বাস্তবতার মুখ ভেংচানি আর অফিসের ব্যস্ততায় ইট কাঠ পাথরের এই ঢাকায় হাস ফাঁস করতে করতে শেষ পর্যন্ত এক সময় এসে যায় বৃহস্পতিবার।
আহ! এরপর শুক্রুবার। শুক্রবারটা যেন এক মুঠো রোদ্দুর..
সারা সপ্তাহ ধরে করা পরিকল্পনাগুলো এক এক করে রঙিন পাখা মেলতে শুরু করে।
সদ্য গত হওয়া নির্ভার ক্যাম্পাস জীবনের উচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টায় আমরা একসাথে হই শুক্রবারগুলোতে। এখনও বন্ধুত্বের জালে আটকে থাকাদের সাথে নিয়ে একেক শুক্রবারে চলে যাই কোথাও। একটু সবুজ আর বিশুদ্ধ বাতাসে বুক ভরে নিশ্বাস নিয়ে হাসতে হাসতে ঢাকায় ফিরে আবার মিশে যাই মানুষের ভীড়ে।
কর্পোরেট (সঠিক বাংলাটা কি?) সংস্কৃতির মধ্যে এইটুকুই আমাদের নিজস্ব বিনোদন।
গেল শুক্কুরবারে সবাই মিলে গিয়েছিলাম সোনারগাঁও। আগেও গিয়েছি বেশ কবার। ডিপার্টমেন্টের পিকনিকে, বন্ধুরা মিলে, শুধু তার সাথে একবার। তবুও আবার গেলাম। নিয়ত পরিচর্যায় জেগে থাকা মসৃন সবুজ চত্ত্বর, বিশাল সব নাম জানা না জানা গাছের হাতছানী, টলটলে বিল বা পুকুরে নৌকায় ঘোরা আর পানাম নগরের দীর্ঘশ্বাস-এ ঘেরা আমাদের পুর্ব পুরুষের ইতিহাস আমার ভালই লাগে।
ঢাকার এত কাছে, সহজ যোগাযোগ এবং কম খরচে আর কোথায়ইবা যাওয়া যায়.. কয়েকজন বন্ধু যদি ম্যানেজ হয়, তবে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন। অগ্রাহায়নের এই পাকা ধানের গন্ধ মাখা মিষ্টি রোদে ফুরফুরে হাওয়া আর সবুজের আহ্বান সত্যিই ভালো লাগবে। সাথে মুফতে পেয়ে যাবেন চলতে থাকা তাঁত বস্ত্র মেলা। আর পানাম নগরে গেলে ইতিহাস পাঠতো হয়েই গেল।
সোনারগাঁও টিপস
যদি নিজেদের যাতায়াত ব্যবস্থা থাকে, খুবই ভালো। সকালে রোদ কড়া হওয়ার আগেই যাত্রা শুরু করে দিন, মাত্র ৪০-৪৫ মিনিটের রাস্তা।
তা না হলে, গুলিস্থান মহানগর নাট্য মঞ্চের পেছন থেকে সোনারগাঁও সুপার লিংক নামে একটা বাস ছাড়ে, সরাসরি এবং সিটিং। ভাড়া ৩০ টাকা। একদম মোগড়া পাড়া পর্যন্ত যায়। ওখান থেকে রিকশায় লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর। রিকশায় দুজন ১৫ টাকা, তিনজন হলে ২০ টাকা।
আর যাদুঘর থেকে পানাম নগর রিকশায় যেতে পারেন ১০-১২ টাকা করে, সদস্য বেশী হলে আর হাতে যদি সময়ও থাকে, হেটেই যেতে পারেন গল্প করতে করতে, দুইটা সিগারেটের দুরত্ব।
যাদুঘরে প্রবেশ টিকেট ১০ টাকা আর সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার
দুপুরের খাবার বা হালকা নাস্তা সাথে নিলে ভাল করবেন, ভেতরে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও খুব পদের না এবং স্বাভাবিকভাবেই দাম বেশী। ভেতরে খাবার নিতে কোন বাঁধা নেই।
ওহো! ক্যাপ, রোদ চশমা, আর অবশ্যই ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না।
ভালো থাকুন সবাই।
** ছবিগুলো আমাদেরই। ল্যান্ডস্কেপিং বা ডকুমেন্টারি ফটেগ্রাফির চেয়ে মডেল ফটোগ্রাফিতেই বেশী আগ্রহী ছিল ক্যামেরা হাতে আমাদের রিপন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

