somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... প্রিয় "সামহুয়ার"তুমি আছো বলে আমি আর কোথাও যেতে পারি না/বিহংগ।
তুমি আছো বলে আমি আর কোথাও যেতে পারি না,
এই ছায়া শীতল আচ্চাদনে মহাপ্রাণের বৃক্ষের মতো তোমার উৎসারণ,
আমি তোমার উঠোনে উঠোনে কত শত গল্প বিশ্রুতির ,স্মৃতি লালন করে,
আমার হৃদয়ে তোমার শিখা দীপ্তিমান করেছি কত বিমূর্ত সময়,
তাইতো তুমি আছো বলে,আমি আর কোথাও যেতে পারি না।

আমার প্রাণের মাঝে তোমার দ্বীপ,
তোমার মাঝে আমার আলোকজ্জ্বল,তারা খচিত প্রদীপ
তুমি কখনোবা স্তব্দ হয়ে থাকো,
তোমার স্বোপার্জিত ভাষায় আমায় ডাকো,
সেই ডাকে আমি তোমারি মাঝে ফিরে ফিরে আসি।
সুর্যের আলোতে,কিম্বা শূণ্য অন্ধকারের মাঝেও চলি পাশাপাশি,
তুমি আছো বলে আমি আর কোথাও যেতে পারি না।


তারপরও কখনোবা সবুজ শ্যামলিমার আহবানে দূর কোনো মাঠে যাই,
শীতল প্রসবিনীর ভ্রান্তিহীন আহবানে কোনো স্রোতস্বীনির পাশে দাঁড়াই,
ফুলের আঘ্রাণে মুখরিত বায়ুসন্তরণে কোনো কাননের গালিচায় তৃষ্না মিটাই
জোৎস্নায় মায়াভরা সমূদ্রের নিরুদ্দেশ টানে রুপালী জোছনায় হারিয়ে যাই-
প্রভাতের তটিনীর শুভ্র ,নৈসর্গিক ভালোবাসায় কোনো চন্দ্রিমার ডাকে
আমি হয়তোবা কখনো ছুটে ছুটে যাই,
কিন্তু সবার শেষে আমার নোঙগর, এখানেই , অবিচল, নিরন্তর-
এক মহা সমূদ্র ভালোবাসা নিয়ে আমি বসত গড়েছি, তোমার পর।
তুমি আছো বলে আমি আর কোথাও যেতে পারি না।
লাল,লাল,নীল,মসলিন সব পর্দা সরায়ে তুমিই আমার কাব্যের ঠিকানা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28859007 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28859007 2008-10-24 11:56:19
শ্রদ্ধেয় পত্রিকার সম্পাদক বন্ধু,লিখা ফিরিয়ে নিয়ে,তোমাকে দায়ভার থেকে মুক্তি দিলাম http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28845152 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28845152 2008-09-19 10:48:00 চক্কুস্থির যে অনাবিল ভালোবাসায় বাতাসে শ্রাবনী মেঘের ঘ্রান বইছে অবিরত।
অবারিত জ্যোতিমন্ডলে স্বপ্ন ছোঁয়া আকাশ গংগার,
ডাকিছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা এক সমূদ্র কান্তার।
পারিজাতের কমনীয়তা ছড়ানো স্বপ্নীল নীলান্জনে
বুকের গহীনে তোমার ভালোবাসা এখনো কাঁদিছে সংগোপনে।
দীপাবলির সেই বিনম্র অশ্রুসজল চোখ বারবার আসিছে ফিরে,
রুপালী চাঁদের মাঝে মাগো খুঁজিছি তোমায় অফুরন্ত রৌদ্রের তিমিরে।


এক বিস্তৃত সমূদ্রের অপর পাড়ে আমি বসে আছি, মা।
ভোরের নরম রৌদ্র, আর অসীম নির্জনতায় তোমায় খুজিছি মা।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28839736 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28839736 2008-09-07 01:18:53
প্রতিদান/বিহংগ। (ছোট গল্প) কিছুক্ষণ পরে একটু স্থিত হবার পর -দুজনেই একসাথে কথা বলা শুরু করে।যার সারমর্মঃ পাশের জংগলের একটু গহীনে একটা লুকলুকি গাছ আছে।গাছটি একটি ছোট টিলার উপর। সেখানে পাকা লুকলুকি পাড়তে গিয়ে দেখে-একটি বিদুঘটে গিরগিটি একেবারে লাল রক্তবর্ণ ধারণ করে আছে।আর পাশে একেবারে বর্ণহীন,শাদা,নিষ্প্রাণ একটি শিশু টিকটিকি পড়ে আছে। লাল গিরগিটি আর বর্ণহীন টিকটিকির ঘটনা দেখে নন্দি আমায় বলে-জানো চাচু, গিরগিটিটি না পুরা টিকটিকির রক্ত শুষে খেয়েছে,আর রক্ত ছাড়া কী কেউ বাঁচতে পারে বলো।আহারে,বেচারা টিকটিকি কেনো যে গিরগিটির কাছ থেকে জীবন নিয়ে পালালো না।
গ্রীষ্মের ছুটিতে দুই ভাইবোন সারা গ্রামময় এভাবে ঘুরে বেড়ায়।ওদের ছুটোছুটি দেখে মনে হয় জীবন রংয়ের দুটি প্রজাপতি ফুলের কাননেআপন মনে গুন্জরন করে যাচ্ছে অবিরত ।আর চির সবুজ কচি পাতার মতো ওদের নবীনতা দেখে আমার স্নেহ যেন ওদের ওপর স্ফটিক শিশির হয়ে ঝড়ে।এমন মিল দুজনের ,একজনকে রামধনু মনে হলে ,আরেক জনকে মনে হয়,সেই রামধনুর বিচ্ছুরিত শোভা।সারা দিনমান,এক জন আরেক জনের ছায়া হয়ে থাকে।
এভাবে নানা ছোট ছোট ঘটনায়,কখনো আনন্দে,কখনোবা বর্ণিল উত্তেজনায়,কৌতুহলি জীবনের মুখরতায় ওদের পৃথিবী বেশ আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। ওদের দেখে আমিও নিশ্চিন্ত হই,অবসন্ন দিনের সব হেঁয়ালি ভুলে যাই।একদিন সন্ধ্যার পর বেদীয় অংকের কিছু কৌশল আর মজা নিয়ে আমি ওদের মনোরন্জন করছি।ঘরের ভিতরে ভ্যাপসা গরম পড়েছে,নন্দি বলে, চলো চাচু,বাইরে জোছনার মাঝে যাই।আমাদের উঠোনের লাগোয়া একটি মহুয়া গাছ,আর কিছু অরনীয় ঝোপ আছে।ঝিরঝিরে বাতাস,ফুরফুরে গন্ধ আর মন আবেশীত চন্দ্রিমার লোভে এতো রাতে বাইরে না যেতে আমি ও আর বারণ করিনা। ঝোপের অদূরে ,মহুয়া গাছের রুপালী ছায়ামাখা আলোয় আমরা একটি শতরন্চি বিছিয়ে বসি।হঠাৎ দেখি, নন্দি কেমন যেন করছে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেচারি মূর্ছা গেলো।
গ্রামের ডাক্তার, বৈদ্য,কবিরাজের বাসায় নিরবিচ্ছিন্ন ছুটোছুটি করে,অবশেষে অকুল পাথারে নানাবিধ শংকায় ভাসতে ভাসতে একেবারে মফস্বলের হাসপাতালে শুরু হলো আমাদের উদ্ভ্রান্ত বেলোয়ারি নৈরাশ্য জীবনের পালা।
হসপিটালের নিষ্প্রাণ বেডে নন্দি জীবন্মৃত শুয়ে আছে।স্যালাইন থেকে ফোটা ফোটা ঔষধ ওর দেহে প্রবেশ করছে। সুজিত বোনের কপালে হাত রেখে বসে আছে চুপচাপ।দিদি চোখ আড়াল করে আছেন,বুঝতে পারছি অবিরল বাধঁনহীন অশ্রুধারা বইছে। এ কুহকময় রাত যেন আর শেষ হয়না। ডাক্তার বাবুরা কিছু বলেন না। বোনের পাশ থেকে সুজিতের আর বাড়ি ফিরা হয়না। দু হাত দিয়ে আলতো করে জড়িয়ে রাখে বোনের মুখ।হসপিটালই যেন আজ ওর বসতবাটি, খেলাঘর,নিজের পৃথিবী,নিজের আপন ভূবন। আর আমাদের উৎকন্ঠা ও রাতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। এক উচ্ছ্বল বহমান অনুপম জীবন অকস্মাত এমনি কঠিন এক যতির সামনে এভাবে থমকে দাঁড়াবে টেরই পাইনি।আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক অপরুপ স্বর্গীয় রুপালি চাঁদ যেন আঁধারে পুন্জিভূত হলো।

অবশেষে , ডাক্তার বাবু আমাকে উনার অফিসঘরে নিয়ে যান।নানাবিদ ভয় আর শংকায় আমি নিথর বসে থাকি। ভাবি,বিশ্বাসের সব দুয়ার যেন এবার বন্ধ হয়ে এলো। এবার বুঝি ভালোবাসার অদেখা সুতোয় টান পড়লো।
করুণাময়ের কাছে মিনতি করি,রাতের পর যেন এক স্বর্ণালী ভোর আসে।ডাক্তারবাবু,কিছু কাগজপত্রাদি আমার সামনে রাখেন।তারপর এই প্রথমবারের মতো বলেন, ভয়ের কিছুই নেই।সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে,ওর জন্য অতি শীঘ্র কয়েক ব্যাগ রক্তের বড় বেশী প্রয়োজন।

একেতো মফস্বল।তারপর গভীর রাত।আশে পাশে সব নিস্তব্ধ হয়ে আছে।মাঝে মাঝে শুধু ভেসে আসছে রক্ত হিম করা এক তক্ষকের ডাক।বাইরের আকাশও মেঘাচ্ছন্ন।পৃথিবীর সব আলো যেন একেবারে নিভে গেছে আজ।শুধু আমরা শংকায় দুলছি আর আশার ভেলায় ভেসে আছি।রক্তের গ্রুপ মিলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।বেশ কয়েক জায়গায় ফোন করেও কোনোও আশার বানী পাওয়া গেলোনা। আর এ রুপহীন রাতের নিপতিত অন্ধকারে আলোর স্পর্শ পাওয়া যে বড়ই কঠিন।এক অদেখা পৃথিবীর ফুলের মতো শিশুর জীবন সলতে জ্বলতে না জ্বলতেই এবার বুঝি সত্যিই নিঃশেষ হয়ে এলো।

