somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না ভারত চুক্তির আগেই পদ্মার প্রবাহ বেশি ছিল উত্তরাঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা

২৩ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(বিঃদ্রঃ অপ্রাসংগিক ও আপত্তিকর মন্তব্য মুছে ফেলা হবে)

পানির ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না ভারত চুক্তির আগেই পদ্মার প্রবাহ বেশি ছিল উত্তরাঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা

ভারত চুক্তির আগেই পদ্মায় পানি প্রবাহ বেশি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়ায় শুষ্ক মৌসুমে প্রমত্তা পদ্মায় এখন ধুধু বালু চর। নদী শুকিয়ে বিশাল চর ও বালুকা রাশিতে একাকার হয়ে গেছে। নদীর শাখা-প্রশাখা, খাল-বিল এমনকি পুকুরেও পানি নেই। এর উপর ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নীচে নেমে যাচ্ছে। এক সময়ের নদীঘেরা রাজশাহী ধীরে ধীরে মরুময় হয়ে উঠছে। সর্বত্রই চলছে পানির জন্য হাহাকার। ফলে অতি খরায় রজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মার্চ-এপ্রিল মাসে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি কার্যকরের আগেই শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি প্রবাহ বেশি ছিল। চলতি মৌসুমের শুরুতেই নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। এতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পদ্মার পানি এবার তুলনামূলকভাবে দ্রুত কমেছে। নদীর একূল-ওকূল পর্যন্ত ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এমন আরো অসংখ্য চর জেগে উঠবে। ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর মার্চ-এপ্রিল মাসে এই বছর পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহের উচ্চতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভারতের ফারাক্কা বাঁধ এবং তার উজানে গঙ্গা নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের ফলে এই অবস্থার সৃৃষ্টি হয়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারত চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা ও প্রভাব কোনটাই লক্ষ্য করা যায়নি। বরং চুক্তির আগেই পদ্মা নদীতে পানি প্রবাহের পরিমাণ বেশি ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চলতি মৌসুমে পদ্মার পানি কমতে শুরু করে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৪৩ মিটার। মাত্র এক মাসে তা দ্রুত কমে অক্টোবর মাসে এসে দাঁড়ায় ১২ দশমিক ২১ মিটারে। এর এক মাস পর পানির উচ্চতা আরও দ্রুত হ্রাস পেয়ে নভেম্বরে তা দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৭০ মিটারে।

পদ্মায় পানির উচ্চতা এভাবে কমতে কমতে গত ডিসেম্বর মাসে ৯ দশমিক ২১ মিটার, জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ০৪ মিটার, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮ দশমিক ৯১ মিটার এবং ১৯ মার্চ ৯ দশমিক ১৬ মিটারে দাঁড়ায়। যা ১৯৯৭ সালে পানি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগের তুলনায় দশমিক ৭০ মিটার কম। তথ্য মতে, ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে ১৯৯৫ সালে শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে পদ্মায় পানির সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিল ৯ দশমিক ২০ মিটার। ১৯৯৬ সালে ছিল ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। ১৯৯৭ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে পানির সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিল ৯ দশমিক ৮৬ মিটার। চুক্তি কার্যকরের পর ১৯৯৮ সালে কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৯৭ এবং ১৯৯৯ সালে ৯ দশমিক ৯৮ মিটার হয়।

এরপর থেকে আবারও কমতে থাকে। ২০০০ সালের মার্চ মাসে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ১৪ মিটার, ২০০১ সালে ৯ দশমিক ১৯ মিটার, ২০০৩ সালে ৯ দশমিক ০৬ মিটার, ২০০৪ সালে ৯ দশমিক ০৬ মিটার, ২০০৬ সালে ৭ দশমিক ৭২ মিটার পানি প্রবাহ লক্ষ্য করা যায়। ফলে এতেই প্রমাণিত হয় ভারত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তার পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করছে না।

ঐ গবেষণা প্রতিবেদনে ভারতের আচরণ বিশ্লেষণ করে বলা হয় আগামী জুনে বর্ষা শুরু হওয়া পর্যন্ত পদ্মায় পানি প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে বাংলাদেশ আরো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। অপরদিকে গঙ্গা নদীর উজানে, বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ পয়েন্টে ভারত অতিরিক্ত হারে পানি প্রত্যাহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এদিকে নদী শুকিয়ে যাওয়ার বিরূপ প্রভাবে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূ-গর্ভস্ত পানির স্তর ক্রমেই নীচে নেমে যাচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় হাজার হাজার হস্ত চালিত নলকূপে পানি উঠছে না। আর অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না বললেই চলে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫০ দিন গঙ্গার পানি বন্টন করা হয়। চরম শুষ্ক সময়ে (১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত) বাংলাদেশর ১০ দিন পর পর কমপক্ষে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা।
তথ্যসুত্রঃ" দৈনিক ইত্তেফাক , রাজশাহী সংবাদদাতা"


এই পানির অভঅবে আমরা আজ মাছ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্য সংকটে পড়ছি, যা দিন দিন আমাদেরকে তিলে তিলে ধ্বংসের সামিল। আসুন আমরা সবাই আমাদের নায্য পাওনার দাবিতে সোচ্চার হয়।

জয় বাংলা।

(আলোচনা কাম্য)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:২২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×