আমার প্রিয় পোস্ট

ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ক: মুজিব-জিয়া অফেন্ডিং বিতর্কে

০২ রা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৮

শেয়ারঃ
0 3 0

ইটের বদলে পাটকেল মারা বিষয় করে লেখা দাসত্বের "মূলত রিঅ্যাকশন পোস্ট" - মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছিলাম। ওখানে পাটকেলের জোড়ে ইট আপাতত পরাস্ত হয়েছে মনে হচ্ছে। ওদিকে আমি চোখ রাখছিলাম, ইট-পাটকেলের যুদ্ধ থেকে বের হয়ে এর উত্তরণের কোন সম্ভাবনা শেষতক থাকছে কী না; না কী আওয়ামী লীগের বদলে বিএনপির মধ্যেই এটা শেষ হয়ে যাবে - একথা ভাবছিলাম। আজ সকালে অবশ্য দাসত্বের নতুন সারমর্মমূলক পোষ্ট দেখে মনে হয়েছে ইট-পাটকেলের যুদ্ধের একটা আপাত পরিসমাপ্তি হয়েছে।
দাসত্ব ও তাঁর মত অন্যেরা যদি খেয়াল রাখতে চান, বিএনপির রাজনীতি, সীমাবদ্ধতাগুলো মানে নিজের সীমাবদ্ধতা নয়, নিজেকে ওর সীমায় সীমাবদ্ধ করবেন না তবে এখন আমি যা বলব তা আপনাদের ভাল লাগলেও লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপি-আওয়ামী বিষয়ক তর্কের বাইরে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তার জটগুলো খুলার দিকে মনোযোগ দিয়ে পরিপক্কতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

গতপরশু দাসত্বের মুজিব অফেন্ডিং বিষয়ক পোষ্টে রাগইমনের মন্তব্য দেখার পর থেকেই ভাবছিলাম, বিতর্ককে আরও কোন ইতিবাচক উত্তরণের জায়গা নেবার দিকে মোড় ঘুরার সুযোগ সেখানে তৈরি হচ্ছে, আমরা বোধহয় সে সুযোগ নিতে পারেন। বিশেষত পরিপক্কভাবে রাগইমনের প্রশ্ন তোলা ও দাসত্ত্বে সাথে কথা চালাচালি থেকে আমার সেই আগ্রহ জেগেছিল।
আমি এখান থেকে আপনাদের দুজনের বিতর্কের ভিতর বিতর্ক নিরসনের একটা পদ্ধতিগত উপায় নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলে সেদিকে যাবার চেষ্টা করব।

দাসত্ব ও রাগইমনের বিতর্কের সার কথা হলো,
১৯৭৭ সালের ক্যু এর পর "২৫০০ কিংবা ১১৮৩ অফিসার বিনা বিচারে হত্যা হয়েছিলো কি না" - রাগইমনের এমন প্রশ্নের উত্তরে দাসত্ব সারকথায় বলতে চাচ্ছিলেন, নুরুন্নবী (সম্ভবত উনি লেঃ কর্ণেল এবং এই বিতর্কের সোর্স রেফারেন্স) বিশ্বাসযোগ্য সোর্স নয়।

এই তর্কটা এমনভাবে হচ্ছিল যাতে বল ব্যাটের সঙ্গে লাগছে না; যদিও বলও জোড়ে ছুটছে ব্যাটও জোড়ে হেকেছে । কিন্তু আমি পরিস্কার এটাও দেখতে পাচ্ছিলাম এখানে ব্যাট বলের মুখোমুখি হতেই পারবে না। ফলে এই বিতর্ক নিরসনের কোন সম্ভাবনা নাই। কারণ বল আর ব্যাট দুই আলাদা তলে, দুই প্যারাডিয়ামের পাটাতনে ঘোরাফিরা করছে। ফলে তাদের মুখোমুখি হয়ে সংঘাতের ফলে বিতর্কের একটা মীমাংসা বের হবার সম্ভাবনা নাই।
রাগইমনের "বিনাবিচারে" শব্দটা আমি বোল্ড করেছি, শব্দটা গুরুত্ত্বপূর্ণ। ওটা গুরুত্ত্বপূর্ণ এজন্য যে ইমন প্রশ্নটা তুলছে আইনী দিক থেকে, আইন (সেনা বা সিভিল আইন) পরিসীমায় দাড়িয়ে - এটা তারই লক্ষণ; সেই সাথে ওই শব্দের ভিতর একটা নৈতিকতার দিকও আছে যে বিচারের নাম করে অফিসার, জওয়ানদের ফাঁসি দেয়াটা ঠিক বা নৈতিক হয়েছে কী না।

আইনমূলক চোখে তোলা এই প্রশ্নে, এই তর্ক দাসত্ব আইন দিয়ে বা আইনের রেফারেন্স দিয়ে মোকাবিলা করতে যান নি। বরং সোর্স নুরুন্নবী অর্থাৎ ফ্যাক্টসটা দূর্বল তাই তর্ক ডিসমিস - এই পথ ধরে আগিয়েছেন।

ফ্যাক্টস দূর্বল একথা বলে আপাতত তর্কে জিতা গেছে মনে হলেও কিছু কিছু ফ্যাক্টস অবভিয়াস, প্রকাশ্য প্রমাণিত সত্য। ডকুমেন্টস, রেফারেন্সে যাওয়ার দরকার থাকে না; ঘটনা যেখানে নিজেই বলে যে ঘটনা ঘটেছে। যেমন পঁচাত্তরের সাতই নভেম্বর তাহেরের সৈনিক সংস্হার বিপ্লব ঘটা ও পরবর্তীতে হেরে যাওয়াতে তাহের ও তাঁর সাথীদের ফাঁসিতে লটকে দেয়া, ১৯৭৭ সালের বিমানসেনা ক্যু আর সর্বশেষ ১৯৮০ সালে মঞ্জুরের ক্যু যাতে জিয়া নিজেই শিকার হয়ে মারা গেলেন। এতে কতজন মারা গেছেন, কতজনের ফাঁসি হয়েছে, যাবজ্জীবন হয়েছে সেসব সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে কিন্তু এসব ঘটনা ঘটেই নাই একমাত্র প্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্টস লাগবে - ব্যাপারটা এমন নয়।

এখন তাহলে রাগইমনের আইনমূলক চোখে তোলা প্রশ্নকে দাসত্ব মোকাবিলা করবে কী ভাবে? জিয়ার পক্ষে আইনী ও নৈতিক ডিফেন্স বা ডিফেন্ড করার মত যুক্তি কী আছে?

এর উত্তর পেতে "আইন" বা "বিচার" কথাটাকে পরখ করতে হবে। শুধু তাই নয়, আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক কী? আইন কী ক্ষমতা-ইনডিপেন্ডেন্ট স্বাধীন সত্ত্বা হয়ে বিরাজ করে? না কী আইন মানেই আইন বানানো ও প্রয়োগের ক্ষমতা? এসবের মধ্যেই "আইন" কথাটা অর্থ ধরতে চেষ্টা করতে হবে। এসব নিয়ে আলোচনা এই পোষ্টের মুল বিষয়।

রাগইমনের আইনী প্রশ্নে যদিও আপাত চোখে সবার মনে হতে পারে যে ইমন একটা "বেআইনী" বিষয়কেই সবার সামনে আনতে চাইছেন। জিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সমাজের অনেকের মনে একই প্রশ্ন উঠতে প্রায়ই দেখা যায়। আমাদের এমন মনে হবার কারণ, আমাদের অভ্যস্ত চোখ আইনকে ক্ষমতা থেকে আলাদা করে বিচার করে দেখে। আইনের সাথে ক্ষমতার সম্পর্কটা কী আমাদের নজর করে দেখা হয় নাই, তাই।

যেমন, যে কোন সেনা প্রতিষ্ঠান গঠন আইন (আর্মি কোর্ট মার্শাল) অনুযায়ী সেনা বিদ্রোহ বেআইনী এবং মারাত্মক অপরাধ; এবং শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তাহলে সাতই নভেম্বরসহ তাহেরের এবং পরবর্তীকালের দাবী করা ২১ ২২টা সব ক্যুই বেআইনী ও মারাত্মক অপরাধ। আইনী এই দৃষ্টিতে, বিচারে রাগইমনের আইনমূলক চোখে তোলা প্রশ্ন ইনভ্যালিড। নাল এন্ড ভয়েড। ফলে জিয়া ডিফেন্ডেড।

আচ্ছা, এখন একটু ভিন্ন দিক থেকে দেখি; ধরা যাক, তাহেরের সিপাই বিল্পব বিজয়ী হয়ে গেছে। বিজয়ী মানে? বিজয়ী মানে ক্ষমতা, ক্ষমতা দখলে বিজয়ী। তাহলে সেক্ষেত্রে আর্মি কোর্ট মার্শালের বিচার-ব্যাখ্যায় এবার তাহেরের ক্ষমতা দখল কী বেআইনী ও মারাত্মক অপরাধ বলে বিবেচিত হবে? প্রশ্নই আসে না।

যে কোন ক্ষমতা দখলের আগের বিদ্যমান আইনের চোখে বিপ্লব, বিদ্রোহ, প্রতিরোধ, অস্ত্র হাতে তুলে নেয়া ইত্যাদি সবই বেআইনী। পাকিস্তান রাষ্ট্রের আইনে ১৯৭১ সালে আমরা সবাই, আমাদের সব কাজ বেআইনী; বেঙ্গল রেজিমেন্ট, পিলখানার ইপিআর, রাজারবাগের পুলিশের প্রতিরোধ তৎপরতা সবই বেআইনী, কোর্ট মার্শালে শাস্তির যোগ্য।
একথাগুলো বলে তর্ক যাতে নানা দিকে ছড়িয়ে না যায় সেদিকে পাঠককে খেয়াল রাখতে বলব। কারণ, এগুলো এখানে উল্লেখের উদ্দেশ্য একটাই ক্ষমতা - এই বিষয়টাকে বাদ রেখে "আইন" ব্যাপারটা বুঝা যাবে না; ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে বা ক্ষমতা বিষয়টাকে উহ্য রেখে "আইন" বিষয়টাকে বুঝা, আলোচনা করা যায় না - এই সার কথা পাঠককে মনে করিয়ে দিতে চাই। এতটুকুর মধ্যেই আপাতত আমাদের কথা সীমাবদ্ধ রাখব।

তাহলে দাঁড়াল, "আইন" কথাটার কোন সার্বজনীন, সবকালে, সব রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য অর্থে - ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন, ইনডিপেন্ডেন্ট অর্থে স্বাধীন এমন কোন বিষয় নয়। বরং আইন ঘোরতরভাবে ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত একটা ধারণা। তাই "ক্ষমতা" বিষয়টা সাথে মনে না রেখে "আইন" বুঝা যাবে না।

এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ হলো, আইন ক্ষমতার উৎস নয়। আগে আইন এরপর সে আইন থেকে ক্ষমতা উৎসারিত হয় না। ক্ষমতা মানে ক্ষমতা, বল প্রয়োগের ক্ষমতা, একেবারেই খাঁটি বাংলায় গায়ের জোড় এবং মুরোদ। তবে এই ক্ষমতাকে জনগণের ক্ষমতা হবার একটা সাধনা হওয়ার ব্যাপার আছে। নইলে তা এরশাদের ক্যু এর মত।

এখন ক্ষমতা মানে সবসময়ই গায়ের জোড়, মুরোদ - তা সে জনগণের ক্ষমতাই হোক আর এরশাদের ক্যুই হোক। এরপর সেই ক্ষমতার জোড়ে - কনষ্টিটিউশন (সব আইনের উৎস আইন) ও এর অনুগত অন্যান্য আইনের জন্ম ও প্রয়োগ। জনগণের ক্ষমতা হলে জনগণের কনষ্টিটিউশন ও এর অনুগত অন্যান্য আইনের জন্ম ও প্রয়োগ হবে, নইলে এরশাদের মত, "আচার, আচরণ ও উচ্চারণে রাজনৈতিক আলাপ" করলে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের মত আইনের জন্ম ও প্রয়োগের ক্ষমতা হবে সেটা।
সেজন্য আইন ক্ষমতার উৎস নয়। বরং উল্টোটা। ক্ষমতা থাকলে তা আইনের জন্ম দেয়ার ক্ষমতা ও প্রয়োগ করার ক্ষমতা হিসাবে হাজির হওয়া সম্ভব। সার কথায় আইন মানে আইন বানানোর ক্ষমতা। এবং আইন ক্ষমতার অবিচ্ছেদ্দ। আইন কথাটা তখনই অর্থপূর্ণ।
ক্ষমতা অর্থাৎ আইন বানানো ও প্রয়োগের ক্ষমতা থাকলে, সেই ক্ষমতা বলে সুন্দর আইন দিয়ে সমাজে রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব, এরপর কেউ আইন মান্য করে চলা নিবিষ্ট ভদ্রলোক নাগরিক হতে পারে। তবে তখন আর হয়ত আইনের পিছনে ক্ষমতার ডান্ডাটা আর চোখে পড়ে না, ভুলে যেতে পারি। এমন আইন ভক্তও হয়ে যেতে পারি যে আইনের সাথে - (গায়ের জোর, মুরোদের) ক্ষমতার সম্পর্কের দিকটা আর ধরতেই পারি না। বরং ভ্রমে, মনে হতে পারে সব ক্ষমতার উৎস আইন, আইনই আইন।

রাগইমনের প্রশ্নের ভিতর এই বিভ্রম আছে। অনেক পাঠকের মনেও আমাদের অভ্যস্ত চোখ আইনকে ক্ষমতা থেকে আলাদা করে বিচার করে দেখার বিভ্রম আছে। এই বিভ্রম কাটাতে ক্ষমতাসহ আইন ব্যাপারটা বুঝতে বা ক্ষমতা বলতেই বা কী বুঝব?

আমরা পছন্দ করি বা না করি, ক্ষমতার নির্মম নেংটা দিকটা দেখানোর জন্য নেংটা করে বলেছি, ক্ষমতা মানে গায়ের জোড়, মুরোদ। ক্ষমতার বৈশিষ্টসূচক এই দিকগুলোকে আড়াল করার কারণ নাই।

এছাড়া, ক্ষমতার আরও গুরুত্ত্বপূর্ণ বৈশিষ্টসূচক কতগুলো দিক আছে। যেমন নিরঙ্কুশ। ক্ষমতা মানেই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা; মাঝে কোন কাঁটা নাই, এককাট্টা, একছত্র, কর্তৃত্ত্ববাদী। কোন ভাগীদার নাই, অস্বস্তি নাই। থাকলে, সে ক্ষমতা হাত ছাড়া হবে, ভেঙ্গে পড়বে, পতন হবে। ক্ষমতা শেয়ার করার জিনিষ না, সতীন বা কোন চ্যালেঞ্জ সে সহ্য করে না। যে সহ্য করবে বা করতে যদি কেউ বাধ্য হয় তাহলে বুঝতে হবে ক্ষমতার এখন পালা বদলের সময়। ফলে স্বভাবতই তা আইনের জন্ম ও প্রয়োগের ক্ষমতা বদলেরও সময় সেটা। ক্ষমতা হাতে রাখতে হয় তাকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হতে হবে, নইলে পাল্টা ক্ষমতার করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। ফলে এখানে মায়া-দয়া, নৈতিকতা অথবা কোন আইন দিয়ে বিচারের কোন জায়গাই নাই। ক্ষমতা মাত্রই তাই নির্মম, নিষ্ঠুর একছত্র কর্তৃত্ত্ববাদী ক্ষমতা। ক্ষমতা লাভে বিজয়ী হওয়ার পর আইন - আইনের জন্ম ও প্রয়োগের ক্ষমতা অর্থে আইনের চর্চা ও কাঠামো তৈরি হতে পারে।

সশস্ত্র ক্ষমতার সরাসরি প্রতিষ্ঠানগুলো এজন্য আগেই আইন করে রেখে বলে,আমার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ, বিরোধিতা, বিদ্রোহ করা গুরুতর অপরাধ, শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

তাহলে অধিষ্ঠিত কোন ক্ষমতা উৎখাত করে নতুন ক্ষমতা, জনগণের ক্ষমতার জন্ম দেয়া কী সম্ভব না? অবশ্যই সম্ভব, তবে আইনী অর্থাৎ উপস্হিত আইনের চোখে আইনীভাবে সম্ভব না। সবদেশেই বহুবার সেসব প্রচেষ্টা উদ্যোগ আমরা দেখেছি। আবু তাহেরে সিপাই বিপ্লব সে রকমই একটা, তবে ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ব্যর্থতার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি মৃত্যু, মৃত্যুর দন্ড। জিতলে গাজী। ক্ষমতা পাওয়ার অর্থে। তবে এটা প্রথম পরীক্ষা। এরপর আসল পরীক্ষা। জনগণের ক্ষমতা হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করা। উল্টো করে বললে জনগণ সেটাকে নিজেরই ক্ষমতা হিসাবে দেখতে শুরু করে কী না, জনগণের নিজেরই হয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ হিসাবে দেখে কী না। এই পর্যায়টাকে দখলী ক্ষমতার অভিষেক, জনগণের দ্বারা ক্ষমতার অভিষিক্ত হওয়া বলা যেতে পারে। যাই হোক তাহের সেই পরীক্ষা পর্যন্ত যেতেই পারেন নাই। এর আগেই জিয়ার কাছে হেরে গেছে, নিজের ক্ষমতা রক্ষা, মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে।

রাগইমনের আইনমূলক চোখে তোলা প্রশ্ন তাই অবান্তর। যদিও কেবল দাসত্বকে নয় অনেক পাঠককেই তা বিব্রত করে ফেলতে পেরেছে এজন্য যে রাগইমন আপাত চোখে আইনকে ক্ষমতার প্রশ্ন থেকে ইনডিপেন্ডেন্ট ধরার বিভ্রমে থাকায় পাঠকের অনেকেই সে বিভ্রমে পড়েছে।

এজন্য এই পুরা ঘটনার বাছ-বিচার শুরু করতে হবে ক্ষমতার প্রশ্নের জায়গায় দাঁড়িয়ে, ইনডিপেন্ডেন্ট আইনের জায়গায় দাঁড়িয়ে নয়। কারণ ক্ষমতা বিনা ইনডিপেন্ডেন্ট আইন বলতে কিছু নাই।
২৫০০ কিংবা ১১৮৩ অফিসার বিনা বিচারে হত্যা হয়েছিলো কি না" -
ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্কের দিক খেয়াল রেখেই একমাত্র এই বাক্যের সঠিক বিচার সম্ভব।

উপরের কথাগুলো মনে রেখে, নীচে তাহেরের সৈনিক সংস্হা ও জিয়ার সাথে এর সম্পর্ক ও সংঘাতের বিষয়ে সংক্ষেপে একটা অবজেকটিভ মুল্যায়ন সারব।
সেনাবাহিনীর ভিতরে তাহেরের সিপাইদের নিয়ে গড়া "সৈনিক সংস্হা" - এই সংগঠনের জন্ম ও অস্তিত্ত্ব ৭৫-৭৮ সালের সমস্ত ঘটনায় মুল নির্ধারক ফ্যাক্টর।