জীবনে চলার পথে দু জনের যেমন মিল,বাহিরে মিল, অন্তরে মিল, রক্তও যেন বুঝে ওঠে তা।সবাই চুপচাপ। শুধু সুজিতের রক্তই যেন বুঝতে পারে অসাড় শুয়ে থাকা নন্দির বেঁচে থাকার এক অব্যক্ত আকুল আহ্বানের কথা।
ছোট সুজিত ,কতই বা ওর বয়স। ডাক্তার রক্ত দেয়ার কথা বলার সাথে সাথেই মুহুর্তেই রাজী হয়ে যায় সে।
পাশাপাশি বেডে সুজিত আর নন্দি শুয়ে আছে। সুজিতের রক্তে ধীরে ধীরে লাল হতে থাকে স্বচ্ছ ব্যাগ।এরপর একটু একটু করে সে রক্ত প্রবেশ করে নন্দীর দেহে। সুজিত পাশের সীটে চেয়ে দেখে নন্দী ধীরে ,অতি ধীরে যেন রক্তে ডাকে সাড়া দিয়ে প্রাণের সজীবতায় ফিরে আসছে।
এবার আমি রুমের জানালাটা একটু আলগা করে দেই। হালকা শীতল বাতাস এসে আমাদের স্পর্শ করে। ভোরের আলো এতক্ষণে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়েছে।
ছোট সুজিতের মনে কত কিছু দোলা দিয়ে যায়। দিদির সাথে তার কত মধুমাখা স্মৃতি,হাসির,আনন্দের,অভিমানের,নিটোল সৌন্দর্য্যের ।মনে পড়ে সেই লুকলুকি বনে মরা টিকটিকির কথা।দিদি বলেছিলো -রক্ত ছাড়া শুধু টিকটিকি কেন রে, কোনো প্রাণীইতো বাঁচতে পারেনা।

সুজিত বিছানায় শুয়ে আস্তে করে আমার হাত ধরে।একবার আমার দিকে থাকায়,একবার বোনের দিকে,আরেকবার আড় চোখে নিজের শরীর দেখে ।চোখের ভাষা বুঝা দায়,বেচারাকে দেখে মনে হলো এই প্রথম অল্প ভয় পেলো।আমি পরম স্নেহে আর মমতায় ওর শিয়রের পাশে বসি। আমার স্নেহের কণা যেন ওর কপোল বেয়ে আসা অশ্রুদানার সাথে একাকার হয়ে যায়। সুজিত,আমাকে,ওর আরোও কাছে টানে।আমার মাথাটা ওর মুখের পাশে নিয়ে যায়। কষ্টে না আনন্দে বুঝা যায় না।চেয়ে দেখি নিদারুন শংকায় ছলছল করছে ওর চোখ।দেখি, ওর শরীর যেন কেমন মলিন আর নিষ্প্রভ ।তারপর,কানে কানে আমায় বলে, চাচু, দিদি কখন ভালো হয়ে ওঠবে,আর আমি কি রক্ত দেয়ার পর পরই মারা যাবো?দিদিকে বলো,আমি জীবনে যেমন ওর পাশে পাশে ছিলাম,মৃত্যুর পরও ওর সাথে মিশে থাকবো। দিদির সেরে ওঠা কি দেখে যেতে পারবোনা একটিবার। আমি মারা যাওয়ার আগে দিদিকে চুমু দেয়ার সময়টুকু যেন অন্ততঃ একটিবার পাই।

আসলে ছোট সুজিত এতুটুকু বুঝতে পারেনি যে, ওকে মাত্র এক ব্যাগ রক্তই দিতে বলেছিলেন ডাক্তার বাবু। ও মনে করেছিলো-ওকে দিদির জন্য শরীরের সব রক্তই দিয়ে দিতে হবে, আর রক্ত দেয়ার পর পরই সে একেবারে রক্তহীন হয়ে মারা যাবে সেই টিকটিকিটার মতো।তবুও তার আদরের দিদি জীবন ফিরে পাবে,এই আশায় মুহুর্তমাত্র দেরী না করেই সে রাজি হয়েছিলো নিজের শরীরের সব রক্তই দিদিকে দিয়ে দিতে।

আর নন্দি সেদিন রাতের জোছনার লুকোচুরিতেও ভাইয়ের ওপর সদা চোখ রেখেছিলো।শতরন্চির যে জায়গায় সেদিন রাতে সুজিত বসেছিলো,সেখানে নন্দি হঠাত খেয়াল করে,একটি বিষধর সাপ,মরণ কামড় বসিয়ে দেয় যেকোন সময় সুজিতের পীটে ।নন্দি আর এক মুহুর্তও অপচয় করেনি, নিজের জীবন বাজি রেখেই ভাইকে আগলে নিয়েছিলো।

অনেকদিন পর,নন্দি বিদেশ থেকে দেশের বাড়ি এসেছে। সুজিতের ঘরে প্রবেশ করে, কী যেন মনে করে একটি ডায়েরির পৃষ্ঠা উল্টোয়।সেখানে সুজিত লিখেছে, জীবনে প্রাপ্তির আর পূণ্যের ঘর একেবারে ফাঁকা।সারা জীবনের যতুটুকু সন্চয় তা হলো-প্রিয় দিদির জন্য এক ব্যাগ রক্ত।

আরেকদিন, বেখেয়ালে নন্দির ডায়েরির একটি পাতায় কেমন করে যেন ,আমার চোখ আটকে যায় ।নন্দি লিখেছে- এই আমি নন্দি, পথ থেকে কুড়িয়ে এনে প্রিয় চাচু জীবন দিয়েছিলেন একবার, আর মৃত্যপথ যাত্রী সাপে কাটা রোগীকে রক্ত দিয়ে সুজিত জীবন দিলো আরেকবার। এমন সৌভাগ্যবতি এক পরাশ্রিতা মেয়ে এই মহাসমূদ্র ভালোবাসার প্রতিদান দেয় কেমন করে?
ঘটেতো এক বিন্দু জলও নেই।

এর প্রত্যুত্তরে আমার আর কিছু লিখা হয়না কোনো ডায়েরির পাতায়-শুধু মনে মনে বলি,বিদেশের সবঐশ্বর্য,সুখের স্বপ্নীল ভূবন ছেড়ে এক নিঃসঙগ বুড়োর টানে এভাবে ছুটে এসেছো,যার মাঝে আমি হিমালয়ের মতো অবিচল নির্ভরতা খুঁজে পাই,এর চেয়ে বড় প্রতিদান আর কী হতে পারে,বলো,মা।
নন্দি,তুমি নিজেই যে সবচেয়ে বড় প্রতিদান ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28829513 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28829513 2008-08-10 23:18:15
যদি দালাল হতে পারতাম। কিংবা অফুরন্ত রোদ্রের তিমিরের স্মৃতিমাখা সুখ বিসর্জন দিয়ে -
আমি আজ বিবেকের কাঠগড়ায়।
এক অমনুষ্য জীবনের পথে।
আজ আমি অপব্যয়ী কল্পনার ইন্দ্রত্বের বাইরে এসে স্বেচ্ছায় ভুলে যাই- শরতের কোনো স্নিগ্ধ আকাশ।
অবিরল শ্রাবণের মুগ্ধতা কবিতার সব সুষমা লুপ্ত হতে থাকে আজ।
বিবেকের পটভূমিতে নিজের প্রতিচ্ছায়া আমাকে ভাবাতে থাকে।
এক অন্ধকার কুটুরে হৃদয়ের সব বিশ্বাস নর্দমার কলুষিত ধারার মতো আজ অচ্ছুত হয়ে যায়।
সেই নিমজ্জমান ,অবগুন্টিত কুটুরে মন্বন্তর যুদ্ধে আরো গভীর অন্ধকারে চোখ বুজি।
তারপর, এক অবারিত জ্যোতিস্কমন্ডলীর আলোয় ,
যখন-আমার ঘ্বণিত রুপ নিদারুন প্রণোদনায় -প্রতিভাত হয়,
ভাবি মানুষ মুখোশের অন্তরালে আমি এক অমানুষ,
সুশীল মুখোশের অন্তরালে আমি এক রুগ্ন বর্ণচোরা,
দেশপ্রেমীর অন্তরালে আমি এক কলুষিত কীট,
বুদ্ধিজীবীর অন্তরালে আমি এক পঁচে যাওয়া বিবেক।
যেখানে ,রক্ত নদী বহমান ,প্রতিনিয়ত-
সদা বহমান প্রতিদিন সীমান্তে লাল হয় মৃত্তিকা-
একজন মরে,দুই জন মরে, মানুষ,সৈন্য,কৃষক,বাঙগালি মরে,
এরা যেন কোনো মানুষ না, আহাঃ মানুষ নাহোক,কোন প্রাণীতো।
কোনো পতঙগের উপর যখন বুট চেপে আসে ,তবুও তো একটু বাজে।
আর ,নির্বিচারে হন্তা ,কোনো যখম কেন আমাকে আর এতটুকু বিচলিত করেনা।
কীসের ভয়, কোনো খ্যাতির,স্বার্থের,মোহের ,প্রলোভনের।
আমার বুক প্রশস্থ হয়েছে,অহরহ গতি সন্চালিত হয়েছে আমার শিরায়,
বুকের স্পন্দন মহাপ্রাণসাগেরর মতো কখনো স্ফীত হয়েছে-
যখন ভেবেছি আমি মহামনি কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক, শিক্ষক,ধনবান,বীর্যবান,শিল্পী,সাধু,সন্তু ,প্রভূ ...............।
ধিক! ছিঃ আমার এ আত্ম প্রবন্চনা।
ভোরের সূর্যস্বাদে,রাত নিশীথের জোছনায়,সমূদ্রের ভেসে আসা শীতল জলাধারের সুবাসিত কমনীতায় ,কোন নীলকন্ঠ পাখীর গুন্জরণে
আজ শুধু আমার গলিত ,পঁচা, দূর্গন্ধময় বিবেক দেখি।
সেই বিবেক এক মহা সুড়ঙগে অবন্তীর পথে নেমে গিয়ে-
৬৮ হাজার বর্গমাইলের এক নির্জন সীমান্তে -
যেখানে পড়ে থাকে আমার ভাইয়ের মৃত লাশ-
সেখানে তার চোখ আর উম্মোচিত হয়না।
মৃত ভাইয়ের লাশ আর আমাকে ভাবায় না।
অন্ধকারে,চুপি চুপি শাদা বরফের মতো ভাইয়ের হাসি আর ফিরে ফিরে আসেনা।
আসবে কেনো বলো, আসবে কেনো বলো,আসবে কেনো?
আমি যে সব হয়েছি, অবিমৃষতার পদভারে,
ভারতীয় দালালির নঁকশায়,আর পাকিস্তানী দালালীর দাগেও
তোমার মৃত লাশকে শুধু রাজনীতিতে ভাগাভাগি করে
পরম আত্মতৃপ্তিতে আস্বাদিত হয়েছি ভারতীয় আর পাকিস্তানি দালালির নির্লজতায়।
শুধু ৭১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ বছরেও
যে আমি জন্মভূমির দালাল হতে পারিনি।
যদি পারতাম-তবে দিনে ,সপ্তাহে ,মাসে ,বছরে এই জন্মভূমিতে-
অধিকারের শিকড় পাহারায় তোমার লাশ তোমার জন্মভূমিতেই
মৃত কাক পক্ষী ,শকুনের সাথে আর কোনোদিন এভাবে পড়ে থাকতে পারতোনা। আর কোনোদিন না, আর কোনোদিন না।

