আমার প্রিয় পোস্ট

What goes around comes around

কবিতার ভাংগা-গড়া (রিপোস্ট করা হলো,অনুরোধে)/বিহংগ

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:১৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

কবিতার ভাংগা-গড়া
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৫

সাহিত্যের পাতায় কবিতার ছড়াছড়ি।কিন্তু সত্যি করে বলুনতো-কয়টি কবিতার লাইন,আমাদের হৃদয় পটে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করে।বিশেষ করে বর্তমান আধুনিক কবিতা।এসব কবিতার লাইন,হ্য়তোবা আমরা বুঝি, নতুবা না বুঝে বুঝার ভান করি।এক মহাসমুদ্রে ডুব দিয়ে একটি নুড়ি পাথরও তুলে আনতে পারিনা যা আমার হৃদয়ের মনিকোটায় দীপ্তিমান হতে পারে।
আমার এক শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক বন্ধু -আমাকে পরিহাস করে বলেন-এ তোমার ব্যর্থতা।বোর্ড স্ট্যান্ড করা,আর কবিতা বুঝা সমান না,তাহলেতো সবাই কাব্য বিশারদ হয়ে যেতো।আর শুধু তোমার হৃদয় না পুরো ড্রয়িং রুম নুড়ি-পাথরে ভরে যেতো।

আমি বলি তথাস্ত। কিন্তু শেষের কবিতা যে আমার মনে শীতল পরশ দেয়,জীবনানন্দ মনে দারুন প্রশান্তি আনে।
"যতদূরে যেতে চাই,পারিনা, চলে আসি কাছে,
তোমার গায়ের সাথে,আমার গায়ের গন্ধ লেগে আছে"।

"আকাশ ছড়িয়ে আছে আকাশে-আকাশে।"

"ভালোবাসার কাব্য শুনে কাশ জড়েছে যেই
দেখি আমার কাশের রাণী কাশ বনে আর নেই"

"অস্ট প্রহর কষ্ট করে নস্ট হলো যে রজনী,
সে কষ্টের সৃষ্টি কোথায় বুজলনা যে কোন সজনী"।

এসব ছন্দময় ম্যজিক লাইনতো আমি ভালো করেই বুজি। শুধু বুজিনা "তাপসও তীক্ষন সারমেয় নমস্য হুতাসন,
সৃষ্টির আগোয়ান, কেন উজ্জীবন।"
আমি মহাসমুদ্রে হারিয়ে যাই।

অভিধানের শব্দকোষ খুঁজে খুঁজে মরি।কবিতার বর্ম ভাঙতে গিয়ে
আমি ক্ষত-বিক্ষত হই।ঘামের লোনা জলে অবগাহন করেও হীমশীতল প্রশান্তির সুবাতাস পাইনা।
রবিঠাকুর যেমন বলতেন-শব্দ নিয়ে এতো জুরাজুরি কেনো করো বাপু।কবিতার পংক্তিকে ঝরণার সফটিক স্বচ্ছ জলের মতো ছেড়ে দাও,দেখবে সতত কেমন ফলগুধারার মতন বহমান হচ্ছে।
সত্যিই তাই। দীর্ঘ পথযাত্রী মরুর ক্লান্ত পথিক যখন বৃক্ষের নীচে এসে প্রাণ জুড়ায়,পাখী শিষ দিয়ে যায়,-কবিতার পংক্তিও তেমনি মনের অবসন্নতা,বিষাদ দূর করে দেয়।আল মাহমুদ যেমন -বলেন: "আমি সেই হতভাগা কবিদের একজন যারা একটি লাইনের জন্য সারারাত বিনিদ্র রজনী পার করে দেয়"
আর গদ্য কবিতার মুখোস পড়ে বর্তমান কবিতা হয়েছে "কাব্যন্ধ"
মানে অর্ধেক কবিতা আর অর্ধেক প্রবন্ধ। নিউইয়র্কের এক কবি বন্ধু মজা করে বলে-ভালো কবিতা লিখার টিপস হলো-একটি প্রবন্ধকে চার ভাগ করে চার পত্রিকায় পাঠিয়ে দেয়া। এবং তা যতবেশী দুর্ভেদ্য হবে, সম্পাদকের চোখে তা ততবেশী আদৃত।
(চলমান)


পাঠকের মতামতঃ

রাশেদ বলেছেন: বাপ রে! বেশি কঠিন পোস্ট! তেমন কিছুই বুঝি নাই!

মানবী বলেছেন: পোস্টের জন্য ধন্যবাদ বিহংগ।
আমি কবিতা খুব পছন্দ করি। বাংলা ভাষায় কাজী নজরুল ,রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত, জীবনানন্দ, সুনীলের পর হেলাল হাফিজের কবিতা প্রচন্ড ভালো লাগে। পড়ার বা পরীক্ষার স্ট্রেসের সময় 'যে জলে আগুন জ্বলে" বইটি আমার কাছে ছিলো সবচেয়ে প্রিয় বিনোদন বা রিলাক্সিং কিছু।

সামহোয়্যার-ইনে এসে চমৎকার কিছু কবিতা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। মৃন্ময় আহমেদ, কালপুরুষ, বৃশ্চিকের মতো অনন্য সাধারন কবিদের অসাধারন লেখা পড়ে ভালো লেগেছে। শাপলা, জয়িতাদের কিছু কবিতাও ভালো লেগেছে। আরো অনেকেই আছেন চমৎকার লিখেন।

