আমরা তখন তিন নেতার মাজারকে বায়ে রেখে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে দোয়েল চত্ত্বর এর দিকে হাটছিলাম, আকাশে গাঢ় মেঘ ছিল। একদম হঠাৎ করেই ফিয়াত আমাকে প্রশ্ন করলো, can you say me, why the people of bangladesh spit everywhere?
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা অফিসে আমার নতুন সহকর্মী ফিয়াতকে ক্যাম্পাস দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম সেদিন। রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টির পর সকালটাও মেঘ মেদুর ছিল, থমথমে আবহাওয়া আর তার সাথে সাঙ্গতি রাখা স্যাঁতসেঁতে পায়ে হাটা পথ আমাদের চলার ছন্দ হারাতে সাহায্য করছিল মাঝে মধ্যেই।
জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় সময়গুলো এই ক্যাম্পাসে পার করে এসেছি দু’বছর হয়ে গেল প্রায়, তবু শরীর থেকে এখনো যায়নি ক্যাম্পাসের চির চেনা গন্ধ। হল জীবনের সেই উচ্ছলতা আগের মতই এসে ভর করে ক্যাম্পাসে আসলে। যেন আজীবনের জন্য নিজের যায়গা। অনার্সের ফার্স্ট ইয়ার থেকে শুরু করে মাস্টার্স পার হতে হতে এই কলাভবন, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, মল চত্ত্বর, লাল রঙা ভাঙ্গাচোরা বাসগুলো আর টিএসসি কখন যে নিজের বুকের অংশ হয়ে গেছে, বুঝতেই পারিনি।
অদ্ভুত এক ভাল লাগা সব সময় জড়িয়ে থাকে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিকাতরতার সাথে। আমার ধারণা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার ক্ষেত্রেই সত্যি একথা।
আমরা তাই ঘুরে ঘুরে ফিরে আসি এই ক্যাম্পাসে।
ফিয়াতকে আমিই বলেছিলাম, এসো আমাদের ক্যাম্পাসে। প্রতি শুক্রুবারেই আমারা আসি, আমার বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো।
আমরা প্রায়শঃই শুনি, আমাদের ক্যাম্পাসের মত এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজ বান্ধব পরিবেশ সারা বিশ্বের আর কোথাও নেই। সত্যি মিথ্যা জানিনা, বিশ্বাস করতে ভাল লাগতো। একদিক দিয়ে তো আমরা সেরা। আমি ভেবেছিলাম ক্যাম্পাসের এই দিকটা ফিয়াতের চোখে পড়বে। কিন্তু কপাল খারাপ, আজকেই কিনা বৃষ্টি!
মল চত্ত্বর দিয়ে হাটার সময় অগত্যা আমি জিজ্ঞাসা করলাম, fiat, what do you think about the university of your country, isnt our campus is big?
ফিয়াত যা বললো, তাতে আমার সব গর্ব উড়ে গেল এক নিমিষেই। সে বলল, দিস ইজ রিয়েলি বিগ, বাট সো ডার্টি!!!
প্রায় সাত বছর পার করে দেয়ার পরও কখনওই আমার মনে হয়নি ইটস সো ডার্টি।
কি আর করা, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডুবন্ত ইমেজ উদ্ধারের আশায় আমি ফিয়াতকে দ্রুত কার্জন হলের দিকে নিয়ে চললাম। কার্জন হল এলাকা আসলেই পরিচ্ছন্ন, ইংরেজী সিনেমায় দেখা ছবির মত।
কার্জন হলে যাওয়ার পথে বাংলা একাডেমী এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট পার হয়ে ঠিক তিন নেতার মাজারের অপজিটে ফুতপাথে কি কি যেন গাছ আছে। মানুষের মাথা সমান উচু। কেউ দেখেছেন কিনা জানিনা, এই গাছের নিচে ফুটপাথের উপরেই প্রচুর পরিমান মানুষ্য বর্জ্য রয়েছে। ফিয়াত এই গাছের পাতায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল, গাছপালা আমার খুব ভাল লাগে। তুমি কি জান, আমি খুব ভাল ফুল সাজাই...
তার পরেই ফিয়াত আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, can you say me, why the people of bangladesh spit everywhere?
আমার কাছে এর কোন উত্তর ছিলনা, আমি কয়েক সেকন্ড হাঁ করে ফিয়াতের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ফিয়াত গাছের নিচের ওই বজ্যগুলো দেখেছিল কিনা বলতে পারবোনা, আর যদি দেখে থাকে, তাহলে ফিয়াত কি প্রশ্ন করতো তাই নিয়েই ভাবছি আমি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

