শফিকুল ইসলাম জুয়েল,
দৈনিক প্রথম আলো পহেলা বৈশাখ সংখ্যায় প্রধান প্রতিবেদনে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উপহার নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামের অধীনে বেশ কয়েকটি উপ-প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।
অন্য কেউ নয়, প্রথম আলো আসলে নিজেই এ প্রশ্নটি তুলেছে কিন্তু প্রতিবেদনের ছত্রে ছত্রে রয়েছে ভুল তথ্য, অবুঝের মতো ব্যাখ্যা এবং একপেশে সাংবাদিকতার নমুনা।
তাদের প্রতিবেদনেই আছেÑ একজন সম্মানিত আইনজীবী বলেছেন, দণ্ডের সঙ্গে দানের কোনো সম্পর্ক নেই। এই প্রতিবেদন নিয়ে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলাপকালে তারা মত দেন যে, যদি দণ্ডিত আর অভিযুক্তদের দান আর উপহার সত্যি সত্যি অগ্রহণযোগ্য হয় তাহলে দৈনিক প্রথম আলোর মালিক যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ই দুর্নীতিবাজদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন সেই হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখার জন্য প্রথম আলোর নৈতিক অধিকার কতখানি আছে সে নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
‘সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল বিস্মিত’ উপশিরোনামের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ব্যক্তিদের বক্তব্যে তাদের উল্লিখিত বিষয়ে অজ্ঞানতার কথা জানা গেলেও নীতিনির্ধারণী মহল বলতে যথাযথ ব্যক্তিবর্গের বিস্মিত হওয়ার কোনো লক্ষণ তাদের প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি। প্রতিবেদক যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারাই কি সরকারের নীতিনির্ধারক?
প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক লিখেছেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পটপরিবর্তনের পর ৩ ফেব্র“য়ারি থেকে যৌথবাহিনী দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করলে বসুন্ধরার চেয়ারম্যান তার ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান তো দূরের কথা ওয়ান ইলেভেনের পটপরিবর্তনেরও অনেক আগে ২০০৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর বসুন্ধরার চেয়ারম্যান বিদেশে যান। সুতরাং প্রথম আলো বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের পালানোর যে তত্ত্ব উপস্থাপন করেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটা বোঝা যায় কর ফাঁকির খুব তুচ্ছ মামলায় বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে যে শাস্তি দেয়া হয়েছে সেটা দেশের জরুরি অবস্থা না থাকলে স্বাভাবিক আইনে এই সাজা হতো কিনা সেটা উল্লেখ না করায়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলটা কেমন ছিল, কতটা অস্বাভাবিক ও মানবাধিকারহীন ছিল সেটা সকলেই জানেন কিন্তু প্রথম আলো প্রতিবেদক সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। ঐ সময়ে বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের দেশে ফিরে আসার পরিবেশ ছিল কিনা এবং প্রভাবমুক্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবেশ ছিল কিনা এসব কিছুই প্রথম আলো প্রতিবেদক এড়িয়ে গিয়ে তার ‘উদ্দেশ্য’ যে অন্য কিছু সেই সন্দেহের সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
অনেকেই মনে করেন, দেশের রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবল প্রবণতা আছে একথা সত্যি হলেও ওয়ান ইলেভেন-উত্তর পরিস্থিতিতে রাজনীতিক ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরি আইনের ছত্রছায়ায় গৃহীত নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে গণবিরোধী বলেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বেআইনি পথে আইনের শাসন বা সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সফল হয়নি।
অনেকেই মনে করেন, সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে (শাহ আলম) সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান করেই তার বা সেনাবাহিনী বা সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের সূচনা করেননি বরং এ অবস্থান পরিবর্তন শুরু হয়েছে বিগত নির্বাচনের বহু আগেই। সেই একই সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহল ব্যর্থ হয়ে বহুল আলোচিত মাইনাস টু থিওরি পরিত্যাগ করেন এবং তারও কয়েক মাস আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাঝামাঝি সময়েই শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেয়া সকল ব্যবস্থাই বিগত সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। সে সময়ে তারা নতুন করে ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে থাকেন এবং ব্যবসায়ীদের নানান সুযোগ-সুবিধাও দেয়া শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট ও অভিজ্ঞমহলের দৃঢ় বিশ্বাস, বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন ও সেনাপ্রধান সমেত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অনুষ্ঠানে যোগদান সেই পরিবর্তিত নীতিরই সর্বশেষ প্রতিচ্ছবি। তাদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম কৌশল ছিল ভুল এবং পরবর্তী কৌশলটি বলা চলে সঠিক অথবা পূর্বের ভুল শোধরানোর প্রচেষ্টার অন্তর্গত।