এতো কিছু বলার কারন, "সত্যি করে বলুনতো-কয়টি কবিতার লাইন,আমাদের হৃদয় পটে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করে" - এই বক্তব্যের সাথে ভালো কবিতার সম্পর্ক নেই। যে কবিতা পড়ে আমার ভালো লাগবে, তাই আমার কাছে ভালো কবিতা। "আজি এ প্রভাতে রবির কর", "কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও", "আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে", "ওমা! তোমার বাবার নাকে কে মেরেছে ল্যাং", " আমার কাছে কষ্ট আছে, হরেক রকম কষ্ট", "ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দুলানো মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা"....ইত্যাদি কিছু লাইন ছাড়া খুব বেশি লাইনহৃদয় পটে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করেনা। তার মানে এই নয়, সেই কবিতাগুলো মন ছুঁয়ে যাওয়া নয় বা ভালো কবিতা নয় :)

রাশেদ বলেছেন: আমি ৫ নাইলে ১ দেই সাধারনত। ১ দিতে ইচ্ছা করল না, তাই...

মানবী বলেছেন: "দীর্ঘ পথযাত্রী মরুর ক্লান্ত পথিক যখন বৃক্ষের নীচে এসে প্রাণ জুড়ায়,পাখী শিষ দিয়ে যায়,-কবিতার পংক্তিও তেমনি মনের অবসন্নতা,বিষাদ দূর করে দেয়।"- - সহম

সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: বিহংগ, আমি অপেক্ষায়, কবে এর পরের কিস্তি লিখবে । অভিনন্দন আবারো ।

সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: একটা সময় ছিল যখন কবিতার প্রেমে মজেছিলাম ।
পড়ালেখার ভীড়ে খেই হারিয়ে অনেকটাই হারিয়েছি তার । মনে হয়, বিহংগ, তুমি এবার ঘুম ভাংগাতে এসেছ ।

কালপুরুষ বলেছেন: আমার কাছে কবিতা মানেই নিজের হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে অপরের হৃদয়ের উষ্ণতা অনুভব করা। পাঠকের হৃদয় ছোঁবার সামান্যতম প্রয়াশ। বলতে না পারা অনেক কথাকেই অকপটে বলে ফেলা। যে কখনও ভালবাসার গোলাপ হাতে তুলে দিতে পারেনা তার জন্য অনায়াসে শতেক গোলাপ হাতে তুলে দেয়ার মতো। কবিতায় কবির মনের কথা বুঝেও কবিতার মতো নীরব ছন্দে নিজেকে হারিয়ে ফেলা।
জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

কালপুরুষ বলেছেন: @মানবী,
আমার কবিতা ভাল লাগে জেনে খুশী হলাম। ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার লেখা আমার ভাল লাগে সেটা আপনাকে অনেক আগেই জানিয়েছি। সেটা গদ্য হলেও অনুভবে তা কবিতার চেয়ে বেশী আবেদন রাখে। মন ছুঁয়ে যায়।

পুতুল বলেছেন: অভিধানের শব্দকোষ খুঁজে খুঁজে মরি।কবিতার বর্ম ভাঙতে গিয়ে
আমি ক্ষত-বিক্ষত হই।ঘামের লোনা জলে অবগাহন করেও হীমশীতল প্রশান্তির সুবাতাস পাইনা। চৎকার ৫। আলোচনা চলুক।

মানবী বলেছেন: কালপুরুষ, ধন্যবাদ।
বিহংগ, মৃন্ময় আহমেদ, কালপুরুষ, বৃশ্চিকের পাশাপাশি আরো কয়েকজনের নাম উল্লখ করা হয়নি.. শেখ জলিল, তুমি রাত্রি হলে আমি হবো নিরবতা, নীলান্জনা।
মুশফিক, অবরজ, মানুষ.. সবাই চমৎকার লিখেন :)

বিহংগ বলেছেন: @মানবী।আপনার পর্যবেক্ষনের জন্য ধন্যবাদ।আসলে কবিতা গুলো নেয়া হয়েছিলো প্রথম থেকে ১০০ পাতার মধ্যে। আপনার সহযোগিতায় আরো সুন্দর ভাবে করার আশা করি।

(আপনাদের ভালো লাগলে চলতে পারে)

 

 

  • ৫১ টি মন্তব্য
  • ৬৪৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৪ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৫:৪৭
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: চলুক...দরকার আছে ।
২. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ ভোর ৬:৪৮
comment by: মিরাজ বলেছেন: চলুক তাতে আমার মত অকবির কবিতা বোঝায় সাহায্য হবে :)
৩. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪৭
comment by: নেই মানুষ বলেছেন: নাহ, কবিতা পড়া বাদ দিয়েছি অনেক আগেই। সবার মত এত বেশী কবিতা পড়িনি, খুবই কম পড়া হয়েচে। কিন্তু যতদিন পড়ার অভ্যাস ছিল, খুবই enjoy করেছি। তারপর কেন জানি পড়া বাদ দিয়ে দিলাম।