১. সৈনিক সংস্হা থাকার কারণেই জিয়ার জানে বেঁচে যাওয়া ও পরবর্তীতে ক্ষমতায় উত্থান।
২. সৈনিক সংস্হার বড় দূর্বলতা ছিল, সব সেনানিবাসে এমন সংগঠিত ছিল না যে একক কর্তৃত্ত্ব করতে পারে।
৩. সব জায়গায় কর্তৃত্ত্ব নিয়ে গড়ে উঠার আগেই ১৫ আগষ্টের ক্যু থেকে ব্যারাকে পরবর্তী ঘটনাবলী শুরু হয়ে যায়।
৪. আগষ্ট থেকে নভেম্বর ক্যু পাল্টা ক্যু এর রাজত্ত্বে সৈনিক সংস্হার কোন না কোন পক্ষে অথবা নিজেই একটা পক্ষ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়া এড়ানো অসম্ভব ছিল। কারণ সেক্ষেত্রে সংগঠনের পরোয়া না করে বিচ্ছিন্ন সৈনিকেরা বিভিন্ন ক্ষুদ্র স্বার্থে নানান ক্যু এর দলের সাথে তাঁরা পরস্পর বিরোধী হয়ে জড়িয়ে পড়তই। সংগঠন বলে কিছু থাকত না।
৫. সাংগঠনিক দূর্বলতা ঘাটতি মিটাতে, জিয়ার অনুরক্ত সৈনিকদের সাথে নিবার প্রয়োজন অনুভব করে; ফলে এই কম্প্রোমাইজে আগানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাহের। ফলে বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে আনার পর কম্প্রোমাইজ এই এলায়েন্সের রূপ কি দাঁড়াবে তা না জেনেই আগানোর রিস্ক নিতে হয় তাহেরকে, অন্যোন্যপায়।
৬. জিয়াকে মুক্ত করে আনা পর্যন্ত পরিস্হিতি তাহেরের নিয়ন্ত্রণে ছিল, পরে রিস্ক বাস্তব বিপদ হয়ে হাজির হয়ে যায়। জিয়ার সাথে অনুমিত সম্পর্ক কাজ করেনি।
৭. মুল কারণ, তাহেরের পরিকল্পনার এক বড় ত্রুটি; যেটা বহির্দেশীয় স্বার্থ ও ফ্যাক্টর। ১৫ আগষ্টে আমেরিকান সংশ্লিষ্টতার মাত্রা ও স্বার্থকে তাহের খাটো করে দেখেছিল বা বলা যায় গোনায় ধরে নাই। ফলে এই ফ্যাক্টর কীভাবে মোকাবিলা করবেন; কনফ্রন্ট না ডিল করবেন কোন ধারণা প্রস্তুতিই ছিল না।
৮. জিয়াকে সৈনিক বিপ্লবের বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন তাহের। এটা নিজের হতাশা ব্যর্থতার কথা। জিয়া তাহেরের সাথে মিলে সৈনিক সংস্হা গড়তে যান নাই। ফলে সৈনিক বিপ্লব কবুলের দায় তাঁর উপর চড়ানো, বিশ্বাসঘাতক বলার সুযোগ আমরা দেখি না। জিয়া তাহেরের অর্থে বিপ্লবী রাজনীতি ওন করেন এটা কবুল করলেই না বিশ্বাসঘাতকতার প্রশ্ন আসে। জিয়ার নিজস্ব কোন সক্রিয় সচেতন রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা নভেম্বরের আগে কেউ জানে না।
৯. বস্তুত জিয়া নন, জিয়ার অনুগত সৈনিকরা ছিল ফ্যাক্টর। যাদের সাথে একটা এক্সটারনাল এলায়েন্সের ভিত্তিতে নিজের সাংগঠনিক ঘাটতি মোকাবিলা ও ঢাকা ব্যারাকের সম্ভাব্য প্লেয়ারদের ভারসাম্যের হিসাব মিলিয়ে ছিলেন তাহের। পরবর্তী ঘটনা প্রমাণ করে তাহের হিসাব সঠিক ছিল। কিন্তু ব্যারাকে প্লেয়ারদের মধ্যে মাঠের গায়ের জোরের হিসাব এক জিনিষ আর জিয়ার সাথে বিপ্লবী রাজনীতি ও সৈনিক বিপ্লবের তাৎপর্য বুঝিয়ে একটা রাজনৈতিক পরিচয় হাজির করানো সম্পূর্ণ অন্য জিনিষ। মাঠের এল্যায়েন্স আর রাজনৈতিক এলায়েন্স এক জিনিষ নয়। তাহের জিয়ার জান বাঁচিয়ে বলে জিয়াকে তাহেরের রাজনীতির সাথে একমত হতে হবে - এমন দাবি আমরা কেউ করতে পারি না। তবে শর্ত আবহ তৈরি করা যেত হয়ত। যেটা ছিল অনুপস্হিত। ওদিকে আমেরিকান স্বার্থের মোকাবিলার কোন প্রস্তুতি আমরা দেখি নাই। যেন তা নাই ধরে নেয়া হয়েছিল।
১০. বিজয়ী সিপাহি বিপ্লবে জীবিত জিয়াকে কে কেন্দ্র করে আমেরিকানদের নতুন ক্ষমতা যতই পোক্ত ও দৃশ্যমান হতে থাকে ততই তাহেরের সাংগঠনিক দূর্বলতা স্পষ্ট হতে শুরু করে, জিয়ার নতুন ক্ষমতাকে সক্ষম মোকাবিলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
১১. ক্ষমতা নির্মম, নিষ্ঠুর। নতুন ক্ষমতা নিরঙ্কুশ হতে সবচেয়ে বড় বাধা হাজির হয় তাহের, ফলে তাহেরের ক্ষমতাকে নির্মমভাবে বিদায় নিতে হয়।
১২. তাহের একা নন, তাঁর সৈনিক সংস্হার সাথীরা আছে। ফলে তাহেরের ১৯৭৬ এপ্রিলে ফাঁসির রায়ের নাটকের পরও সৈনিক বিদ্রোহের পরম্পরা ঘটতে থাকে। এখান থেকেই ২১-২২ টা ক্যু এর কাহিনীর সৃষ্টি, যার সর্বশেষ সিরিজ সমর্থিত বিমানবাহিনীর নেতৃত্ত্বে ১৯৭৭ সালের ক্যু প্রচেষ্টা। তবে এগুলো কোনটাই সৈনিক সংস্হা বা জাসদের একক প্রচেষ্টা নয়। বিভিন্ন বিরোধী স্বার্থ, অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষুব্ধ গ্রুপের সাথে নানান এল্যায়েন্সে ঘটা ঘটনা এগুলো। নুরন্নবীসহ অনেকের বরখাস্ত, মৃত্যু, জেল যাবতজ্জীবন।
১৩. ব্যর্থ হোক আর নাই হোক ঘটনা পরবর্তীতে ঘটনাগুলোর একটা প্রচারমূলক দিক বিবদমান সবার থাকাটাই স্বাভাবিক। সেগুলো এড়িয়ে অবজেকটিভ মুল্যায়ন টানার চেষ্টা করলাম।
১৪. সিপাহী বিপ্লবের ঘটনার শেষে তাহেরকে বিজয়ী দেখতাম যদি তবে সৈনিক অফিসার হত্যা, মৃত্যু, ইত্যাদিগুলো নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে বিচার আইনের দৃষ্টিতে দেখা সেসব প্রশ্ন তখনও থাকত না - একথা হলফ করে বলা যাবে না। ক্ষমতা নির্মম, নিষ্ঠুর। ক্ষমতার এসব অনুষঙ্গ কে এড়াতে পারা কঠিন। বিশেষত সাংগঠনিক দূর্বলতা, রিস্ক এলায়েন্স, পরিকল্পনা ত্রুটি নিয়েই যে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা থাকে; এবং সর্বোপরি যে ধরণের প্রচেষ্টা উদ্যোগ না নিয়ে তাহেরের উপায় ছিল না!

ফলে এখন নুরন্নবী ঘটনার কী ব্যাখ্যা দেন, কী ভাবে বর্ণনা করেন তাতে ইতিহাসের খুব কী কিছু হেরফের ঘটে না।
রাগইমন ইউটিউব দেখে বলছেন, "নুরুন্নবী জোর দিয়ে যেই কথাটা বলেছেন " ওই সব ক্যু ট্যু কিছু না , সব সাজানো।" " -
নুরন্নবীর এসব কথার একটাই মূল্য থাকতে পারে যদি টার্গেট হয়, "জিয়া একজন মানুষ হত্যাকারী সাইকিক ব্যক্তি ছিলেন" - এমনভাবে ব্যক্তিগত স্বভাব চরিত্রকে ডেমোনাইজ করে ইতিহাস লেখার তাগিদ যদি কারও থাকে।

সবশেষে, ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ক বিষয়ে একটা প্রমাণমূলক কথা। আইন ক্ষমতাকে কীভাবে সমীহ করে চলে এর একটা প্রমাণ দিয়ে শেষ করব। এখানে আইন মানে, আইনের আইন আমাদের কনষ্টিটিউশন।
আমি যদি বলি বাংলাদেশের কোথায় আমাদের বিচার বিভাগের এক্তিয়ার রহিত; অথবা যদি বলি বাংলাদেশের ভুখন্ডে দুই ধরণের বিচার ব্যবস্হা যার যার এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে পাশাপাশি চলছে, কেই কাউকে ঘাটায় না - সেটা কী করে?
অনেকে আঁতকে উঠতে পারেন।
আমাদের কনষ্টিটিউশনের তৃতীয় ভাগ বা পার্ট থ্রি; এটায় নাগরিকের মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ আছে যা কোন আইনী সরকার খর্ব করতে পারবে না এবং সুপ্রীম কোর্ট সেগুলো হেফাজত করতেও বাধ্য। এটা ৪৫ নম্বর আর্টিকেল। এই আর্টিকেলের সার সংক্ষেপ কথা হলো, যারা গায়ের জোরে বা মুরোদের ক্ষমতা নিয়ে সরাসরি নাড়াচাড়া করে, সেই সেনা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্যারালাল বিচার ব্যবস্হায় চলবে (কোর্ট মার্শাল বলে যাকে আমরা চিনি), ওখানে বিচার বিভাগ সুপ্রীম কোর্টের কোন এক্তিয়ার নাই।
আগ্রহীরা আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে পারেন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): PowerState-PowerLawBangladesh ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৯
স্বপ্নকথক বলেছেন: আপনার পোস্ট দেখলেই ভয়ে দশমাইল দূরে গিয়া খাড়ায়া থাকি। বাপরে! যে গম্ভীর স্টাইলে লেখেন!! এতো ধৈর্য আমার জীবনেও হবে না!
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: ভাই আমার অক্ষমতার কথা তুলে শরম দিলেন।

তবে আমাকে সাহায্য করতে পারেন। আপাত দৃষ্টিতে যেগুলো বেকুবি প্রশ্ন মনে হয় বিনা দ্বিধায় সেসব পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন।
এছাড়া সরাসরি যদি বলেন কোন কথাটা বুঝা যায়নি তবে আমি সেকথা পুনঃর্লিখিত করার সুযোগ নিতে পারি।

তবু মন্তব্য করে আমাকে জানার সুযোগ দিয়েছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

২. ০২ রা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩০
গডফাদার০২ বলেছেন: প্লাস এবং প্রিয়তে।

০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ গডফাদার০২ ।

৩. ০২ রা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৬
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: পোষ্টে প্লাস।

তবে এই ফাঁকে একটা কথা বলে নেই, আপনার লেখার ভঙ্গী খুবই খটমট।
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:১৪

লেখক বলেছেন: "আপনার লেখার ভঙ্গী খুবই খটমট" - এই দুরবস্হা থেকে মুক্ত হতে আপনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন। ব্লগার হিসাবে খুটিয়ে পড়া পাঠক আপনি আমি দেখেছি, ফলে আপনি পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। যদি একটু সময় দেন।

ভঙ্গী বা ষ্টাইল কথা বলছেন যেহেতু ফলে দু একটা লাইন যদি উদ্ধৃত করতেন তাহলে আমরা বুঝতে সুবিধা পেতাম।

ধন্যবাদ হাসান শহীদ ফেরদৌস।

৪. ০২ রা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৪
জিপিএস বলেছেন: আমি বুঝলাম না এই সব আবালপনা আসে কোইথ্থন! রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে আবার ময়া-মহব্বতও চাইবো, দুইটা এক লগে কেমনে?

আপনি যদি সামরিক আদালতের দিকে তাকান, রাজনৈতিক বিবেচনা বা পছন্দ কিম্বা কৃতজ্ঞতাবোধের সওয়াল জিগানোর ম্যরালিজম না টাইনা আনেন, তাইলে সেই আদালতে বিচারে তাহেরের মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে ''নাটক'' কেমনে বলেন?

'আবার বিচার মাত্রই একটা নাটক'-- সেই দিক থেকে সামরিক আর অসামরিক বইলা আলাদা করনের কাম কি?
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৮:৫৫

লেখক বলেছেন: বাপ রে বাপ ভয় পাইছি।
কনসেপ্ট বিষয়ক আলোচনা ধীরে সুস্হে ঠান্ডা মাথায় করার পক্ষপাতি আমি। আমাকে সহায়তা করেন।

তাহেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা দেওয়াকে ''নাটক'' বলেছি জেনেশুনে।
কারণ ঘটনাটা আইনী ব্যাপারই না। মামলাটা মূলত ক্ষমতার, লড়াইয়ের। অথচ একে আইনী অপরাধ বলে উপস্হাপন করা হয়েছে।

মুরোদের ক্ষমতায় হেরে যাওয়া তাহেরকে জিয়া সরাসরি বলতে পারছেন না যে তুমি হেরে গেছো, এবং তুমি এখন আমার ক্ষমতার জন্য বিপদজনক চ্যালেঞ্জ তাই তোমাকে ফাঁসি দিচ্ছি।
যেন কুস্তি লড়াইয়ে হেরে যাওয়া কাউকে বিজয়ী ব্যক্তি বলছে তুমি আমার সাথে লড়াই প্রতিযোগিতা করলা কেন? এই অপরাধে তোমার শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

কথা আরও আছে। যদি সেনা বিদ্রোহ ঘটিয়েছেন বলে তাহেরের বিচার করা হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন উঠবে কার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ? কোন সেনা প্রতিষ্ঠানের? কে তার প্রধান কর্তা?
অন্তত যে সেনা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জিয়া সে জিয়ার বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ করেন নি। বরং তিনি বিদ্রোহ করে জিয়াকে মুক্ত করেছেন। আরও বলা যায়, সেনাবাহিনী জিয়ার নেতৃত্ত্ব মেনে পুনর্গঠিত যে সেনাবাহিনী যারা জিয়াকে নেতা মেনে আনুগত্য প্রকাশ করছে তা বাস্তব করে তোলার নায়ক তাহের।
বিদ্রোহের সরাসরি সুফলভোগী, পুনর্জীবনলাভী ব্যক্তি ঐ বিদ্রোহকে অবৈধ বলতে পারে না। ফলে আইনী যুক্তি এখানে অচল। ন্যাচারাল ল এর কোন ম্যাক্সিম এমন হতে পারে না। ঘটনার সুফল যে একবার ভোগ করে সে ব্যক্তির আবার ঘটনার বিরুদ্ধে কোন রিট আদালত গ্রহণ করে না।

'আবার বিচার মাত্রই একটা নাটক'--

সাধারণভাবে এই কথা গ্রহণ করা বিপদ আছে। তাহলে আইন বলে কোন কিছুই কখনও দাড়াবে না।


সামরিক আর অসামরিক বলে ভাগ আমি করিনি। দেখাতে চেয়েছি ক্ষমতাকে আইন কেমন সমীহ করে।

৫. ০২ রা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৪
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: - রাগ ইমন হইলো সুশীল আলখেল্লাম গায়ে চাপানো ছাত্রীলীগার| জিয়া না-কি হাজার হাজার অফিসার হত্যা করছে.....!! আরে বিদ্রোহ করলে শাস্তি হবেই| কোর্ট মার্শাল হয়েছে, সাজা হয়েছে| ঐটাতো হাসিনার আমল না, যে ইশারাতে খুনের আসামিও খালাস পেয়ে যাবে| রাগ ইমন এইটা বলে না যে রক্ষী বাহিনীকে দিয়ে ৭০ হাজার মুক্তিযোদ্বা ও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী কা মারাইছে........ রাগ ইমন এইটা বলে না যে পিলখানায় ৭৫ জন আর্মি অফিসার কে মারছে...... রাগ ইমন এইটা বলে না যে ৭০ জন বিডিআরকে মেরে গামছা দিয়ে কে ঝুলিয়েছে...... রাগ ইমন এইটা বলে না যে ৮ হাজার বিডিআরকে কে ধ্ব;স করে দিয়েছে..... হের কথা একটাই, জিয়া ভালা না....!!!!!!!!!!
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন: ভাই দয়া করে এটাকে বিএনপি ভাল না আওয়ামী লীগ ভাল এই বিতর্কে পরিণত করেন না।
লেখাটা সেখান দাড়িয়ে লেখা হয় নাই।

ক্ষমতা ও আইন বিষয়ে আমাদের বুঝার সমস্যাটা কোথায় সেটাই খুজার চেষ্টা করেছি। এটা কেবল রাগইমনের ব্যক্তি সমস্যা নয়।

৬. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৮:০৩
সবুজ সাথী বলেছেন: খুবই সুন্দর বিশ্লেষণ। প্রিয়তে থাকলো।
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:২০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সবুজ সাথী।

৭. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৮:১৯
শ্রীমান বলেছেন: ১৯৭৯ সালের কথা। খাদ্যমন্ত্রী রসিক, জাদরেল, আব্দুল মোনেম খান শাহবাগ বিপনী বিতানে আবিস্কার করেন ১৮০ টাকায় আফটার শেভ লোশন বিক্রয় হচ্ছে এবং তার বেশির ভাগ ক্রেতা সরকারী কর্মচারী। তিনি তত্ক্ষনাৎ গিয়ে হাজির বঙ্গভবনে এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান'কে বললেন 'স্যার, সারাদেশ দূর্নীতিতে ছেয়ে গেছে'। প্রেসিডেন্ট সাহেব রঙিন চশমা নেড়েচেড়ে এ্যাডজাস্ট করে রসিকতা করেই বললেন 'ক্যামনে বুঝলেন?'। তারপর নাতিদীর্ঘ বর্ননার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় জরুরী মিটিং ডাকা হোক। প্রেসিডেন্ট সাহেব মন্ত্রী পরিষদ সচিব কেরামত আলী (সিএসপি) সাহেবকে আদেশ করলেন, 'সকল মন্ত্রী, আমলা, কেউকেটাদের ইফতার পার্টিতে ডাকতে। শুরু হয় মিটিং, আসর...মাগরিব..এশা..তারাবী...সেহরী...ফজর। শেষ পর্যন্ত সিন্ধান্ত হয় ফজরের আগ মুহুর্তে, সকল গুরুত্বপূর্ন সরকারী সংস্থার বড়ো অফিসারদের মতামত আহ্বান করা হোক, এই দূর্নীতি'র অক্টোপাস থেকে কি ভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে দূর্নীতি দমন করা হবে।

বৃটিশ আমলে সরকারী চাকুরেদের বিয়েশাদী উপলক্ষে করেপক্ষ নাকি জিজ্ঞাসা করত বরের 'উপরি' কত? যদি ম্যানেজার বলত 'সাহেব ঘুষ খায় না' তখন নাকি মাড়ওয়াড়ী আবারো জিজ্ঞাসা করিত 'সাহেব কত টাকা ঘুষ কায় না?' বঙ্গবন্ধু ব্যাক্তিগত জীবনে সত্জীবন যাপন করতেন কিন্তু চাটার দল কম্বল চুরি করত। ব্যাক্তিগত জীবনে জেনারেল জিয়াও সত্জীবন যাপন করতেন কিন্তু শাসনের বাঁধন অটুট রাখতে গিয়ে চাটার দলকে ৪০ ভাগ খাবারের অনুমতি দিয়েছিলেন এই ভেবে আমার দেশের মানুষ না পাওয়ার চাইতে অন্তত ৬০ ভাগ পাক। আর এরশাদ সাহেব তো দূর্নীতি বন্ধে সেনাপ্রধান থাকতেই ৮১ সালের ২৬শে ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের স্মারকপ্রকল্প এর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে বলেই ফেললেন "মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ভূ-খন্ডের জন্যে ছিল না, ছিল শোষন, দূর্নীতি ও বঞ্চনার বিরুদ্দে জিহাদ"। এর মাত্র চার মাস পর তিনি নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলে উত্ক্ষাত করলেন, বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১২৪এর সি অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ করলেন, ইমদু নামক এক গুন্ডাকে ফাঁসি দিলেন দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দোহাই দিয়ে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদারতার প্রতীক, একজন (ভোম্বল) নিষ্পাপ মানুষ। এনায়েতউল্লাহ খান '৭২ সালে আওয়ামী লীগের কার্যে অতিষ্ট হয়ে বলেছিলেন সাত কোটি বাঙ্গালীকে 'কোলাবোরেটর'। ব্যক্তিস্বার্থ আইনের শাষনকে অন্ধ করে দিয়েছিল। রুহুল কুদ্দুস সাহেব মে মাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে বলছিল আপনার বিরুদ্ধে য়ড়যন্ত্র হচ্ছে, তখন উনি গমকে গমকে হেসেছিলেন। যা পরবর্তীতে ১৫ই আগস্ট কার্যকর হয়।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের বিষয়কর্ম বন্ধ এবং দেশকে বিভক্তির ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করার জন্য সাধারন ক্ষমার ঘোষনা দেন, আর তা গ্রহনকরে বিপক্ষ শক্তি, এনায়েতউল্লাহ খানের মত 'কোলাবরেটর' বলা ব্যাক্তিরা এখন্ও যারা সক্রিয়।