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন একপেশে। কারণ তারা বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার কথা বলেছেন কিন্তু প্রতিবেদনের কোথাও বসুন্ধরা গ্র“প যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং এ গ্র“পটি যে বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্প পরিবার, তাদের যে জাতীয় অর্থনীতিতে কী কী অবদান এর কিছুই উল্লেখ করেননি। প্রথম আলোর প্রতিবেদন পড়লে মনে হবে, এখনো যেন ওয়ান ইলেভেন-উত্তর সেই শুরুর মাসগুলো চলছে। যেন এই প্রথম আমরা অনুভব করলাম দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হলো। প্রথম আলোর প্রতিবেদকের মাথায় বিগত এক বছরের পরিবর্তনের ছিটেফোঁটাও নেই। তার মাথায় নেই যে, মাইনাস টু থিওরি ব্যর্থ হয়েছে, জনগণ এটা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার তা মেনেও নিয়েছে। তারা দেখেও দেখছেন না যে গোটা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সততাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। দুদকের চেয়ারম্যান ব্যর্থতার অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এখন জবাবদিহিতার প্রশ্নে প্রাণান্তকর অবস্থা।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সেই ঔচিত্যবোধের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে যে ওয়ান ইলেভেনের ঔচিত্যবোধ ছিল গুটি কয়েক জনসম্পৃক্ততাহীন তথাকথিত সুশীল সমাজের অন্তর্ভুক্ত নাগরিকের। বাংলাদেশের বৃহত্তর নাগরিক সমাজ যেটা কিছুতেই গ্রহণ করেনি।
আমরা নিশ্চয়ই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই। কিন্তু তাই বলে মানুষের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার খর্ব করে তথাকথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আমরা বিপক্ষে। আমরা চাই কেউ উপহার, উপঢৌকন বা উৎকোচ দিয়ে অভিযোগ থেকে রেহাই যেন না পান। আমরা চাই আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক। কিন্তু আমরা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ধনিক শ্রেণী-বিদ্বেষী অথবা প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের বিপক্ষে তথাকথিত জনসম্পর্কহীন সুশীল সমাজের অনির্বাচিত সরকার চাপিয়ে দেয়ার সকল প্রয়াসেরও বিরোধিতা করি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ধনী মানুষেরাই দেশকে এগিয়ে নেয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদক সম্ভবত উপলব্ধি করেন না যে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বেশকিছু কার্যক্রমকে সরকারের ধারাবাহিকতার স্বার্থে বৈধতা দেয়া হলেও বিগত সরকারের অনেক পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত বৈধতা পায়নি এবং সর্বোপরি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অবৈধ সরকার হিসেবে গণ্য করে।
শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্যে বিগত দুবছরাধিক স্থবিরতার পর এখন আবার যখন জোয়ারের সময় এসেছে তখন আমরা যেন ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে অবুঝের মতো অপরিপক্ক হাতে বিরক্তি উদ্রেককারী অপপ্রচার না চালাই।
বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান আগামী তিন বছরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে জেলা পর্যায় থেকে ফুটবল খেলোয়াড় তৈরির কাজে চার কোটি টাকা দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। একই অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বসিত বসুন্ধরা চেয়ারম্যান ২শ কোটি টাকা দামের ২০ বিঘা জমি দুটি ফুটবল খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য উপহার হিসাবে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। সেনাপ্রধানের উপস্থিতি যদি এই দানের ঘোষণাকে উৎসাহিত করে থাকে তাহলে অনেকে মনে করেন এই পাশাপাশি বসা অত্যন্ত শুভবুদ্ধির পরিচায়ক। সর্বোপরি এ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন সম্ভবত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে। আর উদ্যোক্তা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। কিংবদন্তিতুল্য ফুটবলার সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ফুটবলে যে নবজাগরণ শুরু হয়েছে তাকে কেউ রুখবেন না প্লিজ।
শাহ আলম সাহেব দেশে একটি রিফাইনারি ও স্টিল মিল প্রতিষ্ঠায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য কাজ করছেন। সৌদি আরব আর ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ দুটোয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ কাজের সুযোগ পাবে। এ সময়ে কেন তার উপর আক্রমণ?
