নির্বাচন সংক্রান্ত বড়ভাইয়ের লেখাটি পড়তে পারেন।
রাজনৈতিক দল, ইসি, ভোটার, প্রার্থী ও মিডিয়ার কাছে
আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা
- নিজাম উদ্দিন মাহমুদ
বহুপ্রতিতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। গ্রহনযোগ্যতার প্রশ্ন তুলে সাংবিধানিক বাধ্যবাদকতাকে যেহেতু বিসর্জন দিয়ে দেশের দুটি বছর নষ্ট করা হয়েছে সুতরাং রাজনৈতিক গুনগত পরিবর্তন সমৃদ্ধ একটি স্বচ্ছ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা এখন দেশবাসী করতেই পারে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের সকলেরই কম বেশী দায়িত্ব রয়েছে। এই েেত্র রাজনৈতিক দল, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়ার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিৎ, জাতির সেই প্রত্যাশা নিয়েই আজকের লেখা।
রাজনৈতিক দলঃ
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যারা নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তারা হলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারাই দেশ ও জাতিকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যান অথবা নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন। কিন্ত জাতির সেই কান্ডারীরা যদি অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ন হয়ে পড়েন তখন দেশের উন্নতি অগ্রগতি ব্যাহত হয়। রাজনৈতিক দলই নেতৃত্ব সৃষ্টি করে কারন তারা যাকে মনোনয়ন দেয় তাকেই সাধারণ ভোটারগন সামগ্রীক কারনে ভোট দিয়ে থাকে। অতীতে এমন সব ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যারা এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জ্বালাও পোড়াও, হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্ণীতি, স্বজনপ্রীতি, অত্যাচার, নির্যাতনসহ যাবতীয় অন্যায় কাজে নিজেরা সরাসরি অথবা নেপথ্যে থেকে চরম পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। কোন কোন এমপির পুকুরে অস্ত্র, কারও ঘরে ত্রানের টিন, কেউবা প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ খুন করে, কেউ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, কেউ আবার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট করে তোলে ব্যবসায়ীদের। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলি অসৎ, দুর্নীতি পরায়ন, কালোটাকার মালিক, সন্ত্রাসী গডফাদারকে মনোনয়ন দিবেন না, এটা জাতি দৃড়ভাবে প্রত্যাশা করে। আমাদের বিগত অভিজ্ঞতাই আমাদেরকে সেই প্রত্যাশা লালন করার নির্দেশনা দিচ্ছে। এছাড়া হটাৎ করে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়াটা অত্যন্ত অনৈতিক যা সৎ ও ত্যাগী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। উপরেল্লিখিত চরিত্রের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে ব্যাক্তি এবং দল উভয়েরই ভরাডুবি হওয়ার আশংকা রয়েছে। সুতরাং রাজনৈতিক গুনগত উত্তরনের জন্য প্রথমেই রাজনৈতিক দলগুলিকে ভূমিকা রাখতে হবে। সেজন্য যারা উক্ত অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে তারা যতই যোগ্যতা সম্পন্ন এবং দলের জন্য উপযোগী হোননা কেন তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি। তবেই আমাদের প্রত্যাশিত উন্নত বাংলাদেশের দিকে আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার মহাসড়কে উঠতে পারবো। রাজনৈতিক দলের সেই ভূমিকাই কামনা করছি।
নির্বাচন কমিশনঃ
একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নির্দলীয়, নিরপে ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচন কমিশন নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কোন দলের প্রতি অনুগত থাকলে সেখানে অবশ্যই নির্বাচন নিরপে ও গ্রহনযোগ্য হবেনা এটাই স্বাভাবিক। তাই ইসিকে প্রত্যেকটি কাজে কর্মে, কথায়, মন্তব্যে এবং প্রদেেপ অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে যেন কোন ভাবেই তা কোন দলের পে বা বিপে না যায় তা দেখতে হবে। এমনও অভিযোগ আছে যে ভোট বেশী পেয়েছে এক প্রার্থী আর বিজয়ী ঘোষনা করা হয়েছে অন্য প্রার্থীকে। মিডিয়া ক্যু করে