'৭৫ পরবর্তী দু্ই বছর বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ পরবর্তী দুই বছর জেনারেল জিয়াউর রহমান কর্তৃক সম্ভাব্য সামরিক শাসনের পাশাপশি প্রতিপক্ষ নির্মূলকরন-প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা ও জাতীয়তাবাদী দল সৃস্টি করার মধ্যে অনেক মজার মজার তথ্য পাওয়া যায়। যেমন জেনারেল আইয়ুব খান রাজনীতি বিদ'দের ঘারে দোষ চাপিয়ে বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, কিন্তু ঐ রাজনীতিবিদ'দের দিকে আবার 'হাড্ডি' ছুড়ে দিয়ে চু চু করে ডেকে, দল ভাঙ্গিয়ে, দল ভাগিয়ে নিজের দল করেছিলেন। জেনারেল জিয়া ঠিক তাই করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতি অসন্তুষ্ট নেতা, টু'পাইস কামাতে আগ্রহী ভাষানী ন্যাপ নেতা, মুজাফফর ন্যাপ, ডেমোক্রেটিক লীগ, মুসলিম লীগ, জামাত ইসলামী, নেজামে ইসলামী কিংবা খানদানী পরিবারের ব্যবসায়ী যারা রাজনীতি করতে ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের দিয়ে তা করিয়ে নেন। তারা সবাই মিলিত হল জেনারেল জিয়ার পতাকা তলে। জেনারেল জিয়া হ্যাড মেইড পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ইন বাংলাদেশ। যা আজও ডিফিকাল্ট ইন বাংলাদেশ।যার প্রতি দান উনি পেয়েছিলেন ৩০শে মে।
ভাল লাগে জেনারেল জিয়ার ৬০/৪০ পলিসি, গ্রাম বাংলার নদ-নালা সংস্কার, কর্মে উৎসাহ দান। (আরো অনেক)।
সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা। সন্দেহ নেই আগ্রহটি বিপজ্জনক। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে অনেক ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সেগুলো অনেকেই কম বেশি জানা। লেখালেখিও কিছু কিছু হয়। কিন্তু কেউ একজন যদি দিনের পর দিন লেগে থেকে একটি আস্ত প্রামান্য চিত্র তৈরি করে ফেলে তাহলে এর পরিণতি কি হতে পারে বোঝা মুসকিল।
আনোয়ার সেই কাজটিই করেছে। সে অনেক খেটেখুটে একটা প্রামান্য চিত্র তৈরি করেছে। নাম সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা, বাংলাদেশ ১৯৭৫-১৯৮১। মোট ১০ ঘন্টার প্রামান্য চিত্র। চারটি পর্ব। মূলত অনুসন্ধান ও সাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি বিশাল মাপের কাজ। প্রথম পর্ব কর্নেল তাহেরের ফাঁসি নিয়ে। ঘটনাটি সবারই জানা। এই পর্বটি প্রায় ৩ ঘন্টার। ৭ নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের পুরো কাহিনী সহ কর্ণেল তাহেরে ফাঁসি পর্যন্ত পুরো ঘটনা জানা যাবে এই পর্বে। বিচারের নামে যে প্রহসন হয়েছিল তার বিস্তারিত বর্ণনাও আছে এখানে। উপরি পাওনা হচ্ছে কর্ণের তাহের চিঠিগুলো। মজার ব্যাপার হচ্ছে কর্ণেল তাহেরকে যে আইনের আওতায় মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় সেই আইনে মৃত্যুদন্ডের বিধানই ছিল না। ফাঁসি হওয়ার পর এই বিধানটি যোগ করা হয়। অনেক নতুন নতুন তথ্য রয়েছে এই পর্বে। বিশেষ করে একই সঙ্গে জেলে থাকা মেজর জিয়ার সাক্ষাৎকারটি অনেক অজানা তথ্য দেয়।দ্বিতীয় পর্ব সবচেয়ে নির্মম। ১৯৭৭ সালে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল। অনেকেরই হয়তো মনে আছে ৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাপান এয়ারলাইনস এর একটি বিমান হাইজ্যাক করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিল রেড আর্মি নামের একটি সশস্ত্র গ্রুপ। এই সময় বিমানবন্দরে ব্যস্ত ছিল সবাই এই ঘটনা নিয়ে। আর এর মধ্যেই ঘটে এক অভ্যুত্থানের ঘটনা। ১ অক্টোবর রাত থেকে শুরু হয়েছিল। বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট আফসারকে এই অভ্যুত্থানের মূল লোক বলা জানা যায়। যদিও সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কেউ কেউ এর সাথে ছিলেন। প্রমান্য চিত্রে একজন বললেন যে মে.জে, মীর শওকত তাদের সাথে থাকবেন বলে তারা জানতেন। এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ঠিক কতজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল তার কোনো হিসেব নেই। বলা হয় সংখ্যাটি কমপে ১১শ থেকে ১৪শ পর্যন্ত হবে। মাত্র দুই দিনের বিচারে এতো লোকের ফাঁসি হয়েছিল। বিচারের নামে হয়েছিল বড় ধরণের প্রহসন।
পুরো বিষয়টি খুব ভালো ভাবে বোঝা যায় প্রমান্য চিত্রটিতে। শুরুতে একজনের দীর্ঘ বয়ান। তিনি জানান পুরো ঘটনাটি। এতোটা নৃশংস আচরণ করেছিল সেনাবাহিনীর সদস্যরা যা বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। জড়িত ছিল কিনা সে প্রমান কেউ নেইনি। যারা যারা কাছাকাছি ছিল সকলকেই মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি পিটিয়ে মারার ঘটনাও আছে বলে একজন জানালেন। এদের দেওয়াও হয়েছে গণ কবর। নানা ধরণের মানুষের বর্ননায় পুরো বিষয়টি চলে আসে। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর যিনি একটি ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি জানান যে, প্রেসিডেন্ট জিয়া তাদের ডেকে বলে দিয়েছিল, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সবাইকে জবাই করো। সেটাই করা হয়েছিল। তৃতীয় পর্ব জিয়া নিহত হওয়ার পরের ঘটনা নিয়ে। ১৩ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি হয়েছিল সে সময়। আজ অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, এরা সকলে জড়িত ছিল না। এরশাদ ষড়যন্ত্র করে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের মেরে ফেলেছিল। এ ক্ষেত্রেও বিচারের নামে হয়েছিল প্রহসন। এই বিচার পর্বের নানা জানা-অজানা দিক নিয়ে এই পর্ব। বিশেষ করে কোর্ট মার্শালের সময় অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবি হিসেবে কাজ করা মেজর জেনারেল আইন উদ্দিন ও ইব্রাহিমের দুটি সাক্ষাৎকার এবং তদন্ত কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আজিজুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকার অনেক অনেক তথ্য দেয়। আজিজুর রহমান স্পষ্ট করেই বলেছেন যে জিয়া হত্যাকান্ড যাতে ঘটে সে জন্য সব ধরণের ব্যবস্থাই করে দেওয়া হয়েছিল। পুরো বিষয়টিই ছিল সাজানো। মে. জে. ইব্রাহিম বলেছেন একজন অফিসার যে আরেক অফিসারেকে এভাবে নির্মম ভাবে অত্যাচার করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস হয় না।

চতুর্থ পর্ব জেনারেল মঞ্জুরের হত্যাকান্ডসহ আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে। সেনা হেফাজতে মঞ্জুরকে মেরে ফেলা হয়েছিল। এটাও ছিল এরশাদের আরেক ষড়যন্ত্র। শুরুতেই মেজর রেজার একটি দীর্ঘ বক্তব্য রয়েছে। তিনি শেষ সময় পর্যন্ত জেনারেল মনজুরের সঙ্গে ছিলেন। তিনি অনেক কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী। জিয়া হত্যার পর থেকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এটাই নাকি তার দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকার। পুরো ঘটনা জানা যায় তার জবানিতে। তিনি বলেছেনও অনেক বিস্তারিত ভাবে। যেমন মেজর মুজিব তাকে বলে দিয়েছিলো যে এরশাদের নির্দেশেই মনজুর কে মেরে ফেলা হয়েছিল। কি ভাবে এবং কে মেরেছিল মনজুরকে তারও বর্ণনা আছে। মেজর রেজার বক্তব্য থেকে অনেক গোপন তথ্যই জানা যায়।

পুরো প্রমান্য চিত্রকে বেশ কিছু দুর্লভ দলিল ও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে অসংখ্য সাক্ষাৎকার। যারা এসব নিয়ে আগ্রহী তাদের জন্য অত্যন্ত ভাল একটা কাজ করেছে আনোয়ার কবির।

জেনেছি যে, প্রমান্য চিত্রটি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে বছর খানের আগে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। এখনো আছে কিনা তাও নিশ্চিত না। সশস্ত্র বাহিনীর নৃশংসতা ও গণহত্যার এই দলিলের প্রচার কারো কারো ভাল নাও লাগতে পারে। তবে ইতিহাস ইতিহাসই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অতীতের গোপনীয় দলিল এখন প্রকাশ করছে। বাংলাদেশেও এগুলো করা দরকার। এমন দাবিও উঠেছে যে, কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া ছিল যে ভুল সেটিও এখন রাষ্ট্রের স্বীকার করা উচিৎ।

চার খন্ডের এই প্রমান্য চিত্র সবাইকে ভাবাবে।

আর এখন কি হচ্ছে?
জয় বাংলা, জয় বাকশাল...স্বাগতম রক্ষীবাহিনী...
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৮. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৮:২৩
বাকরুদ্ব বলেছেন: জটিল পর্যালোচনা...তবে একটু কঠিন.....সম্ভবত অনেকের মাথার উপর দিয়া চইলা গেছে,আর একটু বড় পোষ্ট পড়ার ইচ্ছা ধৈর্য সবার থাকেনা।
আপনি যদি সার সংক্ষেপ করে আরেকটা পোষ্ট দেন ভাল হবে।আরেকটা অনুরোধ, এই বিষয়ের যারা পেইড গবেষক তাদের অনেকে বসবাস করে আমার ব্লগে।আপনি একটা পোষ্ট ওখানে দিলে ভাল হতো।আর যদি বলেন, আমি কপি করে দিতে পারি,তবে আপনি দিলই ভাল কারন কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর আপনিই ভাল দিতে পারবেন।
দুই অফেন্ডিং এর মাঝে এরকম একটা পর্যালোচনা দরকার ছিল।প্লাস এবং প্রিয়তে.......
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:৩২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ বাকরুদ্ব, আপনার পরামর্শের জন্য।

আমি আমার ব্লগে লিখিনা। তবে আপনি চাইলে ওখানে কপি করে দিতে পারেন।

৯. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:৩৭
রিফাত হাসান বলেছেন: আর্টিকেল ৪৫ এর ব্যাপারটি ঐভাবে আগে চোখে পড়ে নাই। জিপিএস এর মন্তব্যে সহমত। যদিও- আইন বলতেই নাটক এটি অতি সরলীকরণ মনে করি। আবার- এটাও সত্যি, আইন এবং ন্যয় বিচার একই জিনিশ কখনোই নয়।
০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:১৪

লেখক বলেছেন: আর্টিকেল ৪৫ সম্পর্কে আমারও একটা ধারণা ছিল। কিন্তু সেনা প্রতিষ্ঠান গঠনের নিজস্ব আইন কোর্ট মার্শাল এটা সুপ্রীম কোর্টের জন্য এক্তিয়ার বহির্ভুত - এই এক্তিয়ার বহির্ভুত করে রাখার দিকটা কখনও ভাল করে নজর করা হয়নি।
সম্প্রতি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের লেখা কনষ্টিটিউশন সংক্রান্ত বইটা পড়ছিলাম। তখন টের পেলাম। ওখানে সুপ্রীম কোর্টের এক বিচারের রায়ের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে। তৎকালিন প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন ঐ রায়ে মন্তব্য করে লিখছেন, (পৃষ্ঠা ১৫৬) -
“......our military law is a system of law or jurisprudence which exists separate and apart from the law which governs our Judiciary in its ordinary and general jurisprudence”
এখানে আমাদের সামরিক প্রতিষ্ঠান গঠন সংক্রান্ত আইনকে আমাদের সকলের জন্য প্রচলিত বিচার ব্যবস্হা থেকে আলাদা ভাবে বিরাজমান একটা system of law বলে স্বীকার করাটা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল। আমার সে অভিজ্ঞতাটাই এখানে তুলে এনেছি।

ধন্যবাদ রিফাত।

০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সাফির।

১১. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৭
স্বপ্নকথক বলেছেন: শ্রীমান ভাইয়ের মন্তব্যটাই একটা পোস্ট হবার যোগ্য।

আমি আসলে আপনাকে কটাক্ষ করিনি, সিরিয়াস টাইপের লেখা দেখলে আমি দূরে দূরে থাকি, এটা আমারই অক্ষমতা।

পোস্ট লিখতে গল্প করার মতো স্টাইল ফলো করতে পারেন আরো আকর্ষনীয় করার জন্য। প্যারার সংখ্যা বাড়াতে পারেন। ফরমাল মুডে না দিয়ে কিছুটা ইনফরমাল মুদে দেন। আপনার লেখা খুবই ভালো, টপিক ধরে আলোচনা করার জন্য। তবে এঢরনের লেখা সাধারণত পেপারে কলাম আকারে দেয়ার মতো। ব্লগে এতো কঠিন করে লিখলে পাঠক কম পড়ার সম্ভাবনা বেশী বলেই মনে হয়। আপনাকে জ্ঞান দিচ্ছিনা, আমার যা মনে হলো তাই বললাম।

পোস্ট পুরা নিরপেক্ষ দৃষ্টি থেকেই লেখা বলে মনে হলো। সেজন্য আপনি সাধুবাদ পাবার যোগ্য। :)
০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: আবার মন্তব্য ফিরে আসার জন্য থ্যাঙ্কু স্বপ্নকথক।

আপনার ধারণাগুলো জানতে পেরে ভাল লাগল।
পত্রিকায় কলামের একটা বড় সমস্যা আমি দেখি ওটা ইন্টারএকটিভ না, ওয়ান ওয়ে ট্রাফিকের মত। পাঠকের সাথে কথা বলার কোন সুযোগ নাই। নিজের ভুল শুধরানোরও কোন সুযোগ নাই।

ব্লগ বিশেষ করে সামহয়ার সম্পর্কে আমার ধারণাটা আপনার থেকে ভিন্ন। আমি ব্লগে সবকিছু থাকার পক্ষপাতী। একটা ক্লাবের মত যেখানে যোগ দেয়া সবার জন্যই কিছু না কিছু থাকবে; খেলা, মজা করা, হাসি তামাশা, পিছনে লাগা, মিটিং পয়েন্ট, ছবি, কবিতা, গল্প হালকা থেকে ভারী সিরিয়াস সব প্রসঙ্গ, জীবনকে দেখা, অভিজ্ঞতা শেয়ার করা - সবকিছু। যেদিন যার যেটা পছন্দ সেখানে সে ঢু মারবে। তাই সব অপশনই হাতের নাগালে থাকুক।
সারকথায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই সবকিছুকে নাগালে বাইরে রাখার বিরুদ্ধে। কারণ মানুষ হিসাবে আমাদের আসলে সবকিছুই দরকার। যদিও কখন কোনটার মধ্যে আমাদের আগ্রহ জন্মাবে আমরা ঠিক জানি না।

আমার নিজের ভুমিকার কথা বললে, এটা ঠিক যে আমার প্রসঙ্গ সবসময় সিরিয়াস বিষয় অথবা বলা ভাল, প্রসঙ্গ যত হালকাই হোক আমি তা দেখতে গেলে সিরিয়াস জায়গা থেকে দেখতে থাকি আর পাঠকের সাথে তা শেয়ার করি।
আমার বিশ্বাস সিরিয়াস কথা পাঠকের কাছে সহজে না বলতে পারার দায় লেখকের অপটুতার উপর পড়ে। আমি সক্ষম তা বলছি না। তবে, নিজেকে সেভাবে তৈরি করার চেষ্টায় রত থাকি; কাজটাকে অসম্ভব মনে করি না। আমার লক্ষ্য পাঠককে চিন্তা করতে বাধ্য, অভ্যস্ত করা।

আপনি ঠিকই বলেছেন, যেটাকে আপনি "পোস্ট পুরা নিরপেক্ষ দৃষ্টি"তে লেখা বলেছেন সেটাকে আমি মানে করেছি এক অবজেকটিভ জায়গায় দাঁড়িয়ে কনসেপ্ট টা নিয়ে নাড়াচাড়া করা। এতে অবশ্য পাঠকের অসতর্কে ভুল বুঝার সম্ভাবনা আছে।
যেমন মনে হতে পারে আমি হয়ত তাহের বা সৈনিকদের কজের প্রতি সিমপ্যাথিটিক নই। অথবা জিয়ার ক্ষমতাকে ন্যায্যতা দেয়ার পক্ষে কথা বললাম।
পাঠক যদি বুঝতে ভুল করেন আমি "ক্ষমতা" নিয়ে কথা বলছি; ক্ষমতা নৈতিকতা, আইন, মায়া-দয়া ইত্যাদির নিগড়ে বাধা পড়ে গেলে সেটা আর ক্ষমতা হতে পারবে না। এটাই ক্ষমতার স্ব-ভাব। তাহলে এমন মনে হবার সম্ভাবনা আছে।
আমাকে এত কথা বলার প্রসঙ্গ করে দেবার জন্য আবারও ধন্যবাদ জানাই।

১২. ০২ রা জুন, ২০১০ রাত ১১:৪০
রাজসোহান বলেছেন: আলুচুনা দেখলে ঘুম পায় , চরি |-)
০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ১২:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজসোহান। আপনার সমস্যাটা বুঝলাম। দেখি কোন ওষুধ বের করতে পারি কী না।

১৩. ০৩ রা জুন, ২০১০ রাত ১২:৫৬
জিপিএস বলেছেন: ''বিচার'' আর ''নাটক'' এই দুয়ের রিসতা নিয়া ব্যাপক কথা কওন যায়। সেটা দার্শনিক, রাজনৈতিক এবং ব্যবহার-শাস্ত্রের নানান পদ-সম্পদ দিয়া তুইলা ধরন খুব দুরস্ত হয়। এই আলোচনা সেই দিকে নেওয়ার ঝুকি না নেয়াই ভাল। তাতে প্রসঙ্গেরও মুসিবত ঘটে।

কিন্তু দুই কথা না বল্লে লোকে ভাববে আলটপকা একটা কথা পাইড়া গেছি গা। না সেই রকম মোটেই না।

আদালতের পুরা ঘটনাটাই কিন্তু পারফরমেটিভ। তার উপর একটা ঘটনাকে পুনরায় বিশ্বাস যোগ্য করে (রি)প্রেজেন্ট করতে হয়, (রি)ক্রিয়েট করার একটা প্রসেসকে প্রসিডিউরাল বলে অনুমান করে নেওয়া আছে বলেই স্বাক্ষী-সাবুদ, জেরা-জবানবন্দী ইত্যকার মালামাল তৈয়ার করা হয়। দিস ইজ আ পিকিউলিয়ার ফর্ম অব স্ট্রাকচারাল পারফরমেন্স, বাট এট দ্য এন্ড থিওলজিক্যাল। যাইক সেই আলাপ...