ার শুরু করিনি। মাঝেমাঝে হয়তো 'revise' ( আমি এটাকে revise দেয়াই বলি)দেই। যখ, আপনার লেখা আর মানবী'র কমেন্ট সবই খুব খুব ভালো লাগল।
৪. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৭:৪৯
comment by: নেই মানুষ বলেছেন: যখ= যাক
৫. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:০৫
comment by: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: আগে মিস করেছি । তবে এবার সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।
প্রথম কথা হচ্ছে , জীবনানন্দ দাশ তাঁর জীবদ্দশায় ততোটা আলোচিত
হতে পারেন নি , যা পরে হয়েছেন।
তাঁর ''কবিতার কথা'' আমি যে কোনো নবিশ কবিতানুরাগীকে পড়তে
বিনীত অনুরোধ করি।
আধুনিক কবিতা সমকালীনতার প্রান্জল বুনন। প্রকৃতি যেমন ছিল তেমনি আছে। একজন নতুন কবিকে নিজের চিত্রকল্প এঁকে যেতেই হয়।
দায় কিন্তু পাঠকেরও আছে । ছন্দ সমিল কবিতা খুঁজে অতীতে ফেরার
চেষ্টা না করে পাঠককে ভাবতে হবে , একবিংশ শতাব্দীতে লেখা
হচ্ছে '' দৃশ্য কবিতা''।
সিলিকন ভ্যালীর আলোয় বসে যে কবি, নির্মাণের নৃতত্ত্ব আঁকছেন ,
তার পংক্তিমালায় তিরিশের চিত্রকল্প , উপমা , অনুপ্রাস খুঁজে
পাওয়া না ও যেতে পারে।
এ কথা খুবই সত্য, যদি সবাই কবি হতে পারতেন , তবে সব ভাষাসাহিত্যের সকল অধ্যাপকরাই হতেন বড় বড় কবি। তারা ই হতেন সব কবিতার নিয়ন্ত্রক। কিন্তু তা কোনো কালেই হয়নি।
আমার দেখে হাসি পায়, যারা শুদ্ধ করে বাংলা লিখতে পারেন না তারা
ও কবিতা লিখেন । কাগজে পাঠান ।খাতির থাকলে ছাপাও হয়।
আমার কথা হচ্ছে যারা এই শুন্যদশকে ও কবিতা লিখছেন, তারা তো
বাংলা শব্দ ই ব্যবহার করছেন। তা হলে পাঠক-পাঠিকারা না বুঝার
কৈফিয়ত তুলবেন কেন ? ব্যর্থতা টা কার ?
দুর্বোধ্য বলে কবিতায় কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা।
যিনি পড়ছেন , তার পঠন-পাঠনের গভীরতা কতটুকু আছে ,তা ও
বিবেচনায় রাখা জরুরী।
এক সময় জীবনানন্দ দুর্বোধ্য ছিলেন ! এখন বহুল নন্দিত ।
--------------------------------------------------------------------------
( আমি এ বিতর্কে যে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে রাজী আছি। দয়া করে
ক্রিয়েটিভ আলোচনা যে কেউ করুন )
৬. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:০৫
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: ভালো।
৭. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:০৮
comment by: প্রচেত্য বলেছেন:
আমার ব্যর্থতা আমি কবিতার ভাষায় শব্দ গুছিয়ে আনতে পারিনা, তাই বলে ব্যর্থতা কখ্‌নও আমাকে খুব বেশী আঘাত করেনা কারণ এখানে বইয়ের পাতায় গোছানো শব্দমালাই সে অভাবের খোড়াক যুগিয়ে দেয়। কিন্তু লিখতে না পারার অপূর্ণতাই পরিতৃপ্ত হইনা।

এগিয়ে চলুক, আমার অনুপ্রেরণাই এই কবিতার ভাষাগুলো
৮. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:১৪
comment by: বিহংগ বলেছেন: আপনার চিন্তাশীল,পরিশীলিত,সুখপাঠ্য মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
কবিতার কালসীমা যেমন আমরা একটি বৃত্তে আটকে রাখতে পারিনা,কবিতা বুঝার যে সুখ আর পড়ার যে আনন্দ তাও বৃত্তবন্দি করতে পারিনা।
কবিতার ভাষা যদি হয় শুধু কবির জন্য,তবে আমি শ্রদ্ধাবনত হয়ে প্রস্থান করবো। মনে করবো- এ হলো ব্রাম্মনের(বানান লিখতে পারলামনা) ঘটির জল,যা আমাদের মতো চন্ডালদের কাছে অস্পর্শ।
জীবনান্দ দাশের মায়ের একটি কবিতা বলার লোভ সামলাতে পারছিনাঃ
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।"
যা এখনো মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।

