আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
হাসিনার ভারত সফর: যৌথ ঘোষণা ও ভারতীয় কূটনীতি
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৫
গুরুত্ত্বপূর্ণ এই ইস্যুতে আমি বোধহয় একটু দেরী করে ফেললাম নাকি জানি না। আসলে শীর্ষ বৈঠকের যৌথ ঘোষণা (Joint Communiqué) হাতে পেতে দেরি হলো। আর ওটা হাতে পাবার পর এই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলে সিরিয়াসনেস বজায় রাখতে চাই - এটাও একটা কারণ।
কথার শুরুতে, যৌথ ঘোষণা (Joint Communiqué) নিয়ে কিছু সাধারণ আলোচনা করে নিব। তবে মনে হচ্ছে আমাকে আর এক পর্বে এটা শেষ করতে হবে, দেখা যাক।
যে কোন উঠতি অর্থনীতির দেশ তা অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠার ক্ষেত্রে অনেকে যেমন উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখতে পাবেন একই সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসাবে ঐ দেশের চাপা দিয়ে বলপ্রয়োগে ফেলে রাখা বহু চাপা পড়া সমস্যা পেকে উঠবে, ফেটে বের হতে চাইবে, আশু নজর, সমাধান চাইবে - চাই কি অর্থনীতির গতিতে সরাসরি বাধা হয়ে দাঁড়াবে, সম্ভাব্য বড় বিপদ ঘন্টা হয়ে ঝুলে থাকবে -আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা এটা দেখেছি।
ভারতের দিক থেকে যদি দেখি, তার উঠতি অর্থনীতি একইসাথে কি কি উঠতি সমস্যা, বাধা, বিপদ ঘন্টা বাজিয়ে হাজির হচ্ছে সে সম্পর্কে আমাদের জানা নাই হয়ত, কিন্তু না থাকলেও যেন কোন অসুবিধা নাই; কারণ যৌথ ঘোষণা ভারতের সেই বিপদগুলো মাথায় গেথে নিয়ে ড্রাফট করা হয়েছে, প্রতি ছত্রে ছত্রে ভারতের স্বার্থের এই উদ্বিগ্নতাগুলো ফুটে বেরিয়েছে। সেই দিক থেকে বলা যায়, যৌথ ঘোষণা আসলে ভারতের স্বার্থের উদ্বিগ্নতাগুলোর দলিল; রক্ষকবজ এঁটে একে রক্ষা করার প্রচেষ্টা। তাই যদি হয় তবে "যৌথ ঘোষণা" হয় কিভাবে? আমাদের জন্য বিপদের দিক হলো এটাই নাকি আমাদেরও স্বার্থ -এই বলে আমাদের উপরে চেপে বসতে চাচ্ছে।
হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে এই যৌথ ঘোষণা থেকে ভারতের সমস্যা, বাধা, বিপদ ঘন্টার একটা পুরা তালিকায় বের করা সম্ভব; আরো স্পষ্ট করে বললে এই ঘোষণা ভারতের উঠতি অর্থনীতির উঠতি সমস্যা, বাধা অপসারণে বাংলাদেশকে কিভাবে ব্যবহার করে নেয়া যায় এরই দলিল। সাধারণভাবে বললে, এটা ভারত রাষ্ট্রের দেখা স্বার্থ, বা ভারতের শাসকের স্বার্থ - কোনগুলোকে সে তারা সমস্যা, বাধা মনে করছে বা করবে। এগুলোর একটা তালিকা তৈরি করছি এখানে,
ভারতের সিকিউরিটি: সে যেভাবে দেখার কারণে যাকে যাকে শত্রু বানিয়েছে, আমাদেরকেও সেভাবে দেখে ভারতের সিকিউরিটির উদ্বিগ্নতা দূর করতে হবে।
তার বিভিন্ন রাজ্যে অসম বিকাশজাত ক্ষোভ মিটাতে বিদ্রোহ দমন করতে ট্রানজিট দরকার, পূবের সাতবোন রাজ্যকে বাজার হিসাবে তার পাওয়া দরকার এজন্য ট্রানজিট দিতে হবে। আবার বাংলাদেশকে বাজার, বিনিয়োগের জায়গা হিসাবে পাওয়া দরকার, পূর্বের সাতবোন রাজ্যে ভারতের অন্য এলাকা থেকে পণ্য প্রবেশের তুলনায় যোগাযোগ সুবিধার কারণে বাংলাদেশের কিছু পণ্য সিমেন্ট, ব্যাটারি, সাবান টয়লেটারিজ ইত্যাদির একটা তুলনামূলক সুবিধা ছিল, সে সুযোগ পাওয়া শুরু হতেই নিজের অন্য অঞ্চলের বাজারকে একটা প্রটেকশনিষ্ট সুবিধা দিতে অশুল্ক বাধা আরোপ করেছে। বিপরীতে আমাদের উপর ট্রানজিটের জন্য চাপ দিচ্ছে যাতে সে নিজের পণ্য নিয়ে সাতবোন রাজ্যে হাজির হতে পারে।
আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘে স্হায়ী ও অস্হায়ী সদস্যপদে বা বিভিন্ন বহুজাতিক ফোরামে ভারতের স্বার্থকে আমাদের সমর্থন করতে হবে, চীন ইস্যুতে ভারতীয় স্বার্থজোটে পাশে থাকতে হবে, আমেরিকার সাথে তার আঁতাত, সামরিক স্বার্থ, যুদ্ধ-পররাষ্ট্রনীতিতে পাশে থাকতে হবে, আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু, বাণিজ্য আলোচনা ইত্যাদিতে ভারতীয় স্বার্থের পাশে থাকতে হবে,
ভারতের জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগীর ভুমিকায় হাজির হতে হবে,
