somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্টমণিদের জন্য মানুষের ইতিহাস-১

২১ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদম শুরুতে দুনিয়ায় যে সব মানুষ বাস করতো, তাদের সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। এক ধরনের বিজ্ঞানী আছেন, যারা প্রাচীনকালের গুহাগুলো নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। তারা বিশ্বাস করেন, শুরুতে আদিম মানুষেরা গুহায় বাস করতো। ওই বিজ্ঞানীদের বলা হয় প্রত্নতত্ত্ববিদ। প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, মানুষের প্রথম গোত্র বা দলটি বাস করতো আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূলে। ওই এলাকায় অনয়াসে যথেষ্ঠ খাদ্য পাওয়া যেতো আর সেখানকার আবহাওয়াও ছিলো বেশ উষ্ণ প্রকৃতির। এমনটাই বিশ্বাস করা হয় যে, সে সময় পুরুষেরা দল বেঁধে শিকারে বেরোতো আর নারীরা থেকে যেতো উপকূলীয় সেই গুহাগুলোতে।

আরেক রকমকের বিজ্ঞানী আছেন, যারা মানুষের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন। তারা হলেন নৃ-তত্ত্ববিদ। তার মানুষ এবং হবহু মানুষের মতই দেখতে এক প্রজাতির প্রাণি (হোমিনিড বা বনমানুষ) নিয়ে গবেষণা করেন। তারা ওই সব প্রাণির এক জনের হাড়-হাড্ডি আরেক জনেরটার সাথে তুলনা করে বোঝার চেষ্টা করেন, তাদের অঙ্গবিন্যাস আর মস্তিষ্কেকর গঠণ কীভাবে বদলাচ্ছিলো।

মাত্র ৫,৫০০ বছর আগে থেকে মানুষেরা ইতিহাস লিখে রাখতে শুরু করেছে। আমরা অধিকাংশ মানুষই মনে করি, তখন থেকেই আমাদের ইতিহাসের শুরু। সে যাই হোক, ইতিহাসের এই শুরুটা মানব জাতির বিশাল ইতিহাসের গায়ে এটা আঁচড়ের দাগ মাত্র। নৃ-তত্ত্ববিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদেরা অনুসন্ধান করে বের করেছেন যে, মানুষের ইতিহাস ৪.৪ মিলিয়ন বছরের পুরনো।

আজকের সমাজে, আমার যে সব প্যাকেটজাত খাদ্য বা অষুধ ব্যবহার করে থাকি, সেগুলোর প্যাকেটে গায়ে একটা তারিখ লেখা থাকে। ওতে একটা মেয়াদ বোঝানো হয়, বলা হয় : এই নির্দিষ্ট তারিখের পর এটা আর ব্যবহার করা নিরাপদ হবে না।

কিন্তু প্রাচীন মানুষের যে সব জীবাশ্ম ও ছাপচিত্র পাওয়া যায়, সেগুলোর গায়ে সেই ধরনের কোনও তারিখ লেখা নেই। কাজেই নৃতত্ত্ববিদ বা প্রত্নতত্ত্ববিদের মত বিজ্ঞানীরা কীভাবে বুঝবে যে, এই ছাপচিত্রটা ঠিক কোন সময়ের বা জীবাশ্ম যে প্রাণিটার সে কত দিন আগে বেঁচে ছিলো? সেই জন্য, তাদেরকে এগুলোর সঠিক সময়কাল নির্ণয় করতে কিছু অনুসন্ধান পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

প্রাচীনকালের জীবাশ্ম এবং মানুষের তৈরি হাতিয়ারের সময়কাল নির্ণয় করতে, বিজ্ঞানীরা বিশেষ এক পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে, রেডিওকার্বন গণনা পদ্ধতি বা কার্বন-তেজস্ক্রিয় গণনা পদ্ধতি। জগতের সকল প্রাণীর দেহেই উচ্চমাত্রার কার্বন থাকে। অন্যান্য উপাদানের সাথে কার্বন মিশে এক জটিল যৌগ হিসেবে প্রাণীদেহ গঠিত। পৃথিবীতে সকল কার্বনই তেজস্ক্রিয় নয়, খুব স্বল্প কিছু ক্ষেত্রেই এর তেজস্ক্রিয়তা লক্ষ করা যায়। প্রাণীদেহেও খুব স্বল্প পরিমাণ তেজস্ক্রিয় কার্বন থাকে।

কোনও প্রাণী মারা গেলে, সেই প্রাণীদেহ নতুনভাবে আর কার্বন গ্রহণ করতে পারে না। মাটিতে সম্পূর্ণ মিশে না যাওয়া পর্যন্ত মৃতদেহে কার্বন থাকে আর কোনও প্রাণি যদি মৃত্যুর পর জীবাশ্মে পরিণত হয়, তা হলে সেই জীবাশ্মে সব সময়ই কার্বন থেকে যাবে।

তেজস্ক্রিয় কার্বন কমে যেতে থাকে একটা নির্দিষ্ট হার মেপে মেপে। অর্থাৎ প্রতি বছর মোট কী পরিমাণ কার্বন কমে যায়, তার একটা নির্দিষ্ট হিসেব আছে। জীবাশ্মের ওই কমে যাওয়া কার্বনের হিসাব থেকেই বিজ্ঞানীরা তার জীবাশ্মে পরিণত হবার সময়কাল বের করে থাকে।

সময়কাল নির্ধারন বা গণনার এই পদ্ধতি কেবল সেইসব দ্রব্য-সামগ্রী ও জীবাশ্মের ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়, যেগুলে ৫০,০০০ বছরের চেয়ে বেশি প্রাচীন নয়। যাই হোক, বিজ্ঞানীরা অবশ্য আরও কিছু উপাদানের ক্ষয়-প্রাপ্তিকে বিবেচনায় নিয়ে ২.২ বিলিয়ন বছরের প্রাচীনতম নিদর্শনেরও সময়কাল নির্ণয় করতে পারেন।

ব্যবহৃত এইসব পদ্ধতি যে একদম নিখুঁত, এমনটা বলা চলে না। তবে, দিন দিন এই পদ্ধতিগুলো অনেকটাই উন্নত আর নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে। আর এগুলোই এখনও পর্যন্ত মানুষের হাতে ব্যবহৃত শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি বলে গণ্য হচ্ছে।

(ক্রমশ...)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৫৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×