এবার দুই একটা নোক্তা খরচ করি।
জিয়া তখন সেনাপ্রধান নন, সেনাপ্রধান ছিলেন খালেদ মোশাররফ। জিয়া বন্দী এবং পদচ্যুত। দুই নাম্বার কথা হইল বিদ্রোহ ব্যক্তির এবং প্রতিষ্ঠান উভয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত হতে পারে। আইনের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানই বিবেচ্য হবে অবশেষে।

জিয়াকে মুক্ত করা ছিল বিদ্রোহ প্রক্রিয়ায় একটা ফলমাত্র মোটেই উদ্দেশ্য নয়। বন্দী জিয়াকে যদি সৈনিকরা মুক্ত করে, তার কমান্ড ফিরিয়ে আনে, সেটা বিদ্রোহ বলে বিবেচিত হবেই এমন কোনো কথা নেই; অন্তত সেটা আইনের চোখে, কর্মরত সৈনিকরা দায়িত্ব পালনের বরাতেই করতে পারে। আইনের চোখে তা গ্রাহ্য হবার সমস্যা আছে বলে আমি দেখছিনা। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল আর বন্দি সেনাপতিকে মুক্ত করার প্রচেষ্ঠাকে আইন আলাদা করেই দেখবে। দুটোকে একসাথে না মিলিয়ে বা অনিবার্য না করেও বিচার করে দেখতে পারে। এক করে দেখাটা রাজনৈতিক, সেটা রাজনৈতিকভাবেই ফয়সালা করে নিতে হবে। সেখানে তাহের ফেল করেছে।

আদালতের (সামরিক তো বটেই) দিক থেকে সার্ভিং সোলজার আর আউটসাইডারকে এক করে দেখার সুযোগ নাই। তার উপরে দেখন, এটা খুব সোজা, সৈনিক সংস্থা বা তাহেরের প্রণোদনায় নেমে পড়া সদস্যরা আর অপরাপর প্লাটুন রেজিমেন্টের সৈনিকরা (জিয়ার অনুগত) একই পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে গেলেও উভয়ে একই কাজ করছে না, উদ্দেশ্যও এক না।

এসবের মধ্যে রাষ্ট্র-ক্ষমতা বিষয়ক গিট্টু লাইগা আছে মূলত, সায়েম বা তৎকালিন রাষ্ট্রপতরি সাথে এই সকল বিষয়ের আইনি সম্পর্কজনতি মোকদ্দমায়।

০৩ রা জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জিপিএস।
এ বিষয়ে আর কথা না বাড়াই।

১৪. ০৪ ঠা জুন, ২০১০ রাত ১:০৬
প্লাটো বলেছেন: এটার উপর ওটা নয়, বা ওটার বিকল্প এটা নয় , এগুলা নিয়ে অনেক অনেক আলোচনা পর্যালোচনা বা জলঘোলা হয়েছে । আপনার বিভিন পোস্টেও সিগন্যালটা ক্রমাগত আসতে থাকছে ।

এখন তবে সেই বিকল্প মতাদর্শটা কি প্রকৃতির হবে সে ব্যাপারে আপনার কোন সুনির্দিষ্ট তৈরী চিন্তা আছে? কায়েমী স্বার্থের উপর সেটা বিজয়ী হবে ঠিক কি তরিকায়? কোন দিকনির্দেশনা?
০৪ ঠা জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৭

লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্নটা অনেক সরাসরি, ডাইরেক্ট একশনের মত।
প্রথমত এর ছোট্ট উত্তর হলো, হ্যাঁ আছে। তবে, পাঠকের বিশেষত যারা আকাঙ্খী ও যাদের দরকার তাদের বুঝবার মত করে পুরোটা পোক্ত গুছিয়ে বলবার আগে একটা প্রস্তুতিপর্ব আছে, চিন্তার মৌলিক জটগুলো আগে খুলে নেবার বড় বড় কাজ আছে বলে বুঝতে পারি।

একাজে ফাঁকি বা দূর্বলতা থেকে গেলে আগামিতে তা হুমড়ি খেয়ে পড়ার সম্ভাবনা বড় হয়ে থাকবে, সফরে বেশিদূর আগানোর আগেই ভেঙ্গে ছত্রভঙ্গ হয়ে যাব।
যদিও জানি এগুলো কোথাও এক্কেবারে পরিপক্ক হওয়ার পরই কিছু ঘটে ব্যাপারটা এমন নয়। কারণ সময় নির্ধারিত হয় মূলত পরিস্হিতির দ্বারা, প্রস্তুতি পরিপূর্ণ কোন মাত্রায় হয়েছে তা দিয়ে নয়।

আমাদের চিন্তার উপর বিস্তর ধুলা পড়ে গেছে ওগুলো সাফ করে অন্তত চিন্তা করার অভ্যাস, চিন্তার ক্ষমতার উপর আস্হা তৈরি হতে হবে, একটা সাহস আসতে হবে। আমরা তো এখন চিন্তা করতেই ভুলে গিয়ে সব মেনে নেবার অবস্হায় পড়ে আছি, এমনই এক সময় পার হচ্ছি।
এছাড়া, এটা তো একা করার কাজ না। ফলে চিন্তার বন্ধুগুলো পরস্পরকে চিনে নেবার দরকার আছে। আবার চিন্তার বন্ধু চিনার উপায়, পথ কী সে প্রশ্ন আছে।
চিন্তায় নুন্যতম সামাজিক স্বচ্ছতা অর্জনের আগেই বাইরের পরিস্হিতির চাপে যাত্রা শুরু করে ফেললে, না-বুঝা বা ভুল বুঝাবুঝি-জাত অপ্রয়োজনীয় বিরোধীতাগুলোর সম্মুখীন হতে হবে। যারা জেনুইন বিরোধী হবার কথা তাদের কথা বলছি না। আসলে বিপ্লব বাইরে প্রকাশ্যে ঘটবার বহু আগেই চিন্তায় বিপ্লব ঘটে যেতে হয়; নইলে বাইরের বিপ্লবের দেখা পাবার কোন সম্ভাবনা নাই। চিন্তায় সেসব অভিমুখ, লক্ষণ প্রকাশিত করে তোলার পক্ষে কাজ করাটা এখনকার জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়।

ওদিকে একাজেরও সমস্যার দিকটাই দেখেন না। আমাদেরকে "মুজিব-জিয়া অফেন্ডিং" জাতীয় প্রসঙ্গের ভিতর দিয়ে ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ক বিষয়ে কথা পড়তে হচ্ছে। আমি নিশ্চয় বেমাক্কা ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ক বিষয়ে কথা শুরু করতে পারি না, কারণ ওটা কাটখোট্টা তত্ত্বকথা কচকচানির পন্ডশ্রম হবে। আমাদের সামনের প্রতিদিনের ঘটা ঘটনাবলী ও এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যের অভিজ্ঞতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমাদের চিন্তার ক্ষমতা দেখানো ও চর্চা করা সম্ভব। এই সীমাবদ্ধতা পাশ কাটিয়ে যাবার সর্টকার্ট পথ দেখিনা।

সারকথায়, তরিকা "হ্যাঁ আছে" বলে উত্তর দেয়ার মত ব্যাপার না এটা। কারণ, আসলে বলতে হবে প্রমাণ করে করে, এবং সর্বোপরি "বুঝবার" মত করে হাজির করে বলতে হবে।

কোন না কোন কারণে "সিগন্যালের" ব্যাপারটা আপনার মাথায় ক্লিক করেছে দেখতে পাচ্ছি। তাৎপর্যপূর্ণ মনে হওয়া এই ঘটনা কেন দেখছি তা বুঝার চেষ্টা করছি।
ভাল থাকবেন।

১৫. ০৪ ঠা জুন, ২০১০ রাত ৩:২৩
দাসত্ব বলেছেন: + দিতেই ঢুকলাম।
নুরুন্নবীর তথ্য ২য় কোন জার্মলেস সোর্স থেকে রেক্টিফাই করে নিলে আমার আপত্তি নেই- সেটা কিন্তু বলেছিলাম।
পোস্টের সারমর্ম ভালো লেগেছে।
০৪ ঠা জুন, ২০১০ ভোর ৪:৫৫

লেখক বলেছেন: আপনারই সহজ, সরস প্রসঙ্গটাকে সিরিয়াস আলোচনা মনোযোগের বিষয় বানিয়ে ফেলেছি দেখতেই পাচ্ছেন। ফলে আপনি এই পোষ্ট পড়েছেন কী না, পড়লে পরে প্রতিক্রিয়া কী সেটা জানার একটা আগ্রহ ছিল।

আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভাল লাগল। অনেক ধন্যবাদ।

আমি নুরন্নবীর তথ্য রেক্টিফাই করে নেবার দরকার দেখি না। ১৯৭৭ সালের ক্যু তে নুরন্নবীর সংশ্লিষ্টতা, ভুমিকা, ক্ষমতা নেবার লড়াইয়ে একটা পক্ষ ইত্যাদি মনে রেখে তাঁকে পাঠ করলেই তো হয়, আমি কোন সমস্যা দেখি না। এরপর সেখান থেকে কী কী ফ্যাক্টস ও ব্যাখ্যা - কী নেবেন না নিবেন, না কী যোগ করবেন - সেটা আপনার দক্ষতা, পরিপক্কতা মুনশিয়ানা আর সর্বোপরি কোনটা আপনার নিজের রাজনীতি, রাজনৈতিক স্বার্থ মনে করেন এসবের উপর নির্ভর করবে।

ইতিহাসের বয়ান কখনই একটা হয় না। নানান শ্রেণী, নানান স্বার্থ সেটাকে নানানভাবে বর্ণনা করে থাকে। সেগুলোর মধ্যে মালমশলা যার বেশি, বয়ান বিশ্লেষণের ক্ষমতা যত গভীর ও ব্যাপক, সংকীর্ণ স্বার্থের বদলে গণস্বার্থের দিক থেকে দেখা - সেটা নিজগুণে বাকিগুলোর উপরে নিজের প্রভাব বিস্তার করে নিজের জায়গা করে নেয়। এর বাইরে - যেমন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের "সঠিক" ইতিহাস জানাতে হবে - এসব কথা একটা রাজনৈতিক বাকচাতুরি গিমিক ও খাঁটি দলবাজি ছাড়া আর কিছু না।

১৬. ০৪ ঠা জুন, ২০১০ দুপুর ১:২১
প্লাটো বলেছেন: ১৪ নং কমেন্টের পরে... না কোন ডাইরেক্ট একশনের চিন্তা ভাবনা থেকে প্রশ্ন করিনি। ভাবগতিক এরকম মনে হলে আমি দুঃখিত। তবে আমার মনে হয় নিজের কিছু বলার থাকলে খুব সময় ক্ষেপন না করে বলে ফেলা উচিত। রাজ্যের ধুলবালি সাফ করে কুলায়ে উঠতে পারবেননা।

হিন্দিতে একটা কথা আছে, লাথো কি ভুত বাতোমে নেহি মানতে। আসলেই আমাদের কিছু নৃতাত্তিক বৈশিষ্ট্য আছে, কেন কি কারনে এই বৈশিষ্ট্য সেটা আলাদা ইস্যু, তবে সেগুলোকে মাথায় না রেখে শুধু লজিক্যালি ডিল করলে সমস্যা আছে।

০৪ ঠা জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৮

লেখক বলেছেন: আমি আপনার কথা মানি, সব বিষয় লজিক্যালি ডিল করার ব্যাপারই নয়। যেটা লজিক্যাল সেটা সেভাবে আর যেখানে মুগুর দরকার সেখানে মুগুর এই বিবেচনা স্পষ্ট রেখেই লাঠি হাকাতে হয়।
যেকাজের যে উপযুক্ত টুল বা হাতিয়ার তাই ব্যবহার না করলে ফল আসে না, বরং উল্টা ফল হতে পারে।

আমার নিজের যা কিছু বলার তা বুঝে কেউ বিরোধীতা করলে একে মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমার আছে। এর জন্য মুগুরের দরকার আছে। কিন্তু না বুঝে বা ভুল বুঝে বিরোধীতাকারীদের সংখ্যা কম করে রাখা কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ। নইলে এরা আসল বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে বিপদ তৈরি করবে।

চিন্তার ক্ষমতা ও প্রভাবশালী চিন্তার প্রতাপ বলয়ে সমাজ ছেয়ে ফেলার কাজ দূর্বল থেকে গেলে কেবল বল প্রয়োগের উপর টিকে থাকা মুশকিল।

প্লাটো আপনার অনেক ধন্যবাদ, আপনার উছিলায় কিছু কথা বলার সুযোগ পেলাম।

১৭. ০৬ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:০০
সুবিদ্ বলেছেন: "আইন" কথাটার কোন সার্বজনীন, সবকালে, সব রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য অর্থে - ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন, ইনডিপেন্ডেন্ট অর্থে স্বাধীন এমন কোন বিষয় নয়। বরং আইন ঘোরতরভাবে ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত একটা ধারণা।

............চমৎকার বলেছেন, এটাই বোধহয় বিশদ আলোচনার সারাংশ
০৭ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩৫

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন।
মনোযোগ দিয়ে পড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ সুবিদ।

১৮. ১০ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩২
সাজ্জাদ এইচ ভূঁইয়া বলেছেন: ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্যই আইন।
১০ ই জুন, ২০১০ ভোর ৫:২১

লেখক বলেছেন: না ঠিক তা নয়। এত সরলীকরণ করলে ভুল বুঝার সম্ভাবনা থাকবে।

বরং, পরের জবাবটা লক্ষ্য করবেন দয়া করে। ওখানে প্রায় একই প্রসঙ্গে কথা বলছি।

আপনার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

১৯. ১০ ই জুন, ২০১০ ভোর ৪:৫৭
ওরাকল বলেছেন: ক্ষমতাকে অমরত্ব দিতে আইন আবার ক্ষমতাবানের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা টানতে ও আইন। সুতরাং দোষ আইনের নয় দোষ হল প্রয়োগকারীর। প্রয়োগের মোটিভেশন দেখেই ঘটনার ভ্যালিডিটি যাচাই করা উচিত। আর আইন ও ক্ষমতা উভয়ের ক্ষেত্রে ব্রুব অবস্থা বলে কিছু নাই।
১০ ই জুন, ২০১০ ভোর ৬:৩৭

লেখক বলেছেন: এখানে ক্ষমতা শব্দের দুটো অর্থ ব্যবহার গোলমাল লাগিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন ধরেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচন, এখানে এক ধরণের সরকার বদল বা ক্ষমতার হাত বদল হয়।
এখানে আগে থেকে একটা কনষ্টিটিউশন আছে, সেই কনষ্টিটউশনের অধীনে একটা নির্বাচন হবে পরবর্তী পাঁচ বছর কারা আইন প্রণেতা হবেন আর রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কোন দল নিবে এদের একটা নির্বাচন যাদেরকে আমরা সংসদ সদস্য বলব।
এই সময়টাই রাষ্ট্রের অন্যন্য প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগ, সেনা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ইত্যাদি যে গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ভাগ করে দেয়া থাকে তারা কনষ্টিটিউশনের অধীনে থেকে কনষ্টিটিউশনে বলে রাখা ক্ষমতা ভোগ করতে থাকে, যা দায়িত্ত্ব কর্তব্য দেয়া হয়েছে তা পালন করতে থাকে।
এই সংসদ নির্বাচন ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে ক্ষমতা শব্দের একটা প্রয়োগ আছে।
আমি এই ক্ষমতাকে বিষয় মেনে এই পোষ্ট লিখছি না।

উপরের উদাহরণে লক্ষ্য করলে দেখব, একটা কনষ্টিটিউট (গঠন) হয়ে থাকা রাষ্ট্র নাগরিক জনগণ একটা রাষ্ট্রে কনষ্টিটিউট বা সংগঠিত হওয়া মানে কী ভিত্তিতে, কী বুঝে কনষ্টিটিউট বা সংগঠিত হলো তা লেখা থাকা একটা দলিল থাকা অর্থাৎ কনষ্টিটিউশনের জন্ম হওয়া - আমরা সেই আগে থেকে (Pre-defined) হয়ে থাকা রাষ্ট্রের ক্ষমতা চর্চা কীভাবে হবে তা সেখানে বিষয়।

এখন যদি খোদ আগে থেকে (Pre-defined) হয়ে থাকা রাষ্ট্রটাই সব সমস্যা কারণ হয়ে থাকে, কেউ মনে করে তবে নতুন করে রাষ্ট্র কনষ্টিটিউট (গঠন) করার জন্য যে ক্ষমতা, সেটা গায়ের জোরই; আর কোন আইনই উৎস থেকে এই ক্ষমতা আসবে না। বিজয়ী ক্ষমতাই নতুন আইন তৈরি করবে, নতুন করে তার রাষ্ট্রকে, পুরো ব্যবস্হাটাকে পুনঃ সংজ্ঞায়িত করবে।

২০. ২৫ শে জুন, ২০১০ ভোর ৪:১৯
মাদারি বলেছেন: (১) মুন্সী মশাইয়ের মতে “জনগণের ক্ষমতার জন্ম” দেয়ার জন্য “আবু তাহেরে সিপাই বিপ্লব” একটা প্রচেষ্টা, তবে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার কারণে অর্থাত প্রথম পরীক্ষায় ফেল করার কারণে দ্বিতীয়টা, আপনার ভাষায় ”আসল পরীক্ষা। জনগণের ক্ষমতা হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করা”র পরীক্ষা পর্যন্ত যেতেই পারেন নি তাহের। ফলে সেই আসল পরীক্ষায় যাওয়ার ”আগেই জিয়ার কাছে হেরে গেছে, নিজের ক্ষমতা রক্ষা, মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে।”

এখন প্রশ্ন হলো এই ঘটনাটায় তাহের এবং জিয়ার ভূমিকার বিচার কি হবে? তাহেরের ক্ষমতার লড়াই যদি জনগণের ক্ষমতার জন্ম দেয়ার ব্যার্থ প্রচেষ্টা হয়, তাহলে জিয়ার সফল প্রচেষ্টাটি কিসের জন্য? সেটা কি কোন ক্ষমতার জন্ম দিয়েছে নাকি পুরোনো ক্ষমতা সম্পর্ককে জারি রেখেছে? পুরোনো সম্পর্ক জারি রাখার জন্য যদি জিয়ার প্রচেষ্টা সফল হয়, তাহলে সেখানে জিয়ার ভূমিকাটা কি? তার সেই প্রচেষ্টা সফল করতে গিয়ে তাহের আর তার সংগী সাথীদের উপর সেনা কোর্ট মার্শালের আইনের যে প্রয়োগ হয়েছে সেখানে জিয়ার ভূমিকা কি শুধুই হাত পেতে রাখা যে হাত ধরে সেনা কোর্ট মার্শালের আইন তাহেরদের উপর প্রয়োগ হয়েছে?
২৬ শে জুন, ২০১০ রাত ২:৩৬

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের একটা অংশ এরকম - "তাহেরের ক্ষমতার লড়াই যদি জনগণের ক্ষমতার জন্ম দেয়ার ব্যার্থ প্রচেষ্টা হয়, তাহলে জিয়ার সফল প্রচেষ্টাটি কিসের জন্য? সেটা কি কোন ক্ষমতার জন্ম দিয়েছে নাকি পুরোনো ক্ষমতা সম্পর্ককে জারি রেখেছে?"

আমার "জনগণের ক্ষমতার জন্ম" দিতে তাহেরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ বা অসফল হয়েছে বলার মানেই "জনগণের ক্ষমতার জন্ম" দিতে জিয়া সফল হয়েছেন এমন মানে হয় না; এমন মানে বের করার সুযোগ নাই। এমন কোন দাবীও আমি করিনি।

জিয়ার হাত ধরে
"সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে- আমার একথার মানে একটাই - ঐ সেনা বিদ্রোহ ও ক্ষমতা দখলের মাঠের লড়াইয়ে যে জয়লাভ করবে সে অন্যের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের আইন প্রয়োগের সুযোগ পাবে - এটাই সেই সোজাসাপ্টা কথা।
লক্ষ্য করতে বলব এটা কোন নৈতিক/অনৈতিকতার মামলা নয়। আমিও কোন নৈতিক বিবেচনা আরোপ করে ওর বিচার করছি না।

ক্ষমতা দখল করতে পারার বাস্তব মাঠের লড়াইয়ে কেউ জয়যুক্ত হতে পারবে কী না সেটা সে নৈতিক বা ন্যায্য হলেই প্রতিপক্ষ তাঁকে ওয়াকওভার দিবে না বা জয়ী বলে মানে না। কেউ বিজয়ী হতে চাইলে মুরোদ, সোজাসাপ্টা গায়ের জোড়, অস্ত্রের জোড়ে প্রতিপক্ষের উপরে চড়াও বা ওভারপাওয়ার করে পরাস্ত করতে পারার উপর তা নির্ভর করে। সেভাবে একমাত্র বিজয়ী হতে পারে সম্ভব। এই লড়াই নির্মম, দয়ামায়াহীন (তবে প্রতিহিংসা নয়) হয়, কারণ এটা নৈতিকতার লড়াই নয়। ফলে আমাদেরও একে কোন নৈতিকতার চোখে বিচার করতে বসাও অর্থহীন।
জিয়া বা তাহের, অথবা যে কেউ জনগণের ক্ষমতা তৈরি করতে চাইছে অতএব সে কারণে সে বিজয়ী হয়ে যাবেই এমন ধারণা ভিত্তিহীন, অবাস্তব।
বরং এই বিচারের ভিতর একটা আবেগী বোধ আছে আর এরচেয়ে বড় কথা এভাবে বিচার করতে চাওয়ার ভিত্তি এক নৈতিকতা। ক্ষমতা দখলের লড়াই নৈতিকতার লড়াই নয়, মুরোদের লড়াই।

একথাই আমি বলতে চেয়েছি, আর একবার বলবার সুযোগ নিলাম মাত্র। ফলে জিয়ার ক্ষমতাদখলের প্রচেষ্টাটা ভাল না কী তাহেরের এই নৈতিক বিচারে আমি বসিনি। বরং বলতে চেয়েছি, এটা মাঠে ক্ষমতা দখলের লড়াই, নৈতিকতার লড়াই নয়।

২১. ২৫ শে জুন, ২০১০ ভোর ৪:২০
মাদারি বলেছেন: (২) আপনি আপনার ‘অবজেবটিক’ মূল্যায়নের ১ম পয়েন্টে বলেছেন: “সৈনিক সংস্হা থাকার কারণেই জিয়ার জানে বেঁচে যাওয়া ও পরবর্তীতে ক্ষমতায় উত্থান।” আবার ৮ নং পয়েন্টে লিখেছেন: “জিয়াকে সৈনিক বিপ্লবের বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন তাহের। এটা নিজের হতাশা ব্যর্থতার কথা। জিয়া তাহেরের সাথে মিলে সৈনিক সংস্হা গড়তে যান নাই। ফলে সৈনিক বিপ্লব কবুলের দায় তাঁর উপর চড়ানো, বিশ্বাসঘাতক বলার সুযোগ আমরা দেখি না।”

তাহের জিয়াকে বিশ্বাসঘাতক কেন মনে করতো?তাহের কি জানতো না যে জিয়া তাহেরের বা তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার আদর্শে বিশ্বাস করে না? তাহেরের আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য নয়, বরং যে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা জিয়াকে জানে বাচায়, ক্ষমতায় আরোহনের পর, নিজে উদ্যোগী হয়ে (মোটেই হাত পেতে রাখার মত প্যাসিব বা নিস্ক্রিয় নয়) শাসক শ্রেণীর ক্ষমতা সুসংহত করতে, সেই ক্ষমতার প্রতিভু হিসেবে, সেই সৈনিক সংস্থার মূল নায়ক এবং অন্যান্য সদস্যদের ফাসীর দড়িতে ঝুলানোর জন্য সেনা আইন প্রয়োগ করার জন্যই তাহের এবং তাহেরের সহযোগীরা জিয়াকে বিশ্বাসঘাতক বলেছে। এর মধ্যে দিয়ে তাহরের পরিকল্পনা ও হিসেব নিকেশের দুর্বলতা প্রকাশ হলেও তাতে জিয়ার ঘৃণ্য ভূমিকার দুর্গন্ধ চাপা পড়ে না, সিপাহী বিপ্লব কে “নিষ্ঠুর” ,“নিরঙ্কৃশ” ক্ষমতা নিয়ে তাহের-জিয়ার লড়াই এর আকারে হাজির করতে গিয়ে, যে দুর্গন্ধ চাপা দেয়ার ততোধিক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা আপনার লেখার মধ্য দিযে প্রকাশ পেয়েছে। নিশ্চিত ভাবেই “তাহের জিয়ার জান বাঁচিয়ে বলে জিয়াকে তাহেরের রাজনীতির সাথে একমত হতে হবে” এরকম কোন কথা নেই এবং সেরকম কোন দাবীও কেউ করছে না। কিন্ত জিয়ার রাজনীতির সাথে একমত না হয়েও যে তাহের জিয়ার জান বাচিয়েছে, সেই তাহেরের জান বাচানো তো দুরের কথা, ক্ষমতায় আরোহনের পর পর সেই ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যাবহারের মাধ্যমে অচিরেই জিয়ার জীবন বাচানো ব্যাক্তিটিকে ফাসীতে ঝুলিয়ে জিয়া পরবর্তীতে নিষ্ঠুর ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ধরে রাখতে আর যে সব ভয়াবহ হত্যাকান্ড ঘটাবে তার সঠিক পূর্বাভাসই দিয়েছে। তবে আপনার কাছে ব্যাক্তি জিয়ার ভূমিকা কিছুই নয়, কারণ “ক্ষমতা নির্মম, নিষ্ঠুর। ক্ষমতার এসব অনুষঙ্গ কে এড়াতে পারা কঠিন।” আহা! আমার তো আপনার এই লেখা পড়ে জিয়ার জন্য মায়াই হচ্ছে। বেচারা! ক্ষমতায় থাকার জন্য অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও তাকে কত নিষ্ঠুরতাই না করতে হলো!