(আমার বড় লজ্জা হয় এ কবিতা সীমান্তে জীবন দেয়া কোনো মহান সৈনিক কে উৎসর্গ করতে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28822517 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28822517 2008-07-21 10:41:31
আমার প্রথম ভাগিনা রিশান আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে দিদারুল আলম বান্না মামা,
কালপুরুষ মামা,
সেকেতুরে মামা,
রাজামশাই মামা,
গিফার মামা,
মৈথুনানন্দ মামা,
কবিআব্দুল মামা,
তাকা মামা,
শফিউল আলম চৌধুরী মামা,
এক্স ফাইলস মামা,
মুকুল মামা,
হিমু রুদ্র মামা,
লুলু পাগলা মামা,
দই মিষ্টি মামা
এরশাদ বাদশা মামাকে শুভেচ্ছা।
এক্স ফাইলস মামার দেয়া "রিশান" অর্থ গুড হিউম্যান বিয়িং" এ নামটিই আমার মা-বাবা সহ সকলেই আমার জন্য পছন্দ করেছেন।
আমার জন্য দোয়া করবেন,আমি যেন নামটি অর্থবহ করতে পারি ।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28799445 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28799445 2008-05-18 18:47:09
ফ্যাক্ট আর ফিকশনের গল্প, সাথে একটি মোরাল,সারা জীবন মনে রাখার মতো।/বিহংগ কিন্তু গ্রামের মেঠো পথ,সেই জোনাকি আর তারার আলো দেখে দেখে হাঁটা।মাঝে মাঝে সরু বিলের আইল ধরে আমরা হাঁটছি।গ্রামে রাত অল্পতেই নিশি।তবুও জোছনা মেঘের আড়ালে মৃগনাভীর মতো মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে যায়।
আমি বলি, চাচা,কাল সকালে আসলেই হতো।এতো পথ পাড়ি দিয়ে তুমি এলে সামান্য বিশ্রামের ও সুযোগ হলোনা।
চাচা বলেন,চল হাঁটতে হাঁটতে সুন্দর একটা গল্প বলি।তাহলে পথের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে,আর বুঝতে পারবি,কেন আমি এতো তাড়া অনুভব করলাম।
চাচা, গল্প শুরু করেন। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনি।
ঠিক এমনি এক নির্জন গ্রামে ,সেই সুদূর স্কটল্যান্ডে অস্তমিত সূর্য্য ডুবি ডুবি করছে।দিনের উজ্ঝ্বলতা শিথীল হয়ে আসছে।নীলিমার আকাশে গুটিয়ে নিয়েছে পাখি তার ডানা।ঘরে ফিরার পালায় মহাকালে আরো একটা দিন।আরো কিছু জমিতে শষ্যের স্বপ্নে বিভোর এক দারিদ্র্য প্রান্তিক কৃষক।নিথর,নিস্তব্ধ ,প্রান্তরে ধূষর ভূমিতে তিনি একমনে স্বপ্ন বুনে চলেছেন।হঠাত কৃষক শুনতে পান গোংগানি,কী নির্মম গোংগানি,বাতাসে চাবুকের মতো চিরে চিরে কানে এসে বিঁধছে।
মুহুর্ত মাত্র দেরী না করে কৃষক হৃদয় ভাংগা গোংগানির পানে ছুটতে থাকেন।বেশী দূরে না,জলাশয়ের অল্পদূরে চোরাবালিতে আটকা পড়ে তলিয়ে যাচ্ছে এক কিশোর।একেবারে জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি। মধ্যবয়সী কৃষক জীবনবাজি রেখে কিশোরকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন।

কয়েকদিন পর কৃষক তার কুঁড়েঘরের সামনে দেখেন সুন্দর ,সুবেশীত একজন পরিপাটি ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন।তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না। ভদ্রলোক আঁশটে ঘামের ,কর্দমাক্ত কৃষককে বুকে জড়িয়ে ধরেন।বলেন-জনাব,আপনি আমার ছেলেকে প্রাণে বাঁচিয়েছেন।চোখ থেকে অশ্রুদানা গড়িয়ে পড়ছে তার।আপনার পদযুগলে আমাকে স্থান দিন, আর বলুন,কীভাবে আপনার খেদমত করতে পারি।
কৃষক বলেন, হে মহানুভব,আপনি যে কষ্ট করে এতদূর পথে এসেছেন তাতেই আমি মুগ্ধ হয়েছি,আর কিছু চাইনা। সেদিন শুধু আমি আমার কর্তব্যটুকু পালন করেছি মাত্র ।
ইতোমধ্যে,সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য কৃষকের অপুস্ট সন্তান।হাড়ভাংগা শরীর যেন পুরো সভ্যতাকে উপহাস করছে। ভদ্রলোক এবার বলেন,আপনি যদি কিছু মনে না করেন, তবে আপনার সন্তানের শিক্ষার ভারটুকু আমাকে দিন।

