somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিরে দেখা ২৮ অক্টোবর

২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৮ অক্টোবর ২০০৬ নিয়ে দোস্ত মাহমুদরে মন্তব্যগুলি কতটা সঠকি তার বিচারের জন্য লেখাটি তুলে ধরলাম।

ফিরে দেখা ২৮ অক্টোবর’২০০৬
পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকান্ডের নির্মম দৃশ্য

স্মরনকালের কিছু ঘটনা হৃদয়ে সর্বদা যাতনা দেয়। যেমন গুজরাটে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার সেই করুণ দৃশ্য দেখে কার চোখে পানি না আসে , আমেরিকাতে কয়েক বছর পূর্বে হ্যারিকেন বিটা’র আঘাতে যখন মানুষগুলো জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণপনে ছুটছে ঠিক সেই সময় সভ্যসমাজের দাবীদার প্রতিবেশীরা কি জঘন্যভাবে নারীদের উপর হিংস্র জানোয়ারের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন অর্থকড়ি ধনসম্পদ কিভাবে লুট করেছে তা বোধকরি সকলের মনে আছে, আর আবু গারাইব কারাঘারের নির্যাতনের সেই কাহিনীতো এখনো ইরাক আফগানে চলছেই। পুরো পৃথিবীর অনেক গুলো ঘটনাকে মনে করে এবং অনেক হিসাব করে দেখলাম ২০০৬ সালের পুরো পৃথিবীর সবছে জঘন্যতম নির্মম দৃশ্য হলো ২৮ অক্টোবর’০৬ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া লগি বৈঠার তান্ডবের সেই অমানবিক দৃশ্যটি। কারণ একটি মানুষকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার পর তার উপর লাপিয়ে লাপিয়ে উল¬াস করার ঘটনা হালাকু খান যেমনি করেনি তেমনি কারবালার ময়দানে সীমারও করেনি আর চেঙ্গিসখানের বর্বরতাও এতটুকু পৈশাচিক ছিলনা। কেউ কেউ হিংস্র হতেই পারে কিন্তু অন্যরা তাদেরকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে, নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করে। কিন্তু সেদিন দেখলাম সবাই মিলে উল্ল¬াস করে, প্রতিযোগীরমত মানুষ গুলোকে নির্বিচারে পিটাচ্ছে, এমনকি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নৃত্য করার মত চরম অমানবিক কাজটিও করছে অবলীলায়। কয়েকজনকে দেখাগেল প্রকাশ্যে গুলি ছুঁড়ছে। এতে কয়েকজনের মাথা বুক হাত পা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। লগিবৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে মাথা কয়েক খন্ড করা হয়েছে, সমস্ত শরীরে মারাত্মক জখম এবং হাত পায়ের হাঁড় ভেঙ্গে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। কারও কারও মাথা পেটে মগজ পর্যন্ত বেরিয়ে গেছে। নির্মম আঘাতে অনেকের চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে গেলেও হায়েনাদের হৃদয় একটুও গলেনি। বরং জননেত্রী ! কর্মসূচী সফল করায় নেতাকর্মীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হায়রে! আমাদের মানসিকতা। হামলাকারীদের সাধারণ কর্মীদের মাঝে ছিঃ ছিঃ হলেও নেতৃবৃন্দ কিন্তু নির্লজ্জের মত লগী বৈঠা নিয়ে তান্ডব চালানোর নির্দেশ দিয়েই চলেছেন। কয়েকদিন পর নেত্রী বললেন অমুক দাবী না মানলে আবারও রক্ত ঝরবে! বিশ্ববাসী এ দৃশ্য দেখে আঁৎকে উঠছে।