ভারতের পানির চাহিদা মেটানোর পর যদি থাকে তবেই ভারতের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি আমরা পেতে পারি। বিভিন্ন বাধ দিতে চাইলেও আমাদের ওর মধ্যেই আমাদের সুবিধা আবিস্কার করতে হবে।
ভারত যেভাবে নিজের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জিএম বা হাইব্রিড দিয়ে তার কৃষিকে ঢেলে সাজাতে চায় আমাদেরকে এর পাশে থাকতে হবে নিজেদের কৃষিকেও এভাবে বারোটা বাজাতে হবে।
এই তালিকাটা কেবল যৌথ ঘোষণা পড়ে তা থেকেই প্রস্তুত করা সম্ভব। এথেকে বুঝাও সম্ভব হাসিনার এই সফরে
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দিক থেকে প্রথমত, ভারতের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করার কোন কারণ নাই, এছাড়া কী স্বার্থে শর্তে কেন করব সেসব প্রশ্ন আছে, দ্বিতীয়ত, ভারত যেগুলোকে সমস্যা বাধা হিসাবে দেখছে, কেবল ইস্যু হিসাবে ওগুলোকে যদি ধরি তবুও তা দেখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও দেখার দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে তা ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। এমনকি কোন কোন ইস্যু তা একান্তই ভারতের উঠতি অর্থনীতির অনুসঙ্গ হবার কারণে বাংলাদেশের দিক থেকে তা ইনডিফারেন্ট, মাথা ঘামানোর বিষয় না, এই ধরণের হওয়াও স্বাভাবিক।
তবে তাগিদ যেহেতু ভারতের এবং সেকাজে বাংলাদেশের কাছ থেকে সহায়তা পেতে চাইলে বাংলাদেশকে সত্যিসত্যিই কোন বাড়তি সুবিধা দেবার বিনিময়ে ভারত কোন প্রস্তাব রাখতে পারে; যেখান থেকে সহায়তা বিনিময়ের কুটনীতি বাকচাতুরি চালু হতে পারে। বাংলাদেশ তাতে বিষয় স্বার্থ ওর মধ্যে দেখলে আগ্রহী হতে পারে নাও পারে, অপশনাল।
এবার বাংলাদেশের অর্থনীতির দিক থেকে এমন কিছু কী আছে যা ভারতের কাছ থেকে পেলে আমাদের সুবিধা?
মৌলিক দিক থেকে বললে এমন কোন কিছু আসলে নাই, এখন দেখা যায় নাই, তৈরি হয় নাই; বরং যতটুকু আমরা পাচ্ছি তা নিজস্ব সক্ষমতার জোড়ে, বিজনেস এজ ইউজুয়ালের কারণে। কিন্তু অর্থনীতির বাইরে বাস্তবে আমরা দেখি কিছু একটা জানি আছে। হ্যা ভারতের কাছ থেকে পাওয়ার আছে কিন্তু সেগুলো ভারতের কাছ থেকে কোন বাড়তি সুবিধা তা নয়। এক কথায় বললে এগুলো পানি, সীমানা কেন্দ্রিক; যা বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার ব্যাপার এবং এই ইস্যুতে আমাদের দাবি কোন বাড়তি পাবার আবদার নয়; এবং এজন্য মনে রাখতে হবে এর নেচার ভারতের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া ধরণের নয়।
তাহলে দেখা যাচ্ছে উপরে ভারতের যে বিশাল তালিকা দিলাম তুলনায় আমাদের ন্যায্য ছাড়া বাড়তি কিছু পাবার নাই।
এই বাস্তব পরিস্হিতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের কুটনীতি সাজানো হয়েছে এমনভাবে, যেহেতু বাংলাদেশের ভারতের কাছ থেকে বাড়তি কোন সুবিধা পাবার নাই ফলে পানি, সীমানা প্রসঙ্গে যেগুলো বাংলাদেশের হিস্যা, আন্তর্জাতিক আইনের চোখেও যা হিস্যা, ন্যায্য অধিকার - সেসব ইস্যুগুলোকে এমন পরিস্হিতিতে নিয়ে যাওয়া যেন এক্ষেত্রে ভারত হলো দাতা এটা হাজির করা যায়। অথচ পানি, সীমানা প্রসঙ্গে ভারতের দাতা হবার প্রশ্নই উঠে না, পানি ভারতের উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে, ভারতের সাথে সীমান্তে ভুভাগ, নৌভাগ আছে বলে নিশ্চয় ভারত দাতা নয় - চাইলে এটা সহজেই আমরা বুঝতে পারি।
ভারতের কুটনীতি আমাদের ন্যায্য হিস্যাকে ভারতের দাতা হিসাবে হাজির করেও সাজিয়ে শেষ হলেও বোধহয় একটা মানে থাকত, কিন্তু তা এখানেই শেষ হয়নি। যেমন পানি প্রবাহ নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টির ইস্যু করেই এটা থামেনি। তাদের প্রয়োজন মেটানোর পরে যদি যদি কিছু থাকে তবে সেটা বাংলাদেশ পায় কীনা তা দেখা যেতে পারে- এই হলো তাদের পররাষ্ট্র নীতি। পানি নিয়ে আন্তর্রাষ্টীয় বিবাদ অনেক আছে এমনকি ভারতের মধ্যেই আন্তরাজ্যেও তা আছে; এগুলো যেন যুদ্ধ পর্যন্ত না গড়ায় সে জন্য আন্তর্জাতিক বহু আইন, নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে যার মূল কথা হলো, পানি উৎসমুখ থেকে সমুদ্রে গিয়ে শেষ হওয়া পর্যন্ত একটা একক, এটা উজানে যে যে দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে তাদের ঐ পানির প্রয়োজন কতটা অথবা আগে তাদের প্রয়োজন মেটানোটা প্রায়রিটি - এমন কোন ভিত্তি ভাবনা সেখানে নাই। ভারতের এই প্রয়োজন কথাটার কোন সীমা-পরিসীমা নাই বরং একেবারে এন্ডলেস; খাল কেটে বা বাধ দিয়ে নদী প্রবাহ ডাইভার্ট করে দেওয়া থেকে শুরু করে, দুই নদীর মাঝে কৃত্রিম খাল কেটে দুটোকে যুক্ত করা, বন্দর বাঁচানোর অজুহাতে পানি টেনে নিয়ে যাওয়া সব সেখানে জায়েজ। আবার এসব অর্বাচীন কান্ড করার ফলেই বাংলাদেশ পানি পাচ্ছে না একথা বললে ভারতের এক অদ্ভুত যুক্তি আছে, বলে আজকাল প্রকৃতি পানি কম দিলে তারা কী করতে পারে? এনিয়ে এই যৌথ ঘোষণায় ২৭ নম্বর পয়েন্টে এনিয়ে আরও অনেক মজার ভাবনা আমরা দেখব, পরে আসছি সে প্রসঙ্গে।
আবার বর্ডারের কথাই যদি ধরি, নির্বিচারে বাংলাদেশী মানুষ মারার নীতি নিয়েছে; অর্থাৎ বর্ডার নিয়ে যেসব অমীমাংসিত বিষয় জিইয়ে রাখা হয়েছে সেসব তো আছেই বরং তাতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে ভারত। যাতে মনে হয় এখন এই নতুন ইস্যুতেও ভারত দাতা। বেশি আগের কথা না হয় বাদ দিলাম, মানবাধিকার সংগঠনগুলো হিসাব দিয়ে বলছে শেখ হাসিনার এক বছরে ৯৬ জন মানুষ এভাবে নির্বিচারে মারা হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার সফরের দিনেও নির্বিকারে লোক মারা হয়েছে। এঘটনাগুলো নিয়েও ভারতের একটা আজীব ব্যাখ্যা আছে, cross border crimes, অর্থাৎ ক্রীমিনালদের সীমা পার হওয়া সংক্রান্ত অপরাধ এগুলো। এই আজিব ব্যাখ্যার তোড়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি হাসিনা কিংকর্তব্যবিমুঢ হয়ে এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভুলে গেছে যে প্রথমত, ওরা যে ক্রিমিনাল এটা আগে প্রমাণ হতে হবে, দ্বিতীয়ত ক্রিমিনাল মনে করে নিয়েই তাকে গুলি করে মারা আর একটা অপরাধ। এছাড়া ধরে নিয়ে নির্যাতন করে, হাতের তালুতে বৈদুতিক শক দিয়ে নির্মমভাবে মেরে ফেলার ঘটনাও আছে, পত্রিকায় সে ছবি আমরা দেখেছি। এই প্রসঙ্গে যৌথ ঘোষণায় ১৮ নম্বর পয়েন্টে মজার পর্যবেক্ষণ আমরা দেখতে পাব। পরে আসব।
তাহলে এখনকার মুল কথা হলো, ভারতীয় কূটনীতির সাধারণ ধারাকে চেনা; সেটা হলো, বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে সম্পর্কহীন অথচ ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে যা তার স্বার্থ মনে করে - এই বিষয়ে সব (বাড়তি) আবদার (সময়ে তা অন্যায় আবদারও বটে) আদায় করতে পানি বা বর্ডার ইস্যুতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে নিজেকে দাতার ইচ্ছার ভূমিকায় হাজির করা, চাপ সৃষ্টি করা।
আবার চাপ সৃষ্টি করেই শেষ হয়না। বিনিময়ের কোন যৌথ ঘোষণায় বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা যদি স্বীকার করতে হয় কখনও তবে একে কাগুজে ঘোষণায় পরিণত করা, কাগজের লেখা কাগজে থাক আর তারা যে কুটনীতিতে যেভাবে যা করছিল একটুকু না বদলে তাই চালাতে থাকা। শেখ মুজিবের আমল থেকে আমরা এটাই দেখে আসছি। যৌথ ঘোষণার টিপাইমুখ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলছেন, আমাকে এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করা ছাড়া কি করার আছে। বিশ্বাস আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিই যদি আমাদের ভরসা হয়, আমরা যদি এটা বুঝে থাকি তবে তা যৌথ ঘোযণার কাগজে আসার দরকার কেন? বরং ওতে ভারতীয় সফল কুটনীতি - টিপাইমুখ বাঁধ যে তারা করবেনই প্রকারন্তরে এটাই হাসিনাকে দিয়ে স্বীকার করিয়ে নিয়েছেন - সে হুশ হাসিনার নাই।
যৌথ ঘোষণা মনোযোগ দিয়ে পড়ে, ওর শব্দ চয়ন, উপস্হাপন দেখে আমার বিশ্বাস জন্মেছে এর ড্রাফ্টসহ সবটাই ভারতীয় সাউথ ব্লকের করা, এমনকি আমাদের সচিব মিজারুল কায়েস বা আমাদের কোন পেশাদার কুটনীতিকেরও ঐ ড্রাফ্টের পরে কোন অবদান আছে কিনা আমার প্রবল সন্দেহ আছে; অর্থাৎ বাংলাদেশের অবদানের পুরাটাই শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের। যেকেউ এই যৌথ ঘোষণা পড়লে বুঝতে পারবেন এই ভাষা, শব্দ, বাক্য গঠন বাংলাদেশের নয়, কোন পেশাদার কুটনৈতিকেরও নয়। আমরা কেবল ঐ দাসখতে সাক্ষর করেছি - এটাই অবদান।
