অনেকের মুখে বলতে শুনি মানুষ তার পরিচয় দিচ্ছে - "প্রকৃতি জয়ী মানুষ" - বলে, আর এর ভিতরই মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবা হয় তা জাহির হতে দেখেছি।
তার মানে প্রকৃতির জানু চেপে ফসল বা মানুষের আহার সংস্হান বের করাই কী মানুষের কাজ, মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক ? নাকি মানুষ প্রকৃতির এক প্রজাতি মাত্র; জড় প্রাণের বৈচিত্রের এক ভারসাম্য এই প্রজাতির বসবাস বেঁচে থাকার শর্ত তৈরি আছে তাই এই মানুষ-প্রজাতি প্রকৃতিতে, দুনিয়ায় আছে?
তবে, মানুষ প্রকৃতির এক প্রজাতি মাত্র - এই বয়ান একটু কম-করে-বলা বয়ান, আন্ডার-ষ্টেটমেন্ট। মানুষ এমনই এক প্রজাতি যে বোঝাবুঝির ক্ষমতা রাখে, জ্ঞান বলে যাকে চিনি - এমন এক শারীরীক ফ্যাকাল্টি ও যোগ্যতা তাঁর আছে। ফলে মানুষ নিজে কেবল প্রকৃতির এক প্রজাতি-মাত্র হলেও সারা প্রকৃতির নিয়ম কানুন, ছন্দ, বৈপরিত্য, বৈচিত্র ভারসাম্য - অর্থাৎ প্রকৃতির মধ্যে বসে থাকা নিজেকেসহ সব কিছু সে জানতে বুঝতে পারে। ওদিকে জানা বুঝা মানেই আবার সমস্যা - কারণ মানুষের জানাবুঝা মানে একইসাথে নিজের কর্তব্য করণকর্ম বোধ জাগা; জেনে বুঝে তো কেবল জ্ঞানের পাথর বা ডিব্বা হয়ে বসে থাকা যায় না কারণ, মানুষ মানেই তো একশন - সক্রিয়, তৎপর মানুষ। ফলে কথা কোথায় দাঁড়াল - মানুষ তার কর্তব্য-ধর্ম পালনে কেবল নিজেকে নয়, সারা প্রকৃতির জীব জগৎ প্রাণ সবাই একটা প্রাণবৈচিত্রের মধ্যে ভারসাম্যে যেন থাকে - একে রক্ষা করা, দেখেশুনে রাখা - সেই কর্তব্য। আমরা মৌলবি হলে বলা যেত - মানুষ নূহ নবীর মত দুনিয়াতে আল্লার প্রতিনিধি বা খলিফা হয়ে এই কর্তব্য পালন করে; অথবা, এটা মানুষ আশরাফুল মুখলুকাত হিসাবে তাঁর কর্তব্য; অথবা, প্রজাতি-মানুষ প্রকৃতিতে তাঁর সীমা-কর্তব্য জানে আর আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না - ইত্যাদি এইসব বয়ান।
পাঠক কারও খটকা লাগতে পারে এই ভেবে যে, তাহলে মানুষ আর প্রকৃতি - এদুইয়ের মধ্যে একে অপরের উপর বিজয় ঘোষণার করার সম্পর্কের ব্যাপার নাই তা হয়ত বুঝলাম কিন্তু, দুটোকে আলাদা সত্ত্বা ভাবতে পারি কী? না, আলাদা সত্ত্বা ভাবার প্রশ্নই উঠে না। আগেই বলেছি মানুষ প্রকৃতির এক প্রজাতি মাত্র - অর্থাৎ মানুষ প্রকৃতিরই এক হিস্যা বা অংশ। সেই অর্থে মানুষও প্রকৃতি তো বটেই। আবার কেবল মানুষের দিকে তাকালে ওর চিন্তা ফ্যাকাল্টি আছে - এই বিশেষ বৈশিষ্টটুকু বাদ দিলে সে তো প্রকৃতির আর পাঁচটা প্রজাতির থেকে আলাদা কিছু নয়। এছাড়া আরও কথা আছে, মানুষ জন্য যা কিছুই তাঁর আহার ভরণপোষণ, জীবনযাপন, সংস্হানের উপায় - এসব কিছুই তো সে সংগ্রহ করে, করা সম্ভব হচ্ছে প্রকৃতির বাকী অংশ থেকে, বাকী অংশের জন্যই তা সম্ভব হচ্ছে; প্রকৃতিকে ভোগ (appropriation) করেই মানুষের জীবনধারণ, জীবন পুণরুৎপাদন ঘটছে, ঘটতে পারছে। ফলে কাকে মানুষ আর কাকে প্রকৃতি বলে ভাগ করব, না এটা অসম্ভব।
তবে ভাব প্রকাশে কথা বলার সময় মনে হয় আমরা মানুষ ও প্রকৃতি বলে একটা ভাগ করে ফেলি। আসলে এটা ঠিক ভাগ করা নয়; বলা উচিত হবে দুই দিক থেকে দেখার, দেখে বলার কারণে একটা পার্থ্ক্য। একই জিনিষকে বিভিন্ন দিকথেকে দেখে কথা বলা যায়, ফলে একটা আপাত পার্থক্য হচ্ছে মনে হতে পারে - এটা সেরকম।

