আমার প্রিয় পোস্ট

কোপেনহেগেন: কার্বন দূষণ বা কাকে আমরা "শিল্প", "উন্নয়ন" ও "সভ্যতা" বলে বুঝব

২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৫

শেয়ারঃ
0 0

প্রথম পর্ব: Click This Link

দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব:
পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে গ্রীনহাউস গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ উদ্গীরণে দূষণের সমস্যা বলে মেনে নেয়ার মানে আসলে "শিল্প" - "industry" ‘civilization’, ‘growth’ and ‘development’ - এসব কথাবার্তা চিন্তাভাবনাগুলোও যে সমস্যার তা মেনে নেয়া; ফালতু বলে প্রমাণ করা; কারণ শব্দগুলো আলাদা মনে হলেও এক সাথে জোড় লাগানো একই উৎসের ধারণা এবং তা চিন্তা তৎপরতার সঙ্কটও বটে। যদিও "শিল্পে" বিশ্বাসীরা কার্বন নিঃসরণ উদ্গীরণের দূষণকে সমস্যা বলে মানলেও এনিয়ে কোন পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়িত করতে আজ পর্যন্ত কখনও কাউকে দেখা যায়নি - না "শিল্পে" উন্নত (developed) পশ্চিমা দেশ না "শিল্পে" উন্নতির-দিকে-ধাবমান (developing) চীন, ভারত ব্রাজিল বা অন্য কেউ - কারও পক্ষেই তা সম্ভব হয়নি। কারণ, কার্বন দুষণ ব্যাপারটাকে "শিল্পে" বিশ্বাসীরা আসলে উটকো দায়, বাগড়া হিসাবে দেখে থাকে, কিন্তু বুঝে মুখে মুখে মেনে নেবার লিপসার্ভিস না দেয়াটা হবে বিপদের। কেউ যদি সত্যি সত্যিই মিন করে থাকেন কার্বন দুষণ মোকাবিলা নিয়ে তিনি ভাবতে চান তবে তাকে অবশ্যই কাকে আমরা এতদিন "industry" ‘civilization’, ‘growth’ and ‘development’ বলে মেনে এসেছি সেই চিন্তা ও তার বাস্তব রূপকে প্রশ্ন করতে পারতে হবে। এমনকি ধরা যাক, কার্বন দূষণ মোকাবিলা নিয়ে ভাবছি বলে সব developed এবং developing "শিল্পের" দেশগুলো যদি কোন চেরাগ বলে ভালমানুষ হয়ে একজোটও হয়, কিন্তু একই "শিল্প" ভাবনা তাড়িত হয়ে উন্নতি, গ্রোথ রেট মাপার পুরনো পথে খাড়িয়ে যায় তবে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি - এই বকোয়াজি একটা অশ্বডিম্ব প্রসব করবে। এর মূল কারণ, ফসিল ফুয়েল ও রিসাইকেলযোগ্য নয় এমন জ্বালানীর উপর দাঁড়ানো "সভ্যতা" "উন্নয়ন" "অর্থনৈতিক গ্রোথ রেট" ইত্যাদিতে উন্নতি মাপা সমাজ-উৎপাদন ধারণার একেবারে উল্টা হলো "কার্বন নিঃসরণ কাট" করার ভাবনা। মনে রাখতে হবে, "শিল্প" বা "industry" ধারণার উপর ভর দিয়েই গেল কয়েক শ বছর ধরে যথেচ্ছাচারে "কার্বন নিঃসরণ ঘটিয়ে এই "সভ্যতা" এখনও দাড়িয়ে আছে। আবার কার্বন নিঃসরণ কমাবে বলে হম্বতম্বি করলেও সেই একই "শিল্প" বা "industry" ধারণা আগলে সবাই বসে আছে, কোন বদল কেউই ঘটায়নি। "শিল্পে"র নামে এই যথেচ্ছাচার ঘটানো হয়েছে প্রকৃতির উপর; প্রকৃতি-মানুষের সম্পর্কের বিষয়ে কোন বিবেচনা খেয়াল রাখার অবস্হায় "শিল্প" বা "industry" ধারণার নাই, বরং "প্রকৃতির উপর মানুষ বিজয়ী" এই ধরণের ধারণার উপরে ভরসা করে যতখুশি অত্যাচার ঘটানো হয়েছে। মুল কারণ, এটাই মুনাফা-লিপ্সা সর্বস্ব পুঁজির স্বভাবের সাথে খাপ খায়। ফলে মুখে "কার্বন নিঃসরণ কাট" স্বীকার করে নেবার এই বৈপরিত্যের নীট পরিণতি হলো, developed এবং developing সবাই তাল খুঁজেছে একে অন্যের উপর "কার্বন নিঃসরণ কাটের" দায়দায়িত্ত্ব চাপিয়ে দিয়ে যদি এযাত্রায় নিজেকে রক্ষা করা যায়; তাই ভাবা হয়েছে অন্যেরা "কার্বন নিঃসরণ কাট" নিয়ে ব্যস্ত হোক, তখন নিজের "কার্বন নিঃসরণ কাট" এর কাজ নানা অজুহাতে শিকেয় তুলে রেখে বরং ঐ ব্যস্তদের (যদি পাওয়া যায়) ঘাড়ে চড়ে এর বিনিময়ে নিজের "শিল্প", "সভ্যতা"কে অন্যের চেয়ে আগিয়ে রাখতে বাজার সুবিধা নেয়া যাবে। ফলে সবাই একজন "অন্য কাউকে" খুঁজছে; কিন্তু সবাই "অন্য কাউকে" খুঁজতে বের হলে কারোরই কাউকে খুজে পাবার কোন কারণ নাই। ফল হয়েছে এই যে পুঁজির মায়ায় তা আগলে বসে থাকা কেউ আর ভাববার অবস্হায় নাই যে কার্বন নিঃসরণ সমস্যাটা গ্লোবাল। কেউ দুষণ করে থাকুক আর না থাকুক, এটা কাউকে ছাড়বে না। এই পরিস্হিতিই, ১৯৯৭ সালে গৃহিত কিয়োটো প্রটোকলকে স্রেফ কাগুজে টুকরা বানিয়ে ছেড়েছে। সংক্ষেপে কিয়োটো প্রটোকল সম্পর্কে পাঠককে একটু ধারণা দেই।
জাতিসংঘের অধীনে ১৯৯৪ মার্চে এর সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত হয় The UN Framework Convention of Climate Change (UNFCCC)। এই UNFCCC Convention এর ম্যন্ডেট ও উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়াতে গ্রীনহাউস গ্যাস দূষণ মোকাবিলা নিয়ে স্ব স্ব দেশে একটা জাতীয় ষ্ট্রাটেজি ঠিক করতে সবার সাথে তথ্য শেয়ার করা আর, করণীয় নিয়ে বছরে একবার সকলে মিলে বসা - এই বার্ষিক বৈঠকের ব্যাপারটাই Cnference of Parties or COP নামে পরিচিত। সেইভাবে COP এর তৃতীয় বার্ষিক বৈঠক ১৯৯৭ সালে COP3 নামে জাপানের Kyoto শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ বার্ষিক বৈঠকে এই প্রথম সব সদস্য দেশের জন্য আইনী বাধ্যবাধকতামূলক পালনীয় শর্ত রেখে একটা সমঝোতা-চুক্তি বা প্রটোকল গৃহীত হয়, যা "কিয়োটো প্রটোকল" নামে পরিচিতি পায়। জাতিসংঘের কোন Framework Convention বা কর্মপরিধি নির্ধারণের সম্মেলনে, গৃহিত কোন সমঝোতা-চুক্তি বা প্রটোকল সদস্যদেশের প্রতিনিধির স্বাক্ষরের সাথে সাথে তা ঐ দেশের উপর প্রযোজ্য হয় না যতক্ষণ না, ঐ সদস্য দেশের নিজের পার্লামেন্ট বা আইন পরিষদে তা পুনরায় পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ গৃহিত বা ratify না হয়। এত বিস্তারিত করে বলছি এজন্য যে, প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমেরিকা কিয়োটো প্রটোকলে স্বাক্ষর করলেও তা কখনও ratify করেনি। বুশ এটা চুপে চাপে ঘটাননি। বরং অথর্ব যুক্তি খাড়া করে বলেছেন, নিজের অর্থনীতি, শিল্প এখনও এর জন্য তৈরি নয়, এতে সে ক্ষতিগ্রস্হ হবে। আরও মারাত্মকভাবে বলেছিলেন, "কার্বন নিঃসরণ কাট" ইত্যাদি যাই বলা বা করা হোক না কেন, আমেরিকান জনগণের "লাইফ ষ্টাইলে" কোন পরিবর্তনে হাত দেয়া যাবে না। ২০০১ সালের COP6 এ জর্জ বুশ এসেছিলেন নতুন বায়না নিয়ে; বলেছিলেন এটা বহুত খরচের ব্যাপার তাই এর বোঝা কেবল "শিল্পে" উন্নত (developed) পশ্চিমা দেশ নয়, বরং "শিল্পে" উন্নতির-দিকে-ধাবমান (developing) যেমন চীন বা ভারত এদেরকেও নিতে হবে। তাঁর এভাবে নতুন বায়না ধরার কারণ হলো, কিয়োটো প্রটোকলে সকলে একমত হয়েছিল, ৩৭টা "শিল্পে" উন্নত দেশ যাদের "শিল্প" ৯০ ভাগ দূষণের জন্য দায়ী তাদেরকে একটা আইনী বাধ্যতামূলক টার্গেট দিয়ে তা ২০১২ সালের মধ্যে শেষ করার দায়িত্ত্বের কথা ওখানে বলা ছিল।