দিন যায়, বছর যায়, সময় মহাসময়ে আরো স্ফীত হয়। কিন্তু, পৃথিবীর মানুষ কী জানে- স্বপ্ন, জীবনের উচ্ছ্বাস,কোথাও আলোর নিশানা শূন্যের ভিতর থেকে মেঘ খন্ডকে সরিয়ে প্রদীপ্ত হয়ে ওঠছে দিনে দিনে। হ্যাঁ,তাই, সেন্ট মেরি'স হসপিটালের মেডিক্যাল স্কুল একদিন আলোকিত হয়ে ওঠে,আর সে আলো শুধু লন্ডনে না ছড়িয়ে পড়ে কুটিরে কুটিরে।পৃথিবীর বিখ্যাত সব পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে একটি নাম।নতুন আবিষ্কৃত "পেনিসিলিন"নিওমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জীবন রামধুনর আভায় রাংগিয়ে দেয়।শৈশবে অপুষ্ট শরীরে যেখানে কোনোদিন সজীবতার প্রলেপ লাগেনি,দরিদ্র কৃষকের সেই ছেলেটি মানুষের জীবন সন্জিবনী প্রলেপ নিয়ে আবির্ভূত হন।
আমি বলি, চাচা কার কথা বলছো তুমি?
সেই কৃষকের ছেলে,আলেকজান্ডার ফ্লেমিং, দুনিয়া ব্যাপী যিনি স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং নামে পরিচিত ।
আমি একেবার চমকে ওঠি।
চাচা বলেন, আরো কথা আছে,এখনো গল্প শেষ হয়নি।
কিছুদিন পর,আবার সেই অভিজাত লোকটির ছেলে প্রচন্ড নিওমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।জীবন আবারো বিপন্ন।কিন্তু পেনিসিলিন বাঁচিয়ে দিলো তাঁর জীবন আরেকবার।আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন দিয়ে শিক্ষার পিছনে ভদ্রলোকের দায় এভাবে পরিশোধ করে গেলেন।আর নিওমোনিয়া থেকে জীবন ফিরে পাওয়া লোকটি কে জানিস?
স্যার উইনস্টন চার্চিল, আর উনার পিতা ছিলেন লর্ড র‌্যান্ডলফ চার্চিল,যিনি দরিদ্র ফ্লেমিংয়ের শিক্ষার ভার গ্রহন করেছিলেন।
আমি বলি, চাচা-চার্চিল ত্রিশের দশকে প্রচন্ড রোগে ভুগেছিলেন জানি।পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয় কত সালে ১৯২৮ কিংবা ১৯২৯ সালে। কিন্তু এরকম যোগসূত্রতো আগে শুনিনি।তুমি কি আমাকে বলবে-ইতিহাসে এর সত্যতা কতুটুকু?
আমাদের গল্প শেষ হতে না হতেই আমরা মোতালেব স্যারের উঠোনে পা রাখি।যেখানে জীবনের পাশাপাশি ভ্রুকুটিল চোখে হানা পেতে আছে মৃত্যু।চাচা,স্যারকে কদমবুচি করেন, আমিও করি। ঘন্টাখানেক পরে নিস্তরংগ জীবনে মসৃন আলোর ভরসা রেখে ধীরে ধীরে আমরা বাড়ীর পথ ধরি।
চাচা বলেন, আজকে আমার জনম স্বার্থক হয়েছে,এতুটুকু ধূলিপরিমান ৃণবোধ শোধের যে কী সুখ।
জানিস,তোর মা বলেছেন কিনা জানিনা। দারিদ্র্যের সাথে প্রতিনিয়ত জীবন ঘষে ঘষে চলা ছিলো আমাদের জীবন।পড়নের ন্যাংটিও ছিলোনা,বারিষার টানা বর্ষন থেকে ঘর বাঁচাতো শনের ছাউনি।সেখানে পড়ালেখা ছিলো রীতিমত বিলাসীতা,ভাবতে এখন তোর অবাক লাগতে পারে।তখন এই মোতালেব স্যারই আমার সমস্ত পড়ালিখার খরচ যোগান দিয়েছিলেন।তাঁরও কি দারিদ্র্য কম ছিলো। সামান্য একজন প্রাইমারী শিক্ষক কত টাকাই বা পেতেন।সেদিন যদি তিনি মার্বেল আর গুলতি খেলা
সেই ছেলেকে ধরে এনে পাঠশালার বেন্চে না বসাতেন,তাহলে তোর পরনের এই জিন্স শোভা পেতোনা।আজ সুদীর্ঘ বারো বছর পর,আমার মন টানলো দেশে আসতে,আজই আসলাম।আর আমার কী সীমাহীন সৌভাগ্য দেখ,স্যারের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে পারলাম।শুধু সামান্য একটু ভরসা পেয়ে দেখেছিস স্যারের চোখ কেমন আনন্দে চিকচিক করছিলো।চাচার চোখে পানি দেখে আমিও অন্ধকারে মুখ লুকোই,রাতের আঁধারকে বড় বেশী আপন মনে হয়।উজ্জ্বল শফরীর মতো চাচার মন বুঝতে পারি,ভাবলাম এখন আর ইতিহাসে ফিরে গিয়ে লাভ নেই।এক অসীম অন্ধকার আকাশের নীচে এক কিশোরের বুকের নরম জমিনে চাচা জীবনের আলোর এক নতুন দানা বুনে দিয়েছেন।
রাতের নিস্তবদ্ধতা ভেংগে চাচা বলেন-পুরো পৃথিবী এক মহা শৃংখলে বাঁধা।চোখ বন্ধ করে বুকের উপর একবার হাতখানা রাখ।কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছিস কি?
আহবান,আহবান,আহ্বান।
যতক্ষন এ শব্দ থাকবে ,বুঝবি কেউ না কেউ হাত বাড়িয়ে আছে।মুঠোভরে কিছু দিতে না পারিস,মুখভরে অকৃত্তিম হাসিটুকু দিতে ভুলিস না।সময় থেকে মহাসময়ে মানুষে মানুষে সম্পর্কের টানে আছে এক ভালোবাসার খেয়া,সেই খেয়ায় একবার ওঠতে পারলে দেখবি-কী পরম প্রশান্তি।সীমাহীন অন্ধকার মহাশূন্যেও খুঁজে পাবি চির দীপ্তিমান আলোর প্রতিসারী। একটা কথা মনে রাখিস-
People may not remember exactly what you did,or what you said,but they will always remember how you made them feel.
আর মানুষের জন্য ভালোবাসা, মানুষের জন্য কল্যান কাওকে কখনো শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেয় না।মানুষ কী আর এমনি এমনি বলে-
"What goes around comes around"
আমি শুধু বুঝতে পারি ,আজকের রাত্রি আমার বুকে নক্ষত্রের এক অনুপম নদী হয়ে রইলো। পূবাকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে।চাচা আর আমি ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করি। আলতো করে দরজা খুলি,যেন কারো ঘুম ভেংগে না যায়।মা কিন্তু ঠিকই বলেন-কীরে তোরা এতোক্ষনে বাড়ি ফিরলি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28789363 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28789363 2008-04-19 20:01:59
আমার কী সীমাহীন কষ্ট /প্লিজ হেল্প নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
ব্লগে লুজিয়ানার কেউ আছেন কি? প্লিজ হেল্প।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28786216 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28786216 2008-04-08 23:24:12
এ ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই/বিহংগ খড়খড়া গ্রীষ্মের ভর দুপুরে
বড় শহর থেকে ডাক্তার দেখিয়ে,
আমরা ছোটরা কিছু বুঝি, কিছু বুঝিনা বাছারা
কী নিদারুন উতকন্টায় ছিলাম।
বাবার কিছুই হয়নিতো,প্রিয় বাবার কিছু হয়নিতো।
আর হঠাত করেই আকাশ এমন ছাইয়ের মতো মেঘলা হলো কেন।
বাবা,উঠোনে পা রাখেন।
আমরা কেউ বাবার হাত,
কেউ বাবার শাদা পান্জাবির আস্তিন জড়িয়ে
বাবাকে চেয়ার বসাই।
আজ থেকে ঠিক দুমাস পরে,
আমার যে বোনটির প্রথম সন্তান হবে,
যে ভালোবেসে তার সহপাঠীকে বিয়ে করেছিলো,
সে আবার চোরারাজনীতির ,চোরাগলির,চোরাবালিতে
ধূম করে একদিন মারা গেলো,
যার বউ হলো বিধবা,আর অনাগত সন্তান হলো পিতাহীন।
সে বাবার জন্য ঠান্ডা লেবু জল নিয়ে আসে।
বাবা,চুমুকেই সব শেষ করে বলেন-আহ!
আমরা সবাই বলি, আহাঃ বাবা কী শিশু!
বাবা, বলেন-তোমরা খামোকা চিন্তা করো।
ডাক্তার বলেছেন-
অতি গরমের চাপে শুধু একটু বায়ুছড়া হয়েছিলো,আর কিছু না।
আমাদের নিশ্চিন্ত করে বাবা মিটিমিটি হাসেন।
বাবার হাসি দেখে ,আমরা আবারো বলি, আহা,বাবা কী শিশু!
আমাদের ছোট শিশু কিন্তু বুড়ো শিশুকে পেয়েছেলো মাত্র চারমাস।
বিদায়ের সব আয়োজন শেষ হয়।
বোনের ছোট বাবুটি বড় হতে থাকে।
আর বোনের মাথায় শুধু চিন্তা পিতাহীন বাবুর বেড়ে ওঠা।
কী হবে?কী হবে?
একদিন রমিজ চাচা বাড়ী আসেন।
যিনি বাবাকে শহরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিলেন।
ছোট বাবুকে কোলে তুলে নেন।
আর তার ছোট ব্যাগ থেকে ডাক্তারি কিছু কাগজ ,
আর কিছু ছবি বের করেন।
যে ছবির কিছুই আমরা বুঝিনা,
শুধু দেখি-
কালোর ভিতর আলো লুকানো।
সবাই শুধু চাচার পানে চেয়ে থাকি।
চাচা, বলেন-ভাইজানের প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার হয়েছিলো।
ডাক্তার বলেছিলো-লাখ দশেক টাকা হলে চিকিতসা হতে পারে ।
তারপরেই ভাইজান, আমাকে নিয়ে বাড়ী ফিরেন।
আর শপথ করান,তোমাদের কাউকে কিছু না জানাতে।
চাচা, এবার আর কিছু কাগজ বের করেন।
আমাদের দীর্ঘশ্বাস প্রলম্বিত হয়।
মায়ের চোখে অশ্রুদানা,বোনের মুখে শাদা আঁচল।
বাবার স্নেহ চারপাশে ভাসতে থাকে।
চাচার হাতে ব্যাংক একাউন্টের কিছু কাগজ।
সেখানে আমাদের ছোট বাবুর নাম লিখা।
বাবা ,তার রিটায়মেন্টের পুরো দশলাখ টাকা বাবুর একাউন্টে জমা করে গেছেন।
আমরা বুঝতে পারি, সবাইকে বোকা বানিয়ে বাবা কোথাও মিটিমিটি হাসছেন।
আর বুঝি, ছবির মতো-
শত কালো মানুষের ভীড়ে বাবা আলো হয়ে লুকিয়ে আছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28783595 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28783595 2008-03-29 21:19:58
কালো রাতের পরে/বিহংগ নীলিমায় মাছ রাংগার আপনমনে ছবি আঁকার
কামরাংগার হলুদ পাতায় মোহনীয় সূর্যরোদের ঢেউয়ের নাচন,
শতবর্ষী বটের নীচে জীবন সতেজ হিমেল হাওয়ায় সুরের লগন,
ধূসর খাতায় ,ভালোবাসার, দ্রোহের কিছু পংক্তি লিখা,
পিতার ছবির সামনে চেয়ে আপনমনে ভাবতে থাকা।
বোনের চুলের রংগিন ফিতেয় মায়ের স্নেহের সুবাস পাওয়া
ভালোবাসার শিউলিমালা,জীবন গাংগে নৌকা বাওয়া।

বুকের মাঝে বারুদ নিয়ে,
ভাবছি বসে আর হবে কি?

আজ দিনের শেষে অস্তমিত সূর্যপ্রহর
বাহির থেকে ডাকছে আমায় মায়ের কবর।
সেখানে আনাগোনা বেশ কয়েকবার,
বইছে চোখে আগুন নদী মুক্ত হবার।

অবশেষে রাত বারটা,
বেজে চলেই,একটা দুটা।

জীবনতাড়া,পথের তাড়া,
পৌরষত্বের বীজের তাড়া।
আরেকবার মায়ের কবর
পুড়ছে বারুদ বুকের ভিতর।

মোহন,তাহের ,রাজন,কালা,
রক্ত দিয়ে ভাই পিদিম জ্বালা
সে পিদিম যে সূর্য্য সমান
এ সূর্য্য মানেই মুক্তির ই গান।

দ্রোহের আগুন বারুদে মিশাই
বোমা দিয়ে ভাই বক্ষ সাজাই।
লাল সবুজের পতাকা উড়াই
রক্ত দিয়ে আজ মুক্তি রাংগাই।

