আব্দুল মালেকের খুনীদের দোসরারা ফের সক্রীয়
ঢাবি’র সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, মানবাধিকার বিরোধী এবং ষড়যন্ত্রমুলক
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় হাজার হাজার ছাত্রদেরকে পিছনে ফেলে মেধার স্বাক্ষর রেখে উত্তীর্ণ হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগ মাদ্রাসা থেকে দাখিল আলিম তথা এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় পাশ করে আসা ছাত্রদের ভর্তি না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের সুষ্পষ্ট বিরোধিতা। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী কর্তৃক এহেন মানবাধিকার বিরুদ্ধ কাজ কিভাবে হতে পারে তা বুঝে আসেনা। এরা আসলে উচ্চ শিক্ষিত হলেও উচ্চ মানসিকতা সম্পন্ন হতে পারেনি বলেই মনে হয়। শিক্ষা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার কারও পক্ষে কোন ভাবেই হরন করার সুযোগ নেই। একটি ছাত্র মেধার স্বাক্ষর রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে সুতরাং তাকে কোন যুক্তি দিয়েই ভর্তি থেকে বিরত রাখার কোন প্রকার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেই। বাংলাদেশ সরকারের কাঠামো মেনেই মাদ্রাসা ছাত্ররা ইংরেজী বাংলায় ১০০ মার্কস নিয়ে পড়ছে। নীতিমালা পরিবর্তন করতে হলে সরকার প্রথমে মাদ্রাসায় ঐচ্ছিক ১০০ মার্কস চালু করবে,যারা ঐচ্ছিক ১০০ নিবেনা তাদের জন্য দু বছর পর অনার্স ভর্তিতে উক্ত নীতিমালা কার্যকর হতে পারে। তা না করে হটাৎ মাদ্রাসা ছাত্রদের ভর্তি না করার উদ্ভট সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ কিভাবে নিল। আসলে এটা একটা ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। এটা ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা, ইসলামী আদর্শের বিরুদ্ধে ইসলাম বিদ্ধেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী শিক্ষা, নীতি আদর্শের পরিপন্থীদের ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়ন সম্ভব হবেনা। ১৯৭৯ সালের ১২ আগষ্ট ‘দেশের শিক্ষানীতি কেমন হবে, ইসলামী না সেক্যুলার’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এমন বিতর্কে মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেক অত্যন্ত চমৎকার ভাবে ইসলামী শিক্ষার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলে ইসলামী শিক্ষার পক্ষে জনমত সৃষ্টি হলে ইসলাম বিরোধী চিহ্নিত বামপন্থী মহল আব্দুল মালেক কে প্রকাশ্যে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের কাছে নির্মমভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। যারা সেদিন মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেককে হত্যা করেছে তাদেরই প্রিয়ভাজন ও দোসররা এখন ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মাদ্রাসা ছাত্র ভর্তি না করার এ জাতীয় ষড়যন্ত্র শুধু এখনই নয় ইতিপূর্বেও কয়েকটি বিভাগে অঘোষিতভাবে ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও এসব রয়েছে।
এসব অযৌক্তিক অন্যায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রথমে ঢাবি ভিসি সাহেব দ্বিমত পোষন করে বললেন যে, এ জাতীয় কোন সিদ্ধান্ত কোন বিভাগ নিতে পারেনা। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রীক ভর্তি নীতির বিষয়। একাডেমিক কোন সংষ্কার প্রয়োজন হলে বিভাগ সমুহ তাদের ফ্যাকাল্টির মাধ্যমে সিন্ডিকেটে পাঠাবেন। যাই হোক ঠিক পরের দিনই ভিসি সাহেব সম্পূর্ন উল্টে গেলেন। তিনি দাবী পেশকারী ছাত্রদের সাথে ন্যুনতম সৌজন্যটুকুও না দেখিয়ে সরাসরি বললেন, এই ব্যাপারে আর করার কিছুই নেই। আগামী বছর দেখা যাবে। ভিসি সাহেব কিভাবে চিন্তা করতে পারলেন যে সিদ্ধান্তটি তিনি বাস্তবায়ন করবেন আর এবছর বাস্তবায়ণ হলে পরের বছর কিভাবে আবার বিবেচনা করবেন। তিনি ছাত্রদেরকে এত বোকা ভাবলেন কেন। কিসের মোহ তাকে স্বাভাবিক মানসিক নৈতিক অবস্থান থেকে দুরে নিয়ে যায়। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র কোন ভাবেই দেশবাসী বাস্তবায়ন করতে দিবেনা। এত সহজ নয়। মাদ্রাসা ছাত্রদের শান্তিপ্রিয় মানববন্ধনে নাকি জরুরী অবস্থা ভঙ্গ হয় এবং সেই অভিযোগে ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা শহরে কতরকমের কত আন্দোলন হচ্ছে, মানববন্ধন হচ্ছে, প্রতিদিনই ঢাবিতে মিছিল হচ্ছে এতকিছুতে জরুরী অবস্থা ভঙ্গ না হলেও শুধু এখানে কিভাবে ভঙ্গ হলো এর কোন জবাব দিতে পারেনি থানার কর্মকর্তা। ভিসি সাহেব মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দাবীকারী ছাত্রদেরকে গ্রেফতার করার জন্য শাহবাগ থানা ওসি, পুলিশের আইজি, স্বরাষ্ট সচিব এমনকি প্রধান উপদেষ্টার সাথেও টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে পত্রিকায় দেখলাম। তিনি এতটা ক্ষেপলেন কেন, এতটা নিচে নামতে পারলেন? ভিসি ভবনে কত বার যে হামলা হয়েছে আগুন দেয়া হয়েছে তার হিসেব বোধহয় কারও কাছেই নেই। মাদ্রাসা ছাত্রদের সামান্য কাঁচ ভাঙ্গাকে তিনি ইতিহাসের সবছে ভয়াবহ উল্ল্যেখ করলেন অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও সেখানে আগুন দেয়া হয়েছে একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে। রাজনৈতিক ইস্যুতে কোন মন্তব্য করতে রাজী না হলেও একাডেমিক দাবী আদায়ের আন্দোলনকে তিনি বললেন ন্যাক্কারজনক। জানিনা এসব পদ বাঁচানোর কৌশল কিনা। একই দেশে জন্ম নিয়ে, সমমানের সিলেবাস অধ্যয়ন করে, একই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যদি ভাল বিষয়ে ভর্তি হতে না পারে একজন মেধাবী ছাত্রের জন্য এর থেকে বেদনা আর কি হতে পারে। সবছে বড় কষ্ট হলো সংবিধান বিরোধী, মানবাধিকার বিরোধী, মৌলিক অধিকার বিরোধী, একটি অযৌক্তিক, অন্যায়, সংকীর্ন সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদবীর কিছু লোক প্রণয়ন করছে, সমর্থন ও বাস্তবায়ন পক্ষে কথা বলছেন এটা ভাবতেই অবাক হই।
যাই হোক আদর্শিক কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক হয়তো ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভিসি সাহেব পদ বাঁচানোর জন্য উল্টোপাল্টা কাজ করতে পারেন কিন্তু সরকারতো তার নাগরিকদেরকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। সরকারও যদি কোন ধরনের বিমাতা সুলভ আচরণ করে থাকেন তাহলে সংবিধানের অভিবাবক এবং ন্যায়বিচারের শেষ ভরসাস্থল আদালততো অবশ্যই মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষেই থাকবেন। আর তখনতো ওনাদের সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে। গ্রেফতার মাদ্রাসা ছাত্রদেকে জেলে না পাঠিয়ে আদালত কতৃক জামিন দেয়ায় ছাত্রদের আন্দোলনের বৈধতা প্রমানিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ তারপরও যদি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করেন তাহলে সেদিন আর দুরে নয় যখন সকল ছাত্রসমাজ আদালতের রায়ে নিজেদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ। আশা করি সরকারের পক্ষ থেকে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাধারণ ভর্তি নীতিমালা প্রস্তুত করে সংকীর্নমনাদের ষড়যন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে হবে। সেই দায়িত্ব সরকারের। ঢাবি ভিসি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। পুরো জাতি সেই শুভক্ষণের অপেক্ষায় রইলাম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