তার মানে কিয়োটো প্রটোকলের পরিণতি হলো, গ্রীণহাউস গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ উদ্গীরণে দুষণের সমস্যা বলে মানলেও স্বীকৃত এই সমস্যাকে হাল করতে কাউকেই এক কদম আগে বাড়তে হয়নি। এর প্রথম আট বছর অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল লেগে যায় প্রটোকল কার্যকর হতে; কারণ মোট সদস্যের একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক দেশ রেটিফাই না করলে প্রটোকল কার্যকর হয়েছে বলে ধরা হয় না। ওদিকে প্রতিবছর COP এর সভা - ডেডলক আর পুনরায় এক ঠুনকো সমঝোতা - এভাবেই চলেছিল। আর সবচেয়ে বেশি দূষণের মাত্রা যার সেই আমেরিকা বারবার নতুন নতুন বাহানা নিয়ে হাজির হয়েছিল; যেমন গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেয় (carbon sinks), কিন্তু কোন "শিল্প" উন্নত দুষণকারী দেশের ঘাড়ে গণনা হিসাব কষে কার্বন নিঃসরণ কাট করার দায়ভার যা পড়েছিল তা গাছ থেকে যা সুবিধা পাওয়া যায় তার বাইরে বা উপরের দায়; কিন্তু আমেরিকা প্রস্তাব রাখতে চেয়েছিল তার গাছ-বনাঞ্চলকে এই দায়ের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতে। এর কারণ, এক হিসাব অনুযায়ী আমেরিকার গাছ বনাঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত ধরে নিলে এক ঝটকায় সে দুষণের সব দায় থেকে নিজেকে মুক্ত বলে দাবি করতে পারে।
একইভাবেই আরও নানান ক্যাচালে পড়ে কিয়োটো প্রটোকল; এমন একটা হলো, বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত দিক ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা; এতে স্হবিরতা, স্হবিরতা ভাঙতে আবার সমঝোতা ইত্যাদি করতে করতে হঠাৎ সবার দৃষ্টি পড়ে ২০১২ সালে কিয়োটো প্রটোকলের আয়ু শেষ হয়ে যাবে, এক্সপায়ার হবে। ফলে সব বিতর্ক আলোচনা ছাপিয়ে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়ে আর একটা নতুন প্রটোকল নিয়ে কী করা যায় সেই ভাবনা; তখনই ২০০৯ সালের COP15 কে নতুন প্রটোকল বানানোর টার্গেট ঠিক করে আগানো শুরু হয়; এটাই এবারের ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন সম্মেলন।

