(বিঃদ্রঃ অপ্রাসংগিক ও আপত্তিকর মন্তব্য মুছে ফেলা হবে)
পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না ভারত চুক্তির আগেই পদ্মার প্রবাহ বেশি ছিল উত্তরাঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা
ভারত চুক্তির আগেই পদ্মায় পানি প্রবাহ বেশি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়ায় শুষ্ক মৌসুমে প্রমত্তা পদ্মায় এখন ধুধু বালু চর। নদী শুকিয়ে বিশাল চর ও বালুকা রাশিতে একাকার হয়ে গেছে। নদীর শাখা-প্রশাখা, খাল-বিল এমনকি পুকুরেও পানি নেই। এর উপর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নীচে নেমে যাচ্ছে। এক সময়ের নদীঘেরা রাজশাহী ধীরে ধীরে মরুময় হয়ে উঠছে। সর্বত্রই চলছে পানির জন্য হাহাকার। ফলে অতি খরায় রজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মার্চ-এপ্রিল মাসে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি কার্যকরের আগেই শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি প্রবাহ বেশি ছিল। চলতি মৌসুমের শুরুতেই নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। এতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পদ্মার পানি এবার তুলনামূলকভাবে দ্রুত কমেছে। নদীর একূল-ওকূল পর্যন্ত ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এমন আরো অসংখ্য চর জেগে উঠবে। ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর মার্চ-এপ্রিল মাসে এই বছর পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহের উচ্চতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ভারতের ফারাক্কা বাঁধ এবং তার উজানে গঙ্গা নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের ফলে এই অবস্থার সৃৃষ্টি হয়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারত চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা ও প্রভাব কোনটাই লক্ষ্য করা যায়নি। বরং চুক্তির আগেই পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহের পরিমাণ বেশি ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চলতি মৌসুমে পদ্মার পানি কমতে শুরু করে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৪৩ মিটার। মাত্র এক মাসে তা দ্রুত কমে অক্টোবর মাসে এসে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ২১ মিটারে। এর এক মাস পর পানির উচ্চতা আরও দ্রুত হ্রাস পেয়ে নভেম্বরে তা দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৭০ মিটারে।
পদ্মায় পানির উচ্চতা এভাবে কমতে কমতে গত ডিসেম্বর মাসে ৯ দশমিক ২১ মিটার, জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ০৪ মিটার, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮ দশমিক ৯১ মিটার এবং ১৯ মার্চ ৯ দশমিক ১৬ মিটারে দাঁড়ায়। যা ১৯৯৭ সালে পানি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগের তুলনায় দশমিক ৭০ মিটার কম। তথ্য মতে, ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে ১৯৯৫ সালে শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে পদ্মায় পানির সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিল ৯ দশমিক ২০ মিটার। ১৯৯৬ সালে ছিল ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। ১৯৯৭ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে পানির সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিল ৯ দশমিক ৮৬ মিটার। চুক্তি কার্যকরের পর ১৯৯৮ সালে কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৯৭ এবং ১৯৯৯ সালে ৯ দশমিক ৯৮ মিটার হয়।
এরপর থেকে আবারও কমতে থাকে। ২০০০ সালের মার্চ মাসে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ১৪ মিটার, ২০০১ সালে ৯ দশমিক ১৯ মিটার, ২০০৩ সালে ৯ দশমিক ০৬ মিটার, ২০০৪ সালে ৯ দশমিক ০৬ মিটার, ২০০৬ সালে ৭ দশমিক ৭২ মিটার পানি প্রবাহ লক্ষ্য করা যায়। ফলে এতেই প্রমাণিত হয় ভারত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তার পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করছে না।
ঐ গবেষণা প্রতিবেদনে ভারতের আচরণ বিশ্লেষণ করে বলা হয় আগামী জুনে বর্ষা শুরু হওয়া পর্যন্ত পদ্মায় পানি প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে বাংলাদেশ আরো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। অপরদিকে গঙ্গা নদীর উজানে, বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ পয়েন্টে ভারত অতিরিক্ত হারে পানি প্রত্যাহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এদিকে নদী শুকিয়ে যাওয়ার বিরূপ প্রভাবে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূ-গর্ভস্ত পানির স্তর ক্রমেই নীচে নেমে যাচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় হাজার হাজার হস্ত চালিত নলকূপে পানি উঠছে না। আর অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না বললেই চলে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫০ দিন গঙ্গার পানি বন্টন করা হয়। চরম শুষ্ক সময়ে (১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত) বাংলাদেশর ১০ দিন পর পর কমপক্ষে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা।
তথ্যসুত্রঃ" দৈনিক ইত্তেফাক , রাজশাহী সংবাদদাতা"
এই পানির অভঅবে আমরা আজ মাছ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্য সংকটে পড়ছি, যা দিন দিন আমাদেরকে তিলে তিলে ধ্বংসের সামিল। আসুন আমরা সবাই আমাদের নায্য পাওনার দাবিতে সোচ্চার হয়।
জয় বাংলা।
(আলোচনা কাম্য)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