বিশ্ববাসী ২৮ অক্টোবর’০৬ দেখলো, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারনে ক্ষমতার লোভে একটি দল আরেক দলের কর্মীদেরকে কি নির্মম ভাবে হাজার হাজার মানুষের সামনে সাপের মত পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করছে। এমনকি লাশের উপর লাফিয়ে লাফিয়ে উল্লাস করছে! প্রকাশ্যে গুলি, বোমা, রামদা নিয়ে উপর্যপুরি হামলা করছে। এ যেন রক্ত পিপাসু হায়েনার উৎসব! জানোয়ারে শিকার প্রাপ্তির উল্লাস! গোলাম কিবরিয়া শিপনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাত ধরে পাল্স পরীক্ষা করে মুখ লড়ে ওঠায় বাঁশের মাথা দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দাঁতগুলোকে মাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো। কোন মানুষ নামের জীবের পক্ষে কি করে সম্ভব? মাসুমকে ইটের আঘাতে মাথার ভিতর ইটের টুকরা ঢুকে তার মগজকে এবড়ো থেবড়ো করে দিলে, জ্ঞান হারানো মাসুম তিনদিন পর জঘন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। মুজাহিদ এবং জসিমকে বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে রাস্তার সাথে মিশে দেয়, আধমরা করে আবার দাঁড় করানো হয়, আবার পিটাতে পিটাতে মাটিতো শুয়ে যায়, আবার উঠায় আবার পিটায়। হায়রো! মানবতা, হায়রে! মানুষ, হায়রে! রাজনৈতিক কর্মসূচী। জানিনা শিপনের পরিবর্তে পাড়ার ছেলেদের কুরআন শেখায় কে? মাসুমের দাওয়াতী কাজ হয় কাকে দিয়ে? বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া স্মাট ছেলে মুজাহিদতো আর বাসায় এসে মায়ের গলা জড়িয়ে বলবেনা মা দোয়া করো সারা জীবন যেনো তোমাদের খেদমত করতে পারি। যে নানার সুস্থ্যতার জন্য মুজাহিদ দোয়া করতো কপালের ফের আজ সেই বৃদ্ধ নানাই তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন। লাশের পাশে বসে ছোট ভাই রাফীর কান্না আর বোন মালিহার ফেল ফেল করে চেয়ে থাকার কোন জবাব কারও কাছে আছে কি?
সিদ্দিরগঞ্জে লগি বৈঠার আঘাত থেকে ভাইকে বাঁচাতে ভাইয়ের গায়ের উপর শুয়ে পড়লে হায়েনাদের আঘাতে আঘাতে সবাইকে ছেড়ে চলে যায় বাবা হারা পরিবারের দায়িত্বে থাকা আব্দুল্যাহ আল ফয়সাল। জানিনা কে জোগাড় করে মায়ের শাড়ী, বোনের জামা আর ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচ। কি অপরাধ ছিল কুড়িগ্রামের স্কুল ছাত্র রফিকের। ওরা বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে কেন দরিদ্র্য পিতার স্বপ্নকে খান খান করে দিল। রাজনীতি বুঝার আগের রাজনীতির বলি হয়ে যার মেধাবী সন্তানটি হারিয়ে গেল, সেই বাবার কি অবস্থা। মাগুরাতে একসাথে বাজার করতে আসা নবপরিনিতা স্ত্রীর সামনে গুলি করে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় আব্বাসকে। হতবিহ্যবল স্ত্রী না পারছেন শোক সইতে না পারছেন নতুন জীবন সাজাতে, তার সামনে শুধুই শোক দুঃখ কষ্ট আর অনাগত ভবিষ্যতের হাতছানি। কিভাবে চলছে তার বাকীটা জীবন? সাতক্ষীরার বয়বৃদ্ধ জোবেদ আলীকে কুপিয়ে এবং হোন্ডার পিছনে দীর্ঘপথ টেনে হেঁছড়ে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে পাওয়া গেছে ৪৫টি জখমের দগদগে চিহ্ন। চোখের সামনে যার বাবাকে এমন নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে সেই নির্যাতিত ছেলেটিসহ তার পরিবার কেমন আছে। গাজীপরে নামাজ পড়ে বের হতেই মসজিদের সামনে বয়স্ক মুরুব্বী রুহুল আমীনকে শত শত মুসুল্লীর সামনে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জানিনা এমন টানাপোড়নের দিনে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের বড় সংসারের খরচ চলছে কিভাবে। কিভাবে চলবে সন্তানের লেখা পড়া আর কন্যার বিয়ের আঞ্জাম। শান্ত নগরী সিলেটের টগবগে যুবক নুরুল ইসলামকে কেন পাথর দিয়ে মাথা থেতলে দেয়া হলো। অজ্ঞান অবস্থায় হেলিকপ্টারে সাথে সাথেই ঢাকা এনে বড় বড় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার তিন বছর পর আজও তাকে কথা বলতে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করতে হয় অনেক কষ্টে। কেন? এর কোন জবাব জনপ্রিয় মেয়র সাহেবের কাছে আছে কি? চট্টগ্রামে হাজার হাজার মানুষের সামনে রাস্তার উপর প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে জাহেদুল ইসলামের পায়ের রগ কেটে দেয়ার পর আরেক জনপ্রিয়! মেয়র সাহেব কি উপলব্দি করেছেন আসলে রগ কাটে কারা? আর প্রচার প্রপাগান্ডা হয় কাদের বিরুদ্ধে। আর কত বলবো, প্রত্যেকটি ঘটনাই ছিল নির্মম, নিষ্ঠুর আর হৃদয় বিদারক। যারা মাত্র ২দিনে ২৬জন জীবন্ত মানুষকে এমন নির্মমভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলো তারা কি মানুষ নাকি পশু, আর যারা এহেন কাজের নির্দেশ দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে পক্ষ নিয়েছিল তারা কি? যারা টেক্সিক্যাবের ভিতরে একটি ফুটফুটে বাচ্চার চিৎকার আর পিতামাতার অনুনয় বিনয়ের পরও হামলা ভাংচুর থামায়না, সিএনজিতে আগুন দিয়ে চালককে বের হতে দেয়না তারা কি? আসলে মানুষের চেহারায় ওরা হিংস্র জানোয়ার, ওরা খুনি, ওরা হায়েনা, ওরা রক্তপিপাসু। ওদের তান্ডবকে অন্যায়, অপরাধ, অযৌক্তিক অপকর্ম, মানবতা মনুষ্যত্ব বিরোধী, বিবেকবিরুদ্ধ লীলা বললে কম হয়ে যায়। এসব হৃদয় বিদারক করুন দৃশ্য দেখে অনেককে দেখেছি চিৎকার দিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে, কাউকে দেখলাম নিরবে চোখের পানি ঢালছে, কেউ কেউ ফুঁফিয়ে উঠছে, কেউবা অজ্ঞান হয়েছ, কেউ মুচ্ছা গেছে বারবার। কেউবা নফল রোজা রেখে রাতের আঁধারে আল্লাহর কাছে কান্না কাটি করেছে, কাবা ঘরের গিলাপ ধরে, মদিনা শরীফের রওজার পাশে বসে বসে অনেকেই মুনাজাত করেছে আল্লাহ যেন এদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করে এবং এর বিচার করে। শহীদ মুজাহিদের মায়ের নফল রোজা, ফয়সালের মায়ের চোখের পানি, শিপনের মায়ের তেলাওয়াত. মাসুমের মায়ের নামাজ, রফিকের বাবার আহাজারি, জসিমের বাবার দান এভাবে ২৬টি পরিবারের চোখের পানি কি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ব্যর্থ করবেন। না তা হতে পারে না। অন্তত হাশরের মাঠে শহীদের বাবা, মা, আত্মীয় হিসেবে একত্রে জান্নাতে বসবাসের সুযোগ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অবশ্যই কবুল করবেন। এই পরম শান্তনাই আজ তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