আসলে জর্জ বুশের সেই নিত্যনতুন বায়না - "বহুত খরচের ব্যাপার তাই এর বোঝা কেবল "শিল্পে" উন্নত (developed) পশ্চিমা দেশ নয়, বরং "শিল্পে" উন্নতির-দিকে-ধাবমান (developing) যেমন চীন বা ভারত এদেরকেও নিতে হবে" - এটাকে বিবেচনায় নিয়ে পশ্চিমাদেশগুলো কিয়োটো প্রটোকলে তাদের একক দায় স্বীকার করে নেয়া কমিটমেন্ট থেকে বেরোবার পথ খুজে নিতে চাইছিল। কারণ, আমাদের নিশ্চয় মনর আছে, কিয়োটো প্রটোকলে সকলে একমত হয়েছিল যে, ৩৭টা "শিল্পে" উন্নত দেশ দূষণের একক দায় স্বীকার করছে ও কমিটমেন্ট রাখছে যে ২০১২ সালের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্হ দেশের জন্য ক্ষতিপূরণ মূলক পদক্ষেপ নিবে।

কোপেহেগেন ব্যর্থ সম্মেলনের ফলাফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এতে যার যা সুবিধা নেবার দরকার ছিল পেয়ে গেছে; আর মারা পড়েছে এজমালি প্রকৃতি আর আমাদের মত গরীব দেশ। পশ্চিমাদেশগুলো কিয়োটো প্রটোকলের কমিটমেন্ট থেকে সফল ভাবে সরে যেতে পেরেছে। ওটা এখন কাগুজে তেনা। আবার নতুন কোন কমিটমেন্ট বা দায় তার কাঁধে নাই। দায় খরচের বিতর্ক তুলতে সফল হয়ে সে দায় এখন যেন এজমালি প্রকৃতির - আর কারও নয়।

ওদিকে লক্ষণীয় হলো, কিয়োটো প্রটোকলের কারণে আমরা - ইউরোপ ও আমেরিকায় - এভাবে "শিল্পে" উন্নত দেশের ক্যাম্পে বিভক্তি দেখেছিলাম। কারণ দূষণের একক দায় সেখানে "শিল্পে" উন্নত দেশের বলে স্বীকৃতি ছিল, ফলে দায় ঠেলাঠেলি, বিভক্তি ছিল ওদের মধ্যে।
এবার আমরা দেখছি ইউরোপ ও আমেরিকা এক জোট হয়ে খাঁড়া হয়েছে, "শিল্পে" উন্নতির-দিকে-ধাবমান (developing) যেমন চীন বা ভারত এদের বিরুদ্ধে। ভাগের এজমালি মা গঙ্গা পায়না দশা; দায়ভাগের ঠেলাঠেলি এখানে developed আর developing "শিল্পে"র দেশের মধ্যে। তবে ওদের সবার মাঝে কমন জিনিষটা হলো, সকলেই আকড়ে পড়ে আছে - "শিল্প" তাদের করতেই হবে। যেন এককথার মানুষ সকলে। "শিল্প": অর্থাৎ "industry" ‘civilization’, ‘growth’ and ‘development’ এর পিছনে থাকতেই হবে, তাতে প্রকৃতি, দুনিয়া মানুষ সব জাহান্নামে যায় যাক। চীন বা ভারত চেয়েছে, আমরা আর একটু দুনিয়াকে নরক বানিয়ে হলেও "শিল্পে" উন্নতি করে নেই অর্থাৎ "industry" ‘civilization’, ‘growth’ and ‘development’ করে নেই। পশ্চিমের সমান প্রকৃতি খুনী হয়ে নেই। আমরা "শিল্পে" উন্নতির-দিকে-ধাবমান (developing) দেশ, আমাদেরকে বাগড়া দিয়েন না। এরপর ক্ষতিপূরণ দিতে হলে সে দেখা যাবে। অথচ বাস্তবতা সবাই জানে; আমরা কেউই নিশ্চিত জানি না ততদিনে "শিল্পে"র এই উন্নতি দেখা বা কনজুমার হওয়ার মত কেউ অবশিষ্ট থাকবে কিনা, খোদ প্রকৃতিই বসবাসের যোগ্য রইবে কিনা!

এই সম্মেলনে চীন ও ভারত চেয়েছে কোন politically binding document বা আইনী বাধ্যবাধকতার কমিটমেন্টে না যেতে, সব কিছু voluntary measures এর হাতে ছেড়ে দিতে। অথচ সবাই জানে ক্যাপিটালিজমের মুনাফার প্রতিযোগিতায়, বাজার দখলে একে অন্যের উপর সুবিধা নিতে উদ্যত পরিস্হিতিতে voluntary measures বলে কোন সোনার পাথরের বাটির জায়গা নাই।

একটা হিসাব দিয়ে বলা হচ্ছে, ৭০০ বিলিয়ন ডলার খরচে নাকি দুনিয়াকে সাফসুতারা করে ফেলা যায়। আচ্ছা, এই ৭০০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে আমরা কী কী কিনব? intellectual property rights এ আগাপাশতলা বাধা কোন উচ্চ মার্গীয় টেকনোলজি? কর্পোরেট তেল ও গ্যাস কোম্পানীর বিপুল স্বার্থের নতুন টেকনোলজি?
আমেরিকার কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চালান এমন একজন climatologist, James White বলছেন, "This is a collision between science and politics, frankly," অর্থাৎ তিনি, রাজনীতি ও বিজ্ঞানের একটা বিবাদ শুরু হয়ে গেছে বলে দেখছেন। তিনি আরও বলছেন, "আজকের অনেক জলবায়ু-বিশেষজ্ঞ কর্পোরেট তেল ও গ্যাস কোম্পানীর বিপুল স্বার্থের হয়ে লড়তে শুরু করেছেন; এটা ১৯৬০ এর দশকের কিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মত যারা সিগারেট কোম্পানীর হয়ে লড়তে বিজ্ঞানকে কাঁথার তলে লুকিয়ে রাখত"।
তার মানে বুঝা যাচ্ছে, ইতোমধ্যেই অনেক জলবায়ু-বিশেষজ্ঞ কর্পোরেট তেল ও গ্যাস কোম্পানীর বিপুল স্বার্থের পক্ষের কর্পোরেট "শিল্পের" রাজনীতিকে "বিজ্ঞান" হিসাবে খাঁড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন; তাই James White জবানের আমরা কিছু জলবায়ু-বিশেষজ্ঞ(?) কর্পোরেট তেল ও গ্যাস কোম্পানীর বিপুল স্বার্থের হয়ে লড়তে শুরু করেছেন বলে জানছি। এরা নিশ্চয় এতদিনে কর্পোরেট তেল ও গ্যাস কোম্পানীর টেকনোলজি(?) হাজির করতে সক্ষম হয়ে গেছেন। নইলে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের গল্প তো আকাশ থেকে পড়েনি, আমরা অনুমান করতে পারি।