এমন ফলাফল ঘোষনা অত্যন্ত ন্যাক্কার জনক। দেখা গেছে প্রিজাইডিং অফিসার গন ভোট গননা শেষে ফলাফল যা হয়েছে তার উল্টোটা জমা দিয়েছেন। আবার ভোট গননা করার সময় পোলিং অফিসারগন নিজের মতের বিরুদ্ধ প্রার্থীর ১৩০/৪০টিকে ১০০টি গননা করেছেন আবার নিজের পছন্দের প্রার্থীর ৭০/৮০টিকেই ১০০টি গননা করেছেন। আবার উপজেলা বা জেলা অফিসে এসে ভোটের সংখ্যা উল্টে যেতেও দেখা গেছে। এমনকি মিডিয়ায় ঘোষনাতেও অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। সুতরাং বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে উক্ত সকল অভিযোগ থেকে শিা নিয়ে একটি নিরপে ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিষয়ে কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ করতে হবে। এেেত্র প্রত্যেক প্রার্থীর এজেন্টের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই পরিচ্ছন্নভাবে ভোট গননা শেষে প্রত্যেক এজেন্ট ও প্রিজাইডিং অফিসারের স্বার নিয়ে সবাইকে এক কপি করে দিয়ে কেন্দ্রেই নিজ নিজ ফলাফল ঘোষনা করে আসতে হবে। উপজেলা বা জেলায় যেন কোন ভোট সংখ্যার কারচুপি না হয় এবং ইসিতে ফলাফল ঘোষনার মুহুর্তেও যেন কোন মিডিয়া ক্যু না হয় সেই ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ এবং কার্যকরী প্রদপে গ্রহন করতে হবে। সকল েেত্রই প্রকাশ্যভাবে মিডিয়ার উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষনা করতে হবে। কোন একজন কর্মকর্তা যেন কোন ধরনের সংখ্যাগত পরিবর্তণ করতে না পারেন সে জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে ফলাফল নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। কোন দলের প্রভাবশালী এলাকায় যেন তাদের পথেকে নির্বাচন অফিসারকে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের পে ফলাফল ঘোষনা করতে না পারেন সেজন্য সন্ধ্যা থেকেই নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারকালে কেউ যেন অহেতুক প্রতিহিংসার শিকার না হয় সেটাও দেখতে হবে। প্রত্যেক দলের প্রচারাভিযান যেন সংঘাত মুক্ত হতে পারে প্রশাসনকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের সময় অবশ্যই অন্যান্য বারের ন্যায় দেশপ্রেমিক সেনা বাহিনী ও এলিট ফোর্স র্যাবকে কাজে লাগাতে হবে। এেেত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সকল নির্বাচনী অফিসার এবং সেনা বাহিনী, পুলিশ, আনসার সহ সকল আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি আহবান থাকবে নিজেদের আদর্শিক ভিত্তি যাই হোকনা কেন নির্বাচনে যেন কোন ভাবেই কারও প্রতি বৈষম্য ও পপাত মূলক কোন পদপে হয়ে না যায় সেদিকে তীèভাবে নজর রাখতে হবে।
ভোটারঃ
ভোটারগনই নির্বাচনে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে থাকে। এেেত্র সামগ্রীক ভাবে কোন দলকে সমর্থন করার কারনে নিজ এলাকার প্রার্থী দুর্নীতিপরায়ন হলেও তাকেই ভোট দেন। আমাদের দেশের সা¤প্রতিক ঘটনাবলী প্রত্য করার পর ভোটার গন কোন দলকে সমর্থন করলেও স্থানীয়ভাবে যদি কোন অসৎ, দুর্নীতিপরায়ন, সন্ত্রাসী ব্যাক্তিকে মনোনয়ণ দেয়া হয় তাহলে অন্ধভাবে দলীয় আনুগত্য করে ঐ সকল প্রার্থীদেরকে ভোট না দেয়ার ব্যাপারে এখন নিশ্চয়ই ভোটারগন একমত হবেন। সুতরাং ভোটারগন আসন্ন নির্বাচনে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তিকে ভোট দিবেন না এটা সকলের প্রত্যাশা। এছাড়া কালো টাকা ছড়িয়ে নিন্মআয়ের মানুষের ভোট ভাগিয়ে আনার যে অপচেষ্টা সাধারণত হয়ে থাকে সেই েেত্র আশা করি ভোটারগন অত্যন্ত সজাগ থাকবেন যেন টাকার বিনিময়ে নিজের অতিমূল্যবান ভোটটি দিয়ে একজন অপরাধী নির্বাচিত না হন। প্রিয় ভোটার ভাই ও বন্ধুগন আসুন সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিনত করার চেষ্টা করি।
