পতাকা-জামাত আর আমাদের রক্ত
০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৭
খুব ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। তখনও আমার দাদী বেঁচে আছেন। ৮০ বছরের বৃদ্ধা। পরনে ধবধবে সাদা কাপড়। দাদীর প্রচন্ড পরিস্কার বাতিক।
দাদীর কাপড় খুব যন্ত করে ধুতেন আমার মা। তারপর উঠোনের রোদে সেটা মেলে দেয়া হতো। চকচকে রোদে ধবধবে শুভ্র শাড়ী সেই ছোটবেলায়ই অন্যরকম শ্রদ্ধা লাগত। দাদীর প্রতি। দাদীর শাড়ির প্রতিও।
আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা খুব সাবধানে থাকতাম। সারাদিন খেলে হাতে সারাক্ষন কাদা লেগে থাকত। উঠানে দাদীর কাপড় দেখলেই আমরা খুব সাবধান হয়ে যেতাম। গ্রামরে বাড়ি বলে কুকুর বেড়াল সারাক্ষণই ঘুরাঘুরি করত এদিকে ওদিকে।
আমাদের দাদী উঠোনে শাড়ী মেলে দিয়ে বারান্দয় বসে থাকতেন। তার হাতে থাকত লম্বা একট লাঠি। কোন দিন আমি, কোনদিন আমাদের আর কোন পিচ্চি ভাই-বোন তার সঙ্গে বসত। কুকুর-বিড়ালকে শাড়ীর আশপাশে দিখলেই দাদী লাঠি তুলে তাড়িয়ে দিতে। কোন কোন ত্যাদর কুকুর দাদীর লাঠিকে ভয় পেতনা। তাদের জন্য ছিলাম আমরা। হাতে ঢিল নিয়ে দৌড়ে তাড়িয়ে দিতাম।
অর্জুন মান্না বলেছেন:
বড় জোস বাড়াইয়া দিলি মনেরে...
পলাশ777 বলেছেন:
আনন্দিত জোস দিতে পেরে
ফারজানা মিলি বলেছেন:
৫ দেয়ার সূযোগ দিচ্ছেনা। কিন্তু ৫ দিলাম মনে মনে। এমন লিখতে থাকুন
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
ভাল লাগলো। আমি এখনো বসে থাকতে রাজি।
অর্জুন মান্না বলেছেন:
আর কই?
জানালা বলেছেন:
পলাশআমি খুব দুঃখিত।
আপনার ব্লগে ঢুকে অপ্রাসংগিক মন্তব্য
করছি বলে।
আপনি অরজুন মান্নার ব্লগে কিছু মানুষের
'দলবদল' বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন।
পলাশ,
পাঠক ফোরাম থেকে বন্ধুসভায়,
সেই মানুষগুলোর জন্যেও
অন্যরকম ছিলো।
একটা চেনা জানা প্লাটফরম থেকে
একটা স্বপ্নময় অজানা ট্রেন ধরা।
কজন তরুন লেখক ভালো কিছু লেখার জন্য
গলা ছেড়ে কথা বলার জন্য
কিংবা চোখ বন্ধ বিশ্বাসের কিছু মানুষের
হাত ধরে নতুন পাতার গন্ধ শুকেছিলো।
সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল ছিলো
কিংবা ঠিক।
কিন্তু অন্তত 'দলবদল' এর মতো
নোংরা ছিলোনা পলাশ।
আর সচলায়তন।
শত্রুর পাশাপাশি থেকে যুদ্ধ
অনেক বেশী বিরত্বের।
তবে মাঠ থেকে দুরে গিয়ে
অন্য কোথাও জমায়েত মানেই
পলাশ মাঠ ছেড়ে পালানো নয়।
আপনি হয়তো সবই জানেন।
তবু আরেকবার বলা।
আমি আবারো দুঃখিত
যদি অভদ্রতা করে থাকি
পলাশ777 বলেছেন:
আমার লেখায় আপনার মন্তব্য দেখে চমকে উঠেছিলাম। জানালা নামের এই অতি সুলেখক আমার লেখার ওপর কি মন্তব্য করলেন সেটা দেখার ইচ্ছায় গিয়ে দেখি প্রসঙ্গ অন্য। সে যাই হোক। আমি যতটুকু যানি অর্জুন তার জীবনে কখনও দলবদল করেনি। সে পাঠক ফোরামেও ছিলনা।
তার যে বন্ধুরা নিয়ত বিভিন্ন জায়গায় ক্রমাগত দলবদল করে চলেছেন তা দেখে অর্জুনের বিষয়েও সন্দেহ জেগেছিল। জেবতিক, হাসান, নজমুল, রানা এরা যেখানে, অর্জুনকেও সেখানে দেখা যেতে পারে ভেবে সঙ্কিত ছিলাম।
আপনিত নিজেই বললেন শত্রুর (আপনি বলেছেন পাশাপাশি) সামনে থেকে যুদ্ধ অনেক বিরত্বের...