সন্দেহ নেই ব্যাক্তির ভূমিকার উপর বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো ও আর্থ সামাজিক ব্যাবস্থার ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ্। কিন্ত একই ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে কোন ব্যাক্তি/গোষ্ঠী ক্ষমতা কাঠামোর ধারক বাহক হয়ে উঠে সে ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে অন্যদিকে অন্যকোন ব্যাক্তি/গোষ্ঠী সেই ক্ষমতা কাঠামো পাল্টানোর সংগ্রামের ধারক বাহক হয়ে উঠে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে সেই ক্ষমতা কাঠামো ধরে রাখা বনাম পাল্টানোর লড়াই সংগ্রামের তাতপর্য অপরিসীম, জনগণের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে দেখলে, পাল্টানোর সংগ্রামের পক্ষের শক্তি এবং বিপক্ষের শক্তির ভূমিকাকে “অবজেকটিভলি” দেখার কোন সুযোগ নেই। জনগণ পাল্টানোর পক্ষের শক্তিকে যদি ভালোবাসে তবে বিপক্ষের শক্তিকে ঘৃণা করতে শিখে- এর মধ্যে অবজেকটিবিটি মারানোর কোন সুযোগ কোথায়?
২৬ শে জুন, ২০১০ ভোর ৪:২২

লেখক বলেছেন: যে আমার জান বাঁচিয়েছে তাঁর জীবন আমাকে বাঁচানো আমার কর্তব্য -

উপরে যে কথাটা লিখলাম এই কথাটা দাড়িয়ে আছে নৈতিকতার উপর ভর করা এক বিচারবোধ ও ভিত্তিতে।

আগের মন্তব্যে বলেছি আমি নৈতিক বিচার করছি না। ক্ষমতা দখলের মাঠের লড়াই নৈতিক লড়াইও নয়। এর জয় পরাজয় নৈতিকতা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।

ফলে আমার কথাকে নৈতিক বিচারের পাটাতনে দাড়িয়ে দেখার কারণে আপনার মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ও অবিচার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষমতা জিনিষটা অর্থাৎ ক্ষমতা দখলের কাজটা নৈতিকতা চর্চার বিষয় নয় - সোজাসাপ্টা গায়ের/বন্দুকের জোড়ে মুরোদ দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার বিষয়।
এই হিসাব তাহেরের ছিল। নৈতিকতা দিয়ে নিজের ক্ষমতা শক্তির ওজন মাপতে যাননি। নিজের মাঠ-শক্তির ঘাটতি ছিল এটা তিনি আগেই অনুভব করেছিলেন। তিনি জিয়ার অনুগত সৈনিকদেরকে পক্ষে নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে চেয়েছিলাম। এর মধ্যে রিস্ক আছে এটাও তাঁর অজানা ছিল না। কিন্তু ঐ সময়ের ক্যু-পাল্টাক্যু এর ঘটনাকালে নিজস্ব সৈনিক সংস্হার সংগঠিত হবার মাত্রায় ঘাটতি আছে বলে একে কোন তৎপরতামূলক নির্দেশ না দিয়ে বসিয়ে রাখলেও তিনি সংগঠন সৈনিক সংস্হাকে অটুট ধরে রাখতে পারতেন না; কারণ সৈনিকেরা বিভিন্ন ক্যু প্রচেষ্টার কারও না কারও সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ত ও সৈনিকেরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ে নিঃশেষ হয়ে যেত, সৈনিক সংস্হা বলেও আর কিছু থাকত না। ফলে এর চেয়ে একটা রিস্ক নিয়ে সৈনিক সংস্হাকে সক্রিয় তৎপরতায় মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত, ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করা ছাড়া তাহেরের কাছে কোন পথ খোলা ছিল না।

খোদ জিয়া নয় জিয়ার অনুগত সৈনিকদেরকে নিজের ক্ষমতার পক্ষে পাওয়াই তাহেরের লক্ষ্য থাকলেও জিয়াকে মুক্ত করার ভিতর দিয়ে সেটা সম্ভব বলে "জিয়ামুক্তি" তাহেরের কাছে বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যা রিস্কের কারণও বটে।
ক্ষমতা দখলের পর তাঁর ক্ষমতার যে অংশটাকে রিস্কি মনে করা হয়েছিল, দূর্বল ছিল সেটাই ক্রমশ বাস্তব কঠিন সত্যি হয়ে উঠেছিল - পরিণতিতে তা তাহেরের ক্ষমতা সংহত হবার বদলে তাঁর পরাজয়ের কারণ হয়ে যায়।
লক্ষ্য করবেন, আমি কোন নৈতিক বিচার এখানে টানিনি বরং সোজাসাপ্টা গায়ের/বন্দুকের জোড়ের ক্ষমতার লড়াই, মাঠের লড়াই ক্ষমতা ভারসাম্যের বিষয় দিয়ে বুঝবার, বুঝাবার চেষ্টা করেছি। ঐ সময় সৈনিক সংস্হা ছাড়াও ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সেনা ইউনিটের সৈনিকেরা সে ইউনিটের কমান্ডারের অধীনে বিভক্ত ছিল। জিয়ার অধীনস্ত সৈনিক দলের মত এরকম বিভিন্ন নামে এরা বিভক্ত ছিল। এমন কী ফারুক-মোস্তাকের অধীনস্ত সৈনিকরাও ছিল এবং সেটাও সংখ্যায় কম নয়। এদের মধ্যে জিয়ার অধীনস্ত সৈনিকরাই তাহেরের বিচারে তুলনামূলক সবচেয়ে কাছের ও বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে হয়েছিল। তাই রিক্স সত্ত্বেও নিরুপায় এদের সাথে এই এক্সটারনাল এ্যলায়েন্স গড়ার চিন্তাটা আসে।

আপনার "অবজেকটিবিটি মারানোর" শব্দটা আপত্তিকর ও অসুস্হ। আশা করব এব্যাপারে আপনার বুদ্ধির পরিপক্কতার পরিচয় রাখবেন। আলোচনা চালিয়ে রাখতে সাহায্য করবেন।

২২. ২৫ শে জুন, ২০১০ ভোর ৪:২৫
মাদারি বলেছেন: (৩)এই প্রেক্ষাপটটিকে মাথায় রেখে এবার দেখা যাক, রাগইমনের আইনমূলক চোখে তোলা প্রশ্নটি পিমুন্সীর দাবি মত আসলেই অবান্তর কি-না কিংবা পিমুন্সী কথিত সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে নাকি বিশেষ ভাবে তাহেরদের বিচারের জন্য জিয়ার নিজের ক্ষমতায় জরি করা সামরিক ফরামানে তাহেরদের বিচার হয়েছে?

প্রথমত: মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান নিজস্ব এবং গোষ্ঠীগত ইচ্ছা ও স্বেচ্ছ্বাচারিতা চরিতার্থ করার জন্য ৭ই নভেম্বরের পর থেকে অনেকগুলো সামরিকা ফরমান ও আদেশ জারি করেছেন। এমনি একটি অধ্যাদেশ ছিল ৸Special Martial Law Tribunal Regulation 1976৹৷ রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি সায়েম ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের ঠিক ১০মাস পর ১৯৭৬-এর ১৪ জুন এ অধ্য্যাদেশটি জারি করেন। এই অধ্যাদেশ জারির ধান্দা একটিই- ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত ৭ নভেম্বরের সিপাহি বিপ্লবের নেতা কর্ণেল তাহের ও জাসদ নেতৃবৃন্দের বিচার করা। জেনারেল জিয়ার ইচ্ছা ও নির্দেশেই সায়েম এ অধ্যাদেশটি জারি করেছিলেন। কারণ সায়েম রাষ্ট্রপতি হলেও দেশের সর্বময় ক্ষমতা তখন প্রকৃত অর্থে সেনাপ্রধান জিয়ার হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়াও তিনি তখন অন্যতম ডিসিএমএল(উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক) ও ছিলেন।
ঐ সামরিক আইনের আর্টিক্যাল ৩(D) তে বলা হয়েছিল:
ট্রাইব্যুনাল এ বিধি বলবত হবার আগে সংঘটিত হোক বা পর সংঘটিত হোক
ক) দন্ডবিধির(১৮৬০ সালের ৪৫নং) ষষ্ঠ ও সপ্তম অনুচ্ছেদের অধীনে শাস্তিযোগ্য যে কোন অপরাধ;
খ) ১৯৫২ সালের সেনাবাহিনী(১৯৫২ সালের ৩৯ নং) আইন, ১৯৫৩ সালের বিমান বাহিনী(১৯৫৩ সালের ৬ নং) আইন অথবা ১৯৬১ সালের নৌবাহিনী(১৯৬১ সালের ৩৫ নং) অধ্যাদেশ কিংবা এসব আইন ও অধ্যাদেশের অধীনে জারিকৃত যে কোন বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ;
গ) ১৯৭৫ সালের সামরিক আইন বিধির ১৩ বা ১৭ নং বিধির(১৯৭৫ সালের ১নং বিধিসমূহ) অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ; কিংবা
ঘ) এ ধরনের কোন অপরাধ সংঘটন বা তাতে সহায়তা দানের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র অথবা অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি হিসেবে শাস্তিযোগ্য যে কোন অপরাধের বিচার করতে পারবেন।

আটিক্যাল ৪(জ) এ ট্রাইবুনালের ক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ট্রাইবুনালের কোন সিদ্ধান্ত বা রায়ের ব্যাপারে কোন কর্তৃপক্ষের কাছেই আপিল করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত: ৫সদস্য বিশিষ্ট এ ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যানসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী থেকে আগত যাদের আইনগত অভিজ্ঞতা বা চর্চা প্রশ্নের উর্দ্ধে ছিল না। তদুপরি এরা সবাই ছিলেন সামরিক প্রশাসনের অংশ। প্রচলিত রীতিতে সাধারণত মার্শাল ল কোর্টে বিচার বিভাগ থেকে বিচারক নেয়া হয়। এটি হলো বিচারের নূন্যতম নিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখার প্রাথমিক শর্তের একটি। কিন্তু আমাদের আলোচ্য ট্রাইবুনালে প্রচলিত ঐ রীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।

তৃতীয়ত: এ ট্রাইব্যুনালকে তাবত দুনিয়ার আইন শাস্ত্রের ইতিহাসে একটি বিরল আলোচ্য বিষয় হিসেবেই চিহ্রিত করা যাবে। কারণ ট্রাইবুনালকে দেয়া ক্ষমতার পরিধি। মোট ৩ ধরণের অপরাধের শাস্তি বিধানের এখতিয়ার দেয়া হয়েছিল একই ট্রাইবুনালকে- ক) সাধারণ আইনের অপরাধ খ) সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধ গ) সামরিক আইন বিরুদ্ধ অপরাধ। সম্ভবত বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক ব্যাক্তিদের বিচারকার্য একই সঙ্গে সম্পন্ন করার লক্ষেই ততকালীন কর্তৃপক্ষ এই কাজটা করেছিল।

চতুর্থত: ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয় কর্নেল ইউসুফ হায়দার কে যে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে থেকেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দান করেনি। শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নয়, মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিল। অথচ যাদের বিচারের জন্য তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল তারা সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এ বিবেচনা থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট আপত্তিকর।

পঞ্চমত: সামরিক অধ্যাদেশেই বলে দেয়া হয়েছে ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না, বিচার কার্য চলবে রুদ্ধদার কক্ষে এবং বিচার প্রকৃয়া সম্পর্কে তথ্যপ্রকাশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ থেকে শুরু থেকেই বিচার নিয়ে জনমনে যে সংশয় সৃষ্টি হয়, পরবর্তী মাত্র ৩০দিনে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়।

ষষ্ঠত: বিচার শুরুর দিন অভিযোগগুলো উত্থাপিত হবার পর ট্রাইবুনাল ৮ দিনের জন্য মুলতবি হয়। এই আটদিন ই কেবল আসামি পক্ষের উকিলদের মামলার কাগজপত্র ও আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সময় দেয়া হয়। অথচ সরকার পক্ষ মামলা সাজাতে সময় নিয়েছিল ছয় মাস। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এত কম সময় প্রদান ইতিহাসে বিরল। অভিযুক্তরা আইনজীবিদের সাথে কথা বলতে পারতেন কেবল কোর্টে থাকার সময়টুকুতেই!

সপ্তমত: সাধারণত সাক্ষীদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য নিরপেক্ষ প্রত্যক্ষদর্শী থাকে। এ মামলায় এ বিধানটিও অগ্রাহ্য হয়। ৩ জুলাই আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রাজসাক্ষী ফখরুল আলমকে বিস্তারিত জেরা করার অনুমতি চাইলে সেটা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

অষ্টমত: যারা এ মামলা সাজিয়েছিল তাদের কথা মতোই সাক্ষীরা মামলা চলাকালে সাক্ষ্য দিচ্ছিল। আর এই বানানো সাক্ষ্য দিতে গিযে মিথ্যাচার আর ভুলের ছড়াছড়ি ছিলো। যেমন রাজসাক্ষী ফখরুল এক পর্যায়ে বলেন, ড. আখলাকুর রহমানের মোহাম্মদপুরুস্থ বাসায় সে কর্ণেল তাহের কে দেখেছে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল ভোরার সাথে টেলিফোনে কথা বলতে। অথচ ড. আখলাকের বাসায় কোন ফোনই ছিল না।

নবমত: তাহের ও জাসদের আহবানে এবং নেতৃত্বে সিপাহীরা খালেদ মোশাররফ ও তার সহযোগী শক্তিকে উতখাত করেছে। সুতরাং একে তো বৈধ সরকার উতখাতের প্রচেস্টা হিসেবেই গণ্য করা যায় না। আবার ৭ ই নভেম্বরের বিপ্লবী প্রচেষ্টা যদি অবৈধ হয়েই থাকে তাহলে জিয়া সরকার সে দিনকে বিপ্লব দিবস হিসেবে ছুটি ঘোষণা করেছিল কেন? আবার দিনটি যদি জাতীয় গৌরবেরই হয়ে থাকে তাহলে কর্ণেল তাহের ও সহযোগীদের তো পরস্কৃতই হবার কথা।
এর আগে ৫ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ ও শাফায়াত জামিললা যাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসালেন- সেই বিচারপতি সায়েম সিপাহি অভ্যুত্থানে খালেদ মোশারফ উতখাত হবার পরও বহালই রইলেন এবং তা জিয়া ও তাহেরর সম্মতিতেই। সুতরাং ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে কোন সরকার উতখাত হয়েছে এমনটি বলা যায় না।
অন্যাদিকে বৈধসরকার উতখাতের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তাও যথার্থ ছিল না। বাংলাদেশ সেনাবাহীনিতে শৃঙ্খলা ভংগের প্রথম ঘটনা হলো ১৫ আগষ্টের ঘটনা। তার ফলে ক্ষমতায় আসা মোশতাক ও তার মেজরাই জিয়াকে এক পর্যায়ে সেনাপ্রধান নিয়োগ করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অফিসারদের শায়েস্তা করার কোন চেষ্টাই নতুন সেনাপ্রধান জিয়া করে নি। ১৫ আগষ্ট থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নৈরাজ্য ও শৃংখলা ভংগের কোন ঘটনার সংগে তাহের ও তার সহযোগীরা কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না বরং সেনাপ্রধান হিসেবে ঐসবের দায় প্রকারান্তরে জিয়ার উপরই বর্তায়।

দশমত: সরকারী পিপি এটিএম আফজাল আসামিদের আইনজীবিদের জানান যে, প্রসিকিউটর হিসেবে তিনি কখনও মৃত্যূদন্ড দাবী করেন নি। তার মতে এরকম সিদ্ধান্ত ছিল সর্ম্পূর্ণ অবাস্তব। কারণ তাহের কে যে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, তার জন্য মৃত্যদন্ড দেয়া সম্ভব ছিল না- দেশে সে ধরণের কোন আইন ই ছিল না। অবশ্য ফাসির আদেশ কার্যকর করার দশদিন পর আইন মন্ত্রণালয় এই আইনগত অসংগতি দূর করে। ৩১ জুলাই ১৯৭৬ এ আইন মন্ত্রণালয় সামরিক আইনের ২০তম সংশোধন জারি করে যেখানে বলা হয় “বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কোন ধরণের মতাদর্শ প্রচারের অপরাধের শাস্তি মৃত্যূদন্ড।“ কথা আছে, ততকালীন আইন সচিব তাহেরের মৃত্যদন্ড সংক্রান্ত রায়ের ব্যাপারে আইনি অসংগতি জিয়ার কাছে তুলে ধরলে জিয়া সেই ফাইলটি ছুড়ে ফেলে দেন। তিনি নির্দেশ দেন অবিলম্বে আইন মন্ত্রণালয় থেকে অবিলম্বে এ রায় অনুমোদন দেয়ার।

আমার জানার বড় খায়েশ, এরপরও কি, আইনি দিক নিয়া তাহেরের বিচারের বৈধতা নিয়া প্রশ্ন তুললে মুন্সী মশাই সে প্রশ্নতুলাটাকে অবান্তর বইলা উড়ায়া দিবেন আর অন্যদিকে অবজেকটিভিটির দোহাই দিয়া তাহের হত্যার পেছনে জিয়ার ভূমিকাকে passive হিসেবে হাজির করার জন্য বলবেন:”সেনা কোর্ট মার্শালের আইন জিয়ার হাত ধরে তাহের ও তাঁর সঙ্গীসাথীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়েছে”!!!
২৬ শে জুন, ২০১০ ভোর ৬:৩৮

লেখক বলেছেন: এই পোষ্টে আলোচনায় মূল বিষয় ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ককে বুঝতে চেষ্টা করা।
এখানে আমার সারকথা হলো, আইনের বলে কেউ ক্ষমতা পায় না, ক্ষমতা দখল করা যায় না। ক্ষমতা মানে এখানে বল প্রয়োগের মুরোদ; এক বল প্রয়োগের বিরুদ্ধে অপরের বলপ্রয়োগ; বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থ শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে থাকা সমাজে বিভিন্ন অংশের নিরন্তর চলা প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য এসব লড়াই একে অপরের উপর বলপ্রয়োগের চেষ্টা, ক্ষমতা দখলের লড়াই। আমি বারবার বলার চেষ্টা করছি, ক্ষমতা বা মুরোদের লড়াইয়ে যে বাকীদের পরাস্ত করে বিজয়ী হয়ে যায় ক্ষমতা তাঁর রাজনীতি বা তাঁর রাজনৈতিক শ্রেণীর ক্ষমতা। এই ক্ষমতা সে কোন নৈতিকতার বলে অথবা কোন আইন বলে অর্জন করেনি। করেছে গায়ের/অস্ত্রের জোড়ে, মুরোদের বলে। এটাই বারবার পাঠককে মনে করিয়ে দেয়া।