এবার ওবামা কথাই একটু ধরি; সম্মেলনে তিনি এসে আমাদেরকে দয়া দেখিয়ে কমিটমেন্ট করে বলেছেন, ১০০ বিলিয়ন ডলার তারা দুষণে ক্ষতিগ্রস্হ গরীব দেশের পিছনে ক্ষতিপূরণের খয়রাত হিসাবে দান করতে চান? কিন্তু ঐ ১০০ বিলিয়ন ডলার কি সে খরচ হবে? intellectual property rights এ আগাপাশতলা বাধা কোন উচ্চ মার্গীয় টেকনোলজি কিনতে নিশ্চয়। তাহলে কার টাকায় কে কী কিনল?

এরপর সেখানে কী হবে? ঐ ১০০ বিলিয়ন ডলারের টেকনোলজি যে effective demand তৈরি করবে তাতে আবার ১:১০ অনুপাতের হিসাবে ধরলে, ১০০০ বিলিয়ন ডলারের টেকনোলজি, পণ্য, ক্লিন(?) জ্বালানির মত নতুন ব্যবসার লাইন হাজির হবে, কনজুমার হয়ে উঠব আমরা? নতুন ব্যবসার লাইন জমে উঠবে নিশ্চয়।
এটা খুবই জবরদস্ত আঁটঘাট মারা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ বটে! আর সেই "ক্ষতিপূরণ" ভিক্ষাকে টার্গেট করে বাংলাদেশ সরকার সম্মেলনে তাঁর অবস্হান ঠিক করেছে; বিরাট কর্তব্যকর্ম সম্পাদনের জন্য সরকারি কোষাগার খালি করে সরকার প্রধান সদলবলে ছুটেছে! সত্যিই এটা চমৎকার!

ওদিকে কোপেনহেগেনে কিছু না হওয়া বা করার জন্য দোষারোপ করার অজুহাত সবাই যার যার হাতে পেয়ে গিয়েছে। developed আর developing সবার রাস্তা একই - "শিল্প"। তারা দুজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে এমন অজুহাতও রেডি পেয়েছে। অথচ ফ্যাক্টস হলো, গ্রীণহাউস গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ উদ্গীরণ দুষণের সমস্যা বলে একে মানা না মানায় নয়, আসল গলদ হলো, "industry" ‘civilization’, ‘growth’, ‘development’ - এই ধারণাগুলোর সাথে কার্বন নিঃসরণ উদ্গীরণ দুষণকে সমস্যা বলে মানা, এই ধারণা - দুটো পরস্পর ঘোরতর স্ববিরোধী; এর একটাকে সিনসিয়ারলি মানলে অপরটার সেখানে জায়গা নাই। বরং এক ধারণা অপরকে উৎখাত করে তবেই কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এমন। তবু তারা ভাব করে যাবে তারা "শিল্পও" চায় আবার "কার্বন নিঃসরণ কাট" করতে চায়, এবং এতে ‘civilization’, ‘growth’, ‘development’ দুনিয়ায় আমাদের প্রকৃতি নাকি মানুষ বসবাসের জায়গা হয়ে অটুটও থাকবে!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কোপেনহেগেনপ্রকৃতিমানুষশিল্পসভ্যতাউন্নয়ন ;
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৪
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন: পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ..
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:০২

লেখক বলেছেন: পড়েছেন জেনে ভাল লাগছে।

২. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৪
জাতেমাতাল বলেছেন: সরি, প্রায় সকাল হয়ে গেছে, পোষ্টটা আগে চোখে পড়ে নাই..., আজ আর নয়, আশা করি আগামীকাল পুরো লেখাটা আবার পড়ে তারপর আলোচনায় অংশ নিতে পারবো...
২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৪২

লেখক বলেছেন: সেই ভাল।

৩. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২২
মুসতাইন জহির বলেছেন: বরাবরের মতোই, আপনি গোড়ার জায়গায় গিয়ে বিষয়ের আদত চেহারাটা বের করে আনার কোশেশ পেয়েছেন। সাফল্য লেখার ভিতরেই সয়ং প্রকাশ।

কিন্তু ব্লগের আজকাল যা হালচাল, 'চেতনা'পন্থার বাইরে কোনোকিছু নিয়ে খুবএকটা আগ্রহ-মাতামাতি নাই। নানাবিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও মতামত প্রচারে সামু আগবাড়ালেও এই ধরণের ইস্যুতে, যেখানে সত্যিকার আর্থেই সামাজিক ও জাতীয় আবস্থান তৈরিতে একটা কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ ছিল সেখানে তারা নাই। নাই সাধারণ ব্লগাররাও।

আপনার পোষ্টটি যে মূলসুর ধরিয়ে দিতে চেয়েছে তা আরো বিস্তারিত লেখালেখি ও ভাবনা-বিনিময়ের ভিতর দিয়ে চালিত করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। সেই কথাটা স্বীকার করেই এখানে কিছু কথা বলতে চাইছি। বিশেষত, বাংলাদেশের গৃহীত আবস্থান। ভেবেছিলাম আলাদা পোস্ট দেই কিন্তু আলোচনায় পাঠক আগ্রহণের বেগতিক দশা দেখে ঠিক করলাম এখানে মন্তব্য আকারে দেওয়াই শ্রেয়। তাতে আন্তত খণ্ডখণ্ড না হয়ে থাকার একটা সুবিদা থাকবে।