মোট ৫১টা পয়েন্ট আকারে যৌথ ঘোষণাটি গঠিত হয়েছে, যার মধ্য প্রথম নয়টা আর শেষের দুটো - প্রসঙ্গে ঢুকা আর বের হওয়ার বলে - বাদ দিলে বাকি ৪০টা হলো শীর্ষ প্রধানদের মনোভাব ও কেবল দেয়া বা তথাকথিত দেয়ানেয়ার বিষয়ে আসল প্রসঙ্গ।
কোন যৌথ ঘোষণায় উভয় দেশের শীর্ষ ব্যক্তির যৌথ অভিব্যক্তিতেই তা ভারাক্রান্ত থাকে, এটাই স্বাভাবিক। এই ৪০ প্রসঙ্গের মধ্যে ৩০টাই two Prime Ministers agreed, Both Prime Ministers agreed অর্থাৎ Both agreed জাতীয়। বাকী থাকে দশটা যা কোন এক Prime Minister একা agree করছেন অথবা কোন একজনের স্মরণ বা recall ধরণের।
এমনই একটা হলো, ১১ নম্বর পয়েন্ট, শেখ হাসিনা recall করছেন।
"11. The Bangladesh Prime Minister recalled the shared bonds of
history, culture and aspirations that bind Bangladesh and India, and
paid tribute to the sacred memory of the lives sacrificed for the
freedom and independence of the two countries. She called for
rededicating efforts to establish a society free from ignorance, fear
and want."
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব, গভীর আবেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। বরং না থাকাটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু দুই দেশের freedom and independence নিয়ে এই ১১ নম্বর পয়েন্টেটায় শেখ হাসিনা of the two countries বলে শেয়ার করছেন, দেখতে পাই। অর্থাৎ স্মরণ শেখ হাসিনার কিন্তু স্মরণ করছেন দুই দেশের মূক্তি ও স্বাধীনতার যুদ্ধকে, ওতে lives sacrificed নিয়ে। lives sacrificed এর দিক থেকে ভারতের স্বাধীনতা কোন যুদ্ধই নয় তবে তা আন্দোলন সংগ্রাম অবশ্যই; ফলে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের lives sacrificed দিক থেকে ওর তুলনা করা যায় না, করলে তা আতিশর্য হবে; হয়ে গেছেও তাই।
আসলে সম্ভবত ভারতীয় কূটনীতিক ড্রাফ্টস-পারশন শেখ হাসিনাকে দিয়ে স্মরণ করিয়ে নিতে চাইছিলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতার কথা। কিন্তু freedom and independence of the two countries কথা লাগায়ে এর উপর আবার lives sacrificed এর কথা দিয়ে পোক্ত করতে গিয়ে একটা অশ্বডিম্ব প্রসব করে বসেছেন। মনে রাখতে হবে এই পয়েন্ট একা শেখ হাসিনা স্মরণের পয়েন্ট, যৌথ নয়। শুরুতে তিনি স্মরণ করতে বলছেন, shared bonds of history, culture and aspirations that bind Bangladesh and India, কিন্তু দুই দেশেরই স্বাধীনতা যুদ্ধ আর lives sacrificed এর কথা কইয়া একেবারে ভজকট লাগিয়ে ফেলাইছেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে এটা বাংলাদেশের কোন মানুষের করা ড্রাফ্ট এমন হবে না, হয় না। হলে শেখ হাসিনার আমলে সেক্ষেত্রে, আমরা হয়ত দেখতাম তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন এবং একই সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা ও আত্মত্যাগের প্রতিও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।
তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এই একই পয়েন্টের শেষ বাক্য এখনও বলা হয় নাই। শেষ বাক্যটা দেখুন, "She called for rededicating efforts to establish a society free from ignorance, fear and want" - এখানে ignorance শব্দটা বোল্ড করেছি আমি নিজে। সারকথায় শেখ হাসিনা কি কি থেকে মুক্ত সমাজ দেশ চান তাই লেখা হয়েছে। তা ভালো কথা। ভয় ও অভাব (fear and want) মুক্ত সমাজ চাওয়ার কথা শুনেছি, বুঝিও বোধহয় কিন্তু ignorance কথাটা আমাকে মহা ভেজালে ফেলায় দিছে; আমার অজ্ঞতার জন্য পাঠক মাফ করবেন, কখনও ignorance অর্থাৎ অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কামনা - না কুটনৈতিক ভাষায় না অন্য কোথাও - আমার জিন্দেগিতে দেখি নাই। ভারতসহ আমেরিকা ইত্যাদি অনেককে নিয়ে আমাদের ভয় আছে জানি, দেশে অভাব আছে তাও বুঝি কিন্তু, সারা অঙ্গে অজ্ঞতা নিয়ে বসে আছি এটা তো জানি না। আর এই অজ্ঞতা কি থেকে, কি অজ্ঞতা আমাদের?