এরপর ঐ ক্ষমতা অন্যান্য শ্রেণীর সাথে কীভাবে চর্চা করবে ফলে চর্চার একটা কাঠামো, রাষ্ট্র-কাঠামো, কনষ্টিটিউশনের প্রসঙ্গের উদয় ঘটে। কনষ্টিটিউশন মানে সব আইনের উৎস-আইন। উৎস আইনে উল্লেখ থাকে অন্যান্য শ্রেণীসহ জনগোষ্ঠির সবার নাগরিক হিসাবে কী কী অধিকারের বিষয় এই ক্ষমতা স্বীকার করে। এটা সবাইকে নিজ ক্ষমতার ভাগীদার বানানো নয়। বরং ক্ষমতা যেমন নিজ শ্রেণীর কাছে ছিল তেমনই রেখে জনগোষ্ঠির নাগরিক অর্থে সবার কিছু অধিকারকে স্বীকার করে নেয়া, এভাবে ক্ষমতা চর্চার একটা রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি হয়। কিন্তু নিজ ক্ষমতার জন্য হুমকি অথবা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠে এমন যে কোন পাল্টা-ক্ষমতাকে সে দমন করবেই। দমন করার কাজটা আইনিভাবেই ন্যায্য একথা সব কনষ্টিটিউশনই স্বীকৃত বলে লেখা থাকে। এছাড়া কোন ক্ষমতা ওর বিরুদ্ধের পাল্টা-ক্ষমতাকে দমন করবেই, করতেই হয় এটাই ক্ষমতার স্বভাব; তাতে তা ওর কনষ্টিটিউশন ও অনুসারী-আইন বৈধ বলে স্বীকৃতি দেক আর না দেক। আগেই বলেছি, আইন বা কনষ্টিটিউশন বলে ক্ষমতা পাওয়া যায়নি, কোন ক্ষমতা তৈরি হয় না। আইন বা কনষ্টিটিউশন ক্ষমতার বাইরের আলগা বিষয়। আইন বা কনষ্টিটিউশনের ভিতরে থেকেই আইনী বৈধতায় ক্ষমতা চর্চা হচ্ছে - এটাই ক্ষমতা সবসময় দেখানোর চেষ্টা করে। ওদিকে, পাল্টা-ক্ষমতার মুল কাজ উপস্হিত ক্ষমতাকে পাল্টা গায়ের জোড়ে পরাস্ত করে নিজে ক্ষমতা হয়ে উঠা। একাজে সে চেষ্টা করে উপস্হিত ক্ষমতা কনষ্টিটিউশনাল আইনী দিক থেকে অবৈধ প্রমাণ করা যাতে নিজে ক্ষমতা হয়ে উঠতে কিছু আইনী প্রচার সুবিধা পাওয়া যায়। আইনী দিক থেকে বিচারে কোন উপস্হিত ক্ষমতাকে এরশাদের শাসনের মত, অবৈধ প্রমাণ করা সম্ভব কিন্তু এর ফলাফলে পাল্টা-ক্ষমতা বিজয়ী হয়ে যায় না। কারণ সেটা গায়ের জোড়েই একমাত্র অর্জনের বিষয়। এর সোজা মানে এখানে নতুন ক্ষমতা কোন পুরানো আইন বলে অথবা কোন নৈতিকতার বলে পাল্টা-ক্ষমতা হিসাবে নিজে হাজির হতে পারে না, হয় না।

নতুন ক্ষমতা সাধারণত পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে বাতিল ঘোষনা করে নতুন রাষ্ট্র আইন-কনষ্টিটিউশন তৈরি করে নেয়। অথবা পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশন যেন নতুন ক্ষমতাকে বৈধ বলে স্বীকার করে নেয় সেভাবে সংশোধন করে নেয়, একটা আইনী জোড়াতালি সেখানে থাকে।
মুল কথা ক্ষমতাকে অনুসরণ করে আইন নিজেকে বদলায়, খাপ খাইয়ে নেয়। উল্টোটা নয়, এমনকী আইন বলে কোন নতুন ক্ষমতার জন্মও হয় না।


আপনি অনেক কষ্ট করে দশদশটা আইনী পয়েন্ট তুলে ধরে প্রমানের চেষ্টা করেছেন যে জিয়া "বেআইনী" ভাবে তাহেরকে ফাঁসি দিয়েছেন। এখানে "বেআইনী" শব্দের অর্থ কোন না কোন পুরানো কনষ্টিটিউশনের অধীনস্ত আইন অনুসারে "বেআইনী"।

এটা প্রমাণ করা না করা সমান। কারণ আগেই বলেছি, ক্ষমতার স্বভাব হলো প্রথমত গায়ের/অস্ত্রের জোরের বলে নিজে ক্ষমতা হয়ে থাকার বিপক্ষে সমস্ত হুমকি ও চ্যালেঞ্জকে নির্মম হাতে দমন করা এরপর ওই কাজের পক্ষে আইনী বৈধতা জোগাড় করা।

ধরা যাক তাহের ক্ষমতা দখল করে রাখতে লড়াইয়ে জয়লাভ করে গিয়েছিলেন। এই নতুন ক্ষমতাকেও, যেহেতু এটা ক্ষমতা, তাই একেও ক্ষমতার স্বভাবধর্ম মানতে হত। চাইকী পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে বাতিল করে নতুন করে সেগুলো গঠন করতে হত। আর এমনিতেই পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে অটুট রেখে দিয়ে তাহেরের ক্ষমতাকে জনগণের ক্ষমতা হিসাবে আমাদের জনগোষ্ঠির কাছে নিজেকে প্রমাণ করে তোলা অসম্ভব ছিল। বরং পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনককে রেখে দিলে ওথেকে তাহেরের ক্ষমতা কাদের ক্ষমতা, কী বৈশিষ্ট, কী ওর চরিত্র - আমরা বুঝতে পারতাম।

কাজেই পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে স্বাক্ষী মেনে জিয়ার ক্ষমতা অবৈধ, ফাসি দেয়া অবৈধ -এভাবে কোন ক্ষমতাকে বুঝার চেষ্টা করলে ক্ষমতা এবং আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝা যাবে না। পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশন জিয়াকে ক্ষমতা এনে দেয় নাই, জিয়ার ক্ষমতার উৎসও নয় সেটা। কারণ কোন আইনই ক্ষমতার উৎস নয়। ক্ষমতা মানে গায়ের জোড়, মুরোদ, অপর শ্রেণীর উপরের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা।

তবে আপনার কষ্টকর দশ পয়েন্টের একটা প্রচারমূলক গুরুত্ত্ব আছে। ওদিয়ে একটা পুরানো আইন-কনষ্টিটিউশনকে স্বাক্ষী মেনে জিয়ার ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটা আইনী একাডেমিক লড়াই ওকে পরাজিত প্রমাণ করে যে প্রচারমূলক সুবিধা পাওয়া যায় ততটুকুই। জিয়া এতদিন যদি ক্ষমতায় থাকতেন তবে এই কাজের ফলে জিয়ার ক্ষমতার পতন ঘটত না। কারণ ক্ষমতাকে পরাজিত করা যায় একমাত্র পাল্টা-ক্ষমতা, গায়ের জোড়ের, বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে।

আর সবচেয়ে বড় কথা আইন দিয়ে, আইনী সমালোচনা করে ক্ষমতা কী জিনিষ তা বুঝতে পারা, আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝা সম্ভব নয়।

মুল কথা, আইনী বিচার অথবা নৈতিক বিচার দিয়ে ক্ষমতাকে বুঝা এবং আইন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝার চেষ্টা আমার এই পোষ্টের লক্ষ্য না।
কোন না কোন কারণে, আমার লেখা উপস্হাপনের দোষ থাকতে পারে, আমাসর লেখার বিষয়, দৃষ্টিভঙ্গি আপনার কাছে পরিস্কার হয়নি। তা থেকেই এসব বিপত্তি।
তবে আপনার কষ্টকরার জন্য আমি আবার অনেক কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, পরিস্কার করার আবার একটা সুযোগ পেয়েছি - সেজন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

২৩. ২৫ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:৪২
মাদারি বলেছেন: মন্তব্য বড় হয়ে যাওয়ায় একটি পৃথক পোষ্ট ই দিয়ে দিলাম।
Click This Link
২৬ শে জুন, ২০১০ রাত ১২:৩২

লেখক বলেছেন: আপনার উপরের মন্তব্যগুলো সকালেই দেখেছিলাম। জবাব লেখার সময় পাইনি। আজ এখন আবার একটা মন্তব্য ও আস্ত একটা পোষ্ট দিয়েছেন দেখলাম।
আপনার "ত্যানা প্যাচাপ্যাচি" শব্দ ও শিরোনামে এর ব্যবহার অনেক আক্রমণাত্মক। আমি নিশ্চিত এই শব্দ ব্যবহার না করেও আপনি একই কথা লিখতে পারতেন।
সেকারণে, সকালে আপনার মন্তব্য দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া, আগ্রহ আর এখন রাত ১২টায় আবার দেখার পর তা একেবারেই কমে গেছে টের পাই।
তবু আমার পোষ্টে এসে কষ্ট করে তিনটা মন্তব্য করেছেন তাই আমার জবাব অবশ্যই লিখব, কেবল একটু সময় দিবেন এই আশা করছি, যদিও সবটা ভরসা পাচ্ছি না। কারণ আপনার আক্রমণাত্মক মন্তব্যে আপনাকে অধৈর্য্য-অস্হির মনে হচ্ছে; ধরেই নিয়েছেন আমার কোন জবাব নাই, জবাব দিব না অথবা থাকলেও তা শোনার দরকার নাই, সে জবাব পড়লে সেখান থেকে পাঠকের সাব্সটেনসিভ কিছু পাবার থাকতে পারবে না ইত্যাদি।
এমনকি এমনও তো হতে পারে যে আপনার অনেক কথাই আমার কথা - এমন হয় কী না তা দেখার অপেক্ষা করতেও আপনি রাজি না। সর্বোপরি পুরা বিষয়টাকে একটা পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশে সমাপ্তি টানার কোন দায় যেন আপনি অনুভব করছেন না - এটাই প্রকাশ করছেন।
এসবের প্রয়োজন কী সেটা আমার কাছে পরিস্কার না।

আশা করি আপনি আমার কথাগুলো বিবেচনা করবেন।

২৪. ২৬ শে জুন, ২০১০ ভোর ৪:৩৪
মাদারি বলেছেন: আমি কিভাবে কি লিখতে পারতাম সে বিষয়ে আপনার এত বেশী নিশ্চিত হওয়ার দরকার নাই। আমি যা প্রকাশ করতে চাই তার জন্য আরো কড়া কোন শব্দ পাইলে তাও ব্যবহার করতে পারলে আরো বেশি আরাম পাইতাম!

আমি আশা করব আমার মন্তব্যে/লেখায় যা আছে তার মাঝেই আপনার আলোচনা সীমিত রাখবেন। আমি কি ধরে নিয়েছি, আমি অধৈর্য্য আর অস্থির কিনা তার অবান্তর সাইকো এনালাইসিস করে পন্ডিতি না মারাইলেও তো আমার মন্তব্য সম্পর্কে আপনার জবাব পুরোপুরিই দেয়া সম্ভব।

অবশ্য আমি নিশ্চিত না আপনার ধরে নেয়ার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কি-না! তারপরও আশা রাখছি অন্তর্যামির ভাব-ভঙ্গি আর কথার প‌্যাচ ঘোচ বাদ দিয়ে সোজাসুজি কথা বলবেন। প‌্যাচ মারা কথা বার্তা দেখলে আমার মেজাজ ঠিক থাকে না। আপনি যদি সোজসুজি বলতেন আপনি তাহের ও জিয়ার ক্ষমতার লড়াই এ জিয়ার পক্ষে আপনার অবস্থান তহলে হয়তো আমার এই আক্রমণাত্মক ভংগি নিয়ে লেখাই হতো না। কিন্তু যেহেতু ইনিয়ে বিনিয়ে অবজেক্টিভ ভাব নিয়ে প্রকৃত পক্ষে সামরিক শাসক জিয়াকে ডিফেন্ড করেছেন, তাই এই ভঙ্গিতে এই লেখা লেখার সিদ্ধান্ত আমার সচেতন ভাবেই নেয়া। এবং এর ভালো মন্দ বিষয়েও আমার ধারণা পরিষ্কার। সুতরাং এই ভংগি নিয়ে জ্ঞান দেবার কোন চেষ্টা করার দরকার নেই।

আপনি দয়া করা সোজা কথা সোজাসুজি বললেই আমার আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ থাকবে না! কারণ রাজনৈতিক আদর্শ একেকজনের একেক রকম হইতেই পারে তার জন্য আমার ক্ষ্যাপার তো কিছু নাই কিন্তু যদি কেউ অবজেক্টিভিটির ভান ধরে তাইলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়- কারণ এই ভান পাঠকের জন্য অনেক বেশী বিভ্রান্তিকর!
২৫. ২৬ শে জুন, ২০১০ ভোর ৫:১৯
মাদারি বলেছেন: আপনি লিখেছেন: "ঐ সেনা বিদ্রোহ ও ক্ষমতা দখলের মাঠের লড়াইয়ে যে জয়লাভ করবে সে অন্যের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের আইন প্রয়োগের সুযোগ পাবে - এটাই সেই সোজাসাপ্টা কথা। লক্ষ্য করতে বলব এটা কোন নৈতিক/অনৈতিকতার মামলা নয়। আমিও কোন নৈতিক বিবেচনা আরোপ করে ওর বিচার করছি না।"

এই যে সিপাহী বিদ্রোহকে স্রেফ ক্ষমতার লড়াই হিসাবে দেখানো, শ্রেনী/জনগণের পক্ষ-বিপক্ষ/নৈতিকতার প্রসংগে ঢুকতে না চাওয়া কিংবা ক্ষমতার লড়াই এ যে-ই জিতুক সে-ই অন্যের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল এর আইন প্রয়োগের সুযোগ পাবে বলে জিয়া আর তাহের কে একপাল্লায় মাপার চেষ্টা এইটা মোটেই সোজা সাপ্টা ব্যাপার না। এর মধ্যে জনগনের বিরুদ্ধ ক্ষমতার অনৈতিকতাকে জায়েজ করার ধান্দা আছে।

জিয়া ক্ষমতার লড়াই এ জিতে কোর্ট মার্শাল এর সুযোগ শুধু পায়-ই নি, নিজ উদ্যোগে তার মুক্তি দাতার ফাসীর জন্য পাকা ব্যাবস্থা করেছিল। কিন্তু তাহের ক্ষমতার লড়াই এ জয় লাভ করে কোর্ট মার্শালের সুযোগ পেলেও সেটা কি তাহের প্রয়োগ করত? এখানেই আসে নৈতিকতার প্রশ্ন। তাহের যে রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করত তা কোর্ট মার্শালের পক্ষপাতি না হওয়ার ই কথা এবং সেনাবাহীনিতে থাকা কালীন সময়ে সেনাবাহীনির যেসব সংস্কার তাহের করতে চেয়েছিল সেগুলোর ধরণ ধারণ দেখলেই বোঝা সম্ভব তাহের জিয়ার মত বদমাইশি করত না। বিদ্রোহ বিপ্লবে ক্ষমতার প্রশ্ন তো থাকেই, কিন্তু নৈতিকতা, ভালো মন্দ, জনগণের পক্ষ-বিপক্ষ ইত্যাদি প্রসংগ তার সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত থাকে। আফটার অল জনগনের পক্ষে দাড়ানোর নৈতিকতা যদি তাহের ধারণ না করতো তাহলে তাহের এই বিপ্লবে করতে যাবেই বা কেন?

নৈতিকতা কিংবা জনগনের পক্ষ-বিপক্ষ যাচাই না করে কোন বিচার বিশ্লেষণের বিপদ হলো এতে যে কোন আগ্রাসন/শোষণ নির্যাতন জায়েজ হয়ে যায়। কারণ তখন বলা যাবে-- ক্ষমতা থাকলে তো শাসক শ্রেণী জনগণের উপর অত্যাচার নির্যাতন করবেই, এর মধ্যে গণতন্ত্র, সুশাসন, আইন-মানা না মানার প্রশ্ন তোলা তো অবান্তর- ফলে যতদিন ক্ষমতা দখল করতে না পারছ ততদিন এইসব আইনের শাসন/রেব-পুলিশের নির্যাতন, গুপ্ত হত্যা এইসব তো হবেই!

একই ভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইরাক আগ্রাসন সম্পর্কে বিচার করতে বসলে বলতে হবে নিষ্ঠুর ক্ষমতার লড়াই এ জর্জবুশ সাদ্দাম কে পরাজিত করেছে ফলে সাদ্দামকে এবং সাদ্দামের ইরাককে নিয়ে বুশ যা খুশি তাই করছে এখানে নৈতিকতা, অন্যায়, অবিচার ইত্যাদির প্রশ্ন তোলা অবান্তর।

আরে ভাই ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত নৈতিকতা, অন্যায়-অবিচারেরর প্রশ্ন যদি না-ই তোলেন তাইলে ক্ষমতাবানের বিচার করবেন ক্যামনে, কে কোন ক্ষমতা জনগণের পক্ষে না বিপক্ষে ব্যবহার করছে তা নির্ধারণ ই বা করবেন ক্যামনে এবং জনগণ শত্রু চিহ্নিত কইরা সেই শত্রুর ক্ষমতার পাল্টা ক্ষমতা তৈরীই বা করব ক্যামনে!!!

জানিনা আপনারে বোঝাইতে পারলাম কি-না! বুঝাইতে পারি আর না পারি একটা বিষয়ে সোজাসুজি আপনার অবস্থানটা কন তো- তাহের এর অবস্থান ছিল সংখ্যাগিরষ্ঠ জনগণের পক্ষে আর জিয়ার অবস্থান ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিপক্ষে এই কথাটা আপনি সমর্থন করেন কি-না?



২৬. ২৬ শে জুন, ২০১০ ভোর ৫:২৪
মাদারি বলেছেন: এই পোষ্টটা যেহেতু পুরানো এবং অলমোষ্ট ডেড তাই আমার মনে হয় আমার নতুন পোষ্টে আলোচনা করলে ভাল হয়।

২৭. ২৬ শে জুন, ২০১০ দুপুর ২:২৮
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন: মাদারি ওরফে রাগইমন, তোমার প্রশ্ন ছিল তাহেরের বিচারটা আইনি না বে-আইনি। লেখকের এই পোষ্টের আলোচনা আর ২০ নম্বর জবাবের পর আসলে এ নিয়ে আর তর্ক চলেনা। তবে তোমার যদি ব্যক্তি বিশেষের উপর কোন ক্ষোভ থেকে থাকে তবে সেটা আলাদা কথা। নৈতিকতার মানদন্ড খাড়া করে তুমি আলাদা পোষ্ট দিতে পার। যে পোষ্ট তুমি দিছো সেটাতেও ক্ষমতা, আইন আর নৈতিকতাকে কক্টেল করে ফেলছো।এখানে প্রশ্নটা নৈতিকতার না ক্ষমতার। ক্ষমতা হচ্ছে সেই জিনিস যেটা কায়েম বা বিজয়ি হওয়ার পর কুর্সি তে আরাম করে বসে আইন তৈরীতে হাত দেয়। বাপের আগে ছেলের জন্ম হয়না ,এইটুকু তো তুমি বোঝ বলে মনে হয়।

তোমার গরু ঠেলে নদীর দিকে নিয়ে যাবার এই অভ্যাস সকলের কাছে হাস্যকর ঠেকছে । নিজেকে আর কত বিনোদনের বস্তু বানাবা। কে যেন বলেছিল রাগইমন মানেই আনলিমিটেড ফান, আমি অবশ্য তখন বিশ্বাস করিনি। ভাল থেকো।
২৮. ২৬ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৪:২৩
মাদারি বলেছেন: বেচারি রাগ ইমন এর জন্য আমার মায়াই হচ্ছে। ইচ্ছে ফড়িং নামের এক বলদ সেই কখন থেকে তার ইচ্ছা অনুযায়ি আমারে রাগ ইমন বলে চালিয়ে তারপর উল্টাপাল্টা বলেই যাচ্ছে। রাগ ইমন নাকি আনলিমিটেড ফান! রাগ ইমন এই বিষয়ে নিজে কি বলে জানার ব্যাপক কৌতুহল হচ্ছে আমার।

যাই হোক, আমার মন্তব্য প্রসঙ্গে ইচ্ছে ফড়িং যে কক্টেল বানানোর অভিযোগ তুলেছে, সেইটা নিয়া বলি।

ইচ্ছা ফড়িং, আপনে তো একটা বলদ এর মতো আচরণ করতাছেন। ২৫ নং মন্তব্যে আমি পরিস্কার করেই বলেছি, ক্যান চাইলেই বিদ্রোহ বিপ্লব নিয়া বিচার করতে বসলে শুধু ক্ষমতার প্রশ্ন নিয়া টানাটানি করা যথেষ্ট না, বরং বিপদজনক। আপনারা যে "প্রশ্নটাকে স্রেফ ক্ষমতার" হিসেবে চালাতে চাচ্ছেন সেই ধান্দাটাই যে আপত্তিজনক- এইটাই তো বলার চেষ্টা করতে আছি। তারপরও আপনি ক্ষমতার আগে আইন না আইনের আগে ক্ষমতা-- ইত্যাদি বিষয়ে আমারে হেদায়েত করার চেষ্টা করতে আছেন!