আর আমি এখানের অনেককে যানি যারা সেই কাজটা করছে।
যারা আইয়ুব খানের মৌলিক গণতণ্ত্রীর মতো আলাদা জায়গা নিয়ে 'সবাইকে আসতে দেবনা' টাইপ ব্যবস্তা করেছে তাদেরকে দলবদলকারী না বলে আরো কঠিন কিছু বলা উচিত বলে আমি মনে করি।
আপনাকে আঘাত করে থাকলে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
পলাশ777 বলেছেন:
জানালা ভাই, পাঠক ফোরাম থেকে বন্ধুসভায় সেই তরুনদের যাত্রাও খুব সুন্দর ছিলনা। এর ভেতরে চলেছিল অনেক বড় রাজনীতি। সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে গিয়েছিলাম আপনার ভাষায় স্বপ্ন দেখা তরুনেরাও। এমনকি কিছুদিন প্রথম আলোর তোষামোদি করে আবার ভোরের কাগজে ফিরে গিয়ে একক ঝাণ্ডা ধরেছেন এমন একজনকেও দেখলাম সম্প্রতি আবার দলবদলে আছেন। তাকে দেখলে আমার 'সকাল সন্ধ্যা' এসএ খালেককে দোষ দিতে ইচ্ছে করেনা।
পলাশ777 বলেছেন:
সংশোধন- জড়িয়ে গিয়েছিলেন
জানালা বলেছেন:
পলাশআপনাকে লেখার পর এই লগ ইন করলাম।
আমিও খুব গা বাচানো ভীরু ব্রাম্মণ পলাশ।
রাজাকারের ভীড়ে নিজেকে অশুচি লাগে।
সেই পাঠক ফোরাম - বন্ধুসভা।
সেই স্বপ্নযাত্রা।
একটা ভালো কিছুর অদম্য লোভ।
আগেও বলেছি, একে ভুল বলুন। বাজে বলুন।
কিন্তু 'দলবদল' এর মতো
নোংরা বিশেষন দেবেন না দয়া করে।
আপনি হয়তো একজনের কথাই জানেন।
বন্ধুসভা থেকে ভোরের কাগজে ফিরে যাওয়া।
কিন্তু আরেকজনের কথা জানেন না পলাশ।
সেই নয় দশ বছর আগের 'দলবদল' করা মানুষ।
এই কদিন আগে বন্ধুসভা ছাড়লো।
তার সাথে ছিলোনা কেউ।
সহযাত্রি দের কাছে এসব পুরনো ভীষন।
বন্ধুদের কাছে হাস্যকর।
জুনিয়র দের কাছে সময় কাটানোর জায়গা।
তবু সে ছিলো।
একজনের পর আরেকজন একদলের পর আরেকদল
দিয়ে চেষ্টা করেই গেছে।
সম্পাদক নিজে গিয়ে শফিক রহমানের
অনুগত হয়েছেন।
বন্ধুসভা পাতা হয়েছে ছুয়ে দেখার অযোগ্য।
তবু সে পড়ে ছিলো মাটি কামড়ে।
আপনি স্বপ্ন দেখা কিছু মানুষের
খোলা চেহারা দেখেছেন পলাশ।
অসংখ্য মানুষের স্বপ্নটাকে দেখেন নি।
যারা সামহোয়্যারের এই পরিবেশেও
যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে
তারা সব্যসাচী। সংসপ্তক।
তবে যুদ্ধ সবার একরকম হয়না পলাশ।
সচলায়তন নিয়ে এর বেশী কিছু বলার নেই।
ভালো থাকবেন পলাশ

















