সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: একই উত্তরে সাধু, চলিত এবং অন্যান্য রীতির মিশ্রণ দূষণীয়
সম্যক কাল আগের কথা, এই ব্লগেরই জনৈক মহারথী ব্লগে দেশোপ্রেমোন্নত মানসিকতা বনাম পাকুপোজাত মানসিকতার তক্ক বিতক্ককে গ্রাম্য মেলায় লড়িয়ে মোরগের খেলা আর তার উদ্যোক্তা দর্শকদের সাথে তুলনা করে একটা জট্টিল থিয়োরী দিয়ে প্রাতঃ স্মরণীয় নমস্য বনে গেছেন বিলকুল।
প্রস্তর যুগে এইটাই সই ছিল। সামহোয়্যার ইনে ঢুকলে পাব্লিকের চোখে য্যান জুয়েল আইচ এর জাদুর ধন্ধ লাইগ্যা যায়, সেই ব্যবস্থা করণের নিমিত্তে কত্তৃপক্ষীয় গুণধরেরা দেশোপ্রেমের জয় গান গাহিয়া একখানা নাতিদীর্ঘ রচনা পোস্টাইতো এবং তার অব্যবহিত পরেই সেই রচনার কাউন্টার এ্যকশন হিসেবে লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান বলিয়া আরেকখান মার দাঙ্গা টাইপের রচনা ছাড়িয়া বিশাল এলসিডি স্ক্রীনের সামনে পাগলা পানি জাতীয় পদার্থে গ্লাস ভরিয়া গোল হইয়া বসিয়া দেখিত, কি একখান জব্বর খেলা শুরু হইয়া গ্যাছে।
৭১ পূর্ব ও উত্তরের তরুণ তুর্কীরা কি বিপুল বিক্রমে পরস্পরকে পাঙ্গা দিতে লাগিয়াছে.....
আমরা শালা বাঙ্গালীরা পুরা বীরের জাত। সব কিছুর মধ্যেই বীর রসের পাত্তা না পাওয়া তক আমরা নিজের জান কেলো করে দিতে বিলক্ষণ রাজী।
কিটপ্লাই কাপে ভারত পাকিস্তান ম্যাচের পর থেকে এই চলতি এশিয়া কাপ পর্যন্ত ক্রিকেট বিষয়ক প্রথম আলোর রিপোর্টগুলো খেয়াল করেছেন? ইনিয়ে বিনিয়ে যা বলতে চাচ্ছে, তার সারমর্ম হল, ভারত পাকিস্তান ম্যাচে আগের মত সেই জোশ নেই, সব ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাচ্ছে। কারণ কি? কারণ এখন তারা আইপিএল এ একসাথে খেলে, তারা একসাথে স্যোশল ওয়র্ক করে, একসাথে দোকান উদ্বোধন করে, একসাথে টাকা ভাগাভাগি করে.... তো আমির সোহেলের মত এখন আর কেউ ভেঙ্কটেশ প্রাসাদকে ব্যাট উঁচিয়ে পরবর্তি বলের গতিপথ দেখিয়ে দেয় না এবং সেই অপমান হজম হওয়ার আগেই আমির সোহেলকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নের রাস্তাও এখনকার ভারতীয় প্লেয়াররা দেখায় না। উল্টা একজন আরেকজনের সঙ্গে হাস্য পরিহাস করিতে করিতে তাহারা খেলিতে নামে এবং জয় পরাজয় মানিয়া নেয়... দুর, এইটা কিছু হইল? সব বিলা...
এমন বীররস বর্জিত ঘটনার সহিত আর যাহারই থাকুক না কেন, বাঙালির কোন সম্পর্ক থাকিতে পারেনা। ভারত আর পাকিস্তান খেলিবে আর তাহাদের যুদ্ধংদেহীতাকে আপোনার করিয়া আমরা আমাদের খাশি পাঠাগুলাকে বাজি ধরিব, টেনশনকে জয় করিতে না পারিয়া দুয়েকজনা জীবনাবসান ঘটাইব, অবশেষে জয় পরাজয় নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করিতে পারার বিমলানন্দময় ঘর্মযুক্ত শরীরে পরবর্তী দিন কর্ম নাশ করিবার নিমিত্ত খুজিব! এই না হলে বাঙ্গালী...
বোলগের সে দিন আর্নাই! গ্রাম্বাংলার ব্যাবাকের নিকট প্রিয় সাদা মনের নেতা নেত্রীদের অগত্যা কারাবরণ অথবা ধরা পড়নের পর অথবা অনুল্লোখিত অন্য কোন কারণে অনেকেই মনের দুঃখে বোলগ থেইক্যা ক্ষ্যামা দিয়া বনবাসে সিদ্ধি হাছিল কর্তাছেন। ব্যপক সৌন্দর্য বর্দ্ধক নিক গুলা এখনার বদন মুবারকও বাইর করেনা, সেই মার্মার কাক্টাট লেখারও তাই ব্যপকাকাল চলতাছে। ওল কোয়ায়েট ওন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট...
তাইলে আমাগো বিতক্ক সংস্কৃতির কি হইব? আমরা কি স্থবির হইয়া যাইব? এমন সব্বনেশে কথাও তাহলে জগতে হয়?
না। সভ্যগণ ভীত হইবেন না। বোলগের এই সুনামীসম দুর্যোগে গ্রহ নক্ষত্রের ন্যায় আলোকিত বড় বড় ব্লগতারকাগণ বুক চিতিয়ে সামনে এসে দাড়িয়েছেন। এক্ষণে তাহারা নিজেরাই নিজেদের মধ্য নিত্য নিত্য নতুন উপসর্গ খুজিয়া একে অপরের পাঁছায় লাগিয়া পড়িতেছেন। তম্মোদ্ধ্যে উল্লেখযোগ্যটি হইল ট্যাগ বিষয়ক রচনাপুঞ্জ।
তো আমাদের সঙ্গেই থাকুন, ফির মিলেঙ্গা ব্রেক কা বাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