আমাদের মানুষ মুসলমান বলে, ইসলামের গন্ধ আছে বলে, নাকি মুসলমান হয়েও ইসলাম বুঝি না বলে, নাকি ভারত আমাদের দেশ স্বাধীন করে হাতে তুলে দিয়ে গেছে তা থেকে অজ্ঞ, না তাও মিলে না কারণ ঐ শব্দটাতো অকৃতজ্ঞতা বলে জানি, আর অজ্ঞ না থেকে জেনে শুনেও তা করা যায় কোন সমস্যা নাই; আচ্ছা তাহলে কী এটা ধর্মীয় কূপমন্ডুকতার ইংরাজী ignorance সেই রকম কোন অর্থে, সেটা তো পিছিয়ে পড়া, মধ্যযুগীয় গেরাইমা, অনাধুনিক এসব দিয়ে বলতে শুনেছি। পাঠক ভাইবোন বুদ্ধি দিয়া বাচান, আমার মাথায় আর কুলায় না। আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।
এছাড়া কোন জাতি কী নিজে নিজেরে অজ্ঞ বলে আমি দেখিনি, জানা নাই। তবে কোন বাংলাদেশী বা বাঙালী এইভাবে কোন ড্রাফট লিখতে পারে আমি বিশ্বাস করি না।
আরও আছে আপাতত এটুকু উদাহরণে আনলাম, বলার চেষ্টা করলাম ড্রাফট কর্তার ব্যাপারে কেন আমার মনে সন্দেহ হয়েছে। পরের পর্বে দেখা হবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভারত, বাংলাদেশ, কুটনীতি, ট্রানজিট, টিপাইমুখ ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: কেউ যদি তাস না চিনে খেলতে বসে, ওর কাছে টেক্কাই বা কি, স্পেডের দুই বা কী - তাই না? এর উপরে প্লেয়ারটাই যদি ডামি হয় -
তিন জনে ব্রীজ খেলার মতন? আমাদের অবস্হা তাই।
অলস ছেলে বলেছেন:
যৌথ ঘোষণা মনোযোগ দিয়ে পড়ে, ওর শব্দ চয়ন, উপস্হাপন দেখে আমার বিশ্বাস জন্মেছে এর ড্রাফ্টসহ সবটাই ভারতীয় সাউথ ব্লকের করা, এমনকি আমাদের সচিব মিজারুল কায়েস বা আমাদের কোন পেশাদার কুটনীতিকেরও ঐ ড্রাফ্টের পরে কোন অবদান আছে কিনা আমার প্রবল সন্দেহ আছে; অর্থাৎ বাংলাদেশের অবদানের পুরাটাই শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের। যেকেউ এই যৌথ ঘোষণা পড়লে বুঝতে পারবেন এই ভাষা, শব্দ, বাক্য গঠন বাংলাদেশের নয়, কোন পেশাদার কুটনৈতিকেরও নয়। আমরা কেবল ঐ দাসখতে সাক্ষর করেছি - এটাই অবদান। জেনে অত্যন্ত প্রীত হলাম। আপনাকে ধন্যবাদ।
আমরা আ্সলেই বর্বর। খাস বর্বর। ওয়ান এন্ড অনলি, ইউ এন্ড মি, কোন সন্দেহ নাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অলস ছেলে।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
য়ৌথ ঘোষণা হতাস করার মতোই। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কারণে ভারতের মতো দেশকে এলডিসির জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সুতরাং ৪৭ পণ্য নিয়ে ঘোষণার কোনো বিশেষ অর্থ নেই। আবার এখন তো শুনছি যে ৪৭ পণ্যের কথা বলা হচ্ছে সেটিও নতুন কোনো ঘোষণা না। আগের ঘোষণার কথাই বলা হইছে। বাংলাদেশ পাবে ১০০ কোটি ডলার ঋণ। ভাবখানা এই ঋণ পাওয়াই বাংলাদেশের বড় সমস্যা। এই ঋণ অন্য কোথাও থেকেও পাওয়া সম্ভব ছিল। এখনো সম্ভব। সুতরাং এটাকেও আমি বড় করে দেখতে রাজি না।
বাংলাদেশের পণ্য গেলে যে সব অশুল্ক বাধা ভারত দেয় সেগুলোর কার্যকর সমাধান কি হলো সেটাও আমি বুঝতে পারছি না।
লেখক বলেছেন: খুবই খুশি হয়েছি মাসুম আপনাকে এখানে পেয়ে।