সারকথায়, মানুষ প্রকৃতি যা তাই হয়ে উঠছে অথবা প্রকৃতিই মানুষ হয়ে উঠছে; এভাবে দুটোই বলা যায়।

কথা শুরু করেছিলাম পরিবেশ, জলবায়ু, দূষণ এগুলো নিয়ে - এখন পাঠক চিন্তা করে দেখতে পারেন কার পরিবেশ, জলবায়ু, দূষণ? মানুষের না প্রকৃতির?

দেখা যাচ্ছে প্রকৃতি, পরিবেশ ব্যাপারগুলো বুঝার ক্ষেত্রে একটা ঘোরতর মৌলিক ও গভীর ফিলসফিক্যাল বা ভাবদর্শনের ব্যাপার আছে আমরা যার কিছুটা ভিতরে ঢুকে পরেছিলাম। এখন আপাতত ফিরব।

তাপমাত্রা দুষণের কথা বলছিলাম। দুষণ নিয়ে কাজ করতে যেয়ে একে কোয়ানটিফাই করে অর্থাৎ একটা পরিমাণগত ধারণা তৈরি করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে একধরণের গ্রাউন্ড জিরো বা বেঞ্চমার্ক ধরা হয়েছে ১৯৯০ সালকে। ১৯৯০ সালের সময়ে গ্রীণহাউস গ্যাসের দূষণ যা ছিল দুষণের মাত্রা সে জায়গায় ফিরিয়ে আনতে কত কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে বা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে হবে - এই নিয়েই ২৫% বা ৪০% দূষণ কাট করার কথার মানে দাঁড়িয়ে আছে। সেই সাথে আগামি কত বছরের মধ্যে এই ২৫% বা ৪০% দূষণ কাট করা হবে এটাও গুরুত্ত্বপূর্ণ; কারণ কত বছরের মধ্যে এটা সহ পার্সেন্টের কথা না বললে বছরে কত হারে কাট করা হবে সে কথা বুঝা যাবে না বা কোন মানে দাঁড়ায় না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ২০২০ সালের মধ্যে ২০% নিঃসরণ দূষণ কাট করা হবে - এটা ধরে নিয়ে এমন একটা ধারণা নিয়ে কার কী দায়, করণীয় তা নিয়ে আলোচনা আগাতে বলছেন। কিন্তু কোপেনহেগেন সম্মেলনে আমরা দেখলাম কিছুই আগাচ্ছে না।
কেন?