(শিউলির কাছে মোহনের কোনো স্মৃতি নেই আর।শুধু রক্তে ভেজা এ কবিতাটি সে পড়ে বছরের এক বিশেষ দিনে।যেদিন মোহন রক্ত দিয়ে মুক্তি রাংগিয়েছিলো। শিউলি আপন মনে পড়ে সবার অগোচরে। শিউলির জীবন বিবর্ণ হয়ে গেছে বয়সে,জরায়,শোকে,অসুখে।কিন্তু মোহন সেই একুশ বছরের চিরযুবা আজো রয়ে গেছে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28782279 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28782279 2008-03-25 09:24:19
চামচিকা হয়ে যখন জীবন উপভোগ করি /বিহংগ। কিয়দপরে, ব্যাঘ্র দরবারে প্রজাসীন বনবিড়াল,শিয়াল হাজির।
বনবিড়াল কয়েকটি মুরগি বাদশাহ সমীপে এগিয়ে দেয়। শাহানশাহ খুবই পুলকিত হন।জিহ্বা দিয়ে ওস্ঠ লালায়িত করেন।স্নেহের পরশে বিড়ালকে স্নেহসিক্ত করেন।এবার পরামর্শ করেন-বলতো বিড়াল-এ মুরগীগুলো কেমন করে বন্টন করা যায়।
মহাশয়ের স্নেহের আধিক্যে বিগলিত বিড়াল বুকে একটু সাহস নিয়ে বলে-মহাশয় জীবন মানেই ক্ষুধা।আপনারও পেট আছে,আমাদেরও আছে। তাই বলি কি,পাঁচটি মুরগীর চারটিই আপনি খান। আর একটি আমি ,আমার বউ,আর সন্তানরা মিলে পেটের আগুন শীতল করি।
অতি নিরীহ বিড়ালের কথা শেষ হয়না-ব্যাঘ্র মহাশয়ের স্নেহের হাত এবার গজার কাঠ বিদীর্ন করা করাতের মতো তার গাড়ে গিয়ে পড়ে।
এবার শিয়ালের পালা।ধরে আনা ছাগলটা জাহাপনার দিকে এগিয়ে দেয়।
ব্যাঘ্র মহাশয়, স্নেহের হাত রাখেন শিয়ালের উপর।জিহ্বা চুকচুক করে বলেন-বলতো শিয়াল, খাবারগুলো কেমন করে বন্টন করা যায়।
শিয়াল বলে-মহাশয় এখানে বন্টনের কিছুই নাই। আপনি বয়সে, ওজনে,শরীরে, শিক্ষায়, বিচারে,গুনে কতবড়ো। আপনি যদি না থাকেনতো এই বনের ঐতিহ্য , অহংকার,মান সম্মান কিছুই রইলোনা। আপনাকে আমাদের মংগলে প্রতিনিয়ত অনেক চিন্তা করতে হয়। আর যতবেশী প্রজাদের চিন্তা আপনি করবেন আপনার ততবেশী ক্ষুধা হবে। আপনার সব ক্ষুধা নিবাড়নের দায়িত্ব আমাদের। তাই, বিড়ালের আনা মুরগীগুলো সকালে আপনি প্রাতঃরাশ হিসাবে খাবেন, ছাগলের চারটি পা দিয়ে আপনি দুপুরে লান্চ করে একটা ভাত ঘুম দিবেন, কারন আপনি যদি আরামের ঘুম
না দেন তাহলে প্রজাসাধারনের জন্য সুচিন্তা কেমনে করবেন। আর রাতে ছাগলের অবশিষ্ট দেহ আর মাথা খেয়ে রাতের ঘুম দিবেন।
ব্যাঘ্র মহাশয় বড়ই পুলকিত হন শিয়ালের উপর। জিগ্গাসা করেন-আসলেই তোমার মগজ অনেক তীক্ষ্ণ। শুধু জানতে চাই-এরকম সুষম খাবার বন্টন শিখলে কেমন করে।
শিয়াল বলে- মহাশয়,শিখার কি কিছুই আছে।সব আপনার দয়া, নিজের চোখের সামনেইতো বিড়ালের ভাংগা গর্দান দেখতে পাচ্ছি।
যখন কোনো জলপাইয়ের সামনে যাই,
আপন অধিকার আদায়ে,
চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী হয়ে পেনশনের টাকার জন্য
কোনো আমলার সামনে ,
অখ্যাত লেখক হয়ে ,কোনো প্রথিতযশা সম্পাদকের টেবিলে,
গার্মেন্টসের ষোলঘন্টা হাড়ভাংগা খাটুনি শেষে যখন,
স্ফিত চর্বির নাদুস নুদুস কোনো মালিকের সামনে ,
কিংবা সদরঘাট লন্চের কোনো টিকেট,
সরকারী রেলের একটা আসন,
হলের একটি সীটের জন্য কোনা নেতার সামনে,
পরীক্ষা পাশের কোনো সার্টিফিকেটের জন্য,সরকারী দফতরে,
নিজের ঘামে উপার্জিত টাকায় দুকেজি চালের জন্য,
কোনো আড়তদারের দোকানে,
জমির সারের জন্য কোনো ডিলারের সামনে,অথবা
অক্ষম পুত্র হয়ে-
মুমুর্ষু পিতাকে সরকারী হাসপাতালে ভর্তির কোনো মিনতি নিয়ে
চেয়ারে বসা লোকটির সামনে যাই-
ঠিক তখনি গল্পটি আমার মনে আসে,
মনে হয় পৃথিবীতে কত ক্ষুধা,-ভোগের ক্ষুধা, টাকার ক্ষুধা,অহংকারের ক্ষুধা,ক্ষমতার ক্ষুধা, যশের ক্ষুধা, মোহের ক্ষুধা,প্রতিপত্তির ক্ষুধা,
উপরির ক্ষুধা,আপন চেয়ারকে চিরস্থায়ী করার ক্ষুধা।
তাতে ,চামচিকার মতো আমাদের কোনো কিছুই করার নেয়।
আর বুকে সাহস নিয়ে যখন ন্যুনতম অধিকারের কথা বলতে চাই-
ঠিক তখনি- নিজের অজান্তেই হাতটি আমার আপন গর্দানের পাশে চলে যায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28781583 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28781583 2008-03-22 21:29:32
তোমরা আমায় চিনতে পেরেছো কি? অশ্রুসিক্ত নয়নে শহীদদের স্মরন করছি।
ধূসর সময়ের প্রান্তরে প্রান্তরে-
গহীন সময়ের আলো আর অন্ধকারে,
এক অশ্বথ বটের নীচে আমি শুনি শতাব্দীর নিঃশ্বাস-
শুনি নিভৃত কুহকের ডাক,আর দেখি সজল বিলের গাংগচুর জলা হাঁস
হৃদয় মন্দিরে খুঁজি চারহাজার বছরের মাটির আঘ্রান-
কত সাধু আর তাপসীর প্রান আকুল করা সুধা,হাজার বছরের গান,
আজ আমি সেই হ্বদয় মত্থিত সুর
আর রাখালির বাঁশীর কথা বলছি-
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

ফাল্গুনের ছায়া মাখা রোদে,
ঝরনার চঞ্চলতায়- চক্রবালের নীরব জনপদে-
বিলীন পটভূমির ইতিহাসের প্রথম উতস থেকে-
মনে পড়ে সেই আর্য আর দ্রাবিড়,
আমি আজ সেই খুঁজে ফেরা শৈশবের কথা বলছি-
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

দুহাজার ছয়শত আট সাল আগে,
অংগ,ভংগ,মগধের নিরজনে,
সুজলা,সুফলা,শশ্য,শ্যামলা,গিরি ,কুন্তলায়,
নির্ঝর বহমান নদী আর হ্রদে, পাখীর কলতানে,
অবারিত নীলের বিস্তৃত আকাশের ঠিকানায়,
জনপদের সেই অবিস্মরনীয় সূর্য্য পরিক্রমায়
প্রতিনিয়ত আমার বেড়ে ওঠার কথা বলছি-
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

আমি ছিলাম,রামায়নে,মহাভারতে,
যেখানে বিম্বিসারের,অজাতশত্রুর,শাসনের দীপ্তিতে
আশ্চর্য্য প্রশান্তিতে ভরিয়ে রেখেছিলো আমার মন,
যতিহীন জীবনের সেই প্রানের স্পন্দন,
স্ম্বতি আর সহস্র লগনের কথা বলছি,
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

তারপর সহসা একদিন-
বুকের উপর ছুটে চলা স্রোতস্বীনি গংগার ঢেউ
উন্মত্ত ক্রোধে তেজী অশ্বের লাগাম টেনে দাঁড়িয়ে কেউ
২৩৩৪ বছর আগে-নন্দ রাজ্যের রুপালী জোছনায়,
আমার সূর্যনদীর পাড়ে,সূর্যসন্তানেরা ,সূর্যপরিক্রমায়-
গেয়েছিলো সেই রামধুনর সাতরংগা বিজয়ের গান
আর আমি মহাবিস্ময়ে দেখেছিলাম তোমার ভীতু প্রস্থান-
মহাবীর আলেকজান্ডার ,তুমি গুটিয়ে নিলে তোমার চরন-
আমার গৌরব,আমার অহংকার ,আমার চির দীপ্তিমান উজ্জ্বলতায়
আমি আজ সেই তেজোদীপ্ত বিজয়ের কথা বলছি,
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

তারপর ছায়া ঢাকা, পাখী ঢাকা, শান্ত ,সূর্যে চন্দ্রে সুনিবিড়
কেটে যায় কত বছর ,কত যুগ-কত রংগের আবীর,
মায়ায় মায়ায় ভালোবাসার সেই পূর্ণ তিমির,
মূর্য,গুপ্ত রাজ্যের ইতিকথা,কত তমালের আর হিয়াল
মনে পড়ে চন্দ্র গুপ্ত মূর্য,মহান অশোকের পর ৬০৬সাল।
মহান শশাংকের পর আসে ধর্মপাল।
খিলজি আসে, সালতানাত হয়, আফগান,মুঘল,তূর্কির অধিকার-
শের শাহ ছুটে চলে সোনারগা থেকে পেশোয়ার,
কত ইট কত সুড়কি,স্মৃতির সেই গ্রান্ড ট্রাংক রোড,আর স্মৃতির মিনার,
আমাকে বলা হয়েছিলো-
আমি যেন এক পুরো জান্নাত, প্রাচুর্য্যের সমাহার,
আজ আমি সেই ঐশর্য্যের কথা বলছি
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

এবার ,সেই ঐশ্চর্য্যের লোভে আসে ধূর্ত শিয়াল,স্বপ্ন হননের ছল,
অন্ধ কুটুরে আমার দীপ্তি নিঃশেষিত হয়,কাঁপে আমার অন্চল,
বাণিজ্য বেসাতির নামে বিবস্ত্র করে আমার সবুজ আঁচল
বিশাল আকাশের নীলিমায় চন্দ্রহরনের সময় সেতো ১৬৭৩ সাল,
এক কলংকের তিলক -কলকাতা থেকে মাত্র ৩০ মাইল
দূরে চন্দ্রনগরে -ফ্রেন্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
শিয়ালের পর আসে হায়েনার দল,
১৬৯০ সাল-শুরু হয় আমার বুকে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ার গ্লানি ।
শুরু হয় আমার অশ্রুপাত, বিষাদের নিরালয় শূন্যে হাহাকার করে প্রান
সিরাজ পলাশীতে, আর কাশিম বক্সারে নির্মমভাবে হেরে যান।
কাঁদে বাংলা, বিহার ,উড়িষ্যা-এই ছিলো আমার ললাটে
আমার দুঃখ, আমার আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা-
মীর জাফর শব্দের সাথে আমার পরিচয় ঘটে,
আজ আমি সেই স্বর্নীল আকাশে, বেদনাবিঁধুর
ক্রন্দনভরা মেঘাচ্ছন্ন দিনলিপির কথা বলছি,
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

শতেক বছর পরে আবারো ১৮৫৭ সাল,
দাম্ভিক ব্রিটিশ রাজ,চলে শোসনের কূটচাল
ভাংগন, ভাংগন,ভাংগনের খেলা সেতো ১৯০৫ সাল।
কিন্তু একি কৃষ্টি ,সভ্যতা, হাজার বছরের মিলিত রুপ ,জোয়ার ভাটার টান
সূর্য্য ,চন্দ্রের আলো ফারাক হতে পারেনা।এ যে আমারই সন্তান,
আবার মিলিত হয় একি মোহনায় ১৯১২ সাল।
তবু, আমার নীলিমায় উড়ে দেশী,বিদেশী শকুন-
আর নক্ষত্র খচিত হয় কত হাজারো নাম
মুক্তির মন্দিরে বলি হতে থাকে কত ক্ষুধিরাম,
তেপান্তর ঘটে কত মহান বীর সেনানীর
ফাঁসীর মন্চে ঝুলে কত সূর্যসেন,কত সূর্যসন্তান
আমি আজ সেই বীরের শোনিত ধারার মর্মন্তুদ অগ্নির কথা বলছি,
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

