পানিপথ
দেহাবশেষ নিয়ে ফিরেছি ঘাটে। বংশচিহ্ন অপহৃত
পরিচয় বলতে শুধু আধপোড়া নাভিখণ্ড
তার স্মরণে একলা মানুষ।
দূরে লালরশ্মি, আগুন। উত্থিত ঘোড়ার ফণা
মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রয়োজনে সেও অজগর
নদী নদী শূন্য প্রবজ্যা। ঘূর্ণিজলে কানাইয়ের নাও
পাতালমুখো।
একদিন নিদ্রাশেষে ঘুটে কুড়োনির মেয়ে
ঘেমে ওঠা ভাতের হাড়ি স্পর্শ করে দেখে
মাঠে মাঠে শস্যের যুবক ভস্ম হয়ে গেছে।
অশোক গাছের নিচে রাঢ় বাংলার মেলা
তখন সবুজ শীতকাল
হিম জামার নিচে আগুনের জন্ম
অর্থাৎ অগ্নি বাসরে বাল্যবিবাহ।
বধূ দাঁড়িয়ে আছে কুয়োতলার কাছে
কিন্তু তার কাছে এমন সংবাদ নেই-
যে সে বিছানা সাজাবে।
শুধু কুণ্ডলিত রণধ্বনি ভ্রূণ বিকাশে দেখা যায়
মোঘল বধে উজ্জীবিত শেরবাহিনী।
এই পথেই শুভযাত্রী বরপুত্র অওদিপাউস আসবে
অপেক্ষায় আছে ক্রমাগত বিবাহযোগ্যা মাতা
হায় নিয়তি সন্ততি সবকিছু পানিপথে লেখা
এখন এই গান ঘুরে ঘুরে আসে
চড়ুইয়ের মতো নাচে
আমি দৌড়ে যাই পুত্র দৌড়ে যায়
পানিপথ গন্ধম নামে গড়াগড়ি খায়।
(পানিপথ ও পলাশী থেকে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