ভাইরে আপনার মাথায় কি আসলেই কিছুই ঢুকতাছেনা নাকি বুইঝাও না বোঝার ভান মারতাছেন!!
২৬ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: মাদারি ও ইচ্ছাফড়িং আপনাদের পরস্পরের প্রতি ব্যক্তি আক্রমণের কোন কারণ আমি দেখছি না, ফলে উভয়ে নিজেদের সংযত করুন। মন্তব্য প্রাসঙ্গিক পর্যায়ে রাখুন।

মাদারি রাগ ইমন নয় আমি জানি। সে যদি হয়ও তবু এনিয়ে খামোখা অপরিপক্ক ঝগড়া একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্খিত।
রাগ ইমন খারাপ - এধরণের কাউকে লেবেল লাগানোর বাঁকা উদ্যোগ মারাত্মক আপত্তিকর। আমার পোষ্টে এধরণের বক্তব্য আশা করছি না। আশা করি সবাই শব্দ ব্যবহারে সংযত থাকবেন।

২৯. ২৭ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:১০
মাদারি বলেছেন: ২২নং মন্তব্যের উত্তরের প্রতিক্রিয়া

আমার তৃতীয় অর্থাত এ লেখার ২২ নং মন্ত্যব্যে কষ্ট করে দশটি প্রমাণ জোগার করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচার করে দেখা-১) আইনি প্রশ্ন তোলা অবান্তর কি-না ২) সেনা আইন প্রয়োগে জিয়ার ভূমিকা আপনার দাবী মত প্যাসিভ কি-না।

আপনি এর উত্তরে আবারও আপনার মূল লেখার মতোই যথেষ্ট ভালো ভাবেই ক্ষমতা ও আইনের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করলেন যেটা আবার করার কোন দরকার ছিল বলে মনে হচ্ছে না। অবশ্য আপনার নতুন ব্যাখ্যার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ করা যায়- তা হলো জিয়ার ভূমিকাকে প্যাসিভ হিসেবে হাজির করার কোন চেষ্টা না থাকা।

আপনি বলেছেন আমার অনেক কষ্ট করে দশটা প্রমাণ জোগাড় করে জিয়া কর্তৃক তাহের কে ফাসী দেয়াকে “বেআইনি” প্রমাণ করার চেষ্টা করা না করা সমান। কারণ “ক্ষমতার স্বভাব হলো প্রথমত গায়ের/অস্ত্রের জোরের বলে নিজে ক্ষমতা হয়ে থাকার বিপক্ষে সমস্ত হুমকি ও চ্যালেঞ্জকে নির্মম হাতে দমন করা এরপর ওই কাজের পক্ষে আইনী বৈধতা জোগাড় করা।” আসলেই কি কোন না কোন পুরানো কনস্টিটিউশান অনুসারে নতুন ক্ষমতার নতুন আইনকে বেআইনি কিংবা অবৈধ প্রমাণ করার চেষ্টা করা না করা সমান? হ্যা, এই প্রমাণ আপ্রমাণ করার চেষ্টা করা না করা এক দিক দিয়ে দেখলে অর্থহীন- তা হলো- কেবল এই প্রমাণ/প্রমাণ করে নতুন ক্ষমতাকে পরাজিত করা যাবে না। কিন্তু তারমানে এই না যে, এই নতুন আইন পুরোনো কনস্টিটিউশান অনুসারে আইনি কি বেআইনি সে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। আমি মনে করি এর অন্য আরো গুরুত্ব আছে। ঠিক এই বিষয়টিই আমার আগের মন্তব্যগুলোতে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে সে চেষ্টা পানিতে পড়েছে। আবারও চেষ্টা করি-

ধরা যাক, একটা গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশানের অধীনে একটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা জারি আছে যেখানে অন্তত পক্ষে গোপনে বিচার করাটা অবৈধ বা বেআইনি বলে স্বীকৃত। কোন একটা পরিস্থিতিতে এক সামরিক শাসক ক্ষমতা দখল করল এবং তার নিজ ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য এবং সম্ভাব্য সব বিরুদ্ধতাকে মোকাবেলা করার জন্য গোপনে বিচার করা জায়েজ করে এক নয়া আইন জারি করল। নতুন ক্ষমতার নতুন আইন অনুযায়ী ‘গোপনে বিচার’ আর বেআইনি থাকল না ফলে আপনার বক্তব্য অনুসারে এটা আইনি না বেআইনি এই প্রশ্ন তোলা বৃথা। আমি বলার চেষ্টা করছি- না, বৃথা না, কারণ, সামরিক আদালতে আমার গোপন বিচারের বিরুদ্ধে আপিল ধোপে না টিকলেও, জনতার আদালতে এর একটা গুরত্ব আছে(একটু নাটুকে হয়ে গেলেও এই শব্দটা ব্যাবহার করতেই হলো)। অর্থাত আইনি প্রশ্ন তোলাটা আইনি অর্থে অবান্তর হলেও রাজনৈতিক অর্থে অবান্তর নয় বরং জরুরী- অন্তত: এইটুকু পরিস্কার করতে যে, দেখ এই নতুন ক্ষমতার নতুন আইন কতটা গণবিরোধী যে জনগণের সামনে প্রকাশ্যে বিচার/আচার করার সাহস পর্যন্ত সেটা ধারণ করে না। তা না করে যদি আমি কেবল বলি, ক্ষমতা পেলে যা খুশি তো করবেই, এটাই ক্ষমতার ধর্ম, তাহলে সেই ক্ষমতার ক্ষমতাটুকুই তো বোঝা হলো না আমার!

একই ভাবে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার বিচার করতে গিয়ে, আমি যদি স্রেফ এই বিচারের মধ্যেই আটকে থাকি যে- ক্ষমতা হলো মুরোদের ব্যাপার। জিয়ার মুরোদ ছিল তাই ক্ষমতা দখল করতে পেরেছে এবং ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সে নতুন আইন জারি করে সেই আইন অনুসারে তাহের কে ফাসীতে ঝুলিয়েছে, সেই আইন বৈধ কি অবৈধ ছিল সেই প্রশ্ন তোলা অবান্তর- তাহলে আমি বলবো এই বিচার করতে বসাটাই তো অবান্তর!!! তাহের হত্যাকান্ডের এত বছর পর এই বিচার করার মাজেজা কি- তাহেরের চেয়ে জিয়ার মুরোদ বেশী ছিল তাই জিয়া পেরেছে তাহের পারেনি- এই ‘অবজেক্টিভ’ সত্য আবিস্কার করা? এটাতো নতুন করে আবিস্কার করার কিছু নেই যে ক্ষমতার লড়াইয়ে জিয়া তাহেরকে হারিয়ে দিয়েছিল।

বরং ইতিহাসের কোন ঘটনা বিচার করতে বসে সেই ক্ষমতার উতস কি, কার ক্ষমতা জনগণের পক্ষে আর কার ক্ষমতা জনগণের বিপক্ষে কাজ করেছে, কি ভাবে কাজ করেছে, জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে কি কি অবৈধ/বেআইনী কাজ করেছে(সেটা নতুন আইনে যতই বৈধ হউক না কেন, জনগণের স্বার্থের বিচারে কিংবা পুরাতন আইন অনুসারে সেটা বেআইনি/অবৈধ-ই, তাহেরের বিচার জিয়ার নতুন আইনে যতই বৈধ হউক না কেন, জনগণের স্বার্থের বিচারে পুরাতনের আইনের কিংবা ততকালীন সময়কার আসামীর অধিকারের নিরিখে সেটা অবৈধ/বেআইনি-ই), পুরাতন আইনের কি কি পরিবর্তন কোন কারণে করা হয়েছে এবং তার সুফল ও কুফল কারা কি ভাবে ভোগ করেছে- সে বিচার না করতে যাওয়াটাই, হলো ক্ষমতার এই সব পাপকে আড়াল করার চেষ্টা করা!

আপনার লেখা এবং মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারা কঠিন নয় আপনি এই চেষ্টাটাই করছেন।
০১ লা জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৫

লেখক বলেছেন: আপনার এবারের মন্তব্যে আপনি ধীরস্হির, বুদ্ধি বিবেচনা খাটিয়ে বুঝবার ও বুঝানোর চেষ্টা করেছেন - ফলে তা আমাকে আগ্রহী করেছে। স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।

আমি আপনার সাথে একমত যে জিয়ার ক্ষমতা সংহত করে নেবার পর তাহেরের ফাঁসীর তোড়জোর-কালীন সময়ে আইনী লড়াই, তাহেরের নাগরিক অধিকারের নিরিখে প্রশ্ন তোলা, জনগণকে সহানুভুতিশীল করে তোলা নাড়া দেয়ার চেষ্টা করা - পরিস্হিতিকে যতদূর সম্ভব রাজনৈতিক আন্দোলনমুখী করে তোলার চেষ্টা ন্যায্য ছিল এবং তাই করা হয়েছিল। ওর মূল বিষয় ছিল তাহেরকে ফাঁসীর হাত থেকে বাঁচানো; তথাকথিত আইনী অজুহাত তুলে যেন আইনী কারবারে এক অপরাধের বিচার হচ্ছে এই মিথ্যা ধারণার আবহের ভিতর থেকে জনগণের চিন্তাকে মুক্ত করা, তাহেরকে মুক্ত করা।
এও এক রাজনৈতিক লড়াই, লড়াইয়ের অংশ, ছদ্ম আইনী লড়াই কিন্তু আসলে রাজনৈতিক লড়াই। ওখানে পুরানো আইনের গলা পঁচা অনেক কিছুকেই এই লড়াইয়ে আঁকড়ে ধরতে হতে পারে। অবশ্যই তা আইনী লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে, রাজনৈতিক বিচারে যার হয়ত কোন মূল্য নাই, আমাদের হয়ত বিরোধীতা করতে হবে, লড়তে হবে। কিন্তু এটা আমার আলোচনার প্রসঙ্গ নয়।

অনেকদিন থেকেই পোষ্টে তর্ক হচ্ছিল মুজিব-জিয়া নিয়ে এক দলবাজির আবহে, যেমনটা প্রায়ই আমাদের সমাজে দেখা যায়। এখান থেকে বেড়িয়ে সিরিয়াস আলোচনায় মোড় ঘুড়ানো খুবই কঠিন। তবু বসে বসে না দেখে একটা চেষ্টা আমি নেই, বিশেষত রাগইমনের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে। আমি ওকে সিরিয়াস মনে করি কিন্তু ওর দেখার দৃষ্টিভঙ্গীটা প্রচলিত সাদামাটার বাইরে নয়।
প্রায় অনেকেরই একটা ধারণা হলো, ১. আইন চিরসত্য ২. আইন ক্ষমতার উৎস। অথচ আইন সবসময় ক্ষমতাকে অনুসরণ করে; নিজেকে ক্ষমতার অনুগামী করে বদলায়; আর তাতে আইন ক্ষমতার উৎস হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। একথাটাই আমার বলার মুল বিষয়। এছাড়া এই বিচারকর্তাদের মধ্যে একটা ধারণা কাজ করে যেন, বাংলাদেশের আইন কনষ্টিটিউশন ফলে রাষ্ট্র একটা চিরস্হায়ী ব্যবস্হা, ওর কোন বদল হবে না হয়ত সম্ভবও নয়, দরকার নাই। আইন কনষ্টিটিউশন ফলে রাষ্ট্র, কোথা থেকে আসে উদ্ভব হয় খেয়াল করে না দেখা থাকলে, জানা না হলে এমন চিরস্হায়ী একটা ভাবনা-ধারণা তৈরি হতে পারে।

ফলে এসব প্রেক্ষিতে প্রথমত, ক্ষমতা জিনিষটা কী, ক্ষমতা ও আইনের সম্পর্ক কী - এনিয়ে মৌলিক কিছু প্রশ্ন সামনে আনার সুযোগ নেই। ক্ষমতা-আইন এদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তত্ত্বগত আলোচনা এটা। তাই মুজিব, জিয়ার রাজনীতি আমার বিষয় ছিল না। হবার সুযোগ নাই। এরপরে আপনি এখানে তাহেরের রাজনীতিও নাই কেন খুঁজলেন, জিয়ার প্রতি আমার "প্যাসিভ" সমর্থন দেখলেন। সেই থেকে একটা অফটপিক কথাবার্তা বলছি আমরা। আর অফটপিক মানে এখানে লেখার টপিকের দিক থেকে অফটপিক, অপ্রাসঙ্গিক। লেখার বাইরে বাস্তব ঘটনায় এরা অপ্রাসঙ্গিক নয়, ঘোরতর প্রাসঙ্গিক।


যাই হোক আপনি বলছেন,
"ধরা যাক, একটা গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশানের অধীনে একটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা জারি আছে...."
এই ধরে নেয়া বিষয়টা বাস্তবে নাই, ছিল না। ছিল টুটাফাটা এক কনষ্টিটিউশন, ঘোষিত বাকশাল আর জিয়ার সামরিক আইন। এই পরিস্হিতির ভিতরেই আমাদের আলোচ্য ঘটনাবলী। ফলে আইডিয়াল একটা "গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশান" ধরে আলোচনা আগানোর সমস্যা দেখি আমি।

এছাড়া "ক্ষমতা জনগণের পক্ষে আর কার ক্ষমতা জনগণের বিপক্ষে" - এই নিয়ে আপনি আগেই কথা তুলেছিলেন আমি সাড়া দেইনি কারণ এই প্রসঙ্গ একেবারেই নতুন, আমাকে আলোচ্য প্রসঙ্গের বাইরে যেতে হয় তাহলে এই ভাঙ্গা হাটে।
আমার কাছে, কোন ক্ষমতা জনগণের পক্ষে কি না সেটার পরীক্ষা দিতে হয় ক্ষমতা দখলের পর বিশেষত সরাসরি ব্যারাকে যে ক্ষমতা লড়াই ঘটে। তাহের সেটা দেখানোর সুযোগ পায় নাই। কেবল সাইনবোর্ড, লাল পতাকা দিয়ে কোন দলকে চিনে কোন সিদ্ধান্তে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। যেমন সিপিবির কথায় ধরুন।
ওদিকে জনগণের পক্ষে-বিপক্ষে বিষয়ে আমরা জিয়ার রাজনীতিটা দেখেছি। মুজিবের বাকশালের বিপরীতে ওটা জনগণের জন্য একটা রিলিফ তবে সেটা আমেরিকান ক্ষমতা। আবার কোল্ড ওয়ারের ব্লক রাজনীতির ঐ যুগে সেটাকে বলা চলে ব্লক পরিবর্তনের ক্ষমতা, জনগণের ক্ষমতা নয়। আর সেই সাথে গ্লোবাল পুঁজিতন্ত্র একই সময়ে নব উদ্যোমে আমাদের মত দেশে বিস্তারের গ্লোবাল যুগ ছিল সেটা; ফলে আইএমএফের হাত ধরে আষ্টেপৃষ্টে তাদের পক্ষপুটে প্রবেশের লক্ষ্যেএকটা ক্ষমতা সেটা - জনগণের ক্ষমতার কথা সেখানে বাতুলতা। আর শেষ কথা জিয়ার কোন সক্রিয় রাজনৈতিক
চিন্তা, অভিমুখ ছিল এমন কথা জানি না, কেউ জানত বলে শুনিনি। আসলে এককথায় বললে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার ষ্টেকহোল্ডার খাম্বাগুলো কে কে, কার কী পরিমাণ সে হিসাব করতে তাহের যেমন ভেবেছিলেন সবাই এই ব্যারাকের মধ্যেই অবস্হিত, বাইরের কেউ নাই, কোন স্বার্থ নাই ফলে তা মোকাবিলার পথ কী হবে তা নিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যের হিসাব কষা মিলানোর দরকার নাই - ঠিক তেমনি জিয়ার ক্ষেত্রে (তাহেরের হিসাবের বাইরের) ঐ বাইরের স্বার্থটাই মূল নিয়ামক ও নির্ধারক ভুমিকা নেয়। রাজনীতিবিহীন জিয়ার রাজনীতি হয়ে দাড়ায়, তাহের পরাজিত হয়।
এনিয়ে এখানে আর কথা বাড়াব না। আপনার আগ্রহ থাকলে আলাদা পোষ্টে আলোচনার আহবান করতে পারেন। আলাদা সেই পোষ্টে কথা হতে পারে। আপনার পীড়াপীড়িতে এখানে আপাতত অফটপিকে এতটুকুই আমার কথা।
আমার চেষ্টা আপনাকে আপনার মত করে বুঝাতে পারা কঠিন জেনেও আর একবার চেষ্টা করলাম। ভাল থাকবেন।

৩০. ০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১০:৪৭
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন: আগেই বলে নেই ,তাহের কিংবা জিয়া কারো পক্ষে ওকালতি করার কোন আগ্রহ আমার নাই।দুটা লাইন লিখতে আসলাম পি মুন্সীর একটা লাইন চোখে পড়ল বইলা। কথোপকথনের অংশ বিশেষ একটু কাইত কইরা নীচে দিলাম।ধরে নিলাম যারা এই কমেন্টটা পড়ছেন তারা পূর্বের তর্কের বিষয়বস্তু ও ঘটনা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল।

"ধরা যাক, একটা গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশানের অধীনে একটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা জারি আছে...." এই ধরে নেয়া বিষয়টা বাস্তবে নাই, ছিল না। ছিল টুটাফাটা এক কনষ্টিটিউশন, ঘোষিত বাকশাল আর জিয়ার সামরিক আইন। এই পরিস্হিতির ভিতরেই আমাদের আলোচ্য ঘটনাবলী। ফলে আইডিয়াল একটা "গণতান্ত্রিক কনষ্টিটিউশান" ধরে আলোচনা আগানোর সমস্যা দেখি আমি।

মাদারির গনতান্ত্রিক কন্সটিটিউশান শব্দটা সেই সময়ের সঙ্গে খাপ খায়না এইটা হয়তো ঠিক তবে তার মূল সুরটা পি মুন্সী নিশ্চয় বুঝেছেন।আর তাই সেই শব্দকে ডিফেন্ড না করে বাক্যের বক্তব্যকে আমলে নিলে সেটা উত্তম হয়। পি মুন্সীর ২৯ নং কমেন্টর তাৎপর্য যেটা দাঁড়ায় সেটা হইতাছে যে যেহেতু সে সময়ের সংবিধান ছিল টুটিফাটা তাই সমসাময়িক কোন একশন কিংবা রি-একশন সংবিধান বিরোধী কিনা সেই প্রশ্ন আদৌ কোন গুরুত্ব বহন করেনা।

তো ২০০৮ এ আইসা আমাদের মহান সংবিধান কি এমন পরিপূর্ণতা অর্জন করলো যে মঈন-ফকরুদ্দিন গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল পূর্বক মামদোবাজি করলে সেই কর্ম অসাংবিধানিক হয়ে যায়। আর সেই খবর ব্লগের প্রথম পোস্টে ঘোষনা করে ২৪ মে ২০০৮ পি মুন্সী নিক সামহোয়ার ইন এ সক্রিয় হয়ে উঠে।

না আমি জিয়া ,তাহের, মঈন, ফকরুদ্দিন, হাসিনা , খালেদা, নিজামী কারো পক্ষ হয়ে এই প্রশ্ন করিনি। আপনার আজকের এই ব্যাখ্যা ও সেদিনের কর্ম স্ববিরোধি মনে হওয়ায় কথাটা মনে হোল।
৩১. ০২ রা জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:৩২
মাদারি বলেছেন: পি মুন্সী বুঝতে চান বা না চান, বোধ হয় পাঠক ঠিকই বুঝে গেছেন আমার বক্তব্য। তাতেই আমার চলবে। পি মুন্সীকে এখানে আর "পীড়াপীড়ি" করব না।