এরপর হানা দেয় ধর্মের কূটকৌশল,
নীল আকাশে অবিরাম গাংগচিলের গোংগানি,
আমি আবারো ভাংগনের ক্রন্দন,
বিবেদের বিষময় শংকচূড় শব্দশুনি-
দ্বিখন্ডিত হই ,আরেকবার সেতো ১৯৪৭ সাল।
এবার রক্তচূষা ব্রিটিশ বেনিয়ার সম্পদ লুন্ঠিত প্রস্থান।
১৯৫৮সালে আমার কলংকিত নাম চাপিয়ে দেয়া হয়,
আমি হই ভাগ্য বিড়ম্বিত ইস্ট পাকিস্তান।
শূন্য হতে থাকে আজন্মলালিত আমার মাতৃত্বের বুক-
সন্তান হারা আমি-শোকে শোকে পাথর হয়ে যাই।
প্রতি ইন্চি বর্গমাইল লুন্ঠিত হয়, হানা দেয় বর্গি-
স্ফীত চর্বির সারমেয় শাবকের দাঁতালো নখর
৬৮হাজার বর্গমাইলের মাটিতে বিদ্ধ হয়।
এরপর আমার শস্য, আমার বসতভাটি,আমার উচ্ছ্বাস,
আমার কন্ঠ ,আমার অধিকার ,আমার সুখ, আমার নিঃশ্বাস,
আমার স্বপ্ন,আমার আহলাদ, আমার কৃষ্টি,আমার তৃষ্না,
আমার সভ্যতা,আমার সংগীত,আমার আরতি, আমার জোছনা,
আমার শ্যামলিমা, আমার নদী, আমার ঘাস, আমার হাসি, আমার তিথী,
আমার জীবন,আমার বেড়ে ওঠা, আমার সাচ্ছন্দ্য, আমার মৃত্তি,
আমার জল ,আমার পাঠাঘার,আমার শিল্প,তিলে তিলে লুন্ঠিত হয়।
আজ আমি সেই জুলুমের ,নিপীড়নের ,নির্যাতনের, বন্চনার,শোষনের,নিস্পেশনের,ছলনার,কথা বলছি
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

তারপর আমি দেখলাম-
বুকে আমার বয়ে চলেছে অবিরাম রক্তগংগা,
রক্তের পদ্মা ,মেঘনা,যমুনা,কুশিয়ারা ,আড়িয়াল খা,
লাশের ভরা নদী, বিরান মাঠ,
মৃতের অরন্যে লাশের পাহাড়,
খুনের জোছনা-চারপাশে নিদারুন নিস্তব্ধতা
আমার সন্তানের লাশের গন্ধে ভারী হলো আমার নিঃশ্বাস।
১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর-
স্বজন হারানো দুঃখের পালা।
মাতার সন্তান হারানো দুঃখ,
কিন্তু এতুটুকু ভাংগেনি আমার বিশ্বাস,
আহা ,সেদিন বিজয়ের সেই লগনে আবার আমার নব জন্ম প্রাপ্তি,
শকুন,হায়েনা, ধূর্ত, নরপিশাচের কবল থেকে আমার মহা মুক্তি।
আমি হলাম ধরনীর এক বীর প্রসুতি মা,
মায়ের জন্য জীবন দেয়া রক্তবীজের সেই সব সূর্যসন্তান, কোথায়-
দোয়েলের সুরে,রাখালীর বাঁশীতে,নৌকার পালে, আম্র মুকুলে?
নক্ষাত্রোলিকত আকাশে আকাশে-সোঁধা মাটির সবুজ শ্যামলিমায়?
আজ আমি সেই হারিয়ে যাওয়া চির দীপ্তিমান নক্ষত্রদের কথা বলছি-
তোমরা আমাকে চিনতে পেরেছো কি?

না,না পারোনি, তোমরা আমাকে এতুটুকু চিনতে পারোনি?
আমার দুঃখ, আমাকে চেনার সেই সূর্যসন্তানেরা আর নেই ।
ওরা পরম শান্তিতে আজ আমার বুকে-
ঘুমিয়ে আছে,
ঘুমিয়ে আছে,
ঘুমিয়ে আছে।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28781166 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28781166 2008-03-21 12:31:47
এ অনন্ত প্রতিপদে-আমি অস্তগামী হয়েছি/বিহংগ মাঃজীবনের আশ্বাস কবে শেষ হবে,রামধনূর বর্ণিলে তুই সাতরঙে হাসছিস পূবাকাশে।
খোকাঃ চারিদিকে স্তুপ,ইট,সুড়কি,পলেস্তার,সভ্যতা বিনির্মানে সভ্যতার ভাংগন,জানিনা লাশের জনপদে কবে ফুলের উদ্যান হবে,তবে রাইফেলের শীতল স্পর্শে নিদ্রায়ও বারুদের উত্তাপ নেই।
মাঃনিশ্চিহ্ন জনপদে ফুলের ঘ্রান,এক ধূসর নিস্প্রান জগতে গলিত লাশের সাথে ঘ্রান দিয়ে মানুষ হননের ব্যাপ্তির শৃংখল থেকে খোকা ফিরে আয়।
খোকাঃ সহসা আসছি,মাথার সিঁথির ফাকে তোমার সাতটি সাদা চুল নিজ হাতে তুলে দিবো এবার,সাথে আসছে এক বন্ধু-জন্ম থেকে বেড়ে ওঠেছি একসাথে।সুখ-দুঃখের অংশীদারিত্বে জীবন একি মোহনায় মিলে গেছে।
মাঃ ভালোইতো।শত্রু হননের যুদ্ধ থেকে জীবনের অফুরন্ত তিমিরে সহযোদ্ধাকে একসাথে পাবি।
খোকাঃ মা, বিচ্ছুরিত এলুমিনিয়ামের ছিটকে পড়া আলোর মতো বন্ধুর এক হাত আর পা নিশ্চিহ্ন হয়েছে,জানেনা এখন ,শুধু আশার বৈতরনী নিয়ে থমকে পড়া জীবনের নাও,কোথায় নোংগর করবে?
মাঃ কয়েক পলক নিশ্চুপতা,আকাঙক্ষার জানালায় রুপালী রৌদ্র যেন এইমাত্র প্রস্থান করেছে।একদিকে স্নেহাস্পদ পু্ত্রের বাল্যবন্ধু,অন্যদিকে বিকলাংগ এক অজানাকে সংসারে আজীবন লালন,অনাগত নক্ষত্রের রজনীতে কালবোশেখির ছায়া।খোকা-ওকে রেখে আসতে পারবিনা?
(লাইন কেটে যায়)
দু মাস ১২ দিন পর...............................................
টেলিফোনঃ ফাঁকির কৌশলে আরেকজন।খোকা মরনসিন্ধুর বুকে সূর্যাস্ত হয়েছে।স্বর্গীয় কাপড়ে শয্যাশায়ী,জননীর প্রতিক্ষায় সামরিক তোপধ্বনি প্রলম্বিত হচ্ছে।
মাঃ চোখে ব্রহ্মার বিস্ময়।জীবনের তিমিরে জ্বলন্ত অংগার।অবিরত সংগোপন অশ্রুতে সমুদ্র হচ্ছে বুক।পুরো উপত্যকা ধ্বংসের মাঝে শঙখচূড় সাপের মতো শ্বেতকায়া হাসপাতালের মর্গ।লঘু স্পর্শে অনাবৃত হয় লাশের মুখ, খোকা, খোকা, খোকা,খোকা...................................
বিষন্নতার স্থির প্রতীকের মতো শূন্যতা,
চারিদিকে অক্ষমতার গ্লানি,শুধু একটি লাইন কাঁপতে থাকে বাতাসে.....
সিস্টার গুলি কোথায় লেগেছিলো?
সিস্টার আরেকবার অনাবৃত করেন-পুরো লাশের দেহ,
এবার চমকে ওঠেন মা-
খোকার একটি হাত আর পা নিশ্চিহ্ন হয়েছে।খোকা কার কথা বলেছিলো তবে-"বন্ধুর এক হাত আর পা নিশ্চিহ্ন হয়েছে,জানেনা এখন ,শুধু আশার বৈতরনী নিয়ে থমকে পড়া জীবনের নাও,কোথায় নোংগর করবে? "
মা কাঁদছেন-"রামধুনর বর্নিলে খোকা তুই হাসছিস পূবাকাশে।"



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28777886 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28777886 2008-03-10 02:32:56
জানিনা,পেরেক কোথায় বিঁধে আছে/ছোট গল্প আমার পাশে বসা ভদ্রলোক,সব লক্ষ্য করে বললেন-আহারে যুবক-কেন যে মিছেমিছি চড় মারলে। যা হবার তা তো হয়েই গেছে।আসলে তোমার সুলাইমানের গল্পটা জানা দরকার ছিলো।বলেই আমার দিকে ফিরে থাকালেন।আমার ও সময় কাটেনা। আমি বলি ,সুলাইমানের গল্পটা কেমন?