প্রিয় কবি, জানিনা আরেকটি উদাহরন দিলে বাড়াবাড়ি হবে কিনাঃ
এডহারা,ক্যাসটর,হাডার,ভেগা,কাপেলা ইত্যাদি হাজারো তারার আকাশে কত এ্যাপারেট আর কত অ্যাবসুলুট ম্যাগনিচ্যুটে অবস্থান তা জ্যোতির্বিদরা জানবেন, কিন্তু একজন অন্ধকারের নিঃসংগ পথচারী শুধু রাতের নিকষ আধাঁরে তারার আলোয় আলোকিত হয়ে পথটা পাড়ি দিতে চায়।
আমি মনে করি সাহিত্যের আকাশে প্রতিটি কবিতাই একেকটি তারা। আর একজন সাধারন পথচারী হিসাবে আমার মতো পাঠকরা সে আলোয় আলোকিত হয়ে সাহিত্যের পথে হাঁটতে চায়। আমি না হয় জ্যোতির্বিদ নাই বা হলাম, তাই বলে কি প্রিয় কবি আমি কি সুখের কবিতা বুকে লালন করে কবিতার আলোয় আলোকিত হবোনা।
আপনাকে আবারো বিনীত ধন্যবাদ।
৯. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:১৯
comment by: বিহংগ বলেছেন: আব্দুর রাজ্জাক শিপন
মিরাজ
নেই মানুষ
ফকির ইলিয়াস
ইছামতির পাড়ে
প্রচেত্য
আপনাদের আলোচনার জন্য বিনীত ধন্যবাদ।
১০. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৫১
comment by: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: বাংলা দেশে / কলকাতায় একটা কবিতার বই ছাপা হয় (সবার নয় অবশ্য)
৫০০/ ১০০০।
এমন কি পাশ্চাত্যে ও কাব্যগ্রন্থের কাটতি কম ।
কেন ? কবি ইউসেফ কমুনিয়াকা' র ''টকিং ডার্টি টু দ্যা গডস''
পড়ুন। দেখবেন কবিতার বিবর্তন কিভাবে ঘটিয়েছেন তিনি।
সময় কে ধারণ করতেই হবে।
আমি নিশ্চিত , ১০০ বছর পর আরো বদলাবে কবিতার বুনন।
তা কেউ আটকাতে পারবে না। পারা সম্ভব ও নয়।
না , কবিতা ব্রক্ষ্মবাদ নয়। সবাই স্পর্শ করুক , তা সব কবিই চান।
কিন্তু স্পর্শ করার মনন ও তো থাকতে হবে।
কবি তো শিক্ষক নন , যে ক্লাশ করাবেন। তিনি লিখবেন তার ভাষায়।
ভাষা শেখানোর দায়িত্ব তো কবি নিতে পারেন না।
সামহ্যোয়ার ইন ... এ অনেক ভালো , মেধাবী , সৃজনশীল কবি আছেন
যারা খুবই ভালো লিখেন। কিন্তু সেগুলো ক'জন পড়েন ?
শুধু ৫ দিয়ে ই দায়িত্ব শেষ ? না , তা বোধ হয় নয় ।
শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' / ''তোমাকে পাওয়ার জন্য হে
স্বাধীনতা'' - এগুলো কেও প্রথম প্রথম অনেকে কবিতা বলে নি।
বলেছে এগুলোতো গদ্য । এখন সে মানসিকতা অনেকের বদলেছে।
আরো বদলাবে , সন্দেহ নেই।
পথে হাঁটতে হলে পথ চিনতে হবে। কবিতার আলোই টেনে নিয়ে যাবে পথচারীকে।
-----------------------------------------------------------------------
( কথা গুলো যদি কড়া হয়ে যায় , সেজন্য আমি দু:খিত। আলোচনা করলে
তো প্রসংগ আসবেই , তা মিঠে-টক যাই হোক।)
১১. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৫৮
comment by: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: তোমরা চলে যাচ্ছ, ট্রাকে মালামাল উঠে গেছে সব, এক জীবনে মানুষের কতবার যে বাড়িবদল জরুরি হতে পারে মানুষও বুঝি তা জানে না

একদিন এভাবেই ট্রাকে মাল বোঝাই করে রেলিঙ ঘেরা এই বাড়ির একতলায় তোমরা নোঙর ফেলেছিলে-- অতিথি পাখি ও গৃহস্থ বিড়াল একদিন ভোরবেলা চার সদস্যের একটি নির্ঝঞ্ঝাট পরিবার দেখে আহ্লাদে উল্লাস করেছিল

তোমরা ত্যাগ করে যাচ্ছ একটি অভ্যস্ত পরিমণ্ডল, তার বিয়োগ ব্যথায় তুমি কাঁদলে তোমার মা কাঁদল, ট্রাকের সিটে গিয়ে বসলে সবাই, তুমি, তোমার মা, ছোট ভাই, কুমারী আত্মীয়া-- বাবাকে তো আগেই রেখে এসেছ অনিবার্য মাটির বিছানে

গাড়ি স্টার্ট নিতেই তাড়াতাড়ি হাত নাড়লে তোমরা সবাই, শেষবার তাকালে, বাড়িওয়ালা অনুভূতিহীন, তখনই টাঙিয়ে দিচ্ছেন ভাড়াটে ধরার 'টু লেট' বাহানা, ঘরে জল ঢেলে ধুয়েমুছে দেয়া হচ্ছে তোমাদের সুদীর্ঘ ছোঁয়া

সব মায়া কাটিয়ে বাধ্য হয়ে তোমরা শহরান্তরে যাচ্ছ, পেছনে কাজলা বিড়ালটি দৌড়াচ্ছে... দৌড়াচ্ছে... দৌ...ড়া...চ্ছ
(বিড়ালটি/ মুজিব মেহদী)
--------- একটি অসাধারাণ কবিতা...
১২. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:১২
comment by: ফারজানা১৬ বলেছেন: শীট! বিহংগ,
আ’ম রিয়েলী স্যরি,
ভুল হয়ে গেছে।
ওটা মুছে দিন।
আমি আবার কমেন্ট দিচ্ছি!
১৩. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:১৩
comment by: ফারজানা১৬ বলেছেন:

কবিতা নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার নেই। কারন আমি কেন যেন এখনকার অনেক অনেকক কবিতারই আগামাথা কিছু বুঝিনা! তাই ঘুরে ঘুরে আমার বাংলা কবিতা পড়ার সীমানা রবীন্দ্র, নজরুল আর জীবনান্দের কাছেই চলে যায়।
নজরুলের …… এক তরীতে যাব মোরা আর-না-হারা গাঁ/ পারাপারের ঘাটে প্রিয় রইনু বেঁধে না!
জীবনানন্দের… আকাশের সব নক্ষত্রের মৃত্যু হলে
তারপর একটি নারীর মৃত্যু হয়;
অনুভব করে আমি অনুভব করেছি সময়।
এইসব কবিতা পড়লেই আমার কেবলই মনে হয় আমি যেন এই কবিতার ভিতর ঢুকে গিয়েছি! যেন আসলে এই কথাগুলো আমি নিজেই বলছি! এ যে আমার বড় চেনা…
কিন্তু এখনের অনেক কবিতা পড়ে নিজে হতভম্ব হয়ে বসে থাকি- আমি বোধয় বাংলা ভাষা জানিনা!
তবে এখনের অনেকের অনেক কবিতাও ছুঁয়ে যায়। শুধু ছুঁয়ে যাওয়া নয়, বরং দারুনভাবে গেঁথে যায় হৃদয়ে… যেমন খুব একবার আব্বা বাজার নিয়ে আসার পরে ডালের প্যাকেটে একটা কবিতা পড়েছিলাম… আবার যদি নষ্ট পথে যাই/ বাড়িয়ে দিও হাত/ একটা কালো রাত/ স্বপ্নে দিও ভরে/ শালিক পাখি আয়রে আমার ঘরে!
আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। যদিও এখনো জানিনা কে এই কবি!
আরেকবার কোথায় যেন পড়েছিলাম-… বৃষ্টি পড়ছে, চলো রাস্তায় নামি/ তোমার শার্ট কি বৃষ্টির চেয়ে দামী?
বৃষ্টি পড়লেই আমার সর্বপ্রথম এই লাইনদু’টো মনে পড়ে যায়!
আমার মনে হয় এখানেই কবির স্বার্থকতা। যখন তার কবিতা পাঠকের জীবনের সাথে মিশে যায়।
তবে রফিক আজাদ, শামসুর রহমান, আল-মাহমুদ, জ্বয় গোস্বামী, অমিয় চক্রবর্তী,তারাপদ রায়… এদের কবিতাও যেন কিছুটা হলেও বুঝি।

তবে আমি না বুঝার কথা বলে কবিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছিনা, বা কবিতাকে বিচার করতে যাচ্ছিনা, আমি শুধু একজন সাধারন কবিতা-প্রেমী হিসেবে আমার অভিমত টুকু বললাম।

ধন্যবাদ বিহংগ, আশা করি দ্বিতীয় কিস্তি দেখতে পাবো।
১৪. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:১৪
comment by: ফারজানা১৬ বলেছেন: বিহংগ,
আমি সত্যি দুঃখিত,
আমার আগের লেখাটার নিচেই এই পোস্টের কমেন্ট লিখে পুরোটাই খেয়াল না করে কপি-পেষ্ট করতে গিয়ে এই অবস্থা!!
আ’ম রিয়েলি রিয়েলি স্যরি।
প্রথম কমেন্টটা মুছে দিন, প্লীজ।

১৫. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:১৬
comment by: ফারজানা১৬ বলেছেন: বিহংগ,আপনি কোথায়?? ঃ-(
১৬. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:২১
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: নতুন মন্তব্যে সমৃদ্ধ পোষ্টটি আবারও পড়লাম। ফকির ইলিয়াসের গোছানো বক্তব্য/অভিমত ভাল লেগেছে। সাথে মুজিব মেহেদীর অসাধারণ একটা কবিতা ঈদের বোনাস হিসেবে পেলাম।

বিহংগ, আপনার বক্তব্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ এ ব্যপারে আমার কোন দ্বিমত নেই। মানুষের মন ও মনন যদি সক্রিয় ও সংবেদনশীল হয় তবে তা অনেককিছুই সৃষ্টি করতে পারে। কবিরা হয়তো সেই শ্রেণীর মানুষ- যাদের তৃতীয় নয়ন অন্য দুই নয়নের চেয়ে অনেক বেশী সক্রিয়, নিষ্পলক ও অবারিত।
১৭. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৪৮
comment by: মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: বিহংগ আপনি গদ্য কবিতাকে স্কীকৃতি দিতে না চাইলে সেটা আপনার ব্যর্থতা।কারন কবিতার প্রকাশ কখনো কোনো চাহিদাকে রেখে নয়,বরং অনেক বিক্ষোভকে তার সহজ প্রকাশে সামনে নিয়ে আসে।আর আপনি বোধহয় জানেন যে ববীন্দ্রনাথই গদ্যরীতির প্রচলন করেন বাংলাকবিতায়,ছন্দের গত থেকে মুক্তি দেন।আর আপনার কবিতাবোঝার সত ও প্পাতিস্ঠানিক উদ্দেশ্যটি যেকোনো পাঠ্যপুস্তকপ্রেমী পাঠক প্রায়ই বলে থাকে,কিন্তু তারা পাঠ্যপুস্তকের বাইরে কখনো একটু উকি দিয়েও দেখে না।কিন্তু আপনি কবিতা বোঝার এই ইচ্ছাটি পরিবর্তন সহজে করতেও পারবেন না,কারন শিক্ষাপ্রতিস্ঠানগুলো তা আপনার গভীরে গেথে দিয়েছে।তাইতো আপনি ২০০৭ সালেও ৩০ এর কবিদেরকে আদর্শ ধরে বসে আছেন,ভাবছেন এসমের এই কবিতায় এটা নেই ঐ কবিতায় একটা লাইনও ভালো নেই!একটা লাইনসর্বস্ব কবিতা লেখার চাইতে না লিখাই ভালো।

আর আমার মনে হয় কবিতা যতটা বোঝার তারচেয়ে অনেক বেশী অনুভবের।একটা কবিতা কি অনুভব নিয়ে আসে সেটাই বড় কথা।

ধন্যবাদ,ভালো থাকবেন।
১৮. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৫০
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: বিহংগ ......খুব ভালো লাগলো।

আমার কাছে কবিতা মনে রাখার ব্যপারে একটা কথা মনে হয়।সেটা হলো সময়।আমার মা তাঁর সত্তোরোর্ধ বয়সে এখনো রবী ঠাকুরের কবিতা "দুই বিঘা জমি" এবং অনেক কবির কবিতা অনায়াসে আবৃত্তি করেন।আসলে কবিতা মনে রাখার ব্যপারে একটা জিনিস মনে হয় যে, আমরা ছোটবেলায় যা শিখি তা মনে থাকে ......কবে শিখেছিলাম বীরপুরুষ কবিতাটা...এখনো মনে পড়ে লাইন গুলো।

এর পর জীবনানন্দ নিয়ে অনেকদিন কেমন মেতে থাকা।
একসময় জীবনানন্দে র"বোধ"কবিতাটা দারুন ভাবাতো:
"আলো অন্ধকারে যাই----মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়,-----কোন এক বোধ কাজ করে!
স্বপ্ন নয় ----শান্তি নয়---ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!"

