মামুন ম. আজিজ
সুস্থ হওয়ার বাসনায় অসুস্থ হয়ে উঠি আরও একটু খানেক বেশী,
মেঘের ভাঁজ ধরে এগিয়ে যাই আর আঁকি মনে অসম্ভব সব ছবি;
কখনও আর্কিওপ্টিরিস দেখিনি জান-কিন্তু
এঁকে ফেলি তাও মেঘের ভাঁজ মিলিয়ে মিলিয়ে ।
কখনও সেই ছেলেবেলায় উঠোনের বারোমাসী পেয়েরা গাছটার ঝাকড়া ডাল,
অথবা সেই যে গাভীর সদ্যপ্রসূত বাচ্চাটা জন্ম নিয়েই লাফিয়েছিল তিড়িংবিড়িং;
কিংবা রোজ সকালে- হারিয়ে যাওয়া বাবার হাত ধরে বাজারে যাবার দৃশ্য,
খুব চেনা এক নারীর কপোলের এক ফোঁটা জল-- সব এঁকে ফেলি, সব।
তারপর ...তারপর মেঘগুলো চলে যায় কোন অজ্ঞাত বিছানায়
দূরে কোথাও শীতের বাতাসের প্ররোচনায়...কাঁপে তাই অসুস্থ হৃদয়।
কাঁপতে থাকে স্মৃতি, আঁধার মন...আকাশের ক্যানভাসে মেঘ নির্মল স্বচ্ছ তখন,
শূণ্যতাই রোগের জন্য এক পরম পরজীবী গৃহসম, শূণ্য রোগ যার শূণ্যতা অদৃশ্য..
মেঘ নেই আকাশে ...ক্যানভাস আছে তুলি নেই চোখে
যেন স্মৃতিগুলো লেপ্টে গেছে জীবনের নিম্নচাপে একের সাথে অপর।
মাটির উপর চিৎ হয়ে শুয়ে সোদা গন্ধের সাথে আয়ুর্বেদিক মিশল ঘটাই
জন্মদাত্রী মাতার কোলের না ভোলা উষ্ণ ওমের সঞ্জীবনী সুধার...পরম চিকিৎসা;
কিন্তু স্মৃতির পাহাড়ে একটি নির্ঝরে তখন বরফ জমতে থাকে...
বরফ জমতে জমতে নার্ভের চারপাশে পরিখায় জমা জলটুকু ছুঁয়ে ফেলে,
নিশ্বাসে প্রশ্বাসে গতির পরিবর্তন ঘটার বাসনায় দ্রুত হেঁটে চলে পিপীলিকার শক্তি ।
জমে যাওয়া হৃদয়কে তরল করার বাসনায় চোখে ঝরে কান্নার জল
বিছিন্ন ভীষণ নিঃসঙ্গতায় সে তো ফেলে আসা অতীতের বলিরেখার ফল ,
প্যারালাইসড হাতটুকু বাড়ানো থাকে তখন একটি হাতের প্রত্যাশায় ...
প্রত্যাশিত সে হাত এগিয়ে আসেনা...আসতে পারেনা , তখন
শীতের সকালের আকাশে মুক্ত মেঘের মত শূণ্য ক্যানভাস আমার জীবন ।
৫/১/২০০৯
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