ভদ্রলোক অতি আগ্রহে গল্প শুরু করলেন-
একজন নিরীহ প্রাইমারী ইস্কুলের শিক্ষকের ছেলে সুলাইমান এমন জালিম ছিলো-তারপর আবার সাধু হয়ে গেলো একবারে আজিব ব্যাপার।
সুলাইমান-রিকশা থেকে নেমেই ড্রাইভারকে চড়াতে শুরু করলো একটা টাকা বেশী চাইছিলো বলেই।
বাড়ী,এসে দেখে উনুনে এখনো ভাত।সুলাইমানের মাথা- গরম ভাতের মতো গরম হয় আর সিদ্ধ ভাতের ধোঁয়ার মতো মাথা থেকে ভাঁপ বের হতে থাকে।রাগের মাথায় মারলো কাজের মেয়ে জরিনারে এক চড়।
আকমল মাস্টার রাতে বাসায় এসে যথারীতি ছেলের একই কীর্তি শুনেন।
ভোরে পূবাকাশে আলো ফুটছে।চারদিকে প্রশান্তির বাতাস বইছে,ফুরফুরে হিমেল হাওয়া।আকমল মাস্টার ছেলেকে ঘুম থেকে জাগান।হাত মুখ ধূয়ে বাপ আর ছেলে অল্প কিছু পেটে চালান দিয়ে গ্রামের আল ভরাভর হাঁটতে থাকে গন্জের দিকে।
সুলাইমানের বায়ুচড়া মন বড় বেশি উচাটন।বাপ আজ সকাল বেলায় তারে নিয়ে কোথায় রওয়ানা দিলেন।
দুজনে রহমত ব্যাপারীর ভূষিমালের দোকানে আসে।নানারকম সওদা শেষ করে।তারপর,মাস্টার মশাই, সুলাইমানকে বলেন-ছটাক তিনেক পেরেক কিনে নিতে। পূবাকাশের আগুনের গোলা মাথার উপর ওঠতে না ওঠতেই দুজনে বাড়ি ফিরে আসে।
আকমল মাস্টার ছেলে সুলাইমাকে নিয়ে খেতে বসেন।খাওয়া দাওয়া শেষ করে , ছাতিম গাছটার নীচে গিয়ে বসেন।তারপর তিন ছটাকের পেরেকের থলেটি ছেলের হাতে দেন। শান্ত-ধীরে ছেলের মাথায় হাত রেখে বলেন-যখনই তোমার মেজাজ চড়া হবে -কারো সাথে অভদ্র ব্যবহার করবে তখনই একটি করে পেরেক এই ছাতিম গাছের বুকে বিধঁবে।
তোমার জন্মদাতা বাপ হিসাবে এই অনুরোধটুকু কি বেশী হয়ে যাবে?
মাস দুয়েক পর-
চৈত মাসের প্রচন্ড গরম পড়েছে।আকমল মাস্টার শীতল বাতাসের টানে ছাতিম গাছটার নীচে এসে বসেন।দেখেন অনেকগুলো পেরেক ছাতিম গাছটায় বিঁধে আছে। সুলায়মানকে ডাকেন।বলেন-ও আরেকটি কথা,যে পর্যন্ত তোমার মেজাজ নিয়ন্ত্রনে থাকবে -কারো সাথে ভালো ব্যবহার করবে,একটি করে পেরেক এখান থেকে তুলে ফেলবে।
মাস দুয়েক পর আকমল মাস্টার দেখেন ছাতিমের গাছে আর কোনো পেরেক নেই।
তিনি ছেলেকে নিয়ে ছাতিম গাছের পাশে যান। তারপর বলেন-আমি খুশী হয়েছি। তোমার মেজাজের পরিবর্তন হয়েছে দেখে। যাদের সাথে প্রতিনিয়ত খারাপ ব্যবহার করতে ,রিকসা ড্রাইভার,কাজের মেয়ে, স্বজন, বন্ধু, পরিজন সবার সাথে ভালো ব্যবহার করছো।কিন্তু গাছটার দিকে চেয়ে দেখো-সেই বিঁধে যাওয়া পেরেকগুলো আর নেই ,কিন্তু দাগগুলো ঠিকই রয়ে গেছে।এ দাগুগুলো কিন্তু কখনোই মুছে যাবেনা। কখনোই না।
শারীরিক আঘাতের চিহ্ন যেমন দাগ রেখে যায়, মানসিক আঘাত,খারাপ ব্যবহার, কোনো তাচ্ছিল্য ,কোনো অবহেলা,অহমিকা,বড়ত্বের অহংকার,রাগের চোটে অসাবধানতাবশতঃ কোনো অর্বাচীন বাক্যও মানুষের মনে চিরস্থায়ী দাগ রেখে যায়।
সেদিন যে ড্রাইভারকে চড় মেরেছিলে বাজারে, মনে আছে?শুনেছি সে আর নেই, ট্রাকের চাপায় পড়ে মারা গেছে।আমার বড় কষ্ট হচ্ছে তোমাকে ক্ষমা করার মতোও আর কেউ পৃথিবীতে রইলো না। তাই, সবসময় ভুল করে যে আবার ক্ষমা চাইবে ,সে সুযোগ ও আর না আসতে পারে।
ইতোমধ্যে আমার বাস এসে দাঁড়িয়েছে। আমি বলি, হুম শুনলাম,আপনার গল্প।আমাকে এবার যেতে হবে। যদি ,আপনার নামটা বলেন-
লোকটি বলেন-আমার নাম হলো সুলাইমান। সেই আকমল মাস্টারের ছেলে।
বাড়ী ফিরার পথে গাড়িতে বসে আমি চিন্তা করছি-এই ছোট জীবনে কত জনের বুকে যে কত পেরেক বিঁধে রেখেছি, মুছাতো যাবেনা,কিন্তু সব তোলে ফেলার সময় পাবোতো?

(একটি ইমেইলের সূত্র অবলম্বনে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28777395 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28777395 2008-03-08 11:21:06
যে মাটির নীচে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা, দে না,তোরা দে না,সে মাটি আমার অংগে মিশিয়ে দে না। নিজ বুকেতে গুলি
নিলিরে ভাই,
মিছে মিছেই জীবন দিলি,
৩৭বছরেও হিসাব নাহি পাই।
খুব বেশী ভয় পাচ্ছিস?
মৃত্যুর পরেও ভয়,
ওরা আসছে,কিন্তু
প্রতিবারেই যেমনি হয়,
ফুল দিতে।
আমি জানি তুই গুলিতে-
না,
ফুলেই বেশী ভয়।
আর শকুন ,শকুন-
এখনো উড়ে?
হ্যাঁ,
তেমনি আছে,
যেমনি একাত্তরে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28777110 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28777110 2008-03-07 09:08:56
সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলি-People are not altruistic ,by nature।চিরায়ত প্রকৃতির ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের এ অমীমাংসিত দ্বন্ধ্বে যেখানে টিকে থাকাই মুখ্য
সেখানে-আপন অধিকারের মৃত লাস বহন করবে কে?কিন্তু এ অধিকার যদি শুধুমাত্র এক টুকরো রুটির বিনিময়ে অবারিত স্বাধীনতাকে অবলোপিত করা হয়,তাহলে সমাজ তন্ত্রের প্রতি কোনো বিরুপতা নেই।তারপরও,কথা থেকে যায়-সেই কথা আমি একটি ছোট গল্পের মাধ্যমে শেষ করবো।
সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়-রুটি বন্টনের আইন হয়েছে, একেবারে যথাযথ।তবে শাসক সে রুটি দেয় কি? নাকি শুধু আইন করে।
"The Politics of Servitude " বইয়ে Etire চমতকার এক উপসংহার টেনেছেন The government Under USSR comes in the name of justice,but frequently ends in injustice.
কিন্তু কীভাবে এ অবিচার হয়-তা এবার একটু অন্বেষন করি।আপনি নিশ্চয়-Robert Lefevre(লাস্ট নেমের বানান ভুল হতে পারে,সরি)এর বিখ্যাত বই "The bread is mine" বইটি পড়ে থাকবেন।সেখানে মূল কথাটি হলো-আমার মাথার ঘামের পরিশ্রান্ত কষ্টে উপার্জিত রুটিতে শুধু আমারই অধিকার থাকবে।অথবা,আমার পরিপূর্ণ ইচ্ছা আছে ইচ্ছানুযায়ী স্বীয় উতপাদন বন্টনের।যেমন-এ রুটির ভাগ আমার বাপ পাবে কি ভাই পাবে,অথবা কোনো ক্ষুধার্তের ক্ষুধা মিটাবে তার একমাত্র অধিকার উতপাদকের।কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়-তা একটু ভিন্ন বৈকি।এ রুটির উপর কর্তৃত্ব থাকবে একচেটিয়া সমাজের।এক্ষেত্রে আমি -মোল্লা আর পাদ্রি সম্প্রদায়কে দূরে রাখলাম-কারন তাদের মতে ,শ্রষ্টার ক্ষুধা থাকুক বা না থাকুক রুটির একমাত্র মালিকানা শ্রষ্টার।
যাই হোক, আলোচনা সোসালিজমেই সীমিত রাখি। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ রাস্ট্রীয় ব্যবস্থা চালিত হয় আবার-একচেটেয়া ক্ষমতায়ীদের দ্বারা।
Nomenklatura নামে এ দলটি Political monopoly লাভ করেছিলো শাসনের একবারে শুরুতেই। ঠিক সে সময়ে নাগরিক অধিকার কতুটুকু ছিলো তা নাই বা বললাম।শুধুমাত্র একটি রুটি না ,সমস্ত প্রোডাকশন সিজড করা হয়েছিলো নতুন সমাজ বিনির্মানের নামে।
রুটি বাদ দিয়ে এবার একটু শ্রম আর পুঁজির দিকে দৃষ্টিপাত করি।অর্থনীতিরএই দুটি জিনিস শ্রম আর পুঁজি যা অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা-মানুষের মেধা প্রকৃতির অনন্য দান।যাই ,বলি না কেন-এই মেধাকে স্বীকার করতেই হবে,এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ইউরোপিয়ানরা যখন আমেরিকা আসে তখন এখানকার মোট জনসংখ্যা এক মিলিয়নের বেশী ছিলোনা। মেধা কাজে লাগিয়ে সেই জনসংখ্যা আজ শত মিলিয়নে ছাড়িয়ে গেলেও শ্রম ,পুঁজি আর মেধার মাধ্যমে সম্পদের প্রতিনিয়ত প্রবাহের ধারায় তা এখনো সুন্দর ভাবেই টিকে আছে। আমেরিকাকে আমরা কথায় কথায় বেঘোর গালাগালি করি, বিশ্ব পুলিশ বাহিনী হিসাবে এ গালাগালি একবারে অযাচিত ও নয়।তবে শুধু প্রাইভেট কন্ট্রিবিউশন যদি বিবেচনা করেন-তবে ফাইনান্সিয়ার এক্সপ্রেস ম্যাগাজিনের ডাটা অনুযায়ী-আমেরিকানরাই সবেচেয় বেশী চ্যারিটি কন্ট্রিবিউটর।কারন কি-
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়-always rewards hard workers. অন্যদিকে Socialism punishes hard work by talking away from those who earn more. এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই , মানুষের কর্মচান্চল্য কমে আসে , যেখানে কোনো ইনসেনটিভ কাজ করেনা।জীবন নির্বাহে যদি প্রতিনিয়ত ওয়েলফেয়ারের দিকে থাকিয়ে থাকতে হয়,তবে অন্যের চ্যারিটি করাতো দূরের কথা। আর যে কথাটি আমি আলোচনার শুরুতেই বলেছি-By nature -people are not altruistic.
পুঁজিবাদের যে কোনো চ্যালেন্জ নেই তা কিন্তু না। Nomenklatura যে সমস্ত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন ঘটিয়েছিলো সীমিত মানুষের হাতে ,তাই মানুষের বেঁচে থাকার স্পন্দন কেই রোধ করেছিলো।পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-মূল সমস্যা হলো আসলে ঐ করাপশানে। নীতি যতনা আমাদের ক্ষতি করে,নীতির অন্দর মহলে লুকায়িত দূর্নীতি তা করে তুলে আরো প্রকট।আর এ করাপশান আসে ঠিক তখনি-যখন আমরা দেখি too much power in the hand of too few people. এটা রাশিয়ার লাল দরজার অন্দরে যেমন সত্য , ঠিক তেমনি বাংলাদেশের হাওয়া ভবনের ক্ষেত্রেও সত্য। একটি পুরো সমাজব্যবস্থার অবক্ষয়ে যখন বেঁচে থাকার সব চাহিদা শুধু ভোগের রুটি হয়ে যায়, আর পুঁজিবাদী আর সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার দূর্নীতি যখন দুটি নেকড়ে হয়ে তার কর্তৃত্বে ছুটে আসে- তখনই গরীব আরো গরীব হয়, ভুখা নাংগা মানুষ না খেয়ে মরে।
তাই ,একচেটিয়া ভাবে শুধু সমাজতন্ত্রকেই Creeping Virus বলে অভিহিত করা যায়না। মূল সমস্যা হলো-মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাকে অবদমিত করার গ্লানি,সমাজতন্ত্র এখনো যা বহন করে চলছে।আর এটা করতে গিয়ে সুস্পষ্ট দুটো ধারার সৃষ্টি হয়-
1.The Rules
2.The Ruler
যেখানে,শাসিতরা মনে করে - someone will take care of them. আর এখানেই অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। লক্ষ্য করুন-আনইকুয়াল ইফর্টের জন্য কেউ ইকুয়াল কমপেনসেশন পেতে পারেনা, যেটা হলো পুরোপুরি অবিচার।
ভোক্তার সমতা কেবল মাত্র দুঃখ আর মৃত্যুতেই হতে পারে,তবে বেঁচে থাকার সংগ্রামে কোনো সমতা আসতে পারে কি?। অর্থনীতির মূল ফিলোসফিতে দেখি -there are three P's
1.Prices,
2.Profit and loss,
3.Private property.
সমাজের সমতা বিধান করতে গিয়ে এই তিনটি মূলনীতিকেই অস্বীকার করা হয় সোসলিজমে। আর কাজের প্রতি উদ্দীপনার কথা আগেই বলা হয়েছে। আসলে ,এ আলোচনার কোনো শেষ নেই।যে পর্যন্ত না স্টপ সাইন অথবা ডেড এন্ড আসে।
এবার প্রনব আচার্যের কিউবা সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে বলি-এটি একটি বাস্তব উদাহরন -ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া।হাইতি থেকে-মাত্র ৫০ মাইল দূরে কিউবা ,আর আমেরিকার দূরত্ব ৫০০ মাইল। এ সুদীর্ঘ উর্মিমালা পাড়ি দিয়ে জীবন বাজি রেখে একটি সাধারন ভাসমান বোটে হেইটিসরা মাত্র ৫০ মাইল দূরে কিউবা না গিয়ে আমেরিকা আসলো কেন?কারন কি- Land of the oppurtunity?এ গেলো ইতিহাসের উদাহরন। এবার নিজের চাক্ষুস উদাহরনের কথা বলি।আমাদের গ্রামের এক কামিল পাশ হুজুর যিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে প্রতি শুক্রবারে-মার্কিন সাম্রাজ্য নিপাত যাক শ্লোগান দিতে দিতে বেহেস্তি টিকেট লাভ করেছেন,সেই হুজুর ডিবি ভিসায় আমেরিকা এসে ভিসা আর মাস্টার কার্ডের সুদের জালে আটকা পড়ে বহাল তবিয়তে জীবন যাপন করছেন। আর এখন পুঁজিবাদের সুদ ওনার টুপি পর্যন্ত স্পর্শ করেছে।এবার একটা গল্প বলেই শেষ করছি-
জনৈক জেলে প্রতিদিন সকালে মাছ ধরতে যায়, আর সন্ধ্যার বাড়ী ফিরে মাছ নিয়ে। একজন অলস প্রতিবেশী লোক তার আগমন পথে দাঁড়িয়ে থাকে।জেলে বাড়ী ফিরার পথে অলস লোকটিকে কিছু মাছ দেয়।এভাবেই চলে , অলস লোকটি আরো অলস হয়।সমাজের বোঝা বাড়ে। কিন্তু, এখানে উচিত ছিলো অলস লোকটিকে মাছ না দিয়ে ,কেমন করে মাছ ধরতে হয়,তাই শিখিয়ে দেয়া,তার মধ্যে ইনসেটিভিটি সৃষ্টি করা।তাহলে কর্মের সংস্থান হত,উতপাদন বাড়ত,সমাজের বোঝা লাঘব হত,সর্বোপরি অর্থনীতির চাকা সচল হতো।
সমাজতন্ত্রে ওয়েলফেয়ারের ফানুসে চড়ে ভুক্তভোগী আকাশে পর্যন্ত ওঠে।
কিন্তু সময়ের কষ্টিপাথরে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় যখন নাটাইয়ে টান পড়ে ,তখন মহাউল্লাসে উড্ডীন ফানুসের পতন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা। Los Angels Time Syndicate থেকে আরেকটি গঠনার কথা
উল্লেখ করি। উদাহরনের প্রথম অংশ সবার জানা। সম্পূরক করেছি-কল্পনাকে টেনে নিয়ে।
চমতকার গোলটেবিলে ঘিরে বিখ্যাত দুজন বোদ্ধা বসে আছেন।টেবিলের উপর স্বচ্ছ একটি গ্লাস।সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মানে আশা আর নৈরাশ্যের বাদানুবাদ চলছে। আশাবাদী, নৈরাশ্যবাদীকে বললেন-আপনার চিন্তাধারা সবসময় ৃনাত্বক-ঠিক এ স্বচ্ছ গ্লাসের পানির মতো-আপনি গ্লাসের অর্ধেক সবসময় খালিই দেখবেন।আর আমি দেখবো গ্লাসটি অর্ধেক পানিতে ভর্তি।পাশে দাঁড়ানো সার্ভারকে ওনারা বলেন-তুই কী দেখিস বলতো।ও বললো-এটা নির্ভর করে
ক্রিয়ার উপরে। যে পানি পান করবে -তার জন্য গ্লাস অর্ধেক ভর্তি, আর যে গ্লাসে পানি ঢালবে তার জন্য অর্ধেক খালি।ঠিক সে সময় পাশ দিয়ে কিচেন বয় যাচ্ছিল-সে মনে মনে বললো,আহারে!তোমাদের আলোচনাই সার, তবে ফাইনাল কথা হলো-এঁটো গ্লাসটি আমাকেই ধুঁতে হবে।তা না হলে-ভাগ্যে আমার রুটি ও নাই , অন্ন ও নাই। পুঁজিবাদ বলি আর সমাজবাদ বলি-ধনীদের জন্যই সব আইন।শ্রমিকের রক্ত আর ঘাম ইট পাথরের সাথে মিশে রোমান,পারস্য ,বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের ভীত তৈরী করেছে। আর্জেন্টাইন বিখ্যাত কবি-ক্রিস্টিনা আজকোনা তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন অশ্রুপাত করছিলেন-তখন পুরানো বন্ধু জানতে চান -অপরুপ রুপের সৌন্দর্য্যে মোহিত হয়ে তোমার এ অশ্রু কি নতুন কোনো ভালোবাসার কথা বলছে?
বিষাদময় কন্ঠে আজকোনা বলেন-তাজমহলের সৌন্দর্য্য শুধু নয়ন ভরে আমরা দেখেছি ,কিন্তু শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস কারো হৃদয় স্পর্শ করেনি।আমার অশ্রু সে কথাই বলছে।
সরি, অনেক লম্বা হয়ে গেলো। যারা এ পর্যন্ত কষ্ট করে পড়লেন ,বিনীত সাধুবাদ।এ আলোচনা এখানেই শেষ করছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28776860 http://www.somewhereinblog.net/blog/pordeshi07blog/28776860 2008-03-06 11:43:25
আসুন গল্প শুনি/বিনীত অনুরোধ শেষ পর্যন্ত পড়বেন, প্লিজ।/বিহংগ ময়না জার্নালটা নেড়েচেড়ে দেখে।কিন্তু প্রচ্ছদ থেকে চোখ সরাতে পারেনা।
ভাবী, বলেন-তোমাদের সবার জন্য বিশাল এক সারপ্রাইজ আছে।কল্পনাও করতে পারবেনা ,আমি যে কী নিয়ে এসেছি।
আমাদের আগ্রহ ও চন্দ্রিমার মতো বাড়ে। ভাবী, জার্নালের প্রচ্ছদ দেখিয়ে বলেন-এটা কি বলতে পারো?
ময়না বলে,ভাবী কোনো ডায়মন্ডের ছবি কি?
ভাবী বলেন- এ শুধু ডায়মন্ড নারে,The most beautiful ,priceless gem on the planet.
নামটা কী বলবেতো।
এর নাম হলো কুহিনূর। এর সাথে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের রোমান্স,ভালোবাসা,চাল-চাতুরী
রাজাদের সিংহাসন,মিথ,পৌরানিক কাহিনী,বিশ্বাস অবিশ্বাসের ইতিকথা।
ভাবী আমাদের সবাইকে গল্পের মাঝে বেঁধে ফেলেন।আমরা সময়ের সুড়ংগের ভিতর দিয়ে দূর হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসে হারিয়ে যাই।
এর কথা লিখা আছে হিন্দুদের পুরানে,ভগবদ গীতায়। আজ থেকে আনুমানিক ৩৫০০ বছর আগে শ্রীকৃষ্নের প্রেমের নিদর্শন ছিলো এ অপূর্ব পাথর।কৃষ্নের সখী ছিলো মোট ১৬১০৮ জন । কৃষ্ন একদা রাধার সাথে অভিসারে মত্ত।ঠিক তখনি তাদের ই কোনো একজন চল চাতুরী করে তা চুরি করে।যার আর কোনো হদীস মেলেনি।এ হলো পৌরানিক কাহিনী।
বাবা বলেন, বুঝলাম, তবে বউমা আসল ইতিহাসটা কী ?
কহিনূরের একটা গ্রহনযোগ্য ধারাবাহিকতা পাওয়া যায় দিল্লীতে খিলজী রাজ বংশের শাসনামল থেকে।১৩২০ সাল থেকে ১৫২৬ সাল পর্যন্ত এ মহামূল্যবান পাথরের তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো নাম পাওয়া যায়না।১৫২৬ সালে পানি পথের যুদ্ধের মাধ্যমে মোঘল সাম্রাজ্যের যখন সূচনা হয়-তখন এ পাথর তাদের অধিকার আসে।প্রথমবারের মতো এর নাম হয় Babur's Diamond.
তখন থেকেই দেখা যায়-যারাই এ ডায়মন্ড ব্যবহার করেছেন দূর্ভাগ্য তাদের আর পিছু ছাড়েনি।বাবুর কখনই এ ডায়মন্ড ব্যবহার করেন নি।হুমায়ুন তার অধিকারে রাখেন। শের শাহের হাতে রাজ্য হারা হয়ে মোঘল সাম্রাজ্যের ২য় অধিপতি হুমায়ুন পালিয়ে পালিয়ে বেড়ান।
এর কর্তৃত্ব আসে শূরি বংশের প্রতিষ্টাতা শের শাহ সূরীর।হায়রে ,নিয়তি !তিনিও আগুনের গোলায় পুড়ে মারা যান।এরপর পুত্র জালাল খান যখন ক্ষমতায় আসে এ মহামনির লোভ তিনি ও ছাড়তে পারেন নি।পরিনাম-আপন শ্যালকের হাতে নির্মমভাবে খুন।
শুরি বংশের পতন ঘটে হুমায়ুনের পুন ক্ষমতা অধিকারের মধ্যে দিয়ে।
তারপর ক্ষমতায় আসেন আকবর। আকবর কখনোই এ ডায়মন্ড ব্যবহার করেননি। তার শাসনামলের পুরো সময়ই তা মুঘল ট্রেজারিতে সংরক্ষিত ছিলো।
আকবরের পর ক্ষমতায় আসেন জাহাংগীর। নিষ্কন্টক ছিলো শাসন কাল।ক্ষমতায় অভিষিক্ত হওয়ার চতুর্দশ বছরে সেই ডায়মন্ড নিজের হাতে নেন। তারপ