আধুনিক কবিতার নানান দিক নিয়ে যা কিছু ভাবনা যা কিছু লেখালেখি তা নিয়ে বলতে গেলে একটা কথাই বলতে হয়,সহজ ভাবে অনায়াসে ভিতর থেকে চলে আসা কথামালা তাই হলো কবিতা যা কিছুক্ষনের জন্য হলেও হৃদয়কে আলোকিত করে।ভালো কবিতা আমার দৃষ্টিতে তা,যা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।

নিজে লিখালেখি করি...।পাঠকই জানেন তা কতটুকু কবিতা।নিজের ভিতরে এক ধরনের তাগিদ থাকে লেখালেখির।এই লেখালেখি অনেকটুকুই জীবন থেকে পাওয়া অনুভব।কল্পনাবিলাসী মন ভাবতেও পারে কত!
আকাশ ,নক্ষত্র,তারাদের সাথে মিতালী।পথ,ঘাট আর মানুষ মনে রাখা।

খুব ভালো লেগেছিলো একদিন একজন অপরিচিত ব্যক্তি আমাকে আমার লেখা একটা কবিতার বেশ ক'টা লাইন শুনিয়েছিলেন কথা হবার পর।কবিতাটা যে আমার নিজের লেখা ভাবতে অবাক লাগছিলো।
আমার সবসময় অভ্যাস ছিলো ভালো কোন কবিতা পড়লে তা ডাইরীতে লেখে ফেলা..প্রিয় গানের মত।এখন ব্লগে যা প্রিয়তে রাখি অনায়াসে।

অনেক কথা লিখতে ইচ্ছে করছে...।আবার আসবো নাহয় সহসাই।
যে আপনাকে লেখাটা রিপোস্ট করার অনুরোধ করেছেন তাকে ধন্যবাদ পৌছে দেবেন।
আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা ।"


১৯. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৫৭
comment by: মুকুল বলেছেন: বিহংগ ভাই, দারুণ বলেছেন। চলুক...

+
২০. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:১২
comment by: আইরিন সুলতানা বলেছেন:
একটু ভিন্ন মন্তব্য : আমরা ব্লগে যে কোন বিষয়ে মোড় অনায়াসেই ঘুড়িয়ে দেই; নানা মুনির নানা মত সময়ই কাম্য; তাতে একটা ধারনা থেকে একটা রীতির জন্ম হয়। এখানে আমরা সবাই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি গুলো সুস্থ ভাবে তুলো ধরছি দেখে ভাল লাগল ।

আর কবিতা কিনবা যে কোন লেখার কথা বলতে গেলে একটা ব্যাপার মনে হয় ; খুব বেশী নিয়মের বেড়াজালে একে না বাধাই ভাল; কবি হওয়ার জন্য কিনবা কবিতা লেখার জন্য কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সার্টিফিকেট নিতে হয় না । নিত্য কলমের আঁচড়ে , সময়ের চোখে দেখা জীবনের স্রোতধারাই আপন অনুভূতিতে কিছু শব্দমালা তৈরী করে ।
২১. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৯
comment by: খোলাচিঠি বলেছেন: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: " এ কথা খুবই সত্য, যদি সবাই কবি হতে পারতেন , তবে সব ভাষাসাহিত্যের সকল অধ্যাপকরাই হতেন বড় বড় কবি। তারা ই হতেন সব কবিতার নিয়ন্ত্রক। কিন্তু তা কোনো কালেই হয়নি।
পাঠক-পাঠিকারা না বুঝার কৈফিয়ত তুলবেন কেন ? ব্যর্থতা টা কার ?
দুর্বোধ্য বলে কবিতায় কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা।
যিনি পড়ছেন , তার পঠন-পাঠনের গভীরতা কতটুকু আছে ,তা ও
বিবেচনায় রাখা জরুরী। "

আপনার মন্তব্য পরে খুব ভাল লাগল। আপনার মন্তব্যের আরেকটি কথা ভাল লাগলো যে কবি ভাষা বুঝার দায়িত কেন নিবেন। এই বেপারটিতে আমি একমত রাখি। কবিরাতো সবসময়ই সাধারনের চেয়ে উপরে। তারা শব্দের জাল পেতে দিলে যদি তা সাধারন চিন্তা শক্তিতে না আটকায় তাহলে সেই বের্থরা অবশ্যই পাঠকের হবে। কল্পনার জগতে পুরোপুরি ভাবে মিশে যাওয়ার সাধীনতা শুধু মাত্র কবিদেরই আছে কারন তারাই সেটাকে নুড়ি পাথর বানাতে পারেন।