এই ঘটনার সমসাময়িক বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে যখন মানুষ শান্তি শান্তি করে চিৎকার দিচ্ছে এমনি এক মুহুর্তে বাংলাদেশের এক ব্যক্তিত্ব ড. ইউনুস শান্তির জন্য নোবেল পুরষ্কার অর্জন করে অশান্ত পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদাকে উচ্চ আসনে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এদেশের আশাহত মানুষ বাস্তবেই শান্তির জন্য বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন ভাবে চিন্তা শুরু করেছে। আমরা মনে করিছিলাম আমাদের দেশের রাজনৈতিক হত্যা, সন্ত্রাস, হানাহানি, অবরোধ, হরতাল ইত্যাদি নোংরা রাজনীতির দিন হয়ত এবার শেষ হবে। কারন নোবেল পুরষ্কার আমাদেরকে এত উচ্চ আসনে নিয়ে গেছে যে এত হীন নিচু কাজ আর আমাদেরকে মানায় না। সারা পৃথিবীর মানুষ নিজ দেশে শান্তির জন্য বাংলাদেশের দিকে পঙ্গপালের মত ঝুঁকে পড়ছে। তারা জানতে চায় শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্ত ব্যক্তির দেশ বাংলাদেশ আসলেই কেমন? এদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থার উপর ব্যাপক ভাবে জানতে শুরু করছে। পৃথিবীবাসী নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের আদলে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চালু করার চিন্তা শুরু করেছে। নিজের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশায় বাংলাদেশ থেকে আদর্শ আমদানী করার লক্ষে বিদেশীরা বাংলাদেশের দিকে তীক্ষè ভাবে নজর রাখছে। কিন্তু তারা নজর রাখতে গিয়ে দেখতে যা দেখতে পেল এই যদি হয় শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্ত দেশের রাজনৈতিক অবস্থা তাহলে বিশ্ববাসী বাংলাদেশ থেকে কি আমদানী করবে? হয় বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাসী হত্যা সন্ত্রাস নৈরাজ্য আর লগী বৈঠার তান্ডব আমদানী করবে না হয় বাংলাদেশকে ঘৃণা করবে। শান্তি পুরষ্কার পেয়ে বাংলাদেশের ইমেজ যতটুকু বেড়ে গিয়েছিল একটি দলের রাজনৈতিক নৈরাজ্যের কারনে দেশের ইমেজ পূর্বের ছেয়ে কমে গেছে।

সেদিন বাংলাদেশের ডান, বাম সকল বড় বড় সাংবাদিক, পেশাজীবি, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আইনজীবিরা ঐ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছিলেন এবং বিচারও দাবী করেন। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো পৃথিবীতে সেদিনের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশের জননেত্রী কর্মসুচী সফল করায় কর্মীবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কি জঘন্য আমাদের মানসিকতা। বিভিন্ন চ্যানেলে সেই দৃশ্য দেখানোর পর অনেক শিশু ভয়ে কাঁদতে থাকেলে অভিবাবকরা টিভি বন্ধ করে দেয়, শিশুরা যেন এই বর্বর দৃশ্য দেখতে না পারে। আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির রয়টার ভবনের উপরে নির্মিত বৃহৎ টিভি স্ক্রীনে যখন ঐ পাশবিক দৃশ্য বারবার দেখানো হচ্ছিল তখন কয়েকদিন আগে শান্তিতে নোবেল পাওয়া ব্যক্তির দেশের এই জঘন্য, বর্বর, নৃশংস, ভয়াবহ, নির্মম, পাশবিক, অমানবিক ও বিবৎস দৃশ্য দেখে বিশ্ববাসী লজ্জায় মুখ ঢাকলো। সেদিনের টিভি ফুটেজ দেখলে স্পষ্ট দেখা যায় সেদিনের সেই গুলি বর্ষন ও লগিবৈঠার তান্ডবের নেতৃত্বে ছিলেন ডাঃ ইকবাল ও হাজী সেলিম। আসলে ওদের চরিতত্রই এমন। তারা ক্ষমতায় থাকলেও হত্যা সন্ত্রাস করে আর না থাকলেও সন্ত্রাসই তাদের চরিত্র। ২০০১ সালে ডাঃ ইকবালের উপস্থিতি ও নির্দেশে ৪জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার সেই ঘটনা আজও দেশবাসীর মনে আছে। এছাড়া তাদের ৭১-৭৪ আমলে ৩৭,০০০ নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভোক্তি করা হয়েছিল, লুট করা হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ, জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে হাজার হাজার বাড়ী ঘর। সেই বাকশালী চরিত্র যখন মানুষ ভুলতে বসেছে তখনই ৯৬-২০০১ আমলে প্রায় ২০,০০০ মানুষকে হত্যা, ধর্ষন, চাঁদাবাজী, দখলদারিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে চরম নির্যাতন আর নিদারুন কষ্ট দিয়েছিল। ২৮অক্টোবর দেশব্যাপী যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় তা ওদের চরিত্রেরই ধারাবাহিকতা মাত্র। সেই অমানবিক ঘটনার পর একটি পত্রিকায় লগি বৈঠাধারীদেরকে নিরিহ জনতা বলে উল্ল্যে¬খ করায় বুঝলাম মানুষের চেহারায় কিছু অমানুষ পৃথিবীতে সবসময়ই থাকে।

সন্ত্রাসীরা সেদিন ঢাকা সহ সারাদেশে লগি বৈঠা দিয়ে যে চরম তান্ডব চালিয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে মুছে যেতে বহু বছর লাগবে। কিন্তু আগামী প্রজন্মেকে অবশ্যই সন্ত্রাসীদের এই জঘন্য চরিত্রের বিষয়টি জানিয়ে দিতে হবে। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদেরকে ধিক্কার জানায়। তা নাহলে আগামী প্রজন্ম তাদের হটকারী চরিত্র বুঝতে পারবেনা।
যারা ঘটনার নির্দেশ দিয়েছে, নেতুত্ব দিয়েছে, তান্ডব চালিয়েছে তাদের সবাইকে দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং কাউন্টার মামলা প্রত্যাহার করে শহীদদের আত্মীয় ও দায়িত্বশীলদেরকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। পুরো পৃথিবীর মানুষের সামনে এতগুলো মানব সন্তানকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করার বিচার যদি না হয় তাহলে কোন ঘটনার বিচার হবে। কার বিচার হবে। তাহলে বিচার বিভাগইবা কিজন্য। রাজনৈতিক ঘটনা বলে এই মামলাকে দুর্ভল করা হলে তা হবে পৃথিবীবাসীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তেমন কিছু হলে খুনী সন্ত্রাসীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাবে যা কারও জন্য সুখকর হবেনা। এদেশের শান্তিপ্রিয় লক্ষ জনতা প্রতিবছর ২৮ অক্টোবরকে ‘ লগি বৈঠার তান্ডব দিবস ’ হিসাবে পালন করে খুনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। ৩৪বছর পর আজ যেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে , এই ঘটনার বিচার ও একদিন হবেই। অবশেষে শহীদ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে শেষ করছি। মহান আল¬াহ শহীদদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমিন।


লেখকঃ মানবাদিকার কর্মী ও
এমফিল গবেষক, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৩৫
২৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×