এই একটি মাত্র লাইন , কতগুলান শব্দকে অর্থবহ করার জন্য কিংবা বলতে হয় এভাবে যে একটি লাইনকে একটি ঐতিহাসিক কাহিনীর মূল থীম হিসাবে ধরে কাহিনীর বুনট সংগঠনের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেই কাহিনী আর গড়ে তোলা হয়ে ওঠেনি লেখক মাহবুব লীলেনের তার সদ্য প্রকাশিত বই ‘তৃণতুচ্ছ উনকল্প ’ তে।
অথচ এক কথায় বলতে কোন কুণ্ঠা নেই অতিমাত্রায় অসাধারণ একটি বই হয়ে উঠেছে বইটি।
একজন উন্মাদপ্রায় বীরঙ্গণার কণ্ঠ নিঃসৃত ঐ বাক্য গুলোর জন্য যুতসই পটভূমি খোঁজার বাসনায় লেখক তারই আশেপোশের বন্ধু বান্ধবদের কে সামনে নিয়ে এসে তাদের কণ্ঠে পটভূমির নানান উপাত্ত খুঁজতে খুঁজতে আসলে একদম শেষ লাইনটির আগ পর্যন্ত আমরা পেয়ে যাই মাত্র ৬২ পৃষ্টার একটি বইএ বীরঙ্গনা উপ্যাখানের অনেক অনেক দিক। একটি একক গল্পে বা উপন্যাসে এত দিক কখনই উঠে আসতো না বলে আমার বিশ্বাস। সে কারনে লেখকের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য সন্দেহাতীত ভাবে।
তারউপর বইটির মাঝে আড্ডার পরিসরে গল্পের প্লট খোঁজার ঢং এ যেভাবে প্রাঞ্জলতায় এগিয়েছে ঘটনা তা আমার জানামতে সম্পূর্ণ নতুন একটা আঙ্গিক, এক নতুন স্টাইল । এই ঢংটা মন কেড়েছে।
বইটিতে লীলেন ভাই কল্পনায় তার পরিচিত যে সকল মানুষকে আড্ডায় বারবার নিয়ে এসেছেন তার অনেকের নাম গুলো পরিচিত হওয়ায় গল্পের দৃশ্যকল্প সহজাত হয়ে ওঠে আমার মত একজন ুদ্র পাঠকের কাছে।
বীরঙ্গনাদের সংখ্যার মত তাদের কষ্ট, তাদের পরিণতি, তাদের ইতিহাস মারাত্মক ভার্সেটাইল, টুকরো টুকরো অনেক ঘটনার মাধ্যমে সেই ভার্সেটালিটি ফুটে উঠেছে বইটিতে। সাথে হালকা আঁচরও আছে নব্য সময়ের বীরঙ্গনা অধ্যায় কিছু।
এক কথায় মনে রাখার মত একটি বই।
তবে বইটির নামকরনে আমার উন উন্মাষ আছে। যদিও আমি কোন ব্যাকরণবীদ বা ভাষাবিদ তো নয়ই, তবুও সমালোচনার অধিকার পাঠক মাত্রই স্বীকৃত বলেই বলছি।
বইটির নাম কেবল -- 'তৃণতুচ্ছ কল্প' বা 'উনকল্প'
রাখলেই ভালো হতো।
কারন 'তৃণতুচ্ছ' এখানে 'কল্প' শব্দটির একটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার হয়েছে আবার 'উন' শব্দটিও তাই।
দুটোর অর্থই প্রায় কাছাকাছি , মানে সামান্য, অল্প , ক্ষুদ্র ধরনের অর্থ মনে হয়।
কেমন যেন দ্বিরুক্তি হয়ে ওঠে 'তৃণতুচ্ছ' আর 'উন'।
কিন্তু আদৌতে তৃণতুচ্ছ হোক আর উন হোক , কল্পনাগুলো মোটেও তুচ্ছ না মোটেও স্বল্প না , বরং ব্যাপক কাহিনীর এক বিস্তর স্পষ্টতা তো বটেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