প্রকৃতি সুরক্ষার নের্তৃত্ব বনাম করুণার পাত্র সেজে ভিক্ষা চাওয়া


বাংলাদেশ আবশ্যই বৈশ্বিক পরিবেশ বিকৃতির শিকার। অন্যের প্রকৃতি বিধ্বসী কর্মকাণ্ডের বোঝা চেপেছে বাংলাদেশের উপর। উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচলিত পরিবেশ বিরুদ্ধ শিল্পায়ন পদ্ধতি বেপরোয়া আর্থিক পরিকল্পনা, নবায়ন অযোগ্য ফসিল জ্বালানীর তাপ আর তেজস্ক্রিয়তায় ধরিত্রীমাতাকে বিকলাঙ্গ করে ফেলছে, বিপর্যয় ঢেকে এনেছে, মানুষসহ সকল প্রাণের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।

এই বিপর্যয় ও অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবার মতো মারাত্মক আশঙ্কার মধ্যে দুর্ভাগ্যক্রমে প্রধমসারিতেই আমরা বসবাস করছি। সবাই কমবেশি আক্রান্ত হচ্ছি--আশু প্রভাবের তারতম্য বিচারে, কিন্তু কেউ রেহাই পাবনা। কেউ চাইলে আলাদা দেয়াল গড়ে আপন নিরাপত্তার বেষ্টনি বানিয়ে নিজেকে আড়াল করার কোনো সুযোগ পাবে না। এটা সকলকেই একই সমস্যা ও সংকটরে বিন্দুতে নিয়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। প্রকৃতির পুরো শৃঙ্খলে উলটপালট লেগে গেছে।

''শিল্পসভ্যতা'' ও ''আধুনিকতা''র নামে আজতক যা চর্চা করা হয়েছে, বিজ্ঞান ও টেকনোলজির যে রূপ আবিষ্কার করা হয়েছে, যে দৃষ্টিভঙ্গি জবরদস্তি লালন করা হয়েছে, যাকে বিপুল বিস্তারী সম্পদ সৃষ্টির একমাত্র উপায় ঠাউরিয়ে আর সকলে উঠেপড়ে নকল করতে নেমেছে (রাজনৈতিকভাবে অনেকের ক্ষেত্রে অনিচ্ছায় না হলেও মূল দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ কোনো হেরফের হতো না) তার গোড়ায় যে প্রকট ব্যাধি রয়েছে সেটা এখন এতটা বিকটভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে যে কে সেই রোগের জন্ম দিয়েছে আর কেবা কতটুকু প্রসারিত করছে সেই মামলা মোকদ্দমায় আদৌ আদত সংকট এবং আশু বিপর্যয়ের হাত থেকে নিস্তার পাবার কোনো ফয়সালা বের হয়ে আসবে না। শুধুমাত্র দায় এড়ানো আর দায় বাড়ানোর চক্রাকার আবর্তন বজায় থাকবে, কোনো দায়িত্বশীল প্রদক্ষেপ বের হবে না। ধরিত্রীকে পুনর্বার আপন স্বাস্থ্যে ফিরিয়ে আনতে, তার স্বভাবের অনুবর্তী জীবনযাপনের 'নীতি', 'মূল্যচেতনা' ও পরিকল্পনা অন্বেষণের সূচনা হবে না।

ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, আমারা পারতাম একটি অসাধারণ সুযোগকে কাজে লাগাতে। উন্নত বিশ্ব আর উন্নয়নশীল দেশের ( চীন বা ভরত ব্রাজিল...) মওকা খুঁজে ফেরার বাইরে গিয়ে সত্যিকার আর্থেই বিশ্ব সংকটের সুরাহায় নীতিগত অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরে নিরাপোষ নের্তৃত্ব দিয়ে সবার নেতা হয়ে উঠতে। বিশ্বব্যাপী যে আশার দীপশিখাটি জ্বালিয়ে যেতে হবে-- সেই মশালের বাহক হতে। সংকটের চরিত্র ও সমাধানের পক্ষে নীতি এবং কৌশলগত ভাবনাগুলো সামনে নিয়ে এসে আগামী দিনের বিশ্ব কেমন হবে বা হ্ওয়া উচিত সেই ছবিটি সবার সামনে তুলে ধরতে। আমরা পারতাম ইতোমধ্যেই আমাদের মতো দেশসমূহের পক্ষে তৈরি হওয়া বিশ্বজনমত ও সংবেদনাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি সম্মানজনক আবস্থান তৈরি করতে। বিশ্বরাজনীতির একটি অন্যতম প্রধান ফেক্টর, অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে, হয়ে আর সকলকে সেই নের্তৃত্বের অধীনে সমবেত করতে। এটাকে কেউ ভাবনা-বিলাস ভাবার কারণ নেই। কেনা, সংকটটি ইতোমধ্যই সর্বব্যাপী বৈশ্বিক বিপর্যয়ের হেতু সৃষ্টি করেছে সেটা সর্বজন স্বীকৃত; অন্যদিকে ঝুঁকি ও ক্ষতি বহনের বিবেচনায় আমরা যে একটা নাজুক অবস্থানে আছি এটাও সবাই মানছেন।

আমাদের পক্ষে এই অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে সংকট উত্তরণের উপায়ে মনোযোগ কেন্দ্রিভূত করার যৌক্তিক প্রয়াসে এগিয়ে আসার সুযোগ ষোলআনা ছিল। তা না করে আমরা শুরু করলাম অন্যদের ধ্বযজ্ঞ চালিয়ে যাবার পথ করে দেওয়া আর দায় এড়িয়ে দয়াদাক্ষিণ্য দেখাবার তামাশার প্রদর্শনের কারবারিতে নিয়োজিত। সবকিছু বাদ দিয়ে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ততার বিভৎস চেহারা একে তাকে কত টাকায় বিক্রয় করা যায় সেই পণ্য প্রস্তুতের এক এলাহি দেনদরবারে নেমে পড়ল সরকারি উৎসাহ। হায়, এই আমাদের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব আর পররাষ্ট্রীয় বিচার বিবেচনাবোধ! যেন একদঙ্গল বেপারির মুনাফা কাবাবার মওকা খুঁজে বেড়াবার চাইতে অধিক কিছু ভাবনায় অগ্রসর হওয়া আমাদের দরকার নাই। উপরুন্ত স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন একটি ভাওতাবজির সমঝোতাকে সফল ও যৌক্তিক পরিসমাপ্তি বলে ঘোষণা দিয়ে হুমড়ি খেয়ে আগাম গ্রহণ করে নেন তখন বুঝা যায় এরা আসলে ব্যবসায়ীক দরকষাকষিতেও অযোগ্য। একটা জাতীর প্রাপ্য মর্যাদ আদায় করা তো দূরে থাকুক টাকাপয়সা উদ্ধারে বিষয়বুদ্ধির দৌড়টাও এদের হয় নাই। হায় কপাল!

