এটা বরং ভলোই হয়েছে যে, গণতন্ত্রের ক্ষেপণযোগ্যতা সম্পর্কে
আমাদের মনে আর কোনও সংশয় রইল না; আমরা জানলাম,
উপসাগরের রণতরী থেকেও গণতন্ত্র ছুঁড়ে দেয়া যায় মুক্তিকামী
বাগদাদের লোকালয়ে। নির্বোধ জগতবাসী খামোখাই তাকে
মিসাইল ভ্রম করছে, বলছে, এটা অমানবিক, যুদ্ধনীতির
ঘোরতর পরিপন্থী ... এই লাগামহীন আবেগ ঝেড়ে ফেললেই
বোঝা যাবে, মারণাস্ত্রের প্রতীকী তাৎপর্যগুলি। গণতন্ত্রের এবং
মুক্তিরও রপ্তানিযোগ্যতা সম্পর্কে যাদের একদম ধারণা নেই,
তারাই অমন আদেখলেপনা করবে, আবেগী সমাবেশ করবে
এ রকম ত্রাণযুদ্ধের বিপক্ষে ... গণতন্ত্র, এমনকী, ছুঁড়ে দেয়া যেতে পারে
মার্কেট এরিয়াতেও; এক হাজার শিশু কিংবা শ'চারেক
গর্ভবতী মাতৃমৃত্যু তো বড় কথা নয়! নতুন শতাব্দীর
মূল দাবি হলো গণতন্ত্র আর মুক্তি; সেটা সামরিক এলাকা চাইলে
তারাও পাবে, আবাসিক এলাকা চাইলে, তারাও! কিন্তু ক্ষেপণ করা হবে
মিসাইলের প্রতীকে। 'ক্লাস্টার বোমা'র রূপকে হলে বেটার, তাতে
ক্রমিক বিস্ফোরণে গণতন্ত্র আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে, মুক্তির
শেকড় যাবে ষোলো ফিট মাটির গভীরে, গণতন্ত্রে ছেয়ে যাবে
ধূলিওড়া ইরাকের সমস্ত আকাশ ...
পাদটীকা :
=======
( যুদ্ধোন্মাদ বুশ-প্রশাসন যখন ইরাকে হামলা চালায়___ নারী শিশু প্রসূতিসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত ও পঙ্গু হতে থাকেন ইরাকে; বুশ-প্রশাসন তখন জোরেসোরে এই প্রচারণা চালাতে থাকে যে___ ইরাকে গণতন্ত্র ও শান্তিস্থাপণই এই যুদ্ধের চূড়ান্ত এক মহতি উদ্দেশ্য...
সেই প্রেক্ষিতে, ব্যাঙ্গাত্মক ঢঙের সহায়তায়, সেই সময়, যুদ্ধবিরোধী এই কবিতাটি রচিত। মার্কিন হামলার তীব্রতা বিরতিহীণ গোলাবর্ষণ আর ছেদহীন বর্বরতার কথা স্মরণে রেখে___ এই কবিতায় কোনও পর্ব যতি বা স্ট্যাঞ্জা বিভাগ রাখা হয়নি... কবিতা উপস্থাপনের গদ্যভঙ্গিমাটির জন্য রবার্ট ফিস্ক এর কাছে ঋণস্বীকার করছি ।) ___ র.হে.
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