মিডিয়াঃ বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার কল্যানে আমরা যেকোন বিষয় ঘটার সাথে সাথেই জেনে যাচ্ছি। প্রিন্ট মিডিয়াও অত্যন্ত শক্তিশালী। একটি দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের জন্য একটি মিডিয়া অনেক ভূমিকা রাখতে পারে। মিডিয়া তথা সাংবাদিকদের ব্যাপারে বলা হয় “ সাংবাদিক পপকে ধর্ম শেখায় আর রাজাকে শাসন শেখায়”। সুতরাং মিডিয়ার গুরুত্ব যে কতটা অত্যধিক তা বলার অপো রাখেনা। কিন্ত বিভিন্ন েেত্র মিডিয়ার নেতিবাচক এবং প্রতিহিংসা পরায়ন ও পরিকল্পিত ভূমিকার কারনে অনেক তি হয়। কোন কোন মিডিয়া রাজনৈতিক দলের অনুগত হয়ে অন্য দলের বিরুদ্ধে বিষদগার করে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা করে থাকেন। নিজের পছন্দের দলের অন্যায় কাজকে রাখঢাক করা, এড়িয়ে যাওয়া অথবা নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা করা এবং অন্যদলের ছোটখাট সমস্যাকে ব্যাপকভাবে তুলেধরা এবং পরিকল্পিতভাবে বিষদগার করায় কোন কোন মিডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যা জাতীয় ঐক্য ও সহনশীল রাজনীতির অগ্রগতির অন্তরায়। যাই হোক আসন্ন নির্বাচনে ইলেক্টনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতি আমাদের দাবী থাকবে তারা যেন সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলেন। খুনী. সন্ত্রাসী, গডফাদার, দুর্নীতিবাজ, অস্ত্রবাজ, চাঁদাবাজ যে দলেরই হোকনা কেন তাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে সৎ, দ, দেশপ্রেমিক, আমানতদার, ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রায় কমিটেড তাদের পে ভূমিকা রাখবেন। তাহলেই আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে যে গুনগত পরিবর্তনের কথা বলছি তার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে সম হব।
প্রার্থীঃ সম্মানিত প্রার্থীগনের প্রতি আহবান থাকবে তারা যেন অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিষদগার এবং কুৎসা রটনা না করেন। অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক প্রদপে না নিয়ে এবং কোন প্রকার সন্ত্রাসী পাতি সন্ত্রাসীকে নির্বাচনের কাজে না লাগিয়ে নির্বাচনী বিধি নিষেধ সম্পূর্ন ভাবে মেনে চলেন। পরমত সহিঞ্চু হয়ে নিজের কর্মসূচী তুলে ধরেন এবং নিজের কর্মী বাহিনীকে শান্ত রাখেন যেন অন্যদের সাথে কোন প্রকার সংঘাতে জড়িয়ে না পড়েন। এমনকি অন্য প্রার্থীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করবেন।
এছাড়া যে সকল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেকগন নির্বাচন পর্যবেন করবেন তারা যেন অত্যন্ত নিরপেভাবে তাদের মতামত, পরামর্শ এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সেই প্রত্যাশা সকলেরই। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, ভোটার, মিডিয়া ও প্রার্থী গনের পারষ্পরিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা, দতা, নিরপেতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে আসন্ন নির্বাচন যদি সকলের নিকট গ্রহনযোগ্য হয় তাহলে আশা করা যায় আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি তার দিকে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু দল যদি অপরাধী লোকদেরকে মনোনয়ন দেয়, ইসি যদি নিরপেতা হারায়, ভোটাররা যদি টাকার কাছে বিক্রি হয়, হানাহানি করে, মিডিয়া যদি প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ভূমিকা রাখে, সরকারের বিরুদ্ধে যদি কোন ধরনের আঁতাতের অভিযোগ হয়, ফলাফল নিয়ে সু অথবা স্থুল কারচুপির অপিযোগ আসে তাহলে আমাদের জীবন থেকে যেমনি ভাবে দুটি বছর আঁধারে হারিয়েছে তেমনি গনতন্ত্রের পথে উত্তরনের প্রকৃয়াও বাধাগ্রস্থ হওয়ার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না।
সুতরাং আসুন সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদেরকে নির্বাচিত করে একটি শক্তিশালী সংসদ গঠন করে হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও, হানাহানি, মারামারি মুক্ত একটি সমৃদ্ধশালী ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ল্েয যার যার অবস্থান থেকে ঐকান্তিক ভূমিকা রাখি। এভাবেই আমরা ফিরে পাব আমাদের গনতন্ত্র, আমাদের সংবিধান, আমাদের বিচার ব্যাবস্থা এবং আমাদের প্রিয় প্রত্যাশিত বাংলাদেশ। সেই সুসময়ের পানে চেয়ে থাকলাম অপলক নেত্রে।
লেখকঃ সদস্য সচিব, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলন,
ও এমফিল গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