কোনো একটা পক্ষ যদি আন্তর্জাতিক কোনো ফোরামে, লাভ-ক্ষতির দরদাম সর্বস্ব স্রেফ টাকা পয়সার হিসাব নিকাশে নিজের সমস্ত দাবি দাওয়াকে সীমিত করে ফেলে, তা হলে বুঝা যায় রাষ্ট্র বা পররাষ্ট্রনীতির আলোকে কোনো বিয়য়কে বুঝা ও সেই মোতাবেক নিজের অবস্থানের কৌশলগত স্বার্থ সাজাতে একবারেই অপরিপক্ক একটি বেনিয়া স্বভাবের গোষ্ঠীবদ্ধতার ঊর্ধ্বে ওদের আর কিছুই গড়ে উঠে নাই। বরং বলা ভাল তারা এখনো 'রাষ্ট্র' হয় নাই।

এক দিকে এই না হওয়া আরেক দিকে দাসানুদাস অনুগত ভৃত্যের মতো একটু দানখয়রাতের আশায় দুনিয়াব্যাপী লড়াইয়ে নের্তৃত্ব'র সুযোগ প্রহণে শুধু অপারগ হওয়া নয় বরং বিশ্বজনমতের সংবেদনার গুরুত্বের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন এবং বিশ্বাসঘাতকতারও নজির এটা। বাংলাদেশের অবস্থান অন্যদের শক্ত অবস্থান নেয়ার জন্য একটা প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করল এখন। সামনের বছর মেক্সিকোয় যাবার আগেই নিজেদেরকে বিক্রি করে দেওয়া সরকার বারাক ওবামার কাছ থেকে কি পেল জানি না তবে আগামী দিনের সারা দুনিয়ার সংগ্রামী প্রাণ ও প্রতিবেশ সুরক্ষার আন্দোলনের প্রতিটি মানুষের কাছে ভিলেন হয়ে থাকবে তাকে কোনো সন্দেহ নাই।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুসতাইন।
আপনাকে আর কী বলব, হাসিনা ভিক্ষার ঝুলি ফেলার বড় সুযোগ হিসাবে দেখেছে কোপেনহেগেনকে। এখন সে গুড়েও বালি। কারণ সেসব নিয়েও কোন কথা আগায় নি।

আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি বলোভিয়ার মত গরীব দেশের ভুমিকা।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস বলছেন, - তিনি উদ্বিগ্নতার সাথে গেল দশ দিনের কায়কায়বার দেখতেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন না যে এখান থেকে কোন কিছু বেরিয়ে আসবে কারণ, ধনীদেশগুলো আরও আরও শিল্পায়ন ও মুনাফার পিছনে লাগাতর লেগে আছে।

" জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলার পথে প্রধান বাধা ক্যাপিটালিজম। এই ক্যাপিটালিজমের একটা পরিসমাপ্তি না ঘটলে এটা জীবন ও মানুষের জন্য একটা হুমকি হয়ে বাড়তেই থাকবে"।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস কোন বিপ্লবী সরকার বা তার প্রেসিডেন্ট নন; একটা লিবারেল সরকারের প্রতিনিধি। তাঁর এই সহজ উপলব্দি দেখে দুইতৃতীয়াংশ ভোটে ক্ষমতাশীন হাসিনাকে কি কিছু শিখতে পারেন?
দেখা যাচ্ছে দুনিয়াকে উপলব্দি করতে ব্যর্থ, হীনমন্বতা দীনতায় ভরা এই শাসক একটা ভিক্ষার ভাবনা ছাড়া নিজের সমস্যাকে আর কোনভাবে দেখতে অক্ষম - এটাই প্রধান সমস্যা, ভোট নয়।

৪. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬
রিফাত হাসান বলেছেন: এইটাও আপাতত পড়ে গেলাম।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১

লেখক বলেছেন: শুধু পড়ে গেলে হবে না। অন্দর, বাহার নিয়ে একসাথে হয়ে পড়তে ও এক্ট করতে হবে। চেষ্টা করেন হবে।

৫. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৫
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: সমস্যাটাকে দরকষাকষি থেকে বের করে আগামী দিনের দুনিয়া গঠনের অভিমুখে আলোকপাত করার একটা ভাল সূচনা আপনি এখানে তৈরি করতে পরেছেন। ধন্যবাদ।
২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩

লেখক বলেছেন: আগামী দিনের দুনিয়া গঠনের অভিমুখে আলোকপাত - সে তো অনেক দূরের ব্যাপার। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বের হবার খাসিলতই এখনও ছাড়াতে পারলাম না।

৬. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৩
কৌশিক বলেছেন: মুসতাইন জহির কোথায় যেনো বলেছিলেন নিউ এথিকস অব লাইফ - বিষয়টা নিয়েই মনে হয় এখন ভাবতে হবে।
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৫

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন, এটাই key পয়েন্ট।
সারা পশ্চিমের whole civilization, comsumption, লাইফ ষ্টাইল এর ধারণা চ্যলেঞ্জড হয়ে গেছে। আসলে এটা হয়েই ছিল অনেক আগেই আমরা স্বীকার করতে দেখিনি। পপুলারলি আমরা ক্লাইমেট সমস্যা নামে এটাকে আজ প্রকাশিত হতে দেখছি, এতেই পশ্চিমের ভাবনার construction এর নাজেহাল অবস্হা, ভেঙ্গে পড়া আমরা দেখছি।

