বোটানিক গার্ডেন থেকে ঘুরে আসার দুদিন পর বিকেলে অফিস থেকে বার হয়ে পথিক হঠাৎ করে গিয়ে হাজির হলো পথপ্রীতির বাসায়।
পথিককে দেখে প্রীতির মা ভীষন খুশি হলেন। তিনি একটু ডাক্তার দেখানোর জন্যে বের হবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। পথিক আসায় বললেন ভালোই হলো , বাসায় প্রীতি একা থাকবে তার চেয়ে পথিব থাকলে ওনার উৎকণ্ঠা কমবে। কাজের মেয়েটাও গেছে বাড়ীতে।
প্রীতিও খুশি হলো , একা একা বোরিং লাগতো ভীষণ।
আন্টি চলে যেতেই পথিকের মসেনর দুষ্টু কোনে অন্য এক সুর বয়ে যাচ্ছিল যদিও সেই কোনের দৌড়াত্ম তার কাছে তেমন একটা জয় লাভ করতে পারেনা । তাই সেটা নিয়ে পথিক ওত ভাবেনা। তবে আজকাল প্রীতির প্রতি বন্ধুত্বের চেয়ে আরেকটু বেশী অনুভতি যে জাগে প্রাণে ।
তারউপর প্রীতির অধর স্পর্শ করার এক দুষ্টু মানসিকতা যে মনে মনে তার পুরষালি মন কামনা করে সেটাও মহাসত্য। অবশ্য তাদের বন্ধুত্বর দৃঢ়তা এমনই ছিল যে সেখানে সামান্য স্পর্শ বা অনুভূতির সাড়া দুজনেই সম্ভবত সহজ স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহন করত। এবং প্রীতিও মনে মনে তেমন কিছুই চাইছিল , চাইছিল সাড়া টা পথিকের কাছ থেকেই আসুক। ইনফেক্ট পথিককে সে ও বন্ধুত্বের বাইরে আরেকটু বেশী ভালবাসতেও শুরু করেছিল। তার মা’র ও সম্ভবত তেমনই ইচ্ছে , না হলে এতটা বিশ্বাস তিনি কোথা হতে পান। প্রীতিকে তার মা একদিন জিজ্ঞেস ও করেছিলেন, মাকে অবশ্য বলেছিল, জানিনা মা , পথিক একটা পাগল। ওর আবার ভালবাসা। মা বেশ হেসেছিলেন।
ফাঁকা ঘরে দুজন একা একা। ড্রইং রুমে বসা। পথিক মনে মনে একটা সুন্দর আবহ তৈরীর ফন্দি আটার পায়তারা করছিল। যাতে মুখ ফুটে প্রীতিকে বলা যায়। খুবই সিলি একটা বুদ্ধি এসেও গেলো তার মাথায়।
প্রীতিকে বলল, প্রীতি ঐ গানটা আছে তোর পিসিতে, ঐ যে ...তুই যদি আমার হইতিরে , আমি হইতাম তোর।
প্রীতি বলল, কেন রে, পথপ্রভার জন্য দুঃখ পালন করবি গান শুনে।
বলতে বলতে গানটা খুঁজে বার করল প্রীতি। প্রীতির পিসিতে নেই এমন গান খুবই কম আছে।
পথিক ভেবেছিল গানটা বাজলেই দুষ্টুমিটার শুরু করবে , বলবে- আয় তো কাছে দেখি আদর করতে কেমন লাগে, তাতে বোঝা হয়ে যাবে মানসিকতা তারও।
গানটা বাজতে শুর করতেই মোবাইলটা বেজে উঠল । অচেনা নম্বর। রিসিভ করতেই ওপাশে শোনা গেল পথপ্রভার কণ্ঠ। দোকান থেকে ফোন করেছে।
‘প্রীতি তুমি!’
‘ এক্ষুনি আসতে পারবা আমার বাসায়।’
‘ এখনি?’
‘ হুঁ’
‘ আধ ঘন্টা ও আগে যে পারবনা, একটু বাইরে আছি..’
‘ ওকে আধঘন্টার মধ্যেই আস...রাখি বাসায় কেউ নেই।তালা দিয়ে এসেছি। ’
প্রীতি পাশেইে দাঁড়িয়েছিল। গানটা পস করে রেখেছিল। বুঝল যা বোঝার। ভীষন রাগ হলো অজানা কোন কারনে আজ তার যা কখনই হয়না। কেনো সে জানোনা।
হয়তো আজকেই তাদের বন্ধুত্ব স্থায়ী প্রেমের সূত্রপাত ঘটাতে পারতো। হলোনা। প্রীতি জানে পথিক কে এখন আটকে রাখা যাবেওনা। তাই নিজ থেকেই বলল, যাও তাড়াতাড়ি যাও।
আমার একা থাকার অভ্যেস আছে, আর ভবিষ্যতে এ অভ্যেস কাজেও লাগবে। যাও যাও।
সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে পথিকের এক মিশ্র অনুভূতি হচ্ছিল এক ভিন্ন প্রতীতি ,মনে হচ্ছিল সামনে যাওয়া উচিৎ আবার পরণেই মনে হচ্ছিল না পেছনে। মিশ্র এই পথ প্রতীতিতে সে ক্ষণিক থমকে দাঁড়াল।
১২/৫/০৭
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