@বিহংগ,
আপনার এ্যনালিসিস্ যথার্ত হয়েছে। আশা করি আরও লিখবেন।
২২. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:২৫
comment by: ৈকলাশ বলেছেন: চমৎকার হইছে বিহংগ।
২৩. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৯
comment by: বিহংগ বলেছেন: আপনাদের অংশগ্রহন আমার পাথেয় হয়ে রইলো।
অফিসে আছি।
তাই প্রত্যুত্তর সময়সাপেক্ষ।
ধন্যবাদ।
২৪. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫১
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: আলোচনাটা চমৎকার।
২৫. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:০৩
comment by: ব্লুজ বলেছেন: বিহংগ ধন্যবাদ আপনাকে আমার ব্লগে গিয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য। (আপ্নার প্রত্যুত্তরে...আমি এখানে একা এক বাংলাদেশি, কিছু অন্য দেশি মুসলমান আর প্রচুর পাকিস্তানি কিন্তু পাকিস্তানিদের সাথে কেন জানি খাপ খায়না আমার। বোধহয় মাটির টান। এক একদেশের মানুষ এক একদিন ঈদ পালন করেছে এখানে। আমার ঈদ দেশে ফোন করা পর্যন্তই।)

তা আপনি ভাল আছেনতো। আশা করি ঈদ ভালই কেটেছে।

'কবিতার ভাংগা-গড়া'...রিপোস্ট ও কমেন্টস দুটোই টানছে। +

(কি সমস্যা হলো জানিনা। এই কমেন্টস প্রথমবার প্রকাশের পর সাথে সাথেই হাওয়া।)


২৬. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৬
comment by: সামী মিয়াদাদ বলেছেন: যাক কবিতা নিয়াও তাইলে আলোচনা হয় এই ব্লগে!!!!! আমার ব্লগিং এতদিনে সার্থকতার দিকে যাইতেছে।

চলতে থাকুক....পরে একসাথে শোকেজড হবে। ধন্যবাদ।

আমি কোন আলোচনায় গেলাম না। অনেক বিজ্ঞরা যেখানে আলোচনায় রত।
২৭. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৮
comment by: সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: এই আলোচনায় আমি কি কিছু যোগ করব ? এই ধরুন,
হাজার বছর আমি পথ হাটিতেছি সমুদ্রের পথে.......
কিংবা,
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার দিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য
হাল ভেংগে যে নাবিক হারায়েছে দিশা

কিংবা
কারার ঐ লৌহ কপাট
ভেংগে ফেল কররে লোপাট
রক্ত জমাট শিকল পুজার পাষান বেদী.....

কিংবা
ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী
আমারই সোনার ধানে গিয়াছে ভরী ।

...
দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ী বেলা দ্বিপ্রহর
চৈত্রের রৌদ্র ক্রমশ হতেছে প্রখর,
এ বিশ্ব চরাচরে সবচেয়ে পুরাতন কথা
সবচেয়ে পুরাতন ক্রন্দন
যেতে আমি দিবনা তোমায় ।



...
শুধু বিঘা দুই ছিল মোর ভুঁই
আর সব গেছে ঋনে,
বাবু বলিলেন, বুঝেছ উপেন,
ও জমিও লইব কিনে....


জাতির পতাকা আজ খামছে ধরেছে
সেই পুরনো শকুন..

....
সুরন্জনা, ঐখানে যেও নাকো তুমি
বোলো নাকো কথা ঐ যুবকের সাথে
ফিরে এসো সুরন্জনা...
২৮. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৯
comment by: সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: সংশোধনী: হাজার বছর আমি পথ হাটিতেছি পৃথিবীর পথে....
২৯. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৫
comment by: সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: ...
আবার আসিব ফিরে,
ধানসিড়ীটির তীরে এই বাংলায়
হয়ত মানুষ নয়
হয়তবা শংখচিল শালিকের বেশে

..দেখিব কাঠাল পাতা ঝড়িতেছে ভোরের বাতাসে

হয়তবা হাঁস হব কিশোরীর ঘুংঘুর রহিবে লাল পায়...
৩০. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:১১
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: বিহঙ্গসহ সকল সহব্লগারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই লেখা ও সবার আলোচনা আমাদের মতো সাধারণ লোকেদের অনেক কিছু শেখার সুযোগ করে দিল নিখরচায়। ওয়াও! :P
৩১. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৪
comment by: বিহংগ বলেছেন:
আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য আপনাদের
আব্দুর রাজ্জাক শিপন
মিরাজ
নেই মানুষ
ফকির ইলিয়াস
ইছামতির পাড়ে
প্রচেত্য
ফারজানা ১৬
কালপুরুষ
মু্যীজ মাহফুজ
সুলতানা শিরীন সাজি
মুকুল
আইরিন সুলতানা
খোলাচিঠি
কৈলাশ
আলি আরাফাত শান্ত
ব্লুজ
সামী মিয়াদাদ
সন্ধ্যাপ্রদীপ
মৈথুনানন্দ
সবাইকে আবারো বিনীত ধন্যবাদ ।

আমার আরো কিছু কথা স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করছি। আশাকরি, আপনাদের বিরক্তির কারন হবেনা।

আমি কোথাও বলিনি যে, আধুনিক গদ্য কবিতার যে সাম্পান সাহিত্যের বিরুপ উর্মিমালায় পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাকে নোংগরিত করে রাখতে,শৃংখল পরাতে।আমিও চাই দখিনা হাওয়ায় কবিতার পাল সাহিত্যের সমুদ্রে দিকভ্রান্ত না হয়ে কোটি পাঠকের হৃদয়ের পোতাশ্রয়ে নোংগর করুক।
গদ্য কবিতার প্রতি আমার কোনো বিরোধীতা নেই, আবার শুধু ছন্দের মাধুর্য্যে ও আমি হারিয়ে যেতে চাইনা।


৩২. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৬
comment by: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: আবারো বলি ,- যারা আধুনিক , উত্তরাধুনিক , মৌলাধুনিক কবিতার
রসাস্বাদন করতে চান তারা কলকাতার শক্তি ,সুনীল, জয় থেকে
আজকের বিকাশ সরকার এবং বাংলাদেশের আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
নির্মলেন্দু গুণ , হেলাল হাফিজ, মোহাম্মদ রফিক থেকে আজকের
আবু হাসান শাহরিয়ার পর্যন্ত পড়ে দেখতে পারেন।
চলমান বাংলা সাহিত্যে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে কবিতায়।
পড়তে হবে.. পড়তে হবে ...এবং পড়তে হবে।
৩৩. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:০৬
comment by: বিহংগ বলেছেন: (মন্তব্যের পরের অংশ,লগ ইন লগ আউট হয়ে যাওয়ার ভয়ে জোড়াতালি হচ্ছে)
কবিতার মূল প্রানভোমরাতেই আমার মতো পাঠকের ভালোবাসা।নজরুন যেমন বলেছিলেন-
যৌগিক কাব্য বুননের মহাসমুদ্রের ঘটে তুলা জলেই আমার স্নান নয়
সিক্ত,শান্ত বয়ে যাওয়া কাব্য নদীর জলেই আমার অবগাহন।
আমরাও সে রকম কবিতা খুঁজি যেখানে আমাদের কাব্য প্রেম শান্ত সুষমায় উদ্ভাসিত হয়।

আরেকটি প্রশ্ন - কবিতা বুঝার দায়বদ্ধতা পাঠক হিসাবে আমার কতটুকু। আমি ততটুকুই বুঝবো যতটুকু আমি স্পর্শ করতে পারি। যেটুকু আমার মনের গহীন কুটুরে স্বপ্নীল অুনরনন সৃষ্টি করে।

কবির দায় কতটুকু পাঠককে তা বুঝিয়ে দেয়া। আমরা সবাই জানি-পেন, জর্জ বেরারে,কৃষ্ন,চৌরাশিয়া,রবি শংকর সুরের ইন্দ্রজালে মানুষকে বিমোহিত করতেন।কিন্তু সুরের প্রজেকশন,ইনটেনসিটি,বাইভ্রেটো কিভাবে সুর তৈরি হয় তা সাধারন স্রোতাদের না জানলেও চলে।তা বলে স্রোতারা কিন্তু সুর থেকে বন্চিত হননা। তাদের কাছে মূল জিনিস হলো সুরের কেমন ঐন্দ্রিজালিক নেশা তৈরী করে। শব্দের বাংগময়তা, ব্যাকরনের জটিল বিধিমালা, কাব্য বুননের শব্দচক একজন সাধারন পাঠকের আমি মনে করি জানলে ভালো , তবে না জানলেও চলে। আমরা খ্যাতনামা কবি হতে চাইনা,শুধু পাঠক হিসাবে কবিতার রস নিংড়ে নিতে চাই। কবিতার দূর্ভেদ্য কাঁচের দেয়াল ভেদ করে আমি জল স্পর্শ করি কেমনে।
পথচারী একটি লাল কৃষ্নচূড়া গাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছেন।দোয়েলের শীষ ভেসে আসছে , মৃদুমন্দ বাতাস ।তিনি আটকে রইলেন।
আরেকটি বৃক্ষ , শুধু পল্লবহীন।রসহীন ,শুষ্ক।
একজন পথচারী তার আপন স্বাধীনতায় কোথায় আশ্রয় নিবেন-এ প্রশ্নটি রইলো।
আমরা কি "ভাষার কবিতা" খুঁজব নাকি "কবিতার ভাষা খুঁজব" ?
আপনাদের আবারো ধন্যবাদ, অনেক অনেক।
(আমি বারবার লগ ইন ,লগ আউট হয়ে যাচ্ছি। আরো কিছু বলার ইচ্ছে রইলো।)

৩৪. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১৯
comment by: জলসাধক বলেছেন: খুব সারগর্ভ কিছু আলোচনা পড়লাম। সবাইকে ধন্যবাদ।
ভাষায় কবিতা লিখিত হয়। কবিতা ,ভাষা নিয়ন্ত্রন করে না। ভাষার জন্য
কবিতা নির্মাণ করে যায় শ্রেষ্ট পংক্তিমালা।
মনে রাখতে হবে কবি যেসব শব্দ ব্যবহার করছেন , তা হাজার বছর আগে
লিখিত/ নির্বাচিত/ নির্মিত।
আমরা জনি না বলেই আমাদের কাছে নতুন। তাই দায় টা তো কবির নয়। দায় পাঠক-পাঠিকার।
বাঙালীর খ্যাদ্যাভ্যাস , বস্ত্রাভ্যাস, সংগীতাভ্যাস শ অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। কাব্য পাঠাভ্যাস ও তাই পরিবর্তন, সময়ের দাবি রাখে।
৩৫. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:০৯
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: "আরেকটি প্রশ্ন - কবিতা বুঝার দায়বদ্ধতা পাঠক হিসাবে আমার কতটুকু। আমি ততটুকুই বুঝবো যতটুকু আমি স্পর্শ করতে পারি। যেটুকু আমার মনের গহীন কুটুরে স্বপ্নীল অুনরনন সৃষ্টি করে।"

বিহংগের উপরের উক্তির সঙ্গে খুব-ই একমত ।

কবিতা বুঝিয়ে দেবার ক্লাস কবি করাবেন না,ভাষা শেখাবার দায়িত্বও কবির নয় এই সত্যটুকু মেনে নিয়ে বলতে হয়,কবির ভাষা যদি কেবল কবি-ই বুঝেন,কবিতা পড়ে যদি কবি স্বয়ং শুধু পরিতৃপ্তির ঢেকুর তোলেন, নিজের পিঠ নিজে চাপড়ান,সেটা তিন