দরকার নতুন একটা ethico-polical ভাবনায় construction তৈরি করা। এটাই আমাদের সামনের মূল কাজ। আমার জহির দুজনের কথার একই জায়গা হলো এটাই।

এটা যত দ্রুত আমরা সকলে রিয়েলাইজ করতে পারব নতুন ভাবনার construction এর কাজে ততই বাংলার ভাবের শক্তি কালজয়ী গ্লোবাল অবদান হিসাবে হাজির হবে। প্রকৃতি মানুষের ঐক্যের রাস্তা দেখিয়ে আমরা হাজির হতে পারব।

৭. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৭
কৌশিক বলেছেন: 'বাংলার ভাবের শক্তি কালজয়ী গ্লোবাল অবদান' শুনতে বেশ ভালো শোনাচ্ছে, ভাবতেও ভালো লাগছে।

সিম্পলার লাইফ স্টাইলের এই বিষয়টা অনুধাবনের জন্য আপনার পোস্টে দারুণ কিছু বিশ্লেষণ আছে। কিন্তু এর জন্য জনসচেতনতা দরকার - বিষয়টা বৈশ্বিকভাবেই দরকার। সূচনাগৃহ হিসাবে আমাদের ভূমিকাই মনে হয় সর্বোচ্চ।

প্রাগৈতিহাসিকযুগে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে আমরা অনেক মানবগোষ্ঠীর নতুন ভূখন্ডে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন দেখি। সাহিত্যে ছড়িয়ে আছে এর নানা ব্যঞ্জনা।

আজকের বিশ্বে ক্লাইমেট ইমিগ্রেন্ট হবার কোনো সুযোগ নাই। সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে ঝাঝড়া হয়ে যাবে অভিবাসীরা।

তবে বিশ্বকে ছবক দেবার জন্য আমাদের ethico-polical ভাবনায় construction তৈরি করা জরুরী।

পরিবেশকে মুখ্যত ইশ্বর ভেবে এর রূপকে অবিকৃত রেখে এই কনস্ট্রাকশন শুরু হতে পারে।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০৪

লেখক বলেছেন: দেখা যাক কী দাঁড়ায়, কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। থ্যাঙ্কু।

৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৫
তীব্র রঙিন বলেছেন: যথারীতি আপনার অন্যসব পোস্টের মতোই। ভাবনার এবং বিষয়ের গভীরে যাওয়ার এবং নেয়ার প্রাণবন্ত চেষ্টা।
তবে...
তবে...
কিঞ্চিৎ একদেশদর্শী। প্রধান যে-বিষবৃক্ষ, পুঁজিবাদের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের যে-রূপ বর্তমান সভ্যতা গড়ে তুলেছে, আমরা এই মুহূর্তে যার সুলভ বিকল্প খুঁজে পাই নি, সে-প্রসঙ্গে সঠিক কোন দিগদর্শনসম্বলিত আপনার যৌক্তিক মতামত পাওয়া গেল না।
বিকল্প দরকার, এটা স্বীকার করছেন; কিন্তু, গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিজ্ঞানীদের অভিযুক্ত করছেন। তাহলে, সমাধানটা দেবে কে? ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো? যারা নিজেরাই জ্ঞান-বিজ্ঞানে যোজন যোজন পিছিয়ে?
বাংলাদেশ আর কি করতে পারতো বুঝলাম না। নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা? হাসবো? শুধু এটাই দেখলেন যে চাওয়া হচ্ছে? কিছু তুলে ধরারও চেষ্টা করা হচ্ছে এটা দেখলেনই না? সমাবেশের বাইরে এবং অন্যত্রও বাংলার ক্ষতিগ্রস্ত রূপ পরিস্ফুটনের চেষ্টা একটুও নজর কাড়লো না?
যেসব দেশ কিঞ্চিন্মাত্রায় আদর্শ বলে মনে করেন (আগের রাশিয়া/চিন, বা বর্তমান অন্য সমাজতান্ত্রিক আদর্শ অনুসরণের চেষ্টাকারী দেশ), তারা কি বিকল্প কোনভাবে শিল্প উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলো, যা পরিবেশ দূষণ করে নি বা করে না? পৃথিবীর উন্নয়নের ধারাটা এই পথেই এগুনো, তাই বিকল্প তো চাই-ই, সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ আদায় করার ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়াও জরুরি, তাই দাবি করা। এটাও কি কেড়ে নিতে চান? আফ্রিকার দেশগুলোর সংগঠন এবং দ্বীপরাষ্ট্রের সংগঠনগুলোর একটা দলগত ভিত্তি ছিলো। কিন্তু, বাংলাদেশ লড়েছে একা। তারাও তো ব্যর্থই।
আপনার কথা অবশ্যই ঠিক যে, এনিয়ে ব্যবসা হবে, হচ্ছে। কিন্তু, সুবিধেবাদীরা তো সবসময়ই থাকে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তো হয়, হচ্ছে। তা বলে পুরো প্রক্রিয়াটা 'কলঙ্কিত' উপাধি দেয়া কি ঠিক হবে?
শুভেচ্ছা জানবেন।
অ. ট.: আপনার লেখার বাক্যগঠন ও শব্দপ্রয়োগ দুর্বল, কোথাও দুর্বোধ্য। মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হয়। এটা সমালোচনা নয়, অনুযোগ মাত্র, কারণ, আপনার লেখা পড়ি এবং পড়তেই চাই।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৩

লেখক বলেছেন: তীব্র রঙিন, দেরীতে হলেও আপনি মন্তব্যটা লিখে খুবই ভাল করেছেন।
আমি জানতে পারলাম, আমি কী আপনাকে বুঝাতে পারি নাই।বুঝাতে না পারার জন্য আপনার কাছে "একদেশদর্শী" মনে হয়েছে।
যদিও এখন এখানে আবার বিস্তার করে বলার সুযোগ নাই। কিছু কথা শিরোনামে বলি, পড়ার পর এটা মনে রেখে আবার একটু কষ্ট করে পড়বেন, যাচাই করবেন এবার ভিন্ন কিছু মনে হচ্ছে কিনা। আমার সাথে একমত হওয়া জরুরী নয়, কেবল আমি যা বলছি তা বুঝা গেল কী না সেটা জরুরী।