খুবই ভাল দুটো প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রথম প্রশ্নটার আরও দিক আছে। ৪৭ পণ্য নিয়ে ঘোষণা গুরুত্তপূর্ণ নু কারণ, যে সব পণ্য আগঐ আমরা রপ্তানি করতে পারব বলে ছাড় দেয়া আছে সেগুলোর উপর এবার ঘুর পথে অ-শুল্ক বাধা দিয়ে রাখা আছে। ফলে অশুল্কজাত চার্জ যোগ করে মূল্য ভারতীয় পণ্যের চেয়ে বেশি দাড়িয়ে যায় ফলে রপ্তানির সুযোগ কাগুজে ঘোষণায় আছে, থেকেও বাস্তবে নাই।
এর উপর আরও বড় বাধা আছে, ষ্টান্ডার্ডাইজ টেষ্টিং (ISI)। বাংলাদেশের পণ্য আগে (ISI) এর কাছ থেকে ছাড়পত্র পেতে হবে। কারণ ওরা BSTI মানতে রাজি নয়। এখন যৌথ ঘোষণার ফলে চুক্তির ফলে (BSTI) ও হয়ত তাদের দখলে যাবে।
যে কোন বিচারে বাংলাদেশের সাবান ভারতের যে কোন সাবানের চেয়ে উৎকৃষ্ট। কারণ আমরা পশু চর্বি কাচামাল ভিত্তিক সাবানের বদলে বহু আগেই আমাদের সব ফ্যাক্টরি ভেজিটেবিল ফ্যাট ভিত্তিক আধুনিক মেশিনে তৈরি। ভেজিটেবিল ফ্যাট মানে মালয়েসিয়ান কাঁচা পাম অয়েল আমদানি করে দেশে রিফাইনারিতে শোধনের পর যে বাই প্রোডাক্ট গাঁদ জমা হয় সেটাই। ভারতের এই কাঁচামাল পাবার সুযোগ নাই। কারণ লোকাল ইকোনমিতে ভোজ্য তেল মানে স্হানীয় সরিষার তেল।
এজন্য আমাদের সাবান এখন আফ্রিকার মার্কেটে ছেয়ে গেছে।
দুই নম্ব র পয়েন্ট যেটা তুলেছেন এটা আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ।
আপনি ঠিকই ধরেছেন, এমনকি ট্রানজিট দিতে আমরা যদি একমতও হই তাহলে "এই ঋণ অন্য কোথাও থেকেও পাওয়া সম্ভব ছিল। এখনো সম্ভব" এবং বেটার শর্তে, সুদ হারে।
আমরা কেউ কিন্তু এখনও জানিনা এই পাঁচ বছরে ১০০ কোটি ডলারের সুদের হার ভারত কত নিবে।
বিশ্বব্যাঙ্কের কনসেশনাল লোন যদি ধরি তা এপর্যন্ত ১% এর নীচে, (০.৫ - ০.৭৫%) এরকম। ভারতের লোনের সুদ কী এর চেয়ে কম হবে? আসলে ভারতের এটা ঠিক লোন নয়, সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট ধরণের। অর্থাৎ ঐ টাকা দিয়ে কোন পণ্য, মেশিনারিজ কিনতে কোন টেন্ডারে যাবার সুযোগ নাই। ১. লোনদাতার কাছ থেকে কিনতে হবে
২. ঐ পণ্যের মূল্য, মান এগুলো নিয়ে আমাদের কিছুই করার নাই।
একবার চিন্তা করে দেখুন, ভারতীয় ড্রেজার অথবা টাটা ট্রাক ঐটাকায় আমাদের কান্ধে উঠবে, সুদের পয়সা শোধ করার আগেই দেখব আমার এ্যাসেটের ডেপ্রিসিয়েশনে মূল্য ভাংড়ি লোহালক্কর হয়ে গেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফেরদৌস।
এইমাত্র ওয়ার্ড প্রেসে এটা রেখে আসলাম।
নিশ্চয় বুজতে পারছেন এটা কোন অফিসিয়াল রেফারেন্স নয়, অনথিকেট করার আমিও কেউ নই। আমি যেভাবে পেয়েছি সেটাই ওখানে দিয়েছি।
নীচের লিঙ্কটা দেখেন, Click This Link
বিবেকের কথা বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বিবেক, অংশগ্রহণের জন্য।
মিহির আহমেদ বলেছেন:
বাংলাদেশ পাবে ১০০ কোটি ডলার ঋণ!!! এই ঋণের সুদ কত, জানা যায়? বাংলাদেশ যে ট্রানজিট দিবে, কানেক্টিং রোড বানাবে- সব টাকা তো এই সব খাতেই খরচ হবে। বাংলাদেশ সুদের টাকা কোথা থেকে দিবে?