ইচ্ছে ফড়িং কে ধন্যবাদ।

৩২. ০২ রা জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৯
ইচ্ছেফড়িং বলেছেন: @মাদারি,৩০ নং এ আমার কমেন্ট পি মুন্সীর বিপক্ষে গেলো বলে যদি আমাকে ধন্যবাদ দেন তবে সে ধন্যবাদ অপাত্রে গেল।
আবার যদি আমার কমেন্ট জিয়ার বিপক্ষে গেল এরকম মনে করে ধন্যবাদ দেন তবে সেটাও কিন্তু অপাত্রে গেল।তাহেরের কাস্তে মার্কা স্লোগান পতাকা যেমন আমায় আন্দোলিত করেনা ঠিক তেমনি তার বিপরীতে জিয়াকে হীরো বা ভিলেন বানানোর কোন মতলবও আমার মধ্যে কাজ করেনা। নির্লিপ্ত ভাবেই দেখার ইচ্ছা রাখি।

২৯ নং এ পি মুন্সীর বক্তব্যে স্ব বিরধিতা আছে বলে আমি মনে করি এটাই এখন পর্যন্ত আমার মূল কথা। এটা অনেকটা বাউন্ডারি ভ্যালু প্রব্লেম। দেখি তিনি কি উত্তর রাখেন।এমনও হতে পারে ,হয়তো এটা বোঝার ভুল।

আপনাকেও ধন্যবাদ তবে বক্তব্যে গালিগালাজ ভাল্গার কিন্তু গ্রহনযোগ্য নয় মোটেও।
০৩ রা জুলাই, ২০১০ ভোর ৪:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ইচ্ছেফড়িং।
ধন্যবাদ আরও এজন্য যে আপনাকে আমার সিরিয়াস পাঠক মনে হয়েছে। আমার প্রথম লেখা পোষ্ট কী ছিল আমার তা এখন মনেই ছিল না। আপনি সেটাও মনোযোগ দিয়ে খুটিয়ে পড়েছেন আর আমাকেও এখন পড়ে দেখতে বাধ্য করেছেন।
অভিযোগ গুরুতর তাই নিজেই নিজের লেখা আর আপনার মন্তব্য খুটিয়ে দেখছিলাম। আমার রায় হলো হ্যাঁ, আমার বক্তব্য আপাত-স্ববিরোধী মনে হবার কারণ আছে। ফলে তা বুঝার ভুল কিন্তু আসলে স্ববিরোধী নয়, আপাত চোখে স্ববিরোধী মাত্র।

ওখানে আমি কথা বলছিলাম রায়ে হাইকোর্টের বিচারকের পর্যবেক্ষণ নিয়ে; "নির্বাচন কমিশন নির্বাচন না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন" - এটা ছিল কোর্টের পর্যবেক্ষণ আমার কথা নয়। আর আমার মন্তব্য ছিল এরকম, "আইন, সংবিধান, রাষ্ট্র নিয়ে সিরিয়াস ভাবতে বুঝতে গতকালের মিডিয়া রিপোর্টগুলো ছিল গুরুত্ত্বপূর্ণ"।

কোন উপস্হিত এক্সজিষ্টটিং কনষ্টিটিউশন সমাজে বিভিন্ন শ্রেণী স্বার্থের চলমান লড়াইকে সামলাতে জায়গা করে দিতে না পারা অর্থাৎ নিজের কনষ্টিটিউশন আইনের মধ্যে লড়াইগুলোকে ধারণ করে আইনী মীমাংসার মধ্যে কোন আপাত সমাধা বের করতে না পারার অর্থ বাস্তবত সে কনষ্টিটিউশন নিজেই নিজের মৃত্যু-অবসান ঘোষণা করে বসা। রাষ্ট্রের প্রতীক প্রেসিডেন্টের মুখ দিয়ে ১/১১ এর জরুরী অবস্হা ঘোষণা সে ঘটনাটাই ঘটিয়েছিল।

তার মানে আমার উপরের বক্তব্যে ধরে নেয়া আছে,
১. রাষ্ট্র একটা কনষ্টিটিউশন ঘোষণা করে নিজের উপস্হিতি জানান দেয়া মানে এই নয় যে ঐ সমাজের বিভিন্ন স্বার্থ, শ্রেণীর নিরন্তর ঘটে চলা বিরোধ সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটেছে বা সেগুলো বিলুপ্তও নয়।
২. বরং সমাজে শ্রেণী বিরোধ আছে, ঘোরতর ভাবে যে সংঘাত লড়াই চলছে তাকে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেয়া; এরপর সে বিরোধ লড়াইগুলোকে একটা পাত্রে, রাষ্ট্র ও কনষ্টিটিউশনের পাত্রের ভিতরে ধরে রেখে আইন নিয়মকানুনের মধ্যে একটা আপাত ফয়সালা করে বিরোধ লড়াই চলতে জায়গা করে দেয়া যায় কী না এরই এক প্রচেষ্টা।
৩. বুদ্ধিমান রাষ্ট্র প্রণেতারা সমাজে নিরন্তর চলতে থাকা শ্রেণী বিরোধ লড়াইকে ভুলে যায় না বা অস্বীকার করে না; যাদেরকে নিয়ে রাষ্ট্রের সদস্য করা হয় অথবা ঘুরিয়ে বললে যারা যারা মিলে (যাদের আধিপত্যে) রাষ্ট্র কনষ্টিটিউট অর্থে গঠিত হয় সেসব কনষ্টিটি্উয়েন্ট গঠনকর্তা শ্রেণীগুলো লড়াই তখনও জারি রাখবে সেটা ধরেই নেয়; তবে সে লড়াই যুদ্ধের ময়দানের মত না হয়ে যতদিন একটা আইনী কাঠামোর মধ্যে ধারণ করে চালানো যায় ততদিনই রাষ্ট্রের আয়ু। এই আয়ু কত দীর্ঘায়িত করা যাবে নির্ভর করে মৌলিক অধিকার আইন ইত্যাদির কথা বলে কনষ্টিটিউশন কতটা শ্রেণী লড়াই চলতে, জায়গা করে দিতে সক্ষম - এমনভাবে রাষ্ট্র তৈরি করা হয়েছে কী না এর উপর।
৪. আর একভাবে বললে কনষ্টিটিউশনে মৌলিক অধিকার, আইন ইত্যাদিগুলো আসলে খেলা, শ্রেণী বিরোধ লড়াই চালাবার নিয়ম - খেলার নিয়ম। যে রাষ্ট্র খেলার নিয়ম সবার জন্য সমান - যত দীর্ঘদিন এটা বজায় রাখতে পারে, ধারণ করতে পারে সে রাষ্ট্রের আয়ু ততদিন।
৫. বুদ্ধিমান রাষ্ট্র প্রণেতারা জানে রাষ্ট্র কনষ্টিটিউশন প্রণয়ন, গঠন অর্থাৎ এক পাত্রের মধ্যে শ্রেণী বিরোধ লড়াইগুলোকে ধারণ কোন চিরস্হায়ী কাজও নয় এবং তা সহজ কাজও নয়। ফলে এক সময় তা নিজের আইনী সীমায় ধারণ করতে ব্যর্থ হবে, আয়ু ফুরাবে এটা স্বতঃসিদ্ধ। তাঁরা তাই সে ভেঙ্গে পড়ার আপদকালীন সময়ে কী হতে পারে - পুনরায় নতুন শ্রেণী মেরুকরণ সমাবেশে নতুন করে এক রাষ্ট্রে তা পুনর্গঠিত রি-কনষ্টিটিউট করে নিতে পারবে, সক্ষম হবে? সেকথাও নিয়েও ভাবে।
৬. একথা ভেবে কনষ্টিটিউশন একটা আর্টিকেল লিখে রাখে "জরুরী আইন" শিরোনামে। কনষ্টিটিউশনের প্রাণভোমরা নাগরিক "মৌলিক অধিকার" ঐ জরুরী আইন ক্ষমতাবলে "স্হগিত" হয়ে যায় - এক স্ববিরোধী আইনী চাদরে ঢেকে দেয়। ওর সার কথা হলো, খোদ কনষ্টিটিউশন ও বিচার ব্যবস্হা নাগরিকের কাছে মাফ চেয়ে বলে আমি আর চলতে পারলাম না, আমি অপারগ ব্যর্থ, আমি আর কার্যকর নাই, মৃত। এটা নতুন করে শ্রেণী বিরোধ লড়াইগুলোর মাঠের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবাব সময়; যাতে রাষ্ট্র আবার নতুন কনষ্টিটিউশনে পুনর্গঠিত হবে হয়ত।
৭. শেখ মুজিবের ১৯৭৫ জানুয়ারীতে বাকশাল ঘোষণার আগে ১৯৭৪ সালে আমরা এক জরুরী আইনের ঘোষণার মধ্যে ছিলাম, ১/১১ সেই অর্থে দ্বিতীয় জরুরী আইন। আমরা পুরানো আবর্জনা ঘেঁটে আর ওর কাদাপাঁকের মধ্যে সেই থেকে ঘুরপাক খাচ্ছি - এখনও রাস্তা খুজে পাই নাই। কবে কীভাবে পাব জানি না।
৮. সমাজের শ্রেণী স্বার্থ বিরোধের অমীমাংসেয়তার ফলাফল হিসাবে ওথেকে রাষ্ট্রের জন্ম হয়। যাতে এক সাময়িক স্হিতিলাভ ঘটানো যায়। স্হিতিলাভ সমাজের সবার দরকার। শ্রেণী স্বার্থ বিরোধের লড়াই যেমন সত্য তেমনি জীবন জীবিকায় অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখাও জরুরী - এও আর এক সত্য। এদুয়ের টানাপোড়েনের মধ্যেই চলে আমাদের জীবন। ফলে লড়াইয়ের সাথে স্হিতিও দরকার থেকে যায়।
৯. ২০০৮ সালের মে মাসে এসব পরিস্হিতির মধ্যে ভগ্নপ্রায় রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্হা কী ভুমিকা নেয়, কী রায় দেয় - তা আইন, কনষ্টিটিউশন, রাষ্ট্র নিয়ে সিরিয়াস ভাবতে বুঝতে তাগিদ থেকে পাঠককে ওকথা জানিয়েছিলাম। কখনও কখনও সমাজের রাজনৈতিক লড়াই আইনী লড়াইয়ের ছলে ঘটে চলে - সেটাই লক্ষ্য করছিলাম। ঐ আইনী লড়াইয়ে অংশ নেয়া মানে ওখানে লড়াইয়ের উভয় পক্ষকেই উপস্হিত কনষ্টিটিউশনকে স্বীকার, স্বাক্ষী মেনেই ঘটতে হয়। এর মানে উপস্হিত কনষ্টিটিউশন সক্ষম, তরতাজা ওর তখনও কিছু দেবার আছে, কাজে লাগে এসব ভেবে ঐ কনষ্টিটিউশনকে মেনে নেয়া বুঝায় না। এখানে আইনী লড়াইটা মুল রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক হাতিয়ার মাত্র। সেজন্য এ লড়াই সীমিত আইনী গন্ডিতে সীমাবদ্ধ - মূল রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষণিক এক আইনী প্রকাশ মাত্র।
১০. ঐ আইনী লড়াইয়ে জেতা যায়না ঠিকই তবে জনগণ দেখতে পায় কতটা অন্তঃসারশুণ্য, অকর্মন্ন, বে-ইনসাফি ঐ আইন, কনষ্টিটিউশন ও উপস্হিত রাষ্ট্র। উপস্হিত রাজনৈতিক লড়াইকে এটা পরোক্ষে শক্তি যোগায়, ন্যায্যতা দেয় - নিপীড়িতদের পক্ষে সবাইকে একতাবদ্ধ করতে একধাপ এগোয়।

এসব বিবেচনার দিক থেকে বিচার করতে পারলে আমার কথা আর (আপাত) স্ববিরোধীতা মনে হবে না।

৩৩. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:২১
শমর করিম বলেছেন: ওস্তাদ,
কয়েকটি কারনে আমার মনে হয় ৭৫' এ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে ভারতীয় গয়েন্দা সংস্থা "র" ও জড়িত-

১. ভারত পন্থি নেতা তাজউদ্দীন সহ বেশ কয়েকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া।
২. পাকিস্তান সহ মুসলিম দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি
৩. বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের শেষের দিকে ভারতের সাথে শীতল সম্পর্ক

আশা করছি জবাব পাবো।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫১

লেখক বলেছেন: সরি, আপনার মনে করা সমর্থন করতে পারছি না।
গত আশির দশক থেকে শেখ মুজিবের হত্যা সম্পর্কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে যত ধরণের ভাষ্য পড়েছি তাতে এমন কোন তথ্য, মোটিভের কথা জানা যায় না।

আপনার তিনটা পয়েন্ট থেকে তিনটা আলাদা পোষ্টে আলোচনা করা সম্ভব, দরকারও বটে। হয়ত কখনও লিখতে হবে। বিশেষ করে প্রথম দুটো পয়েন্ট।
এখানে সংক্ষেপে কিছু কথা বলব।

১.
সাধারণভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আপনার প্রশ্ন তিনটার মিলের দিক হলো: ঐ সময়ে ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে শেখ মুজিবের নেতৃত্ত্বের বাংলাদেশকে নিয়ে বাড়তি অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছিল। এই ধরে নেওয়া ধারণার উপর দাড়ানো আছে আপনার প্রশ্ন তিনটি।

এখন ধরি আপনার অনুমানে পুরাপুরি সত্যতা আছে, সেক্ষেত্রে -
শেখ মুজিবকে হত্যা করলেই কী ভারতের স্বার্থ বেশি ভাল জায়গায় পৌছাবে, আদায় হবে?
বাস্তবে শেখ মুজিব হত্যার পর নতুন পরিস্হিতি কী আগের চেয়ে ভালভাবে ভারতের পক্ষে গিয়েছিল?

এর উত্তর আমরা জানি আর সেটা হলো, বিশাল এক নেগেটিভ, না।
এর মানে হলো, ভারতের স্বার্থের অসন্তুষ্টি আছে মানেই শেখ মুজিবের হত্যায় ঝাপিয়ে পড়া নয়, তা যথেষ্ট নয়। -

২.
"র" এর কাউন্টার-ইনটেলিজেন্স ডাইরেক্টর মানে আর এক দেশে রাষ্ট্রদ্রোহী ধ্বংসীকাজ করা যার দায়িত্ত্ব, তিনি ছিলেন "বি রমন", এখন অবসরপ্রাপ্ত কিন্তু সক্রিয়। তিনি "র" এবং তাঁর পেশাজীবন নিয়ে একটা বই লিখছেন, Kao's boys মানে "র" এর প্রাক্তন চীফ কাও এর ছেলেরা। এই বই "র" এর সেরকম কোন সক্ষমতা সেসময় ছিল এমন স্বাক্ষ্য দেয় না।

৩.
"ভারত পন্থি নেতা তাজউদ্দীন" কে রক্ষা করতে আমেরিকান লবির মুস্তাক এর সাথে ভারতের বন্ধুত্ত্ব, সহায়তা নেয়ার সম্পর্ক কায়েম - কষ্টকল্পিত। ওটা দুই ব্লকে ভাগ হয়ে থাকা দুনিয়ার 'কোল্ড ওয়ার' যুগের ঘটনা - এটা আমরা ভুলে গেলে সব বিশ্লেষণই ভুয়া, খামোখা হয়ে যাবে।

৪.
তাজউদ্দিন শেখ মুজিবের চেয়ে বুদ্ধিমান, যোগ্য, পড়ালেখা জানা আসল নেতা - এধরণের এক কুতর্কের বিচার তাজউদ্দিন-প্রেমী কিছু লোক সমাজে চালু করার চেষ্টা করে আমরা দেখেছি। এরা বিচারবুদ্ধি প্রতিবন্ধী তবে এদের হয়ত আবেগ ভালবাসা আছে। ফলে এরা তাজউদ্দিন অথবা শেখ মুজিবের ক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা বুঝতে বিচার করতে অক্ষম। এরা বাকশাল মন্ত্রীসভা গঠনের আগেই তাজউদ্দিনকে বাদ দেবার জন্য শেখ মুজিবকে দোষারোপ করেন। কিন্তু কোন দু:খে শেখ মুজিব বাকশাল "সমাজতন্ত্র" গড়তে তাজউদ্দিনকে তাঁর কোন দোষের কারণে পছন্দ করলেন না তা বিচারের ক্ষমতা এদের কারও দেখা যায় না।
তাজউদ্দিন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী (এক সময় সাথে পাটমন্ত্রীও) ছিলেন। মানুষ কাছে এবং তিনি নিজে "সমাজতন্ত্রী" হিসাবে পরিচিত।
তাহলে, হয় বাকশালী "সমাজতন্ত্র" বাস্তবায়নে তাজউদ্দিন ও তাঁর "সমাজতন্ত্র" যোগ্য নয়, এক নয়, নতুবা দুটোই ভুয়া চাপাবাজি মধ্যবিত্তের অহেতুক আবেগী আস্ফালন। স্বাধীনের পর থেকে বাংলাদেশ তাজউদ্দিন ও তাঁর "সমাজতন্ত্রের" হাত ধরে হেটেই ব্যর্থ অর্থনীতি, দুভিক্ষ, বৈদেশিক রিজার্ভ শুন্য হবার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমরা তাই এসব ব্যক্তিপুজারীদেরকেই দেখি, মুজিব বা তাজউদ্দিনের কাজ, চিন্তাকে মুল্যায়নের যোগ্য এদের কাউকে পাওয়া যায় না।

৫. পাকিস্তান সহ মুসলিম দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি:

আমাদের চিন্তার এই সমস্যার গোড়াটা হলো, আমাদের তথাকথিত সেকুলার মন। ভারতের সাথে সারা মধ্যপ্রাচ্য সৌদিসহ, ইরান, পুরানো ইরাক, আফগানিস্তান ইত্যাদির ব্যবসায়ীক, কুটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের চেয়ে সবসময় ভাল। অথচ এসব "মুসলিম দেশগুলোর" সাথে বাংলাদেশ সম্পর্ক করতে গেলে আমাদের অস্বস্তি শুরু হয়ে যায়। কেন? এবং মজার কথা হলো, এজন্য ভারতেরও সমালোচনা, সন্দেহে পড়তে হয় আমাদের।

নতুন দেশে আমরা যখন সেকুলারিজম নিয়ে কী করব কোন উচ্চাসনে বসাবো ইত্যদিতে পেরেসান, যেন সেকুলারিজম করলে "মুসলিম দেশগুলোর" সাথে ব্যবসায়ীক, কুটনৈতিক সম্পর্ক করা হারাম হয়ে গেছে ভেবে অস্হির ততদিনে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হেরে যাওয়া দেশ ও বাংলাদেশের রক্তে রাঙানো হাত সত্ত্বেও ভুট্টোর কুটনীতি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অপরাধ ঢেকে বড় একটা জায়গা করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, কম বেশি একটা অপ্রকাশ্য ভাব তৈরি হয়ে গেছে যেন পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ বিরোধে আমরাই অপরাধী না হলেও গন্ডগোলকারী। অথচ দরকার ছিল ভুট্টোর কুটনৈতিক পদক্ষেপের আগেই একই কাজ সবার আগেই আমাদের শুরু করা, ভুট্টোর সম্ভাব্য কুটনৈতিক পদক্ষেপের কথা আগাম ভেবে। বিপরীতে সে সময়টা আমরা ভারতের মুখ চেয়ে সম্মতি আকাঙ্খা করে বসে থেকেছি।

এসবদিকগুলো কখনই আমরা স্বাধীন মনে বিচার করিনি, যোগ্যতা রাখিনি। মধ্যপ্রাচ্য বা "মুসলিম দেশগুলোর" সাথে কারও সফল সম্পর্ক যেন ওরা মুসলমান কী না - তা দিয়ে নির্ধারিত হয়। আমরা "সেকুলার" ভারতের সাথে মধ্যপ্রাচ্য বা "মুসলিম দেশগুলোর" সম্পর্ক দিকটাও নজর করতে অক্ষম। আমরা এমনই বিশেষ পদের স্পেশাল সেকুলার।

৩৪. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:২৭
শমর করিম বলেছেন: লেখকে ধন্যবাদ।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: পড়বার জন্য ধন্যবাদ।

৩৫. ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:৫৩
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন: +। ভাই কান টানলে মাথা আসে। জিয়ার চীন, মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রডলারের দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করায় ভারতের শ্যেন দৃষ্টিতে পরেন। তাই তার বিরুদ্ধে এত গুলি ক্যু সংগঠিত হয় যার পরিণামে জিয়া ১৯৮১ সালে নিহত হন। যদি ক্যু এর সাথে জড়িতদের ফাসী না দিতেন তো জিয়া ৮১ সালের আরো আগেই মারা যেতেন। ১৯৭২-৭৫ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ছিল নখ দন্তহীন বাঘ। কিন্তু চীনের সহায়তায় তা আজকে বিশ্বের একটা যোগ্য বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর জন্যই কবির চৌধুরী, মুনতাসির মামুন গং বাংলাদেশে সামরিক বাহিনী থাকুক তা চান না।
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ 'বাংলাদেশ জিন্দাবাদ'।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৫৫৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই