ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার রামকেশব গ্রামে গ্রিন ক্রিসেন্টে থেকে কখন অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার হয়েছিল? বিভিল্প টিভি চ্যানেলে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারের আগে না পরে? স্বাভাবিক অবস্থায় আগে ঘটনা, পরে সংবাদ এমনটাই হয়ে থাকে। কিন্তু গ্রিন ক্রিসেন্টের ঘটনায় মামলার এজাহারের বর্ণনা সত্য হলে অস্বাভাবিক একটি ঘটনা ঘটে গেছে। আগে সংবাদ প্রচার হয়েছে, পরে ঘটনা ঘটেছে। এই অস্বাভাবিক অবস্থা ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে ভোলার বিভিন্ন থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত তদন্ত দলকেও বিব্রত ও বিস্মিত করেছে। সংবাদ প্রচার হয়েছে বেলা দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে আর এজাহারে বলা হয়েছে, তাদের অভিযান শুরু হয় বেলা ২টা ১০ মিনিটে।অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তারও অনেক পরে। এটা কিভাবে সম্ভব?
গতকাল সকালে বোরহানউদ্দিন থানায় তদন্ত কমিটির প্রধান লালমোহন সার্কেলের এএসপি এইচ এম আজিমুল হক কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে বসেছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন লালমোহন থানার ওসি মিজানুর রহমান খান, তজুমদ্দিন থানার ওসি বাদল কর্মকার ও বোরহানউদ্দিন থানার নতুন
ওসি বেলায়েত। মামলার বাদী বরিশাল র্যাব-৮-এর ডিএডি শেখ মোহাম্মদ আলীও সেখানে উপস্তিত ছিলেন। উপস্তিত ছিলেন মামলার কয়েকজন সাক্ষীও। এদের সামনেই আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক ওই অবস্স্থার কারণ জানতে চাওয়া হয়। তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় গ্রিন ক্রিসেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি বিম্ফোরক দ্রব্য উদ্ধরের খবর বিভিল্পু টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়েছে বেলা দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে।বেলা দেড়টার দিকে কয়েকটা টিভি চ্যানেলে স্ক্রল নিউজ আকারে গ্রিন ক্রিসেন্টে অস্ত্র, গুলি বিম্ফোরক উদ্ধরের সংবাদ প্রচার হয়। এনটিভিতে বেলা ২টায় তাদের ভোলা প্রতিনিধির ভয়েস প্রচার করা হয়। চ্যানেল ওয়ানে বেলা আড়াইটার সংবাদে তাদের ভোলা প্রতিনিধির ভয়েস প্রচার হয়।এসব স্থানীয় সাংবাদিকরা বেলা ১২টার দিকেই র্যাবের পক্ষ থেকে এই বার্তা পেয়েছিলেন যে, বোরহানউদ্দিনের রামকেশব গ্রামে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ
উদ্ধার হয়েছে। ভোলা শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দহৃরের ওই রামকেশবপুর গ্রামে পৌঁছতে তাদের সময় লাগে আরো ১ ঘণ্টা। অর্থাৎ বেলা ১টার দিকে সেখানে পৌঁছে তারা গ্রিন ক্রিসেন্টের একটি ঘরের বারান্দায় অস্ত্র, গুলি ও বিম্ফোরক সাজানো অবস্থায় দেখেন। বরিশাল থেকেও র্যাবের স্প্রিড বোটে সাংবাদিকদের নিয়ে আসা হয়। অথচ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪-০৩-০৯ তারিখ দুপুর ১৩-৩০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানিতে পারি যে, রামকেশব গ্রামের গ্রিন ক্রিসেন্ট এনজিও পরিচালিত মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছে।
ওই সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে আমি সঙ্গীয় ফোর্সসহ ২৪-০৩-০৯ তারিখ অনুমান ১৪-১০ ঘটিকার সময় ওই মাদ্রাসা ঘেরাও করি এবং ভেতরে প্রবেশ করত অনুসল্পব্দান পরিচালনা করি। সেখানে ১ থেকে ৪ নম্বর আসামিদের গ্রেফতার করি। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে, তাদের হেফাজতে ওই মাদ্রাসার দক্ষিণ ভিটার চৌচালা সেমিপাকা টিনশেডের তিন রুমবিশিদ্ব ঘরে অস্ত্র, গুলি ও বিম্ফোরক দ্রব্য রয়েছে।
এখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি গুরুত্বপূন। ৪ জনকে দুয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ নিশ্চিত সম্ভব নয়। এর জন্য নিশ্চয় অনেক সময় প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বেলা ১টার সময় ওইসবঅস্ত্র, গুলি ও বিম্ফোরক কিভাবে দেখানো সম্ভব হলো? নাকি এজাহারে যে সময়
উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। এ প্রশ্ন গুলি এএসপি এইচ এম আজিমুল হক বলেন, এখানে মামলার বাদী নিজেই উপস্তিতে রয়েছেন। তিনিই এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। বাদী ডিএডি শেখ মোহাম্মদ আলী এর স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। এর ঘণ্টাখানেক পর তিনি বলেন, আপনার এই প্রশুটি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টেলিফোনে জানিয়েছি।
তদন্ত দলের কাছে আরো প্রশ্ন করা হয়, অস্ত্র উদ্ধারের সময় স্স্থানীয় সাক্ষীদের কেন উপস্থিত রাখা হয়নি? এতে কি অভিযুক্তরা আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ পেয়ে যাবে না? তাছাড়া জনমনেও তো ঘটনার সত্যতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে? এ প্রশ্নে এইচএম আজিমুল হক বলেন, পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না। তবে এটা বলা যায়, কেবল প্রচারণার মাধ্যমে কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করা যায় না। অভিযোগ প্রমাণের জন্য আদালতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে এইচএম আজিমুল হক ও অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা গ্রিন ক্রিসেন্টের ঘটনা নিয়ে গত ২৯ মার্চ আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রশংসা করেন। তাদের মূল্যায়ন, ওই প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পরিবর্তে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
আজিমুল হক বলেন, আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে গ্রিন ক্রিসেন্টে শিশুদের বই-খাতা সম্পর্কে যে তথ্য জানানো হয়েছে, তা আমরা ওই প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই জেনেছি। ওইসব বই-খাতা এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো জানান, র্যাব ওইদিন গ্রিন ক্রিসেন্টে অভিযান চালানোর আগে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি। এদিকে গতকালও বোরহানউদ্দিন থানায় তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত করা হয় ওই মামলার স্থানীয় সাক্ষীদের। এদের মধ্যে সারওয়ার হোসেন ফরাজী আমার দেশকে বলেন, মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে তার সঙ্গে ঘটনার মিল নেই। সময়ের মিল নেই। আমরা যা জেনেছি, যা দেখেছি তার সঙ্গে এজাহারের বর্ণনায় মিল নেই। তবে স্বস্তির কথা, মিথ্যা বলার জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের ওপর কোনো চাপ সৃদ্বি করছেন না। একই তথ্য জানালেন জামান মৃধাও।
কাজী হাফিজ , দৈনিক আমার দেশ।
ধিক্কার মিডিয়ার এই জঘন্য রাজনীতিকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


