গতকাল মানে ২রা ফেব্রুয়ারী খবরের পাতা থেকে জানলাম ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারী পরীক্ষার কৃতকার্য চাকুরী যোদ্ধাদের পাশের রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
যারা পাশ করেছেন তাদের জন্য মূলত এই লেখা এবং সাথে তাদেরও যারা ভবিষ্যতে সরকারী চাকুরী পাবার জন্য খুবই আশায় জর্জরিত।
যারা পাশ করেছেন প্রিলিতে , নিশ্চিত তারা কপালবান মানে ভাগ্যবান এবং মেধাবী তো মানতেই হবে।
কিন্তু এই শেষ না , এতো শুরু ...এর পর পরীক্ষা নামক দৈত্যর মোকাবিলা করতে হবে আরও কয়েকধাপে। যার জন্য জীবন , কাল সময় , এবং ব্রেনের য় প্রচন্ড। প্রথমেই লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে যা নতুন নিয়মে সম্ভবত ৯০০ কি ৮০০ নম্বর ( ঠিক মনে নেই) । সে যা হোক মেট্রিক ইন্টার লেভেলের সেই পরীক্ষার মত শাস্তির থেকে মুক্তি এবং কৃতকার্য হবার পর আসবে মনস্তাত্বিক পরীক্ষা এবং অতপর শেষে ভাইভা নামক আরেক জবরদস্ত অধ্যায়।
সেইখানে ক্লিয়ারেন্স এর পর আপনার মহা আরোধ্য বিসিএস ক্যাডার ( ফার্স্ট কাশ গেজেটেড ) অফিসার হবার সাধনা পূর্ণ হবে। মনে আসবে কষ্টের ফলপ্রাপ্তির সুখ। কতকষ্ট করে কতভাবে ( কখনও ২ নম্বরী করেই ) সত্যায়িত করাতে হয়েছে কাগজ পত্র ছবি। এইবার আপনি নিজেই সেই সত্যায়িত করার অধিকারী হয়ে গেলেন, আপনারে আর পায় কে।
ও পর্যন্ত ভূমিকা কেবল। মূল উদ্দেশ্য ওই খানের পরবর্তী বিষয় নিয়ে একটু বলা।
এই যে এত কষ্ট এত পাগল এত যুদ্ধ এত প্রচেষ্টা .. যে সরকারী প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার হবার জন্য তার আগে কি খুব ভালভাবে ভেবে নিয়েছেন ইন আউটস সম্পর্কে অর্থাৎ ...
একটু ব্যাখ্যা করে বলি
ধরুন আপনি একটা প্রাইভেট কোম্পান তে চাকুরীর ইন্টার ভিউ দিতে গেলেন, সেখানে আপনি চাকুরী পেলে কিন্তু চাকুরীর ধরন, পরিবেশ, বেতনাদি, সুবিধাদি, কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে একটা আইডিয়া নিয়ে নেন। পছন্দ হলে করেন ( সব তো আর জানা জাবেননা, জাস্ট আইডিয়া) না হলে ডোন্ট জয়েন্ট।
আবার বড় কোম্পানী জব এর অ্যাডে রেসপনসিবিলিটিস সম্পর্কে ও ডিটেইলস বলা থাকে।
কিন্তু এই যে বিসিএস এর যে অ্যাড ছিল পেপারে সেখানে কেবল পোষ্ট এর নামগুলো আর ভেকেন্ট পোষ্ট কটা পূরণ করবে কেবল সেটাই বলা ছিল। তাই না?
আপনি ( আমিও) গদবাধা বা শোনা কথায় ৫/৬/৭/৮/৯ বা আরও বেশী চয়েজ ক্রমানুসারে পূরণ করে দিয়েছেন ফর্মে । কিন্তু সে সব পোষ্টের কাজের ধরন এবং পরিবেশ সম্পর্কে কতটুকু আইডিয়া ছিল আপনার । ছিলনা , অন্তত বেশীর ভাগেরই।
যাহোক কোন ক্যাডারের কোন ডিপার্টমেন্টে আপনি চাকুরী পাবেন সেতো ফাইনাল ফলের আগে হয়তো দুএকজন অতি মেধাবী (!) ছাড়া কেউই বলতে পারবেনা কখনও।
এখন চাকুরী পেলেন কোন এক ক্যাডারের অধীনে কোন অধিদপ্তরে...সেখানে কিছুই জানেন না। কিন্তু করতে গিয়ে দেখলেন সবই আপনার চিন্তা ভাবনার বিপরীত ধরনের পরিবেশ সেখানে...তখন?
এসব তুচ্ছ কথা ...মানিয়ে যায়
কিন্তু যে বিষয়টা আপনাকে স্পষ্ট ভাবে জেনে বুঝে মেনে বিসিএস সরকারী চাকুরীতে জয়েন্ট করা উচিৎ সেটা বলি।
সেটা হলো বেতন স্কেল।
জয়েন্ট করার পর বর্তমান চালু পে স্কেল অনুসারে আপনার বেসিক হবে
৬৮০০-৩২৫ * ৭-৯০৭৫-ইবি-৩৬৫*১১-১৩০৯০ ।
এইটার মানে বুঝলেন?
মানে হলো আপনার বেতন =৬৮০০ টাকা
প্রতি বছরে ইনক্রিমেন্ট পবেন ৩২৫ টাকা করে , এইটা ৭ বছর পর্যন্ত( যদি এর মধ্যে প্রমোশন না পান ও একই পোষ্টেই থাকেন) আর ঐ একই পোষ্টে আরও থাকলে পরবতী ১১টা ইনক্রিমেন্ট হবে ৩৬৫ টাকা হারে প্রতি বছরে।
এর সাথে আপনি পাবেন মেট্রপল্যিট্যান এলাকায় পোষ্টিং হলে ৫৫% বাড়ী ভাড়া আর অন্যন্য এলাকায় ৪০% বাড়ী ভাড়া।
তাইলে ৫৫% ( বেশীটাই হিসেব করি) হিসাবে = ৩৭৪০ টাকা
আর পাবেন ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা
মোটমাট পাবেন = ১১০৪০ টাকা।
এর থেকে দুটো তহবিলে কাটা যাবে ৯০ টাকা আর জিপিএফ আপনাকে জমা রাখতে হবে ১০% কমপক্ষে, তাইলে কত পেলেন ?
ওহ! ২ বছর যে সরকার ছিল তারা আবার ২০% মহার্ঘ্য ভাতা দিয়েছে । মনে রাখবেন মহার্ঘ্য ভাতার বাড়ীভাড়া হয়না। ওটা ফিক্সড , মানে ৬৮০০ টাকার মহার্ঘ্য ভাতা। মানে ১৩৬০ টাকা।
আরেকটু কথা থেকে যায় , যদি আপনার প্রফেশন ইঞ্জিনিয়ারিং , ডাক্তারী , লইয়ার বা কৃষিবীদ হয় ..তবে ইনিশিয়ালী ৬৮০০ এর সাথেই একটা ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে যাবে, মানে ৭১২৫ টাকা বেসিক দিয়ে চাকুরী শুরু হবে।
( মনে রাখবেন সরকারের বর্তমান চালু স্কেল সর্বোচ্চ স্কেল এর টাকার পরিমাণ মাত্র ২৩০০০/ =)
টাকার অংকটা একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার বেতন হিসেবে কতটা মানানসই -- এই প্রশ্নটার উত্তর মনে কিয়ার না করে এই চাকুরী তে আসাটা কি ঠিক বলেন তো? মনে হয় না।
এতো গেলো বেতন ।
চাকুরী তে ঢোকার পরই কিন্তু চাকুরী আপনার স্থায়ী হলোনা। তার জন্য কয়েকটা শর্ত
শর্ত ১। আপনাকে কমকরে দুই বছর সময় অতিক্রান্ত করতে হবে
শর্ত ২। আপনাকে তিনিটি ডির্পাটমেন্টাল পরীায় পাস করতে হবে। ( সেখানে একটি নিজ অধিদপ্তর বিষয়ক আর বাকী দুটি সরকারী আইন কানুন সম্পর্কিত, আর আইন কানুন যে কত জটিল পড়লেই বুঝবেন)
শর্ত ৩। বাংলাদেশ লোক প্রশাসন কেন্দ্র ( বিপিএটিসি) তে চারমাস বুনিয়াদি প্রশিন কোর্সে সফলতা। ( উহ! চারমাস বোধহয় ঘুমানোই যায়না সেখানে)
এর পর সিনিয়ার স্কেল পেতে হলে চারবছর পর আবার আরও তিনটি পরীক্ষা। এটা পাশ না করলে নো প্রমোশন।
আমার বুনিয়াদি কোর্সে দুদক চেয়ারম্যান জনাব এক্স আর্মি পারসন হাসান মাশহুদ সাহেব কাশ নিতে এসেছিলেন। এক সাথে মোট ২২৮জন পার্টিসিপেন্ট আমরা মোট ১৯ টি ক্যাডারের সবাই বেতন স্বল্পতা দুর্নীতির অন্যতম কারন বলতে চাইলেও , উনি কোন কারনে বিশ্বাসই করতে চাইলেন না। জ্ঞানী মানুষ যখন বলেছেন , মানতে হলো।
এক পুলিশ অফিসার উঠে প্রশ্ন করেছিলেন, স্যার আমার এই বেতনে চারজনের একটা পরিবার সামাজিক স্ট্যাটাস বজায় বাদ দিলাম, সামান্য খেয়ে পড়ে একটা বাড়ী ভাড়া করে কিভাবে চলবে সেই হিসেব টা যদি স্যার একটু করে দিতেন।
তা কি আর করে দেয়, ওসব প্রশ্ন তো কত ভাবেই অন্য দিকে মোড় দেয়ানো যায়। যেখানে ধারনাই হচ্ছে মানুষ কেবল ইচ্ছে করেই দুর্নীতি করে। সাথে আরও ধারনা জলপাইরা কোন দুর্নীতি করেই না। সে জন্য কথা বেশী আমরাও বাড়াতে পারিনি।
আসলে আপনাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এই লেখা না জনাব ভাবী সরকারী অফিসার।
এই সব অদ্ভুত গতির কারনে মোষ্ট ব্রিলিয়ান্ট দের খুবই খুবই কম আসছে সরকারী চাকুরীতে। কেনো আসবে?
ভাল রা না আসলে দেশের উন্নতি কে করবে?
অথচ ভালরা আসলে ডিপ্রেশন টাও তাদের বেশী হয়। তাহলে!
আমি নিজে অত কিছূ জানার সুযোগ না খুঁজেই হঠাৎ হুট করে বিসিএস দিলাম , হয়ে গেলো ( প্রফেশনাল ক্যাডারে টেকা একটু সহজ বলেই) ...এবং সেটা ঠিক হয়নি।
খুব জেনে বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ..কেবল সরকারী চাকুরী বলে পাগল হওয়ার দিন আর নাই ...কারন বাস্তবতা অনেক কঠিন , অনেক!
তবে অসৎ মন মানসিকতা থাকলে কোন কথাই নেই । কারন যত ক্ষমতা তত সুযোগ অসাধুতার!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