পাদটিকা: আমরা যদি তথাকথিত দুর্নীতিবাজ অথবা দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপহার বা দান অগ্রাহ্য করতে চাই তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় সকলকে চিন্তা করতে অনুরোধ করব বাংলাদেশের হাজার হাজার মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, দাতব্য চিকিৎসালয় প্রভৃতি পরিহার করতে হবেÑ তার হিসাব আমরা করে দেখেছি কি? বাংলাদেশে আসলে সম্পূর্ণ অভিযোগমুক্ত ধনী ও দাতা কে আছেন, আছেন কি একজনও?
দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ভারতের উলফার অর্থায়ন কিংবা পত্রিকা মালিকের নাম সেসময় দুর্নীতিবাজদের তালিকায় উঠেছিল বলে প্রথম আলো বাংলাদেশের সেরা ও সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হওয়া সত্ত্বেও কেউ এটাকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখবে এটা যেমন অনভিপ্রেত তেমনি এদেশের সেরা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্র“প বসুন্ধরার ব্যাপারেও সেই একই বিবেচনা প্রযোজ্য।----- আমাদের সময়
লিংকঃ
Click This Link
আমার বক্তব্যঃ
এটাই প্রথম আলোর কাজ। কিন্তু আমরা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ধনিক শ্রেণী-বিদ্বেষী অথবা প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের বিপক্ষে তথাকথিত জনসম্পর্কহীন সুশীল সমাজের অনির্বাচিত সরকার চাপিয়ে দেয়ার সকল প্রয়াসেরও বিরোধিতা করি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ধনী মানুষেরাই দেশকে এগিয়ে নেয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ----- মুক্তবাজার অর্থনীতির স্বরূপ আমরা বর্তমানে টের পাচ্ছি !! যারে কয় ১০ম শ্রেনীর ষ্টুডেন্টের সাথে ক্লাস টুর ষ্টুডেন্টের পাল্লা দেয়া আর কি!
দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ভারতের উলফার অর্থায়ন কিংবা পত্রিকা মালিকের নাম সেসময় দুর্নীতিবাজদের তালিকায় উঠেছিল বলে প্রথম আলো বাংলাদেশের সেরা ও সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হওয়া সত্ত্বেও কেউ এটাকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখবে এটা যেমন অনভিপ্রেত তেমনি----- দোষী সে যেই হোক সে অপরাধীই। হোক সে প্রথম আলো।
প্রথম আলো নবীজির ব্যঙ্গ কাটুন ছাপা মানে ইসলাম বিদ্বেষী।
তাই আসুন সোচ্চার হয় প্রথম আলো থেকে। সেই সাথে সোচ্চার হয় সকল দেশী ও বিদেশী ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া থেকে যারা জেনে শুনে সত্য গোপন করে।
ধিক্কার মিডিয়ার এই জঘন্য রাজনীতিকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