লেখক বলেছেন: আমার জানা মতে এখনও কেউ জানে না। কোথাও দেখিনি।
উপরে ৩ নম্বরে মাসুমের মন্তব্য ও আমার জবাব দেখেন।
লুৎফুল কাদের বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন: অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ লুৎফুল কাদের।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
হুমম....পড়লাম।আমিও লিখেছি এসংক্রান্ত বিষয়ে তবে আপনি মুল ফিলোসফি ধরে এগিয়েছেন, এইজন্য লেখাটা গুরুত্বপুর্ণ।শওকত হোসেন মাসুমের মন্তব্যটা গুরুত্বপুর্ণ এই কারনে যে উনি প্রথমআলোর অর্থনীতিবিষয়ক লেখক।
প্রথম আলো আর ডেইলি স্টারের চামচামি দেখে হতাশ হইলাম।সাধারণ বিশ্লষণ করার ক্ষমতাও তাঁরা হারিয়েছি।নির্লিজ্জ তোষামোদিতে ডুবে গেলে এমনই হয়।
লেখক বলেছেন: খুব ভাল লাগল আপনার প্রতিক্রিয়া পড়ে।
আপনার লেখা আমার এখনও দেখা হয় নাই, দেখব।
বেচে থাকার জন্য আমাদেরকে অনেক কুছু করতে হতে পারে। ফলে নিজের জন্য আমরা যে সময়টা বেঁচে থাকি, বাঁচিয়ে রাখি ঐ সময়ে কী করছি ওটার দিকে তাকাতে হবে। তাই ব্যক্তি মাসুমই আমাদের কাছে দরকারি - আমি এভাবে দেখি। মাসুম এখানে যা প্রশ্ন তউলেছে সেসব প্রথম আলোতে তুলবার সুযোগ নাও পেতে পারে। দেখেন নি প্রথম আলো ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভিতরে, কি জানি কে বিরাগভাজন হয়। অথচ বেকুবগুলো বুঝে নাই ওটাই হওয়া উচিত ছিল লীড নিউজ, কারণ ওটা জনগণের স্বার্থের প্রশ্ন। এধরণের সীমাহীন বেঈমানি মতি করে চলেছে। বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের এধরণের প্রতিক্রিয়া আমরা এর আগে কখনও কোন প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। ব্যবসায়ী অর্থাৎ সমাজের সবচেয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকেও হাসিনা পক্ষে রাখতে পারেনি; তাহলে হাসিনা ভারতে কাকে প্রতিনিধিত্ত্ব করেছে সেই প্রশ্ন ওখানে লুকিয়ে আছে।
মেটালিফেরাস বলেছেন:
এর চেয়ে শ্রেয়তর কিছু হতে পারত আশা করেছিলেন নাকি? হাসিনা যাদের ডামি তারা সয়ং এই মহান দায়িত্ব নিলেই কি এমনতর না হয়ে অন্য কিছু হতো? হতে পারত?
মাফ করবেন, আমি তা মনে করি না।
লেখক বলেছেন: আমরা পেটি দোকানদারের হাতে পড়েছি।
এরা না বুঝে নিজের লং টার্ম স্বার্থ না ভোক্তা-ক্রেতা কে দিতে পারে কোন সুবিধা, ভাল পণ্য। নগদ লাভের লোভে নিজের, ক্রেতার - সবার ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে ফেলাই এদের দৌড়। পিপড়ার পাছা টিকে গুড় বের করে নিয়ে আসে যে দোকানদার আর তাঁর খাসিলৎ - সে এরচেয়ে মন্দ সে আর কী করতে পারে!
বলে কী না, ১০০ কোটি ডলারের মুলা এটাই নাকি তাঁর সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন।
এক ফকির ও তাঁর ছেলে একদিন ভিক্ষা করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছিল। পথে রেলওয়ে এক লম্বা ব্রীজ পার হতে হতে তার বাচ্চা ছেলের কৌতুহলি প্রশ্ন করল, বাবা এই ব্রীজটার দাম কত? ফকির উত্তর দিল, হবে বাবা পাঁচশ টাকা।
(ফকিরের চোখে পাঁ চ শ টাকা একটা বিরাট রকম।)
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরজু। আপনাদের প্রিন্ট মিডিয়া জগতের অবস্হা কি?
বাঙ্গাল বলেছেন:
চমতকার লিখছেন... পরবর্তী পর্ব পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। আমি খুব আয়েশ কইরা পড়ার জন্য যৌথ ঘোষণা প্রিন্ট নিয়া বাসায় গেছিলাম। পেন্সিল নিয়া বসছিলামও। কিন্তু এমন একটা জায়গা পাইলাম না যেখানে দাগ দেয়া যায়... বাংলাদেশের স্বার্থ কোথায় রক্ষা হইল... আগা মাথা পইড়াও কিছুই ধরতে পারলাম না। চূড়ান্ত বিরক্ত। আমরা এখনো দুইপাতা ইংরাজী পইড়া স্বাক্ষর দিবা মত লায়েক হইয়া উঠতে পারি নাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বাঙ্গাল, পড়ার জন্য।
"স্বাক্ষর দিবা মত লায়েক হইয়া উঠতে" না পারলে বামন হয়ে চাঁদ ধরার চেষ্টা না করাই ভালো - তাই না?
আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন? বহুদিন আপনাকে আমার পোষ্টে দেখি নাই।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
আর ইনডিয়ার এইসব আবদার এখন তার একার না। পুঁজির মুরব্বিদের। আর বাংলাদেশের মিডিয়ার মালিক হইলো লগ্নিপুঁজি।তাইলে বোঝেন কি অবস্থা!
লেখক বলেছেন: বুঝি নাই।
আপনি ঠিক কিছু একটা বুঝিয়েছেন যা আপনার মাথা থেকে এই ছবির অক্ষর পর্যন্ত কোন কারণে আহে নাই।
তয় এটা বুঝি, রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিকে একেবারে নৈর্ব্যাক্তিক করে ফেললে বিপদ হইতে পারে। সবই আল্লার ইচ্ছা ধরণের করণীয়হীন একটা অবস্হায় পৌছাতে পারি।
তবে, অথর্নীতির আলোচনায় অনেক সময় নৈর্ব্যক্তিকভাবে পুঁজির স্বভাব বুঝার দরকার হইতে পারে।
আর আরেকটা কথা, সড়ক পথে ও রেলপথে ট্রানজিটের প্রেক্ষাপটে আমাদের পরিবহন শিল্প বা টোল বা ট্যাক্স -- এ জাতীয় কোন উন্নতির বা কোন প্রকার কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে কি? বা কোন বাণিজ্যের? নাকি তারা এমনিই সব পারাপার করবে?
লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কু ভেরি মাচ। জব্বর একটা উত্তর দিয়েছেন। মাইরি (বলব কিনা ভাবছি)
"ignorence" কথাটার এই অর্থটা মাথায় আসে নাই। আসলেই আমার "ignorence"।
ভারতের এ্যাটিচুড হলো, বাংলাদেশকে দেখেছে নিজেরই একটা প্রদেশের মত করে। এক প্রদেশের উপর দিয়ে আর এক প্রদেশে যাবে তাতে সমস্যা কী? ফলে নিজের প্রদেশ হলে যেমন ইনফ্রাস্টাকচারের জন্য একটা বাজেট বরাদ্দ করে দিলেই সব তৈরি পাওয়া যায় - এক্ষেত্রেও ঘটেছে তাই। ফলে "পরিবহন শিল্প বা টোল বা ট্যাক্স" - নাহ, আপনি অনেক বেশি চিন্তা করে ফেলেছেন। জানতে পারলে আপনি ক্রসফায়ারে পড়তে পারেন।
গত বছর মিসরে, চীন এক মহা-আফ্রিকা কনফারেন্স ডেকেছিল, ১০ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল চীনের প্রধানমন্ত্রী নিজে। অর্থনীতিদের হিসাব হলো, ১ : ১০ হিসাবে এই বিনিয়োগের কারণে এর বিনিময়ে চীন ব্যবসা পাবে ১০০০ বিলিয়ন ডলারের।
এখন ভারতের ১০০ কোটি রুপি মানে এক বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় এই বিনিয়োগ থেকে উপরের অনুপাতে হিসাবে করলে কেবল ব্যবসা থেকেই উঠে আসবে ১০ বিলিয়ন ডলার, ঐ হিসাবের মধ্যে ট্রানজিটের লাভালাভ, রাজনৈতিক লাভালাভ ধরা হয়নি।
ভারত থেকে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ কি আনলেন, সাংবাদিকদের হাসিনা আপা এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন ঐ এক বিলিয়ন ডলার; যদিও আবার সত্যিকার অর্থে এটা বিনিয়োগ নয়, সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট ধরণের।
অনেক বিষয়ই মানুষের জানা থাকে না, কখনও মানুষ নাইভ হয়, কিন্তু একজন প্রধানমণ্ত্রী এরকম নাইভ বালিকার মত কথা বলবেন আমার জানা ছিল না।
ইস্কুলে স্কুল-ইন্সপেক্টারের ভিজিটে আসা নিয়ে অনেক মজার গল্প শুনেছেন নিশ্চয়। আজ আর একটা শুনুন।
স্কুলের এক আদুরে বাচ্চাকে দেখে ইন্সপেক্টরের পছন্দ হলো, তাকে প্রশ্ন করলেন, বলতো বাবা, একটা ফুলের নাম বল?
বাচ্চা উঠে দাড়িয়ে অনেকক্ষণ মোচড়ামুচড়ি করছে কিন্তু কথা বলছে না। হেডমাষ্টারসহ অন্য মাষ্টারেরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে ততই উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন - হ্যাঁ হ্যাঁ বল বাবা বল।
এবার বাচ্চা: (আদুরে গলায়) বলব, স্যার বলব।
হেড মাষ্টার: হ্যাঁ বল বাবা বল।
বাচ্চা: কুমলাল ফুল (কুমড়ার ফুল)। মা বলা (বড়া) ভেজে দেয় খেতে আমাল (আমার) খেতে খুব ভাল নাগে।
জিপিএস বলেছেন:
বন্ধু হইবার চাইলে তো 'বন্ধু'র চোখেই দেখবার ফ্রাকটিস করণ লাগে।
লেখক বলেছেন: খারান মিয়া আগে খারান, এই ফ্রাকটিস শুরু করণের আগে একটুস শুইনা যান। এই ফ্রাকটিস শেষ হইবার পর কিন্তু কইলাম বুঝবেন ফ্রাকটিসের দরকার ছেল না। কারন হইল, তখন আপনি আর বন্ধু দুজনায় দেখবেন কেউ কাউরে খুজে পাইতেছেন না; ক্যান, এমন হবে?
আপনারা দুইজনে তখন আর আলাদা থাকলে তো একজন আর একজনরে দেখবেন, চিনবান। অহন যে আর আলাদা নাই, আপনি তার ভিইতরে ঢুক্কা গ্যাছেন হের লগে বন্ধু পাতানোরও কাম কৈ পাইবেন?
তানিয়া মুন বলেছেন:
যৌথ ঘোষণার লিংকটা আমার দরকার। জানাবেন কি? কোন সাইটে গেলে পাবো?
লেখক বলেছেন: আমার প্রত্যেক পোষ্টের বডিতে লিঙ্ক দেয়া আছে।
এখানে আবার দিলাম Click This Link
এছাড়া ডেইলি ষ্টারও ছেপেছিল বলে জানি।
ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















ভারত সফরে কি ঘোড়ার আণ্ডা আনবে সচেতন নাগরিকরা সেটা ভালোকরেই জানত। প্রায় সবাই জানে। সবকিছু ঠিকঠাক করাই ছিল তিনি গেলেন, প্রণাম করলেন এবং দিয়ে এলেন।