১. আজ পর্যন্ত দুনিয়া যে জায়গায় এসে পৌচেছে যেগুলোকে আমরা সভ্যতা, উন্নতি, শিল্পোন্নয়ন, বিকাশ গ্রোথ বলে বুঝে এসেছি, সব সংস্কৃতির সবার জীবনের লক্ষ্য বলে মনে হয়েছে গ্লোবাল জলবায়ুর সংকটটা বলছে এগুলো সব মিথ্যা; চ্যালেঞ্জ করছে - সেই ইঙ্গিতটাকে আমি সবার নজর ফিরাতে চেয়েছি।
এটা স্রেফ একটা জ্বালানী, কার্বন উদ্গীরণ ইত্যাদির সমস্যা নয়।

২. আমাদের উৎপাদনের ধরণ মানে আমাদের ভোগের ধরণ মানে প্রকৃতিকে উপভোগ (appropriation) করার ধরণ মানে ওটাই প্রকৃতিকে ভোগ করে আমাদের জীবন প্রকাশের ধরণ; তা আমাদের লাইফ ষ্টাইলও বটে।

৩. ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ঘটেছে, একই শিল্প বিপ্লবকে কমিউনিষ্টরাও মালিকানা বিষয় ভিন্ন থাকলেও করণীয়ই মনে করেছে। সে অর্থে শিল্প বিপ্লবই জীবন প্রকাশের জন্য করণীয়, পথ হিসাবে এ পর্যন্ত চলে এসেছে। লাইফ ষ্টাইলের এই ধরণ আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। ফলে শিল্প বিপ্লবরে ধারণাটা মৌলিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে। এদিকে পাঠকের নজর ফেরাতে চেয়েছি।

৪. ফলে জীবাশ্ম জ্বালানীর বিকল্প কী হতে পারে সেটা আমার প্রসঙ্গ নয়। বরং বলতে পারেন, বিকল্প পাওয়া গেলেও তা নিয়ে কী করব? আবার একটা শিল্প বিপ্লব করব? এখানে আমার নজর করানোর চেষ্টা।

৫. মৌলিক দিক থেকে বললে, খেয়াল করলে দেখবেন আমাদের উন্নতি ধারণাটা দাড়িয়ে আছে, প্রকৃতি-মানুষের সম্পর্ক কী - এই নিয়ে কিছু ধরে নেয়া ধারণার উপরে। আমরা প্রকৃতিকে উপভোগ (appropriation) করব, প্রকৃতির কাজ আমাদের উপভোগের উপকরণ হয়ে সামনে হাজির থাকা। আমরা সেই প্রকৃতিকে ভোগ করে আমাদের জীবন প্রকাশ করব, আমাদের মানুষের লাইফ ষ্টাইল হবে ওটা।
৬. প্রকৃতি এখানে আমাদের অপর, এক্সটারনাল ধরে নেয়া হয়েছে। ওর জানু চেপে ফসল, ভোগের উপকরণ বের করে আনার নামই হচ্ছে উৎপাদন।
এই হলো আমাদের "উৎপাদন" ধারণা। আবার "উৎপাদন" করা মানে ভোগ করা, "উৎপাদন"গুলোকে ভোগ করা, সেজন্যই "উৎপাদন" করা। "উৎপাদন" এর উল্টো পিঠের নাম ভোগ।

কিন্তু প্রকৃতি কী আসলেই অপর, এক্সটারনাল?
আমরাও প্রকৃতি নই, প্রকৃতির এক প্রজাতি মাত্র?
তাহলে কে কাকে উপভোগ (appropriation) করল?

৭. যে ধরণের জিন প্রযুক্তি লাগিয়ে গরু, মুরগীর নামে পশু নয় -মাংসের মেশিন হাজির করছি আপনার আমার মাংস, সারা শরীর অঙ্গ প্রত্যঙ্গও তো সেরকমই হওয়ার কথা।

এই ভাবনার গুলোর দিকে নজর ফেরাতে জলবায়ু পরিবর্তন বলে চিৎকার চলছে - তার গভীরে মৌলিক কোন জায়গায় তাকাতে হবে সেটা বলার সুযোগ নিতে চেয়েছি।

আমার কোন লেকা পড়ে বা না পড়েও হয়ত আপনার মনে হয়েছে নিশ্চয় - "যেসব দেশ কিঞ্চিন্মাত্রায় আদর্শ বলে মনে করেন (আগের রাশিয়া/চিন, বা বর্তমান অন্য সমাজতান্ত্রিক আদর্শ অনুসরণের চেষ্টাকারী দেশ" - না ভাই আমার এমন কোন আদর্শ দেশ নাই। বড় জোড় বলতে পারেন সবার অভিজ্ঞতাগুলোকেই খুটিয়ে যতদূর সম্ভব দেখতে চাই। সবাই একএকটা মানব অভিজ্ঞতা মাত্র, আদর্শ কেউ নয়। উপরে শিল্প বিপ্লবকে কিভাবে দেখেছি তা থেকে নিশ্চয় আন্দাজ করতে পারেন আমার মনোভাব কী।

সবশেষ আপনার শেষের বাক্য,
"আপনার লেখার বাক্যগঠন ও শব্দপ্রয়োগ দুর্বল, কোথাও দুর্বোধ্য। মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হয়। এটা সমালোচনা নয়, অনুযোগ মাত্র, কারণ, আপনার লেখা পড়ি এবং পড়তেই চাই" - এই অনুযোগ ভাল লেগেছে। আমি শিখতে চাই। সংশোধিত হতে চাই। যেকোন লেখার শব্দের ব্যবহার, বাক্যগঠন নিয়ে, শব্দপ্রয়োগ দুর্বল, কোথাও দুর্বোধ্য নিয়ে যেখানে মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হচ্ছে এমন জায়গাগুলো দেখিয়ে দিলে আমি প্রয়োজনীয় সংশোধন করে নিতে চাই।

একাজে আপনি কী আমাকে সাহায্য করবেন? আপনার সহযোগিতা আমার পাথেয় করে স্মরণ করব। ভাল থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৮৮৭১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই