কত রাতে সে ভেবেছে, আসলেই কি সে নেশা থেকে মুক্তি যায়। সে ভাবনার সূতোও ছিড়ে গেছে বারবার। সে কল্পনায় নিজেকে মোঘল রাজার প্রতিদ্বন্দি ভেবে অহংবোধে ডুবেছে ভেসেছে, হেসেছে আপন মনেই।
কখনও ভাবনায় গর্ব এসেছে অন্যভাবে। শিথির স্বামী পুরুষটি হয়তো শিথির প্রেম পেয়েছে, সোহাগ আদর, দেহ মন সবই পেয়েছে, সঙ্গ পেয়েছে, পাচ্ছে। কিন্তু একটা জিনিস তার চেয়ে মৃদুল বেশী পেয়েছে। তা হলো বিশ্বাসের দৃঢ়তা। স্বামী পুরুষটি কখনই যে জিনিসটা পায়নি শিথির কাছে। দেহের কাছে বিশ্বাস কত অসহায়!
ফোনটা না ধরলেই ভাল হতো। বৃষ্টির মাঝে মাত্র হারিয়ে যেত বসেছিল। কিন্তু সে সব ফেলে এখন ছুটতে হবে শিথির বাসায়। খুব বেশী দূরে নয়। রিকশা তে গেলে মাত্র দশমিনিট। রিকশা না পেলে সে হয়তো বৃষ্টিতে ভিজেই যাবে। ঝড়ো বৃষ্টিকে রোদ ভেবে নিতে তার খুব একটা সমস্যা হবার কথা নয়। সে যে মনে মনে সিজোফ্রেনিক।
বেরিয়েই পরে ঘর থেকে। রিকশাও পেয়ে গেছে। বৃষ্টিও বাড়ছে। মনে শুরু হচ্ছে কত রকম ভাবনা। মুক্ত পরিবেশে মনটা বড় বেশী মুক্ত স্বপ্ন দেখতে যায় মৃদুলের। হঠাৎ ইচ্ছে হয় শরৎচন্দ্র র ত ঘড়বাড়ি ছেড়ে পথে নেমে যেতে , দেখতে বুঝতে লিখতে জগতের প্রকৃত রূপের বৈচিত্রতা খুব কাছ থেকে। হঠাৎ সে নিজেক আবিষ্কার করে নিভৃত গ্রামের পথে...কত রকম মানুষের নৈকট্য পাওয়ায় হয়নি, জানা হয়নি মানুষের কত অজানা সরূপ। না হয়তো সে সত্যিই একদিন ঘর থেকে বেরিয়ে পরবে। জানাবে না কাউ কে কোন কিছুই।
বৃষ্টির আওয়াজ কানে আসতে থাকে । গায়েও পানি লাগে ছিটে ফোটা। ভাবনা এখন হঠাৎ ভিন্ন মাত্রা পেতে থাকে। নিজেকে মৃদুলের ভিলেন মনে হয়। কষ্ট হয় হঠাৎ আবার শিথির স্বামী বেচারাটার জন্য। ঐ লোকটাকেও তো শিথি ভালবেসেই বিয়ে করেছিল। সে কি তবে তার অঢেল অর্থের জন্য? তবে তার নিজের স্থান কোথায় স্বার্থান্বেষী শিথির কাছে। সাময়িক আবেগ আর আনন্দ। কিন্তু সে কি চিরকালের? পৃথিবীর সাথেই বা একজন মানুষের সম্পর্ক কতকালের ? ভূবন এর সব সম্পর্কই তো সাময়িক।
রিকশা শিথিদের বাড়ীর গলির কাছে প্রায় চলে এসেছে। হঠাৎ আবার বৃষ্টির ঝাপটা বেড়ে যায়। সে যেন ঝাপটা নয় সরব হয়ে মৃদুলের কানে কানে বলে গেলো কঠিন সেই বারতা।
মৃদুল হঠাৎ ভেবে নিল। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শিথির মোবাইলে রিং দেয়ার আগেই শিথির স্বামীকে মেসেজটা খুব সংক্ষেপে লিখে পাঠিয়ে দিল। একবারও ভাবলানা নিজেও তো ধরা পরে যাবে শিথির সাথে। কেনো জান তার হঠাৎ খুব সততা দেখানো সাধ হলো, মায়া জাগল হলো স্বামী বেচারাটার জন। কিন্তু ভাবলনা খুব বেশী একটা। যেই ভাবা সেই যেন কাজ।
শিথি খুবই উত্তেজিত ছিল , অথবা বৃষ্টি তাকে উদ্বেলিত করেছিল চরমভাবে গোপন প্রনয়ের তাড়নায়। জড়িয়ে ধরল আধোভেজা শরীরে। খোলা বারান্দায় আধো ভেজার চেষ্টায় ছিল মেয়েটা। আবেগ এর প্রচন্ডতা আজ যেন নতুন করে বুঝল মৃদুল। হঠাৎ খেয়াল হলো এই আবেগ তার মনে দেহে চেতনায় চরম আবেশ ভরিয়ে দিয়েছে বহু আগেই, এই যে ছুটে আসা মুহুর্তে সে তো সেই আবেশের ফল। এর থেকে তার মুক্তি নেই। আসলে তার মন এর থেকে মুক্তি আসলেই চায়না। সে আরও আবেগের বশ্যতা উপলব্দি করে দিগম্বর শিথির বাহু বন্ধনে নরম বিছানায় চরম ভালবাসায়।
ভুল বুঝতে পারে। এই মেয়েটিকে তো সেই আগে ভাল বেসেছিল। স্বামী পুরুষটির অর্থই তার পরাজয়ের কারন। তার কেনো দোষ, কেনোই বা দোষ দেবে সে শিথিকে। ভালতো তাকে শিথি বাসেই। কিন্তু তার যে অর্থ বিত্ত নেই, আছে কেবল স্বপ্ন বিত্ত। মেয়েটা দুটোই চেয়েছে, সেটা কি মেয়েটার দোষ?
অন্যদিকে সে আবার ভাবে , স্বামী বেচারাটারও তো কোন দোষ নেই। যদি এখনই চলে আসে তার মেসেজ পরে জেনে যায় যা আদৌ কখনও জানা উচিৎ নয় বলেই মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে ভালবাসার দৈহিক আলোড়নে । না কেনো লোকটা কে শুধু শুধু কষ্ট দেবে। এই অধিকার তার নেই।
নিজেকে মুক্ত করে মুহুর্তে শিথির আলিঙ্গন হতে। বলে, ‘ আমার কল্প বিলাসী ইনটুইশন বলছে তোমার স্বামী চলে আসতে পারে যে কোন মুহূর্তে , সত্যি মনে হচ্ছে। প্লিজ আমি এখন যাব। যেতে দাও।”
তা কি আর দেয়। কিন্তু মৃদুলের ও জেদ। চোখে হালকা পানি চলে আসে শিথির , কিন্তু মৃদুল কে সে বিশ্বাস করে। মৃদুল চলে যায় । যাবার আগে ঠোট দিয়ে শিশির ভোজা ঠোঁট দুটো ঘন স্পর্শ করে বলে ওঠে ‘তোমাকে খুব ভালবাসি, খুব বেশী।”
শিথিও বলে ওঠে,‘ আবার কবে?”
মৃদুল ঘর থেকে বের হয়ে দ্রুত গলির আড়ালে চলে যায়।
কিছুণ পর তার মোবাইলে স্বামী বেচারার মোবাইল থেকে কল আসতেই থাকে। সে রিসিভ করেনা। অবশেষে একটা মেসেজও আছে। যে মেসেজে খুব গালাগালি থাকে তার জন্য, তার সতী সাবিত্রি স্ত্রীর প্রতি তার মনে সন্দেহ ঢুকানোর জন্য।
ওদিকে স্বামী বেচারাকে শিথি জিজ্ঞেস করে সে কেনো এই অসময়ে বাসায় এসেছে। , স্বামী বেচারও মিথ্যে উত্তর দেয়, বলে ‘ খুব মনে পড়ল এই বৃষ্টিতে, তাই আদর করতে ছুটে এসেছি ডালিং।’
সে মিষ্টি কথায় শিথি খুশি হলো কিনা জানিনা, কিন্তু সে মুগ্ধ হলো মৃদুলের ইনটুইশন ক্ষমতার দৃঢ়তায়।
(শেষ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