দুনিয়া, প্রকৃতি ধ্বংসের ঘটনাকে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা বলে যদি দেখি, তার মানে এটা গ্রীণহাউস গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ উদ্গীরণের সমস্যা। ফলে কার্বন নিঃসরণ হার কমানো, ক্ষতিপূরণ - এসবের দায়দায়িত্ত্বের ভাগ নিয়ে ঠেলাঠেলি, কোন আইনী বাধ্যবাধকতার দলিল তৈরির বা না-তৈরির দরকষাকষি - এই হলো কোপেনহেগেন সম্মেলনের বিষয়।

আমরা অনেকে মনে করছি, জলবায়ুর ক্ষতির একটা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারলে এই বিশ্বকে ধ্বংস এর হাত থেকে রক্ষা কর যাবে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ আদায় করেই কী এই বিশ্ব প্রকৃতিকে ধ্বংস হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব - এই প্রশ্নকে যাচাই করে দেখবার দরকার আছে।

লেখার বাকি অংশ পরের দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে দেখুন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কোপেনহেগেনজলবায়ুপ্রকৃতি-মানুষ ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: ভাল।

২. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৬
রিফাত হাসান বলেছেন: আপনার লেখা পড়ার জন্য লগ-ইন করলাম। অনেকদিন পর। কিন্তু পুরা পড়া হলো না। কী ব্যস্ততাই যে যাচ্ছে। আবার ভিতরে ডাক পড়ল। আপনি ভাল আছেন তো?
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:১৭

লেখক বলেছেন: অভিনন্দন।
ভিতরে ডাক পড়া খারাপ কিছু না বরং ভাল।
সময় করে পড়বেন।

৩. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৪
জাতেমাতাল বলেছেন: কোপেনহেগেন সন্মেলন নিয়ে একটা ভাল লেখা পড়লাম। আশা করি এই লেখাটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হবে।

নিঃসন্দেহে প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক আমাদের নতুন ভাবে উপলদ্ধি করতে হবে। সেই সাথে আমাদের জীবন যাপনের নতুন একটা পদ্ধতি খুঁজে বের করারও সময় এসেছে।
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে জাতেমাতাল।

হ্যাঁ, আমাদের জীবন যাপন মানে আমাদের লাইফ ষ্টাইল নিয়ে ভাববার সময় হয়ে গেছে বহু আগেই।

৪. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
জাতেমাতাল বলেছেন: এ ধরনের জলবায়ু সম্মেলন শেষ পর্যন্ত কি আদৌ কোন সমাধান আনতে পারে কিনা, বিভিন্ন মেরুর পরস্পর বিরোধী স্বার্থকে এক সুতায় বাঁধতে পারে কিনা, জানি না।

তবে আজকের খবরে ভারত, দঃ আফ্রিকা, চীন এবং ব্রাজিল যাদের বেসিক কান্ট্রি বলা হচ্ছে, তাদের সাথে ওবামার শেষ মুহুর্তে একটা বৈঠক ও খসড়া একটা প্রস্তাব তৈরীতে কিছু আশার বানীর কথা প্রকাশ পেয়েছে।

মনে হচ্ছে ওবামা তার শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসার একটা আলামত দেখাচ্ছে...
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৭

লেখক বলেছেন: যতই অবস্হান শক্ত বা নরম হোক, যতই ভাল ভাল চুক্তি হোক, আবার কিয়োটো প্রটোকলের মত ভাল কিছু একটা স্বাক্ষর হোক -

দুনিয়ার উপস্হিত পরিস্হিতি বদলে তার কোনই ছাপ পড়বে না।

মূল কারণ, "শিল্প" ধারণাটা তখনও সবার কাছে অটুট, এ্যজ-ইট-ইজ আগের মত আছে, তাই।
"শিল্প" ধারণায় বদল আনা রি-ডিফাইন করা মানে "industry" ‘civilization’, ‘growth’ and ‘development এই সবগুলো ধারণায় বদল, রি-ডিফাইন করা। কোনটা "সভ্যতা" আর কোনটা "সভ্যতা" নয় এর নতুন ধারণায় পৌছাতে হবে, অর্থনৈতিক গ্রোথ মাপার নতুন ধারণা লাগবে, কোনটা উন্নয়ন কোনটা নয় এর নতুন ধারণা লাগবে।

এগুলোর প্রত্যেকটার সাথে গভীর দার্শনিক, ভাব বা দর্শনের প্রশ্ন জড়িত - যেগুলো মোকাবিলা করেই একমাত্র আমরা সামনে আগাতে সক্ষম হতে পারি।

এখান থেকে আমাদের ভোগের প্যাটার্ন বদল আসতে পারে, এককথায় যাকে আমাদের লাইফ ষ্টাইলে বদল বলতে পারি।

সোজা কথায় ক্যাপিটালিজম বলতে আমরা যে শিল্প, উৎপাদন, ভোগ পরিণতিতে আমাদের লাইফ ষ্টাইল এতদিন বুঝতাম সেসব ধারণায় একটা র‌্যাডিক্যাল পরিবর্তন লাগবেই।

তবেই প্রকৃতি, মানুষ - এই দুনিয়া টিকে যাবার কোন রাস্তা যদি বের করতে পারে!


৫. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৩
মুসতাইন জহির বলেছেন:
কার্বন ট্রেড... আর তহবিলের হিস্যা,
এই দুই মিলে আমাদের দেনদরবার কিস্যা
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: বাহ একটা ভাল কবিতা হয়েছে তো!
আপনি কবিতাও পারেন জানতাম না।

ধন্যবাদ মুসতাইন।

৬. ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৮
জাতেমাতাল বলেছেন: ...এককথায় যাকে আমাদের লাইফ ষ্টাইলে বদল বলতে পারি।

এটাতো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার মনে হচ্ছে। আমাদের চিন্তা চেতনার একটা আমূল পরিবর্তন ছাড়া এই কাজ আমরা অর্জন করতে পারব বলে মনে হয় না।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৮

লেখক বলেছেন: চিন্তায় র‌্যাডিক্যাল হওয়া মানে তো তাইই; বিপ্লব আগে চিন্তায় ঘটে।


সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে একটা ম্যাট্রিক্স সাজালাম, কেমন লাগে দেখেন:

শিল্প > উৎপাদন > ভোগ > লাইফ ষ্টাইল > জীবন যেভাবে প্রকাশিত;
শিল্পের ষ্টাইল > উৎপাদন অথবা ভোগের ষ্টাইল;

পণ্যের সচিত্র বিজ্ঞাপন = শিল্পের ষ্টাইল
পণ্যের সচিত্র বিজ্ঞাপন = উৎপাদন অথবা ভোগের ষ্টাইল
পণ্যের সচিত্র বিজ্ঞাপন = নতুন লাইফ ষ্টাইল

পণ্যের সচিত্র বিজ্ঞাপন = শিল্প বা পণ্যোৎপাদক প্রকৃতিতে জীবন যেভাবে প্রকাশিত রাখার দাবি করে = জীবনে প্রকাশিত প্রকৃতি?

আধুনিক?

৭. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৪
মুসতাইন জহির বলেছেন: এই লিংকটা(Click This Link) চোখে পড়েছে কি?
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুসতাইন।

৮. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৪
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: পুরো সম্মেলনজুড়ে কথার বাহাদুরি ছাড়াতো কিছুই দেখলামনা।
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩১

লেখক বলেছেন: কথার বাহাদুরি ছাড়া ওদের "শিল্পে" বাসনা লুকানোর আরও কি পথ আছে বলেন। বাকোয়াজই ভরসা।

তবে শেষ বিচারে লাভ হয় নাই, চাতুরি উদাম হয়ে গেছে।
ধন্যবাদ প্রণব। ভাল থাকবেন।

৯. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫০
মনজুরুল হক বলেছেন:

ইস্ একটু আগে পোস্টটা খেয়াল করলে পুরো লেখাটা কাগজে তুলে দিতে পারতাম। ভুলটা আমারই।

আগামী শনিবার দুই পর্ব একসাথে করে আমার কলামে কম্পাইল করব। আগাম বলে রাখছি ।

এখনই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। এই মাত্র ১৬ তম পর্ব লেখা শেষ করে পোস্ট কলাম। তাই এই লেখা নিয়ে এখন কোন আলোচনা করছি না।

প্যান্ডোরার বাক্সো খুলে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ মুন্সী।

অ.ট. এই মন্তব্যটিই আমি আর একটি পোস্টে ভুল করে দিয়ে এসেছি!!
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৮

লেখক বলেছেন: কোন অসুবিধা নাই, কাগজে তোলেন। দুই পর্ব এক বসাতেই লেখা।

আমার ইমেইলটা নীচে জুড়ে দিতে ভুলেন না।
আর ছাপার পর খালি একটু কষ্ট করে লিঙ্কটা আমার এড্রেসে পাঠিয়ে দিয়েন। আশা করি বেশি ঝামেলায় ফেললাম না আপনাকে।

আসলে বিরক্ত হয়ে গেছিলাম এই ক্ষতিপূরণের কথা শুনতে শুনতে। বেকুবরা এমন একটা ভাব তৈরি করেছে যেন ক্ষতিপূরণের অর্থ পাই পাই করে চুকিয়ে দিলেই বা বুঝে পেলেই climate Justice কায়েম হয়ে যাবে। সবাই আবার "শিল্পে"র রমরমা বাজারে ফিরতে পারবে।

অথচ কারও হুঁশই নাই, শুধু দুষণ না বরং দুষণের হোতা খোদ "শিল্প" বলে যে ধারণা দুনিয়াতে রাজত্ত্ব করে গেছে তা সমূলে চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।

আবার এই "শিল্প" বলতে যা বুঝিয়েছি একে আরও স্পষ্ট করতে বলব; ক্যাপিট্যালিজম হাতে এবং ষ্টালিনিজমের হাতে যে "শিল্প" আমরা দেখেছি, বুঝেছি, কামনা করে এসেছি সব মিথ্যা, ভুয়া প্রমাণ হয়ে গেছে। ক্যাপিট্যালিজম ও ষ্টালিনিজমের বলে এরা আলাদা হলেও এদের উভয়ের কাছেই এটা ছিল "শিল্প বিপ্লব"। ক্যাপিট্যালিজম ও ষ্টালিনিজম -এই উভয়েরই "শিল্প","শিল্প বিপ্লব" - এই ধারণাগুলো এক সাথে চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে, যাকে মোকাবিলা করার কোন চিন্তা বা দার্শনিক ক্ষমতা এদের কারোই অবশিষ্ট নাই।

এটা শুধু "শিল্প","শিল্প বিপ্লব" - এই ধারণাগুলোকেই চ্যালেঞ্জ নয়, এই চ্যালেঞ্জের অর্থ আরও সুদুর প্রসারী। কারণ সামগ্রিকভাবে এটা - ক্যাপিট্যালিজম ও ষ্টালিনিজম - দুটোরই খোদ দার্শনিক মৌলিক ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করে ছেড়েছে। এর মূল কারণ, মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক কী, প্রকৃতি মানে কী এর দার্শনিক উত্তর এদুটোর কারও কাছে নাই । এর উত্তর জোগাড় না করে, হোমওয়ার্ক না করেই এদুটোই "শিল্প","শিল্প বিপ্লব" এর ভেলা ভাসিয়েছিল।

কাজেই এই প্যান্ডোরার বাক্সো না খুলে আর উপায় কী বলেন?


আপনার ১৫ পর্বটাই পড়া হয়নি এখনও। একসাথে দুইটাই পড়ব এখন।

১০. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০১
ত্রিভুজ বলেছেন: শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না। লাইফ জ্যাকেট কিনে রাখতে পারেন....
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪

লেখক বলেছেন: কী হবে আশা করেছিলেন? জানতে পারলে ভালো লাগত।

আর, লাইফ জ্যাকেট - ওতে বড় জোড় লাইফ জ্যাকেটের ব্যবসা হবে হয়ত!

১১. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০১
জাতেমাতাল বলেছেন: শিল্প বিপ্লব নিয়ে আপনার সমালোচনার জায়গাটা ঠিক বুঝি নাই, আমাদের সভ্যতার জন্য শিল্প বিপ্লব তো এক বিরাট অর্জন...

আশা করি আপনি তার সমালোচনা করছেন না। যদিও কার্বন নিঃসরন শুরু হয়েছে শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথেই।

আসলে জীব প্রকৃতিকে রক্ষার যে প্রশঙ্গের অবতারনা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে একমাত্র বৈপ্লবিক উত্থানের মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হবে, এর ভিন্ন কোন রাস্তা নাই। এমন কি সমাজতান্ত্রিক উত্থান বলতে আমরা এ যাবৎ কাল যা ভেবে এসেছি (যা মুলতঃ ষ্টালিনিজমের গর্ভস্রাব), এ উত্থান সেই সীমাবদ্ধতাকেও ছাপিয়ে উঠতে হবে।

কিন্ত প্রশ্ন হলো কিভাবে কোন কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে আমরা এই লক্ষ অর্জন করতে পারি...?
২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:২৬

লেখক বলেছেন: ১. "আমাদের সভ্যতার জন্য শিল্প বিপ্লব তো এক বিরাট অর্জন..." - তাই কী? এটাকেই তো প্রশ্ন করছি। এটা নিয়ে বিস্তারিত করতে চেয়ে এক পাতা লিখেছিলাম আলাদা পোষ্টে দিব ভেবে। পারিনি।

২. তবু আপনার কথা থেকেই যদি ধরি, "যদিও কার্বন নিঃসরন শুরু হয়েছে শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথেই" - কম করে হলেও আপনি আমার কথাই তো বলছেন। প্রকৃতির উপর মানুষের, "বিজ্ঞানের" বিজয় ঘটছে - এই মনোভাব নিয়েই কী "শিল্প বিপ্লব" ঘটানো হয়নি। এতে আসলে কার উপর কার বিজয় ঘটেছে? মানুষের নিজের কোন অঙ্গ যেমন তাঁরই অন্য এক অঙ্গের উপর বিজয় লাভের কথা ভাবে না, বলা যেমন বাতুলতা এটা তেমনই নয় কী? প্রকৃতি কী মানুষের বাইরে, না কী মানুষ প্রকৃতির বাইরে?

ধরেন আপনি যেমন লিখেছেন, "আসলে জীব প্রকৃতিকে রক্ষার যে প্রসঙ্গের অবতারণা....." - একথাটার মধ্যেই আছে প্রকৃতি যেন বাইরের কেউ যাকে আপনি মানুষ রক্ষা করার সংকল্পের কথা ভাবছেন - এমন একটা ভাব লুকানো আছে; আমরা যেমন আমার শরীরের বাইরের কারও কষ্ট বা সমস্যা দেখলে পরামর্শ দেই কিছু করার চেষ্টা করি, মানবিক বোধ ভর করে আমাদের মধ্যে - সেরকম। কিন্তু আসলে কী ব্যাপারটা মানে প্রকৃতি-মানুষ এর সম্পর্কটা এরকম? ভেবে দেখবেন।
এরপর কোন সমাধা বের করতে পারলে যদি মনে হয় এটা একটা "বৈপ্লবিক উত্থান" ঘটে গেছে আপনার মধ্যে তাহলে তাই; এটা নিয়ে অস্বস্তির কী আছে?

৩. "সমাজতান্ত্রিক উত্থান বলতে আমরা এ যাবৎ কাল যা ভেবে এসেছি (যা মুলতঃ ষ্টালিনিজমের গর্ভস্রাব)" - না আমি এভাবে বলতে পছন্দ করব না। ব্যাপারটা তো এমন নয় যে সমাজতান্ত্রিক উত্থান বলতে ভাল কিছু একটা ছিল আর ষ্টালিনিজম সেটাকে তা হতে না দিয়ে গর্ভস্রাব বানিয়ে ছেড়েছে!
এভাবে ভাববার মানে হলো, যেটাকে "ভাল" বলছেন সেটা কিন্তু একটা কল্পনা (ideal), বাস্তব না, বড় জোড় বাস্তবে কেমন হতে পারে তার একটা কল্পনা চিত্র। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটে, পাওয়া যায়, করে দেখা যায় বা তৈরি করা যায় তা সবসময়ই ভিন্ন কিছু একটা হবেই, অবধারিত। ideal এর সাথে real এর এই ফারাক কোনদিন ঘুচবে না, ঘুচে নাই। ফলে এবিচারে এটাকে যদি গর্ভস্রাব বলতে চান বলেন। তবে এর মানে হবে, "real সবসময়ই ideal এর গর্ভস্রাব" - এরকমের একটা কথা। অবশ্যই এটা খুব সত্যি কথা, কিন্তু এতে আমরা একটা চিরন্তন সত্যির কথা আবার আউরালাম মাত্র, নতুন কোন মানে বের হলো না এতে।

বরং ষ্টালিনিজম "সমাজতান্ত্রিক উত্থানের" একটা প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষা - এভাবে বলতে পারেন কী না দেখুন। মনে রাখতে হবে, এর আগে কোন বাস্তব উদাহরণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কিন্তু নাই।
কাজেই সব ঝেটিয়ে বিদায় করার কিছু নাই আবার, সব ভাল ও ঠিক ছিল এটাও আর এক বেকুবি অনুভব হবে।
আসলে দরকার একটা গভীর পর্যালোচনা, পুরানো অভিজ্ঞতাগুলো তাতে যদি কাজে লাগাতে পারি বা আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ হলো, আসলেই তত্ত্বগত মৌলিক ভুল, সীমাবদ্ধতা সত্যি সত্যিই কিছু ছিল কী না এটা পরখ করে ঠিকঠাক সিদ্ধান্তে যেতে হবে। আবার বলে দিলেই হবে না যে এটা বা সেটা ভুল, কেন ভুল বলছি - সেটার ন্যায্যতা দেখাতে হবে।

তবে আপনি ঠিকই বুঝেছেন, "এ উত্থান সেই সীমাবদ্ধতাকেও ছাপিয়ে উঠতে হবে" - স্বভাবতই এটা হবে সেই ন্যায্যতা। সাধারণভাবে আমরা সেটা বলতে পারি।
কিন্তু কী সেটা তা এখনও যথেষ্ট স্পষ্ট করে এখনও বলা হয় নাই, আমি বলতে পারিনি, আপনাদের সহযোগিতায় চেষ্টা করছি।
ভাল থাকবেন।

১২. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩১
কৌশিক বলেছেন: কিন্তু ক্ষতিপূরণ আদায় করেই কী এই বিশ্ব প্রকৃতিকে ধ্বংস হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব - এই প্রশ্নকে যাচাই করে দেখবার দরকার আছে।

এটাই ভাবছি!
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৩

লেখক বলেছেন: ক্ষতিপূরণ আদায় করার পর আমারা কী করতে চাই - "মহাজ্ঞানী মহাজন" পশ্চিম যে আত্মধ্বংসী কাজ করে শীর্ষে গেছেন সেই একই পথে আমরাও আবার হাত ধরাধরি করে "করব গমন"?

যেন বা ক্ষতিপূরণ আদায় করে পশ্চিম আত্মধ্বংসী পথে কার্বন দুষণে পশ্চিমের সম যোগ্যতা অর্জনই এর লক্ষ্য; যাতে আমরাও কাউকে ক্ষতিপূরণ দেবার যোগ্য হয়। অবশ্য ততদিনে চরম ধৈর্য্যশালী প্রকৃতি আমাদের নির্বোধ অত্যাচারের পরও যদি টিকে থাকে তবেই।

১৩. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১০
কৌশিক বলেছেন: হাহাহা। সেটাই। বিষয়টা আসলেই বস ভাবতে হবে। আমার মনে হয় না এই বাজেটরী ক্যালকুলেশনে এর কোনো সমাধান আছে।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৮

লেখক বলেছেন: মনোযোগ "ক্ষতিপূরণ" জাতীয় বাচালতা থেকে সরিয়ে আসল জায়গায় নিতেই তো এতকথা বলছি।

১৪. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৩
কৌশিক বলেছেন: আর একটা বিষয়। ক্ষতিপূরণ কিন্তু ভবিষ্যত ক্ষতির সমাধান নিশ্চিত করে না। এটা ইতোমধ্যে ক্ষতির একটা বাচোয়া টাইপ স্বান্তনা। কিন্তু সরকারের মনে হচ্ছে এটাতেই বেশী আগ্রহ - হাজার কোটি টাকা আসবে, সেই টাকা মেরে তাদের নাতিনাতনিদের উন্নতবিশ্বে পড়িয়ে দেশের রাজনীতির জন্য অপরিহার্য্য নেতা বানাতে পারবে..
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৩

লেখক বলেছেন: হয়ত তাই। কিন্তু বেকুব "নেতা"দের খেয়াল নেই ততদিনে "দেশ" বলতে কিছু থাকবে না, সাগরের পানির নীচে ছিল বলে গল্প করতে হবে।

১৫. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪০
নাজনীন১ বলেছেন: আমার মনে হয় ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে কৃষিকে এবং বনায়নকে আরো বেশী এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। কীটনাশকের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য ফসলের বৈচিত্র্যতা বাড়াতে পারি। আর শিল্প হয়তো পুরোপুরি বাদ দিতে পারবো না, অনেক শিল্পই আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। তবে বিলাসী শিল্পগুলো বাদ দেয়া যেতে পারে, মানে দেয়া উচিত। এই যেমন জনে জনে মোবাইল সেট, ঘরে ঘরে প্রাইভেট কার, এসি, টিভি......এমন আরো অনেক কিছু বাদ দেয়া উচিত। তবে ফ্রিজ, কম্পিউটার বাদ দিলে মরছি, জীবন অনেক জটিল হয়ে যায়। :)
১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৩

লেখক বলেছেন: কৃষিকে এবং বনায়ন এবং ফসলের বৈচিত্র্যতার দিকে নজর ফিরিয়েছেন এটা ভাল লক্ষণ।


আপনি আমার এই লেখার দ্বিতীয় পর্বটা দেখেছেন নিশ্চয়। এছাড়া উপরে ১২ নম্বর মন্তব্য ও আমার জবাবটা দেখবেন।

কী কী বুঝের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছি, ক্ষতিপূরণ পাবার পরেও কী একই শিল্প, একই ভোগ, লাইফ ষ্টাইল থেকে যাবে - এগুলোই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো নিয়ে কথা বলেছি পরের পর্বের পোষ্টে। কিছু কথা বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবেও ওখানে লিখেছি। দেখবেন।

এছাড়া কৃষি করবেন, কোন কৃষি, কোন বনায়ন - এগুলো নিয়ে ভাববার বিষয় আছে। কৃষি বলতে হাইব্রিড বা জেনিটিক্যালি মডিফাইড (জিএম) কৃষি বুঝে থাকেন - তো এটা হবে তপ্ত কড়াই থেকে বাঁচতে চেয়ে চুলার ভিতরে ঝাঁপ দেয়ার মত।

বনায়ন প্রসঙ্গে মুসতাইনের জহীরের কিছু মন্তব্য আছে নীচের লিঙ্ক-পোষ্টে দেখতে পারেন।


Click This Link
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২২৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই