
বললাম, জলিল ভাই, সবই কি নিজের কথা , না গল্পোও আছে কিছু?
উনি হাসলেন, হালকা ঢংয়ে বললেন, না এই কিছু মিলিয়ে টিলিয়ে ...
বইটি পড়ার পড়ে আসলেই বলতে হয় খুবই সরল এবং প্রাঞ্জল বর্ননায় স্কুল হতে এইচ এস সি পাশ অবধি তার জীবনের কষ্টক্লীষ্ট্ সাতটি বছরের জায়গীর তান্ন্ত্রিক ঘটনার সুন্দর ধারাবাহীক বনর্ণা দিয়েছেন বইটিতে, মাঝে মাঝে অনেক সূক্ষ্ম নির্ভৃত একান্ত কথাও দু চারটে বর্ননায় ঘি ঢেলেছ অকাতরে।
তথাপি ঢাকা কলেজে পড়াকালীন তার পোংটামীর বর্ননায় গিয়ে কাচি পড়েছে বারবার লেখায় ( মনে হচ্ছে) আর ঢাকাত প্রেমগুলো ( প্রেমে পড়া এবং প্রেম আসা) তিনি পাঠকের দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছে প্রেম পর্বগুলো ইচ্ছেকৃত সংক্ষিপ্ত।
অবশ্য জাইগীর আর টিউশনির ধারাবাহিকতা এবং নিরেট বৈশিষ্ঠ্য বজায় রাখতে গিয়ে আশপাশের ডালপালা বেশী বোধহয় উনি গজাতে দেননি।
শুধু জাইগীর স্মৃতি নিয়ে একটা আত্ম গল্প ----ভাবছিলাম , কেমন হবে?
হয়েছে কিন্তু অসাধারণ। কারন সত্যিই ওনার জীবনের মূল ভিতটাই গড়ে ওঠার সময় জায়গীরই ছিল চরম সত্য কথন।
সেই মাত্র ক্লাশ সিক্সে পড়া একটা ছেলে নিদারুন কষ্ট করে জায়গীর থেকে থেকে ক্রমে ক্রমে চড়াই উৎড়াই পেরিয়েছে আর পেরিয়িছে। তার সেই ছোট কালের জায়গীর জীবনের পরতে পরতে কষ্ট, দেশের সেই সময়ের কিছূ গ্রাম্য অবস্থার চিত্র স্পষ্ট ইতিহাস হয়ে ওঠে এই বইয়ে , আমাদের মত অজ্ঞাত পাঠকের জন্য।
ঘটনার শুরু যে ১৯৭৫ সাল. তখন আমার জন্মই হয়নি। , ইতিহাস থেক জেনেছি কত দুঃসহ সব সময় ছিল এই দেশে পূর্বে আরো। সে সব এর খবর কিছূ পেলাম আরও এখানে।
শেষে একটা বিষয়ে হতাশ হয়েছি , আশা করছিলাম পরিণয় পর্ব যে প্রেমে জলিল ভাইজানের সেটা এখানে জানবেন...
সে আশায় গুড়ে বালি--- হয়েছে শেষে।
তবে নিঃসন্দেহে পড়ার জন্য বইটি খারাপ না মোটেও
আর সেই সাথে জলিল ভাইয়ের কষ্টময় জীবনের বর্ননায় জায়গীর বিষয়টির অনেক কিছূই জানার আছে বইটিতে।
কারন বাস্তবতাই সবচেয়ে বড় শিক্ষক ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

